রাজনীতিতে আসা নিয়ে যা ভাবছেন সাকিব আল হাসান

Now Reading
রাজনীতিতে আসা নিয়ে যা ভাবছেন সাকিব আল হাসান

নিদাহাস ট্রফির আগে সাকিব আল হাসান স্বপরিবারে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে দেখা করেছেন। এই টুর্নামেন্ট শেষে সপরিবার বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির দাওয়াত ও রক্ষা করেছিলেন। ঠিক তখন থেকেই অনেকেরি ধারণা হতে থাকে তাহলে কি সাকিব রাজনীতিতে জড়াচ্ছেন?

ভারতের এক সংবাদ সম্মেলনে জবাবটা নিজেই দিয়েছেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল অবসরের পর রাজনীতিতে আসার কোন চিন্তা আছে কিনা। দুই ফর্মেটে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব জানিয়েছেন- ‘ভবিষ্যৎ নিয়ে কেউ কিছু বলতে পারে না। আমি বর্তমান নিয়েই থাকতে চাই। কিন্তু কোনো কিছুই উড়িয়ে দিচ্ছি না। এ ব্যাপারে (রাজনীতি) এখনো ভাবিনি, তাই এটা নিয়ে এখন কথা বলাও কঠিন। ক্রিকেট আমার জীবন এবং মনোযোগটা শুধু এখানেই (ক্রিকেট) থাকবে। (প্রধানমন্ত্রীর গণভবনে সপরিবার যাওয়া প্রসঙ্গে সাকিবের ব্যাখ্যা) এটা ছিল সৌজন্যসাক্ষাৎ। তিনি ক্রিকেট খুব পছন্দ করেন এবং খেলোয়াড়দের সব সময় উৎসাহ দেন।’

 

 

এবারের আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ২ উইকেট নেয়। তাছাড়া মুম্বাইয়ের বিপক্ষেও ১টি উইকেট নেন তিনি। তার দল হায়দ্রাবাদ দুটিতেই জয় পেয়েছে। তাছাড়া শুরু থেকেই রাজস্থান ও হায়দ্রাবাদের সাকিবকে নিয়ে দর কষাকষি করেন দুই টিম। আইপিএলে তার ব্যাটিং কেরিয়ার তামন একটা ভালো দেখা যায় নি। তবে যাই হোক টিম এবং দর্শকদের প্রিয় হয়েছেন বোলিং এর দিকে। এদিকে হায়দ্রাবাদের রাশিদ খান ও অনেক প্রিয় হয়ে উঠছেন।

স্পিনারদের নিয়ে সাকিবের মন্তব্য, ‘স্পিনারদের সবাই খেলতে অভ্যস্ত নয়, তাই ব্যাটসম্যানদের জন্য এটা সামলানো কঠিন। তারা (লেগ স্পিনার) যেকোনো উইকেটে বল ঘোরাতে পারে, এটা একটা সুবিধা। কিন্তু তাদের যত বেশি খেলবেন ততই অভ্যস্ত হয়ে ওঠা যায়। (রাশিদ খান প্রসঙ্গ) সে অনেক দিন ধরেই দলের জন্য ভালো পারফর্ম করছে। রশিদের মতো বোলারকে দলে পাওয়া সত্যিই বড় ধরনের সুবিধা। তাছাড়া তার সাথে বোলিং এর জুটি অনেক ভালোই হয়েছে।’

২০১৮ ফুটবল বিশ্বকাপের হালচাল

Now Reading
২০১৮ ফুটবল বিশ্বকাপের হালচাল

ইতিমধ্যেই ২০১৮ ফুটবল বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব শেষ করা হয়েছে। পহেলা ডিসেম্বর থেকে  রাশিয়ার মস্কোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপে স্বাগতিক দেশসহ মোট ৩২টি দল অংশ নিচ্ছে। স্বাগতিক রাশিয়ার সাথে সবার আগে বিশ্বকাপ খেলার টিকিট নিশ্চিত করেছে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবংবর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। মোটামুটি ফুটবলের অন্য সকল জায়ান্টরা বিশ্বকাপের আসরে থাকলেও এবার দেখা যাবেনা চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে, ২০১৪ ফুটবল বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান অধিকারী নেদারল্যান্ডসকে এবং কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন চিলি’কে। যুক্তরাষ্ট্রেরও দেখা মিলবেনা এই বিশ্বকাপে, ১৯৮৬ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপ মিস করছে তারা। এছাড়াও চেক প্রজাতন্ত্র, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, বসনিয়া-হারজেগোভিনা, তুরস্ক, আইভরি কোস্ট, ক্যামেরুন, ঘানার মতো ভাল দলগুলো বাছাইপর্ব খেলে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করতে পারেনি।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফে সুইডেনের কাছে দুই লেগে ১-০ গোলে হারে ইতালি। এই হারের পর অবসর নেন ইতালির অধিনায়ক ও গোলরক্ষক জিওনলুইজি বুফন। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন চিলি, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচগুলিতে তাদের সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি এবার। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে ছয় নম্বরে ছিলো চিলি। নেদারল্যান্ডস এর ভাগ্যও খারাপ বলতে হয়, ২০০২ সালের পর এই প্রথম তারা বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করতে পারেনি। বাজে পারফরম্যান্সের কারনে গত বছর ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপও খেলতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। প্লে-অফে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ খেলছে পেরু। পেরুর কাছে নিউজিল্যান্ডের হেরে যাওয়াতে ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে অস্ট্রেলিয়া ছাড়া রাশিয়া বিশ্বকাপে আর কোনো দল অংশগ্রহণের সম্ভাবনা থাকলনা। অস্ট্রেলিয়াকে ওশেনিয়ার অংশ ধরা হলেও এই দেশ এশিয়ার অনেকটা অংশজুড়েই রয়েছে।

আবার দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে অনেক নাটকীয়তায় লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক  বদান্যে তৃতীয় স্থানে থেকে সরাসরি বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ১৯৯০ সালের ইতালি ফুটবল বিশ্বকাপের ২৮ বছর পর এইবারই প্রথম বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা পেয়েছে আফ্রিকা অঞ্চলের পিরামিডের দেশ মিশর। রাশিয়া  বিশ্বকাপে আফ্রিকা অঞ্চল থেকে আরো সুযোগ পেয়েছে মরক্কো, নাইজেরিয়া ও সেনেগাল। এছাড়া এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে পানামা ও ২০১৬ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের চমক আইসল্যান্ড। সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা পেয়েছে আইসল্যান্ড যাদের জনসংখ্যা মাত্র ৩ লক্ষ ৩০ হাজার। এশিয়া থেকে আছে ইরান, জাপান, সৌদি আরব ও দক্ষিণ কোরিয়া।

মস্কোর স্টেট ক্রেমলিন প্যালেস কনসার্ট হলে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে।   ফিফা র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী দল সাজানো হয়েছে। যেখানে আটটি গ্রুপের এক নম্বর গ্রুপে থাকবে রাশিয়া এবং এরপরের সাতটি গ্রুপে থাকবে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ সাতটি দল। শুধুমাত্র ইউরোপ মহাদেশের সর্বোচ্চ দুটি দল একই গ্রুপে থাকছে, এছাড়া অন্য কোনো মহাদেশ থেকে একটির বেশি দল এক গ্রুপে রাখা হবে না।

এক নজরে রাশিয়া বিশ্বকাপের আট গ্রুপ :

‘এ’ গ্রুপ : রাশিয়া, সৌদি আরব, মিসর, উরুগুয়ে।

‘বি’ গ্রুপ : পর্তুগাল, স্পেন, মরক্কো, ইরান।

‘সি’ গ্রুপ : ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, পেরু, ডেনমার্ক।

‘ডি’ গ্রুপ : আর্জেন্টিনা, আইসল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, নাইজেরিয়া।

‘ই’ গ্রুপ : ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড, কোস্টারিকা, সার্বিয়া।

‘এফ’ গ্রুপ : জার্মানি, মেক্সিকো, সুইডেন, দক্ষিণ কোরিয়া।

‘জি’ গ্রুপ : বেলজিয়াম, পানামা, তিউনিসিয়া, ইংল্যান্ড।

‘এইচ’ গ্রুপ : পোল্যান্ড, সেনেগাল, কলম্বিয়া, জাপান।

 

চলুন জেনে নিই রাশিয়া বিশ্বকাপের ম্যাচ গুলো কোন ১২টি দৃষ্টিনন্দন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবেঃ

লুজনিকি স্টেডিয়াম, সেইন্ট পিটসবার্গ স্টেডিয়াম, সচি স্টেডিয়াম, একটেরিনবার্গ অ্যারিনা, কাজান অ্যারিনা , নিঝনি নভগোরোদ ,  রুস্তভ অন ডন অ্যারিনা, সামারা অ্যারিনা, সারাঙ্কস মোর্দোভিয়া অ্যারিনা, ভলগোগ্রাদ অ্যারিনা, মস্কো স্পার্টাক স্টেডিয়াম, কালিনিনগ্রাদ স্টেডিয়াম।

বিশ্বকাপ ফুটবলে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না থাকলেও এ দেশের কোটি মানুষ বুঁদ হয়ে থাকেন ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে। খুব কম মানুষের ভাগ্যেই সরাসরি স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার সৌভাগ্য ঘটে।  তাই কোটি কোটি মানুষের ভরসা হয়ে উঠে টেলিভিশন।

ঘরে বসেই আজ মুড়ি খাচ্ছেন শ্রীলংকান দর্শকরা

Now Reading
ঘরে বসেই আজ মুড়ি খাচ্ছেন শ্রীলংকান দর্শকরা

ফাঁকা প্রেমাদাসা, চারিদিকে যেন নিস্তব্দতা। টুর্নামেন্টের শুরু হতেই প্রায় সবখানেই ছিল উৎসবের আমেজ। তবে শেষতক উদযাপনের শেষদিনে শ্রীলঙ্কা কেবল দর্শক হয়েই রইল। এদিকে দর্শক বনতেও যেন তাদের ঘোর আপত্তি, স্টেডিয়ামে বাইরে টিকেট কাউন্টারে নেই দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়। অবশ্য থাকার কথাও না, এমন উৎসবে নিজেদের মাঠে অন্যের নাচ দেখতে কারই বা ভাল লাগবে? তাও সেটা যদি ভয়ংকর নাগিন নৃত্য হয় তবেতো সহ্য হওয়ার কথাই না। তার চেয়ে ভাল বাড়ীতে বসে মুড়ি খাওয়া।

