5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

মনিকা বিলেন: জার্মান পর্যটক অস্ট্রেলিয়ান আউটব্যাক এ মৃত লাশ খুঁজে পাওয়া গিয়েছে ।

Now Reading
মনিকা বিলেন: জার্মান পর্যটক অস্ট্রেলিয়ান আউটব্যাক এ মৃত লাশ খুঁজে পাওয়া গিয়েছে ।

অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ বলেছে তারা উত্তর টেরিটরি একটি ঝুড়ি ট্র্যাক কাছাকাছি একটি জার্মান পর্যটকের লাশ খুঁজে পেয়েছে ।

মনিকা বিলেন(৬২)গত ২ জানুয়ারী তাকে শেষ দেখা গিয়েছিল এলিস স্প্রিংস শহরের নিকটবর্তী একটি জনপ্রিয় পর্যটক পর্যটক স্পট এমিলি গ্যাপে।

তার দেহ বুধবার প্রায় 3 কিলোমিটার (1.8 মাইল) দূরে একটি গাছের নিচে পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়নি সে কিভাবে মারা গেছে।

মনিকা বিলেন গত সপ্তাহে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে, জনগনের সাহায্যের জন্য কলোনীতে তার পরিবার অনুরোধ জানিয়েছে।

পুলিশ পাঁচ দিন পরে মিস বিলেনের সন্ধানে স্থগিতাদেশ দেয়, কিন্তু তার ফোন প্রদানকারীর কাছ থেকে অবস্থানের তথ্য পাওয়ার পর এটি পুনরায় শুরু করে।

উত্তরাঞ্চলের পুলিশ বিভাগের সাপোর্ট পলিন ভিকারি বলেন, “এটা খুবই দুঃখজনক যে আমাদের এই দুঃখজনক সংবাদটি তার পরিবারকে জানাতে হবে, কিন্তু আমরা তাদের উত্তর দিতে পারার জন্য রিলিভড হয়েছি।”

এমএস বিলেন, যিনি একা অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণ করছিলেন, ডেসার্ট পামস এলিস স্প্রিংসে থাকতেন, এটি এমিলি গ্যাপ থেকে প্রায় 13 কিলোমিটার (8 মাইল) দূরে অবস্থিত।

তার পরিবারের একজন অভিজ্ঞ ভ্রমণকারী হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে, মিস বিলেন এই অঞ্চলে “কম বা কম বিস্তৃত হাঁটতে” তার পরিকল্পনা সম্পর্কে তাদের বলেছিলেন।

মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের একটি চিঠিতে তার পরিবার লিখেছে, “অনেক বছর ধরে এবং বহু দেশে মারাত্মক পথ ধরে ভ্রমণ করেছে এবং সবসময় সাবধানতার সাথে এগিয়ে গেছে”।

পুলিশ জানায়, গত ২ জানুয়ারিতে জনপ্রিয় পর্যটক স্থানে এমএস বিলেনকে একটি লিফট দেওয়ার বিষয়ে একজন মোটরসাইকেল জানান।তিনি “নির্গত এবং অজ্ঞান” উপস্থিত ছিলেন এবং গাড়িতে যাওয়ার আগে পানির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরো অফ মিটিওরোলজি অনুসারে জানুয়ারিতে অ্যালিস স্প্রিংস গড় তাপমাত্রা 36.4 সেন্টিমিটার।

পুলিশ জানায়, একটি coroner জন্য একটি রিপোর্ট প্রস্তুত করা হবে।

মিথোলজিক্যাল ভয়ঙ্কর দানবদের গল্প

Now Reading
মিথোলজিক্যাল ভয়ঙ্কর দানবদের গল্প

কিছু ভয়ঙ্কর দানবাকার প্রাণীর কথা প্রতিটি আদি গোত্রের গল্পেই আমরা পেয়ে থাকি , তাদের বধের গল্প। এই মিথলজিক্যাল প্রাণীগুলো আদতে শুধু গল্পই নয়, বরং এর দ্বারা আমাদের আদি গোত্রের লোকজনের চোখের দেখা পৃথিবী কিংবা কীভাবে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হয় তা-ও শিখতে পারি। মানুষের কল্পনার তৈরি এসব মিথোলজিক্যাল প্রাণীর মধ্য থেকে আজ আমরা জানবো কিছু ভয়ঙ্কর প্রাণী সম্পর্কে।

ওয়েন্ডিগো

মানুষখেকো দানব হিসেবে সুপরিচিত ওয়েন্ডিগো নামের এই কাল্পনিক প্রাণী। মিথোলজি অনুযায়ী, গ্রেট লেকের আশেপাশে ওয়েন্ডিগোদের বসবাস ছিলো। ওয়েন্ডিগো দেখতে অনেকটা গোরস্থান থেকে উঠে আসা কঙ্কালসার মানুষের মতো। পাতলা ও বিবর্ণ চামড়ার সাথে তাদের বুকের ও পাঁজরের হাড়গুলো লেগে থাকতো বিধায় খালি চোখেও সেগুলো দৃশ্যমান ছিলো। চোখগুলো একেবারে গর্তে ঢোকানো এই প্রাণীকে দেখলে মনে হবে, অনেকদিনের অনাহারে তাদের এই অবস্থা।

আদতে মোটেও তা নয়। উপকথা মতে, ওয়েন্ডিগোর ক্ষুধা কখনোই নিবারণযোগ্য নয়। মানুষের মাংস খাওয়ার সাথে সাথে দৈহিক বৃদ্ধির সাথে তাদের খাওয়ার চাহিদাও পাল্লা দিয়ে বাড়ে।

বলা হয়ে থাকে, ১৬৬১ সালে একদল মিশনারি গ্রুপ এলগনকুইন্স নামের এক স্থানে তাবু গাড়ে। জায়গাটি ছিলো ওটোয়া নদীর তীরবর্তী এক বনের সাথে। সেখানে কয়েকজন মানুষ হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তারাই পরবর্তীতে ওয়েন্ডিগোতে রূপান্তর হয় এবং নিজ গোত্রের মানুষদের খাওয়া শুরু করে। তবে বেশিরভাগের মতেই ওয়েন্ডিগো বলতে আসলে কিছুই নেই, বরং ক্ষুধার তাড়নায় সেই মিশনারি দল মানুষখেকো হয়ে উঠে।

 

মানুষখেকো দানব ওয়েন্ডিগো

মিনোটার

গ্রিক উপকথায় মানুষ ও ষাড়ের সম্মিলিত এক রুপকে মিনোটার আখ্যা দেওয়া হয়েছে। মিনোটারের উপকথা সর্বপ্রথম শুরু হয় ১৪ জন এথেনিয়ান শিশুর উৎসর্গের মাধ্যমে। এর হাত থেকে বাঁচার জন্য সেই ১৪ শিশুকে ক্রিট দ্বীপের এক অন্ধকারাচ্ছন্ন গুহায় ছেড়ে দেওয়া হয়, যেখানে বাস করতো মিনোটার। শিশুরা যতই সতর্ক থাকুক না কেন, মিনোটারের হাত থেকে তাদের নিস্তার ছিলো না। বরং চিৎকার করার আগেই মিনোটার তাদের শরীর ছিড়ে গিলে ফেলার ক্ষমতা রাখতো।

গ্রিক মিথোলজি অনুযায়ী, ক্রিটের রানী ও ষাড়ের মিলনে জন্ম হয় এই ধর্মহীন সন্তান মিনোটারের। এসটেরিয়ন নামেও ডাকা হয় তাকে। তবে সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতে পারেনি সে। ক্রিটের রাজা রানীর এহেন কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে মিনোটারকে অন্ধকার গুহায় বন্দী করেন।

তবে প্লুটার্ক দাবি করেন, মিনোটার নামে আদৌ কিছু ছিলো না। রাজা মিনোস প্রতি বছর তার মৃত সন্তানকে স্মরণের জন্য এক উৎসব আয়োজন করতেন। উৎসবে থাকা বিভিন্ন খেলার বিজয়ীকে এথেনিয়ান শিশু উপহার দেওয়া হতো। টাউরাস নামের এক নিষ্ঠুর লোক উপহার পাওয়া সেই শিশুদের জঘন্যভাবে অত্যাচার করতো বলে তাকে মানুষ আক্ষরিকভাবেই দানব ভাবা শুরু করে।

আবার অনেকের মতে, এথেন্সের রাজা থিসাস নিজ হাতে মিনোটারকে হত্যা করতে সক্ষম হন।

মিনোটার

বাসিলিস্ক

সরীসৃপের মতো এই মিথোলজিক্যাল প্রাণীটি এতটাই বিষাক্ত ছিলো যে, তার সামান্য চোখের দৃষ্টিতেই প্রাণ হারাতো যে কেউ। রোমানদের মতে, বাসিলিস্কের প্রাচুর্য ছিলো সাইরেন নামক এক স্থানে, যা এখন পরিচিত লিবিয়া নামে। রোমান লেখক পিনির মতে, বাসিলিস্ককে হত্যা করার ক্ষমতা কারোরই ছিলো না। এর গায়ে বর্শা নিক্ষেপ করলেও শরীর থেকে পানির মতো করে বিষ পড়তো, যাতে করে ওই এলাকার সবাই জীবন হারাতো।

অনেকের ধারণা, এই বাসিলিস্কই বিবর্তনে কোবরা সাপে রুপান্তর হয়েছে, যার দরুন লিবিয়াতে কোবরা সাপের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে ১৫৮৭ সালে পোল্যান্ডের ওয়ারশ’-তে এক মহিলা দাবী করেন, তার মেয়েকে বাসিলিস্কের মতো এক সরীসৃপ হত্যা করেছে। যদিও সেই দাবীর যৌক্তিক কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

 

সবচেয়ে বিষাক্ত সরীসৃপ বলা হয় বাসিলিস্ককে

 

নিয়ান

নিয়ান নামের এই প্রাণীকে ঘিরে ভৌতিক সব কাহিনী শোনা যেত প্রাচীন চীনে। তৎকালীন সময়ে চীনের বাসিন্দারা বিশ্বাস করতো, খাবারের জন্য যেকোনো সময় পাহাড় থেকে নেমে আসতে পারে নিয়ান। তাদের মতে, নিয়ান ছিলো চিরঞ্জীব। কোনো অস্ত্রের সাধ্য নেই নিয়ানকে বধ করার। তাই তারা নিজেদের বাসস্থানে লুকানোর জন্য গর্ত কিংবা গোপন সুড়ঙ্গ তৈরি করে রাখতো। এই ধরনের ভীতি প্রায় শত বছর ধরেই টিকে ছিলো প্রাচীন চীনে।

পরবর্তীতে এক লোক দাবী করেন, তিনি মানুষের ছদ্মবেশে একজন ঈশ্বর। তিনি দাবী করেন, নিয়ানকে হত্যা না করা গেলেও তাকে জনবহুল এলাকায় আসা থেকে বিরত রাখা সম্ভব। তিনি বলেন, নিয়ান কোলাহল কিংবা অদ্ভুত জীবজন্তু ভয় পায়। সেই থেকে প্রতিবছর চীনে এ ধরনের একটি উৎসব পালন শুরু হয়, যেখানে ড্রামের বাদ্য বাজনা এবং অদ্ভুত লাল রঙের কস্টিউম পরে নেচে-গেয়ে বেড়ায় লোকজন। তাদের ধারণা, এই উৎসব পালন বন্ধ করে দিলেই নিয়ান আবার ফিরে আসবে।

প্রাচীন চীনের দানব ছিলো নিয়ান

 

কাইমেরা

গ্রিক উপকথা অনুযায়ী কাইমেরা হচ্ছে টাইফুন নামের দানবাকার সাপ ও তার অর্ধ-মানবী স্ত্রীর সন্তান। হোমারের বিখ্যাত ইলিয়াড গ্রন্থে কাইমেরার বিবরণ দেওয়া আছে। সেখানে বলা হয়েছে, কাইমেরা দেখতে অনেকটা সিংহের মতো। তবে পিঠের দিকে রয়েছে আরো একটি অতিরিক্ত মাথা। হোমার লিখেছেন, সেটি দেখতে অনেকটা ছাগলের মাথার মতো। সাথে তার ছিলো ঈগলের ডানা। লেজের বদলে ছিলো হলুদ চোখযুক্ত সর্পাকৃতির মাথা, যা দিয়ে আগুনের গোলা নিক্ষেপ করতো কাইমেরা।

তবে এই কাইমেরাকেই হত্যা করেছিলেন বেলেরোফোন নামের এক যোদ্ধা। পাখাওয়ালা ঘোড়া পেগাসাসে ভর করে কাইমেরার দিকে বল্লম ছুড়ে মারেন তিনি। বল্লমটি কাইমেরার গলার দিকে বিধলে পেটের আগুনে তা গলে যায়। আর তাতেই শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যুবরণ করে কাইমেরা নামের এই ভয়ঙ্কর প্রাণীটি।

আগুনের গোলার জন্য ভয়ঙ্কর ছিলো কাইমেরা

 

ক্রাকেন

পাইরেটস অফ দ্য ক্যারাবিয়ান মুভি দেখে থাকলে আপনিও ক্রাকেন সম্পর্কে জেনে থাকবেন। ক্রাকেনকে বলা হয় সাগরের সবচেয়ে বড় ও ভয়ঙ্কর প্রাণী। কিছুটা অক্টোপাসের ন্যায় বিশালাকৃতির কর্ষিকা রয়েছে এর। তবে ক্রাকেনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কর্ষিকা কেটে ফেললে তার জায়গায় আরো কয়েকটি কর্ষিকার পুনর্জন্ম হয়।

