ধর্ষক রনিকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে কিছু ফেসবুক প্রোফাইল!!

Now Reading
ধর্ষক রনিকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে কিছু ফেসবুক প্রোফাইল!!

আমাদের দেশে আছে দুই টাইপের মানুষ। একদল খারাপ নির্মূলের জন্য লড়াই করে, অন্যদল খারাপকে ইন্ধন যোগায়।
বিশিষ্ট মাতাল ধর্ষক রনির বেলাতেও ঘটেছে সেম ঘটনা।

দিনে দুপুরে চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণ করতে গিয়ে ধরা পড়ে পাবলিকের হাতে গণপিটুনি খাওয়া রনির জন্য একদলের আছে অপরিসীম ঘৃণা, তারা গণপিটুনি দিয়েছে, এবং সমর্থন করেছে।

অপরদিকে অন্য এক দল আছে, যারা মেয়েটার দোষ খুঁজে বেড়াচ্ছে।

কিছু অন্ধ বিকৃত মস্তিষ্কের লোক কীভাবে রনিকে সাপোর্ট করছে ব্যাপারটা আমার বোধগম্য নয়। হঠাত করে নানা “সামাজিক সংস্থার” নাম করে গজে ওঠা কিছু ফেসবুক একাউন্ট এখন রীতিমত এই রনিকে বাচানোর চেষ্টা করছে। নিজেদের এরা আবার সাইবার ক্রাইম এক্সপার্ট বলে কিন্তু আদপে ভন্ড ছাড়া আর কিছু না। যেকোন ভাইরাল টপিক নিয়ে আসব আলোচনা করে নিজেদের ফেসবুক প্রোফাইলে ফলোয়ার বাড়ানোর আশায় এসব লোক এধরনের টপিক নিয়ে নিজেদের প্রোফাইল থেকে লাইভে আসে আর এবার এসে ধর্ষক রনিকে বাচানোর চেষ্টা করছে। এদেরকে কি টাকা দিয়ে ভাড়া করা হয় নাকি – ফেসবুকীয় এসব দালালকে? হলেও হতে পারে। এদের ফেসবুক প্রোফাইল দেখলে মনে হবে এরা রীতিমত বাংলাদেশ কিনে ফেলেছে – এমন সব কোয়ালিফিকেশন কিন্তু বাস্তবে একটু ঘেটে দেখলে বুঝা যাবে – এরা অন্ত সার শূন্য – কিছুই না – মানুষকে শুধু ঠকিয়ে যাচ্ছে। এরকমই একটি ফেসবুক প্রোফাইল Mahabubur Rahman (লিঙ্ক দিচ্ছিনা, কারন আমরা চাইনা এসব পাপীদের আরও জনপ্রিয় করতে), যে কিনে “সাইবার মাহাবুব” নামে নিজেকে পরিচয় দেয়, সে এখন রীতিমত আন্দোলন শুরু করে ফেসবুক লাইভে এসে – রনির মত ধর্ষনকারীদের বাঁচানোর আকুল চেষ্টা। মাত্র ১১ হাজার ফলোয়ার থাকায় খুব বেশী দুবিধা হয়তো করতে পারছে না, কিন্তু মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য যথেষ্ট। আসলে এদের মত মানুষের কারনে সমাজে ধর্ষকদের সাহস আরও বাড়ে।

রোজার মাসে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে বাসায় বউ বাচ্চা রেখে চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণ করা ঠিক কতটা সভ্য সমাজের ব্যাপার, তা আমার বোধগোম্য নয়। পাবলিকের হাতে মাইর খাওয়ার পরও তার শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে কি না তাও জানি না। যখন রনিকে উলঙ্গ করে পিটানি দেয়া হল, আমরা বাহবা দিলাম। কিছু ধর্ষকের মনেও ভয় ঢুকে গেল। কথায় আছে, পাবলিকের মাইর, দুনিয়ার বাইর।

কিন্তু, হঠাৎ করেই একদল এসে বলা শুরু করলো, মেয়েটা পতিতা। সাথে কিছু মিস্টির রস খোজা মৌসুমী ধর্ষক উতলা হয়ে উঠলো। এইসব ফেসবুক ধর্ষক ধর্ষণ করলো আরো একবার সেই মেয়েটিকে। সে নাকি পতিতা!!!

এ সমাজে ঘুণে ধরেছে প্রকটভাবে। ধর্ষকদের চকচকে জিহবা আর চোখ সব মেয়েদের দিকে। ফেসবুকে ধর্ষকদের সাপোর্টারে ভরে গেছে নিউজফিড। আমার মানবিক মনে ভাবতে পারে না, কীভাবে তারা সেই মেয়েটিকে দোষ দেয় পতিতা বলে?? পতিতা বলেই তাকে ধর্ষণ করার পারমিট কে দিয়েছে? তারা কী মানুষ নয়? কোথায় আমাদের মানবিকতা!

আমাদের এলাকায় একজন মহিলা ছিল। যার স্বামী ছিল একজন বহুগামী। তিনি ছিলেন সেই পুরুষের তৃতীয় স্ত্রী। সেই পুরুষটি যখন সেই মহিলাকে ছেড়ে চলে যায় তখন সেই মহিলার কোলে ছোটো দুই শিশু।

বাবা ছেড়ে গেলেও মা শিশুদের ফেলে দিতে পারে নাই। সেই মেয়ের যাওয়ার কোনো জায়গা ছিল না বিধায় অভাবের তাড়নায় বাধ্য হয়েই বাচ্চা দুটা শিশুর মুখে খাবার তুলে দেয়ার জন্য পতিতাবৃত্তিতে যেতে হয়েছিল।

মেয়েদের পতিতাবৃত্তিতে আসার পেছনে অভাব, দারিদ্র কিংবা প্রতারণার স্বীকার হওয়াই মূল কারণ।

পতিতাবৃত্তি একটা পেশা। সে তার দেহকে বিক্রি করে পয়সা উপার্জন করে। এটাও কোনো সহজ পেশা নয়। আপনার দেড়মণের শরীরের ভাড় সহ্য করে, আপনার কুকুরবৃত্তীয় কামুকতা দাতে দাত চেপে সহ্য সে উপার্জন করে তার আয়। এদিয়েই হয়তো তার সন্তান, অসুস্থ বাবা মা ভাই বোনদের মুখে খাবার তুলে দেয়।

ধর্ষণ হচ্ছে এমন একটা ব্যাপার, কারো অনিচ্ছায় জোড় করে শারীরিক সম্পর্ক করা। এতে হতে পারে বিবাহিত স্ত্রীর সাথেও বিবাহোত্তর ধর্ষণ।

তাই, পতিতাকে ধর্ষণ করার সার্টিফিকেট যারা দেয়, তারা বিকৃত মানসিকতার স্ত্রী ধর্ষণকারীও বটে।

সম্প্রতি বাসে যে পুরুষ ধর্ষকটির পক্ষে সাফাই গাচ্ছেন যারা মেয়ে পতিতা বলে, তাদের মন মানসিকতা কোন লেভেলের নিচু, এটা আমি ভেবেই পাই না।

ঘরে স্ত্রী সন্তান রেখে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে রাস্তা থেকে পতিতা তুলে নিয়ে ধর্ষণ করলে তাকে পুরুষ বলে না। তাকে বলে কুকুর। কুকুর যেমন দিনে দুপুরে জোর করে তার সাথীকে সবার সামনে সহবাস করতে কার্পণ্য করে না, সেই পুরুষগুলাও ঠিক তেমনি।

তবে আশার কথা, জনগণ এখন বেশ সোচ্চার হচ্ছে। পাবলিকের গণপিটুনি খেয়ে যদি দুই চারটা ধর্ষক মরে যায়, তাহলে আরও ভালো হবে। কিছু ধর্ষক একটূ হলেও ভয় পাবে। বাসে, সিএনজিতে, শপিং মলে, ধর্ষণ করতে একটু হলেও কুন্ঠাবোধ করবে।

জনগণ যদি চায়, তাহলে একটা ধর্ষকও সমাজে বেচে থাকার সাহস পাবে না।

বাসায় বউ ছেলে রেখে উলংগ হয়ে মার খাওয়া ধর্ষকের জন্য যেসব ছেলেদের সহানুভুতি জাগে, তারা নিশ্চই সেই সময়ে বাসে উপস্থিত থেকে কেন তাদের নুনুভুতি প্রকাশ করতে পারলো না, সেই দু:খে কাতর। তাই তাদের কাছে পতিতা হোক, এইডস রোগী হোক, কিংবা অচেনা মেয়েই হোক, ধর্ষণের সার্টিফিকেট দেয়া একেকটা পার্ভাট তারা।

পাবলিকের মাইরের ভয় একজন মাফিয়া সন্তাসীরও আছে। কারণ, গণপিটুনির কোনো বিচার নাই। তাই পাবলিক যদি এইসব ধর্ষকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়, তাহলে অবশ্যই এদেশে ধর্ষণ করবে। কিন্ত, খুব অবাক হয়ে যাই, বাংলাদেশের ফেসবুকে এসব ধর্ষকের সাপোর্টার দেখে। কীরকম বিকৃত মানসিকতার হলে এই ন্যাংটা হয়ে মাইর খাওয়া ছেলের জন্য সহানুভুতি জাগে, আমি নিজেই অবাক হয়ে যাই।

এতে করে ধর্ষকদের আরও উৎসাহিত করা হয়ে গেলো।

আমি সেই বাংলাদেশ আশা করি, যেই বাংলাদেশে একজন ধর্ষকও থাকবে না। সেই বাংলাদেশ, যেই বাংলাদেশে সব মা বোন এমনকি পতিতারাও নির্ভয়ে পথ চলবে। সেই বাংলাদেশ, যেই বাংলাদেশে ফেসবুকের ধর্ষক সাপোর্টারদের গণধোলাই দিয়ে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে রাখবে তাদের বিকৃত মানসিকতার চিকিৎসা করাবে।

আশা করি, খুব শীঘ্রই আমরা এমন বাংলাদেশকে পাবো

উচ্চ মাধ্যমিকের নিম্নগতি

Now Reading
উচ্চ মাধ্যমিকের নিম্নগতি

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে । কবি সুফিয়া কামাল তার এই অমর বাণী দিয়ে এই দেশের বহু ছেলের চিত্ত সজাগ করে গিয়েছেন যেন তারা তাদের কাজের দ্বারা সর্বদা দেশের মুখ উজ্জ্বল করে । মেয়েদের ব্যাপারে কেন বলেননি তা আমার জানা নেই । তবে  উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলের পর পেপার পত্রিকায় ছেলেদের কলেজের  ছবি  ৪টা  ছাপা হলে মেয়েদের ছাপা হয় ১০ টা।

তুলনা করার সময় নেই। ফেসবুক , হোয়াটসাপ , ইউটিউব ইত্যাদিতে লাইক কমেন্ট শেয়ার দেয়ার বেলায় ছেলেদের কে হারানো কোন দিনও সম্ভব না , তারা এই কাজে পিএইচডি প্রাপ্ত , এটা অনেকটা কথার কাজ , কাজের কাজ কিছু না । কিন্তু  ফলাফলের সময় যদি ঐ কমেন্ট ধারীদের হারিকেন দিয়ে খুঁজতে হয় তাহলেই সাময়িক নয় এ যেন ভয়াবহ বিপর্যয়। একটা মেয়ে একটা পোস্ট দিল, সেলফি আপলোড করলো , স্ট্যাটাস দিলও আর লাখ লাখ ছেলে তাতে হুমড়ি খেয়ে পড়লো আর সেই ছেলেরা যদি ফলাফলের পরে বাসায় অকৃতকার্যতার সার্টিফিকেট নিয়ে ফেরে তাহলে জাতির জন্য এর চেয়ে বড় দুঃখের কারণ আর কি হতে পারে ?

