বিশ্বকাপ প্রাক-বাছাই সহজ আবার কঠিনও!

Now Reading
বিশ্বকাপ প্রাক-বাছাই সহজ আবার কঠিনও!

এক সময় ফুটবল বাংলাদেশের জনপ্রিয় খেলা ছিল। কিন্তু সেটা আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎই দেশের ফুটবলে খুশির হাওয়া। এই মার্চ মাসটা বেশ পয়মন্ত হয়েই ফিরেছে লাল-সবুজের জন্য। ৯ মার্চ কম্বোডিয়া জয়ের পর এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল মিশনের সুখস্মৃতি উপভোগ করছে সবাই। কাল উপভোগের এক সংবাদ সম্মেলনে হুট করেই ঢুকে পড়েছে বিশ্বকাপ ও এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের গরল হাওয়া। আগামী জুনে সেটা যে একটু কঠিনই হতে পারে।
এই লড়াই হবে সিনিয়র জাতীয় দলের। এএফসি র‌্যাংকিংয়ে আছে এশিয়ার ৪৬টি দেশ, র‌্যাংকিংয়ের শেষ ১২ দল খেলবে বাছাই পর্বের প্রথম রাউন্ডে। এটাকে সহজ-সরলভাবে বলা যায় প্রাক-বাছাই। র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৪১ নম্বরে, সুতরাং প্রাক-বাছাই খেলা ছাড়া তাদের কোনো উপায় নেই। তবে এই ১২ দলের মধ্যে আছে মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, লাওসের মতো দল; তাদের যে কেউ প্রতিপক্ষ হলে প্রাক-বাছাই পর্বটা কঠিন হয়ে যেতে পারে। জাতীয় দলের কোচ জেমি ডের চোখে এটা কঠিন, আবার সহজও বটে, ‘বাংলাদেশ এমন দল, তাদের জন্য সহজ বলে কোনো জিনিস নেই। আমাদের এক নম্বর পটে (ড্রয়ে) থাকা উচিত, তবে যেকোনো প্রতিপক্ষকে সামলাতে পারব, ভুটান-লাওসের মতো দলকে আমরা হারিয়েছি। মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর হলে ব্যাপারটা কঠিন হবে। আমি মনে করি, আমার অনূর্ধ্ব-২৩ দল এখন অনেক আত্মবিশ্বাসী।’ বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচের আত্মবিশ্বাসের উৎস অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স। এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ বাছাই পর্বে তারা বাহরাইন ও ফিলিস্তিনের কাছে হারলেও দারুণ লড়াই করেছে এবং গোলের সুযোগ তৈরি করেছে। এরপর শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে ২-০ গোলে। এই টুর্নামেন্টের আগে আবার সিনিয়র জাতীয় দল কম্বোডিয়ার মাটিতে হারিয়েছে ওদেরকে। দুইয়ে মিলে ফুটবলের বৃহস্পতি এখন তুঙ্গে।
এই অবস্থাটাই জেমি ডে’কে যেন আশ্বস্ত করছে আসন্ন বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ ফুটবল বাছাইয়ে। অনূর্ধ্ব-২৩ দলই একরকম সিনিয়র দল, তার সঙ্গে দু-তিনজন সিনিয়র ফুটবলার যোগ হবে আর কি। বাছাইয়ের প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত হবে আগামী ১৭ এপ্রিলের ড্রয়ে। এরপর ৬ ও ১১ জুন হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ম্যাচে বাংলাদেশ ফুটবলের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। উতরে গেলে পা রাখবে বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে, হারলে বাংলাদেশের ফুটবল পৃথিবী অনেক সংকুচিত হয়ে যাবে। আগামী চার বছর এএফসি-ফিফার ম্যাচ খেলার আর কোনো সুযোগ থাকবে না। কারণ ওই ম্যাচ দিয়েই শুরু হয়ে যাচ্ছে একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাই পর্ব। তখন প্রীতি ম্যাচ ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। তবে বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ আশাবাদী জুনের ওই প্রাক-বাছাই নিয়ে। এ জন্য তিনি অত প্র্যাকটিস ক্যাম্পেরও প্রয়োজন দেখেন না, ‘কাতার বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের জন্য খেলোয়াড়দের তৈরি করতে আলাদা ক্যাম্পের দরকার নেই। দশ দিনের প্র্যাকটিসই যথেষ্ট, দীর্ঘদিনের ক্যাম্প নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্র্যাকটিসের সঙ্গে কয়েকটি প্রীতি ম্যাচ হলেই হয়ে যাবে। কারণ এই খেলোয়াড়রা সবাই খেলার মধ্যে থাকবে, ফিটনেসও ভালো থাকবে।’
লিগের মাঝেই দীর্ঘকালীন ক্যাম্প ছাড়া এই অনূর্ধ্ব-২৩ দল খেলেছে এএফসির বাছাই পর্ব। বাহরাইন-ফিলিস্তিন শারীরিকভাবে এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশিরা লড়াই করেছে। এই লড়াইয়ে স্টুয়ার্ট ওয়াটকিস ইতিবাচক দেখছেন তাঁদের ফিটনেস ও লড়াকু মনোভাব। বাংলাদেশ দলের এই সহকারী কোচ শুধু খামতি দেখছেন গোলের জায়গায়, ‘আমরা খুব ভালো খেলেছি। লড়াই করেছি কিন্তু গোল করেছি মাত্র দুটি (তিন ম্যাচে)। গোল করার সামর্থ্য নেই। আমার মনে হয়, ঘরোয়া ফুটবলে স্ট্রাইকাররা ঠিকঠাক খেলার সুযোগ পেলে গোলের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারতাম আমরা। তারা লিগে খেলার সুযোগ পায় না সেভাবে, এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।’ ঘরোয়া ফুটবলে চার বিদেশির অনুমোদন দিয়েই বাফুফে জাতীয় দলের শেষ সর্বনাশটা করেছেন। তিন বিদেশির সময়ও স্ট্রাইকারদের সুযোগ মিলত কম, এখন সেটা কমে গেছে আরো। তাই বাংলাদেশের গোল ভাগ্যে বরাবরই রাহুর অবস্থান। এই দশা কাটিয়ে উঠতে পারলে কিন্তু আসন্ন বাছাই অনেক সহজ হয়ে যায় বাংলাদেশের।

