সেভেনটি ওয়ান ইনটু দ্যা ফায়ার

Now Reading
সেভেনটি ওয়ান ইনটু দ্যা ফায়ার

দক্ষিণ কোরিয়ার War Drama Film ’71 into the fire’ জন. এইচ. লি পরিচালিত। দক্ষিণ কোরিয়ার মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র-সৈনিকদের অবদান ও তাদের সম্মান জানাতে এই মুভিটি নির্মান করা হয়।
এই ছবিটি কোরীয় যুদ্ধের সময় দক্ষিণ কোরিয়ার ৭১ জন নিরস্ত্র ছাত্রদের একটি গ্রুপের সত্যিকারের গল্পের উপর ভিত্তি করে নির্মিত, যারা ১১ই আগস্ট ১৯৫০ সালে পোহাং-দং যুদ্ধের সময় নিহত হয়েছিল। ১১ ঘন্টা ধরে তারা স্থানীয় পোহ্যাং মাধ্যমিক স্কুলকে রক্ষা করেছিল, যা উত্তর কোরিয়ার বাহিনীকে বিশেষ করে ভয়ঙ্কর ৭৬৬ তম ইউনিটকে আক্রমণ করে হারিয়েছিল।
মুভিটির শুরু ৭১ জন নিরস্ত্র স্কুল ছাত্রদের নিয়ে যারা সেকেন্ড লাইন অফ ডিফেন্স হিসেবে যুদ্ধে সহায়তার জন্য নিযুক্ত ছিল। তাদের মূল কাজ ছিল যুদ্ধে সৈনিকদের সরঞ্জাম সরবরাহ করা। কিন্তু এক পর্যায়ে সৈন্যবাহিনী উত্তর কোরিয়ান সৈন্যদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাকডং নদীর তীরে অবস্থান নেয় এবং সেই ৭১ জন ছাত্রদের স্থানীয় পোহ্যাং মাধ্যমিক স্কুলকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেয়। যদিও তারা এখানে আক্রমনের সম্ভাবনা নেই বলেই ধরে নিয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা তাদের অবস্থান বুঝতে পেরে নিজেদের পথ পাল্টে সেই স্কুলের পথ ধরে প্রবেশ করে। অসম্ভব সাহসী সেই ছাত্ররা এর বড় সেনাবাহিনী দেখে ভয়ে পালিয়ে যায়নি বরং পিছু ও হটেনি। টানা ১১ ঘন্টা ধরে যুদ্ধ চালিয়ে তারা সেই বিশাল সৈন্যবাহিনীকে দমিয়ে রেখেছিল। যা দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীকে যথেষ্ট সময় করে দিয়েছিল পাল্টা আক্রমন করার।

মুভিটি দুর্দান্ত, কারণ তারা এটিকে বিশাল করার চেষ্টা করনি। এটি সত্যিকারের যুদ্ধে প্রায় ৭১ তরুণ শিক্ষার্থীর শেখার এবং সংগ্রামের সহজ গল্প বলেছিল।

প্রধান অভিনেতা: Choi Seung Hyeon (বিগ ব্যাং মধ্যে শীর্ষ হিসাবে পরিচিত হয়) সুন্দর একটি কাজ করেছেন। তিনি তার চোখ দিয়ে চিত্তাকর্ষকভাবে কাজ করেন, আমাদের দেখিয়েছেন যে কীভাবে ছাত্ররা কিছুই জানেনা, কিন্তু তা স্বত্বেও নিজের দেশের জন্য লড়াই করতে হয়। অন্যান্য অভিনেতা তাদের সেরা, বিশেষত Kwon Sang Woo দেখাতে পারেননি। তিনি তার চেয়েও ভাল করতে পারেন, কিন্তু আমি মনে করি যে তিনি যে চরিত্রটি অনুসরণ করেছেন তা পুরোপুরি বর্ণিত হয়নি। সঙ্গীতটি আমার কাছে খুব চিত্তাকর্ষক ছিল না, তবে এটি একটি এশিয়ান যুদ্ধ চলচ্চিত্রের জন্য বেশ বাস্তব এবং ভাল কাজ ছিল। যেহেতু এটি একটি সত্য গল্পের উপর ভিত্তি করে, শেষটি সহজেই পূর্বাভাস দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে এটি একটি বিরক্তিকর শেষ। তারা আমাদের দেখায় যে যুদ্ধে লোকেরা কিভাবে মারা যায়। তাদের বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে পারে কিন্তু প্রয়োজনে বাস্তব সৈনিক হতে তাদের বেশি বেগ পেতে হয়না।
মুভিটি অবশ্যই দেখতে পারেন। একটি নতুন মাত্রার যুদ্ধের মুভির স্বাদ পাবেন আশা করি।

“বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী” উচ্ছ্বাসে তারুণ্যের মেল বন্ধন (স্কাউটিং পর্ব-৬)

Now Reading
“বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী” উচ্ছ্বাসে তারুণ্যের মেল বন্ধন (স্কাউটিং পর্ব-৬)

স্কাউট প্রোগ্রাম জাম্বুরী এই নামটির সাথে পরিচিত নয় এমন লোকের সংখ্যা খুবি কম। আজকে জানব “বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী” সম্পর্কে বিস্তারিত।

অনেকের ধারণা জাম্বুরী শব্দটির উৎপত্তি জ্যাম শব্দ থেকে। তবে এর তেমন কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। শব্দটির আভিধানিক অর্থ আনন্দ মেলা হলেও এর প্রায়োগিক অর্থ আরো ব্যাপক এবং বিস্তৃত। বিশদভাবে বলতে গেলে- ‘বালক-বালিকারা স্কাউট আদর্শে দীক্ষা প্রাপ্ত হয়ে যেন স্কাউট আইন ও প্রতিজ্ঞা তাদের বাস্তব জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে পারে সেই লক্ষে নির্দিষ্ট সময়ান্তে কয়েক বছর পর পর স্কাউটদের জন্য যে বড় সমাবেশের আয়োজন করা হয় তার নামই জাম্বুরী। যেখানে থাকে অনাবিল আনন্দ ও উচ্ছ্বাস’। স্কাউটের জনক ব্যাডেন পাওয়েল বালক-বালিকাদের স্কাউট আদর্শ ও দক্ষতা প্রদর্শনের জন্য একটি বৃহৎ পরিবেশে স্কাউটদের আমন্ত্রণ করে একত্র করতে চেয়েছিলেন। এ ধরনের একত্র বা সমবেত হওয়ার বিষয়টি তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেন।

বি.পি সর্বপ্রথম এর নামকরণ করেন ‘কারোবোরি’। এটি একটি অস্ট্রেলিয়ান শব্দ এর অর্থ হলো ‘পরীক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে বড় ধরনের সমবেত হওয়ার দৃশ্য’। তিনি চিন্তা এবং উপলব্ধি করেন যে, বালকেরা বৃহদায়তনে সমবেত হয়ে কোনো স্থানে ভিড় করবে। তিনি বালকদের ‘ভিড় হওয়া’ এবং ‘পর্যবেক্ষণ প্রদর্শন করা’ শব্দ দু’টিকে সমন্বয় করে সংযুক্তপূর্বক একত্র করে একটি বিশেষ শব্দ সৃষ্টি করে এর নামকরণ করেন ‘জাম্বুরী’। তখন থেকে জাম্বুরী শব্দটিও এর প্রতিশব্দ ‘বয় স্কাউটদের বড় ধরনের সম্মেলন বা সমাবেশ হিসেবে প্রচলন হয়ে আসছে।

জাম্বুরী সম্পর্কে বি.পি বলেছেন, ‘জাম্বুরী হবে স্কাউটসদের উৎফুল্ল আনন্দময় সমাবেশ এবং স্কাউটরাই জাম্বুরীর অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ’। জাম্বুরীর আনন্দঘন পরিবেশ আর বিনোদনমূলক কর্মকান্ডের উপর তিনি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন এর প্রভাব ও কার্যকারিতার নিরিখে। কিন্তু বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে জাম্বুরীর গুরুত্ব ও তাৎপর্য বৃদ্ধি পেয়েছে বহুমাত্রিক প্রয়োজনে। স্কাউট জাম্বুরী আজকে শুধু আনন্দ মেলায় সীমাবদ্ধ নেই। স্কাউট কলাকৌশল অনুশীলনের মাধ্যমে জ্ঞান ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটিয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে আদর্শ মানুষ হওয়া এবং  নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানোর ভূমিকা পালন করে জাম্বুরী। জাম্বুরী স্কাউট জীবনে অতীব প্রত্যাশিত একটি প্রোগ্রাম। প্রতি চার বছর অন্তর অন্তর জাম্বুরী অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। জাম্বুরীতে অংশগ্রহণ করে স্কাউটরা যেমন দক্ষতা প্রদর্শন করে আর বয়স্করা প্রোগ্রাম পরিচালনা করে।

বিশ্বের সকল দেশের স্কাউটদের নিয়ে বি.পি ১৯০৭ সালে প্রথম স্কাউট ক্যাম্প এর দশম বর্ষপূর্তি উৎযাপন করার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু ১ম বিশ্ব যুদ্ধ চলায় তা আর সম্ভব হয়নি। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে অনেক স্কাউট প্রাণও হারায়। পরবর্তীতে ১৯২০ সালের জুলাই মাসে বিশ্বের প্রথম স্কাউট জাম্বুরী আয়োজন করা হয় ইংল্যান্ডের অলিম্পিয়াতে। ৩৪টি দেশ থেকে ৮০০০ হাজার স্কাউট অংশগ্রহণ করা এই জাম্বুরীতে  বি.পি কে বিশ্বের চীফ স্কাউট বলে আখ্যায়িত করা হয়। এর ৪বছর পর ১৯২৪ সালের আগস্টে ডেনমার্কের এরমিলান্দেনে ৪,৫৪৯জন স্কাউট এর অংশগ্রহণে ২য় বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী অনুষ্ঠিত হয়। জাম্বুরীর শেষ দিনে প্যারেড এর মাধ্যমে বি.পি কে স্বাগত জানায় স্কাউটরা। ১৯২৯ সালে ইংল্যান্ড এর বারকেনহেডের এরো পার্ক এ ৩য় বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী অনুষ্ঠিত হয়। ৬৯টি দেশ থেকে ৫০,০০০ স্কাউট এর আগমন ঘটে। বি পি এর উপস্থিতিতে স্কাউটিং এর ২১তম বার্ষিকী পালিত হয় এই জাম্বুরীর মাধ্যমে। হাঙ্গেরির গোদোলোতে ১৯৩৩সালে ২৫,৭৯২জন স্কাউট নিয়ে ৪র্থ বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী অনুষ্ঠিত হয়। এই জাম্বুরীতে প্রথম বারের মত এয়ার স্কাউটরা অংশগ্রহণ করে। ৫৪টি দেশের ২৮,৭৫০জন স্কাউট এর অংশগ্রহণে ১৯৩৭সালে নেদারল্যান্ড এ অনুষ্ঠিত হয় ৫ম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। তখনকার মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে পরিছন্ন জাম্বুরী। গার্ল গাইড থেকে বিশ্বের চীফ গাইড লেডি ব্যাডেন পাওয়েলকে স্বাগত জানানো হয়। পরে বি.পি ও সেখানে যান। তখন তার বয়স ছিল ৮০বছর, তিনি স্কাউটদের উদ্দেশে বলেন “এখন সময় এসেছে আমার বিদায় নেয়ার। আমি চাই তোমরা সুখী জীবনযাপন কর। তোমরা জান যে আমাদের অনেকেরই আর কখনো দেখা হবে না এই পৃথিবীতে।”

