3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

মাইক্রোবায়োলজি কিংবা অণুজীববিজ্ঞানের ইতিহাস

Now Reading
মাইক্রোবায়োলজি কিংবা অণুজীববিজ্ঞানের ইতিহাস

মাইক্রোবায়োলজি কিংবা অণুজীববিজ্ঞান বললেই আমাদের চোখের সামনে যে সকল বস্তু চলে আসে তা হলো ভাইরাস,ব্যাকটেরিয়া,প্রটোজোয়া ইত্যাদি । মাইক্রোবায়োলজি বর্তমান সময়ে বেশ একটি জনপ্রিয় বিষয় হয়ে উঠেছে । দেশে বিদেশে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই বিষয়টি পড়ানো হয় এবং গবেষণা করা হয় । অত্যন্ত ক্ষুদ্র জীবাণু যা খালি চোখে দেখা যায় না ,এই সকল জীবাণুই এই বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত । এই সকল জীবাণু সম্মন্ধে বিস্তারিত আলোচনা ,এদের ক্ষতিক্ষর প্ৰভাৱ এবং এদের কিছু উপকারী দিক সম্মন্ধে আলোচনা করা হয় এই বিষয়ে ।এবার আলোচনা করা যাক এই অণুজীববিজ্ঞানের ইতিহাস নিয়ে। এই সকল ভাইরাস ,ব্যাকটেরিয়া কিন্তু একদিনে আবিষ্কৃত হয় নাই এবং এদের ইতিহাস বৃহৎ ।

১৬৬৫ সালে রবার্ট হুক সর্বপ্রথম প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পান ।তিনি তার মাইক্রোস্কোপ দিয়ে এগুলো পর্যবেক্ষন করেন ।তিনি এগুলোর নাম দেন ”সেল” কিংবা কোষ ।তার এই পর্যবেক্ষণ মাইক্রোবায়োলোজির ইতিহাসে প্রথম ভীত স্থাপন করে ।এরপর বিজ্ঞানী লিউয়েনহুক প্রথম তার মাইক্রোস্কোপ এ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীবাণু পর্যবেক্ষণ করেন ।তিনি এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীবাণুর নাম দেন ”এনিম্যালকুয়েলস”।তিনি এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীবাণুর আকৃতির বর্ণনা দেন এবং এগুলোকে বিস্তারিত তার কাগজে এঁকেছিলেন ।এরপর অনেক দিন অনুজীবিজ্ঞানের অগ্রগতি বন্ধ হয়ে ছিলো ।এই সময় কিছু দার্শনিক এবং বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন যে ,”ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীবাণুরা জড় বস্তু দেখে জন্ম নেয় ”।মানুষ বিশ্বাস করতো যে ,ইঁদুর ,স্যাপ এগুলো নোংরা মাটি বা কাদা যুক্ত মাটি দেখে জন্মাতে পারে।এই ধারণাকে বদলে দেওয়ার জন্য জন নিধাম একটি এক্সপেরিমেন্ট অর্থাৎ পরীক্ষা করেছিলেন।প্রথমে তিনি কিছু ফ্লাস্ক অর্থাৎ পাত্র নিয়েছিলেন এবং এই পাত্রগুলো তিনি টুকরো টুকরো মাংস দ্বারা পূর্ণ করেছিলেন তিনি এই পাত্রগুলো কিছু মাংস দ্বারা পূর্ণ করেছিলেন । কিছু পাত্র তিনি সিল অর্থাৎ বন্ধ করে দিয়েছিলেন এবং কিছু পাত্র খোলা অবস্থায় রেখেছিলেন।কিছুদিন পরে তিনি লক্ষ্য করলেন যে খোলা পাত্রে জীবাণুর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেছে । কিন্তু যে পাত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল সে পাত্রে কোনো জীবাণুর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় নি ।কিন্তু এরপরেও অনেক বিজ্ঞানী দাবি করেছিলেন যে খোলা পাত্রে বাতাস প্রবেশ করতে পেরেছিলো ,তাই জীবাণু জন্মাতে পেরেছে কিন্তু বন্ধ করা পাত্রে কোনো জীবাণু জন্মায় নি কারণ সেখানে কোনো বাতাস প্রবেশ করতে পারে নি ।১৭৪৫ সালে জন নিধাম আবারো দাবি করলেন যে ,”ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীব জড় বস্তু দেখে জন্মায় ” ।কিন্তু বিজ্ঞানী স্প্যানল্যানজানি নিধাম এর ধারণাকে ভুল দাবি করেন ।তিনি বলেন যে ,”জীবাণুরা সবসময় জীবন্ত কোষ থেকেই জন্মায় ” এবং এরা বাতাসে বর্তমান থাকে ।বাতাসের মাধ্যমে এগুলো কোনো কিছুর সাথে মিশে ওই বস্তুকে দূষিত করতে পারে ।১৮৫৮ সালে রুডলফ ভারচু বিজ্ঞানীদের একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন ।তিনি এই তত্ত্বের নাম দেন ”জীবনজনিতত্ত্ব”।কিন্তু তিনি তেমন কোনো প্রমান দেখাতে পারেন নি তাই এই ধারণা বেশিদূর পৌঁছাতে পারে নি ।

অবশেষে ১৮৬১ সালে সকল জল্পনা কল্পনা অবসান ঘটে ।লুই পাস্তুর ধারণা দেন যে ,জীবাণুরা বাতাসে থাকে এবং তারা যেকোনো জিনিসকে সংক্রমিত করতে পারে ।তার এই ধারণা প্রমান করার জন্য পাস্তুর একটি পরীক্ষা করেছিলেন যেখানে তিনি দেখিয়েছেন যে ,জীবাণুরা আপনা আপনি জড় বস্তু থেকে তৈরী হয় না ।তিনি প্রথমে কিছু ফ্লাস্ক নিয়েছিলেন এবং ফ্লাস্কগুলো মুরগির সুপ্ দ্বারা এবং পূর্ণ করেছিলেন ।এরপর সেগুলোকে তিনি তাপ দিয়েছেন বিশুদ্ধ করেছিলেন । এরপর তিনি সেগুলো তাপ দেন এবং কিছু ফ্লাস্ক সিলগালা করে দেন অর্থাৎ কিছু ফ্লাস বন্ধ করে দেন। বাকি কিছু ফ্লাস্ক তিনি খোলা অবস্থা রেখে দেন । তিনি কিছুদিন পরে খোলা পাত্রে কিছু জীবাণু দেখতে পেয়েছিলেন এবং যেইগুলো বন্ধ করে দিয়েছিলেন সেখানে কোনো জীবাণু দেখতে পান নি।এরপরেও কিছু দার্শনিক এবং বিজ্ঞানীরা দাবি করলেও যে বন্ধ করা ফ্লাস্কগুলোতে বাতাস প্রেস করতে পারে নি তাই জীবাণুরা জন্মাতে পারে নি। এবার তিনি তিনি অন্য পদ্ধতিতে তার এক্সপেরিমেন্ট করেন এবং এর সময়ে তিনি কিছু ফ্লাস্ক আবারো চিকেন সুপ্ নিয়েছিলেন । এবার পাত্রগুলো ছিলো লম্বা গলা ওয়ালা এবং সেখানে বাতাস প্রবেশ করার ব্যবস্থা ছিলো । কিন্তু পাত্রগুলোর ডিজাইন এমনভাবে করা হয়েছিলো যে পাত্র গুলোতে কোনো বাতাসের জীবাণু প্রবেশ করে পারবে না । এরপর তিনি ফ্লাস্ক কিংবা পাত্র গুলোকে খোলা জায়গায় রেখে দিয়েছিলেন । কিছুদিন পরে তিনি পাত্রের মুখে কিছু জীবাণু আবিষ্কার করেছিলেন । অর্থাৎ তিনি প্রমান করতে সক্ষম হয়েছিলেন যে ,জীবাণুরা বাতাসে থাকে এবং তারা যে কোনো কিছুর সাথে মিশে সংক্রমিত হতে পারে এবং জীবাণুরা সবসময় জীবিত কোষ থেকেই উৎপন্ন হয় ।