অনেকে খুশি হবে আমার অবসরে

Now Reading
অনেকে খুশি হবে আমার অবসরে

৭৫ ম্যাচে গায়ে উঠেছে বিখ্যাত আকাশি-সাদা জার্সি, তাতে করেছেন ৩১ গোল। কিন্তু কী আশ্চর্য, যে তিনটি ‘গোল’ করতে পারেননি—সেগুলো নিয়েই যাবতীয় আলোচনা; বলা ভালো সমালোচনা। আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার তিন ট্রফি যে জিততে দেয়নি সে তিন ফাইনালে গনসালো হিগুয়াইনের তিন মিস!
প্রজন্মের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হয়েও ওই তিন মিসের কারণে সমর্থকদের চক্ষুশূল এই আর্জেন্টাইন। ২০১৮ বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের জার্সি আর গায়ে ওঠেনি। কাল তো ৩১ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণাই দেন হিগুয়াইন। সে ঘোষণাতেও ওই মিসগুলোর উল্লেখ করে হৃদয়ের রক্তক্ষরণটা বুঝিয়ে দিয়েছেন, ‘লোকে শুধু আমার মিসগুলোই মনে রেখেছে। ভুলে গেছে গোলগুলোর কথা। কিন্তু আমি তো নিশ্চিত, বেলজিয়ামের বিপক্ষে ওই গোলটি সবাই উল্লাসের সঙ্গেই উদ্‌যাপন করেছেন।’
যে গোলের কথা বলেছেন হিগুয়াইন, সেটি ২০১৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। তাঁর জয়সূচক গোলেই ২৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। এমন আনন্দের উপলক্ষ জাতীয় দলকে এনে দিয়েছেন অনেকবার। ২০০৯ সালে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ভীষণ ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ে যেমন কোচ ম্যারাডোনার জাতীয় দলে অভিষেক করান তাঁর। পেরুর বিপক্ষে ওই বাঁচা-মরার ম্যাচে গোলে শুরু হিগুয়াইনের। ২০১০ বিশ্বকাপে করেন হ্যাটট্রিক; বিশ্বমঞ্চে আলবিসেলেস্তেদের হয়ে যে কীর্তি আর মাত্র দুজনের—গিলেরমো স্তাবিল ও বাতিস্তুতা।
জাতীয় দলের হয়ে ৩১ গোল তাঁর। কিন্তু ২০১৪ বিশ্বকাপ ও ২০১৫, ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালে গোলের সহজতম সুযোগগুলো মিস করাটাই হয়ে আছে যেন এই ফরোয়ার্ডের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সূচক। এ কারণেই বিদায়বেলায় বিষণ্ন এই ফরোয়ার্ড যেন কিছুটা ক্ষুব্ধও, ‘অনেকে এখন আনন্দিত হবেন যে, আমি অবসর নিচ্ছি। সমালোচকরা এখন নতুন কাউকে টার্গেট করবেন। কেননা, আমি জানি অনেকেই আছেন যাঁরা সমর্থন করার চেয়ে সমালোচনা করতেই পছন্দ করেন বেশি।’
বয়স মোটে ৩১ বছর। জুভেন্টাস থেকে এখন ধারে চেলসিতে খেলা এই ফরোয়ার্ডের ক্লাব ক্যারিয়ারে বেশ কিছুটা সময় সামনে পড়ে আছে নিশ্চিত। আর জাতীয় দলকে বিদায় বলায় পরিবারকে বেশি সময় দেওয়ার কারণই উল্লেখ করেন হিগুয়াইন, ‘আমি এখন পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে চাই। কন্যার সঙ্গে সময় কাটাতে চাই আরো। তার ওপর মনে করি, দেশকে আমার পক্ষে যা দেওয়া সম্ভব ছিল, সব দিয়েছি।’ এএফপি

