বাংলাদেশ বনাম আয়ারল্যান্ড – ওয়ানডে – লাইভ ফিড

Now Reading
বাংলাদেশ বনাম আয়ারল্যান্ড – ওয়ানডে – লাইভ ফিড

বাংলাদেশ বনাম আয়ারল্যান্ডের খেলাটি নানাভাবে অনেকেই অনলাইনে সম্প্রচার করছেন। তবে বেশীরভাগই ভাল ফিড না এবং লিগ্যাল না। কিছু লিগ্যাল লাইভ ফিড আছে যেগুলো কোয়ালিটি ভাল। অনেকেই জিজ্ঞেস করেছেন আমাদের কোন লাইভ ফিড আছে কিনা। আসলে আমার নিজেদের কোন আইনী অধিকার নেই এধরনের খেলা নিজেরা সম্রপচার করা। তাই আপনাদের জন্য আমরা সবচেয়ে ভাল লাইভ ফিডটি খুজে বের করেছি আর সেই ফিডটি নীচে সংযুক্ত করে দিচ্ছি। আশা করি আপনাদের সুবিধা হবে। এটি আমাদের নিজস্ব ফিড না তাই । তবে এই লাইভ স্ট্রিমিংটি সবচেয়ে ভাল। দেখুন বাংলাদেশের আজকের খেলা।

মুস্তাফিজ ও একটি মুদ্রার কয়েন

Now Reading
মুস্তাফিজ ও একটি মুদ্রার কয়েন

মুস্তাফিজুর রহমান; এক বিস্ময়ের নাম। জন্ম বাংলাদেশের সাতক্ষীরায়(৬ সেপ্টেম্বর,১৯৯৫)। বয়স হিসাব করলে যে খুব বেশি হবে, তাও নয়। মাত্র একুশ(২১)। কিন্তু মুস্তাফিজকে যদি বিস্ময় দিয়ে হিসাব করি, তাহলে সেটা আকাশচুম্বী। কারণটা বাংলাদেশসহ পৃথিবীর ক্রিকেটপ্রেমী সবারই জানা।

বাংলাদেশ টিমের লাল-সবুজের জার্সি প্রথম গায়ে জড়ান ২০১৫ সালের ২৪ এপ্রিল পাকিস্তানের বিপক্ষে(টি-২০)। এবং প্রথম দিন মাঠে নেমেই আফ্রিদি ও হাফিজকে আউট করে নিজের আগমন জানান দিচ্ছিলেন এই বাঁহাতি বোলার। তারপর রূপকথার মতো অভিষেক হয় ‘ওডিআই’ তে। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেট নেয়ার পর;দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়ে ক্রিকেট দুনিয়ায় হইচই সৃষ্টি করেন।ওয়ানডে ক্রিকেটের অভিষেক সিরিজে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিকও এখন মুস্তাফিজুর রহমান। [উল্লেখ্যঃ মুস্তাফিজের টি-২০ ও ওয়ানডে দুটি অভিষেকের ম্যাচেই জয় পায় বাংলাদেশ।]

নিজের বোলিং ভেল্কি দিয়ে বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানকে ঘায়েল করার সুবাদে ২০১৬ সালের আইপিএল এ ডাক পান হায়াদ্রাবাদ টিমে। নিলামের মাধ্যমে হায়াদ্রাবাদ টিম মুস্তাফিজকে ১ কোটি ৭০ লাখ বাংলাদেশি টাকায় কিনে নেয়।

প্রথম ম্যাচ থেকেই টিম হায়াদ্রাবাদ এর বোলিং অ্যাটাকের প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেন মুস্তা। কম খরুচে বোলার হিসেবে আইপিএল এ নিজের নামকে নিয়ে যান ওপরের সারিতে। প্রতি ম্যাচেই মুস্তাফিজ অন্তত ১২-১৫ রান সেভ করতেন নিজ বোলিং প্রতিভা দ্বারা। “দ্যা ফিজ” এর কাটারের কল্যাণে হায়াদ্রাবাদ দল প্রায় সব ম্যাচেই জয়ের দেখা পায়। মাত্র ১৬ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট নিয়ে আইপিএল এ ম্যাচ সেরার পুরস্কারও পেয়েছেন এই বাংলাদেশী তরুণ। ২০১৬ সালে প্রথমবারের মত আইপিএল এ সানরাইজার্স হায়াদ্রাবাদ চ্যাম্পিয়ন হয়। যেখানে নায়কের ভুমিকায়ই ছিলেন কাটার মাস্টার ‘দ্যা ফিজ’। মুস্তাফিজুর রহমান তাঁর প্রথম আইপিএলেই  বাজিমাত করে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন এবং নিজেও আইপিএল ২০১৬ এর মোস্ট ইমারজিং প্লেয়ার এর খেতাব পান। আইপিএল থেকে ফিরে এলে বাংলাদেশের মানুষ মুস্তাফিজকে ঢাকায় এয়ারপোর্টে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়। সাতক্ষীরার বাসায় যাওয়ার পর নিজ জেলা প্রশাসকও “দ্যা ফিজ” কে সম্মান জানাতে ভুলেননি। মুস্তার চারদিকে শুধু মানুষের সম্মান আর শুভেচ্ছা। ঠিক যেন স্বপ্নের মত এলেন,দেখলেন,জয় করলেন।

তার কিছুদিন পরই ইংল্যান্ডের সাসেক্স এ কাউন্টি লীগ খেলতে যান। সেখানেও দেখা গেলো সেই চিরোচেনা মুস্তাফিজুর রহমানকে। ব্যাটসম্যানরা তাঁর বিষাক্ত কাটারের যন্ত্রণায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য(আউট) হতেন। সাসেক্সে খেলার সময় কাঁদে চোট পান এবং ইংল্যান্ডেই তাঁর কাঁধের অস্ত্রপচার করা হয়। তারপর বেশ কিছুদিন বিশ্রামের কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন।

বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফরে দলে ফিরলেন, কিন্তু ঠিক আগের মুস্তাফিজকে কেনো যেন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। মনে হচ্ছিলো কাঁধের অপারেশনের পর তাঁর কাটারের ধার আগের মত নেই। শ্রীলঙ্কা সফরেও একই অবস্থা। আগের বোলিং আর নেই। খুব সহজে উইকেট পাচ্ছেন না; আউট করতে পারছেন না বিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানদের। দেখতে দেখতে আইপিএল ২০১৭ চলে এলো।