এরই মধ্যে ১৯৪১সালে বি.পি মৃত্যু বরণ করেন। ২য় বিশ্ব যুদ্ধের পর শান্তির প্রতীক নিয়ে ১৯৪৭সালে অনুষ্ঠিত হয় ৬ষ্ঠ বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ১০বছর পর অনুষ্ঠিত হয় এই জাম্বুরী। এই জাম্বুরীতে ভারত থেকে আগত স্কাউটেরা তাদের স্বাধীনতা উৎযাপন করে। ১৯৫১সালে অনুষ্ঠিত হয় ৭ম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। অস্ট্রিয়ায় অনুষ্ঠিত এই জাম্বুরীতে ১২,৮৮৪জন স্কাউট অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি জাম্বুরীর স্মৃতিতে ৭টি টাওয়ার বানানো হয়। প্রথমবারের মত জার্মান স্কাউটরা অংশগ্রহণ করে। এমনকি জাপান থেকেও একজন স্কাউট আসে। সে তার ভাষা ছাড়া অন্য কোন ভাষা জানত না। শুধু জাম্বুরী শব্দটা জানা ছিল তার। কোন অসুবিধা ছাড়াই উপভোগ করে পুরো জাম্বুরী। ১৯৫৫সালে প্রথমবারের মত ইউরোপ এর বাইরে কানাডায় অনুষ্ঠিত হয় ৮ম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ৭১টি দেশ থেকে ১১,১৩৯জন স্কাউট এর আগমন ঘটে। এবার ইংল্যান্ড এ, ১৯৫৭সালে সুতন পার্কে অনুষ্ঠিত হয় ৯ম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। স্কাউটিং এর ৫০বছর পূর্তি হয়। ৮০টি দেশ থেকে ৩০,০০০ হাজারেরও বেশি স্কাউট উপস্থিত হয়। কাল গড়ব আজ এর প্রত্যয় নিয়ে ১৯৫৯সালে ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত হয় ১০ম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ১২,২০৩জন স্কাউট এর আগমন ঘটে ৪৪টি দেশ থেকে। সকলের মনে স্থান করে নেয় জাম্বুরীর বিষয়বস্তু। গ্রিসে অনুষ্ঠিত হয় ১১তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ১৯৬৩সালের এ জাম্বুরীতে ১৪,০০০হাজার স্কাউট এর আগমন ঘটে। জাম্বুরীতে আসতে গিয়ে বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয় ফিলিপাইন স্কাউটরা। তাদের স্মরণে জাম্বুরীতে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। “বন্ধুত্বের জন্য স্কাউটিং” এই প্রত্যয় নিয়ে ১৯৬৭সালে আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হয় ১২তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ১০৫টি দেশ থেকে ১২,০১১জন স্কাউট উপস্থিত হয়। একে অপরকে বোঝার প্রত্যয় নিয়ে ১৯৭১সালে জাপানে শুরু হয় ১৩তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ৮৭টি দেশ থেকে আসা ২৩,৭৫৮জন স্কাউট বন্যার কারণে মাঝপথে কিছুটা ব্যাঘাতগ্রস্থ হলে জাপানিস স্কাউটরা তা দক্ষতার সাথে সামলে নেয়। ১৯৭৫সালে নরওয়েতে অনুষ্ঠিত হয় ১৪তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ৯১টি দেশ থেকে ১৭,২৫৯জন স্কাউট এর আগমন ঘটে সেখানে। “পাঁচটি আঙুল, এক হাত” এই প্রত্যয় নিয়ে নরওয়ের ৫টি স্কাউট অঞ্চল আয়োজন করে এই জাম্বুরী। জাম্বুরী উদ্বোধন করেন নরওয়ের রাজা। ১৯৭৯সাল পুরোটাই ছিল বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। কার্যক্রম চলে পুরো বিশ্বে। সবাই মিশে যায় একে অপরের সাথে স্কাউট ভ্রাতৃতে। ১৫তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী যা ইরানে হওয়ার কথা ছিল, স্থগিত করা হয়। অবশেষে ১৯৮৩সালে  কানাডায় অনুষ্ঠিত হয় ১৫তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ১৪,৭৫২জন স্কাউট আসে এই জাম্বুরীতে। “স্পৃহা বেঁচে থাকে” এই প্রত্যয় নিয়ে উৎযাপন করা হয় স্কাউটিং এর ৭৫তম বার্ষিকী এবং একই সাথে বি.পি এর ১২৫তম জন্মদিন। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় ১৬তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ১৯৮৭সালের ৩০শে ডিসেম্বরে শুরু হয়ে ১৯৮৮সালের ৭ই জানুয়ারী শেষ হওয়া এই জাম্বুরীতে ৮৪টি দেশ থেকে অংশগ্রহণ করে ১৪,৪৩৪জন স্কাউট। পুরো বিশ্বকে একসাথে আনার প্রত্যয় নিয়ে ও দারুণ সব কার্যক্রম এর মাধ্যমে ইতি টানে এই জাম্বুরী। এই জাম্বুরীতে সার্ফ কার্নিভাল দেখার সুযোগ পায় স্কাউটরা। ১৯৯১সালে ১৩৫টি দেশ ও বিভিন্ন অংশ থেকে ২০,০০০ স্কাউট এর উপস্থিতে কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় ১৭তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। প্রথমবারের মত এত দেশের উপস্থিতি দেখা যায় জাম্বুরীতে। “অনেক মাটি, একটি বিশ্ব” এই ছিল সেবারের প্রত্যয়। নেদারল্যান্ড এ অনুষ্ঠিত হয় ১৮তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ১৯৯৫সালের এই জাম্বুরীতে ১৬৬টি দেশ থেকে ২৮,৯৬০জন স্কাউট ও কর্মকর্তা আসে। দেশের উপস্থিতি আরও বেড়ে যায়। “ভবিষ্যৎ এখনই” এই প্রত্যয় নিয়ে চলতে থাকে ১৮তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ১৯৯৮সালের ২৭শে ডিসেম্বর এ শুরু হয়ে ১৯৯৯সালের ৬ই জানুয়ারী চিলিতে শেষ হয় ১৯তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। “গড়ব শান্তি একসাথে” এই প্রত্যয় নিয়ে প্রথম বারের মত ল্যাটিন আমেরিকায় অনুষ্ঠিত এই জাম্বুরীতে ১৫৭টি দেশ থেকে ৩১,০০০হাজার স্কাউট, দলনেতা ও কর্মকর্তা আসেন। থাইল্যান্ড এ অনুষ্ঠিত হয় ২০তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ২০০২সালের ২৮শে ডিসেম্বর এ শুরু হয়ে এ জাম্বুরী শেষ হয় ২০০৩সালের ৮ই জানুয়ারী। ১৪৭টি দেশ থেকে ২৪,০০০হাজার স্কাউট আসে এই জাম্বুরীতে। নিজেদের বিশ্ব,নিজেদের সংস্কৃতি ভাগ করে নেয়ার প্রত্যয় নিয়ে চলতে থাকে ২০তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। “একটি বিশ্ব, একটি প্রতিজ্ঞা” এই প্রত্যয় নিয়ে স্কাউটিং এর ১০০তম বার্ষিকী উৎযাপিত হয় ২০০৭সালের ২১তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরীতে। ইংল্যান্ড এ অনুষ্ঠিত এই জাম্বুরীতে ৪০,০০০হাজার এরও বেশি স্কাউট অংশগ্রহণ করে। সুইডেন এ অনুষ্ঠিত হয় ২২তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ২০১১সালের এই ৪০,০০০হাজার স্কাউট অংশগ্রহণ করে। “সহজ-সরল স্কাউটিং”-ই ছিল সেবারের প্রত্যয়।

Bangladesh Contingent

২৯ জুলাই ২০১৫ থেকে ৭ আগষ্ট ২০১৫ তে জাপানের ইয়ামাগুচিতে অনুষ্ঠিত হয় ২৩তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। জাপানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্কাউটস জাম্বুরীতে বাংলদেশ থেকে সর্বমোট ৪৩১ জন স্কাউট এবং স্কাউটার অংশগ্রহন করছেন। এদের মধ্যে কন্টিজেন্ট ম্যানেজম্যান্ট টিমে ১৩জন, আন্তর্জাতিক সার্ভিস টিমে ১২০জন, স্কাউট লিডার ২৯জন, স্কাউট ২৫৩ জন অংশগ্রহন করেছেন। বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী ছাড়াও প্রতিটা দেশের স্কাউট সংস্থা তাদের নিজস্ব স্কাউট জাম্বুরী এর আয়োজন করে থাকেন। পরের পর্বটি থাকছে বাংলাদেশে স্কাউট “জাম্বুরী” নিয়ে।

আপনি জানেন কি..!!!

Now Reading
আপনি জানেন কি..!!!

এয়ারটেল সিম কোম্পানি তাদের বায়োমেটিক ডিভাইস থেকে ফিংগারিং কপি করতে পারে।

এবং তা দিয়ে আপনার অজান্তে রেজিস্টার হতে পারে তাদের নিজের কয়েকটি সিম।
নিজের সাথে ঘটে যাওয়া অভিগ্যতা থেকে বলছি:- প্রায় ৩ মাস আগে অনলাইনে একটা তথ্য পাই(BTRC কর্তিক)কিভাবে NID কার্ডের শেষের চার অক্ষর দিয়ে একবারে বের করতে পারব কয়টি সিম রেজিস্টার হয়েছে আমার NID দিয়ে।

তথ্য টা পেয়েই আমি কাজে লাগালাম -কিন্তু যখন SMS পেলাম আমি অবাক হয়ে দেখলাম ১৩ টি সিম রেজিস্টার করা হয়েছে, আর মাত্র ২ টা সিম রেজিস্টেশন করা যাবে।

তখনি মনে মনে ভাবতে লাগলাম- রিয়ান+রাতুলকে (চাচতো ভাই) বায়োমেটিক করে দিছি ৩ টা(১ বাংলালিংক,১ গ্রামিন,১ এয়ারটেল)।
আর ১ জনকে দিয়েছি ১ টা রবি,আমার ৩ টা বংলালিংক- রবি+এয়ারটেল ২ টা ,টেলিটক ১ টা।
মোট ৩+১+৬=১০

তবে ১৩ টা কিভাবে হয়.!
পরে খেয়াল করে দেখি এয়ারটেল ৩ টা সিম রেজিস্টেশন বেশি এবং নম্বর ৩ টা খুব মিল।
কিছু দিন পরে গেলাম সিম গুলো রেজিঃ ডিলেট করতে আমাদের জেলা (মাদারীপুর) এয়ারটেল কাস্টমার কেয়ারে।
সেখানে গিয়ে ডিলেট করার কথা বললাম।
তারা ব্যর্থ মূলক উত্তর দিয়ে আমাকে বলল- এখানে ডিলেটের সিস্টেম নেই,যদি ডিলেট করতে হয় তবে বরিশাল যেতে হবে।আমি তাদের কাছে ৩ টা নম্বরের সম্পুর্ন চাইলাম তাও বলল তাদের হাতে নেই সেই অপসন।

এমতা অবস্থায় কিছু পাঠক ভাববে-আমার থেকে বার-বার মানে ৩*৪=১২ বার চিটিং করে ফিংগার নিয়ে নিছে।
(আমি Airtel একটি সিম কিনে ছিলাম মাদারীপুরের বাদামতলা বড় দোকান থেকে ও আরেকটি বায়োমেটিক করেছি ঐ কাস্টমার কেয়ার থেকেই)
তখন বার বার ফিংগারিং দেয়া এমন কোন ফিংগারিং ঝামেলায় পড়তে হয়নি।
তবে সুস্থ মস্তিষ্কে বলা যায় এটা কপি-পদ্ধতি বা দূর্নিতি।
যেখানে আমি কত লোককে ফিংগারিং বিষয়ে সচেতন করেছি,ঐ ঝামেলা টা আমাকেই পোহাতে হল!
বায়োমেটিক নামক কঠিন সিকিউরিটি দিয়ে কি লাভ যদি থাকে দূর্নিতির ফাক..?
আমার আর বরিশাল যাওয়া হল না।
এইতো ১৫-১৬ দিন আগে গেলাম এয়ারটেল কাস্টমার কেয়ার,শহিদ ফারুখ সড়ক রোড,যাত্রাবাড়ি,ঢাকা।

