“বাংলাদেশে বাবা মেয়েকে বিয়ে করতে পারে” এই উক্তির জন্য এক ভারতীয়কে বাংলাদেশজমের জবাব

Now Reading
“বাংলাদেশে বাবা মেয়েকে বিয়ে করতে পারে” এই উক্তির জন্য এক ভারতীয়কে বাংলাদেশজমের জবাব

ইফতারের আগে একটি ভিডিও দেখার পর থেকে নিজেকে কোনভাবে সামলে রাখতে পারছিলাম না। অনেক চেষ্টা সত্তেও। “বাংলাদেশে বাবা মেয়েকে বিয়ে করতে পারে” বা “বাংলাদেশী পরিবাররা তাদের মেয়েদের বিদেশে পতিতাবৃত্তির জন্য খোলা বাজারে বিক্রি করে দেয়” এসব কথাই বলা হয়েছে বাংলাদেশকে নিয়ে সেই ভিডিওতে। একটি ভেরিফাইড ইউটিউব চ্যানেল থেকে অক্ষয় ভারাগোয়া নামের ব্যাক্তি বাংলাদেশের রেলমন্ত্রীর বিয়ের ছবি দিয়ে দেখিয়েছে বাবা মেয়েকে বিয়ে করছে। এছাড়াও এমন সব কিছু বলেছে যে একজন বাংলাদেশী হিসেবে আমি কোনভাবে চুপ করে বসে থাকতে পারছিলাম না।

তাই বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট থেকে আমার জবাব দিতেই হলো। সেই ভিডিও অর্ধ মিলিয়ন মানুষ দেখেছে। আমাদের এই জবাব  মিলিয়ন মানুষের দেখা চাই। তার সমস্ত কথাগুলোকে আমরা প্রমান সহ ভুল প্রমান করে উল্টো দেখিয়ে দিয়েছি খোদ ভারতেই এসব হয় সে যা বলেছে, বাংলাদেশে না। নীচের ভিডিওটি দেখে নিন, এবং ইউটিউবে কমেন্ট করুন, শেয়ার করুন এই পোস্টটি যতভাবে পারেন। আমরা সেই ইউটিউব চ্যানেল বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। যুদ্ধ এবার চলবে এভাবে। বাংলাদেশকে কোনভাবেই অপমান হতে দেব না। কোনভাবেই না। আজ আপনাদের দরকার আমাদের। চুপ করে বসে থাকবেন না। নীচের ভিডিওটি আগে দেখে নিন। জবাব আমরা আপনাদের হয়েই দিয়েছি।

Direct Youtube Link: https://youtu.be/0Ke12w8PxSI অথবা নীচে দেখুন।

খুব দ্রুত আসছে ঘূর্ণিঝড় “মোরা”

Now Reading
খুব দ্রুত আসছে ঘূর্ণিঝড় “মোরা”

1.png
ছবি ১ (কৃতজ্ঞতা: Joint Typhoon Warning Center (JTWC))

আপডেট : সময় বাংলাদেশ সময় দুপুর টা ৩০ মিনিট

ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র কিছুটা পশ্চিম-উত্তর দিকে সরে এসেছে। এখনকার কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত চিত্র ও আবহাওয়া পূর্বাভাষ মডেল অনুসারে ঘূর্ণিঝড় “মোরা” এর কেন্দ্র ঠিক ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলার মাঝা-মাঝি এলাকার উপর দিয়ে বাংলাদেশ অতিক্রম করবে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র উড়ির চর ও সন্দীপের উপর দিয়ে যাবে; ফলে ঐ সকল চর এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে ১০-১৪ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

আবহাওয়া পূর্বাভাষ মডেল গুলো নির্দেশিত ঘূর্ণিঝড়ের পথ এর মধ্যে পার্থক্য অনেক কমে এসেছে। প্রায় ৩ টি মডেলই নির্দেশ করতেছে যে ঘূর্ণিঝড় “মোরা” এর কেন্দ্র ঠিক ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলার মাঝা-মাঝি এলাকার উপর দিয়ে বাংলাদেশ অতিক্রম করবে।

2.png

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনকে বলুন মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে। ঘূর্ণিঝড় আগামীকাল ভোর রাত থেকে দুপরের মধ্যে স্থল ভাগে প্রবেশ করবে। বাতাসের গতিবেগ যদি আরও বৃদ্ধিপায়, যার সম্ভাবনা আছে প্রচুর, ও ১৫০ কিলোমিটার এর উপর যায় তবে ভাল ক্ষয়-ক্ষতি হবে।

======================

দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় রূপান্তরিত হয়েছে। এই ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ করা হয়েছে “মোরা (MORA)”। নামে মোরা হলেও আচরণে পুরাই ৩/৪ বছরের বাচ্চার মতো চঞ্চল। গত ২৪ ঘণ্টায় বেশ কয়েকবার গতিপথ পরিবর্তন করেছে। কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত চিত্র ও আবহাওয়া পূর্বাভাষ মডেল অনুসারে ঘূর্ণিঝড় “মোরা” ফেনী, চট্টগ্রাম, ও কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকার উপর দিয়ে অতিক্রম করার সম্ভাবনা খুবই বেশি। উপকূল অতিক্রম করার সময় ঘূর্ণিঝড়টির সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার। সেই সাথে স্বাভাবিকের চেয়ে ১০-১৪ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় মোরা বর্তমানে (বাংলাদেশ সময় সোমবার দপুর ১২ টা) চট্টগ্রাম, ও কক্সবাজার জেলা থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার (~ ৩০০ নটিকাল মাইল) দূরে অবস্হান করছে।

3.png
ছবি ২: বঙ্গোপসাগর এলাকার একটি সাধারণ মানচিত্র (কৃতজ্ঞতা: Cooperative Institute for Meteorological Satellite Studies, Space Science and Engineering Center, University of Wisconsin-Madison)

এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বার বা কমিশনার যেমন ঐ এলাকায় বসবাসরত নাগরিকের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সনদ পত্র দেয় তেমনি আমিও এই ঘূর্ণিঝড় মোরা এর চারিত্রিক সনদপত্র দিলাম। তয় চেয়ারম্যান-মেম্বার বা কমিশনারদের মতো চোখ বন্ধ কইরা সনদপত্র ইস্যু করি না। আমার ইস্যু করা সনদপত্রটি সম্পূর্ণ রূপে বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণের উপর ভিত্তি করে লেখ। নিচে ৫ টি ছবি সংযুক্ত করা হলও সম্ভব্য ঘূর্ণিঝড় মোরা এর চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ ব্যাখ্যা করার জন্য।

২য় চিত্রটি বঙ্গোপসাগর এলাকার একটি সাধারণ মানচিত্র। যে চিত্রে একটি মাত্র সাধা লাইন দেখা যাচ্ছে যা নির্দেশ করতেছে ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভব্য পথ। এই পথটি কিভাবে পাওয়া গেল তা জানার জন্য আপনাকে দেখতে হবে ২ নম্বর চিত্রটি। যেখানে দেখা যাচ্ছে ঐ সাদা লাইনের মতোই লাল, নীল ও সবুজ ৩ টি লাইন।