স্বাধীনতার ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ত্রি-জাতীয় নিদাহাস ট্রফি টুর্নামেন্ট এর আয়োজন করে শ্রীলংকা। সিংহলি শব্দ ‘নিদাহাস’ এর অর্থই হচ্ছে স্বাধীনতা। নিজেদের এমনই এক উৎসবে আজ তারা নিরব দর্শক। একটু পর  ফাইনালে স্বাধীনতা উৎসবের সেই ট্রফির জন্য লড়বে বাংলাদেশ ও ভারত।

এদিকে চাপ মুক্ত হয়ে খেলবে বাংলাদেশ এমনটাই প্রেস ব্রিফ করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, তবে সত্যি সত্যি যে টাইগারদের সমীহ করছেন তা ভারতীয় অধিনায়কের সুরেই ফুটে উঠেছে।

দুর্দান্ত এক জয়ের পর উৎসবটা কেমন হতে পারে, তা তো ম্যাচ শেষে টাইগারদের ঐ ‘নাগিন’ নাচ দেখলেই অনুমান করা যায়। দলের অতি ভদ্র সুবোধ হিসেবে পরিচিত খেলোয়াড়টিও এসে যোগ দিয়েছিলেন ওই উচ্ছ্বাসে বাদ জাননি টিম ম্যানেজারও। এমন জয়ের পর একটু নেচেগেয়ে উল্লাস না করলে বোধয় জয়ের আনন্দটা পরিপূর্ণতা পেতনা।

নিজেকে সামলে রাখাই অসাধ্য হয়ে উঠেছে, কিন্তু প্রকাশ্যে উদ্‌যাপনটা খুব সামান্যই ছিল। বাকিটা ড্রেসিংরুমের জন্য জিইয়ে রেখেছিলেন টাইগাররা । এই ড্রেসিং রুমেই কিন্তু বহিঃপ্রকাশ ঘটে খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরের অপ্রকাশিত সব প্রতিভা। আর সেখানেই হয়তো জীবনের সেরা আনন্দটা গতকাল উদযাপন করেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। সেই আনন্দে ভাগ বসাতে যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান যান তখন অনেকেই ভরকে গিয়েছিল। তিনি তাদের বলেছেন- এই থামবা না, আমি দেখব না চলে যাচ্ছি, তোমরা নাচো! তবে এটা ভিডিও করে আমাকে পাঠাবে।

শ্রীলংকার বিপক্ষে জয়টা এত সহজে আসেনি। শেষের ওভারে তো ম্যাচ বয়কট করার মতো ঘটনার সুত্রপাত হতে যাচ্ছিল। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক হতে পারে অনেকের ধারণা হলেও বিসিবি সভাপতি সেই শঙ্কা দূর করে দিয়ে জানিয়েছেন যে, খেলা শেষে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ টিমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কটা যে ঠুনকো নয় তা জোড় দিয়েই বলেছেন মি. পাপন।

 

শ্রীলংকা কি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে আদৌ নিরাপদ?

Now Reading
শ্রীলংকা কি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে আদৌ নিরাপদ?

গতকাল বাঘের গর্জনে কেঁপেছে শ্রীলংকার প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম। পালাবার পথ খুঁজে পায়নি লংকানরা কথাটা এই অর্থেই বলা তারা আসলে লজ্জায় মুখ লুকাবার জায়গা খুঁজেছিল। স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেনি বাংলাদেশের কাছে তাদের এভাবে হেরে যাওয়া তাও আবার নিজেদের ঘরের মাঠে। গত ম্যাচের মুশফিকের মতই এইবার জয়ের নায়ক ছিলেন মাহমুদউল্লাহ।  ১৮ বলে অপরাজিত ৪১ রানে ভর করে ফাইনালের টিকিট পেয়ে যায় টিম বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহর নৈপুণ্যেকেই ম্যাচ জেতার কৃতিত্ব দেয়া যায়। চার বলে ১২ রানের প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। স্নায়ু চাপে পড়েছে গোটা বাংলাদেশের দর্শক, জানিনা এই অবস্থায় কিভাবে টিকে থাকার শক্তি পেয়েছেন উইকেটে থাকা মাহমুদউল্লাহ! দুঃসাহসিক যোদ্ধার মত বুক চিতিয়ে খেলেছেন তিনি। উদানার করা তৃতীয় বলে চার, চতুর্থ বলে দুই ও পঞ্চম বলে বিশাল ছক্কায় বাংলাদেশকে এনে দেন রুদ্ধশ্বাস জয় এবং নিদাহাস কাপের ফাইনালের টিকিট।

প্রথমে ব্যাট করতে নামা শ্রীলংকা সাত উইকেটে নিয়েছিল ১৫৯ রান জবাবে বাংলাদেশ দুই উইকেট ও এক বল হাতে রেখেই ১৬০রান তুলে নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে। ১৮ বলে অপরাজিত থেকে ৪৩ রানের ইনিংস খেলে মাহমুদউল্লাহ হয়েছেন ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ।

১৫৯ রান তাড়া করে দলীয় ১১ রানে লিটন দাস ডাক নিয়ে ফিরেন ড্রেসিং রুমে। সাব্বির রহমান আউট হন ১৩রানে, তামিম-মুশফিকের দায়িত্বশীল জুটিতে ভর করে জয়ের পথে পা বাড়ায় বাংলাদেশ। ১৩তম ওভারে এসে ঘটে বিপত্তি মাত্র ৬৪ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হওয়া জুটি থেকে ছিটকে পড়েন মুশফিক, ২৮রানে কভারে ক্যাচ হয়ে যান তিনি। যদিও উজ্জ্বল ছিলেন তামিম, তিনি ৪১ বলে ম্যাচের পঞ্চম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কিন্তু ব্যাক্তিগত ৫০রানেই গুণাথিলাকার বলে তিনিও ক্যাচ দিয়ে ফিরেন। এদিকে দলীয় ১০৯ রানের মাথায় দুর্ভাগ্যবশত সৌম্যও ব্যাক্তিগত ১০ রান নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন। ১২ রানে যখন তিন উইকেট এর পতন তখন মারাত্মক স্নায়ু চাপে বাংলাদেশ। কিছুটা এলোমেলো হলেও পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থানে ফেরার দারুণ চেষ্টায় ছিল টাইগার দল। একপর্যায়ে ভরসা জাগিয়েছিল মাহমুদউল্লা-সাকিব জুটি, কিন্তু ১৮তম ওভারে সাকিব ব্যাক্তিগত ৭রান যোগ করে ফাইন লেগে ধরা পড়েন। এবার দলের জন্য ত্রাতা হয়ে ক্রিসে আশা জাগান মাহমুদউল্লাহ-রুবেল জুটি।

ম্যাচে ৬ বলে ১২ রানের স্নায়ুর যুদ্ধে প্রথম দুটি বলে আসেনি কোনো রান। তারমধ্যে দ্বিতীয় বলে মুস্তাফিজ হয়েছেন বিতর্কিত রানআউট। পরপর দুটি বাউন্সার অথচ নো বল দেননি আম্পায়ার! পিচে থাকা মুস্তাফিজের মাথার ওপর দিয়ে অস্বাভাবিকভাবে বল চলে যাওয়াতে আম্পায়ার প্রথমে নো বল দিলেও পরে সিদ্ধান্তটি তুলে নেন। মেনে নিতে পারেননি টাইগার অধিপতি সাকিব, রিজার্ভ আম্পায়ারের কাছে তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ করেন। গোটা দল তখন মাঠে, টাইগার দলপতি ইশারায় মাহমুদউল্লাহ-রুবেলকে বের হয়ে আসার নির্দেশ দেন। প্রায় সীমানার কাছে চলেও এলেও টিম ম্যানেজারের হস্তক্ষেপে ম্যাচে ফিরে যায় তারা। এর পরেই তো সব ইতিহাস…

শুরুতেই একটু নেতিবাচকভাবেই শ্রীলংকাকে উপস্থাপন করেছি এর সঙ্গত কারনও অবশ্য আছে। ম্যাচে তাদের করুণ পরিণতি দেখে বেসামাল হয়ে পড়েছিল শ্রীলংকান দর্শকরা, শুধু দেশের টানে খেলা দেখতে যাওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেট পাগল দর্শকদের হেনস্তা করেছে তারা। শুধু তাই নয় শ্রীলংকার এসব উস্রিঙ্খল দর্শক স্বয়ং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের সামনেই শারীরিক আক্রমণ করে বসে বাংলাদেশী ক্রিকেট ভক্তদের। ভিডিওতে বাংলাদেশী দর্শকদের অভিযোগ নিয়ে কাঁদতে দেখে দর্শক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, ক্রিকেটের এই বিমাতা সুলভ আচরণে আদৌ কি শ্রীলংকা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনে অধিকার রাখে কিনা?

