ফালগুনের রাত্রি

Now Reading
ফালগুনের রাত্রি

জাহানারা বেগম ক্লান্ত শরীর নিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লেন । শুয়ে ঘরের চালার দিকে তাকাতেই তার চোখে পড়ল আকাশের তারা। তারাগুলেঅ মিট মিট করে জ্বলছে। ধনী ব্যক্তিরা তারা দেখার জন্য ছাদে গিয়ে বসে থাকে। সেটা তাদের শখ। কিন্তু জাহানারা বেগমের তারা দেখার শখ নেই। তার ঘরের চালা ফুটো। গত বছর মেরামত করা হয়নি। এবার বর্ষায় তাকে খুব কষ্ট পেতে হয়েছে। মাটির ঘর একটু বৃষ্টিতে ভিজে অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। রহিমের বাবা দিন মজুরের কাজ করে। সব সময় কাজ থাকে না। তাদের অভাবও দূর হয় না। ফালগুন মাস শুরু হয়েছে সবে মাত্র। রাতে শীত গরমের কোন কষ্ট নেই। বসন্তের দখিনা হাওয়া মনে প্রশান্তি দেয়।

তারপরও জাহানারা বেগম মনে শান্তি পায় না। শুয়ে এপাশ ওপাশ করে। ছেলেকে নিয়ে তার চিন্তা হয়। রহিমের বাবাকে নিয়ে চিন্তা হয়। আগের মত কাজ করতে পারে না। সব সময় কাজ পাওয়া যায় না। যে করে হোক ঘর মেরামত করতে হবে। মেরামত করতে না পারলে নুইয়ে পড়বে। তখন পয়সা বেশি খরচ হবে। এত পয়সা আসবে কোথা থেকে। এসব চিন্তা তাকে আস্থির করে তোলে।

রহিমের একটা ব্যবস্থা হলেই ভালো। কাজের খোঁজে ঢাকা গেছে ছেলেটি। কাজ পাবে তো! না পেলে চলবে কী করে। এসব ভাবে শুয়ে শুয়ে রহিমের মা। ছেলে তার স্বভাবে চমৎকার। নিতান্তই বিপদে না পড়লে মিথ্যা কথা বলে না। এত আভাবের মধ্যে বড় হয়েছে কিন্তু কোনদিন চুরি করে আনেনি। সবার সাথে ভালো ব্যাবহার করে। কিন্তু তাকে নিয়ে তার মায়ের ভয় আছে। আন্যয় দেখলে প্রতিবাদ করবেই। সেবার গ্রামের মাতব্বরের ছেলে এক চাষীর মুরগি  ধরে দলবল নিয়ে পিকনিক করেছিল। রহিম তা ধরিয়ে দিয়েছিল। তাই নিয়ে তাদের অনেক আত্যাচার সইতে হয়েছিল। মাতব্বরের লোকেরা রহিমকে ধরে নিয়ে যাবার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিল। গ্রামে কোন মিটিং হলে রহিম সবার আগে থাকবে। সব মিলিয়ে কেমন যেন একটা প্রতিবাদী স্বভাবের। এসব রহিমের মাযের পছন্দ নয়। আমরা গরীব মানুষ। এসব দিয়ে আমাদের কাজ কী!

রহিমের মার মনে একটা চাপা ভয়ও কাজ করে। তিনটি ছেলে ও দুটি মেয়ে মারা যাবার পর তার একটি ছেলে বেঁচে আছে। প্রথম ছেলে জন্মের সাথে সাত মারা যায়। পরেরটি  দুই মাস বয়সে নিউমোনিয়ায় মারা যায়। তৃতীয়টি মারা যায় পেটের পিড়ায়  এক বৎসর বয়সে। ষষ্ঠ  এবং একমাত্র সন্তান হিসেবে বেঁচে আছে রহিম। সেও হয়েছে প্রতিবাদী। অথচ রহিমকে ঘিরে রহিমের মায়ের  কত আশা ভরসা। ছেলে তাদের বৃদ্ধ বয়সের একমাত্র সহায়।

ছেলেকে ঢাকা পাঠিয়ে জাহানারা বেগম ঘুমাতে পারে না। এভাবে কেটে যায় রহিমের মায়ের রাত্রি। সকালে উঠান ঝাড়ু দেয় সে। হঠাৎ রহিমের মায়ের বুকের মধ্যে ধকধক করে উঠে। হাত থেকে ঝাড়ু পড়ে যায়। মাটিতে বসে পড়ে সে। খুবেই ক্লান্তি লাগছে তার। শরীরে একটু বল নেই। এভাবে বসে থাকে কিছুক্ষণ। সারারাত্রি ঘুম হয়নি তাই এমন লাগছে সে তাই মনে করে। কিন্তু মাটি থেকে উঠে দাঁড়াবার শক্তিও সে হারিয়ে ফেলেছে।