4.png
ছবি ৩ (কৃতজ্ঞতা: Cooperative Institute for Meteorological Satellite Studies, Space Science and Engineering Center, University of Wisconsin-Madison)

১) আমেরিকার তৈরি একটি আবহাওয়া পূর্বাভাষ মডেল ব্যবহার করে ঘূর্ণিঝড় মোরা এর সম্ভব্য যে পথ পাওয়া গেছে তা লাল রঙ্গের লাইনটি দিয়ে নির্দেশ করা হয়েছে।

২) যুক্তরাজ্য বা ইংল্যান্ড এর বানানো আবহাওয়া পূর্বাভাষ মডেল ব্যবহার করে ঘূর্ণিঝড় মোরা এর সম্ভব্য যে পথ পাওয়া গেছে তা নীল রঙ্গের লাইনটি দিয়ে নির্দেশ করা হয়েছে।

৩) কানাডার তৈরি একটি আবহাওয়া পূর্বাভাষ মডেল ব্যবহার করে ঘূর্ণিঝড় মোরা এর সম্ভব্য যে পথ পাওয়া গেছে তা সবুজ রঙ্গের লাইনটি দিয়ে নির্দেশ করা হয়েছে।

উপরোক্ত ৩ টি আবহাওয়া পূর্বাভাষ মডেল নির্দেশিত ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভব্য পথ এর গড় করে যে পথ পাওয়া গেছে তা সাদা রঙ্গের লাইনটি দিয়ে নির্দেশ করা হচ্ছে।

5.png
ছবি ৪, বঙ্গোপসাগরের পানির তাপমাত্রা (কৃতজ্ঞতা: Cooperative Institute for Meteorological Satellite Studies, Space Science and Engineering Center, University of Wisconsin-Madison)। ছবির ডান দিকের স্কেল পানির তাপমাত্রা নির্দেশ করে।

মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে কেন ঘূর্ণিঝড়টি ঐ ২ টি জেলার উপর দিয়ে অতিক্রম করার সম্ভাবনা খুবই বেশি? বেশ কয়েকটি কারণের মধ্যে যেটি প্রধানতম কারণটি হলও কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত চিত্র নির্দেশ করতেছে বঙ্গোপসাগরের পানির তাপমাত্রা ঐ ২ টি জেলার সম্মুখ বঙ্গোপসাগরের সর্বোচ্চ (৪ নম্বর ছবি)। আবারও প্রশ্ন করতে পারেন বঙ্গোপসাগরের পানির তাপমাত্রার সাথে ঘূর্ণিঝড় এর সম্পর্ক কি? খুব সাধারণ ভাষায় সম্পর্কটি ব্যাখ্যা করি।

ভাত রান্না করার সময় তাপের কারণে পাতিল হতে যেমন করে পানি বাষ্পায়িত হয়ে উড়ে যায় একই ভাবে বঙ্গোপসাগরের পানি বাষ্পায়িত হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরের পানির তাপমাত্রার যে স্থানে সবচেয়ে বেশি সে স্থানের পানি বাষ্পায়িত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। মোটরসাইকেল চালাতে গেলে যেমন পেট্রল দরকার তেমনি ঘূর্ণিঝড় উৎপত্তি স্থল থেকে সামনে এগোতে দরকার মেঘ। বঙ্গোপসাগরে পানি বাষ্পীভবনের ফলে মেঘের সৃষ্টি হচ্ছে সেই সময় মেঘের মধ্যে এক প্রকার তাপ ত্যাগ করে যে তাপকে পদার্থ বিজ্ঞানের ভাষায় বলে সুপ্ত তাপ বা Latent Heat। সহজ ভাষায় বলা যায় যত বেশি পরিমাণ মেঘ সৃষ্টি হবে ঘূর্ণিঝড়টি তত বেশি পরিমাণ শক্তিশালী হবে। এবারে ৩ নম্বর ছবিটিতে দেখুন আকাশে মেঘের অবস্থান কোন স্থানে কেমন? ৩ নম্বর চিত্রটি কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত visible satellite imagery (a snapshot of what the satellite sees, সোজা বাংলায় বলতে হয় মেক-আপ ছাড়া নাটক-সিনেমার নায়ক-নায়িকারা দেখতে যেমন হয়)।

6.png
ছবি ৫, কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত Infrared (IR) satellite imagery (which depicts the temperature of the clouds) যা মেঘের তাপমাত্রা নির্দেশ করছে (কৃতজ্ঞতা: Cooperative Institute for Meteorological Satellite Studies, Space Science and Engineering Center, University of Wisconsin-Madison)। ছবির ডান দিকের স্কেল পানির তাপমাত্রা নির্দেশ করে।

মানুষের জ্বর হলে যেমন শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয় থার্মোমিটারের সাহায্যে তেমনি ভাবে মেঘের মাথার তাপমাত্রা পরিমাপ করা হয় কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহে স্থাপিত সেন্সর (এক প্রকার থার্মোমিটার) এর সাহায্যে। ৫ নম্বর ছবিটিকে বলা হয় Infrared (IR) satellite imagery (which depicts the temperature of the clouds) যা মেঘের তাপমাত্রা নির্দেশ করছে। ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন অবজেক্টকে বুঝার সুবিধার্থে কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত visible satellite imagery কে False color দেওয়া হয় বাংলা সিনেমার নায়ক সাকিব খান যেমন লাল লিপিষ্টিক লাগায় ঠোট লাল দেখানোর জন্য (হে হে হে)। মানুষের শরীরের তাপমাত্রা ৯৮ ডিগ্রী ফারেনহাইট এর উপরে যত বেশি হবে তা যেমন শারীরীক অবস্থার তত অবনতি নির্দেশ করে। বিপরীত-ক্রমে মেঘের চাঁদির তাপমাত্রা যত বেশি ঋনাত্নক হবে সেই মেঘ তত বেশি শক্তিশালী বলে গণ্য করা হয়ে থাকে। মেঘের চাঁদির তাপমাত্রা দেখে মেঘের উচ্চতা পরিমাপ করা হয়ে থাকে। বেশি ঋনাত্নক তাপমাত্রা উঁচু মেঘের নির্দেশ করে। ডান দিকের স্কেল থেকে মেঘের তাপমাত্রা দেখে নিতে পারেন।

7.png
ছবি ৬, বঙ্গোপসাগরের পানির তাপমাত্রা ও ঘূর্ণিঝড় মোরা এর কেন্দ্রের ঘূর্ণন চিত্র (কৃতজ্ঞতা: Cooperative Institute for Meteorological Satellite Studies, Space Science and Engineering Center, University of Wisconsin-Madison)। ছবির ডান দিকের স্কেল বঙ্গোপসাগরের পানির তাপমাত্রা নির্দেশ করে।