সর্বশেষ আরেকটু হাস্যরসের যোগান দিয়ে যাই- ফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট বক্সের আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড যানবাহনের যে কার পাস ছেপেছে, তাতে আগে ভাগেই ফাইনালের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ‘ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা এর নাম আছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনসহ প্রেসিডেন্ট বক্সের সকল আমন্ত্রিত অতিথিই পেয়েছেন এই কার পাস, জানা গেছে টুর্নামেন্টের শেষ দুই ম্যাচের জন্য দু-তিন দিন আগেই ‘ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা’ ছাপিয়ে ফাইনালের কার পাস সরবরাহ করে শ্রীলঙ্কা বোর্ড। ম্যাচের পূর্বেই ভাগ্য নির্ধারণ করা এই কার পাস সত্যি আনন্দের খোরাক হিসেবে জন্ম দিয়েছে, আর টিম বাংলাদেশ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে তারা কি জিনিস।  

ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে ট্রফির জন্য লড়বে বাংলাদেশ। তাতে যদি বাংলাদেশ জিতে যায় সত্যি বলছি মাইরি এইবার নাগিন নৃত্যটি আমিও একবার চেষ্টা করে দেখতে পারি।

 

ভারত বাংলাদেশের মাঠের লড়াই

Now Reading
ভারত বাংলাদেশের মাঠের লড়াই

 

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের খেলা দেখে বলা যেতে পারে বাংলাদেশ দলটি ক্রিকেট এর একটি পরা শক্তি। পূর্বের ভারত পাকিস্তান লড়াইয়ে মাঠের এবং মাঠের বাহিরে যে তীব্রতা লক্ষ করা যেতো। বর্তমানে বাংলাদেশ ভারত লড়াইয়ে সেরকম লড়াই দেখা যায়।

অনেকদিন পর আবারো মাঠে নামছে বাংলাদেশ ভারত। এ নিয়ে মাঠের বাহিরে অনেক তর্ক বিতর্কের সংখ্যা কম নয়। তবে সব কিছু ঝাপিয়ে কী হবে ফলাফল? আগামীকাল (০৮-০৩-২০১৮) সন্ধ্যা ৭.৩০ এ শ্রীলংকার মাঠিতে ম্যাচটি শুরু হবে। তবে সাম্প্রতিক বাংলাদেশ একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে পরাশক্তির দল হলেও টি-টুয়েন্টি ফরম্যাট এ ঠিক এখনো জ্বলে উঠতে পারছে না টাইগাররা। এই ফরম্যাটে মাত্র ২১ জয় তাদের। এই ফরম্যাটে ইন্ডিয়ার সাথে পরিসংখ্যান তেমন একটা ভালো নেই। তার উপর কিছু দিন পূর্বে দেশের মাঠিতে শ্রীলংকার সাথে বাজে খেলা সব মিলিয়ে খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় নেই বাংলাদেশ। তার উপর দলে নেই মাসরাফি,সাকিবের মত অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। সাকিব দলে না থাকায় এ ম্যাচের অধিনায়কত্ব করবেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আর তিনি বলেন সব কিছু ছাপিয়ে একটি জয়ের মাধ্যমে ঘুরে দাড়াতে চাই বাংলাদেশ দল।

আমাদেরও একই প্রত্যাশা আগামীকালকের ম্যাচটিতে ভালো খেলবে বাংলাদেশ দল। আর আগামীকাল কালকের ম্যাচটি জিততে হলে অনেকাংশ দায়িত্ব থাকবে তামিম ইকবালের উপর। অতীতের পরিসংখ্যান বলে প্রতিপক্ষ যখন ভারত তখন তামিম অনেক বেশি উৎফুল্ল থাকে। আর কালকের ম্যাচে তিনি ভালো খেলতে পারলে বলা যেতে পারে বাংলাদেশ দল ভালো অবস্থায় থাকবে।

অন্যদিকে ভারতের কথা বলতে গেলে তারাও খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই বললেই চলে। কারণ নিহদাস ট্রপির প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক শ্রীলংকার বিপক্ষে খুব একটা ভালো খেলতে পারে নি ভিরাট এর দল। তবে তাদের জন্য এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি ম্যাচ। তাই তারা অতীত এর সব পরিসংখ্যান কিংবা সাম্প্রতিক সব অবস্থাকে ভুলে মাঠে ভালো খেলে জিততে চাইবে।

সব মিলিয়ে উত্তেজনায় দর্শকদের মাতিয়ে তুলবে কালকের ম্যাচটি।

সাকিব আল হাসান

Now Reading
সাকিব আল হাসান

সাকিব আল হাসান এক প্রতিভার নাম।

বাংলাদেশ এম্নিতেই বেশীর ভাগ বড় বড় দলীয় বা ব্যক্তিগত খেলা ধুলায় খুব বেশী পিছিয়ে। এর মধ্যে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল,বাংলাদেশে যদিও অতি জনপ্রিয়,তথাপিও আমরা এই খেলা থেকে খুবই পিছিয়ে। অতি সম্প্রতি আমরা ফুটবলের তথা ফিফার সর্বনিম্ন রেংকিং এর খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছি। এইটা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য খুবই লজ্জাজনক। আমরা নিজেরা খেলতে না পারলে কি হবে?ব্রাজিল আর আর্জেটিনার সাপোর্টার হিসেবে। বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় কথা কাটাকাটি এবং মারামারি করে, দুধের স্বাদ ঘোলে মিটিয়ে দিন পাড় করি।এতো বড় ফ্লাগ উড়াই, প্রয়োজনে জায়গা জমিন বিক্রি করে হলেও বড় একটা ফ্লাগ বানিয়ে ফেলি। এদেশে ফুটবল এতো জনপ্রিয় হওয়ার পরেও কেন, আমরা এই খেলায় উন্নতি করতে সক্ষম হচ্ছি না।সেইটা ভাবলে খুবই কস্ট লাগে মনে। ফুটবল প্রসংগে কথা বলার এই মুহূর্তে ইচ্ছে আমার নেই।

তবে দলীয় খেলার বড় আসর হিসেবে ক্রিকেট পৃথিবীর কয়েকটি দেশে খুবই জনপ্রিয়।ক্রিকেট খেলা যদিও ইংল্যান্ডে জন্ম কিন্তু আমাদের উপমহাদেশই এখন এর মূল কেন্দ্র বিন্দু। এর মোট দর্শকের প্রায় ৭৫ শতাংশ দর্শকই এই উপমহাদেশে!সুতরাং এই খেলার প্রতি এতদ অন্চলের মানুষের দুর্নিবার একটা আকর্ষণ রয়েছে।যার ফলোশ্রুতিতে বিশ্ব ক্রিকেটে অপেক্ষাকৃত নবীন সদস্য হিসেবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বিশ্বে একটা অবস্থান জানান দিচ্ছে। যদিও এখনো আমাদের অনেক দূর যেতে হবে। আমাদের ক্রিকেট বিশ্বকাপ ঘরে তুলতে হবে। বিদেশের মাটিতে সব কয়টি টেস্ট দেশের বিপক্ষে, টেস্ট সিরিজ ও ওয়ান ডে সিরিজ জয় করতে হবে। এসব করতে পারলেই কেবল। ক্রিকেট বিশ্বে পরাশক্তি হিসাবে স্বীকৃতি মিলবে। সমীহ করে কথা বলবে সব দল। আমাদের বর্তমান ক্রিকেট দলে বেশ কয়েক জন প্রতিভাবান ক্রিকেটার আছেন। তাদের সমন্বয়ে ক্রিকেট দলটি মোটামুটি একটা মান সম্মত খেলা খেলে আসছে। আমাদের দলে যদিও খুব বেশী তারকা প্লেয়ার নেই। তারপরেও সাকিব আল হাসান একজন খেলোয়ার আছেন, যে কিনা? তার প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন নিয়মিত। দশটি টেস্ট প্লেইং দেশের অসংখ্য প্রতিভাবান খেলোয়ারদের মাঝে। নিজেকে সবার চেয়ে উপরে রাখা এতো সহজ কাজ না। কিন্তু আমাদের সাকিব আল হাসান অসাধারণ এক প্রতিভা, যে কিনা এই শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছেন দীর্ঘদিন ধরে। তিনি শুধু ওডিআই নয়, টেস্ট ও টি টুয়েন্টি তিন ফর্মেটেই সমান ভাবে আইসিসি অলরাউন্ডার তালিকায় প্রথম।

তার ব্যক্তিগত কিছু অর্জন আছে, যেগুলো তাকে স্মরণীয় করে রাখবে সব সময়ই।
এর একটি হলো, টেস্ট প্লেইং সব কটি দেশের টেস্ট দলের বিপক্ষে তার পাঁচ উইকেট করে পাওয়া।এই তালিকায় তার সাথে মাত্র আরোও তিনজন রয়েছে।
এছাড়া তিনি দুই বার ডাবল অর্জন করেছেন। অথ্যাৎ একই টেস্টে বোলিং করে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন এবং ব্যাটিং এ সেন্চুরী হাকিয়েছেন।

সাকিব আল হাসান সমসাময়িক কালের অত্যন্ত মেধাবী একজন প্লেয়ার। ক্রিকেট ইতিহাসে অলরাউন্ডার দের মাঝে খুব কমই দেখা যায়। ব্যাটিং আর বোলিং সমানভাবে পারদর্শী। আমাদের সাকিব আল হাসানের ক্ষেত্রে আপনি দেখবেন। সে দুই ক্ষেত্রেই মোটামুটি সমান। আপনি কখনোই আলাদা করে বলতে পারবেন না। সে বোলিং এ বেশী ভালো। ব্যাটিং এর চেঁযে। যেমন দীর্ঘদিন অলরাউন্ডার তালিকায় শীর্ষে থাকা জ্যাক ক্যালিস কে আমরা দেখি।ব্যাটিং এ একটু বেশী পারদর্শী ছিলেন। আমরা শুনেছি স্যার গ্যরিফিল্ড সোবার্স ছিলেন অসাধারণ এক অলরাউন্ডার। যা সব ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন থাকে তার মতো অলরাউন্ড পার্ফমেন্স করার। সেই পর্যায়ে আমাদের সাকিব আল হাসান যদি পৌচ্ছাতে পারে। তাহলে, নিশ্চয় আমরা জাতি হিসেবে তাকে নিয়ে গর্ব করতে পারবো সবসময়। তার বর্তমান ওডিআই আর টেস্ট ব্যাটিং এভারেজ যথাক্রমে, 34.84 এবং 40.38 যেটা বাংলাদেশের অনেক ব্যাটস ম্যানেরই স্বপ্ন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে আরোও প্রতিভার বিকাশ ঘটুক সেই প্রত্যাশায় থাকলাম।

