মহা মূল্যবান ক্রিপটোকারেন্সী বিটকয়েনের জনক সাতোসি নাকামোতো।

Now Reading
মহা মূল্যবান ক্রিপটোকারেন্সী বিটকয়েনের জনক সাতোসি নাকামোতো।

সাতোসি নাকমোতো ২০০৮ সালে প্রথম পিয়ার টু পিয়ার পদ্ধতিতে ডিজিটাল কারেন্সী বিটকয়েন ধারনাটি উদ্ভব করেন।অনলাইন জগতে ৯ জানুয়ারী ২০০৯ সালে এটি আত্নপ্রকাশ করে।সাতোসি নাকামোতো একজন জাপানী নাগরিক।। ১৯৭৫ সালের ৫ এপ্রিল তার জন্ম। ক্রিপটোগ্রাফী, ডিজিটাল কারেন্সী এবং কম্পিউটার সাইন্স নিয়ে তিনি লেখাপড়া করেছেন।তার ব্যাক্তিজীবন নিয়ে কোন তথ্য এখনো জানা যায়নি।

বিটকয়েন আবিষ্কারের পর থেকে বহু বছর ধরে এর আবিষ্কারকে মিডিয়া খুজে বেড়াচ্ছিল। কোন ভাবেই তাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সাতোসি নামামোতো একজন রহস্যময় মানব। তিনি কোনভাবেই নিজেকে আত্নপ্রকাশ করতে উৎসাহী নন।তিনি সর্বদাই আন্ডার গ্রাউন্ডে থাকতে পছন্দ করেন।কারণ বিটকয়েন এত বেশী জনপ্রিয়তা পেয়েছে যে, বড় বড় অর্থনীতি বিদ এবং ব্যাংকারের মাথা ব্যাথার কারন হয়ে দাড়িয়েছে।আর একটি কারন হলো, ব্যাংকিং সেক্টর চাইবে না বিটকয়েন পপুলার হয়ে যাক। যেহেতু বিটকয়েনের কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থ্যা বা নিকাশ ঘর নেই।সাতোসি নাকামোতো মনে করতেন, তার পরিচয় ফাঁস হয়ে গেলে তাকে হয়তো অবমূল্যায়ন করা হবে।

বিশ্বের বড় বড় গোয়েন্দ সংস্থ্যা এবং সাংবাদিকেরা, একটা সময় বিটকয়েনের মালিককে খুজে বের করার জন্য তৎপরতা শুরু করে। এবং তারা একটা সময় ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসরত এক ব্যাক্তি যার নাম ডোরিয়েন নাকামোতো, তাকে বিটকয়েনের আবিষ্কারক হিসাবে সনাক্ত করে। ডোরিয়েন নাকামোতো সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে বলেছিলেন, তিনি জীবনে কোনদিন বিটকয়েনের নামই শোনেন নি।এভাবে তারা আরো অনেককে সাতোসি নাকামোতো হিসাবে সনাক্ত করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু সফল হয়নি।সাতোসি নাকামোতো কখনো তার নিজের কোন ইনফরমেশন প্রকাশ করতেন না।

২০১২ সালে পি টু পি ফাইন্ডেশন প্রোফাইলে তিনি উল্লেখ করেন, তার বয়স ৩৭ বৎসর জাপানে বসবাস করতেন।তার ইংরেজী উচ্চারন সঠিক ও শুদ্ধ, বিটকয়েন সফটওয়ার জাপানী কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তৈরী করা নয়, এ দুটি বিষয় বিবেচনয়ায় বিশেষজ্ঞগণ নিশ্চিত হন তিনি জাপানি নন।উচ্চারণে বৃটিশ ইংরেজীর টান থাকায়, মনে করা হয় তিনি কমনওয়েলথ ভুক্ত কোন দেশের নাগরিক।বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থ্যা এবং মিডিয়া, কিছু কিছু লোককে সাতোসি নাকামোতো ভেবে ভুল করেছেন। সাতোসি নাকামোতো একজন দক্ষ এবং ব্রিলিয়ান্ট কোডার। তিনি তার কোডিং জ্ঞানের মাধ্যমে বিটকয়েন সার্ভার পরিচালনা করে থাকেন।তার নিজের পি টু পি একাউন্টে প্রায় এক মিলিয়ন বিটকয়েন আছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩৫০০ মিলিয়ন ডলার।তিনি যদি এই বিপুল পরিমান বিটকয়েন বাজারে ছাড়েন, তাহলে তিনিই হবেন বিশ্বের সেরা ধনীদের মধ্যে একজন।

কিন্তু আগেই বলেছি তিনি একজন রহস্যমানব, রহস্যজনক কারনে তিনি এত বিপুল পরিমান বিটকয়েন বাজারে ছাড়ছেন না।বিটকয়েনের অসাধারন ক্ষমতার কারনে, বিশ্ব নোবেল কমিটি সাতোসি নাকামোতোকে ২০১৬ সালে পুরষ্কারের জন্য মনোনীত করেছিল। বিটকয়েনের ব্যাবহার বেশী হয় ডিপ ওয়েব বা সিল্করোড সার্ভারের ব্ল্যাক মার্কেট গুলোতে।টেরোরিষ্ট এবং ড্রাগ ডিলারদের পছন্দের কারেন্সী এই বিটকয়েন।বিটকয়েন এমনই একটি কারেন্সী যা অতিমাত্রায় স্বাধীন। সাতোসি নাকামোতো সকল মনিটরিং সিস্টেম এবং তদারকীকে পাশ কাটিয়ে বিটকয়েনের উদ্ভব করেন।বর্তমান বিশ্বে সেন্ট্রাল ব্যাংক, বিশ্ব ব্যাংক এবং সরকারী যেসব তদারকী চালু আছে, বিটকয়েন প্রতিষ্ঠিত হলে সব তদারকী ব্যাবস্থ্যা ভেংগে পড়বে।

তারপরও বিটকয়েনের লাগামহীন জনপ্রিয়তাকে মেনে নিয়ে, কিছু উন্নত রাষ্ট্র বিটকয়েন ব্যাবহারকারীদের নিবন্ধন প্রকৃয়া চালু করেছে।সাতোসি নাকামোতো সম্পর্কে যতটুকু জানা গেছে তার সবটাই পি টু পি ওয়েব সার্ভারের তথ্যের উপর ভিত্তি করে। সাতোসি নাকামোতো আসলেই কি বিটকয়েনের মালিক কি না, অথবা ওয়েব সাইটে যার ছবি আমরা সাতোসি নাকামোতো হিসাবে পেয়েছি, সে আসল মালিক কিনা, এটা এখনো নিশ্চিত নয়।তারপরও এই ডিজিটাল কারেন্সীটি, যে রেভুলেশন ঘটিয়ে যাচ্ছে সেটাই এখন বিবেচ্য বিষয়।নিয়ন্ত্রন না থাকার কারনে যে কেউ মাইনিং এর মাধ্যমে বিটকয়েন উৎপাদন করতে পারে। তার জন্য প্রয়োজন ইন্টারনেট কানেকশন এবং কম্পিউটার।

এক হিসাবে দেখা যায়, এক জন ব্যাক্তি যদি শুধু বিটকয়েন মাইনিং এর কাজে নিয়োজিত থাকে,তবে সে এক বৎসর সময়ের মধ্যে একটি বিটকয়েন বানাতে পারবে। যার বাজার মূল্য ৩০০০ ডলার।বিটকয়েনের ক্ষুদ্রতম একক হলো সাতোসি।দশ কৌটি সাতোসি সমান এক বিটকয়েন।সাতোসি নাকামোতো এমন একটি সিস্টেম করেছেন, বিটকয়েন যেন অবমূল্যায়ন না হয়।তার জন্য সে প্রতি চার বৎসর অন্তর অন্তর উৎপাদিত বিটকয়েন অর্ধেকে নামিয়ে আনেন বা বাজার মূল্যের সাথে সামাঞ্জস্য করেন। এ প্রকৃয়াটিও অটো ওয়েব সার্ভারের মাধ্যমে হয়ে থাকে।সাতোসি নাকামোতো বিটকয়েনকে এমন একটি আনব্রেকএবল ক্রিপটোগ্রাফিক সীস্টেমের মাধ্যমে কোডিং করেছেন, যা হাইলি সিকিউরড্।কোন ভাবেই এটি চুরি বা হ্যাকিং করা সম্ভব নয় বা হ্যাকিং এর প্রয়োজনও পড়ে না। আপনার বিটকয়েন প্রয়োজন ? মাইনিং করে প্রয়োজন মতো উৎপাদন করুন। কোন লিমিটেশন নেই, কোন তদারকী নেই,কোন জবাবদিহিতা নেই।প্রত্যেক গ্রাহকের বিটকয়েন ওয়ালেট ডিজিটাল সিগনেচার দ্বারা ভেরিফাইড।ওয়ালেটের মালিক ব্যাতিত অন্য কেউ তা ব্যাবহার করতে পারবে না।বিশ্ব অর্থনীতি এখন ডিজিটাল কারেন্সী নির্ভর।বিটকয়েন হচ্ছে, সকল কারেন্সীর রাজা।ডিজিটাল ক্রিপটোকারেন্সীর জনক সাতোসি নাকামোতোর অবস্থান বা পরিচয় জানাটা এ মূহুর্তে খুব জরুরী বিষয় নয়, জরুরী বিষয় হলো ক্রিপটো কারেন্সীর রেভুলেশনের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিকে সামাঞ্জস্যপূর্ণ করা।সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখা।এখন দেখার বিষয়, বিটকয়েনের মূল্য কি পরিমান বৃদ্ধি পায়? বিশেষজ্ঞ মহল ধারনা করছেন ২০১৭ সালের ডিসেম্বর নাগান এর মূল্য ৫০০০ ডলারে উন্নিত হবে।

