5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

ধনী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শেখার ফাঁক কয়েক দশকেও পরিবর্তন হয়নি

Now Reading
ধনী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শেখার ফাঁক কয়েক দশকেও পরিবর্তন হয়নি

একটি নতুন গবেষণায় দেখা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বনিম্ন আয়ের শিক্ষার্থীদের গড় আয়তন সর্বোচ্চ আয় শিক্ষার্থীদের তুলনায় প্রায় তিন থেকে চার বছর পিছিয়ে রয়েছে – শেখার একটি ফাঁক বা ব্যবধান রয়েগেছে যা চার দশকেরও বেশি সময় ধরে স্থির আছে।

ন্যাশনাল ব্যুরো অফ ইকোনমিক রিসার্চ গবেষকরা রিপোর্ট করেছেন প্রায় ৫০ বছর ধরে ২.৭ মিলিয়ন মধ্যম ও উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রদত্ত মানসম্মত পরীক্ষার বিশ্লেষণের প্রস্তাবে ফেডারেল শিক্ষা কর্মসূচী লক্ষ্য করে যে এই পার্থক্যটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষা অর্থনীতিবিদ সম্রাট এরিক হানুসেক বলেছেন, উচ্চ বিদ্যালয়ে নিম্নতর অর্জনের ফলে সর্বনিম্ন প্রাপ্তবয়স্কদের আয় কম হয়। “পরবর্তী প্রজন্মের এই প্রজন্মের মত অনেক দেখতে যাচ্ছে। দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা আরও দরিদ্র হয়ে যাবে। “সমস্যাটি বাড়ছে কিনা, নাকি বিতর্কের জন্য। স্ট্যানফোর্ডের বাইরে ব্যাপকভাবে ২০১১ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি জন্মগ্রহণকারী শিশুদের মধ্যে এবং ২০০০-এর দশকের প্রথম দিকে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের মধ্যে কৃতিত্বের ব্যবধান বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু হুনাহেক বলছেন যে তার কাজটি নির্দেশ করে যে এই ব্যবধানটি স্থির আছে, কিন্তু আগের মতো বিশ্বাস করা যাচ্ছে না।

তিনি এবং সহকর্মীরা গণিত, পড়াশোনা এবং বিজ্ঞানের তের থেকে ঊনিশ বছর পরীক্ষার জন্য ১৯৭১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন অন্তর্বর্তী সময়ে দেশব্যাপী পরিচালিত চারটি অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ফলাফল দেখেছিলেন। প্রোগ্রামগুলিতে মোট ৯৮ টি পরীক্ষার ব্যবহার করা হয়েছিল, ১৩-১৫ বছর বয়স্কদের পাশাপাশি ১৭ বছর বয়স্কদের পরীক্ষা করা হয়েছিল।
পরিবার আয় স্তর দ্বারা ছাত্র শ্রেণীভুক্ত করার জন্য, গবেষকরা মানসম্মত পরীক্ষার পাশাপাশি জনসাধারণের শিক্ষা স্তর এবং অন্যান্য জীবনধারা সূচক সম্পর্কে তথ্য অন্তর্ভুক্ত পাশাপাশি জনসংখ্যাতাত্ত্বিক জরিপেও করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৫০ এর দশকে একটি ডিশওয়াশার একটি সম্পদ নির্দেশক হিসাবে দেখা হয়েছিল। সম্পদটির সাম্প্রতিক লক্ষণগুলির মধ্যে একটি ছাত্রের পৃথক বেডরুম বা ব্যক্তিগত কম্পিউটার রয়েছে কিনা তা অন্তর্ভুক্ত। ১০ তম আয়ের শতকরা ১৭ বছরের নীচের বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার স্কোর শীর্ষ ১০ ম ভাগের তুলনায় অনেক কম ছিল – সবচেয়ে ধনী ছাত্রদের শিক্ষা সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির পিছনে তিন বা চার বছর পিছিয়ে ছিল বলে উল্লেখ করে, লেখক প্রতিবেদনে।
এদিকে, একাডেমীর পরীক্ষার সময়কালে ১৭ বছরের পুরোনো পরীক্ষার স্কোরগুলি নিজেদের জন্য স্থানান্তরিত হয়নি। তারা ১৩-১৫ বছর বয়সের জন্য সামান্য উন্নতি করেছে, কিন্তু সর্বনিম্ন আয়ের শিক্ষার্থীরা এখনও উচ্চ আয়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় অনেক কম স্কোর করে। হানুসেক বলেন, তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য ফেডারেল প্রোগ্রাম সহায়ক হয়েছে, যার মধ্যে প্রয়োজন পরিবারগুলির জন্য হেড স্টার্ট প্রি-স্কুলে প্রোগ্রাম, বা ৩ থেকে ৪ এর জন্য একাডেমিক মান এবং পরীক্ষার প্রোগ্রাম স্থাপনের জন্য উদ্যোগ এবং বয়স্ক ছাত্রদের জন্য শিশুপন্থী প্রোগ্রাম খুব দরকার।
২০১১ সালের গবেষণায় দরিদ্রতম শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রে তাদের ধনী সহকর্মীদের পিছনে তিন থেকে ছয় বছরেরও বেশি সময় দেখা যায়। কিন্তু স্ট্যানফোর্ড শিক্ষা সমাজবিজ্ঞানী শেন রিয়ার্ডন পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে যে কয়েক দশক ধরে কৃতিত্বের ফাঁক ব্যাপকভাবে বাড়ছে। ২০১১ সালের গবেষণায়১৯৬০ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ১২ টি পরীক্ষায় দেখা গেছে, যে দরিদ্রতম শিক্ষার্থী এবং ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে পরীক্ষার হারের ব্যবধান ১৯৭০ এর দশকের প্রথম দিকে ২০০০ এর দশকে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। রিয়ার্ডন পরামর্শ দিয়েছিলেন বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের শিক্ষায় ক্রমবর্ধমানভাবে বিনিয়োগ করে, ভাগ্যকে বাড়িয়ে তোলে।
২০১১ সালে পরিচালিত নতুন গবেষণায় এবং ভিন্ন ভিন্ন ফলাফলের মধ্যে গবেষকরা বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল এবং পারিবারিক আয় মূল্যায়নে ফলাফলের বিশ্লেষণে টরন্টো ইউনিভার্সিটির শিক্ষা সমাজবিজ্ঞানী আন্না চেমলিভস্কি বলেছেন , হানুসেক এবং রিয়ার্ডন এর সাথে সম্মত হন যে আয়-সম্পর্কিত তথ্যটির ব্যবধান বিপজ্জনক।

হিটলার পার্ট ওয়ান

Now Reading
হিটলার পার্ট ওয়ান

এডলফ হিটলার পার্ট – ১

এডলফ হিটলার কে চিনেন না,আশা করি এমন কোন ডিফেন্স লাভার নেই।অনেকের চোখে তিনি হিরো, আবার অনেকের চোখে তিনি ভিলেন।আসুন তার বিষয়ে কিছু খুটি নাটি বিষয় জানা যাক। হিটলারের জন্ম ১৮৮৯ সালের ২০ শে এপ্রিল অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত ব্যাভেরিয়ার মাঝামাঝি ব্রনাউ গ্রামে । হিটলার জার্মানি রাজনীতিবিদ যিনি ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন । হিটলার প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে ভাইমার প্রজাতন্ত্রে নাৎসি পার্টির নেতৃত্ব লাভ করেন। কৌশল ভাবে আঘাত করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন যে কারণে তাকে জেল খাটতে হয়েছিল। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে মোহনীয় বক্তৃতার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদ, ইহুদি বিদ্বেষ ও সমাজতন্ত্র বিরোধিতা ছড়াতে থাকেন। এভাবেই এক সময় জনপ্রিয় নেতায় পরিণত হন।
নাৎসি পার্টির দ্বারা তাদের বিরোধী পক্ষের অনেককেই হত্যা করেছিল, রাষ্ট্রের অর্থনীতিকে ঢেলে সাজিয়েছিল, সামরিক বাহিনীকে নতুন নতুন সব অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করেছিল এবং সর্বোপরি একটি সমগ্রতাবাদী ও ফ্যাসিবাদী একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল। হিটলার এমন একটি বৈদেশিক নীতি গ্রহণ করেন যাতে সকল “লেবেনস্রাউম” জীবন্ত অঞ্চল দখল করে নেয়ার কথা বলা হয়। ১৯৩৯ সালে জার্মানরা পোল্যান্ড অধিকার করে এবং ফলশ্রুতিতে ব্রিটেন ও ফ্রান্স, জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এভাবেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।

হিটলার পরিবারের উৎপত্তি

ছবি সংগ্রহ – historum.com

অ্যাডলফ হিটলারের জন্ম জার্মান সাম্রাজ্যের সীমান্তের কাছে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি (বর্তমানে অস্ট্রিয়া) শহরের ব্রাউনউ এম ইন নামে পরিচিত। তিনি “অ্যাডলফাস হিটলার” হিসাবে নামকরণ করেছিলেন। তিনি আলয়েস হিটলার এবং তার তৃতীয় স্ত্রী ক্লারা পোলজেলের জন্মের ছয় সন্তানের চতুর্থ সন্তান ছিলেন। হিটলারের ভাইবোনদের তিনজন – গুস্তাভ, ইদা ও অটো শৈশবে মারা যায় । হিটলারের বাবা এলোইচ (Alois) হিটলার সমাজ সাপেক্ষে বৈধ জাত ছিলেননা , এক কথাই বলতে গেলে জারজ সন্তান ছিলেন ।

হিটলার জীবনের অনেকটা সময় শেষ নাম হিসেবে মায়ের নাম (Schicklgruber) ব্যবহার করেছিলেন। ১৮৭৬ সালেই এলোইচ প্রথম হিটলার নামটি গ্রহণ করেন। তার ছেলে অ্যাডলফ-ও কখনও হিটলার ছাড়া অন্য কোন শেষ নাম ব্যবহার করেনি। সরকারী কাস্টম্‌স থেকে অবসর গ্রহণের পর হিটলারের বাবা সপরিবারে আপার অস্ট্রিয়ার লিন্‌ৎস শহরে চলে আসেন। এখানেই হিটলারের বাল্যকাল অতিবাহিত হয়। এ কারণে সারাজীবন তিনি লিন্‌ৎসকে ভালবেসে গেছেন, কোন শহরকে এর উপরে স্থান দিতে পারেননি।