সেইদিন আমাদের বিপক্ষে স্বয়ং ঈশ্বর খেলেছিলেন

Now Reading
সেইদিন আমাদের বিপক্ষে স্বয়ং ঈশ্বর খেলেছিলেন

বিংশ শতাব্দী শুরুর দিকে দক্ষিণ আমেরিকা একটি দেশ যেখানে চাঁদাবাজি, খুন, সন্ত্রাস সেখানকার নিত্যনৈমিক ঘটনা সেখানকারই এক চরম মাত্রার নেশাগ্রস্ত লোক আমারো। দিন আনতে পান্তা ফুরোয় আমারোর। যাও আয় করেন তার থেকে বেশি ব্যয় করেন নেশার কাজে। সেই আমারোর ঘরে জন্ম নিলো এক ফুটফুটে ছেলে। নাম রাখা হলো ম্যানুয়েল ডস সান্তোস।
বাবার নেশার কু প্রভাব পড়ল ম্যানুয়েলের উপর। জন্মের পরই বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিল তাঁর। ম্যানুয়েলের মেরুদণ্ডের হাড় ছিলো বাঁকা, ডান পায়ের পাতা ছিলো বাইরের দিকে বাঁকানো, বাম পা ডান পায়ের চেয়ে ৬ সেন্টমিটার ছোট এবং ভিতরের দিকে বাঁকানো ছিলো। সাধারণভাবে চিন্তা করলে আমরা এ ধরণের কোনো মানুষকে প্রতিবন্ধী বলেই আখ্যা দেবো। ম্যানুয়েল ছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী। নিজের বয়সের ছেলেদের তুলনায় ছিলেন খুবই খর্বাকৃতির। তাঁর বোন রোসা এজন্য তাঁকে ডাকতেন ‘গারিঞ্চা’ নামে। গারিঞ্চা হলো এক ধরণের ছোট পাখি। তাঁর যখন ৪ বছর বয়স এই গারিঞ্চা নামটি তাঁর বন্ধু এবং পরিবারের কাছে পরিচিত হয়ে উঠলো। ফলে সবাই তাঁর আসল নাম ম্যানুয়েল ভুলে গিয়ে গারিঞ্চা ডাকা শুরু করল।

“দ্যা গ্রেটেস্ট থ্রি মিনিটস ইন ফুটবল হিস্ট্রি” একজন ফুটবল প্রিয় সমর্থক এর কাছে হয়তোবা এই বিষয়টা অজানা নয় আর এই বিস্ময়কর ঘটনার জন্মদাতা গারিঞ্চা এর কথাই বলতেছি যাকে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তাদের অফিসিয়াল ট্রিবিউটে তাকে বর্নণা করেছে একটি নামে; “দ্যা চ্যাপলিন অফ ফুটবল”ফুটবলের চ্যাপলিন । কখনও তাকে বলা হয়েছে “দ্যা ফরগটেন লিজেন্ড”আবার আবার কখনও তাকে প্রবল ভালোবাসায় ‘ও আঞ্জো ডি পারনাস টর্টাস’নামে অবিভূত করা হয়েছে।

শারীরিক গঠনের দিক থেকে দেখলে মনে হবে সে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধ কিন্তু মানসিক দিক দিয়ে অন্য যে কারো থেকে অনেক অনেক গুণ বেশী বুদ্ধিমান ।শারীরিক দূর্বলতা নিয়ে জন্মগ্রহনের কারনে বার বার তাকে নিজেকে প্রমাণ করতে দেওয়া হই নি ,সহ্য করেছেন অনেক অপমান , অনেক কষ্ট ।বাঁকা পা নিয়ে ফুটবল খেলবে ? যেই দেখতো-শুনতো সেই একটা উপহাস আর অবিশ্বাস মিশ্রিত চোখে ইগনোর করতো তাকে,তারপরেও দমে যান নি এই মহান প্লেয়ার ।
একে একে অনেক ব্যর্থতার পরে ,অনেক তিরস্কার ,উপহাসের পরে , অনেক কষ্ট অনেক অপমান এর পরে অবশেষে ফুটবল ঈশ্বর কৃপা করলেন গারিঞ্চার উপরে ।ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলো এই জাদুকরের ।ট্রায়েলের সুযোগ পেলেন তৎকালীন ব্রাজিলীয়ান বড় ক্লাব বোটাফগোতে ।কিন্তু এখানেও অনেক বাঁধা, নিজেকে প্রমাণ করতে হবে বেষ্টদের বিপক্ষে । তারপরেই তো শুরু করতে পারবেন নিজেকে অনন্য পর্যায় নিয়ে যাবার অভিযান ।
বাঁকা পায়ের ছেলেটে যখন বোটাফগো ট্রেনিং গ্রাউন্ডে পৌঁছায় তখন তার সামনে খাঁড়া করা হয় জাতীয়দলের সেরা লেফটব্যাক নিল্টোন সান্তোসকে ।ট্রায়েলের সময় সবাই গারিঞ্চার অদ্ভুত বাঁকা পা দেখতে পেলেন,নিল্টন সান্তোস তাকে এ নিয়ে স্লেজিংও করতে লাগলেন ।আর গারিঞ্চা কি করলেন? সিম্পল, তিনি ন্যাশনাল টিমের দেশ সেরা লেফট ব্যাককে ড্রিবল করে চলে গেলেন !!!
ট্রায়াল শেষে নিল্টন সান্তোস গারিঞ্চাকে নিয়ে ক্লাব প্রেসিডেন্টের কাছে গেলেন আর বললেন;এই প্লেয়ারটাকে তাড়াতাড়ি সাইন করো, যাতে আমাকে তার বিপক্ষে খেলতে না হয় !
১৯ জুলাই ১৯৫৩ তে বোটাফোগোর হয়ে অভিষেক হয় গারিঞ্চার। ম্যাচটি বনসাক্সেসোর বিপক্ষে। নিজের প্রথম ম্যাচেই তাঁর দল জেতে ৫-০ গোলে। আর গারিঞ্চা? তিনি করেছিলেন হ্যাট্ট্রিক! এরপর গারিঞ্চা নিয়মিত তাঁর প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে যেতে লাগলেন। তিনি এবং জুনিনিহো মিলে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে নতুন এক ধরণের আক্রমণাত্মক মেজাজ নিয়ে আসেন। গারিঞ্চা দুর্দান্ত খেললেও ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিল জাতীয় দলে ডাক পান নি।এতে তাঁর জেদ আরো চড়ে যায়। ১৯৫৭ সালে বোটাফোগোকে ক্যাম্পেনাও কারিয়োকা জেতান। সেখানে ২৬ ম্যাচে ২০ গোল করেন গারিঞ্চা। যা ছিলো ওই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই পারফরম্যান্স তাঁকে ১৯৫৮ বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাইয়ে দেয়।

১৯৬২ বিশ্বকাপের পর গারিঞ্চা রিও তে ফিরে আসেন। ১৯৬২ সালে ফ্লাম্যানঙ্গোকে হারিয়ে বোটাফোগোকে আবারও ক্যাম্পেনাও কারিয়োকা জেতান। গারিঞ্চা ১২ বছর খেলেছিলেন বোটাফোগোর হয়ে। তাঁর ক্যারিয়ারই ছিলো ১৯ বছরের। অর্থাৎ বোটাফোগোতে বেশিরভাগ কাটান গারিঞ্চা। বোটাফোগোর হয়ে ৩ বার ক্যাম্পেনাও কারিয়োকা জেতেন যা ছিলো ব্রাজিলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা। সব মিলিয়ে বোটাফোগোর হয়ে ৫৮১ ম্যাচে ২৩২ গোল করেন। এবং তিনি বোটাফোগোর সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় এবং ক্লাবের প্রতীকও বটে।

১৯৬৬ সালে গারিঞ্চাকে করিন্থিয়ান্সের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। তাঁদের হয়ে মাত্র ১৩ ম্যাচে খেলেন গারিঞ্চা। করেন ১০ গোল। এর দুই বছর পর নিজ দেশ ছেড়ে কলম্বিয়ার পর্তুগিজা কারিয়োকা তে যোগ দেন। সেখানে ৩৩ ম্যাচে করেন ৭ গোল। একই বছর আবারও নিজ দেশের টান অনুভব করেন গারিঞ্চা। ফিরে আসেন ব্রাজিলের ফ্লাম্যাঙ্গোতে। ফ্লাম্যাঙ্গোর হয়ে ২৪ ম্যাচে করেন ৪ গোল। এরপর চলে যান ওলারিয়াতে। সেখানে ৭ ম্যাচে করেন ৭ গোল।গারিঞ্চা ক্লাবে যেমন ছিলেন রাজা তেমনি জাতীয় দলে ছিলেন সম্রাট। ১৯৫৪ বিশ্বকাপের দলে জায়গা পান নি। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে নিজের যোগ্যতা দেখিয়ে নির্বাচকদের বাধ্য করেন তাঁকে দলে নিতে। অবশ্য এর আগেই ১৯৫৫ সালে জাতীয় দলে তাঁর অভিষেক হয় চিলির বিপক্ষে। জাতীয় দলে খেলেছেন ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৬ পর্যন্ত। ঠিক সেই সময় উত্থিত হয়েছিলনের ফুটবল আকাশের আরেক নক্ষত্র, কালোমানিক পেলে। পেলে এবং গারিঞ্চা কে নিয়ে ব্রাজিলের আক্রমণ হয়ে গেলো ঠেকানোর অসাধ্য।

গারিঞ্চা এবং পেলে যে ম্যাচে একসঙ্গে খেলেছেন সে সব ম্যাচে কখনো হারে নি ব্রাজিল। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে অর্থাৎ গারিঞ্চার শেষ বিশ্বকাপে হাঙ্গেরির কাছে একটি ম্যাচে হেরে যায় ব্রাজিল, কিন্তু সেই ম্যাচে গারিঞ্চা খেললেও পেলে খেলেন নি।১৯৫৮ বিশ্বকাপ শুরুর এক মাস আগের কথা। ইতালির ফিওরেন্তিনার বিপক্ষে বোটাফোগোর খেলা। গারিঞ্চার পায়ে বল এলো, একে একে গোলকিপারসহ ৪ জন কে কাটালেন, সামনে ফাঁকা গোলপোস্ট। টোকা দিলেই গোল। কিন্তু এ কি! গারিঞ্চা গোলপোস্টের সামনে গিয়ে থেমে গেলেন। কেবল থামলেনই না, পিছন ঘুরে দাঁড়ালেন। তিনি আসলে অপেক্ষা করছিলেন একজন ডিফেন্ডার ছুটে আসার জন্য, একজন এগিয়েও এলো তাঁকে থামাতে, কিন্তু কিসের কি! গারিঞ্চা তাকেও কাটালেন, এরপর গোল করলেন! তাঁর এই অবিশ্বাস্য কান্ডকারখানাতে তিনি ও তাঁর সতীর্থরা মজা পেলেও বোটাফোগোর কোচ খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন প্রতিপক্ষকে এভাবে অসম্মান করায়। তাতে গারিঞ্চার কি এসে যায়!