একটু পরে রহিমের বাবা কাজ থেকে ফিরে আসে। সেও সকাল থেকে কাজ করতে পারছে না। তার বুকের ভেতর ধড়ফড় করছে। রহিমের বাবা, মা দুজনেই গরের বারান্দায় মাটিতে বসে আছে। দুজনেই চুপটি মেরে বসা। পাশের বাড়ির সেলিম চাচা রেডিও হাতে নিয়ে খবর শুনতে শুনতে এদিকেই আসছে। রেডিওতে গড়গড় শব্দ হচ্ছে। খবরের কিছু বোঝা যাচ্ছে না।

সেলিম চাচা বলে গেলেন, “খবর ভালা না মিয়া, ঢাকাই মিলিটারিরা ব্যাবাকেরে গুলি কইরা মাইরা থুইছে। তাগোর অপরাধ নাকি রাষ্ট্রভাষা বাংলা চায়।” রাষ্ট্রভাষা বাংলা নয়ত কি চাইব আর। আল্লাই জানে  কার মার কোল খালি হল। দুদিন পর জাহানারা বেগমের আঙ্গিনায় একটি নতুন কবর দেখা গেল। কবরের বেড়া ধরে রহিমের বাবা দাঁড়িয়ে আছে। বারান্দায় বসে ফ্যাকাসে দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রহিমের মা। তার চোখে কোন জল নেই।

 

ডায়েরী !

Now Reading
ডায়েরী !

ডায়েরী এটি আবার কেমন সাহিত্য কথা হতে পারে ? অদ্ভুত ! ডায়েরী নিয়ে আবার কেমন সাহিত্য কথা হবে এগুলো প্রশ্ন মনে নিশ্চয় জাগছে ! জাগারও কথা এখন আমি ডায়েরী নিয়ে কথা বলব । তো ডায়েরী এমন একটি সাহিত্য কথা যা অনেক বড়, ডায়েরী সাহিত্য কথা বড় হওয়ার কারণে আমি আপনাদের কাছে এটি পর্ব পর্ব করে উপস্থাপন করব ।

ফারাজ খেলাধুলা করে এবং সে একটি একাডেমীতে অনুশীলনও করে । খেলাধুলার প্রতি ওর অনেক আগ্রহ আছে ইচ্ছাও আছে যে বড় হয়ে খেলোয়াড় হবে । ফারাজের বাবা ওকে অনেক উৎসাহ দেয় এবং খেলাধুলার জন্য যা যা দরকার সবও দেয় ! বলতে গেলে ফারাজের সপ্নটা যেন তার বাবারও সপ্ন হয়ে গেছে ! তো তার বাবা তাকে সব দিক দিয়েই সাপোর্ট করেন ! অনেক মানুষের বিরোধিতা সত্তেই তার বাবা তাকে উৎসাহ দেয় যে, মানুষের কথায় কখনোও কান দিবে না ! তুমি খেলাধুলা কর আমি তোমার পাশে আছি যতরকম উৎসাহ সাপোর্ট লাগবে আমি দিব ! তুমি মন দিয়ে খেলো ।

ফারাজ ক্লাস সেভেনে পড়ে কয়েকদিন পর অষ্টম শ্রেণিতে উঠবে । তো একদিন ওদের স্যার ওদেরকে বলল, তোমরা সেভেন পাস করে অষ্টম শ্রেণিতে উঠলেই তোমাদেরকে কোচিং করানো হবে তো ফারাজ ঘাবড়ে গেল তার খেলাধুলার কি হবে? স্কুলের ক্লাস শেষ করে অনুশীলন করতে যেতেই দেরি হয়ে যায় ! তারওপর অষ্টম শ্রেণিতে কোচিং হলে অনুশীলনই করত পারবোনা এই ভেবে ফাহিম ঘাবড়ে গেল !

ফারাজ বাসায় এসে এই বিষয় নিয়ে বাবার সাথে আলোচনা করবে বলে ঠিক করল । ফারাজের বাবা রাতরে বাসায় আসে তার বাবা একজন বিজনেস মান প্রতিদিন তিনি রাজশাহী থেকে ৩০ কিমি যাতায়ত করেন ! সকাল ৬ টাই চলে যান আবার রাত ১০ টা বা ১১ টাই বাসায় আসেন ! ফারাজের বাবা অনেক পরিশ্রম করেন ! এর জন্য ফারাজের অনুপ্রেরনা আর উৎসাহ দুটোও বাবাকে দেখে পান । রাতে ফারাজের বাবা আসলে তার বাবার সে কথা বলল স্কুলের বিষয় নিয়ে তার বাবা তাকে বলল এসব নিয়ে চিন্তা করার দরকার নাই ভাল করে পড় আর ১ মাস আছে বার্ষিক পরীক্ষার পাস করতে হবে ! তারপর নতুন স্কুলে দিয়ে দিব ক্লাস করতে হবে না ! সারাদিন খেলাধুলা করবা আর বাসায় প্রাইভেট পড়বা ! ফারাজতো অনেক খুশি ।