৬ নম্বর চিত্রে ঘূর্ণিঝড় মোরা এর কেন্দ্রে কিছু বৃত্তাকার বাদামি রঙ্গের লাইন দেখা যাচ্ছে। এই লাইন গুলোকে বলা হয় ভোর্টিসিটি (Vorticity) লাইন যা ঘূর্ণিঝড় মোরা এর কেন্দ্রের ঘূর্ণন এর পরিমাণ নির্দেশ করে। একই সাথে এটাও নির্দেশ করে যে ঘূর্ণিঝড় এর কেন্দ্রে কোথায় অবস্থান করছে। বায়ুর গতি ব্যবহার করে ঐ লাইন গুলো পরিমাপ করা হয়ে থাকে।
উপরের পোষ্টে সংযুক্ত ১৩ টি সাইট হতে খুবই গুরুত্বপূর্ন ৪ টি সাইট এর লিংক এই পোষ্টে যুক্ত করা হলো যাতে করে আপনি নিজেই ঘূর্ণিঝড় এর চলমান আপডেট পেতে পারেন। এই জন্য আপনাকে একটু পরিশ্রম করতে হবে। কিছু-কিছু ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও আবহাওয়া পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে খুবই সাধারণ কিছু জ্ঞান প্রয়োজন হতে পারে, বিশেষ করে কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত চিত্রগুলো বোঝার জন্য। এই লিংক গুলো সংযুক্ত করার কারণ আপনারা নিজেই নিজের আবহাওয়ার পূর্বাভাষ তৈরি করে নিতে পারেন।

১) আমেরিকার হাওয়াই রাজ্যে অবস্থিত Pacific Disaster Center কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত তথ্য গানিতিক মডেলে ব্যবহার করে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভব্য গতিপথের পূর্বাভাষ দেয় প্রায় রিয়েল টাইম (প্রতি ঘণ্টায় আপডেট করে হয়)।

২) আমেরিকার নৌবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত ও প্রতিষ্ঠানটির নাম Joint Typhoon Warning Center (JTWC)

৩) আমেরিকার University of Wisconsin-Madison বিশ্ববিদ্যালয়ের এর Cooperative Institute for Meteorological Satellite Studies কর্তৃক পরিচালিত

৪) আমেরিকার National Oceanic and Atmospheric Administration (NOAA) কর্তৃক পরিচালিত Regional and Mesoscale Meteorology Branch ও জাপানের আবহাওয়া উপগ্রহ Himawari-8 দ্বারা সংগ্রহীত চিত্র হতে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় এর চলমান আপডেট পাওয়া যাবে।

লিখক : মোস্তফা কামাল (পলাশ),
পৃথিবী ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ, ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়,কানাডা

শিশু পার্ক গুলোতে অবাধে চলছে যুবক-যুবতীদের বেহায়াপনা !

Now Reading
শিশু পার্ক গুলোতে অবাধে চলছে যুবক-যুবতীদের বেহায়াপনা !

কি হলো?

শিরোনাম দেখে একটুও অবাক হননি তাইনা? আসলে অবাক হবেনই বা কেন? অবাক হবার তেমন কিছুই তো নেই তাইনা? কারণ, এগুলো তো এখন দৈনন্দিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে; আজকের কথা নয়, আরো দশ-বারো বছর আগে থেকেই। শিশু পার্ক এখন আর শিশু পার্ক নেই, হয়ে গেছে এডাল্ট পার্ক

আমি আমার নিজের একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি আপনাদের সাথেঃ

২০১১ সালের কথা, ঢাকায় গিয়েছিলাম আমাদের ব্যান্ডের জন্য কিছু যন্ত্রপাতি কিনতে। গিয়ে উঠেছিলাম খালাতো বোনের বাসায়। খালাতো বোনের ছোট ছেলের বয়স তখন মাত্র ৭ বছর। বিকেলে বায়না ধরলো, মামা, চলো পার্কে গিয়ে ফুটবল খেলে আসি, দেখলাম পাশেই সুন্দর একটা পার্ক, গেলাম ওকে নিয়ে। কিন্তু সেখানে যাবার পর আমি যা দেখলাম, তাতে করে আমার সাত বছর বয়সী ভাগ্নেকে ১০মিনিটের ভেতর কার্টুনের কথা বুঝিয়ে বাসায় নিয়ে এলাম; আপাকে জিজ্ঞেস করলাম, পাশের পার্কটা কি এমনই আপা? উনি জিজ্ঞেস করলেন, তুই বাবুকে নিয়ে ওখানে গিয়েছিলি নাকি? যা সত্য তাই বললাম, আপা বললেন, ৩-৪ বছর আগেও বাবু যখন আরো ছোট ছিল, তখন আমি আর তোর দুলাভাই বাবুকে নিয়ে ওখানে যেতাম, কিন্তু ওসব নোংরামো শুরু হবার পর থেকে ওদিকে ভুলেও পা মাড়ানো হয়না।

আমার উপরের এই ঘটনা আমাদের দেশের হাজার হাজার পার্ক বিশেষ করে শিশু পার্ক গুলোতে অহরহ ঘটছে। পার্ক চলে গেছে প্রেমিক-প্রেমিকাদের হাতে, শিশু পার্ক হয়ে গেছে নোংরামোর আস্তানা।

এই ঘটনা এটাও প্রকাশ করে যে, শিশুরা হারিয়ে ফেলছে তাদের খেলার স্থান, এমনিতেই ঢাকা শহরে খেলার মাঠ বা পার্ক নেই বললেই চলে, যা আছে, তাতেও যদি এমন চলতে থাকে, তাহলে তো শিশুদের বিনোদনের জন্য ঐ কম্পিউটার গেমস আর কার্টুনেই নির্ভর করতে হবে।

এখন প্রশ্ন হলো, আমাদের যুবসমাজ কোন পথে এগোচ্ছে?

আপনারা যারা ফেসবুকের দোষ দিবেন, তাদেরকে বলবো, এই সকল নোংরামো – দেশে ফেসবুক জনপ্রিয় হবার আগে থেকেই চলে আসছে। মূলত যুব সমাজের ভেতর সুশিক্ষার অভাব, নৈতিক অবক্ষয়, পরিবারের অসচেতনতা, কম খরচে ফোন হাতের মুঠোয় চলে আসা, ধর্মবোধ কাজ না করা ইত্যাদি বিষয়গুলো এক্ষেত্রে কাজ করেছে।

সুশিক্ষার ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে তরুণ-তরুণীদের ভেতরে। তাদের মাঝে প্রেম-ভালোবাসা একটা রোগের মত ছড়িয়ে পড়েছে। যেন, প্রেম না করতে পারলে জীবনটাই বৃথা হয়ে যাবে। ছোয়াঁচে রোগ যেভাবে ছড়ায়, এর ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। বন্ধু-নির্বাচন তাই মূখ্য একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক বন্ধু যদি আরেক বন্ধুর কাছ থেকে প্রেম করার বা বান্ধবীকে নিয়ে পার্কে যাবার প্রেরণা পেয়ে থাকে, তবে সেটা বন্ধুত্বের কোন পর্যায়ে পড়ে বলেন তো?