বিজ্ঞানীরা এই সাগর দানবের সন্ধান এখনো পর্যন্ত না পেলেও ১৮ শতকে এরিক পন্টোপপিডন নামের এক নরওয়েজিয়ান বিশপ দাবী করেছিলেন, তিনি স্বচক্ষে সমুদ্রে ক্রাকেন দেখেছেন। একই কথা কয়েকজন নরওয়েজিয়ান জেলে বললেও ক্রাকেনের প্রমাণ এখনো মেলেনি।

 

ক্রাকেন পরিচিত সবচেয়ে বড় সমুদ্র দানব হিসেবে

 

গ্রুটস্ল্যাং

দক্ষিণ আফ্রিকার উপকথা মতে, গ্রুটস্ল্যাং হচ্ছে ঈশ্বরের প্রথম সৃষ্টি। তাদের মতে, মানুষ সৃষ্টির আগে হাতির চেয়ে বড় বিশালাকৃতির এই সাপ সৃষ্টি করেন ঈশ্বর। পরবর্তীতে মানুষ সৃষ্টির পর ঈশ্বর বুঝতে পারেন, গ্রুটস্ল্যাং মানবজাতির জন্য বিভীষিকা হয়ে দাঁড়াবে। তাই এর ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার জন্য ঈশ্বর গ্রুটস্ল্যাংকে দুটি গোত্রে আলাদা করেন। পরবর্তীতে এই দুই গোত্র থেকেই উদ্ভব হয় সাপ ও হাতির। কিন্তু একটি গ্রুটস্ল্যাং এই পরিত্রাণ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য পালিয়ে যায়। আর তা থেকেই আস্তে আস্তে বংশ বিস্তার করে গ্রুটস্ল্যাং। উপকথা অনুযায়ী, এই প্রাণীটি গুহার অনেক ভেতরে বসবাস করে। আর তাদের আশেপাশে হীরার ভান্ডার থাকে।

বর্তমানে অনেকে বিশ্বাস করেন, দক্ষিণ আফ্রিকার রিচটারভেল্ড গুহায় এদের বসবাস। উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা হীরা ও সাপের জন্য বিখ্যাত।

 

 

দক্ষিণ আফ্রিকার মিথোলজির প্রাণী গ্রুটস্ল্যাং

 

হাইড্রা

বহু মাথা বিশিষ্ট হাইড্রা গ্রিক মিথোলজির এক জনপ্রিয় ও ভয়ঙ্কর প্রাণী। হাইড্রাকে বলা হয় চিরঞ্জীব প্রাণী। এর যেকোনো একটি মাথা কাটলে সেখানে জন্ম নেয় আরো দুটি মাথা। তবে মাথার পুনর্জন্ম থেকে রক্ষা পেতে হলে হাইড্রার মাথা কাটতে হবে আগুনের শিখা দিয়ে। তারপরও তার আসল মাথাটি কখনোই মেরে ফেলা যাবে না। হাইড্রার বিষাক্ত শ্বাস-প্রশ্বাস যেকোনো মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে।

এই হাইড্রার মাথা কাটার দায়িত্ব দেওয়া হয় হেরাক্লিসকে। জ্বলন্ত কাঠ দিয়ে সব মাথা কাটার পর মূল মাথা কাটার জন্য হেরাক্লিস ব্যবহার করেন দেবী এথেনার দেওয়া বিশেষ এক তরবারী। যদিও হেরাক্লিস হাইড্রার মূল মাথা কাটতে সক্ষম হন, তবুও এটি একেবারে মরে যায়নি। তাই হেরাক্লিস একে বিশাল পাথরের নীচে চাপা দেন। মিথোলজি অনুযায়ী, যেকোনো মূহুর্তেই জেগে উঠতে পারে হাইড্রা নামের এই দানবাকার প্রাণী।

 

হাইড্রার সাথে যুদ্ধরত হেরাক্লিস

স্ফিংক্স

স্ফিংক্স নিয়ে ঘিরে থাকা মিথগুলোকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন মিথ। সিংহের মাথা যুক্ত মানুষদেরই স্ফিংক্স নামে সম্বোধন করা হয়। প্রাচীন মিশরে খ্রিস্টপূর্ব ৯৫০০ বছর আগে এই মিথ গড়ে উঠে। পরবর্তীতে স্ফিংক্স গ্রিক মিথোলজিতেও প্রবেশ করে। তবে তারা স্ফিংক্সের সাথে লেজ ও পাখা জুড়ে দেয়।

ফারাওদের মুকুটে স্ফিংক্সের প্রতিচ্ছবি ছিলো। বর্তমানে পিরামিডের চূড়ায়ও স্ফিংক্সের মূর্তির দেখা মিলে। তাদের নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ঘটনাটি ইডিপাসের সাথে সম্পর্কিত। ইডিপাস যখন থিবেসের উদ্দেশ্যে রওনা হন, তখন তার সাথে ছিলো একটি স্ফিংক্স। স্ফিংক্স ইডিপাসকে একটি ধাঁধাঁ দেন। ধাঁধাঁটি ছিলো অনেকটা এরকম, “কোন জিনিসটি জন্মের সময় চার পায়ে, মধ্য বয়সে দুই পায়ে এবং শেষ বয়সে তিন পায়ে  হাঁটে?” স্ফিংক্স ভেবেছিলো, ‘মানুষ’ উত্তরটি ইডিপাস দিতে পারবেন না। কিন্তু তিনি সঠিক উত্তর দেওয়ায় পীড়নের যন্ত্রণায় নিজেকেই নিজে শেষ করে দেয় স্ফিংক্স। বর্তমানে স্ফিংক্সকে মিশরে দেখা হয় সাহস ও শৌর্যের প্রতীক হিসেবে।

 

সত্তর বছরে পোর্শের পথচলা

Now Reading
সত্তর বছরে পোর্শের পথচলা

 

গত সেপ্টেম্বরে সত্তর বছর পার হয়েছে জগতবিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পোর্শের। প্রতিষ্ঠানটি মুগ্ধতা ছড়ানো ডিজাইন আর সুদীর্ঘ সত্তর বছর ধরে নানা রকমের অসাধারণ সব গাড়ি দুনিয়াকে উপহার দিয়ে চলছে । আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা পেয়েছে বেশ কিছু মডেলের গাড়ি ।

পোর্শের শুরু গাড়ি নির্মাতা হিসেবে না হলেও, এই সময়ে এসে সব ধরনের গাড়ি তৈরির ব্যবসায় শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম পোর্শে। কালজয়ী এ প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেছিলেন অস্ট্রিয়ান বংশোদ্ভুত ফার্দিনান্দ পোর্শে ও একে এগিয়ে নেনে তার ছেলে ফেরি পোর্শে। এর সাথে শুরুতে আরেকজন ব্যক্তির আনুকূল্য পেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তিনি অ্যাডলফ হিটলার।

এবার চলুন জানা যাক পোর্শের দীর্ঘ পথচলার কিছু অংশ।

ফার্দিনান্দ পোর্শে: পোর্শের স্বপ্নদ্রষ্টা

পোর্শের স্বপ্নদ্রষ্টা ফার্দিনান্দ পোর্শের জন্ম ১৮৭৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির বোহেমিয়ায়, যা এখন পড়েছে চেক প্রজাতন্ত্রে। তিনি অস্ট্রো-ডেমলার কোম্পানির পরিচালক হিসেবে জার্মানির স্টুটগার্টে স্থানান্তরিত হন। ১৯১৬ থেকে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত তিনি এখানে কাজ করেন। ১৯৩১ সালে তিনি নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তন করেন এবং স্পোর্টস কার ও রেসিং কার ডিজাইনে মনোযোগ দেন। এর আগে তিনি ১৮৯০ সালে একদমই তরুণ বয়সে প্রথম ইলেকট্রিক/গ্যাসোলিন হাইব্রিড ডিজাইন করেছিলেন। তারপর কর্মজীবনে ড্যামলার, মার্সিডিজ, ড্যামলার-বেঞ্জ, ভক্সওয়াগন, অটোনিয়ন এর মতো বিখ্যাত কোম্পানিতে কাজ করেছেন সুদীর্ঘ পঞ্চাশ বছর।

ফার্দিনান্দ পোর্শে ও অ্যাডলফ হিটলার; Image Source: porscheprototype.com

অ্যাডলফ হিটলার ও ফার্দিনান্দ পোর্শে 

সর্বশেষ কর্মস্থল ডেমলার ছেড়ে তিনি তিনি ১৯৩১ সালে নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। জার্মান শাসক অ্যাডলফ হিটলারের সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক  ছিল এবং তিনি নিজেও নাজি পার্টির সদস্য ছিলেন। পোর্শে হিটলারের ‘পিপলস কার’ প্রকল্পেও যুক্ত ছিলেন, যেটি ছিল হিটলারের একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। হিটলারের উদ্যেগ ও পরিকল্পনায় ১৯৩১ সালে তৈরি হওয়া ব্যাপক জনপ্রিয় ভক্সওয়াগন বিটলের ডিজাইনেও ছিল তার নিজস্ব গাড়ি ডিজাইন প্রতিষ্ঠানের অবদান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পোর্শে ও তার প্রতিষ্ঠান, ট্যাংক সহ বিভিন্ন সামরিক যান ও নানা ধরনের অস্ত্রাদি ডিজাইনেও ভূমিকা রাখে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তিনি গ্রেফতার হন ও ফ্রান্সের দিজন কারাগারে তাকে বেশ কিছুকাল বন্দী রাখা হয়। পোর্শের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে এই সময়টাতেই, ফার্দিনান্দ পোর্শের ছেলে ফেরি পোর্শের হাত ধরে।

 

ফেরি পোর্শে ও পোর্শের দ্বিতীয় উত্থান

ফেরি পোর্শে তার বাবার কোম্পানিতে প্রথমে ড্রাফটসম্যান ও পরীক্ষামূলক চালক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফার্দিনান্দ পোর্শের সাথে ফেরি পোর্শে যদিও গ্রেফতার হয়েছিলেন, তবে কিছুদিন পরই তিনি ছাড়া পান। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভক্সওয়াগন কোম্পানি ব্রিটিশদের হাতে চলে যায়। ফার্দিনান্দ পোর্শেকে তার পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার বদলে ইভান হার্স্ট নামক একজন ব্রিটিশ মেজরকে তার পদে বসানো হয়।

 

সেই বছরই ১৫ ডিসেম্বর পোর্শে গ্রেফতার হন। তিনি প্রায় বিশ মাসের মতো বন্দী থাকেন। বাবাকে ছাড়া ফেরি যদিও খুব খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, তবু সেই সময়টাতেই ফেরি পোর্শে নিজস্ব গাড়ি তৈরির উদ্যোগ নেন। ১৯৪৭ সালের আগস্টে ফার্দিনান্দ মুক্তি পান। ১৯৪৮ সালে অবমুক্ত করা হয় পোর্শে কোম্পানির প্রথম গাড়ি পোর্শে ৩৫৬। পোর্শের প্রথম বিক্রি হওয়া গাড়ির মডেল ছিল এটিই।

 

পোর্শে ৩৫৬ অবমুক্ত করার আগে আরো একটি গাড়ি বানিয়েছিল, যেটি ছিল ৩৫৬/১। শুধুমাত্র একটি গাড়িই বানানো হয়েছিল এই মডেলের, যা ডিজাইন করেছিলেন পোর্শের কর্মকর্তা এরউইন কমেন্ডা। কমেন্ডা এর আগে পোর্শের সাথে ভক্সওয়াগনেও ছিলেন। যা-ই হোক, সেই মডেলটিকে সামান্য যোগ-বিয়োগ করে পোর্শে ৩৫৬ নামে প্রথমবারের মতো গাড়ি তৈরির বাজারে প্রবেশ করে পোর্শে।

 

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, পোর্শে ৩৫৬ মূলত তৈরি করা হয়েছিল ভক্সওয়াগন বিটলের ইঞ্জিন সহ নানা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে, যেটি পোর্শেই ডিজাইন করেছিল বিশ্বযুদ্ধের আগে ও বিশ্বযুদ্ধের সময়টাতে। এর সামরিক সংস্করণও বের করা হয়েছিল, যা উৎপাদিত হয়েছিল অর্ধ লক্ষেরও বেশি। পোর্শে নিজের নকশা করা জনপ্রিয় এই গাড়ির মডেলটিকে নিজের প্রয়োজনে আরো একবার ব্যবহার করে ভাগ্য পরীক্ষায় নেমেছিলেন। পোর্শের প্রথম গাড়িটি ছিল চারটি সিলিন্ডারের, চল্লিশ হর্সপাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন আর ইঞ্জিন ছিল পেছনে। প্রথম গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ছিল K45-286।  

পোর্শে তাদের নিজস্ব ইঞ্জিন তৈরি করে ১৯৫০ সালে, যা ৩৫৬ মডেলের পরবর্তী গাড়িগুলোতে ব্যবহার করে। পোর্শে ৩৫৬ দারুণ জনপ্রিয়তা পায়, যা পোর্শেকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে দেয়। এই সময়টাতে তারা ছিলেন অস্ট্রিয়াতে। এই বছরই পোর্শে কোম্পানি অস্ট্রিয়া থেকে জার্মানিতে আবার ফিরে আসে।