সেখানেও সেই একই কথা তাদের ডিভাইসে কপি করার কোন পদ্ধতি নেই।নিজেকে নিজেই একটা যুক্তি দিয়ে মনটা সান্ত করার চেস্টা (যার নুন খাবে তারইতো গুন গাবে ভাউ)। তবে NID নম্বর দিতেই বের করে দিল কিছু নম্বর,আমার কাছে vip নম্বরই মনে হল।
01636660346
01636660347
01636660348
এবং সে বলল আপনি চাইলে নম্বর তিনটি রিপ্লেস করে তুলে নিতে পারেন।
আমার নম্বর দেখে একটা নম্বর তোলার শখ হল, কিন্তু ছবি ও কোন নম্বর নিব তা নির্ধারন করার জন্য পরের দিন আসতে চাইলাম।

বাসায় এসে ওই নম্বরে কল দিয়ে দেখি নম্বর গুলো সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
পরের দিন যাওয়া হল না-গেলাম ১ দিন পরে এলাকার চাচাত ভাই শাওন কে নিয়ে আবার সেই কাস্টমার কেয়ারে।

তখন আমি বললাম 348 নম্বরটি তুলে বাকি সব গুলো ডিলেট করে দিতে।
কিন্তু তখন সে বলল এটা সম্ভব না নম্বর গুলো ব্লক করা এটা কোন কাস্টমার কেয়ার থেকে কাটা যাবে না।
তারপরে ২ জন মিলেই তর্ক করলাম কিছুক্ষণ।
বললাম হেড অফিসেও পারবে না.!!
সে বলল ‘না’
আমিঃ-তবে কি এভাবেই থাকবে.??
সেঃ-হেড আফিসে গিয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে দেখুন…
আমিঃ-যেখানে চিট করে ফিংগারিং নিয়ে রেজিস্টেশন করা-সেটার সঠিক তথ্য কি আর দেব(লাস্ট কল,রিচার্য,FNF)।

এক সময় চলে আসতে হল-আমাদের।
বাসায় এসে ২২২ তে ফোন-
অভিযোগ দিতে চাইলাম,
তারা বলল : আমাদের এখানে এমন কোন অভিযোগ নেয়া হয় না।
দ্বিতীয়তে ৯৯৯ এ ফোন-
সেখানে সুনলাম তাদের সার্ভিস পুলিশ,ফায়ার-সার্ভিস ও এম্বুলেন্স।
১০৬ এ কল দিয়ে দূর্নিতি দমন কমিশনে অভিযোগ :-
কিন্তু অভিযোগ গ্রহন করা হল না,
ফোনের ওপাশ থেকে এক ভদ্র মহিলা বলেন তাদের ১০৬ অভিযোগ কেন্দ্রে সুধু মাত্র সরকারী প্রতিষ্ঠানের দূর্নিতি বিষয়ে অভিযোগ গ্রহন করা হয়।
এক সংবাদিককে এই বিষয় টা তুলে ধরতে বলি কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি।
হয়তো বিশ্বাস-ই করেনি !
অথবা মান সম্মত খবর হয়নি তাই।

আমি জানি এটাতে আমার কতটা ক্ষতি হতে পারে।
আমি মনে করি এটা সুধু আমার সাথে না,আমার চেয়ে আনেক সচেতন ব্যাক্তির সাথেও হয়েছে।
আমি মনেকরি দেশের সবার এই বিষয়ে সজাগ হওয়া জরুরী
*16001# ডায়েল করে আপনার NID কার্ডের শেষের 4 ডিজিট দিয়েই পরিক্ষা করে নিন।

যদি আমার মত এমন কারো হয়, তবে বিষয় টা ছড়িয়ে দিন।

অভাগীর মাতৃত্ব

Now Reading
অভাগীর মাতৃত্ব

সকাল থেকে খুব বৃষ্টি হচ্ছে।বৃষ্টি থামার যেন কোনো নামগন্ধ নেই।মফিজ এই কারনে স্কুলেও যেতে পারছে না।কি করেই বা যাবে,তার যে ছাতা কিনার পয়সাও নেই।মফিজের বয়স ১২ বছর।সে ক্লাস সেভেনে পড়ে।স্কুলে তাকে নিয়ে সবাই ঠাট্টা করে।কারন সে প্রতিদিন একই জামা গায়ে দিয়ে যায়।তাও জামাটার অবস্থা খুবই শোচনীয়।পায়ে জুতা থাকে না।চুলগুলো এলোমেলো।যার এই অবস্থা সে আর বৃষ্টির মধ্যে স্কুলে যাবেই বা কি করে।আজও বৃষ্টি হচ্ছে।তাই মফিজ বারান্দায় পা ছড়িয়ে বসে আছে।পাশে বসে কাঁঁথা সেলাই করছেন তাঁর মা অভাগী।তাঁর মায়ের নাম ছিল আমেনা।কিন্তু এখন অভাগী নামেই গ্রামের সবাই তাকে চিনে।তাঁর নাম অভাগী হওয়ার পেছনে অনেকগুলা কারন রয়েছে।

অভাগীর বয়স যখন ৮ বছর তখন তাঁর মা মারা যান।তাঁর বাপ ছিল আধমাতাল।মদ,গাঞ্জা,সিগারেট কিছুই বাদ যেত না।অভাগীর বয়স যখন ১৪ বছর হলো তখন বৈশাখের এক ঝড়ের রাতে জসীম এসে তাদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল।জসীম হলো হাশেম খান(অভাগীর বাবা)এর নিত্যদিনের অসৎসঙ্গী।অসৎ এই জন্য যে দুজনে মিলে বেশ ফুর্তি করেই নেশা করেন।জসীমের বয়স ৪০ বছর,হাশেম খানের থেকে বছর নয়েক ছোট।সে আজ ঝড়ের কবলে হাশেম খানের বাড়িতে এসে উঠেছে।দুজনে বসে এবারেও মদ গিলছে।সিগারেট জ্বালানোর দিয়াশলাই খুঁজে না পেয়ে হাশেম তাঁর মেয়েকে ডাক দেয়।অভাগী এসে দিয়াশলাই দিয়ে যায়।চোখে চোখ পড়ে জসীম আর অভাগীর।প্রথম দেখেই অভাগীকে ভালো লেগে যায় জসীমের।সে হাশেম খানের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেয়।হাশেম খান তখনি রাজি হয়ে যান।আড়াল থেকে সব শুনছিল অভাগী।তাঁর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে।তাঁর থেকে প্রায় ২৫ বছরের বড় জসীমকে কিভাবে বিয়ে করবে সে?ঘরে দোর দিয়ে কাঁদতে থাকে অভাগী।পরের দিন সকালে হাশেম খান তাঁর মেয়েকে জসীমের কথা বলেন।বিয়ে করার নূন্যতম ইচ্ছা না থাকলেও তখন বাবার কথায় রাজি হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না তাঁর।কারন বাবার মুখের উপর কথা বলার দুঃসাহস তাঁর নেই।নিজের অমতেই বিয়ে হয়ে গেল অভাগীর।বাবার ঘর থেকে বিদায় নিল স্বামীর আদরে মনের কষ্ট দূর করবে ভেবে।বিয়ের পর কয়েকদিন ভালো কাটলেও বিয়ের দুই মাসের মাথায় জসীম আরেকটা বিয়ে করে বউ নিয়ে ঘরে এলো।

সতীন নিয়ে ঘর করা খুব কষ্টসাধ্য হলেও অভাগীর আর কোনো উপায় ছিল না।সতীনের কটু কথা শুনে গা জ্বালা করত।কিন্তু নিরবে তা সহ্য করতে হতো তাঁর।একটু প্রতিবাদ করতে গেলেই স্বামী জসীম তাঁর চুল ধরে উঠোনে আছরে ফেলত।এভাবেই কেটে গেল দেড় বছর।শ্রাবনের মাঝামাঝি এক সকালে অভাগী একটু পর পর বমি করতে থাকল।তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার মতো কেউ ছিল না।তাঁর সতীন যেন সে মরলেই বাঁচে।তবে আজ কি মনে করে জসীম গ্রামের বৃদ্ধ কবিরাজকে নিয়ে এল।কবিরাজ অভাগীকে খানিকক্ষন দেখে বললেন সে মা হতে চলেছে।জসীম আর রাহেলার(জসীমের দ্বিতীয় বউ)মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল।তাঁরা চায় না অভাগীর সন্তান জসীমের পরিচয়ে বড় হোক।তাহলে রাহেলার সন্তানের কি হবে?তাই সেদিন রাতেই অভাগীকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় তাঁরা।সেই রাত থেকেই অভাগীর জীবনে শুরু হয় নতুন অধ্যায়।সে তাঁর মনকে শক্ত করে নেয়।এক সুদখোরের বাড়িতে কাজ করা শুরু করে।কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস চার মাস কাজ করেই তাকে সেখান থেকে বিদায় নিতে হয়।পোয়াতি কাজের লোক রাখবে না বলে জানায় বাড়ির মালিক।এবার অভাগীর বাঁচা কঠিন হয়ে পড়ে।সে মৃত্যুভয় করে না।কিন্তু তাকে বাঁচতে হবে তাঁর পেটের বাচ্চার জন্য।তাই সে জল খেয়ে দিন কাটাতে থাকে।কিন্তু জল খেয়েতো আর বেশিদিন থাকা সম্ভব নয়।দুইদিন পরই তার শরীর খারাপ করে।সে গাছের ছায়ায় নিস্তেজ হয়ে বসে থাকে।তখনি এক বৃদ্ধা মহিলার তাকে এই অবস্থায় দেখে দয়া হয়।তিনি তাকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান।

তখন অভাগী ৬ মাসের পোয়াতি।বৃদ্ধার ঘরে আড়াই মাস খুব ভালোই কাটায় অভাগী।রবিবারের এক সন্ধ্যায় তাঁর প্রসব বেদনা উঠে।বৃদ্ধ মহিলার সহায়তায় অভাগীর মাধ্যমে পৃথিবীতে আসে এক নতুন শিশু।এই শিশুর নামই মফিজ।পরে মফিজকে অনেক কষ্টে বাড়িতে বাড়িতে কাজ করে আজ এত বড় করেছে অভাগী।তাঁর স্বামী রাহেলাকে নিয়েই সংসার করছে।কোনো খবর নেয় নি তাঁর।তবুও সে হাল ছাড়ে নি।তাঁর ইচ্ছা মফিজকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করবে।সেজন্য তাকে যা যা করতে হয় সে সব করবে।মফিজের আদর্শ মা হয়ে উঠবে সে।মফিজের মধ্যেই বেঁচে থাকবে অভাগীর মাতৃত্ব।

অপরূপ সৌন্দর্যের ভূস্বর্গ কাশ্মীর

Now Reading
অপরূপ সৌন্দর্যের ভূস্বর্গ কাশ্মীর

সৌন্দর্যের লীলাভূমি ভূস্বর্গ কাশ্মীর সম্পর্কে জানা ও দেখার ইচ্ছে সেই স্কুল জীবন থেকেই। বইয়ের পাতায় কাশ্মীরের দৃষ্টিনন্দন নৈসর্গিক নয়নাভিরাম শোভার বর্ণনা পড়ে মুগ্ধ হতাম আর মনে মনে স্বপ্ন পোষণ করতাম আহ্ যদি চোখে দেখতে পারতাম অপরূপ কাশ্মীর তা হলে জীবনটা সার্থক হত। আমার সেই লালিত স্বপ্নের প্রথম বাস্তবায়ন হয়েছিল ২০১২ সালে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে। এবং গত ২৬ মে ২০১৮ তা রূপ নিয়েছে ৭ম তম’তে।

কাশ্মীর অনেকগুলি নামে পরিচিত। যেমন- ঋষিভূমি, যোগীস্থান, শারদাপীঠ বা শারদাস্থান ইত্যাদি। সম্রাট জাহাঙ্গীরের দেয়া “ভূস্বর্গ” নামটিই সর্বাপেক্ষা সমাদর লাভ করেছে। কাশ্মীরকে বলা হয় সুখী উপত‍্যকা।