বয়ঃসন্ধিকালে এগুলোর শুরু, মানুষ তো অনুকরণপ্রিয়, তাই মানুষের দেখাদেখি আরো মানুষ এমন করছে।

ছেলে বা মেয়ে কোথায় যাচ্ছে, কি করছে, বাবা-মা যদি তার সন্তানদের প্রতি নজর না রাখেন, তাহলে তো ছেলে মেয়ে বখে যাবে; পার্কে গিয়ে নষ্টামি করবে এটাই স্বাভাবিক; বাবা-মা কে অবশ্যই সন্তানের সবচাইতে কাছের বন্ধু হতে হবে। তাদেরকে ভালো মন্দ বোঝাতে হবে। নাহলে তারা খারাপ পথে এগোবে। কি ভুল কিছু তো বলিনি তাইনা?

আমি যে শুধুমাত্র যুবক-যুবতীদের দোষ দিবো তা নয়, তাহলে সেটা খুব খারাপ দেখাবে, পার্ক কতৃপক্ষ এখানে বিরাট একটা ভূমিকা পালন করছে। দেখা যায়, এসব পার্কের অধিকাংশই সরকারী জমিতে স্থাপিত এবং কোনো না কোনো রাজনৈতিক প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় এগুলো চলছে। নামে শিশু পার্ক হলেও এগুলো মূলত খারাপ উদ্দেশ্যেই তৈরী করা। ঢুকতে গেলে আপনাকে হয়তো চড়ামূল্যের টিকেট নিয়ে ঢুকতে হবে, আবার ভেতরে গেলেও ভেতরের দোকান থেকে জোরপূর্বক কিছু কিনতে বাধ্য করবে, হয়তো দেখা যাবে, ১০টাকার একটা চিপস ২৫-৩০টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। সাথে তো এলাকার বখাটে ছেলেদের উৎপাত থাকেই। কথা কাটাকাটি হতে পারে, সাথে থাকা মেয়েটি বা প্রেমিকা তার সম্ভ্রম খোয়াতে পারে, আর মোবাইল, মানিব্যাগ কেড়ে নেয়া তো খুব নরমাল একটা বিষয়। সত্যি কথা হল, কতৃপক্ষই এগুলো করে থাকে। এটা তাদের বিজনেস বলতে পারেন। স্মার্ট চাঁদাবাজি আরকি! ভুক্তভোগীরা এর বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহসও রাখেন না, কারণ তারা এসেছেনই তো বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড নিয়ে ফাজলামো করতে। তাইনা?

আমি খুলনা শহরে বড় হয়েছি, ছোটবেলায় খালিশপুরের ওয়ান্ডারল্যান্ড নামক একটা পার্কে প্রায়ই যেতাম, বিভিন্নপ্রকার রাইড ছিল, সচল ছিল সব, অনেক কিন্ডারগার্ডেন স্কুল বা খুলনা শহরের নামীদামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেখানে পিকনিক করতে যেতো। ছোটদের জন্য পারফেক্ট একটা পার্ক ছিল। কিন্তু দেশ ছাড়ার আগে ২০১২ সালে একবার সেই ছোটবেলার স্বৃতিগুলো মনে করতে ভেতরে ঢুকেছিলাম, নাহ! সেই দিন হারিয়ে গেছে। এখন হয়ে গেছে বড়দের পার্ক, তারা সেখানে শারীরিক কার্যকলাপে ব্যস্ত।

আমি জানিনা, এভাবে দিন দিন চলতে থাকলে, যুবসমাজের ভবিষৎ কি হবে, এরা সামনে কেমন বাবা-মা হবে? প্রশাসন যে একেবারে নীরব তাও বলবো না, কারণ প্রায়ই পুলিশকে রেইড দিতে দেখা যায় এসব স্থানে, কিন্তু প্রভাবশালী নেতাদের দাপটে তা খুব কমই দেখা যায়। আমরা এখনই যদি এইসব অসভ্যপনা আর নোংরামোপনার বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ায়, তাহলে আরো পাচঁ বছর পর দেখা যাবে আমাদের সন্তানদের জন্য নেই কোনো উপযুক্ত খেলার স্থান, শিশুপার্ক, থাকবেনা কোনো বিনোদনের স্থান, বাড়বে ধর্ষণ, বাড়বে ছিনতাই, বখাটেদের উৎপাত সর্বোপরি সামাজিক অবক্ষয় চরম মাত্রায় প্রকাশ পাবে!

আমার এই লেখাটি প্রশাসনের নজরে এলে অবশ্যই দ্রুত পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানাচ্ছি, এমনও তো হতে পারে, আপনি জেলা প্রশাসক হয়ে সরকারী চেয়ারে বসে আছেন আর আপনার ছেলে বা মেয়ে কোনো পার্কে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা খেয়ে পত্রিকার নিউজ হয়েছে!

বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইউটিউব যুদ্ধ এবং তার পরিণতি

Now Reading
বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইউটিউব যুদ্ধ এবং তার পরিণতি

গত বেশ কদিন ধরে বাংলাদেশের অনলাইনে চলছে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে এক বিশাল যুদ্ধ যেখানে জড়িয়ে আছে ইউটিউবার তাহসীন, বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট বা নাহিদরেইন্স এবং আরো একটি পক্ষ যারা ছিল অশ্লীলতার পক্ষে। যুদ্ধের মাত্রাটা প্রথমে ছোট থাকলেও গত কদিনে যারা ফেসবুক বা ইউটিউবে ছিলেন তারা ধারনা করতে পেরেছিলেন শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে গড়িয়েছে।

সবকিছু মিলে এই ব্যাপারটা প্রায় শেষের পর্যায়ে এবং ভালর জয় হয়েছে। কিন্তু কিছু কাজ এখনো বাকী আছে। এটি নিয়ে বাংলাদেশীজম প্রজেক্টের ভিডিও বার্তা নীচে দেয়া হলো।  আশা করি দেখে নিবেন।

শৈশবে রমজান !!

Now Reading
শৈশবে রমজান !!

রমজান মাস আসার কয়েকদিন আগে থেকেই তখন চলতো পরিপাটি। পাঁচমিশালী জিনিসপত্র, খাবার দাবার, আর কাপড় চোপড় কেনার ধুম পড়ে যেত। আমি নতুন টুপি কিনতাম নামাজ পড়ার জন্য। পারলে পাঞ্জাবিও নিতাম, ফ্রি পাইলে তো আর না করা যায় না। সব গুছিয়ে শেষ করেও যেন শেষ হতো না। কোনটা বাদ পড়ে গেলনা তো ? প্রথম তারাবি পড়তে যেতাম মসজিদে সবাই মিলে অনেক অনুষ্ঠান করার মধ্যে দিয়ে। পাঞ্জাবি, পায়জামা, টুপি আর সাথে থাকতো আতর। আহ !! কি দিন ছিলো। বন্ধুরা মিলে তারাবী নামাজ, সাথে ঘুরাঘুরি। ২০ রাকাত নামাজই পড়তাম আমরা। ৮ রাকাত এর পর দেখতাম অনেকেই চলে গেছে। বাসায় গিয়ে পায়ে ব্যাথা হতো, আর প্রচন্ড ঘুম আসতো। আমি সাধারণত রোজার সময় রাতে খাই না। রাতে খেলে আর সেহেরী তে খেতে পারি না। তখনও খেতাম না। বিছানায় শুয়েই চিন্তা করতাম ভোর হবে কখন সেহেরী খেতে উঠবো সবার সাথে। এক রকম অস্থিরতা কাজ করতো মনের ভিতরে। ভোরে একটু আওয়াজ পেলেই উঠে পড়তাম। আব্বু আম্মু চাইতো না আমি কষ্ট করে উঠি। আমি উঠে যদি দেখতাম আমাকে ডাকা হয়নি আমি অনেক রাগ করতাম। আব্বু বলতেন তুমি সকালে খেলেই তোমার রোজা হবে, ছোটদের সকালে খেতে হয়। আমি কথা কানে না নিয়ে খেতে বসতাম। এভাবে সেহেরী শেষে আব্বুর সাথে ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমাতাম।