এই লুই পাস্তুরের দ্বারাই মাইক্রোবায়োলজি সোনালী যুগের শুরু হয়েছিলো । পাস্তুর এরপর ফার্মেন্টেশন পদ্ধতি সম্মন্ধে বিস্তারিত ধারণা দেন ।তিনি পাস্তুরাইজেশন এর আবিষ্কারক। এই পাস্তুরাইজেশন বর্তমান সময় বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে । অনেক পানীয় ,দুধ ,বেভারেজ ,এগুলো কোম্পানিতে প্যাকিং এর সময় এই মেথড ব্যবহার করা হয় ।

এরপর আসে রবার্ট কোচ এর তত্ত্ব এবং এর কিছুদিন পর পর ই মানুষ বুঝতে পারে যে , ”জীবাণুরা রোগ তৈরী করতে পারে ”। অর্থাৎ এই অণুজীববিজ্ঞানের ইতিহাসে এইদুইজন বিজ্ঞানীর ভূমিকা অপরিসীম । এই মাইক্রোবায়োলজি বর্তমান সময়ের একটি চমকপ্রদ সাবজেক্ট এবং এর চাকুরী ক্ষেত্র অনেক বিশদ ।মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে যারা ডিগ্রী লাভ করে তাদের মাইক্রোবায়োলোজিস্ট বলা হয়। আর এই মাইক্রোবায়োলোজিস্টদের এইসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীবাণু যা খাল চোখে দেখা যায় না তাদের নিয়ে সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হয় । এই সেক্টরে গবেষণার খাত অনেক বড়। বাংলাদেশেও দিনে দিনে এর বড় খাত তৈরী হচ্ছে।

সোর্স,cliffsnotes.com

পিকচার সোর্স,bsnscb.com

নাটকের অভিনয় শিল্পীরা কী সিনেমার জন্য পারফেক্ট নয়??

Now Reading
নাটকের অভিনয় শিল্পীরা কী সিনেমার জন্য পারফেক্ট নয়??

নতুন মুখ উপহার দিলেই কী ভালো অভিনেতা-অভিনেত্রী পাওয়া যায়??
জোকার এর মতো দেখতে হলেই কী তাকে কৌতুক অভিনেতা বলা যায়??
ভিলেনের মতো দেখতে হলেই কী তাকে দিয়ে ভিলেনের অভিনয় হয়??
লুস ক্যারেকটার এর মতো দেখতে হলেই কী তাকে দিয়ে সেই চরিত্রে অভিনয় করানো যায়??
উপরের প্রশ্নগুলো বর্তমান কিছু পরিচালকের জন্য।আমার করা প্রশ্নগুলো ঠিক আমা মুখে মানায় না কারন আমি একজন সাধারন মানুষ,তুবুও প্রশ্নগুলো তুলেছি কিছু পরিচালকের সিনেমা দেখে বিরক্ত হয়ে।আমাদের দেশের অনেক পরিচালকই মনে করেন নাটকের অভিনয় শিল্পীরা চলচ্চিত্রের জন্য পারফেক্ট নয়।যে সকল পরিচালকগন বলেন নাটকের অভিনয় শিল্পীরা পারফেক্ট নয় তাদেরই ভুল প্রমান করেছেন আমাদের দেশের নামকরা কিছু পরিচালক।নাটকের অভিনয় শিল্পীরা যে সিনেমার জন্যও পারফেক্ট হতে পারেন তার প্রকৃষ্ট উদাহরন ‘তারকাঁটা ‘ ছবিটি।’তারকাঁটা ‘ ছবির বেশির ভাগ অভিনয় শিল্পীই নাটক থেকে নেওয়া হয়েছে। আমরা জানি তারকাঁটা ছবির হিরো আমাদের প্রিয় নায়ক আরিফিন শুভ একসময় নাটকে অভিনয় করতেন,বর্তমানে তিনি চলচ্চিত্র জগতের একজন জনপ্রিয় অভিনেতা।তারকাঁটা ছবির জন্য আরিফিন জিতেছিলেন সমালোচক পুরষ্কার যা শুধু জনপ্রিয়তা বা ক্ষমতা থাকলেই জেতা যায় না কিংবা সবেচেয়ে নিম্নমানের টিকেট কেটে দেখা দর্শক যার কিনা অশ্লীল দৃশ্য সামনে আসলে মুখ দিয়ে সিটি বাজায় কিংবা অস্বাভাবিক বা উদ্ভট ডায়লগ শুনে সিটি বাজায় তাদের ভোটেও জেতা যায় না। তারকাঁটা ছবির নায়িকা মিম… যাকে প্রথম দুইটি ছবি করার পরে সাধারনত নাটকেই দেখা যেতো এবং যার সম্পর্কে কেউ কেউ বলতেন মিম নাটকের জন্যই পারফেক্ট সেই অভিনেত্রী।’তারকাঁটা ‘ ছবিতে অভিনয়ের প্রশংসা পেয়ে মিম তাদের ধারনাকে ভুল প্রমান করেছিলেন যা করতে তাকে সাহায্য করেছিলেন পরিচালক মোস্তফা কামাল রাজ।’তারকাঁটা ‘ ছবির ভিলেন আরিফিন শুভর বিপক্ষের ভিলেন ফারুক আহমেদ আর পক্ষের ভিলেন এজাজুল হক অসাধরন অভিনয় করে সকলের মনজয় করে নিয়েছিলেন।নাটকের অভিনয় শিল্পীরা যদি সিনেমার অভিনয়ের জন্য পারফেক্ট না হয় তবে নাটকের জোকার চরিত্রে অভিনয় করা লোক কিভাবে সিনেমার ভিলেন চরিত্রে একদম পারফেক্ট ভাবে মানিয়ে গেলেন??
এজাজুল হক এবং ফারুক আহমেদ এর মতো পারফেক্ট অভিনেতা নবাগত ভিলেন কিংবা জোকারদের মধ্যে কেউ নেই।কচি খন্দকার নাটকের অভিনেতা হয়েও তারকাঁটা ছবিতে তার লুস ক্যারেকটার এর অভিনয় খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন যা মানুষের মনজয় করেছিল। এবার আসা যাক অন্য একটি ছবির কথায় এবং নাটক ব্যতীত অন্য একটি বিষয়ে।পরিচালক আশিকুর রহমান এর আবিষ্কার বান্টি(হারুন রশিদ) দেখতে জোকারের মতো না হলেও তিনি তার অভিনয় এর মাধ্যমে তিনি মানুষের মনজয় করেছিলেন,তার চিকন আলির মতো জোর করে হাসানোর দরকার হয়নি।আবার আসা যাক নাটের অভিনয় শিল্পীদের বিষয়ে। প্রথম কাতারের পরিচালক ফারুকীর টেলিভিশন ছবির প্রত্যেকটা অভিনয় শিল্পী নাটকে ছিল,তাই বলে কী ছবিটা হিট হয়নি? টেলিভিশন কী পুরষ্কার জেতেনি?? অমিতাভ রেজার ‘আয়নাবাজি’ ছবিটির অভিনয় শিল্পীরাও নাটকের অভিনয় শিল্পী ছিলেন, তাই বলে কী ছবিটি হিট করেনি?? নাটকের অভিনেতা রওনক ‘রাতারগুল’ টেলিছবির মাধ্যমে অনেকের মনজয় করেছেন এবং সমালোচক পুরষ্কারও জিতেছেন।যারা রনকের নাটকটি দেখেছেন তারা যদি তাকে সিনেমার অভিনয় শিল্পী হিসেবে চান,সেটা কী ভুল চাহিদা হবে?? নতুন মুখের কথা যদি বলতে যান তবে আমার প্রশ্ন,নাটকের অভিনয় শিল্পীদের থেকে কী নতুন মুখরা কী ভালো কিছু করে দেখাতে পেরেছেন??
সব মিলিয়ে বলা যায় নাটকের অভিনয় শিল্পী হলেই যে তারা ভালো কিছু করতে পারবেন না তা মিথ্যা এবং জোকারের মতো দেখতে হলেই যে তারা মানুষের মনজয় করতে পারবেন তাও মিথ্যা।