সোয়া ৪ কোটি টাকা আর্জেন্টিনার ক্ষতি হয়েছে মেসি না খেলায়

Now Reading
সোয়া ৪ কোটি টাকা আর্জেন্টিনার ক্ষতি হয়েছে মেসি না খেলায়

লিওনেল মেসি মরক্কোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলেননি। আর্জেন্টিনা তাঁকে ছাড়া জিতলেও ১-০ ব্যবধানকে দাপুটে বলা যায় না। অর্থাৎ মাঠে মেসির অভাবটা টের পেয়েছে আর্জেন্টিনা। শুধু কি মাঠে? মেসির অনুপস্থিতিতে আর্জেন্টিনা কিন্তু আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিষয়টি এমন নয় যে মরক্কোর বিপক্ষে খেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েও মেসি খেলেননি। নয় মাস পর তিনি জাতীয় দলে ফিরেছেন ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে। আর্জেন্টিনার হেরে যাওয়া সেই ম্যাচের আগেই গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, মরক্কোর বিপক্ষে মেসি সম্ভবত খেলতে পারবেন না। ভেনেজুয়েলা ম্যাচে মেসির চোট সেই গুঞ্জনকে সত্য প্রমাণ করে দেয়। আর এতে আর্জেন্টিনার কাছে ম্যাচ হারলেও বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ বেঁচে গেছে মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের।
মেসির বিশ্বব্যাপী যে ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা, তাতে যেখানেই খেলতে যান না কেন, বেশ দুপয়সা লাভ হয় আয়োজকদের। আর্জেন্টিনা তাদের সবশেষ প্রীতি ম্যাচটি খেলেছে মরক্কোর তাঞ্জিয়ারে। দেশটির সংবাদমাধ্যম আল আহদাজ জানিয়েছে, মরক্কোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মেসি খেললে তাদের দেশের ফুটবল ফেডারেশনের কাছ থেকে ১০ লাখ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা) পেত আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। কিন্তু মেসি না খেলায় সাড়ে ৫ লাখ ইউরো ( প্রায় ৫ কোটি ২১ লাখ টাকা) পেয়েছে এএফএ। অর্থাৎ, বার্সেলোনা তারকা না থাকায় সাড়ে ৪ লাখ ইউরো (প্রায় ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা) আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তাদের।
তবে এখানেও কথা থাকে। ধরে নেওয়া যাক, মরক্কোর বিপক্ষে মেসি মাঠে নামলেন। প্রথমার্ধ খেলে উঠে গেলেন। তাহলে কিন্তু শুধু মেসির জন্য চুক্তিমতো সাড়ে ৪ লাখ ইউরো পেত না এএফএ। এই প্রীতি ম্যাচের চুক্তিপত্রে শর্ত ছিল, পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলারকে মাঠে নেমে অন্তত ৭০ মিনিট খেলতে হবে।
মেসি না খেলায় বড় অঙ্কের টাকা বেঁচে গেলেও রয়্যাল মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশন (এফআরএমএফ) মোটেও খুশি নয়। মেসি এই ম্যাচ খেলবেন না জানার পরই এফআরএমএফ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। মেসি খেললে স্বাগতিক মরক্কোও এই ম্যাচ থেকে কয়েক গুণ বেশি লাভ করতে পারত, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ফলে মেসি না খেলায় ক্ষতিটা শুধু আর্জেন্টিনার নয়, মরক্কোরও।