আইপিএল ২০১৭ তে নিজ দল সানরাইজার্স হায়াদ্রাবাদের সাথে যোগ দেয়ার পরের দিনই মাঠে নেমে যান। কিন্তু ২.৪ ওভারে রান দেন ৩৪, কোনো উইকেট পাননি। ঠিক তখনই বোধ হয় কাটার মাস্টার খ্যাত “দ্যা ফিজ” মুদ্রার উল্টা পিঠ দেখতে শুরু করলেন। হায়াদ্রাবাদ টিম ম্যানেজমেন্ট কেনো যেন এক ম্যাচ দিয়েই মুস্তাফিজকে বিচার করে ফেললেন। যেই মুস্তাফিজকে দলে পাওয়ার জন্য হায়াদ্রাবাদ টিম অস্থির হয়ে পড়ত, সেই মুস্তাফিজকেই তারা ম্যাচের পর ম্যাচের সাইড বেঞ্চে বসিয়ে রাখল। আর একটি ম্যাচেও নামানো হলনা মুস্তাকে। মুস্তাফিজ নিজেও খুব অসহায় বোধ করতে লাগলেন। মাত্র এক বছর আগেও বিপক্ষ দলের রান চেক দেয়ার জন্য যার ৪ ওভারের ৩ ওভারই শেষের দিকে করানোর জন্য রেখে দেয়া হত, আজ তাকে অতিরিক্ত খেলোয়ার হিসেবে মাঠের বাইরের বেঞ্চে বসে থাকতে হচ্ছে। হয়তো এটাকেই মুদ্রার ২ পিঠ দেখা বলে।

সবশেষে আশার কথা শুনিয়ে শেষ করছি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে মুস্তাফিজ আগের রুপেই ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সামনে বাংলাদেশের ট্রাই-নেশন সিরিজ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির খেলা আছে। আশা করছি আবার আমরা আগের সেই কাটার মাস্টার “দ্যা ফিজ” কেই দেখতে পারবো।
ধন্যবাদ।

বাংলাদেশ ক্রিকেট ও সাব্বির রহমান

Now Reading
বাংলাদেশ ক্রিকেট ও সাব্বির রহমান

একটা দলে সবচেয়ে ভরসাপুর্ণ অথবা সেরা খেলোয়াড় কে তিন নাম্বারে তথা ওয়ান ডাউনে ব্যাটিং এ পাঠানো হয়। সাব্বির যখন দলে আসে তখন লোয়ার অর্ডারে টেলএন্ডার দের সাথে ব্যাটিং করতে হতো। প্রথমে টি-টুয়েন্টি তে তিনি তিনে ব্যাটিং এ আসেন। আস্তে আস্তে তার সামর্থ্য প্রমাণের মাধ্যমে ওয়ানডেতে তিনে নিয়মিত ব্যাটিং শুরু করেন। সাব্বির এর উপর আমাদের এবং টিম ম্যানেজমেন্ট এর পরিপূর্ণ আস্থা আছে।

ওয়ান ডাউনে ব্যাটিং করে তিনি খারাপ করছেন না। প্রায় প্রতি ম্যাচেই কিছু না কিছু রান করে দিচ্ছেন। কিন্তু এই কিছু রান করার অবস্হানে কি বাংলাদেশ আছে?

বাংলাদেশ পরাশক্তিতে পরিণত হচ্ছে। এখন ওয়ান ডাউনে ৪০/৫০ রান করে দিলে হয় না। ম্যাচে শক্ত অবস্হানে পৌছতে হলে তিন নাম্বার ব্যাটসম্যান এর বিকল্প খোজা উচিৎ হবে না। সাব্বির যে পরিমাণ ম্যাচ তিন নাম্বারে খেলেছে ওর কাছ থেকে বড় রান পাওনা হয়ে গেছে। এ পজিশনে ব্যাট করে সাব্বির এর সেঞ্চুরি করা বা আরও লম্বা করা দরকার তার ইনিংস। এতোদিনেও একটা সেঞ্চুরি দেখতে না পেরে আমি যথেষ্টই হতাশ। তাই আমি সমালোচনা করতে চাই।

উল্ল্যেখ্য যে, আয়ারল্যান্ডে প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছে। এমন কার্যকরী ইনিংস আন্তর্জাতিক ম্যাচেও দেখতে চাই। প্রস্তুতি ম্যাচে করা সেঞ্চুরির সুবাদে বাংলাদেশ চারশোর কাছাকাছি একটা স্কোর করতে পেরেছে। পরবর্তী ব্যাটসম্যান রা রিল্যাক্সড হয়ে মারতে পেরেছে। এর সুফল আমরা পেয়েছি।শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে সাব্বিরের স্কোর ৮৬ বলে ১০০!! যার মধ্যে ১৬ টা চার এবং ১ টা ৬! যার মানে ১৭ বলে ৭০ রান আর বাকি ৩০ রান ৬৯ বলে!!
আমাদের প্লেয়াররা এই দিক দিয়েই অনেক পিছিয়ে আছে। ৩ এবং ৪ নাম্বারে পজিশনের প্লেয়ারের কাজ থাকে ইনিংস বিল্ড আপ করা এবং উইকেট পতনের হাত থেকে দলকে রক্ষা করা। তাদের এবিলিটি থাকতে হবে সিঙ্গেল বের করার। যাতে রানের চাকা সচল থাকে। খেলায় ডট বল থাকবেই। কিন্তু সাব্বিরের প্রবলেমটা হল ডট বল সে পোষাতে চায় বাউন্ডারি হাঁকিয়ে!! যার জন্য সবসময় ভাল একটা শুরু করেও সেটা লম্বা করতে পারে না। আশা করি সাব্বির তার ল্যাকিংস গুলা খুব দ্রুত ওভারকাম করতে পারবে। এবং সিঙ্গেলের প্রতি মনোযোগ বাড়াবে।

যেসব সিরিজের প্রস্তুতি ম্যাচে টাইগারেরা হেব্বী খেইলা ৩০০ প্লাস রান করে করে প্রতিপক্ষ্যকে নাযেহাল করে ছাড়েন;
সেই সব সিরিজের শুরুর ম্যাচ থেকেই অতি উৎসুক টাইগার সমর্থক মানে আমাদের প্রত্যাশা ও থাকে আকাশ ছোয়া;
আমাদের ধারনা প্রতি ম্যাচেই তিনশো করবে টীম বাংলা,
জয় ছাড়া কোন কথাই হবেনা;

অথচ খেলার যে ছন্দ পতন আছে তা আমরা ভুলে যাই;
বাংলাদেশ টীম যে এখন ও কোন টূর্ণামেন্টের শুরুতে সহজ হতে শেখেনি, একটু সময় নেয়, সেসব আমাদের ভাববার সময় কোথায়?
২০১৫ সালের জয়ের যে ধারাবাহিকতা বাঙ্গালী দেখেছে, তাতে জয় ভিন্ন অন্য কোন ফলাফলে নগদ গালী দিতে দ্বিধা করেনা! ভুলে যায় জিততে ভুলে যাওয়া বাংলাদেশের অতীত’টা!