শুরু হলো ১৯৫৮ বিশ্বকাপ। ব্রাজিলের প্রথম ২ ম্যাচে গারিঞ্চাকে মাঠে নামানো হলো না। যদিও ম্যাচ ২ টি ব্রাজিল জিতে। এরপর ৩য় ম্যাচে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে গারিঞ্চা নামলেন। একই ম্যাচে অভিষেক হলো পেলের! সোভিয়েতরা ছিলো ফুটবল পরাশক্তি। তাদেরকে সেই বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার মনে করা হয়েছিলো। ব্রাজিল কোচ ভিসেন্তে ফিওলা প্রতিপক্ষকে ভড়কে দিতে ফন্দি আঁটলেন। বুদ্ধিটি ছিলো কিক অফের সাথে সাথে সোভিয়েত কে আক্রমণ করা। কিক অফ করার সাথে সাথে বল পেলেন গারিঞ্চা। তিন জনকে কাটিয়ে শট নিলেন, তাঁর শট ফিরে এলো পোস্টে লেগে। এরপর ম্যাচের ১ মিনিটও যখন পার হয় নি, গারিঞ্চা বল সাজিয়ে দিলেন পেলেকে। পেলের শটও ফিরে এলো ক্রসবারে লেগে! সেই সময়টাকে বলা হয় ফুটবলের সেরা তিন মিনিট। ব্রাজিল ম্যাচটি জেতে ২-০ গোলে। কোয়ার্টারে সামনে পড়ে ওয়েলস।

ব্রাজিল ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় পায়।সেই ম্যাচের পরে ওয়েলস ডিফেন্ডার মেল হপকিন্স গারিঞ্চাকে নিয়ে বলেন-

‘গারিঞ্চা পেলের থেকেও ভয়ংকর। সে একজন ফেনোমেনন এবং তাঁর অদ্ভূত ক্ষমতা আছে, তাঁর পায়ের অসামঞ্জস্যের কারণে বুঝা যায় না সে কোনদিকে যাবে, সে ডান দিকেও যেতে পারে আবার বাম পাকে ডান পা হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। আর তাঁর জোরালো শট তো আছেই’।

ফাইনালে মুখোমুখি ব্রাজিল-সুইডেন। ব্রাজিল ১-০ তে পিছিয়ে পড়ল। কিন্তু একটু পরেই গারিঞ্চার গতির তোড়ে তাঁর মার্কার ছিটকে গেল, গারিঞ্চা ভাভার উদ্দেশ্যে ক্রস বাড়ালেন, ভাভা সমতা ফেরালেন। প্রথমার্ধ শেষ হবার কিছুক্ষণ আগে ঠিক একইভাবে গারিঞ্চা ভাভাকে বল বাড়ালেন, ভাভাও ঠিক একইভাবে গোল করে ব্রাজিলকে ২-১ এ এগিয়ে দিলেন। ব্রাজিল প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতলো, দুঃখে প্রলেপ পড়ল মারাকানা ট্র্যাজেডির এবং গারিঞ্চা বিশ্বকাপের সেরা একাদশে জায়গা পেলেন।গারিঞ্চার সতীর্থরা যখন বিশ্বকাপ জয় উদযাপন করছিলেন, গারিঞ্চা এক পাশে বিমর্ষ মনে বসে ছিলেন। আসলে গারিঞ্চা এমনকি ফুটবলের নিয়মগুলোই ভালো করে জানতেন না। তিনি ভেবেছিলেন বিশ্বকাপও লিগের মতো আর ব্রাজিল প্রত্যেক দলের সাথে দুবার করে খেলবে!

১৯৬৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল গেল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। গারিঞ্চা তখন হাঁটুর মারাত্মক ইঞ্জুরিতে ভুগছেন। তবুও প্রথম ম্যাচে তিনি খেললেন, ব্রাজিল বুলগেরিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতলো, গারিঞ্চা ফ্রি কিক থেকে একটি গোলও করলেন, যেটি আবার তিনি ডান পায়ের বাইরের দিক দিয়ে নিয়েছিলেন। পরের ম্যাচে গুডিসন পার্কে ব্রাজিল হাঙ্গেরির কাছে ৩-১ গোলে হেরে গেল, ব্রাজিলের হয়ে এই একটি ম্যাচেই গারিঞ্চা হেরেছিলেন, কাকতালীয়ভাবে এটিই ছিলো ব্রাজিলের হয়ে তাঁর শেষ ম্যাচ। কারণ হাঁটুর ইঞ্জুরি এতটাই প্রকট আকার ধারণ করেছিল যতে তাঁর ক্যারিয়ারই সংশয়ের মুখে পড়ে যায়।

পরের ম্যাচে ব্রাজিল পর্তুগালের কাছে হেরে যায় এবং প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয়। গারিঞ্চা ব্রাজিলের হয়ে ৫০ ম্যাচে ১২ গোল করেন।১৯৭৩ সালে গারিঞ্চা অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর বয়স হয়ে গিয়েছিল ৪০। অবসরের সিদ্ধান্ত নেবার আরেকটি কারণ ছিলো, প্রথমবারের মতো নানা হয়েছিলেন গারিঞ্চা। তাঁর মেয়ে এডেনি আলেক্সান্দ্রা নামক এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়।

১৯ ডিসেম্বর ১৯৭৩ এ গারিঞ্চার শেষ ম্যাচ আয়োজন করা হয়, এতে মুখোমুখি হয়েছিল ফিফা বিশ্ব একাদশ এবং ব্রাজিল। ম্যাচটি হয়েছিল মারাকানা স্টেডিয়ামে। ম্যাচটি দেখতে এসেছিল প্রায় ১ লক্ষ ৩১ হাজার দর্শক। ফিফা বিশ্ব একাদশে মূলত আর্জেন্টাইন এবং উরুগুইয়ান খেলোয়াড়েরাই ছিলেন। অপরদিকে ব্রাজিল দলে খেলেছিলেন পেলে, কার্লোস আলবার্তো সহ ১৯৭০ বিশ্বকাপজয়ী দলের কয়েকজন সদস্য। গারিঞ্চা প্রথমার্ধ খেলেছিলেন। ম্যাচের এক পর্যায়ে রেফফারি খেলা থামিয়ে দেন যাতে গারিঞ্চা উঠে যেতে পারেন। গারিঞ্চা উঠে যাওয়ার সময় সকল দর্শকসহ খেলোয়াড়েরা তাঁকে অভিবাদন জানায়। গারিঞ্চার মাঠ থেকে বেড়িয়ে যাবার মধ্যে দিয়ে শেষ হয় একটি যুগের।গারিঞ্চা যতটা না ভালো ফুটবলার ছিলেন তাঁর থেকে ভালো মদখোর ছিলেন।

বিপিএল ২০১৭ : যত কথা

Now Reading
বিপিএল ২০১৭ : যত কথা

টি-টুয়েন্টি মানেই ধুমধাড়াক্কা চার-ছয়ের খেলা। টি-টুয়েন্টি মানেই টানটান উত্তেজনা, ব্যাটে-বলে স্টেডিয়াম মাতানো, গ্যালারীতে গলা ফাটিয়ে চিৎকার কিংবা চিয়ার লিডার্সদের নাচ। ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত আসর আজ ঘর থেকে বাইরে প্রতিটি জায়গায় সমানভাবে জনপ্রিয়। অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক বেশি বিনোদন দিতে পারে বলে দিনদিন এর কদর বেড়েই চলেছে। ২০০৩ সালে ইংল্যান্ডে প্রথম এর যাত্রা শুরু হলেও আইসিসির তত্বাবধানে সর্বপ্রথম টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় সাউথ আফ্রিকায়, ২০০৭ সালে। ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত আসরের ব্যাপক জনপ্রিয়তা লক্ষ্য করে ২০০৮ সালে প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রথমবারের মত শুরু হয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্ট যা আইপিএল নামে খ্যাত। বাংলাদেশে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক ক্রিকেট “বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ” বা বিপিএল শুরু হয় ২০১২ সালে। সে বছর ছয় দলের খেলায় চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। যদিও বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার জন্য খুব একটা ভালোভাবে টুর্নামেন্ট সম্পন্ন না হলেও ক্রিকেটপাগল বাংলাদেশীদের মধ্যে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলে বিপিএল। ম্যাচ ফিক্সিং এর কেলেংকারিতেও জড়িয়ে পড়ে বিপিএল, ফলে মাঝে কয়েকবছর বন্ধ থাকে বিপিএল ক্রিকেটের এই ধুমধাড়াক্কা আয়োজন। তবে বিগত দুই বছর যাবত আবার শুরু হয়েছে বিপিএল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালেও মাঠে গড়াচ্ছে চার-ছয়ের এই মহারথী।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক  বিপিএল ২০১৭ কে ঃ

আয়োজক ঃ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং বিপিএল গভর্নিং কাউনসিল

আসরের শুরু ঃ ৪ নভেম্বর, ২০১৭

ফাইনাল ঃ ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭

মোট দল ঃ ৭ টি

ঢাকা ডায়নামাইটস, রাজশাহী কিংস, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, চিটাগং ভাইকিংস, খুলনা টাইটানস, রংপুর রাইডার্স এবং সিলেট সিক্সার্স