তথ্য সূত্র:ফেইসবুক বিটকয়েন মাইনিং গ্রুফ,উইকিপিডিয়া,গুগল,ইউটিউব।

মনোযোগ দিয়ে অপরের কথা শ্রবণ করা মানে তাঁকে সম্মান দেখানো।

Now Reading
মনোযোগ দিয়ে অপরের কথা শ্রবণ করা মানে তাঁকে সম্মান দেখানো।

আমরা প্রতি নিয়ত গল্প গুজব করে থাকি, আড্ডা দিয়ে থাকি। গল্পের আলোচ্য বিষয় থাকে রাজনীতি, নাটক, সিনেমা, সমসাময়িক ঘটনা ইত্যাদি। কিন্তু একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন, কিছু ব্যাক্তি আছে বিজ্ঞের মতো বক্তৃতা দিয়েই (কথা বলে) যাচ্ছে অন্যের কথা শুনছে না বা কর্ণপাত করছে না।বা অন্যকে কিছু বলার সুযোগ দিচ্ছে না।আমরা প্রতিনিয়ত একই বিষয় বিভিন্ন জনের মুখে যখন শুনতে পাই তখন তাকে থামিয়ে দিয়ে বলি, জানি এটা, এটা এমন, ওটা এমন। তখন ঔ ব্যাক্তিটার মন ক্ষুন্ন হয়। মনে করুন, আপনি একই গল্প একশ জনের কাছ থেকে একশ বার শুনেছেন। একশ জনকে বলার সুযোগ দিয়েছেন। কাউকে থামিয়ে দেন নি। সম্পূর্ণ গল্পটিই বার বার শুনেছেন।ফলাফল কি হবে ? ঐ একশ জনের কাছে আপনি প্রিয় পাত্রে পরিণত হবেন। আবার কেউ কিছু বলা শুরু করেছে, তাকে ভুলেও থামিয়ে দেবেন না অথবা তার কথার মধ্যে অন্য কোন প্রসংগ উত্থাপন করবেন না।যদি তার কথায় অমনোযোগী হন, অথবা অন্য প্রসংগে চলে যান তবে সে মনে করবে তাকে অবহেলা করছেন।

প্রায়ই দেখা যায়, আপনি একজনের সাথে খুব গুরুত্বসহকারে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, সে তখন, আলোচনার মধ্যে মধ্যে ফোনে কথা বলছে অথবা তার পাশ্ববর্তী কারো সাথে অন্য বিষয় নিয়ে কথা বলছে, এতে করে আপনার মনের অবস্থা কেমন হবে একবার ভাবুন তো।প্রত্যেকটা ব্যাক্তির ব্যাক্তিত্ব আছে। সে হোক বড় লোক, হোক গরীব লোক। কথা বলা এবং শোনার অধিকার সবার আছে। কথা বলতে পারলে মনটা হালকা হয়, তেমনি কথা শুনলে অপরের প্রতি আপনার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে।

আমরা আমাদের ছাত্রজীবনে দেখেছি শিক্ষক ক্লাসে পড়ে শুনাতেন তারপর বুঝিয়ে দিতেন। শিক্ষকের বুঝিয়ে দেওয়া পড়াটি পরবর্তীতে শিখতে বা মনে রাখতে খুব বেশী কষ্ট হতো না।এবং সেটা অনেকদিন মনে থাকতো। পরীক্ষার খাতায় অনায়াসে লেখাও যেত।শ্রবণ করা একটি বড় গুন। যথাযথভাবে শ্রবণ করলে তা সঠিক ভাবে প্রয়োগ করা যায়। আমরা যদি ভুল শ্রবণ করি তাহলে ফলাফল হয় খুবই মারাত্নক।যেমন মনে করুন, টিভির একটা বিজ্ঞাপনের কথা বলি: স্ত্রী দুর থেকে স্বামী বললো বাজার থেকে হাঁস কিনে আনার জন্য, স্বামী শুনলো বাঁশ। ভাবুনতো ফলাফলটা কি হবে। শুধু শ্রবণ করলেই হবে না হ্রদয়াঙ্গম করতে হবে। অর্থাৎ কনফার্ম হতে হবে।আমরা বিভিন্ন মাহফিলে বা মিটিং এ জ্ঞানী ব্যাক্তিদের কথা শ্রবণ করতে যাই। কারন কি ? তাদের কথার মধ্যে দিক নির্দেশনা থাকে। থাকে বাস্তবতা।

সর্বোপরি থাকে অভিজ্ঞতা। তাদের কথা শ্রবণ করা মানে তাদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান করা। প্রকারান্তে তাঁকে সম্মান করা।কিছু লোক আছে অন্যের কথা বা মতামতকে আমলেই নেয় না বা অবজ্ঞা করে অথবা সরাসরি নাকচ করে দেয়। এটি একটি অত্যন্ত বাজে অভ্যাস। কারো কথা বা মতামত যাচাই বাছাই না করে অবজ্ঞা করার অধিকার কারো নেই।শুধু মাত্র অপরের মতামতকে অসম্মান করার কারনে, আমাদের পরিবারে এবং সমাজে প্রতিনিয়ত ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকে।মত প্রকাশ করা, অপরকে কিছু বলা এবং অপরের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এই তিনটি কাজ খুবই সহনশীল ভাবে করতে হয়। অপরের কথা শোনার সময় মূলত চরম সহনশীলতার পরিচয় দিতে হয়।

আরেকটি খারাপ গুণ, আমাদের মধ্যে আছে তা হলো মতামত চাপিয়ে দেয়া। এক প্রকার জোর করে, না চাইলেও মানতে হয় অপরের মতামত। হোক সেটা সঠিক বা ভুল। এমন ঘটনা পরিবারে বেশী ঘটে থাকে, স্বামী তার স্ত্রীর উপর না চাইলেও কিছু নীতি বা আদর্শ অথবা মতামত চাপিয়ে দেয়। এটি হরহামেশাই ঘটে থাকে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে স্বল্প শিক্ষিত বা অশিক্ষিত পরিবার গুলোতে এমন ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। স্ত্রী গণও স্বামীর বাক্যকে বেদবাক্য জ্ঞান করে, তা মেনে চলে।হরহামেশাই আর একটি ঘটনা ঘটতে দেখা যায়, দুর্বলের উপর সবলের মতামত চাপিয়ে দেয়া। এটাও বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে গ্রামের অশিক্ষিত মানুষের মধ্যে ঘটি থাকে।

গ্রামের কিছু মোড়ল প্রকৃতির সবল ব্যাক্তি, তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এজাতীয় কাজ গুলো হরহামেশা করে থাকে।অপরদিকে আরো কিছু ঘটনা ঘটতে দেখা যায়, ক্ষমতাধর ব্যাক্তি কর্তৃক দুর্বল ব্যাক্তিদের উপর না চাইলেও মতামত চাপিয়ে দেয়া বা মতপ্রকাশের কন্ঠকে রোধ করার মতো ঘটনা।এ জাতীয় ঘটনা গুলো শহরাঞ্চলে ঘটতে দেখা যায়। তখন আর শিক্ষিত এবং অশিক্ষিত কোন ভেদাভেদ থাকে না। বিশেষ করে রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন কিছু ঘটনা ঘটতে দেখা যায়, নেতা নেত্রী বা মন্ত্রী এমপি রা জনগনের মতামতের তোয়াক্কা না করে নিজের হীন স্বার্থ হাসিল করার জন্য গনবিরোধী কিছু কাজ করে থাকে, যা দেশ ও জাতির জন্য অনিষ্ঠকর।পারিবারিক জীবন, সমাজ জীবন এমনকি রাষ্ট্রীয় জীবন প্রতিটি ক্ষেত্রে অপরের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া, মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা সর্বোপরি অপরকে সম্মান করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

বি:দ্র: এ লেখাটি সম্পূর্ণই বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে নেয়া। আমাদের চারপাশের ঘটনাগুলোই এ লেখার তথ্য সূত্র।অনেক গবেষনা এবং চিন্তা ভাবনার ফল হলো আমার এ লেখাটি। অত্যন্ত দু:খজনক হলেও সত্য যে, কিছু লোক সরাসরি কপি করে আমার লেখা সোস্যালমিডিতে পাবলিশ করছে, এতে আমার কোন ক্ষোভ নেই। যদি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতো অথবা তথ্য সূত্র হিসাবে রেফারেন্স দিতো তাহলে ভালো লাগতো নিজের কষ্টটাকে স্বার্থক মনে হতো।ধন্যবাদ মনোযোগ দিয়ে আমার লেখাটি পড়ার জন্য।আশা করি আরো চিন্তা প্রসূত এবং গবেষনা লব্ধ লেখা আপনাদের উপহার দিতে পারবো ইনশাল্লাহ।

মহা মূল্যবান ক্রিপটোকারেন্সী বিটকয়েন যা স্বর্ণের চেয়েও দামী।

Now Reading
মহা মূল্যবান ক্রিপটোকারেন্সী বিটকয়েন যা স্বর্ণের চেয়েও দামী।

প্রথমে আসুন জানার চেষ্টা করি, ক্রিপটোকারেন্সী কাকে বলে ? ক্রিপটোকারেন্সী যার শাব্দিক অর্থ দাড়ায় গুপ্ত ধন বা লুকায়িত অর্থ।ক্রিপটোগ্রাফিক প্রোটকলের মাধ্যমে লেনদেন হওয়া সাংকেতিক মূদ্রাকে বলা হয় ক্রিপটোকারেন্সী । ক্রিপটোকারেন্সী মূলত: লেনদেন হয় ওপেন সোর্স  সার্ভারের এর মাধ্যমে।বর্তমান সময়ের মহা মূল্যবান ক্রিপটোকারেন্সী হচ্ছে বিটকয়েন।

বিটকয়েন কোন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান বা নিয়ন্ত্রনকারী প্রতিষ্ঠান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না, কোন কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এটির নিয়ন্ত্রন করে না বা নিয়ন্ত্রন করার প্রয়োজন পরে না।

বিটকয়েন ধারনাটি প্রথম ২০০৮ সালে ডিজিটাল কারেন্সী (পিয়ার টু পিয়ার মূদ্রা) হিসাবে অনলাইনে আর্বিভূত হয়।এবং ৯ জানুয়ারী ২০০৯ সালে এটি আত্নপ্রকাশ করে।