অস্ট্রেলিয়ার কাছে সিরিজ হারল পাকিস্তান

Now Reading
অস্ট্রেলিয়ার কাছে সিরিজ হারল পাকিস্তান

আরোন ফিঞ্চের কাছেই সিরিজ হারতে হল পাকিস্তানকে। সিরিজ নির্ধরণী তৃতীয় ম্যাচেও পার্থক্য গড়ে দিল অস্ট্রেলিয়া অধিনায়কের ব্যাটিং। ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েলও। পরে বল হাতে পাক টপ অর্ডার ধ্বসিয়ে দিলেন প্যাট কামিন্স। ম্যাচের সঙ্গে সিরিজ জয়ও নিশ্চিত হলো অস্ট্রেলিয়ার।
বুধবার আবু ধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে পাকিস্তানকে ৮০ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে অজিদের করা ২৬৬ রানের জবাবে ৪৪.৪ ওভারে ১৮৬ রানে গুটিয়ে যায় শোয়েব মালিকের দলের ইনিংস। ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ফিঞ্চের দল।
অস্ট্রেলিয়ার করা চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যে ১৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। তিনটি উইকেটই নেন কামিন্স। এই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি পাকরা। চতুর্থ উইকেটে ইমাম-উল-হক ও শোয়েব মালিক এবং ষষ্ঠ উইকেটে উমর আকমল ও ইমাদ ওয়াসিম দুটি ফিফটি জুটিতে দলের হাল ধরার চেষ্টা করলেও শেষ পর্ডন্ত পেরে ওঠেননি।
দ্রুত শেষ চার উইকেটই তুলে নিয়ে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন অ্যাডাম জাম্পা। ৪৩ রানে ৪ উইকেট নেন জাম্পা। তবে ২৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা কামিন্স।
এর আগে অজি ইনিংসে এদিন ফিঞ্চ-খাজা জুটি প্রস্ফুটিত হওয়ার আগে কুড়িতেই বিনাশ করেন উসমান শিনওয়ারি। স্কোরবোর্ডে রান জমা হওয়ার আগেই ফেরেন খাজা। শন মার্শকেও জুনায়েদ খান তুলে নিলে ২০ রানে ২ উইকেটে পরিণত হয় অজি ইনিংস। এরপর ৮৬ রানের জুটি গড়ে হ্যান্ডসকম্ব ৪৩ বলে ৪৭ করে ফিরলেও স্টয়নিসকে নিয়ে ৩৬ ও ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে ৪৮ রান যোগ করে দলকে নিরাপদে রেখে আউট হন ফিঞ্চ। ১০ রানের জন্য টানা তৃতীয় শতক হাতছাড়া করেন এই ওপেনার। তার ১৩৬ বলে সময় উপযোগি ৯০ রানের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ১টি ছয়ের মার। ৫৫ বলে ৭১ রানের ঝড়ো ইনিংস আসে ক্যাক্সওয়েলের ব্যাট থেকে।
নতুন বল হাতে নেওয়া তরুণ বোলার মোহাম্মাদ হাসনাইন ৫ ওভারে ৫০ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূণ্য। বাকিদের প্রত্যেকেউ নেন একটি করে উইকেট। ১০ ওভারে ৩৪ রানের খরচায় ১ উইকেট নিয়ে পাক সেরা বোলার হন ইমাদ ওয়াসিম।
সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া : ৫০ ওভারে ২৬৬/৬ (খাজা ০, ফিঞ্চ ৯০, শন মার্শ ১৪, হ্যান্ডসকম্ব ৪৭, স্টয়নিস ১০, ম্যাক্সওয়েল ৭১, কারি ২৫*, কামিন্স ২*; শিনওয়ারি ১/৩৭, হাসনাইন ০/৫০, জুনায়েদ ১/৫৮, ইয়াসির ১/৪৭, ইমাদ ১/৩৪, হারিস ১/৩৫)।
পাকিস্তান : ৪৪.৪ ওভারে ১৮৬ (ইমাম-উল ৪৬, মাসুদ ২, হারিস ১, রিজওয়ান ০, শোয়েব মালিক ৩২, উমর আকমল ৩৬, ইমাদ ৪৩, ইয়াসির ১০*, শিনওয়ারি ০, জুনায়েদ ৫, হাসনাইন ০, কামিন্স ৩/২৪, বেহরেনড্রফ ১/২৯, স্টয়নিস ০/২১, লায়ন ১/৪৮, ম্যাক্সওয়েল ১/২১, জাম্পা ৪/৪৩)।
ফল : অস্ট্রেলিয়া ৮০ রানে জয়ী।

বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি হবে গ্রানাইট আর বোলিং মেশিনেই

Now Reading
বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি হবে গ্রানাইট আর বোলিং মেশিনেই