(উল্লেখ্য, গতবারও ৭ টি দল নিয়েই বিপিএল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে এবার গতবারের দলের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বরিশাল বুলস এবং নতুন যোগ হয়েছে সিলেট সিক্সার্স।)

ভেন্যু ঃ ৩টি

শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ঢাকা

জহুর আহম্মেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম

সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম, সিলেট

মোট ম্যাচ ঃ ৪৬ টি

 

একনজরে বিপিএল ২০১৭ এর দলগুলো ঃ

১। ঢাকা ডায়নামাইটস ঃ

স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান – বেক্সিমকো গ্রুপ

আইকন প্লেয়ার – সাকিব আল হাসান

দেশি প্লেয়ার –

মেহেদি মারুফ, নাদিফ চৌধুরী, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, জহুরুল ইসলাম, সাদমান ইসলাম, সাকলাইন সজীব, মোহাম্মাদ শহীদ, আবু হায়দার রনি, নূর আলম সাদ্দাম, সৈয়দ খালেদ আহম্মেদ

বিদেশি প্লেয়ার –

শাহীদ আফ্রিদি, শেন ওয়াটসন, কাইরেন পোলার্ড, কুমার সাঙ্গাকারা, সুনীল নারাইন, মোহাম্মাদ আমির, শাহিন আফ্রিদি, নিরোশান ডিকোয়েলা, গ্রায়েম ক্রেমার, কেভন কুপার, রন্সফর্ড বিটন, এভিন লুইস, রভম্যান পাওয়েল, আসেলা গুনারত্নে, জো ডেনলি, ক্যামেরন ডেলপর্ট এবং আকিল হোসেন।

 

22310230_1856686071328474_7116432649622987907_n.jpg

 

 

২। রাজশাহী কিংস ঃ

স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান – ম্যাংগো এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড

আইকন প্লেয়ার – মুশফিকুর রহিম

দেশি প্লেয়ার –

মোস্তাফিজুর রহমান (উল্লেখ্য, প্রথমে তিনি ছিলেন বরিশাল বুলসের আইকন প্লেয়ার। পরবর্তীতে বরিশাল বুলস টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়লে তাকে দলে নেয় রাজশাহী কিংস), মুমিনুল হক, মেহেদি হাসান মিরাজ, ফরহাদ রেজা, রনি তালুকদার, জাকির হাসান, নাঈম ইসলাম জুনিয়র, কাজী অনিক, নিহাদুজ্জামান

বিদেশি প্লেয়ার –

ড্যারেন সামি, লুক রাইট, জেমস ফ্র্যাঙ্কলিন, লেন্ডল সিমন্স, সামিত পাটেল, মোহাম্মাদ সামি, কেসরিক উইলিয়াম, মালকম ওয়ালার, রাজা আলী দার এবং উসামা মীর।

৩। কুমিল্লা ভিক্টরিয়ান্স ঃ

স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান – লিজেন্ডস স্পোর্টিং

আইকন প্লেয়ার – তামিম ইকবাল খান

দেশি প্লেয়ার –

ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, আল-আমিন হোসেন, আরাফাত সানি, মোহাম্মাদ সাইফুদ্দিন, অলক কাপালি, রকিবুল হাসান, মেহেদি হাসান, মেহেদি হাসান রানা, মোহাম্মাদ এনামুল

বিদেশি প্লেয়ার –

মারলন স্যামুয়েলস, কলিন মুনরো, ড্যারেন ব্রাভো, ডোয়াইন জনসন ব্রাভো, শোয়েব মালিক, ফাখার জামান, এঞ্জেলো ম্যাথেউস, জস বাটলার, সুলেমান মির, মোহাম্মাদ নবী, হাসান আলী, ফাহিম আশরাফ, রুম্মন রায়েস, রশিদ খান এবং ইমরান খান জুনিয়র।hqdefault.jpg

 

৪। চিটাগং ভাইকিংস ঃ

স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান – ডিবিএল গ্রুপ

আইকন প্লেয়ার – সৌম্য সরকার

দেশি প্লেয়ার –

আনামুল হক বিজয়, তাসকিন আহমেদ, সানজামুল ইসলাম, শুভাশিস রায়, তানভীর হায়দার, আলাউদ্দীন বাবু, ইরফান শুক্কুর, আল-আমিন জুনিয়র, নাঈম হাসান, ইয়াসির আরাফাত মিশু

বিদেশি প্লেয়ার –

মিসবাহ-উল-হক, নাজিবুল্লাহ জাদরান, দিলশান মুনাবিরা,জিরমাইন ব্ল্যাকউড, সিকান্দার রাজা, লিয়াম ডজন, জিভান মেন্ডিস, লুক রংকি এবং লুইস রিস।

৫। খুলনা টাইটান্স ঃ

স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান – জেমকন স্পোর্টস

আইকন প্লেয়ার – মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ

দেশি প্লেয়ার –

মোশারফ হোসেন রুবেল, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুক্তার আলী, আরিফুল হক, ইয়াসির আলী, আফিফ হোসেন, সাইফ হাসান, আবু জায়েদ, ইমরান আলী

বিদেশি প্লেয়ার –

সরফরাজ আহমেদ, জুনাইদ খান, রিলে রুশো, সাদাব খান, ডেভিড মালান, কার্লোস ব্রাথওয়েট, কাইল আবোট, সেক্কুগে প্রসন্ন, চ্যাডউইক ওয়ালটন, বেনি হাউয়েল এবং জোফরা আর্চার।

 

437957-logo-bpl.jpg

 

৬। রংপুর রাইডার্স ঃ

স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান – সোহানা স্পোর্টস

আইকন প্লেয়ার – মাশরাফি বিন মর্তুজা

দেশি প্লেয়ার –

রুবেল হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক, সোহাগ গাজী, শাহরিয়ার নাফিস, শামসুর রহমান, জিয়াউর রহমান, ইলিয়াস সানি, ফজলে মাহমুদ, মোহাম্মাদ মিথুন, এবাদত হোসেন, নাহিদুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম অপু

বিদেশি প্লেয়ার –

ক্রিস গেইল, ব্র্যান্ডন ম্যাককলাম, ডেভিড উইলি,  লাসিথ মালিঙ্গা, জনসন চার্লস, স্যামুয়েল বাদ্রি, থিসারা পেরেরা, রবি বোপারা, সাম হেইন, এডাম লিথ, কুশাল পেরেরা, সামিউল্লাহ সেনওয়ারি এবং জহির খান (আফগানিস্থান)।

 

৭। সিলেট সিক্সার্স ঃ

স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান – সিলেট স্পোর্টস লিমিটেড

আইকন প্লেয়ার – সাব্বির রহমান রুম্মন

দেশি প্লেয়ার –

নাসির হোসেন, তাইজুল ইসলাম, শুভাগত হোম, নুরুল হাসান সোহান, আবুল হাসান রাজু, মোহাম্মাদ শরীফ, কামরুল ইসলাম রাব্বি, ইমতিয়াজ হোসেন, নাবিল সামাদ, শরিফুল্লাহ

বিদেশি প্লেয়ার –

উপুল থারাঙ্গা, বাবার আজম, ধানুসকা গুনাথিলাকা, আন্দ্রে ফ্লেচার, উসমান খান, লিয়াম প্লাঙ্কেট, চতুরঙ্গ ডি সিল্ভা, দাসুন শানাকা, ওয়াদিনু হাসারাঙ্গা, গোলাম মুদাসসার এবং ডেভি জ্যাকবস।

বি ঃ দ্র ঃ অনুর্ধ-১৯ দলের প্লেয়ার ২২শে নভেম্বর দলগুলোতে যোগ দিয়েছে।

বিপিএল ২০১৭ এর নতুন নিয়ম অনুসারে একটি দল সর্বোচ্চ পাঁচ (৫) জন বিদেশি খেলোয়াড় মাঠে নামাতে পারবে।

মঞ্চ প্রস্তুত, খেলোয়াড়রাও নিজেদের শেষ প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছে, দলগুলোও শেষবারের মত গুছিয়ে নিচ্ছে নিজেদের। আর মাত্র ১০ দিন। তারপরই পর্দা উঠবে ৫ম বিপিএল আসরের। এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সব টাকা রোহিঙ্গাদের দান করায় এবার তেমন জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পর্দা উঠবে না বিপিএল এর। তবে টুর্নামেন্টে চার-ছয়ের জমকালো অবশ্যই থাকবে, প্রত্যাশা সকলের।

চলুন আরেকবার পুড়ো জাতি মেতে উঠি ক্রিকেট উলাসে।

হঠাৎ কেন খেয় হারিয়ে ফেলল বাংলাদেশ?

Now Reading
হঠাৎ কেন খেয় হারিয়ে ফেলল বাংলাদেশ?