বিটকয়েনের আবিষ্কারক হলেন সাতোসি নাকামোতো। ১৯৭৫ সালের ৫ এপ্রিল সাতোসি নাকামোতোর জন্ম।তিনি একজন জাপানী নাগরিক।তিনি ক্রিপটোগ্রাফী, ডিজিটাল কারেন্সী এবং কম্পিউটার সাইন্স নিয়ে লেখাপড়া করেছেন।বিটকয়েন একটি সুরক্ষিত সার্ভারের মাধ্যমে মাইনিং প্রকৃয়ায় উৎপন্ন এবং সংরক্ষিত হয়।প্রতি চার বৎসর অন্তর অন্তর উৎপাদিত বিটকয়েন অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয় অথবা বিটকয়েনের সংখ্যা পুন:নির্ধারন করা হয় প্রচলিত মূদ্রার মানের সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য এবং একটা নির্দ্দিষ্ট পরিমান বিটকয়েন তৈরী হয়ে গেলে আর কোন নতুন মাইনিং বা উৎপাদন করা হবে না।মজার ব্যাপার হলো, বিটকয়েন মাইনিং এর মাধ্যমে যে কেউ বিটকয়েন উৎপাদন করতে পারবে। বিটকয়েন উৎপাদনের প্রাথমিক ধাপ হলো সাতোসি উৎপাদন করা।১০,০০,০০,০০০(দশ কৌটি)সাতোসি = ১ বিটকয়েন।বিটকয়েন মাইনিং বা আয় করার অনেক সাইট আছে, যা থেকে মাইনাররা বিটকয়েন উৎপাদন করে থাকে। অনেকে বিটকয়েন ক্রয় করে সংরক্ষন করে রাখে এবং তা দাম বাড়লে বিক্রয় করে।বিটকয়েন উৎপাদনের পর, তা যার যার ডিজিটাল ওয়ালেটে সংরক্ষিত থাকে।একজন গ্রাহক বিটকয়েন ক্রয়-বিক্রয় করতে চাইলে ওয়ালেট টু ওয়ালেট ট্রান্সফার দিয়ে লেনদেন সম্পন্ন করতে হয়।প্রতিটি ওয়ালেট সংরক্ষিত থাকে গোপন অথচ সুরক্ষিত ইলেকট্রনিক সিগনেচারের মাধ্যমে।

বিটকয়েন মাইনিং বা আয় করার কিছু ওয়েব সাইট আছে, যে গুলো দিয়ে মাইনাররা প্রতিদিন সাতোসি এবং বিটকয়েন উৎপাদন করে থাকে।কোন কোন সাইট আছে যা প্রতি এক মিনিট অন্তর অন্তর বিটকয়েন মাইনিং করার সুযোগ দেয়, কোনটি প্রতি পাঁচ মিনিট অন্তর অন্তর, কোনটি প্রতি ঘন্টায় আবার কোন প্রতি ২৪ ঘন্টায়।এ সাইট গুলোর মধ্যে ফ্রি সাইটও আছে, পেইড সাইটও আছে।এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে, একপ্রকার অসাধু ব্যাক্তি বিটকয়েন মাইনিং এর নাম করে পেইড সাইটের মাধ্যমে সরলমনা মানুষদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, তার পর ওয়েব সাইট বন্ধ করে দিচ্ছে।তাই বিশেষজ্ঞের মতামত, মাইনিং বা বিটকয়েন আয় করার সাইটে কাজ করার পূর্বে যাচাই করে নিতে হবে, সে সাইটটি ভেরিফাইড কিনা ? অথবা এর কোন ক্লেইম আছে কিনা?

বিটকয়েন আয়ের জন্য বর্তমান সময়ের কিছু ফ্রি,জনপ্রিয় এবং ভেরিফাইড সাইট হলো: ফ্রি বিটকো ডট ইন, বিটকো ইনকার ডট কম ইত্যাদি।এরা বিগত তিন বৎসর যাবৎ ব্যাবহারকারীদের পেমেন্ট দিয়ে যাচ্ছে এবং কোন ক্লেইম নেই, রেপুটেশনও ভালো।একজন ব্যাক্তি বা মাইনার প্রতি ২৪ ঘন্টায় মাইনিং এর মাধ্যমে ৩০,০০০ সাতোসি থেকে ১,০০,০০০ সাতোসি আয় করতে পারে।মাইনিং এর মাধ্যমে একজন ব্যাক্তি যদি এক বিটকয়েন আয় করতে চায়, তাহলে তার কমপক্ষে এক বৎসর সময় লাগতে পারে।এক হিসাবে দেখা যায়, যদি কেউ এক বৎসরে এক বিটকয়েন আয় করে, তবে তার মাসে আয় দাড়ায় ২২৫ ডলার।১ বিটকয়েন = ২৭০০ ডলার। ভাগ ১২ মাস = ২২৫ ডলার।যা বাংলাদেশী টাকায় দাড়ায় ১৮,০০০ টাকা (প্রায়)। প্রতিটি সাইট থেকে আয়কৃত সাতোসি বা বিটকয়েন একটি বিটকয়েন ওয়ালেটে সংরক্ষণ করে রাখতে হয়।বিটকয়েন ওয়ালেট বা বিটকয়েন এড্রেস হলো একটি সুরক্ষিত রক্ষনাগার যেটা একটি সার্ভারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত এবং পরিচালিত হয়।প্রতিটি ওয়ালেট একটি অটো সার্ভার সিগনেচার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।এই ওয়ালেট গুলো ব্যাবহারকারীরা কিছু প্রকৃয়া সম্পাদনের মাধ্যমে ব্যাবহার করে থাকে। একজন ইচ্ছা করলে, আর একজনের ওয়ালেটে প্রবেশ করতে পারবে না।এমনই কিছু বিটকয়েন ওয়ালেট এড্রেস হলো: কয়েন বেইস ডট কম, লোকাল বিটকয়েন ডট কম ইত্যাদি।

বিটকয়েনের জনপ্রিয়তা এবং ব্যাবহার এতই দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার সাথে পাল্লা দিয়ে অন্যকোন কারেন্সী দাড়াতে পারছে না। গত ২০১৬ সালের জানুয়ারী মাসে এক বিটকয়েনের মূল্য ছিলো ৪২০ ডলার তা এখন বেড়ে দাড়িয়েছে ২৭০০ ডলারের মতো(৩০ জুলাই ২০১৭ এর হিসাব অনুযায়ী)।এটি বর্তমানে স্বর্ণের চাইতেও দামী, বর্তমানে এক ভরি স্বর্ণের দাম ৪২,০০০টাকা (প্রায়)বাংলাদেশের বাজার মূল্য অনুযায়ী। বিশ্ব অর্থনীতিবিদগণ আশংকা করছেন, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর নাগাদ এর মূল্য ৫০০০ডলারে উন্নিত হতে পারে। গুগলে btc to usd লিখে সার্চ দিলে প্রতিদিনকার আপডেট রেইট পাওয়া যাবে।বিটকয়েনের কোন নিয়ন্ত্রক না থাকায় এর ব্যাবহার আশংঙ্কাজনক ভাবে অর্থ-পাচারকারী, চোরাকারবারী এবং অবৈধ মাদক ব্যাবসায়ীদের মধ্যে দ্রুত প্রসার লাভ করছে।নিয়ন্ত্রনহীনতার কারনে, এটির মাঝে মাঝে মারাত্নকভাবে দরপতন ঘটে আবার দরের উর্ধ্বমূখী অবস্থান হয়ে যায়।মাঝে মাঝে আবার এটি দুষ্প্রাপ্যও হয়ে উঠে। এসব কারনে বিটকয়েন আলোচিত এবং সমালোচিত বিশ্ব-অর্থনীতিতে। অতি সম্প্রতি কানাডা এবং আমেরিকা সরকার অর্থ-পাচারকারী, চোরাকারবারী এবং অবৈধ মাদক ব্যাবসায়ীদের নিয়ন্ত্রনের লক্ষ্যে, বিটকয়েন ব্যাবহারকারীদের নিবন্ধনের আওতায় আনার চিন্তা ভাবনা করছে।কানাডায় বিশ্বের প্রথম বিটকয়েন এটিএম বুথ চালু করা হয়। বিটকয়েনের জনপ্রিয়তা দেখে, আরও কিছু কারেন্সী বাজারে আত্নপ্রকাশ করেছে। যেমন: ইথিরাম, সুইসকয়েন, লাইটকয়েন, ডগিকয়েন ইত্যাদি। তবে এগুলো মূল্যের দিক দিয়ে, বিটকয়েনের ধারে কাছেও ঘেষতে পারে নাই।আগামীতে ইনশাল্লাহ, সোনার চেয়েও মূল্যবান কারেন্সী বিটকয়েনের জনক সাতোসি নাকামোতোকে নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ লেখার আশা রাখি।

তথ্য সূত্র:উইকিপিডিয়া,গুগল,ইউটিউব,ফেইসবুক বিটকয়েন মাইনিং গ্রুফ।

প্রসংগ: লেনদেনের মাধ্যম-কারেন্সী ।

Now Reading
প্রসংগ: লেনদেনের মাধ্যম-কারেন্সী ।

শুরুর কথা: সৃষ্টির শুরু থেকে মানুষ, পণ্য বা সেবা তার নিজের চাহিদা অনুযায়ী আদান প্রদান করে আসছে। শুরুতে আদান প্রদান করার কোন মাধ্যম না থাকায়, মানুষ পণ্যের বিনিময়ে পণ্য বা সেবা আদান-প্রদান করতো। যেমন কারো কাছে শষ্য আছে, সে অন্যের সাথে শষ্যের বিনিময়ে বস্ত্র গ্রহণ করছে। এতে করে সমস্যা সৃষ্টি হলো, মানুষ তার চাহিদা মতো পণ্য বা সেবা আদান-প্রদান করতে পারতো না।  মূলত: চাহিদার কথা বিবেচনা করেই, বিনিময়ের জন্য একটি মাধ্যম সৃষ্টি করা হয়। প্রাথমিকভাবে স্বর্ণ মুদ্রা বা রৌপ্য মুদ্রাকে বিনিময়ের মাধ্যম করা হয়। বিনিময়ের এ মাধ্যম পরবর্তীতে কাগজী নোটে রুপান্তর হয়। আর এই কাগজী নোট বা বিনিময়ের মাধ্যমই হলো কারেন্সী। তাই এক কথায় বলা যায়, মানুষ তার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য-সেবা প্রাপ্তির জন্য যে মাধ্যমকে অবলম্বন করে লেনদেন করে থাকে তাকে কারেন্সী বলে।