এদিকে ফারাজ আরেকটি সুখবর পেল ! ফারাজের প্রাইভেট শিক্ষকের নাম ফাহিম ইসলাম তো তার শিক্ষকের সাথে ফারাজের অনেক ভাল সম্পর্ক । বলা যায় ভাই ভাই এর মত সম্পর্ক ! তার শিক্ষককে সে ফাহিম ভাই বলে ডাকত । ফাহিম ভাই এর বয়সও বেশিনা ২১ বছর বয়স আর ফারাজ যে কারো সাথে খুব দ্রুত ভাল সম্পর্ক গড়তে পারে ! ফাহিম ভাইয়ের ছোট ভাই গাজীপুর থেকে রাজশাহীতে তার কাছে থাকতে আসবে ! সবথেকে ভাল সুখবরটি হল ফাহিম ভাই এর ছোট ভাইও খেলাধুলা করবে তাই তিনি তাকে তার কাছে নিয়াসবে এবং ফারাজের সাথে খেলাধুলা করবে আর পড়ালেখা দুটোও ফারাজের সাথে করবে !

ফারাজের জন্য ভাল হল দুইজন অনেকক্ষণ মাঠে থাকতে পারবে ! কারন, ফারাজ বেশি বেশি অনুশীলন করতে চাই এর জন্য ওর একটা সাথী লাগত আর ফাহিম ভাইয়ের ভাইকে পেলে ফারাজের ভালই হবে ! এটা ছিল ফারাজের জন্য সুখবর !

ফারাজরা যেহেতু রাজশাহীতে থাকে । আর রাজশাহী এখন বাংলাদেশ এর একটি নাম করা শিক্ষা শহর হয়ে গেছে । এর জন্যই ফাহিম ভাইয়ের ভাইকে রাজশাহীতে নিয়াস্তে চাচ্ছেন আর গাজীপুরে স্কুল তেমন একটা ভাল নেই পড়ালেখাও ভালও হয় না আবার খেলাধুলা করার মত কোন বাড়ির কাছে কোন একাডেমীও নাই ! একটা একাডেমী আছে যেটা বাড়ি থেকে ১৫ কিমি দূরে আর এতদূরে যেয়ে অনুশীলন করা খুবও কষ্টকর !   মূলত এই দুটি কারনের জন্যও তার ভাইকে রাজশাহীতে নিয়াসবেন । (চলবে)

 

প্যারাডক্স

Now Reading
প্যারাডক্স

মা-বাবা,দাদী,আমি আর আমার ভাই,এই পাঁচ জন সদস্যের সংসার আমাদের।আমরা ভাড়া বাসায় থাকি।আমি রুবামা।বয়স তখন বার।আমার ভাই জিব্রান,ওর বয়স নয়।

বাবা কিছুদিন হল কেমন যেন খারাপ আচরণ করে মার সাথে।আমি বুঝি বাবার পরিবর্তন।

এক বিকেলে মা আর দাদী মিলে বিকেলের জন্য নাস্তা বানাচ্ছেন। এমন সময় দরজায় ঠকঠক শব্দ।এই সময় বাসায় কেউ আসার কথা না।কারন বাবা অফিস থেকে ফিরতে ফিরতে রাত নয়টা- দশটা বেজে যায়। দাদী দরজা খুলতে গেলেন। দরজা খুলে দেখেন বাবা দাড়িয়ে আছে।কিন্তু একা না। সাথে ঘোমটা মাথায় এক মহিলা।

বাবা দাদীকে বল্লেন,”মা তোমার বৌমা।আমি আবার বিয়ে করেছি। ওর নাম রিমঝিম। রিমঝিম যাও,মাকে সালাম কর”।

দাদীর কিছু বলার শক্তি ছিল না। ঐদিন কি জঘন্য বিকেলকে আমরা সরাসরি দেখেছি,শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তা জানেন।

মা সারারাত কেঁদেছেন। সকালে মা বললেন,” রুবামা,তোমার ছোট চাচা আর তোমার মামাকে ফোন করে বাসায় আসতে বল। আমি তাই করলাম। পুরো বাড়ির পরিস্থিতি আমার কলিজায় বারবার সুঁইয়ের মত বিঁধছিল।

সেদিন সন্ধ্যায় ছোট চাচা আর মামা আসলেন। নানীও এসেছেন মামার সাথে। বাবা ওনাদের সামনে আসতে চাইছিলেন না। অন্য ঘরে তার নতুন বউকে নিয়ে চোরের মত বসেছিলেন।

বাসায় যারা এলো সব শুনল। নানি গুংরে গুংরে কাদছিলেন।কারন নানি জানেন ,মেয়েকে সাহায্য করা বা মেয়েকে নিজের কাছে রাখার মত আর্থিক অবস্থা তার নেই। চাচা কিছুই না বলে দাঁত কড়মড় করতে করতে বাবার ঘরে গিয়ে বাবার কলার ধরে মেঝেতে ফেলে মুখ বরাবর ঘুসি মারতে মারতে রক্তাক্ত করে ফেললেন। সবাই চাচাকে আটকাল। বাবার বউ রিমঝিম গলা উঁচিয়ে বলে,”এরা তোমার আত্মীয়? আমি থাকব না এই খুনিদের সাথে।“আমার মনে হচ্ছিল ডাইনীটার চুল ছিড়ে ফেলি।বউয়ের সাপোর্ট পেয়ে বাবা তো গলার জোর বারিয়ে দিলো। চাচাকে বলে,”তুই কে রে আমার বিষয়ে কথা বলার?আমি কয়টা বিয়ে করবো, সেটা আমার ইচ্ছা।এতদিন লুকিয়ে চলতাম, এখন থেকে আর লুকিয়ে থাকব না।“

