ক্রিকেটকে আরও আকর্ষণীয় করতে আইসিসির নতুন নিয়ম কানুন

Now Reading
ক্রিকেটকে আরও আকর্ষণীয় করতে আইসিসির নতুন নিয়ম কানুন

gn.jpg

খেলাধুলার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় যে খেলা, তা হল ক্রিকেট। ক্রিকেট নিয়ে মানুষের মাঝে উত্তেজনার কখনো কমতি হয়না। পরিবর্তনের পথে ক্রিকেট,এমন কথা যেন অনেক দিন ধরেই শুনে আসছিলেন খেলাটির সাথে সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে যারা নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখেন তারা তো নানা ভাবনাও ভেবে রেখেছেন। তবে পরিবর্তনটা সময়ের প্রয়োজনে কিনা সে প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। সময়ের প্রয়োজনে যুগে যুগে সব ধরনের অবকাঠামোতেই আসে পরিবর্তন। মাঠের খেলা ক্রিকেটও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে পরিবর্তনটা সময়ের প্রয়োজনে কিনা সে প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। সময়ের প্রয়োজনে যুগে যুগে সব ধরনের অবকাঠামোতেই আসে পরিবর্তন। মাঠের খেলা ক্রিকেটও এর ব্যতিক্রম নয়। এক সময় টেস্ট খেলা হত যার কোনো নির্দিষ্ট সময় বাধা ছিল না। এরপর একসময় তা বেধে দেয়া হয় সময়ের বেড়াজালে। সেই সময় কমতে কমতে এখন পাঁচ দিনে এসে ঠেকেছে। তেমনি ৬০ ওভারের একদিনের ক্রিকেটও এখন অতীত। আর হালের টোয়েন্টি-২০ তো আছেই। এছাড়া বিভিন্ন দেশের সাথে পারস্পারিক ক্রিকেট আয়োজনেই আছে অনেক নিয়ম-কানুন। ক্রিকেটে আগের নিয়মের সংস্কার ও বেশ কয়েকটি নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।১ অক্টোবর থেকে ক্রিকেটে বেশ কিছু নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে। নতুন নিয়মে ব্যাটের দৈর্ঘ ও প্রস্থের সীমাবদ্ধতা আসছে। এছাড়া মাঠে বাজে আচরণের কারণে খেলোয়াড়কে লালকার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়া করার অধিকার পাবেন আম্পায়ার। ডিআরএস সিস্টেমেও পরিবর্তন আসছে।

আসুন জেনে নেই সেই নিয়মগুলোঃ

ICC-Review-Cricket-Bat-Size-Laws-Feature.png

ব্যাটের আকার: অনেক খেলোয়াড়ই তার নিজের পছন্দ মত ব্যাট দিয়ে ব্যাটিং করে থাকেন। যার ফলে তারা একটু বেশী সুবিধা আদায় করে নিতে পারতেন। কিন্তু এখন থেকে আর ব্যাটসম্যানদের ইচ্ছামত ব্যাট ব্যবহার করতে পারবেনা। ব্যাট এবং বলের আকারে সমন্বয় করতে নির্দিষ্ট একটি আকার ঠিক করে দিয়েছে আইসিসি। এখন থেকে কোনও খেলোয়াড়ের ব্যাটের প্রস্থ ১০৮ মি.মি’র বেশি হতে পারবে না। ব্যাট পুরু হবে সর্বোচ্চ ৬৭ মি.মি। কানা পর্যন্ত পরিমাপ ৪০ মি.মি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ব্যাটের প্রস্থ ১০৮,পুরু ৬৭ ও কিনারা হবে সর্বোচ্চ ৪০ মিলিমিটার।

out.jpg

ডিআরএস: স্টেম চালু হওয়ার পর থেকেই বিতর্ক ছিল, যা চলমান আছে। ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস) এ পরিবর্তন এসেছে। এখন থেকে আম্পায়ার্স কলের বিপরীতে রিভিউ ডেকে কোনও দল হেরে গেলে তাদের নির্ধারিত রিভিউটি নষ্ট হবে না। তারা আরেকবার রিভিউ নিতে পারবে। যেহেতু ‘আম্পায়ার্স কল’র ক্ষেত্রে মাঠের সিদ্ধান্ত উল্টো হলেই রিভিউ সঠিক হয়ে যেত, সেক্ষেত্রে রিভিউটি বাতিল হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। তাই রিভিউতে সফল হলে তাদের নির্ধারিত রিভিউটি অক্ষত থাকবে। বর্তমান নিয়মানুযায়ী, টেস্টের প্রথম ৮০ ওভারে প্রতিটি দল দুটি করে রিভিউ নিতে পারে। ওডিআইতে ইনিংসে একটি করে। নতুন নিয়মে প্রতি ৮০ ওভারে নতুন দুটি রিভিউ পাওয়ার নিয়মটা বাতিল হয়ে পুরো ইনিংসেই শুধু দুটো রিভিউ থাকবে। এখন থেকে টি-টুয়েন্টিতেও রিভিউ পদ্ধতি চালু হবে। আগে টি-টুয়েন্টিতে এই নিয়ম ছিলনা।

জরিমানাঃ খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত আবেদনের ব্যাপারেও আসছে নিয়ম। এমনটা হলে প্রথমে খেলোয়াড়কে আম্পায়ার সতর্ক করে দিবেন। একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করা হলে তাদের পাঁচ রান করে জরিমানা করতে পারবেন আম্পায়ার। প্রতিপক্ষ কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে ইচ্ছা করে ধাক্কা খেলে বা কারো দিকে বল ছুড়ে মারলেও পাঁচ রান জরিমানা করা হবে।

red card in cricket.jpg

খেলোয়াড় বহিষ্কার বা লাল কার্ড: আর এক জনপ্রিয় খেলা ফুটবলের মতো শারীরিক শক্তি প্রদর্শনের বিষয় সেভাবে নেই ক্রিকেটে। কিন্তু স্লেজিং ও অন্যান্য বাজে আচরণের ঘটনা প্রায়ই ঘটতে দেখা যাচ্ছে ক্রিকেট মাঠে। কেউ সে রকম শাস্তিযোগ্য অপরাধ করলে এতদিন সেই শাস্তিটা দেওয়া হতো খেলার পর। যা নিয়ে কিছুটা বিতর্ক থেকে যেত। কিন্তু নতুন নিয়ম কার্যকর হলে মাঠেই খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবেন আম্পায়াররা। খারাপ আচরণ করা কোনো খেলোয়াড়কে তাৎক্ষণিকভাবে মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে আম্পায়ারদের হাতে। সেই দলের অধিনায়ক যদি আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মেনে না নেন,তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই জয়ী ঘোষণা করা হবে প্রতিপক্ষ দলকে। আর দুই দলের অধিনায়কই যদি আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন,তাহলে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণার অধিকারও থাকবে আম্পায়ারের।