কারেন্সীর প্রকার ভেদ:সৃষ্টির শুরু থেকে অদ্যাবধি যে সকল কারেন্সী ব্যাবহ্রত হয়েছে এবং হচ্ছে, সকল বিষয় বিবেচনায় কারেন্সীকে বেশ কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন: কয়েন বা মেটাল কারেন্সী(ধাতব মূদ্রা), পেপার কারেন্সী(কাগজী নোট), ভার্চুয়াল কারেন্সী ইত্যাদি।

মেটাল কারেন্সী হলো: স্বর্ণ মূদ্রা, রৌপ্য মূদ্রা, ব্রোঞ্জ মূদ্রা, কপার মূদ্রা ইত্যাদি।রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গোল্ড কয়েন ব্যাবহ্রত হতো: (১) বৃহৎ কোন ক্রয়ের বিপরীতে মূল্য পরিশোধের জন্য,(২) সামরিক খাতের অর্থ পরিশোধের জন্য,(৩)রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমর্থন আদায়ের জন্য।  স্বর্ণ  বা রৌপ্য মূদ্রার প্রচলন এখন নেই বললেই চলে, এখন কিছু কিছু দেশে পিতল, তাম্র, এলুমিনিয়াম বা অন্যান্য ধাতব মূদ্রা প্রচলিত আছে।

পেপার কারেন্সী: এ কারেন্সীটি সহজে পরিবহন যোগ্য এবং বিনিময় যোগ্য হওয়ায় বিভিন্ন দেশ তাদের নিজস্ব পেপার কারেন্সীর প্রচলন করে পণ্য এবং সেবার বিনিময় করে আসছে বহুদিন যাবৎ। কিছু পেপার কারেন্সী হলো: টাকা(বাংলাদেশ),রুপি(ভারত-পাকিস্থান),ডলার(আমেরিকা),পাউন্ড(বৃটেন),রিয়েল(সৌদি আরব) ইত্যাদি।

ভার্চুয়াল কারেন্সী: বর্তমানে একটি কারেন্সী বিশ্ব অর্থনীতিকে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রন করছে, সেটা হলো ভার্চুয়াল কারেন্সী। ব্যাবহার এবং আকার প্রকার দর্শনে ভার্চুয়াল কারেন্সীকে বেশ কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন: ই-কারেন্সী, ক্রিপটো কারেন্সী, ডিজিটাল কারেন্সী ইত্যাদি।

ই-কারেন্সী: আধুনিক যুগটা হলো ইন্টারনেট নির্ভর যুগ। ই-কারেন্সী বা ইলেকট্রনিক কারেন্সী হলো ইন্টারনেট নির্ভর একটি কারেন্সী। ই-কারেন্সী কোন নির্দ্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলের জন্য নয় এটার বিস্তার সারা বিশ্ব ব্যাপি। কয়েকটি ই-কারেন্সী হলো: পেপাল, পেইজা, স্ক্রিল,পারফেক্টমানি,পেইয়ার ইত্যাদি। যে কেউ এসকল ই-কারেন্সীতে হিসাব খুলতে পারবে, সুনির্দ্দিষ্ট নীতিমালা মেনে।

ক্রিপটো কারেন্সী: বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত একটি কারেন্সীর নাম হলো ক্রিপটো কারেন্সী। ক্রিপটোকারেন্সী কোন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থা দ্বারা পরিচালিত হয় না। এটি মূলত ডিসেন্ট্রালাইজড পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। ওয়েব সার্ভার ডিজিট জেনারেট করে। সেই ডিজিট ভার্চুয়াল কারেন্সী হিসাবে ব্যাবহ্রত হয়। হাল আমলে সবচেয়ে দামী এবং জনপ্রিয় ক্রিপটোকারেন্সী হলো: বিটকয়েন। যার বর্তমান মূল্য প্রায় ২৫০০ থেকে ৩০০০ ডলারের মধ্যে উঠা নামা করছে। বিটকয়েন এর জনপ্রিয়তা দেখে বাজারে আরো কিছু ক্রিপটোকারেন্সী এসেছে। যেমন: ইথিরাম, সুইসকয়েন, লাইটকয়েন,ডগিকয়েন ইত্যাদি।

ডিজিটাল কারেন্সী: বর্তমান সময়ে ডিজিটার কারেন্সী খুবই জনপ্রিয় একটি লেনদেনের মাধ্যম হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে টাকা ট্রান্সফার করার জন্য এ কারেন্সীর কোন জুড়ি নাই। ডিজিটাল কারেন্সী মূলত ডিজিট বেইসড লেনদেনের মাধ্যম। ডিজিটের আদান-প্রদানের মাধ্যমে এই লেনদেন সম্পাদিত হয়ে থাকে। অর্থের বিনিময়ে ডিজিট ক্রয় করতে হয়। বেশ কিছু ডিজিটাল কারেন্সী হলো: ওয়েষ্টার্ন ইউনিয়ন, বিকাশ, রকেট ইত্যাদি। এসব মাধ্যম দিয়ে একজন গ্রহীতা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে খুব দ্রুত এবং সহজে অর্থের আদান-প্রদান করতে পারে।

ওয়েষ্টার্ন ইউনিয়ন: এটি আর্ন্তজাতিক পরিসরে আর্থিক আদান-প্রদানের একটি ডিজিটাল মাধ্যম। বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে ডিজিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে ওয়েষ্টার্ন ইউনিয়ন দিয়ে টাকার আদান প্রদান করা হয়।

বিকাশ: এটি মোবাইল ফোন ভিত্তিক অর্থ আদান-প্রদানের একটি মাধ্যম। এক জন গ্রাহক তার মোবাইল ফোনে বিকাশ ডিজিট ক্রয়ের মাধ্যমে এ লেনদেন সম্পাদন করতে পারে। বিকাশ মূলত পরিচালিত হয়, বাংলাদেশের একটি ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটির নাম হলো: ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড। গ্রামাঞ্চলের জনগন যারা ব্যাংকিং কর্মকান্ডের সাথে সারাসরি সম্পৃক্ত হতে পারছে না তাদের কথা বিবেচনা করে বিকাশ কাজ শুরু করে। বিপুল পরিমান মোবাইল ব্যাবহার কারীদের মধ্যে প্রধানত এ সেবার কাজ পরিচালিত হচ্ছে।    ডিজিটাল কারেন্সী জগতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিকাশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে।

রকেট: আরেকটি বাংলাদেশী ডিজিটাল কারেন্সী আদান-প্রদানের মাধ্যম হলো রকেট। এটিও একটি ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ব্যাংকটির নাম হলো ডাচ্ বাংলা ব্যাংক লিমিটিড। তবে এটি বিকাশের মতো অতোটা ব্যাপকতা লাভ করতে পারেনি। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে বিকাশের অবস্থান শীর্ষে।

পরিশেষে, কারেন্সী বিষয়ক আলোচনা স্বল্প পরিসরে শেষ করা সম্ভব নয়। এটা একটা বিশল জগৎ। অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কারেন্সী। সৃষ্টির শুরু হতে আজ পর্যন্ত লেনদেনে যত মাধ্যম প্রচলন হয়েছে, সবগুলোকেই কারেন্সী হিসাবে পরিগনিত করতে হবে। এটা হোক ধাতব মুদ্রা, হোক কাগজী মূদ্রা অথবা হোক ভার্চুয়াল ডিজিট।তাবে আগামীতে কারেন্সী নিয়ে একটা বিপ্লব দেখা যাবে সারা বিশ্বে, যে বিপ্লব ঘটাবে প্রধানত ক্রিপটোকারেন্সী বিটকয়েন।কারন এটি তার নিজস্ব গতিতে কোন নিয়ন্ত্রন ছাড়া চলতে চলতে এখন সারা বিশ্বের দামী কারেন্সীতে রুপান্তরিত হয়েছে।আগামীতে ক্রিপটোকারেন্সী বিটকয়েন নিয়ে একটি আর্টিক্যাল লিখার আশা রাখি।

বি:দ্র:এখানে উল্লেখিত সম্পূর্ন আলোচনাটি মস্তিস্ক প্রসূত মতামত নির্ভর তাই কোন তথ্য সূত্র দেয়া হলো না।

পড়াশুনার মতিভ্রম-১ ( বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি)

Now Reading
পড়াশুনার মতিভ্রম-১ ( বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি)

fst1.1.jpg

পড়াশুনার মতিভ্রম-১ ( বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি)

এটা একটা গবেষণামূলক কেইস স্টাডি। বর্তমানের তরুণ প্রজন্মের সূক্ষ্ম জটিল সমস্যা যা অনেকে জেনে ,না বুঝে , বন্ধু বান্ধবের পাল্লায় পড়ে , অসৎ সঙ্গের কারণে অথবা মনের অজান্তেই করে থাকে সেই বিষয় গুলোই এখানে অত্যন্ত বিশদ ভাবে উদাহরণের মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সমস্যা গুলো একদমই সমসাময়িক , জটিল , সূক্ষ্ম এবং কৌশলগত। তাই অনেক সময় তা হাতে কলমে না বুঝিয়ে দিলে হৃদয়ঙ্গম করা মুশকিল । তাই পাঠকগণকে অনুরোধ করবো এই লেখাটা পড়ার সময় অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করবেন এবং অবশ্যই দুনিয়ার ঝঞ্ঝাট থেকে মুক্ত হয়ে শান্ত চিত্তে স্থির মস্তিষ্কে লেখাটা পড়ার চেষ্টা করবেন। কে জানে হয়তো অত্যন্ত মূল্যবান কিছু পেয়ে যেতে পারেন যা আপনার সারাজীবনে কাজে লাগাতে পারবেন অথবা আপনি কোন ধোঁকার মধ্যে আছেন যা এতদিন জানতেন না , যা এই লেখাটা পড়ার পর বুঝতে পারবেন।