ছয় বছর বয়সে স্থানীয় অবৈতনিক স্কুলে ভর্তি হলেন। ছেলেবেলা থেকেই হিটলার ছিলেন একগুঁয়ে, জেদি আর রগচটা। সামান্য ব্যাপারেই রেগে উঠতেন। অকারণে শিক্ষকদের সঙ্গে তর্ক করতেন। পড়াশোনাতে যে তার মেধা ছিল না এমন নয়। কিন্তু পড়াশোনার চেয়ে তাকে বেশি আকৃষ্ট করত ছবি আঁকা। যখনই সময় পেতেন কাগজ পেন্সিল নিয়ে ছবি আঁকতেন।এগারো বছর বয়সে ঠিক করলেন আর পড়াশোনা নয়, এবার পুরোপুরি ছবি আঁকতেই মনোযোগী হবেন। বাবার ইচ্ছা ছিল স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে কোনো কাজকর্ম জুটিয়েনেবে। বাবার ইচ্ছার বিরুদ্ধেই স্কুল ছেড়ে দিলেন হিটলার। স্থানীয় এক আর্ট স্কুলে ভর্তির চেষ্টা করলেন।
কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলেন না। একটা বেসরকারি স্কুলে ভর্তি হলেন। কিন্তু কয়েক মাস পর অর্থের অভাবে স্কুল ছেড়ে দিলেন ।
বাবাকে তিনি খুব পছন্দ করতেন না বরং ভয় করতেন। কিন্তু মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসার কোন কমতি ছিল না। ১৯০৩ সালে বাবা মারা যান। বাবার রেখে যাওয়া পেনশন ও সঞ্চয়ের অর্থ দিয়েই তাদের সংসার কোনমতে চলতে থাকে। অনেক ভোগান্তির পর ১৯০৭ সালে মাও মারা যান। হিটলার নিঃস্ব হয়ে পড়েন। পড়াশোনায় বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি। এক সময় ভিয়েনায় যান। কিন্তু চিত্রশিল্পী হবার স্বপ্ন নিয়ে আবার লিন্‌ৎসে ফিরে আসেন। আবার ভিয়েনায় যান। সামান্য যা ভাতা পেতেন তা দিয়ে ভিয়েনার মত শহরে চলতে-ফিরতে তার বেশ কষ্ট হতো। শিল্পী হিসেবেই তার বেশ সম্ভাবনা ছিল। এই উদ্দেশ্যে অস্ট্রিয়ার “একাডেমি অফ ফাইন আর্টস”-এ ভর্তি পরীক্ষা দেন। কিন্তু সুযোগ পাননি।

মা মারা গেলে সংসারের সব বন্ধন ছিন্ন হয়ে গেল। ভাগ্য অন্বেষণে বেরিয়ে পড়লেন হিটলার। ভিয়েনাতে চলে এলেন। ভিয়েনাতে এসে তিনি প্রথমে মজুরের কাজ করতেন। কখনো মাল বইতেন। এরপর রং বিক্রি করতে আরম্ভ করলেন। ভিয়েনাতে থাকার সময়েই তার মনের মধ্যে প্রথম জেগে ওঠে ইহুদি বিদ্বেষ। তখন জার্মানির অধিকাংশ কলকারখানা, সংবাদপত্রের মালিক ছিল ইহুদিরা।তবে তার মনে কেন ইহুদি বিদ্বেষ সৃষ্টি হয় তা নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে। দেশের অর্থনীতির অনেকখানিই তারা নিয়ন্ত্রণ করত। হিটলার কিছুতেই মানতে পারছিলেন না, জার্মান দেশে বসে ইহুদিরা জার্মানদের উপরে প্রভুত্ব করবে।এডলফ হিটলার আক্ষেপ করে বলেছিলেন- “ইহুদীরা বেইমান জাতি, এদের কখনও বিশ্বাস করতে নেই ।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যোগদান

১৯১২ সালে তিনি ভিয়েনা ছেড়ে এলেন মিউনিখে। সেই দুঃখ-কষ্ট আর বেঁচে থাকার সংগ্রামে আরো দুই বছর কেটে গেল।
১৯১৪ সালে শুরু হলো প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। ১৯১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রীয় সামরিক বাহিনীতে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেন। স্বাস্থ্যগত কারণে সৈনিক হবার সুযোগ পাননি। তাকে সামরিক বাহিনীর জন্য আনফিট ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার সাথে সাথে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে জার্মান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি ছিলেন ১৬তম বাভারিয়ান রিজার্ভ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টে। যুদ্ধের পুরোটা সময় জার্মানিকে সেবা দিয়ে গেছেন। এই যুদ্ধেসাহস ও বীরত্বের পরিচয় দিলেও কোনো পদোন্নতি হয়নি।যুদ্ধ শেষ হলো। দেশজুড়ে দেখা দিল হাহাকার আর বিশৃঙ্খলা। তার মধ্যে মাথাচাড়া দিয়ে উঠল বিভিন্ন বিপ্লবী দল, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এদের ওপর গোয়েন্দাগিরি করার জন্য হিটলারকে নিয়োগ করলেন কর্তৃপক্ষ।সেই সময় প্রধান রাজনৈতিক দল ছিল লেবার পার্টি। তিনি সেই পার্টির সদস্য হলেন। অল্পদিনেই পাকাপাকিভাবে পার্টিতে নিজের স্থান করে নিলেন হিটলার। এক বছরের মধ্যেই তিনি হলেন পার্টিপ্রধান।দলের নতুন নাম রাখা হলো ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স পার্টি।

ছবি সংগ্রহ – national army museum

পরবর্তীকালে এই দলকেই বলা হতো নাৎসি পার্টি। ১৯২০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম নাৎসি দলের সভা ডাকা হলো। এতেই হিটলার প্রকাশ করলেন তার পঁচিশ দফা দাবি। এরপর হিটলার প্রকাশ করলেন স্বস্তিকা চিহ্নযুক্ত দলের পতাকা। ক্রমশই নাৎসি দলের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। তিন বছরের মধ্যেই দলের সদস্য হলো প্রায় ৫৬০০০ এবং এটি জার্মান রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণভূমিকা গ্রহণ করল।হিটলার চেয়েছিলেন মিউনিখে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব যেন না থাকে। এই সময় তার পরিকল্পিত এক রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হলো। পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন। তাকে এক বছরের জন্য ল্যান্ডসবার্গের পুরনো দুর্গে বন্দি করে রাখা হলো।জেল থেকে মুক্তি পেয়ে আবার রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র কাজে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। তার উগ্র স্পষ্ট মতবাদ, বলিষ্ঠ বক্তব্য জার্মানদের আকৃষ্ট করল। দলে দলে যুবক তার দলের সদস্য হতে আরম্ভ করল। সমস্ত দেশে জনপ্রিয় নেতা হয়ে উঠলেন হিটলার।

১৯৩৩ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোট পেলেন কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেন না। পার্লামেন্টের ৬৪৭টির মধ্যে তার দলের আসন ছিল ২৮৮। বুঝতে পারলেন ক্ষমতা অর্জন করতে গেলে অন্য পথ ধরে অগ্রসর হতে হবে।কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠ না হওয়ায় হিটলার পার্লামেন্ট ভেঙে দিলেন। এবার ক্ষমতা দখলের জন্য শুরু হলো তার ঘৃণ্য রাজনৈতিক চক্রান্ত। বিরোধীদেরঅনেকেই খুন হলেন। অনেকে মিথ্যা অভিযোগে জেলে গেল।বিরোধী দলের মধ্যে নিজের দলের লোক প্রবেশ করিয়ে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করলেন। অল্পদিনের মধ্যেই বিরোধী পক্ষকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে হিটলার হয়ে উঠলেন শুধু নাৎসি দলের নয়, সমস্ত জার্মানির ভাগ্যবিধাতা।হিটলারের এই উত্থানের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল ইহুদিদের বিরুদ্ধে তার প্রচার। তিনিই জার্মানদের মধ্যে ইহুদি বিদ্বেষের বীজকে রোপণ করেছিলেন। দেশ থেকে ইহুদি বিতাড়নই ছিল তার নাৎসি বাহিনীর প্রধান উদ্দেশ্য।দেশের প্রান্তে প্রান্তে ইহুদি বিদ্বেষ মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। শুরু হলো তাদের ওপর লুটতরাজ, হত্যা। হিটলার চেয়েছিলেন এভাবে ইহুদিদের দেশ থেকে বিতাড়নকরবেন। কিন্তু কোনো মানুষই সহজে নিজের আশ্রয়স্থল ত্যাগ করতে চায় না।

১৯৩৫ সালে নতুন আইন চালু করলেন হিটলার। তাতে দেশের নাগরিকদের দুটি ভাগে ভাগ করা হলো, জেন্টিল আর জু। জেন্টিল অর্থাৎ জার্মান, তারাই খাঁটি আর্য, জু হলো ইহুদিরা। তারা শুধুমাত্র জার্মান দেশের বসবাসকারী, এদেশের নাগরিক নয়। প্রয়োজনে তাদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। দেশজুড়ে জার্মানদের মধ্যে গড়েতোলা হলো তীব্র ইহুদি বিদ্বেষী মনোভাব।প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর ইউরোপের মিত্রপক্ষ ও জার্মানদের মধ্যে যে ভার্সাই চুক্তি হয়েছিল তাতে প্রকৃতপক্ষে জার্মানির সমস্ত ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়েছিল। ১৯৩৩ সালে হিটলার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জার্মানির হৃৎ গৌরব পুনরুদ্ধার করার সংকল্প গ্রহণ করেন এবং তিনি একে একে ভার্সাই চুক্তির শর্তগুলো মানতে অস্বীকার করেনিজের শক্তি ক্ষমতা বিস্তারে মনোযোগী হয়ে ওঠেন।১৯৩৪ সালে হিটলার রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে নিজেকে জার্মানির ফুয়েরার হিসেবে ঘোষণা করেন এবং অল্পদিনের মধ্যে নিজেকে দেশের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলেন। তার এই সাফল্যের মূলে ছিল জনগণকে উদ্দীপিত করার ক্ষমতা। তিনি দেশের প্রান্তে প্রান্তে ঘুরে ঘুরে জনগণের কাছে বলতেন ভয়াবহ বেকারত্বের কথা, দারিদ্র্যের কথা, নানা অভাব-অভিযোগের কথা।হিটলার তার সমস্ত ক্ষমতা নিয়োগ করলেন দেশের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে। তার সহযোগী হলেন কয়েকজন সুদক্ষ সেনানায়ক এবং প্রচারবিদ। দেশের বিভিন্ন সীমান্ত প্রদেশে বিশাল সৈন্য সমাবেশ করলেন ।
কিছুদিনের মধ্যেই সন্ধির চুক্তি ভঙ্গ করে রাইনল্যান্ড অধিকার করলেন। অস্ট্রিয়া ও ইতালি ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ হলো জার্মানির সাথে।ইতালির সর্বাধিনায়ক ছিলেন মুসোলিনি। একদিকে ইতালির ফ্যাসিবাদী শক্তি অন্যদিকে নাৎসি জার্মানি। বিশ্বজয়ের আকাঙ্ক্ষায় উন্মত্ত হয়ে ওঠে ইতালি। প্রথমে আলবেনিয়া ও পরে ইথিওপিয়ার বেশ কিছুঅংশ দখল করে নেয়।অবশেষে হিটলার পোল্যান্ডের কাছে ডানজিগ ও পোলিশ করিডর দাবি করলেন। যাতে এই অঞ্চলে সৈন্য সমাবেশ ঘটাতে পারেন।