out2.jpeg

রানআউট: এছাড়া রান নেয়ার সময় ব্যাটসম্যান নিরাপদে ক্রিজ পার হওয়ার পর আবারও যদি তাঁর ব্যাট এবং শরীর- দু’টোই শূন্যে ভেসে ওঠে আর এই সময় তার স্টাম্প ভেঙে দেয়া হয় তাহলে ব্যাটসম্যান আউট হবে না। একবার ক্রিজ পার হলেই ব্যাটসম্যান তখনকার মতো নিরাপদ হয়ে যাবে। সম্প্রতি এমন ঘটনায় বেশ কয়েকজন ব্যাটস্যমান আউট হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। তবে এবার সেটা বন্ধ হতে যাচ্ছে।

out1.jpg

মানকড় আউট: বোলার বোলিং করার সময় নন-স্ট্রাইকার ব্যাটসম্যান উইকেট থেকে বেরিয়ে এলে তাঁকে রানআউট করতে হলে বোলারকে আগে ক্রিজে ঢুকতে হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ক্রিজে না ঢুকেই বোলার ওই ব্যাটসম্যানকে রানআউট করতে পারবেন। তাই ব্যাটসম্যানদের আরও বেশী সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে ও বোলারদের আরও বেশী কৌশলী হতে হবে।

  • বল ডেড হওয়ার আগে ব্যাটসম্যান হাত দিয়ে বল ধরলে ফিল্ডারদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ‘হ্যান্ডল দ্য বল’আউট দেওয়া হতো। এই আউট থাকছে। তবে তার নাম হচ্ছে ভিন্ন। সামনে থেকে এটাকে ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’হিসেবে অভিহিত করে আউট দেয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন নিয়ম গুলি চালু হলে ক্রিকেট খেলা আরও বেশী আকর্ষণীয় ও প্রতিযোগিতা মূলক হয়ে উঠবে, যা দর্শক সহ সকল মহলের জন্য উপভোগ্য হবে। এখন দেখার বিষয় আসলেই নতুন নিয়ম গুলো ক্রিকেটের আকর্ষণ বাড়াতে কোন ভূমিকা পালন করতে পারে কিনা।

নবাব শাকিব খান

Now Reading
নবাব শাকিব খান

nobab.jpg

ঈদের আনন্দ দিগুণ করতে যেই কাজটা সবচেয়ে বেশী করা হয়, তা হল এক কোথাও ঘুরতে যাওয়া অথবা দুই হলে বসে ছবি দেখা, সেটা যদি বাংলা ছবি হয়, তাহলেতো কথাই নেই। এবারের ঈদে মুক্তি প্রাপ্ত তিনটি ছবির মধ্যে যেই ছবিটা মুক্তির অনেক আগে থেকেই আমার মন কেরে নিয়েছিল, তা হল সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত ছবি “নবাব”। গত বছর ঈদে মুক্তি পায় শাকিব খানের আরেকটি যৌথ প্রযোজনার ছবি শিকারি। সেই বছরের মধ্যে শিকারি ছিল ব্যবসাসফল। শিকারি ছবি দেখেই মনে হয়েছিল যে নবাব ছবিটাও সেরকম হিট কিছুই হবে। তাই নবাব ছবিটা হলে বসে দেখার লোভ আমি সামলাতে পারলাম না। যেই ভাবা সেই কাজ।

ঈদের পরদিন বিকালেই সিনেমা হলে চলে গেলাম (সংগত কারণেই সিনেমা হলের নাম বলতে চাইনা)। উদ্দেশ্য নবাব ছবিটি দেখবো। কিন্তু হলে পৌঁছেই হতাশ হতে হল। হলের সামনে বিরাট লাইন। কোন মতেই টিকিট কেটে হলে যাওয়া সম্ভব নয়। আমরা টিকিট কাটতে কাটতে হাউজফুল হয়ে যাবে নিশ্চিত। কি আর করা, ব্ল্যাকার এর খোঁজ করতে লাগলাম এবং টিকিট পেয়েও গেলাম। (আশা করি ব্ল্যাকার এর কাছ থেকে টিকিট নেয়াটা সবাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন)।

অজস্র ভালো ছবির নির্মাতা জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে নির্মিত নবাব। ছবিটি দেশের ১২৪টি হলে মুক্তি পেয়েছে। যৌথ প্রযোজনার এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশের আব্দুল আজিজ এবং কলকাতার জয়দেব মুখার্জী। ছবিটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাকিব খান,শুভশ্রী,অমিত হাসান,রজতাভ দত্ত,সব্যসাচী চক্রবর্তী,খরাজ মুখার্জিসহ অনেকে।

ছবির কাহিনীটা আপাতত নাই বললাম, কারণ ছবি যেহেতু এখনো হলে চলতেছে, আতি সবাইকে ছবিটি হলে দেখার আমন্ত্রণ জানাবো।

শাকিব খান অভিনীত যৌথ প্রযোজনার ছবি নবাবও দক্ষিন ভারতের অ্যাকশন থ্রিলারের ফর্মুলায় সস্তা ভারতীয় বাংলা ছবি। ছবিটি মুক্তির আগেই অবশ্য এর কাহিনী নিয়ে বেশ আলোচনা সমালোচনা হয়েছে যে কাহিনী অন্যান্য কিছু ছবি থেকে কপি করা হয়েছে। যেখানে বলিউড কিন্তু তাদের বেশিরভাগ ছবি হলিউড কিংবা কোরিয়ান মুভি কপি করে বানায় এবং আমরা সেগুলো দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ি। হলিউডের অনেক ছবিও অন্যান্য বিভিন্ন দেশের ছবির অবলম্বনে নির্মিত হয়।

সেখানে আমাদের দেশের ছবি যদি নির্মাণের দিক থেকে ভালো হয় তবে কেন দেখবো না হলে গিয়ে? হোক সেটা দুই চারটা ছবি থেকে কপি করা কিন্তু পরিপূর্ণ বিনোদন তো পাচ্ছি আমরা। আবার যৌথ প্রযোজনা নিয়েও অনেকে অনেক কথা বলতেছেন। বলা হচ্ছে যে যৌথ প্রযোজনার নামে প্রতারণা করা হচ্ছে। এখন যারা এই যৌথ প্রযোজনার ছবি নিয়ে কথা বলছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলব,আপনারা নিজেরা কেন মান সম্পন্ন ছবি বানাচ্ছেন না দেশে? আপনারা যদি এরকম মনসম্পন্ন ভালো ছবি বানান, তাহলে নিশ্চয় দর্শক আপনাদের ছবি দেখবে। দেশের দর্শক আর যৌথ প্রযোজনার ছবি দেখবে না তাহলে। পরিপূর্ণ দেশীয় ছবিই দেখবে। তবে মনে রাখবেন, এখন বিশ্বায়নের যুগ। মানুষ ঘরে বসেই পুরো দুনিয়া ঘুরে আসতে পারে, তাই বিনোদনের মাধ্যম চলচ্চিত্রকেও কোন বাঁধনে বেঁধে রাখবেন না। আর প্রতিযোগিতা থাকবেই, আপনারাও দেখিয়ে দিন, আপনারাও কোন অংশে কম না।