অনুরোধ হচ্ছে প্রথম দুই একটা ম্যাচ যদি ম্যাশ বাহিনী হেরে ও যায়, দয়া করে আমরা গালী, সমালোচনা, নিন্দা, তমুক কে নেয়নাই কেনো? অমুক রে বাদ দিতে হবে এমন বলবোনা। না অনলাইনে, টিভি পত্রিকায়।

ওরা খেলা শেষে রুমে ফিরে যখন স্বদেশী টিভি-পত্রিকায় ওদের নিয়ে তোলা প্রশ্ন গুলো দেখে ; তখন আরো বেশি অস্থির হয়র পারফর্ম করতে গিয়ে কিছুই করতে পারেনা। আবার সৌম্যের মত চরম ট্যালেন্ট কেউ কেউ ঘাবড়ে গিয়ে ম্যাচের পর ম্যাচ ফ্লপ মারতে থাকে। এতে ক্ষতি হয় কিন্তু ক্রিকেটের দেশের।

ভারত, অস্ট্রেলিয়া কে দেখবেন ভিরাট কোহলী কিংবা ডেভিড ওয়ার্ণার গোটা সিরিজ ধরে ও ফ্লপ মারলে স্টেডিয়াম টু মিডিয়া; কেউ টু শব্দটি করেনা। এতে করে ওয়ার্ণার বা ভিরাটেরা অতি দ্রুৎ আত্ববিশ্বাস নিয়ে দানবীয় ইনিংসে ভর করে ফিরে আসে। তাতে লাভ হয় কিন্তু ওদের দেশের।

ক্রিকেটের কলংকিত কিছু ফিক্সার

Now Reading
ক্রিকেটের কলংকিত কিছু ফিক্সার

ক্রিকেট।এটি কি আসলেও GENTELMAN’S GAME।হয়ত উত্তর হা বোধকই হবে।তবে কোথও যেন একটা খটকা থেকেই যাচ্ছে।

ক্রিকেটের খেলাটি ১৬ ই শতাব্দী থেকে বর্তমানকাল পর্যন্ত একটি পরিচিত ইতিহাস, ১৮৪৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে, যদিও ১৮৭৭ সালে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটের আনুষ্ঠানিক ইতিহাস শুরু হয়। এই সময়ের মধ্যে, এই খেলাটি ইংল্যান্ডের মূলভূমিতে ইংল্যান্ডে একটি খেলা যা এখন বেশিরভাগ কমনওয়েলথ অফ নেশানদের মধ্যে পেশাগতভাবে খেলা করা হয়।

তবে কি সেই ১৮৭৭ এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মধ্যে মানগত কোন মিল আছে।আমার মতে ত নেই।আপনার?

তবে এটা সত্ত যে ক্রিকেট বতর্মানে অন্যতম জনপ্রিয় খেলা।আর আমরা হয়ত সকলেই জানি ক্রিকেট আজ শুধু একটি খেলাই নয় এখন এটি একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসার ও নাম।তবে বিষয়টা হয়ত শুধু ব্যবসা হলেই ভাল হত যদি না তাতে কালো টাকার ছোয়া থাকত।

হ্যা আপনারা ঠিকই ধরেছেন আমি ফিক্সিং এর কথাই বলছি।যা শুধু ক্রিকেট এর মানই নষ্ট করেনি করেছে তার সভ্যতাকেও।যার ফলে ক্রিকেট হারিয়েছে তার উত্তেজনাও।

আজ কিছু ম্যাচ ফিক্সার এর গল্প বলা যাক তাহলে

মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন (ভারত), ২০০০:

ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন কর্তৃক একটি প্রতিবেদন, একটি বুকমার্কের সঙ্গে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য আজহারউদ্দিনকে দোষী প্রমাণিত, মুকেশ গুপ্ত রিপোর্টটি প্রকাশের আগে, আজহারউদ্দিনের মতে, মুসলমান হওয়ার জন্য তাকে ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

পরে তিনি ম্যাচগুলি ফিক্স করার জন্য টাকা গ্রহণের কথা স্বীকার করেন।

২000 সালে ভারতের সবচেয়ে সফল ক্রিকেট খেলোয়াড় আজহারউদ্দীনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

হানসি ক্রোনিয়ে (দক্ষিণ আফ্রিকা), ২০০০:

বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানিত ক্রিকেটারদের একজন। ২০০০ সালে ক্রোনিয়ে  ভারতের বিরুদ্ধে খেলার সময় একদিনের আন্তর্জাতিকে ফিক্সিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। পুলিশ দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক এবং একটি স্বেচ্ছাসেবক যে তাকে ফিক্সিং এর সাথে জড়িত  এমন তথ্য ফাঁস করে।

ক্রোনিয়ে পরে ম্যাচ সংক্রান্ত তথ্যের বিনিময়ে বুকিকে কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের কথা স্বীকার করে এবং কিছু খেলোয়াড়কে নিম্নগামী করে তুলতে বলে। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক তাকে জীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ২00২ সালে তিনি একটি বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান।

অন্যান্য বিশিষ্ট দক্ষিণ আফ্রিকান খেলোয়াড়দেরও কেলেঙ্কারির সাথে যুক্ত ছিল, হের্শেল গিবস এবং নিকি বোয়ে সহ। ক্রোনিয়ের যুক্তি ছিল যে তার দলের কেউই কিছুটা ভুল করেনি।

মারলন স্যামুয়েলস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), ২০০৮:
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানকে ২০০৮ সালে তার দলের কৌশল সম্পর্কে তথ্য প্রকাশের জন্য ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। গেমটির সমস্ত বিন্যাসে তিনি দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন। তিনি বলেন তিনি নির্দোষ ছিল।
সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফ, মোহাম্মদ আমির (পাকিস্তান),২০১০ :

২০১০ সালে লন্ডনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত তিন পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

বাট, টিম অধিনায়ক এবং দুই বোলাররা খেলাটিতে পূর্বনির্ধারিত সময়ে নো-বল বা বোলিংয়ের সাহায্যে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত অদৃশ্য ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড নিউজ অফ দ্য ওয়ার্ল্ডের একটি স্টিং অপারেশন চলাকালে কেলেঙ্কারিতে আলো ছড়িয়ে পড়ে।

তিনজন খেলোয়াড়কে ইউ.কে দোষী সাব্যস্ত করে দোষী সাব্যস্ত করে এবং দুর্নীতিবাজ পেমেন্টগুলি গ্রহণ ও গ্রহণ করার জন্য ষড়যন্ত্র করে। তিনজনকে ইউ.কে কারাগারে আটক রাখা হয়েছিল এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য খেলা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