জার্মানিতে ফেরার পরের বছর ১৯৫১ সালের ৩০ জানুয়ারি ৭৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন ফার্দিনান্দ পোর্শে। তার প্রতিষ্ঠানটি তখন সাফল্যের দিকেই হাটছিল। এই বছরেই প্রতিষ্ঠানটি ৩৫৬ এসএল মডেলের স্পোর্টস কার পরিচয় করায়, যা “24 Hours of Le Mans”  কার রেসিং প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে সারা দুনিয়ার নজর কাড়ে। সেই সাথে একই সালে ৩৫৬ মডেলের গাড়িটির অারো উন্নয়ন সাধন করে ৪০ হর্স পাওয়ার থেকে ৬০ হর্স পাওয়ারে রুপান্তরিত করা হয়।

 

এর দুই বছর ১৯৫৩ সালে পোর্শে তাদের রেসিং কার ৫৫০ স্পাইডার প্যারিস অটো শো-তে পরিচয় করিয়ে দেয়, যা সমসাময়িক রেসিং কারগুলোকে পেছনে ফেলে গাড়ির ইতিহাসে আরেকটি নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ২৫ বছর পূর্ণ করে ও উৎপাদন করে তাদের দশ হাজারতম গাড়ি।

পোর্শের এরপরের ইতিহাস শুধুই এগিয়ে যাওয়ার। ১৯৬০ সালে ৭১৮ আর এস ৬০, ১৯৬২ সালে পোর্শে ৮০৪, ১৯৬৩ সালে পোর্শে ৯০১ মডেলের গাড়ি বাজারজাত করে তারা। তবে সবচেয়ে অভাবনীয় মডেলটি পোর্শে বাজারে আনে ১৯৬৪ সালে, সেটি ছিল পোর্শে ৯১১। এটি ছিল ১৩০ হর্সপাওয়ারের এবং ছয়টি সিলিন্ডারবিশিষ্ট। এই সিরিজের গাড়িগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

৯১১ মডেলের সফলতার পর ১৯৬৫ সালে এসে পোর্শে ৩৫৬ মডেলটির উৎপাদন বন্ধ করে। এই মডেলের মোট উৎপাদিত গাড়ির পরিমাণ ছিল ৭৭৩৬১টি। এই বছরই পোর্শে খানিকটা সস্তায় ৯১১ এর বডিতে পূর্বের ৩৫৬ মডেলের ইঞ্জিন যোগ করে বাজারে আনে ৯১২ মডেলের গাড়ি। এর মূল্য ছিল প্রায় চার হাজার ডলার, যেখানে ৯১১ মডেলের একেকটি গাড়ির মূল্য ছিল ৫৫০০ ডলার।

 

৯১১ মডেলটিই পোর্শেকে ব্রান্ড হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়। এই মডেলের গাড়িটির উৎপাদন এখনো ধরে রেখেছে পোর্শে। সবচেয়ে সফল ও পরিচিত মডেল হিসেবে এটি পোর্শেকে নিয়ে আসে অনন্য অবস্থানে। ১৯৭২ সালে পোর্শে স্থাপন করে নিজেদের গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা, যার উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন ফেরি পোর্শে।

১৯৮৪ সালে পোর্শে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রুপান্তরিত হয়। ফার্দিনান্দ পোর্শের জামাতা আর্নেস্ট পিচ ও পোর্শে পরিবার নিজেদের জন্য পঞ্চাশভাগ শেয়ার বরাদ্দ রাখে। ১৯৮৭ সালে ৯১১ মডেলের গাড়িটির উৎপাদন আড়াই লাখ ছাড়িয়ে যায়। এরপরের বছর ১৯৯৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন ফেরি পোর্শে।

পোর্শের মৃত্যুর পরেও তার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি থেমে থাকেনি, বরং নজরকাড়া ডিজাইন, নিত্যনতুন বৈশিষ্ট্যের গাড়ি তৈরি করে সবসময় প্রতিষ্ঠানটি সামনের কাতারে থেকেছে। এখনো তাদের সাফল্য ধরে রেখেছে সমানতালে।

পোর্শে ও ভক্সওয়াগনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক সবসময়ই বিদ্যমান ছিল। ২০০৯ সালে এসে পোর্শে ও ভক্সওয়াগনের মধ্যে ২০১১ সালের মধ্যে একীভূত হওয়ার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ভক্সওয়াগন কর্তৃক পোর্শেকে অধিগ্রহণ করার পর পোর্শে ভক্সওয়াগন গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে রুপান্তরিত হয়।

 

গত সত্তর বছরে পোর্শে বাজারে এনেছে অসংখ্য মডেলের রেসিং কার, এসইউভি, সুপার কার, হাইপার কার, সেডান সহ নানা জাতের উঁচু মানসম্পন্ন গাড়ি। বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় মডেলগুলোর মধ্যে ৭১৮ বক্সস্টার/কেমান, ৯১১, প্যানামেরা, ম্যাকান, ক্যায়নে উল্লেখযোগ্য। ডিজাইনের জন্য পোর্শে ডিজাইন নামে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এক সমীক্ষায় দেখা যায়, গত পঁচিশ বছরের ৯৭.৪ ভাগ পোর্শে গাড়ি এখনো সচল রয়েছে রাস্তায়। এ থেকে বোঝা যায় পোর্শের নির্ভরযোগ্যতা। এই বছরই তারা ঘোষণা দিয়েছে ডিজেলচালিত আর কোনো গাড়ি না উৎপাদন করার। তার বদলে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ি নির্মাণের দিকে ঝুঁকছে প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি সম্প্রতি তারা ঘোষণা দিয়েছে উড়ুক্কু গাড়ি নির্মাণের।

পোর্শের বর্তমান গাড়ির বাজারও বেশ ভালো। ২০১৮ সালের প্রথম ছয় মাসেই প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করেছে ১,৩০,৫৯৮টি গাড়ি। যেখানে ২০১৭ সালে মোট বিক্রয় ছিল ২,৪৬,৩৭৫টি। ধরাই যায়, গত বছরের হিসাবকে হয়তো সহজেই ছাড়িয়ে যাবে পোর্শে।

ডিজাইনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে গাড়ি নির্মাণতায় পরিণত হওয়া প্রতিষ্ঠানটি এখন আধিপত্য করছে দুনিয়াজুড়ে।সামনে পোর্শের শুধুই এগিয়ে যাওয়ার দিনসামনে ।

সাম্প্রতিককালের বিমানে ঘটে যাওয়া অদ্ভুদ সব কাণ্ড যা আপনি মিস করে গেছেন!

Now Reading
সাম্প্রতিককালের বিমানে ঘটে যাওয়া অদ্ভুদ সব কাণ্ড যা আপনি মিস করে গেছেন!

১। গত সেপ্টেম্বর ২০১৮তে হংকং কেন্দ্রিক বিমান সেবা প্রতিষ্ঠান ক্যাথি প্যাসিফিক (Cathay Pacific) তাদের একটি ফ্লাইটের বহির্ভাগে নাম ভুলের কারনে সারা বিশ্বের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিরোনামে পরিণত হয়েছিল। এতে প্রতিষ্ঠানটি বেশ অস্বস্তিতে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির বোয়িং ৭৭৭-৩৬৭ একটি এয়ারক্রাফটের বাইরে ভুল করে পেইন্ট করা ছিল “CATHAY PACIIC” যেখানে F ভুলে বাদ পড়ে যায়। এটা স্বাভাবিক একটা ঘটনা হতে পারত যদি পেইন্টের দায়িত্বে নিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ভুল করেও জানার পর তা সংশোধনের সুযোগ থাকত। কিন্তু বিষয়টি ধরা পরে ওয়াশিংটন ডিসিতে যখন বিমানটি ১৩,১২৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসে হংকং হতে, আর বিমানের এই রুটটি আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ দূরত্বের ১৫টি রুটের একটি। ক্যাথি প্যাসিফিক এর এই দায়িত্ব জ্ঞানহীন বিষয়ের কারণে তারা যথেষ্ট ইমেজ সঙ্কটে পড়ে যায়।

২। সাউথ ইষ্ট এয়ারলাইন্স গত অক্টোবর ২০১৮ তে লস এঞ্জেল হতে ডালাস যাওয়ার একটি ফ্লাইটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ফ্লাইটের একজন পুরুষ প্যাসেঞ্জার কর্তৃক অন্য একজন নারী প্যাসেঞ্জার যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন যার ফলে তাকে আসন পরিবর্তন করতে হয়েছিল। এই জঘন্য ঘটনার জন্য সেই পুরুষ যাত্রী জাস্টিন রলে ব্রাফোর্ডকে ফ্লাইটের ক্রুদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠে যে, প্রতিবার টেক অফের সময় সে তার হাত দিয়ে উক্ত মহিলার পা স্পর্শ করতেন। এমনকি অস্বস্তিতে পরা মহিলা যাত্রীটি বার বার তাকে এড়িয়ে যেতে চাইলেও পুরুষ যাত্রীটি ক্রমশ তার ঘনিষ্ট হওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে মহিলাটি তাকে সরাসরি বারণ করে দিলে পুরুষ যাত্রীটি তাকে বিভিন্ন প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত বাক্য বিনিময় করেন। তাই অপারগ হয়ে যখন মহিলাটি ফ্লাইট এটেনডেন্সকে তার সিট পরিবর্তনের অনুরোধ করেন তখনি প্রকাশ পায় ঘটনাটি। যখনি ফ্লাইট এটেনডেন্স এর কারন জিগ্যেস করতে পুরুষ যাত্রী ব্রাফোর্ডকে জিগ্যেস করে উল্টো সে ক্ষেপে যায়। এতে ফ্লাইট এটেনডেন্ট পাইলটকে বিষয়টি অবগত করে এবং পাইলট দ্রুত বিমানকে ল্যান্ড করিয়ে ঐ পুরুষ যাত্রীকে ফ্লাইট হতে নামিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। বিমানে যাত্রীকে যৌন হেনস্থা এবং ফ্লাইট ক্রুর সাথে অসাধাচরন এর দায়ে ২০ বছরের সাজা হয় এবং অনাদায়ে ২৫০০০০ ইউএসডলার জরিমানা হয়।

৩। মার্কিন বিমানসংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স প্রায়ই বিতর্কের মুখে পড়ে তাদের কিছু কর্মকাণ্ডের জন্য। ২০১৭ সালে তাদের একটি ফ্লাইট থেকে এক যাত্রীকে মারধর করে জোড় পূর্বক নামিয়ে দেয়ার গুরুতর অভিযোগ আসে। জোড় করে নামিয়ে দেয়ার দৃশ্যটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে অপর এক যাত্রী । মাত্র ৫০সেকেন্ডের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে প্রকাশের পর জোরেশোরেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে আমেরিকান বিমানসংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স। ভিডিওটি প্রায় ১৬ হাজার বার রিটুইট করা হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা- বিবিসি বরাতে আরো জানা গেছে, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স এর বিমান ৩৪১১ শিকাগো ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কেন্টাকির লুইসভিলের উদ্দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রাক্কালে ইউনিফর্ম পরা তিন নিরাপত্তারক্ষী আসনে বসে থাকা এক যাত্রীকে টেনে জোড় করে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। আসন থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামানোর সময় ওই যাত্রীর পোশাকের কিছু অংশ খুলে যায় এবং চোখের চশমা খুলে যায়। টানা হেঁচড়ার এক পর্যায়ে তাঁর নাক দিয়ে অনেকটা রক্ত বের হয়ে যায়। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের বিমানকর্মীদের বিরুদ্ধে বিমান থেকে এভাবে যাত্রীকে জোর করে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয় । তারা এর আগেও লেগিংস পরার দায়ে দুই নারীকে বিমান থেকে জোড় করে নামিয়ে দেয়।
ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের দাবি, যাত্রীরা নিয়ম না মানায় এভাবে বিমান থেকে নামাতে হয়েছে তাঁদের। কিন্তু কোন নিয়মটি ভঙ্গ করেছেন ঐ চিকিৎসক তা তারা স্পষ্ট করেননি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্টাকিতে অতিরিক্ত ক্রু মেম্বার পাঠাতে হয়েছিল তাই তারা ঐ চিকিৎসককে বিমান থেকে নেমে যেতে অনুরোধ করেন। কিন্তু চিকিৎসক এর দাবী, রোগীর কাছে পৌঁছানো তাঁর কাছে অত্যন্ত জরুরি ছিল। এদিকে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স। তারা দ্রুত যে তিন নিরাপত্তা কর্মী ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন, তাদের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নেন এবং ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

৪। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মশার উপদ্রবে বিক্ষোভ বা অভিযোগ নতুন কিছু নয় বরং নৈমিত্তিক ঘটনা। কিন্তু এই মশা নিয়ে এবারে অভিযোগ উঠেছে ভারতের জনপ্রিয় বিমান পরিসেবা সংস্থা ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে। এক যাত্রীর মুখে মশার কামড়ের অভিযোগ পেয়ে উল্টো তাকেই ফ্লাইট হতে নামিয়ে দিয়েছেন মশা না তাড়িয়ে। সৌরভ রাই নামে এক যাত্রী ভারতের লখনউ বিমানবন্দর হতে ভোর ৬টার দিকে ইন্ডিগোর বিমানে ওঠেন। আর বিমানে ওঠার পর থেকেই তাকে মশা কামড়াতে শুরু করে, তিনি এর পরিত্রাণে বিমানকর্মীদের অনুরোধ করলেও তারা তাকে চুপ করে নিজের আসনে বসে থাকতে বলেন। এ নিয়ে ঐ যাত্রী এবং বিমানসংস্থার কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে এয়ারক্রুরা তাকে জোর করেই বিমান থেকে নামিয়ে দেয়। এ ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেন সৌরভ রাই নামের ঐ যাত্রী আর তাতেই ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলোধুনো শুরু করে দিয়েছিল সবাই। যদিও ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স তাদের বিবৃতিতে ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে উস্রিঙ্খল আচরণের জন্য সৌরভ রাই নামের ওই ব্যাক্তিকে বিমান থেকে তারা নামিয়ে দেয়। তারা আরো অভিযোগ করে যে বিমানের কর্তব্যরত কর্মীরা ব্যবস্থা নেয়ার আগেই তিনি নাকি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন এবং বিমানের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও তাকে শান্ত করা সম্ভব হয়নি। সৌরভ নাকি অন্য যাত্রীদেরও বিমানের ক্ষতি করার জন্য প্ররোচিত করছিলেন, এমনকি সে বিমান ছিনতাই এর হুমকি দেন। এই পরিস্থিতিতে যাত্রী সুরক্ষার কথা প্রাধান্য দিয়ে তাকে বিমান থেকে নামিয়ে দেয়া ছাড়া তাদের আর উপায় ছিলনা।