যাই হোক,আমরা আবার নবাবে ফিরে আসি। অভিনয়ের দিক থেকে সবার পারফর্মেন্স ছিল অসাধারণ। কি কেন্দ্রীয় চরিত্র,কি পার্শ্ব চরিত্র সবার অভিনয় শৈলী চোখে পড়ার মত। তবে সবচেয়ে বেশী নজর কেড়েছে আমাদের সুপারস্টার নায়ক শাকিব খানের রাজীব চৌধুরী ওরফে নবাব নামের কেন্দ্রীয় চরিত্রটি। শাকিব খানকে দেখতে বেশ সুদর্শন লেগেছে। স্লিম, হিট এন্ড ফিট; একেবারেই বলিউডের নায়কদের মতো। ছবিতে তার অভিনয় দেখেই বোঝা যায় যে চরিত্রটির জন্য বেশ পরিশ্রম করেছেন তিনি, যা ছিল বেশ সাবলীল এবং উপভোগ্য। তার সংলাপ ডেলিভারি,নাচ,অ্যাকশন সব মিলিয়ে যেন একটি যথাযথ প্যাকেজ। যদিও নবাব নামটি ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছে মাত্র কয়েকবার তাই শুধু নায়িকার মুখে । পুরো ছবিতে শাকিব খানের নাম ছিল রাজিব চৌধুরী সাহেব । তবু ছবির নাম নবাব দিল কোন যুক্তিতে সেইটাও মাথার উপর দিয়ে গেল ।

ক্রাইম রিপোর্টারের চরিত্রে শুভশ্রীও ভালো করেছেন। তবে তার চরিত্রের ব্যাপ্তি আরেকটু হলে ভালো হত। মুখ্যমন্ত্রীর চরিত্রে অপরাজিতা এবং সব সময় কমেডি চরিত্রে অভিনয় করা খরাজের ভিলেনের চরিত্রটি ছিল আকাঙ্ক্ষার চেয়েও অনেক বেশী ভালো।

ছবিতে মোট তিনটি গান রয়েছে এবং তিনটি গানেই তিন ধরনের স্বাদ পাওয়া যায়। ‘যাবো নিয়ে’ গানটিতে পাওয়া যাবে সফট মেলোডি,‘ষোলআনা’ গানে রয়েছে মশলাদার বিট আবার ‘ও ডিজে’ গানে পাওয়া যাবে পরিপূর্ণ বাংলা আইটেম গানের আমেজ। গানের সাথে সাথে ভালো ছিল ছবির আবহ সংগীতও।

ছবির শিল্প নির্দেশনা,ঝকঝকে ক্যামেরার কাজ,পোশাক পরিচ্ছদ,মেকআপ সব কিছু মিলিয়ে যথাযথ মনে হয়েছে। ছবির প্রতি পদে পদে যে টুইস্ট সেটাও অনেক উপভোগ্য, কেউ কেউ বলতে পারেন এ আর নতুন কি? কোথাও কোথাও কাহিনীর প্যাঁচে একটু আধটু বিরক্তি ধরলেও সব মিলিয়ে নবাব একটি পয়সা উসুল ছবি।

তবে, আর সব যৌথ প্রযোজনার ছবির মত এই ছবিতেও বাংলাদেশকে খুঁজতে গেলে আপনাকে কষ্ট করতে হবে। এটা বাংলাদেশী না কলকাতার ছবি তা আপনার চোখেই ধরা পরে যাবে।

আসলে ভুল ধরতে গেলে সবকিছুতেই হাজারটা ভুল ধরা যাবে। তাই ভুলের ভুলের দিকে না তাকিয়ে অন্তত বিনোদনের জন্যে হলেও সবাইকে আমি নবাব ছবিটি হলে গিয়ে দেখার আহবান জানাব। জয় হোক বাংলা ছবির। বাংলা ছবি হোক সুস্থ বিনোদনের অন্যতম হাতিয়ার। তবে একক প্রযোজনা হোক আর যৌথ প্রযোজনা হোক, আমরা যেন আমাদের দেশকে সহজে খুঁজে পেতে পারি এরকম ছবি নির্মাণ করার দাবি থাকল।

অল এশিয়া ফাইনালের অপেক্ষায় গোটা ক্রিকেট দুনিয়া

Now Reading
অল এশিয়া ফাইনালের অপেক্ষায় গোটা ক্রিকেট দুনিয়া

final 1.jpg

আর মাত্র একদিন পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এ বছরের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট ম্যাচটি। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে কাল মাঠে নামবে দুই  চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত এবং পাকিস্তান। ভারত-পাকিস্তান লড়াই মানেই বাড়তি উত্তেজনা। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি কিছু, পরতে পরতে রোমান্সে ঠাসা ক্রিকেট বিনোদনের পরিপূর্ণ এক  প্যাকেজ। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বুঁদ হয়ে থাকা। এমন লড়াইয়ের জন্যই অপেক্ষায় থাকে ক্রিকেট বিশ্ব। ক্ষণে ক্ষণে রং পাল্টাবে, পেন্ডুলামের মতো দুলবে ম্যাচের ভাগ্য। প্রতি মুহূর্তে আনন্দময় উৎকণ্ঠায় চলা ব্যাট-বলের এই দ্বৈরথের আবেশ ‘শেষ হইয়াও হয় না শেষ’! কথাগুলো যে চিরসত্য; তা জানা আছে অগণিত ক্রিকেটপ্রেমীদের। যেকোনো খেলায় ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হলেই ভোল্টেজ ‘হাই’ হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি উত্তাপ, উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে উপমহাদেশের সমর্থকদের মধ্যে। উপমহাদেশের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের স্নায়ুর ওপর দিয়ে যে আগামীকাল ঝড় বয়ে যাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি দক্ষিণ এশিয়াতেই থাকছে। সেমিফাইনালের টিকেট পাওয়া চারটি দলের তিনটিই ছিল উপমহাদেশের। আর  এখন  ফাইনালেও নিশ্চিত এশিয়ানরা।