এভাবেই চলতে থাকল কিছুদিন।বাবা আমাদের দুই ভাই-বোনের সাথেও কথা কমিয়ে দিয়েছেন। ওনাকে বাবা বলতে আমার ঘৃণা বোধ হয়। বাসায় এত ঘটনা ঘটা সত্ত্বেও আমি জিব্রানের তেমন কোন পরিবর্তন দেখি না। মেয়েরা একটু তাড়াতাড়ি বোধসম্পন্ন হয়। আর ছেলেরা একটু দেড়িতে। তাই হয়তো আমি যতটা যন্ত্রণা অনুভব করি, জিব্রান ততটা নয়। বাবার নতুন বিয়ের এর মাঝে দুই সপ্তাহ কেটে গেছে। বাসার তো বিরাট পরিবর্তন এসে গেছে। একই বাড়িতে একজন পুরুষের দুই স্ত্রী বসবাস করে। যা মোটেও শোভনীয় নয়। মা আর রিমঝিম(বাবার নতুন স্ত্রী) কেউ কারো সাথে কথা বলেনা। রিমঝিম ধীরে ধীরে তার রূপ প্রকাশ করতে শুরু করে। অবশ্য বাবাকে বিয়ে করেই তিনি তার চরিত্র এবং আচরণের প্যাকেট উন্মোচন করেছেন। সে নিজের এবং বাবার জন্য আলাদা রান্না করে।মাকে উদ্দেশ্য করে খোঁচাত্বক কথা বলে। মা তো বোবা হয়ে গেছে।কিছুই বলে না। বাবা আমাদের খরচের টাকার পরিমাণ কমিয়ে দিলেন।

একদিন মা সহ্য করতে না পেরে ঐ মহিলাকে(রিমঝিমকে) গিয়ে বল্লেন,”কিরে, পৃথিবীতে কি পুরুষের ঘাটতি ছিল রে?বিয়ের জন্য আমার জামাইকেই পেয়েছিস ? বলেই মা ঐ মহিলার ওপর ঝাঁপিয়ে পরলেন।শুরু হল দুইজনার মারামারি। আমি আর দাদী গিয়ে থামালাম সব। বাবা আসতে না আসতেই বাবার সেই মায়াবিনী বাবাকে সব জানাল।বাবা রাগে মাকে চড় মারল। আমি আর সহ্য করতে পারিনি। চিৎকার করে বললাম ,”তুমি একটা কুকুর। রাস্তায় কুকুর দেখলেও আমার এততা ঘৃণা হয়না, যতটা তোমাকে দেখে হচ্ছে।“ বাবা সুযোগ পেয়ে গেল।আমাকে মনভরে থাপ্পর দিলেন।বললেন ,”তোর খরচ আমি আর দেবনা।“

এসব বিষয়ে আমার দাদী নির্বাক ছিলেন।ছেলেকে বোঝাবার চেষ্টা উনি বহুবার করেছেন।কিন্তু দাদীকে অপমান হতে হয়েছে বারবার।বাবা এমন আচরণ করতেন যেন তিনি কোন স্বর্গের দেবীকে হাতে পেয়েছেন। যার নাম রিমঝিম। স্বর্গের সেই দেবীর সম্পর্কে নেতিবাচক কিছু বলা এবং শোনা যেন পাপ।

বাবা যখন থেকে আলাদা থাকে তখন থেকে খুব সামান্য পরিমাণ সংসার খরচ দিতেন। অভাবের অভিশাপ কতটা জঘন্য তা আমরা প্রতিটা সেকেন্ডে যেন উপলদ্ধি করতে থাকি।

এভাবে পাঁচ মাস কেটে গেল। দাদী মারা গেলেন। দাদী মারা যাবার পর থেকে ছোট চাচা আমার লেখাপড়ার জন্য কিছু টাকা প্রতি মাসে দেয়া শুরু করলেন।আমি সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলাম।তাই আমার লেখাপড়া বাবদ খরচ একটু বেশি হত।জিব্রান চতুর্থ শ্রেণীতে পড়তো। ওকে আমি নিজেই পড়াতাম।

এভাবে দিন পার হতে থাকে। আমি যখন দশম শ্রেণীতে পড়ি তখন এক্সট্রা শিক্ষক প্রয়োজন ছিল।এস এস সি পরিক্ষায় ভাল ফলাফলের জন্য। মা বুঝলেও নিরুপায় ছিল।কারন বাবা এক্সট্রা টাকা দিতে রাজি না।এর মাঝে বাবার ঐ সংসারে একটি মেয়েও হয়েছে।