৫। ২০১৬ এর এপ্রিলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আকাশে ঘটে যাওয়া অদ্ভূত ঘটনাটি যেন একটু আড়ালেই থেকে গেল। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, কলকাতার আকাশ থেকে প্রায় ১০ মিনিটের জন্য রাডারে হারিয়ে যায় একটি দু’টি নয় ৮৫টি বিমান। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পায়, ২০১৬ এর এপ্রিলের ৮ তারিখ সকাল সাড়ে ৭টায় আকাশে থাকা সবগুলো বিমান এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সাথে ১০ মিনিটের জন্য সংযোগ হারায়। রাডার হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে হঠাৎ সব বিমান এক নিমিষেই হারিয়ে যায়। যদিও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের সকল যন্ত্রপাতি ঠিকঠাক ছিল। এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ বিমান কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত ভিএইচএফ (Very High Frequency) লিঙ্ক চালু করে কিন্তু তাও অকার্যকর হয় এবং বিমানগুলোর সাথে যোগাযোগে ব্যর্থ হয়। এদিকে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বা এটিসি কলকাতার আকাশে থাকা হাজার হাজার যাত্রীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পাটনা , বারানসি ও গয়ার এয়ারপোর্টে জরুরি বার্তা পাঠায়। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ঠিক ১০ মিনিটের মাথায় আবারও সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যায়। অদৃশ্য বিমানগুলো ১০ মিনিট বাদে আকাশে পুনরায় উদয় হল। বিমান কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিলেও পরবর্তীতে এটিকে যান্ত্রিক ত্রুটি হিসেবেই জানায়।

৬। আমেরিকার ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনাগুলোর ভেতরে অন্যতম হচ্ছে ১৯৭৯ সালের ফ্লাইট ১৯১ এর বিধ্বস্ত হওয়া। রানওয়ে হতে উড্ডয়নের খানিক বাদেই দুর্ঘটনার পতিত হয় বিমানটি তাৎক্ষণিক মারা যান ২৫৮ যাত্রী ও ১৩ জন বিমান কর্মীর সকলে। এর কিছু বছর আগে ১৯৬৭ সালে একই নামের (১৯১) আরেকটি ফ্লাইট বিমান দুর্ঘটনার কবলে পতিত হলে সেখানেও মারা যায় বিমানটির পাইলট। এসব ঘটনা ঘটে যাওয়ার বেশ কয়েক বছর পর ২০১২ সালে ১৯১ সংখ্যাযুক্ত আরেকটি বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানটিতে পাইলটের পরিবর্তে বিমানের দায়িত্ব নিয়ে নেয় যাত্রীরাই। জনশ্রুতি আছে যে, পরপর তিনবার এমন ঘটনা ঘটার পরই কোন এয়ারলাইন্সই আর ১৯১ সংখ্যাটি ব্যবহার করতে চায় না!

৭। বিমান পরিসেবা সংস্থা হিসেবে এয়ার ফ্রান্স যথেষ্ট প্রসিদ্ধ এবং জনপ্রিয়। বিমানের অন্য দুর্ঘটনার চেয়ে এয়ার ফ্রান্সের একটি বিমান দুর্ঘটনার ব্যাপার একটু আলাদা। হঠাৎ করেই বিমানটির কো পাইলট বিমানটিকে উপরের দিকে নিয়ে যেতে শুরু করেন যখন মেইন পাইলট সাময়িক সময়ের জন্য টয়লেটে যান। দুর্ঘটনা পরবর্তীতে ব্ল্যাক বক্সে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী কো পাইলটের একটি ভয়েস রেকর্ড এমন ছিল যে, বিমানে আমার নিয়ন্ত্রণ আছে! তবে নিয়ন্ত্রণ থাকার পরও কেন বিমানটি বিধ্বস্ত হয় তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। যদিও মেইন পাইলট ককপিটে পৌঁছে দেখেন অবস্থা মোটেই নিয়ন্ত্রণে ছিল না। প্রায় ৩৮ হাজার ফিট উপরে নাক উঁচু করে থেমে থাকা বিমানটি খুব দ্রুতই ভুমিতে পতিত হয়! আর এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মারা যায় কয়েকশ মানুষ। এ ঘটনার পরও সেই কো পাইলটের আচরণ এবং তার রহস্যময় কণ্ঠ বিমান দুর্ঘটনার ইতিহাসে এখনো রহস্যই থেকে গেল।

Dunkleosteus : সমুদ্রের এক দুর্ধষ বিভীষিকা।

Now Reading
Dunkleosteus : সমুদ্রের এক দুর্ধষ বিভীষিকা।

সমুদ্রসীমায় পরিভ্রমনকারী এর এক ভয়ানক দানব এর নাম Dunkleosteus (ডাঙ্কলি ওস্টিওস)। এই প্রাগঐতিহাসিক প্রানীর সম্পর্কে খুব কম মানুষ ই জানে ।  প্রায় ৩৬০ মিলিয়ন বছর আগে সমুদ্রের জলসীমায় রাজ করতো এরা এবং Arthrodira গোত্রের সবচেয়ে শেষের দিকে প্রানী এরা ছিল।

যাইহোক, আজকের সময়ে এই অসাধারন প্রানীর ভয়ানক ফসিলগুলো আমাদের বুঝিয়ে দেয় প্রাগঐতিহাসিক প্রানীগুলো কতটা আশ্চর্যজনক ছিল।  কেমন ছিল  Dunkleosteus ? কিভাবে জলজ সীমানার মাংসাশী ত্রাস হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল সে? আজ আমরা সেগুলো নিয়েই কথা বলব।

Dunkleosteus নিজের শিকার কে নিজের মাথা দিয়ে বাড়ি দিয়ে চুর্ণ বিচুর্ণ করতো। এর পুরো মাথা জুড়েই ছিল খুব শক্ত হাড় এবং মুখের সামনের দিকে সাপের মত কেবল মাত্র দুটো ধারালো Fang বা বিষদাত ছিল। এবং এই দুই দাতে অসুরিক শক্তি ছিল। ধারনা করা হয় বয়স বাড়ার সাথে থাকে এদের দাতের আকৃতি বৃদ্ধি পেত এবং এদের ক্ষুধাও বাড়তে থাকত।

এর বিষ দাতগুলো নিজে নিজেই ধারালো হত। আপনারা যদি কখনো কুঠার বা চাকু শান দিয়ে থাকেন তাহলে হয়ত এতক্ষনে বুঝে গেছেন কিভাবে Dunkleosteus  নিজের তার শান দিত। এটি যখন তার মুখ বন্ধ করতো উপরের পাটির দাতের কিনারা নিচের পাটির দাতের কিনারার সাথে ঘষা লেগে ফ্রিকশন এর কারনে দাত তীঘ্ন হত। কোন কারনে যদিও দাত ভেঙ্গে যেত তাহলে নতুন করে দ্রুত আরো শক্তিশালী দাত উঠত। এ জন্য Dunkleosteus রা ভয়ানক বেশি ছিল কারন তারা শক্ত প্রতিপক্ষ বাচাই করত যাতে দাতে হারাবার আশংকা থাকে, কারন নতুন দাত আরো শক্তিশালি হবে।

সম্প্রতি শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়ার এর গবেষকরা মিউজিয়ামে রাখা Dunkleosteus এর ফসিল এর উপইর পরীক্ষা করে এর কামড়ের ওজন পরিক্ষা করেন। ফলাফল দেখে তারা নিজেরাই শিহরিত বোধ করেন। একটি Dunkleosteus এক কামড়ে প্রতি বর্গ ইঞ্চি স্থানে ৮০০০ পাউন্ড এর সমমান বল প্রয়োগ করতে পারতো।  আজকের দিনের জলদানব হোয়াইট শার্ক এই শক্তির বল মানে প্রতি বর্গ ইঞ্চি স্থানে ৪০০০ পাউন্ড বল প্রয়োগ করতে পারে। ।

Dunkleosteus যে কোন শিকার কে নিজের মুখের ভেতর শুষে নিতে পারত। যেহেতু বড় জীব হওয়াতে এরা কম দ্রুত সাতার কাটতো তো এদের প্রধান লক্ষ্য ছিল শিকার কে শুষে নেয়া। এক সেকেন্ডের ৫০ ভাগের এক ভাগ সময়ে এরা নিজেদের মুখ পুরো প্রসারিত করতে পারত এবং সব শক্তি দিয়ে শিকার কে ভ্যাকুয়াম সিস্টেমে নিজের দিকে টেনে নিত। 

Dunkleosteus যা পেত তাই খেত। খাবার ব্যাপারে এদের কোন বাছ বিচার ছিল না। এমনকি ধারন করা হয় এদের স্বভাব ক্যানিবালিস্টিক ছিল মানে এরা স্বজাতিকেও ছাড়ত না। বিজ্ঞানিরা Dunkleosteus ফসিল এর মাঝে চিড় খেতে পেয়েছেন এবং ফসিলের শক্তি সামর্থ অনুসারে চিড় ভাঙ্গার জন্য অন্য কোন Dunkleosteus দায়ী। তবে যা এরা খেতে পারত না তা  বের করে দিত। তখন ছোট জলজ অন্যান্য প্রানীরা সেগুলো খেয়ে নিত। 

Dunkleosteus রা সাধারনত ৩০ থেকে ৩৫ ফুট লম্বা হত। আর একটি পুর্নবয়স্ক Dunkleosteus এর ওজন ছিল ৩ টনের মত যা কিলার হোয়েল এর থেকেও বেশি। এই ভয়ানক আকৃতির জলদানব একসময় বৈশ্বিক সমুদ্র সীমার প্রতিটি অঞ্চলে ছড়িয়ে পরেছিল। আফ্রিকা , ইউরোপ এ ফসিল পাওয়া গেছে তাদের। নিউ ইয়র্ক, মিসৌরিতেও পাওয়া গেছে। এমনকি কানাডাতেও । বোঝাই যাচ্ছে এই দানবের কবল থেকে কোন অঞ্চল ই মুক্ত ছিল না।

কিভাবে হারিয়ে গেল এরা?

ধারনা করা হয় বিপর্যয় এসেছিল হ্যাংগেনবার্গ ইভেন্টের মাধ্যমে।সমুদ্রের অক্সিজেন লেভেল কমে গিয়েছিল ব্যাপক হারে আর এতে মারা পরেছিল এই দানবরা। কম অক্সিজেনে সাধারন প্রানীরা হয় বেচে থাকতে পারে। কিন্তু যখন আপনি ৩ টন অজনের একটি খাদক দানবের কথা ভাববেন, বেচে থাকার হার অতি সীমিত।

রহস্যময়তায় ঘেরা ভৌতিক অরণ্যভূমি “বেনিংটন ট্রায়াঙ্গল”

Now Reading
রহস্যময়তায় ঘেরা ভৌতিক অরণ্যভূমি “বেনিংটন ট্রায়াঙ্গল”

রহস্যজনক স্থান ‘বেনিংটন ট্রায়াঙ্গল’ এর নামকরণ করেন প্যারানরমাল গল্প লেখক জোসেফ এ সিত্রো। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম ভারমন্টে অবস্থিত  এই স্থানটির অদ্ভুতরে নাম রাখেন । অরণ্যেঘেরা এই অঞ্চলটি এখনো অনেকের কাছেই রহস্যময়তায় ঘেরা, এখানে প্রতিনিয়ত ঘটে রহস্যজনক সব ঘটনা। লোকমুখে প্রচলন আছে যে, এই অরণ্যে  ঢুকলেই শুনতে পাওয়া যায় অদ্ভুত সব আওয়াজ, কেউ কেউ বনের মধ্যে পথ হারিয়ে ফিরে পর্যন্ত আসে নি, আবার ফেরার পর অনেকেই হয়ে পড়েছে বদ্ধ উন্মাদ। স্থানীয়দের ধারণা, স্থানটিতে নাকি এক অশুভ শক্তির ভয়ংকর প্রভাব আছে। তার ফলে ঘটেছে একের পর এক রহস্যজনক নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনা।

বেনিংটন ট্রায়াঙ্গল

১৮৯২ সালে এলাকাটির রহস্যময়তার প্রথম সূত্রপাত ঘটে বলে অনেকেই মনে করে থাকেন। এ সময় হেনরি ম্যাকডওয়েল নামের এক স্থানীয় মাতাল জিম ক্রাউলি নামের এক কারখানার শ্রমিককে হত্যা করে। বিচারে ম্যাকডওয়েলকে উন্মাদ ঘোষণা করা হয় এবং ওয়াটারবেরি অ্যাসাইলামে পাঠানো হয়, কিন্তু তার আগেই সে জেলখানা থেকে পালিয়ে যায়। তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বেনিংটন ট্রায়াঙ্গলের প্রবেশ পথ