পুরাকাল থেকেই কাশ্মীরের কাহিনি শুনে আসছে জনগণ। মহাভারতে কাশ্মীরের আখ্যান মেলে। নানান কিংবদন্তী আছে কাশ্মীরকে ঘিরে। হিন্দু পুরাণে বর্ণনা আছে, প্রজাপতি কশ‍্যপ ব্রক্ষা, বিষ্ণু ও শিবের সাহায্য নিয়ে জলোদ্ভাব অসুরকে বধ করে কাশ্মীরে রাজ‍্য গড়েন। ধারণা করা হয় অতীতে কাশ্মীর ছিল জলমগ্ন। নাম ছিল সতীসর অর্থাৎ সতীর (পার্ব্বতী) সরোবর। সতীসর ছিল দৈত্যপুরী।

দৈত‍্যদের হাত থেকে নিষ্পেষিত মানবসন্তানদের দুর্দশা মোচনে এগিয়ে এলেন ভগবতীর বরপুষ্ট ব্রক্ষার মানসপুত্র মরীচি ও কলার পুত্র মহামুনি কশ‍্যপ। সকল দৈত‍্যকে হত্যা করে গড়ে তোলেন লোকালয়। কশ্যপ মার বা কশ‍্যপ মীর (পাহাড়) থেকেই নাকি কাশ্মীর নামকরণ। মহামুনি কশ‍্যপ নাগরাজ তক্ষকের হাতে কাশ্মীর সমর্পণ করে ফিরে যান অযোধ্যাপুররীতে। মহাভারত থেকে জানা যায়, রামের অনুজ ভরত এবং শত্রুঘ্ন কাশ্মীরে এসেছিলেন। সম্রাট অশোক কাশ্মীর করায়ত্ত করেছিলেন। সে কারণেই এখানে সেকালে কাশ্মীরে বৌদ্ধধর্মের প্রভাব ছিল। কুষাণরাজ কণিষ্কও কাশ্মীরে রাজত্ব করেন।

শিবলিঙ্গ পর্বতমালা আপন জটিল জটারশিতে বিস্তার করে রেখেছে প্রাচীন গান্ধারভূমিকে। এই এলায়িত বিলম্বিত জটারাশির দুর্গম পথ চলে গেছে হিমালয়ের প্রান্তসীমায়। গৌতমবুদ্ধের সঙ্ঘমিত্রদল এই পথ দিয়েই ভারতীয় সংস্কৃতির নিত‍্যকালের বাণী বহন করে নিয়ে গেছেন মধ‍্যপ্রাচ‍্যের নানা স্থানে। চোখ তুললেই দেখা যায়, হিমালয়ের চীরবাসা জটাধারী সন্ন‍্যাসীর ললাটে যেন কনককান্ত রাজমুকুটের মত রৌদ্রদীপ্ত তুষারচূড়া!

কাশ্মীরের অরণ্যঅটবীর ধ‍্যানগম্ভীর শোভা মানুষের দুই চক্ষুকে বিহবল বিস্ময়ে বিমূঢ় করে রাখে। চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে সুন্দর মসৃণ পথ চলে গেছে দূর-দূরান্তে। পথের দুই পাশে অধিত‍্যকার সৌন্দর্যে যেন মহাকাব‍্যের আভাস উচ্ছ্বসিত হচ্ছে!

কাশ্মীরের বড় অংশ (দুই-তৃতীয়াংশ) ভারতের অধিভুক্ত। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৫৭ পর্যন্ত কাশ্মীরে ছিল স্বায়ত্তশাসন। ১৯৫৭-এ ভারতের সঙ্গে একীভূত হয় কাশ্মীর। এই অংশের নাম জম্মূ ও কাশ্মীর। পাকিস্তানের অংশে আজাদ কাশ্মীর (নামে ‘আজাদ’ হলেও প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন নয়) জম্মু ও কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর। প্রধান ভাষা উর্দু, ডোগরি, লাডাকি, বালতি, পাঞ্জাবি, হিন্দি, কাশ্মীরি এবং ইংরেজি। এখানে গুজর, পাঠান, শিখ প্রভৃতি নানা জাতির বসতি থাকলেও মুসলমানদের সংখ্যাধিক‍্য।

কাশ্মীরে বেড়ানোর জন্য ভাল সময় মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত। তাপমাত্রা মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকেই বাড়তে থাকে। ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে বেড়ে ২৭ ডিগ্রিতে ওঠে। মে-জুনে কাশ্মীরে সাধারণ সোয়েটার হলেই চলে তবে শীতে ভারী উলেনের সঙ্গে ওভারকোট দরকার হয়। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত শীতকাল। একারণেই এই সময় পর্যটনের অফ সিজন। এসময় হোটেল বা আবাসে ভাড়াও কম। (চলবে)

এক্সরসিজম অব অ্যানিলিস মিসেল

Now Reading
এক্সরসিজম অব অ্যানিলিস মিসেল

আপনাদের মাঝে নতুন নিয়ে আসলাম এক বাস্তব সত্য ভূতুরে এক্সরসিজম এর ঘটনা, যার রহস্যভেদ করা আজও সম্ভব হয়নি। তবে এ ঘটনা আমার মত আপনাদের ও অনেকটা অবাক করে দিবে আর বলতে বাধ্য করবে এটা কি করে সম্ভব!

আমরা এমন অনেক ভুত বা জ্বিন মানুষের উপর ভর করার কথা শুনেছি বা আমরা অনেকে দেখেছি আর সেটা কখনো ছারানো সম্ভব হয়েছে আবার কখনো হয়নি, তবে আজকে আমি আপনাদের যে ঘটনা বলতে যাচ্ছি তা আপনার শোনা বা দেখা সকল ঘটনাকে হার মানাবে। এই ঘটনায় আক্রন্ত মহিলা যার উপর এক বা দুই জন নয় ছয় জন আত্মা বা জ্বিন ভর করে। আর এই দুষ্ট আত্মা দের নাম শুনে হয়তো আপনারা শক খেয়ে যেতে পারেন, তো চলুন দেরি না করি শুরু করি আজকের ঘটনা।

অ্যানালিস মিসেল

আজকের ঘটনা না হচ্ছে অ্যানালিস মিসেল নামের এক মেয়ের যার জন্ম ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৫২ সালে জার্মানির একটি ক্যাথোলিক পরিবারে।

অ্যানালিস মিসেল ও তার পরিবার

অ্যানালিসের মা-বাবা খুবই ধার্মিক ছিলেন এবং অ্যানালিস নিজে ও বড় হয়ে ক্যাথলিক ধর্মপ্রচারক হতে চেয়েছিলো, কিন্তু সেটা হয়তো তার নিয়তিতেই ছিলো না।

যখন অ্যানালিস ২৩ বছরের হয় তখন ট্যামপ্লোরাল লোব এপিলেপ্সি নামক এক মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়। যার কারনে সে অনেক আজব ধরনের আচরন করতো, ফলে অ্যানালিসের মা-বাবা তাকে মানসিক ডাক্তার এর কাছে নিয়ে যেতে থাকেন। কিন্তু তারপর ও তার অবস্থার কোন উন্নতি না দেখে তার মা-বাবা কে ডাক্তার ও হাঁসপাতালের দারস্ত হতে হয়। এভাবেই পাঁচ বছর পর্যন্ত ট্রিটমেন্ট চলার পর ও তার অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি, আর এভাবেই অ্যানালিসের অবস্থা দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছিলো।

অসুস্থ অবস্থায় অ্যানালিস

অ্যানালিস এর এই উদ্ভট আচরন দেখে তার মা-বাবা’র মনে হয় তার হয়তো কোন মানসিক সমস্যা না হয়ত কোন প্যারানরমাল কিছু ধারা আক্রান্ত হয়েছে সে আর তখন অ্যানালিসের পরিবার চার্চের সাহায্য নেয়ার কথা ভাবে। সেসময় তার বাবা-মা আর্ন্সট অল্ট নামের এক পাদ্রীকে তাদের বাসায় দকে পাঠান।

আর্ন্সট অল্ট

আর্ন্সট অল্ট দেখেন অ্যানালিস তাদের ঘরের মেঝেতে জর বস্তুর মত পরে ছিলো, আর সেখে প্রসাব করে সেই প্রসাব মাটি থেকে চেটে খাচ্ছিলো আর পাশে পরে থাকা একটি কয়লা নিয়ে খাচ্ছিলো। তার মুখের ভয়ানক হাসি ও এসব দেখে আর্ন্সট অল্ট বুঝে যান তার ভেতর নিশ্চয়ই কোন খারাপ আত্মা বসবাস করছে।আর্ন্সট অল্ট অ্যানালিস এর পরিবারকে বলেন তার উপর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এক্সরসিজম সম্পন্ন করা যাতে করে সে জলদি ঠিক হয়ে যায়। আর্ন্সট অল্ট এবং আর এক জন পদ্রি আর্নল্ড রেঞ্জ এর সাথে প্রথম এক্সরসিজম সম্পন্ন করে।

আর্নল্ড রেঞ্জ

আর ঠিক তখন তারা জানতে পারে যে অ্যানালিস এর উপর একজন বা দুইজন না ছয়জন খারাপ আত্মা তার উপর ভর করে। এই প্রথম এক্সরসিজম এর পর তার উপর ভর করা আত্মারা তার পর চরাও হতে থাকে এতে ধিরে ধিরে অ্যানালিস এর অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে যার কারনে অই দুই পাদ্রী দের আরও কয়েকবার এক্সরসিজম করার প্রয়োজন হয়।

অ্যানালিস মিসেল

এক্সরসিজম এর সময় অ্যানালিস এর উগ্র স্বভাবের কারনে তার হাত শিকল বাঃর শক্ত চেইন দিয়ে তার বিছানায় বেধে নিতে হতো। অ্যানালিসের এই এক্সরসিজমে তার উপর ভর করা ছয় আত্মার নাম যখন সবার সামনে আসে তা সবাইকে অবাক করে দেয়। এই ছয় আত্মার নাম ছিলো-

১। নিরোঃ

রোমান সম্রাজ্যের শেষ শাসক নিরো

২। জুডাস ইস্কেরিওটঃ

জুডাস ইস্কেরিওট

খ্রিষ্টধর্ম মতে জুডাস ইস্কেরিওট ছিলেন জিসাস এর শিষ্য এবং বারজন ধর্ম প্রচারকের মধ্যে একজন ছিলো, আর ইনি জিসাস কে ধোঁকা দেয় মাত্র ৩০ টি রুপোর পয়সার জন্য।

৩। কেইনঃ

কেইন এবং এবেল

খ্রিষ্টধর্মমতে এডাম আর ইভের দুই জন ছেলে ছিলেন যার মধ্যে বড় ছেলের নাম ছিলো কেইন এবং ছোট ছেলের নাম এবেল।

৪। হিটলারঃ

হিটলার

হিটলার কে আমরা কে না চিনি যে এক জন জার্মান ডিক্টেটর ছিলেন।

৫। ভ্যালেন্টিন ফ্লেশম্যানঃ

ভ্যালেন্টিন ফ্লেশম্যান

১৬’শ শতকের একজন খারাপ পাদ্রী। যাকে মদ পান করা, মাতাল অবস্থায় মানুষের উপর হামলা করা এবং হত্যার দায়ে রোমান সম্রাজ্য থেকে বহিষ্কার করা হয়।

৬। লুসিফার (শয়তান)

লুসিফার (শয়তান)

লুসিফার বা শয়তান সম্পর্কে বলার কিছু নেই কারন টা আমরা সবাই জানি।

এই ছিল ছয় জন কি এবার নিশ্চয়ই অবাক লাগছে? যাইহোক চলুন এবার সামনে আগানো যাক।

এই ছয় আত্মা সব একসাথে অ্যানালিসের শরীরে প্রবেশ করে আর এই এক্সরসিজম এর প্রক্রিয়া চলাকালিন দুইজন পাদ্রীকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

দুজন পাদ্রী এক্সরসিজম এর সময় তাদের কথা অডিয় ক্যাসেট এ রেকর্ড করে রাখতেন সবসময়। এই এক্সরসিজম এর সময় অ্যানালিস এতোটাই উগ্র হয়ে যেতো যে সে তার বাবা-মা , ভাই-বোন কে কখনো কামড় বা খামচি দিতো এমনকি নিজেকে ও খুবই খারাপ কামরাতো।

