জুকারবার্গের ‘ফেসবুক’ এবং আমাদের ‘হা হা ‘

Now Reading
জুকারবার্গের ‘ফেসবুক’ এবং আমাদের ‘হা হা ‘

গত কয়েক দশকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে যে কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম অবদান রেখেছে, তার মধ্যে মার্ক জুকারবার্গের ফেসবুক সবথেকে এগিয়ে। এর মাধ্যমে আপনি সহজেই নানা পরিচিত, অপরিচিত, যে কোন দেশের, যে কোন বয়সের, যে কোন লিঙ্গের, পেশার, ধর্মের মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করতে পারেন। করতে পারেন চ্যাটিং ও। এমনকি দিতে পারেন ভয়েস অথবা ভিডিও কল!তবে, ফেসবুক এখন আর বন্ধুত্ব গড়ে তোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন পত্র পত্রিকা বা নিউজ চ্যানেল ফেসবুকে তাদের অফিসিয়াল পেজে তাদের নিউজ প্রকাশ করে।ফলে দেশ বিদেশের নানা খবরাখবর জানারও অতি সহজ একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে ফেসবুক। কী সংবাদ নেই এখানে? রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা, আবহাওয়া, বিনোদন- সবই পাবেন এখানে। আপনি আপনার ফেসবুকের নিউজফিডে ১০ টি মিনিট চোখ বুলালেই পুরো দুনিয়ার তাজা খবর পেয়ে যাবার শতভাগ সম্ভাবনা আছে।

সময়ে সময়ে ফেসবুক তার ব্যবহারকারীকে আকৃষ্ট করতে নানা রকমের ফিচার যোগ করেছে বা পরিবর্তন এনেছে যা ফেসবুককে করেছে আরো বেশি আকর্ষণীয়। এর মধ্যে একটি হল কারো পোস্টে আপনি চাইলেই লাইক, লাভ, স্যাড, হা হা, আ্যংরি ইত্যাদি প্রতিক্রিয়া দিয়ে আপনার আবেগ জানাতে পারবেন। খুবই চমকপ্রদ একটি ব্যাপার। কিন্তু বিপত্তিটা লেগেছে এই ‘হা হা ‘ রিয়্যাক্ট নিয়ে।

বাংলাদেশে একটি ফেসবুক ব্যবহারকারী ‘কমিউনিটি’র সৃষ্টি হয়েছে যারা এ জগতের যেকোন ধরনের পোস্ট, নিউজ, ছবি বা ভিডিও তে ‘হা হা ‘ রিয়্যাক্ট দেয়ার জন্য উৎসুক হয়ে বসে থাকে। এই যেমন ধরুন, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ র আপডেট নিতে ঢুকলাম দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’ র অফিসিয়াল পেইজে। সেখানে সবধরনের নিউজে ঐ ‘ হা হা’ কমিউনিটির লোকজনকে আপনি সদলবলে পাবেন।এরা মানুষ জন্মালে হাসে, মানুষ মরলে হাসে, বিয়ে করলে হাসে, বিবাহ বিচ্ছেদ হলেও হাসে। জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে সকলের কাছে দোয়া চাইলেও হাসে। দোয়া চাওয়ার মধ্যেও যে হাসির খোরাক লুকিয়ে থাকে সেটা আপনি এদের না দেখলে ভাবতেও পারবেন না। কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগের ওবায়দুল কাদের সাহেব অসুস্থ হয়ে গেলেন, সেখানেও মানুষের হাসির অন্ত নেই।হতে পারে তিনি আপনার ভিন্নমতের রাজনীতির অনুসারী। কিন্তু তাই বলে একজন মানুষের অসুস্থতাতেও আমাদের হাসা লাগবে? এমনকি আওয়ামীলীগ নেতা আশরাফুল সাহেবের মৃত্যুতেও মানুষের ‘হা হা’ মারা বন্ধ থাকেনি! থাক, বাদ দেন। বিপরীত ধারার রাজনীতির মানুষকে হয়তো মানবিকতা দেখানো যায় না। কিন্তু যে ব্যাপারটা সবচেয়ে বেশি অবাক করে তা হল, ঘূর্ণিঝড়ের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর নিউজেও এদের ‘হা হা ‘ চলছেই! এই ‘হা হা’ তে আসলে তারা কী বোঝাতে চাইছে? এই ‘হা হা’ গুলো আসলে কারা দিচ্ছি। যারা ফেসবুক ব্যবহার করছি। ফেসবুক কারা ব্যবহার করে? আমরাই তো! তবে? আমরা কী করছি? দিনদিন আমাদের মানবিকতা আসলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে? উপকূলবর্তী মানুষগুলো তাদের জানমাল নিয়ে দিশেহারা হয়ে কাঁদছে, তাদেরকে নিরাপদ স্থানে সরাতে হচ্ছে, আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে মাইকিং করে তাদের ধান কেঁটে ফেলতে অনুরোধ করা হচ্ছে। আর আমরা হেসেই খুন? তারা সবাই তো নিশ্চয়ই আমাদের বিকল্প রাজনীতি চিন্তার না! তারা তো আমাদেরই লোক, এই দেশেরই লোক। তবে তাদের দুর্গতিতে আমাদের এই হাসি কেন? আমরা কি আসলেই স্বাভাবিক জ্ঞান- বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ? ওহ্ না। আমরা তো আবার ‘ হা হা ‘ কমিউনিটি।