একদিন দুপুরে মা অনেক বাজার করে বাসায় এলেন।আমার খুব অবাক লাগছিলো। কারন বাবার ঐ ঘটনার পর থেকে আমাদের জীবন ফ্যাঁকাসে হয়ে গেছে।ভাল বাজার হয়না বললেই চলে।

মা বাসায় এসে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললেন ,”রুবামা, তুমি তো বলেছিলে তোমার টিচার দরকার।ভাল একজন টিচারের কাছে পড়া শুরু করে দাও,আর জিব্রান কেও একটা কোচিং সেন্টারে ভর্তি করে দাও।ভাল ভাবে লেখাপড়া শুরু কর তোমরা।“

আমি বললাম ,’মা, টাকা জোগাড় হবে কিভাবে?’” মা বল্লেন,”আমি কিছু ছোট ছোট বাচ্চাকে পড়াবো। আজ বাচ্চাগুলোর বাবা-মার সাথে আমার কথা হয়েছে।“

সত্যি বলতে বিষয়টা আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়নি।আজকাল টিউশন পাওয়া এতো সহজ না। বাবা-মায়েরা শিক্ষকের educational background ভাল না হলে তাকে বাছাই পর্বেই বাতিল করেন। আর মা তো ম্যাট্রিক পরিক্ষাও দিতে পারেননি, বিয়ে হয়ে যাবার কারনে।যাই হোক, আমি বিষয়টা আর ঘাঁটালাম না।

মার কথা মত আমি টিচারের কাছে পড়া শুরু করলাম আর জিব্রানকেও কোচিং সেন্টারে ভর্তি করলাম।

আরও কিছু দিন এভাবে কেটে গেল। আমার এস এস সি পরীক্ষা শেষ হল। তখন রেজাল্ট দেয়নি। মা প্রতিদিন বাচ্চা পড়াবার কথা বলে বাইরে বের হন।ফেরেন রাত দশটা- এগারটার সময়। কোন অভাব নেই,ভাল চলছি আমরা।

একদিন বিকালে জিব্রান ক্রিকেট খেলতে বের হল। বাসার সামনের একটা চায়ের দোকান আছে। চাওয়ালা জিব্রানকে ডেকে বলে,”বাবু, তোর মা কই?”বলেই খিকখিক করে টিটকারির হাঁসি হাসছেন। ওনার হাঁসি দেখে জিব্রান মেজাজটা ঠিক রাখতে পারেনি।

জিব্রান একটু উচ্চস্বরেই বলে,” ঐ মিয়া, হাসেন কেন? চা-ওয়ালা মাথা নিচু করে চা বানাচ্ছে আর হেঁসেই যাচ্ছে।

এইবার জিব্রান তার কাঁধে ধাক্কা দিয়ে বলল,”আমারে দেখতে কি মদন মনে হয়? হাসেন কেন?

চা-ওয়ালা এবার হাঁসি বন্ধ করে জিব্রানকে বলে,”কাশেম মিয়াঁর বাড়িত গিয়া দেখ, তোর মায়ে কি পড়াইতে যায়। “জিব্রান স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল তখন।কাশেম ,এলাকার একজন সম্পদশালী লোক। কিন্তু তার চরিত্রের বেহাল দশা।পর পর দুইটা বউ চলে গেছে ওনার নোংরামি সহ্য করতে না পেরে।মা ওখানে কেন?

জিব্রান প্রায় দৌড়েই কাশেমের বাড়ি গিয়ে জোরে জোরে দরজায় করা নাড়তে থাকে।কাশেম দরজা খোলে। জিব্রানকে দেখে কাশেম অপ্রস্তুত হয়ে যায়।

জিব্রান কাশেমকে বলে,” চাচা ,আমার মা নাকি আপনার বাসায়?”

কাশেম মিয়া তো উত্তর দিতে পারেনি। উত্তর জিব্রান পেয়ে গেছে দরজার কাছে তার মায়ের স্যান্ডেল জোড়া দেখে।কিছু না বলে কাঁদতে কাঁদতে জিব্রান বাসায় ফিরেছিল। আমাকে জড়িয়ে ধরে শিশুর মত কেঁদেছে আমার ভাইটা। আমি সব শুনে কিছুই বলতে পারিনি।পাথর হয়ে গেছিলাম।

জিব্রান ফেরার দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর মা ফিরলেন।মাথা নিচু করে, কতটা লজ্জায় তা আমি অনুভব করতে পারছিলাম।আমি কাউকেই সান্ত্বনা বা সহানুভূতি দেখাতে পারিনি।জিব্রানের ঘরের দরজা বন্ধ।মা বারান্দায় চেয়ারে বসে আছেন।মা কাদেনি। চাঁপা কষ্টে যেন মা ভেঙ্গেচুরে যাচ্ছে। আমি জানি না,জিব্রান মাকে খারাপ ভাবছে কিনা বা কতটা ঘৃণা করছে। আমার দৃষ্টিতে মায়ের কোন দোষ ছিলনা।মা নিরুপায় ছিলেন।আমার এই বিচার বুদ্ধি হয়তো সাধারণ সমাজে নীতিবিরুদ্ধ,কিন্তু আমি জানি আমি ঠিক। মা আমাদের জন্য নিজের সত্ত্বাটাকে হত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।