যারা পাশ করলো তারা তো বেঁচে গেলো এখন শান্তিতে খুব ঠাণ্ডা শান্ত মন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবে কিন্তু যারা উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার পর থেকে এখন পর্যন্ত ভর্তি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো কিন্তু ফলাফল প্রাপ্তির পর দেখল ফেল করেছে  তাদের কি হবে ? এটা কি তাদের দোষ ? না এটা  তাদের দোষ নয় এটা তাদের কপালের দোষ ?

তো আসল কথা হচ্ছে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে এ নিয়ে আর মন খারাপ করে লাভ নেই এখন যেহেতু পুরনো পড়া আবার পড়তে হবে তাহলে তাতেই মনোনিবেশ করা ভাল। এমনটাই হওয়া উচিত অকৃতকার্য ছেলেমেয়ের বাবা মায়ের বক্তব্য কিন্তু কিভাবে তারা তাদেরকে শান্ত রাখবে ? তাদের আদরের সোনামণি যে সমাজে তাদের মুখ দেখানোর কোন পথ খোলা রাখেনি । যেখানে গোল্ডেন A+ পেলে কোন দাম নেই সেখানে অকৃতকার্যতা তো  ভয়াবহ অপরাধ ।  কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমি এমন অনেককে চিনি যারা উচ্চ মাধ্যমিকের  খারাপ ফলাফলের পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা জীবনে অসাধারণ রেজাল্ট করেছে কারণ তাদের গার্ডিয়ান ছিল তাদের উপর ধৈর্যশীল এবং তারা তাদের গার্ডিয়ানের ধৈর্যের যথাযথ প্রমাণ দিয়েছে  পরবর্তী জীবনে ।

শিক্ষা জীবনে এক বা দুই বছর গ্যাপ এটা কোন বড় ধরনের ফ্যাক্ট না যদি কেউ একে তেমন গুরুত্ব না দেয় । যে সকল চাকরি দাতারা এই গ্যাপ নিয়ে বেশী মাতামাতি করে তাদের চাকরি না করলেই হল । আর ফেল করা মানেই যে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে তা নয়  , আমিতো বলবো  এটা একটা বড় সুযোগ , যেমন হয়ত কেউ এই অল্প সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রস্তুতি নিতে পারত না ।  কিন্তু এখন পড়ে ফেলা এক বা দুই বিষয় যেগুলোয় ফেল করেছে সেটার পাশাপাশি এক বছর ধরে  বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রস্তুতি নিতে পারার একটা চমৎকার সুযোগ হাতে এসেছে । যাতে  বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা শত ভাগ বেড়ে গেলো ।  আমার এক দুঃসম্পর্কের  ভাগ্নি যার উচ্চ মাধ্যমিকে  A+ তো বটেই গোল্ডেন A+ ছিল চরম আকাঙ্ক্ষিত সে কিনা ফেল করে বসে ,  তো তার কি জীবন থেমে রয়েছিল ? না বরং তার গার্ডিয়ান এটাকে নিছকই একটা দুর্ঘটনা ভেবে এটাকে ভুলে যেতে বলে , যেখানে তার অন্য বান্ধবীরা অনেকেই গোল্ডেন A+ পেয়েছিলো । তার গার্ডিয়ান যদি ঐ সময়ে বিচক্ষণতার পরিচয় না দিত তাহলে  সে  হয়তো পরবর্তীতে  যে অসাধারণ রেজাল্ট করেছে তা আর করা হতোনা অথবা তার চাইতেও খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারত ,  সে হয়তো গার্ডিয়ানের  গঞ্জনা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিত ।

 

আসুন দেখে নেই এবারের ফলাফলের কিছু নমুনা

৬৮.৯১% পাশের গড় হার দশ শিক্ষা বোর্ডে

৭৭ দশমিক ০২ শতাংশ মাদ্রাসা বোর্ডের পাসের হার

৮১ দশমিক ৩৩ শতাংশ কারিগরি বোর্ডে পাসের হার

৬৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের

 

ঢাকা বোর্ডে  ৬৯.৭৪ ,রাজশাহী বোর্ডে ৭১.৩০,  কুমিল্লা বোর্ডে  ৪৯.৫২, সিলেট বোর্ডে ৭২.০০, যশোর বোর্ডে ৭০.০২,বরিশাল বোর্ডে  ৭০.২৮,

দিনাজপুর বোর্ডে ৬৫.৪৪, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৬১.০৯ পাশের হার এই বছরে। তথ্য ঃ আমাদের সময় ।

তো খতিয়ানে দেখা যাচ্ছে কুমিল্লায় অর্ধেকের বেশী ফেল। আমরা সবাই জানি কুমিল্লা জেলা পুরোটাই সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত ।

আর আমাদের সীমান্ত এলাকাগুলোর অনেক বদনাম আছে  , সেখানে সীমান্ত দিয়ে এহেন চোরাচালান নেই যে না হয় তার ওপর ইয়াবা , মাদক , জুয়া , প্লাস্টিকের ডিম আমদানি  , লাইসেন্স বিহীন মোটর সাইকেল আমদানি , যাত্রা , বাজি ধরা, অশ্লীলতা , বেহায়াপনা আর রাজনৈতিক কোন্দল তো লেগেই রয়েছে।

তার একটা খুব খারাপ প্রভাব এবার পড়তে দেখা গেলো কুমিল্লা বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলে । সীমান্তে চোরাচালান করে যদি কোন ছাত্র মাসে দুই লক্ষ টাকা আয় করে তাহলে সে পড়াশুনায় মন বসাবে কেমন করে ?

তখন তো সে ঐ আয় করা টাকা কিভাবে ফুর্তি করে খরচ করবে সেই চিন্তায়ই সারাদিন মশগুল থাকবে । তাই এখনও সময় শেষ হয়ে যাইনি ,  কুমিল্লার ছাত্রছাত্রীরা ভীষণ মেধাবী , তাদের গার্ডিয়ানরা যদি তাদের সন্তানদের দিকে একটু নজর দেয় তাহলেই এই ভরাডুবি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

 

আল্লাহ্‌ হাফিয ।

 

“Cold War” বা স্নায়ু যুদ্ধের গোড়াপত্তন

Now Reading
“Cold War” বা স্নায়ু যুদ্ধের গোড়াপত্তন

ইংরেজি ‘Cold War’ শব্দের বাংলায় বিভিন্ন প্রতিশব্দ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- ‘ঠাণ্ডা লড়াই’, ‘স্নায়ু যুদ্ধ’, ‘শীতল যুদ্ধ’, ‘প্রচার যুদ্ধ’ ইত্যাদি। আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাসে “কোল্ড ওয়ার” বা ঠাণ্ডা লড়াই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধত্তোর বিশ্বরাজনীতির চালিকাশক্তি ছিল এই ঠাণ্ডা লড়াই। আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতি-প্রকৃতি, বিশ্বের দুই পরাশক্তির মধ্যকার দ্বন্ধ ইত্যাদি সবকিছুই এই ঠাণ্ডা লড়াইকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। মূলত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে বিশ্ব রাজনীতি ও ঠাণ্ডা লড়াই অনেকটা সমার্থক হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্কের উত্থান-পতন, উত্তেজনা ও দ্বন্ধ সব কিছুর মূলে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে দায়ী ছিল ঠাণ্ডা লড়াই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধত্তোর পৃথিবীতে যুগপৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের “পরাশক্তি” বা “Super Power” হিসেবে আবির্ভাব ঘটে। উভয়ের মধ্যকার উত্তেজনার সময়কে ঠাণ্ডা লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ১৯৪৫ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিলো এটি। এই দুই পরাশক্তি সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে স্বীয় কূটনৈতিক তথা অর্থনৈতিক, সামরিক ও প্রচারণা শক্তির মাধম্যে ক্ষমতা, প্রভাব ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে এবং পৃথিবীকে দুটি পরস্পর বিরোধী শিবিরে বিভক্ত করে ফেলে। বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র এভাবে দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে একটি যুদ্ধোদ্দ্যম অবস্থার সৃষ্টি করে। এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, ঠাণ্ডা লড়াই মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বা “Psychological War” যা দুটি বিরোধী মতাদর্শগত দ্বন্ধ থেকে উদ্ভূত। এ দ্বন্ধের অর্থ ছিল সরাসরি প্রথাগত যুদ্ধে অবতীর্ণ না হয়ে একে অপরকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক কলা-কৌশলগতভাবে পরাভূত করা। এ ঠাণ্ডা লড়াইয়ের দুই প্রতিপক্ষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের স্বীয় প্রভাববলয় বা “Sphare of Influence” বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নিয়োজিত থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রে সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, যা চল্লিশের দশকের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে নব্বই দশকের গোড়ার দিক পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

এভাবে “যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়” সাধারনত এ ধরনের সম্পর্ককে বলা হয় ‘Cold War Relationship’। কাজেই ঠাণ্ডা লড়াই ছিল দুই জোটের মধ্যে এমন একটি যুদ্ধোন্মাদ সম্পর্ক, যে সম্পর্ক যুদ্ধ সৃষ্টি করেনি, কিন্তু যুদ্ধের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পেরেছিল। উল্লেখ্য যে, ঠাণ্ডা লড়াইয়ের ইঙ্গিত আমরা পাই উইনস্টন চার্চিলের ১৯৪৬সালের ৫মার্চ ওয়েস্ট মিনিস্টার কলেজের এক বক্তৃতার মাধম্যে। অবশ্য চার্চিল সরাসরি ‘Cold War’ কথাটি ব্যবহার করেননি। কিন্তু তিনি বলতে চেয়েছিলেন যে, দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে যে মৈত্রীর বন্ধন স্থাপিত হয়েছিল তা অবলুপ্ত হতে চলেছে। তার পরিবর্তে সৃষ্টি হয়েছে সন্দেহ, হিংসা ও অবিশ্বাস। চার্চিল ছাড়া অন্য একজন Cold War শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি হলেন বার্নাড বারুচ, যিনি মূলত একজন আমেরিকান ব্যবসায়ী ছিলেন। পরে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সাউথ ক্যারোলাইনা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে তিনি বলেছিলেন, “Let us not be deceived- today we are in the midst of the Cold War”- তবে আমেরিকার ওয়াল্টার লিপম্যান এই Cold War শব্দটি সংবাদপত্রে প্রথম ব্যবহার করেন ১৯৪৭সালে। এ শব্দের মাধম্যে তিনি আমেরিকা ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে সম্পর্ক বোঝাতে চেয়েছিলেন, যার মধ্যে ছিল বেশ সন্দেহ ও ভীতি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এই “ঠাণ্ডা লড়াইকে” কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল। এই ঠাণ্ডা লড়াইয়ের কতকগুলো বিশেষ বৈশিষ্ট উল্ল্যেখযোগ্য। যেমনঃ