শেষে একটি ছোটখাটো গল্প দিয়ে শেষ করি। ছোটবেলায় আমি ক্রিকেট খেলতাম। খেলতাম মানে যেমন তেমন খেলা নয়, একেবারে চট্টগ্রাম এর এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে ক্রিকেট অনুশীলন করতাম।একদিন বিকেলে তপন দার একাডেমী থেকে ক্রিকেট অনুশীলন শেষে ঘরে ফিরছি। তো, পাড়ার সবজান্তা ভাব নেয়া এক বন্ধু ডাক দিয়ে আমার ক্রিকেট সরঞ্জামের ব্যাগ থেকে সব বের করে দেখা শুরু করল। হেলমেট, প্যাড, গ্লাভস, থাই প্যাড, এলবো গার্ড- সবই সে ব্যাগ থেকে বের করে নিচ্ছে আর কোনটা কোথায় ব্যবহার করতে হয় তা আমাকে বলে বলে তার বিখ্যাত ‘ সবজান্তা শমসের ‘ টাইপ হাসি দিচ্ছে। ভাবখানা এমন যেন সে আমাকে শেখাচ্ছে। এরপর এক পর্যায়ে সে ‘গার্ড’ ( ক্রিকেটারদের অন্ডকোষের নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যবহৃত হয়) বের করে জানতে চাইলো এইটা ক্রিকেটাররা কোথায় ব্যবহার করে। বেচারার অজ্ঞতা বুঝতে পেরে আমিও ভাব নিয়ে বললাম ” আমি বলবো না। দেখি তুই বলতে পারিস্ কিনা? ” এরপর সে বেশ খানিকক্ষণ চিন্তা করে ঘটিয়ে বসলো এক কাণ্ড! ‘ একটু আগেই আমার নিজের ব্যবহৃত ‘গার্ড’ টি তার মুখের উপর চেপে ধরে সবজান্তা ভাব নিয়ে হেসে বললো ” এখানে ব্যবহার করে, তাই না? ” আমি তো হেসেই খুন। এরপর যখন তাকে মূল ব্যাপার জানানো হল তার তখনকার অবস্থা আপনাদের আর নাইবা বলি! বমি করতে করতে সে এক বিশাল ব্যাপার।

এ গল্পের একটি মোরাল বা নীতিকথা আছে।আসলে কোন জিনিসের ব্যবহার আপনি জানেন না, কিন্তু তা আপনার হাতে আসলে আপনি কী করবেন বা কী করবেন না তা নিয়ে দিশেহারা হয়ে যেতে পারেন। ঠিক তখনি এমন বিপত্তি অনিবার্য। একইভাবে মার্ক জুকারবার্গের ‘ হা হা ‘ রিয়্যাক্ট আর আমাদের ‘ হা হা’ কমিউনিটির হয়েছে একই দশা।

রাশিয়ান “পুরুষ চড় মারা চ্যাম্পিয়নশিপ”, গ্র্যান্ড পুরস্কার ত্রিশ হাজার রুবেল

Now Reading
রাশিয়ান “পুরুষ চড় মারা চ্যাম্পিয়নশিপ”, গ্র্যান্ড পুরস্কার ত্রিশ হাজার রুবেল

সাইবেরিয়ার আরেকটি আকর্ষণীয় ছুটির দিনে, এই বছর প্রথম পুরুষের স্ল্যাপিং চ্যাম্পিয়নশিপ রাশিয়ার ক্রাশোয়ারস্ক
থেকে এসেছিল, যেখানে বার্ষিক সাইবেরিয়ান পাওয়ার শো (এসপিএস) অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিযোগি যা আশা করবেন ঠিক তেমনি রাশিয়ান পুরুষদের অ্যাথলেটিক্স নামে একে অপরকে স্ল্যাপ মারবে।
এসপিএসের প্রিমিয়ার স্কেপিং প্রতিযোগিতার একটি প্রচারমূলক ভিডিও তে এই বছরের বিজয়ী, ৩৭০-পাউন্ড স্ল্যাপিং মেশিন নামে ভাসিলি কামোটস্কি। একটি ক্লিপ পুনরায় টুইট করা প্রতিবেদকের মতে, রাশিয়ার সম্প্রচারকারী এনটিভি শেয়ার করে নতুন প্রতিযোগি ও তার ডাক নাম অর্জন করে “পেলম্যান” বা “ডাম্পিং”।

স্ল্যাপিং প্রতিযোগিতার নিয়ম প্রশংসনীয় সহজ প্রদর্শিত। উভয় স্ল্যাপারস মুখোমুখি দাঁড়াবে, শুধুমাত্র তাদের মধ্যে wedged একটি ছোট স্থায়ী টেবিল দ্বারা আলাদা করে দেওয়া হয়। স্ল্যাপারস তাদের হাতের তালু সাদা পাউডার দিয়ে ধুলো করে এবং তাদের প্রতিপক্ষের মারাত্মক আঘাত সহ্য করার জন্য তাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করার জন্য কয়েক মিনিটের সময় দেয়।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রেফারি প্রতিযোগিতার শেষ হয়নি ঘোষনা করা পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বীরা একে অপরকে চপেটাঘাত করবে। স্ল্যাপারকে প্রতিপক্ষের আক্রমণ এড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয় না। এমনকি যুদ্ধের জন্য কোন সংশ্লেষিত পয়েন্ট বা সময় সীমা নেই।
যতক্ষণ না পর্যন্ত একজন স্ল্যাপারসগুলো নিতে অস্বীকার করে ততক্ষণ বিজয়ী নির্ধারণ হয়না। ডাম্পলিংয়ের প্রথম স্থান জয় করার ভিসির বিস্তারিত ভাঙার মতে, ৩০,০০০ রাশিয়ান রুবেল (অথবা $৪৭০ মার্কিন ডলারের সমতুল্য) নগদ পুরস্কার অন্তর্ভুক্ত।
টুর্নামেন্টের শেষ লড়াইয়ের সময়, কামোটস্কির প্রতিদ্বন্দ্বী দুজন মারাত্মক আঘাত পেয়েছিল, যা দৃশ্যত তাকে মাটিতে আঘাত করেছিল। তুলনামূলকভাবে, কামটোস্কির মুখটি খুব কমই সরানো হয়েছিল কারণ তাকে পাল্টা ধাক্কা দেয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কামোস্কস্কিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

ফেসবুক তার প্ল্যাটফর্ম থেকে সাদা জাতীয়তাবাদী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী তথ্য নিষিদ্ধ করেছে

Now Reading
ফেসবুক তার প্ল্যাটফর্ম থেকে সাদা জাতীয়তাবাদী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী তথ্য নিষিদ্ধ করেছে