চলতি সাউথ আফ্রিকা সিরিজটা মোটেও ভালো যাচ্ছে না টাইগারদের। টেস্ট সিরিজে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়ের পর ওডিআই সিরিজেও হোয়াইটওয়াশ হয়ে হতাশার ঘন কালো মেঘ ছেয়ে আছে টাইগার শিবির জুড়ে। সেই ঘন কালো মেঘের ঘনঘটা এখন বাংলাদেশের আকাশেও। সেই সুদূর সাউথ আফ্রিকা থেকে যেন শুধুই একবুক দীর্ঘশ্বাস ছুটে আসছে বাংলাদেশী সমর্থকদের দিকে। অন্তত একটা ম্যাচ জয়ের আশায় সমর্থকরা যখন বুক বেঁধে ছিলেন, তখনও টাইগাররা তাদের আফসোস ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেন নি। ওডিআই সিরিজগুলোতে বাঘের মত লড়াই করা সেই বাংলাদেশ হঠাৎ কিভাবে খেয় হারিয়ে ফেলল এই প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনজুড়েই। এদিকে অনেক উড়ো খবর সেই প্রশ্নগুলোর উত্তরকে উসকে দিচ্ছে যেন। টেস্ট সিরিজে মুশফিকের ক্যাপ্টেন্সি নিয়ে জটিলতা কিংবা কোচের সঙ্গে তামিমের মনোমালিন্য কোনকিছুই বাদ যাচ্ছে না সমর্থকদের মন থেকে।

বিগত দুই তিনবছর ধরে ঘরের মাটিতে টাইগারদের একের পর এক সাফল্য প্রতিবেশী ক্রিকেট খেলা দেশগুলোকে ঈর্ষান্বিত করেছে। ঘরের মাটিতে ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড এমনকি সাউথ আফ্রিকাকেও হারিয়ে দেওয়া সেই বাংলাদেশ আজ কেমন যেন নিষ্প্রভ। তবে কি শুধু হোম গ্রাউন্ডের সুবিধা নিয়েই এতটা পথ হেঁটেছে টাইগাররা? এ কথা মানতে নারাজ বাংলাদেশী ক্রিকেটবোদ্ধারা। “নড়াইল এক্সপ্রেস” খ্যাত মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে ওডিআই সিরিজগুলোতে যেভাবে দাপট দেখিয়েছে টাইগাররা তাতে কে বলবে শুধু হোম গ্রাউন্ডের সুবিধাই তাদের সাফল্য এনে দিয়েছে? তবে হ্যাঁ, চেনা মাঠের সাথে পরিচিত আবহাওয়ার তো একটা ভালো সুযোগ সুবিধা আছে, তা একেবারে অস্বীকার করা যায় না।

গত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলা বাংলাদেশের যোগ্যতা নিয়ে আর কথা বলার হয়তো দরকার নেই। তবে হঠাৎ সেই জেগে ওঠা দলটির এমন ভরাডুবির পেছনে কি কারণ থাকতে পারে তা নিয়ে অনেক গুঞ্জন চলছে। ২২ গজের পিচে বারবার হতাশ করা সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস কিংবা হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমানের বদলি কেউ কি পারতেন বাংলাদেশকে ভরাডুবির হাত থেকে বাঁচাতে? ভক্তদের আন্দোলনের ফসল হিসেবে দলে আসা নাসির হোসাইন কি খুব একটা সুবিচার করতে পেরেছেন নিজের নামের প্রতি? তাসকিন আহমেদের বোলিং এ রানের বন্যায় কি আল-আমিন হোসাইন পারতেন উইকেট শিকারী হতে? সব প্রশ্নের সাথেই একটা “হয়তো” থেকেই যাচ্ছে। যেখানে ঘরোয়া লিগে তিন সিজনে প্রায় তিন হাজার রান করা শাহরিয়ার নাফিস নিজে আফসোস করে টিম ম্যানেজমেন্টের দরজায় কড়া নাড়েন, সেখানে রান খড়ায় থাকা সৌম্য-ইমরুলকে বারবার সুযোগ দেওয়াটা কি কোন পক্ষপাতিত্য ইঙ্গিত করে? ভক্তদের মনে এখন সেই শাহরিয়ার নাফিস বা আনামুল হক বিজয়রাই সৌম্য-ইমরুলের বদলি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন। কিন্তু প্রধান কোচ হাতুরুসিঙ্গহের কষা ছকে কি আছে কে জানে!

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের “ডন ব্র্যাডম্যান” হিসেবে মুমিনুল হককেই মানেন ভক্তরা। নিজের ডেব্যু টেস্ট থেকেই স্বমহিমায় জ্বলছিলেন তিনি। তার রানের গড়ও ছিল আশির উপরে। অথচ সেই রান মেশিনও ছিলেন টেস্ট সিরিজে ঘুমন্ত। বড় ইনিংস খুব একটা আসে নি তার ব্যাট থেকে। বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপ শক্ত করতে তার যে ভূমিকা ছিল তাতে তিনি অনেকটাই পিছিয়ে ছিলেন। যদিও তার ব্যাটের দিকে তাকিয়ে ছিল অনেক টেস্টপ্রেমী ভক্ত।

দেশের মাটিতে জ্বলে ওঠা তরুণ অফ স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজও টেস্ট সিরিজে ছিলেন আলোচনার বাইরে। মিরপুরের মাটিতে তার যে টার্ন প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানদের উইকেটে থিতু হওয়ার সুযোগ দিত না, সেই টার্ন সাউথ আফ্রিকার এই পিচে কেমন যেন আড়ালে রয়ে গেল। নামের প্রতি সুবিচার করতে পারলেন না মিরাজ। মোস্তাফিজও পারেন নি প্রত্যাশা ভালোভাবে পূরণ করতে, সাথে আরো হতাশায় ডুবিয়েছেন ইনজুরিতে পড়ে। এখন ফিরে আসাটাই তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের মত সিনিয়র খেলোয়াড়রাও দলকে পর্যাপ্ত সাপোর্ট দিতে পারেন নি প্রয়োজনে।

লিটন দাস বহুদিন রান খরায় থাকার পর এই ট্যুরে রানে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এটা অবশ্যই ভালো খবর বাংলাদেশের জন্য। টিম ম্যানেজেন্টের জন্য হয়তো আরো ভালো খবর নিয়ে আসছেন লিটন। উইকেটের পেছনে তার বেশ কিছু ভালো ক্যাচ বাংলাদেশ দলে একজন ভালো উইকেটরক্ষকেরই যে আভাস দিচ্ছে। বিশেষ করে টেস্ট সিরিজে সাউথ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান বাভুমা’র যে ক্যাচটি তিনি নিয়েছেন তাতেই তিনি উইকেটের পেছনে নিজের শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছেন। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে এই লিটনই হবেন উইকেটের পেছনে বাংলাদেশের একজন যোগ্য কান্ডারি।

পুরো টেস্ট সিরিজে যে মানুষটাকে বাংলাদেশের ক্রিকেট আর ক্রিকেটপ্রেমীরা মিস করেছে, তিনি সাকিব আল হাসান। ব্যাটে-বলে বারবার মুখ থুবড়ে পড়া বাংলাদেশ যেন তখন সাকিবকেই ডেকেছে বারবার। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের দল সুদূর সাউথ আফ্রিকার মাটিতে নাকানিচুবানি খাচ্ছে, এটা অনেকেই মেনে নিতে পারছিলেন না। তার হঠাৎ বিশ্রামে যাওয়ার সিদ্ধান্তে যে সমালোচনা শুরু হয়েছিল তাতেই যেন আগুন উস্কে দিয়েছিল এই ব্যাটিং-বোলিং ব্যর্থতা। তবে তিনি কেন “নাম্বার ওয়ান” তার প্রমাণ ওডিআই সিরিজে ভালোভাবেই দিয়েছেন সাকিব। এতে সেই সমালোচনায় অবশ্য ভাটা পড়েছে কিছুটা। এখন টি-টুয়েন্টিতে তার অলরাউন্ড দক্ষতা দেখতে সবাই অধির আগ্রহ নিয়ে বসে আছে।

এই ব্যর্থতার জন্য হয়তো টিম ম্যানেজমেন্টের ভুল সিদ্ধান্তই বেশি দায়ী। খেলোয়াড়দের সাথে অনেকে কোচ-কর্মকর্তাদের সম্পর্ক যে ভালো যাচ্ছে না তা টেস্ট সিরিজ চলাকালীন মুশফিকুর রহিমের প্রেস কনফারেন্স থেকেই বোঝা গেছে। একজন অধিনায়ক যখন মাঠে থেকে দলের কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, সেক্ষেত্রে টিম ম্যানেজমেন্ট অবশ্যই এই ব্যর্থতার দায়ভার নিতে বাধ্য। ধোনীর অধিনায়কত্বে ভারত যে কয়টা ম্যাচ জিতেছে তার প্রায় অধিকাংশতেই দর্শকরা মাঠে ধোনীর বুদ্ধিমত্বার পরিচয় পেয়েছেন। শুধু নামে অধিনায়ক হয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের হাতের পুতুল হওয়া একটা মানুষের নেতৃত্বে একটা দল কতটুকুই আগাতে পারবে তা নিয়ে অনেকেই সন্দীহান।

এছাড়াও অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবালের সাথে কোচের দ্বন্দ্বও প্রকাশ্যে চলে এসেছে এবার। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে উড়ো সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে যে দলের অনুশীলনেও নাকি কোচ-তামিম দ্বন্দ্ব দেখা গেছে। এটাকেও একটা কারণ মনে করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। নইলে ইনজুরি থেকে ফিরে ওডিআই খেলতে মুখিয়ে থাকা দেশের অন্যতম সেরা এই রান মেশিনকে কেনই বা প্রথম ওডিআই ম্যাচে বসে থাকতে হল শুধুই দর্শক হয়ে? সাউথ আফ্রিকার রানের বন্যার বিপরীতে রান তুলতে খুঁড়িয়ে চলতে থাকা বাংলাদেশ দল হয়তো বেশি মিস করেছে এই ওপেনারের ব্যাটটাকে। হয়তো তামিমও আফসোস করেছেন বসে বসে।

মাঠ এবং পিচের কন্ডিশন নিয়েও হয়েছে অনেক কথা। যেখানে ট্যুর শুরুর আগে সবাই কেপটাউন কিংবা  জোহানেসবার্গে জমজমাট একটা ক্রিকেট ম্যাচের কথা চিন্তা করছিলেন, হঠাৎ তারা যেন আকাশ থেকে পড়লেন। বাফেলো পার্কের নাম শুনে হয়তো অনেকেই চিন্তা করছিলেন আদৌ এই নামে কোন ক্রিকেট স্টেডিয়াম আছে কি না! যেসব স্টেডিয়াম বছরের বেশিরভাগ সময় থাকে তালাবন্ধ, সে স্টেডিয়ামগুলোতেই আপ্যায়ন করা হল টাইগারদের। না ছিল আউটফিল্ড ভালো, না ছিল গ্যালারীর অবস্থা ভালো। এটাকে ঠিক অপমান বা হেয় করা বললে ঠিক হবে কি না জানা নেই, তবে এর জবাব মাঠে দিতে ব্যর্থ ছিল টাইগাররা। যদিও সে সুযোগ তৈরিও করতে পারে নি তারা।dwaine-pretorius-returned-figu.jpg

