হাত হারানো রাজীবের বাঁচার চেষ্টাও বৃথা গেল

Now Reading
হাত হারানো রাজীবের বাঁচার চেষ্টাও বৃথা গেল

শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানলেন ঢাকার মহাখালী এলাকার সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন। গত কয়েকদিন আগে বাসে একটি কাটা হাত ঝুলে থাকার দৃশ্যের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই যেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল। হ্যাঁ এটিই সে রাজিবের হাত যেটি সে হারিয়েছিল দুই বাসের চাপায়, আর এ কয়দিন লড়াই করে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তিনি। চলতি মাসের চার তারিখে রাজিব রাষ্ট্র মালিকানাধীন বিআরটিসির একটি বাসে চড়ে কলেজে যাচ্ছিলেন তখন রাজধানীর সার্ক ফোয়ারার কাছে ব্যক্তি মালিকানাধীন অন্য একটি বাসের সাথে রেষারেষির এক পর্যায়ে বাস দুটি একটি আরেকটিকে ঘেঁষে চলতে শুরু করে।  দুই বাসের এই অনিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতায় এবং তাদের ঘষায় যাত্রী রাজীবের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে বাসের দরজায় ঝুলে থাকে। তৎক্ষণাৎ রাস্তায় পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান রাজীব। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাপাতাল পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তাকে। তার বাহুর নিচ থেকে পুরোটাই কাটা পড়েছিল যার ফলে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। জ্ঞান ফেরার পর অসহায়ভাবে বাম হাত দিয়ে ডান হাতটা খুঁজতো রাজীব। তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল থাকা সত্ত্বেও মৃত্যুর কাছে হার মেনে নেন এই যুবক। তার মাথার হাড়ে ফাটল পাওয়া গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছিল পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ’তে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন রাজীবকে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন।

খুব ছোট বেলায় মা-বাবাকে হারানো রাজীব হোসেন ছোটো দুই ভাইয়ের আশার সম্বল ছিলেন। যাত্রাবাড়ীর মিরহাজিরবাগের একটি মেসে থেকে স্বজনদের সহৃদয় সহযোগিতায় কলেজের অধ্যায় চুকিয়ে বড় হবার স্বপ্ন ছিল তার। ছোট দুই ভাইকেও সেভাবে মানুষ করার লক্ষ্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন তিনি। তার ভাই দুজনই রাজধানীর একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় পড়ে।  নিজের পড়ালেখার খরচের পাশাপাশি ভাইদের খরচও বহন করতেন রাজীব। সত্যি বলতে সমাজ থেকে এমন সব মানুষের অকালে চলে যাওয়া মেনে নিতে কষ্ট হয় যারা অভাগা হয়েও ভাগ্যন্বেষণে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে বেঁচে থাকে। রাজীবের এই মর্মান্তিক ঘটনাটি দেশের মানুষকে ব্যাপক নাড়া দিয়েছে, তার বিচ্ছিন্ন হাতটি দুই বাসের ফাঁকে ঝুলে থাকার বীভৎস দৃশ্যে আঁতকে উঠেছিল সকলের মন। মুহূর্তেই বাসে ঝুলে থাকা সেই হাতের ছবি ব্যাপকভাবে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

রাজীবের এই হাতটির ছবি হয়ে উঠেছে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষজনের নিরাপত্তাহীনতার একটি প্রতীক। তাই এখনি সচেতন হতে হবে নিজেকেই, কোন চালক যদি তার বাহনটি অহেতুক বিপদজনকভাবে চালনা করে তবে তৎক্ষণাৎ তার প্রতিবাদ করতে হবে নিজেকে। কয়েক মিনিট আগে পৌঁছানোর জন্য যেন এমন অসহনীয় প্রতিযোগিতাকে সমর্থন না করি।

নিষ্ঠুরতার বলি হতভাগা আসিফা

Now Reading
নিষ্ঠুরতার বলি হতভাগা আসিফা

কাশ্মিরের কাঠুয়া অঞ্চলে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার ৮ বছর বয়সী শিশু আসিফা বানুকে ফের গণধর্ষণ করে তারপর হত্যা করা হয়েছে। এ বছরের জানুয়ারিতে কাঠুয়া উপত্যকায় ঘোড়া চড়ানোর সময় অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় আসিফাকে। অপহরণের পর সপ্তাহখানেক আটকে রেখে ধর্ষণ এবং শেষে হত্যা করা হয়। হতভাগ্য এই আসিফা বানু হচ্ছে ভারতের সংখ্যালঘু বাকারওয়াল জাতিগোষ্ঠীর ইউসুফ বাকারওয়ালের কন্যা। বাকারওয়াল গোষ্ঠীটি কাশ্মীরের পাহাড়ি এলাকায় যাযাবরের মতো বাস করে, তারা ভেড়া ও ঘোড়া চড়িয়ে এদের জীবিকা নির্বাহ করে। গোষ্ঠীটির কিছু লোক রাসানা এলাকায় বসবাস করতে এলেই বাঁধে বিপত্তি, তারা এখানকার প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তা সনজি রাম এর রোষানলে পড়েন। সনজি রাম শুরু থেকেই বাকারওয়ালদের বিরুদ্ধে মাদকপাচার, গো-হত্যাসহ নানা উসকানি ছড়িয়ে স্থানীয়দের উত্তপ্ত রাখতেন। এত কিছু করেও যখন পেরে উঠছিলেননা উগ্র মানসিকতার সনজি রাম, তার ভাগনে রামুকে নির্দেশ দেন আসিফাকে অপহরণের। এর পেছনে লক্ষ্য ছিল বাকারওয়াল গোষ্ঠীকে এলাকা থেকে তাড়ানো।  