সালমান, রিয়াজ নিয়ে জাকির হোসেন রাজু

Now Reading
সালমান, রিয়াজ নিয়ে জাকির হোসেন রাজু

পরিচালক জাকির হোসেন রাজু-র ‘অামার ছবি’ পর্ব-তে সালমান শাহ ও রিয়াজের দুটি ঘটনা জানা গেল।ভালো লেগেছে ঘটনা দুটি।

১.
সালমান শাহ-র ‘জীবন সংসার’ সিনেমা দিয়েই জাকির হোসেন রাজু পরিচালনায় অাসেন।সিনেমায় বিষ খাওয়ার একটা সিকোয়েন্স ছিল।সিনেমা মুক্তির অাগেই এটা বেশ হাইপ তুলেছিল এ বিষয়টা।সিকোয়েন্সে বিষ খাওয়ার মিথ্যা অভিনয় করে শাবনূর এবং সালমানকে ভয় দেখায়।শাবনূর অজ্ঞান থাকার সময় সালমান ভয় পায় ও কাঁদতে থাকে।শাবনূর তখন চোখ টিপে হাসে অার বলে সে বিষ খায়নি।
সিনেমার ঐ সিকোয়েন্সটি প্রিন্টেড যখন হয়নি সালমান বারবার বলেছিল পরিচালককে যে সে সিকোয়েন্সটা দেখতে চায়।সে নিজেই সিনেমার নেগেটিভ নিয়ে সম্পাদনার রুমে যায় অার সম্পাদককে বলে-‘অামি অাপনাকে মালিশ করে দিচ্ছি হাত পা, অাপনি জলদি করে এ দৃশ্যটা প্রিন্ট করে দেন।’সালমানের কান্ড দেখে জাকির হোসেন রাজু ও অন্যরা মজা করছিল।প্রিন্টেড হয়ে গেল তারপর সালমান সিকোয়েন্সটি দেখে পরিচালককে জড়িয়ে ধরে অার ছাড়ে না।প্রায় দুই মিনিট জড়িয়ে ধরে রাখে।পরিচালক সালমানের ফিলিংস বুঝতে পেরে নিজে থেকেও ছাড়ছিল না।সালমান নিজে যখন ছাড়ল তার চোখে পানি দেখল পরিচালক।
স্যালুট সেই নায়ককে যে অভিনয়কে মনেপ্রাণে ধারণ করত।

২.
রিয়াজের সাথে জাকির হোসেন রাজু-র বেশ কিছু সিনেমা অাছে।রিয়াজকে প্রথম থেকেই খুব উৎসাহী দেখেছিল পরিচালক।পরে পরিচালক নিজে চিন্তায় পড়েছিল। ‘নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি’-র সময় রিয়াজকে পরিচালক বলেন-‘কি ব্যাপার বলো তো তোমাকে অামার প্রতি বেশ উৎসাহী দেখাচ্ছে।পরে অাবার এটা ভয়ের কারণ হবে না তো?’রিয়াজ তখন বলেছিল-‘অাপনার প্রথম সিনেমা জীবন সংসার* অামি দেখেছিলাম পরিচালক দীলিপ বিশ্বাসের সাথে।উনি অামাকে অাপনার কথা বলেছিলেন, যদি ঐ ছেলেটা কখনো সিনেমা করার প্রস্তাব দেয় চোখ বুজে কাজ করবা সেজন্যই অামার অানন্দটা বেশি।’
অতঃপর রিয়াজকে নিয়ে বেশকিছু সিনেমা ধারাবাহিকভাবে করলেন।জাকির হোসেন রাজু শেষের দিকে রিয়াজ সম্পর্কে যেটা বললেন সেটা সবচেয়ে দামি কথা তাকে নিয়ে-‘অাজকাল স্টার বড় হতে থাকলে কার্টেসির অভাব দেখা যায় কিন্তু রিয়াজের মধ্যে এটা কখনো দেখিনি।’

সালমান শাহ ও রিয়াজকে নিয়ে পরিচালক জাকির হোসেন রাজু-র এই অবজারভেশন অাজকের তারকাদের জন্য অাদর্শ।হাতের কাছে শেখার মতো কতকিছু অাছে শুধু একটু খেয়াল করলেই হয়।

অপ্রতিরোধ্য তামিম ইকবাল

Now Reading
অপ্রতিরোধ্য তামিম ইকবাল

আমি যখন খেলা বুঝতে শুরু করি তখন ক্রিকেট বিশ্বে বেশ কিছু ওপেনারের দোর্দন্ড প্রতাপ চলছে। শচীন, গাংগুলী, গিলি, হেইডেন, জয়সুরিয়া, সাইদ আনোয়ার, গেরি ক্রিস্টেন, স্টিভেন ফ্লেমিং, মারকাস ত্রেস্কোতিক। ওদেরকে দেখতাম আর আফসোস করতাম। আমাদের উদ্ভোবনী জুটি তেতে তখন জাভেদ ওমরের মত ব্যাটসম্যান যিনি পারলে ওয়ানডেতেও টেস্ট খেলেন আর আল শাহরিয়ার এর মত ব্যাটস্ম্যান যে ২ -৩ টা চার মেরেই ফুস। আর ছয় এর মার তো দূরের কথা। আফসোস থাকত বাংলাদেশ কখন এমন ব্যাটস্ম্যান পাবে যে ছয় মারতে পারে,, প্রতিপক্ষের বোলারদের ধসিয়ে দিবে মনোবল নষ্ট করে দিবে আর একই সাথে লম্বা ইনিংস খেলবে।। সময়টা ২০০৭ তখন একজন খানের নাম শুনলাম যে ডাউন দ্য উইকেটে উঠে ছয় মারতে পারে,, মিড উইকেটে দাঁড়িয়ে ছয় মারতে পারে। তখন আবার পড়ালেখার এমন পর্যায়ে ছিলাম নিয়মিত স্কুলে যেতে হত আবার নিয়ম করে পড়তে বসতে হত। যার কারনে বিশেষ কিছু সময়ে কিছু ওভার ছাড়া খেলা দেখতে পারতাম না। ডিশ লাইনের সুবাদে শুধু হাইলাঈটস দেখতে পারতাম। এরপরে শুরু হইল ০৭ বিশ্বকাপ। আর অধীর আগ্রহে বাবা মায়ের নিষেধ উপেক্ষা করে বাংলাদেশ ভারতের ম্যাচ দেখতে বসলাম। আর প্রথম কিছু ওভারে বাংলাদেশের এক তরুন ব্যাটস্ম্যান যা দেখালো তা শুধু মাথার উপর দিয়েই গেলো। তার আগ পর্যন্ত জানতাম স্পিন বলেই শুধু ডাউন দ্য উইকেটে উঠা যায়। এমন না য্ব তার আগে কেউ পেস বলে ডাউন দ্য উইকেটে নেমে ছয় মারে নি।।। কিন্তু নিজের চোখে প্রথম কাউকে দেখলাম। আর আরো অবাক হলাম এই শুনে এই বাহাতির বয়স ১৯ বছর ।  তিনি ২০০৭  সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট ভারতের  বিপক্ষে প্রথম খেলায় ৫৩ বলে ৫১ রান  করেন, যা ভারতীয় দলকে পরাজিত করতে  অবদান রেখে  অন্যতম নায়ক বনে গেলো সেই তরুন বাহাতি এগ্রেসিভ ব্যাটসম্যান।

২০০৯ সালে   বাংলাদেশ টীম  ওয়েস্ট ইন্ডিজ   সফরে তামিম ইকবাল তার প্রথম টেস্ট  সেঞ্চুরি  করেন।  তামিমের ব্যাটিং বাংলাদেশকে  জয় এনে দেয়। এটি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে  প্রথম টেস্ট জয় এবং দেশের বাইরে  প্রথম টেস্ট জয়।তামিম ১২৮ রানে তার ইনিংস শেষ করেন এবং ম্যান অব দ্য ম্যাচ   নির্বাচিত হন । সেই ব্যাটস্ম্যান এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ওপেনার সব ফরম্যাটেই।

 