টেস্ট-ওডিআই এর এমন ভরাডুবির পর টি-টুয়েন্টিই শেষ ভরসা। দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের আশা টেস্ট-ওডিআই এর সকল হতাশা মুছে অন্তত এই টি-টুয়েন্টি সিরিজে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। কোচ-টিম ম্যানেজমেন্টেরও পালন করতে হবে গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব। দেখা যাক এই আশার কতটুকু মূল্যায়ন করতে পারে মাশরাফি-সাকিব-মুশফিকরা।

সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাফল্য

Now Reading
সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাফল্য

বাংলাদেশ খারাপ খেললে খারাপ লাগে।  রাগে দুঃখে মনে হয় অার কখনও বাংলাদেশের খেলাই দেখবো না। শেষমেশ আবার দেশপ্রেম টানের কারণে আবার  অাশায় অাশায় বাংলাদেশের খারাপ খেলার সাক্ষি হয়ে রই। ক্রিকেট খেলা মানে কি শুধু বড় বড় শট খেলার নাম।  সিঙ্গেল, ডট বল বেশি না করে, খারাপ বলগুলোকে বাউন্ডারি করাই তো পেশাধারী ব্যাটসম্যানের গুণ।  অার অামাদের বাঙ্গালী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে যেটা দেখা যায়।

আমাদের বাংলাদেশের প্লেয়ারদের মধ্যে একটা জিনিস খুবই ভালভাবে দেখা যায়। সেটা হলো নার্ভাসনেস। যা বাংলাদেশের প্লেয়াররা কখনোই দূর করতে পারে না। আর এর কারণেই আমাদের হারতে হয়। সাথে সাথে ভেঙে পড়ে মন মানসিকতা আর জিতার জন্যে যে প্রবল মনটা দরকার সেটা আর পরবর্তী ম্যাচে পাওয়া যায় না।

আমরা ভালভাবে দেখলে বুঝতে পারবো যে, বাংলাদেশ কখনোই বড় টার্গেটের ম্যাচ জিততে পারে না। তাই বাংলাদেশের শুরু থেকে বড় লক্ষ্যের জন্য রান রেট ৬ এর কাছাকাছি রেখে অাগানো উচিৎ। কিন্তু তা তারা পারে না। যার ফলে আমাদের হারতে হয়। বাংলাদেশ দেশের মাটিতে ভাল করে কিন্তু তাই বলে এটা না যে বাংলাদেশ অনেক বড়।

এখন আসা যাক বাংলাদেশ এবং সাউথ আফ্রিকার সিরিজ প্রসঙ্গে____

নিকট অতীতে সৌম্য, লিটনের মতো এমন অমানবিক তথা খুবই খারাপভাবে সমালোচনা কোনো প্লেয়ারকে সহ্য করতে হয় নি। সৌম্য একদিন স্মিথের মতো খাঁটি সোনায় রূপান্তরিত হবেন। কিন্তু আবারও বলতেছি, দলে আসা নতুন একটা প্লেয়ার নিয়ে সমালোচনা করতে হলে তাকে তার যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে। তারা আসলেই একটু বেশি দুর্ভাগা। এজন্য আসলে তাদের ধর্ম দায়ী কিনা আমার আসলেই জানা নেই। প্রসঙ্গ লিটন কুমার দাশ যাকে আমরা ঘরোয়া  লিজেন্ড আবার হিন্দু কোটার প্লেয়ারও বলে থাকি। এই প্লেয়ার সম্পর্কে সবারই কম বেশি নেগেটিভ কথা বার্তা শুনে থাকি। কিন্তু এই প্লেয়ারটাকে আমরা কি ঠিক ভাবে সময় দিছি বলেন। ২ বছরে সে কতগুলো ম্যাচ খেলছে। সে মাত্র ২ বছরে ৬টি টেষ্ট খেলেছে। তাহলে এখন বলা যায় সে কি নিয়মিত খেলতেছে। যেখানে নিয়মিত খেলতে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে এই প্লেয়ারটি যতটুকু পারে নিজেরটাই দিয়ে খেলে। আমরা বাঙালীরা তো জাতে মাতাল তালে ঠিক। এটা আর নতুন কি কথা। তাই বলতে বাধ্য হচ্ছি লিটনকে আরও বেশি বেশি টেষ্ট খেলার সুযোগ করে দেয়া হোক। অন্য প্রসঙ্গে চলে গেলাম খেলায় আসা যাক_

আমাদের অধিনায়ক আর ম্যানেজম্যান্টের ভুল সিদ্ধান্তে দক্ষিণ আফ্রিকায় হারের বৃত্তে বন্দি হয়েছিল বাংলাদেশ। এর আগেও বাংলাদেশ দেশের মাটিতে ছাড়াও বাহিরে বহুবার খেলেছে এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ইডেন-লডর্স , মেলর্বোন-পাল্লেকেল্লে অথবা গাদ্দাফি স্টেডিয়াম সব জায়গাতেই কম-বেশি স্বাগতিকদের মুখোমুখি হয়েছে টাইগাররা।  ইতিমধ্যে টেষ্টে লজ্জা জনক ভাবে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথমটিতে ৩৩৩ রানে হেরেছে এবং  তাও আবার দ্বিতীয় ইনিংসে ১০০ রানের ভেতর বন্দি হয়ে। তার পর দ্বিতীয় ম্যাচে রান ও ইনিংস ব্যবধানে। এগুলা কি মশকারি বলেন।

২০১৭ সালে আমরা ৯ টি টেষ্ট ম্যাচ খেলেছি। এর মধ্যে এশিয়ার বাইরে ৪টি। তারমধ্যে ২টি জয়, বাকি ৭টি ম্যাচ হেরেছি আমরা। আর এই ৯ ম্যাচে আমাদের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের কোনো সেঞ্চুরিই নেই। এটা নিয়ে আর কি বলবো। অন্যদিকে লোয়ার মিডল অর্ডার এবং লোয়ার অর্ডারের ব্যাটিং পারফরম্যান্স হতাশাজনক ২০১৬ সাল এবং ২০১৭ সাল ধরে।

বোলিংয়ের দিকে চোখ দেন , এই ৯ টেস্টে সাকিব ২ বার ৫ উইকেট নিয়েছেন। বাকিদের পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্য না। একা সাকিব কি টেষ্ট খেলে। এই যদি হয়  টেস্ট টিমের পুরো বছরের পারফরম্যান্স, তাহলে আপনাকে মানতেই হবে টেস্ট টিম হিসেবে আপনার টিম মোটামুটি ভালো অবস্থানেও নেই।

প্রোটিয়াদের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে ইনজুরিতে পড়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে পারেননি টাইগার দলের পরীক্ষিত ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। ওয়ানডে সিরিজের পূর্বে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচেও সাইড বেঞ্চে বসে কাটিয়েছেন তিনি। এমনকি সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেও দলে ছিলেন না এই ওপেনার। আর শেষ অবদি তাকে আর মাঠে দেখাও গেল না। আর তার অনুপস্থিতে কি আমাদের ওয়ানডেতে হোয়াট ওয়াশ হতে হলো।

আর একটা কথা  মুমিনুল, মাহমুদুল্লাহ, কায়েস, তাসকিন আপনাদের প্রিয় খেলোয়াড়, তাই অতি জঘন্য পারফরম্যান্স করলেও তাঁদের আপনারা দলে চাইবেন। তাদের বিন্দুমাত্র সমালোচনাও করবেন না। কিন্তু দলে নতুনরা খারাপ অথবা একটু খারাপ করলেও তাদের নিয়ে সমালোচনা করবেন, ট্রল বানাবেন, সাম্প্রদায়িক আচরণ করবেন। এটা কেমন আচরণ? আবার এমন কিছু বর্বর আছে, যারা প্লেয়ারদের পরিবার তথা মা-বাপ তুলে গালি দিতেও ছাড়ে না। সবাইকে এটা পরিহার করার জন্যে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

তবে এতো কিছুর পরও বাংলাদেশের প্লেয়ারদের কিছু ব্যক্তিগত সাফল্য রয়েছে যা দেয়া হলো_

ওয়ানডে তে সবচেয়ে কম ম্যাচে (১৭৮) ৫ হাজার রান ও ২০০ উইকেটের রেকর্ড গড়ে সাকিব পেছনে ফেলেছেন জ্যাক ক্যালিস-সনাৎ জয়াসুরিয়াদের মতো কিংবদন্তিদের। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ওয়ানডেতে ২০০ উইকেট পেয়েছেন অনেক আগেই, প্রোটিয়াদের বিপক্ষে হোম সিরিজে। কিন্তু ৫ হাজার রান করতে অপেক্ষা করতে হলো দুই বছর। 

ওয়ানডে তে দ্রুততম ৫ হাজার রান ও ২০০ উইকেট
ম্যাচ রান উইকেট
সাকিব ১৭৮ ৫০১২ ২২৪
ক্যালিস ২২১ ৭৭০৩ ২০০
জয়াসুরিয়া ২৩৫ ৬৬০১ ২০০
আফ্রিদি ২৩৯ ৫০৭১ ২০১
আবদুল রাজ্জাক ২৫৮ ৫০৪০ ২৬৩

অধিনায়কত্ব ছাড়া রিলাক্সে  খেলে দলের সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিককের অর্জন ১১০ রান মাত্র ১১৬ বলে ।

টেষ্ট সিরিজ+ওয়ানডে তে হোয়াই ওয়াশ পর আশা করছি বাংলাদেশ টি-২০ তে একটি ম্যাচ অন্তত জিতার আশা রাখে যদিও প্রতিটি প্লেয়ারদের মানসিক অবস্থা এখন বেশি ভাল না। লজ্জাজনক ভাবে হারার পর তাদের মন ভেঙে যাবে এটাই স্বাভাবিক। তবুও আমরা বাঙালীরা বেশি ইমোশনাল আর প্র্যাক্টিক্যালি কম বুঝি। তাই বাংলাদেশের কাছে এতটূকু আশা করাই যায়।