সামনেই ক্রিকেট বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ দলে সম্ভাব্যদের অন্যতম মোহাম্মদ মিঠুন সেটি দিলেনও, ‘ডিপিএলে যে উইকেট থাকে, ইংল্যান্ডের উইকেট তো আর ওরকম হবে না।’
একই রকম হবে না আরো অনেক কিছুও। সেই ফিরিস্তিও তুলে ধরলেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান, ‘ডিপিএলে বেশির ভাগ ওভারই করে স্পিনাররা। বিশ্বকাপে গিয়ে একটি দলের একাদশে আমরা হয়তো বড়জোর একজন স্পিনারই দেখতে পাব। এর বেশি তো খেলবে না।’ জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ডিপিএল খেলা তাই শুধুই হয়ে উঠছে খেলার মধ্যে থাকার এক টুর্নামেন্ট। বিশ্বকাপ ভাবনায় থাকায় কেউ কেউ যেমন এর মধ্যেও পাচ্ছেন বিশ্রাম।
মিঠুনও পেয়েছেন তা। ক্রাইস্টচার্চের নূর মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় আগেভাগেই দেশে ফেরার পর আবাহনীর হয়ে দুটি ম্যাচ খেলা এই ব্যাটসম্যান এখন আছেন বিশ্রামে। কিউইদের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতেই ফিফটি করা মিঠুন শেষ ম্যাচটি খেলতে পারেননি হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায়। বিশ্বকাপ সামনে রেখে যাতে ওই জায়গায় বাড়তি চাপ না পড়ে, সে জন্য বিশ্রাম দিয়ে দিয়ে তাঁকে খেলাচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী।
চির প্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানের বিপক্ষে না খেলা মিঠুন সম্ভবত খেলবেন না দলের পরের ম্যাচটিও। এরপর খেললেও তা যে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির সহায়ক হবে না, সেটি তো আগেই বলেছেন। তাহলে বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে এপ্রিলের শেষ দিকে দেশ ছাড়ার আগে ওখানকার কন্ডিশন মাথায় রেখে কোনো প্রস্তুতিই নেবেন না ক্রিকেটাররা? মিঠুন জানালেন সে প্রস্তুতি তারা আলাদাভাবেই নেবেন। ডিপিএলের ফাঁকে ফাঁকেই আয়ারল্যান্ড সিরিজ ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এগিয়ে নেবেন তারা, ‘আইরিশ ও ইংলিশ কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখে পেস বল খেলার জন্য আলাদা কাজ করতে হবে আমাদের। একটু বাউন্সি উইকেটে সাইড স্ট্রোকগুলো অনুশীলন করতে হবে। যা ওখানে আমার কাজে দেবে।’
কিন্তু ওখানকার কন্ডিশনও তো এখানে কৃত্রিমভাবে তৈরির উপায় নেই। চাইলেই তো আর বাউন্সি উইকেটও পাবেন না এখানে। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই প্রস্তুতির জন্য যে বিকল্প ব্যবস্থা থাকছে, তা অবশ্য নতুন নয়। সাবেক কোচ জেমি সিডন্স যেমন একবার বাংলাদেশ দলের অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে গ্রানাইট পাথরের স্ল্যাব আনিয়েছিলেন অনুশীলনে। তাতে ফেলা হলে বল একটু বেশিই লাফায়। বাড়তি বাউন্সের বিপক্ষে প্রস্তুতির সেই পুরনো ফর্মুলাই বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতেও ব্যবহার করবেন মিঠুনরা। সেই সঙ্গে বোলিং মেশিন তো থাকছেই, ‘ব্যবস্থা একটি তো করতেই হবে। ইংল্যান্ডের মতো উইকেট পাওয়া যাবে না যখন, তখন বিকল্প ব্যবস্থায় যেতেই হবে। এই ধরুন গ্রানাইট পাথরের স্ল্যাব কিংবা বোলিং মেশিনে বাড়তি বাউন্সের বল খেলার অনুশীলন করতে হবে।’
আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে গিয়ে কেমন উইকেট পাবেন, সে ধারণা নিউজিল্যান্ড থেকেই নিয়ে এসেছেন মিঠুন। জাতীয় দলের অন্যরা এর আগে একাধিকবার খেললেও তাঁর জন্য নিউজিল্যান্ড সফর ছিল এই প্রথম। অথচ প্রথম দুই ওয়ানডেতে অন্যদের তুলনায় সফল ছিলেন তিনি। টানা দুই ফিফটি করা এই ব্যাটসম্যানের ইনিংস আরো বড় করতে না পারা নিয়ে আছে আক্ষেপও, ‘কোনো ব্যাটসম্যানই দুই অঙ্কে থামতে চায় না। সবাই চায় তিন অঙ্কে যেতে। একটি ইনিংস ফিফটি পেরিয়ে শেষ হয়ে গেলে তা যথেষ্ট নয়। তিন অঙ্কে নিয়ে যেতে পারলে দলের যেমন লাভ, তেমনি আমারও।’
সেই লাভের অঙ্কও বিশ্বকাপের আগেই মেলাতে চান মিঠুন, ‘চেষ্টা থাকবে যে ভুলগুলো করেছি, এরপর যাতে আর না হয়। শুধু বিশ্বকাপ নয়, এরপর যে ম্যাচ খেলব, সেই ম্যাচেই যেন ভুল থেকে বেরিয়ে আসতে পারি। পরের ম্যাচেই যদি এখান থেকে বের হতে পারি, তাহলে বিশ্বকাপে আরো ভালো করার সম্ভাবনা থাকবে। আমার লক্ষ্য সেটিই।’