ছবি সংগ্রহ – vimy foundation

পোল্যান্ডের সরকার তার এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলেন। পোল্যান্ডের ধারণা ছিল হিটলার তার দেশ আক্রমণ করলে ইউরোপের অন্য সব শক্তি তার সাহায্যে এগিয়ে আসবে। তাদের সম্মিলিত শক্তির সামনে জার্মান বাহিনী পরাজিত হবে। দ্বিতীয়বিশ্বযুদ্ধের একটি বড় কারণ জার্মানির সামরিক শক্তি সম্বন্ধে ইউরোপের অন্য সব দেশের সঠিক ধারণার অভাব। আর একটি বড় কারণ ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স প্রথম পর্যায়ে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হিটলার ও মুসোলিনির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণকরতে চায়নি। তাছাড়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চেম্বারলিনের ধারণা ছিল হিটলারের ক্ষমতা শুধুমাত্র প্রচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাছাড়া সেই সময় ইউরোপের বিভিন্ন রাষ্ট্রের কাছে জার্মানির চেয়ে বড় শত্রু ছিল কমিউনিস্ট রাশিয়া। তাদের উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়ার প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে জার্মানরা নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে। তাইযখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমস্ত শর্ত ভঙ্গ করে জার্মানরা নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছিল তখন ইংল্যান্ড, ফ্রান্স কেউ তাদের বাধা দেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। উপরন্তু হিটলারকে নানা সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়েছিল।ইউরোপের বিভিন্ন দেশের এই সুবিধাবাদী নীতির সুযোগপুরোপুরি গ্রহণ করেছিলেন হিটলার। বিশ্বজয়ের স্বপ্নে মত্ত হয়ে ১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ সালে জার্মানবাহিনী পোল্যান্ড আক্রমণ করল এবং এই দিনটি থেকেই শুরু হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।মাত্র পনেরো দিনে জার্মান বাহিনী পোল্যান্ডের সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে পোল্যান্ড অধিকার করল। তারপর শুরু হলো জার্মান বাহিনীর অগ্রগমন। পোল্যান্ডের পর হিটলার দখল করলেন নরওয়ে ও ডেনমার্ক। নরওয়েতে বিরাট সংখ্যক ব্রিটিশ সৈন্য অবস্থান করছিল। তাদের অধিকাংশই নিহত হলো। এই ঘটনায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চেম্বারলিন পদত্যাগকরলেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন চার্চিল।এবার হিটলার দৃষ্টি ফেরাল ফ্রান্সের দিকে। ফ্রান্স ইউরোপের সর্বপ্রধান শক্তি। ফ্রান্স নিজেদের সুরক্ষার জন্য জার্মান সীমান্তে দুর্ভেদ্য ব্যূহ সৃষ্টি করেছিল। যাকে বলা হতো ম্যাজিনো। বেলজিয়াম আক্রমণ করে সেই দেশের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের সীমান্ত প্রদেশে গিয়ে উপস্থিত হলো। সোঁদায় তুমুল যুদ্ধের পর ফরাসি বাহিনী পরাজিত হলো।ফরাসিদের এই বিপর্যয়ের সুবিধা নেয়ার জন্য ইতালি নিজেকে জার্মানদের মিত্রপক্ষ হিসেবে ঘোষণা করে যুদ্ধে যোগ দিল। সমস্ত ইউরোপ-আফ্রিকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ আগুন।ইতালির রাষ্ট্রপ্রধান মুসোলিনি উত্তর আফ্রিকা অধিকার করার জন্য বিরাট সৈন্যদল পাঠালেন। অন্যদিকে হিটলার ফ্রান্স অধিকার করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করলেন। হিটলার অনুগত ফ্যাসিস্ট শক্তি নতুন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মার্শাল পেত্যাকে নিযুক্ত করল। মার্শাল বিনাযুদ্ধেই হিটলারের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন।ফ্রান্স জয়ের পর জার্মানি যুগোস্লাভিয়া আর গ্রিস দেশ অধিকার করল।

চট্টগ্রাম শিপ ইয়ার্ড ব্রেকিং কি সচল হবে ?

Now Reading
চট্টগ্রাম শিপ ইয়ার্ড ব্রেকিং কি সচল হবে ?

জাহাজ ভাঙ্গা মানে হচ্ছে পরিত্যক্ত জাহাজ কে কিনে ফুল স্পীডে ইন্জিন চালিয়ে মাটির উপরে তোলা হয় এবং তারপর কেটে বিভিন্ন স্টীলের মিলে নিয়ে নতুন লোহা উৎপাদন করে| বাংলাদেশে এই রকম ১২০ টির মতো শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড আছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি তে । এইসব শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড কন্টেইনার জাহাজ, ট্যাংকার, কার্গো জাহাজ, পেসেঞ্জার জাহাজ কাটা হয় এবং যা বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ লোহার চাহিদা পূর্ণ করে । কেউ যদি চায় তাহলে lifejacket, আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস , বা বিভিন্ন Antiques কিনতে পারবেন ভাটিয়ারি থেকে । অবিশ্বাস্য চোখে দেখবেন কিভাবে ১০০-৩০০ মিটারের জাহাজ মাটির উপরে তুলে এবং জাহাজ কাটার দৃশ্য , মাথা উচু করে তাকিয়ে দেখতে হবে ।

চট্টগ্রাম জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প এর উৎপত্তি

চট্টগ্রাম জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প , চট্টগ্রামের উত্তর-পশ্চিমে ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) ১৮ কিমি (১১ মাইল) সীতাকুন্ড উপকূলীয় ফালা বরাবর ফৌজদারহাট, সীতাকুন্ড উপজেলায় অবস্থিত। বিশ্বব্যাপী মোট পঞ্চমাংশের পরিচালনায় একশ টির অধিক ইয়ার্ড, দুই লক্ষেরও বেশি লোকের কর্মসংস্থান । এটা পৃথিবীর বৃহত্তম জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বিএসবিএ-র দাবি, সীতাকুন্ডুর জাহাজ ভাঙ্গার এসব ওয়ার্কশপই বিশ্বে খোলা আকাশের নিচে ওয়ার্কশপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ।

চট্টগ্রাম শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড নিয়ে একটি ইতিহাস রয়েছে। ১৯৬০ সালে, একটি গুরুতর ঘূর্ণিঝড়ের পরে, গ্রিক জাহাজ এম ডি অ্যালপাইন নামের চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের তীরে বিধ্বস্ত হয়েছিল। এটি পুনরায় চালু করা যায়নি এবং তাই বহু বছর ধরে সেখানে ছিল। ১৯৬৫ সালে চট্টগ্রাম স্টিল হাউস জাহাজটি কিনে নেয় এবং এটি ভেঙ্গে দেয়। জাহাজটি কেটে ফেলতে বছর লেগেছিল, কিন্তু কাজটি বাংলাদেশের শিল্পকে জন্ম দেয়।

বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি জাহাজ আল আব্বাস বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে রাশিয়ান একটি দল জাহাজটি দলের মাদ্ধমে উদ্ধার করা হয়, রাশিয়ান দলটি তখন চট্টগ্রাম বন্দরে কাজ করছিল এবং জাহাজটি ফৌজদারহাট সমুদ্রবন্দরে আনা হয়েছিল। একটি স্থানীয় সংস্থা, কারনায়েজ মেটাল ওয়ার্কস লিমিটেড এটি ১৯৭৪ সালে স্ক্র্যাপ হিসাবে কিনেছিল এবং বাণিজ্যিক জাহাজ ভাঙ্গা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে ।

১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি শিল্পটি ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং ১৯৯০ এর দশকের মাঝামাঝি আমাদের দেশটি টনেজের দ্বারা বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করে। ২০০৮ সালে, এ অঞ্চলে ২৬ টি জাহাজ ভাঙা গজ ছিল, এবং ২০০৯ সালে ৪০ টি ছিল। ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত, এই অঞ্চলটি বিশ্বের বৃহত্তম জাহাজ ভাঙা গজ ছিল। তবে, ২০১২ সালের মধ্যে এটি বিশ্বব্যাপী জাহাজ ভাঙনের অর্ধেক থেকে পঞ্চমাংশে নেমে আসে ।

এক পর্যায়ে চট্টগ্রাম শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড শিল্পটি একটি পর্যটক আকর্ষণ হয়ে যায় , চট্টগ্রাম শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিগত বছর গুলোতে সকল স্তরের বিভিন্ দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছে এক হাজার তিনশত জনেরও বেশী । আবার অনেকেই অক্ষম ও পঙ্গু হয়ে গেছে সারা জীবনের জন্য । লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা নেওয়ার পরও বি এস বি ও প্রতিশ্রুত শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল এখনও চালু হয়নি । বর্তমানে এই শিল্প পুরনো যন্ত্রপাতি , নানা রকম মূল্যবান সামগ্রী ও প্রক্রিয়াজাতকরনের জন্য লক্ষ লক্ষ টন লোহা সরবরাহ করছে । দেশের লোহার চাহিদার ৮০ শতাংশই জোগান দিচ্ছে এই জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প , যা দেশের নির্মাণ শিল্পে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান । কিন্তু জাহাজ ভাঙ্গার মত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হাজার হাজার শ্রমিকের আর্থিক ও স্বাস্থ্য তো বটেই জীবনের নিরাপত্তার জন্য কার্যকর নিশ্চয়তা নেই শিল্প মালিকদের ।এই শিল্পে কাজ করার বেশিরবভাগ শ্রমিকই আসছে বরিশাল , কুমিল্লা , চাঁদপুর , ময়মনসিং , বগুরা ও নোয়াখালি সহ বিভিন্ন দারিদ্রপীড়িত অঞ্চল থেকে । যাদের নেই কোন প্রশিক্ষন এবং শ্রমিক হিসেবে সম্পূর্ণ অদক্ষ ।

ছবি সূত্র ঃ theVintagenews.com

আর তাই বহিরাগতরা এর দুর্বল নিরাপত্তা রেকর্ডের কারণে আর স্বাগত জানায় না , স্থানীয় পাহারাদার দল দাবি করে যে সপ্তাহে একজন করে কর্মী গড় হারে মারা যায়।শ্রমিকদের কোনো সুরক্ষা সরঞ্জাম বা আর্থিক নিরাপত্তা নেই। আভাবেই অসচল হয়ে গেছে চট্টগ্রাম জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প ।

শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি

জাহাজ ভাঙ্গার কর্মকাণ্ডটি প্রথম থেকেই অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠেছে । উন্নত বিশ্বে যেখানে পরিবেশ বান্ধব উপায়ে জাহাজ ভাঙ্গা হয় সেখানে আমাদের জাহাজ ভাঙ্গা হয় সনাতন বা বিচিং পদ্ধতিতে । এই পর্যায়ে জোয়ারের সময় জাহাজের সাথে মিশে থাকা দুষিত পদার্থ সহজেই সমুদ্রের পানিতে মিশে যাচ্ছে । এতে করে সামুদ্রিক মাছ সহ ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের ।

বিবেচনার বিষয় সমূহ

শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড শিল্পের মাদ্ধমে যদিও দেশের প্রচুর রাজস্ব আসছে কিন্তু এর ক্ষতিকর দিকও বিবেচনাই আনা খুব দরকার । সনাতন পদ্ধতিতে অদক্ষ শ্রমিক দিয়ে জাহাজ কাটার ফলে দুর্ঘটনা ঘটে একদিকে শ্রমিক মারা যাচ্ছে আবার অন্যদিকে পরিবেশ মারাত্মক ভাবে দুষিত হচ্ছে । এসব সমাধানের লক্ষে দেশের শিল্পে শ্রমিকের প্রশিক্ষন এবং পরিবেশ দুষণ দূর করতে সরকারের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন । এসব পদক্ষেপ এর মাদ্ধমেই সচল হতে পারে চট্টগ্রাম জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প ।