জহির খাঁনের বল এগিয়ে এসে গ্যালারীতে বল পাঠানো দেখা থেকে থেকে ভালোবাসা শুরু,লর্ডসে সেঞ্চুরির পর লাফ দিয়ে সেই সেলিব্রেশন ।২০১২ সালের এশিয়া কাপে ফাইনালে ফিফটি করার পর ১..২..৩..৪ টি আঙুল দেখিয়ে সেই সেলিব্রেশন।পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর ২ হাত উপরে তুলে  সেলিব্রেশন । জাতীয় দলের হয়ে ২০০+  ,ওয়ানডেতে জাতীয় দলের হয়ে ১৫০,টি/২০ তে আছে ১০০+।  ক্যারিয়ারের ১০ বছরে নিজেকে প্রমানের কিছুই বাকী  রাখেননি তিনি ।

২০১১ সালে তামিম ইকবাল গ্রেম সোয়ান ও শেবাগকে  পেছনে  ফেলে  উইজডেনের বছরের সেরা পাঁচ ক্রিকেটের একজন  নির্বাচিত হন  ।

 

 

সোনালী ছোয়া না পাওয়া একজন কিংবদন্তীর গল্প

Now Reading
সোনালী ছোয়া না পাওয়া একজন কিংবদন্তীর গল্প

দলের বিপর্যয়ের আস্তাকুড়ের মধ্যে কেনো যেন তাকেই সব সময় ব্যাট উচিয়ে দারিয়ে থাকতে দেখা যেত এজন্য সবাই তাকে “দা ওয়াল” বলে ডাকত। তার দলের জন্য তিনি একজন ত্রানকর্তা,যখনই তার দল বিপদে পরতো তার ব্যাট সেখানে একটা মজবুত দেয়াল হয়ে যেতো ,বিপক্ষ দলের শত আঘাত এর পর আঘাত যে দেয়ালে লেগে চুরমার হয়ে গেছে। এই হচ্ছেন ”রাহুল দ্রাবিড়”।

তার পরিচয় কি শুধুই এটুকু,না তার পরিচয় এটুকু না।

রাহুল দ্রাবিড় সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার এবং অধিনায়ক । রাহুল ভারতের একটি মারাঠি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বয়স যখন ১২ বছর,তখন তিনি ক্রিকেট খেলা শুরু করেন । তিনি ২০০০ সালে উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমানাকের সেরা পাঁচ ক্রিকেটারের মধ্য একজন নির্বাচিত হন এবং ২০০৪ সালে আইসিসি পুরস্কারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার এবং টেস্ট প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার পুরস্কার পান। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে দ্রাবিড় টেস্ট ক্রিকেটে চতুর্থ সর্বোচ্চ রান স্কোরার হন । দ্বিতীয় ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে দশ হাজার রান অর্জন করেন টেস্টে । ২০০৪ সালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে তার সেঞ্চুরি পূর্ণ করার মাধ্যমে , তিনি টেস্ট খেলুড়ে দশটি দেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করার রেকর্ড গড়ে তোলেন। ২০১২ সালের অক্টোবরের ২২ তারিখ তিনি টেস্ট ক্রিকেটে সর্বাধিক ক্যাচ নিয়ে রেকর্ড গড়েন। ২০১১ সালে ওডিআই ও টি-টোয়েন্টি টুয়েন্টি টুয়েন্টি টুয়েন্টি টুয়েন্টি টুর্নামেন্ট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন এবং মার্চ ২০১২ সালে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০১২ সালে তিনি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক ছিলেন । ২০১২ সালে নভেম্বরে সিডনিতে সপ্তম বার্ষিক ব্র্যাডম্যান অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে রাহুল দ্রাবিড় এবং গ্লেন ম্যাকগ্রাথকে সম্মানিত করা হয়। দ্রাবিড়কে পদ্মশ্রী এবং পদ্মভূষণ পুরস্কার, ভারতের চতুর্থ এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরষ্কারও সম্মানিত করা হয়েছে।

বর্তমান কথিত সেরা ট্যালেন্টরা যেখানে ব্যাট করতেই হাসফাস করে ঠিক একই জায়গা গুলোতে তার ব্যাট উল্টা বোলারদের পরীক্ষা নেয়া শুরু করে। ক্রিকেটের সোনালী যুগের সেনানী তিনি, ওয়ানডে রান ১০৮৮৯, টেস্টে ২য় সর্বোচ্চ ১৩২২৮ রান।তাকে কিংবদন্তি বলার জন্য কারো কাছ থেকে সার্টিফিকেট নিতে হবে না,কারন তিনি নিজেকে প্রতিটা ধাপে প্রমাণ করেছেন ।

কিন্তু তিনি কি পেয়েছিলেন সোনালী সেই জাদুর ছোয়া,না তিনি পাননি,সোনালী সেই ছোয়া যে খুবই অধরা,সবার ভাগ্যে যে এটা ধরা দেয় না । ক্রিকেটের পুরো জীবনে তিনি ছিলেন ভদ্রতা,একাগ্রতা,সাহসের প্রতীক।

ক্রিকেটকে যিনি দুহাত ভরে মনে রাখার মত মূহুর্ত উপহার দিয়েছেন,অথচ ক্রিকেট আর তার দেশ তাকে হতশা ছাড়া আর কিছুই দেয় নি। একটা সময় নিজ হাতে লড়াই করেছিলেন সেই সোনালী ছোয়ার খুব কাছে চলে যাবার জন্য সবচেয়ে বেশী রান করেও দলকে শুধু সুপার সিক্সেই নিতে পারলেন। পরেরবার কিন্তু অল্পের জন্য সেই সোনালী ছোয়া হাত দিয়ে ধরতে পারেন নি মাত্র এক কদম দুরেই ছিলো সেই স্বপ্ন,কিন্তু পন্টিং এর সেই কখনো না ভোলা ইনিংস এর কাছে পরাজিত হয় তার সোনালী ছোয়া পাওয়ার স্বপ্ন,হয়তো তিনি চিন্তা করেছিলেন যে পরেরবার পাবো সেই সোনালী ছোয়া।

কিন্তু ক্রিকেট যে বড়ই নিষ্ঠুর,যাকে দেয় তাকে দিতেই থাকে আর যাকে দেয় না তাকে কিছুই দেয় না আর দুহাত ভরে দেবার সুযোগ তো একবারই আসে,বারবার আসে না। পরের বার কস্টের সয়লাব হয়ে এলো তার স্বপ্ন,অধিনায়ক তিনি,তার উপর বাংলাদেশের কাছে হার,প্রথম রাউন্ড থেকে ছিটকে পরা। সদা ভদ্র এই মানুষটি বিপক্ষকে সম্মান ঠিকই জানিয়েছেন। হারার পরও সবার আগে এগিয়ে এসেছেন। তামিম ইকবাল নামের ছোট ছেলেটাকে অসাধারন ইনিংস খেলার জন্য নিজের ব্যাটটি উপহার দিলেন । বিদায়ী বিশ্বকাপ তাকে দুহাত ভরা হতাশা আর দুচোখ ভরা জয়ের অতৃপ্ত তৃষ্ণা ছাড়া আর কিছুই দিলো না । হয়তো এটাই ছিলো তার নিয়তি ।

ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ব্যাক্তিগত রেকর্ড এর অপূর্নতা তিনি রাখেননি,কিন্তু যখনই আসবে বিশ্বকাপ এর কথা হয়তো তখনই হাস্যজ্জল এই মুখটি হয়ে যাবে মলিন, বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের পিছনে ফিরে যখন তিনি তাকাবেন তখন হয়তো দীর্ঘশ্বাস ছাড়া আর কিছুই আসবে না। হয়তো তার জন্য ০৩ বিশ্বকাপ এর আসরের ফাইনালিস্ট আর ৯৯ বিশ্বকাপ এর টপ স্কোরার হওয়াই সেরা মূহুর্ত ।

“কারন সোনালী এই ছোয়া যে সবার ভাগ্যে জুটে না, এই সোনালী ছোয়া সোনার হরিনের মত,সবার হাতে ধরা দেয় না,যদি সহজেই পাওয়া যেতো তাহলে এই সোনালী ছোয়া হতো না এতটুকু দামী যার জন্য বিশ্ব সেরা খেলোয়াড়রা নিজেদের সব কীর্তি বিসর্জন দিতে রাজি আছেন”