১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে প্রতিদন্ধিতাই হচ্ছে এ যুদ্ধের মূল কথা। আর ঠাণ্ডা লড়াইয়ের রাজনীতিকে ‘Bipolar Politics’ বা দ্বিপক্ষীয় রাজনীতিও বলা হয়।

২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন উভয়েই বিভিন্ন রাষ্ট্রের উপর প্রভাব বিস্তার করতে এবং তাদের সাহায্য ও সহযোগিতা লাভ করতে বিশেষভাবে সচেষ্ট হয়।

৩. উভয় পক্ষই ‘স্নায়ু যুদ্ধ’ সম্বন্ধে তাদের নীতিকে রাজনৈতিক মতবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একদিকে গণতন্ত্র ও ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে ‘ঠাণ্ডা লড়াই’ পরিচালনা করে। অপরদিকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন সমাজতন্ত্র ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার নামে ঠাণ্ডা লড়াই পরিচালনা করে। তার ফলে এটি অনেক পরিমাণে ‘ঠাণ্ডা লড়াই’ এর রুপ ধারণ করে এবং উভয় পক্ষই প্রচারনার উপর বেশ গুরুত্ব আরোপ করে।

৪. ঠাণ্ডা লড়াইয়ে দুপক্ষই যথা সম্ভব সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানো সত্ত্বেও প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে বিরত থাকে। এ লড়াইকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অঞ্চলে দুপক্ষের বন্ধু রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ আরম্ভ হলেও উভয় পক্ষই  যুদ্ধকে সেই অঞ্চলে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য চেষ্টা করে।

৫. ঠাণ্ডা লড়াই মূলত সামরিক ও জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুতে অধিক গুরুত্ব প্রদান করে যা পূর্ব ও পশ্চিম এ দুটি বিবাদমান শিবিরে বিভক্ত। এবং সমগ্র বিশ্ব এক অনভিপ্রেত যুদ্ধের চাপে ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।

যে কারণে ঠাণ্ডা লড়াইয়ের সূত্রপাতঃ

প্রথমত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপের যেসব অঞ্চলে বিভিন্ন মিত্রশক্তি প্রবেশ করে তারা সেখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিজেদের আদিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন এর সদ্ব্যবহার করতে সচেষ্ট হয়। অপরদিকে যুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলো দুর্বল হয়ে পড়ায় তাদের মধ্যে সোভিয়েত ভীতি বিশেষভাবে সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম ইউরোপের সাথে চুক্তি স্থাপন করে সোভিয়েত বিরোধী এক জোট সৃষ্টি করে।

দ্বিতীয়ত, আদর্শগত সংঘাতও ঠাণ্ডা লড়াইয়ের জন্ম দেয়। আমেরিকা তথা পশ্চিম বিশ্বের ধনবাদী আদর্শ এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতান্ত্রিক আদর্শের দ্বন্ধ এ ক্ষেত্রে উল্ল্যেখযোগ্য।

তৃতীয়ত, প্রযুক্তিগত উন্নতির সাথে সাথে ঠাণ্ডা লড়াইয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের ক্ষেত্রে এই প্রতিযোগিতা পরিলক্ষিত হয়, অস্ত্রসজ্জার খেত্রেও এটা দেখা যায়।

চতুর্থত, পারস্পরিক সন্দেহ ও অবিশ্বাস এই মনস্তাত্ত্বিক কারণের জন্যও ঠাণ্ডা লড়াইয়ের সৃষ্টি হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, আণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও আমেরিকান মনোভাব উভয়ের মধ্যে একধরনের সন্দেহ সৃষ্টি করেছিল।

পঞ্চমত, তৃতীয় বিশ্বের স্বাধীন জাতিগুলো নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তার খাতিরে বৃহৎ শক্তিবর্গের ছত্রছায়ায় থাকতে চেয়েছিল। এই নেতৃত্ব লাভের জন্য আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয় এবং ঠাণ্ডা লড়াই দেখা দেয়।

[email protected]

হঠাৎ করেই বেড়ে গেল বাংলাদেশ থেকে ভারতে জ্বালানি তেল পাচার!

Now Reading
হঠাৎ করেই বেড়ে গেল বাংলাদেশ থেকে ভারতে জ্বালানি তেল পাচার!

ভারতে বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছনোর পর প্রতিবেশীদেশ বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের ডিজেলের দামে অনেকটাই ব্যবধান তৈরি হয়ে গেছে। ফলশ্রুতিতে সীমান্ত এলাকায় ডিজেলের চোরাচালান পূর্বের চেয়ে হটাত করেই আবার বেড়ে গেছে। যদিও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ দাবি করছে ডিজেল পাচারের ঘটনা এখনও তেমন করে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছয়নি। এদিকে এই চোরাচালানের ফলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এর মধ্যেই বিপুল রাজস্ব হারানোর সম্ভাবনা করছে। তাই তারা সীমান্ত এলাকার পেট্রোল পাম্পগুলোতে গুরুত্ব দিয়ে মনিটরিংও শুরু করেছে। এদিকে ভারতের অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারত যতদিন না জ্বালানি তেলে শুল্ক ও করের পরিমাণ কমাচ্ছে ততদিন তেল এই পাচারের সমস্যা থেকেই যাবে।

ভারতে ডিজেলের দাম এখন প্রায় প্রতিদিনই পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে যা দেশের গর রেকর্ডে সর্বকালীন বেশি। বাংলাদেশের সাথে লাগোয়া সীমান্তবর্তী ভারতের আসাম বা পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ৭১ রুপিতে, যা বাংলাদেশের ৮৮ টাকার সমান। তার বিপরীতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ডিজেলের দাম মাত্র ৬৫ টাকা লিটার অর্থাৎ টাকার হিসেবে ভারতে প্রায় ২৩টাকা বেশি হিসেবে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। আর এই কারণেই সীমান্ত এলাকা দিয়ে পাচার হয়ে যাচ্ছে ডিজেল সহ অন্যান্য জ্বালানি এবং হঠাৎ করেই তৎপর হয়েছে চোরাকারবারীরা। গবেষকদের মতে পাশাপাশি দুটো দেশে জ্বালানির দামে এতটা তারতম্য থাকলে স্মাগলিং ঠেকানো বেশ মুশকিল। যেহেতু সীমান্তও নিশ্ছিদ্র নয়, সেখানে জ্বালানি চোরাচালান সহজেই করা যায়। বস্তুত বাংলাদেশ বা আরও অন্যান্য সার্ক দেশে জ্বালানি পাচারের এই সমস্যাটা বারবার ঘটছে , পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে যদি জ্বালানির মূল্যের এই ফারাকটা থাকে তবে চোরা পথে পাচারও ঘটবে। আশার কথা হচ্ছে- হয়তো তারা বিরাট কোনও স্কেলে করতে পারবে না, অর্থাৎ ট্যাঙ্কার বা লড়িতে করে হয়তো তেল পাচার করা যাবে না – কিন্তু ছোট ছোট মাপে এটা পাচার হবেই।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বা বিপিসি-র শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, তাদের ভর্তুকি দেওয়া ডিজেল যে ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছে তারা এই সমস্যা সম্পর্কে অবহিত। বিপিসির ভাষ্য, “বাংলাদেশ সরকার প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় বাইশ-তেইশ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এখন সীমান্ত এলাকার পাম্পগুলোতে ডিজেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে কি না তাও বলা মুশকিল। তবে তারা তাদের সকল তেল কোম্পানিকে আদেশ দিয়েছে তারা যেন ওখানকার সব পাম্পে ভাল করে যাচাই-বাছাই করে তার পরেই তেল দেয়।” এদিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তারা বলেছেন তা হল- “বেনাপোল বা বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে শত শত ট্রাক আসে মাল নিয়ে তারা ট্যাঙ্ক প্রায় খালি করে বাংলাদেশে ঢোকে আর ফিরে যাওয়ার সময় ট্রাকের ট্যাঙ্ক পুরোটাই ভর্তি করে নিয়ে যায়। চোখের সামনে প্রতিদিন এভাবে একশো থেকে দেড়শো ট্রাক সস্তার ডিজেল পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে।

বিএসএফ দাবি করছে, ফেন্সিডিল বা গরুর মতো অত সহজে এই দাহ্য পদার্থটি পাচার করা যায় না। তারা বলছে ভারতে ডিজেলের দাম বাংলাদেশের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি হলেও এই মার্জিনটা তত লোভনীয় নয়। তারা হয়ত তাদের স্বপক্ষে বক্তব্য দিতেই পারে, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যেকার চার হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্ত দিয়ে ছোট ছোট জ্যারিকেন বা কন্টেনারে করে ডিজেল পাচারের ঘটনা সম্প্রতি খুব বেড়ে গেছে। একদিকে ডিজেলে বাংলাদেশের ভর্তুকি অন্যদিকে ভারতে বসানো শুল্ক। সবমিলিয়ে ডিজেল এখন চোরাকারবারিদের অন্যতম লাভের হাতিয়ার।
ভারতের বিজেপি সরকার ২০১৪ পরবর্তী এ পর্যন্ত মোট ৯বার জ্বালানি তেলের ওপর এক্সাইজ ডিউটি বাড়িয়েছে বিপরীতে কমিয়েছে মাত্র ১বার। বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ বর্ডারে জ্বালানি তেলের সহজলভ্যতা রোধ করে কঠোর নজরদারি বাড়ানো, অন্যথা রাষ্ট্র হারাবে তার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

সুস্থতার চাবিকাঠি “খাদ্যাভাস পরিবর্তন”

Now Reading
সুস্থতার চাবিকাঠি “খাদ্যাভাস পরিবর্তন”

অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে অসুস্থ হবার প্রবণতা বাড়ছে দিন দিন। মূলত রাস্তা ঘাটের খোলা খাবারের প্রতিই আসক্তি বেশি মানুষের, আর এসব খাবারই হয়ে উঠছে তার অসুস্থ হবার প্রধান কারণ। এছাড়াও বিভিন্ন হোটেলের খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ লক্ষণীয় যার অধিকাংশতেই তৈলাক্ত, চর্বিযুক্ত, মাত্রাতিরিক্ত লবণ-চিনি এবং প্রক্রিয়াজাত অস্বাস্থ্যকর খাবারের আধিক্য লক্ষনীয়।