এদিকে অপহরণের পর মেয়েকে ফিরে পেতে খোঁজ চালাতে থাকে বাকারওয়ালরা তারা পুলিশকেও অবহিত করে বিষয়টি। ১৭ জানুয়ারি রাসানার একটি জঙ্গল থেকে আসিফার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এমন প্রেক্ষাপটে সনজি রাম বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আনন্দ দত্ত নামের উপ-পরিদর্শক পদ মর্যাদার এক তদন্ত কর্মকর্তাকে দেড় লাখ রুপি ঘুষ দেন।

আসিফা হত্যার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে সম্প্রতি ওই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ যখন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় তখন। গ্রেফতার করা হয়েছে অভিজুক্ত সেই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা সনজি রামকে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আরো রয়েছে -দীপক খাজুরিয়া নামের পুলিশের এক বিশেষ কর্মকর্তা, সুরেন্দ্র বর্মা, আনন্দ দত্ত ও তিলক রাজ এবং সনজি রামের ভাগনে রামু ও তার বন্ধু পারবেশ কুমার (মানু) ও রামের ছেলে বিশাল জঙ্গোত্রা।

পুলিশের অভিযোগপত্রে উল্ল্যেখ আছে, বাকারওয়াল গোষ্ঠীকে এলাকা থেকে তাড়াতে সনজি রাম তার ভাগনে রামুকে দিয়ে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটায়।  রামু তার বন্ধুদের নিয়ে ইউসুফের মেয়ে আসিফাকে অপহরণ করেত। এরপর তাকে ধর্ষণ করে রামু পরবর্তীতে মানুও চেষ্টা করে ধর্ষণের। পরে তারা সনজি রামের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি উপাসনালয়ে তালাবদ্ধ করে আসিফাকে আটকে রাখে। পরবর্তীতে নির্জন এলাকার একটি কালভারট এর উপর নিয়ে গিয়ে রামুর বন্ধু দীপক তার চাদর আসিফার গলায় পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। রামু আসিফার মাথা পাথর দিয়ে থেতলে দিয়ে মরদেহ ফেলে দেয় দূরের জঙ্গলে। সেখানেই পড়ে থাকা আসিফার নিথর মরদেহ  ১৭ জানুয়ারি উদ্ধার করেন স্থানীয়রা, খবর পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহটি নিয়ে যায়।

শিশুটিকে গণধর্ষণ ও হত্যায় তোলপাড় চলছে ভারতে। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে রাজনীতিক, সুশীল সমাজের নেতা থেকে শুরু করে কলিউড-টলিউড-বলিউডের তারকারা পর্যন্ত যারা প্রচণ্ড সোচ্চার হয়েছেন। প্রত্যেকের অভিন্ন সুর যেন আসিফার ধর্ষক ও হত্যাকারীদের কঠোর বিচার হয়।

কোটা বাতিল ইস্যুতে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা যাবে কি?

Now Reading
কোটা বাতিল ইস্যুতে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা যাবে কি?

কোটা পদ্ধতির সংস্কার বিষয়ে ইতিমধ্যেই সবার মনে নতুন করে একটি ভ্রান্তি ধারণার জন্ম দিয়েছে আর তাহল কোটা উঠে যাওয়ায় সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হবে কিনা, বা এই বিষয়ে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ হলে পূর্বের  মতোই রয়ে যাবে কিনা?

আসুন একটু বিশ্লেষণের চেষ্টা করি, সংবিধানের যে অংশটিকে উদ্বৃত্ত করে বলা হচ্ছে, তা হল ২৯নং অনুচ্ছেদ (সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা।)।  আর এই ২৯ অনুচ্ছেদের ৩য় ধারার কথা ধরেই বর্তমান আলোচনার জন্ম ।

২৯ নং অনুচ্ছেদঃ

১. প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে।

২. কেবল ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাঁহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না।

৩. এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই-

(ক) নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশ যাহাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করিতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে তাঁহাদের অনুকূলে বিশেষ বিধান-প্রণয়ন করা হইতে,

(খ) কোন ধর্মীয় বা উপ-সম্প্রদায়গত প্রতিষ্ঠানে উক্ত ধর্মাবলম্বী বা উপ-সমপ্রদায়ভুক্ত ব্যক্তিদের জন্য নিয়োগ সংরক্ষণের বিধান সংবলিত যে কোন আইন কার্যকর করা হইতে,

(গ) যে শ্রেণীর কর্মের বিশেষ প্রকৃতির জন্য তাহা নারী বা পুরুষের পক্ষে অনুপযোগী বিবেচিত হয়, সেইরূপ যে কোন শ্রেণীর নিয়োগ বা পদ যথাক্রমে পুরুষ বা নারীর জন্য সংরক্ষণ করা হইতে,

রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।

সুতরাং এখানে স্পষ্ট যে সংবিধান সরকারকে কোটা সুবিধা দিতে কোন প্রকার বাধ্য করে নি। বরং মূল ধারাটিতে বলা আছে সবার সমান অধিকার বিষয়ে। তবে উক্ত অনুচ্ছেদের একটা জায়গায় ধারা ৩ এর (ক) তে রাষ্ট্রকে কোটা দেয়ার ঐচ্ছিক অধিকার দেয়া আছে। অর্থাৎ রাষ্ট্র প্রয়োজন মনে করলেই কোটা দিতে পারবে, কিন্তু দেয়ার কোন বাধ্যবাদকতা নেই।

সুতরাং এই অর্থে সরকারের স্বদিচ্ছার উপর সবকিছু নির্ভর করবে কোটা থাকবে কিনা! যদি এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিটও হয় তা আদৌ টিকবে কিনা সময় বলে দেবে।

বেশ কিছুদিনের ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সংসদে সব ধরণের কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যে, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেবে সরকার।

বিভক্ত কোটা সংস্কার আন্দোলন!

