5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

আমাদের বাড়ী চিড়িয়াখানায় ঃ প্রানী বীশেষজ্ঞ ডক্টর রেজা খান

Now Reading
আমাদের বাড়ী চিড়িয়াখানায় ঃ প্রানী বীশেষজ্ঞ ডক্টর রেজা খান

বন্যপ্রানী বিশেষজ্ঞ ডক্টর রেজা খান সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্ভবত তার জীবনের সবচেয়ে বেশি সময় বন জংগলে কাটিয়েছেন । প্রায় ৭৩ বছর বয়সী এ বীশেষজ্ঞ গত পহেলা জুন দুবাই পৌরসভা থেকে ৩০ বছরের চাকুরি জীবণ থেকে অবসর গ্রহন করেন । বন্যপ্রানীর দুর্ল্ভ প্রজাতি রেকর্ড ধারন করায় ডক্টর খান কয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে দেয়া হয়েছে সম্মাননা ।
বাংলাদেশের কৃতি সন্তান ডক্টর রেজা খান প্রথম দিকে আল আইন চিড়িয়া খানায় পাখি বিশেষজ্ঞ্যের দায়িত্ব পালন করেন , ১৯৮৩-১৯৮৯ এর মাঝামাঝি সময়ে । এরপর , ১ জুন ১৯৮৯ সালে যোগদান করেন ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর বন্ধ হয়ে যাওয়া দুবাই চিরিয়াখানার (যা দুবাই পৌরসভার অধীণে পরিচালিত হতো ) বীভাগীয় প্রধান এর দায়ীত্বে । পরে ঐ চিড়িয়াখানার প্রধান হিসেবে পালন করেন । পরবর্তিতে পৌরসভার প্রধান বন্যপ্রানী বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিযুক্ত হ্ন এবং প্রস্তাবিত ভবিষ্যত চিড়িয়াখানার জন্য অভ্যন্তরিন বিশেষজ্ঞ নিয়োজিত হন । বর্তমান দুবাই সাফারির প্রাথমিক চিন্তা ওঁ ধারণা আসে তার কাছ থেকেই । পেশাদার , সাধারন অধিবাসি , সংবাদ মাধ্যম কিংবা কর্মকর্তাদের যারা বন্যপ্রানী সনাক্ত করতে অথবা এর সম্পর্কে আরো জানতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আসেন , তাদের কাছে ডক্টর রেজা খান ছিলেন সর্বাধিক নির্ভযোগ্য । সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনেক দুর্ল্ভ বন্যপ্রানী এবং দ্রিশ্যের রেকর্ড করার জন্য প্রথম ব্যাক্তি হিসেবে তিনি সুপরিচিত । নিজের তোলা ছবির সম্ভার নিয়ে তিনি বইওঁ লিখেছেন । ব্যাক্তিগত ডিএসএলআর ক্যামেরাটি নিত্যসঙ্গি । ডক্টর খান তার ক্যামেরা ছেরে কখনও দূরে যান না । প্রবল মানসিক শক্তি সম্পন্ন এ বিশেষজ্ঞ কারো সাহায্য নেওয়া ছাড়াই ফিল্ড ওয়ার্কে নিজের সকল কাজ সম্পাদনের চেষ্টা করেন ।
দুবাই পৌরসভার প্রধান বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ্যের দায়ীত্ব থেকে অবসর নেওয়ার পর ডক্টর খান পরিকল্পনা করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাংলাদেশে ভাগাভাগি করে সময় দিবেন । সে সাথে চালিয়ে যাবেন মাঠ পর্যায়ের গবেষনা ও পরামর্ষ প্রদানের কাজ । সাম্প্রতিক গালফ নিঊজকে ডেওউয়া একটি বিশেষ সাক্ষাতকারে ডক্টর রেজা খান বলেন স্বাধীন মানুষ হয়ে ্যাওয়ার পর দুবাই চিড়িয়াখানা এবং দুবাই সাফারিকে মিস করবো । কিন্তু আমি এখনও আরো পাখি দেখছি , পাচ নাতি নাত্নিকে সময় দিচ্ছি এবং পুড়ো সংযুক্ত আরব আমিরাত ভ্রমন করে বেড়াচ্ছী । একী সাথে আমি বাংলাদেশেও ফিরে যাচ্ছি বাকি সময়টা কাটাতে । বাংলাদেশের একটি জাতীয় চিড়িয়াখানা নিয়ে নতুন বিশেষ পরিকল্পনা আছে এবং খুব সম্ভবত আমি এর সাথে জড়িত হবো ।
পাখির প্রতি ডক্টর খানের রয়েছে বিশেষ আগ্রহ । দ্য গ্র্যাট বার্ডম্যান অব ইন্ডীয়া সেলীম আলীর অধীণে ১৯৭৪ শালে বম্বে ন্যাচারাল সোসাইটিতে যোগদান করেন । ১৯৮৩ সালে ডক্টর খান যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক ছিলেন , তখন সেলিম আলীর কাছ থেকে তিনি একটি বার্তা পান , ‘’পেট্রো ডলার তোমাকে ডাকছে ‘’ ( পেট্রোডলার বলতে তেল সম্রিদ্ধ দেশগুলোকে বোঝায়, যেমন ঃ সংযুক্ত আরব আমিরাত । ১৯৮৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর আল আইন চিড়িয়াখানায় পাখি বিশেষজ্ঞ হিসেবে যোগদান করেন ডক্টর রেজা খান । আমি পকেটে মাত্র ৫০ ডলার নিয়ে এসেছিলাম এবং তাও আত্বীয়ের কাছ থেকে ধার করা । ১৯৮৪ সালের এপ্রিল মাসে যখন প্রথম বেতন পাই , তখন আমার পাসপোর্টে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসার ছাপ পড়ে । তখনকার দিনে এরকমই দেরি হতো । বললেন – ডক্টর খান ।

এক মাস পর, স্ত্রী ওঁ তিন সন্তাণ তার সাথে যোগদান করেন । বড় ছেলে তখন সিক্সথ গ্রেডে , মেয়ে ফার্স্ট গ্রেডে ভর্তি হয় এবং সবচেয়ে ছোট ছেলের বয়স ছিলো তিন বছর । পরিবারটির বাসভবন ছিলো চীড়িয়াখানার মধ্যেই ।
গালফ নিউজকে রেজা খান বলেন , আমার বাচ্চাদের শিক্ষকরা জিজ্ঞ্যাসা করতেন , তোমরা কোথায় থাকো ?
বাচ্চারা ঊত্তর দিতো , আমরা চিড়িয়াখানায় থাকি । শিক্ষক রা খুবই রেগে যেতেন এবং আমাদের কল করে বলতেন ,আপনার বাচ্চারা আমাদের সাথে বাজে জোকস করার চেষ্টা করছে । আমাদের ব্যাখ্যা করতে হতো ্যে আমরা আসলেই চিড়িয়াখানাতেই থাকি ।
ডক্টর রেজা খান বন্যপ্রানী সংরক্ষনে ২০০১ সালে শেখ মুবারক পুরস্কার , ২০১১ সালে জাতীয় বঙ্গবন্ধু পুরস্কার , ২০১২ সালে চ্যানেল আই প্রক্রিতি সংরক্ষন পদক ২০১২ ও ২০১৬ সালে স্টার লাইফ টাইম অর্জন করেন ।
তিনি প্রথম বাংলাদেশে বন্যপ্রানীর চেকলিস্ট প্রিবর্ন করেন , যার ফল ওয়াইল্ড লাইফ অফ বাংলাদেশ – এ চেকলিস্ট, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৮২ সনে অক্টোবরে প্রকাশ করে । এ পর্যন্ত তার ৫০ টার উপর বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ এবং ২৫টির মতো বই প্রকাশিত হয়েছে বাংলা , ইংরেজি ওঁ আরবী ভাষায় ।

৩০ জুন ডক্টর খান ঐ বাড়ীটার চাবি বুঝিয়ে দিয়েছেন কর্ত্রিপক্ষের কাছে । আগের দিন জু ভিলায় একটি তাকে ঘিরে একটি বিদায় পার্টী অনুষ্টিত হয় । এ বাড়ি ঘিরে তার যত স্রীতি , বলে ঊঠলেন অনেক মিস করবো ,স্পেশিয়ালি মিস করবো আমার দুটো গরিলা কে । আমি সব প্রানী কে ভালোবাসতাম তবে গরিলা গুলো কে ণীয়ে আমার সময় কেটেছে অনেক আনন্দের তারা আমার বন্ধু সুলভ ছিল , তাদের জব্দ করা হয়েছিলো ডূবাঈ বীমাণ বন্দর থেকে , একটি এসেছে ১৯৯৭ সণে আরেকটা এসেছে ২০০০ সালে ।

জীবন টা আসলেই অনেক সহজ

Now Reading
জীবন টা আসলেই অনেক সহজ

বর্তমান যুগটাকে আমরা আধুনিক যুগ বলে থাকি। আর এই আধুনিক যুগে আমরা বেশির ভাগ মানুষই বলি জীবনটা অনেক কঠিন। আর আমরা খুজে বেড়াই জীবনটাকে কিভাবে সহজ করা যায়। কিন্তু আমরা জীবনটাকে সহজ করতে গিয়ে আরও অনেক বেশি কঠিন করে ফেলি। আজ আপনদেরকে এমন একজন ব্যক্তির জীবনী বলব, যা জানার পর আপনারও বলবেন আসলেই জীবনটা অনেক সহজ।

যার জীবনী আপনাদেরকে বলব তার নাম জন জেন্ডাই। তিনি থাইল্যান্ডে বসবাস করেন। তিনি পেশায় একজন কৃষক। তিনি সবাইকে একটাই কথা বলেন life is easy. কিন্তু কিছু বছর আগে জন যখন ব্যাংকক ছিলেন তখন তার কোন রকমেই এটা মনে হয়নি যে life is easy. তার মনে হয়েছে জীবনটা অনেক কঠিন এবং জটিল।

জন থাইল্যান্ডের একটি ছোট গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। যখন তিনি ছোট ছিলেন তখন তার কাছে জীবনটা অনেক সুন্দর এবং সহজ মনে হত। কিন্তু তাদের গ্রামে যখন টিভি আসে, আর সেই টিভিতে মুভি দেখে এবং গ্রামের মানুষের মতামত শুনে তিনি অনুভব করলেন তিনি অনেক গরীব। তাই জীবনে সফলতা পেতে , ধনী হতে, এবং জীবনকে সহজ করতে ব্যাংকক যেতে হবে।

তারপর তিনি ব্যাংকক আসার পর তিনি আসল মজাটা পান। তিনি ব্যাংকক যাওয়ার পর বুঝতে পারলেন তাকে সফলতা পেতে এইখানে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে। তাই তিনি দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজ করা শুরু করলেন। কিন্তু দিন শেষে তিনি দেখেন সারাদিন এতো পরিশ্রম করেও তিনি শুধু এক বাটি নুডুলস কেনার টাকা জোগাড় করতে পেরেছেন। আর রাতেও ঠিক মত ঘুমাতে পারতেন না। কারন তিনি যেখানে থাকতেন সেখানে এক রুমে এক সাথে অনেক মানুষ ঘুমাত। তার উপর ছিল প্রচণ্ড গরম। তখন তিনি চিন্তা করলেন, এতো পরিশ্রম করেও তিনি ঠিক মত তার নিজের জন্য খাবার জোগাড় করতে পারছেন না আবার ঠিক মত ঘুমাতেও পারছেন না। তার নিজেকে একটা রোবটের মত মনে হত লাগল। সারাদিন শুধু তাকে কাজই করে যেতে হচ্ছিল, জীবনের সৌন্দর্য গুলো উপভোগ করার মত তার কাছে এক মিনিটও সময় ছিলনা।