ফলে মানুষের মধ্যে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, স্থুলতা সহ ইত্যাদি অসংক্রামক রোগ এর প্রকোপ বাড়ছে। মূলত এসব খাবারে অভ্যস্থ হওয়ার পেছনে বিশেষ কিছু কারণ রয়েছে, তার মধ্যে জনসচেতনতার অভাবে, স্বাস্থ্যকর খাবারের সীমিত যোগান, অস্বাস্থ্যকর খাবারের আগ্রাসী প্রচারণা এবং তার সহজ প্রাপ্যতা।  গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রতি মস্তিষ্কের আকর্ষণ রয়েছে। এ কারণেই অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি মানুষের ঝোঁক বাড়ে। যেকোন খাবার গ্রহণে মুখের মধ্যে বিশেষ অনুভুতি সৃষ্টি করে যা ডাক্তারি ভাষায় ‘অরোসেনসেশন’ বলা হয়, আর এটাই হল অস্বাস্থ্যকর খাবার বা ‘জাঙ্ক ফুড’য়ের প্রতি অদম্য আগ্রহের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আবার অন্যদিকে খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ আমাদের খাদ্য গ্রহণের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। সব খাবারেই কমবেশি আমিষ, চর্বি ও কার্বোহাইড্রেইটের মিশ্রণ থাকে। তবে জাঙ্ক ফুডের ক্ষেত্রে লবণ, চিনি ও চর্বি এর অধিক মিশ্রণ থাকে। ফলে এই মিশ্রণ আমাদের মস্তিষ্কে উত্তেজনা সৃষ্টিতে সহায়তা করে এবং এ ধরনের খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়।

দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী জ্ঞান আহরণের জন্য নিয়োজিত। আর এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশতেই তাদের ক্যান্টিনগুলোতে স্বাস্থ্যকর খাবার সহজপ্রাপ্য নয়। উল্টো এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যান্টিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ফাস্টফুড, জাঙ্কফুড, কোমল পানীয়, এনার্জি ডিঙ্কসসহ অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করা হয়। এ খাবারগুলো সাময়িক ক্ষুধা নিবারণ করলেও কিন্তু অপরদিকে শরীরে দীর্ঘমেয়াদী রোগের বীজ বুনে যাচ্ছে। বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৬০% অসংক্রামক রোগ দ্বারাই হয়। আর এসব অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস। মানুষ তার স্বাস্থ্যকর জীবন সম্পর্কে সচেতন হয়ে তার আচরণগত কিছু পরিবর্তন আনলে এসব জটিল ও ভয়াবহ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

তাই বাসাবাড়ির পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্যান্টিনগুলোতে এবং হোটেলগুলোতে অস্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিবেশন করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। এসব জায়গায় যদি স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা কিংবা যোগান নিশ্চিত করা থাকে তবে অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে যাবে। স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণে সুস্থ্য থাকে শরীর ও মন যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরো আনন্দদায়ক করে দেয়।

কর্পোরেট দুনিয়ায় ‘দ্য আর্ট অব ওয়ার’ কেন জনপ্রিয়?

Now Reading
কর্পোরেট দুনিয়ায় ‘দ্য আর্ট অব ওয়ার’ কেন জনপ্রিয়?

সান জু’র নীতি এখন প্রত্যেকটি মিলিটারি স্কুলের অবশ্য পাঠ্য বই। তবে আধুনিককালে তুমুল জনপ্রিয় হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিপণন বা মার্কেটিংয়ে। এজন্য ব্যবসা-বাণিজ্যে ‘দ্য আর্ট অব ওয়ার’ এর ব্যবহার নিয়ে প্রতি বছর অসংখ্য বই আসছে। অনেকে এটাকে ব্যবসায়িক স্ট্রাটেজির বাইবেল বলেও অভিহিত করেন! দ্য ড্রাকার ইনস্টিটিউট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিক ওয়ার্টজম্যান বছরখানেক আগে বিশ্বখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনে লিখেছিলেন, “ব্যবসা বাণিজ্যের দুনিয়ার হর্তাকর্তাদের জিজ্ঞেস করুন কার লেখা একই সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য আবার সামরিক ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছে? একটি নাম শুনলে অবাক হওয়া যাবে না যে নামটি হলো সান জু।”

কর্পোরেট দুনিয়ায় সান জু’র জনপ্রিয়তার পেছনে হাফিংটন পোস্টে যে কয়েকটি কারণের উল্লেখ আছে সেগুলো হলো:

এটা অনেক ছোট:  দ্য আর্ট অব ওয়ার জনপ্রিয় হওয়ার কারণ এটি অত্যন্ত ছোট। ৪০ মিনিটের একটা বিমানের ফ্লাইটেও অনায়াসে পড়ে ফেলতে পারেন বইটি। বইটির উপর কয়েক ঘন্টা বিনিয়োগ হয়তো পাল্টে দিতে পারে আপনার জীবনের গতিপথ।

বইয়ের টাইটেলটি চুম্বকের মতো টানে: ‘দ্য আর্ট অব ওয়ার’ সর্বকালের সেরা একটি বইয়ের টাইটেল হিসেবে স্বীকৃত। ‘আর্ট’, ‘ওয়ার’ এ শব্দগুলো চুম্বকের মতো পাঠককে টানে।

এটা সময়ের পরীক্ষায় পাশ: একটা বই একশো বছর চললে সেটা ক্লাসিক বলা যায় সহজেই। আর যে বই আড়াই হাজার বছর ধরে চলছে বুঝতে হবে এটা কাল জয় করে ফেলেছে। এত বছর ধরে মানুষের সম্মান ও আকর্ষন কেড়ে নেওয়ার পেছনে সারবত্তা কিছু আছে সেটা বলাই বাহুল্য। হুজুগ বেশিদিন টিকে না; ক্ষণিকের ধোপ-ক্ষণশেষে হারায়, চিরায়তটাই টিকে থাকে। ‘দ্য আর্ট অব ওয়ার’ বিশ্ব ইতিহাসে একটি চিরায়ত গ্রন্থ। এজন্য আদিকালে রাজ-রাজড়াদের কাছ থেকে শুরু করে এখন আধুনিক কর্পোরেট জগতে ব্যাপকভাবে পঠিত হচ্ছে বইটি।

আধুনিক নেতৃত্বের থিওরির সাথে পুরোপুরি মিলে যায়: কর্পোরেট জগতে সফলতা বা ব্যর্থতার দায়ভার নিতে হয় কর্তাব্যক্তিদেরকে। পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে দোষ দেওয়া নয় বরং একে পরাজিত করে সফল হওয়ার মন্ত্র শেখানো হয়। সেক্ষেত্রে সান জু’র নীতি অনেক কাজের: ‘যখন সৈন্যরা পলায়ন করে, অবাধ্য হয়, ক্ষুব্ধ হয়, বিশৃঙ্খলায় ভেঙ্গে পড়ে; এ সবগুলোর জন্য দায়ী হচ্ছেন সেনাপতি। এসব ধ্বংসযজ্ঞের জন্য কোন প্রাকৃতিক কারণকে দোষারূপ করা যাবে না।’

যে কেউ ব্যবহার করতে পারে: ‘দ্য আর্ট অব ওয়ার’ নামটা দেখে অনেক সময় মনে হতে পারে শুধু রাজা-বাদশা, সেনাপতি বা হোমরা-চোমরাদের জন্যই শুধু এ বইটি। কিন্তু না! এটি যেকোন অবস্থানে থেকেই একজন ব্যক্তি ব্যবহার করতে পারেন এবং তার অবস্থানের লক্ষণীয় উন্নতি করতে পারেন। এজন্যই আজকাল রাজনীতি থেকে শুরু করে, ব্যবসা-বাণিজ্য, খেলাধূলা-সব ক্ষেত্রেই এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

সরাসরি মূল পয়েন্টে আলোচনা: তার নীতি আলোচনা করতে সান জু কোন ধরণের ইতস্তততা, সন্দেহ পরায়ণতা বা ভাবালুতার আশ্রয় নেননি। এ ধরণের নির্দেশনা ও নেতৃত্বই সাধারণের কাছে খুবই কাঙ্ক্ষিত। যে নেতৃত্ব স্থির নয়, যে সিদ্ধান্ত নিয়ে সংকোচে আক্রান্ত হয় তার প্রতি সাধারণের আস্থা থাকে না। সান জু খুবই সিরিয়াস এবং টু দ্য পয়েন্টে কথা বলেন। তার কথা শুনলে বিজয় অনিবার্য আর অন্যথা করলে পরাজয় অনস্বীকার্য।

লক্ষ্য অর্জনে অব্যর্থ: যুদ্ধ হচ্ছে জীবন মৃত্যুর খেলা। এজন্য যুদ্ধমাঠে কামালিয়াতের জন্য সফল স্ট্রাটেজিটাই দিয়েছেন সান জু। এই সিরিয়াস নীতিগুলো ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যবহার করলে সফলতা অবিসম্ভাবী।

পুরানা চাল ভাতে বাড়ে: আজকের ব্যবসা-বাণিজ্যের দুনিয়ায় প্রতিযোগিতা বা দ্বন্ধ আগেকার যুদ্ধের চেয়ে কম নয়। এবং কর্পোরেট জগতের বিভিন্ন শব্দ এখন খুবই যুদ্ধংদেহি। কর্পোরেট হাউজে শৃঙ্খলা বিধান করার ক্ষেত্রে সামরিক রীতি-নীতির যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে। আর্ট অব ওয়ার এ বিদ্রোহী সৈন্যকে কল্লা কাটতে হয় কিভাবে এবং কেন, বিরোধি তাবুতে আগুন ধরিয়ে দিতে হয় কিভাবে তার বর্ণনা আছে, আকাশে ধূলার আস্তরণ দেখে কিভাবে আচ করতে হয় শত্রু রথের আগমনী সংবাদ তার বর্ণনা রয়েছে। এই রীতিগুলো আধুনিক ব্যবসা-বাণিজ্যেও ব্যবহৃত হয় পুরোদমে। কোন ধরণের আবেগের উপর নির্ভর না করেই আপনার ব্যর্থ কর্মীকে নির্মমভাবে ছাটাই করতে হবে কেন তার শক্ত কারণ বুঝা যাবে সান জুর কাছ থেকে । একজন দক্ষ সেনাপতি যেমন যুদ্ধমাঠের অবস্থা দেখেই বুঝে ফেলেন কিভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করলে বিজয় আনা যাবে তেমনি বাজারের কিছু লক্ষণ দেখেই কর্পোরেট বসরা আঁচ করতে পারেন সেটা কোনদিকে যাচ্ছে। আবার আপনার প্রতিপক্ষের বাজার দখল করার ক্ষেত্রে অনেক নির্মম পদক্ষেপও নিতে হয়। এসব ক্ষেত্রে মার্কেটিং এর অন্যান্য সাধারণ বইগুলোর চেয়ে আর্ট অব ওয়ার অনেক টেকসই।

ব্যবসা-বাণিজ্যে সান জু’র সাত নীতি

১) ধ্বংস না করে তোমার বাজারকে দখল করো

সান জু’র নীতি- “সাধারণত যুদ্ধের সর্বোত্তম পলিসি কোন রাজ্যকে অক্ষত দখল করা। আর ধ্বংস করে দেয়া খুবই দুর্বল পলিসি।…কারণ শত যুদ্ধে শত বিজয় দক্ষতার চরম নিদর্শন নয়। শত্রুর সাথে যুদ্ধ না করেই পরাস্ত করা সক্ষমতার নিদর্শন।”