একপর্যায়ে কিছু দিনের জন্য অ্যানালিস ঠিক হলেও একসময় তার অবস্থার আরও বেশী অধঃপতন ঘটে। সে একেবারে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয় এবং সে বলতো তার ভেতরে বাস করা আত্মারা তাকে কিছু খেতে হেয় না যার কারনে দিন দিন অসুস্ত হতে থাকে। ৩০ জুন ১৯৭৬ সালে তার উপর ৬২তম এবং শেষ এক্সরসিজম ক্রিয়া করা হয় আর তখন অ্যানালিস বলে সে এখন ক্লান্ত হয়ে গেছে সে এই শরির থেকে মুক্ত হতে চায়।

অ্যানালিসের মৃত দেহ

১ জুলাই ১৯৭৬ সালে অ্যানালিস শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। কিন্তু অ্যানালিসের মৃত্যুর পর আর এক নতুন মোর সামনে আসে যখন অ্যানালিসের পোষ্ট-মর্টেম রিপোর্ট এ আসে অ্যানালিস ম্যালনিউট্রেশনএর কারনে মারা যায় এবং সে একজন মানসিক রোগী ছিলো সেই সাথে ডাক্তার’রা ঐ দুইজন পাদ্রীর উপর দোষারোপ করে যে তারা অ্যানালিসের মা-বাবা কে উল্টা-পাল্টা বুঝিয়েছে ভালো ভাবে ট্রিটমেন্ট করা হলে আন্যালিস কে বাঁচানো যেত।

এখন এটা মুল হয়ে দাড়ায় আদৌ কি অ্যানালিস ঐ ছয় আত্মার বসে থাকার জন্য মারা গেছে নাকি ডাক্তার দের কথাই ঠিক ছিলো? এটা আজও এক রহস্য হয়ে আছে। আপনাদের কি মনে হয় জানাতে ভুলবেন না কমেন্ট করে। আর লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন।

ধন্যবাদ।

ধর্মের আড়ালে পরিচালিত ইতিহাসের কুখ্যাত কিছু খুনি কাল্ট

Now Reading
ধর্মের আড়ালে পরিচালিত ইতিহাসের কুখ্যাত কিছু খুনি কাল্ট

‘কাল্ট’ শব্দের অর্থ বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্ন। মূলত “কাল্ট” বলা হয়, যারা শয়তানের উদ্দেশ্যে বিকৃত উপাশনা করে এবং উৎসর্গ হিসেবে পশু কিংবা নরবলী দেয়। এদেরকে ভক্তি সম্প্রদায় ও বলা যায় যারা বিভিন্ন দল বা গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। স্বাভাবিকভাবেই তাদের সম্পর্কে ধারণা হতে পারে, যারা এসব কর্মকাণ্ডে লিপ্ত তারা বেশ জঘন্য। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাল্ট দলের সদস্যদের দেখতে অনেকটা নিরীহ প্রকৃতির মনে হয়। আদিকালে কাল্ট বলতে বুজানো হত “এমন একটি গোষ্ঠি বা চক্রকে, যারা বাইবেলের এক বা একাধিক মুখ্য বিষয়কে অস্বীকার করে নিজেদের সৃষ্ট ধর্মীয় রীতিতে বিশ্বাসী ছিল”। তাদের ভাষায়, ‘পুনঃজন্ম কিংবা পরিত্রান লাভ করা যায় না’ আর এ শিক্ষাই তারা তাদের দলের সদস্যদের দিয়ে থাকে। বেশিরভাগ কাল্টেরই বিশ্বাস তাদের একজন পরলোকগত আইকন বা গুরু আছেন, যিনি মৃত্যুর পরও আধ্যাত্মিক ক্ষমতা গুনে তাদের রক্ষা করেন। এই পরলোকগত কাল্ট আইকন বা পিতামহ থাকেন সকল বিতর্কের উরদ্ধে। তাঁর সম্পর্কে দলে কেউ বিষেধাগার করা মানেই বেঈমানির সমান, ফলাফল মৃত্যু। তবে কাল্টে পরলোকগত আইকন ছাড়াও একজন জীবিত আইকন থাকেন। তিনি কাল্টের সমস্ত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন এবং দলের সদস্যদের দীক্ষা প্রদান করেন। আর এই জীবিত আইকন নিজেকে পরলোকগত আইকনের কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত বলে দাবী করেন। জীবিত এই আইকনের সাথে কেউ বিরোধিতা কিংবা বিদ্রোহ করে টিকে থাকতে পারেন না। হয় তাকে দল চ্যুত করা হয় অন্যথা খুন করা হয়। এখানে অন্ধ আনুগত্য ছাড়া কাউকে দলের সদস্য করা হয়না। কাল্টরা নিজেদের একটি ধর্মের অধীন বলে দাবি করলেও, সেই ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সত্যকে পুরোপুরি অস্বীকার করে। যেমনঃ ক্রিষ্টিয়ান কাল্ট নিজেদেরকে ক্রিষ্টিয়ান বলে দাবি করে, অথচ তারা ধর্মের একাধিক মুখ্য সত্যকে অস্বীকার করে। দুইটি সুপরিচিত ক্রিষ্টিয়ান কাল্ট গোষ্ঠি হচ্ছে, “যিহোবা স্বাক্ষী” ও “মর্মন”। গোষ্ঠি দুটি নিজেদের ক্রিষ্টিয়ান বলে পরিচয় দিলেও ‘যীশু খ্রীষ্টের ঈশ্বরত্ব’ এবং ‘শুধুমাত্র বিশ্বাসের দ্বারা পরিত্রান পাওয়া যায়’ ধর্মের এই গুরুত্বপূর্ণ দুটি ভিত্তিকে অস্বীকার করে। আর ক্রীষ্ট ধর্মের এই দুইটি শিক্ষাকে অস্বীকার করাতেই এদের কাল্ট হিসেবে চিহ্ণিত করার প্রয়াস হয়। তবে যিহোবার সাক্ষিরা নিজেদের কাল্ট হিসেবে মানতে নারাজ, তাদের যুক্তি নেতা হিসেবে তারা কোনো মানুষকে নির্বাচন করে না। তাদের মতে, কোনো বিপদজনক কাল্টের পরিবর্তে ‘যিহোবার সাক্ষি’রা এমন একটা ধর্ম পালন করে, যা এর সদস্যদের এবং সমাজের অন্যান্যদের জন্য উপকার নিয়ে আসে। কালের পরিবর্তনে কাল্টের ধারায় এসছে নানান পরিবর্তন, ধর্মের বাইরে গিয়ে এর প্রবক্তাগণ নিজেদের মতাদর্শ সুকৌশলে চাপিয়ে দিয়েছে তার অনুসারীদের মধ্যে।

আসুন ইতিহাসের কুখ্যাতি অর্জন করা কিছু বিপদজনক ‘কাল্ট’ সম্পর্কে ধারণা লাভ করিঃ

১. ক্লু ক্ল্যাক্স ক্ল্যানঃ এরা হচ্ছে সাদাবর্ণের ক্রিশ্চানদের সৃষ্ট সবচেয়ে কুখ্যাত, নৃশংস ও বর্বর গোষ্ঠী। মার্কিন সমাজের ভিতর লুকিয়ে থাকা বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষকে নিয়ে সংগঠিত একটি গোপন ও সুগঠিত সন্ত্রাসী সংগঠন এটি। ফলে এদেরকে সাধারণ মানুষ থেকে আলাদা করাটা ছিলো ব্যাপক দুরুহ ব্যাপার। এই বর্ণবাদী গোষ্ঠীর প্রধান লক্ষ্য ছিলো সাদা মানুষের আধিক্য ও প্রাধান্য। সাদা বর্ণের জাতীয়তাবাদ ও কৃষ্ণাঙ্গদের অভিবাসন বিরোধীতা। সংগঠনটির সীমা ছিলো কেবল মার্কিন মুল্লুকে। একটা সময় ‘ক্লু ক্ল্যাক্স ক্ল্যান’ সংগঠনটির নির্যাতনের একক ভুক্তভোগী ছিলো আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গরা।

২. দ্য ইউনিফিকেশন চার্চঃ চার্চটির প্রতিষ্ঠাতা সান মিউঙ মুন ১৬ বছর বয়সে দৈববাণীর মাধ্যমে জানতে পারেন যে, তিনি পৃথিবীতে এসেছেন যীশু খ্রিস্টের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে, এমনটাই দাবি তার। মুন প্রচার করেন যে, তার প্রতি একান্ত বাধ্যগত হওয়াই একমাত্র মুক্তির পথ। তিনি নিজেকে একজন মুক্তিদাতা হিসেবে দাবী করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রস্থল সিউলে ১৯৫০ সালে একটি চার্চ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে আমেরিকায় চলে আসেন, উদ্দেশ্য নিজের ধর্মের প্রসার ঘটানো। এক সাথে বহু বিবাহ সম্পাদন করা এই ধর্মের একটি অন্যতম সম্মেলন হিসেবে বিবেচিত। তিনি ১৯৮২ সালে একসঙ্গে প্রায় ৬,০০০ দম্পতির বিয়ে সম্পাদন করিয়ে নিজেকে সামনে নিয়ে আসেন। মুনের ভক্ত ও অনুসারীরা তাদের সঙ্গী নির্বাচনের ভার ছেড়ে দেয় তাদের ধর্মগুরুর উপর। আর বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী থেকে নিজের পছন্দমত সদস্য নির্বাচন করে তাদের একটি দম্পতি হিসেবে রুপ দেন মুন। এদিকে একজন ধর্মপ্রচারকের আড়ালে মুনের অন্য পরিচয় ও প্রকাশ পায়। তিনি একজন ব্যবসায়ী, মাছ ধরার বড়শী, আগ্নেয়াস্ত্র, গাড়ি এবং সংবাদপত্রসহ একাদিক ব্যবসায় জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে তার বিরুদ্ধে। তার প্রতিষ্ঠা করা চার্চটির সদস্যদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও শিশুদের মগজ ধোলাই করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে চার্চটি ‘দ্য ফ্যামিলি ফেডারেশন ফর ওয়ার্ল্ড পিস অ্যান্ড ইউনিফিকেশন’ এই নামে সক্রিয়।

৩. দ্য পিপলস টেম্পলঃ জেমস ওয়ারেন জিম জোন্স একজন আমেরিকান রাজনৈতিক কর্মী এবং কমিউনিটি সংগঠক ছিলেন। তিনি তার শৈশব থেকে গির্জা, হাসপাতাল, রেস্টুরেন্ট, একটি ক্রীড়াঙ্গন পার্ক ও পুলিশ বিভাগে বিভিন্ন পদে, অনেক বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানে একীভূত সময় কাটিয়েছেন। ১৯৫০ সালে জিম জোন্স ইন্ডিয়ানাপোলিসে পিপলস টেম্পলের কাজ শুরু করেন। জোন্স ছিলেন মূলত বর্ণবাদ বিরোধী ও সমাজতান্ত্রিক ঘরানার যা তিনি প্রচার শুরু করেন। জোন্সের প্রচার আকৃষ্ট হয়ে তার পিপলস টেম্পলে যোগ দিয়েছিল বেশ কিছু আফ্রো-আমেরিকান। তিনি তার প্রচারে খ্রিস্টান ধর্মের সাথে সাথে সাম্যবাদ, সমাজতন্ত্র এবং সাদা-কালোদের সম অধিকারকেও জোর দিতেন। ১৯৬৫ সালে জোন্স তার ১০০ অনুসারীসহ ক্যালিফোর্নিয়ায় আগমন পরবর্তী ৫ বছরে তা বেড়ে দাড়ায় প্রায় হাজারের কাছাকাছি অনুসারী। তিনি তার অনুসারীদের নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার সমাজতান্ত্রিক দেশ গুইয়ানায় ১৯৭৭ সালে গড়ে তোলেন নিজের নামে শহর ‘জোন্সটাউন’। তার প্রতিষ্ঠা করে ‘পিপলস টেম্পল’র বিরুদ্ধে অন্যতম অভিযোগ ছিল আর্থিক অনিয়ম, শারীরিক নির্যাতন ও শিশু নির্যাতন। যা সেসময় সংবাদপত্রে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশিত হত নিয়মিত, জোন্স এতে বেশ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়তেন এবং অপমানিত বোধ করতেন।