তারপর তিনি নিজেকে নিজে প্রশ্ন করলেন, এতো পরিশ্রম করার পরও তিনি সফলতা পাচ্ছেন না কেন, নিশ্চই কথাও কোন সমস্যা আছে। তখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখলেন সেখানে শেখাটা খুবই কঠিন। কারন সেখানে যেভাবে শেখানো হচ্ছে সেটা ছিল খুবই বোরিং। আর তিনি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয় গুলো দেখলেন, তখন তিনি ভাবলেন তার ভালো কাজে লাগার মত ভালো কোন বিষয় নেই। তিনি লক্ষ্য করলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের শেখানো হচ্ছে পরিবেশকে কি ভাবে ধবংস করতে হয়। যেমন গাছ পালা কেটে রাস্তা ঘাট তৈরি করা ইত্যাদি। তারপর তিনি নিজেকে নিজে প্রশ্ন করেন, জীবনকে সহজ করতে তাকে ব্যাংককেই থাকতে হবে কেন। তিনি তার ছোট বেলার কথা গুলো মনে করতে থাকেন। তার গ্রামের মানুষরা বছরে মাত্র দুই মাস কাজ করতেন, তারপর সারা বছর আনন্দে জীবন কাটাত। কাউকে দিনে ৮ ঘণ্টা কাজ করতে দেখেন নি।

তখন জন বুঝতে পারেন টাকাই সব সুখ এনে দিতে পারে না। মানুষ চায় তার আপন মানুষদের সাথে একটু সময় কাঁটাতে, তারপর তার মনে হতে লাগলো এইভাবে তার আর ব্যাংককে থাকা ঠিক হবে না। তাই তিনি গ্রামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। কিন্তু তার এই সিদ্ধান্তটা এতটা সহজ ছিল না। প্রচুর মানুষ তাকে নিয়ে হাসাহাসি করতে লাগলো। এবং তাকে অবহেলার চোখে দেখতে লাগলো। কারন এতটা সময় ব্যাংককে কাটানোর পরও তিনি তার জন্য একটা ভালো চাকুরী জোগাড় করতে পারে নি। এবং শূন্য হাতে গ্রামে ফিরে এসেছে।

গ্রামে ফিরে আসার পর তিনি ছোট বেলায় যে ভাবে জীবন কাটাতেন ঠিক সেই ভাবে জীবন কাঁটাতে শুরু করেন। তিনি বছরে দুই মাস কাজ করতে শুরু করেন। আর ১০ মাস ফ্রি থাকেন। তিনি ২ মাস কাজ করেই বছরে ২ টন চাল পান। তার পরিবারে ছিল ৬ জন, তাই আধা টনেই তার হয়ে যেত। তাই তিনি বাকি চাল বিক্রি করে দিতেন। তারপর তিনি তার বাড়ির পাশে সবজি বাগান করেন, যেখানে তিনি দৈনিক ১৫ মিনিট কাজ করে প্রায় ৩০ রকমের সবজি ফলাতেন। যার থেকে তার পরিবারের প্রয়োজন মিটিয়ে বাকি গুলো বিক্রি করে দিতেন। তারপর তিনি ২ টি পুকুর খনন করেন এবং সেখানে মাছ চাষ করে তার পরিবারের সারা বছরের মাছের চাহিদা পূরনের ব্যবস্থা করে ফেলেন।

তারপর তার মনে হতে লাগলো জীবন আসলেই অনেক সহজ। কি দরকার ছিল ৭ বছর ধরে ব্যাংককে গিয়ে ঐ রকম পরিশ্রম করা। যেই পরিশ্রম করে তিনি তার পরিবারের জন্য দূরের কথা নিজের জন্যই খাবার জোগাড় করতে পারতেন না। কিন্তু এখন তিনি বছরে ২ মাস আর দৈনিক ১৫ মিনিট পরিশ্রম কাজ করে তার পুরো পরিবারের চাহিদা মিটাচ্ছেন এবং কিছু টাকাও জমাচ্ছেন। এটাত সত্যিই অনেক সহজ।

তারপর তিনি একদিন মাটির বাড়ি তৈরি করতে শুরু করেন। দৈনিক তিনি ২ ঘণ্টা কাজ করে ৩ মাসে তিনি তার জন্য একটি বাড়ি তৈরি করে ফেলেন। যেটা তিনি কখন ভাবেনি যে তার নিজের একটি বাড়ি হবে। এর পর তিনি এইভাবে তার নিজের জন্য অনেক গুলো বাড়ি তৈরি করে ফেললেন। এখন তিনি ভাবেন আজকে কোন বাড়িতে থাকবেন।

এইভাবে তিনি খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান চিকিৎসা এই গুলোর জন্য কারো উপর নির্ভরশীল নয় , তাই তিনি আজ প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতা কি তা অনুভব করতে সক্ষম হয়েছেন। জীবন টা আসলেই অনেক সহজ।

এক সাধারণ ধনীর গল্প

Now Reading
এক সাধারণ ধনীর গল্প

যে জিনিসগুলো আপনার দরকার নেই সেই জিনিসগুলো যদি আপনি কিনতে শুরু করেন, তাহলে আপনি এক দিন দেখবেন এমন একটা সময় আসবে, যে জিনিসগুলো আপনার দরকার সে জিনিসগুলো আপনাকে বিক্রি করতে হবে।

এই কথাটি বলেছেন শেয়ার মার্কেটের জনক অরান বাফেট। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা বিভিন্ন জায়গায় দান করে দেওয়ার পরও, বর্তমানে তিনি বিশ্বের ৩য় ধনী ব্যক্তি।

অরান বাফেট বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হয়েও এখনও তিনি তার ৫০ বছরের পুরনো অফিসে গিয়ে ৫০ বছরের পুরনো ডেস্কে বসে কাজ করেন। যে ছেলেটি তার বোনের সাথে মাত্র ২৬০০ টাকার পার্টনারশিপে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে ব্যবসা শুরু করেন আজ সেই ছেলেটি ৫.৫ লাখ কোটি টাকার মালিক।

প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের পর যখন সারা বিশ্ব জুড়ে মন্দার বাজার চলছে, সেই সময় ১৯৩০ সালে ৩০ সে আগস্ট নেব্রাস্কা ওমাহা এউ এস তে একটি ইউহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন অরান বাফেট। তার বাবা হাওয়াট বাফেটর চাকুরী চলে যাওয়ার পর, তাদের আর্থিক অবস্থা বেশ কিছুটা ভেঙ্গে পরে। এরপর তার বাবা একজন স্টক বকারের কাজ করতে শুরু করেন।

ছোটবেলায় অরান বাফেট এর সমবয়সীরা খেলনা নিয়ে খেলতে ভালোবাসতো, তখন অরান বাফেট অংকের সংখ্যা গুলো নিয়ে খেলতে ভালোবাসতো। মাত্র ৭ বছর বয়সে তিনি ওমাহা পাবলিক লাইব্রি থেকে one thousand ways to make 1000$ নামে একটি বই ভাড়া করে নিয়ে এসে পড়তে শুরু করেন। এই বইটিতে ১০০০ ডলার রোজগার করার ১০০০ টি উপায় বলা ছিল। এই বইটি পড়ে ঐ বয়সেই অরান বাফেট এর ব্যবসার প্রতি ঝোঁক আসে।

তিনি তার দাদুর দোকানের সামনে পরে থাকা কোলড্রিঙ্কস ঢাকনা গুলো সংগ্রহ করেন। এবং গুনে দেখেন কোন কোম্পানির কোলড্রিঙ্কস সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। তিনি দেখতে পান কোকাকলা কোম্পানির কোলড্রিঙ্কস সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। তিনি তার দাদুর দোকান থেকে প্রতি বোতল ২৫ সেন্ট করে কিনে নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তিনি প্রতি বোতল ৩০ সেন্ট করে বিক্রি শুরু করেন। সাথে তিনি ওয়াশিংটন পত্রিকা এবং চুইংগাম বিক্রি করা শুরু করেন। এভাবে তিনি বেশ কিছুটা টাকা জমিয়ে ফেলেন।

এরপর মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি তার জমানো টাকা এবং তার বোনের জমানো টাকা দিয়ে পার্টনার শিপে ব্যবসা শুরু করেন। তিনি ৩৮$ দিয়ে সিটি সার্ভিসের ৩ টি স্টক কিনেন। কিন্তু কেনার কিছুদিন পর থেকেই সেই গুলোর দাম কমতে থাকে। এবং ২৯ ডলারে নেমে যায়। তার বোন তখন বলে আমাদের সব জমানো টাকা শেষ। কিন্তু কিছুদিন পর আবার দাম বাড়তে থাকে, যখন ৪০ ডলারে চলে আসে তখন অরান বাফেট শেয়ার গুলো বিক্রি করে ফেলেন। কিন্তু দেখা যায় ঐ শেয়ার গুলো ২০০ ডলার পর্যন্ত দাম উঠেছিল। স্টক মার্কেটে ছিল এটা তার প্রথম করা ভুল। এরপর তিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সেই বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করে বর্তমান সময়ের মূল্যে প্রায় ৫৩ হাজার ডলার জমিয়ে ফেলেছিলেন। তিনি স্টাম বিক্রি, পুরনো গ্লফ বল, সাথে পিন বল মেশিনের একটা ব্যবসা করে এই টাকা জমিয়ে ফেলেছিলেন।

এরপর তিনি চেয়েছিলেন স্কুল জীবন শেষ করেই পুরোপুরি ব্যবসা জীবনে ঢুকে যেতে। কিন্তু তার বাবা তাকে কলেজ থেকে ডিগ্রি শেষ করার পরামর্শ দেন। বাবার কথামত তিনি ডিগ্রি শেষ করেন। এরপর তিনি বিজনেস স্কুল পড়াশুনার জন্য দরখাস্ত করেন, কিন্তু হারভাড বিজনেস স্কুল তাকে রিজেক্ট করে দেন। কিন্তু এখন হারভাড বিজনেস স্কুল তাদের ঐতিহাসিক বড় ভুল হিসাবে গণ্য করা হয়। এরপর তিনি কলোম্বিয়া বিজনেস স্কুলে পড়তে যান। সেখানে পড়াশুনা শেষ করে তিনি তার আইডল বেঞ্জামিন গ্রাহামের সাথে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে চান। কিন্তু বেঞ্জামিন গ্রাহাম রাজি হন নি। কিন্তু এর এক বছর পর অরান বাফেটের যোগ্যতা বুজতে পেরে, বেঞ্জামিন গ্রাহাম নিজে গিয়ে ১২০০০ ডলারের বিনিময় কাজ করার প্রস্তাব দেন। এইভাবে অরান বাফেট বেঞ্জামিন গ্রাহামের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়ে তিনি স্টক মার্কেটের এক্সপার্ট হয়ে উঠেন। বেঞ্জামিন গ্রাহাম যখন অবসর নেন তাখন তিনি তার নিজের একটি কোম্পানি খুলেন, এবং স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করা শুরু করেন।

এরপর অরান বাফেটকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি তার ৮০ শতাংশ টাকা তার ৫০ বছরের পর উপার্জন করেছেন। ২০১৩ সালে যখন স্টক মার্কেট উপরের দিকে উঠেছিল তখন তিনি এক দিনে ২৫৭ কোটি টাকা আয় করেছিলেন।