সান জু’র কৌশল বলে-‘যুদ্ধ ছাড়াই পুরোটা জয় করো’। যেহেতু ব্যবসার মূল লক্ষ্য টিকে থাকা এবং উন্নতি করা সেহেতু আপনাকে আপনার বাজারটা ধরতে হবে। কিন্তু কাজটা এমনভাবে করতে হবে যেন এ প্রক্রিয়ায় আপনার বাজার ধ্বংস না হয়। আত্মঘাতী কাজ বিভিন্নভাবে করা যায়। একটা হচ্ছে পণ্যের মূল্য নিয়ে যুদ্ধ (প্রাইস ওয়ার)।এটা সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা উচিত। গবেষণায় দেখা গেছে যে এই দাম নিয়ে দ্বন্ধটাতে সবচেয়ে বেশি ফোকাস দেয় প্রতিযোগীরা। এবং এর দিকে আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে। এটা বাজারের মুনাফাকে ব্যাপকভাবে হ্রাস করে দেয়।

২) প্রতিযোগীর শক্তির জায়গাকে এড়িয়ে চলো এবং দুর্বল জায়গাতে আক্রমণ করো

সান জু’র নীতি- “একটি সেনাদল হবে পানির মতো। প্রবাহিত হওয়ার সময় এটা উচু জায়গা এড়িয়ে চলে এবং নীচু জায়গা দিয়ে দ্রুত প্রবাহিত হয়। ঠিক একইভাবে কোন সেনাদল শত্রুপক্ষের শক্তিশালী অবস্থানকে এড়িয়ে যাবে এবং দুর্বল জায়গাতে আক্রমণ করবে।”

পাশ্চাত্য যুদ্ধনীতি তার বাজার ব্যবস্থাতেও ছড়িয়ে গেছে। প্রতিযোগীর শক্তিশালী অবস্থানে মুখোমুখি আক্রমণ শানায়। ব্যবসাক্ষেত্রে এ পলিসি দু’পক্ষের জন্যই আত্মক্ষয়ী হিসেবে দেখা দেয়। সঠিক পলিসি হওয়া উচিত প্রতিযোগীর দুর্বল অবস্থানে ফোকাস করা। এতে খুব অল্প রসদ ব্যবহার করে সর্বোচ্চ মুনাফা লাভ হয়। এখন পাশ্চাত্যও সান জু’র নীতিতে ফিরে আসছে বা আসতে বাধ্য হচ্ছে।

৩) গোপনে জেনে নিন প্রতিপক্ষের পলিসি

সান জু’র নীত- “শত্রুকে জানো, তোমাকে জানো; শত যুদ্ধেও পরাস্ত হবে না।”

প্রতিযোগীর দুর্বলতাকে কাজে লাগানোর জন্য আপনাকে তাদের বড় কর্তাদের কৌশল, চিন্তা, আকাঙ্ক্ষা, সক্ষমতার ব্যাপারে ভালো ধারণা রাখতে হবে। ঠিক একইভাবে নিজেদের দুর্বলতা-সক্ষমতার ব্যাপারেও ভালো ধারণা থাকতে হবে। এটাও গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি আপনার বাজারের চলমান ট্রেন্ড সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখেন। কারণ আপনার লড়াই তো সে মাঠটাতেই। আপনার নেওয়া এই যে বিভিন্ন ছলাকলা সেগুলো কিন্তু আপনার প্রতিদ্বন্ধীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় লুকিয়ে রাখতে হবে। আপনি যেমন আপনার প্রতিপক্ষের গোপন পরিকল্পনা, কৌশলাদি জানার জন্য হন্যে হয়ে থাকেন আপনার প্রতিপক্ষও আপনারটা জানার জন্য সবসময় উৎ পেতে থাকে!

৪) প্রতিযোগিতায় আগানোর জন্য আপনার বিশেষ প্রস্তুতি ও গতিকে কাজে লাগান

সান জু’র নীতি- “অথর্বদের উপর নির্ভর করা আর প্রস্তুতি না নেওয়া হচ্ছে সবচেয়ে বড় অপরাধ। আর যেকোন ক্ষেত্রে আগে প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হচ্ছে সর্বোত্তম গুণ।”

আপনার আগেভাগে প্রাপ্ত জ্ঞান এবং ছলনার শক্তি দিয়ে খুব দ্রুত আক্রমণের কথা বলেন সান জু। এত দ্রুত হবে সেটা যেন প্রতিপক্ষকে মুহূর্তেই ভড়কে দেয়। আবার গতি দিয়ে আক্রমণ করা মানে এই নয় যে তাড়াহুড়ো করা। বাস্তবে গতির পেছনে কাজ করে আসলে ব্যাপক প্রস্তুতি। অনেকসময় আপনার কোম্পানীকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে, পণ্যের মান ও ক্রেতাদের সেবার মান বাড়ানোর ক্ষেত্রে সময় কম পাওয়া যায়। বাজারের সম্ভাব্য সকল ঘাত-প্রতিঘাত নিয়ে চিন্তা করা ও বুঝার সক্ষমতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৫) আপনার শিল্পের বিভিন্ন সেক্টরে কৌশলী জোট করুন এবং প্রতিপক্ষকে আপনার কৌশলের উপর নির্ভরশীল করুন

সান জু’র নীতি- “যারা যুদ্ধনীতিতে ওস্তাদ তারা প্রতিপক্ষের কৌশলের টানে মাঠে নয় বরং নিজেদের কৌশলে তাদের শত্রুবাহিনীকে যুদ্ধমাঠে টেনে নিয়ে আসে।”

‘প্রতিযোগিতার নিয়ম নির্ধারণ করা’ মানে হচ্ছে প্রতিযোগিতার নিয়ম করা এবং একে পাল্টানোর সক্ষমতা রাখার যোগ্যতা। প্রতিযোগীর আগেই মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলা এবং সেটা নিজের হাতে রাখা। এটা করার একটা উপায় হচ্ছে বাজারে দক্ষতার সাথে জোট করা। বিভিন্ন শক্তিশালী জোট তৈরি করার ফলে আপনার প্রতিপক্ষের চাল দেওয়া সীমিত হয়ে যাবে। এবং আপনার পণ্য বা শিল্পের কৌশলী জায়গাগুলোতে আপনার শক্ত উপস্থিতি রাখার মাধ্যমে আপনার প্রতিপক্ষকে ইচ্ছেমত নাচাতে পারবেন যেমনটা আপনি চান।

৬) নিজের চরিত্রে নেতৃত্বের গুণাবলীর বিকাশ করুন এবং আপনার অধীনস্তদের সেরাটা বের করে আনুন

সান  জু‘র নীতি- “সেনাপতি অন্যকে দয়া, সুবিচার ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে বিচার করবেন এবং তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগাবেন। এতে করে পুরো সেনাদল শরীর ও মগজে একমত হবে এবং আনন্দের সাথে সেনাপতির প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করবে।”

মানুষ জগতের সবচেয়ে জটিল প্রাণী। একে ম্যানেজ করা একটা বিশেষ শিল্প এবং সেটা ভালোভাবে রপ্ত করতে হয়। কর্পোরেট দুনিয়ায় এটা আরও বেশি সত্য। সেখানে নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবস্থাপনা সহ আপনাকে দেখতে হয় বাজার, আপনার ক্রেতা এবং প্রতিপক্ষ। এ সবগুলো ব্যবস্থাপনায় বিশেষ দক্ষতা প্রদর্শন ছাড়া আগানোর উপায় নাই। কর্পোরেট দুনিয়ায় নেতাকে প্রাজ্ঞ, আন্তরিক, মানবিক, সাহসী এবং কঠোর হতে হয়। এবং নেতাকে সবার আগে সব চ্যালঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। নেতৃত্বের একটি কমন সূত্র কর্পোরেট দুনিয়াতেও সমভাবে কার্যকর। সেটা হলো-‘লিডারস্ লিড বাই এক্সামপল’। নেতা তার কাজের উদাহরণ সৃষ্টির মাধ্যমেই অধীনস্তদের নেতৃত্ব দেন।  সান জু’ ও সেরকম সেনাপতিদের পছন্দ করেন যারা সাধারণ সৈন্যদের সাথে শরীরের ঘাম ঝরায়। আধুনিক কর্পোরেট দুনিয়ার কর্তারা যে শুধু এসি রুমে বসে সব কাজ করে ফেলে এমন নয়! তাদেরকেও বাজারে ঘাম ঝরাতে হয়!

(৭) আপনার কর্মীদের পুরস্কৃত করুন

সান জু’র নীতি: “তোমার সেনাদলকে এই সুখবর দিতে হবে যে শত্রুকে পরাজিত করতে পারলে তাদেরকে পুরস্কার দেয়া হবে। রথযুদ্ধে তোমার সৈন্যরা যদি দশ বা তার অধিক শত্রুরথ দখল করতে পারে তাহলে যারা প্রথমে সে কাজটা করবে তাদেরকে পুরস্কৃত করতে হবে।”

পুরস্কার অনেক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। এজন্য বিশেষ অর্জনের জন্য, সাধারণ দায়িত্বের চেয়ে বেশি কিছু করার বিনিময়ে কর্মীদের পুরস্কৃত করুন। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভালো পারফর্মেন্স বা বিক্রেতাদের আশাব্যঞ্জক বিক্রির কারণে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়ে থাকে। ভালো কাজকে যদি পুরস্কৃত না করেন তাহলে মোটিভেশন কমে যাবে। যুদ্ধময়দানে ভালো পারফর্মেন্সের যেমন মূল্য দেওয়া হয় তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্য বা কোন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে আপনার কর্মীদের পুরস্কৃত করার চর্চা করতে হবে। তাহলে আপনার প্রতিষ্ঠান বড় হবে, বিকশিত হবে।

 

মাদকাসক্তের সহজ যাত্রা এবং একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা

Now Reading
মাদকাসক্তের সহজ যাত্রা এবং একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা

চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের পাশ দিয়ে রিক্সাতে করে আসছিলাম, হটাৎই চোখে পড়া দেয়ালের একটি চিকা খুব মনে ধরল। যদি ভুল করে না থাকি দেয়ালে লিখা ছিল “কৌতহলে মাদক সেবন ভবিষ্যতে পরিণত হওয়া নেশা” অনেক্ষন ধরেই চিকার লাইনটি মনে ঘুর পাক খেতে লাগল। আরে! সত্যিইতো কৌতহলের বশবর্তী হয়েই বিশেষ করে একজন যুবক বা যুবতি প্রথম মাদক গ্রহন করে বসে। এটাতো নিজের জীবনে বাস্তবেই উপলব্ধি করেছি।