ছোটবেলায় যেবার প্রথ রোজা করেছিলাম তখন আমি ক্লাস টু তে পড়ি। বাসায় জেদ করে রোজা রেখেছিলাম প্রথম টা। সেহেরী তে আম্মু কে বললাম আমাকে অনেক ভাত দাও, সারাদিন যেন কোন খিদা না লাগে। জোর করে ঠেসে ঠুসে খেলাম অনেক ভাত। মনে হল খাবার মনে হয় গলা পর্যন্ত উঠে এসেছে। তারপর পানি খেলাম আচ্ছা করে। নামাজ পড়ে ঘুম দিলাম। সকালে উঠে অনুভব করলাম আমার পেটের সব খাবার কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। ভাবলাম এত খাবার খেলাম সব গেল কোথায়। আম্মু কে ভয়ে বললাম না যে আআর খিদা লাগছে, জানলে যদি জোর করে খাওয়াই দেয়। কিন্তু আমাকে যে রোজা করতেই হবে। আম্মু একবার বললো খেয়ে নিতে, দরকার নাই রোজা রাখার। আমি কোনরকমের কোন কথা শুনলাম না। সারাদিন ঘরের মধ্যে সুয়ে বসে আর গড়াগড়ি মেরে কাটালাম। আম্মু আমার উখ চোখের অবস্থা দেখে ঠিকই বুঝতে পেরেছিল ভিতরে কি চলছে। আমি তাও দাঁত চেপে সহ্য করে আছি এটাও সে বুঝতে পারলো। দুপুর বেলায় আরেকবার খাবার খাওয়ার জন্য অফার দিলো আমাকে। আমি আবারো তার অফার ফিরিয়ে দিলাম। বিকাল বেলায় আমি বার বার ঘড়ির দিকে তাকাই। বার বার আম্মু কে জিজ্ঞেস করি আচ্ছা আজ এত দেরিতে সময় আচ্ছে কেন ? আমাদের ঘড়ি মনে হয় স্লো। ঘড়িতে ব্যাটারি আছে তো ? বাইরে তো অন্ধকার হয়ে গেছে। এত প্রশ্ন করে আম্মুকে বিরক্ত করে ফেলতাম যখন, তখন আম্মু বলতো যা ইফতার করে নে , তোর ইফতারের সময় হয়ে গেছে। আই চুপ হয়ে যেতাম। আম্মু ইফতার বানাতো, আর আমি পাশে বসে হেল্প করতাম। এটা ওটা এনে দিতাম। আম্মু কে বলতাম, আজ বেশি করে বানাও, আমাকে পেয়াজু ৪ টা দিবা, ৩ টা রুটি দিবা, আর  গ্লাস শরবত দিবা। আম্মু একটু হেসে বলতো, আচ্ছা তুমি সবই খেয়ো একা। খাব্র টেবিলে ইফতার রেডি করতাম আমি আর আম্মু মিলে। খেজুর, আলুর চপ, বেগুনের চপ, পেয়াজু, আপেল, কমলা, শশা, রুটি, শরবত আরো অনেক কিছু থাকতো খাবার আইটেম এর মধ্যে। আমি সব খাবার দেখেই আরো দুর্বল হয়ে যেতাম। কিন্তু ইফতারের যে এখনও ২১ মিনিট বাকি। কষ্ট করে পার করতে হতো এই সময় টুকু। ২১ মিনিট যেন ২১ শতাব্দীর মত ছিল। প্রতিটা সেকেন্ড ঘড়িই ধরে ধরে পার করছিলাম। অনেক জল্পনা কল্পনা শেষে মাগরিবের আযান কানে আসে। আর আমাকে কে আটকায় !! এমন ভাবে খেতাম যেন গত ২১ বছর ধরে খাদ্য সংকটে আছি। আম্মু বললো আস্তে খাও। আর পেটে যেটুকু জায়গা ছিল তাই আছে বেশি খেও না অসুস্থ হয়ে যাবা। কে শোনে কার কথা। খাওয়া শেষ করে আবিষ্কার করলাম আমি আর উঠে দাড়ানোর মত অবস্থায় নাই। আমার অবস্থা তখন কে দেখে। আমি আর রোজা থাকবো না কাল থেকে। এরপর পেটে চাপ কমতে সময় লাগতো ২ থেকে ৩ ঘন্টা। সেইবার আর রোজা করিনি। কিন্তু সাহস টা পেয়েছিলাম।

মনে পড়ে সেই রমজানের দিনগুলো, এখন শহরের যান্ত্রিক জীবন থী যেটা পাওয়া যায় না। মনে পড়ে যেদিন মসজিদে ইফতারির দাওয়াত থাকতো সেদিন অনেক ফিট ফাট হয়ে চলে যেতাম সবার আগে, হাতে থাকতো একটা পানির বোতল। বাড়ির খাবার দিয়ে খাবারের আইটেম শেষ করা যেত না। এখন তো বাজার থেকে কিনে খাওয়া লাগে। রোজা আছে, রমজান মাস আছে, শৈশবের সেই দিনগুলো নেই। দিনে তিনবার খেয়ে রোজা থাকার দিনগুলো আর নেই। ঈদের পোষার আর সারামাস লুকিয়ে রাখার প্রতিযোগীতা আর নেই।

বছর ঘুরে আবারো রমজান এসেছে, আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবগুলো রোজা সুন্দর ভাবে রাখার তৌফিক দান করুন।

সবাইকে “রমজানুল মোবারক”

মহাকাব্যিক “সেলফিনামা ”একাত্মতা ও সার্বজনীনতার প্রতীক

Now Reading
মহাকাব্যিক “সেলফিনামা ”একাত্মতা ও সার্বজনীনতার প্রতীক

আপনাকে একটা প্রশ্ন করি ? না… না… আমার সকল পাঠকের কাছে রইল এই খোলা প্রশ্ন আপনি কখনো আপনার নিজেকে আয়নায় দেখেছেন বা দেখতে চেয়েছেন ?অবশ্যই;

কোন না কোনসময় চেষ্টা করেছেন আসলে আপনি কতটুকু সফল তার জবাব আপনার কাছে আছে তাই না? আপনি যদি এখনো চেষ্টা না করেন তবে অবশ্যই একবার চেষ্টা করে দেখবেন ।এই ব্যস্ততার দৌড়ে আমরা নিজের জন্য সময় বরাদ্দ রাখি না বললেই চলে।