Now Reading
বিভক্ত কোটা সংস্কার আন্দোলন!

কোটা সংস্কারের আন্দোলনটি স্পষ্টতই এখন বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যমান কোটা পদ্ধতির সংস্কার চেয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। শুরুতে একসাথে একই দাবীতে আন্দোলন করলেও এখন দুটি গ্রুপ আলাদাভাবে বিভক্ত। কোটা সংস্কার প্রশ্নে এই আন্দোলনের শুরু থেকে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এতদুর পর্যন্ত নিয়ে এসেছে সেই অংশের ২০জন প্রতিনিধির সাথে প্রধানমন্ত্রীর প্রেরিত প্রতিনিধি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সচিবালয়ে বৈঠকে করেছেন। তিনি আন্দোলনকারীদের ইতিমধ্যেই আশ্বস্ত করেছেন যে সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়ে ভাবছে। বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। মে মাসের ৭ তারিখের মধ্যে সরকার কোটা সংস্কারের দাবি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই সিদ্ধান্ত দেবে। সরকারে এমন আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলন আগামী ৭ মে পর্যন্ত স্থগিত করতে রাজি হন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু একই দাবীতে আন্দোলন করা অন্য আরেকটি পক্ষ স্থগিতের এই সমঝোতা মেনে নিতে নারাজ। তারা সরাসরি সরকারের এই সময় নেয়ার বিরোধিতা করে আন্দোলন চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক। আন্দোলন স্থগিত করার বিপক্ষে যারা রয়েছে এর মধ্যে তারা নিজেরাই একটি আলাদা কমিটি গঠন করেছেন। তারা সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা প্রথার সংস্কারের দাবিতে ক্রমাগত শ্লোগান দিয়ে অন্যদের সমবেত রাখছেন।

এদিকে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনে হামলা বিষয়ে করা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জনাব ওবায়দুল কাদের। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে পৌনে ২ঘণ্টার বৈঠকে তিনি জানিয়েছেন যে বা যারাই ঘটনার সাথে জড়িত তাদের যেকোন মুল্যেই শাস্তির আওতায় আনা হবে।  তিনি বলেন কোটার সঙ্গে ভিসির সম্পর্ক কী? বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে কোটা সংস্কারের সঙ্গে কেন যুক্ত করা হলো? একাত্তরের অপারেশন সার্চলাইটের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক হত্যাযজ্ঞ ঘটেছে। অনেক শিক্ষক-ছাত্র-কর্মচারীর রক্তে ভেসে গেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বর। কিন্তু সেদিনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবন আক্রান্ত হয়নি। আজ স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর যে ঘটনা ঘটেছে। এটা একাত্তরের বর্বরতাকেও হার মানায়। ‘শোয়ার কক্ষও রক্ষা পায়নি, সব তছনছ করে দিয়েছে হামলাকারীরা। বাথরুমের কমোড পর্যন্ত ভেঙে ফেলা হয়েছে। ভিসি সাহেবের পরিবারের সোনার গয়না লুট হয়েছে। বাড়ির আসবাবপত্র বাড়ির বাইরে নিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’ এটা কেমন বর্বরতা! এই নারকীয় বর্বরতার সঙ্গে যারা জড়িত, কোনো অবস্থাতেই তাদের ছাড় নয়।

কোটা সংস্কারের দাবিতে রোববার বিকেলে কর্মসূচি শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করলে রাস্তা থেকে তাদের হটিয়ে দিতে রাতে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এতে আহত হয় বেশ কিছু শিক্ষার্থী, পরে তারে পিছু হটে বিক্ষিপ্তভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়। বিভিন্ন জাতীয় সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্টে জানা যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রীরা মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকলে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর অনিয়ন্ত্রিত জমায়েত তৈরি হয়। ফলে আন্দোলনের উত্তপ্ততা ছড়ায়, আর সে  মুহূর্তেই ভিসির বাসভবনে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সেসময় দুটি মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

ভিসির বাসভবনে হামলায় জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনকারীদের চাপে মুক্তিযোদ্ধা কোঠা সংকুচিত না করতেও তিনি সরকারকে অনুরোধ করেন।ইতিমধ্যে দেশের শিক্ষকদের বিভিন্ন পরিষদ, রাজনৈতিক দল, বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন সহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা ভিসির বাসভবনে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের শাস্তি দাবী করেছেন।  

এদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এর সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরী সিন্ডিকেট সভায় হামলার এ ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত বলে উল্ল্যেখ করা হয়। সভায় উপাচার্যের বাসভবনে হামলা এবং উপাচার্য ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের চেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির একটি অপপ্রয়াস বলে মতামত ব্যাক্ত করেন সিন্ডিকেট সদস্যরা। তারা উপাচার্য ভবনে হামলাকারীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।  সিন্ডিকেটের সভায় উপাচার্যের বাসভবনে হামলার বিষয়ে খতিয়ে দেখার জন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও দোষীদের চিহ্নিত করে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়।

নবজাতকের মৃত্যুতে বেকায়দায় স্কয়ার হাসপাতাল!