রাতে আমরা কেউ খাইনি।জিব্রান ঘর থেকে বের হয়নি।আর মা বারান্দাতেই বসে ছিলেন।রাত প্রায় তিনটার সময় আমার ঘুম ভাঙে জিব্রান আর মায়ের করুন কান্নার শব্দে। দৌড়ে বারান্দায় গেলাম।দেখি জিব্রান মার পা জড়িয়ে আছে আর মা ওকে জাপটে ধরে কাদছে।আমি সত্যি বলতে কখনই ভাবিনি জিব্রান জঘন্য সত্য এই বাস্তবতাকে এই কিশোর বয়সে পরিপক্ব মানসিকতা দিয়ে বুঝতে পারবে। ও কাঁদতে কাঁদতে বারবার বলছে,” মা তোমার কোন দোষ নাই।আমি বাবাকে কেটে ফেলবো। ঐ লোকটা আজ আমাদের এখানে নামাল ,মা”

জিব্রানকে শান্ত করে ওর ঘরে পাথালাম।মাকেও ঘরে নিয়ে আসলাম ঘুমাবার জন্য। সকালে উঠে মাকে আর বাসায় পাইনি। আত্মীয়স্বজন কারো বাড়িতে খোঁজ নিতে বাকি রাখিনি আমরা। বাড়িতে বাবা, চাচা আর মামা এলেন।আমি সবই ওদের সামনে বলে দিয়েছি।আমার ধারনা ছিল ওরা আমার মাকে হয়তো আরও কিছু আজেবাজে বলবে।কিন্তু বলেনি।জিব্রান কয়েকবার তেড়ে আসতে ধরেছিল বাবার দিকে। ওর একটাই কথা,” সব তোর জন্য হয়েছে। “ চাচা বাবাকে বললেন ,”ভাই তোমার জীবনে এগুলোই পাওনা ছিল” বাবার মুখ দেখে মনে হচ্ছিল অপরাধবোধে ভুগছেন। কিন্তু তাতে কি?এই বোধের কোন মূল্য কি আছে?

এর পর থেকে আমরা চাচার বাসাতেই ছিলাম।বাবা আর চাচা দুজনই আমাদের ভার নেয়। জিব্রান অবশ্য এসবের পর থেকে বাবার সাথে কখনো কথা বলতো না।এভাবে আমার অনার্স- মাস্টার্স পরিপূর্ণ হয়।জিব্রান রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি পড়তে থাকে। আমার বিয়ে হয়ে যায় একজন ব্যাংকের কর্মকর্তার সাথে।আমি একটি কলেজের লেকচারার।

আমরা মায়ের খোঁজ পেয়েছিলাম,নানি বাড়ির এক আত্মীয়ের কাছে।মা আসলে তার গ্রামের বাড়িতেই ছিলেন।মানে আমাদের নানা বাড়িতেই ছিলেন।মামা মায়ের খরচ বাবদ কিছু টাকা পাঠাতেন। জিব্রান মাকে নিয়ে এসেছিল ঢাকায়। কিন্তু মা বেশিদিন বাঁচেন নি। হয়তো উনি লজ্জার অনুভূতিটা কাটাতেই পারছিলেন না। আর আমরাও মাকে বুঝাতে পারিনি যে আমাদের চোখে সে নিষ্পাপ।

জিব্রান ডাক্তার হিসেবে বেশ নাম করেছে।বিয়েও করেছে ও। জিব্রানের ছেলে আর আমার ছেলের মাঝে খুব ভাব।জিব্রান এখনো অবসরে দীর্ঘশ্বাসে আমাকে বলে,”আপু,আমাদের মায়ের পৃথিবীতে জন্ম হয়েছিল উদাহরন হিসেবে।যে কিছুই পেলনা। আমি আমার বাবার মত বাবা নই।আমি আমার পরিবারকে ভালবাসি।“

স্বপ্নের কাছেও স্বপ্ন

Now Reading
স্বপ্নের কাছেও স্বপ্ন

সদ্য ডানা মেলা পাখি যখন নীল আকাশের নীরব প্রান্তরে তাকায়। প্রতিটি স্মিতি ক্ষনে আবাক কোটরে সবাক চাহনিতে সজীব চক্ষু মেলে স্বপ্নের বাধ ভেঙে বারে বারে ফিরে আসার গান গায়।সেই গানের মধ্যে কোন লোভ নাই, নেই কোন লালসা। একরাশ ইচ্ছে নিয়ে স্বপ্ন গুলো ঝাপটা মেরে শুধু ক্ষণিকের ভরসা। সব যন্ত্রণা-মন্ত্রণা মুছে দাও।
জানালা খোলা,
নীল আকাশ রয়েছে এখনও নীল,
সন্ধ্যাদীপে আছে বেধ-বেদনার মিল।
তারপরও ভালোলাগে,
রাতবিরেতে রিক্তা জীবনের পথে শিলে,
ভোর-ডাকে সিন্ধু নদের তীরে।