ফেসবুক জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকে ফেসবুক ও ইনস্ট্রাগ্রাম “জাতীয়তাবাদ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদের প্রশংসা, সমর্থন ও প্রতিনিধিত্ব” অবরুদ্ধ করবে। সশস্ত্র মিডিয়া দৈত্য সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী থেকে উপাদান সনাক্ত এবং ব্লক করার ক্ষমতা উন্নত করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।ফেসবুক ব্যবহারকারীরা আপত্তিজনক শর্ত অনুসন্ধানের জন্য দাতব্যকে নির্দেশিত করবে যা ডানদিকে ডান চরমপন্থাকে জোর করে।
নিউজিল্যান্ডে দুই মসজিদের উপর হামলা চালানোর পর সামাজিক নেটওয়ার্ক চাপে পড়েছে। ফেসবুকে কিছু সাদা জাতীয়তাবাদী কন্টেন্টের অনুমতি দেয় যা বর্ণবাদী হিসাবে বিবেচিত ছিল না – যা সাদা জাতিগত রাজ্যের সৃষ্টি করার জন্য ব্যবহারকারীদের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানি বুধবার একটি ব্লগ পোস্টে বলেছিল যে এটি শিক্ষাবিদ ও বেসামরিক গোষ্ঠীর সাথে তিন মাসের কথোপকথনের পর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এটি হ’ল লোকেদের সাহায্যের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এমন সম্পদগুলিতে হোয়াইট সার্বমাসত্বের সাথে সম্পর্কিত পদ অনুসন্ধানের জন্য পুনর্নির্দেশ করবে। ঘৃণা গ্রুপ পিছনে ছেড়ে।

ফেসবুক, টুইটার এবং ইউটিউব এই মাসের শুরুর দিকে তীব্রভাবে সমালোচিত হয়েছিল হোয়াইট ন্যাশনালস্টের সাথে বন্দুকধারী ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে গুলি চালানোর লাইভস্ট্রিম গ্রাফিক ফুটেজের ফলে। এই ভিডিওটি অনুলিপি এবং একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি থেকে আপলোড করা হয়েছিল যখন মূল ফেসবুক থেকে নিচে নামিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাকিন্দ আর্মেন ​​এই আক্রমণের পর তাদের সাইটগুলিতে ভাগ করা চরমপন্থী সামগ্রীর জন্য আরো দায়িত্ব নিতে প্ল্যাটফর্মের আহ্বান জানান।
তিনি ফেসবুকের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছিলেন, “এটি যথেষ্ট পরিমাণে এগিয়ে যায়নি এবং সহিংস চরমপন্থীদের দ্বারা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির ব্যবহার সম্পর্কিত একটি সমন্বিত বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
আমি মনে করি ফেসবুকের সম্প্রদায়ের মানগুলি যখন আপনি দেখেন যে তারা ঘৃণাত্মক বক্তব্যের অনুমতি দেয় না, তখন আপনি সম্ভবত মোটামুটিভাবে অনুমান করবেন যে তারা যা ঘোষণা করেছে তা ইতিমধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

অস্ট্রেলিয়াকে কঠোর ফৌজদারি জরিমানা করার হুমকি দিয়েছে এবং কর্মকর্তাদের জন্য কারাদন্ডসহ। কারণ সামাজিক মিডিয়া কোম্পানি তাদের পণ্য নিরাপদ নিশ্চিত করতে এবং সন্ত্রাসী আক্রমণ লাইভ স্ট্রিমিং প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে তাই।
স্কট মরিসন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী, এই সপ্তাহে সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে সন্ত্রাসী সামগ্রীর সাথে “অস্ত্রোপচার” করা থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করছে।

ফেসবুক বলেছে যে এটি এখন পরিষ্কার যে এই ধারণাগুলি সংগঠিত ঘৃণা গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত ছিল এবং হোয়াইট সার্বিকতা থেকে আলাদাভাবে দেখা যায় নি। কোম্পানী আরও যোগ করেছে যে এটি সন্ত্রাসী উপাদানগুলির জন্য পর্যবেক্ষণ থেকে মেশিন লার্নিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিস্তৃত করেছে। এতে সাদা সর্ম্পকেবাদীদের সহ ঘৃণা গোষ্ঠীগুলির জন্য পর্যবেক্ষক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গত সপ্তাহে ফেসবুক জানিয়েছে যে নিউজিল্যান্ড মসজিদের হামলার প্রথম ২৪ ঘন্টার মধ্যে কোম্পানিটি লাইভস্ট্রিম ভিডিওর 1.2 মিলিয়ন কপি ফেসবুক থেকে মুছে ফেলে। ফেসবুক থেকে সরানো আগেই লাইভস্ট্রিমটি ৪০০০বার দেখানো হয়েছিল।
মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রদত্ত অনলাইন আক্রমন প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ার কারণে গত বছর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ফেসবুক। তাই এখন বিশেষ করে ঘৃণাত্মক বক্তৃতা মোকাবেলা করার জন্য সংস্থাটি তার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

ইঞ্জেকশনে ফলের রসে সুস্থ দেহ, নাকি অস্বাভাবিক মরণ ফাঁদ?

Now Reading
ইঞ্জেকশনে ফলের রসে সুস্থ দেহ, নাকি অস্বাভাবিক মরণ ফাঁদ?