পাকিস্তান দলের ফাইনাল যাত্রাঃ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে এজবাস্টন মাঠে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের দল ভারত নির্ধারিত ৪৮ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩১৯ রান তোলে।হাইভোল্টেজ ম্যাচে বৃষ্টির জন্য পাকিস্তানের ইনিংস দেরিতে শুরু হওয়ায় টার্গেট ছিল ৪১ ওভারে ২৮৯ রান। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে ১২৪ রানের ব্যবধানে হারিয়ে দেয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে। ভারতের কাছে বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ের পর থেকে পাকিস্তান দল একটা বিরাট পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। ভারতের কাছে হার ওদের কাছে এক  বিরাট বড় ধাক্কা ছিল। ওই ম্যাচের পর থেকে প্রাক্তনদের খোঁচা আর  দেশজুড়ে প্রবল সমালোচনায় বিদ্ধ হতে হয়েছে শোয়েব মালিক-মহম্মদ হাফিজদের। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল ওদের। এবং তারপর থেকে একমাত্র ঘুরে দাঁড়ানোই ছিল ওদের সামনে বাঁচার রাস্তা। শুধু ঘুরে দাঁড়িয়েছে বললে ভুল হবে, যে দলকে কেউ গুণাতেই ধরেনি, সেই পাকিস্তান দল এখন শিরোপা থেকে মাত্র একটি ম্যাচ দূরে! দ্বিতীয় ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে যায় পাকিস্তান। ৫০ অভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শেষ হয়,  ২১৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে। পাকিস্তান ইনিংসের ২৭তম ওভার শেষে বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। এ সময় ১১৯/৩ সংগ্রহ নিয়ে বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে এগিয়ে ছিল পাকিস্তান। ফলে আর খেলা না হওয়ায় বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে জয় পায় পাকিস্তান।‘বি’ গ্রুপ এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৪৯ দশমিক ২ ওভারে ২৩৬ রানেই  গুটিয়ে যায় শ্রীলংকা। জবাবে ৩১ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে ২৩৭ রান তুলে জয়ের স্বাদ পায় পাকিস্তান। এর ফলে সেমি ফাইনালে উঠে যায় পাকিস্তান। সেমি ফাইনালে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ডের শুরু আর  শেষটা হলো ভিন্ন। পাকিস্তানি বোলারদের তোপে নির্ধারিত ৫০ ওভারই ব্যাট করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ৪৯.৫ ওভারে ২১১ রানে অলআউট  হয় ইয়ন মরগানের দল। জয়ের জন্য ২১২ রানে লক্ষ্যমাত্র নিয়ে খেলতে নেমে মাত্র ৮ উইকেট হারিয়ে ১১.৫ ওভার বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌছে যায় পাকিস্তান। যার পরিপ্রেক্ষিতে জয়ের সাথে সাথে ফাইনালে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।

ভারত দলের ফাইনাল যাত্রাঃ এই ম্যাচটিতে ভারতই বেশি চাপে থাকবে। কারণ হট ফেভারিটের তকমা গায়ে মেখে মাঠে নামবে তারা।গ্রুপের প্রথম ম্যাচে এজবাস্টন মাঠে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের দল ভারত নির্ধারিত ৪৮ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩১৯ রান তোলে।হাইভোল্টেজ ম্যাচে বৃষ্টির জন্য পাকিস্তানের ইনিংস দেরিতে শুরু হওয়ায় টার্গেট ছিল ৪১ ওভারে ২৮৯ রান। ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে ১২৪ রানের ব্যবধানে হারিয়ে দেয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে।দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৭ উইকেটে হেরে যায় ভারত। আসরে টিকে থাকার লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭২ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে জয় পেয়েছিল কোহলির দল। ১৫ জুন দ্বিতীয় সেমিফাইনালে একপেশে ম্যাচে  বাংলাদেশকে নয় উইকেটের বিশাল ব্যাবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠে ভারত।

ভারত এ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চতুর্থবার ফাইনালে খেলতে যাচ্ছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রথমবার ফাইনালে খেলছে। ভারত বর্তমান চ্যাম্পিয়নও।ভারত-পাকিস্তান একবার স্বপ্নের ফাইনাল হয়েছিল। সেটা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। ২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হয়ে, সেবার ভারতের কাছে ৫ রানে হেরেছিল পাকিস্তান। যদিও জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল টান টান উত্তেজনায় ভরা। এছাড়া আইসিসি বিশ্বকাপ বলুন কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি- কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে দেখা হয়নি দু’দেশের।

কাল লড়াইটাও কি হবে পাকিস্তানি বোলার বনাম ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের? সেই লড়াইয়ে কে হাসবে তা জানতে অপেক্ষা করা ছাড়া তো আর উপায় নেই।রিকেটের সব রঙ, রূপ, রস, গন্ধ মিলে মিশে একাকার হয়ে যাবে যেন এই একটি ফাইনালকে ঘিরে। যেই ট্রফি ঘরে তুলুক। আরেকটি এশিয়া ভিত্তিক ফাইনাল দেখবে ক্রিকেট বিশ্ব।

ভারত-পাকিস্তান সেরা ১০ ওয়ানডেঃ

১৮ জানুয়ারি ১৯৮৮

পাকিস্তানকে (৩১৪/৫) তিন উইকেটে হারায় ভারত। ঢাকায় ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপের ফাইনালে

* এক বল বাকি থাকতে জয়সূচক বাউন্ডারি হাঁকান ঋষিকেশ কানিতকার

১৮ এপ্রিল ১৯৮৬

ভারতকে (২৪৫/৭) এক উইকেটে হারায় পাকিস্তান (২৪৮/৯)। শারজায় অস্ট্রেলিয়া কাপ ফাইনালে

* শেষ বলে চেতন শর্মাকে ছয় হাঁকান জাভেদ মিয়াঁদাদ

২২ মার্চ ১৯৮৫

ভারত (১২৫) জয়ী ৩৮ রানে। ৮৭ রানে অলআউট পাকিস্তান।

শারজায় চার জাতির সিরিজে

* ইমরান খান মাত্র ১৪ রানে ছয় উইকেট নেন

২৫ অক্টোবর ১৯৯১

পাকিস্তান (২৬২/৬) ভারতকে (১৯০) হারায় ৭২ রানে। শারজায় উইলস ট্রফির ফাইনালে

* আকিব জাভেদ হ্যাটট্রিকসহ সাত উইকেট নেন মাত্র ৩৭ রান দিয়ে

৯ মার্চ ১৯৯৬

ভারত (২৮৭/৮) পাকিস্তানকে (২৪৮/৯) হারায় ৩৯ রানে।

বাঙ্গালোরে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে

* অজয় জাদেজা ২৫ বলে ৪১ রান করেন

১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭

ভারত (১৮২/৬) পাকিস্তানের (১৪৮) বিপক্ষে জয়ী হয় ৩৪ রানে।

টরেন্টোয় সাহারা কাপে

* সৌরভ গাঙ্গুলী ১৬ রানে পাঁচ উইকেট নেন

১৬ এপ্রিল ১৯৯৯

পাকিস্তান (১২৯/২) আট উইকেটে হারায় ভারতকে (১২৫)।

কোকাকোলা কাপে

* ওয়াসিম আকরাম ১১ রানে তিন উইকেট নেন

১ মার্চ ২০০৩

পাকিস্তানের (২৭৩/৭) বিপক্ষে ছয় উইকেটে জয়ী হয় ভারত (২৭৬/৪)