বিশ্বের শীর্ষ ক্রীড়াবিজ্ঞানীদের একজন, প্রমাণ করল মেসিই সেরা

Now Reading
বিশ্বের শীর্ষ ক্রীড়াবিজ্ঞানীদের একজন, প্রমাণ করল মেসিই সেরা

অনেকের মতে বিশ্বের সেরা ফুটবলার মেসি। আবার অনেকে তা মনে করেন না। বর্তমান বিশ্বে সেরা ফুটবলার কে এটা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। কিন্তু লিওনেল মেসিই সেরা এটা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ক্রীড়াবিজ্ঞানীদের একজন সাইমন ব্রান্ডিশ। বিশ্বখ্যাত এই ক্রীড়াবিজ্ঞানীর মতে পৃথিবীর সেরা একজনই। আর ‘মেসি যত দিন বেঁচে আছেন তাঁর মতো আর কেউ হবে না’।
তবু যদি আপনার মনে হয় মেসি নয়, সেরা অন্য কেউ, আপনার উদ্দেশে ব্রান্ডিশের জবাব, ‘আপনি তখনই মেসি বাদে অন্য কাউকে সেরা বলতে পারবেন, যদি মেসি পা ভেঙে এক বছর ধরে পড়ে থাকেন, কিংবা ধরুন মেসি মরেই গেছেন; অথবা আপনি মিথ্যা বলছেন।’
বিজ্ঞানীদের তত্ত্ব আবেগ দিয়ে চলে না। তা প্রমাণ করতে হয়। ব্রান্ডিশ মেসিকে সেরা প্রমাণ করতে দুটি পরিসংখ্যান হাজির করলেন। সিএনএনকে ব্রান্ডিশ বলেছেন, এই মুহূর্তে মেসি প্রতি ৪৮ মিনিটে একটি গোল করছেন বা কাউকে দিয়ে করাচ্ছেন। অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে মেসি দুটি করে গোল বা অ্যাসিস্ট করেন। যে পরিসংখ্যানে মেসির ধারেকাছে কেউ নেই।
আবার গোল করা বা করানোতেও শুধু নয়, মেসির আসল জাদু লুকিয়ে আছে খেলাটা বানিয়ে তোলায়। যদিও গোল করা বা করানোই সাধারণত চোখে পড়ে। কিন্তু বার্সেলোনার মতো দল খেলাটা গুছিয়ে আক্রমণে যায়। ফলে প্রতিটা গোলের পেছনে অনেকের অবদান থাকে। এই অবদান বের করার উপায় হলো এক্সজি-বিল্ড নামের একটি পরিসংখ্যান-তত্ত্ব।
এই পরিসংখ্যানে যিনি গোল করেছেন আর যিনি গোল করতে সহায়তা করেছেন তাঁদের বাদ দিয়ে বাকি সবার অবদান মাপা হয়। ধরা যাক একজন গোলরক্ষক প্রথমে একজন ডিফেন্ডারকে বল ঠেলেছিলেন। সেই ডিফেন্ডার বল দিয়েছিলেন এক মিডফিল্ডারকে। মিডফিল্ডার থেকে উইঙ্গার, সেখান থেকে গোলমুখে থাকা কোনো খেলোয়াড়কে বল ঠেলা হলো। তারপর এল গোল। এক্সজি-বিল্ড তত্ত্বে অ্যাসিস্টকারী উইঙ্গার আর গোলদাতা বাদে বাকি সবার অবদান পরিমাপ করা হয়। এখানে গোলরক্ষক, ডিফেন্ডার, মিডফিল্ডার পয়েন্ট পাবেন, শেষের দুজন নয়।
মেসি যে অবিশ্বাস্য হারে গোল করেন এবং গোলে সহায়তা করেন; তাতে সাধারণ হিসাব বলে, এক্সজি-বিল্ডে মেসির তেমন পয়েন্ট আসার কথা নয়। এলেও যেকোনো বিল্ডআপে শুরুর দিকে যাঁরা থাকবেন, তাঁদের পয়েন্ট মেসির চেয়ে বেশি হবে। কিন্তু ব্রান্ডিশ হিসাব করে দেখিয়েছেন, এখানেও মেসির স্কোর অনেক বেশি!
২০১৭-১৮ মৌসুমের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মেসির এক্সজি-বিল্ড স্কোর চেলসির এডেন হ্যাজার্ড, আর্সেনালের মেসুত ওজিল কিংবা টটেনহামের ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের চেয়েও বেশি। এই পরিসংখ্যানে মেসি পেছনে ফেলেছেন রোনালদো, মোহাম্মদ সালাহ ও নেইমারকেও।
মেসির গোলসংখ্যা, মেসির অ্যাসিস্ট, এর সঙ্গে মেসির এক্সজি-বিল্ড স্কোর…সবই বিবেচনায় নিয়ে ব্রান্ডিশ আপনাকে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছেন, ‘কে সেরা সেই প্রশ্নে যুক্তিতর্কের কোনো সুযোগ কি আছে?’

ধোনি আদালতে গেলেন পাওনা অর্থ আদায়ের জন্য

Now Reading
ধোনি আদালতে গেলেন পাওনা অর্থ আদায়ের জন্য

ভারতের সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি, ভারতের রিয়েল এস্টেট কোম্পানি আম্রপালি গ্রুপটির বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ এবং ঠকানোর অভিযোগ এনেছেন। বাড়ি কিনতে আসা কয়েক হাজার গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করা অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

এদিকে নিজের পাওনা অর্থের জন্য সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে ধরনা দিয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। গেল অর্ধযুগ ধরে ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিংয়ের জন্য ধোনিকে ব্যবহার করেছে আম্রপালি। ২০০৯ সালে তার সঙ্গে চুক্তি করে কোম্পানিটি। ২০১৬ সালে এর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার শুরু করেন গ্রাহকরা।