চরম পর্যায়ের সাস্থ্য সচেতন প্রবণতাগুলো ক্ষতিকর হতে পারে, বিশেষ করে যদি আপনি না জেনে থাকেন আপনি কী করতে যাচ্ছেন। জেং নামের ৫১ বছর বয়সী একজন চীনা মহিলা সম্প্রতি যিনি সরাসরি তার শিরার মধ্যে ফলের রসের কনকোজ ইনজেকশন করেছিলেন, এইটা প্রায় প্রাণঘাতী ছিল।

গ্লোবাল টাইমস-এর মতে, জেং একজন উদ্ভট প্রকৃতির মানুষ যে নিজেকে ইনজেকশন দেওয়ার আগে একসাথে ২০ টি ফল মিশ্রিত করে রস নিয়েছিলেন। তার স্বামী, যিনি জেং এর এই ব্যপারটাতে অবগত ছিলেন, তার অবস্থা খারাপ হয়ে উঠার সাথে সাথেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার অবস্থা এতটাই মারাত্মক হয়ে উঠেছিল যে তাকে একটি বড় হাসপাতাল হুনানের জিয়াংনান বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল, যেখানে ডাক্তাররা তার অবস্থার ভালো চিকিৎসা দিতে পারবে।


হাসপাতালে পাঁচ দিন ধরে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে রাখা হয় জং কে। তিনি তার লিভার, কিডনি, হৃদ এবং ফুসফুসের একাধিক অঙ্গের অসুস্থতা ভোগ করেন।
একাধিক অঙ্গের ডিসফিউশন সিন্ড্রোম (এমওডিএস) একাধিক অঙ্গ ব্যর্থতা (এমওএফ) হতে পারে এবং মারাত্মক সেপসিস বা সেপ্টিক শক হতে পারে, যা আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীদের মৃত্যুর সবচেয়ে সাধারণ কারণ।
জেং এর সৌভাগ্য যে, তার শরীর বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালি ছিল। জেং বলেন যে তিনি সুস্বাস্থ্য থাকার জন্য একটি বিদ্রূপাত্মক উপায়ে বিপজ্জনক কাজ সম্পাদন করেছেন।

চীনের এক সংবাদ দাতাকে তিনি বলেন, “আমি মনে করতাম তাজা ফল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী , তাই আমি কখনোই আশা করি না যে এইটা মারাত্মক কোন পরিণতি হতে পারে।” তিনি জিয়াক্সিয়াং মর্নিং হেরাল্ডকে কথা বলতে যথেষ্ট পরেছিলেন।

জেং তার ফলের রস fiasco থেকে বেঁচে গেছে, কিন্তু তিনি তার এই বোকামির জন্য সামাজিক মাধ্যম গুলোর বিব্রতকর স্টান্ট থেকে বাঁচতে পারবেন না, বিবিসি র এক রিপোর্টে জানায় যে, চীনের ১১,০০০ এরও বেশি ওয়েইবো ব্যবহারকারী জেং
এর এই অদ্ভুত কাজের বিপরীতে হ্যাসট্যাগ # ওল্ডম্যানম্যানস পুটজুয়েসইনটোভিন্স।

“ওয়েইবোতে এক মন্তব্যকারী লিখেছেন “তার সাদা রক্ত ​​কোষ অবশ্যই একটি অত্যন্ত কঠিন যুদ্ধ করেছে। বেচারা কোষ!

টুইটারে দেশের বাইরে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা তার ফলের রস স্টান্টের অযৌক্তিকতার উপর মন্তব্য করেছে।

স্ন্যাপচ্যাট বয়স যাচাইয়ের ব্যর্থতা স্বীকার

Now Reading
স্ন্যাপচ্যাট বয়স যাচাইয়ের ব্যর্থতা স্বীকার

সংসদ সদস্যের একজন একটি কোম্পানীকে বলেছেন যে তিনি অ্যাপের জন্য সাইন আপ করতে মাত্র ১২ বছর বয়সী দিয়ে সক্ষম হয়েছেন যেখানে সিস্টেম বলে প্রাপ্ত বয়স হতে হবে, এবং তিনি বয়স পরিবর্তন করেই সাইন আপ করতে সক্ষম হয়েছে। সংসদীয় কমিটির সামনে শুনানির সময় কোম্পানিটির প্রতিনিধিরা প্ল্যাটফর্মের সাইন আপ করার জন্য ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইকরণের ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না।

পাবলিক পলিসিটির সিনিয়র ডিরেক্টর স্টিফেন কলিন্স এবং তার সৃজনশীল কৌশল পরিচালক উইল স্কাউগল বলেন, স্ন্যাপচ্যাট তার চেয়ে কম বয়সের ব্যবহারকারীদের প্লাটফর্মে চায় না। তারা এই বলে জোর দিয়েছিল যে অ্যাপ্লিকেশনটিতে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের থাকার কোন বাণিজ্যিক সুবিধা নেই।

তারা বলেন, ব্যবহারকারীদের সাইন-আপে কম বয়সী ব্যবহারকারীরা ওয়েব ব্রাউজারগুলিতে কুকিজ ট্র্যাক করে কিনা তা পরীক্ষা করার পদ্ধতি আছে তবে লোকেরা ওয়েব ব্যবহার করে তাদের অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পরিবর্তে অ্যাপ্লিকেশনের জন্য সাইন আপ করার সময় এটি কাজ করে না। কিন্তু স্বীকার করেছে যে তিনি, কিছু ক্ষেত্রে বয়স যাচাই প্রক্রিয়া “কাজ ” সঠিকভাবে করেনি।


তিনি কমিটিকে জানান ”স্নাপচ্যাট” যার দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ১৮৬ মিলিয়ন, একটি “জোরালো বয়স যাচাইকরণ” সিস্টেম বিকাশের জন্য হোম অফিসের সাথে কাজ করে। হোম অফিসের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে কোম্পানিটি প্রযুক্তি সংস্থাগুলির একটি অংশ একত্রিত হয়েছ বিশেষজ্ঞরা এবং অনলাইনে বয়স যাচাইয়ের পদ্ধতি কীভাবে বিবেচনা করা যায় তার জন্য কাজ করছে। স্বরাষ্ট্র সচিব ও সংস্কৃতি সচিব বলেন “আমরা চাই যে ইউ কে অনলাইনের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ, বিশেষ করে বাচ্চাদের জন্য নিরপদ হউক। স্বরাষ্ট্র সচিব ও সংস্কৃতি সচিব উভয়ই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের প্রতি সংস্থাগুলোর দায়িত্ব সম্পর্কে পুনরায় মনে করিয়ে দিয়েছেন।
আরও যুক্ত করেছে, “আমরা আশা করি যখন প্রযুক্তি কোম্পানি যখন অনলাইন সাজসরঞ্জাম, আপত্তিজনকভাবে লাইভ স্ট্রিমিং খুঁজে পায় তা যেন বন্ধ করে দেয় এবং যেখানে প্রয়োজন হয়, শিশুদের নিরাপদ রাখতে শক্তিশালী বয়স যাচাইকরণ ব্যবস্থা থাকে।