৪. দ্যা ব্রাঞ্চ ডেভিডিয়ানঃ উগ্র ও চরমপন্থি হিসেবে পরিচিত ডেভিড কোরেশ চার্চ থেকে বিতাড়িত হয়ে ব্রাঞ্চ ডেভিডিয়ান নামের একটি অপ্রথাগত বিশ্বাসীদের দলে যোগ দেন। দলটির নেতা ছিলেন লয়েস রডেন, তাঁর সাথে ঘনিষ্ঠতার ফলে দলতির পরবর্তী নেতা নির্বাচিত হন কোরেশ। কিন্তু দলের নেতা নির্বাচিত হয়েই কোরেশ নতুন মতবাদ প্রচার করেন এবং যৌনতায় অধিক অভ্যস্থ হয়ে পড়েন। তার স্ত্রী সংখ্যা ছিল ১৯ জন এছাড়াও তিনি প্রচার করেন, সকল বয়সের নারীই হল তার আত্মিক পত্নী, এমনকি বিবাহিতরাও। তার নতুন এই মতবাদের জন্য কোরেশ সবচেয়ে বিতর্কিত ছিল। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র মজুদ ও শিশুদের যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ ছিল। প্রায় ১৩ জন শিশুর সাথেও তিনি যৌনকর্মে লিপ্ত হয়েছিলেন যাদের বয়স ছিল ১২ বছরের নিচে। কোরেশ তার অনুসারীদের রক্তাক্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্যাতন করতেন যাদের মধ্যে থাকত নারী ও শিশু। নিষ্ঠুর কোরেশকে দমনে ১৯৯৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে টেক্সাসে ব্রাঞ্চ ডেভিডিয়ানদের সদর দপ্তরে অভিযান পরিচালনা করে দ্য ফেডারেল ব্যুরো অব অ্যালকোহল, টোব্যাকো অ্যান্ড ফায়ার-আর্মস। কিন্তু চরমপন্থি কোরেশ ও তার অনুসারীরা আত্মসমর্পণ না করে মারাত্মক রকমের গোলাগুলি শুরু করলে এই অভিযানে যোগ দেয় এফবিআই।  ব্রাঞ্চ ডেভিডিয়ানদের এই হার না মানা প্রায় ৫১ দিনের যুদ্ধে কোরেশসহ তার ৭৬ জন অনুসারীকে হত্যা করা হয়।

৫. অর্ডার অব দ্যা সোলার ট্যাম্পলঃ ১৯৮৪ সালে জেনেভায় প্রতিষ্ঠিত হয় অর্ডার অব দ্যা সোলার ট্যাম্পল, এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ম্যাম্ব্রো ও জুরেট। প্রতিষ্ঠাতা জুরেট নিজেকে যীশু খ্রিস্ট এবং মধ্যযুগের একজন ধর্মযোদ্ধা হিসেবে দাবী করত, তিনি এও প্রচার করেন তার পুনর্জন্ম হয়েছে বলে। ম্যাম্ব্রোর ছেলে এলি বাবার মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন না তিনি বাবার ভবিষ্যতবাণীকে ভুয়া আখ্যায়িত করে আরো অনেককে নিয়ে অর্ডার অব দ্যা সোলার ট্যাম্পল ত্যাগ করেন। অন্যদিকে অর্ডার অব দ্যা সোলার ট্যাম্পলের বাকী অনুসারীদের বিশ্বাস ছিল, পৃথিবীতে সব কিছুর ধ্বংস ঘনিয়ে আসছে, তাই তাদের নতুন গ্রহে পুনরুত্থানের প্রয়োজন। পৃথিবীতে তাদের মৃত্যু ঘটলেও সিরিয়াস নামক তারকার কেন্দ্রে ঘূর্ণায়মান একটি গ্রহে তাদের পুনর্জন্ম হবে, আর তাদের সেখানে নিয়ে যাবে ম্যাম্ব্রোর আধ্যাত্মিক শক্তিসম্পন্ন মেয়ে ইমানুয়েল। সেই বিশ্বাস থেকে ঘনিষ্ঠ ১২ জন সহচর নিয়ে যীশু খ্রিস্টের ন্যায় ম্যাম্ব্রো শেষ নৈশভোজের আয়োজন করে এবং আহার শেষে  ঘরে আগুন লাগিয়ে সকলেই আত্মাহুতি দেয়।  ১৯৯৪ সালের ৪ ও ৫ অক্টোবর তারিখে সুইজারল্যান্ড এবং কানাডায় একযোগে ‘অর্ডার অব দ্যা সোলার ট্যাম্পল’র ৫৩ জন অনুসারী আগুনে পুড়ে আত্মাহুতি দেন। আর নিহতদের মধ্যে প্রতিষ্ঠাতা ম্যাম্ব্রো ও জুরেট ছাড়াও ছিল এলির লাশ। তবে ধারণা করা হয় এলিকে জোড়পূর্বক খুন করা হয়েছে। এর ঠিক পরের বছর ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বরে অর্ডার অব দ্যা সোলার ট্যাম্পলের ১৬জন অনুসারীর মৃতদেহ পাওয়া যায় ফ্রান্সে যারা আত্মাহুতি দিয়েছিল পূর্ববর্তীদের মতোই।  

৬. ঠগী সম্প্রদায়ঃ সুলতানি শাসনামলের বহু পূর্ব হতেই ঠগী নামক একটি গোষ্ঠী ছিল ভারতে। মূলত ঠগীরা ছিল ভারতীয় এক বিপদজনক ধর্মীয় সম্প্রদায় অর্থাৎ খুনি কাল্ট। ঠগীরা ছিল কেবল সনাতন ধর্মের অনুসারী এবং আদিম কালীর উপাসক সম্প্রদায়। ইতিহাস বলছে, ঠগীরা যত মানুষ হত্যা করেছে পৃথিবীর কোনও সংগঠিত খুনি কাল্ট এই পরিমাণ নিরীহ মানুষ হত্যা করেনি। ১৮৩০ সালেই কেবল প্রায় ৩০,০০০ মানুষকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে ঠগীরা, তারপর সেইসব মৃতদেহ তারা উৎসর্গ করেছে  দেবী কালীর উদ্দেশ্যে। ভারতীয় ইতিহাসে ঠগীদের নৃশংসতা একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে রচিত।  ঠগীরা বংশপরম্পরায় খুন ও দস্যুবৃত্তি জড়িয়ে পরেছে, আর শৈশব থেকেই ঠগী পিতা তার ছেলেকে শিক্ষা দিত কীভাবে ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে মানুষ হত্যা করা যায়। দশ বছর বয়স হতেই একজন ঠগী বালক এ জঘন্য শিক্ষা লাভ করত এবং বয়স আঠারোর্ধ হলেই সে মানুষ হত্যার অনুমতি পেত। ঠগীরা সাধারণত হলুদ বা গেঁড়ুয়া রঙের শক্ত কাপড়ের তৈরি রুমাল ব্যবহার করত গলায় ফাঁস লাগানোর ক্ষেত্রে, আর তা কৌশলে পেঁচিয়ে হত্যা শেষ করত। খুন করতে অন্য উপায় অবলম্বন করতনা কারণ তাদের মতে, কালীর আদেশ রক্তপাত নিষিদ্ধ। তারা বিশ্বাস করে তাদের আদি পিতা কালীর কাছ হতে রপ্ত করেছিল ফাঁস দিয়ে হত্যার রক্তপাতহীন পদ্ধতি। যাকে খুন করত তার লুঠের মাল ভাগ করে নিয়ে মৃতদেহটিকে কালীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করত ঠগীরা। আর এ কারণেই তাদের বিশেষ একটি কাল্ট বা উপাসক সম্প্রদায় বলা হয়। ১২৯০ সাল থেকে শুরু করে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত দেবী কালীর নামে এই ঠগীরা প্রায় ২০ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছিল যাদের সকলেই ছিল নিরীহ পথচারী। 

৭. আইএসআইঃ পাশ্চাত্যের গোপন ও প্রকাশ্য-মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী দল ‘আইএসআইএ’ এর উত্থান কোনো কল্পকাহিনী নয়। ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন হামলার সময় সর্বপ্রথম আত্মপ্রকাশ করে ‘আইএসআই’  অর্থাৎ ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক। পরে নাম পরিবর্তন করে হয় আইএসআইএল। আরেক সন্ত্রাসী দল আল-কায়দার পর তাদেরই উত্তরসূরি হিসেবে নতুন সংস্করণে এসেছে আইএসআইএল পুরো অর্থ ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক এন্ড লিভান্ট। ‘আইএসআইএল মূলত একটি ওয়াহাবি-সালাফি পন্থি জঙ্গি সংগঠন যা  গ্রুপটির নাম থেকেই বোঝা যায় আর তারা উগ্র/কথিত সালাফি ইসলামের ভিত্তিতে ইরাক ও আশশাম তথা লেবানন, ফিলিস্তিনসহ প্রাচীন সিরিয়ায় একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। যদিও তাদের কর্মকাণ্ডের সাথে উদ্দেশ্য সাংঘর্ষিক।

২০০৬ সালের শেষের দিকে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ‘আইএসআই’- আনুষ্ঠানিকভাবে আবু ওমর আল বাগদাদিকে তাদের নেতা বলে ঘোষণা করে। কিন্তু ২০১০ সালের ১৯ এপ্রিল আবু ওমর নিহত হলে গ্রুপটির নতুন প্রধান হয় আবুবকর আল বাগদাদি যার নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যে গ্রুপটি ব্যাপক বিস্তার ঘটায়। তখন  ‘নতুন বিন লাদেন’ নামে খ্যাত বাগদাদিকে ধরিয়ে দিতে তৎকালীন মার্কিন সরকার দশ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। মূলত বাগদাদির আসল নাম ছিল আবু দায়া। যদিও সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে অন্যরকম চিত্র, তাদের পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা…! শোনা যাচ্ছে বাগদাদির পূর্বের ইহুদী নাম। নাম যাই হউক এই বাগদাদি অর্থাৎ আবু দায়া ইরাকি নাগরিকদের অপহরণের পর তাদের বিরুদ্ধে ফতোয়া এবং একগাদা অভিযোগ দাঁড় করিয়ে প্রকাশ্যেই তাদের ফাঁসি দিয়ে দিত। ভাবুনতো কি নির্মম ও নিষ্ঠুর মনের অধিকারী ছিলেন তিনি। ২০০৫ সালে তাকে হত্যা ও অপহরণসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতার অভিযোগে গ্রেফতার করে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইরাকের উম্মে কাসর শহরের একটি মার্কিন কারাগারে বন্দি রাখা হলেও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন সেখানে তাকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। অন্যথা তার বিরুদ্ধে এত হত্যা অভিযোগের পরও কেন মুক্তি দেয়া হল? শুধু তাই নয় সাথে মুক্তি দেয়া হয় হাজার হাজার চরমপন্থি বন্দীকে কাসরের ‘বুকা’ কারাগার থেকে। পরবর্তীতে বাগদাদি ২০১১ সালে বাগদাদের একটি মসজিদ বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেয়। এ ছাড়াও সে ইরাকের সুন্নিদের প্রতিনিধি বা নেতা হিসেবে খ্যাত খালেদ আল ফাহদাওয়িকেও হত্যার দায়ে অভিযুক্ত হয়। ইরাকের কয়েকটি আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে দক্ষ বাগদাদি গোপনে বিচরণ করে, তার কর্মী ও ভক্তরদের মধ্যে খুব কমই তার সাক্ষাৎ পেয়েছে। সে প্রায় সব সময়ই তার মুখ ঢেকে চলেন যাতে কেউ তাকে চিনতে না পারে। ২০০৩ সালের আগেও সে আল-কায়দার সদস্য ছিল বলে ধারনা করা হয় আর আল-কায়দার অন্য যে কোনো নেতার চেয়ে এই আবুবকর বাগদাদি অনেক বেশি উগ্র চিন্তাধারায় বিশ্বাসী বলে জানা যায়।