মনে পড়ে গেল আমার ছাত্রাবস্থার একটি রঙিন স্মৃতি, সবে ইন্টারমিডিয়েট এর গণ্ডি পেরিয়েছি। শহুরে বন্ধুদের নিয়ে নিজেই তৈরি করে নিলাম একটি আন্ডার গ্রাউণ্ড ব্যান্ড দল সময়টা ছিল ২০০১সাল। আমাদের সময়কার একটি আন্ডার গ্রাউণ্ড ব্যান্ডের টিম করা কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রদের কাছে রীতিমত স্বপ্নই ছিল।

এই ব্যান্ড টিম গঠনের আগে অবশ্যই আমাকে বছরখানেক টানা তালিম নিতে হয়েছিল চট্টগ্রামের দুজন কিবোর্ডিষ্ট আইডল ট্রাইঙ্গেল ব্যান্ড এর রনি ভাই এবং স্টিলার ব্যান্ড এর সুজন ভাইয়ের কাছে। ছোট বেলা থেকেই স্বল্প পরিসরে গান শিখেছি যেটা পরবর্তীতে আমাকে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে। যেটা বলার উদ্দেশ্য, এই ব্যান্ড টিম করার পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রামের নামকরা বেশ কয়েকটি ব্যান্ড এর প্যাডে দৈনিক ২ঘণ্টা করে গানের প্র্যাকটিস করতাম।

আমাদের টিমের প্রত্যেকেই ছিল ফ্রেস এবং ছাত্র। নিয়ম করে ঘণ্টা হিসেবে ভাড়া নেয়া প্যাডে সপ্তাহে ২দিন চলত আমাদের টিম প্র্যাকটিস। বদ্ধ রুমে ঘামার্থ শরীরে টানা প্র্যাকটিস শেষে সকলেই খুবই হাঁপিয়ে যেতাম। আর রিফ্রেশমেন্ট এর জন্য হন্যে হয়ে খুঁজতাম পানি সহ খাওয়ার এটা ওটা। আমাদের টিমের একজন ছাড়া বাকী সকলেই ছিল নন স্মোকার, আর যার অভ্যাস ছিল সে ছিল মারাত্মক রকমের চেইন স্মোকার। এক বসাতেই ২-৩টা সিগারেট খতম করতে বেশ পারদর্শী ছিল সে, অবশ্য এটা কোন প্রশংসার গুণগান নয়। বিষয়টি আমার খুব অপছন্দের ছিল তাছাড়াও সিনিয়র বড় ভাইদের অনেক অনুরোধ করে তাদের প্র্যাকটিস প্যাড বুকিং নিতাম, আর টিমের কেউ সিগারেট ফুঁকলে তাদের চোখে পড়ে গেলেতো মানসম্মান সব শেষ। পরিচিত ছাড়া তখন কোন ব্যান্ড তাদের প্র্যাকটিস রুমে অন্য ব্যান্ডকে প্র্যাকটিস করার অনুমতি দিতনা, কেননা প্যাডে তাদের নিজস্ব ইন্সট্রুমেন্ট থাকত। ভয় ছিল এই ভুলের কারনে প্র্যাকটিসের সুযোগটাই জানি মিস করে ফেলি। প্রচুর মানা করতাম স্মোকার বন্ধুটিকে,  কে শুনে কার কথা উল্টো এক টান দেয়ার অফার করত। সামলে চলতাম নিজেকে কেননা মা মোটেই পছন্দ করেননা এসব, আর এই অভ্যেস যেন নিজের মধ্যে না আসে স্কুল জীবনেই মাথা ছুঁয়ে শপথ করিয়েছেন তিনি। ছোট বেলায় পড়েছিলাম ধূমপানের ক্ষতিকর দিক নিয়ে এক প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানীর উক্তি- ‘Drink poison but leave smoking’। বিষপানের সাথে সাথেই মৃত্যু ঘটে কিন্তু ধূমপানের ফলে মানুষকে ধুঁকে ধুঁকে মরতে হয় কথাটি বিশ্বাস করতাম এবং করি। স্বাস্থগত দিক থেকে সিগারেট যদিও অনেক ক্ষতিকর, তবে এটাকে মাদকের আওতাভুক্ত ধরা হয় না। তবে ধূমপান ও মাদক সেবনে রয়েছে পারস্পরিক সম্পর্ক। এর কারণ, পৃথিবীতে যত মাদকাসক্ত ব্যক্তি আছে তাদের প্রত্যেকেই প্রথম ধূমপান দিয়ে শুরু করে মাদকে অভ্যস্ত হয়েছেন।

এদিকে প্র্যাকটিস এর পর প্র্যাকটিস করে যতই পরিণত হওয়ার দিকে এগুচ্ছি সহসাত এই অভ্যাসটা টিমের আরো দুজনকেগ্রাস করে বসল। খুব কাছ থেকেই প্রত্যক্ষ করলাম কেবল কৌতহলের বশেই এই অভ্যাসটা কিভাবে তারা রপ্ত করল। তারুন্যের ঐ বয়সে কে শুনে কার কথা তাই বার বার বারণ করেও তাদের থামাতে পারিনি। কিন্তু টিমের আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সমমনা হওয়াতে তাকে আটকিয়েছি। অন্যদের সাথে যোগাযোগ না থাকলেও সেই বন্ধুটি আমার প্রিয় বন্ধুদের একজন হয়ে আছে এখনো। যাই হউক ফিরে যাই আগের প্রসঙ্গে- মোটামুটি ভালই নাম করতে লাগল আমাদের ব্যান্ড। মেটাল ও পাশ্চাত্য ধাঁচের গানে অভ্যস্ত ছিলাম তাই বিয়ে কিংবা মেহেদী অনুষ্ঠানে আমাদের তেমন ডিমান্ড না থাকলেও কলেজ এবং ইউনিভার্সিটির র‍্যাগ ডে গুলাতে বেশি পারফর্ম করা হত। আর যে সব প্রোগ্রামগুলিতে অংশগ্রহন করতাম তার কন্ট্রাক্ট পারসন বা পার্টিকে পূর্বেই সিগারেট এর প্যাকেট সহ এটা ওটার ডিমান্ড দিয়ে দিত আমাদের টিমে সিগারেটে অভ্যস্থ সদস্যটি। বিষয়গুলি আস্তে আস্তে অন্যদিকে মোড় নিতে লাগল, আজকে এটা কাল ওটা এ যেন এক স্বাভাবিক ব্যাপার। আস্তে আস্তে তারা ঢুকে পড়ল মাদকের রাজ্যে যদিও সেসব আর মনে করতে চাইনা। তখন ভেবেছি প্রচুর দীর্ঘদিনের দিনের পরিশ্রমে গড়া টিম চাইলেও ভেঙ্গে দিতে পারছিনা, শুধু ২জনই থেকেছি বাকিদের চেয়ে আলাদা। বলছিনা টিমের বাকী মেম্বাররা নৈতিকভাবে খারাপ কিন্তু খুব কাছ থেকে দেখেছি মাদকের পথে তাদের সহজ যাত্রা। চিত্রটি ছিল এমন- সংকোচে প্রথমে হাতে নেয়া এদিক ওদিক তাকানো তারপর মুখে দিয়ে গাল দিয়ে ধোঁয়া বের করা তারপর নাক দিয়ে বের করার চেষ্টা, কাশি। এভাবে ১-২টা থেকে প্রতিদিন ১প্যাকেট(২০টা) কিংবা তারও অধিক সিগারেটে তারা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাদের ভাবটাও ছিল সিগারেট খাওয়া একটি ফ্যাশন। প্র্যাকটিস প্যাডের ভাড়া বাবদ মেম্বারদের নির্ধারিত ফি দিতে অনেকেই গড়িমসি করলেও সিগারেট কিনতে তাদের টাকার কোন সমস্যা হতনা। ব্যাক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি আমার পরিবারের ভাই বোনদের মধ্যে এই বাজে অভ্যাসটি নেই যার কারনে গর্ববোধও করি। আর পরিবারের জুনিয়রদের মধ্যে যারা সামনে অগ্রসরমান হচ্ছে দৃঢ় বিশ্বাস তারাও এই ধারাবাহিকতা পূর্ণাঙ্গ রক্ষা করবে। আগে পরিবার বাঁচাই তারপর না হয় সমাজের কথা বলি। আপনার পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্যদের খোঁজ খবর রাখছেনতো সে কি করছে? কৌতহল বশে যদি এমন কিছু করেই থাকে তবে না শাসিয়ে বন্ধুর মত মিশে তার এই বদ অভ্যাসে বাঁধা দিতে হবে। মাদকের শুরুই কিন্তু সিগারেটের হাত ধরে যা পর্যায়ক্রমে মরণ ব্যাধি পর্যন্ত পৌঁছে দেবে।

বাসে বা ট্রেনে কোন কিছু খাওয়ার আগে সতর্ক বার্তা, সাবধান বন্ধু সাবধান নচেৎ মৃত্যু অবধারিত

Now Reading
বাসে বা ট্রেনে কোন কিছু খাওয়ার আগে সতর্ক বার্তা, সাবধান বন্ধু সাবধান নচেৎ মৃত্যু অবধারিত

বর্তমানে দেশে নানা চক্র কাজ করে, যাদের কাজ হচ্ছে আপনার কাছে থাকা সবকিছু হাতিয়ে নিয়ে আপনাকে সর্বসান্ত করা, এমন কি জিনিসপত্র নিতে না পারলে আপনাকে তারা মেরেও ফেলতে পারে। বাসে নাকি এই ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। যারা সুযোগ বুঝে প্রথমে আপনার পাশে খালি সিটে এসে বসে তারপর অবস্থা বুঝে ব্যাবস্থা করে।

আমার এক বন্ধু নারায়ণগঞ্জ থেকে বাসে করে ঢাকা আসছিলেন। পথে মধ্যে হঠাৎ তার পানির পিপাসা লাগল।  গাড়ির সমস্যার কারনে গাড়ি যখন কিছু সময়ের জন্য বিরতি নিল, সেই সময় সে মনে করল একটি ডাব খাবে। খুব ভাল কোন সমস্যা হওয়ার তো কথা না কারণ ডাব অনেক সেফটি একটি জায়গায় থাকে যেখানে কোন কিছু মিক্সড করা সম্ভব না। ডাব ওয়ালা সামনেই

Food-Poisoning.jpg

ডাব কাটল এবং তাকে খেতে দিল এবং সাথে একটি পাইপ ও দিল যাতে ডাবের পানি সহজে খাওয়া যায়। আমার বন্ধু ডাব খাওয়ার পরে টাকা দেওয়ার সাথে সাথে কেমন যেন ঘুমঘুম ভাব চলে আসল এবং সে সামনের সিটে মাথা দিয়ে  ঘুমিয়ে পড়ল এবং তারপর তার আর কিছু মনে নেই।

বাসের কোন মানুষ তার সাহায্যে এগিয়ে আসে নাই এমনকি বাসের ড্রাইভার কন্ট্রাক্টর ও না কারন তারা মনে করেছিল এটা পুলিশ কেস। বাসের লোকজন পুলিশকে খবরদিলে পুলিশ আমার বন্ধুকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে দেয়।