“আমাদের অনলাইন হরমস হোয়াইট পেপার অনলাইন ক্ষতির মোকাবেলা করার জন্য বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপ নিবে এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের নিরাপদ রাখার জন্য স্পষ্ট দায়িত্বগুলি সেট করবে। “সাদা কাগজ আশা রাখবে সামাজিক নেটওয়ার্ক দায়বদ্ধ থাকবে তাঁদের প্ল্যাটফর্মের কন্টেন্ট এর উপর। অ্যাপের ফিল্টারগুলো তরুণ মেয়েদের শরীরের অযৌক্তিক সংস্করণগুলি দেখিয়ে অ্যাপের ফিল্টারগুলি শরীরের ডিস্কোরাফিয়ার উত্সাহ দেয় কিনা তা নিয়ে কোম্পানিটিকে উদ্বিগ্ন করা হয়েছে।
শরীরের ডাইসমর্ফিয়া, বা শরীরের ডিস্কোরাফিক ডিসঅর্ডার, এনএইচএস দ্বারা “একটি মানসিক স্বাস্থ্যের শর্ত যেখানে একজন ব্যক্তি তাদের চেহারাতে ত্রুটি সম্পর্কে উদ্বেগ নিয়ে অনেক সময় ব্যয় করে।” এই ত্রুটিগুলি প্রায়ই অন্যদের কাছে অবহেলাযোগ্য।

নির্বাহীরা মত প্রকাশ করেন, ফিল্টার কেবল বাস্তব বিশ্বের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদানের একটি “মজার উপায়” ছিল, কিন্তু তারা স্বীকার করেছিল যে সৌন্দর্য অ্যাপ্লিকেশনের প্রভাবগুলিতে “আরও গবেষণা দরকার”।
ডিজিটাল, সংস্কৃতি, প্রচার মাধ্যম ও খেলাধুলা কমিটির সংসদ সদস্যগণ, বিশেষ ব্যবহারকারীদের জন্য “আসক্তি” হিসাবে বিশেষভাবে “স্টিক্স” বৈশিষ্ট্যটি একত্রিত করার বৈশিষ্ট্যগুলি তৈরির জন্য স্ন্যাপচ্যাটের সমালোচনা করেছিলেন।

সাংসদদের মতে, অল্প বয়স্ক লোকেরা প্রায়ই তাদের অ্যাকাউন্টগুলিতে বন্ধুদের অ্যাক্সেস দেয় যাতে নির্দিষ্ট স্টিকগুলি রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়।
যদিও কোম্পানির নির্বাহীরা বলেছিলেন যে স্ট্রাকগুলি অ্যাপটির অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়, তবে সাংসদরা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যে তারা ফেসবুকে, টুইটারে রিটার্ন করার জন্য একই রকম একটি কাজ করেছে।

হাজার তম রক্ত দান এর রেকর্ড করেছেন জেমস হ্যারিসন

Now Reading
হাজার তম রক্ত দান এর রেকর্ড করেছেন জেমস হ্যারিসন

অষ্ট্রেলিয়ার একজন রক্ত প্লাজমা দাতা যার অস্বাভাবিক প্লাজমা সন্নিবেশ রেসাস রোগ এর চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হয় জেমস হ্যারিসন , দি ম্যান উইথ দ্যা গোল্ডেন ব্লাড নামেও পরিচিত।জেমস হ্যারিসন ২৭ ডিসেম্বর ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহন করেন । বর্তমানে জেমস এর বয়স ৮১ বছর ।২০১১ এর মে মাসে তিনি ১০০০ তম বারের রক্ত দানের মাইল ফলকে পৌঁছান। এই যাবৎ তিনি ২০ লাখের বেশি শিশুকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছেন, হ্যারিসন রক্তে এক দুর্লভ এন্টিবডি রয়েছে যা গর্ভাবস্থায় শিশুদের রেসাস নামের দুরারোগ্য এক ব্যাধি প্রতিরোধ করে!! তাঁর বয়স যখন ১৮ তখন থেকেই তিনি রক্তদান শুরু করেন । হ্যারিসন অবশ্য নিজেও জানতেন না যে তার রক্ত এত মূল্যবান!!প্রথমবার রক্ত দেবার সময় ডাক্তাররা আবিষ্কার করেন হ্যারিসনের রক্তে রয়েছে জীবন দানকারী এই এন্টি বডি যা এন্টি ডি হিসেবে পরিচিত ।১৪ বছর বয়সে বুকের একটা সার্জারির জন্য হ্যারিসন কে ১৩ লিটার রক্ত নিতে হয়েছিল বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে!!সুস্থ হবার পর পরই তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন যতদিন বেচে থাকবেন ততদিন রক্তদান করে যাবেন!!