বিশ্বকাপের গ্র“প ম্যাচে

* শচীন টেন্ডুলকার ৯৮ রান করেন

৩০ মার্চ ২০১১

ভারত (২৬০/৯) পাকিস্তানকে (২৩১) হারায় ২৯ রানে।

মোহালিতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে

* শচীন টেন্ডুলকার ৮৫ রান করেন

১৩ মার্চ ২০০৪

ভারত (৩৪৯/৭) পাঁচ রানে জয়ী হয়

পাকিস্তানের (৩৪৪/৮) বিপক্ষে।

করাচিতে দুদেশের মধ্যে ওয়ানডে সিরিজে

* ইনজামাম-উল-হক ১২২ রান এবং রাহুল দ্রাবিড় ৯৯ করেন।

আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তানের ফাইনাল যাত্রা

Now Reading
আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তানের ফাইনাল যাত্রা

pak.jpg

ক্রিকেট মানেই অনিশ্চয়তার খেলা, যে খেলার রঙ মুহূর্তেই পাল্টে যায়, সব হিসাব নিকাশের খাতা উল্টে দেয়।

ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে আনপ্রেডিক্টেবল দল বলতে যে দলকে বুঝায়, সে দল হল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। হারা ম্যাচ জিতে যাওয়া, জিতা ম্যাচ হেরে যাওয়ার বহু নজির রয়েছে এই পাকিস্তান ক্রিকেট দলের।

এইতো সেই দিন, যেদিন খাঁটি পাকিস্তান দলের সাপোর্টারও আশা করে নাই যে পাকিস্তান সেমি ফাইনাল অথবা ফাইনালে যাবে, সেই পাকিস্তান দলই এখন সেমি ফাইনালের বাঁধা টপকে এখন ফাইনালে পৌঁছে গেছে! তাও আবার ইংল্যান্ডের মত জায়ান্ট দলকে হারিয়ে।

কথাটা অবাক লাগলেও আর মিথ্যা না, এটাই সত্য। চলুন দেখে নেই পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জার্নি কেমন ছিল।

ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল দল ও আট দলের মধ্যে সবার নিচের র‍্যাংকিং এ থেকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরু করে পাকিস্তান।

প্রথম ম্যাচ ভারতের বিপক্ষেঃ

invp.jpg

এজবাস্টন মাঠে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠান পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে শেষ ৯ ম্যাচের ৭টিতে টসে হার দেখে পাকিস্তান। তবে বাকি দুইবার সফল টস শেষে ম্যাচে জয়ের স্মৃতি পাকিস্তানের।আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের দল ভারত নির্ধারিত ৪৮ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩১৯ রান তোলে। জবাবে, ওয়াহাব রিয়াজের ইনজুরিতে নামা না হলে ৩৩.৪ ওভারে বাকি সবক’টি উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস থামে ১৬৪ রানের মাথায়।

হাইভোল্টেজ ম্যাচে বৃষ্টির জন্য পাকিস্তানের ইনিংস দেরিতে শুরু হওয়ার টার্গেট ছিল ৪১ ওভারে ২৮৯ রান। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে ১২৪ রানের ব্যবধানে হারিয়ে দেয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে।আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে দীর্ঘ আট বছরে জয়ের স্মৃতি নেই পাকিস্তানের।

দ্বিতীয় ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেঃ ind.sa.jpg

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আগের টানা ছয় ম্যাচে হারের স্মৃতি ছিল পাকিস্তানের। গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে কুলীন এ ওয়ানডে আসরে পাকিস্তান সর্বশেষ জয় দেখেছিল ২০০৯-এ ভারতের বিপক্ষে।চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ‘বি’ গ্রুপে বাঁচা-মরার ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে যায় পাকিস্তান।ব্যাট হাতে শুরুটা খারাপ ছিল না প্রোটিয়াদের। ওপেনিং জুটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর বোর্ডে ৪০ রান জমা করেন হাশিম আমলা ও কুইন্টন ডি কক। তবে দলীয় ১১৮ রানে প্রোটিয়াদের শীর্ষ ৬ উইকেট তুলে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন পাকিস্তানি বোলাররা। পাঁচ নম্বরে ব্যাট হাতে ডেভিড মিলারের ১০৩ বলের হার না মানা ৭৫ রানের ইনিংসে শেষ পর্যন্ত দলীয় ২১৯ রানে থামে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস।জবাবে ৭.২তম ওভারে দলীয় ৪০ রানে প্রথম উইকেট খোয়ায় পাকিস্তান।প্রোটিয়া পেসার মরনে  মরকেলের ডেলিভারিতে হাশিম আমলার হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে ২৯ বলে ৩১ রান করেন পাকিস্তানের অভিষিক্ত ওপেনার ২৭ বছর বয়সী ফখর জামান।২৩.২তম ওভার শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ পৌঁছে ৯২/৩-এ।পাকিস্তান ইনিংসের ২৭তম ওভার শেষে বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। এ সময় ১১৯/৩ সংগ্রহ নিয়ে বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে এগিয়ে ছিল পাকিস্তান। ফলে আর খেলা না হওয়ায় বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে জয় পায় পাকিস্তান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস: ২১৯/৮ (৫০ ওভারে) (ডি কক ৩৩, আমলা ১৬, ডু প্লেসি ২৬, ডি ভিলিয়ার্স ০, মিলার ৭৫*, ডুমিনি ৮, পারনেল ০, মরিস ২৮, রাবাদা ২৬, মরকেল ০*; আমির ৫০/০, জুনায়েদ ৫৩/২, ইমাদ ২০/২, হাফিজ ৫১/১, হাসান ২৪/৩, শাদাব ২০/০)।

পাকিস্তানের ইনিংস: ১১৯/৩ (২৭ ওভারে) (আজহার ৯, ফখর ৩১, বাবর ৩১*, হাফিজ ২৬, মালিক ১৬*; রাবাদা ৩৬/০, পারনেল ২৫/০, মরকেল ১৮/৩, মরিস ২২/০, তাহির ১৬/০।

তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষেঃsri.jpg

‘বি’ গ্রুপ এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৪৯ দশমিক ২ ওভারে ২৩৬ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলংকা। জবাবে ৩১ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে ২৩৭ রান তুলে জয়ের স্বাদ পায় পাকিস্তান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলংকা : ২৩৬/১০, ৪৯.২ ওভার (ডিকেবলা ৭৩, ম্যাথুজ ৩৯, জুনায়েদ ৩/৪০)।
পাকিস্তান : ২৩৭/৭, ৪৪.৫ ওভার (সরফরাজ ৬১*, জামান ৫০, প্রদীপ ৩/৬০)।
ফল : পাকিস্তান ৩ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : সরফরাজ আহমেদ (পাকিস্তান)।