 

এই লেখাটা নিম্নলিখিত উপায়ে শ্রেণীবিন্যাস করা হয়েছে –

@ বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি

@ কিছু জীবন-ভিত্তিক বাস্তব উদাহরণ

@ পূর্বপুরুষ আর আমাদের মধ্যে পার্থক্য

@ অবনমনের কারণ

@ উত্তরণের উপায়

 

যতই দিন যাচ্ছে ততই পড়াশুনা সহজ হয়ে আসছে। এই যেমন বিশ বছর আগের কথাই ধরা যাক । তখন পড়াশুনা করার জন্য কোন কম্পিউটার ব্যবহার করা হত না , ব্যবহার করা হত না কোন ট্যাব , মোবাইল , ইলেক্ট্রনিক ডিকশনারি , প্রোজেক্টর । শুধু হাতে গোনা কয়েকজন ব্যক্তিগত  কম্পিউটার ব্যবহার করতেন জটিল প্রোগ্রামিং শেখার জন্য । বাদবাকি বেশিরভাগ কম্পিউটারই ব্যবহার হতো অফিসিয়াল কাজের জন্য , চিকিৎসার জন্য অথবা গবেষণামূলক কাজে । কিন্তু আজ ঘরে ঘরে টিভি থাকুক আর না থাকুক কম্পিউটার ঠিকই আছে । কারও কারও ক্ষেত্রে তো এমনও দেখা যায় দুইটা ল্যাপটপ আর তিনটা ডেস্কটপ নিয়ে একসাথে কাজ করে ।

আর কম্পিউটার যদি নাও থাকে Android Mobile দুইটা তিনটা থাকা তো এখন স্বাভাবিক ব্যাপার  , আর Apps গুলো ফ্রি হওয়ায় আমেরিকার ছাত্র আর অন্য দেশের ছাত্রের মধ্যে কোন পার্থক্য রইলনা ।  তাই এখন পড়াশুনার এমন কোন বিষয় নেই যা অনলাইনে পাওয়া যায়না। কোন কোন বিষয় ইন্টারনেটের  মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং তা কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তা জানার চেয়ে  অনেক জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যে , আমাদের শিশু কিশোরেরা পড়ার এত এত অনুঘটক হাতের কাছে পাওয়ার পরও তাদের কেন পড়ার প্রতি এত অনীহা ?

এর কারণ এই নয় যে পড়া গুলো অনেক কঠিন  বা যারা পড়ায় তারা কম শিক্ষিত বা তাদের পড়ানোর  ধরণ  যাচ্ছেতাই বা পাঠ্যবইয়ের পড়াগুলো মোটেই আকর্ষণীয় নয় বা এগুলো পড়ে মনে থাকেনা  বা  পড়ে  মজা পাওয়া যায়না বা কি পড়বে তাই বুঝতে পারেনা , এমন কোন সমস্যাই নেই বরং পড়াশুনা আগের যে কোন সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি আকর্ষণীয় , সহজবোধ্য এবং উপভোগ্য । এটা এখন এতটাই সহজ হয়ে গিয়েছে  যে শুধু  শুনে  শুনেই  পড়া অনেকাংশে  মনে রাখা যায়  এবং পড়ানোর স্টাইলেও এখন এতটা টেকনিক ফলো করা হয় যে তা ক্লাসে বসেই মুখস্থ হয়ে যায় ।  তাহলে প্রশ্ন আসে সমস্যাটা আসলে কোথায় ?

সমস্যাটা আসলে এখানেই , এই যে এত সহজ পড়াশুনায় ছেলে মেয়েরা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে গিয়েছে , তারা ভাবে আরে যে পড়া আমরা ক্লাসে বসেই শেষ করে ফেলি বাসায় গিয়ে তা দেখে কি লাভ ? বরং ঐ সময় আমরা রিলাক্স মুডে ফেসবুকে সেলফি আপলোড করবো আর অন্যদের আপলোড করা গুলায় লাইক দিবো , শেয়ার দিবো আর কমেন্ট করবো ।  ব্যাস এভাবেই দিন কেটে যাবে আর গোল্ডেন A+ তো এমনিতেও আসবে অমনিতেও আসবে তাই এগুলা নিয়ে টেনশনের কিছু নাই ।

এভাবে তাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে কালকে করবো মন-মানসিকতা । এই কালকে করবো মন-মানসিকতা যে কতটা ভয়াবহ তা বলে বোঝানোর অপেক্ষা রাখেনা । এটাকে ইংরেজি শব্দ Procrastination  নামে অভিহিত করা হয় । এটি একটি ব্যক্তি বিশেষের অভ্যাস । কিন্তু যখন এই অভ্যাস মারাত্মক আকার ধারণ করে তখন এটিকে মানব মস্তিষ্কের মারাত্মক ব্যাধি হিসেবে বিবেচনা করা হয় । শুধু মাত্র এই ভয়াবহ ব্যাধিটির জন্য বহু প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে গেছে। উন্নত বিশ্বে এটা একটা জাতিও সমস্যা , আর আমাদের জন্য একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম বড় দুরারোগ্য মহামারী । কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এই যে , উন্নত বিশ্ব যেখানে এটাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এর সমাধান করছে , স্কুল কলেজ , ভার্সিটির  শিক্ষার্থীদের খুব ভালোকরে এই রোগটির সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে , প্রচুর কৌশল বের করে শিক্ষার্থীদের  শিখিয়ে দিচ্ছে কিভাবে এর থেকে সর্বাধিক দূরে থাকা যায় , কারও মধ্যে এটা কিভাবে বিস্তার লাভ করে , কিভাবে কারও মধ্যে এই রোগ বাসা বাঁধলে তা থেকে খুব দ্রুত বেরিএ আসবে , যারা জানেনা তাদেরকে  কিভাবে এই ব্যাপারে সচেতন করা যায় এবং এর বিপরীত অভ্যাস গড়ে তুলে কিভাবে সময়ের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় । সেখানে আমদের শিক্ষার্থীরা এর সাথে একদমই পরিচিতই না । ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু মোটিভেশন প্রোগ্রাম চালু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় সত্যি নগণ্য। কিন্তু আশার বিষয় দেরিতে হলেও তা চালু হয়েছে। কিন্তু প্রান্তিক এলাকা গুলো এখনও এর সুফল পাওয়া থেকে যোজন যোজন দূরে।  চলবে…………

আমি পতিতা বলছি । শেষ পর্ব

Now Reading
আমি পতিতা বলছি । শেষ পর্ব

প্রথম পর্বের পর

মেজাজটা খারাপ হয়েছে আমার আগে আসবে বলে আমাকে ১ ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখেছে । ১ ঘণ্টা পর হাঁপাতে হাঁপাতে আসে আমার সামনে । মেজাজটা এতো খারাপ হচ্ছিলো যে , ইচ্ছে করছিলো কষিয়ে একটা থাপ্পড় মারি , কিন্তু না আমি থাপ্পড় তো মারলাম না উল্টো রাসেল কে দেখে কেঁদে দিলাম । যাই হোক আমাকে শান্ত করে রিকশা করে একটা বাসায় নিয়ে গেলো ।

রাসেল আমি যদি আজ হারিয়ে যেতাম । আমার অনেক ভয় করছিলো । ঢাকায় এতো মানুষ !
হা হা হা কি যে বলো না , রাস্তায় এতো জ্যাম ছিল যা বলার বাহিরে । তাই দেরি হয়েছে । আচ্ছা এই সব কথা বাদ দাও তো । যাও হাত মুখ ধুয়ে খাবার খেয়ে নাও । আমি তোমার জন্য হোটেল থেকে খাবার এনে রেখেছি ।

আমি আর কোনো কথা না বলে হাত মুখ ধুয়ে খেয়ে নিলাম । আমি যেই রুমে আছি সেখানে একা আমি একটা মেয়ে না , আমার সাথে অনেক মেয়ে আছে । আর তাদের দেখতে অনেক অদ্ভুত লাগছে । কি রকম ভাবে যেন সেজে আছে । আমি রাসেল কে বললাম ওরা করা ? আর আমার কাজ কি ?
রাসেল বলল ওরা ও নাকি কাজের জন্য ঢাকায় আসছে । আর আমাকে কাল বা পরশু জয়েন করবে ।
আমি আর কোনো কথা বললাম না । আমাকে খাওয়ানো শেষ হলে রাসেল চলে গেলো । আমি একা একটা রুমে শুয়ে পড়লাম । পরের দিন সন্ধ্যায় একটা লোক কে নিয়ে আসলো রাসেল । আমাকে দেখিয়ে কি যেন বলে চলে গেলো লোকটি । আমি রাসেল কে বললাম

রাসেল এই লোকটি কে ?
তুমি যেখানে কাজ করবে তার বস উনি । তোমাকে দেখতে এসেছে । কাল সন্ধ্যা থেকে তোমার কাজ শুরু ।
কাল সন্ধ্যা ? কাল সন্ধ্যা কেন । মানুষ তো দিনে কাজ করে আমি রাতে কেন করবো ?
আসলে এইটা একটা বিদেশী কোম্পানি তো তাই ।

আমি আর কোনো কথা না বলে খেয়ে গতকালের মতো আজকেও শুয়ে পড়লাম । কাল সন্ধ্যায় রাসেলের সাথে যেই লোকটি এসেছে সে আসলো আমার রুমে । আমি খাটের এক পাশে বসে আছি । উনি ঢুকে রুমের দরজা বন্ধ করে দিলো । আমি সাথে সাথে বলে উঠলাম , আপনি কি করছেন দরজা বন্ধ করেছেন কেন ? উনি জবাব না দিয়ে আমার সামনে এসে বসে আমার গায়ে হাত দিচ্ছিল । আমি সাথে সাথে দৌড়ে ঘরের এক কোনায় চলে গেলাম । উনি বলে উঠলো দৌড়িয়ে লাভ নেই । আমার কাছে তোমাকে ধরা দিতে হবে । রাসেল হেব্বি একটা মাল রেডি করেছে আমার জন্য ।