রক্তদান প্রসঙ্গে হ্যারীসন বলেন-

“যখন কেও আমাকে বলে,আপনি তো অনেক মহত কাজ করছেন,তখন আমার খুব লজ্জা লাগে!! কারণ আমার মনে হয়,আমি একটা কাজই করতে পারি,সেটা হল রক্ত দেয়া!!রক্তদানটাকেই আমি আমার একমাত্র প্রতিভা বলে মনে করি”। আমাদের খুব কাছের কারো রক্ত প্রয়োজন হলেই আমরা বুঝতে পারি এই কাজের মত উপকারি কাজ খুব দুরলব্য ।পৃথিবীতে এই মহৎ কাজটি করে যাচ্ছেন অনেকেই।আর এই কাজের গুরুত্ব ঠিক ততক্ষণ না আমরা বুঝতে পারি যতক্ষণ নিজের সাথে বা পরিবারে কারো সাথে এমন পরিস্থিতিতে না পড়ি অনেক কিছুরই মর্ম আমরা বুঝিনা।
তবে এটা জানা সত্ত্বেও যে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী যে কোন সুস্থ মানুষ প্রতি চার মাস পর পর এক ব্যাগ অর্থাৎ ৩৫০ মিলিলিটার থেকে ৪৫০ মিলিলিটার রক্ত দিতে পারে হ্যারিসন তা সাছন্দে করেছেন,অনেক সময় আমরা ভাবি নিজেদের কারো লাগলে তখন দিব,অন্যের জন্য রক্ত খরচ করার দরকার কি।জীবন বাঁচাতে বাঁচাতে
হ্যারিসন এর নাম গিনিজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এ উঠে গেছে।
রক্ত দান একটা মহৎ গুণ,এইটা নিয়ে এখন অনেকেই অনেক বিভিন্ন ওয়েভ সাইডে ব্লাড কালেক্ট করা যায় এপ্স তৈরি করেছেন।রক্তের দরকার হলেই আপনি এই এ্যাপে ঢুকবেন,রক্তের গ্রুপ দিয়ে সার্চ করলেই,এভেইলএবল ডোনারের সন্ধান পেয়ে যাবেন।
যারা এই মহৎ কাজ গুলো করেন তাদের কাছে একটা প্রশ্নের উত্তর আপনি কখনও পাবেন না, এই এত এত ভালো মানুষ আছে যারা অন্যকে বাঁচিয়ে রাখার মধ্যা জীবনের সার্থকতা খুঁজে পাই

হাত হারানো রাজীবের বাঁচার চেষ্টাও বৃথা গেল

Now Reading
হাত হারানো রাজীবের বাঁচার চেষ্টাও বৃথা গেল

শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানলেন ঢাকার মহাখালী এলাকার সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন। গত কয়েকদিন আগে বাসে একটি কাটা হাত ঝুলে থাকার দৃশ্যের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই যেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল। হ্যাঁ এটিই সে রাজিবের হাত যেটি সে হারিয়েছিল দুই বাসের চাপায়, আর এ কয়দিন লড়াই করে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তিনি। চলতি মাসের চার তারিখে রাজিব রাষ্ট্র মালিকানাধীন বিআরটিসির একটি বাসে চড়ে কলেজে যাচ্ছিলেন তখন রাজধানীর সার্ক ফোয়ারার কাছে ব্যক্তি মালিকানাধীন অন্য একটি বাসের সাথে রেষারেষির এক পর্যায়ে বাস দুটি একটি আরেকটিকে ঘেঁষে চলতে শুরু করে।  দুই বাসের এই অনিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতায় এবং তাদের ঘষায় যাত্রী রাজীবের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে বাসের দরজায় ঝুলে থাকে। তৎক্ষণাৎ রাস্তায় পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান রাজীব। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাপাতাল পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তাকে। তার বাহুর নিচ থেকে পুরোটাই কাটা পড়েছিল যার ফলে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। জ্ঞান ফেরার পর অসহায়ভাবে বাম হাত দিয়ে ডান হাতটা খুঁজতো রাজীব। তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল থাকা সত্ত্বেও মৃত্যুর কাছে হার মেনে নেন এই যুবক। তার মাথার হাড়ে ফাটল পাওয়া গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছিল পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ’তে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন রাজীবকে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন।

খুব ছোট বেলায় মা-বাবাকে হারানো রাজীব হোসেন ছোটো দুই ভাইয়ের আশার সম্বল ছিলেন। যাত্রাবাড়ীর মিরহাজিরবাগের একটি মেসে থেকে স্বজনদের সহৃদয় সহযোগিতায় কলেজের অধ্যায় চুকিয়ে বড় হবার স্বপ্ন ছিল তার। ছোট দুই ভাইকেও সেভাবে মানুষ করার লক্ষ্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন তিনি। তার ভাই দুজনই রাজধানীর একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় পড়ে।  নিজের পড়ালেখার খরচের পাশাপাশি ভাইদের খরচও বহন করতেন রাজীব। সত্যি বলতে সমাজ থেকে এমন সব মানুষের অকালে চলে যাওয়া মেনে নিতে কষ্ট হয় যারা অভাগা হয়েও ভাগ্যন্বেষণে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে বেঁচে থাকে। রাজীবের এই মর্মান্তিক ঘটনাটি দেশের মানুষকে ব্যাপক নাড়া দিয়েছে, তার বিচ্ছিন্ন হাতটি দুই বাসের ফাঁকে ঝুলে থাকার বীভৎস দৃশ্যে আঁতকে উঠেছিল সকলের মন। মুহূর্তেই বাসে ঝুলে থাকা সেই হাতের ছবি ব্যাপকভাবে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

রাজীবের এই হাতটির ছবি হয়ে উঠেছে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষজনের নিরাপত্তাহীনতার একটি প্রতীক। তাই এখনি সচেতন হতে হবে নিজেকেই, কোন চালক যদি তার বাহনটি অহেতুক বিপদজনকভাবে চালনা করে তবে তৎক্ষণাৎ তার প্রতিবাদ করতে হবে নিজেকে। কয়েক মিনিট আগে পৌঁছানোর জন্য যেন এমন অসহনীয় প্রতিযোগিতাকে সমর্থন না করি।