যেইভাবে তৈরি করা হচ্ছে কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল

Now Reading
যেইভাবে তৈরি করা হচ্ছে কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে চলছে টানেল নির্মাণের কাজ, নির্মাণ হলে বদলে যাবে চট্টগ্রাম বদলে যাবে বাংলাদেশ ।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য

বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। কর্ণফুলী নদী চট্টগ্রাম শহরকে দুইভাগে বিভক্ত করেছে। এক ভাগে রয়েছে নগর ও বন্দর এবং অপর ভাগে রয়েছে ভারী শিল্প এলাকা। কর্ণফুলী নদীর উপর ইতোমধ্যে ৩ (তিন) টি সেতু নির্মিত হয়েছে, যা বিরাজমান প্রচুর পরিমাণ যানবাহনের জন্য যথেষ্ট নয়। নদীর মরফলজিক্যাল বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীর তলদেশে পলি জমা একটি বড় সমস্যা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যকারীতার জন্য বড় হুমকি। এই পলি জমা সমস্যার মোকাবেলা করার জন্য কর্ণফুলী নদীর উপর আর কোন সেতু নির্মাণ না করে এর তলদেশে টানেল নির্মাণ করা প্রয়োজন। এ জন্য সরকার চট্টগ্রাম জেলার দুই অংশকে সংযুক্ত করার জন্য কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
চট্টগ্রাম হলো বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর এবং বৃহত্তম বাণিজ্যিক নগরী। কর্ণফুলী নদীর মুখে অবস্থিত চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমেই অধিকাংশ দেশের আমদানি এবং রপ্তানি কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। প্রস্তাবিত টানেল চট্টগ্রাম বন্দর নগরকে কর্ণফুলী নদীর অপর অংশের সাথে সরাসরি সংযুক্ত করবে এবং পরোক্ষভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মাধ্যমে সারা দেশের সাথে সংযুক্ত করবে। প্রস্তাবিত টানেল সাইটে নদীর প্রস্থ ৭০০.০০ মিটার এবং পানির গভীরতা ৯-১১ মিটার। প্রস্তাবিত টানেলের দৈর্ঘ্য ৩৪০০ মিটার।

কর্ণফুলী নদীর নেভাল একাডেমী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত দৈর্ঘ্য ৩.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ, ১০ মিটার প্রশস্ত নদী টানেল । এই দৈর্ঘ্যটুকুকে এখন চট্টগ্রামবাসীর স্বপ্নের সমান বলা যায় । এখানেই নদীর তলাদেশ ১৮ থেকে ৩১ মিটার গভীর দিয়ে চলবে সারি সারি গাড়ি ।

কিভাবে প্রকল্পের শুরু

চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠের এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রথম টানেল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ২০০৮ সালে। বাংলাদেশের জন্য ‘প্রায় অসম্ভব’ মনে করে বিষয়টিকে ‘শুধুই জনসভার প্রতিশ্রুতি’ হিসেবে ভেবেছে সাধারণ মানুষ। ২00৯ সালেই সরকার ৮,৪৪৬ কোটি টাকার আনুমানিক ব্যয় অনুসারে প্রস্তাবিত ৩.৪ কি.মি টানেল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। । সম্ভাব্যতা যাচাই এবং সমীক্ষার কাজ চললেও প্রতিশ্রুতি নিয়ে শঙ্কা দূর হয়নি চট্টগ্রামবাসীর। তবে ২০১৬ সালের অক্টোবরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলে হাসি ফোটে সবার মুখে। দূর হয় সব কানা ঘষা। প্রকল্পটি বেল্ট ওয়ান রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ।এরপর জমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণকাজে অর্থছাড় করাতে যতটুকু সময় লাগে, ততটুকুই। এর পরই শুরু হয় নির্মাণকাজ।

এশিয়া মহাদেশের প্রথম টানেল সড়ক

ভারতে সড়ক যোগাযোগে স্থলভাগে টানেল থাকলেও নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণে সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম। বাংলাদেশের জন্য খুব গর্বের বিষয় ।

টানেল নির্মাণের আনুমানিক ব্যয়

২0১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট জিসিনপিং প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বলেছিলেন , চীন কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশনস কোম্পানিগুলি বেশিরভাগ নির্মাণ কাজ করবে ।
চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের অক্টোবরে ঢাকায় কর্ণফুলি টানেল প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলো।
চীনের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার ঘোষণা দেন, তবে তহবিল বিলম্বের জন্য প্রকল্পটি দ্বিধাগ্রস্ত ছিল । স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জটিলতা দূর করার জন্য একটি মারাত্মক প্রচেষ্টা করে ।
ইআরডি সূত্র জানায়, বাংলাদেশকে প্রতিশ্রুত ঋণের ০.২৫ শতাংশ বা ১,৪০২,৩৯০ ডলার অর্থ প্রদানের জন্য পরিচালন ফি প্রদান করা হয়।
চীন দুই ধরনের লোন প্রদান করে থাকে, ঋণের উভয় ধরনের কিছু পরিচালনার খরচ আছে এবং চীন এক্সিম ব্যাংক সুদের হার ব্যতীত পরিচালনা ফি ধার্য করে এবং ফান্ড রিলিজের আগে ফি দিতে হবে।
২00৯ সালে সরকার ৮,৪৪৬ কোটি টাকার আনুমানিক ব্যয় অনুসারে প্রস্তাবিত ৩.৪ কি.মি টানেল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।
ঋণ চুক্তির মতে, চীনা সরকার জি 2 জি ভিত্তিতে এই প্রকল্পের জন্য ৭০৫ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৫,৫০০ কোটি টাকা ঋণ দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, বাকি টাকা সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেবে।

টানেল দেখতে কেমন হবে ?

নকশা অনুযায়ী দৈর্ঘ্য হবে তিন কিলোমিটারের চেয়ে সামান্য বেশি। চট্টগ্রাম নগরীর নেভাল একাডেমি পয়েন্ট দিয়ে তলদেশে থেকে ঢুকে তা বের হবে ওপারে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কম্পানি (কাফকো) এবং চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) মাঝামাঝি স্থান দিয়ে। নদীর তলদেশে এর গভীরতা হবে ১৮ থেকে ৩১ মিটার। মোট দুটি টিউব নির্মিত হবে। এর একটি দিয়ে গাড়ি শহরপ্রান্ত থেকে প্রবেশ করবে, আরেকটি টিউব দিয়ে ওপার থেকে শহরের দিকে আসবে। টানেলের প্রতিটি টিউব চওড়ায় হবে ৩৫ ফুট এবং উচ্চতায় হবে প্রায় ১৬ ফুট। একটি টিউবে বসানো হবে দুটি স্কেল। এর ওপর দিয়ে দুই লেনে গাড়ি চলাচল করবে। পাশে হবে একটি সার্ভিস টিউব। মাঝে ফাঁকা থাকবে ১১ মিটার। যেকোনো বড় যানবাহন দ্রুত স্বাচ্ছন্দে চলতে পারবে এই টানেল দিয়ে।

টানেল বাস্তবায়নে দেশের লাভ কি কি হবে ?

টানেল নির্মাণকে কেন্দ্র করে কর্ণফুলী নদীর ওপারে বিনিয়োগ শুরু করেছে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো। বর্তমানে কর্ণফুলী নদীর ওপারে আংশিক চালু রয়েছে কোরিয়ান ইপিজেড। পাশাপাশি বিচ্ছিন্নভাবে কিছু শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে।
টানেল নির্মাণের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সরকার আনোয়ারায় একটি ইকোনমিক জোন স্থাপন করছে। পাশাপাশি চীনের বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ‘চায়না ইকোনমিক জোন’ বাস্তবায়িত হচ্ছে।প্রকল্প এলাকার সাংসদ এম এ লতিফ বলেন, ‘দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু বিনিয়োগ ধরে রাখার মতো জমি এখন আর চট্টগ্রাম শহরে নেই। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্ণফুলী নদীর ওপারকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের হার বৃদ্ধি করতে টানেলটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’এইটাকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল হবে সেখানে। আর এশিয়ান হাইওয়ে ও নতুন সিল্ক রুটে প্রবেশ করবে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম হয়ে উঠবে অর্থনৈতিক করিডর ।
কর্ণফুলী নদী টানেল প্রকল্পটির বিশাল অগ্রগতি দেখায় চীনের এক্সিম ব্যাংক তার তহবিলগুলির প্রথম কিস্তি প্রদান করে, মেগা স্কিমের সমস্যা দূর করে দেয়।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্র্যাফিক সংকোচন সহজতর করার জন্য পরিকল্পিত অর্থের প্রথম তহবিল হিসেবে চীন এক্সিম ব্যাংক সম্প্রতি ১৩৭.৬ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে।
চীনা ঋণ সংস্থার সাথে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরও প্রকল্পটিকে শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের পরিমাণ না পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি অর্থায়ন সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়েছিল।
“ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আজম মন্তব্য করেন “প্রকল্পের দীর্ঘদিনের জটিলতার মুখোমুখি হয়েছিল কারণ ফান্ডটি মুক্তি পাচ্ছে না। কিন্তু এখন ইসিডি’র চীনের এক্সিম ব্যাংকের সাথে সফল আলোচনার পর সমস্যাটি চলে গেছে,
তিনি আরও বলেন, “আমরা আশা করি প্রকল্প বাস্তবায়নে এখন কোন সমস্যা হবে না এবং প্রকল্পটির কাজটি আরও বাড়বে”।

কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের নির্মাণ কাজ ২৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শনিবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেছেন ।
২0১৫ সালের নভেম্বরের প্রকল্পটি ২0২২ সালের জুনে শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে ।

জলবায়ু পরিবর্তনে প্রভাব পরবে দেশের ১৬ কোটি মানুষের

Now Reading
জলবায়ু পরিবর্তনে প্রভাব পরবে দেশের ১৬ কোটি মানুষের

বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন দেশের মধ্যে অন্যতম দুর্বল একটি দেশ বাংলাদেশ, যার প্রাকৃতিক ভূমিকম্পের কারণে অত্যন্ত ভয়াবহ, যার ভৌগোলিক অবস্থান নিচু ভূমি, জনসংখ্যার ঘনত্ব, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা ইত্যাদি ইনস্টিটিউশনাল সেটআপের অভাব।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাব – বিশেষত উচ্চ তাপমাত্রা, সমুদ্র স্তরের উত্থান, সাইক্লোন এবং ঝড়ের সার্জ, লবণাক্ত অনুপ্রবেশ, ভারী মৌসুমি অববাহিকা ইত্যাদি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বিকাশের দৃশ্যটিকে ঝুঁকির দিকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাবের কারণে বাংলাদেশ প্রায় প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা ভোগ করে, এইগুলির মধ্যে অন্যতম চরম তাপমাত্রা এবং খরা (দেশের উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে চরম তাপমাত্রা সমস্যার কারণে বেশী ভুগছে)।