বিপ্লবী মাস্টার দা ।

Now Reading
বিপ্লবী মাস্টার দা ।

সূর্য সেন (২২ মার্চ ১৮৯৪ – ১২ জানুয়ারি ১৯৩৪ ) ছিলেন একজন বাঙালি ভারতীয় বীপ্লবী ্যিনি ভারতের স্বাধিনতা আন্দোলণে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন এবং ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সুপরিচিত ছিলেন । ১৯৩০ সনে চট্টগ্রামে অস্ত্রোপাচার চালান ভারত থেকে ।
সেন পেশাগত ভাবে শিক্ষক ছিলেন এবং জনপ্রিয়ভাবে মাস্টার দা নামে পরিচিত ছিলেন । তিনি ১৯১৬ সালে জাতিয়তাবাদী আদর্শের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন , তিনি বি,এ এর ছাত্র ছিলেন । বেহ্রাম্পুর কলেজে ১৯১৮ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন । সুর্য সেন চট্টগ্রামে অবস্থিত ব্রিটিশদের বিরুদ্ধ্বে যুদ্দ্বরত অনন্ত সিং , গনেশ ঘোষ এবং লোকেথ বাঊল সহ আরো উৎসাহী বীপ্লবীদের নিয়ে একটি বিপ্লবী গ্রুপ গঠন করেন ।
তিনি অসহযোগ আন্দোলণ সক্রিয় অংশগ্রহন কারী ছীলেন এবং পরবর্তিকালে ১৯২৬ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত তার বিপ্লবী কর্মকান্ডে ২ বছর গ্রেপ্তার হন এবং কারাগারে বন্দি থাকেন । সেন বলতেন মানবতাবাদ বিপ্লবের একটি বিশেষ গুন । ১৯৩০ সালে চট্টগ্রাম আক্রমন এর পর এবং ৮০টীর ও বেশি ব্রিটিশ সৈন্য এবং ১২ জন বিপ্লবির প্রানহানি ঘটায় একটি প্রচন্ড যুদ্ধ্বের পর , সেন ও অন্যান্য জীবীত বিপ্লবীরা ছোট গোষ্টীতে ছড়ীয়ে পড়ে এবং প্রতিবেশি গ্রামে লুকিয়ে রাখে , সরকারি কর্মচারি ও সম্পত্তির উপর হামলা চালায় । সেনকে ১৯৩৩ সালের ১৬ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয় এবং এবং ১৯ জানুয়ারি ১৯৩৪ সালে তাকে ফাসি দেওয়া হয় । তার সহকর্মি বিপ্লবীদের অনেককেও গ্রেপ্তার করা হয় এবং দির্ঘমেয়াদি কারাগারে পেষ করা হয় ।
সেন ২4 মার্চ 1894 [4] চট্টগ্রামের রাওজান উপজেলার নোয়াপাড়ার একটি বৈদ্য পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা রমনীরঞ্জন সেন একজন শিক্ষক ছিলেন। ১৯১৬ সালে তিনি বি.এ. বরিহামপুর কলেজের ছাত্র তিনি, তাঁর এক শিক্ষকের কাছ থেকে ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের বিষয়ে শিখেছিলেন। তিনি বিপ্লবী আদর্শের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং বিপ্লবী সংগঠন আনুশিলন সমিতিতে যোগ দেন। পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে আসেন এবং নন্দনকান জাতীয় স্কুলে গণিতের শিক্ষক হন। সেই সময়ে, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস সবচেয়ে বিশিষ্ট রাজনৈতিক দল ছিল।
১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল সেনা অস্ত্রশস্ত্র থেকে পুলিশ ও অক্জিলিয়ারী বাহিনীর অস্ত্রোপচারের জন্য সেনারা বিপ্লবীদের একটি দলকে নেতৃত্ব দেন।পরিকল্পনাটি বিস্তারিত ছিল এবং অস্ত্রশস্ত্র থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করা এবং শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার ধ্বংস (টেলিফোন, টেলিগ্রাফ এবং রেলওয়ের সহ) অন্তর্ভুক্ত, যার ফলে বাকি ব্রিটিশ ভারত থেকে চট্টগ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়।যাইহোক, যদিও গ্রুপ অস্ত্র অর্জন, তারা গোলাবারুদ ক্যাপচার করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা অস্ত্রোপচারের প্রাঙ্গনে ভারতীয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে, এবং তারপর পালিয়ে যায়। কয়েকদিন পরে, ব্রিটিশ সেনাদের নিকটবর্তী জালালাবাদ পাহাড়ে বিপ্লবী গোষ্ঠীর একটি বৃহৎ অংশ ছিল। পরবর্তী যুদ্ধে বারো বিপ্লবীর মৃত্যু হয়, অনেকে গ্রেফতার হন, কিছু সেনের সাথে পালিয়ে যায়।
সেন গোপনে থাকতেন, এবং এক জায়গায় থেকে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছিলেন। কখনও কখনও তিনি একজন কর্মী, একজন কৃষক, একজন যাজক, একজন গৃহকর্মী বা এমনকি একটি পবিত্র মুসলিম হিসাবে লুকিয়ে একটি চাকরি গ্রহণ করেন। এভাবে তিনি ব্রিটিশদের দ্বারা বন্দী হওয়া এড়িয়ে চলেন।

তিনি নেত্রা সেন নামে একজন ব্যক্তির বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন। কিন্তু নেত্র সেন তাঁর গোপন অবস্থানের বিষয়ে ব্রিটিশকে জানালেন এবং পুলিশ এসে তাকে ১৯৩৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গ্রেপ্তার করে। ব্রিটিশদের দ্বারা নেত্র সেনকে পুরস্কৃত করার আগে বিপ্লবী তার বাড়িতে এসেছিলেন। নেত্র সেনের স্ত্রী সূর্য সেনের বড় সমর্থক হিসাবে, তিনি কখনোই নেত্রা সেন এবং হত্যাকারীদের বিপ্লবী নাম প্রকাশ করেননি। ব্রিটিশদের নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতনের পর তারেক্বর দস্তিদার নামে আরেকটি বিপ্লবীকে সেনের সাথেও ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। তাকে সাগরে দাফন করা হয়েছিল।

তাঁর শেষ চিঠিটি তার বন্ধুদের কাছে লেখা হয়েছিল এবং বলেছিল: “আমার দরজায় মৃত্যু হচ্ছিল। আমার মন অনন্তকালের দিকে চলে যাচ্ছে … এতো কৌতুহল এতো কবরস্থানে এতো মহৎ মুহুর্তে আমি কি রেখে যাব! একটাই আমার স্বপ্ন, সোনালী স্বপ্ন-মুক্ত স্বপ্নের স্বপ্ন … ১৮ ই এপ্রিল, ১৯৩০, চট্টগ্রামে পূর্ব বিদ্রোহের দিন কখনই ভুলবে না … কোরতে লাল অক্ষরে লিখো আপনাদের অন্তরে দেশপ্রেমের নাম যারা ভারতের স্বাধীনতার বেদীতে তাদের জীবন উৎসর্গ করেছে।

বীপ্লবি মাস্টার দা সুর্য সেন কে নিয়ে বলিঊডে একটি মুভিও প্রযোজিত হয়েছিলো , যেটায় সুর্যসেন এর চরিত্র করেছিলেন অভিষেক বাচ্চন এবং প্রিতি লতার চরিত্র করেছিলেন দিপীকা পাডূকন ।
মুভি টার নামকরন করা হয়েছীলো দি চিটাগং ।

পথ শিশু

Now Reading
পথ শিশু

প্রতিটি মা বাবা তার ছেলেমেয়েদের স্নেহ মমতা দিয়ে আস্তে আস্তে বড় করে তোলে। নিজে না খেয়ে হলেও সন্তানদের খাওয়। সন্তানদের শখ পূরনে নিজেদের সাধ্য মত চেষ্টা করে। সন্তানের আনন্দই হয়ে যায় তাদের আনন্দ। নিজের সন্তান কষ্ট করুক কোন মা বাবাই চায় না। মা বাব চায় তার সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করেতে। প্রতিটি মা বাবাই চায় তাদের সন্তানদের সকল ইচ্ছাগুলো পূরণ করতে। পড়াশুনা শিখিয়ে তাদের জীবন গড়ে দিতে চায়। মা বাবা নিজেরা যতই দুঃখ কষ্টে থাকুক না কেন কিন্তু সব সময় তারা তাদের সন্তানদের মঙ্গল কামনা করে।

আমাদের যাদের মা বাবা আছে আমরা কত সৌভাগ্যবান। আমাদের কত যত্ন সহকারে আমাদের মা বাবা আমাদের লালন পালন করেছেন।
কিন্তু যাদের মা বাবা নেই, সেই সন্তানদের কি হয়? যারা এতিম তাদের কি হয়?
রাস্তা ঘাটে আমরা অনেক পথ শিশু দেখি যাদের বেশির ভাগেরই মা বাবা নেই। তাদের কত কষ্টের জীবন। কখন সকালে খেলে দুপুরে খেতে পায় না আবার কখন দুপুরে খেলে রাতে খেতে পারে না। রাতে রাস্তা ঘাট যেখানে সেখানে ঘুমায়। এক জামা কাপড়ে তাদের মাসের পর মাস চলে যায়। তারা ভুগে পুষ্টি হীনতায়। বলতে খুব খারপ লাগতেছে, এতিম শিশুদের অনেকেই মানুষ হয়েও পশু পাখির মত জীবন যাপন করে।

আমাদের দেশে কিছু সরকারি এবং বেসরকারি এতিমখানা আছে। কিন্তু তাও পর্যাপ্ত নয়। আর আমরা সাধারণ মানুষতো নিজেদের নিয়েই ভাবি। কিন্তু একজন ব্যক্তি এই এতিম শিশুদের জন্য নিজের সব কিছু উজার করে দিয়েছেন।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার গরগড়ি ইউনিয়নের সড়ের হাঁট গ্রামে একটি শিশু সদন রয়েছে। যেখানে রয়েছে ১২০ টি অনাথ শিশুর একটি পরিবার। যাদের পরম স্নেহে লালন পালন করছেন ডাক্তার শামসুদ্দিন সরকার ও তার স্ত্রী মেহুরন নেসা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার কথা। মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশের অনেক শিশু মা বাবা পরিবার হারিয়ে এতিম হয়ে যায়। আর এই দিকে শামসুদ্দিন সরকার যুদ্ধ শেষ করে যখন ফিরে এসে এই শিশুদের দেখেন তখন তার মন কষ্টে কেঁদে উঠে। স্বাধীন এই দেশে এই শিশুদের নেই কোন অভিবাবক, নেই কোন পরিবার। তখন না খেয়ে পড়ে বেড়ে উঠছিল এই শিশুরা। তখন থেকেই এই অনাথ শিশুদের জন্য কিছু করার প্রয়োজন বোধ করলেন শামসুদ্দিন সরকার। গ্রামের মানুষ তাকে সমেস ডাক্তার নামেও চিনে। এই অনাথ শিশুদের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন এই সমেস ডাক্তার। আর এই স্বপ্ন রুপ নিতে শুরু করলো ১৯৮৪ সালে। স্বাধীনতার ১৩ বছর পরে। স্ত্রী মেহুরুন নেসার মোহরানার স্বর্ণ দিয়ে বাঘা উপজেলার সরের হাঁট গ্রামে কিনলেন ১২ শতাংশ জমি। আর তিনি গড়ে তুলেন সরের হাঁট কল্যাণ শিশু সনদ। যেখানে তিনি অসংখ্য অনাথ এতিম শিশুর দায়িত্ব নেন। আর এই ভাবেই টানা ১০ বছর এই শিশুদের দেখাশোনা করেন, কোন সরকারি বেসরকারি সাহায্য সহযোগিতা ছাড়া। আর এই এতিম অনাথ শিশুদের দেখভার করতে গিয়ে একে একে বিক্রি করেন তার নিজের ১৭ বিঘা জমি। অনেক কষ্টে থাকা সত্ত্বেও শিশুদের মুখের দিকে চেয়ে বন্ধ করেত পারেন নি এই শিশু সনদ।