নিষ্ঠুরতার বলি হতভাগা আসিফা

Now Reading
নিষ্ঠুরতার বলি হতভাগা আসিফা

কাশ্মিরের কাঠুয়া অঞ্চলে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার ৮ বছর বয়সী শিশু আসিফা বানুকে ফের গণধর্ষণ করে তারপর হত্যা করা হয়েছে। এ বছরের জানুয়ারিতে কাঠুয়া উপত্যকায় ঘোড়া চড়ানোর সময় অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় আসিফাকে। অপহরণের পর সপ্তাহখানেক আটকে রেখে ধর্ষণ এবং শেষে হত্যা করা হয়। হতভাগ্য এই আসিফা বানু হচ্ছে ভারতের সংখ্যালঘু বাকারওয়াল জাতিগোষ্ঠীর ইউসুফ বাকারওয়ালের কন্যা। বাকারওয়াল গোষ্ঠীটি কাশ্মীরের পাহাড়ি এলাকায় যাযাবরের মতো বাস করে, তারা ভেড়া ও ঘোড়া চড়িয়ে এদের জীবিকা নির্বাহ করে। গোষ্ঠীটির কিছু লোক রাসানা এলাকায় বসবাস করতে এলেই বাঁধে বিপত্তি, তারা এখানকার প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তা সনজি রাম এর রোষানলে পড়েন। সনজি রাম শুরু থেকেই বাকারওয়ালদের বিরুদ্ধে মাদকপাচার, গো-হত্যাসহ নানা উসকানি ছড়িয়ে স্থানীয়দের উত্তপ্ত রাখতেন। এত কিছু করেও যখন পেরে উঠছিলেননা উগ্র মানসিকতার সনজি রাম, তার ভাগনে রামুকে নির্দেশ দেন আসিফাকে অপহরণের। এর পেছনে লক্ষ্য ছিল বাকারওয়াল গোষ্ঠীকে এলাকা থেকে তাড়ানো।  

এদিকে অপহরণের পর মেয়েকে ফিরে পেতে খোঁজ চালাতে থাকে বাকারওয়ালরা তারা পুলিশকেও অবহিত করে বিষয়টি। ১৭ জানুয়ারি রাসানার একটি জঙ্গল থেকে আসিফার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এমন প্রেক্ষাপটে সনজি রাম বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আনন্দ দত্ত নামের উপ-পরিদর্শক পদ মর্যাদার এক তদন্ত কর্মকর্তাকে দেড় লাখ রুপি ঘুষ দেন।

আসিফা হত্যার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে সম্প্রতি ওই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ যখন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় তখন। গ্রেফতার করা হয়েছে অভিজুক্ত সেই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা সনজি রামকে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আরো রয়েছে -দীপক খাজুরিয়া নামের পুলিশের এক বিশেষ কর্মকর্তা, সুরেন্দ্র বর্মা, আনন্দ দত্ত ও তিলক রাজ এবং সনজি রামের ভাগনে রামু ও তার বন্ধু পারবেশ কুমার (মানু) ও রামের ছেলে বিশাল জঙ্গোত্রা।

পুলিশের অভিযোগপত্রে উল্ল্যেখ আছে, বাকারওয়াল গোষ্ঠীকে এলাকা থেকে তাড়াতে সনজি রাম তার ভাগনে রামুকে দিয়ে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটায়।  রামু তার বন্ধুদের নিয়ে ইউসুফের মেয়ে আসিফাকে অপহরণ করেত। এরপর তাকে ধর্ষণ করে রামু পরবর্তীতে মানুও চেষ্টা করে ধর্ষণের। পরে তারা সনজি রামের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি উপাসনালয়ে তালাবদ্ধ করে আসিফাকে আটকে রাখে। পরবর্তীতে নির্জন এলাকার একটি কালভারট এর উপর নিয়ে গিয়ে রামুর বন্ধু দীপক তার চাদর আসিফার গলায় পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। রামু আসিফার মাথা পাথর দিয়ে থেতলে দিয়ে মরদেহ ফেলে দেয় দূরের জঙ্গলে। সেখানেই পড়ে থাকা আসিফার নিথর মরদেহ  ১৭ জানুয়ারি উদ্ধার করেন স্থানীয়রা, খবর পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহটি নিয়ে যায়।

শিশুটিকে গণধর্ষণ ও হত্যায় তোলপাড় চলছে ভারতে। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে রাজনীতিক, সুশীল সমাজের নেতা থেকে শুরু করে কলিউড-টলিউড-বলিউডের তারকারা পর্যন্ত যারা প্রচণ্ড সোচ্চার হয়েছেন। প্রত্যেকের অভিন্ন সুর যেন আসিফার ধর্ষক ও হত্যাকারীদের কঠোর বিচার হয়।

কোটা বাতিল ইস্যুতে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা যাবে কি?

Now Reading
কোটা বাতিল ইস্যুতে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা যাবে কি?

কোটা পদ্ধতির সংস্কার বিষয়ে ইতিমধ্যেই সবার মনে নতুন করে একটি ভ্রান্তি ধারণার জন্ম দিয়েছে আর তাহল কোটা উঠে যাওয়ায় সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হবে কিনা, বা এই বিষয়ে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ হলে পূর্বের  মতোই রয়ে যাবে কিনা?

আসুন একটু বিশ্লেষণের চেষ্টা করি, সংবিধানের যে অংশটিকে উদ্বৃত্ত করে বলা হচ্ছে, তা হল ২৯নং অনুচ্ছেদ (সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা।)।  আর এই ২৯ অনুচ্ছেদের ৩য় ধারার কথা ধরেই বর্তমান আলোচনার জন্ম ।

২৯ নং অনুচ্ছেদঃ

১. প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে।

২. কেবল ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাঁহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না।

৩. এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই-

(ক) নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশ যাহাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করিতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে তাঁহাদের অনুকূলে বিশেষ বিধান-প্রণয়ন করা হইতে,

(খ) কোন ধর্মীয় বা উপ-সম্প্রদায়গত প্রতিষ্ঠানে উক্ত ধর্মাবলম্বী বা উপ-সমপ্রদায়ভুক্ত ব্যক্তিদের জন্য নিয়োগ সংরক্ষণের বিধান সংবলিত যে কোন আইন কার্যকর করা হইতে,

(গ) যে শ্রেণীর কর্মের বিশেষ প্রকৃতির জন্য তাহা নারী বা পুরুষের পক্ষে অনুপযোগী বিবেচিত হয়, সেইরূপ যে কোন শ্রেণীর নিয়োগ বা পদ যথাক্রমে পুরুষ বা নারীর জন্য সংরক্ষণ করা হইতে,

রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।

সুতরাং এখানে স্পষ্ট যে সংবিধান সরকারকে কোটা সুবিধা দিতে কোন প্রকার বাধ্য করে নি। বরং মূল ধারাটিতে বলা আছে সবার সমান অধিকার বিষয়ে। তবে উক্ত অনুচ্ছেদের একটা জায়গায় ধারা ৩ এর (ক) তে রাষ্ট্রকে কোটা দেয়ার ঐচ্ছিক অধিকার দেয়া আছে। অর্থাৎ রাষ্ট্র প্রয়োজন মনে করলেই কোটা দিতে পারবে, কিন্তু দেয়ার কোন বাধ্যবাদকতা নেই।

সুতরাং এই অর্থে সরকারের স্বদিচ্ছার উপর সবকিছু নির্ভর করবে কোটা থাকবে কিনা! যদি এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিটও হয় তা আদৌ টিকবে কিনা সময় বলে দেবে।

বেশ কিছুদিনের ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সংসদে সব ধরণের কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যে, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেবে সরকার।

বিভক্ত কোটা সংস্কার আন্দোলন!

Now Reading
বিভক্ত কোটা সংস্কার আন্দোলন!

কোটা সংস্কারের আন্দোলনটি স্পষ্টতই এখন বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যমান কোটা পদ্ধতির সংস্কার চেয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। শুরুতে একসাথে একই দাবীতে আন্দোলন করলেও এখন দুটি গ্রুপ আলাদাভাবে বিভক্ত। কোটা সংস্কার প্রশ্নে এই আন্দোলনের শুরু থেকে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এতদুর পর্যন্ত নিয়ে এসেছে সেই অংশের ২০জন প্রতিনিধির সাথে প্রধানমন্ত্রীর প্রেরিত প্রতিনিধি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সচিবালয়ে বৈঠকে করেছেন। তিনি আন্দোলনকারীদের ইতিমধ্যেই আশ্বস্ত করেছেন যে সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়ে ভাবছে। বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। মে মাসের ৭ তারিখের মধ্যে সরকার কোটা সংস্কারের দাবি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই সিদ্ধান্ত দেবে। সরকারে এমন আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলন আগামী ৭ মে পর্যন্ত স্থগিত করতে রাজি হন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু একই দাবীতে আন্দোলন করা অন্য আরেকটি পক্ষ স্থগিতের এই সমঝোতা মেনে নিতে নারাজ। তারা সরাসরি সরকারের এই সময় নেয়ার বিরোধিতা করে আন্দোলন চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক। আন্দোলন স্থগিত করার বিপক্ষে যারা রয়েছে এর মধ্যে তারা নিজেরাই একটি আলাদা কমিটি গঠন করেছেন। তারা সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা প্রথার সংস্কারের দাবিতে ক্রমাগত শ্লোগান দিয়ে অন্যদের সমবেত রাখছেন।

এদিকে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনে হামলা বিষয়ে করা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জনাব ওবায়দুল কাদের। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে পৌনে ২ঘণ্টার বৈঠকে তিনি জানিয়েছেন যে বা যারাই ঘটনার সাথে জড়িত তাদের যেকোন মুল্যেই শাস্তির আওতায় আনা হবে।  তিনি বলেন কোটার সঙ্গে ভিসির সম্পর্ক কী? বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে কোটা সংস্কারের সঙ্গে কেন যুক্ত করা হলো? একাত্তরের অপারেশন সার্চলাইটের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক হত্যাযজ্ঞ ঘটেছে। অনেক শিক্ষক-ছাত্র-কর্মচারীর রক্তে ভেসে গেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বর। কিন্তু সেদিনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবন আক্রান্ত হয়নি। আজ স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর যে ঘটনা ঘটেছে। এটা একাত্তরের বর্বরতাকেও হার মানায়। ‘শোয়ার কক্ষও রক্ষা পায়নি, সব তছনছ করে দিয়েছে হামলাকারীরা। বাথরুমের কমোড পর্যন্ত ভেঙে ফেলা হয়েছে। ভিসি সাহেবের পরিবারের সোনার গয়না লুট হয়েছে। বাড়ির আসবাবপত্র বাড়ির বাইরে নিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’ এটা কেমন বর্বরতা! এই নারকীয় বর্বরতার সঙ্গে যারা জড়িত, কোনো অবস্থাতেই তাদের ছাড় নয়।

কোটা সংস্কারের দাবিতে রোববার বিকেলে কর্মসূচি শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করলে রাস্তা থেকে তাদের হটিয়ে দিতে রাতে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এতে আহত হয় বেশ কিছু শিক্ষার্থী, পরে তারে পিছু হটে বিক্ষিপ্তভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়। বিভিন্ন জাতীয় সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্টে জানা যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রীরা মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকলে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর অনিয়ন্ত্রিত জমায়েত তৈরি হয়। ফলে আন্দোলনের উত্তপ্ততা ছড়ায়, আর সে  মুহূর্তেই ভিসির বাসভবনে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সেসময় দুটি মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

ভিসির বাসভবনে হামলায় জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনকারীদের চাপে মুক্তিযোদ্ধা কোঠা সংকুচিত না করতেও তিনি সরকারকে অনুরোধ করেন।ইতিমধ্যে দেশের শিক্ষকদের বিভিন্ন পরিষদ, রাজনৈতিক দল, বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন সহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা ভিসির বাসভবনে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের শাস্তি দাবী করেছেন।  

এদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এর সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরী সিন্ডিকেট সভায় হামলার এ ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত বলে উল্ল্যেখ করা হয়। সভায় উপাচার্যের বাসভবনে হামলা এবং উপাচার্য ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের চেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির একটি অপপ্রয়াস বলে মতামত ব্যাক্ত করেন সিন্ডিকেট সদস্যরা। তারা উপাচার্য ভবনে হামলাকারীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।  সিন্ডিকেটের সভায় উপাচার্যের বাসভবনে হামলার বিষয়ে খতিয়ে দেখার জন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও দোষীদের চিহ্নিত করে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়।

Page Sidebar