এর প্রায় ৩০ বছর পর একের পর এক রহস্যময় ঘটনা ঘটতে শুরু করে। ১৯২০ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে বেনিংটন ট্রায়াঙ্গলে ঘটেছিল এমন কয়েকটি নিখোঁজের ঘটনা, যার রহস্যভেদ করা এখনো কোনো সার্চ টিম বা তদন্তকারী কর্মকর্তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। কীভাবে একের পর এক এসব নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছিল, চলুন তাহলে তা জেনে আসি।

প্রথম ঘটনা

প্রথম যে ঘটনায় বেনিংটন ট্রায়াঙ্গল তোলপাড় হয়, তা আজ থেকে অনেক বছর আগের কথা, ১৯৪৫ সালের ২ নভেম্বরের ঘটনা। ৭৫ বছর বয়সী মিডি রিভার্স নামের একজন গাইড ৪ জন শিকারীকে নিয়ে পাহাড়ে গেলেন শিকারের উদ্দেশ্যে। দলটিকে নিয়ে ফিরে আসার সময় লং ট্রেইল রোড ও ৯ নম্বর রুটের কাছাকাছি এসে রিভার্স তার সহযাত্রীদের থেকে সামান্য এগিয়ে যান। এরপর থেকে তার সহযাত্রীরা তার আর কোনো হদিশই পাননি। হঠাৎই ঐ জায়গা থেকে তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন। পরে স্থানীয় পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকের দল চিরুনি অভিযান চালিয়েও রিভার্সের দেখা তো দূরে থাক, তার দেহ পর্যন্ত খুজেঁ পায়নি।

দ্বিতীয় ঘটনা

পরের ঘটনাটি ঘটে প্রায় এক বছর পর। ১৯৪৬ সালের ১ ডিসেম্বর। বেনিংটন কলেজে অধ্যয়নরত পলা ওয়েল্ডেন নামের এক ১৮ বছরের যুবতী ভ্রমণের নেশায় লং ট্রেইলের উদ্দেশ্যে বেনিংটন ট্রায়াঙ্গলের বনের মধ্যে ঢুকে পড়েন। তার পরিচিত অনেকেই তাকে বনের মধ্য দিয়ে যেতে দেখেছে। কিন্তু সে আর জঙ্গল থেকে কখনো ফিরে আসেনি। এরপর তাকে খুজেঁ দেওয়া বা তার সন্ধান দেয়ার জন্য ৫,০০০ ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সাহায্য নেওয়া হয়। কিন্তু কোনোভাবেই তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পলা ওয়েল্ডেন

তবে তাকে নিয়ে এমন গুজব ছড়ায় যে, পলা হয়তোবা তার প্রেমিকের সাথে কানাডায় চলে গেছে। আরেকটি ধারণাও তখন বেশ প্রচলিত ছিল, আর তা হচ্ছে প্রকৃতির মাঝে একাকী নিরিবিলি জীবনযাপনের জন্য নির্জন জঙ্গলকে বেছে নিয়েছে পলা। কিন্তু এর সপক্ষে কোনো বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তৃতীয় ঘটনা

তৃতীয় ঘটনাটি ঘটে তার ৩ বছর পর, ১৯৪৯ সালের ১ ডিসেম্বর তারিখে। জেমস ই টেটফোর্ড নামের একজন প্রবীণ সামরিক ব্যক্তি তার এক আত্মীয়ের সাথে দেখা করার জন্য সেইন্ট এলবান থেকে বাসে করে বেনিংটনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। বাসে যাত্রী ছিলেন মাত্র ১৪ জন। কিন্তু বাস গন্তব্যস্থলে পৌঁছার পর দেখা গেল, জেমস বাসে নেই! বাসযাত্রীদের তথ্যমতে, বাসটি কোথাও যাত্রাবিরতি করেনি। কিন্তু সেইন্ট এলবান থেকে বাস যখন যাত্রা শুরু করে, তখন বাস ড্রাইভারসহ যাত্রীরা জেমসকে তার নির্ধারিত সিটে বসতে দেখেছে। বাস চলা শুরু করলে তিনি তার সিট থেকে একবারও ওঠেননি। আবার কয়েকজন যাত্রী শেষ স্টপেজের আগের স্টেশন পর্যন্ত জেমসকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেছেন বলে জানান। কিন্তু তারা কেউই বলতে পারলেন না, জেমস কোথায় হারিয়ে গিয়েছেন। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, জেমসের লাগেজ ব্যাগ সহ তার টাকাভর্তি ওয়ালেটটি তার আসনে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

চতুর্থ ঘটনা

পরের ঘটনাটি ঘটে পল জেপসন নামের এক আট বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে। ১৯৫০ সালের ১২ অক্টোবর এক সকালের ঘটনা। জেপসন ছিল তার মায়ের সাথে, তিনি এ সময় শুকরছানাদের খাবার খাওয়াচ্ছিলেন, আর জেপসন বাড়ির চারপাশে ছুটোছুটি করছিল। ঘণ্টাখানেক পর মা ঘরে এসে দেখেন, জেপসন ঘরের আশেপাশে কোথাও নেই। জেপসনের গায়ে ছিল লাল রঙের জ্যাকেট, দূর থেকেও যা সকলের চোখে পড়ার কথা। কিন্তু সার্চ টিম অনেক অনুসন্ধান করেও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি।

পল জেপসনের হারিয়ে যাওয়ার পর সেসময়ের পত্রিকায় প্রকাশিত খবর

পঞ্চম ঘটনা

জেপসনের ঘটনার মাত্র ১৬ দিন পর, অক্টোবরের ২৮ তারিখ। ৫৩ বছরের ফ্রিডা ল্যাঙ্গার ও তার চাচাতো ভাই হার্বার্ট এলসনার সমারসেট রিজার্ভেরারের কাছে ক্যাম্পিংয়ের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। হঠাৎই একটি ছোট স্রোতের নদী পার হতে গিয়ে ফ্রিডা পানির মধ্যে পড়ে যান। ভিজে যায় তার পরনের কাপড়চোপড়, এরপর তিনি হার্বার্টকে একটু অপেক্ষা করতে বলেন। পোশাক পরিবর্তনের জন্য ফ্রিডা ফিরে যান ক্যাম্পে। অনেকক্ষণ হয়ে যাওয়ার পরও তিনি আসছেন না দেখে, হার্বার্ট ক্যাম্পে ফিরে আসেন। কিন্তু হার্বাট ক্যাম্পে এসে ফ্রিডাকে খুঁজে পাননি। এলাকাটি ফ্রিডার কাছে বেশ পরিচিত, ফলে দিনের আলোয় হারিয়ে যাওয়া তার পক্ষে বেশ অসম্ভবই বটে। আবার শুরু হলো ব্যাপক তল্লাশি। দুই সপ্তাহ ধরে ৩০০ জন অনুসন্ধানকারীর সমন্বয়ে গঠিত ৫টি অনুসন্ধান টিম হেলিকপ্টার, এয়ারক্রাফট থেকে শুরু করে বিভিন্নভাবে তন্নতন্ন করে অনুসন্ধান চালিয়েও ফ্রিডার অস্তিত্ব কোথাও খুঁজে পায়নি।

পল জেপসনের হারিয়ে যাওয়ার পর সেসময়ের পত্রিকায় প্রকাশিত খবর

তবে অদ্ভুত এক ব্যাপার হলো, এই ঘটনার এক বছর পর, ১৯৫১ সালের ১২ মে সমারসেট রিজার্ভের কাছাকাছি এক জায়গায় ফ্রিডার দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু তার দেহ ময়নাতদন্ত করেও মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে ফ্রিডাই একমাত্র নারী যার লাশটি খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল।

 

কেন ঘটছে একের পর এক এই অদৃশ্য হওয়ার ঘটনা?

অনেক প্যারানরমাল বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে তাদের নানা অভিমত উপস্থাপন করেছেন। নেটিভ আমেরিকানরা গ্লসটেনবারি মাউন্টেনের আশেপাশের এলাকাটি ‘অভিশপ্ত ভূমি’ বলে মনে করেন। এলাকাটিতে বসবাস স্থাপনকারী প্রথম ইউরোপীয় অধিবাসীদের এক অংশের অভিমত, পাহাড়ের পিছনের আকাশে প্রায় সময়ই এক অদ্ভুত আলোর ঝলকানি দেখা যায়। বাতাসে ভেসে বেড়ায় এক মাদকতাময় গন্ধ আর মাঝে মাঝে শোনা যায় নানা অদ্ভুত ধ্বনি। স্থানীয় কারো কারো মতে, এক বিশাল দৈত্যাকার প্রাণীর বাস রয়েছে জঙ্গলটিতে। এই প্রাণীটির অকস্মাৎ আক্রমণের শিকার হয় অভিযাত্রীরা।

অনেক প্যারানরমাল বিশেষজ্ঞের মতে, স্থানটিতে বাস্তব চেনা ত্রিমাত্রিক জগতের প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটে, যার ফলে কেউ এই জগতে প্রবেশ করতে গেলে সে দিকভ্রান্ত হয়ে হারিয়ে যায়। আবার অনেকের মতে, ভিন্ন গ্রহের প্রাণীদের অবস্থান রয়েছে এই বেনিংটন টায়াঙ্গল জঙ্গলে, তাদের কারণেই ঘটছে এসব অস্বাভাবিকতা। আরেকটি মত হচ্ছে, কোনো সিরিয়াল খুনী বনের মধ্যে বসতি গড়ে আছে, সে-ই এই সব খুনের পেছনে দায়ী। বিষয়টি যদি সত্যি হয়, তাহলে একটি প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়ায়, এতগুলো হত্যাকাণ্ডের কোনো হদিশ কেন পাওয়া গেল না। একটি ছাড়া কেন পাওয়া গেলো না আর কোনো মৃতদেহ।

এরপরও এমন কিছু তথ্য এসব অদৃশ্য ঘটনার পেছনে পাওয়া যায়, যেগুলো বেশ রোমাঞ্চকর।

১. সবগুলো হত্যাকাণ্ড একটি বিশেষ সময়ে ঘটেছে। শীতের সময় ছাড়া বছরের অন্য সময়ে কেন এমন কিছু ঘটে না?

২. ১৯৪২ ও ১৯৫০ সালের মধ্যে এসব অদৃশ্য হওয়ার ঘটনাগুলো ঘটেছে।

৩. ফ্রিডা ছাড়া আর কারো কোনো হদিশ শেষপর্যন্ত পাওয়া যায়নি। কিন্তু কীভাবে ফ্রিডা তার তাঁবু থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলো, সেটিই একটি রহস্য।

৪. হারিয়ে যাওয়ার পর অনুসন্ধান দল তন্নতন্ন করে খুঁজেও ফ্রিডার কোনো হদিশ পায়নি। অথচ এক বছর পর যে জায়গা থেকে তিনি হারিয়ে গিয়েছিলেন, সেখানেই তার লাশ পাওয়া যায়, যা এক বড় রহস্য।

৫. ফ্রিডা এবং রিভার দুজনই বয়স্ক ব্যক্তি ছিলেন এবং এলাকাটি তাদের নখদর্পনে ছিল। তাই পথ হারিয়ে ফেলা তাদের পক্ষে একবারেই অসম্ভব।

৬. অপর দুই ভিক্টিম ওয়েল্ডন ও জেপসন উজ্জ্বল লাল জ্যাকেট পরিহিত ছিল। ফলে অনেক দূর থেকে তাদের দেখতে পাওয়া যাওয়ার কথা। কিন্তু তাদের পরিহিত কোনো কাপড় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

৭. আবার ওয়েল্ডন ও ট্রেডফোর্ড এই দুই ভিক্টিম তিন বছরের ব্যবধানে একই তারিখে অদৃশ্য হয়ে যান, যা বেশ কাকতালীয়।

জনমানবহীন ভূতুড়ে শহরে পরিণত হওয়া বেনিংটন ট্রায়াঙ্গলের পাশের শহর গ্লসটেনবারি

১৯৩৭ সালের পূর্বে এলাকাটি বেশ জনবহুল ছিল। কিন্তু ১৯৩৭ সালের দিকে গ্লসটেনবারি শহরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহামারি দেখা দেয়, ফলে অনেক লোকের প্রাণহানি ঘটে। সে সময় নগরটি পরিত্যক্ত হয়। ২০১০ সালের একটি আদশুমারীর তথ্য অনুযায়ী, এই এলাকাটিতে সব মিলিয়ে মাত্র আটজন বাসিন্দা বাস করে। বর্তমানে এটি ভূতুড়ে শহর হিসেবেই পরিচিত।

 

পৃথিবীর বিতর্কিত কিছু মুর্তির গল্প

Now Reading
পৃথিবীর বিতর্কিত কিছু মুর্তির গল্প

মুর্তি আর বিতর্ক – এ যেন একা অপরের পরিপুরক। মুর্ত বানানো হয় কোন বিখ্যাত মানুষ কিংবা কোন বিখ্যাত ঘটনাকে কেন্দ্র হয় যার সাথে জড়িয়ে আছে কোন সংঘর্ষ বা কোন মতানৈক্য। মাঝে মাঝে প্রতিবাদের ঘটনাকেও মুর্তিতে রুপান্তরিত হয় হয়। মুর্তি তৈরী নিয়ে জল ঘোলা হয়নি এমন ঘটনা খুব কমই আছে।  আমেরিকাতে, কনফেডারেট নেতাদের মুর্তি আর জেনারেল দের মুর্তি গুলো সবসময় নতুন নতুন বিরোধের সৃষ্টি করেছে। এছাড়াও স্ট্যাচু অর ডেভিল, স্ট্যাচু অফ হিটলার এবনকি কুকুরের মুর্তি নিয়েও কাদা ছুড়া ছুড়ি কম হয় নি। আজ আমরা কথা বলল এমন কিছু মুর্তি নিয়ে যা বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে সুপরিচিত।