এক সময় অনিশ্চিত হয়ে পরে এই শিশুদের খাওয়া পড়ার ব্যবস্থা। এই অবস্থায় সমেস ডাক্তার বিক্রি করে দেন তার শেষ সম্বল টুকু, মাথা গোজার ঠাই ঘরবাড়ী। তারপর তিনিও এসে উঠেন এতিমদের মতই কল্যাণ শিশু সনদে। এই ভাবে তিনি আশ্রয় হীন শিশুদের আশ্রয় দিতে গিয়ে নিজেরাই হয়ে পরেন আশ্রয় হীন।

সমেস ডাক্তারের স্ত্রীও এই শিশুদের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন। সমেস ডাক্তারের স্ত্রীর সকাল হত চুলায় উনুন জ্বেলে। শিশুরা ঘুম থেকে উঠার আগেই তিনি সবার সকালের খাবার তৈরি করে ফেলতেন। তিনিও তার স্বামীর মত এই অনাথ শিশুদের খুব ভালবাসতেন।

এই এতিম খানায় ৫৮ জনের জন্য খাবার তৈরি করা হত আর বাকি ৪৯ জনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন গ্রামের কিছু সহৃদয় বান ব্যক্তি। আর ১৩ জনের খরচ আসে সরকার থেকে।
এতিম খানার কাজ করার পাশাপাশি সমেস ডাক্তারের স্ত্রী সেলাই কাজ করে যেই টাকা পান এবং সমেস ডাক্তার মানুষের সেবা করে যা পান, তাদের দুইজনের সব টাকাই এই এতিমখানায় ব্যয় করতে হয়।

একটা সময় এই এতিম খানার অবস্থা খুব খারপ হয়ে যায় তখন সমেস ডাক্তারের স্ত্রী স্ত্রী মেহুরন নেসা ১ বছর বাহিরে ভিক্ষা করেন।

এই ভালো কাজ করতে গিয়েও অনেক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন সমেস ডাক্তার, কিন্তু তিনি পিছনে ফিরে যান নি।

আমাদের সমাজে অনেক কোটি কোটি টাকার মালিক আছেন, তারা যদি আমাদের আশেপাশের পথ শিশু, এতিম শিশুদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন তাহলে এই শিশুরাও সাধারণ শিশুদের মত বেড়ে উঠতে পারবে। আমাদের সকলেরই উচিত যার যতটুকু সম্ভব তা দিয়ে অন্যকে সাহায্য করা। তাহ্লেই আমাদের সমাজ দেশ সুন্দর হয়ে উঠবে।

ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান!

Now Reading
ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান!

ফ্রাঙ্ক উইলিয়াম অ্যাব্যাগেনল জুনিয়র জন্ম ২২ এপ্রিল, ১৯৪৮) একজন আমেরিকান নিরাপত্তা পরামর্শদাতা যিনি প্রাক্তন কন ম্যান হিসাবে তার পটভূমির জন্য পরিচিত, ১৫ এবং ২১ বছর বয়সের মধ্যে দুর্নীতিবাজ, এবং প্ররোচিতকারী।
কুখ্যাত ইমপস্টর্স, আটটি সনাক্তকারীর চেয়ে কম নয় বলে দাবি করেছেন, যার মধ্যে একজন বিমানচালক পাইলট, একজন চিকিতসক , একজন মার্কিন ব্যুরো অফ কারাগার এজেন্ট এবং একজন আইনজীবি রয়েছে।
২১ বছর বয়সী হওয়ার আগে তিনি দুইবার পুলিশ হেফাজতে থেকে একবার ট্যাক্সিং বিমানচালক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল পেনশনটিনারি থেকে থেকে পালিয়ে যান। ফেডারেল সরকারের জন্য কাজ শুরু করার আগে তিনি পাঁচ বছরেরও কম কারাগারে ছিলেন।
তিনি বর্তমানে এফবিআই একাডেমি এবং ফিল্ড অফিসের জন্য পরামর্শক এবং লেকচারার। তিনি একটি আর্থিক জালিয়াতি পরামর্শ সংস্থা Abagnale & অ্যাসোসিয়েটস, চালান ।

অ্যাব্যাগেলের গল্পটি একাডেমী পুরস্কার মনোনীত ফিচার ফিল্ম catch me if you can ২০০২ কে অনুপ্রাণিত করেছিল, যেটায় লিয়েনার্দো ডি ক্যাপ্রিও অ্যাব্যাগেনল চরিত্রে এবং টম হ্যাঙ্কস এফবিআই এজেন্ট এর অভিনয় করেছিল, পাশাপাশি সেই নামের একটি ব্রডওয়ে বাদ্যযন্ত্র এবং একটি টিভি সিরিজ হোয়াইট কলার, যা ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান বই থেকে নির্মিত ।
তিনি চার সন্তানের একজন এবং নিউ ইয়র্কের নিউ রোশেলে তাঁর জীবনের প্রথম ১৬ বছর কাটিয়েছেন। তাঁর ফরাসি মা, প্যালেট এবং পিতা ফ্রাঙ্ক অ্যাবনাগেল স্যার, তার বারো বছর বয়সে আলাদা হয়েছিলেন এবং যখন তিনি ১৬ বছর বয়স তার পিতা মাতা তালাকপ্রাপ্ত হয়ে ছিলেন।
তাঁর পিতা ছিলেন সমৃদ্ধ স্থানীয়, যিনি রাজনীতি এবং থিয়েটারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং আবাগালাল জুনিয়রের রোল মডেল ছিলেন তার পিতা । তার প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা একটি ক্যাথলিক স্কুল ছিলো ।
তার প্রথম শিকার তার বাবা ছিল, যিনি তার পার্ট টাইম চাকরিতে আগমনের জন্য তাকে সাহায্য করার জন্য ফ্রাঙ্ক কে একটি গেসোলিন ক্রেডিট কার্ড এবং ট্রাক দিয়েছিলেন । নির্দিষ্ট তারিখে টাকা পাওয়ার জন্য, অ্যাবনাগাল এমন একটি পরিকল্পনার করেছিলেন যেখানে তিনি গ্যাস স্টেশনগুলিতে টায়ার, ব্যাটারী এবং অন্যান্য গাড়ী সম্পর্কিত আইটেমগুলি “ক্রয়” করার জন্য পেট্রল কার্ড ব্যবহার করেছিলেন এবং তারপরে এ্যাটেন্ডেন্টকে পণ্যগুলির জন্য ফেরত দিতে নগদ অর্থ দিতে বলেছিলেন। অবশেষে, তার বাবা ২০১৪সালে $ ৩,৪০০ মূল্যের বিলের জন্য দায়ী, ২০১৮ সালে $ ২৭,৮২৫ এর সমতুল্য। অ্যাব্যাগেলালে তখন মাত্র ১৫ বছর বয়সি ছিলেন।
আবাগানের প্রথম আত্মবিশ্বাসের কৌশলগুলি তার নিজের অতিরিক্ত অ্যাকাউন্টে ব্যক্তিগত চেক লেখার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ব্যাংকটি পেমেন্ট দাবির আগেই কেবল সীমিত সময়ের জন্য কাজ করবে, তাই তিনি বিভিন্ন ব্যাংকগুলিতে অন্যান্য অ্যাকাউন্ট খুলতে চলেছেন এবং অবশেষে এই চরিত্রটি বজায় রাখার জন্য নতুন পরিচয় তৈরি করেছেন। সময়ের সাথে সাথে এবং পরীক্ষার মাধ্যমে, তিনি ব্যাংকের প্রতারণার বিভিন্ন উপায় যেমন, চেকগুলির নিজস্ব কপি মুদ্রণ (যেমন প্যারল চেক) মুদ্রণ, তাদের জমা দেওয়ার এবং ব্যাংকগুলিকে তার অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্সের ভিত্তিতে নগদ উন্নীত করার বিভিন্ন উত্সগুলি কাজে লাগায় ।
তিনি ব্যবহার করা আরেকটি কৌশল ছিল ফাঁকা আমানত স্লিপে তার অ্যাকাউন্ট নম্বর চুম্বকীয়ভাবে মুদ্রণ এবং ব্যাংকের বাস্তব ফাঁকা স্লিপ্স স্ট্যাকের মধ্যে তাদের যোগ করা । এর অর্থ এই যে ব্যাংক ক্রেতাদের দ্বারা যারা স্লিপে লিপিবদ্ধ সেগুলি জমা বৈধ গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে তার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেছে।

পরে আবানাগাল চেক নগদ করার সময় আরো বৈধ দেখতে একটি পাইলট ছদ্মবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্যান আমেরিকান ওয়ার্ল্ড এয়ারওয়েজ (প্যান এমএম) কে ফোন করে তিনি ইউনিফর্ম পান, তিনি কোম্পানির কাছে বলছিলেন যে তিনি একজন পাইলট,এক কর্মচারী যিনি তার হোটেলে পরিষ্কার করার সময় তার ইউনিফর্ম হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং একটি জাল আইডি নম্বর দিয়ে নতুন ইউনিফর্ম পেয়েছিলেন । এরপর তিনি ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পাইলটের লাইসেন্স জালিয়াতি করেন। প্যান আম অনুমান করেছেন যে ১৬-১৮ বছর বয়সের মধ্যে, অ্যাব্যাগেলালে ২৫,০০০০ এরও বেশি ফ্লাইটে ১,০০,০০০ মাইল (১,৬০০,০০০০ কিমি) যাত্রা করে (যাত্রী হিসাবে) যাত্রা শুরু করে এবং২৬ টি দেশে জীবণ হাতে নিয়ে যাত্রা করে।
কিশোর বয়সে, তিনি ধূসর চুলগুলি লক্ষ্য করেছিলেন, যার মাধ্যমে একজন পাইলট এড় মত ব্যাক্তিত্ব তার মধ্যে তিনি লক্ষ করেন , একজন পাইলট হিসাবে, তিনি এই সময় বিনামূল্যে হোটেল এ থাকতে সক্ষম ছিল। এয়ারলাইন কোম্পানির জন্য খাদ্য বা বাসস্থান হিসাবে খরচ বিল ছিল।
উল্লেখযোগ্যভাবে অবশ্য, আবানাগাল প্যান এম প্লেনে উড়তে পারতেন না, বিশ্বাস করেন যে তার চারপাশে সম্ভাব্য প্রকৃত প্যান এম পাইলট বা কর্মীদের সনাক্ত করা যেতে পারে যাকে সত্যিকারের সনাক্তকরণ বা কর্মসংস্থানের প্রমাণ চাওয়া হবে।

আবাগালালে বলেন যে ফ্লাইট ফ্লাইটের নিয়ন্ত্রণ নিতে তিনি প্রকৃত পাইলটদের দ্বারা আমন্ত্রিত হন। এক পর্যায়ে তাকে ৩০,০০০ ফুট (৯,১০০মিটার) বিমান চালানো সৌজন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
তিনি গ্রহণ করেন এবং অটোপাইলট সক্ষম করেন,তিনি বলেন আমি “খুব সচেতন ছিলাম কারন আমাকে ১৪০ টি জীবনের হেফাজত হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, আমার নিজের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে …
আবাগালালে বলে কারণ আমি একটি ঘুড়ি কিভাবে উরাতে হয় যানতামনা ।
তাছারা তিনি একজন ফিজিসিয়ান এর রুপ ধারন করেছিলেন , হাবার্ড ইউনিভার্সিটির আইন প্রতিলিপি জালিয়াতি করে আবুইনালে লুইসিয়ানা বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং উনিশ বছর বয়সে লুইসিয়ানা স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে চাকরি পান।
বলেন বারটির আইনজীবীর প্রয়োজন ছিল এবং আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। হার্ভার্ড থেকে একটি জাল প্রতিলিপি তৈরি করার পর, তিনি বাধ্যতামূলক পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন ।
দ্বিগুণ ব্যর্থ হওয়ার পরও, তিনি আট সপ্তাহের অধ্যয়নের পর তৃতীয় পরীক্ষায় বার বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন বলে দাবি করেন, কারণ, “লুইসিয়ানা, সেই সময়ে, বার ওভারে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল।
It was really a matter of eliminating what you got wrong.