দেখেন আপনি ভুল করছেন । আমি কাজ করতে এসেছি । গ্রামে আমার বাবা । খুব অসহায় । আমার কোনো ক্ষতি করবেন না । আমাকে যেতে দিন । রাসেল কোথায় । এই বলে আমি চিৎকার চেঁচামেচি করা শুরু করলাম ।
উনি বলে উঠলো রাসেল তোমাকে আমার কাছে আজ রাতের জন্য বেঁচে দিয়েছে । এখন তুমি আমার । এই কথা বলে হিংস্র ক্ষুধার্ত বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লো । আমি কত না চিৎকার করছি । উনাকে আমি বাবা বলেও ডাকছি নিজের ইজ্জত টুকু বাঁচানোর জন্য ।কিন্তু না কোনো কিছু তে কাজ হচ্ছে না । আমার কান্নায় সেদিন সেই রুমের বাতাস পর্যন্ত কেঁদে ছিল । কিন্তু ওই নর পিচাশের মন একবার কেঁদে উঠেন । সেদিন থেকে আমার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গিয়েছে । সারা রাত চলে আমার উপর অমানবিক নির্যাতন । ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে আমাকে উলঙ্গ রেখে আমার দেখার উপর ২ হাজার টাকা রেখে উঠে চলে যায় ।
আচ্ছা পাঠক আপনাদের কাছে একটা প্রশ্ন আমার ইজ্জত কি ২ হাজার টাকা ? আপনার মা বোনের ইজ্জত কি ২ হাজার টাকা ?
কিছুক্ষণ পর রাসেল আসে আমার রুমে । কি আমার ভালোবাসা ! আহা আমাকে উলঙ্গ দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি আমার ভালোবাসা । আমার এই নির্যাতিত দেখার উপর চলে আরেক দফা নির্যাতন । বিশ্বাস করেন এইবার আমি চিৎকার করেনি । আমি নড়াচড়াও করেনি । শুধু কান্না করেছি , নীরব কান্না । আমাকে এমন একটা ঘরে রাখা হয়েছিল আশে পাশে কি ঘটছে বলাও যায়না ।

তারপর থেকে আমাকে আর জোর করতে হয়নি , আমি নিজে স্বেচ্ছায় গিয়েছি তাদের সাথে । আর যেটাকে কামাই করেছি তা দিয়ে আমি এতিমদের খাইয়েছি । সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত নিজের বাবাকে একটা টাকাও পাঠায়নি । কিভাবে পাঠাবো ? নিজের দেহ বেচা টাকা কিভাবে নিজের বাবাকে খাওয়াই ।

আর রাসেল এর অবস্থা হলো . রাসেল দুই বছর পর একটি মেয়েকে বিয়ে করে । কিন্তু তাদের কোনো বাচ্চা হচ্ছিলো না । অনেক চেষ্টার পর একটা বাচ্চা হলো , তাও মেয়ে ! কিন্তু মেয়েটি সর্ব অঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী । না কথা বলতে পারে না ভালো ভাবে হাঁটতে পারে । রাসেল কোনো দিন তার সন্তানের মুখে বাবা ডাক শুনেনি । আমি যেখানে আজ দেহ ব্যবসা করি এখানে অনেক মেয়ের আশা হয়েছে তার হাত ধরে । আজ রাসেল ভালো হয়ে গিয়েছে . কিন্তু আমার মতো অনেক মেয়ের কান্নার আর্তনাদ মিশে আছে তার আশে পাশে ।

আজ আমি আপনাদের ভদ্র সমাজে পতিতা । কিন্তু আপনারা ?

আমি পতিতা বলছি । পর্ব ১ম

Now Reading
আমি পতিতা বলছি । পর্ব ১ম

একদিন একটা আননোন নাম্বার থেকে আমার নাম্বার এ কল আসে । গল্পটা আমাদের এভাবেই শুরু । আমার নাম নীলা । বাবা কৃষক , যার কারণে বেশিদূর আমার লেখা পড়া আলোর মুখ দেখেনি । মা মারা গিয়েছে ছোট বেলায় । বড় হয়েছি নানুর কাছে । বাবার সাথেই নানুর বাসা ছিল । নানু বুড়ো হয়ে যাবার কারণে আমার দিকে তেমন খেয়াল রাখতে পারতো না । আর আমাদের পরিবারকে যদি বলতে চাই এক কথায় , তাহলে বলবো আমরা দিন আনি দিন খাই । অনেক সময় চুলায় আগুন জ্বলে না । পাঠক নিশ্চয়ই আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগছে আমি কেন এই সব কথা বলছি ? কারণ আমার পতিতা হয়ে উঠার পিছনে অনেকটা আমার পরিবারের দায় ছিল । যাই হোক মূল গল্পে ফিরে আসি ।

আমি মোবাইল আননোন নাম্বার খুব কম ধরি । কিন্তু কি বুঝে যেন সেদিন ধরলাম । অপর প্রান্ত থেকে একজন বলল আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি । আমি এই কথা শোনার পর কিছু না বলেই লাইন কেটে দেই । ভয়ে তখন বুক ধরফর করছিলো । এই প্রথম কেউ আমাকে এই সব কথা বলল । কিছুক্ষণ পর আবার কল আসে সেই নাম্বার থেকে । আমি কল ধরিনি ।

২ মাস পর আবার কল আসে সেই নাম্বার থেকে । আমি প্রায় ভুলে গিয়েছিলাম তখন কার কথা । কল ধরার সাথে সাথে বলে আমাকে মাফ করে দিন । আমি অবাক হয়ে বলি কে আপনি ?
কিছু দিন আগে আপনার নাম্বারে আমার বন্ধু ভুল করে কল দিয়ে i love you বলেছে । আসলে ও একটু দুষ্ট ধরণের । আমি ওর পক্ষ আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি ।
এভাবে আমাদের কথা শুরু হয় ।
প্রথম দিকে কিছু দিন পর পর আমাকে কল দিয়ে কথা বলতো । তার পর কল আসাটা অনেকটা নিয়মিত হয়ে পড়েছে । আমি ও উনাকে ভালো লাগা শুরু হয়েছে । উনি কিভাবে যেন কথা বলতেন । একদম মায়ায় জড়ানো কথা । আমি হারিয়ে যেতাম তার কথায় ।

এক সময় আমাদের পরিচয় ভালোবাসায় পরিণত হয় । উনার পরিচয়টা দেয়া যাক । উনার নাম রাসেল । ঢাকায় অনেক বড় একটা কোম্পানিতে পিয়ন হিসেবে কাজ করে । শুনেছি ভালো বেতন পান । বাবা নেই , মা কে নিয়ে থাকে । একটা বোন ছিল বিয়ে হয়েছে ৪ বছর । উনার মা মেয়ে দেখছেন তার জন্য । কিন্তু উনি চান একটা গ্রামের মেয়ে বিয়ে করবে , যাতে করে উনার মা কে দেখে শুনে রাখতে পারে । খুব ভালো মানুষ । মেয়েদের অনেক সম্মান দিয়ে কথা বলে । এমন কোনো সময় ছিল না উনি কল ধরে আমাকে সালাম দেননি ।

একদিন আমি তাকে বলি , আমার পরিবার তো অনেক গরিব তোমার মা কি আমাকে মেনে নিবে ? আমি তো দেখতেও সুন্দর না , আমাদের টাকা পয়সাও নেই । মাঝে মাঝে মনে হয় আমাকে কি তুমি সত্যি ভালোবাসো ?

অরে দূর পাগলী ভালোবাসা কি চেহারা দিয়ে হয় নাকি । ভালোবাসা মনের বেপার । তোমার সাথে আমার মনের অনেক মিল । যার সাথে যার মনের মিল তার সাথেই তো বাসা বাধা যায় । আর টাকা পয়সা কয়দিন , ভালোবাসা চিরদিন ।

আসলে এর আগে আমি কোনো ছেলের সাথে মেশা হয়ে উঠেনি । ছেলে মানুষ মনে হয় অনেক ভালো হয় তাই না ? অভাবের সংসার নিজে যদি কিছুটা সাহায্য করতে পারি পরিবার কে তাহলে অনেক ভালো হয় । এইভাবে রাসেল কে বলি আমি তো তেমন লেখা পড়া করিনি , কোনো রকম ক্লাস ৪ পাশ করেছি । এর আগে আমি কখনো ঢাকায় আসিনি । আমি চাচ্ছিলাম ঢাকায় এসে একটা কাজ করতে । প্রথম দিকে উনি অনেক রাগ করেছে এই কথা শুনে । ভয়ে উনাকে আর কখনো বলিনি আমি কাজ করতে চাই । মাস খানিক যেতে না যেতে উনি আমাকে বলল , তুমি কিছু দিন আগে বলেছিলে একটা কাজের জন্য । আমি অনেক ভেবে দেখলাম আসলে তুমি যদি কাজ করো তাহলে একদিকে তোমার পরিবার ভালো চলবে আরেক দিকে তুমি বাস্তবতাকে চিনবে । আর তাছাড়া এখন পর্যন্ত তোমাকে ছবিতে ছাড়া সামনা সামনি দেখাও হয়নি । এই উসিলায় তোমার সাথে দেখাও হবে আমার । আমি শুনে খুব খুশি হলাম । আমি আমার ভালোবাসার মানুষের সাথে দেখা করতে পারবো আর কিছু ইনকাম করে পরিবার কে দিতে পারবো । এদিক সেদিক না ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম আমি ঢাকায় যাবো ।

ব্যাগ গুছিয়ে বাবার চোখের পানি উপেক্ষা করে নতুন জীবনের উদ্দেশ্য রওনা দিলাম ঢাকা । যাওয়ার সময় শুধু গাড়িভাড়া নিয়ে গিয়েছিলাম । কাৰণ রাসেল বলেছে আমার জন্য বাস স্ট্যান্ডে অপেক্ষা করবে । ভয় ও লাগছিলো আরেক দিকে আনন্দ লাগছিলো এখন থেকে আমার বাবা কষ্ট কিছুটা হলেও কমবে । কিন্তু আমি এখনো জানিনা ঢাকায় কি কাজ করবো । রাসেল বলেছে আমার জন্য নাকি অনেক ভালো একটা কাজ জোগাড় করে রেখেছে । গাড়িতে উঠে ঘুমিয়ে গিয়েছি , স্বপ্নে দেখলাম রাসেল কে নিয়ে খুব সুখে আছি , আমাদের ঘরে খুব সুন্দর একটা মেয়ে হয়েছে । কখন যে ঢাকায় আসলাম টের পেলাম না ।

বাস স্ট্যান্ড এ নেমে মেজাজটা এতো খারাপ হলো । কারণ …….