গত দুই দিন ধরে আমার বন্ধু ঘুমিয়ে ছিল তাহলে চিন্তুা করেন কত শক্তিশালী ঘুমের বড়ি। পরে তদন্দ সাপেক্ষে জানা গেল যে, ডাবের ভিতরে কিছু মিশানো হয়নি বরং গুড়া দেওয়া ছিল পাইপে। পাইপটা যখনই ডাবের সাথে মিশালো তখনই ঘুমের শক্তিশালী অষুধ ডাবের পানির সাথে মিশে যায় এবং বিষক্রিয়া শুরু করে। বিষাক্ত জিনিসের ডোজ একটু বেশী হলে মানুষ মারাও যেতে পারে। পরে আরো জানা যায় এটা একটি বড় গ্রুপ এবং এলাকার আসে পাশে সাইনবোর্ড দেওয়া ছিল এখানে ডাব খাওয়ার আগে সাবধান হোন। কিন্তু আমার বন্ধু গাড়ীতে থাকার কারনে সে সাইনবোর্ড দেখতে পায়নি।

যাহোক আমার বন্ধু যখন প্রথম চোখ খুলল তখন তার ক্রেডিট কার্ডের কথা মনে পড়ে কারন তার মানিব্যাগে একটি ক্রেডিট  কার্ডও ছিল । তার সাথে একটি ব্যাগছিল এবং ব্যাগে কিছু টাকা রাখা ছিল। তার ব্যাগ নেই কিন্তু অন্য একটি কমদামি ব্যাগ ছিল। জানিনা কেন তার কমদামি ব্যাগটি রেখে গিয়েছি। তার কাছে একটি দামি মোবাইল ছিল সেটাও নাই। তাও ভাগ্য ভাল যে জামা কাপড় নেয় নাই। জামাকাপড় এবং জুতাও তো খুলে নিতে পারত।

একই রকমভাবে অন্য একটি ঘটনা ঘটেছিল আমার অন্য এক বন্ধুর সাথে সে যখন বাসে উঠল তখন তার সমবয়সী কিছু ছেলে তার সাথে কথা বলা শুরু করল। যেমন ভাই কি করেন? বাসা কোথায়? ইত্যাদী নানা রসালো আলাপ করা শুরু করলো আর সাথে সাথে তার কিছু খাবার বের করে খাওয়া শুরু করল এবং খাওয়ার জন্য তাকেও অফার করল। প্রথমে সে ভাবল সে খাবেনা কিন্তু তাদের পিড়াপিড়িতে শেষ পর্যন্ত খেতে বাধ্য হলো। তারা যা খাচ্ছিলো সেও সেটাই খেল যেমন পাওরুটি এবং জুস। কিন্তু আমার বোকা বন্ধু বুঝল না এই খাওয়াই তার সর্বনাশ ডেকে আসবে। তাছাড়া তার খিদাও লেগেছিল। সময়টা ছিল আনুমানিক দুপুর ২ টা। খাওয়ার সাথে সাথে তার কেমন যেন অসুস্থি লাগা শুরু করল এবং এমন ভাবে মাথা ঘুরা শুরু করল যে তার কাছে মনে হতে লাগল যেন ভুমিকম্প হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত তার মনে হতে লাগল যেন সে জীবন্ত বোবা তার চোখে মুখে শরিষার ফুল দেখতে লাগল । তার মুখদিয়ে ফেনা বের হতে লাগলো এবং তার আশেপাশে কি হচ্ছে না হচ্ছে কিছুই তার মনে ছিল না। পরে নটরড্যাম কলেজের কিছু শিক্ষার্থী তার আইডি কার্ড দেখে তাকে বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। পরিশেষে ডাক্তার তার পেট পরিস্কার করার পর এবং অনেক পানি পান করার পর সে কিছুটা সুস্থ হয়। তবে তার জন্যও তার ৭ দিন সময় লাগে।

এই রকম প্রতিনিয়ত ঘটনা একটির পর একটি ঘটেই চলছে।  অন্য একটি গ্রুপ আছে তার নাকি চোখে মলম লাগায় আর আপনার চোখ প্রায় অন্ধের মত হয়ে যায়। আপনি চোখে কিছুই দেখতে পাবেন না। আর এর মাধে দুষ্ট চক্র আপনার সবকিছু আপনার সামনে দিয়েই নিয়ে যাবে আর আপনি কিছুই করতে পারবেন না।

অন্য আরো একটি গ্রুপ এর কথা শুনেছিলাম তার আপনার নাকে রুমাল ধরতে পারে আর সাথে সাথে আপনি অজ্ঞান হয়ে যাবেন এবং দুষ্ট চক্র আপনার সাথে থাকা সবকিছুই নিয়ে নিবে আর আপনার কিছুই করার থাকবে না।

কাজেই বাস বা ট্রেনে উঠে অপরিচিত কারো দেওয়া কোন কিছু খাবেন না। যদি খান তাহলে আপনার উপরে উল্লেখিত দুর্ঘটানা ঘটতে পারে। তখন হায় হায় করেও কোন লাভ হবে না। আপনি বিশ্বাস করেন কিনা জানিনা বর্তমানে ধনী বা গরীব সবাই এই ফাঁদে পা দিচ্ছে। বাচেতে হলে আপনাদের আরো সতর্ক হতে হবে না হলে বাঁচার কোন উপায় নেই। সাবধান বন্ধু সাবধান নচেৎ মৃত্যু অবধারিত কেউ আপনাকে বাঁচাতে আসবে না কারন সবাই প্রচন্ড ভয় এর মধ্যে দিন কাটায়।

আপনি ভালো আছেন?

Now Reading
আপনি ভালো আছেন?

আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় আপনি কেমন আছেন? অনেক ক্ষেত্রেই আপনি বলেন “নারে ভাই! খুব একটা ভালো নেই।” আপনি কী একবারও ভেবে দেখেছেন আপনি আসলেই ভালো আছেন অথবা ভালো নেই? আমি বলবো আপনি এটা কখনোই ভেবে দেখেননি। আপনি যদি একটিবার গভীরভাবে চিন্তা করে দেখতেন যে, আপনার সৃষ্টিকর্তা আপনাকে কতটা ভালো রেখেছেন তাহলে আপনি যে অবস্থাতেই থাকেন না কেন আপনি অবশ্যই বলতেন “আমি খুব ভালো আছি।”

এবার আসুন কিভাবে নিজেকে ভালো ভাবা যায় তা নিয়ে কিছু কথা। ধরুন আপনি জ্বরে আক্রান্ত। এমন সময় আপনাকে যদি কেউ জিজ্ঞেন করে আপনি কেমন আছেন? নিশ্চই আপনি তাকে মনে মনে হোক অথবা সরাসরি হোক তাকে গালিগালাজ করবেন। কিন্তু আমি বলবো সেই মুহূর্তেও আপনার ভাবা উচিৎ যে আপনি অনেক মানুষের চাইতে ভালো আছেন এমনকি খুবই ভালো আছেন কারন আপনার চিন্তা করে দেখা উচিৎ যে, সেই মুহূর্তে হাজারো মানুষ হাসপাতালে এমন রোগে কাতরাচ্ছে যার কোন প্রতিকারই হয়তোবা নেই। হয়তোবা ডাক্তার তাকে শেষ বারের মতো বলে দিয়েছেন যে তিনি আর বাঁচবেন না। সেই সমস্ত মানুষগুলো বেঁচে থাকার তীব্র বাসনা নিয়েও নিশ্চিত মৃত্যুর জন্য দিন গুনছেন। তাহলে একবার ভেবে দেখুন আপনিতো সামান্য জ্বরে ভুগছেন। হয়তো দুই এক দিনেই সম্পূর্ণ  সুস্থ হয়ে যাবেন। তাহলে আপনি কী তাদের চেয়ে অনেকাংশেই ভালো নেই? অবশ্যই ভালো আছেন। আর একটু আধটু সমস্যা তো মানবজীবনে থাকবেই। সমস্যা আছে বলেই তো জীবনটা এতো সুন্দর!

আমরা যখন রাস্তা দিয়ে চলি তখন অনেক ভিক্ষুকের সাথেই আমাদের দেখা হয় যাদের হাত-পা কোনটাই নেই। পড়ে আছেন রাস্তায়। কীই বা রোদ আর কীই বা বৃষ্টি। কোন আশ্রয় নেই, সঙ্গী নেই, ভালো লাগা নেই, নেই কোন মানুষের সুদৃষ্টি। একটিবার যদি তাদের দিকে তাকিয়ে নিজকে প্রশ্ন করেন আপনি কেমন আছেন? আপনার বিবেক অবশ্যই উত্তর দেবে আপনি অসংখ্য মানুষের চেয়ে ভালো আছেন। আপনি যদি নিজেকে ঐ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারেন আর যদি ভাবতে পারেন আপনি যদি ঐ পর্যায়ে থাকতেন তাহলে কেমন হতো? বিধাতা কিন্তু আপনাকে-আমাকে ঐ পর্যায়ে রাখতে পারতেন! অনেক মানুষ একটা বয়স পর্যন্ত সুস্থ থাকেন হঠাৎ কোন একটা দুর্ঘ টনায় সব কিছু হারিয়ে নিঃস হয়ে যায়। তাহলে ভাবুন তারা কী আগের দিনও জানতো সে সবকিছু হারাবে? জানতো না। আবার সব কীছু হারানোর পরেও কিন্তু সে ভাবতে পারে যে এখনো বেঁচে আছে। এই বেচে থাকার জন্য হাসপাতালে কত মূমূর্ষ রোগী মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে। সুতরাং জীবনের অনেক বাস্তবতার কথা চিন্তা করে আমাদের অবশ্যই নিজেকে সুখী ভাবা উচিৎ।

জীবনে হয়তোবা কিছু সমস্যা আছে এবং তা থাকবেই। কিন্তু আমরা কী কখনো জীবনের ভালো দিক গুলো নিয়ে ভেবে দেখেছি? যেমন আমাদের বিয়ের পরের দাম্পত্য জীবনের কিছু সুখময় স্মৃতি, কিছু আনন্দ। একবারও কী ভেবে দেখেছেন? আমরা কিন্তু এসব সুখের জন্য বিধাতার কাছে জন্মের আগে দরখান্ত করেছিলামনা। বিধাতা সৃষ্টিজগৎ সৃষ্টি করার সময় তার নিজ ইচ্ছাতেই পৃথিবীর সুখগুলো দিয়েছেন যেমন সুন্দর প্রকৃতি, ফুল, সুস্বাদু ফল, সৃন্দর বিস্তৃত আকাশ ইত্যাদি। তাহলে কি আমরা কিছুটা সুখের জন্য কিছুটা দুঃখ আনন্দচিত্তে গ্রহন করতে পারবো না? অবশ্যই পারবো।