মর্ভিন ওয়েস্টফিল্ড (এ্যাসেক্স), ২০১২:
ম্যারাভিন ওয়েস্টফিল্ড (এ্যাসেক্স), ২01২: মারেভিন ওয়েস্টফিল্ড, ইংরেজি কাউন্টি খেলোয়াড় যিনি এসক্সের প্রতিনিধিত্ব করেন, ২009 সালে ডারহামের বিপক্ষে একটি ম্যাচে খারাপ খেলার জন্য কমপক্ষে 6 হাজার পাউন্ড দেওয়া হয়েছিল।২০১০সালের এসক্সে খেলার সময় পুলিশ “অনিয়মের সাথে মিলিত” তদন্ত করে গ্রেফতার করে। তিনি স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারির অংশ হিসেবে ষড়যন্ত্রের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন এবং চার মাসের কারাগারে আটক হন।
এছারাও অজয় জাদেজা,মনোজ প্রভাকর,সলিম মালিক,ড্যানিশ কানেরিয়ার মত অনেক নামকরা ক্রিকেটার ফিক্সিং এর জন্য নিষিদ্ধ হন।
তবে সবচেয়ে বেদনাদায়ক ছিল বাংলাদেশের সোনার বালক মোহাম্মদ আশরাফুলের ফিক্সিং এ জরিত থাকার ঘটনাটি।তবে মনে কনে এখন মনে হয় হয়ত সে মিথ্যে দোষ এর শিকার।তবে ইচ্ছে একটাই প্রানের খেলা ক্রিকেট যেন ফিরে পায় তার পুরন অভিজাতিক রুপ।
ধন্যবাদ।

 

 

 

 

 

অনুপ্রেরণার প্রতিচ্ছবিঃ মাশরাফি দ্যা মহানায়ক

Now Reading
অনুপ্রেরণার প্রতিচ্ছবিঃ মাশরাফি দ্যা মহানায়ক

মাশরাফি বিন মুর্তজা।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক সংগ্রামী জীবন্ত কিংবদন্তি। দেশের মানুষ যাকে ভালোবেসে নাম দিয়েছেন ম্যাশ । তাঁর সংগ্রাম তাঁর নিজেরই শরীরের সাথে। দুই পা বারবার বেঈমানী করলেও তিনি ফিরে এসেছেন, দেখিয়ে দিয়েছেন বাংলার মানুষকে- মাশরাফি একজন টাইগার, একজন সংগ্রামী, একজন যোদ্ধা, সর্বোপরি একজন নেতা, যে নেতা পালটে দিয়েছেন একটা পুরো দলকে , দেখিয়ে দিয়েছেন পুরো জাতিকে, পুরো বিশ্বকে – কিভাবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হয়, ভালোবেসে একটা দলকে আগলে রাখা যায়।

ক্রিকেট বাংলাদেশের মানুষের সবচাইতে আবেগের একটা স্থান। আর সেই স্থানে মাশরাফি একজনই অনন্য। তিনি যেদিন হঠাৎ টি২০ থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন, সারা জাতি দেখেছে , এই দেশের মানুষ তাকে কতটা ভালোবাসে। সত্যি কথা, আমি নিজেও দুই তিন দিন ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করতে পারিনি, অবসরের ঘোষণা দেখে টপ টপ করে চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরেছে। এ ব্যথা বোঝাবার নয়। যে মানুষ একদিনের ক্রিকেটে ১০ ওভার বল করতে পারবেন, তিনি কেন ৪ ওভার বল করতে পারবেন না? এ কেমন কথা? এই প্রশ্ন আজো রয়ে গেছে, যদিও ম্যাশ এই নিয়ে আর কথা বাড়াননি।

নড়াইল থেকে উঠে আসা এক কিশোর মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছিলেন, ক্রিকেট দুনিয়া এক নতুন বিস্ময় এর জন্ম দিয়েছে, আর সেই বিস্ময় হলেন মাশরাফি। দ্যা নড়াইল এক্সপ্রেস। তাকে বাংলাদেশের অন্যতম দ্রুততম বোলার হিসেবে বিবেচনা করা হত সেই সময়ে। ১৩৫ কি.মি/ঘন্টা করে তাঁর বলের গতি ছিল সেসময়, কিন্তু ইনজুরির কবলে পড়ে তিনি তাঁর সেই গতি হারিয়েছেন। এখন ১২০কি.মি এর ঘরে বল ছুড়লেও তিনিই বোলারদের নেতা এবং সেরা। তিনি যেভাবে লাইন লেংথ ঠিক রেখে এখনো এই ৩৩ বছর বয়সে বল করে যাচ্ছেন, তা সত্যিই নতুন বোলারদের জন্যে এক অনুপ্রেরণার বিষয়। তিনি মানুষটাই একটা অনুপ্রেরণার। অথচ সবাই কিনা ভেবে নিয়েছিল ম্যাশের ক্যারিয়ার শেষ। সেটা আরো ৮ বছর আগের কথা। কিন্তু না, তিনি এক অনবদ্য হার না মানা পুরুষ। বাংলার বাঘ তিনি। যখন তিনি বল করতে দৌড়ান, তখন মনে হয় একটা রয়েল বেঙ্গল টাইগার দৌড়ে যাচ্ছে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে, শিকারের পর ঠিক বাঘের মতই তাঁর গর্জন। অনুজ ক্রিকেটারদের কাছে কিংবা সতীর্থদের কাছে মাশরাফি মানেই এক ভরসা, এক আনন্দ, যেন মাথার ওপর ছায়ার মত কেউ একজন থাকা।

যে মানুষ দুই পায়ে সাত বার বড় ধরণের অস্ত্রোপচার করার পরও পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে খেলতে নামতে পারেন, একটা দেশের জন্য সম্মাননা বয়ে আনতে পারেন, তাহলে আমরা কেন একটুতেই হতাশ হয়ে পড়ি? কেন আমরা অতি সহজেই ভেঙে পড়ি? কেন হাল ছেড়ে দিই? কেন মাধ্যমিক কিংবা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় আশানূরুপ ফল করতে না পারলে আত্নহত্যা করার মত সিদ্ধান্ত নিই? কেন? ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করতে না পেরে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা বিষয়ে ভর্তি হতে না পারলে কেন ভেবে নিই আমাদের সব শেষ? ক্যারিয়ার শেষ? জীবন কি এতই তুচ্ছ? হেলায় কেন নিজেকে শেষ করে ফেলতে হবে? মাশরাফি যদি এখনো এই বয়সে পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে একটা দলের নেতা হয়ে কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা আর আবেগের পাত্র হতে পারেন, আমরা তারই ভক্ত হয়ে তাকে ভালোবেসে কি তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা , অনুপ্রেরণা নিতে পারিনা?