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ, সবচেয়ে বেশী পানির ব্যবহার হয় কৃষি ক্ষেত্রে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ধানের গঠন এবং ফেনোলজি, মাটির পানি ভারসাম্য, বায়ু চলাচল এবং প্রয়োজনের কম বৃষ্টিপাতের পরিবর্তে ধানের সেচের পানি চাহিদা প্রভাবিত করবে। কৃষি খাতে পানির চাহিদা অনুযায়ী বৃষ্টিপাত পরিবর্তিত কৃষি জলের চাহিদা দীর্ঘমেয়াদী পানি সম্পদ উন্নয়ন বৃদ্ধি করা পরিকল্পনা অপরিহার্য।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে,
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গে উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশের শুষ্ক মৌসুমের বোরো ধান ক্ষেতের সেচ জলের চাহিদা পরিবর্তনের অনুমান করার জন্য একটি গবেষণা গৃহীত হয়েছে। গবেষণাটি দেখায় যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মোট সেচের পানি প্রয়োজনের কোনও পরিবর্তন হবে না। তবে, সেচের জন্য প্রতিদিন পানি ব্যবহারে বৃদ্ধি পাবে। উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশের ভূগর্ভস্থ পানি সেচের প্রধান উৎস , শুষ্ক মৌসুমে প্রতিদিনের পাম্পিংয়ের হার ভূগর্ভস্থ অঞ্চলে পানিসল্পতার পরিস্থিতি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র কৃষি । বাংলাদেশের ১৪৫ কোটি মানুষের মধ্যে ৮৪% সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কৃষি কার্যক্রমে জড়িত । খাদ্য ও কৃষি সংস্থা তথ্য অনুযায়ী কৃষি ফসল সেক্টরের মধ্যে প্রধান খাত হল চাল । চাল গড় ৭১% ভাগের উপর প্রভাব ফেলে । সবচেয়ে বেশী ফলন হয় (এইচওয়াইভি) বোরো চাল । বাংলাদেশে মোট চাল সরবরাহের সর্বোচ্চ অবদানকারী ২৭.৮৩ মিলিয়ন ।
২০০৭-৮ অর্থবছরের মোট উৎপাদনের ১৬.৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন ছিল বোরো ধান বা চাল। শুষ্ক মৌসুমে (জানুয়ারি থেকে মে) বোরো ধান চাষ করা হয় ।
সেচ প্রকল্প বিভাগ জানান উত্তরের পাশাপাশি অন্যান্য অংশে প্রধান চাষযোগ্য ফসল সেচ যন্ত্রপাতি দ্রুত বৃদ্ধি করতে হবে ।
২0২0 সালের মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য ৪.৫ মিলিয়ন টন বেশি চালের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে । এই বর্ধিত উৎপাদন অংশটি সেচ সম্প্রসারণ ভিত্তিক বোরো ধান চাষ থেকে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে ।

 

বাংলাদেশে বৈশ্বিক জলবায়ু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে জলবায়ু পরিবর্তনে । জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রায় স্থায়ী বৃদ্ধি পাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশের বৃষ্টিপাতের প্যাটার্নে পরিবর্তন উচ্চ তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে অধিক পরিমাণে পানীয় সেচ চাহিদা বৃদ্ধি পাবে । একই সময়ে উচ্চ তাপমাত্রা ফসলের গঠন পরিবর্তন করবে । এবং ফসল বৃদ্ধির পরিমাণ হ্রাস করা হবে কিনা, এই দ্বন্দ্বপূর্ণ ঘটনার মোট পরিবর্তন হবে পানির সেচ চাহিদার পরিমাণ অনুযায়ী জল সম্পদ পরিকল্পনা এবং ব্যবস্থাপনা কে দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপের উপর।

বর্তমান গবেষণার লক্ষ্য হচ্ছে শুষ্ক মৌসুমে উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশের পানি সেচের চাহিদার পরিবর্তনের মূল্যায়ন বৃদ্ধি করা বোরো চালের উৎপাদন এর জন্য নতুনত্ব সম্ভাব্য উপায় গুলো নিশ্চিত করা ।

ট্রাফিক আইন মেনে চলতে বাংলাদেশের যানবাহন চালকদের যেভাবে বাধ্য করা যেতে পারে

Now Reading
ট্রাফিক আইন মেনে চলতে বাংলাদেশের যানবাহন চালকদের যেভাবে বাধ্য করা যেতে পারে

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর থেকে আশা করেছিলাম বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে আর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা একটু ভাল হবে। সবচেয়ে বেশী আশা করেছিলাম হয়তো চালকদের কমনসেন্স আসবে। কিন্তু ব্যয়গত কিছুদিনের সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র দেখে মনে হচ্ছে আসলে কাজের কাজ কিছুই হয় নি। যদি চালকরা আসলে সচেতন না হয় তাহলে কিছুই করার নেই এই ব্যাপারে। তো কিভাবে বাধ্য করা যায় বাংলাদেশের গাড়ি চালকদের নিরাপদে গাড়ি চালানোর জন্য?

বিভিন্ন উন্নত দেশে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে বাধ্য করার জন্য নানা ধরনের আইনকানুন প্রয়োগ করা হয়। যেমন অস্ট্রেলিয়া এবং আর অনেক দেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স করা হয় পয়েন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে। যেদিন একজন নাগরিক তার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রথমবারের মত পাবে, সেদিন থেকে তার লাইসেন্সে থাকবে ১২ পয়েন্ট। কোন ধরনের ট্রাফিল আইন অমান্য করলে তার অপরাধের ভিত্তিতে সেই পয়েন্ট কমতে থাকবে আর সেই সাথে অর্থ জরিমানা – তাও অংকটা কম না। যেমন, কেউ যদি সিগন্যাল অমান্য করে তাহ্লেল লাইসেন্সে ৩ পয়েন্ট কাটা যাবে। কেউ যদি ঘণ্টায় ৬০ কিমি এর জায়গায় ৭০ কিমি গড়িতে গাড়ি চালায় তাহলে ১ থেকে ৩ পয়েন্ট অথবা আরও বেশী গতিতে চালালে আর বেশী পয়েন্ট। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালালে জেল-জরিমানা এবং লাইসেন্স সাসপেন্ড। যদি কারো লাইসেন্সের সমস্ত পয়েন্ট শেষ হয়ে যায় তাহলে উক্ত নাগরিকের লাইসেন্স ৬ মাস্যার জন্য সাসপেন্ড হয়ে যাবে এবং তিনি আর গাড়ি চালাতে পারবে না। এই পয়েন্ট সিস্টেমটি খুব কার্যকরী এসমস্ত দেশে কারন এসব দেশে সাধারণত নাগরিকরা নিজেদের গাড়ি নিজেরাই চালায় আর সবখানেই ট্রাফিক ক্যামেরা, স্পিড ক্যামেরা এবং রেড-লাইট ক্যামেরা থাকে। সহজেই ধরা খেয়ে যায় যদি কেউ নিয়ন ভাঙ্গে। কিন্তু আমাদের দেশে কি এই ধরনের কিছু কাজ করবে?

বাংলাদেশে বেশীরভাগ গাড়ির মালিকের ড্রাইভার থাকে, নিজেরা তেমন একটা গাড়ি চালায় না। আর ড্রাইভার হয় এক এক বার এক এক জন। আর বাংলাদেশে এমন কোন ডাটাবেজ নেই যেখানে দেখা যাবে কোন গাড়ি কোন ড্রাইভার চালাচ্ছে। সেক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার মত এধরনের পয়েন্সট সিস্টেম কিভাবে বাংলাদেশে আনা যায়? একটা কাজ করা যেতে পারে সেটি হল, বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স পয়েন্ট সিস্টেম না করে প্রথম অবস্থায় যদি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বা রোড পার্মিটকে পয়েন্ট সিস্টেমের আওতায় আনা যায়। অর্থাৎ গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের সময় যে রোড পারমিট দেয়া হয়, সেখানে থাকবে পয়েন্ট । এবং কোন গাড়ি ট্রাফিক আইন অমান্য করতে থাকলে তার অফেন্সের ভিত্তিতে সেই গাড়ির রোড পারমিট থেকে পয়েন্ট কাটা যেতে থাকবে। সেটি গাড়ির ফিটনেস থেকে শুরু করে নানা ধরনের ট্রাফিক আইনের লঙ্ঘন করা – সব ক্ষেত্রেই পয়েন্ট কাটা যেতে পারে। পয়েন্ট কাটা যাওয়ার সাথে সাথে বড় অংকের অর্থ জরিমানা করা যেতে পারে। এক সময় যখন সমস্ত পয়েন্ট শেষ হয়ে যাবে, তখন সেই গাড়িটি ৩ বা ৬ মাসের জন্য তার রোড পারমিট হারাবে এবং রাস্তায় সেই গাড়ি আর নামতে পারবে না। ডিজিটাল নামারপ্লেট থাকার কারণে সহজেই গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নাম্বারের সাথে রোড পারমিট বাতিলের তথ্য জুড়ে দেয়া যেতে পারে। এমনকি, চাইলে ৬ মাসের রেজিস্ট্রেশন প্লেটটি প্রশাসন নিয়ে ফেলতে পারে অথবা গাড়ির কোন জায়গায় একটি সিল দেয়া যেতে পারে যাতে টাফিক পুলিশ সহজেই বুঝতে পারে এই গাড়িটির কোন রোডপারমিট নেই।

এধরনের গাড়ি ভিত্তিক নিয়ম চালু করলে গাড়ির মালিকরা আর বেশী সাবধান এবং সচেতন হবেন। এবং তাদের চালকদের নিয়ন্ত্রক করার চেষ্টা করবেন আর জোরালো ভাবে। পর্যায়ক্রমে দেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সেও অনুরূপ পয়েন্ট সিস্টেম করা যেতে পারে।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় কত মানুষ জোশে এসে কত বড় বড় কথা বলছিউ – বিশেষ করে তথাকথিত ফেসবুক সেলিব্রিটিরা। কিন্তু যখন আন্দোলন থেমে যায়, তাদেরও আসলে মুঝটা বন্ধ হয়ে যায়, গুজব নিয়ে পড়ে থাকে। বাস্তবিক অর্থে অর্থপূর্ন কোন ইনপুট আসলে পাওয়া যায়নি কারো কাছ থেকে। যারা আন্দোলন করেছে তাদের আন্দোলন ফিকে হয়ে যায় নানা রকমের সরকার বিরোধী গুজব-চক্রান্তের কারণে। আন্দোলনটা মুখ্য না, কোন সমস্যার সমাধান পাওয়াটা মুখ্য। আমরা সবসময় আন্দোলন করেই থেমে যাই, কিন্তু আসল সমস্যার সমাধান নিয়ে আমাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। আন্দোলন করার চাইতে সরকারকে কনস্ট্রাকটিভ আইডিয়া গুলো যদি দেয়া যেতে পারে, কেউ না কেউ তো শুনবে তাই না?