অতপর,
আবার জানালা খোলা,
এবার মনে হয় এঁটে গেছে চাকতিতে,
জীবনে মত থমকে থেকে দাড়াতে।
তা ঠিক সেই বিকেলের স্মৃতির মতই পূরোনো,
কবে চলে গেছে…
মনে আছে তবু, মনে নেই।

আমি আবার আগের মত জানালা খুলেছি।  এবার মনের জানালা। দেখি কোনো রুপকথার স্বপ্নের মত নীল কোনো লাল ঝুটিকে দেখতে ভালো লাগে কিনা। কত জিনিসই তো ভালো লাগে। না, এবার মন দিয়ে দেখি।
মনটাও ভারি আদ্ভুত। ওর ভালো লাগানো, তা যেন  স্বপ্নের কাছেও স্বপ্ন (more…)

রাজপথে বাংলার মেলা

Now Reading
রাজপথে বাংলার মেলা

রাজপথে বাংলার মেলা

ম্ভাবনার সকল দার খোলা। ভাষার পরেই এল স্বাধীনতা। তারই হাত ধরে আমাদের পথ  চলা। বলতে গেলে সবই একই সূত্রে গাঁথা। আমাদের হোস্টেলেই আবার আমাদের মুখে চড় পরল। রক্ত গরম। এবার আর মানতে পারলাম না। যাদের আপন ভেবেছি শেষ পযর্ন্ত তারা। ভাবতে খানিক টা অবাকই লাগে। ভাই বলেছিলাম, আপন করেছিলাম। কিন্তু সেই মর্যাদা তারা রাখতে পারল না। এবার আমাদের পালা।

হোস্টেলের সব থেকে রাগী ছেলে আমার বন্ধু, সালাম।
সে দিন তাকে চেনা যাচ্ছিল না। তার মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছিল না। চোখ গুলো থেকে যেন রক্ত ঝরছে। আগুনের শিখা দাউ দাউ করছে। মুখে যেন তামা পিটিয়েছে। মুষ্টিবদ্ধ হাত।

আমাকে রাগান্বিত সরে এসে বলে গেলো
-“নিচে আয় কথা আছে”

কি হল আবার। নিচে গিয়ে দেখলাম শুধু আমি না। সবাই আছে। সকলের মুখ লাল। কাঁদছে সবাই। আমার গালের উপর দিয়ে কি যেন বেয়ে বেয়ে পরছে। হয়তো,

পরেছে আঘাত
বাংলা ভাষায়
বাঙালি জাতি
সামনে তাকায়

এরপর, আমতলা। ১০ জন করে মিছিল।ভেঙে ফেললাম ৪৪ ধারা। গ্রেফতার হল আফজাল ভাই,মাহামুল,শিবু। রাজপথ লাল।

হঠাৎ,
-সালাম.. সালাম..
আমার সাথে কথা বললনা।
একের পর এক। এবার আমার পালা,

পরন্তো বিকেল
আকাশে আবির মাখা
নীর শান্তো
পাতা শান্তো
শান্তো সকলি
যেন  চলছেনা কিছু
আসীম স্নিগ্ধাতার মধ্যেও
উতলা আমার মন

খনে খনে
বেড়ে জাচ্ছিলো
মনের ভাবুকতা
পেন্সিল হাতে
মনে
কল্পনার পাতা
আমার বুকের
রক্ত দিয়ে
লিখে গেলাম
“বাংলা”

আমি দেখে যেতে পারলাম না
আর পারলাম না
ভালো থেকো,
ভালো থাকুক আমার সোনার বাংলা।

চিরবিদায়

Now Reading
চিরবিদায়

পাখি ডাকা চির সজীব নবীন সুপ্রভাত,
সকলের ঘুম ভাঙ্গা কর্ম ব্যাস্ততার ভরেপুর দিবস,
আমায় দাও বিদায়।
মিষ্টি বিকেলে, মেঘলা আকাশে,
শেফালি ফুলের ‍সুঘ্রাণ আর তরুণ্যের উদ্যামতা
দাও আজ বিদায় আমায়।
কোকিল, শ্যামা, কাক, মাছরাঙ্গা,
শাকিল, বৌ কথা কউ পাখি সব,
করে যাও নানা সুরের কল কাকলী।
গোলাপ, বেলী, হাসনাহেনা,
মাধবীলতা, কামিনী, জুঁই,
গন্ধরাজ, জবা ‍সুবাসিত করে তোলে
ফের চারিদিক তব ভিন্নতার সুঘ্রাণে।
কবি, লেখক, বুদ্ধিজীবী, জ্ঞানী, পন্ডিত,
করে তোল নবরুপে সমাজ, দেশ ও জাতির উন্নতি।
কৃষক, শ্রমিক দনমজুর পথ শিশু যত
নবরুপে উদ্যাম নিয়ে জীবন সংগ্রামে এগিয়ে যাও সম্মুখপানে,
শিশু, কিশোর, তারুণ্যের সাত রঙ্গে রঞ্জিত করে তোল এই ধরাতল
রুগ্ন, অগ্রজ কিংবা প্রতিবন্ধী আছে যারা,
কারো না এতটুকু ভয়, হারিও না মনোবল,
তোমরাই করবে জয় একদিন তা সুনিশ্চয়।
যৌবনে আছ যারা, সময়কে রাংঙ্গিয়ে তোল
করে তোল আরো অধিক গতিশীল, সৃজনশীল
কাজে এগিয়ে যাও তীব্র গতিতে, গর্জে উঠে
ত্বরিত গতিতে এগিয়ে চলো সম্মুখে!