অবশ্যই পারি। শুধু নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হয়, ঠিক ম্যাশ যেমনটা রেখেছিলেন, নিজের কাজকে ভালোবেসে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়, জীবনে যতই বাঁধা-বিপত্তি আসুক না কেন।

দোয়া করি , আমাদের ম্যাশ বাংলাদেশের হয়ে আরো অনেক দিন খেলুন, সুস্থ থাকুন। ম্যাশ মাঠে না থাকলে মাঠটাকে যে শূন্য শূন্য মনে হয়!

একজন মিসবাহ উল হক

Now Reading
একজন মিসবাহ উল হক

৪৩ বছর পর্যন্ত ক্রিকেট খেলা যেনতেন কথা না। সেটাও বর্তমান যুগের ব্যস্ত ক্রিকেটে। একসময় ছিলো যখন ক্রিকেট খেলতো তিন চারটা দেশ, বছরে দুই চারটা সিরিজ থাকতো, পর্যাপ্ত বিশ্রাম পেতো ক্রিকেটাররা, সেই সময়ে পঞ্চাশ বছর বয়সেও টেস্ট ক্রিকেট খেলেছেন তিনজন ক্রিকেটার, যার ভেতর বিখ্যাত ডব্লিউ জি গ্রেস অন্যতম।
স্পোর্টসম্যান হিসেবে তাই মিসবাহ উল হকের প্রশংসা করতেই হবে। মিসবাহর আগে সবচেয়ে বেশি বয়স পর্যন্ত টেস্ট খেলার রেকর্ড আরেক পাকিস্তানির, মিরন বকস, ১৯৫৫ সালে অবসরের সময় তার বয়স ছিলো ৪৭ বছর ৩০২ দিন। আজ শেষ ম্যাচ খেলতে নামবেন মিসবাহ

পাকিস্তানের মতো একটা ক্রিকেট দল যেখানে মাঠের ঘটনার চেয়ে মাঠের বাইরের ঘটনা বেশি আলোচিত হয় সেখানে মিসবাহ একজন ব্যতিক্রম বলা যায়। মিসবাহ যখন আসে ক্রিকেটে ২০০১ সালে তখন পাকিস্তানের প্লেয়ারদের ভেতর ম্যাচ মাতানোর স্বর্নযুগ চলছে। শারজাহ কাপকে কেন্দ্র করে ফিক্সিং ক্রিকেটে পরিচিত হয়ে উঠে, যার প্রেক্ষিতে বন্ধ হয় শারজাহ কাপ। আইসিসির রিপোর্টে উঠে আসে ভয়াবহ তথ্য, একটা ক্যাচ ফেলার জন্য ১ লাখ ডলার পর্যন্ত নিয়েছিলো পাকিস্তানের প্লেয়াররা! ১২ ম্যাচে তদন্ত চালিয়ে অন্তত ৫ টি ম্যাচ পাতানোর প্রমান পাওয়া যায়।

সেই সময় ক্যারিয়ার শুরু, এরপর লর্ডসে বিখ্যাত স্পট ফিক্সিং এর পর অধিনায়ক হওয়া, এবং সর্বশেষ পিএসএলে নিজ দলের প্লেয়ারের ফিক্সিং এ জড়িয়ে পড়া, সবসময় মিসবাহ ছিলো ব্যতিক্রম। আজকে অনেক সময় ধরে চিন্তা করেও মিসবাহর কোন নেতিবাচক ঘটনা মনে পড়লো না। পাকিস্তানের ক্রিকেটার হিসেবে বিরল ঘটনা! এমনকি অবসর নিয়েও কোন নাটক হচ্ছেনা আফ্রিদির মতো। আগে একবার অবসর নিতে চেয়েছিলা, পিসিবি নিজেই অনুরোধ করে রেখে দিয়েছিলো। এরপর এবার অবসরে যাচ্ছেন। লর্ডসের ঘটনার পর দলের ইমেজ ফেরাতে চেষ্টা করেছেন, যার কারনে বিদায় বেলায় সারজিল খান, নাসির জামশেদ, খালিদ লতিফদের ফাঁসি চেয়েছেন ফিক্সিং করে থাকলে। সরাসরি বলেছেন, একসময় ম্যাচ পাতানোর পরেও ওয়াসিম আকরাম, আরশাদ খানদের মতো ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় এইসব ঘটনা বারবার ঘটছে।
মিসবাহ উল হকের অন্য একটা রেকর্ড আছে, নিয়মিত ব্যাটসম্যান হয়েও ১৬২ ওয়ানডে খেলে তার কোন সেঞ্চুরী নাই! ৪০+ গড় এবং ৪০+ ফিফটি করেও সেঞ্চুরী নাই একমাত্র তারই। (সর্বোচ্চ ৯৬*, গড় ৪২, ফিফটি ৪২)।


যাইহোক এমনিতে আমি পাকিস্তানের ক্রিকেটের ফলোয়ার না, পছন্দের তালিকায় পাকিস্তানের কোন ক্রিকেটার নাই। সত্যি বলতে পাকিস্তানের খেলাই দেখা হয়না। মিসবাহ উল হকের অবসরের উপর আর্টিকেল পড়তে পড়তে লেখাটা মাথায় আসলো। ক্রিকেটার হিসেবে, স্পোর্টসম্যান হিসেবে, ফিটনেস এর জন্য মিসবাহ পাকিস্তানের বিতর্কে ভরা ক্রিকেট ইতিহাসে একটা উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। সে দেশের ফিক্সারগুলা মিসবাহকে দেখে যদি কিছু শিখতো!!

ফিনিশারঃমাইকেল বেভান

Now Reading
ফিনিশারঃমাইকেল বেভান

১) ‘ফিনিশার’ শব্দটা এখন প্রায়ই ব্যবহার হয় ক্রিকেটবিশ্বে। ব্যাট হাতে দলের জয়ে দারুণ অবদান রাখার জন্য অনেকের নামের আগেই জুড়ে দেওয়া হয় ফিনিশার শব্দটা। বাংলাদেশের মাহমুদউল্লাহ, নাসির হোসেনও পেয়েছেন এই ফিনিশার তকমা।
কিন্তু ক্রিকেট ডিকশনারিতে এই শব্দটি যুক্ত করার পুরো কৃতিত্বটিই একজন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারের।

(২)
শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে তান মাহাত্ম্য বিচার করতে গেলে বোকামিই হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বোচ্চ রানশিকারিদের তালিকায় বেশ পেছনেই আছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।
কিন্তু বেশির ভাগ সময় ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে যেভাবে ব্যাটিং করতেন,
তা স্মরণীয়ই হয়ে থাকবে ক্রিকেটবিশ্বে।
তিনি যেন ছিলেন নির্ভরতার আরেক নাম।
অস্ট্রেলিয়া অনেক ম্যাচেই স্মরণীয় জয় পেয়েছে তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সওয়ার হয়ে। মিডল অর্ডারে তাঁর মতো ব্যাটসম্যান খুব কমই দেখেছে ক্রিকেটবিশ্ব।