৮. বোকো হারামঃ বিশ্বের ভয়ংকর জঙ্গি সংগঠনগুলোর তালিকার শীর্ষে রয়েছে নাইজেরিয়ার বোকো হারাম৷ ২০০২ সালে এই জঙ্গি সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন মোহাম্মদ ইউসুফ। নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চল ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোতে সন্ত্রাস ও ভীতির অপর নাম ‘বোকো হারাম’৷ নাইজেরিয়ার যে সব শহর ও গ্রামে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল এবং যে অঞ্চলগুলোতে বিদেশি পর্যটকরা গমন করেন, সে সব জায়গাকে হামলা এবং অপহরণের কেন্দ্রবিন্দু বানায় বোকো হারাম৷  ২০১৫ সালে আবু বকর শেকাউ-এর নেতৃত্বে এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি ৬ হাজার ৬৪৪ জন মানুষকে হত্যা করেছে ৷ তাদের হামলায় আহত হয়েছে প্রায় ১,৭৪২ জন ৷ যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক ৷ এছাড়া হাজারো কিশোরীকে অপহরণ করে এখনো মুক্তি দেয়নি বোকো হারাম, আজো অজানা সেইসব কিশোরীদের ভাগ্যে কি ঘটেছে৷

সূত্রঃ www.msn.com, cnn.com, telegraph.co.uk, , top5s.co.uk, bizarrepedia.com, thoughtco.com

‘প্যানগায়া’ রহস্য অতঃপর ৭টি মহাদেশের জন্ম

Now Reading
‘প্যানগায়া’ রহস্য অতঃপর ৭টি মহাদেশের জন্ম

সৌরজগৎ সৃষ্টির প্রায় ১০০ মিলিয়ন বছর পর প্রাচীন এই পৃথিবীর আবির্ভাব। বিজ্ঞানীদের ধারণা, আজ থেকে সাড়ে ৪শ কোটি বছর বছর আগে পৃথিবী নামের গ্রহটি আকৃতি পায়, পায় লৌহের একটি কেন্দ্র এবং একটি বায়ুমণ্ডল। পৃথিবীতে মানুষ আসার আগেই গ্রহটির সৃষ্টি। এই গ্রহের প্রথম মহাদেশ তৈরি হওয়ার প্রায় এক বিলিয়ন বছর পৃথিবীতে তেমন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়নি। প্রাণের তেমন কোন উন্নতিও ঘটেনি এ সময়ে। প্রাচীন সেই পৃথিবী তখন ছিল মাত্র একটি সুপারকন্টিনেন্ট বা একক বৃহৎ মহাদেশ। যেখানে প্রাচীন পৃথিবীর প্রায় সবভূমি একত্র হয়েছিল একই জায়গায়। আর এমনই বৃহৎ কয়েকটি মহাদেশ পৃথিবীতে উদ্ভব হয়েছে কালের পরিক্রমায় যার একেকটি টিকে ছিল প্রায় ১০ কোটি বছর। ঠিক তেমনি আজ থেকে প্রায় ৩০ কোটি বছর আগে গঠিত হয়েছিল পৃথিবীর সর্বশেষ সুপারকন্টিনেন্ট। সেই সময়ে বিষুবরেখা বরাবর পাশাপাশি জড়ো হয়েছিল পৃথিবীর সকল ভূমি। বর্তমান পশ্চিম আফ্রিকার কাছাকাছি অংশে ছিল সেই সুপারকন্টিনেন্ট এর অবস্থান। পরবর্তীতে সেই সুপারকন্টিনেন্ট ‘প্যানগায়া’ নামেই পরিচিতি লাভ করে। প্যানগায়ায় পরে ডায়নোসরের আবির্ভাব ঘটে।  

প্যানগায়া নামের রহস্যঃ প্যানগায়া শব্দটি একটি অদ্ভুত এবং প্রতীকী নাম। ১৯১২ সালে, জার্মান ভূ-তত্ত্ববিদ, আবহাওয়াবিদ ও মেরু বিষয়ক গবেষক আলফ্রেড লোথার ওয়েগনার প্রস্তাব করেন যে, বর্তমানে যে সকল মহাদেশ দৃশ্যমান রয়েছে, ৩০ কোটি বছর পূর্বে অর্থাৎ নিকট কার্বনিফেরাস যুগ পর্যন্ত তার সবকটি অবিচ্ছিন্ন মহাদেশ ছিলো। এই অবিচ্ছিন্ন মহাদেশের নাম তিনি দেন প্যানগায়া। কেন তিনি এত নাম থাকতে এই নাম দেন? প্যানগায়া গ্রিক শব্দ পঙ্গিয়া থেকে উদ্ভূত হয়, যার অর্থ “সমস্ত পৃথিবী”। আর এই নামটি এতটাই সার্থক ছিল কারণ পৃথিবীর সমস্ত ভুমি এক জায়গায় ছিল। ওয়েগনার আমাদের সামনে তুলে ধরেন প্যানগায়ার মূল রহস্য। তিনি মূলত মহাদেশীয় প্রবাহ নিয়ে গবেষণা করতেন, আর পৃথিবীর মানচিত্র পর্যবেক্ষণ করে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে এক সময় পৃথিবীর মহাদেশগুলো একত্রে ছিল যা ধীরে ধীরে একে অপরের থেকে দূরে সরে গেছে। কালের বিবর্তনে এসবের মধ্যে দূরত্বের ফারাক ক্রমে বাড়তে থাকে। এভাবেই কালক্রমে প্যানগায়া বিচ্ছিন্ন হয়ে আজকের সাতটি মহাদেশের উদ্ভব ঘটিয়েছে। তিনি এর স্বপক্ষে দেখান যে, উত্তর আমেরিকার পূর্ব তীর ও ইউরোপের পশ্চিম তীর কাছাকাছি এনে মিলালে পুরোপুরি খাপ মিলে যায়। একইভাবে সাউথ আমেরিকার সাথে আফ্রিকা এবং মাদাগাস্কার এর সাথে ভারতকে মেলালেও একই বিষয় পরিলক্ষিত হয়। ওয়েগনারের এই তত্ত্বকে বলা হয় ‘কন্টিনেন্টাল ড্রিফ্ট’ বা ‘ভাসমান ভূ-ভাগ তত্ত্ব’। যদিও তার সময়ে এই তত্ত্ব আলোর মুখ দেখেনি কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তাঁর এই “ভাসমান ভূ-ভাগ তত্ত্বের” জন্যই বিখ্যাত হয়েছেন।  এ তত্ত্বের আলোকে, পৃথিবীর উপরিভাগ কতগুলো অনমনীয় প্লেটের সমন্বয়ে গঠিত যাদেরকে বলা হচ্ছে টেকটনিক প্লেট। আর এইসব টেকটনিক প্লেট একএকটি মূলত পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গলিত পদার্থের বহিঃ আবরণ দ্বারা পাথরের স্তরে রুপান্তর হয়েছে। ভূস্তরের অভ্যন্তরে যা কিছুই রয়েছে তা এই প্লেটগুলোর ওপরে অবস্থিত বা নির্ভরশীল। টেকটনিক প্লেটগুলো একে অপরের সাথে পাশাপাশি লেগে রয়েছে। আবার প্রতিটি স্তর একাধিক প্লেটে বিভক্ত যা প্রায়ই নিজেদের মাঝে ধাক্কায় জড়িয়ে পড়ে। এই ধাক্কা কখনো মৃদু কিংবা সজোরে আঘাত প্রাপ্ত হয়। প্লেটগুলো শিলা দ্বারা গঠিত বলে মাঝে মাঝে ধাক্কায় তাদের মাঝে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয় এবং এই ঘর্ষণের মাত্রা অধিক হয়ে গেলে এক ধরনের শক্তি নির্গত হয় যা ভূস্তরকে প্রকম্পিত করে তুলে। এসব বিশাল আকারের টেকটনিক প্লেটগুলো যখন একের সঙ্গে অপরে ধাক্কা খায় তখন কেঁপে ওঠে মাটির নিচের তলদেশ, আর তখনি আমরা ভূপৃষ্ঠের ওপর ভূকম্পন অনুভব করি। গবেষণায় প্রমাণিত হয়, যেখানেই দুটো প্লেটের সংযোগস্থল রয়েছে সেখানেই ঘর্ষণ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এই সংযোগস্থলকে বলা হচ্ছে প্লেট বর্ডার। বিজ্ঞানীদের মতে, এমন একটা সময় আসবে যখন পৃথিবীর ভেতর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বর্তমান মহাদেশগুলো পুনরায় একত্রিত হয়ে যাবে। অবশ্য সেক্ষেত্রে তা দ্রুত ঘটার সম্ভাবনা ক্ষীণ, এ ধরনের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটতে সময় লাগবে নুন্ন্যতম পাঁচ থেকে ২০ কোটি বছর। তখন পুনরায় গঠিত হবে একটি একক বৃহৎ মহাদেশ বা সুপারকন্টিনেন্ট। গবেষকরা এর নাম দিয়ে রেখেছেন ‘এ্যামেশিয়া’ নামে। আর নতুন এই মহাদেশটি সংগঠিত হবে পৃথিবীর উত্তর মেরুতে অথবা পৃথিবীর উল্টো পাশে বর্তমান প্রশান্ত মহাসাগরের ঠিক মধ্যখানে।  