 

চলবে ।

ভালবাসার ফেরিওয়ালা – সিরিজ -১ম – পর্ব -শেষ পর্ব

Now Reading
ভালবাসার ফেরিওয়ালা – সিরিজ -১ম – পর্ব -শেষ পর্ব

প্রথম পর্বের পর

এই কথা শোনার পর সোহানের হাত থেকে কফির কাপ করে যায় । চোখে দিয়ে কয়েক ফোটা পানি গাল বেয়ে যখনি নিচে পড়তে যাবে তখনি মেঘলা তার পানি মুছে তাকে জড়িয়ে ধরে । সোহানের মনে হচ্ছি সে তার স্বর্গ পেয়ে গিয়েছে । আসলে ভালোবাসা বুঝি এমনি হয় । এভাবে চলতে থাকে তাদের ভালোবাসা । সোহানের শুধুই একটাই সমস্যা , তা হলো অল্প তে তার রাগ উঠে যায় ।সেই রাগ আবার চলে যায় খুব দ্রুত । সোহানের একদিনের একটা ঘটনা বলি –
একদিন ক্লাস শেষ করে তারা দুই জন বের হয়েছে । শীত যাবে যাবে এমন সময় নামলো মুসল ধরে বৃষ্টি । সোহানের পরনে ছিল ব্লেজার । তারা দুই জন বৃষ্টিতে ভিজে রওনা দিলো । কিছুক্ষণ পর সোহান বুঝতে পারলো মেঘলা শীতে কাঁপছে ।সোহান নিজের ব্লেজার খুলে মেঘলার গায়ে দিয়ে বলল , তোমার ঠাণ্ডা লাগছে তুমি পড়ো । মেঘলা বলে উঠলো – বাংলা মুভি মনে হয় একটু বেশি দেখো । এই কথা বলে দুই জন হেঁসে দিল । এভাবে চল ছিল তাদের ভালোবাসা । এক জনের প্রতি আরেক জনের খুব কেয়ার ।

এক জন কে ছাড়া আরেক জন থাকতে পারে না । যেদিন সোহান ক্লাসে না আসে , সে দিন সবাই ধরে নেয় মেঘলাও ক্লাসে আসবে না । মেঘলার আবার নীল গোলাপ খুব পছন্দ । সোহান তার জন্য প্রতিদিন একটি করে নীল গোলাপ নিয়ে আসে । সোহান মেঘলাকে বলে – তোমার নাম মেঘলা না হয়ে নীলা হলে খুব ভালো হতো । তোমাকে নীল রঙে খুব সুন্দর মানায় । তখন মনে হয় তোমার দিকে তাকিয়ে থাকি । আচ্ছা শুনো তুমি কখনো পূর্ণিমা রাতে বারান্দায় যাবে না । মেঘলা খুব অবাক হয়ে প্রশ্ন করে কেন ? সোহান হেঁসে বলে – না মানে , তুমি তো অনেক সুন্দর , তুমি যদি তোমার রূপ নিয়ে বাহিরে যাও তাহলে তো পূর্ণিমার চাঁদ তোমাকে দেখে লজ্জা পেয়ে মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকবে । আর আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের কষ্ট হবে , অবশ্য আমি ছাড়া । কারণ সবার কাছে তো তুমি নেই তাই না । মেঘলা এই কথা শুনে তার হাসি থামাতে পারে না । মেঘলা সোহান কে বলল – তুমি একটু বেশি চাপা মারো । সোহান একটু রাগ হয়ে বলল – চাপা মারলে মারলাম । আমার ভালোবাসার জন্য না হয় একটু মারলাম । এই তাদের ভালোবাসা । কিন্তু মেঘলা নামের সাথে তাদের ভালোবাসার অনেক মিল । তাদের ভালোবাসার পৃথিবীতে মেঘ এসে জমা হতে বেশি দিন সময় নেয়নি ।

সোহান কিছু হলেই রাগ করে । আর সেই রাগ ভাঙাতে ভাঙাতে মেঘলা প্রায় সময় বলে বসতো , আমি খুব ক্লান্ত তোমার রাগ ভাঙাতে । সোহানের যখন রাগ বেশি উঠে যেত , তখন সে তার প্রায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলতো ।.ওই মুহূর্তে সোহান কাকে কি যে বলতো নিজেও জানতো না ।. আর এই জিনিস টাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের ভালোবাসার মাঝে ।. এক সময় এই রাগ তাদের ঝগড়াতে পরিণত হয় ।. এমন একটা দিন তাদের সামনে এসে দাঁড়ালো , যখন ভালোবাসার কথা থেকে ঝগড়া বেশি হতো ।.এমন কোনো দিন নেই যে ব্রেক আপ হয়নি , আবার তারা দুজন মিলে যায়নি ।.তারা দুই জন জানে তারা একে অপরকে অনেক ভালোবাসে । কিন্তু তারা আজ কেউ তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই । তাদের একদিনের ঝগড়া ছিল এমন –

কি ব্যাপার মেঘলা তোমাকে কল দিচ্ছি অনেকক্ষণ ধরে , তুমি তো দেখি কল ধরার নাম নেই । ব্যাপারটা কি ?
সোহান তুমি এভাবে কথা বলছি কেন ? এই কথা গুলো তো আমাকে শান্ত ভাবে বলতে পড়তে তাই না ?
তুমি কল ধরো না . আর বলছো শান্ত ভাবে বলবো ? করছিলে কি বলতো ?
মোবাইল টা ছোট ভাইয়ের কাছে ছিল , ও গেমস খেলছিল । মেবি ও ভুল করে সাইলেন্ট করে ফেলেছে তাই দেখেনি ।
আচ্ছা মেনে নিলাম সাইলেন্ট করেছে । এতক্ষণ হয়ে গিয়েছে একটা কল করার প্রয়োজন বোধ করনি । তার উপর কল দিয়েছি কল ধরণী । এখানে এসেছে আমাকে গল্প শোনাতে ?
সোহান আমি তোমাকে কল দিতাম , কিন্তু ঘরে একটু কাজ ছিল তা করছিলাম ।
প্লিজ মেঘলা আমাকে বোঝাতে এসোনা । তুমি যাকে সময় দিচ্ছিলে তাকে সময় দাও ।( সোহান কিন্তু জানতে মেঘলা আর কাউকে সময় দিচ্ছিল না । কিন্তু ওই যে রাগ উঠে গিয়েছে )
দেখো সোহান তুমি কিন্তু এখন আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলছো । আমি কি বাজারের মেয়ে নাকি ?
তার পরের ঘটনা ইতিহাস মানে তখন তাদের মধ্যে শুরু হয়ে যায় তুমুল ঝগড়া ।

এই রকম অনেক দিন চলার মাঝে প্রতি দিনের মতো তাদের ব্রেক আপ হয় । সোহান তো জানে ব্রেক আপ হলে আবার কিছুক্ষণ পর ঠিক হয়ে যাবে । প্রায় ঝগড়া হওয়ার ২ ঘণ্টা পর সোহান কল দিলে মেঘলা কল ধরে না । সেদিন সারা দিন কল দিয়েছিলো , কিন্তু মেঘলা ধরেনি । পরের দিন খুব সকালে মেঘলাদের বাসার সামনে গিয়ে কল দেয় । তাও যখন ধরলো না তখন নিজে উপরে গিয়ে মেঘলা কে ডেকে নিচে নামিয়ে নিয়ে আসে ।

কি ব্যাপার কাল থেকে তোমাকে কল দিচ্ছি ধরো না কেন ?
এমনি ইচ্ছা করছিলো না ।
ইচ্ছা করছিলো না মানে , ফাজলামো করো ?
না
তো ধরণী কেন ?
ইচ্ছা হয়নি তাই
দেখো মেঘলা মেজাজ কিন্তু খারাপ হচ্ছে ।
সোহান গলা নামিয়ে কথা বলো । আমি আর তোমার সাথে সম্পর্ক রাখতে চাই না । অনেক দিন সহ্য করেছি । আর না । আমি আর পারবো না ।
এই কথা শোনা মাত্র সোহানের আকাশ ভেঙে মনে হলো তার উপরে পড়েছে । সোহান প্রায় কান্না করে দিবে দিবে এমন সময় বলে – মেঘলা প্লিজ তুমি এমন কিছু করো না । আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না । আমি ঠিক হয়ে যাবো ।
মেঘলার একটাই উত্তর – আমার পক্ষে আর সম্ভব না ।
সোহান তার সব টুকু দিয়ে চেষ্টা করেও সেদিন মেঘলার মন গলাতে পারেনি ।
তাদের দুই জন এর পথ তখন দুই দিকে ।

আজ সোহান পড়া শুনা ছেড়ে দিয়ে কাজ করছে । সেদিন কার পর থেকে আর নিজেকে বোঝাতে পারেনি সোহান । মেঘলার সামনা সামনি হওয়ার সাহস টাও ছিল না । আর মেঘলা আজ অনেক বড় সেলেব্রিটি ।