বিষয়টি নজরে পড়লে চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসেন ক্যাপ্টেন কুল। তার স্ত্রী সাক্ষীও এ গ্রুপটির সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সবমিলিয়ে তাদের কাছ এখনও ৪০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে ধোনি পরিবারের।
ধোনির দাবি, আম্রপালির কাছে তিনি ৩৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকারও বেশি পাবেন। এর মধ্যে ২২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা মূলধন এবং ১৮ শতাংশ হারে সাধারণ সুদ ১৬ কোটি ৪২ কোটি টাকা। প্রমাণ করতে কোম্পানির সঙ্গে সব চুক্তির কাগজপত্র সর্বোচ্চ আদালতে জমা দিয়েছেন ধোনি।

এদিকে গেল মাসে আম্রপালি গ্রুপের চেয়ারম্যান কাম ম্যানেজিং ডিরেক্টর (সিএমডি) অনিল শর্মা এবং অন্য দুই পরিচালককে গ্রেফতারে দিল্লি পুলিশকে অনুমতি দেন আদালত। দক্ষিণ দিল্লিতে অনিলের বাংলোসহ সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেন আদালত।

আমিরের কি বিশ্বকাপ খেলা হবে না?

Now Reading
আমিরের কি বিশ্বকাপ খেলা হবে না?

আসছে ৩০ মে শুরু হতে যাচ্ছে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় লড়াই ক্রিকেট বিশ্বকাপ। কিন্তু আমিরকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। কারন বিশ্বকাপের ঠিক আগে অফ ফর্মে মোহাম্মদ আমির। স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তান দলে ফেরেন আমির। তবে সময়টা ভালো যাচ্ছে না তার। ওয়ানডে ফরম্যাটে নিজের সামর্থ্যেরে পুরোটা দিতে পারছেন না বাঁ-হাতি এই পেসার। সর্বশেষ ১৩ ওয়ানডেতে ৮০.৮০ গড়ে নিয়েছেন মাত্র পাঁচ উইকেট। ফর্মে ফিরতে ব্যর্থ হলে বিশ্বকাপে খেলা হবে না আমিরের। এমন আভাসই দিলেন পাকিস্তান ক্রিকেট দলের প্রধানি নির্বাচক ইনজামাম-উল-হক।
পাকিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ও সাবেক অধিনায়ক ইনজামাম বলেন, আমির খুব ভালো মানের বোলার। তাতে কোনো সন্দেহ নেই। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি সে ফর্মে নেই। এই মুহূর্তে সে পাকিস্তান দলে অটোমেটিক চয়েজ নয়।
পাকিস্তান ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক আরও বলেন, বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও যথেষ্ট সময় আছে। আশা করি, সে ছন্দে ফিরতে পারবে। কিন্তু তার মতো একজন সিনিয়র খেলোয়াড় যদি ফর্মহীন থাকে, সেটা আমাদের জন্য দুশ্চিন্তার।

অশ্বিন বিতর্ক: এমসিসি কী বলে?

Now Reading
অশ্বিন বিতর্ক: এমসিসি কী বলে?