আমি বাংলাদেশে এধরনের পয়েন্ট সিস্টেম ট্রাফিক আইন সমর্থন করি এবং আমার মতে এতে করে ট্রাইফ ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হবে একই সাথে সড়ক দুর্ঘটনাও অন্তন্ত কিছুটা হলেও কমবে। বাংলাদেশের চালকরা আইনকে সম্মান করে না, তাই তার আইন অমান্য করে ডাল-ভাতের মত। কিন্তু তাদের যদি আইন মানতে বাধ্য করা হয়, তাহলে অনেক সমস্যারই দ্রুত সমাধান হবে।

যে কারণে চট্টগ্রাম হালিশহর এলাকায় জণ্ডিসের প্রকোপ! (অনুসন্ধান)

Now Reading
যে কারণে চট্টগ্রাম হালিশহর এলাকায় জণ্ডিসের প্রকোপ! (অনুসন্ধান)

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুসারে প্রত্যেক বছর পৃথিবীতে প্রায় দশ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর কারণ হল দূষিত পানি। বাংলাদেশ ও এর আওতাভুক্ত আর এর বিভিন্ন জেলা দূষিত পানির দরুন সংক্রমিত হচ্ছে দিনদিন। নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় এখানে গ্রাম ও শহর উভয় জায়গায় পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যে কোন রোগ যা দূষিত পানির মাধ্যমে সংক্রমিত হয় বা ছড়িয়ে থাকে। মানুষ ও অন্যান্য জীবজন্তুর বিভিন্ন রোগের জন্য প্রধানত দায়ী রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব (ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস) এবং কয়েক রকমের পরজীবী। আর পানি বাহিত রোগের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জন্ডিস, ডায়রিয়া, কলেরা, আর্সেনিক, আমাশয়, টায়ফয়েড, পেটফাঁপা, বদহজম, কৃমি ইত্যাদি। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান দ্বিতীয় শহর চট্টগ্রাম হটাৎ করেই দূষিত পানির কবলে পড়ে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বন্দর নগরীর সমুদ্রের তীর ঘেঁষা অন্যতম এলাকা হালিশহর এখন পানিবাহিত রোগের সংক্রমণে জর্জরিত। ইতিমধ্যেই পানিবাহিত রোগ জন্ডিসে (হেপাটাইটিস-ই ভাইরাস) আক্রান্ত হয়ে কয়েকজনের মৃত্যুর অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। অন্যদিকে শতশত মানুষের অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যারা চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালসহ স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে জরুরী চিকিৎসা সেবা গ্রহণে ভিড় জমাচ্ছেন। ফলে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন তড়িৎ গতিতে কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে যার মধ্যে রয়েছে আক্রান্ত এলাকায় পানি বিশুদ্ধকরণে এক লাখ ৮৫ হাজার টেবলেট বিতরণ, ১০টি নির্দেশনা সম্বলিত জনসচেতনতামূলক ৫০ হাজার লিফলেট বিতরণ, এলাকা পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি।

 

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন এর বিতরনকৃত লিফলেট

অনুসন্ধানঃ গত মাসেই আমাদের অফিসের একজন এবং দারোয়ান মারাত্মক রকম অসুস্থ হয়ে পড়ে। ডাক্তারি পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানা গেল তারা পানিবাহিত রোগ জণ্ডিসে আক্রান্ত। বিষয়টি আমরা সাময়িক ব্যাধি হিসেবে খুব একটা আমলে নেইনি। এরই মধ্যে জয়েন করেছে নতুন ড্রাইভার আর সপ্তাহ দু-একের মাথায় তারও কঠিন জন্ডিস ধরা পড়েছে। এভাবে আশে পাশের পরিচিত আরো অনেকের খবর পাওয়া যাচ্ছে যারা জণ্ডিসে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিষয়টি এখন আর মামুলি মনে হলনা, গোটা এলাকাই এখন ঘোরতর বিপদে। এখানে বলে রাখা ভাল, যাদের অসুস্থ হওয়ার কথা উল্ল্যেখ করেছি তারা ওয়াসার পানি ফুটিয়ে পান করত, সরাসরি নয়। বেশ কয়েকদিন হালিশহরের বিভিন্ন আবাসিক ও অন্যান্য এলাকা পর্যবেক্ষণ করে একটা বিষয় পরিস্কার হয়েছে যে এলাকাটি নগরীর অন্যান্য অংশ হতে অনেকটা ডাউন লেভেলে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই এখানে হাঁটু সমান পানিতে নিমজ্জিত হয়, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ইদানীং এক্সেস রোড ও পোর্ট কানেক্টিং রোড সম্প্রসারন ও ড্রেনেজ সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, ফলে কিছু কিছু জায়গায় ওয়াসা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত পানি সরবরাহের নল ফেটে কিংবা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে বৃষ্টি হলেই সেই ফাটা/বিচ্ছিন্ন নল দিয়ে দীর্ঘদিনের জমে থাকা দূষিত পানি পৌঁছে যাচ্ছে অত্র এলাকার বাসাবাড়িতে। তাছাড়া এখানকার বেশিরভাগ নলকূপও পানিতে তলানো। এই এলাকায় ধনী ও মধ্যবিত্তের সাথে বাস করে নিম্ম আয়ের মানুষ যারা টিউব ওয়েল কিংবা টেপের পানি খেয়ে জীবন নির্বাহ করে। যেহেতু অত্র এলাকার সাধারণ জনগণ দিনের পর দিন নিজের অজান্তে দূষিত পানি সেবন করছে আর তাতেই ভাইরাস সংক্রমিত হচ্ছে তাদের দেহে। আরেকটা উল্ল্যেখযোগ্য বিষয়হলো অত্র এলাকায় কিছু ছোটখাট নামসর্বস্ব কোম্পানি আছে যারা বিভিন্ন বাসা-বাড়ি, অফিস, দোকান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্লাস্টিকের জারে করে পানি সরবরাহ করে। কিছুদিন পূর্বে এমন একটি পানির জার আমাদের হাতে এসে পৌঁছায় যেখানে আমরা জলজ্যান্ত একটি কেঁচো আবিস্কার করি। তাৎক্ষণিক সেই পানির সাপ্লাইয়ার ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজারকে ডাকা হল,  তারা বিএসটিআই কিংবা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লাইসেন্স প্রাপ্ত দাবী করলেও ট্রেড লাইসেন্স ব্যতীত এর স্বপক্ষে কোন শক্তিশালী প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। তারা ল্যাবে পানি পরীক্ষার কিছু কাগজ প্রদর্শন করলেও তা ছিল মেয়াদ উত্তীর্ণ, আমরা সেই ল্যাবের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলল যেহেতু ডকুমেন্ট ঐ প্রতিষ্ঠান নবায়ন করেনি সেহেতু তাদের কোন দায়বদ্ধতা নেই। বিষয়টি ক্লিয়ার হলে পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজারকে দ্রুত পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এই হল অবস্থা! সুতরাং এই বিষয়টিকেও স্থানীয়দের গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে যে তারা বিশুদ্ধ পানির নামে ব্যাকটেরিয়া কিনছেন নাতো! পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হালিশহরের অবস্থা আস্তে আস্তে এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে।  তাই নগর ব্যবস্থাপক এবং স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচিৎ বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার। অন্যথা, যেকোন মুহূর্তে এই বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়তে পারে শহরের অন্য প্রান্তেও।

ইতিহাসের ভয়াবহ অপারেশন ‘ডেজার্ট স্টর্ম’

Now Reading
ইতিহাসের ভয়াবহ অপারেশন ‘ডেজার্ট স্টর্ম’

১৯৯১ সালের ১৫ জানুয়ারি বেলা এগারটার দিকে ওভাল অফিসে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ স্থানীয় উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক বৈঠক করার পর প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ ইরাকে হামলা চালানোর নির্দেশ নামায় স্বাক্ষর করেন। ঐদিন বিকালে ডিক চেনি প্রেসিডেন্টের নির্দেশনামা বাস্তবায়নের আদেশ নামায় স্বাক্ষর করেন। পরদিন অর্থাৎ ১৬ জানুয়ারি বুশ পররাষ্ট্রসচিব বেকার ও কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ, মিত্রদেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও অন্যদের জানিয়ে দেন যে ঐদিন রাতেই ইরাকের ওপর হামলা চালানো হবে। এদিকে হামলা চালানোর এক ঘণ্টা আগে পর্যন্ত কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত ছিল। মস্কো শেষ চেষ্টার জন্য ওয়াশিংটন এর কাছে সময় চাইলেও যুদ্ধ থামানো যায়নি।

১৭ জানুয়ারি প্রথম প্রহরে ইরাকের লক্ষ্যবস্তুতে ‘টমহক’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধম্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রবাহিনী উপসাগরীয় সংকটের শেষ যাত্রায় শরিক হয়। অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম শুরুর আগের সপ্তাহের কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল বেশ লক্ষণীয়। জাতিসংঘ মহাসচিব পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে নিস্ফল জেনেও শেষ মুহূর্তে ছুটে গিয়েছিলেন বাগদাদে। সাদ্দাম হোসেন সম্ভবত কুয়েত থেকে এভাবে সরে আসার থেকে যুদ্ধ করাটাই বড় মনে করেছিলেন। তাই অবশ্যম্ভাবী যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে ১৫ জানুয়ারি তিনি নিজের হাতে যুদ্ধের সমস্ত দায়িত্বভার তুলে নেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশও পেন্টাগনকে ইরাক আক্রমণের কথা জানিয়ে দেন। তবে সম্ভবত বিমান আক্রমণ রাতে সুবিধাজনক হবে ভেবে আক্রমণ কয়েক ঘণ্টা বিলম্বে ১৭জানুয়ারি প্রথম প্রহরে শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রজোটের ঐ যুদ্ধ ছিল ‘গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা’ রক্ষার জন্য। মার্কিন সমর বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম এর স্থায়িত্বকাল ৪৮ঘণ্টা বলে ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধের তৃতীয় দিনে ইরাকের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও বিমানবাহিনীর সাহায্যে আক্রমণ প্রতিহত করার প্রেক্ষাপট এর স্থায়িত্বকাল সপ্তাহ বলে জানিয়ে দেন। মার্কিন এই ঘোষণায় তাদের জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একটা অস্তির এবং অস্বস্তির ভাব লক্ষ করা গিয়েছিল।

একটা ছোট পরিসংখ্যান দিলে বোঝা যাবে কত ব্যপক আকারে ইরাকের উপর বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। প্রথম দিকে অর্থাৎ ১৭-২৫ জানুয়ারি, সময়সীমায় মোট বিমান হামলা চলে ১৪,৪০০বার। গড়ে প্রতিদিন বোমা বর্ষণ করা ১৮,০০০টন যা জাপানের হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত বোমার সমান।  এই বিরাট বহরের আক্রমণ চালাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্রজোটের বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়। তারপরও প্রেসিডেন্ট বুশ ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সব থেকে কম অর্থ ব্যয়ের যুদ্ধ।  যুদ্ধে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৬৮ বিলিয়ন ডলার। আর এই অর্থ যথাক্রমে দেবে কুয়েত ১৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, জাপান ১১ বিলিয়ন ডলার, জার্মানি ৫.৫ বিলিয়ন ডলার, সৌদি আরব ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যুক্তরাষ্ট্র ৫ বিলিয়ন ডলার। যদিও অনুমানের তুলনায় যুদ্ধ কিছুটা বিলম্বিত হওয়ার কারণে আরও বেশি কিছু অতিরিক্ত অর্থ যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যয় করতে হয়েছিল।  অন্যান্য যুদ্ধের তুলনায় উপসাগরীয় সেই যুদ্ধে মার্কিন ব্যায়ের পরিমাণ ছিল নিতান্তই সামান্য। আর এই স্বল্প ব্যায়ের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়ে দেন যে জনগণকে এই যুদ্ধ ব্যায়ের কর দিতে হবেনা। তার আসল উদ্দেশ্য এর মধ্যেই বুঝা যায়। অর্থাৎ বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হবে অথচ জনগণকে তার খেসারত দিতে হবেনা, সেটা ছিল অকল্পনীয়।