Now Reading
নবজাতকের মৃত্যুতে বেকায়দায় স্কয়ার হাসপাতাল!

ইদানীং কসাইখানা হিসেবে বেশ নাম ডাক কুড়িয়েছেন রাজধানীর অভিজাত স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড। দেশের আধুনিক হাপাতাল হিসেবে পরিচিতি থাকায় অনেকেই চিকিৎসা ব্যয় মাত্রাতিরিক্ত হওয়া সত্ত্বেও এই হাসপাতালের দিকে ঝুঁকেন কেবল ভাল একটা সেবা পাওয়ার আশায়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে এর উল্টো, চিকিৎসার নামে এই প্রতিষ্ঠান রীতিমত কসাইখানা খুলে বসেছেন। খুব একটা প্রভাবশালী কিংবা পরিচিত না হলেই সেবা প্রার্থীদের ভাগ্যে অবর্ণনীয় দুর্দশা অপেক্ষা করে। বলা যায় মানুষ বুঝে তারা তাদের আচরণ করেন। এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মূল্য তুলনামূলক দেশের অন্যান্য হাসপাতালের তুলনায় অনেক বেশি। সাধারণ মানুষজন এই প্রতিষ্ঠানের সেবা থেকে বঞ্চিত। আর যারা মোটামুটি কিছুটা স্বাবলম্বী বা বাধ্য হয়ে সেবার আশায় সেখানে যাচ্ছেন তাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফল সুখকর হচ্ছেনা। ভুক্তভোগীরা নিয়মিত এসব অভিযোগ বিভিন্নভাবে ব্যাক্ত করছেন। দেশের স্বনামধন্য ঔষধ তৈরির প্রতিষ্ঠান স্কয়ার এই হাসপাতালটি পরিচালনা করছে। নানা অনিয়ম এর মাঝে সবচেয়ে বেশি দুর্নাম ছড়িয়েছে চিকিৎসা অবহেলায় শিশু মৃত্যুর বিষয়টি। বেশ কিছুদিন যাবৎ এই তকমাটি তাদের ব্র্যান্ডে জড়িয়ে গেছে আর তা হল খরচ বাড়াতেই নাকি তারা ইচ্ছেমত গর্ভপাত করান! আর এই অভিযোগ খোদ যারা চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে ভুক্তভোগী তাদেরই। নরমাল ডেলিভারি এর ক্ষেত্রেও নাকি তারা সিজার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন রোগীকে। তেমনি এক ঘটনা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে, আজ সকালে এক হতভাগ্য দম্পতির শিশুর মৃত্যু ঘটেছে কেবল চিকিৎসকদের অবহেলার কারনেই। শিশুটির পিতা-মাতা এবং আত্মীয় স্বজনদের দাবী তাদের বাচ্চা সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। তারা বলেছেন, ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে যখন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ছিল তখন ওটি’তে থাকা চিকিৎসক রেহেনুয়া নাকি চাচ্ছিলেন সিজার করতে। পরে প্রসব বেদনার কষ্টে ভোগা তাসলিমা তারানুম নোভা(শিশুটির মা) অসহায় হয়ে যখন সিজার করতে রাজি হলেন তখন চিকিৎসক কালক্ষেপণ করে একাধিকবার বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা দিতে থাকেন। জানা যায়, গত ৫এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরেরদিন শুক্রবারে ডেলিভারি করে নবজাতকটিকে আইসিইউতে নিবিড় পরিচর্যার জন্য রাখা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারটির অভিযোগ আইসিইউ এর বিল ৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে গেলে তাদের উপর চড়াও হয় ঐ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা। অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসায় অবহেলা ও চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসা সব মিলিয়ে মারাত্মক এক দুর্নামে পরিগণিত হচ্ছে দেশের এই আধুনিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানটি। অনেকেই বলছেন দিনের পর দিন চিকিৎসা নিয়ে নানা অনিয়ন সত্ত্বেও তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকছেন তারা। বিষয়টা এমন যে অনেকেই ভাবেন তাদের ছাড়া দেশে উন্নত সেবা পাওয়ার আর কোন বিকল্প নেই। মানুষের এই বিশ্বাসকে পুজি করে তারা চিকিৎসার নামে দেশে এক প্রকার ডাকাতিতে নেমেছেন বলে অনেকের অভিযোগ। এর পূর্বেও অনিয়ম ও অব্যাবস্থাপনায় হাসপাতালটিতে গর্ভে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসবের কোন সুরাহাতো হয়নি বরং চিকিৎসকদের ব্যাপারে কোন ব্যাবস্থা নিতে গেলে উল্টো ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে গোটা দেশের চিকিৎসা সেবা প্রার্থীদের। ডাক্তারদের ভুলের বিপরীতে শাস্তিমূলক কোন ব্যাবস্থা নেয়াই যেন আরেকটি অপরাধ এই দেশে। যাক সেই দিকে না যাই। কারন এসব নিয়ে বলতে গেলে দেখা যাবে পরিচিত ডাক্তাররাই আমার চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেবেন…

আজকের ঘটনায় বেশি খারাপ লেগেছে যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখেছি শিশুটিকে নিয়ে তার পিতা-মাতার করুণ আহাজারি। বিবেকের কাছে প্রশ্ন- টাকার জন্য কি জীবনের কোন মূল্যই নেই এসব ডাক্তার নামের অপেশাদার মানুষের কাছে?