বাজরীগার পোষা পাখি

Now Reading
বাজরীগার পোষা পাখি

আদি নিবাসঃ প্যারোট জাতীয় পাখিদের মধ্যে যেসব পাখির শারীরিক গঠন টিয়া পাখির মত এবং লেজ লম্বাটে  হয় সেসব পাখিকে প্যারোকিট প্রজাতির অন্তরভুক্ত করা হয় । বাজরীগার সেই প্যারকিট প্রজাতির পাখি । এদের আদি নিবাস প্রধানত অষ্ট্রেলিয়ার পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল অঞ্চল । এছারাও  আর কিছু অঞ্চলে এদের দেখা যায় । বাজরীগার ইঊরোপ পাখি না হলেও ‘জনগোল্ড’ নামক এক শৌখিন পাখি প্রেমিক ১৮৪০ সনে অনেক ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রগামী জাহাজে করে অষ্ট্রেলিয়া থেকে বেশ কয়েক জোড়া  বন্য বাজরীগার প্রথম  ইংল্যান্ড নিয়ে আসেন। বাজরিগার প্রজনন  বেশ সহজ ও ঘন-ঘন প্রজনন করা যায় বলে কয়েক বছররে মধ্যেই তার মাধ্যমে বাজরীগার  সমস্ত ইউরোপ ছড়িয়ে পড়ে ।এটির গায়ের রঙ সবুজ হওয়ার কারণে পাখি পালকদের মধ্যে এটি সেরা হইয়ে উঠে। বন্য এটির রঙ সবুজ হলেও খাঁচায় প্রজনন এর মাধ্যমে অনেক রঙ আসে এর পালকে যেমনঃ সাদা, হলুদ, নীল, বেগুনী, অলিভ, গ্রে, ফিরোজা সহ আর অনেক রঙ।এই বাজরীগার এর অনেক মিউটেশন আছে যেমনঃ ড্যানিস পাইড,স্পেঞ্জেল,ক্রেস্টেড ইত্যাদি ।
বৈশিষ্টঃ বাজরীগার প্যারোকিট প্রজাতির পাখির মধ্যে সবচেয়ে ছোট এবং অত্যান্ত চঞ্চল। এই  সাধারণ বাজরীগার থেকেই বিভিন্ন প্রজননকারি (এভিকালচারিষ্ট)  তাদের দীর্ঘ গবেষণা ও উন্নত প্রযুক্তির  মাধ্যমে বের করেছেন ক্রেস্টেড বাজরীগার। পরবর্তীতে আর প্রস্থ মাথাওলা এবং শারীরিক আকার দিগুণ করা সহ ইংলিশ বাজরীগার নামে নতুন প্রজাতির আবির্ভাব ঘটান । সাধারণত বাজরীগার লম্বায়ঃ ১৮ সেঃমিঃ পর্যন্ত হয় এবং ইংলিশ বাজরীগার ২৫ সেঃমিঃ হয়ে থাকে। বন্য মাত্র ৪-৫বছর বাঁচলেও খাঁচায় ১৫ বছরের উপর বেঁচে থাকার রেকড আছে ।
স্ত্রী-পুরুষ চিনার উপায়ঃ বাজরীগার পাখি ৩ মাস বয়স হলেই  স্ত্রী-পুরুষ চিনা যায় । সাধরনত সাদা, হলুদ, কিছু পাইড পাখি ছাড়া অন্যসব গাঢ় রঙের পাখির পুরুষ পাখির বেলায় ঠোঁটর উপর নাকের অংশ (Cere) চকচকে নীল রঙ থাকে আর মহিলা পাখির ক্ষেত্রে বাদামী রঙ থাকে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে রঙ আরও গাঢ় হয়।
খাদ্যাভ্যাসঃ বাজরীগার পাখির সমস্ত খাবার উপকরন আমদের হাটে বাজারে পাওয়া যায়। খাবারগুলোর নাম হলঃ কাউন,চিনা,তিল, তিশিদানা,পোলাও
এর চাউলের ধান ,সূর্যমুখী ফুল এর বীজ ইত্যাদি । এর পাসাপাশি এরা সবুজ শাকসবজি যেমনঃ পালংশাক,কলমিশাক,গাজর,বরবটি ইত্যাদি খেয়ে থাকে। এদেরকে ভেজা পাউওয়া রুটি, ভেজা ছোলা,সিদ্ধ ভুট্টা দিতে হয় বিশেষ করে বাচ্চা ফোটার পর পর। খাঁচার ভিতর যেকোন একটা জায়গায় এক টুকরো সমূদের ফেনা (Cuttle Fish Bone) বেঁধে দিতে হবে।
পাখির খাঁচার মাপঃ বাজরীগার পাখির জন্য ২ ফিট এর খাঁচা দেওয়া উত্তম । এরা বড় খাঁচা পেলে উড়াউরি করে বেশী যা এদের সাস্থের জন্য খুবই ভাল ।ছোট খাঁচা দিলে এরা উড়তে না পাড়ায় একটা সময় খুব চর্বি জমিয়ে ফেলে যার ফলে  বাচ্চা উৎপাদ এর সমস্যা তৈরি হয় এবং অনেক সময় পাখি হিট-স্টক করে মারা যায়। তাই ব্রিডিং খাঁচা ২ ফিট হওয়া ভালো।পরবর্তীতে প্রজনন এবং রোগ নিয়ে আলোচনা  করা হবে।

জীবনের গল্প

Now Reading
জীবনের গল্প

“জন্মের সাথে সাথেই মা মারা গেলেন। মায়ের আদর, মায়ের গন্ধ কিছুই পাইনি। নানীর কাছেই শৈশবের কিছু সময় কেটেছে। বাবা রিকশা চালাতেন। মাঝেমাঝে এসে আমাকে দেখে যেতেন। নানীর ছায়ায় একটু একটু বড় হতে লাগলাম কিন্তু হাঁটতে পারতাম না। নানী বহু কষ্ট করে কয়েকবার ডাক্তার দেখিয়েছিলেন বাবাও চেষ্টা করেছেন কিন্তু তেমন কোন ভালো ফল হয়নি। ডান পাঁ সম্পূর্ণই অকেঁজো। একটা লাঠি কিনে দিয়েছিলেন বাবা। সেটা ভর করে হাঁটতাম তাও খুব কষ্ট হত।নানী গ্রামের স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেন। ‌নানীর অক্লান্ত পরিশ্রমে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছিলাম। কিন্তু নানীও একদিন মারা গেলেন।

তারপর বাবা নিয়ে আসলেন তার কাছে, ওখানে আর কেউ রইলো না আমায় দেখার মত। তবে পড়াশুনা হলনা। বাবাই বা কি করতেন ! সারাদিন আমার পেছনে বসে থাকলে খাবে আর খাওয়াবে কি ! কোনরকম দু’বেলা খেয়ে দিন কাটতো। আর সারাদিন সামনের খোলা মাঠের কোণে বসে ছেলেদের ফুটবল খেলা দেখতাম। চলতে থাকে কোনরকম….।

একদিন বাবা সন্ধ্যারাতে নিজের রিকশায় করে এক সুন্দরী লাল শাড়ি পরিহিত মহিলাকে ঘরে নিয়ে ফিরলেন। বললেন এ তোর নতুন মা। তোকে অনেক আদর করবে, তোকে কষ্ট করে চুলার পাশে বসে আর ভাত সিদ্ধ করতে হবে না।

প্রথম প্রথম ভালো দেখাশুনা করত নতুন মা। কিন্তু সংসারে নতুন সন্তান আসার সাথে সাথেই রুপমতীর আসল রুপ বেরিয়ে পড়ল। খেতে দিত না। ঘরের সমস্ত বাসন ধুতে হত কাপড় কাঁচতে হত! বসেবসে সব কাজ করাতো সৎ মা। যদি করতে না পারতাম অথবা ভুল হত তবেই জুতাপেটা করত, চড় থাপ্পর আরও কত কি….!

শারীরিক অক্ষমতার কারণে অথবা অসুস্থ থাকলে সেদিন না খেয়ে থাকতাম ! বড় গলায় ডেকে বলতাম, ” ও মা মা খিদা লাগছে অনেক ! পান্তা দাও তাতেই হবে। সব পান্তাতো ফেলেই দেবে !” কখনও দয়া হত আবার কখনও বাবা এলেই শুধু খেতে পেতাম। তবে বাবার ধারে কাছে কখনও ভিড়তে দিত না। যদি সব বলে দেই বাবার কাছে ! মাঝে মাঝে খোলা আকাশের দিকে তাঁকিয়ে চিৎকার করে মাগো মাগো ডাকতাম… হায় নসিব নানীও চলে গেলেন ! বাবাও বেশ উদাসীন ছিলেন আমার প্রতি।

একদিন সুযোগ পেয়ে বাবাকে বলেছিলাম সৎ মায়ের সব অত্যাচারের কথা। কিন্তু কোন কাজে আসেনি ! বাবাকে রুপমতী অনেক আগেই বস করে রেখেছিলো বুঝতে পারিনি। বাবা বিশ্বাস করেনি আমার কথা উল্টো চড় মারল ! বাবা কাজে বেরিয়ে গেলে সৎ মা দরজা বন্ধ করে অনেক মেরেছিলো সেদিন…! রাতে প্রচন্ড জ্বর ওঠে ! কত আর সহ্য হয় ! ঠিক করলাম হাঁটতে নাহয় খুব কষ্ট হয় কিন্তু এক পাঁ আর দুটি হাত তো আছে ! গতরে খেটে খাব ভিক্ষা বা দয়ায় কেন বাঁচব !

নানী আদর করে মাঝেমাঝে হাতে টাকা গুঁজে দিতেন ! লুকিয়ে জমিয়েছিলাম সেগুলো স্কুলের টিফিন না খেয়ে।বাবাও আগে মাঝেমধ্যে কিছু চকলেট আবার কখনও টাকা দিতেন জমাতে ! জমিয়েছিলামও গোপনে। সিদ্ধান্ত নিলাম এগুলো নিয়েই পালাবো শহরে। কত কাজ একটা কিছু ঠিকই খুঁজে নেব।

বাবা যতই অবহেলা করুক তবু বাবাকে ছেড়ে যাবা সময় মন টানছিলোনা। বারবার চোখ ভিজে যাচ্ছিলো ! এই বাবাইতো ছিলো আর কে ছিলো আমার ? আর হয়ত কোনদিনই বাবাকে দেখা হবেনা ! বাবা, মা সমস্ত স্মৃতি মায়ার বন্ধন ছিড়ে চলে যাচ্ছি। বুকের ভেতর খুব হাহাকার হচ্ছিলো…আর পেছনে ফিরে তাঁকাচ্ছিলাম যেন মনে হচ্ছিলো মা বুঝি দাঁড়িয়ে আছেন আমাকে যেতে বাঁধ সাধছেন ! কিন্তু মাকে তো দেখিনি তবু কেমন যেন লাগছিলো…।

কাঁক ডাকা ভোরে অক্ষম পাঁ আর শরীরে জ্বর নিয়েই মনের জোরে পালিয়ে শহরের রেলস্টেশনে এসে পৌঁছলাম। তারপর আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি ক্ষুধা ও জ্বরের কষ্টে হাতের পোটলা বুকে চেঁপে নিস্তেজ ঘুমিয়ে পড়লাম। ওখানে এক কোণে ঠাঁই নিয়ে পড়ে থাকলাম। আস্তে আস্তে একটু সুস্থ হলাম খেয়াল করলাম এক চাচা আমার থেকে একটু দূরে জুতা পলিশ, সেলাই করে বেশ ভালোই কামাচ্ছেন ! এগিয়ে পাশে বসলাম কাজের কৌশল শিখতে। চাচাও আগ বাড়িয়ে অনেক প্রশ্ন করলেন তারপর সবকথা খুলে বললাম তাঁকে !

অল্প সময়েই ভালোই সম্পর্ক হল চাচার সাথে। আমাকে রোজ তাঁর পাশে বসিয়ে কাজ করতেন মাঝেমাঝে কিছু খেতেও দিতেন। তারপর চাচার পাশে অল্প কিছু পুঁজি দিয়ে আমিও কাজে লেগে গেলাম। চাচা তাঁর বাড়িতে নিতে চাইলেন কিন্তু যাইনি ! এই অক্ষম শরীরের বোঝা কাউকেই আর দেবনা ভেবেছিলাম…।

কোন রকম খেয়ে বাকী কিছু টাকা জমাতাম আর কিছু টাকা দিয়ে বই কিনে সুযোগ পেলেই পড়তাম স্টেশনের হালকা আলোতে। চলে যেত কোনমতে দিন…

একদিন চাচা এলেননা ! এক মাস কেটে গেলো চাচা এখনও এলেননা। ভাবলাম চাচার কোন বিপদ হল কিনা ! বাড়ির ঠিকানা জানতাম। কষ্ট করে চাচার খোঁজে গেলাম। শুনি চাচা হঠাৎ ক’দিনের তীব্র জ্বরে মারা গেছেন। তাঁর একটা মেয়ে রেখে গেছেন। মেয়েটি বাসাবাড়ির কাজ করে চলে কোনরকম।

রোজ একবার আসতাম মেয়েটির খোঁজ নিতে। তারপর আস্তে আস্তে কেমন একটা মায়ায় জড়িয়ে গেলাম মেয়েটির সাথে। মাঝেমাঝে কিছু টাকা জোর করে মেয়েটিকে দিয়ে আসতাম…! মেয়েটিও একসময় আর বাঁধা দিত না। মেয়েটিও যেন আমারই অপেক্ষায় থাকতো ! বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলাম দুজনে ! করেও ফেললাম বিয়ে…!

তারপর সুখে দুঃখে আত্মত্যাগে দু’যুগ পেরিয়ে গেছে আমাদের একসাথে ! আমাদের একমাত্র মেয়ে আলেয়া আজ সম্পূর্ণ সরকারী খরচে ডাক্তারি পড়ছে। স্রষ্টার অপার মহিমা ! তিনি আমার সন্তানকে আমার মতন অক্ষমতা দেননি ! একটা সময় মরে যেতে ইচ্ছে হত! মায়ের কাছে নানীর কাছে চলে যেতে মন চাইতো! কিন্তু এখন আরো অনেকদিন বাঁচতে ইচ্ছে হয়। একজন সৎ দয়ালু ডাক্তারের গর্বিত পিতা হয়ে বাঁচতে ইচ্ছে হয়।”

জীবনের গল্প ! সত্যিকারের গল্প।