সেমি ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেঃPak125.jpg

সেমিফাইনালের লড়াই। যে দল জিতবে সেই দল টুর্নামেন্টে টিকে থাকবে। মানে, পেয়ে যাবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের টিকিট। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, হারলে নিশ্চিত হবে বিদায়। এমনই এক ম্যাচে কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড।পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ খেলতে থাকা ইংল্যান্ড এই আসরের অন্যতম ফেবারিট।গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচে যেতা ইংল্যান্ডের জন্য জয়টা কোন কঠিন কিছু ছিল না। কিন্তু প্রতিপক্ষ যে পাকিস্তান, যে দল যে কোন মুহূর্তে যে কোন কিছু ঘটাতে পারে, তাই সবার চোখ ছিল দুই দলের লড়াইয়ের দিকে। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ডের শুরু আর শেষটা হলো ভিন্ন। পাকিস্তানি বোলারদের তোপে নির্ধারিত ৫০ ওভারই ব্যাট করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ৪৯.৫ ওভারে ২১১ রানে অলআউট হয় ইয়ন মরগানের দল।জো রুট সর্বাধিক ৪৬ এবং ওপেনার বেয়ারস্টো ৪৩ রান সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া স্বাগতিক দলের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান বেন স্টোকস ও অধিনায়ক ইয়োইন মরগান করেছেন যথাক্রমে ৩৪ ও ৩৩ রান।পাকিস্তানের হয়ে তিন উইকেট নিয়েছেন হাসান আলী। এছাড়া দুটি করে উইকেট নেন জুনায়েদ খান ও অভিষেক পাওয়া রুম্মন রইস।জয়ের জন্য ২১২ রানে লক্ষ্যমাত্র নিয়ে খেলতে নেমে মাত্র ৮ উইকেট হারিয়ে ১১.৫ ওভার বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌছে যায় পাকিস্তান। বাবার আজম ৩৮ এবং মোহাম্মদ হাফিজ ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড: ৪৯.৫ ওভারে ২১১ (বেয়ারস্টো ৪৩, হেলস ১৩, রুট ৪৬, মরগান ৩৩, স্টোকস ৩৪, বাটলার ৪, মঈন ১১, রশিদ ৭, প্লানকেট ৯, উড ৩, বল ২*; জুনায়েদ ২/৪২, রইস ২/৪৪, ওয়াসিম ০/১৬, শাদাব ১/৪০, হাসান ৩/৩৫, হাফিজ ০/৩৩)

পাকিস্তান: ৩৭.১ ওভারে ২১৫/২ (আজহার ৭৬, জামান ৫৭, বাবর ৩৮*, হাফিজ ২৭*; উড ০/৩৭, বল ১/৩৭, স্টোকস ০/৩৮, প্লানকেট ০/৩৩, রশিদ ১/৫৪, মঈন ০/১৫)

ফল: পাকিস্তান ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: হাসান আলি (পাকিস্তান)।

ফাইনালে পাকিস্তান দল আজ দ্বিতীয় সেমি ফাইনালে মুখোমুখি দল বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝে জয়ী দলের সাথে মোকাবেলা করবে। এখন দেখার বিষয় পাকিস্তান ফাইনালে কেমন করে।

আজম খান থেকে পপ সম্রাট

Now Reading
আজম খান থেকে পপ সম্রাট

guru.jpg

“রেল লাইনের ওই বস্তিতে, জন্মে ছিল একটি ছেলে, মা তার কাঁদে, ছেলে কি মরে গেছে, হাইরে হাই বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ” অথবা “আলাল ও দুলাল, আলাল ও দুলাল” অথবা ওরে সালেকা, ওরে মালেকা গানের স্রষ্টা, পপ-গুরু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আজম খান। আজ এই দিনে তিনি আমাদের ছেঁড়ে, তার প্রিয় মাতৃভূমি ছেঁড়ে চিরতরে পরপারে চলে যান। আজম খান ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকার ও গায়ক।

আজম খান ১৯৫০ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি ঢাকার আজিমপুরে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পুরো নাম মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান। ডাক নাম আজম। তার বাবার নাম মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন খান, মা জোবেদা খাতুন। বাবা মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান ছিলেন একজন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার, সেক্রেটারিয়েট হোম হোম ডিপার্টমেন্ট, পাশাপাশি তিনি হোমিওপ্যাথির চিকিৎসাও করতেন। মা ছিলেন একজন সংগীত শিল্পী। শৈশব থেকেই আজম  খানের সংগীতের প্রতি অনুরাগ পরিলক্ষিত হয়। নিজ আগ্রহ ও মায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি নিয়মিত সংগীতচর্চা অব্যাহত রাখেন।

১৯৫৫ সালে তিনি প্রথমে আজিমপুর এর ঢাকেশ্বরী স্কুলের শিশু শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে তিনি কমলাপুরের প্রভেনশিয়াল স্কুলে প্রাইমারিতে এসে ভর্তি হন। তারপর ১৯৬৫ সালে সিদ্ধেশ্বরী হাইস্কুলের বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৬৮ ১৯৬৫ সালে সিদ্ধেশ্বরী হাইস্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুল থেকে ১৯৬৮ সালে বাণিজ্য বিভাগে এসএসসি পাস করেন। ১৯৭০ সালে টি-অ্যান্ডটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অস্ত্র হাতে তুলে নেন। ওইসময় তার বাবা ছিলেন সচিবালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। বাবার অনুপ্রেরণায়ই দেশকে স্বাধীন করার জন্যে গুরু আজম খান ২১ বছর বয়সে যুদ্ধে যান এবং দেশকে স্বাধীন করতে নিজের জীবন বাজি রেখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর আর পড়ালেখায় এগোতে পারেন নি।

Azam Khan2.jpg

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর অস্ত্র ফেলে দিয়ে আজম খান ও তার বন্ধুরা মিলে ব্যান্ড উচ্চারণ গঠন করেন। আজম খান দেশ ব্যাপী পরিচিতি পান তার এত সুন্দর দুনিয়া কিছুই রবে না রে আর চার কালেমা সাক্ষী দেবে গান দ্বারা, যা ওইসময় বিটিভিতে সরাসরি প্রচার হয়েছিল। ১৯৭৪-৭৫ সালের দিকে রেল লাইনের ওই বস্তিতে শিরোনামের গান গেয়ে সারা দেশে হইচই ফেলে দেন। আজম খান তার বন্ধু ইশতিয়াক এর পরামর্শে সৃষ্টি করেন জীবনে কিছু পাবোনা এ হে!  শিরোনামের একটি এসিড রক ঘরানার গান, যা আজম খানের দাবি অনুযায়ী বাংলা গানের ইতিহাসে প্রথম হার্ড রক গান। তার পর থেকেই তাঁর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশ জুড়ে৷ ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা পপ সংগীতের এক প্রতীক পুরুষ৷ শুধু বাংলাদেশেই নয় গোটা উপমহাদেশেও আজম  খান পেয়েছেন অসাধারণ জনপ্রিয়তা৷

ক্রিকেটার হিসেবে আজম  খান তৈরি করে গেছেন এক অনন্য রেকর্ড। তিনি দেশের বয়স্ক ক্রিকেটার হিসেবে ৪১ বছর বয়স থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত একটানা ১০ বছর ক্রিকেট খেলেছেন। ১৯৯১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলেছেন গোপীবাগ ফ্রেন্ডস ক্লাবের হয়ে। ক্রিকেটে আজম  খান ছিলেন একজন অল রাউন্ডার।আজম খানের বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলার প্রবল ইচ্ছে ছিল। ১৯৯৭ এ আইসিসি ট্রফি বিজয়ের ফলে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হয় বাংলাদেশের। বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাবার জন্য নিজেকে নাকি প্রস্তুতও করেছিলেন তিনি।