অপারেশন ডেজার্ট স্টর্মে মার্কিন কূটনীতির সাফল্যের কোন তুলনা হয়না। ওয়াশিংটন সমস্ত পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন লাভে সমর্থ হয়। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল ইরাকের পরিক্ষিত বন্ধু, কিন্তু কুয়েত আক্রমণের দায়ে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ইরাকের উপর নাখোশ হয়ে পড়েছিল।

উপসাগরীয় যুদ্ধে অংশ নেয়া বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনীঃ

যুক্তরাষ্ট্র                               ঃ ৩,৫০,০০০

সৌদি আরব                         ঃ ৪৫,০০০

মিসর                                   ঃ ৩৮,৫০০

ব্রিটেন                                 ঃ ৩২,০০০

সিরিয়া                                 ঃ ২১,০০০

পাকিস্তান                             ঃ ১১,০০০

উপসাগর সহযোগী কাউন্সিল ঃ ১০,০০০

বাংলাদেশ                             ঃ ২০০০

মরক্কো                                 ঃ ১,৭০০

নাইজার                               ঃ ৫০০

চেকোস্লোভাকিয়া                 ঃ ২০০

 

বলা যেতে পারে, উপসাগরীয় যুদ্ধ ছিল একটি দেশের বিরুদ্ধে বহুজাতিক যুদ্ধ। এই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আরব দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি আরও প্রকট হয়ে উঠে। আর আরব দেশগুলোর সেনাবাহিনী এই প্রথম সক্রিয়ভাবে একত্রে কোন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। প্রথমবারের মত মার্কিনীরা এই অঞ্চলে এত বড় আকারের ভূমিকা পালন করে। সাদ্দাম হোসেন মূলত আশা করেছিলেন ‘প্যান আরব’ বা ‘প্যান ইসলামিক’ একটা অনুভূতি আরব সরকারগুলোর মধ্যে তৈরি হবে কিন্তু সেটা হয়নি।

পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম সেনাবাহিনী এবং বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও ইরাক যুদ্ধে হেরে যায়। এর প্রধানতম কিছু কারণ রয়েছে।

১. সবচেয়ে বড় ভুল ছিল কুয়েত দখল করার পর সৌদি সীমান্তে থেমে যাওয়া। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরাক যদি সৌদি আরবের দাহরান ও দাম্মাম পোর্ট দখল করে নিত এবং সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় তেল ক্ষেত্রগুলো অধিকার করতে পারত তাহলে মিত্র বাহিনী এত বিশাল সমরসজ্জা করতে পারত না। তাছাড়া তেলের এত বেশি ভাণ্ডার তার নিয়ন্ত্রণে চলে যেত যে শক্তি প্রয়োগের চিন্তা করাটাই তখন কঠিন হয়ে দাঁড়াত।

২. সাদ্দাম হোসেন কুয়েতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েই শুধু ব্যস্ত ছিলেন। দক্ষিণ ইরাকের প্রতিরক্ষা নিয়ে তিনি চিন্তাও করেননি।

৩. সাদ্দাম হোসেনের মার্কিন প্রশাসন সম্পর্কে ধারণা ছিল অত্যন্ত নগণ্য। আমেরিকান সৈন্যদের সম্পর্কে তার কোন অভিজ্ঞতাই ছিলনা।

৪. নিজের সমর সরঞ্জামের উপর তার অগাদ বিশ্বাস ছিল। তিনি তার স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র, সোভিয়েত ট্যাংক, ফরাসি মিরেজ বিমান নিয়ে গর্বিত ছিলেন। কিন্তু ঐ যুদ্ধের ফলে তাঁর সেই গর্ব চূর্ণ হয়ে যায়।

৫. নতুন প্রযুক্তি মুহুমুহু টমহকের গর্জন, ক্রুজ মিসাইলের অগ্নি স্ফুলিঙ্গ বাগদাদকে বিহ্বল করে দিয়েছিল।

৬. ইরাকের রাসায়নিক অস্ত্র রহস্যজনক কারণে ব্যবহার করা হয়নি। কুয়েতে অনেক রাসায়নিক অস্ত্রের শেল পাওয়া গিয়েছিল কিন্তু তা ছোড়া হয়নি। পরবর্তীকালে ইরাকে অস্ত্র পরিদর্শক দলকে পাঠিয়েও কোনরকম রাসায়নিক অস্ত্রের সন্ধান পাওয়া যায়নি। ৪৩ দিনের সেই যুদ্ধে ইরাক তার সামরিক শক্তির ৪৫ ভাগ হারিয়ে শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করে।

তবে বলাই বাহুল্য, ২০০৩ সালের যুদ্ধের সাথে ১৯৯১ সালের প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধকে মেলানো যাবেনা। উভয় যুদ্ধের নায়ক একজন হলেও প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন ভিন্ন।

 

সহায়ক গ্রন্থাবলিঃ

  • International Politics on the World Stage, New York, John T. Rourke and Mark A. Boyer.
  • World Politics 97/98, New York,   Helen E. Purkitt(ed)

 

ধর্ষক রনিকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে কিছু ফেসবুক প্রোফাইল!!

Now Reading
ধর্ষক রনিকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে কিছু ফেসবুক প্রোফাইল!!

আমাদের দেশে আছে দুই টাইপের মানুষ। একদল খারাপ নির্মূলের জন্য লড়াই করে, অন্যদল খারাপকে ইন্ধন যোগায়।
বিশিষ্ট মাতাল ধর্ষক রনির বেলাতেও ঘটেছে সেম ঘটনা।

দিনে দুপুরে চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণ করতে গিয়ে ধরা পড়ে পাবলিকের হাতে গণপিটুনি খাওয়া রনির জন্য একদলের আছে অপরিসীম ঘৃণা, তারা গণপিটুনি দিয়েছে, এবং সমর্থন করেছে।

অপরদিকে অন্য এক দল আছে, যারা মেয়েটার দোষ খুঁজে বেড়াচ্ছে।

কিছু অন্ধ বিকৃত মস্তিষ্কের লোক কীভাবে রনিকে সাপোর্ট করছে ব্যাপারটা আমার বোধগম্য নয়। হঠাত করে নানা “সামাজিক সংস্থার” নাম করে গজে ওঠা কিছু ফেসবুক একাউন্ট এখন রীতিমত এই রনিকে বাচানোর চেষ্টা করছে। নিজেদের এরা আবার সাইবার ক্রাইম এক্সপার্ট বলে কিন্তু আদপে ভন্ড ছাড়া আর কিছু না। যেকোন ভাইরাল টপিক নিয়ে আসব আলোচনা করে নিজেদের ফেসবুক প্রোফাইলে ফলোয়ার বাড়ানোর আশায় এসব লোক এধরনের টপিক নিয়ে নিজেদের প্রোফাইল থেকে লাইভে আসে আর এবার এসে ধর্ষক রনিকে বাচানোর চেষ্টা করছে। এদেরকে কি টাকা দিয়ে ভাড়া করা হয় নাকি – ফেসবুকীয় এসব দালালকে? হলেও হতে পারে। এদের ফেসবুক প্রোফাইল দেখলে মনে হবে এরা রীতিমত বাংলাদেশ কিনে ফেলেছে – এমন সব কোয়ালিফিকেশন কিন্তু বাস্তবে একটু ঘেটে দেখলে বুঝা যাবে – এরা অন্ত সার শূন্য – কিছুই না – মানুষকে শুধু ঠকিয়ে যাচ্ছে। এরকমই একটি ফেসবুক প্রোফাইল Mahabubur Rahman (লিঙ্ক দিচ্ছিনা, কারন আমরা চাইনা এসব পাপীদের আরও জনপ্রিয় করতে), যে কিনে “সাইবার মাহাবুব” নামে নিজেকে পরিচয় দেয়, সে এখন রীতিমত আন্দোলন শুরু করে ফেসবুক লাইভে এসে – রনির মত ধর্ষনকারীদের বাঁচানোর আকুল চেষ্টা। মাত্র ১১ হাজার ফলোয়ার থাকায় খুব বেশী দুবিধা হয়তো করতে পারছে না, কিন্তু মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য যথেষ্ট। আসলে এদের মত মানুষের কারনে সমাজে ধর্ষকদের সাহস আরও বাড়ে।

রোজার মাসে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে বাসায় বউ বাচ্চা রেখে চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণ করা ঠিক কতটা সভ্য সমাজের ব্যাপার, তা আমার বোধগোম্য নয়। পাবলিকের হাতে মাইর খাওয়ার পরও তার শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে কি না তাও জানি না। যখন রনিকে উলঙ্গ করে পিটানি দেয়া হল, আমরা বাহবা দিলাম। কিছু ধর্ষকের মনেও ভয় ঢুকে গেল। কথায় আছে, পাবলিকের মাইর, দুনিয়ার বাইর।

কিন্তু, হঠাৎ করেই একদল এসে বলা শুরু করলো, মেয়েটা পতিতা। সাথে কিছু মিস্টির রস খোজা মৌসুমী ধর্ষক উতলা হয়ে উঠলো। এইসব ফেসবুক ধর্ষক ধর্ষণ করলো আরো একবার সেই মেয়েটিকে। সে নাকি পতিতা!!!

এ সমাজে ঘুণে ধরেছে প্রকটভাবে। ধর্ষকদের চকচকে জিহবা আর চোখ সব মেয়েদের দিকে। ফেসবুকে ধর্ষকদের সাপোর্টারে ভরে গেছে নিউজফিড। আমার মানবিক মনে ভাবতে পারে না, কীভাবে তারা সেই মেয়েটিকে দোষ দেয় পতিতা বলে?? পতিতা বলেই তাকে ধর্ষণ করার পারমিট কে দিয়েছে? তারা কী মানুষ নয়? কোথায় আমাদের মানবিকতা!