আমাদের দৌড়ের একটা আলটিমেট লক্ষ্য থাকে যা পূরণে সদা তৎপর বলা চলে। মানুষ নিজের স্বকীয় স্বত্তার সাথে স্বীয় জগতে কিছু সময় কাটায়। এখানে কেউ চরম মাত্রায় হিংসুক আবার কেউ পরম দয়ালু। এই যে চরিত্রের ভিন্নতা তা আপনি আমি বাইরে থেকে  অবলোকন করতে পারব না। মানুষ নিজের অবয়ব বা প্রতিবিম্ব দেখার জন্য আয়না বা দর্পণের আবিস্কার করেছে।আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন অনেক সময় আমরা দেখি একবারে আনমনে আয়নায় নিজেকে অবলোকন করে যায় কেউ কেউ তখন নিজের চোখের সাথে একটা দ্বন্ধ শুরু হয়, চোখের সাথে দ্বন্ধের কারণে নিজেকে তো ভাল করে দেখা হয় না ।কেবল রুপচর্চা বা পরিচর্যার জন্য আয়নার ব্যবহার হয় না।

নিজেই নিজেকে দেখার যে একটা সুপ্ত বাসনা তা মানুষের চারিত্রিক গুণ বলা যায়।মূলত এই ধরনের চেষ্টা হতে প্রথম সেলফি নেয়ার যে ধারা তা চালু হয়। এই যে সেলফির সুত্রপাত মূলত ৮০ দশকের দিককার ঘটনা। ক্যামেরায় নিজেই নিজের ছবি নেয়ার যে প্রচেষ্ঠা তা ভার্চুয়াল জগতে মূলত সেলফি তোলার প্রথা বলে সম্যক পরিচিতি লাভ করে।

একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এসে সেলফোনের বহুবিধ কল্যাণ আর স্থিরচিত্র নির্ধারণের নানান প্রযুক্তির প্রভূত কল্যাণ মানুষকে আরো আগ্রহী করে তোলেছে সেলফির প্রতি। এটা কেবল প্রচলিত একটা ট্রেন্ড বললে ভুল হবে কেননা এর মধ্যে দিয়ে নিজের প্রতি একটা ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ হয়।

প্রথমদিকে সেলফি তোলার যে প্রবণতা তা যখন বাড়তে থাকে তখন নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি হয়, প্রথমত মানুষ আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে ।এই সময়ে নিজেকে একাকী উপস্থাপনের একটা রীতি চালু হয়ে যায়। যেকোন অবস্থানে বা স্থান,কাল,পাত্রভেদে এই সেলফি জনপ্রিয় হতে থাকে। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন প্রথম দিককার অধিকাংশ সেলফিতে মানুষ নিজেকে একা উপস্থাপন করতে যেন বেশ স্বস্তি পেয়ে আসছিল। এই তো গেল মানুষের আত্মকেন্দ্রিক হওয়ার প্রবণতা তারপরে যেটা আরো বড় করে দেখা দিল তা খোদ তরুণীদের মধ্যে এই সমস্যা প্রবল আকারে দেখা দিল।

সেলফিতে নিজের সাবলীল উপস্থাপন বা সুন্দর ছবির জন্য তারা চিকিৎসকের কাঁচির নিচে যেতে কুন্ঠাবোধ করল না। একটা পরিসংখ্যানে দেখা যায় সেলফির প্রচলনের পর থেকে অধিকাংশ তরুণী যারা মুখে সার্জারি করেছে তাদের অধিকাংশের অভিযোগ ছিল তাদের মুখের অবয়ব সেলফিতে ভাল আসে না,তাই তারা এই পন্থা বেছে নিয়েছে। এটা মানুষের কৌতুহলী প্রচেষ্ঠা মিটাতে গিয়ে একটা ভিন্নমাত্রার প্রচেষ্ঠা বলা যেতে পারে।

এই সমস্যার বাইরে গিয়ে যে সমস্যা প্রকট রুপ ধারণ করল তা হল ভার্চুয়াল জগতে নিজের সেলফির মাধ্যমে একটা শো – অফ করার ট্রেন্ড চলে আসল। এই সময়ে আপনি কোন এ্যাঙ্গেল বা কোন ব্যাকগ্রাউন্ড পিছনে রেখে ছবি তুলছেন তার চেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়ে আসছিল আসলে আপনি সেলফিটা ঠিকমতো তুলেছেন কিনা,নয়তো ষোলো আনাই বৃথা।

এইসব সেলফিতে আতিশয্যে যেমন ছিল তেমনি বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দেয়ার উৎকৃষ্ট উদাহরণ ছিল বৈকি। এই যেমন কবরস্থানে শুয়ে কিংবা বসে,অসুস্থ দাদা-দাদীকে নিয়ে সাথে চটকদার ক্যাপশনের বাহার।এমনকি কোরবানির ঈদের সময় কোরবানি করা পশুর সাথে যে নানা অঙ্গভঙ্গিতে সেলফি আমরা দিয়ে এসেছি তা দ্বারা কোন না কোনভাবে নিজেকে প্রকাশের চেয়ে নিজের হীনমন্যতার বাড়তি বিজ্ঞাপন করে এসেছি বরাবর।এই যে অযাচিত কিছু সেলফি ভার্চুয়াল দুনিয়ায় আমরা দেখেছি তার কিছু কিছু ভাইরাল হয়েছে। নানান মানুষের নানান মত যেমন সেলফির বাহারও তেমন কেননা ক্যাপশন দেখে যাই বোঝা বিফোর শাওয়ার্…. আফটার শাওয়ার্ ….এখানে গোসলের চেয়ে সেলফি মুখ্য। এট এক্সাম হল নতুবা আফটার এক্সাম ….পরীক্ষার চেয়ে সেলফির ক্যাপশনে মনযোগ বেশি ছিল। বাসে বা ট্রেনের সিটে কিংবা চলন্ত ট্রেনের ছাদে নয়তো লঞ্চের ডেকে বসে এমনকি চলন্ত রিকশায় বসে মানুষকে সেলফি নিতে দেখা যায়। একে তো ছিল বাহুল্যতা বা লোকদেখানোর প্রচলন যেটা কিনা একসময়  ট্রেন্ড বনে যায় তবে তা  ভয়ানক সুন্দর ছিল।

সেলফি নিতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে,ব্রীজ হতে পড়ে, গাড়ির সাথে ধাক্কা লেগে, চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় কিংবা বিদ্যুৎস্পৃস্ট হয়ে মারা গেছে প্রায়ই অনেকে।এটা আমাদের সাবধান হওয়ার জন্য যথেষ্ট বলা চলে। এটা নিছক ছেলেমানুষী বা জীবনের প্রতি উদাসীনতা বা অবহেলা ছাড়া আর কিছু না।