রানমেশিনঃ বিরাট কোহেলি

Now Reading
রানমেশিনঃ বিরাট কোহেলি

বিরাট কোহেলি নামটা শুনলেই মাথায় রানমেশিন কথাটা মাথায় চলে আসে। বর্তমান সময়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান এই বিরাট কোহেলি । ২০০৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে।এরপর আর তাকে পিছে ফিরে তাকাতে হয় নি ।একের পর এক অসধারণ ইনিংস খেলেছেন ।অনেক সেঞ্চুরিও উপর দিয়েছেন ভারত ক্রিকেট টিম কে ।শুধু তাই নয় টিমকে অনেক হারের দ্বারপ্রান্ত থেকে  উদ্বার করেছেন এই বিরাট কোহেলি ।

১৭৯ টি ওডিআই খেলে ফেলেছেন ইতিমধ্যেই ।রান করেছেন ৭,৭৭৫ ।২৭ টি সেঞ্চুরি ইতিমধ্যে তার দখলে ওডিআইতে ।একের পর এক পারফেক্ট শটের সমাহার ,ক্লাসিকাল শটের ফুলজুরি দেখা যায় এই রান মেশিন এর ব্যাট এ ।তার খেলার গিয়ার শিফটিং এতটাই সুন্দর যে ,যে কোনো পরিস্থিতিতে তিনি খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম । বর্তমানে ভারতের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে ধোনি’র পরিবর্তে তিনি অধিনায়কের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন ।তার এই অসধারন ব্যাটিং মেধাই তাকে বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যান করে তুলেছেন ।তার ওডিআই তে ব্যাটিং গড় ৫৩.১২ ।বিশ্বের এমন কোনো বোলার নেই যে কিনা কোহেলির কাছে তুলোধুনা হন নি।তাকে যতই দেখি ততই অবাক হয়ে যান ক্রিকেট বোদ্ধারা ।কি অসাধারন ব্যাটিং মেধা ।২০১৪ সালে মার্টিন ক্রো টেস্ট ক্রিকেটের তরুণ চার ফ্যাবারিট  এর মাঝে তাকেও অন্তর্ভূক্ত করেন ।২০১২ সালে আইসিসি থেকে বর্ষ সেরা পুরুস্কার লাভ করেন । এই রানমেশিন ২০১৬ সালে উইজডেন থেকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটারের লাভ করেন । ক্রিকেট এর বোধ হয় কোনো অর্জন বাকি রাখেন নি এই রানমেশিন । কোথায় গিয়ে থামবেন এই বিরাট কোহেলি । রান চেজিং এ এই কোহেলি যেন একটা দানব এ পরিণত হয় ।কখনো ডাউন দা উইকেটে এসে আবার কখনো উইকেটে থেকে শটের ফুলজুরি ছড়ান । তিনি সাধারণত এগ্রেসিভ ক্রিকেট খেলতে বেশি পছন্দ করেন ।তিনি বেশ কয়েকবার আইসিসি ওডিআই রেঙ্কিং এ ১ নাম্বার এ উঠেছেন ।গড়েছেন রানের পাহাড় ।তাইতো তাকে ক্রিকেট বোদ্ধারা রান মেশিনে হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ।

বিরাট কোহেলি শুধু ওডিআই তে নয় ,টেস্ট ক্রিকেটে ও বেশ পারফেকশনের সাথে ব্যাটিং করে থাকেন ।২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর বিপক্ষে টেস্ট এ অভিষেক ঘটে এই রানমেশিনের ।এরপর তিনি নিজের জাত চেনান সবাইকে ।৫৪ টি ম্যাচ খেলেছেন এই ফরম্যাট এর ক্রিকেটে । সেঞ্চুরি করেছেন ১৬ টি ।৫১.৭৫ গড়ে করেছেন ৪,৪৫১ রান ।তিনি ২০১৪ সালে ধোনির অবসরের পর টেস্ট দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হন ।এবং অধিনায়ক হিসেবেও বেশ সফলতা লাভ করেছেন ।তিন ফরম্যাট একইরকম পারফর্ম করা একজন ক্রিকেটারের জন্য বেশ কষ্টসাধ্য ।কিন্তু বিরাট কোহেলি এর নিয়ম এর বাইরে নিজেকে স্থাপন করেছেন ।ওডিআই স্পেশালিস্ট হিসেবে আখ্যা পাওয়া এই ক্রিকেটারের টি-২০ তে অর্জনটাও কিন্তু কম নয় ।শুধু ইন্টারন্যাশনাল পর্যায়েই নয় এই রান মেশিন রানের ফুলজুরি ছুটিয়েছেন আইপিএলেও।একের পর এক বাউন্ডারি মেরে বোলারদের ঘাম ঝরিয়ে ছেড়েছেন ।তার কিছু অসাধারণ ইনিংস রয়েছে , যেমন ২০১২ সালে শ্রীলংকা বিপক্ষে করা ১৩৩ রান তাছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০১২ সালে টেস্টে এ করা ১১৬ রান । ২০১০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-২০ তে অভিষেক ঘটে । ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটেও বেশ আগ্রাসী এই রানমেশিন ।সর্বমোট ৪৩ টা সেঞ্চুরি করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ।কোহেলি ২০১৬ সালে ইএসপিএন এ জনপ্রিয় এথলেটদের মধ্য অষ্টম স্থান এ জায়গা করে নেন ।আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বমোট ১৩,৯১৫ রান করেছেন ।তিনি রান চেজিং এ বেশ পরিপক্ক ।ভারতকে অনেকবার হারের দ্বারপ্রান্ত দেখে ফিরিয়ে এনেছেন ।বেশ কয়েকবার ওডিআই তে ১ নাম্বার স্থান দখল করেছেন এই ওডিআই স্পেশালিস্ট ।কোথায় গিয়ে থামবে বিরাট কোহেলির এই রানের চাকা ।সেই ২০০৯ সালে শুরু হয়েছে এরপর শুধু গতি বেড়েই চলেছে ।দিনে দিনে আরো ও দানব এবং ভয়াবহ হয়ে উঠেছেন এই বিশ্বসেরা ব্যাটসমান ।

২০০৮ সালে কোহলিকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালোর 30,000 ডলারের চুক্তিতে কিনে নেয় ।প্রথম সিজনে তিনি তেমন একটা ভালো ব্যাটিং করতে পারেন নি , ১২ টি ইনিংসে ১৫.৫ গড়ে 165 রান এবং স্ট্রাইক রেট ছিলেন ১০৬ আর কাছাকাছি ।
দ্বিতীয় সিজনে তিনি বেশ ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন এবং ২২.৩৬ গড়ে মোট ২৪৬ রান করেছিলেন । তিনি 112 রানে অপরাজিত ছিলেন ফাইনালে । ২০১০ সালের মৌসুমে কোহলি ২৭.৯০ গড়ে ৩০৭ রান করেন এবং তার স্ট্রাইক রেট ছিলো ১৪৪.৯১। এই মৌসুমে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ছিলেন।২০১২ সালের আইপিএলে ও তিনি মোটামুটি সফল ছিলেন, তার ৩৬৪ রানের জন্য
তিনি ২8 রান করেন। মাঝপথে কিছুটা সময় ঝিমিয়ে পড়েছিলেন এই তারকা , কিন্তু ফিরেছেন আরো ও পরিপক্ক হয়ে ।অনেক ক্রিকেট বোদ্ধারা মনে করেন বিরাট কোহেলি যখন তার ক্যারিয়ার শেষ করবেন হয়তো তখন তার নামের শেষে ৭০++ সেঞ্চুরি যুক্ত হবে । এমন ধারণা করাটাই স্বাভাবিক । কারণ এটা যে কোহেলি । একজন ব্যাটসম্যান এর রানক্ষুধা যে কি রকম হতে পারে তা এই কোহেলিকে দেখলেই উপলব্ধি করা যায় । ক্রিজে যখন আসে তখন বেশ ঠান্ডা মাথায় শুরু এর পর ধীরে ধীরে খেলার গিয়ার শিফটিং করে খেলাকে তার নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসেন । তার ইউনিক কিছু ক্ল্যাসিকাল শট ক্রিকেট ভক্তদের মুগ্ধ করে দেয় ।টি -২০ তে তার হাফ সেঞ্চুরির সংখ্যা ১৬ টি ,এবং এই ফরম্যাট এ তার ব্যাটিং গড় ৫৩.৭৫ ।সাবেক ভারতীয় ওদিনটোক সৌরভ গাঙ্গুলি বলেছেন ,”আমি ভারতের অনেক  ব্যাটসম্যান অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভালো করতে দেখেছি যেমন টেন্ডুলকার  কিন্তু আমি মনে করি বিরাট কোহেলি তাদের মধ্য সেরা ।”অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বিরাট বেশ ছন্দময়তার সাথে রান করেছেন ।শুধু অস্ট্রেলিয়া নয় ইংল্যান্ড সাউথ আফ্রিকা  এর মাটিতেও বিরাট কোহেলি তার ব্যাটিং জাদু দেখিয়েছেন ,হয়েছেন বিশ্ব সেরা ।