আমাদের এলাকায় একজন মহিলা ছিল। যার স্বামী ছিল একজন বহুগামী। তিনি ছিলেন সেই পুরুষের তৃতীয় স্ত্রী। সেই পুরুষটি যখন সেই মহিলাকে ছেড়ে চলে যায় তখন সেই মহিলার কোলে ছোটো দুই শিশু।

বাবা ছেড়ে গেলেও মা শিশুদের ফেলে দিতে পারে নাই। সেই মেয়ের যাওয়ার কোনো জায়গা ছিল না বিধায় অভাবের তাড়নায় বাধ্য হয়েই বাচ্চা দুটা শিশুর মুখে খাবার তুলে দেয়ার জন্য পতিতাবৃত্তিতে যেতে হয়েছিল।

মেয়েদের পতিতাবৃত্তিতে আসার পেছনে অভাব, দারিদ্র কিংবা প্রতারণার স্বীকার হওয়াই মূল কারণ।

পতিতাবৃত্তি একটা পেশা। সে তার দেহকে বিক্রি করে পয়সা উপার্জন করে। এটাও কোনো সহজ পেশা নয়। আপনার দেড়মণের শরীরের ভাড় সহ্য করে, আপনার কুকুরবৃত্তীয় কামুকতা দাতে দাত চেপে সহ্য সে উপার্জন করে তার আয়। এদিয়েই হয়তো তার সন্তান, অসুস্থ বাবা মা ভাই বোনদের মুখে খাবার তুলে দেয়।

ধর্ষণ হচ্ছে এমন একটা ব্যাপার, কারো অনিচ্ছায় জোড় করে শারীরিক সম্পর্ক করা। এতে হতে পারে বিবাহিত স্ত্রীর সাথেও বিবাহোত্তর ধর্ষণ।

তাই, পতিতাকে ধর্ষণ করার সার্টিফিকেট যারা দেয়, তারা বিকৃত মানসিকতার স্ত্রী ধর্ষণকারীও বটে।

সম্প্রতি বাসে যে পুরুষ ধর্ষকটির পক্ষে সাফাই গাচ্ছেন যারা মেয়ে পতিতা বলে, তাদের মন মানসিকতা কোন লেভেলের নিচু, এটা আমি ভেবেই পাই না।

ঘরে স্ত্রী সন্তান রেখে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে রাস্তা থেকে পতিতা তুলে নিয়ে ধর্ষণ করলে তাকে পুরুষ বলে না। তাকে বলে কুকুর। কুকুর যেমন দিনে দুপুরে জোর করে তার সাথীকে সবার সামনে সহবাস করতে কার্পণ্য করে না, সেই পুরুষগুলাও ঠিক তেমনি।

তবে আশার কথা, জনগণ এখন বেশ সোচ্চার হচ্ছে। পাবলিকের গণপিটুনি খেয়ে যদি দুই চারটা ধর্ষক মরে যায়, তাহলে আরও ভালো হবে। কিছু ধর্ষক একটূ হলেও ভয় পাবে। বাসে, সিএনজিতে, শপিং মলে, ধর্ষণ করতে একটু হলেও কুন্ঠাবোধ করবে।

জনগণ যদি চায়, তাহলে একটা ধর্ষকও সমাজে বেচে থাকার সাহস পাবে না।

বাসায় বউ ছেলে রেখে উলংগ হয়ে মার খাওয়া ধর্ষকের জন্য যেসব ছেলেদের সহানুভুতি জাগে, তারা নিশ্চই সেই সময়ে বাসে উপস্থিত থেকে কেন তাদের নুনুভুতি প্রকাশ করতে পারলো না, সেই দু:খে কাতর। তাই তাদের কাছে পতিতা হোক, এইডস রোগী হোক, কিংবা অচেনা মেয়েই হোক, ধর্ষণের সার্টিফিকেট দেয়া একেকটা পার্ভাট তারা।

পাবলিকের মাইরের ভয় একজন মাফিয়া সন্তাসীরও আছে। কারণ, গণপিটুনির কোনো বিচার নাই। তাই পাবলিক যদি এইসব ধর্ষকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়, তাহলে অবশ্যই এদেশে ধর্ষণ করবে। কিন্ত, খুব অবাক হয়ে যাই, বাংলাদেশের ফেসবুকে এসব ধর্ষকের সাপোর্টার দেখে। কীরকম বিকৃত মানসিকতার হলে এই ন্যাংটা হয়ে মাইর খাওয়া ছেলের জন্য সহানুভুতি জাগে, আমি নিজেই অবাক হয়ে যাই।

এতে করে ধর্ষকদের আরও উৎসাহিত করা হয়ে গেলো।

আমি সেই বাংলাদেশ আশা করি, যেই বাংলাদেশে একজন ধর্ষকও থাকবে না। সেই বাংলাদেশ, যেই বাংলাদেশে সব মা বোন এমনকি পতিতারাও নির্ভয়ে পথ চলবে। সেই বাংলাদেশ, যেই বাংলাদেশে ফেসবুকের ধর্ষক সাপোর্টারদের গণধোলাই দিয়ে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে রাখবে তাদের বিকৃত মানসিকতার চিকিৎসা করাবে।

আশা করি, খুব শীঘ্রই আমরা এমন বাংলাদেশকে পাবো

উচ্চ মাধ্যমিকের নিম্নগতি

Now Reading
উচ্চ মাধ্যমিকের নিম্নগতি

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে । কবি সুফিয়া কামাল তার এই অমর বাণী দিয়ে এই দেশের বহু ছেলের চিত্ত সজাগ করে গিয়েছেন যেন তারা তাদের কাজের দ্বারা সর্বদা দেশের মুখ উজ্জ্বল করে । মেয়েদের ব্যাপারে কেন বলেননি তা আমার জানা নেই । তবে  উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলের পর পেপার পত্রিকায় ছেলেদের কলেজের  ছবি  ৪টা  ছাপা হলে মেয়েদের ছাপা হয় ১০ টা।

তুলনা করার সময় নেই। ফেসবুক , হোয়াটসাপ , ইউটিউব ইত্যাদিতে লাইক কমেন্ট শেয়ার দেয়ার বেলায় ছেলেদের কে হারানো কোন দিনও সম্ভব না , তারা এই কাজে পিএইচডি প্রাপ্ত , এটা অনেকটা কথার কাজ , কাজের কাজ কিছু না । কিন্তু  ফলাফলের সময় যদি ঐ কমেন্ট ধারীদের হারিকেন দিয়ে খুঁজতে হয় তাহলেই সাময়িক নয় এ যেন ভয়াবহ বিপর্যয়। একটা মেয়ে একটা পোস্ট দিল, সেলফি আপলোড করলো , স্ট্যাটাস দিলও আর লাখ লাখ ছেলে তাতে হুমড়ি খেয়ে পড়লো আর সেই ছেলেরা যদি ফলাফলের পরে বাসায় অকৃতকার্যতার সার্টিফিকেট নিয়ে ফেরে তাহলে জাতির জন্য এর চেয়ে বড় দুঃখের কারণ আর কি হতে পারে ?

যারা পাশ করলো তারা তো বেঁচে গেলো এখন শান্তিতে খুব ঠাণ্ডা শান্ত মন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবে কিন্তু যারা উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার পর থেকে এখন পর্যন্ত ভর্তি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো কিন্তু ফলাফল প্রাপ্তির পর দেখল ফেল করেছে  তাদের কি হবে ? এটা কি তাদের দোষ ? না এটা  তাদের দোষ নয় এটা তাদের কপালের দোষ ?

তো আসল কথা হচ্ছে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে এ নিয়ে আর মন খারাপ করে লাভ নেই এখন যেহেতু পুরনো পড়া আবার পড়তে হবে তাহলে তাতেই মনোনিবেশ করা ভাল। এমনটাই হওয়া উচিত অকৃতকার্য ছেলেমেয়ের বাবা মায়ের বক্তব্য কিন্তু কিভাবে তারা তাদেরকে শান্ত রাখবে ? তাদের আদরের সোনামণি যে সমাজে তাদের মুখ দেখানোর কোন পথ খোলা রাখেনি । যেখানে গোল্ডেন A+ পেলে কোন দাম নেই সেখানে অকৃতকার্যতা তো  ভয়াবহ অপরাধ ।  কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমি এমন অনেককে চিনি যারা উচ্চ মাধ্যমিকের  খারাপ ফলাফলের পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা জীবনে অসাধারণ রেজাল্ট করেছে কারণ তাদের গার্ডিয়ান ছিল তাদের উপর ধৈর্যশীল এবং তারা তাদের গার্ডিয়ানের ধৈর্যের যথাযথ প্রমাণ দিয়েছে  পরবর্তী জীবনে ।

শিক্ষা জীবনে এক বা দুই বছর গ্যাপ এটা কোন বড় ধরনের ফ্যাক্ট না যদি কেউ একে তেমন গুরুত্ব না দেয় । যে সকল চাকরি দাতারা এই গ্যাপ নিয়ে বেশী মাতামাতি করে তাদের চাকরি না করলেই হল । আর ফেল করা মানেই যে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে তা নয়  , আমিতো বলবো  এটা একটা বড় সুযোগ , যেমন হয়ত কেউ এই অল্প সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রস্তুতি নিতে পারত না ।  কিন্তু এখন পড়ে ফেলা এক বা দুই বিষয় যেগুলোয় ফেল করেছে সেটার পাশাপাশি এক বছর ধরে  বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রস্তুতি নিতে পারার একটা চমৎকার সুযোগ হাতে এসেছে । যাতে  বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা শত ভাগ বেড়ে গেলো ।  আমার এক দুঃসম্পর্কের  ভাগ্নি যার উচ্চ মাধ্যমিকে  A+ তো বটেই গোল্ডেন A+ ছিল চরম আকাঙ্ক্ষিত সে কিনা ফেল করে বসে ,  তো তার কি জীবন থেমে রয়েছিল ? না বরং তার গার্ডিয়ান এটাকে নিছকই একটা দুর্ঘটনা ভেবে এটাকে ভুলে যেতে বলে , যেখানে তার অন্য বান্ধবীরা অনেকেই গোল্ডেন A+ পেয়েছিলো । তার গার্ডিয়ান যদি ঐ সময়ে বিচক্ষণতার পরিচয় না দিত তাহলে  সে  হয়তো পরবর্তীতে  যে অসাধারণ রেজাল্ট করেছে তা আর করা হতোনা অথবা তার চাইতেও খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারত ,  সে হয়তো গার্ডিয়ানের  গঞ্জনা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিত ।

 

আসুন দেখে নেই এবারের ফলাফলের কিছু নমুনা

৬৮.৯১% পাশের গড় হার দশ শিক্ষা বোর্ডে

৭৭ দশমিক ০২ শতাংশ মাদ্রাসা বোর্ডের পাসের হার

৮১ দশমিক ৩৩ শতাংশ কারিগরি বোর্ডে পাসের হার

৬৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের

 

ঢাকা বোর্ডে  ৬৯.৭৪ ,রাজশাহী বোর্ডে ৭১.৩০,  কুমিল্লা বোর্ডে  ৪৯.৫২, সিলেট বোর্ডে ৭২.০০, যশোর বোর্ডে ৭০.০২,বরিশাল বোর্ডে  ৭০.২৮,

দিনাজপুর বোর্ডে ৬৫.৪৪, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৬১.০৯ পাশের হার এই বছরে। তথ্য ঃ আমাদের সময় ।

তো খতিয়ানে দেখা যাচ্ছে কুমিল্লায় অর্ধেকের বেশী ফেল। আমরা সবাই জানি কুমিল্লা জেলা পুরোটাই সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত ।

আর আমাদের সীমান্ত এলাকাগুলোর অনেক বদনাম আছে  , সেখানে সীমান্ত দিয়ে এহেন চোরাচালান নেই যে না হয় তার ওপর ইয়াবা , মাদক , জুয়া , প্লাস্টিকের ডিম আমদানি  , লাইসেন্স বিহীন মোটর সাইকেল আমদানি , যাত্রা , বাজি ধরা, অশ্লীলতা , বেহায়াপনা আর রাজনৈতিক কোন্দল তো লেগেই রয়েছে।

তার একটা খুব খারাপ প্রভাব এবার পড়তে দেখা গেলো কুমিল্লা বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলে । সীমান্তে চোরাচালান করে যদি কোন ছাত্র মাসে দুই লক্ষ টাকা আয় করে তাহলে সে পড়াশুনায় মন বসাবে কেমন করে ?

তখন তো সে ঐ আয় করা টাকা কিভাবে ফুর্তি করে খরচ করবে সেই চিন্তায়ই সারাদিন মশগুল থাকবে । তাই এখনও সময় শেষ হয়ে যাইনি ,  কুমিল্লার ছাত্রছাত্রীরা ভীষণ মেধাবী , তাদের গার্ডিয়ানরা যদি তাদের সন্তানদের দিকে একটু নজর দেয় তাহলেই এই ভরাডুবি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

 

আল্লাহ্‌ হাফিয ।

 

Page Sidebar