 

লুসিফার অফ লিইজ

বেলজিয়ামের সেইন্ট পল ক্যাথেড্রাল এর ভিতরে লুসিফার অফ লিইজ এর অবস্থান। এর অফিসিয়াল নাম হলো – Le Genie Du Mal (The Genius of Evil). এটা ১৮৪৮ সালে নির্মিত হয়েছিল Guillaume Geefs এর হাতে।

বর্তমানে যেই মুর্তিটি আছে যেটি চার্চে বানানো লুসিফারের আসল মুর্তি না। আসল মুর্তিটির নাম ছিল L’ange du mal(The Angel Of Evil) যা বানিয়েছিলেন Guillaume এর ভাই Joseph, ১৮৪২ সালে। কিন্তু এঞ্জেল অফ ইভিল জনসম্মুখে উন্মোচিত হবার আগেই নানান বিতর্কের সুচনা হয়।চার্চের নেতারা মনে করেন ডেভিল এত সুন্দর হলে এটা মানুষের মনে ভয়ের উদ্রেক করবে না আর মানুষ ডেভিল এর দেখা পাবার জন্য পাপ করতে শুরু করবে । তারা Guillaume কে তলব করে এই মুর্তির রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে নতুন মুর্তির তৈরী করার জন্য। Guillaume নতুন করে মুর্তি বানান যার শরীর পাখা দ্বারা আবৃত। এর মাথায় দুইটি ছোট শিং আছে আর নখ খুব চোখা। এই মুর্তির হাতে একটি আধ খাওয়া আপেল আছে

 

ব্রাউন ডগ স্ট্যাচু

ব্রাউন ডগ স্ট্যাচু লন্ডনের বেটার সীর ট্রাফালগার এ অবস্থিত যা বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। বর্তমান মুর্তিটি সেই বিতর্কিত মুর্তির রিপ্লেসমেন্ট। কারন আসল মুর্তিটি সরিয়ে ফেলতে হয়েছিল দুই পক্ষের প্রতিবাদের মুখে । এই দুই পক্ষে এক পক্ষ হল যারা প্রাণীদের উপর বৈজ্ঞানিক পরিক্ষা করার পক্ষে যাদের বলা হয় ভিভিয়ে সেকশনিস্ট , আরেক পক্ষ হলো যারা চায়না যে প্রাণীদের উপর পরীক্ষা করা হোক যাদের বলা হয়  এন্টি- ভিভিয়ে সেকশনিস্ট। আসল মুর্তিটি উন্মোচিত হয়েছিল এন্টি ভিভিয়ে সেকশনিস্ট এর দ্বারা ১৯০৬ সালে। সেই সকল কুকুরদের স্মরনে যারা ১৯০৩ সালের ইউনিভার্সিটি কলেজে সিরিজ সার্জারির মধ্যে দিয়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল। আসল মুর্তির নিচে একটি ফলক লাগানো হয়েছিল যা এই নির্বিচারে প্রাণী হত্যার বিপক্ষে কথা বলে।

 

ভিভিয়ে সেকশনিস্টদের কাছে এই ফলকের লেখা অযৌক্তিক এবং অপমান জনক মনে হয়েছে। তার ১৯০৭ সাler ১০ ডিসেম্বর ১০০০ মেডিকেল শিক্ষার্থী ট্রাফালগার স্কোয়ারে এসে প্রতিবাদ করে এবং আরো ১০০ জন ভিভিয়ে সেকশনিস্ট প্রতিবাদ গড়ে তোলে বেটারসী তে। তারা মুর্তির ক্ষতিসাধন করতে পারে ভেবে পুলিশ দিনরাত মুর্তির পাহারায় নিজেদের নিযুক্ত করে। ১৯১০ সালে সিটি কাউন্সিল এর আদেশে রাতের আধারে পুলিশ মুর্তি সরিয়ে ফেলে এবং এন্টি – ভিভিয়ে সেকশনিস্টরা ১৯৮৫ সালে রিপ্লেসমেন্ট মুর্তি হিসেবে বর্তমান মুর্তি স্থাপন করে যা এখনো অক্ষত আছে।

 

ব্লু ম্যাস্টাং

৩২ ফিট উচু নীল রঙ্গের এই মুর্তিটি ডেনভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাহিরে অবস্থিত যার নাম ব্লু ম্যাসট্যাং।এটি একটি বিতর্কিত এবং কুখায়ত মুর্তি যার নাম  দেয়া হয়েছিল ব্লুসিফার। মুর্তিটি দেখলেই বোঝা যায় কেন এটি এত ঘৃনার পাত্র। এর গায়ের রঙ নীল কিন্তু চোখগুলো গাড় লাল। এর স্থপতি Luis Jimenez এটি স্থাপন করেন পশ্চিমের বন্য প্রানীকে উৎসর্গ করে কিন্তু অনেকেই মনে করেন এই মুর্তিটি দানবিক এবং কুৎসিত। এমনকি Luis Jimenez মারাও গিয়েছেন যখন তার মুর্তির একটি অংশ তার নিজের গায়ের উপর পড়ে গিয়েছিল।

 

১৯৯৩ সালে তিনি মুর্তি স্থাপনের কাজ পেয়েছিলেন যা ২০০৬ সালে মৃত্যুর আগে তিনি শেষ করতে পারেননি। সার ছেলেরা এটি শেষ করেছিল। ২০০৮ সালে বিমানবন্দরের সামনে সর্বসাধারনের জন্য এটি উন্মুক্ত হরা হয় এবং এর কিছুদিনের মধ্যেই এটি নেতিবাচক মন্ত্যব্যের মুখে পড়ে। সাধারন জনগন বলেছিল এটি এয়ারপোর্টের অন্য একটি স্থানে সরিয়ে নিতে যাতে অনিচ্ছাপুর্কব এটি কারো চোখে না পরে। কিন্তু বিমান বন্দর কতৃপক্ষ এটি সরায় নি এই ভেবে যে মানুষ একসময় অভ্যন্সত হয়েই যাবে।

 

স্ট্যাচু অফ ইউনিটি

এতক্ষন আমরা কথা বলছিলাম সেই সকল মুর্তি নিয়ে যা তৈরী হবার পর সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। এবার আমরা এমন একটী মুর্তি নিয়ে কথা বলব যার নির্মান শেষ হবার আগেই সমালোচিত হচ্ছে। বিধাতাই জানে, এর কাজ শেষ হলে কতটা সমালোচিত হবে এই কাজ।

 

স্ট্যাচু অফ ইউনিটি তৈরী করছে ভারত। এটা ৫৯৭ ফুট লম্বা হবে যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উচু বলে বিবেচিত। বর্তমানে সবচেয়ে উচু উন্মুক্ত মুর্তি আছে বুদ্ধার যা ৫০২ ফুট উচু এবং স্ট্যাচু অফ লিবার্টি যা ৩০৫ ফুট(বেইজ সহ)। স্ট্যাচু অফ ইউনিটি তৈরী হচ্ছে “সর্দার বল্লভ ভাই পাটেল” এর আদলে যিনি ভারতের প্রথম ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার ছিলেন এবং যিনি ভারতের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন।

 

মুর্তিটি বানাতে ২০০ মিলিয়ন ইউরো খরচ হচ্ছে যা সমালোচক রা বলছেন এই টাকা দিয়ে দেশ সেবার কাজ করলে আরো ভাল হত। তারা আরো বলছেন সর্দার বল্লভ ভাই নিজের মুর্তির জন্য এত টাকা কোনদিন খরচ করতেন না। সমালোচকরা আরো বলছেন – বর্তমান চিফ মিনিস্টার নরেন্দ্র মোদি মুর্তি তৈরির অনুমোদন দিয়েছেন নিজের দল এর নাম অক্ষুন্ন রাখার জন্য। মুর্তিটি শীঘ্রই সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

 

হিম

“শিশু এডলফ হিটলার প্রার্থনারত অবস্থায় হাটু গেড়ে বসে আছেন” এটিই “হিম” মুর্তির কনসেপ্ট। হিটলার নিজের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন বলে তিনি একটি সমালোচিত ব্যাক্তি একথা আমরা সবাই জানি। মুর্তিটি হয়ত সেই সমালোচনা এটি যেতে পারত যদি না এটির স্থপতি Maurizio Cattelan এর স্থাপনা ২০১২ সালে পোল্যান্ড এর ওয়ারসো তে করতেন। প্রায় ৩ লক্ষ ইহুদি সেনা নিহত হয়েছিল হিটলারের নাজি বাহিনীর হাতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই ওয়ারসোতেই। The Simon Wiesenthal Center ,  একটি ইহুদি প্রচারণা মুলক সংস্থা দাবি করে মুর্তিটি প্রহসনামুলক ইহুদিদের প্রতি যারা নাজিদের হাতে নিহত হয়েছে। ইসরাইলি সংস্থাটির পরিচালক Efraim Zuroff এর ভাষ্য অনুযায়ী -”হিটলারের প্রার্থনার একমাত্র চাওয়া ছিল যে যেন দুনিয়া থেকে ইহুদিদের নাম মুছে ফেলতে পারে”। অপরদিকে স্থপতি এবং তার অনুসারীদের বক্তব্য হলো -”আমরা শুধু দেখাতে চেয়েছি কিভাবে নিষ্পাপ হিটলার ও একদিন শয়তানে পরিনত হয়েছে। ”

ব্ল্যাক স্যুটের আড়ালে দুর্ধর্ষ এক সুপুরুষ “জেমস বন্ড”

Now Reading
ব্ল্যাক স্যুটের আড়ালে দুর্ধর্ষ এক সুপুরুষ “জেমস বন্ড”

“মাই নেম ইজ বন্ড, জেমস বন্ড”

জেমস বন্ড নামটির সাথে পরিচিত নন এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। নামটি মুখে নিলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে একজন তুখোড় গোয়েন্দা এজেন্ট এর প্রতিছবি। আমার ছোট বেলা অর্থাৎ স্কুল লেভেল হতেই এই নামটির সাথে বেশ সখ্যতা। বলা যায় নিজের নামের সাথে ০০৭ জুড়ে দিতাম পাঠ্য বইয়ের কাভারে এবং খাতায়। বলা যায় বাল্যজীবনের সেই সময় হতে এখনো অবধি জেমস বন্ড এর পুরোদুস্তুর একজন ভক্ত। ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ‘ ডাই হার্ড ফ্যান’, জেমস বন্ড সিরিজের প্রতিটি পর্বই কমপক্ষে ৪-৫বার দেখা হয়েছে। চলচিত্রে জেমস বন্ড চরিত্রটিকে ব্রিটিশ সিক্রেট সার্ভিসের একজন এজেন্ট হিসেবে রুপ দেয়া হয়েছে যে কিনা নিজের বুদ্ধি ও কৌশলগুণে অসাধ্যকে সাধন করে ফেলতে পারেন অনায়াসে এবং যেকোন মিশন সফলভাবে সমাপ্ত করতে পারেন। জেমস বন্ড ছেলে-বুড়োদের কাছে এতটাই জনপ্রিয় যে সকলেই চরিত্রটিকে সত্যিকার ভাবেন, কিন্তু আসলে এটি কোন বাস্তব চরিত্রের আলোকে নির্মিত চলচিত্র নয় বা জেমস বন্ড বাস্তবের কোন হিরো নন। মূলত বিখ্যাত উপন্যাসিক ইয়াং ফ্লেমিং ১৯৫৩ সালে তার গোয়েন্দা উপন্যাসে জেমস বন্ড চরিত্রটি সৃষ্টি করেন যা পরবর্তীতে চলচিত্র রুপে প্রকাশ পায়। ইয়াং ফ্লেমিং এর উপন্যাসকে কেন্দ্র করেই জেমস বন্ড সিরিজের প্রতিটি চলচিত্র নির্মিত। ইয়াং ফ্লেমিং বেঁচে থাকা অবস্থায় ১৪টি বই লিখে গেছেন যার প্রতিটি জেমস বন্ড চরিত্রের উপর ভিত্তি করে। বাকি সিরিজগুলো অন্য লেখকদের হাত ধরে প্রকাশ পায়। প্রথম উপন্যাসে জেমস বন্ডকে একজন রয়েল নেভির কমান্ডার হিসেবে দেখানো হলেও পরবর্তী উপন্যাসে সেই চরিত্র বদলে ব্রিটিশ সিক্রেট এজেন্ট এর রুপ দেয়া হয়। রুপ দেয়ার কথা বললে কিছুটা ভুল হবে কেননা তাকে নেভি হতে সিক্রেট সার্ভিসে রিক্রুট করা হয়। মূলত সেই পরিবর্তনের ফলে জেমস বন্ড সিরিজের প্রতিটি উপন্যাসই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়ে যায়। ১৯৯৫ সালে ব্রিটিশ সিক্রেট সার্ভিসের নাম পরিবর্তন হয়ে MI6 (Majesty’s Secret Service) নাম ধারণ করে। জেমস বন্ড এর কোড 007 নিয়ে অনেকের কৌতূহল কাজ করে। আসলে এই কোডটি হচ্ছে এজেন্ট কোড অর্থাৎ সিক্রেট সার্ভিস কর্তৃক নিযুক্ত এজেন্টরা তাদের প্রতিটি মিশনে খুন করার লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়, যাদের কোড সিরিজ শুরু হয় 00 দিয়ে । ইয়াং ফ্লেমিং এর উপন্যাসে তার সৃষ্ট ১৩জন এমন এজেন্টের মধ্যে জেমস বন্ড হচ্ছেন ৭ নাম্বারে তাই তার কোড 007। যদিও জেমস বন্ড ছাড়া বাকি এজেন্টদের নাম উপন্যাস এবং চলচিত্রে ভিন্নভাবে ব্যবহত হয়েছে, এ নিয়ে কারো কারো দ্বিমত ও থাকতে পারে। উপন্যাস ও বিভিন্ন অফিসিয়াল সাইট হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী চলুন দেখে নেই সেই ১৩জন এজেন্ট কারা?