(৩)
বলছিলাম মাইকেল বেভানের কথা।
তিনি ছিলেন বিচিত্র এক ব্যাটসম্যান।
বলা হত,
শর্ট বল আর বাউন্সারে তিনি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন না।
কিন্তু সীমিত ওভারে ছিলেন দারুণ কার্যকর।
আর সেটা এতটাই যে,
তাঁকে মনে করা হয় সর্বকালের অন্যতম সেরা ম্যাচ উইনারদের একজন।

(৪)
ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর পথচলা একেবারে ছোটবেলা থেকেই।
কৈশোরেই ক্রিকেটের মেধা দারুণ ছিল বেভানের,
যার ফলস্বরুপ ১৯৮৯ সালে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট একাডেমির কাছ থেকে বৃত্তি পেয়ে যান।
সে সময় থেকেই ফার্স্ট ক্লাস এবং লিস্ট এ ক্রিকেটে খেলা শুরু করেন তিনি। ১৯৮৯-২০০৪ দীর্ঘ এই ১৫ বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়া সাউথ অস্ট্রেলিয়া, নিউ সাউথ ওয়েলস, সাসেক্স, ইয়োর্কশায়ার, কেন্ট, তাসমানিয়া ও লিস্টারশায়ার দলগুলোতে খেলা হয়েছে বেভানের।

(৫)
বামহাতি এই ব্যাটসম্যানের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হয় ১৯৯৪ সালের ১৪ এপ্রিল। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সেবারই নিজের প্রথম ওয়ানডে খেলতে ১২ নম্বর জার্সি পড়ে মাঠে নামতে দেখা গিয়েছিল বেভানকে।
ওয়ানডে অভিষেকের পর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ।
একই বছরেই হয়ে যায় টেস্ট অভিষেকও (১৯৯৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর)।
তবে এবার আর শ্রীলঙ্কা নয় উপমাহাদেশের আরো একটি পরাশক্তি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হয় টেস্ট অভিষেক।
বেভানের টেস্ট ক্যারিয়ার একদম সাদামাটা হলেও ওয়ানডেতে ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
এখন পর্যন্ত তিনিই একমাত্র খেলোয়াড় যার অবসরের পর ব্যাটিং গড় পঞ্চাশের উপরে!
১৯৯৪ সালে অভিষেকের পর ২০০৪ সাল পর্যন্ত ১০ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে খেলেছেন ২৩২টি ওয়ানডে।
১৯৬ ইনিংসে ব্যাট করে ৬টি সেঞ্চুরি আর ৪৬ টি হাফ সেঞ্চুরি মিলিয়ে ৫৩.৫৮ গড়ে সংগ্রহ করেছেন ৬,৯১২ রান।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে তার ব্যাটিং গড়ই সবচেয়ে বেশি।
আর টেস্টখেলুড়ে দলগুলোর ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ব্যাটিং গড়ের বিবেচনায় বেভানকে ছাড়িয়ে যেতে পেরেছেন শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স।
২০০টি ওয়ানডে খেলে ভিলিয়ার্সের ব্যাটিং গড় ৫৪.৫৬।

(৬)
মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করতে এলেও দলকে তার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল এনে দিতে পিচের সাথে খুঁটি আকড়ে বেশিরভাগ সময় থাকতে হয়েছে একেবারে শেষ পর্যন্ত।
তাই তো নামের পাশে ‘ফিনিশার’ উপাধিটা পাকাপোক্ত ভাবে লেগে গিয়েছিল।
বলছি ১৯৯৬ সালের কথা.. সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া।
১৭৩ রানের মামুলি টার্গেটকেই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বোলাররা করে ফেলছিল বিশাল টার্গেটে।
৩৮ রান তুলতে না তুলতেই অস্ট্রেলিয়ার খোয়াতে হয়েছিল ছয় ছয়টি উইকেট !
তবে তখনো ক্রিজে ছিলেন বাঁ-হাতি এই ফিনিশার।
১৫০ মিনিট ক্রিজের সাথে আটকে থেকে ৭৮ রান করে শেষ বলে চারের মাধ্যমে দলকে নিয়ে যান জয়ের বন্দরে।

১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনি খেলেছিলেন ৬৫ রানের দারুণ ইনিংস।
তার ব্যাটে ভর করেই অস্ট্রেলিয়া পেয়েছিল ২১৩ রানের পুঁজি।
পরে সেই ম্যাচটি টাই হওয়ায় ফাইনালের টিকেট পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।
শেষ পর্যন্ত জিতেছিল বিশ্বকাপ শিরোপাও।

(৭)
ব্যাটিং হিসেবে সবার কাছে বেশ পরিচিত হলেও বোলিংটাও টুকটাক করা হত তাঁর।
স্লো লেফট আর্ম চায়নাম্যান বোলার হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।
ব্যাটিয়ের মতো বোলিংয়ে অতোটা বিধ্বংসী ছিলেননা বটে তাই ওয়ানডেতে ৩৬ টি এবং টেস্টে ২৯ টি উইকেট নিয়েই বোলিং ক্যারিয়ার শেষ করতে হয় তাকে।

(৮)
অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে মা্ইকেল বেভানের অবদানের শেষ নেই।
তবে, এতোকিছুর পরেও হার মানতে হয় ইনজুরির কাছে। ২০০৭ সালের ১৭ জানুয়ারি ইনজুরির কারণে ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতে হয় এই কিংবদন্তিকে।
ক্রিকেট খেলা ২০০৭ এ ছেড়ে দিলেও ক্রিকেটকে ছেড়ে দেয়নি তিনি।
এরপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলের কোচ হিসেবে দেখা গিয়েছিল বামহাতি এই ব্যাটসম্যানকে।
সর্বশেষ ২০১১ সালে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের কোচ হিসেবে দেখা গিয়েছিল মাইকেল বেভানকে।