অবশেষে ফ্রান্সের মন্টপেলিয়ারে গ্রেফতার হয়েছিলেন, ১৯৬৯ সালে যখন এয়ার ফ্রান্সের একজন পরিচালক তাকে চিনতে পেরেছিল এবং তা পুলিশকে জানিয়েছিল। যখন ফরাসি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল, ১২ টি দেশে তিনি জালিয়াতি করেছিলেন, তিনি তার প্রত্যার্পণের দাবি করেছিলেন। দুইদিনের বিচারের পর, তিনি প্রথমে পেরিগিগানের কারাগারে সময় কাটিয়েছিলেন-তার এক বছরের কারাদণ্ডে বিচারপতি বিচারক বিচারের সময় ছয় মাস হ্রাস পেয়েছিলেন। পেরিপিনানে তিনি একটি ক্ষুদ্র, নোংরা, নিরবিচ্ছিন্ন এবং নগ্ন ছিলেন যেহেতু তার জামিন দেওয়া হয়নি। গদি, প্লাম্বিং এবং বিদ্যুতের অভাব ছিল এবং খাবার ও পানি কঠোরভাবে সীমিত ছিল।
ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান ১৯৭৪ সালে, ভার্জিনিয়া, পিটার্সবার্গের ফেডারেল সংশোধন ইনস্টিটিউটে ফেডারেল Correctional ইনস্টিটিউশন তার ১২-বছরের বাক্য পাঁচ বছরেরও কম সময়ের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার তাকে এই শর্তে মুক্তি দেয় যে তিনি ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে জরিমানা ছাড়া এবং বেতন ছাড়াই সাহায্য করবে । জালিয়াতি এবং স্ক্যাম শিল্পীদের দ্বারা, এবং সপ্তাহে একবার সাইন ইন করেন । নিউইয়র্কে তার পরিবারের কাছে ফিরে আসার অযোগ্য ভেবে , তিনি আদালতের কাছে প্যারোলের পছন্দ ছেড়ে দেন এবং সিদ্ধান্ত নেন যে তাকে হিউস্টন, টেক্সাসে প্যারোল করা হোক ।
জামিন এর পর, আবাগালালে রেস্তোরা , গ্রসার এবং মুভি থিয়েটার সহ অসংখ্য কাজ করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তার অপরাধ জগতের খবর পেয়ে তাকে সব জায়গায় বহিস্ক্রিত করা হয়। অসন্তুষ্ট এই কাজ খুঁজে, তিনি একটি প্রস্তাব সঙ্গে একটি ব্যাংক কাছে এসেছিলেন। ব্যাংককে তিনি যা করেছেন তা ব্যাংকে ব্যাখ্যা করেছিলেন এবং ব্যাংকের কর্মীদের সাথে কথা বলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং তাদের বিভিন্ন কৌশলগুলি দেখিয়েছিলেন যা “কাগজের হ্যাঙ্গার্স” ব্যাঙ্ককে প্রতারণা করার জন্য ব্যবহার করেছিল। তাঁর প্রস্তাবটি এই শর্তে অন্তর্ভুক্ত ছিল যে, যদি তারা তার মত কে সহায়ক না বলে তবে তারা তাকে কিছু দিতে পারবেনা; অন্যথায়, তারা কেবলমাত্র ৫০ মার্কিন ডলারের একটি চুক্তির সাথে ঋণ প্রদান করবে যে তারা তার নাম অন্য ব্যাংকগুলিতে সরবরাহ করবে।] তার সাথে, তিনি একটি নিরাপত্তা পরামর্শদাতা হিসাবে একটি বৈধ জীবন শুরু করেন ।
পরে তিনি আবাগালালে অ্যাসোসিয়েটস প্রতিষ্ঠা করেন, বেসড ইন তুলসা যা ওকলাহোমায় অবস্থিত ।
যা জালিয়াতির বিষয়ে কোম্পানিগুলিকে পরামর্শ দেয়। এবিএনএলএলও এফবিআই একাডেমি এ শিক্ষাদান করে এবং সারা দেশে এফবিআই ফিল্ড অফিসের বক্তৃতা দিয়ে ৪০বছরেরও বেশি সময় ধরে এফবিআইকে পরামর্শ দিচ্ছে। তার ওয়েবসাইটে মতে, ১৪,০০০ এরও বেশি প্রতিষ্ঠান অ্যাব্যাগেলের জালিয়াতি প্রতিরোধ প্রোগ্রাম গ্রহণ করেছে ।

পাবলো এস্কোবার দি ড্রাগ লর্ড

Now Reading
পাবলো এস্কোবার দি ড্রাগ লর্ড

পাবলো এস্কোবার দি ড্রাগ লর্ড
পাবলো এমিলিও এসকোবার গভিরিয়া 1 ডিসেম্বর ১৯৪৯- ২ ডিসেম্বর ১৯৯৩), পাবলো এসকোবার নামে পরিচিত, কলম্বিয়ান ড্রাগ ও মাদকদ্রব্যবিদ ছিলেন। তাঁর কার্টেলটি তার কর্মজীবনের উচ্চতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চোরাচালানের আনুমানিক ৮০% কোকেইন সরবরাহ করেছিল, ব্যক্তিগত আয় বছরে ২১.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পরিণত হয়েছিল। তাকে প্রায়শই “কোকেনের রাজা” বলা হত এবং ইতিহাসের ধনী অপরাধী ছিল, ১৯৯০এর দশকের গোড়ার দিকে এটি মার্কিন ডলারের মধ্যে ২৫ মার্কিন ডলার এবং ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। ২০১৮ সালের হিসাবে ৪৮.৫ ডলার এবং ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসাবে তার প্রধান করে তোলে।

Escobar জন্মগ্রহণ করেন কলম্বিয়া এর Rionegro, এবং মেডেলিন কাছাকাছি বড় হয়ে পড়া, মেডেলিন এর Universidad Autónoma Latinoamericana সময়ে অধ্যয়নরত ছিলেন কিন্তু একটি ডিগ্রী অর্জন করেন । তিনি নিষিদ্ধ সিগারেট এবং জাল লটারি টিকিট বিক্রি সহ অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িত হতে শুরু করেন এবং মোটর গাড়ি চুরিতেও অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭০-এর দশকে, তিনি বিভিন্ন প্রতিবাদকারী চোরাচালানকারীদের জন্য কাজ শুরু করেন, প্রায়শই অপহরণ ও পাউন্ড কোকেইন বিতরণ করার আগে মানুষকে মুক্তিপণের জন্য ধরে রাখেন এবং সেইসাথে ১৯৭৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম চোরাচালান রুট স্থাপন করেন। মাদকের বাজারে তাঁর অনুপ্রবেশ কোকেইন ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে; এবং, ১৯৮০ এর দশকে, এটি অনুমান করা হয়েছিল যে ৭০ থেকে ৮০ টন কোকেইন কলম্বিয়া থেকে মার্কিন মাসিকে পাঠানো হচ্ছে। তার ড্রাগ নেটওয়ার্কটি সাধারণত মেডেলিন কার্টেল নামে পরিচিত ছিল, যা প্রায়শই বিদেশী এবং বিদেশী প্রতিদ্বন্দ্বী কার্টেলগুলির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল, যার ফলে গণহত্যা এবং পুলিশ কর্মকর্তা, বিচারক, স্থানীয় ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদদের হত্যার ঘটনা ঘটে।

১৯৮২ সালে সংসদীয় নির্বাচনে লিবারেল বিকল্প আন্দোলনের অংশ হিসেবে এসকোবারকে কলম্বিয়ার চেম্বার অফ রিপ্রেজেন্টেটিভের বিকল্প সদস্য নির্বাচিত করা হয়। এর মাধ্যমে, তিনি পশ্চিম কলম্বিয়াতে ঘর এবং ফুটবল ক্ষেত্র নির্মাণের জন্য দায়ী ছিলেন, যা তাকে স্থানীয় শহরগুলির স্থানীয়দের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
যাইহোক, কলম্বিয়া “বিশ্বের খুনের রাজধানী” হয়ে ওঠে, এবং এসকোবার কলম্বিয়ান ও আমেরিকান সরকারগুলি দ্বারা ভীত হয়। ১৯৯৩সালে, তাঁর ৪৪ তম জন্মদিনের একদিন পর এসকোবারকে কলম্বিয়ান জাতীয় পুলিশ তার শহরতলিতে গুলি করে হত্যা করে।

নিকটবর্তী শহরটিতে উত্থাপিত, এসকোবার কিশোর কালেই তার অপরাধমূলক কর্মজীবন শুরু করে, স্থানীয়ভাবে চোরাকারবারীদের পুনরুদ্ধারের জন্য সেগুলি গ্রাউস্টস্টোন চুরি করে এবং সেগুলি বালি করে দেওয়ার কথা বলে। তার ভাই, রবার্টো এসকোবার এই দাবি অস্বীকার করেছেন, তার বদলে দাবি করেছেন যে মহাকর্ষগুলি কবরস্থান মালিকদের কাছ থেকে এসেছে, যাদের ক্লায়েন্টরা সাইট কেয়ারের জন্য অর্থ প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে এবং তার একটি আত্মীয় ছিল, যার একটি ব্যবসা ছিল। এসকোবারের ছেলে সেবাস্তিয়ান মারকুইন দাবি করেছেন যে জালিয়াতি হাই স্কুল ডিপ্লোমা বিক্রি করার সফল প্রচেষ্টার সাথে তার পিতার অপরাধ শুরু হয়েছিল, মেডেলিনের ইউনিভার্সিটি অটোনোমা ল্যাটিনো আমেরিকানা দ্বারা জালিয়াতিকারীরা সাধারণত জালিয়াতি করে।

এস্কোবার অবশেষে অস্কার বেনিল আগুয়েরের সাথে অনেক অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ছোট্ট রাস্তার স্ক্যামগুলি ছিল, নিষিদ্ধ সিগারেট, জাল লটারি টিকিট এবং গাড়ি চুরি করা হয়েছিল। ১৯৭০ এর দশকের গোড়ার দিকে, ড্রাগ ব্যবসায়ের প্রবেশের আগে, এসকোবার চোর এবং দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করেছিলেন, অভিযোগক্রমে মাদেলিনের নির্বাহীকে অপহরণ ও অধিষ্ঠিত করে ১,০০০০০ মার্কিন ডলার উপার্জন করেছিলেন। Escobar Alvaro প্রিটো, একটি contraband চোরাচালানকারীর জন্য কাজ শুরু করেন যারা মেডেলিন এর কাছাকাছি পরিচালিত, তিনি ২২ বছর বয়সী সময়ে ১ মিলিয়ন ডলার COL করেছিলেন একটি শৈশব উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ করার লক্ষ্যে । এসকোবরের কাছে তার ২৬ বছর বয়সে ৩মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি) ব্যাংকের আমানত পেয়েছেন বলে জানা যায়।