১। এডওয়ার্ড ডন (কোড 001)

২। বিল ফেয়ারব্যাংকস জন (কোড 002)

৩। জেক ম্যাসন (কোড 003)

৪। স্কারলেট পাপাভা (কোড 004)

৫। স্টূয়ার্ট থমাস (কোড 005)

৬। এলেক ট্র্যাভেলিয়ান (কোড 006

৭। জেমস বন্ড (কোড 007)

৮। বিল টিমুথি (কোড 008)

৯। পিটার স্মিথ (কোড 009)

১০। জন উলফগ্রাম (কোড 0010)

১১। (কোড 0011) নাম অজানা এই এজেন্ট সিঙ্গাপুরে হারিয়ে যায়

১২। স্যাম জনস্টন (কোড 0012)

১৩। ব্রাইয়নি র্থন (কোড 0013)

যদিও ইয়াং ফ্লেমিং শুধুমাত্র ৫জন এজেন্টের নাম উল্ল্যেখ করেছেন আর বাকি এজেন্টদের নাম ফ্রান্সাইসি কর্তৃক এসেছে।  কোড বিহীন অন্যান্য এজেন্টদের মধ্যে আরো রয়েছে- রাউল সিল্ভা, দাউস, হ্যামিলটন, বেইনেস, মিরাণ্ডা ফ্রস্ট, এজেন্ট ইয়র্ক, সুজি কেউ, হ্যানরি ফ্রেসার, ক্লাইব উডস্লো। যদিও চলচিত্র নির্মাণ হয়েছে কেবল জেমস বন্ডকে প্রাধান্য দিয়ে এবং অন্য এজেন্টদের ভুমিকা এখানে লক্ষ্য করা যায়না। শুধু মাত্র ‘গোল্ডেন আই’ সিনেমাতে 006 কে অল্প সময়ের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। ইয়াংফ্লেমিং জেমস বন্ডকে কোন বয়সের উল্ল্যেখ না করলেও চলচিত্রে জেমস বন্ড চরিত্রের নায়ক নির্বাচন করা হয় চল্লিশোর্ধ্ব হ্যান্ডসাম পুরুষকে। জেমস বন্ড এমন একজন পুরুষ যিনি বেশ আকর্ষণীয় এবং আবেদনময়ী। যার কথায় এবং আচার-আচরণে আছে ব্যাক্তিত্বের চাপ, যিনি অনায়াসেই সুন্দরী নারীদের নিজের প্রতি আকর্ষিত করতে পারেন। এলকোহলের মধ্যে ভদকা মার্টিনি ককটেল বেশি পছন্দ করেন বন্ড, উপন্যাস ও চলচিত্রের প্রায় সবখানে তার প্রমান পাওয়া যায়। সবসময় হাতে রোলাক্স ব্র্যান্ড এর ঘড়ি ব্যবহার করেন এবং পোশাকের মধ্যে ডিনার জ্যাকেটই তার সবচেয়ে প্রিয়।

 

এ পর্যন্ত জেমস বন্ড সিরিজের মুক্তি পাওয়া চলচিত্র হচ্ছে ২৬টি, চলুন দেখে নিই চলচিত্রগুলার নাম এবং সেই সাথে জেমস বন্ড চরিত্রে অভিনয়কারী আকর্ষণীয় নায়কদের নাম।

১. “ড নো” মুক্তির সালঃ ১৯৬২, পরিচালকঃ টেরেন্স ইয়ং জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ শ্যেন কনারি, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ৫৯.৫মিলিয়ন ইউএস ডলার।

২. “ফ্রম রাশিয়া ইউথ লাভ” মুক্তির সালঃ ১৯৬৩, পরিচালকঃটেরেন্স ইয়ং জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ শ্যেন কনারি, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ৭৮.৯ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

৩. “গোল্ড ফিঙ্গার” মুক্তির সালঃ ১৯৬৪, পরিচালকঃ গাই হেমিল্টন, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ শ্যেন কনারি, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১২৪.৯ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

৪. “থান্ডারবল” মুক্তির সালঃ ১৯৬৫, পরিচালকঃ টেরেন্স ইয়ং জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ শ্যেন কনারি, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১৪১.২ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

৫. “ক্যাসিনো রয়াল” মুক্তির সালঃ ১৯৬৭, পরিচালকঃ জন হাস্টন, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ ডেভিড নিভেন, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ৪১.৭ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

৬. “ইউ অনলি লিভ টোয়াইস” মুক্তির সালঃ ১৯৬৭, পরিচালকঃ লুইস গিলবার্ট, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ শ্যেন কনারি, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১১১.৬ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

৭. “অন হার মেজিস্টে’স সিক্রেট সার্ভিস” মুক্তির সালঃ ১৯৬৯, পরিচালকঃ পিটার আর হান্ট, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ জর্জ লাজেনবাঈ, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ৮২ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

৮. “ডায়মন্ডস আর ফরেবার” মুক্তির সালঃ ১৯৭১, পরিচালকঃ গাই হেমিল্টন, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ শ্যেন কনারি, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১১৬ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

৯. “লিভ এন্ড লেট ডাই” মুক্তির সালঃ ১৯৭৩, পরিচালকঃ গাই হেমিল্টন, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ রজার ম্যুর, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১৬১.৮ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

১০. “দ্যা ম্যান উইথ দ্যা গোল্ডেন গান” মুক্তির সালঃ ১৯৭৪, পরিচালকঃ গাই হেমিল্টন, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ রজার ম্যুর, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ৯৭.৬ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

১১. “দ্যা স্পাই হু লাভড মি” মুক্তির সালঃ ১৯৭৭, পরিচালকঃ লুইস গিলবার্ট, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ রজার ম্যুর, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১৮৫.৪ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

১২. “মুনরেকার” মুক্তির সালঃ ১৯৭৯, পরিচালকঃ লুইস গিলবার্ট, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ রজার ম্যুর, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ২১০.৩ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

১৩. “ফর ইউর আইস অনলি” মুক্তির সালঃ ১৯৮১, পরিচালকঃ জন গ্লেন, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ রজার ম্যুর, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১৯৫.৩ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

১৪. “অক্টোপূসি” মুক্তির সালঃ ১৯৮৩, পরিচালকঃ জন গ্লেন, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ রজার ম্যুর, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১৮৭.৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

১৫. “নেভার সে নেভার এগেইন” মুক্তির সালঃ ১৯৮৩ পরিচালকঃ আরভিন কার্সনার, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ শ্যেন কনারি, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১৬০ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

১৬. “অ্যা ভিউ টু এ কিল” মুক্তির সালঃ ১৯৮৫, পরিচালকঃ জন গ্লেন, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ রজার ম্যুর, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১৫২.৬ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

১৭. “দ্যা লিভিং ডে লাইটস” মুক্তির সালঃ ১৯৮৭, পরিচালকঃ জন গ্লেন, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ টিমুথি ডাল্টন, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১৯১.২ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

১৮. “লাইসেন্স টু কিল” মুক্তির সালঃ ১৯৮৯, পরিচালকঃ জন গ্লেন, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ টিমুথি ডাল্টন, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১৫৬.১৬ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

১৯. “গোল্ডেন আই” মুক্তির সালঃ ১৯৯৫, পরিচালকঃ মার্টিন ক্যাম্পবেল, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ পিয়ার্স ব্রুসনান, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ৩৫৬.৪২ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

২০. “টুমোরো নেভার ডাইস” মুক্তির সালঃ ১৯৯৭, পরিচালকঃ রজার সপটিসউড, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ পিয়ার্স ব্রুসনান, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ৩৩৯.৫০ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

২১. “দ্যা ওয়ার্ল্ড ইস নট এনাফ” মুক্তির সালঃ ১৯৯৯, পরিচালকঃ মাইকেল এপটেড, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ পিয়ার্স ব্রুসনান, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ৩৬১.৭৩ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

২২. “ডাই এনাদার ডে” মুক্তির সালঃ ২০০২ পরিচালকঃ লি তামাহুরি, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ পিয়ার্স ব্রুসনান, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ৪৩১.৯৪ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

২৩. “ক্যাসিনো রয়াল” মুক্তির সালঃ ২০০৬ পরিচালকঃ মার্টিন ক্যাম্পবেল, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ ড্যানিয়েল ক্রেগ, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ৫৯৪.৪২ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

২৪. “কোয়ান্টাম অব সোলেস” মুক্তির সালঃ ২০০৮, পরিচালকঃ মার্ক  ফরস্টার, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ ড্যানিয়েল ক্রেগ, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ৫৯১.৬৯ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

২৫. “স্কাই ফল” মুক্তির সালঃ ২০১২, পরিচালকঃ স্যাম মেন্ডেজ, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ ড্যানিয়েল ক্রেগ, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১.১১০ বিলিয়ন ইউএস ডলার।

২৬. “স্পেকট্রি” মুক্তির সালঃ ২০১৫, পরিচালকঃ স্যাম মেন্ডেজ, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ ড্যানিয়েল ক্রেগ, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ৮৭৯.৬ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

২৭. “বন্ড টুয়েন্টি ফাইভ” মুক্তির সালঃ ২০১৯ (প্রস্তাবিত), পরিচালকঃ ক্যারি জজি ফুকুনাগা, জেমস বন্ড চরিত্রে থাকবেঃ ড্যানিয়েল ক্রেগ। ২৪তম সিরিজের এই ছবিটির বাজেট এখনো প্রকাশ করেনি তবে ২০১৯ সালের মার্চে শুরু হচ্ছে জেমস বন্ড সিরিজের “বন্ড টুয়েন্টি ফাইভ” ছবিটির শুটিং। যদিও ছবিটি মুক্তির কথা ছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে কিন্তু সময় পাল্টে ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সেটি মুক্তির সময় পুনরায় নির্ধারণ করা হয়। সিরিজে সৃজনশীল পরিবর্তন আনতে গত আগস্টে পরিচালক ড্যানি বয়েলকে সিরিজ থেকে বাদ দেওয়া হয়।

এরপর পরিচালক খুঁজতে শুরু করেন ছবিটির প্রযোজক মাইকেল জি উইলসন ও বারবারা ব্রোকলির। শেষ পর্যন্ত পরিচালক হিসেবে তারা দায়িত্ব দিয়েছেন এইচবিওর ‘ট্রু ডিটেকটিভ’ সিরিজের পরিচালক ক্যারি ফুকুনাগাকে, ‘জেমস বন্ড’ সিরিজের টুইটার পেজ থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়।। জেমস বন্ড সিরিজের পূর্বের দুই খ্যাতিমান চিত্রনাট্যকার নিল পারভিস ও রবার্ট ওয়েডকেও পুনরায় সিরিজে ফিরিইয়ে আনা হয়েছে। সুতরাং ধরে নেয়াই যাচ্ছে জেমস বন্ড সিরিজের পরবর্তী ভার্সন দর্শক মহলে বেশ আশা জাগিয়েছে। এখন অপেক্ষা কেবল মুক্তির…

“Haunting of hill house” এর মত জীবন কাটানো কিছু পরিবার

Now Reading
“Haunting of hill house” এর মত জীবন কাটানো কিছু পরিবার

শেরলি জ্যাকসন উপন্যাস “Haunting of hill house” আমাদের Crain পরিবারের গল্প বলে যারা দেশের সবচেয়ে ভয়ানক ভুতুড়ে বাড়িতে বাস করত। এখন, বড় হয়ে যাবার পরেও তারা এখনো তাদেরকে তাদের ভয়ঙ্কর অতীত তাড়া করছে যা থেকে তারা মুক্তি পায়নি । সম্প্রতি উপন্যাসের আলোকে একটি সিরিজ নির্মান করেছে NETFLIX , যা দেখার পরে অনেকেই ভয় পেয়েছেন বলে চারিদিকে খবর চাউর হয়েছে।

উপন্যাসের পাতায় লেখিকা কথাসাহিত্যের মাধ্যমে Crain পরিবারের সাথে ঘটা ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন। আজ আমরা এমন কিছু পরিবারের কথা আপনাদের জানাবো যারা বাস্তব জীবনেই সেই ভয়াবহতার মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন। আজ আমরা সেই পরিবারগুলোর কথা আপনাদের জানাবো যারা নিজ বাড়ি থেকে হয়েছেন বিতারিত, পিছে ছেড়ে গিয়েছেন নিষ্ঠুর ভয়ের ছাপ।

Smurl (স্মার্ল) পরিবার

১৯৭৪ সালে জ্যাক – জ্যানেট দম্পতি পেনসেনভানিয়ার ওয়েস্ট পিটসন এর চেস স্ট্রিট এ আসার পর তারা একটি বাড়িতে উঠে যা নতুন করে সংস্কার করা লাগবে। এই দম্পতি তাদের ৩ মেয়ে এবং জ্যাকের বাবা-মা সহ সেই বাড়িতে ১৩ বছর ছিল যার প্রতিটি রাত ছিল ভয়ানক।কিছুদিন পর স্বাভাবিক ভাবেই জ্যাকের অসুস্থ মা মারা যান।