হতভাগ্য সেই নবজতাকের বাবা শাহবুদ্দিন টিপু সংবাদ মাধ্যমেই অভিযোগ করেছেন, ‘গত বৃহস্পতিবার তার স্ত্রীকে চেক-আপের জন্য স্কয়ারে নিয়ে আসলে গাইনি ডাঃ রেনুমা জাহান কয়েকটি চেক-আপ করে বলে দেন প্রসব বেদনা উঠলেই যেন তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু একই সময় ইমারজেন্সি রুম থেকে অন্য এক ডাক্তার বলেন, এখন সময় হয়ে গেছে তাই তার স্ত্রীকে ভর্তি করাতা হবে।  তার স্ত্রীর কোনো প্রসব ব্যথা না থাকায় তিনি ভর্তি করাতে ইচ্ছুক ছিলেন না। কিন্তু ডাক্তার এক প্রকার জোর করেই তার স্ত্রীকে ভর্তি করাতে বাধ্য করে এবং প্রসব বেদনার জন্য ইনজেকশন দিয়ে দেয়। আর শুক্রবার যখন তার স্ত্রীকে ডেলিভারি করানোর জন্য ওটি’তে নিয়ে যাওয়া হয় তখন তাকে জানানো হয় বাচ্চাটি মারা গেছে।

এখন প্রশ্ন হল, মারা যাওয়ার পরও কেন ৪দিন বাচ্চাটিকে আইসিইউতে রেখে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ? চিকিৎসা সেবার নামে এই অপেশাদারিত্বের দৌরাত্ন বন্ধ হবে কবে? এদের লাগামই বা টানবে কে? সরকারের উচিৎ এসব প্রতিষ্ঠানের উপর কঠোর নজরদারি করা যেন অকালেই কোন মা-বাবার কোল খালি হয়ে না যায়। ধিক্কার জানাই চিকিৎসা সেবার নামে চলা মুনাফাভোগীদের এসব ব্যাবসার। জীবনের কি কোন মূল্যই তাদের কাছে নেই? টাকার জন্য কি জোর করেই হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে? মৃত জেনেও চার দিন মৃত বাচ্চাটিকে কেন আইসিইউতে রেখে ৫ লাখ টাকার ব্যবসা করতে হবে? কে দেবে এর সদুত্তোর?

ভুক্তভোগীর ভিডিও স্টেটমেন্টঃ https://www.facebook.com/reza.u.karim.7/videos/10211729303488898/

অবশেষে জামিনে মুক্তি পেল সালমান খান

Now Reading
অবশেষে জামিনে মুক্তি পেল সালমান খান

২০ বছর পূর্বে দুটি বিপন্ন প্রজাতির কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার দায়ে সালমান খানের পাঁচ বছরের কারাদন্ডের পর আজ জামিনে মুক্তি পেলেন। ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত জামিন বন্ডে  বলিউডের সুপারস্টার সালমান খানকে জামিনে মুক্তি দিয়েছে রাজস্থানের যোধপুর জেলা আদালত । আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ত্যাগে তার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। আদালতের সমন জেলে পৌছার পরই জেল থেকে সাময়িক মুক্তি পান সালমান। কয়েকদিন আগে বিপন্ন প্রজাতির কৃষ্ণ হরিণ শিকারের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় ৫বছরের জেল হয় বলিউড সুপার স্টার সালমান খানের।

এদিকে সালমানের এই জামিন সহজেই মেনে নিতে পারছেনা রাজস্থানের বিষ্ণু সম্প্রদায়। তারা হাল না ছেড়ে টানা কুড়ি বছর ধরে এই মামলার পিছনে লেগে ছিল, তারা এখন সালমানের এই জামিনের বিরোধিতা করতে হাইকোর্টে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সালমান খানের আইনজীবিরা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন গতকালই তারা জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন তাঁর, তবে শুনানি অসমাপ্ত থাকায় বিলম্বিত হয়ে আজ মুক্তি পান। এদিকে যে আদালতে সালমান খানের জামিন আবেদনের শুনানি চলছিল, সেই আদালতের বিচারকসহ আরো মোট ৮৭ জন বিচারপতির বদলির নির্দেশ গতকাল আসায় বিব্রতকর এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।  বিচারপতি রবীন্দ্র কুমার যোশী বিব্রত হন কারণ তিনি বুজতে পারছিলেন না যে জামিন মামলার আবেদন আর শুনতে পারবেন কী না বা তার ওপর আদেশ দিতে পারবেন কী না।

তবে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ সকালে এজলাসে বসে সব পক্ষের বক্তব্য শুনে মি. যোশী সালমানকে জামিন প্রদান করেন। ততক্ষনে গোটা ভারতে সালমান এর ভক্তরা আনন্দে ফেটে পড়ে। তারা মিছিল করে পটকা ফাতিয়ে সালমান খানের মুক্তির এই উল্লাস প্রকাশ করে।। এখন দেখা যাক শর্তসাপেক্ষ জামিনে মুক্ত হয়ে সালমান এর ভবিষ্যৎ কোনদিকে গড়ায়…