বর্তমানে আপনি দেখবেন সেলফিতে নিজেকে একা দেখানোর মানসিকতা ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে। আমি বলব একাকীত্মকে ভুলে সার্বজনীন হচ্ছে। আপনি হারহামেশাই দেখবেন সেলফি নিতে গিয়ে সবাই দলবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। এটা ভাল দিক, কি বলেন ? আপনি সেলফি তুলতে যাবেন কিন্তু ছবিতে ভাল এক্সপ্রেশন দিতে পারবেন না এখানে আপনার স্মার্টনেসের পারদ উঠানামা করবে। বিশেষত মেয়েদের মধ্যে এটা নিয়ে নিয়মিত স্নায়ুযুদ্ধ চলে,এই বিষয়ে বিশারদেরও কিন্তু দেখা মিলবে।

সেলফি এখন শুধু নিজেকে বা বন্ধুসঙ্গকে প্রকাশের মাধ্যম বলে ব্যবহার হয় না । এই ফ্রেমে স্থান পাই পরিবার,পরিজন,ভালবাসার সহ সকল শ্রেণীর মানুষ।

বর্তমান সময়ে প্রতিষ্ঠিত তারকা বা সর্বজনবিদিত ব্যক্তিত্ব যাই বলুন না কেন সবাই জনসম্পৃক্ততার জন্র মাধ্যম হিসেবে বেছে নেয় এই সেলফিকে।সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে মিডিয়াগুলো নানান প্রচারণার কৌশল হিসেবে সেলফিকে অর্ন্তভুক্ত করে নেয়।

সমাজে বসবাসরত একজন হিসেবে নিজের স্বকীয় কোন ফ্রেমে অন্য কাউকে অংশীদারীত্ব দেয়াটা অবশ্য ইতিবাচক দিক।সমাজ বিজ্ঞানীদের ব্যাখায় সেলফি ও সেলফি যারা তোলে তাদের সম্পর্কে বিশদ ব্যাখা রয়েছে। তবে ভার্চুয়াল দুনিয়ার ভাইরাল কোন ট্রেন্ডের সাথে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে চান সেলফি তুলে যান। সেলফির যে প্রথা বা ধরণ তা কোনভাবেই যেন আত্মঘাতী  না হয়।

নিজের সকল প্রকার অনুভূতির প্রকাশের জন্য নিজের স্থির চিত্রের চেয়ে যখন হাস্যেজ্বল অবয়ব প্রাধান্য পাই তখন তা প্রকরান্তরে নিজের সুখী মানসিকতাকে বাহ্যিকতায় পরিস্ফুটিত করে তোলে।

প্রচলিত আছে ..ছবি নাকি কথা বলে ।অদূর ভবিষ্যতে হয়তো আমাদের কাটিয়ে আসা অতীত স্মৃতির করিডোরে পদাচারণায় আমাদের সঙ্গী হবে এই বহুামত্রিক সেলফিগুলো।

আমরা একাকীত্মের বেড়াজাল ভেঙ্গে সার্বজনীনতায় নিজের সুখ বা দুঃখকে ভাগাভাগি করি হোক না সেটা সেলফি দিয়ে শুরু……………..

বর্তমান চাকুরীর বাজার এবং উদ্যোগ প্রয়োজনীয়তা

Now Reading
বর্তমান চাকুরীর বাজার এবং উদ্যোগ প্রয়োজনীয়তা

চাকুরীর পত্রিকাগুলোতে হাজারো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখি আমরা। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন প্রদানের মাধ্যমে কতজন ব্যাক্তির চাকুরী হয়েছে, সন্দেহ আছে। আর সরকারী চাকুরী তো এখন স্বপ্নে পাওয়া যায়, বাস্তবে নয়।

ষোল কোটি মানুষের বসবাস বাংলাদেশে। এর মাঝে বাংলাদেশে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে, যা সত্যিই আনন্দের। কিন্তু আনন্দ তখনই গ্লানীতে পরিনত হয়, যখন যোগ্য প্রার্থী সঠিক জায়গায় স্থান পাচ্ছে না।

এখন মানুষের বুলি হয়ে গেছে,” মামা-চাচার জোর না থাকলে চাকুরী হবে না।“ শুধু মামা-চাচার জোর নয়, চাকুরীর জন্য আরো একটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেটা হচ্ছে টাকার জোর। নিয়োগ দানের সাথে যেসকল কর্মকর্তারা জড়িত থাকেন, তাদের পকেট ভরাতে পারলেও ভালো চাকুরী পাওয়া যায়।

প্রাইভেট কোম্পানি গুলোতে ইন্টারভিউ দেবার সময় বিভিন্ন রকম  প্রশ্নের মাঝে একটা প্রচলিত প্রশ্ন ,”এর আগে কি কোথাও চাকুরী করেছেন? অভিজ্ঞতা ছাড়া আমরা লোক নেবো না ।“ অভিজ্ঞতা কি করে অর্জন করা সম্ভব যদি তারা চাকুরী করার সুযোগটাই না দেন। অনেক ভালো রেজাল্ট করা ছেলে-মেয়েরা চাকুরী খুঁজতে গিয়ে তাদের জীবন সম্পর্কে চিন্তাধারাই পাল্টে ফেলে। যোগ্যতার ভিত্তিতে কতজন ব্যাক্তির এখন চাকুরী হচ্ছে? চাকুরীর বাজারে তেলাপোকাও পাখিতে পরিণত হয় মামা-চাচা আর টাকার জোরে।

বিশাল বেকার ভাণ্ডার বর্তমানে দেশ ও পরিবারের দায়বদ্ধতায় পরিণত হয়েছে। উদ্যোগ গ্রহনের প্রবণতার অভাবে তারা অর্থাৎ বেকার সমাজ শুধুমাত্র একটি চাকুরী পাবার স্বপ্নই দেখে। প্রথম পর্যায়ে তাদের স্বপ্ন থাকে মানসম্পন্ন চাকুরী করবেন। প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করবার পর তাদের চাওয়া পাওয়া থাকে, যে কোনো একটি চাকুরী।

গোলমেলে এবং অগোছালো পরিস্থিতি রয়েছে চাকুরী দাতা এবং চাকুরী গ্রহীতাদের মাঝে। যেমন যে ব্যাক্তি অনার্স সম্পন্ন করেছে সে আবেদন করেছে করণিক পদের জন্য। অথচ আবেদন পত্রে হয়তো শুধুমাত্র এস.এস.সি অথবা এস.এস.সি সম্পন্ন করেছে, এমন প্রার্থী চাওয়া হয়েছে। তবে এতো লেখাপড়ার দরকারটা কি? শুধুমাত্র বলার জন্য আর দেখানোর জন্যই তো সার্টিফিকেট নয়।