মুশফিকুর রহিম মিতু – একটি ভরসার নাম

Now Reading
মুশফিকুর রহিম মিতু – একটি ভরসার নাম

বাংলাদেশে তখন স্টেবল ব্যাটসম্যানের আকাল । শ্রীলংকার সাথে ২০০৩ বিশ্বকাপে ৫ রানে ৪ উইকেটের সুনামীর দাগ তখনও বেশ টাটকা । টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার ৫ বছরে উন্নতির বদলে ক্রমাগত অবনতি হওয়াটা আইসিসির গলায় কাঁটা হয়ে বিধছিল কিছু ক্রিকেটবোদ্ধাদের সমালোচনায় । যেই দল টেস্টে কোনোরকমে ২০০ পার করতে পারলেই খুশি তাদের দিয়ে কি ঘোড়ার আন্ডা টেস্ট হবে ?! এক হাবিবুল কিছু খেলতেন আর আশরাফুল তো আশার ফুল হয়ে ৫-৬ ম্যাচ পর একটা ইনিংস হয়তো খেলতেন , তীর্থের কাকের মত চেয়ে থাকা বাংলাদেশী দর্শকদের হয়তো মাঝেমাঝে ২০০ পার হওয়া ইনিংস কিছুটা হলেও চোখ জুড়াত ।
সেই টালমাটাল ব্যাটিং লাইনআপে অনূর্ধ ১৯ দলে নাম করে আসা ১৬ বছরের এক কিশোরের হঠাৎ করেই অভিষেক , তাও তখনকার ইংল্যান্ডের মত দলের বিপক্ষে তাদের কন্ডিশনে যে দলে ট্রেসকোথিক , ভন , কলিংউড, ফ্লিনটফ , জাইলসরা খেলতেন । খুব বেশি ইমার্জিং কিছু করতে পারেননি । ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের সাথে টেস্টে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি করেন । টেস্ট সেঞ্চুরি প্রথম পান ২০১০ সালে ভারতের বিপক্ষে । প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পান ২০১১ তে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে । ক্যারিয়ারের প্রথম এবং বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেন শ্রীলংকার বিপক্ষে ২০১৩ সালে তাদেরই মাটিতে এবং সেটি ছিল এক্সাক্টলি ২০০ রানের ইনিংস ।
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই পড়েছেন চ্যালেঞ্জের মধ্যে । হারতে প্রচন্ডরকম অপছন্দ করেন যেটা বিভিন্ন সময় তার সতীর্থদের কাছ থেকেই ড্রেসিংরুমের গল্প থেকে শোনা যায় । দলের সবচেয়ে বেশি পরিশ্রমী ক্রিকেটার , সেটা বিভিন্ন সময় কোচ থেকে শুরু করে সবাই বলেছেন । খুব বেশি ইমোশনাল হিসেবে পরিচিত ,যেটা তার ফেসবুক স্ট্যাটাস , সংবাদ সম্মেলনে অপরিপক্ব কথা থেকেই বুঝা গিয়েছে । সাকিব , তামিম , ম্যাশের মত হিউজ ফ্যান সাপোর্ট তার কখনই ছিল না । কিন্তু দলের অপরিহার্য সদস্য হিসেবে প্রমাণ নিজেকে তিনি বরাবরই করে এসেছিলেন । অনেকে তাকে ২০১৬ বিশ্বকাপে সেই ইম্যাচুরড খেলার জন্য মনে রাখে , হার্দিক পান্ডিয়ার মত প্লেয়ার তার বলে ছয় মারার এবিলিটি নেই বলে মুশিকে ব্যঙ্গ করে কিন্ত ওইসব দর্শকের মনে নেই যে মুশি ২০১২ এশিয়া কাপে কি করেছিল , ২০১৪ এশিয়া কাপে ভারতের সাথে কিভাবে একাই দলকে টানার চেষ্টা করেছিল ১১৭ রানের একটি ইনিংস খেলে , পান্ডিয়ার হয়তো মনে নেই কিভাবে ২০১২ সালে তারই এক অগ্রজকে ছক্কা মেরে মুশি ম্যাচটাকে শচীনময় হতে দেয়নি , যেজন্য আজও ভারতীয় শচীন ফ্যানরা হয়তো শচীনের সেই ১০০ তম ১০০ ইনিংসটির হাইলাইটসই শুধু দেখে , ম্যাচের পুরা অংশ দেখে না । ২০১৫ সালে ইংল্যান্ডের সাথে সবাই রিয়াদের সেঞ্চুরিটিই শুধু দেখে , মুশির ৮৯ রানের ইনিংস নিয়ে কথা বলা লোকের সংখ্যা খুব কম । অধিনায়কত্বের আগে তার টেস্ট গড় ছিল ২৭ কিন্তু অধিনায়কত্বের পরে টেস্ট গড় নিজেকে পাল্টে সেটাকে নিয়ে গেছেন ৪৩ এর ঘরে । পাকিস্তানের সাথে তামিমের সেঞ্চুরি , সৌম্যের অসাধারণ সেঞ্চুরির কথা সবাই বলে , কিন্তু ৬৯ বলে মুশির সেঞ্চুরির কথা কেউ বলে না ।
এমন অনেক ইনিংস মুশি খেলেছেন , যার জন্য তিনি কখনও সেভাবে আলোচনায় আসেননি যতটা এসেছেন তার কিপিং মিসের কারণে । হ্যা কিপিং এ তার দুর্বলতার কথা আমি নিজেও শিকার করি , যেভাবে এবছর ৪ টেস্টেই এবছর সে ৫১৫ রান করেছে নিজের প্রাইম টাইমের আগমন বার্তা দিয়েছে , তাতে কিপিংটা ছেড়ে দিয়ে ব্যাটিং এ বাড়তি মনযোগ দেওয়াই হয়তো শ্রেয় । কিন্তু তাকে বোঝানোর লোক যতবেশি তার চেয়ে সে বেশি ইমোশনাল এই লজিক ধরে ধমক দেওয়ার লোকের সংখ্যা তার চেয়ে বেশি বৈ কম নয় । আমার এক বন্ধু কিছুদিন আগে আমার সাথে বলছিল যে , মিরাজ সাকিবের চেয়ে টেকনিক্যালি সলিড ও বেটার ব্যাটসম্যান হবে । আমি তখন তার সাথে তর্ক করেছিলাম , কিন্তু এই লেখাটা লেখার সময় আমার মাথায় এল যে সেটা খুব ভালভাবেই সম্ভব ,কারণ মিরাজ বলেছে তার প্রিয় ব্যাটসম্যান হচ্ছে মুশি ভাই এবং সে তার ব্যাটিং ফলো করে ।
মুশি যে দলেও কতটা ভবিষ্যত পরিকল্পনার বাইরে সেটা কোচ হাতুরুসিংহেকে দিয়েই বুঝা যায় । তিনি দলে একজন কোহলি বানানোর জন্য সাব্বিরকে ওয়ানডাউনে খেলাতে পারেন কিন্তু সব সময়ই ৬-৭ এ খেলা , ৩১.২১ এভারেজে ৪ সেঞ্চুরি ২৩ টি হাফ সেঞ্চুরি , ১৬৮ টি ওডিয়াই ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুশি যে দলে রেডিমেড বসে আছে সেটা তার চোখে পড়ে না । মাঝে মাঝে ভাবি মুশি যদি ভারতীয় হত তাহলে কি হত ? এখানে প্যান্ট , কেদার যাদব , করুন নায়ারকে আমরাই অনেকে অসাধারণ বলছি অথচ আমাদের মুশি কতটা বেশি আন্ডাররেটেড ! কারণ মুশি ভারতীয় নন , তার গ্ল্যামার নেই , তার পাওয়ার হিটিং এবলিটি নেই । অথচ ভারতীয় হলে হয়তো শচীনের পর কোহলি নাকি মুশি এটা নিয়েই ভারতীয়রা দুইভাগ হয়ে যেত ।
দিনশেষে দৃষ্টিভঙ্গিই আসল বিষয় । আপনি মুশিকে ইমোশনাল হিসেবে আন্ডাররেটেড বলেই খতম আর আমি দেখি সেই ইমোশনের জন্যই সে দলকে বাচানোর জন্য শ্রীলংকার সাথে গুরুতর ইনজুরির পরও দাতে দাত চেপে লড়ে যায়