পাকি প্রধানমন্ত্রীর প্যান্ট খুলে দিল আমেরিকা

Now Reading
পাকি প্রধানমন্ত্রীর প্যান্ট খুলে দিল আমেরিকা

অবিশ্বাস্য হলেও ঠিক এই বিষয়টি ঘটেছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী  শাহিদ খাকন আব্বাসির সাথে। ছয় দিনের সফরে আমেরিকা গেছেন আব্বাসি, তিনি  আমেরিকার জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে নামলে ইউএস ইমিগ্রেশন তার পোশাক খুলে তল্লাশি চালিয়েছে। একটি ভিডিও ফুটেজকে ভিত্তি করে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলি এ তথ্য সামনে নিয়ে এসে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। যদিও আমেরিকা প্রশাসনের তরফ থেকে এ ঘটনাকে তাদের রুটিন তল্লাশি বলেছে। প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকন আব্বাসির পোশাক খুলে তল্লাশি চালানোতে ক্ষুব্ধ গোটা পাকিস্তান, তারা কোনভাবেই বিষয়টি মেনে নিতে পারছেনা। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জানায়, নিজের বোনকে দেখতে আমেরিকা গিয়েছেন শাহিদ খাকন আব্বাসি। ব্যক্তিগত সফর হলেও তিনি আমেরিকার উপ-রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।

ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্টধারী শাহিদ খাকন আব্বাসির পোশাক খুলে তল্লাশি করায় হতবাক পাকিস্তান। তাদের সংবাদমাধ্যমগুলো প্রশ্ন তুলছে পাকিস্তানের প্রতি বৈরি আচরণ করেছে আমেরিকা যা অভদ্রতার মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে । এরই মধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে শাহিদ খাকন আব্বাসির পোশাক খুলে তল্লাশি চালানোর ভিডিওটি।  এতে দেখা যাচ্ছে, জামা ও বেল্ট পরছেন আব্বাসি এরপর কাউন্টারে রাখা নিজের কোট গায়ে দিয়ে হেঁটে চলন্ত সিঁড়ি বেয়ে উপড়ে উঠে যাচ্ছেন। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে আমেরিকা কেমন বন্ধু পাকিস্তানের? একজন প্রধানমন্ত্রীর যদি প্যান্ট খুলে তল্লাশি করা হয় তবে একজন পাকিস্তানি নাগরিকের ক্ষেত্রে এই আচরণ কেমন হতে পারে? সত্যিকার অর্থে পাকিস্তানিদের সহ্য করতে পারছেনা বিশ্ব। জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের উত্থানে সামনে থেকে আর্থিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে এই পাকিস্তান। বিশ্বের অনেক দেশেই পাকিস্তানের এজেন্টরা সাম্প্রদায়িকতা উত্থানের মিশন নিয়ে নিয়োজিত। প্রায় প্রতিটি জঙ্গি কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলছে। তাই তাদের প্রতি সারা বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গি একটু ব্যাতিক্রম। তাদেরকে সহজেই বিশ্বাস করতে পারেনা কেউ, পাকিস্তানি শুনলেই অনেকেইভাবে দেহে হয়ত বোমা নিয়েই ঘুরছে।

সেই সন্ধেহ থেকে বাদ গেলনা স্বয়ং তাদের প্রধানমন্ত্রীও, শাহিদ খাকন আব্বাসিকে এই তল্লাশির পূর্বে আমেরিকা ৭টি পাকিস্তানি কম্পানিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে তার দেশে। তারা বলছে দেশের সুরক্ষার জন্য ওই কম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল আমেরিকা প্রশাসন। এদিকে আরো আবাস পাওয়া যাচ্ছে যে, পাকিস্তানের ওপর হয়ত একাধিক ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা। কূটনৈতিক মহলের ধারণা হয়ত সে কারণ থেকেও এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে!

বানছাডাঃ জন্মই যেখানে পতিতাবৃত্তির জন্য

Now Reading
বানছাডাঃ জন্মই যেখানে পতিতাবৃত্তির জন্য

বানছাডা সমাজে মেয়েদের জন্ম কে খুব সৌভাগ্যের লক্ষন মানা হয় , কারন এই মেয়েই হবে আরেকটি উপার্জন মাধ্যম। কিভাবে? পতিতাবৃত্তির মাধ্যমে।

জ্বী হ্যা, ঠিকই পড়েছেন। ভারতের মত দেশ, এখনো যেখানে ছেলে সন্তান এর পরিবর্তে মেয়ে সন্তান হলে তাকে ভ্রূণেই নস্ট করে দেয়ার রেওয়াজ প্রচলিত আছে সেখানে মধ্য প্রদেশের ৩ টি গ্রাম যথাক্রমে – রাতলাম, মান্দাসুর এবং নিমুচ এলাকায় মেয়েদের জন্মকে খুব আয়োজন করে উদযাপন করা হয়। কারন এরাই হবে পরিবারের আয়ের উৎস এবং পুরুষেরা সেটা ভোগ করবে।

অঞ্চলগুলো পতিতাবৃত্তিতে নিজেদের পরিবারের মেয়েদের লেলিয়ে দেয়া ছাড়াও আরেকটা কারনে বিখ্যাত তা হলো আফিম এর জন্য। প্রচুর পরিমানে আফিম এই অঞ্চলে চাষ করা হয়। অবাক করা ব্যাপার হল – এই কাজ গুলো খুব খোলামেলা হচ্ছে যেন তা সর্বজন স্বীকৃত।