মহাশূন্যের কয়েকটি চমকপ্রদ তথ্য

Now Reading
মহাশূন্যের কয়েকটি চমকপ্রদ তথ্য

আগে  গ্রিকরা  আকাশের  দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে  তারা তাদের মস্তিস্ককে নিঃশেষ করে তুলেছিল যে সেখানে কি ঘটছে। তারা বছরের পর বছর গবেষণা করে  অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে .

আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব

এটি  খুবই  জটিল। আমি যদি  আপনার সামনে একটি ঘড়ি রাখি তাহলে , সেকেন্ডের কাটা স্বাভাবিকভাবে  ঘুরবে , যদি  ঘড়ি দূরে দূরে সরাই ,তাহলে   সেকেন্ড , মিনিট,আপনার দৃষ্টিকোণ থেকে  ধীরে ধীরে ঘুরবে । আসলে চোখে এরকম তা দেখলেও , এটার গতি   কিন্তু  সত্যিই  কমে যাবে  না।সকল  বস্তুর দিকে তাকালে ঠিক এমণতটাই দেখা যায়  । যেমন আমি যদি আপনার সামনে নীল রঙ এর আলো রাখি তাহলে  আপনি ওই আলোর দিকে তাকালে নীলই দেখতে পাবেন , আমি যদি আলোটা আস্তে আস্তে সরিয়ে নেই  তাহলে আপনি এটা লাল দেখতে শুরু করবেন ।  তবে এটি আরও দূরে এবং আরও দূরে চলে গেলে এটি আরও  লাল দেখতে শুরু করবেন।   কারণ লাল রঙ এর  তরঙ্গদৈর্ঘ্য অনেক বড় । এই একই  কারণে শ আপনি যখন কাছাকাছি থেকে     একটি ট্রেন এর শব্দ  শুনেন চান, পরিবর্তন  তখন এই শব্দের   তরঙ্গদৈর্ঘ্য সঙ্কুচিত হয় , তাই ফ্রিকোয়েন্সি  বেশী শোনা যায়  ।আপনি যখন দূর থেকে ট্রেন এর শব্দ  শুনেন তখন  শব্দ এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য অনেক বেশি থাকে  এবং ফ্রিকোয়েন্সি কম  হয়।  এই আপেক্ষিক পার্থক্যগুলি অতিসূক্ষ  এবং গুরুত্বহীন   । এইসব বিষেয়ে সুন্দর ধারণা দিতে স্কুল ও কলেজ গুলিতে  আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব   এবং    নিউটন এর সুত্র এর স্কুলে ব্যবহার   শেখানো হয়।  পৃথিবীর উপরের উপগ্রহগুলির সময়  আমাদের কাছে  ধীর গতিসম্পন্ন । প্রকৃতপক্ষে  উপগ্রহগুলি ধীর গতিসম্পন্ন নয় ।আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব এবং নিউটনের  তত্ত্বগুলি থেকে  এসবের পরিষ্কার ধারণা পাও্যা যায়  ।তাছাড়া এই বিষয়গুলোর উপর বেশ কিছু বই‍  রয়েছে  ।

ব্ল্যাক হোল

ব্ল্যাক হোল    এখনও একটি  রহস্য হয়ে আছে। তাদের খুব প্রকৃতি তাদের বুঝতে এত কঠিন করে তোলে কি। আপনি  তাদের দেখতে পারবেন  না। তাদের মাধ্যাকর্ষণ এত শক্তিশালী হয় যে আলো ও  এর মধ্য দিয়ে  অতিক্রম করতে পারে না । বস্তুকে এর মধ্য দিয়ে অতিক্রম করতে হলে  ওই বস্তুকে  আলোর  গতির গতির চেয়ে দ্রুততর গতিতে যেতে হবে, যা অসম্ভব। এইজন্য  তারা ব্ল্যাক হোল   তাদের হিসেবে নামকরণ  হয়েছে  ।কারণ  আলোও  এর মদ্য দিয়ে অতিক্রম করতে পারে না ।আলো এর  মধ্য দিয়ে অতিক্রম না করার কারণেই আমরা এটাকে দেখতে পাই না।

এছাড়া এটার  গঠন কিন্তু সরল নয় ।ব্ল্যাক হোলগুলি হল এক ধরণের স্ফুলিঙ্গ মৃত্তিকা ।যখন  আকাশের  একটি  বিশাল তারকা খসে  যায়, তখন এই খসে যাওযা তারকারা  একটি সুপারনোভাতে আঘাত করে যা পরবর্তীতে একটি তারকা সম্পূর্ণরূপে অসদৃশ হয়ে যায়  । এরপর  একটি নিউট্রন তারকা কিংবা  একটি ব্ল্যাক হোলের ভিতরে প্রবেশ করে , যা পরবর্তীতে একটি তারকা সম্পূর্ণরূপে অসদৃশ হয়ে যায়  । ব্ল্যাক হোলগুলির   মাধ্যাকর্ষণ  অনেক বেশি। এর ভিতরে  অসীম ঘনত্ব আছে । যেখানে  সকল ভর  শুন্য হয়ে যায়  এবং যেখানে সময় সম্পূর্ণভাবে থেমে যায় । ব্ল্যাক হোলগুলির ভিতর দিয়ে ফিরে আসতে পারে না আলোর মতো দ্রুতগতিস্পন্ন তরঙ্গ ।অনেক বিজ্ঞানীরা এটা নিয়ে গবেষণা চালীয়ে যাচ্ছেন ।এর রহস্য আজও বের করতে পারে নি  ।শুধু অল্প কিছু  তথ্য তারা জানতে পেড়েছেন ।এর উপরে ভিত্তি করে কিছু বই ছাপা হয়েছে।