গল্পটি একটি সত্য ঘটনা । আমি গল্পের নাম গুলো ছদ্ম নাম ব্যবহার করেছি । আমাদের আশে পাশে তাকালে এই রকম হাজারো সোহান . মেঘলাকে পাবো । হয়তো সেই মেঘলা বা সোহানের মতো আপনিও এক জন ।

মোড়াল অফ দ্য স্টোরি – ভালোবাসা অতিরিক্ত হোক সমস্যা নেই , কিন্তু ভালোবাসার মধ্যে যেন রাগ না থাকে । অভিমান করা ভালো , কিন্তু রাগ করা ভালো না । এমন হাজারো সম্পর্ক আজ এই সামান্য রাগের কারণে শেষ হয়ে যাচ্ছে । আগে রাগ কে , নিজেকে কন্ট্রোল করতে শিখুন । ভালোবাসা এমনি ধরা দিবে ।

সামনে আরেকটি এই রকম সত্য গল্পের অবলম্বনে আসছে ঘটনা । সাথে থাকুন ।

 

ব্রিদ্রঃ সত্য গল্পের অবলম্বনে লেখা গুলো । প্রত্যেক মুহূর্তে মনে হবে আপনার জীবনে ঘটে গিয়েছে । প্রত্যেক গল্পের দুইটি পর্ব থাকবে । এটি একটি সিরিজ । প্রথম গল্প প্রকাশের দ্বিতীয় দিন তার দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশ হবে । লেখা গুলো কেসই স্টাডি মূলক লেখা । প্রতি গল্পের শেষে অবশ্যই আপনার জন্য একটি করে ম্যাসেজ থাকবে ।

 

ভালবাসার ফেরিওয়ালা – সিরিজ -১ম – পর্ব -১ম

Now Reading
ভালবাসার ফেরিওয়ালা – সিরিজ -১ম – পর্ব -১ম

ভার্সিটির প্রথম ক্লাস । ক্লাসের ভেতরে ঢুকতে কেমন যেন লজ্জা লাগছে । লজ্জা লাগবে এইটাই স্বাভাবিক । প্রথমত একদম নতুন পরিবেশ , তার উপর ক্লাসের কাউকে চিনি না । আমি ক্লাসে ঢুকে মাঝের সারিতে গিয়ে বসলাম । স্কুল বা কলেজ জীবনে একদম প্রথম দিকে বসে অভ্যাস । কিন্তু আজ কাউকে চিনি না বা স্যার কেমন হয় তাও জানি না , যার ফলাফল স্বরূপ আমি মাঝের সারিতে । আমি সোহান । এতক্ষণ আমি আমার কথা বলছিলাম । মধ্য বিত্ত পরিবারের ছেলে আমি । আমার সম্পর্কে বলতে গেলে বলবো , ছাত্র হিসেবে মোটামুটি । বাবা ক্ষুদ্র বিজনেস করে । কোনো রকম দিন চলে যায় । পাবলিক ভার্সিটি তে না টিকার কারণে একটি বেসরকারি ভার্সিটি তে ভর্তি হই ।

যত ক্লাস করছি ততো সবার সাথে পরিচিত হচ্ছি । আস্তে আস্তে সবার সাথে ফ্রি হয়ে গিয়েছি । কিছু বন্ধু হয়েছে । তার মধ্যে আবার দুই জন মেয়ে ফ্রেন্ড । এর আগে আমি মেয়েদের সাথে তেমন একটা মিশিনি । আবার ছেলে ফ্রেন্ড যে বেশি ছিল তাও না । কিছু দিন ক্লাস করার পর স্যার আমাদের বলল সামনে নাকি আমাদের প্রেজেন্টেশন করতে হবে । আমি সহ আমার বন্ধুদের কাছে একদম নতুন ছিল বিষয়টি । এর আগে আমরা কখনো প্রেজেন্টেশন করিনি । স্যার আমাদের কয়েকটা নমুনা ও কিভাবে করতে হবে তা বুঝিয়ে দিয়েছে । যেহেতু এইটা আমাদের প্রথম প্রেজেন্টেশন , তাই আমাদের দলীয় ভাবে করতে হবে । এক দলে ৫ জন এর বেশি থাকতে পারবে না । তাই আমি সহ আমার বাকি ৪ ফ্রেন্ডস মিলে আমাদের গ্রুপ বানিয়ে ফেললাম । স্যার বলে দিয়েছিলো মেয়েদের শাড়ি পরে আসতে , আর ছেলেদের অফিসিয়াল ড্রেস । এখানে স্যার মারাত্মক একটা ভুল করে । কেন করে গল্পের গভীরে আসলে বোঝা যাবে । যাই হোক । এইটা নিয়ে আমরা সবাই অনেক বেশি এক্সাইটেড ছিলাম । সবাই মিলে প্রেজেন্টেশন তৈরি করলাম আমার এক বন্ধু বাসায় । বলে নেয়া ভালো আমার গ্রুপে ৩ জন ছেলে আর বাকি দুই জন মেয়ে ।

দিনটি ছিল শুক্রবার । ইচ্ছা ছিল পাঞ্জাবি পরে প্রেজেন্টেশন করি কিন্তু স্যার এর আদেশ , অমান্য করলে নাম্বার শেষ । আমি খুব সকাল সকাল চলে আসলাম সেই সাথে আমার বন্ধু রিফাত , হিমেল চলে আসলো । বান্ধবীদের মধ্যে শুধু রুপা আসলো , মেঘলার কোনো দেখা নেই । ওরে কল দিয়ে যাচ্ছি কল ধরার কোনো নাম গন্ধ নেই । এর মধ্যে একে একে সবার প্রেজেন্টেশন প্রায় শেষ । আর কিছুক্ষণ এর মধ্যে আমাদেরটা শুরু হবে , ঠিক তখনি দেখলাম মেঘলা আসলো । এর আগেও মেঘলা কে দেখেছি , কিন্তু এমন কখনই দেখেনি । মানে সেদিন মেঘলা নীল একটা শাড়ি পড়েছে । সেই সাথে কপালে একথা নীল রঙের টিপ । হাতে আকাশী রঙের চুরি , চোখের নিচে কাজল । কাজল দেখে মনে হচ্ছিলো একটা পূর্ণিমার টুকরা কাল রাতের আকাশে । আমি কিছুক্ষণ এর জন্য স্ট্যাচু হয়ে গিয়েছিলাম ।কিভাবে একটা মানুষ এতো সুন্দর হয় । পাশে রিফাত যদি আমাকে ধাক্কা না দিতো তাহলে আমি বোধ হয়ে চেয়ে থাকতাম । কিছুক্ষণ এর মধ্যে মাইকে আমাদের নাম ডাকা হলো । মানে এইবার আমাদের পালা । আমরা আমাদের কাজ ভাগ করে নিয়েছিলাম । সর্ব শেষে মেঘলার পর্ব ছিল । প্রথম দিকে ছিলাম আমি । আমি শেষ করে ওর জন্য অপেক্ষা করছিলাম মানে ও কখন প্রেজেন্টেশন করবে । ও যখন করলো আমি এক পলকে তাকিয়ে ছিলাম আর দেখলাম , শুধুই চেয়ে দেখলাম ।

আমাদের প্রেজেন্টেশন শেষ হতে হতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেলো । সবাই খুব ক্লান্ত । আমি বের হয়ে মেঘলা কে বললাম , মেঘলা বাহিরে একটু অপেক্ষা করিস আমার জন্য , তোর সাথে কথা আছে । মেঘলা বলল আচ্ছা । সবাই সবার মতো চলে গেলো। ভার্সিটি এর সাথে ছিল লেক । ওরে নিয়ে লেকের সোডিয়াম আলোতে বসলাম । হাতে ছিল কফি । আমি তখন মেঘলা কে বললাম

মেঘলা আজ কেন যেন তোমাকে অন্য রকম লাগছে । আমার তুমি বলা শুনে ও কিছুটা অবাক , কিছু একটা আমাকে বলতে যাবে আমি ওরে থামিয়ে দিয়ে বললাম । মেঘলা আজ আমি তোমাকে বলবো তুমি শুধু শুনবে ।

এর আগে কখনো কোনো মেয়ে কে দেখে এমন লাগেনি , আজ তোমাকে দেখে আমার যেমন লেগেছে । মনে হচ্ছে আমার মরুভূমির মধ্যে এক পশলা বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিয়েছে অনেক দিনের হা হা করা ক্যাকটাস দের । মনে হচ্ছিলো কোনো এক জোনাকি আমার ঘরের অন্ধকার কে নিজের আলো দিয়ে আলোকিত করার চেষ্টা করছে । আমি জানি না এর নাম কি ভালোবাসা না অন্য কিছু ? যদি এর নাম ভালোবাসা হয় তাহলে আমি তোমাকে ভালোবাসি ।
এক নিশ্বাসে সব কথা বলে গেলাম । মেঘলা আমার দিকে তাকিয়ে ছিল ।

কিছুক্ষণ পর মেঘলা বলে উঠলো , আমি জানি না তোমাকে কি বলবো , কিভাবে বলবো । তোমার চলা ফেরা আমাকেও মুগ্ধ করেছে । আমি ভাবতে পারি না, একটা ছেলেকে খুব সাধারণ পোশাকের মাঝে , সাধারণ ভাবে চলার মাঝে এতো অসাধারণ লাগবে । আমি ও মনে হয় তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি ।

এই কথা শোনার পর আমার …..

চলবে

ব্রিদ্রঃ সত্য গল্পের অবলম্বনে লেখা গুলো । প্রত্যেক মুহূর্তে মনে হবে আপনার জীবনে ঘটে গিয়েছে । প্রত্যেক গল্পের দুইটি পর্ব থাকবে । এটি একটি সিরিজ । প্রথম গল্প প্রকাশের দ্বিতীয় দিন তার দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশ হবে । লেখা গুলো কেসই স্টাডি মূলক লেখা । প্রতি গল্পের শেষে অবশ্যই আপনার জন্য একটি করে ম্যাসেজ থাকবে ।