যেহেতু তারা ঘরের মেয়েদের আয়ের উপরে নির্ভর করে তাই, মেয়ে জন্মানোর পর তারা খুব ধুমধাম এর সাথে তা উদযাপন করে। আইনের চোখে তা বেআইনি হয়া সত্বেও প্রশাসন সেখানে খুব নিষ্ক্রিয়, ফলে প্রতিটা পরিবারের থেকেই পুরুষরা ঘরের মেয়েদের জোর পুর্বক পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত করে।

বানছাডা সমাজ ৩ টা অঞ্চলের প্রায় ৭৫ টা গ্রাম নিয়ে গঠিত যেখানে জনসংখ্যা প্রায় ২৩ হাজার এর মত আর এই মোট জনসংখ্যার ৬৫% ই নারী।

২০১৫ সালে মধ্য প্রদেশ নারী শক্তি অধিদপ্তর একটি সমীক্ষন চালায় যেখানে দেখা যায় মান্দাসুর এর মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩৪৩৫ যেখানে ২২৪৩ জন নারী আর ১১৯২ জন পুরুষ। এর মানে পুরুষের বিপরীতে নারীর সংখ্যা দ্বিগুন প্রায়। ২০১২ সালে নিমুচ গ্রামে একই সমীক্ষন চালিয়ে দেখা যায় সেখানে নারীর সংখ্যা ৩৫৯৫ জন ও পুরুষের সংখ্যা ২৭৭০ জন। দেখা যাচ্ছে এরা নারীদের ব্যাপারে যত্নশীল , কিন্তু ভুল রাস্তায় যত্ন নিচ্ছে তারা।

ব্যাপারটা এখানেই শেষ না। তারা মানব পাচারের সাথেও জড়িয়ে পরেছে। নিজের পরিবারের বা গোত্রের আয় বৃদ্ধি করার জন্য তারা বাইরের অঞ্চল্গুলো থেকে মেয়ে কিনছে। যেমন ২০১৪ সালে নিমুচ গ্রামে পুলিশের রেইড পরে আর সেখানে একটি পরিবার থেকে৬ বছরের একটি শিশুকে উদ্ধার করা হয়। পরে সেই পরিবার এর একজন মহিলা স্বীকার করে যে ২০০৯ সালে বাচ্চাটিকে উজান অঞ্চলের নাগাড়া এলাকা থেকে ৫০০ রুপির স্ট্যাম্পে সই করিয়ে কিনেছে। পরবর্তীতে সেই মহিলাকে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়।

এই বাচ্চা কেনার ব্যাপারটা একজন দালালের মাধ্যমে হয় এবং তারা ব্যাপারটা খুব সহজভাবেই নেয়, অনেকটা জমি কেনা-বেচার মত। এটাকে তারা বিনিয়োগ ভাবে, যে আজকে এই বাচ্চা কিনলাম, সে আমাকে ভবিষ্যতে বিশাল টাকা উপার্জন করে দিবে। ক্রয়-কৃত বাচ্চাগুলোর সঠিক যত্ন তারা নেয় না, ক্রীতদাসের মত ব্যাবহার করে, আর বাচ্চাগুলোর দাম সাধারনত ২০০০ থেকে ১০,০০০ রুপি হয়ে থাকে।

 

বিধ্বস্ত বিমান, স্তব্ধ জাতি!

Now Reading
বিধ্বস্ত বিমান, স্তব্ধ জাতি!

দেশের জন্য সত্যি এক মর্মান্তিক খবর-  শাহজালাল বিমান বন্দর থেকে ৬৭ জন যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাওয়া নেপালগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস ২১১, কাঠমান্ডুর ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে গিয়ে বিধ্বস্ত হয়ে প্রায় ৫০জন মত নিহত এবং অনেকেই আহত হয়েছেন।  বিভিন্ন গণমাধ্যম এ খবর ফলাও করে প্রচার করছে। ১৭ বছরের পুরনো বোম্বাইডার ড্যাস কিউ৪০০ টার্বোপ্রপ ইঞ্জিন বিশিষ্ট বিমানটি বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৪৩ মিনিটে উড্ডয়ন করে নেপালের স্থানীয় সময় বেলা ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডু ত্রিভুবন এয়ারপোর্টে অবতরণ করতে গিয়ে রানওয়ে সংলগ্ন একটি ফুটবল মাঠে আছড়ে পড়ে।  

 

ত্রিভুবন বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রেম নাথ ঠাকুর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ল্যান্ডিংয়ের সময় উড়োজাহাজটি বিমানবন্দরের পাশে একটি ফুটবল মাঠে গিয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার কিছু পরই উড়োজাহাজটিতে দ্রুত আগুন ধরে যায়। এতে ৬৭ জন যাত্রী ও চার ক্রুসহ মোট ৭১ জন ছিলেন।

 

ঘটনার পরপর নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুরেষ আচার্যের বরাত দিয়ে কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছিল, ওই উড়োজাহাজ থেকে ১৭ জনকে তারা আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে বাকীদের উদ্ধারে তারা তৎপর রয়েছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মী ও নেপাল সেনাবাহিনীর একটি অংশ সেখানে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়।  দুর্ঘটনার পরপরই লেগে যাওয়া আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয় উড়োজাহাজটি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, যান্ত্রিক ক্রটির কারণে ল্যান্ডিংয়ের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে।