বিশিষ্টতা উত্থান

শীঘ্রই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোকেনের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল, এবং এসকোবার দক্ষিণ ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া, এবং দেশের অন্যান্য অংশে আরও চোরাচালান, রুট এবং বিতরণ নেটওয়ার্ক সংগঠিত করেছিল। তিনি এবং কার্টেল সহ-প্রতিষ্ঠাতা কার্লোস লেহদার বাহামাগুলিতে একটি নতুন ট্রান্স-চালান বিন্দু বিকাশের জন্য একসাথে কাজ করেছেন, এটি ফ্লোরিডা উপকূলে ২২০মাইল (৩৫০ কিমি) দক্ষিণপূর্বের নর্মানস নামে একটি দ্বীপ। তার ভাইয়ের মতে, এসকোবার নর্মানস কে কিনেনি; এটি পরিবর্তে, Lehder এর একমাত্র উদ্যোগ ছিল। এসকোবার এবং রবার্ট ভেসকো দ্বীপে বেশিরভাগ জমি কিনেছিল, যার মধ্যে ১ কিলোমিটার (৩,৩০০ ফুট) বিমানবন্দর, একটি বন্দর, একটি হোটেল, ঘর, নৌকা এবং বিমান অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং তারা কোকেইন সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজে তৈরি গুদাম তৈরি করেছিল। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত এটি মেডেলিন কার্টেলের কেন্দ্রীয় চোরাচালান রুট হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এই রুট দ্বারা উত্পন্ন বিপুল লাভের সাথে, এসকোবার শীঘ্রই কয়েক মিলিয়ন ডলারের জন্য অ্যান্টিওউইয়াতে ৭.৭ বর্গ মাইল (২০ কিমি) জমি কিনেছিলেন, যার উপর তিনি হ্যাসিন্দা ন্যপোলস নির্মাণ করেছিলেন। তিনি নির্মিত বিলাসবহুল ঘর একটি চিড়িয়াখানা, একটি হ্রদ, একটি ভাস্কর্য বাগান, একটি ব্যক্তিগত bullring, এবং তার পরিবার এবং কার্টেল এর জন্য অন্যান্য বিভাজন ছিল।

এক পর্যায়ে এটি ছিল যে ৭০থেকে ৮০ টন কোকেইন কলম্বিয়া থেকে প্রতি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হচ্ছে। ১৯৮০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে, তার ক্ষমতার উচ্চতা অনুসারে, মেডেলিন কার্টেল মার্কিন বিমানগুলিতে জেটলিনদের প্রতি ১১টন প্রতি ফ্লাইট প্রেরণ করেছিল (এসকোবার দ্বারা প্রেরিত সর্বাধিক লোড ছিল ৫১,০০০ পাউন্ড (২৩,০০০ কেজি) মাছ পেস্ট দিয়ে মিশ্রিত করা হয়েছিল এবং জাহাজের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছিলো, যেমন তাঁর ভাই এসকোবার বইটিতে নিশ্চিত করেছেন। রবার্টো এসকোবার এছাড়াও দাবি করেছিলেন যে, বিমান ব্যবহার করার পাশাপাশি তার ভাই বৃহত লোড পরিবহনের জন্য দুটি ছোট সাবমেরিন নিযুক্ত করেছিলেন।

লা ক্যাডেট্রাল থেকে পালিয়ে যাওয়ার ১৬ মাস পর, পাবলো এসকোবার ২ ডিসেম্বর ১৯৯৩ তারিখে একটি শ্যুটআউটে মারা যান, এস্কোবরের অনুসন্ধান ব্লকটি বাদ দেওয়ার চেষ্টাগুলির অন্যতম। ব্রিগেডিয়ার হুগো মার্টিনেজের নেতৃত্বাধীন একটি কলম্বিয়ার ইলেকট্রনিক্স নজরদারি দল, তার রেডিওটেলিফোন ট্রান্সমিশনগুলি ট্র্যাক করতে রেডিও ট্রিল্টারেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং তাকে মেডেলিনের মফতসল শ্রেণীর শহরে ব্যারিও লস অলিভোস লুকিয়ে রাখার খবর পায় । এস্কবার ট্র্যাক করার খবর পেয়ে এসকোবার এবং তার দেহরক্ষী আল্ভারো লিমন নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে । দুই রাস্তার পিছনে রাস্তায় পৌঁছানোর জন্য আশপাশের বাড়ির ছাদে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু উভয়কেই কলম্বিয়ান জাতীয় পুলিশ কর্তৃক গুলি করে এঙ্কাঔন্টার করা হয় ।

এটি কখনও প্রমাণিত হয়নি যে প্রকৃতপক্ষে তার কানের মধ্যে চূড়ান্ত শটটি কে করেছিল, বা এই শটটি বন্দুকযুদ্ধের সময় বা সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ডের অংশ হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল কিনা তা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসকোবারের কিছু আত্মীয় বিশ্বাস করেন যে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তার দুই ভাই, রবার্টো এসকোবার এবং ফার্নান্দো সানচেজ আরেলানো বিশ্বাস করেন যে তিনি নিজেই গুলি করে হত্যা করেছিলেন এস্কোবার কে ।

এসকোবারের মৃত্যুর পর এবং মেডেলিন কার্টেলের পরবর্তী বিভক্তকরণের পরে, কোকেইন বাজার ১৯৯০ এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত কলি কার্টেল দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল, যখন তার নেতারা কলম্বিয়ার সরকার কর্তৃক নিহত হন বা বন্দী হন। এসকোবার এর পর রবিন হুড মেডেলিনের স্থায়ী প্রভাব বজায় রেখেছে। সেখানে অনেকে, বিশেষ করে শহরবাসী দরিদ্র যাদেরকে এস্কোবরের জীবিত অবস্থায় সাহায্য করা হয়েছিল, তারা সবাই এস্কোবার এর মৃত্যুর জন্য শোক প্রকাশ করেছিলেন এবং ২৫,০০০ এরও বেশি লোক তাঁর ফিউনারাল এ উপস্থিত ছিলেন।

NETFLIX প্রযোজিত NARCOS সিরিজের একটি এপিসোড পাবলো এস্কোবার কে নিয়ে বানানো যেটা অনেক বেশি রেকর্ড ক্ষ্যাত টি আর পি অর্জন করতে পেরেছে ।।

সাদা মনের মানুষ

Now Reading
সাদা মনের মানুষ

আমাদের আশেপাশে অনেক মানুষ বসবাস করে, যারা নিজের স্বার্থ ছাড়াই সমাজের জন্য, দেশের জন্য অনেক ভালো কাজ করে যাচ্ছে। যাদেরকে সাদা মনের মানুষ বলা যেতে পারে। এই সকল সাদা মনের মানুষরা নিজের সবটুকু দিয়ে তাদের আশেপাশের মানুষের জীবন আলোকিত করতে কাজ করে যায়। এই সকল সাদা মনের মানুষরা কখনও নিজের কথা ভাবে না। তাদের উদ্দেশ্য থাকে অন্যের জীবন আলোকিত করা। এই সকল সাদা মনের মানুষ অনেক সময় মূল্যায়ন পায়, আর বেশির ভাগ সময় পায় না। কিন্তু আমাদের সমাজে এই রকম যে সকল সাদা মনের মানুষ আছে তাদেরকে সমাজের পক্ষ থেকে এবং দেশের পক্ষ থেকে মূল্যায়ন করা উচিত। আজকে এই রকম একজন সাদা মনের মানুষের কথা বলব। যিনি তার শিক্ষকতা দিয়ে তার সমাজের অনেক মানুষের জীবন আলোকিত করেছেন।

আমাদের দেশে এখন শিক্ষার হার অনেকটাই বেড়েছে। কিন্তু তারপরও শহরে আমরা অনেক পথ শিশু দেখি যারা কর্ম জীবনে পা দিয়ে দিয়েছে। এই শিশুদের বেশির ভাগের পরিবারের পক্ষে তাদের শিশুদের পড়ালেখা করানোর মত অর্থ নাই। তাই শিশুগুলো কর্ম জীবনে পা দিয়েছে। আর অনেক ছেলেমেয়ে আছে যাদেরতো মা বাবাই নেই। আর গ্রামের অবস্থা অনেক বেশি খারাপ। গ্রামে দারিদ্রতার হার বেশি, তাই শিক্ষার আলো সবার কাছে পৌঁছাইতে পারে না।

কিন্তু আব্দুল মালেক হাওলাদার নামে একজন ব্যক্তি সমাজে ঝরে পড়া শিশুদের মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ করে গেছেন। আব্দুল মালেক হাওলাদারের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে। দুধখালী ইউনিয়নের মিঠাপুর বাজারে ১৯৪৩ সালে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন আব্দুল মালেক। পরবর্তীতে স্কুলটি ‘আব্দুল মালেক হাওলাদারের পাঠশালা’ নামে এলাকাজুড়ে খ্যাতি লাভ করে। তিনি দীর্ঘ ৬৭ বছর ধরে মানুষ গড়ার কাজ করে যাচ্ছেন।

আব্দুল মালেক হাওলাদারের প্রতিটি দিন শুরু হয় মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার ব্রত নিয়ে। আব্দুল মালেক হাওলাদারের জীবনের সকল ধ্যান ও জ্ঞান হচ্ছে, তার নিজের হাতে তৈরি একমাত্র পাঠশালা। আর এই পাঠশালা নিয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন তার জীবনের বেশির ভাগ সময়। দুধখালী ইউনিয়নের মিঠাপুর বাজারে আব্দুল মালেক হাওলাদারের পাঠশালা দেখতে খুব একটা ভালো না। কিন্তু এই পাঠশালার মাধ্যমেই দিনের পর দিন অসংখ্য মানুষকে আলোর পথ দেখিয়েছেন আব্দুল মালেক হাওলাদার। তিনি তার পাঠশালার ছেলেমেয়েদের পাঠ্য বইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি দিতেন ভালো ও সত্য মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার শিক্ষা। তিনি তার সমাজের অনেক ছেলেমেয়েকে অন্ধকারের পথ থেকে তুলে এনে, তার পাঠশালায় তাদের দিয়েছেন আলোর শিক্ষা। আব্দুল মালেক হাওলাদারের পাঠশালার শিক্ষায় আলোকিত হয়ে আজ অনেকই সমাজে, দেশে সু প্রতিষ্ঠিত। অনেকই হয়েছেন ডাক্তার, ব্যাংকার, শিক্ষক ইত্যাদি। আব্দুল মালেক হাওলাদার একাই তার পাঠশালায় শিক্ষা প্রদান করতেন। আব্দুল মালেক হাওলাদার তার পাঠশালায় পড়াশুনার পাশাপাশি নাচ, গান, কৌতুক, বিভিন্ন বিষয়ে ট্রেনিং দিতেন। আব্দুল মালেক হাওলাদার তার প্রতিটি ছাত্রকে দিতে চান জীবনের পাঠ। তিনি এক ১৬ বছরের নিরক্ষর ছেলেকে মাত্র সাড়ে ৩ বছর তার পাঠশালায় পড়াশুনা করিয়ে মাধ্যমিক পাশ করান। ছেলেটির নাম হচ্ছে মোঃ শহিদুল ইসলাম। তিনি এখন তার এলাকাতেই একটি বিদ্যালয়ে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে চাকুরী করেন। এই রকম অসংখ্য ছেলেমেয়েকে তিনি তার বিদ্যালয়ে এনে, শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে জীবনের আলো দেখিয়েছেন।