বৃষ্টি ভেজা, একাকী নিঃসঙ্গ ঐ চাঁদ
কখনও ডুকরে আর উঠো নাকো কেঁদে,
চেয়ে দেখ চারিদিকে অজস্র তারার ঝলকানি।
শুধু আমাকে ভুলে যাও,
এই চিরচেনা গোধূলী,এই বাংলার সবুজ
সজীবতা, বর্ণালী ঘাসফড়িং আর প্রজাপতি।
আর যে সময় নেই,
চেলে যেতে হবে তোমাদের ছেড়ে,
অন্ধকারের একলা এক ঘরে।
তবু জেনে রেখো ঐ জ্বলজ্বলে আকাশের উদিত
সবকটি তারা আর জোৎস্না মাখা আলোকে ঝরা চাঁদ
আমার চির নিঃস্বার্থ ভালবাসা আজও
আগেরই মত তোমাদের আছে ঘিরে।
সযত্নে গড়ে তোলা প্রিয় ফুল, ফল তরুলতা ভালো থেকো।
অনেক সুখে থেকো, বেঁচে থেকো আরও বেশি দিন
আমার যত আত্মীয়, অনাত্মীয় বন্ধু স্বজন।
আনন্দে মেতে থেকো আমার প্রাণ প্রিয় সখা আপনাকে নিয়ে,
অনাবিল আনন্দে ভরে উঠূক তোমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষণ।
হে আমার হৃদয় ছেঁড়া মানিক রতন,
জানটুস আর প্রাণটুস সোনামণি,
পৃথিবীর সমস্থ ‍সুখআর ঐশ্বর্য তখনও
পরিবেষ্টিত করে রাখুক তোমাদের সর্বক্ষণ,
আমি হাসি মুখে তোমাদের ভালোবাসাকেে
একমাত্র সম্বল করে নিয়ে যেতে চাই
আজ বিদায়।

আর যে সময় নেই, কত কথা বলব
ভেবেছি, কত গুছিয়ে রেখেছি বাহারি শব্দ চয়ন!
করেছি কত যে ভুল, করেছি কত কি আবদার,
রাগ আর অভিমান করেছি কত।
ক্ষমা করে দাও যদি পারো,
তবে অনুরোধ শুধু এতটুকুই
চিরতরে ভুলে যেও আমায়,
দেখ যেন মনের ভুলে, ভুল করেও মনে পড়েনা
একটিবার মোহেদী নামে বেউ একজন ছিল এতকাল।
যে তোমাদের অনেক ভালোবাসতো,
ভালোবাসতো নিঃস্বার্থে পৃথিবীর জাতি, ধর্ম, বর্ণ
নির্বিশেষে সকল মানুষকে প্রাণ দিয়ে।
ভালোবাসতো বর্ণালি সুজলা সুফলা এই
বাংলার মাঠ, নদী, ঘাস আর পাখির কলতান।
ভালোবাসতো স্রষ্টার প্রতিটি সৃষ্টির
ছোট বড় জীব আর যে ভালবাসা পেলনা বলে
বড় অভিমান করে বিদায় নিয়ে চলে গেল।
বন্ধু, আর যে বলতে পারিনা,
আর যে সইতে পারি না এই অনন্ত যন্ত্রণা।
করে দিও ক্ষমা করেচি যত ভুল
কষ্ট দিয়ে থাকি যদি কারো মনে,
জ্বালাতন করেছি, বায়না ধরেছি কেবল একান্তে আপন জেনেে
আমি আজ এই জীবনের সমস্ত ভুলের তরেে
আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তোমাদের ক্ষমাপ্রার্থী।

বন্ধু, যে বাসনা ছিল হৃদয় বাঁধনে,
সে কথা আজও রয়ে গেল বাকি
তা তবে বল শোনাই আর কারে?
বুক চিরে ভেতরটা দেখাই কোন সে জনতারে?
আর আমি বারংবার ডেকে ডেকে
তোমাদের ক্রোধের অনলে জ্বলবো না।
আর আমি ফিরে ফিরে চেয়ে চেয়ে তোমাদের পানে তাকাবো না।
আর কভু বিখারীর মত তোমাদের
দ্বারে দ্বারে ভালোবাসা পেতে কাঁদবোনা।
বন্ধুগো, করজোরে আছি দাঁড়িয়ে
করে দাও শুধু ক্ষমা,
এখনও এক বুক কষ্ট রেখেছি হৃদয় সিন্দুকে জমা।
স্বর্গীয় সুখ, সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক
তোমাদের নতুন জীবন,
এখন তবে যাই
আমাকে দাও বন্ধু চির বিদায়।

Page Sidebar