জ্যানেট এর ভাষ্যমতে সে বেশ কয়বার ঘুমন্ত অবস্থায় সেই বাড়িতে অবস্থানকারী আত্মা দ্বারা ধর্ষিত হয়েছে।রাতে গোঙ্গানির এবং ফিস ফিস করে কথা বলার শব্দ শুনতে পেতেন এই দম্পতি। জ্যানেট প্রথমে ভেবে নিয়েছিল তার মৃত শ্বাশুড়ি তাকে কিছু বলছেন। জ্যাক স্মার্ল বলেন, তিনিও অনেক রাতে বই পড়া বা টিভি দেখার সময় সেই বাড়িতে অবস্থানকারী আত্মা দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের পারিবারিক কুকুরকে সেই বাড়ির দেয়ালে আছড়ে মেরে ফেলা হয়।ছাড়াও রাতে নানা রকম ঝামেলা হতো যেমন ফ্যান সিলিং থেকে পড়ে যাওয়া, চেয়ার নড়া চড়া করা ইত্যাদি।

প্রেত্মাত্মা গবেষনাকারী এড এবং লরেন ওয়ারেন সেই বাড়িতে চারটি আত্মা কে শনাক্ত করেন যারা হলেন একজন বৃদ্ধ মহিলা, একজন যুবতি মেয়ে এবং একজন পুরুষ , আর এরা একটি প্রাইম শয়তান কতৃক পরিচালিত হত। ১৯৮৭ সালে স্মার্ল পরিবার সেই বাড়ি ছেড়ে চলে যায় আর রেখে যায় ভয়ানক ১৩টি বছর।

Perron (প্যারন) পরিবার

১৯৭০ সালে প্যারন পরিবারের সাথে ঘটা ভুতুড়ে ঘটনা গুলো এতটাই ভয়াবহ ছিল যযে সেই ঘটনার উপর ভিত্তি করে ২০১৩ সালে The Conjuring সিনেমা তৈরি করা হয়েছিল। ১৯৭০ সালে ক্যরোলিন এবং রজার প্যারন পরিবার তাদের ৫ সন্তান সহ রোড আইল্যান্ডের ১৭৩৬ সালে নির্মিত “ওল্ড আরনন্ড স্টেট” নামের একটি ফার্মহাউজে এসে বাস করতে শুরু করে। যাদের কাছ থেকে তারা ফার্ম হাউটি কিনেছিল তারা এই প্যারন দম্পতিকে সাবধান করে দিয়েছিল -”পরিবারের বেচে থাকার স্বার্থে হলেও, রাতের বেলা ঘরের লাইটগুলো জ্বালিয়ে রাখবেন।”

এর কিছুদিন পর পরই ঝামেলা শুরু হয়। ক্যারোলিন এর ঘুম একরাতে ভেঙ্গে যায় এবং সে একটি বৃদ্ধ , ধুসর মহিলাকৃতি দেখতে পান যার মাথা ঝুলছিল। অবয়বটি ক্যারোলিনকে বাসা ছেড়ে দিতে বলে। এমনকি ক্যারোলিন আর রজার দম্পতির সন্তানরাও একটি “”Manny”নামের বাচ্চার আত্মাকে দেখতে শুরু করে এবং যেটা জানালা দিয়ে বাচ্চাগুলোকে বাইরে খেলতে দেখতো। । এই দুই আত্মা ছাড়াও আরেকটি দুষ্ট আত্মা ছিল যে বাচ্চাদের পা ধরে রাতে বিছানা থেকে টেনে নামাতো এবং ভোরের দিকে পুরো বাড়ি পচা মাংসের গন্ধে ভরিয়ে দিত।
সেদিনের ছোট মেয়ে আন্ড্রে প্যারন এখন বড় হবার পর এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন – “সেদিনগুলোর কথা মনে পড়লে আজো ভয়ে কেপে ঊঠি। পাচটি বাচ্চা মেয়ে একটি দুষ্ট পুরুষ আত্মার হাতে পরার পর যা হতে পারে, সবই হয়েছে আমাদের সাথে। ”

Snedeker (স্নেকার) পরিবার

স্নেকার পরিবারের সাথে ঘটে যাওয়া ভয়াবহতার উপর নির্মিত হয়েছিল The Haunting in Connecticut মুভিটি। ১৯৮৬ সালে পরিবারের এলেন – ক্যামেরন দম্পতি তাদের তিন সন্তান আর ২ ভাতিজি কে নিয়ে সাউদিংটোন এর মেরিডিয়ান এভিনিউ এর একটি বাসায় উঠেন। ক্যামেরন বাসা ঘুরে দেখার সময় বেজমেন্টে একটি বক্সে মৃতদেহ সৎকার করার সরঞ্জামাদি পান এবং কিছুদিন পরেই তিনি জানতে পারেন বাসাটি একসময় ফিউনারেল হাউজ নামে পরিচিত ছিল।

তাদের বড় ছেলে কিছুদিনের মাঝে বাসায় আশুভ আত্মার দেখা পায় আর স্নেকার দম্পতি দুজনের সেই আত্মা দ্বারা শারিরিক ভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে জানান। প্রেত্মাত্মা গবেষনাকারী এড এবং লরেন ওয়ারেন সেখানে অশুভ সত্বার উপস্তিতি খুজে পান এবং এর কিছুদিনের মধ্যেই স্নেকার পরিবার বাসাটি ছেড়ে চলে যায়।

Lutz(লাটজ) পরিবার

১৯৭৪ সালের ১৩ নভেম্বর লং আইল্যান্ডের ওশান ড্রাইভের বাসিন্দা রোনান্ড বুচ ডিফেও জুনিয়র ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা তার বাবা-মা , চার ভাই বোনকে খুন করেন একটি .35 ক্যালিবারের রাইফেল দিয়ে। বুচ দাবি করে একটি ঐশ্বরিক শক্তি তাকে আদেশ দিয়েছিল তার পরিবারকে হত্যা করার জন্য যা অমান্য করতে সে পারেনি।

এক বছর পর জর্জ-ক্যাথেরিন লাটজ দম্পতি সেই বাড়িটি কম দামে কিনে নেন। প্রতিদিন রাতে ৩.১৩ তে নাকি জর্জের ঘুম ভেঙ্গে যেত , সেই সময় যখন বুচ তার বাবা-মা কে হত্যা করেছিল। তারা আরো দেখত শুকর এর মত একটি জন্তু লাল চোখে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে আর বাচ্চাদের ঘাট নিজ থেকেই শুন্যে ভেসে যেত। লাটজ দম্পতির এই কথার উপর অবিশ্বাস করে তাদের লাই-ডিটেক্টর মেশিনে পরীক্ষা করা হয় কিন্তু প্রমানিত হয় যে তারা সত্য বলছে। পরবর্তিতে তারা সেই বাসা ছেড়ে পালিয়ে যায়। আজো বাড়িটি আমেরিকার অন্যতম ভুতুড়ে বাড়ি হিসেবে পরিচিত।

 

যে কারণে চট্টগ্রাম হালিশহর এলাকায় জণ্ডিসের প্রকোপ! (অনুসন্ধান)

Now Reading
যে কারণে চট্টগ্রাম হালিশহর এলাকায় জণ্ডিসের প্রকোপ! (অনুসন্ধান)

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুসারে প্রত্যেক বছর পৃথিবীতে প্রায় দশ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর কারণ হল দূষিত পানি। বাংলাদেশ ও এর আওতাভুক্ত আর এর বিভিন্ন জেলা দূষিত পানির দরুন সংক্রমিত হচ্ছে দিনদিন। নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় এখানে গ্রাম ও শহর উভয় জায়গায় পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যে কোন রোগ যা দূষিত পানির মাধ্যমে সংক্রমিত হয় বা ছড়িয়ে থাকে। মানুষ ও অন্যান্য জীবজন্তুর বিভিন্ন রোগের জন্য প্রধানত দায়ী রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব (ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস) এবং কয়েক রকমের পরজীবী। আর পানি বাহিত রোগের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জন্ডিস, ডায়রিয়া, কলেরা, আর্সেনিক, আমাশয়, টায়ফয়েড, পেটফাঁপা, বদহজম, কৃমি ইত্যাদি। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান দ্বিতীয় শহর চট্টগ্রাম হটাৎ করেই দূষিত পানির কবলে পড়ে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বন্দর নগরীর সমুদ্রের তীর ঘেঁষা অন্যতম এলাকা হালিশহর এখন পানিবাহিত রোগের সংক্রমণে জর্জরিত। ইতিমধ্যেই পানিবাহিত রোগ জন্ডিসে (হেপাটাইটিস-ই ভাইরাস) আক্রান্ত হয়ে কয়েকজনের মৃত্যুর অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। অন্যদিকে শতশত মানুষের অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যারা চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালসহ স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে জরুরী চিকিৎসা সেবা গ্রহণে ভিড় জমাচ্ছেন। ফলে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন তড়িৎ গতিতে কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে যার মধ্যে রয়েছে আক্রান্ত এলাকায় পানি বিশুদ্ধকরণে এক লাখ ৮৫ হাজার টেবলেট বিতরণ, ১০টি নির্দেশনা সম্বলিত জনসচেতনতামূলক ৫০ হাজার লিফলেট বিতরণ, এলাকা পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি।

 

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন এর বিতরনকৃত লিফলেট

অনুসন্ধানঃ গত মাসেই আমাদের অফিসের একজন এবং দারোয়ান মারাত্মক রকম অসুস্থ হয়ে পড়ে। ডাক্তারি পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানা গেল তারা পানিবাহিত রোগ জণ্ডিসে আক্রান্ত। বিষয়টি আমরা সাময়িক ব্যাধি হিসেবে খুব একটা আমলে নেইনি। এরই মধ্যে জয়েন করেছে নতুন ড্রাইভার আর সপ্তাহ দু-একের মাথায় তারও কঠিন জন্ডিস ধরা পড়েছে। এভাবে আশে পাশের পরিচিত আরো অনেকের খবর পাওয়া যাচ্ছে যারা জণ্ডিসে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিষয়টি এখন আর মামুলি মনে হলনা, গোটা এলাকাই এখন ঘোরতর বিপদে। এখানে বলে রাখা ভাল, যাদের অসুস্থ হওয়ার কথা উল্ল্যেখ করেছি তারা ওয়াসার পানি ফুটিয়ে পান করত, সরাসরি নয়। বেশ কয়েকদিন হালিশহরের বিভিন্ন আবাসিক ও অন্যান্য এলাকা পর্যবেক্ষণ করে একটা বিষয় পরিস্কার হয়েছে যে এলাকাটি নগরীর অন্যান্য অংশ হতে অনেকটা ডাউন লেভেলে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই এখানে হাঁটু সমান পানিতে নিমজ্জিত হয়, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ইদানীং এক্সেস রোড ও পোর্ট কানেক্টিং রোড সম্প্রসারন ও ড্রেনেজ সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, ফলে কিছু কিছু জায়গায় ওয়াসা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত পানি সরবরাহের নল ফেটে কিংবা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে বৃষ্টি হলেই সেই ফাটা/বিচ্ছিন্ন নল দিয়ে দীর্ঘদিনের জমে থাকা দূষিত পানি পৌঁছে যাচ্ছে অত্র এলাকার বাসাবাড়িতে। তাছাড়া এখানকার বেশিরভাগ নলকূপও পানিতে তলানো। এই এলাকায় ধনী ও মধ্যবিত্তের সাথে বাস করে নিম্ম আয়ের মানুষ যারা টিউব ওয়েল কিংবা টেপের পানি খেয়ে জীবন নির্বাহ করে। যেহেতু অত্র এলাকার সাধারণ জনগণ দিনের পর দিন নিজের অজান্তে দূষিত পানি সেবন করছে আর তাতেই ভাইরাস সংক্রমিত হচ্ছে তাদের দেহে। আরেকটা উল্ল্যেখযোগ্য বিষয়হলো অত্র এলাকায় কিছু ছোটখাট নামসর্বস্ব কোম্পানি আছে যারা বিভিন্ন বাসা-বাড়ি, অফিস, দোকান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্লাস্টিকের জারে করে পানি সরবরাহ করে। কিছুদিন পূর্বে এমন একটি পানির জার আমাদের হাতে এসে পৌঁছায় যেখানে আমরা জলজ্যান্ত একটি কেঁচো আবিস্কার করি। তাৎক্ষণিক সেই পানির সাপ্লাইয়ার ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজারকে ডাকা হল,  তারা বিএসটিআই কিংবা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লাইসেন্স প্রাপ্ত দাবী করলেও ট্রেড লাইসেন্স ব্যতীত এর স্বপক্ষে কোন শক্তিশালী প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। তারা ল্যাবে পানি পরীক্ষার কিছু কাগজ প্রদর্শন করলেও তা ছিল মেয়াদ উত্তীর্ণ, আমরা সেই ল্যাবের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলল যেহেতু ডকুমেন্ট ঐ প্রতিষ্ঠান নবায়ন করেনি সেহেতু তাদের কোন দায়বদ্ধতা নেই। বিষয়টি ক্লিয়ার হলে পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজারকে দ্রুত পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এই হল অবস্থা! সুতরাং এই বিষয়টিকেও স্থানীয়দের গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে যে তারা বিশুদ্ধ পানির নামে ব্যাকটেরিয়া কিনছেন নাতো! পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হালিশহরের অবস্থা আস্তে আস্তে এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে।  তাই নগর ব্যবস্থাপক এবং স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচিৎ বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার। অন্যথা, যেকোন মুহূর্তে এই বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়তে পারে শহরের অন্য প্রান্তেও।