আব্দুল মালেক হাওলাদারের পাঠশালায় নিধারিত কোন বেতনের নিয়ম ছিল না। ছেলেমেয়েরা যে যা পারত তাই তাকে দিত। আর বেশির ভাগ ছেলেমেয়েই টাকা দিতে পারত না। কিন্তু তিনি কখন কোন ছেলেমেয়েকে এই বিষয়ে কিছু বলতেন না। কারন তার মূল উদ্দেশ্যই ছিল শিক্ষার আলোয় মানুষের জীবনকে আলোকিত করা। মহান এ মানুষটির কাছে তার মহৎ কর্ম ও জীবন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি শীর্ষ নিউজ ডটকমকে বলেন, প্রাপ্তির জন্য তিনি কোনো কিছু করেননি। তিনি মনে করেন এটা তার মানসিক তৃপ্তি ও নৈতিক দায়িত্ব। ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের একটি সামাজিক ও দেশপ্রেমমূলক কার্যক্রম দেশব্যাপী ‘সাদা মনের মানুষ’ নির্বাচন ২০০৬ সালে ১০ জনের মধ্যে তাকে নির্বাচিত করেছিলেন সাদা মনের মানুষ হিসেবে। ইউনিলিভারের পক্ষ থেকে পুরস্কার হিসেবে পেয়েছিলেন ১ লাখ টাকা। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো আ. মালেক হাওলাদারের পাঠশালার সেই ভাগ্যবান ব্যক্তি তার নিজ জেলাতেই কোনো সংবর্ধনা পাননি। এমন কি নিঃস্বার্থ এ মানুষটির খবরও কেউ রাখেন না।

আলোর ফেরিওয়ালা

Now Reading
আলোর ফেরিওয়ালা

আজকে আপনাদেরকে বলব বই প্রেমী সাদা মনের মানুষের এক গল্প। এই সাদা মনের মানুষটি প্রতিদিন সকালে কাধে বই ভর্তি এক ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পরেন। আর হেঁটে বেড়ান গ্রামের পর গ্রাম। গ্রামের যে মানুষগুলো ভোরে জমিতে কাজের জন্য বের হন তারা সকলেই এই বই প্রেমী বৃদ্ধ মানুষটিকে সবার আগে দেখেন। আর গ্রামের মানুষগুলো এই লোকটাকে ডাকেন বই ওয়ালা দুলাভাই। তিনি তার আশেপাশের গ্রামের মানুষদের বাড়িতে বাড়িতে যান, আর তাদেরকে বই দিয়ে আসেন এবং কিছুদিন পর নিজে গিয়ে বই গুলো নিয়ে আসতেন। ভোরে ভোরে গিয়েই তিনি মানুষের ঘরের কড়া নাড়তেন, আর গ্রামবাসি দরজা খুলেই দেখতেন বই ওয়ালা দুলাভাই, কিছু বই নিয়ে একটা হাসিমাখা মুখ নিয়ে দাড়িয়ে আছেন। তারপর তিনি বই দিতেন আর অন্য আরেকটি বাসায় চলে যেতেন। আর এই ভাবেই বই ওয়ালা দুলাভাই তার আশেপাশের ২০টি গ্রামে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে গেছেন।

এই বই ওয়ালা দুলাভাই এর আসল নাম পরান সরকার। ১৯২১ সালে নাটোরের বাগাতিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন পরান সরকার। পরান সরকারের আরেকটি নাম হচ্ছে হারেজউদ্দিন সরকার। তার মা তাকে পরান বলে ডাকতেন। পাঁচ মাস বয়সে তিনি তার বাবকে হারন। চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর অর্থনৈতিক সমস্যার কারনে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। এর পর তিনি তার মায়ের সাথে রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার বাউসা গ্রামে চলে যান। সেখানে ছিল তার নানার বাড়ি। সেখানে তিনি একটি স্কুলে ভর্তি হন যেখানে ষষ্ঠ শ্রেণির পর লেখাপড়ার সুযোগ ছিল না। তাই সেখানেই তার পড়ালেখার ইতি টানতে হয়। তার স্কুল জীবন শেষ হয়ে যায় কিন্তু তার বই পড়া বন্ধ হয় না। ঐ বয়সেই তিনি বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলেন। এরপর তিনি যেখানে যেই বই পাইতেন তিনি তা সংগ্রহ করতেন এবং নিজে পড়তেন, ও অন্যদেরকে বই পড়ার সুযোগ করে দিতেন। এই ভাবেই ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়া ছেলেটি সবার কাছে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে গেছেন।

নিজে ঠিকমত পড়াশুনা করতে না পারলেও তিনি তার পরিবারের সবাইকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলেছেন। তার কাছে শিক্ষাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যৌবনকালে পলান সরকার নানার জমিদারির খাজনা আদায় করতেন। নানা ময়েন উদ্দিন সরকার ছিলেন তখনকার সময়ে সেখানকার স্থানীয় ছোট জমিদার। দেশ বিভাগের পর জমিদারি ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়ে যায়, এরপর তিনি কর আদায়কারীর চাকুরী পান। তিনি তার বেতনের টাকা দিয়ে বই কিনতেন, এবং অন্যকে বই কিনার জন্য টাকাও ধার দিতেন। নানা ময়েন উদ্দিন সরকার মারা যাওয়ার পর তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে তিনি ৪০ বিঘা জমির মালিক হন। এই জমি তিনি মানবকল্যাণে উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন।

পরান সরকার যাত্রাপালাও করতেন। তিনি ব্রিটিশ আমলেই যাত্রাদলে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি অভিনয় করতেন ভাঁড়ের চরিত্রে। আবার যাত্রার পাণ্ডুলিপি হাতে লিখে কপি করতেন। সে সময় গ্রামাঞ্চলে যাঁরা যাত্রা-নাটকে অভিনয় করতেন তাঁদের অনেকেই পড়ালেখা জানতেন না। পলান সরকার লেখাপড়া জানতেন। তখন না ছিল ফটোকপিয়ার, না সাইক্লোস্টাইল মেশিন। তাই যাত্রার পাণ্ডুলিপি কপি করতে হতো হাতে লিখে। যাত্রার পাণ্ডুলিপি লেখার কাজটা অনেক সময় করতে হতো তাঁকেই। অন্যদিকে মঞ্চের পেছন থেকে অভিনেতা- অভিনেত্রীদের সংলাপ বলে দিতেন।

বাউসা হারুন অর রসিদ শাহ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি বেশ কিছুদিন। পলান সরকার ১৯৯০ সাল থেকে বাউসা হারুন অর রসিদ শাহ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিবছর যারা মেধাতালিকায় প্রথম দশটি স্থান অর্জন করত তাদের বই উপহার দিতেন। ১৯৬৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় ৫২ শতাংশ জমি দান করেছিলেন পরান সরকার। এবং এলাকাবাসির অনুরধে তিনি এই বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও বই পড়তে চায়, এবং তার কাছে বইয়ের জন্য আবদার করে। কিন্তু সবাইকে বই দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব ছিলনা। তখন তিনি চিন্তা করলেন সবাইকে বই দিবেন কিন্তু আবার ফিরত নিবেন। এইভাবেই শুরু হয় বই ওয়ালা দুলাভাই এর বই দেয়া-নেয়ার কাজ।

১৯৯২ সালে ডায়াবেটিকসে আক্রান্ত হন। এবং ডাক্তার পরান সরকারকে বলেন প্রচুর হাঁটতে হবে প্রতিদিন। তখনই পরান সরকারের মাথায় বুদ্ধি আসে তিনি বাড়ি বাড়ি হেঁটে গিয়ে বই দিবেন এবং নিয়ে আসবেন। তারপর তিনি বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে সবার কাছেই বই দেয়া-নেয়া শুরু করেন।

‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানে আলোকিত মানুষ হিসেবে তুলে ধরা হয় বইপ্রেমী পলান সরকারকে ২০০৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর। এই প্রথম আমাদের দেশের মানুষ তার সম্পর্কে ব্যাপক ভাবে জানতে পারে। ২০১১ সালে সামাজসেবায় অবদানের জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক লাভ করেন। ২০১৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ‘ইমপ্যাক্ট জার্নালিজম ডে’ উপলক্ষে বিশ্বের ভিন্ন ভাষার প্রধান প্রধান দৈনিকে একযোগে পলান সরকারের বই পড়ার এই আন্দোলনের গল্প ছাপা হয়। সারা পৃথিবীর ৪০টি প্রধান দৈনিকে লেখাটি ছাপা হয়। নিজের গ্রাম, এরপর আশেপাশের গ্রাম, পরিশেষে বিশ্বের মাঝে পরিচিত হন আমাদের ‘’আলোর ফেরিওয়ালা’’। তাঁকে নিয়ে ‘সায়াহ্নে সূর্যোদয়’ নামে শিমুল সরকার একটি নাটক নির্মাণ করেছেন। চ্যানেল আই তা প্রচার করেছিল। বিনামূল্যে বই বিতরণ করে সকলের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ সৃষ্টির করার জন্য ইউনিলিভার বাংলাদেশ পলান সরকারকে ‘সাদা মনের মানুষ’ খেতাবে ভূষিত করে।

বার্ধক্যজনিত কারণে ২০১৯ সালে ১ মার্চ মৃত্যু হয় । আর এই ভাবেই শেষ হয় এক আলোর ফেরিওয়ালার।

“আমাদের বিলুমামা”

Now Reading
“আমাদের বিলুমামা”

……আমাদের বিলুমামা…..

কমলাপুর রেলস্টেশন আসতে আর হয়তো কয়েকটা মিনিট লাগবে..রেল এর গতি যত কমতে থাকে আমাদের চার ভাইবোনের তিরিংবিরিং যেন বিপরীত গতিতে বাড়তে থাকে,আম্মুর চিল্লাচিল্লি তখন আমাদের কানের অনেক দুরে।।
কে আগে দেখবে বড়ামামা কোথায় দাঁড়িয়েছে,এই ভাইবোনদের খুনসুটি,দৌড়ে গিয়ে জানালার বাইরে মাথা বের করে রাখা,আর প্রতিবারই যেই দেখুকনা কেন ক্রেডিটটা নিতো আসিফ ভাইয়া(আমার বড় ভাই)আহা তার সেই কি দাদা গিরী।।
বড়ামামার দেখা পেয়ে আমরা যেন বিশ্বজয়ের আনন্দে মেতে উঠতাম।
আম্মু সব মালপত্র সমেত আমাদের দুই কাজের মেয়ে কে নিয়ে নামার আগেই আমরা চারভাইবোন ঠেলাঠিলি করে নেমে পরতাম,বড়ামামার টুডোর পাবলিকা গাড়িটা যে আমাদের সবচেয়ে প্রিয় যানবাহন।এটাকে মুরিরটিন বানিয়ে চাপাচাপি করে বসার মজাটা বোধহয় আমাদের জেনারেশনের বাচ্চারাই জানে(৯০ই দশকের কিডস)নানুর বাড়ি পৌঁছাতেই গেটের বাইরে অপেক্ষায় থাকতো বিলু মামা। হ্যা আমাদের সবার রাজা বিলুমামা।।
আমরা গাড়ি থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে নামতাম আর সে গুনতে থাকতো আমাদের।

–পঙ্গের পাল নিয়ে হাজির হইসে রোজী,আম্মা জলদি আস বলেই নানুকে চিৎকার দিয়ে ডাকতো বিলুমামা !!(রোজী আমার আম্মুর নাম)

–বিলু তুই বদমাইশি বাদ দিয়ে সব ভিতরে নেতো,আম্মু ধমক দেয়!