বিশ্বের বেশ ক’টি দেশে কনসার্ট পরিবেশন করেন আজম  খান৷ এসব কনসার্টে শুধু প্রবাসী বাঙালিই নয় বহু বিদেশী সংগীতানূরাগীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি৷ বাংলা সংগীতের নানা ধারার গান পপ আঙ্গিকে গেয়েছেন আজম  খান৷

আজম খান ১৯৮১ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকার মাদারটেকে সাহেদা বেগমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। স্ত্রী মারা যাবার পর থেকে তিনি একাকী জীবন যাপন করতেন। খুব সহজ সরল জীবন যাপন করতেন তিনি৷তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক। শাহীন-সুমন পরিচালিত ’গডফাদার’ নামের একটি ছবিতে নাম ভূমিকায় খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন আজম  খান। বিটিভির একাধিক নাটকে বাউল চরিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। বেশ কিছু বিজ্ঞাপন চিত্রে মডেল হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের আদলে তৈরি করা বিজ্ঞাপন-চিত্র আজম  খান বেশ উপভোগ করতেন।

Azam Khan1.jpg

আজম  খানকে বাংলাদেশের পপ ও ব্যান্ড সঙ্গীতের গুরু হিসেবে গণ্য করা হয়। তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে – রেল লাইনের ওই বস্তিতে জন্মে ছিল একটি ছেলে, ওরে সালেকা ওরে মালেকা, আলাল ও দুলাল আলাল ও দুলাল তাদের বাবা হাজি চান, অভিমানী তুমি কোথায় হারিয়ে গেছো তুমিই তো বোঝাবে, এতো সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে না, চুপ চুপ চুপ অনামিকা চুপ, ও চাঁদ সুন্দর রূপ তোমার তার চেয়ে রূপে রাঙা প্রিয়া আমার, আসি আসি বলে তুমি আর এলেনা, আমি যারে চাই রে সে থাকে মোরি অন্তরে, জীবনে কিছু পাব না ভুলিনি সে ভাবনা, পাপড়ি কেন বোঝে না তাই ঘুম আসেনা, আমি বাংলাদেশের আজম খান বাংলাতে গাই পপ গান, হাইকোর্টের মাজারে এরকম আরও অনেক গান। ১৯৮২ সালে এক যুগ নামে তাঁর প্রথম অডিও ক্যাসেট বের হয়। তাঁর একক অ্যালবাম সংখ্যা ১৭ এবং দ্বৈত ও মিশ্র অ্যালবাম ২৫টির অধিক।বাংলা সংগীতের নানা ধারার গান পপ আঙ্গিকে গেয়েছেন আজম  খান৷ তার ১৭ টিরও বেশি হিট গানের অ্যালবাম বেরিয়েছে বাজারে, কয়েক মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে।

স্বাধীনতাযুদ্ধে এবং সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি অনেক সম্মাননা ও পুরস্কার লাভ করেন। এর মধ্যে হলিউড থেকে ডিস্কো রেকর্ডিংয়ের সৌজন্যে ১৯৯৩ সালে বেস্ট পপ সিঙ্গার অ্যাওয়ার্ড, টেলিভিশন দর্শক পুরস্কার ২০০২, কোকাকোলা গোল্ড বোটলসহ লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, কাউন্সিল অব আরবান গেরিলা ঢাকা ’৭১ ও রেডিও টুডের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা লাভ করেন।

আজম খানের জন্ম,জীবনকাল,যুদ্ধ,কাজ,মৃত্যু সবমিলিয়ে তিনি পুরো জীবনটাই ঢাকায় কাটিয়েছেন।২০১০ সালে মুখ গহবরের ক্যান্সার ধরা পড়ে আজম  খানের৷ এর পর চিকিৎসার জন্য তাকে দু’দফায় নিয়ে যাওয়া হয় সিঙ্গাপুরে৷ কিন্তু নয় দিন আগে আজম খানের অবস্থার অবনতি ঘটে৷ সে দিন থেকেই স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাকে৷ এরপর সেখান থেকে নেওয়া হয় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে৷ রোববার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন তাকে৷মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর।

আজ তার প্রয়াণের দিনে তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। আজ আজম খান নেই, কিন্তু তিনি তার কীর্তির মাঝে বেঁচে থাকবেন। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থাকবে, অন্যায় অসত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম থাকবে, ততদিন আজম খান থাকবেন তিনি বেঁচে থাকবেন আমাদের মাঝে।

১০ ওভারে ৩৬ রান ও কিছু কথা

Now Reading
১০ ওভারে ৩৬ রান ও কিছু কথা

BanvEng.jpg

আমরা সবাই জানি যে বাংলাদেশ ইংল্যান্ডের সাথে বড় ব্যবধানে হেরে গিয়ে তাদের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০১৭ এর যাত্রা শুরু করেছে। বাংলাদেশের এই হারটা আর সবার মত আমার কাছেও দৃষ্টিকটু লেগেছে, কারণ আমরা শুরু ও শেষের ১০ ওভারে বেশী রান তুলতে পারিনি। হ্যা, আমি ব্যাটিং এর দোষই দিব, কারণ ম্যাচটা একটি ব্যটিং সহায়ক পিচে খেলা হয়েছিল। টসে হেরে ব্যাটিং এ নেমে আমাদের খেলোয়াড়েরা অতি সাবধানে খেলতে গিয়ে ১০ ওভারে মাত্র ৩৬ রান সংগ্রহ করে, যা কিনা এই ধুম ধারাক্কা ব্যাটিং এর যুগে বেশ বেমানান। যেখানে ১০ ওভারে মিনিমাম ৬০/৭০ রান হয়, সেখানে আমরা করলাম মাত্র ৩৬! এখন অনেকে আবার শান্তনা খুঁজতে যায় যে, রান যাই হোক না কেন, আমাদেরতো কোন উইকেট পরে নাই। আমিও মানলাম আমাদের কোন উইকেট পরে নাই, কিন্তু ভাই আপনিই দেখুন এই যে আপনি ২৫/৩০ রান কম করলেন প্রথম ১০ ওভারে, সেই ধাক্কা কিন্তু বাংলাদেশ আর সামলাতে পারে নাই। যা আমাদের মোট রান ২৫/৩০ রান কম করে দিয়েছে। এই ২৫/৩০ রান বেশী হলেই কিন্তু আমরা ম্যাচ টা আর একটু টাইট হত, হইতবা জিততেও পারতাম, যা মাশরাফিও ম্যাচ শেষে স্বীকার করে নিয়েছে।

ম্যাচ শেষে অনেকেই মন্তব্য করতেছে যে বাংলাদেশ কি আবার আগের যুগে ফিরে গেল কিনা, যে কোন রকমে ৫০ অভার পর্যন্ত খেলে যেতে পারলেই হল, রান যাই হোক না কেন।