ছায়াপথে অনেক কিছু আছে যা দেখতে পাওয়া যায় না বা সনাক্ত করা যায় না।

ক্যাপ্টেন্সিতে ব্যার্থ ক্রিকেট বিশ্বের এমন তিন জন গ্রেট ব্যাটসম্যান

Now Reading
ক্যাপ্টেন্সিতে ব্যার্থ ক্রিকেট বিশ্বের এমন তিন জন গ্রেট ব্যাটসম্যান

শচীন রমেশ টেন্ডুলকার

শুধু ব্যাট হাতেই দূর্দান্ত ছিলেন না তিনি একই সাথে ক্রিকেটকে যে “জ্যান্টেলম্যান গেম” বলা হয় সেটাও তার ব্যক্তিত্বে দারুনভাবে ফুটে উঠেছে।ভারতের ক্রিকেটারদের মধ্যে টেন্ডুলকারই একমাত্র ক্রিকেটার যার ব্যক্তিত্ব দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ হই।টেন্ডুলকার ২০০ টেস্টে ৫৩.৭৯ গড়ে করেছেন ১৫৯২১ রান,৪৬৩ ওয়ানডেতে ৪৪.৮৩ গড়ে করেছেন ১৮৪২৬ রান।আন্তর্জাতিক টি টুয়েন্টি ক্যারিয়ার অবশ্য খুব বেশি লম্বা নয় টেন্ডুলকারের।মাত্র ১ টি টি টুয়েন্টি খেলে করেছেন ১০ রান।মানুষের হৃদয় জয় করেছে তার ব্যাটিং দিয়ে ! শুধু তাই না ব্যাটিং এর সব রেকডও নিজেই করে নিয়েছেন । তাকে কোন ব্যাটসম্যান ছাড়িয়ে যেতে পারবে কিনা এ নিয়ে আছে অনেক বিতর্ক ! টেস্ট ও ওয়ানডে তে সেঞ্চুরীর সেঞ্চুরী করা একমাত্র এ ব্যাটসম্যান দুই দফা হয়েছিলেন ভারতের ক্যাপ্টেন ! প্রথমবার ১৯৯৬ সালে সেবার দায়িত্বের মেয়াদ ছিল খুব অল্প সময়ের জন্য , আর দ্বিতীয়বার নিজেই সরে দাড়িয়েছিলেন ক্যাপ্টেন্সি থেকে !এই দুইবার ই শচীনকে বিব্রত করেছিল তার দলের খারাপ পার্ফোমেন্স !শচীনের ক্যাপ্টেন্সিতে ভারত ২৫ টি টেস্ট এ মাত্র ৪ টি টেস্ট এ জয় লাভ করেছিল ।আর শচীনের অধীনে রঙ্গিন জার্সিতেও ভারত ৭৩ টি ওয়ানডে তে মাত্র ২৩ টি তে জয় লাভ করেছিল ।

ব্রায়ান লারা

ক্রিকেট দুনিয়ার আর এক  নাম   ব্রায়ান লারা । টেস্ট এ এক মাত্র খেলোয়ার হিসেবে এক ইংনিস এ ৪০০ রান করার এক অবিশ্বাস রেকর্ড করেছেন তিনি ক্রিকেট বিশ্বে অনেকে তাকে ক্রিকেটের বড় পুত্র বলে অনন্য রের্কডের মালিক এই প্লেয়ার।টেস্ট সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের মালিক এই ব্রয়ান লারা ।১৩১ টেস্টে ৫২.৮৯ এভারেজ ১১৯৫৩ রান করছেন এই লিজেন্ড।ঝুলিতে আছে ৩৪ সেন্চুরি ও ৪৮ টি অর্ধশতক ।ওডিআইতে ও কার্যকর এই লিজেন্ড ২৯৯ ওডিআইতে ১০৪০৫ রান করেছেন ৪০.৭১ এভারেজ,ওডিআইতে ১৯ সেন্চুরি ও ৬৩ অর্ধশতক আছে লারার ।এছাড়াও ১ম শ্রেনির ক্রিকেটে তার ৫০১ রানের ইনিংস ও ইতিহাস সেরা ।মূলত একজন ব্যাটসম্যান হলেও ওডিআইতে তার আছে ৪ উইকেট । সারাজিবনে ওডিআইতে মাত্র ৪৯ বল করেই ৪ উইকেট পেয়েছে। ব্যাট বলের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে সবচেয়ে পছন্দ লারার।  অস্ট্রেলিয়ার সাথে তার এভারেজ ৬৫+  ।সাফল্যময় হলেও ক্যাপ্টেন্সিতে শচীনের মতই তিনিও ব্যার্থ ছিলেন ।তার ক্যাপ্টেন্সি তে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪৭ টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ! এর মধ্যে ১০ টি টেস্ট ম্যাচ জয় লাভ করে , আর ২৬ টি টেস্ট এ ম্যাচে হারের মুখ দেখতে হয় তাকে ।

ক্রিস গেইল

ব্রায়ান লারার অবসরের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের দায়িত্ব নেন বার্তমান বিশ্বের অন্যতম মারকুটে ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইল।নিজের এগ্রেসিভ মনোভাব ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ফিরে আনবেন সবাই এই আশায় বুক বেধেছিল। কিন্তু সেই আশায় গুড়ে বালি , গেইলের অধীনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫৩ ওয়ানডেতে মাত্র ১৭ টি ওয়ানডে জয় লাভ করেছিল।আর ২০ টি টেস্ট এ ৩ জয়ের বিপরীতে হারের স্বাদ পেয়েছিলেন ৯ টিতে ।

 

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেই নায়কেরা

Now Reading
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেই নায়কেরা

একসময় টিভিতে খেলার খবরের আগেই একটা দৃশ্য দেখতাম।যেটা হল, মার্টিন সুজি বল করেছেন শান্তর পায়ে লাগে এবং ১ রান নিয়ে পাইলট এবং শান্তর সাথে গোটা বাংলাদেশের উল্লাস। সেই জয়টা ছিল আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়।
১৯৯৭ সালে কেনিয়াকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল হারিয়ে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিলো টাইগাররা। বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অগ্রযাত্রার ম্যাচ ছিলো এটি।

১৩ এপ্রিল আকরাম খানে নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল সেদিন বিশ্ব ক্রিকেটকে নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলো। কুয়ালালামপুরের অনুষ্ঠিত ফাইনালে কেনিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলো টাইগাররা। টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।

আর আগে ব্যাট করে স্টিব টিকলোর ১৪৭ রানের ওপর ভর করে ২৪১ রানের বড় সংগ্রহ পায় কেনিয়া। টাইগারদের পক্ষে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন মোহাম্মদ রফিক।

জবাবে, ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ পড়ে বৃষ্টির বাধায়। তাই ২৫ ওভারে আকরাম খানদের সামনে টার্গেট দাড়ায় ১৬৬ রান। রফিক, নান্নু,আমিনুল, আকরাম খানরা সেই রান তাড়া করতে নেমে জয়ের কাছে পৌঁছেও গেলো।

শেষ ওভারে ১১ রান দরকার ঠিক তখনই প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে ব্যাটকে চুম্বন করেন পাইলট। শেষ ৩ বলে প্রয়োজন ২ রান। স্ট্রাইকে হাসিবুল হোসেন শান্ত। এলোপাথারি চালালেন ব্যাটে বলে কোনো সংযোগ নয় ডট বল। শেষ ২ বলে এখন ৩ রানের প্রয়োজন। কোচ আবারও বার্তা দিলেন ব্যাটে বলে কর। ইনিংসের শেষ ওভারের চুতর্থ বল। গুড লেন্থ বল। দারুন এক পুলে প্রায় সীমানা ছাড়া করেছিলেন। কিন্তু অসাধারণ ফিল্ডিংয়ে সেটা বাচান কেনিয়ার ফিল্ডার। যার ফলে ২ রান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় শান্তকে। এবার ইনিংসের শেষ বল মহাকাব্য রচনার হাত ছোয়া দূরত্বে। ১ বলে ১ রান। স্ট্রাইকে হাসিবুল হোসেন শান্ত। প্রস্তুত মর্টিন সুজি। আম্পায়রকে অতিক্রম করে বল করলেন লেগ স্ট্যাম্পে ইয়র্কার, তরিঘরি করেই প্রান্ত বদল করলেনই দুই ব্যাটসম্যান। এরই সাথে ইতিহাস রচিত হল। বাংলাদেশ অবশেষে পঞ্চমবারে এসে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতে নিল।