সেদিন সবার দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর কি যে জমপেস আড্ডা হতো,এই আড্ডার মধ্যমনি থাকতো আমাদের বিলুমামা।সে আমাদের সবাইকে কী যে অদ্ভুদ সব নামে ডাকতো,এটা তার স্বভাবের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক, কোন এক আজব কারণে বিলুমামা কাউকেই তার নিজের নাম ধরে ডাকতো না, সে তার নিজের মতো করে একটা করে নাম রেখে দিত। বিকেল হলেই সে আমাদেরকে হোমওয়ার্ক দিত সিনেমার নাম খুঁজে বের করা,আমরা নাইট সো কি দেখবো সেটার লিস্ট বানানো,(ভিসিয়ার এ মুভি দেখা)
মানুষটা যে এতো মজা করতে পারতো, সারাক্ষণ বাড়িটাকে মাতিয়ে রাখতো তার মজার মজার কান্ডকারখানা দিয়ে।আমার আর নাতাশার(খালাতোবোন) মধ্যে মারামারি লাগানোটায় সে এতো মজা পাইতো সেটা তখন যতটা রাগ উঠতো এখন চিন্তা করলে ভীষণ হাসি পায়। সে ক্লিকবাজী করে আমাদের মধ্যে ঝগড়া লাগায় দিত আর আমরা গাধারা মারামারি করতাম এদিকে বিলুমামা হইতো রেফারি,নাতাশার গায়ের রং ফরেনারদের মতো বলে ওকে ফিরীঙ্গি নামে ডাকতো,আর আমি ছিলাম সেই ছোটকাল থেকেই বিরাট রংঢং করা টাইপ বাচ্চা তাই আমার নাম করণ করেছিল “রঙ্গু” নামে,সে আমাকে কখনই নামধরে ডাকছে বলে আমার মনে পরেনা,আমাকে সে ডাকতো “রঙ্গু”বলে।।
আমি আর নাতাশা যখন জানালা ধরে ঝুলতাম তখন সে প্রায়ই পেছনে এসে সুন্দর সুন্দর কথা বলতো।যখন চলে যেত একটু পরেই টের পেতাম সে আমাদের দুইজনের চুলের বেণী একসাথে গিট্টু দিয়ে চলে গেছে।
কখনও তো স্কার্টের পেছনে মিষ্টির বক্সের দড়ি দিয়ে লেজ লাগিয়ে দিত,কি যে যন্ত্রণা করতো বাড়ির সবগুলো বাচ্চাকে।আবার সবচেয়ে বেশী আদরও করতো সে।তাই আমরা কেউ ওর উপর কখনই রেগে থাকতে পারতামনা,বরঞ্চ যখন নানুবাড়ি আসতাম সে যদি দেশের বাইরে থাকতো সেইদিনগুলো কি যে বোর হতাম আমরা, সে কবে আসবে সেই অপেক্ষার প্রহর গুনতাম।
কোন এটারী, কোন নিনটেনডু,প্লেবয়,সেগাম্যাগা গেমস,কখন কোনটা কাকে কিনে দিতে হবে কোন ডিভাইসটা মার্কেটে নতুন আসছে সে খুব ভালো খবর রাখতো এবং জানতো।আম্মু সবসময় বকা দিত বিলুমামাকে “কি শিখাশ তুই বাচ্চাগুলারে?? এতো গেমস কিনে কি হবে???”

—রোজী তুমি কিচ্ছু জানোনা,বাচ্চাদের স্মার্ট করতে হলে এসব সম্পর্কে ধারনা দিতে হয়,বলতো বিলুমামা।

বরাবরই ভ্রমন পিপাসু আমাদের বিলুমামাটা কোন দেশে না বেরিয়েছে।আর আসার সময় নিয়ে আসতো আমাদের সবার জন্য গিফট।
কি ভয়ঙ্কর চুজি একটা মানুষ ছিল সে,কারো পছন্দ যে এতো ভালো হতে পারে সেটা ওকে না দেখলে আমার অজানা রয়ে যেত।
বিলুমামাটাই আমাদের শিখিয়ে ছিল স্টাইল কিভাবে করতে হয়,ব্র্যান্ড কি জিনিস,জগতের অদ্ভুদ নিয়মে কিভাবে যে অনেক গুলো বছর কেটে গেল আমরা সবাই বড় হয়ে গেলাম,আস্তে আস্তে প্রিয় মানুষগুলো প্রকৃতির নিয়মে দূর আকাশের তারা হয়ে গেল।।একে একে নানাভাই,নানু,খাও(আমাদের খালুকে আমরা খাও ডাকতাম) তারপর আম্মু,আব্বু।সবাই চলে গেল আমাদেরকে পৃথিবীতে রেখে।
রঙিন পৃথিবীটা কেয়কটা বছরের মধ্যে বিবর্ন হয়ে গেল।হয়ে গেল ভীষণরকম নিষ্ঠুরও।

আব্বু আম্মু চলে যাওয়ার পর বিলুমামা আমাদের চারটা ভাইবোন কে একটা ছায়ার মতো ঘিরে রাখছিল।তার কাছে আসলে মনে হতো এখনও বোধহয় আমরা সেই ছোট।তার দুষ্টুমি এতটুকু কমেনি,মুমু (আমার ছোটবোন)কে সে ডাকতো ব্যঙ্গা বলে।
দেশের বাইরে যাবার আগে মুমুকে বলতো কি লাগবে জানাও,মুমুও মহা আনন্দে লিষ্ট বলতে থাকতো।
আমাদের কমন জিনিস মাথা ব্যথার সময় লাগানো মাথার বাম,ব্যাঙ্কক স্পেশাল।।
সেটা সে আনতে কখনও ভুলতোনা,এই হাস্যজ্জ্বল দুষ্টু মানুষটা কেন যে বিয়েটা করলোনা এই রহস্যটা আর কোনদিন জানা হলোনা।

নিজের এতো কিছু থাকতে, এতো লাক্সারিয়াস ভাবে সে দেশের বাইরে গেলে থাকতো অথচ নানুর বাসায় সে একটা বেডরুম পর্যন্ত করেনি,সারাটা জীবন হেসে হেসে ড্রইংরুমকেই নিজের রুম বলে চালিয়ে গেল।

বিলুমামার শরীরে যে কখনও ক্যান্সার বাসা বাঁধবে আমরা কেউ কল্পনাও করিনি।আস্তে আস্তে সে একা থাকতে ভয় পাওয়া শুরু করলো সেটা হয়তো অসুস্থতার জন্য,সারাটাক্ষণ সে চাইতো সবাই তার আসে পাশে থাকুক।
মেসিথেলিওমার মতো এগ্রেসিভ ক্যান্সার নিয়ে সে একদিকে ব্যথায় কোকাচ্ছে পর মুহুর্তে আমাদের সবার সাথে দুষ্টুমি করছে আহারে আমার বিলুমামা।
আমার বাচ্চাটা (ওর নাম রাই)জন্মের পর থেকে শুকনা ছিল তাই ওকে ডাকতো টিকটিকি বলে ইদানিং একটু মটু হয়ে গেছে বলে ওকে বলতো,টিকটিকি তো এখন কুমির হয়ে গেল রে।আমি যখন আসতাম বলতো পান্ডারে(মুনমুনআপু আমার আরেক খালাতোবোন) ডাক দে,তোরা দুইটা গ্যাস বেলুনের মতো ফুলতেছিস কেন???বলে গালটা গোল করে দেখাতো।আহারে।।

মানুষটা গত ৪ টা মাস ধরে ব্যাঙ্কক হসপিটাল থেকে যখন ক্যমোথ্যরাপী নিয়ে ফিরত এতোটা কস্ট হয়নি দেশে আসার পর মারা যাবার আগের ৩ দিন যা হয়েছে।হ্যা সে আর আমাদের সাথে নেই,চারটা মাস ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে আমাদের বিলুমামা পারি দিয়েছিল ঐপারে যেখানে তার জন্য অপেক্ষায় ছিল তার খুব কাছের মানুষগুলো।।

৮ই অক্টোবর ২০১৬ সালের বিকেলবেলায় মিরপুর বুদ্ধীজীবি কবরস্থানে আমাদের প্রিয় বিলুমামাকে শোয়ায় দিয়ে আসছে বড়মামা।
সে এখন নানুর কবরে শুয়ে আছে,তার ব্যথাটা নিশ্চই এখন আর তাকে ডিসটার্ব করছেনা তাইনা?আর কখনও বমি হবে না নিশ্চই,শ্বাসকষ্টটাও পালিয়েছে এতক্ষনে।শেষেরদিকে রাতের বেলা
বড়াম্মা(বড় খালা)মাথায় হাত না বুলালে নাকি ঘুম আসতোনা তার এখন আর সেটার দরকার হবেনা,মাইমনিকে ও (বড়মামী)কি রান্না করবে বিলুমামার জন্য সেটা নিয়ে ব্যস্ত হতে হবে না আর।

মানুষটা ঘুমাচ্ছে,শান্তির ঘুম,হুম অবশ্যই শান্তির!!! না হলে,কি প্রশান্তির হাসি ছিল তার চেহারায় যেন সে হাসতে হাসতে আমাদের বিদায় জানাচ্ছে,বলছে”রঙু, পান্ডা,আবরা,এলসি,ফিরিঙ্গি,ব্যঙ্গা, টিকটিকি,কেবলা,কেবলি আমি যাই রে তোরা ভালো থাকিস,খুব ভালো।।
আমার যে কি কষ্ট হচ্ছিল তার নিথর দেহটা দেখতে, মনে মনে চিৎকার করে অসংখ্যবার বলেছি “ভালবাসি তোমাকে অনেক, কেন চলে যেতে হলো এই অসময়ে?”বারবার গলায় দলা বেঁধে যাচ্ছিল,চোখ ঝাপসা হয়ে উঠছিল, আব্বুআম্মু মারা যাবার পর সেই যে ছিল আমরা চারটা ভাইবোনের অভিভাবক,আমাদের যে আর কেউ রইল না।বিলুমামা চলে যাবার পর হলাম আমরা প্রকৃত পক্ষে এতিম।সে চলে যাবার পর দিনগুলো বড্ড অন্যরকম হয়ে গেল কিভাবে যেন আমরা সবাই বয়সের চেয়ে আরো বড় হয়ে গেলাম, দায়িত্বগুলো বেড়ে গেলে একেওপরের উপর।সে বেঁচে থাকতে জানতামইনা কতটা সহজ করে রেখেছিল আমাদের জীবনযাত্রা।কখনও মাথা ঘামাতে হয়নি বাসার কমন ফ্যাসেলিটি,ইউটিলিটি বিল কাকে দিয়ে কোথায় পাঠাতে হবে,গাড়ির ট্যাক্স, ফিটনেস,ব্যাংকের টাকা উঠানো,বাসায় কার কখন কোনটা দরকার সব কিছুর খেয়াল খবর সে রাখত।এখন আর কেউ নেই আমাদেরকে ওভাবে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসে যাওয়ার মতো।
আমি প্রায়ই তাকে স্বপ্ন দেখি,স্বপ্নের মধ্যেই মাঝে মাঝে ঝগড়া করি কেন সে বিয়ে করলো না?বিয়ে করলে তার জীবনটা হয়তো অন্যরকম হতে পারতো।রাতের বিশাল খোলাআকাশের নীচে থেকে যখন কোন জ্বলজ্বলে তারা দেখি নিজের অজান্তেই বলে উঠি “ভালো থেকো বিলুমামা,অনেক ভালো অনেক অনেক ভালো।
ভালো যে তোমাকে থাকতেই হবে,সেটা যে তোমার পাওনা।।

©আদনীন কুয়াশা

Page Sidebar