নারী ওয়ানডেতে ঝুলন গোস্বামী শীর্ষে উইকেট শিকারী

Now Reading
নারী ওয়ানডেতে ঝুলন গোস্বামী শীর্ষে উইকেট শিকারী

সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক ঝুলন গোস্বামী অস্ট্রেলিয়ান ক্যাথরিন ফিৎজ প্যাট্রিককে ছাড়িয়ে গেছেন। তিনি একদিনের আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ১৮১ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হয়ে ১৫৩ টি আউটের মাধ্যমে  উইকেট দখল করেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৪ বছর বয়সী এই ফাস্ট বোলার দীর্ঘদিনের মাটিতে সিরিজ জিতে নিচ্ছেন।
২৭১ টি আন্তর্জাতিক উইকেট (টেস্ট, ওডিআই এবং টি ২0 আই) দিয়ে, গোস্বামি, যিনি একসময় নারী ক্রিকেটে দ্রুততম বোলার ছিলেন, ২০০২ সালে তার অভিষেক হওয়ার পর থেকেই ভারতীয় বোলিং ইউনিটের মূল ভিত্তি ছিল।
ঝুলন নিশিত গোস্বামী (জন্ম ২৫ নভেম্বর, ১৯৪২, নাদিয়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত): ভারতের জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দল, বঙ্গীয় মহিলা, পূর্ব এলাকা মহিলা এবং এশিয়া নারী একাদশ মহিলা ক্রিকেট দলের জন্য খেলেন। , তিনি দলের নিযুক্ত করা হয়েছিল

দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ, ঝুলন তার ব্যাটিং এবং বোলিং (ডান হাত মাঝারি) ক্ষমতা উভয়ের জন্য উল্লেখযোগ্য। তিনি ২০ বছরের কম টেস্ট বোলিং গড় করেছেন। ২০০৬-০৭ মৌসুমে তিনি ইংল্যান্ডে প্রথম টেস্ট সিরিজ জিতে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

২০১১ সালে তিনি আইসিসি মহিলা প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার ২০০৭ এবং শ্রেষ্ঠ মহিলা ক্রিকেটারের জন্য এম.এ. চিদাম্বরম ট্রফি জিতেছেন। সম্প্রতি তিনি ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছিলেন না। তিনি মিতালী রাজ বর্তমানে সফল, তিনি আইসিসি নারী ওডিআই বোলিং র্যাংকিং (জানুয়ারী ২০১৬) মধ্যে প্রথম। বর্তমানে তিনি মহিলা একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা উইকেট শিকারী (উইকেট -১৮১)।

ক্যাথরিন ফিৎজ প্যাট্রিক অবসর গ্রহণের পর তিনি বিশ্ব ক্রিকেটে দ্রুততম বোলার ছিলেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বছরের সেরা ক্রিকেটার আইসিসি পুরস্কার অনুষ্ঠানের অংশ হিসাবে বার্ষিক পুরস্কার প্রদান করে। ২০০৪ সালে এই পুরস্কার প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়, ২০০৬ সালে প্রথম নারী পুরস্কারটি তৈরি করা হয়। এই পুরস্কারের উদ্বোধনী বিজয়ী ক্যারেন রোল্টন মন্তব্য করেছিলেন যে, “এটি নারী ক্রিকেটের জন্য অসাধারণ ছিল … যে আইসিসি একটি নারী পুরস্কার অন্তর্ভুক্ত করেছে এই বছর “।

পুরস্কারটি প্লেয়ারের পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করে অনুষ্ঠিত হয়, সাধারণত আগস্ট থেকে এক বছরের জন্য। ২০০৯ সালের আগে, শীর্ষ দশটি মহিলা জাতীয় দলগুলির প্রত্যেকে দুটি খেলোয়াড় মনোনীত করে, এবং চূড়ান্ত নির্বাচন 16-ব্যক্তি প্যানেল দ্বারা তৈরি করা হয়। ২০০৯ সাল থেকে আইসিসি পুরস্কার ভোট প্যানেলের একটি দীর্ঘ তালিকা নির্বাচন করা হয়েছে, যা ক্রিকেট প্রশাসক, সাংবাদিক ও সাবেক খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত। তারপর একটি পৃথক, ২৫-ব্যক্তি, বোর্ড দ্বারা একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করতে ছাঁটা হয়।

২০০৬ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে এটি একটি একক বিভাগ (বছরের সেরা নারী প্লেয়ার) হিসাবে পুরস্কার প্রদান করে। ২০১২ সাল থেকে এটি দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় (মহিলা ওডিআই প্লেয়ার অব দি ইয়ার এবং মহিলা টি ২০ আই প্লেয়ার অফ ইয়ার)।

দশ বছর যে পুরস্কারটি উপস্থাপন করা হয়েছে, এটি ৯ টি বিভিন্ন খেলোয়াড় দ্বারা জিতেছে। স্টাফানি টেইলর এবং সারা টেলার দু’বার তিনবার এবং মেগ ল্যানিং দুইবার জিতেছে, তাদের পুরষ্কারের একমাত্র একাধিক প্রাপক করেছে। স্টাফানি টেইলরকে কোনও খেলোয়াড়ের তালিকায় ৯ বার (তিনবার বিজয়ী) সেরা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পুরস্কারটি অর্জন না করেই লিসা স্তলেকারকে সর্বাধিক অনুষ্ঠান দেওয়া হয়েছে। মোট ছয়টি দল থেকে মোট ২২ জন খেলোয়াড় মনোনীত হয়েছে। ঝুলন গোস্বামী (২007 সালের বিজয়ী), স্টাফানি টেইলর (২০১১-১২, ২০১১ ওয়ানডে, ২০১২ টি -২০ বিজয়ী) এবং সুজী বাটস (২০১৩ সালে ওডিআই বিজয়ী) একমাত্র বিজয়ী অস্ট্রেলিয়ার জন্য নয়, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করে। ।