আমরা জানতাম যে ইংল্যান্ডের মাঠে ৩০০/৩০৫ কোন ব্যাপারই না চেজ করার জন্যে, সেই জন্যেই মনে হয় আমাদের বোলিংটাও খুব বাজে হয়ে গেছে। আমারা ম্যাচ হারার আগেই হেরে বসে ছিলাম।

আগে আমাদের ব্যাটিং ভালো না হলেও বোলিং ভালো করে আমরা ম্যাচ বের করে আনতে পারতাম, কিন্তু আমাদের বোলিং এর ধারও দিন দিন কমে যাচ্ছে। যাকে নিয়ে আমাদের সবচেয়ে বেশী আশা ছিল, সেই মুস্তাফিজও ওইদিন ফ্লপ ছিল। ইংল্যান্ডের ইনিংসের মাঝখানে কেন বোলিং অতি সাধারণ হলো,জুটি ভাঙা গেল না,৪০-৪২ ওভারের দিকেও যদি একটা বা দুইটা উইকট নেওয়া যেত। যদিও মাশরাফির বলে তামিম ইকবালের ক্যাচ টা পরিষ্কার আউট ছিল, কিন্তু আম্পায়ারদের কল্যাণে ব্যাটসম্যান বেঁচে যায় এবং বাংলাদেশও উইকেট বঞ্চিত হয়।

আমাদের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের দিনগুলো ভালো যাচ্ছে না। না ব্যাটিং না বোলিং। একটা সময় ব্যাটে-বলে দলকে অভয় দিতেন সাকিব। আর এখন সাকিবকে নিয়ে ভরসা পাচ্ছে না দল। নয়তো পুরো ক্রিকেট বিশ্বে টি-টোয়েন্টি ফেরি করে বেড়ানো সাকিব কেন নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছেনা। সাকিবের বোলিং আর আগের মত নেই,এটা নিয়ে বিতর্ক করার সুযোগ কম। ওয়ানডেতে গত ১৪ ইনিংসে ৩ উইকেট পেয়েছেন একবার। ২ উইকেট তিনবার। ১ উইকেটও তিনবার। বাকি সাতবার উইকেটের কোন দেখাই পাননি! আয়ারল্যান্ড ও নিউজল্যান্ডের সাথে ত্রিদেশীয় সিরিজ এরপর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো বড় আসরে যেখানে বড় তারকারা আলো ছড়ান। সাকিব সেখানে নিতান্তই মলিন। শেষ ছয় ম্যাচে তার বোলিং বিশ্লেষণ এমন-০/৫০,১/৩৮,২/৪১,১/৪১,০/২৩,০/৬২। সাকিবের সর্বশেষ কয়েকটা ম্যাচের ব্যাটিং পারফরম্যান্সও মোটে আশানুরূপ নয়। দলে সাকিবের অবস্থান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটে রান ও বোলিংয়ে উইকেট। একসঙ্গে তার কাছ দুটোই আশা করে দল। ১৪,৬,১৯,২৩,৭ এবং ১০ শেষ ছয় ম্যাচে সাকিবের কাছ থেকে এমন বাজে ইনিংসই উপহার হিসেবে পেয়েছে বাংলাদেশ।

আমার মনে হয় আমাদের ব্যাটসম্যানদের মানসিকতা আরও বাড়াতে হবে, কারণ যেখানে অন্য দলের ব্যাটসম্যানরা ব্যাটিং করলে ইচ্ছেমত চার ছয় হয়, সেখানে আমরা অনেক সময় ৩০ গজই পার করতে পারিনা, যা আমদেরকে অনেক পিছনে ফেলে দেয় রান করার ক্ষেত্রে। বাংলাদেশ প্রথম ৫ ওভারে করতে পেরেছে মাত্র ১৪, শেষ ৫ ওভারে ৪৩ রান, যেখানে ৬০/৭০ রান নেয়া দরকার ছিল, কারণ আমাদের হাতে উইকেট ছিল। শুরুটা যেমন ধীর,শেষে উইকেট হাতে রেখেও ঝড়টা তীব্র করতে ব্যর্থ, যে উইকেট হারানোর ভয়েই শুরুতে ১০ ওভারে রান ছিল মাত্র ৩৬!

এই হারাতে আমরা আবার রেঙ্কিং এ ৬ থেকে ৭ এ নেমে গেছি।

বাংলাদেশ অনেক বছর পরে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশ গ্রহণ করতে পেরেছে, যা এক সময়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ রা করতে পারেনি। তারা এই আসরে অংশ নিতে পারেনি। যার মানে নিশ্চয় বাংলাদেশ এখন আর আগের বাংলাদেশ নেই।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমি শুধু ক্রিকেটারদের ভুল ধরে গেলাম, এটা সত্য, কিন্তু তারপরেও ওই ম্যাচে আমাদের কিছু পজিটিব সাইট আছে। যেমন তামিম ও মুশফিকের ব্যাটিং।

বিশেষ করে তামিম ইকবালের কথা বলব আমি। ইংল্যান্ডকে সামনে পেলেই তামিম কেমন যেন জলে উঠেন। লর্ডস এ সেই ঐতিহাসিক সেঞ্চুরির কথা বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের মানুষ নিশ্চয় ভুলে যায়নি। সেই তামিম ইংল্যান্ডকে পেয়ে যেন জ্বলে উঠলেন। সেঞ্চুরি করেছেন তামিম ইকবাল। এটি ছিল ওয়ানডেতে তার নবম সেঞ্চুরি। ১১ চার আর ১ ছয়ে ১২৪ বলে শতক হাঁকান তামিম ইকবাল। এনিয়ে একদিনের ক্রিকেটে নবম শতকে নাম লেখালেন তামিম। শেষমেশ ১২৮ রানে থামল তামিমের ব্যাট। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পরে যেন তামিম আরও ধারালো হয়েছেন। যেখানে বিশ্বকাপের আগে আট বছরে ১৪১টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ছিল চারটি সেঞ্চুরি ও ২৮টি হাফ সেঞ্চুরি। সেখানে গত দুই বছরে মাত্র ২৯টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে পাঁচটি সেঞ্চুরি ও আটটি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তামিম ইকবাল।

মুশফিকও কোন অংশে কম ছিলনা, মুশফিকের হাত শুরু থেকেই খোলা। একবারে ভয়ডরহীন ব্যাটিং। ৪৮ বলে তুলে নিলেন হাফ সেঞ্চুরি। তামিমএর সাথে মুশফিকের ১৬৬ রানের পার্টনারশিপ ম্যাচে বাংলাদেশ ম্যাচে ঠিকমতেই ছিল। মুশফিক ৭২ বলে ৭৯ রানের ক্লাসিক ইনিংস খেলে তামিম যে বলে আউট হলেন তার পরের বলেই আউট হয়ে যান

তামিম, সাকিব, সাব্বির, মুশফিকরা ঠিকমতে জ্বলে উঠলে ও মাশরাফি, রুবেল, মুস্তাফিজরা তাদের কাজটি ঠিকমত করতে পারলে, আশা করি আমাদের বিজয় কেউ আটকে রাখতে পারবেনা। পরের ম্যাচের জন্যে শুভ কামনা।