আজকের এই বাংলাদেশ টিমের পিছনে এই হিরোদের ভূমিকা অনেক।রফিক ,নান্নু আমিনুলদের হাত ধরেই আজকের ক্রিকেটের সোনালী দিন শুরু হয়েছিলো। আমাদের অনেক বাঁধা পেরিয়ে আজকের এই দিনে আসতে হয়েছে । বাংলাদেশ টিমে আছে মাশরাফি ।মানুষটা হারতে শিখেনি
৭টা অপারেশন তাকে হার মানাতে পারেনি।মাঝেমাঝে নিজেকে নিয়ে গর্ববোধ করি এই প্রজন্মে জন্মেছি বলে।এই প্রজন্মে জন্মেছি বলেই মাশরাফির মতো মানুষ সামনে থেকে দেখতে পেরেছি।যে কিনা ১১ বার পায়ের অপারেশনের পরেও পঙ্গুত্বের ঝুঁকি নিয়ে দেশের জন্য একনাগাড়ে খেলে যাচ্ছেন।তাও আবার একই যায়গাতে ১১ টিবার অপারেশন।
যখন খেলতে নামেন তখন প্রতিবার খেলার আগে সিরিঞ্জ দিয়ে হাটু থেকে পুজ বের করে পায়ে কালো রঙের ব্যান্ডেজ পড়ে খেলতে হয়। টিমে আছে সাকিব ,তামিমদের মতো লড়াকু বাঘেরা । আছে মুশফিকদের মতো খেলোয়াড় । ঠিক যেই সময় পুরো দেশ মাশরাফির ঘন ঘন ইন্জুরী নিয়ে চিন্তিত এবং একজন দীর্ঘদেহী পেসার যে ১৪০-১৫০ গতিতে বল করতে পারবে এমন পেসার এর অভাবে ভুগছে ঠিক সেই সময়ই বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিপিএল আরও এর মাধ্যমে আর্বিভাব বাংলাদেশ ক্রিকেটের পোস্টার হিরো তাসকিন । আছে ফিজদের মতো বোলার।আমরা বধ করেছি ভারত ,পাকিস্তান ,সাউথ আফ্রিকার টিমকে ।

ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন সেই সব হিরোদের যাদের কাঁধে ভর করে আজকের এই বাংলাদেশ ক্রিকেট ।

পিকচার সোর্স ঃ
Sportskeeda.com

বাংলাদেশ ক্রিকেট ও সাব্বির রহমান

Now Reading
বাংলাদেশ ক্রিকেট ও সাব্বির রহমান

একটা দলে সবচেয়ে ভরসাপুর্ণ অথবা সেরা খেলোয়াড় কে তিন নাম্বারে তথা ওয়ান ডাউনে ব্যাটিং এ পাঠানো হয়। সাব্বির যখন দলে আসে তখন লোয়ার অর্ডারে টেলএন্ডার দের সাথে ব্যাটিং করতে হতো। প্রথমে টি-টুয়েন্টি তে তিনি তিনে ব্যাটিং এ আসেন। আস্তে আস্তে তার সামর্থ্য প্রমাণের মাধ্যমে ওয়ানডেতে তিনে নিয়মিত ব্যাটিং শুরু করেন। সাব্বির এর উপর আমাদের এবং টিম ম্যানেজমেন্ট এর পরিপূর্ণ আস্থা আছে।

ওয়ান ডাউনে ব্যাটিং করে তিনি খারাপ করছেন না। প্রায় প্রতি ম্যাচেই কিছু না কিছু রান করে দিচ্ছেন। কিন্তু এই কিছু রান করার অবস্হানে কি বাংলাদেশ আছে?

বাংলাদেশ পরাশক্তিতে পরিণত হচ্ছে। এখন ওয়ান ডাউনে ৪০/৫০ রান করে দিলে হয় না। ম্যাচে শক্ত অবস্হানে পৌছতে হলে তিন নাম্বার ব্যাটসম্যান এর বিকল্প খোজা উচিৎ হবে না। সাব্বির যে পরিমাণ ম্যাচ তিন নাম্বারে খেলেছে ওর কাছ থেকে বড় রান পাওনা হয়ে গেছে। এ পজিশনে ব্যাট করে সাব্বির এর সেঞ্চুরি করা বা আরও লম্বা করা দরকার তার ইনিংস। এতোদিনেও একটা সেঞ্চুরি দেখতে না পেরে আমি যথেষ্টই হতাশ। তাই আমি সমালোচনা করতে চাই।

উল্ল্যেখ্য যে, আয়ারল্যান্ডে প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছে। এমন কার্যকরী ইনিংস আন্তর্জাতিক ম্যাচেও দেখতে চাই। প্রস্তুতি ম্যাচে করা সেঞ্চুরির সুবাদে বাংলাদেশ চারশোর কাছাকাছি একটা স্কোর করতে পেরেছে। পরবর্তী ব্যাটসম্যান রা রিল্যাক্সড হয়ে মারতে পেরেছে। এর সুফল আমরা পেয়েছি।শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে সাব্বিরের স্কোর ৮৬ বলে ১০০!! যার মধ্যে ১৬ টা চার এবং ১ টা ৬! যার মানে ১৭ বলে ৭০ রান আর বাকি ৩০ রান ৬৯ বলে!!
আমাদের প্লেয়াররা এই দিক দিয়েই অনেক পিছিয়ে আছে। ৩ এবং ৪ নাম্বারে পজিশনের প্লেয়ারের কাজ থাকে ইনিংস বিল্ড আপ করা এবং উইকেট পতনের হাত থেকে দলকে রক্ষা করা। তাদের এবিলিটি থাকতে হবে সিঙ্গেল বের করার। যাতে রানের চাকা সচল থাকে। খেলায় ডট বল থাকবেই। কিন্তু সাব্বিরের প্রবলেমটা হল ডট বল সে পোষাতে চায় বাউন্ডারি হাঁকিয়ে!! যার জন্য সবসময় ভাল একটা শুরু করেও সেটা লম্বা করতে পারে না। আশা করি সাব্বির তার ল্যাকিংস গুলা খুব দ্রুত ওভারকাম করতে পারবে। এবং সিঙ্গেলের প্রতি মনোযোগ বাড়াবে।

যেসব সিরিজের প্রস্তুতি ম্যাচে টাইগারেরা হেব্বী খেইলা ৩০০ প্লাস রান করে করে প্রতিপক্ষ্যকে নাযেহাল করে ছাড়েন;
সেই সব সিরিজের শুরুর ম্যাচ থেকেই অতি উৎসুক টাইগার সমর্থক মানে আমাদের প্রত্যাশা ও থাকে আকাশ ছোয়া;
আমাদের ধারনা প্রতি ম্যাচেই তিনশো করবে টীম বাংলা,
জয় ছাড়া কোন কথাই হবেনা;

অথচ খেলার যে ছন্দ পতন আছে তা আমরা ভুলে যাই;
বাংলাদেশ টীম যে এখন ও কোন টূর্ণামেন্টের শুরুতে সহজ হতে শেখেনি, একটু সময় নেয়, সেসব আমাদের ভাববার সময় কোথায়?
২০১৫ সালের জয়ের যে ধারাবাহিকতা বাঙ্গালী দেখেছে, তাতে জয় ভিন্ন অন্য কোন ফলাফলে নগদ গালী দিতে দ্বিধা করেনা! ভুলে যায় জিততে ভুলে যাওয়া বাংলাদেশের অতীত’টা!

অনুরোধ হচ্ছে প্রথম দুই একটা ম্যাচ যদি ম্যাশ বাহিনী হেরে ও যায়, দয়া করে আমরা গালী, সমালোচনা, নিন্দা, তমুক কে নেয়নাই কেনো? অমুক রে বাদ দিতে হবে এমন বলবোনা। না অনলাইনে, টিভি পত্রিকায়।

ওরা খেলা শেষে রুমে ফিরে যখন স্বদেশী টিভি-পত্রিকায় ওদের নিয়ে তোলা প্রশ্ন গুলো দেখে ; তখন আরো বেশি অস্থির হয়র পারফর্ম করতে গিয়ে কিছুই করতে পারেনা। আবার সৌম্যের মত চরম ট্যালেন্ট কেউ কেউ ঘাবড়ে গিয়ে ম্যাচের পর ম্যাচ ফ্লপ মারতে থাকে। এতে ক্ষতি হয় কিন্তু ক্রিকেটের দেশের।

ভারত, অস্ট্রেলিয়া কে দেখবেন ভিরাট কোহলী কিংবা ডেভিড ওয়ার্ণার গোটা সিরিজ ধরে ও ফ্লপ মারলে স্টেডিয়াম টু মিডিয়া; কেউ টু শব্দটি করেনা। এতে করে ওয়ার্ণার বা ভিরাটেরা অতি দ্রুৎ আত্ববিশ্বাস নিয়ে দানবীয় ইনিংসে ভর করে ফিরে আসে। তাতে লাভ হয় কিন্তু ওদের দেশের।