 

এদিকে বাংলাদেশের আরেক বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারের ২২০ আসন বিশিষ্ট একটি বিমান ২০১৫ সালে ঢাকা থেকে ওমানের রাজধানী মাসকট যাওয়ার পথে ইঞ্জিনের সমস্যায় জরুরি অবতরণ করে ভারতের ছত্তিশগড়ে রায়পুরের মানা বিমানবন্দরে। বিমানবন্দরে স্থানাভাবের বিষয়টি চিন্তা করে সে সময় বিমানটি অবতরণের অনুমতি দিতে আপত্তি জানালেও, বিমানটির পাইলট তার আপৎকালীন পরিস্থিতি এবং ঝুঁকির কথা বলায় বাধ্য হয় ৫ মিনিটের মধ্যে রানওয়ে খালি করে নিরাপদে বিমানটিকে অবতরণ করতে সাহায্য করে কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে ৩ বছর ধরেই পার্কিং ফি পরিশোধ না করেই বিমানবন্দরের ৬টি পার্কিং বে-র একটি দখল করে রেখেছে পরিত্যক্ত বাংলাদেশি এই বিমানটি। ইতিমধ্যেই পার্কিং ফি বাবদ পাওনা বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ লক্ষ রুপি। ফলশ্রুতিতে বেসরকারি বিমান সংস্থার বিমানটি বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ভারত। অন্য দেশের পরিত্যাক্ত লক্কর জক্কর মার্কা বিমান গুলি সস্থায় কিনে এনে মেরামত করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে এসব বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলি। ফলে বারংবার ঝুঁকির কথা জানান দিচ্ছে এই বিমানগুলি।

 

আবারো জঙ্গি থাবায় বাংলাদেশ!

Now Reading
আবারো জঙ্গি থাবায় বাংলাদেশ!

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান চলাকালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জনপ্রিয় অধ্যাপক ও প্রখ্যাত লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল হামলার শিকার হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকায় মুক্তমঞ্চে গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের  বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে এর উদ্বোধন করেছিলেন ড. জাফর ইকবাল। গত শনিবার ৩মার্চ সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি রোবট প্রতিযোগিতা উপভোগ করছিলেন এমন সময় বিকাল ৫টা ৩৫ মিনিটের দিকে অধ্যাপক জাফর ইকবালকে পেছন দিক হতে ছুরিকাঘাত করে ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুল (২৪) নামের এক যুবক। ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীরা হামলাকারীকে আটক করে বেধড়ক গণপিটুনি দেয়, অজ্ঞান অবস্থায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২ এ আটকে রেখে পরে তারা পুলিশে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে আটক হামলাকারী সেই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ ও অধিকতর তদন্তের জন্য র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

হামলাকারী ফয়জুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী কুমারগাঁওয়ের শেখপাড়ার বাসিন্দা মাদ্রাসা শিক্ষক আতিকুর রহমান এর ছেলে, তার মূল বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই। ঘটনার পরপরই শেখপাড়ার বাসাটি তালাবদ্ধ করে ফয়জুলের পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার দিন রাতেই হামলাকারী ফয়জুর রহমানের তালাবদ্ধ বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ভেতর থেকে ল্যাপটপসহ একজনকে আটক করে।

বরাবরই জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ অধ্যাপক জাফর ইকবাল বেশ কিছুদিন ধরেই জঙ্গি হামলার হুমকি পেয়ে আসছিলেন। গত দুই বছর পূর্বে ২০১৬ সালের জুনে দেশের শীর্ষ এক গোয়েন্দা সংস্থা থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো রিপোর্ট অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর সম্ভাব্য হামলা সংক্রান্ত নিরাপত্তাবিষয়ক একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। নিরাপত্তাবিষয়ক সেই বিশেষ প্রতিবেদনের তালিকায় জাফর ইকবালের নাম ছিল দ্বিতীয় নাম্বারে। তখন তাঁকে চলাচলে সতর্কতা পালন করতে সরকারের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

২০১৬ সালের অক্টোবরে জঙ্গি সংগঠন আনসার উল্লাহ বাংলা টিমের পরিচয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হত্যার হুমকির পর জালালাবাদ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন জাফর ইকবাল দম্পতি, এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে তার নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারা দেয়া হচ্ছে।

কিন্তু ঘটনার কিছু সময় পূর্বে তোলা এক ছবিতে দেখা যায়, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা তিন পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দুজনই তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত আর ঠিক তাদের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় ওই হামলাকারী যুবককে। প্রশ্ন উঠেছে সেই পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ববোধ নিয়ে, নিরাপত্তার বিষয়ে তাদের উদাসীনতা যথেষ্ট দৃশ্যমান।

গতকাল বিকেলে হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় জাফর ইকবালকে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে প্রথমে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করানোর পরে ইএনটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এন কে সিনহাকে প্রধান করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। তাঁদের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে রাত নয়টার দিকে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য ড. ইকবালকে রাতেই এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার সিএমএইচে পাঠানো হয়।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ছুরিকাঘাতে আহত লেখক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল এখন পূর্বের চেয়ে শঙ্কামুক্ত। আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।