আইপিএল এর জনপ্রিয়তা ক্রিকেট বিশ্বে অনেক বেশি। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে এবারের আইপিএল নিয়ে একটু উন্মাদনা কম। অনেক দলই বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড়দের চোটমুক্ত রাখার কথা চিন্তা করছে। বড় তারকাদের অনেকেই নেই এবার। কিন্তু আইপিএল জমে উঠতে তারকার তো দরকার নেই। রবিচন্দ্রন অশ্বিনই আইপিএলকে জমিয়ে দিলেন এক ঘটনায়। জস বাটলারকে ‘মানকড়’ আউট করে টিভি পর্দা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আলোচনার খোরাক এনে দিয়েছেন। সে ঘটনায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও মতামত জানিয়েছে, বলেছে ওটা আউট দেওয়া উচিত হয়নি আম্পায়ারের। কিন্তু ক্রিকেটের আইনপ্রণেতা মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব কী বলে?
অশ্বিনের মানকড় আউটের পর এমসিসিকেও নড়েচড়ে বসতে হয়েছে। মানকড় আউট নিয়ে অতীতে যত আলোচনা হয়েছে তার সবই ক্রিকেটীয় চেতনা ঘিরে। আউট নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, শুধু আলোচনা ওভাবে আউট করাটা ভদ্রলোকের খেলার সঙ্গে যায় কি না! তবে অশ্বিনের আউটের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, অশ্বিন নিজের স্বাভাবিক অ্যাকশনে বল করেননি কাল। ওই বলের সময় অশ্বিন বল ছোড়ার ভঙ্গি যখন করেছেন, তখনো ক্রিজে ব্যাট ছিল জস বাটলারের। অশ্বিন নিজের স্বাভাবিক গতি আটকে অপেক্ষা করেছেন কখন বাটলার দাগ পার হবেন এবং তারপর স্টাম্প ভেঙেছেন।
এ ব্যাপারে এমসিসি অবশ্য গৎবাঁধা নিয়মের উল্লেখই শুধু করেছে, ‘এ আইন খুব জরুরি। এ আইন ছাড়া নন-স্ট্রাইকার স্বাধীনতা পেয়ে যাবে, পিচে অনেক দূর এগিয়ে থাকবে। এমন কিছু আটকাতে অবশ্যই আইন দরকার। এখানে মূল বিষয় হলো নন-স্ট্রাইকার কখন নিশ্চিন্তে ক্রিজ ছাড়তে পারবে এবং বোলার কীভাবে বিতর্ক সৃষ্টি না করে এভাবে আউট করতে পারবে। পরিষ্কার করে বলতে গেলে, এ আইনে কখনো বলা হয়নি নন-স্ট্রাইকারকে সতর্ক করতে হবে। এবং এটাও বলা হয়নি, একজন নন-স্ট্রাইকার ক্রিজ থেকে আগে বের হয়ে সুবিধা নিতে চাইলে তাঁকে আউট করা ক্রিকেটীয় চেতনার বিরোধী।’
আইন যে দরকার সেটা বুঝতে পেরেছেন সবাই। এত দিন সবাই শুধু ক্রিকেটীয় চেতনার কথাই বলত, তবে অশ্বিনের ঘটনায় তো কিছু অস্বাভাবিকতাও আছে! অশ্বিনের অ্যাকশন ও শরীরী ভাষা দেখে অধিকাংশ ক্রিকেটারই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন ওই বল করার কোনো ইচ্ছা তাঁর মাঝে ছিল না। বল করার ভঙ্গি করে থেমে যাওয়ায় বাটলার বুঝতে পারেননি যে তিনি বল ডেলিভারির আগেই বের হয়ে যাচ্ছেন। ক্রিকেটের আইনের ৪১.১৬ ধারা বিশ্লেষণ করে এমসিসি বলছে এটা আউট কি আউট না সে সিদ্ধান্ত নিতে হতো অশ্বিনের শরীরী ভাষা দেখেই।
এমসিসির ভাষায় অশ্বিন বল করতে চাইছেন না কি চাচ্ছেন না এটার ওপর নির্ভর করেছে সিদ্ধান্ত, ‘অনেকেই মনে করছেন অশ্বিন তাঁর অ্যাকশনে দেরি করেছেন যাতে বাটলার তাঁর জায়গা থেকে বের হয়ে যায় এবং অশ্বিনের বল যখন ছাড়ার কথা ছিল তখন বাটলার ক্রিজেই ছিলেন। এটা যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে দেরি হয়, তবে এটা অবৈধ এবং ক্রিকেটীয় চেতনা বিরোধী। অশ্বিন দাবি করেছে এটা তা নয়। টিভি আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিতে হতো এবং আইন অনুযায়ী এটা গ্রহণযোগ্য সে কেন বাটলারকে আউট দিয়েছে। এটা দুই দলের ওপরই নির্ভর করছে খেলা আইন ও চেতনা দুইয়ের সম্মেলনে যেন হয়। নন-স্ট্রাইকারকে সাবধান হতে হবে যেন সে আগে ক্রিজ ছেড়ে অবৈধ সুবিধা না নেয়, বোলারকেও ৪১.১৬ আইনানুযায়ী সময় মেনে রান আউট করতে হবে।’

একটি চুইং গাম বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪.৩৪ কোটি টাকায়

Now Reading
একটি চুইং গাম বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪.৩৪ কোটি টাকায়

আমরা প্রায় সময় দোকান থেকে চুইং গাম কিনে খেয়ে থাকি। আচ্ছা একটা চুইং গামের দাম কত হতে পারে? দুই টাকা বা পাঁচ টাকা বা দশ টাকা। কিন্তু ইংল্যান্ডে একটা চুইং গাম বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩ লক্ষ ৯০ হাজার পাউন্ডে বা ৪.৩৪ কোটি টাকায়। তাও আবার এই চুইং গামটি ছিল চিবানো। চিবিয়ে ফেলা সেই চুইং গামের মালিক কে জানেন? স্যার আলেক্স ফার্গুসন। চুইং গাম চিবোতে চিবোতে সাইড লাইন ধরে পায়চারি করছেন স্যার, এমন দৃশ্যই ব্রিটিশ ফুটবলে যেন চিরকালীন।
এহেন আলেক্স ফার্গুসনের তত্ত্বাবধানে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড তাদের শেষ ম্যাচটা খেলেছিল ওয়েস্ট ব্রমউইচের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচ ড্র হয়েছিল। ফলাফল ছিল ৫-৫। আর সেই ম্যাচের সময় টেনশনে ফার্গুসন যে চুইং গাম চিবিয়েছিলেন, সেটি এক ভক্ত সংগ্রহ করে রেখেছিলেন।
এবার সেটিকেই সম্প্রতি নিলামে তোলা হয়। যা বিক্রি হয় প্রায় ৩ লক্ষ ৯০ হাজার পাউন্ডে। টাকার হিসাবে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। ফার্গির ফেলে দেওয়া চুইংগামের টুকরো কুড়িয়ে কোটিপতি হয়ে গেলেন ওই ম্যান ইউ ফ্যান। যদিও পুরো টাকাটা তিনি দিয়ে দিয়েছেন ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ফাউন্ডেশনে।

Page Sidebar