আমরা অনেক সময়ই নিজের পেশা নিয়ে চিন্তিত বা অসন্তুষ্ট থাকি। যেমন আপনি সরকারি চাকরি পান নি বিধায় কোন বেসরকারি চাকরি করছেন। আপনি বোধহয় ভেবে দেখেননি সরকারি চাকরিজীবীদের অধিকাংশই আপনার চেয়ে কম বেতনে সংসার চালান। তারা চাকরি শেষে হয়তো অনেক টাকা পাবেন কিন্তু জীবনের শেষ পর্যায়ের চেয়ে যুবক বয়সে টাকার প্রয়োজনটা অনেক বেশি তাতে আপনি জীবনটাকে ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবেন। আর আপনি যদি নিজেকে অন্যান্য বেসরকারি চাকরিজীবীদের চেয়ে নিজেকে ছোট মনে হয় তাহলে আপনি যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন সেই প্রতিষ্ঠানের দ্বাররক্ষী বা দারোয়ানের দিকে একবার তাকিয়ে দেখুন। কত কষ্ট করেন তিনি! তিনি কতটা সামান্য বেতনের জন্য কতটা বেশি কষ্ট করেন তাকি একবার ভেবে দেখেছেন? যদি নিজেকে তার সাথে তুলনা করেন তাহলে বোধ হয় আপনিই বুঝতে পারবেন আপনি কতটা সুখী মানুষ।

আমরা অনেকেই শরীরের রং কালো বলে নিজেকে নিয়ে অনেকটা অসন্তুষ্ট। কিন্তু আমাদের গায়ের রং কালো এটা মোটেও কোন বিষয় নয় কারণ মানুষকে বিচার করা হয় তার অন্তর দিয়ে। আমার গায়ের রং কেমন সেটা না ভেবে আমার ভাবা উচিৎ আমার মন মানসীকতা কতটা সুন্দর করে আমি সাজাতে পেরেছি। আমি কী মানুষের দোষগুলো খুজে খুজে তাকে খারাপ ভাবি নাকি মানুষের ভালো গুণগুলো বেছে নিয়ে সবাইকে ভালো ভেবে পৃথিবীর সবকিছুকে সুন্দর ভেবে সবকিছুকে সুন্দর দৃষ্টিকোন থেকে বিচার করেছি? এগুলোই হলো আমার-আপনার প্রকৃত প্রতিবিম্ব। আমাদের উচিৎ প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করা আমি কী গতকালের চেয়ে আজ ভালোভাবে চলেছি? আমাদের সব সময় মনে রাখা উচিৎ যে, গতকালের চেয়ে আজকের দিনটা যদি সামান্য হলেও বেশি ভালোভাবে না চলি তাহলে আমাদের জীবন ব্যর্থ। অর্থাৎ আমাদের প্রত্যেকেরই চেষ্টা করা উচিৎ আমরা যেন প্রতিদিন ক্রমান্বয়ে ভালো হয়ে চলার চেষ্টা করি। তাহলেই আমরা দেখবো আমাদের গায়ের রং অথবা চেহারা যাই হোকনা কেন পৃথিবীটা যেমন অনেক সুন্দর আমরাও অনেক সুন্দর কারন বিধাতা সকল মানুষকেই একটা সুন্দর অবয়বে সৃষ্টি করেছেন।

 

তাহলে আমরা এখন থেকে নিজেকে সুখী ভাবার চেষ্টা করবো। এতদিন আমরা সুখে থাকার চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি। কারন সুখে থাকাটা অনেক কঠিন। কিন্তু নিজেকে সুখী ভাবা অনেক সহজ। আর জীবনে সুখে থাকার জন্য প্রধান হাতিয়ারই হলো নিজেকে সুখী ভাবা।

জীবনে সফল হওয়ার কৌশল

Now Reading
জীবনে সফল হওয়ার কৌশল

মানুষের জীবনে সময় অতী মূল্যবান তাই সময়ের সৎ ব্যাবহার করা প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর জন্য অপরিহার্য। একজন ভাল ছাত্র বা ছাত্রী হতে হলে প্রথমে একজন ভাল মানুষ হওয়া দরকার। ছাত্রছাত্রীদের উচিৎ সর্বদা সত্য কথা বলা, সৎ কাজ করা এবং অসৎ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং সময়মত নামাজ কায়েম করা অপরিহার্য।

ছাত্রছাত্রীদের ভাল বন্ধু অতী জরুরী কারন একজন ভাল বন্ধু যেভাবে একজন ছাত্রকে প্রভাবিত করে একজন অভিভাবকও অনেকসময় তা পারে না। পড়াশুনার পাশাপাশি প্রথম থেকে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার যেমন প্রচুর পড়াশুনা করা, সময় অনুযায়ী সকল কাজ সম্পন্ন করা, বড়দের শ্রদ্ধা করা, ছোটদের স্নেহ করা, বড়দের কথা শোনা, ভাল কাজে আগ্রহী হওয়া, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং দুর্বলদের সাহায্যে এগিয়ে আসা।

রেজাল্ট খারাপ হয়েছে এই জন্য মন খারাপ না করে বরং ভাল করে পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়া দরকার। এবং যেই অংশটি আপনি বুঝতে পারছেন না যেই অংশটি অন্য কারো কাছ থেকে ভালকরে বুঝে নেওয়া দরকার।  এর পাশাপাশি শিক্ষকদের সহোযোগীতা নেওয়া অতী জরুরী। শিক্ষকদেরও উচিৎ যারা ভাল বুঝে তাদের জন্য সময় বরাদ্দ করার পাশাপাশি যারা কম বুঝে তাদেরকেও যথাসম্ভব সাহায্য করা।

অপরদিকে ছাত্রছাত্রীদের বয়স কম বিধায় খারাপ জিনিসের প্রতি আসক্তি হওয়ার সম্ভবনা থাকে তাই অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে। যখন একজন ছেলে বা মেয়ের টাকার দরকার হয় তখন অভিভাবকদের উচিৎ প্রয়োজনে টাকা দিয়ে সাহায্য করা। এবং কি কারনে টাকা দরকার সেই বিষয়টি জানা। এছাড়া পড়াশুনা চলাকালীন তার হাত খরচ দিতে হবে। অনেক সময় ছোট ছেলে মেয়ে কিছু কিনতে চাইলে অভিভাবকরা এড়িয়ে চলেন এটা ঠিক না বরং যতদুর সম্ভব তাকে কমের মধ্যে কিছু কিনে সান্তনা দেওয়া উচিৎ তানাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে এবং   সন্তুানেরা বিপথে যেতে পারে তাই সময় থাকতেই সাবধান।

মাঝে মাঝে ছেলে মেয়েদের শাসন করাও দরকার কারন তারা বুঝে না। না বুঝে বোকার মত একটি কাজ করে বসে। তারা গেমস খেলতে চায়, গান দেখতে চায়, গান শুনতে চায়, বাহিরে বেরাতে যেতে চায়, মোবাইলে বন্ধুর সাথে কথা বলতে চায়, সিনেমা দেখতে চায়, ইন্টারনেটে ইউটিউব ভিডিও দেখতে চায়, নাটক দেখতে চায়, মারামারি করতে চায় ইত্যাদি আরো কত কিছু যে করতে চায় তা বলে বুঝানো যাবে না।  সবকিছুর জন্য একটি সময় বেঁধে দিন যেমন তুমি বিকাল বেলায় বন্ধুদের সাথে খেলতে পারবে কিন্তু সন্ধ্যার সময় পড়তে বসতে হবে। আবার অনেকের দুপুরে না ঘুমালে রাতে পড়তে পারে না তবে বেশী রাত জাগা উচিৎ না। বেশিী রাত জাগলে একজন ছাত্র বা ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার স্বরনশক্তি লোপ পেতে থাকে। তাই রাত ১২ টার আগে বিছানায় যাওয়া অতী জরুরী একটি বিষয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে পড়লে পড়াটা মনে থাকে। তাই কেউ যদি ১০ টায় ঘুমিয়ে ৫ টায় উঠে পড়তে পারে তাহলে খুব ভাল হয়। তবে অনেকে আছে রাত ১০ টায় ঘুমালেও সকাল ৮ টার আগে ঘুম থেকে উঠতে পারে না, এটা ঠিক নয়।

ছাত্রছাত্রীদের বেশী জোরে না পড়ে মিডিয়াম আওয়াজে পড়াশুনা করার অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার। কারন বেশী জোরে পড়াশুনা করলে ব্রেনের উপরে বেশী চাপ পড়ে এবং আসে পাশের লোকজন বিরক্ত হয়। বেশীক্ষন কম্পিউটার নিয়ে বসে থাকলেও চোখের উপর চাপ পড়ে এবং পরিশেষে চশমা ব্যাবহার করতে হতে পারে। এমনকি অতিরিক্ত চাপে ছাত্রছাত্রীদের চোখও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই সময় থাকতেই সাবধান হতে হবে। খারাপ কাজের প্রতি আসক্তি পরিত্যাগ করতে হবে।

পরীক্ষার জন্য ছাত্রছাত্রীদের রুটিন মাফিক পড়াশুনা করা উচিৎ। এর পাশাপাশি প্রতিদিন কি কাজ বা পড়াশুনা করবে তার একটি রুটিন করে সেই অনুযায়ী কাজ করলে ভাল ফলাফল পাওয়া যায়। যেমনঃ সকালে ইংরেজী গ্রামার পড়বো, বিকালে কম্পিউটারে কাজ করব বা বাংলা টাইপ শিখব, রাতে অংকের ২ নম্বর অধ্যায় রিভাইজ দিব ইত্যাদী।

Success-Story-Bjpg-816x459.jpg

ছাত্রছাত্রীদের মোবাইলে বেশীক্ষণ কথা বলা উচিৎ না বরং তারা গ্রুপ গ্রুপ করে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারে।কয়েকজন ভাল ছাত্র বা ছাত্রী মিলে পড়াশুনা করলে ভাল ফল পাওয়া যেতে পারে তবে কোন আড্ডাবাজি চলবে না পড়ার সময় শুধু পড়াশুনা চালিয়ে যেতে হবে। শিক্ষকদের সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন হলে তা জরুরী ভিত্তিতে করা উচিৎ কারন একজন শিক্ষক যেভাবে বুঝাতে পারবেন অন্য কেউ সেভাবে নাও বুঝাতে পারেন। তবে হাল ছেড়ে দেওয়া উচিৎ হবে না সবসময় চেষ্টা করে যেতে হবে। চেষ্টা করলে সোনার হরিণ একদিন না একদিন ধরা পড়বেই।

পরিশ্রম করতে হবে বুঝেশুনে অর্থ্যাৎ না বুজে তোতা পাখির মত মুখস্থ করলেও তেমন কাজ হবে না প্রতিটি জিনিস সম্পূর্নভাবে বুঝতে হবে তবেই সফলতা আসবে। ভাল নোট সংগ্রহ করতে হবে। সমসময় অভিভাবকদের সাথে কথা বলতে হবে এবং নানা বিষয়ে আলোচনা করতে হবে। কোন কিছু না বুঝলে শিক্ষকদের কাছে বারবার জিজ্ঞাসা করতে হবে এবং পড়া আদায় করে নিতে হবে। কোচিং এ না বুঝলে বাসায় শিক্ষক রেখে বুঝতে হবে। এই বিষয়ে অভিভাবকদের এগিয়ে আসা দরকার। তবে বেশী চাপ দেওয়া উচিৎ হবে না। অভিভাবকরা যতই চাপ দিক না কেন ছাত্র কতটুকু বুঝল সেটা হচ্ছে আসল বিষয়।