অর্থনীতি বিদরা এক সময় অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে দেশের এবং সরকারের দায় মনে করতেন। কিন্তু বর্তমান আধুনিক অর্থনীতি বিদরা অধিক জনসংখ্যাকে দায় হিসেবে আখ্যা না দিয়ে তাদেরকে জনশক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। চীনের জনসংখ্যা যখন ১০০ কোটি ছিল, তখন চীন সরকার বলেছিলেন,” আমার দেশের জনগণ বোঝা নয়, কারণ আমাদের ১০০ কোটি জনগণের ২০০ কোটি হাত রয়েছে।“ চীনের জনগণ যথেষ্ট পরিশ্রমী বলে তাদের দক্ষ জনগণের দ্বারা অর্থনৈতিক সাম্য বিধানে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি। আজ সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বিধান ও প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণে চীন সফল। যেখানে আমরা আমাদের জনবলকে বোঝা করে রেখে দিয়েছি। জনসংখ্যা বোঝা হতো না যদি উদ্যোক্তা শ্রেণীর অভাব না থাকতো।

লাখ লাখ টাকা খরচ করে আমরা চাকুরীর প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করতে আপত্তি করি না, কিন্তু তার চেয়ে কিছু কম টাকা বিনিয়োগ করেও একজন উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব। তাতে নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যেরও কর্মসংস্থান করে দেয়া সম্ভব। বর্তমান চাকুরীর বাজারে দর কষাকষির পরিমাণ দিন দিন বেরেই যাচ্ছে।

যেমনঃ

——প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক পদপ্রার্থীদের জন্য পাঁচ লক্ষ থেকে সাত লক্ষ টাকা।

——সরকারি করণিক পদের জন্য পাঁচ লক্ষ থেকে ছয় লক্ষ টাকা।

——সরকারি অফিসার পদ গুলোর জন্য আট লক্ষ থেকে বার লক্ষ টাকা।

——ব্যাংক কর্মকর্তা হতে চাইলে গুনতে হবে আট লক্ষ থেকে পনেরো লক্ষ টাকা।

তবে এর থেকে অধিক পরিশোধের ইচ্ছা থাকলে অগ্রাধিকার থাকবে।

 

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি যদি আরও একটু স্পষ্ট ভাবে দেয়া হতো তবে নিম্নরুপ হবেঃ

 

ক খ গ অধিদপ্তরে চাকুরী

পদের সংখ্যা – ৫৬ জন

পদের নাম সংখ্যা শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা
১।উচ্চমান সহকারী ১০ জন স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রী। সংশ্লিষ্ট কাজে ২ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং প্রদত্ত পদের জন্য অবশ্যই ১০ লক্ষ টাকা প্রদানে ইচ্ছুক হতে হবে।
২।করণিক ৪৬ জন Xyz বিভাগে এইচ.এস.সি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং প্রদত্ত পদের জন্য অবশ্যই ৬ লক্ষ টাকা প্রদানে ইচ্ছুক হতে হবে।

 

[ বিঃদ্রঃ উপরোক্ত পদ্গুলোর জন্য যোগ্যতা সম্পন্ন এবং উল্লেখিত অর্থ প্রদানে ইচ্ছুক ব্যাক্তিদের মাঝে লটারির মাধ্যমে পদপ্রার্থী নির্বাচন এবং নিয়োগ দান করা হবে ]

চাকুরীর জন্য ঘুস দান এবং ঘুষ গ্রহণ একটি ওপেন সিক্রেট বিষয়। তাই যদি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এরুপ স্পষ্ট ভাবে দেয়া হয় তবে কিছু মানুষের মাঝে এসব চাকুরীর জন্য মিথ্যা আশা জন্ম নেবে না ।

 

প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ গুলোতে বিশ-বাইশ লাখ টাকা খরচ করে ডাক্তারি পড়ানো হয় সন্তানদের। এম.বি.বি.এস পাশের পর একজন ইন্টার্ন ডাক্তারের বেতন খুব সামান্য হয়ে থাকে।

ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার পর প্রাথমিক পর্যায়ে একজন ইঞ্জিনিয়ারের বেতন হয় বার হাজার থেকে ষোল হাজার টাকা।

তবে এতো টাকা খরচ করে লেখাপড়ার পর কতটুকু ফল পাওয়া গেল।

একাউণ্টিং এ অনার্স করে কোন কোম্পানির রিসেপশনিস্ট এর দায়িত্ব পালন করা, মানবিক বিভাগে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর হয়ে মার্কেটিং এ চাকুরী করা, এসব ওলট-পালট নিয়োগ অহরহ দেখা যায় আমাদের দেশে।

প্রচলিত চাকুরী হবার মানসিকতার বাইরে গিয়ে বাংলাদেশে কিছু তরুণ ভিন্নতর উদ্যোগ নিয়ে তাদের পেশার ক্ষেত্রকে পরিবর্তন করছে। যেমনঃ—-

কৃষিক্ষেত্রে অভিনব কিছু বিনিয়োগ লক্ষণীয় ভাবে সাফল্য লাভ করেছে বাংলাদেশে। ড্রাগন ফল উৎপাদনের পাশাপাশি কিছু নতুন প্রজাতির ফলের চাষ বর্তমানে বাংলাদেশে সম্ভব। স্ট্রবেরী, আলু বোখারা, মাল্টা সহ বিভিন্ন ধরনের ভেষজ উদ্ভিদের চাষ বর্তমানে লক্ষণীয়। বিভিন্ন ধরনের মসলা চাষেও ভালো সাফল্য দেখা দিয়েছে। আর এসব ক্ষেত্রে যেসব তরুণরা এগিয়ে এসেছে, তারাও উচ্চশিক্ষিত।

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। তাই, কৃষিক্ষেত্রকে আধুনিকতার সাথে উপস্থাপন করাটা শিক্ষিত যুব সমাজের পক্ষেই সম্ভব।

বাংলাদেশে বর্তমানে কুমিরের খামারও রয়েছে। কুমিরের মাংস এবং চামড়া চড়া দামে বিদেশে বিক্রির মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈদেশিক মূদ্রাও অর্জন করছে।

সাপের খামারও রয়েছে আমাদের দেশে। সাপের বিষ ওষুধ তৈরীতে ব্যবহৃত হয়। যেমনঃ অ্যান্টিভেনম, ক্যাপটোপ্রিল, বেট্রক্সোবিন (তথ্য সূত্রঃ http://zoltantakacs.com/venom_medicines_snake_toxin_drugs_zoltan_takacs.shtml )। আমাদের দেশের ঔষধ কোম্পানিগুলো চড়া দামে ঔষধ তৈরির এই কাঁচামাল বিদেশ হতে আমদানি করে। যদি সাপের বিষ অর্থাৎ ওষুধের এই কাঁচামাল আমাদের অন্য দেশ হতে আমদানি করতে না হয়, তবে এই বিষয়ে আমরা অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ হবো।

এই বিষয়গুলো বা এই ক্ষেত্রগুলো উল্লেখ করার একটি বিশেষ কারণ হচ্ছে, প্রশস্ত চিন্তাশক্তি দরকার আমাদের যুব সমাজের। যেন চাকুরীর অপেক্ষায় না থেকে চাকুরী প্রদান করা সম্ভব হয়। তবে এসব ক্ষেত্রে ব্যাক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি সহায়তা বিশেষ প্রয়োজন। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দানের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রকে প্রশস্ত করা দরকার। গ্রামাঞ্চলে যাদের অধিক জায়গা জমি রয়েছে, তারা সেই জায়গা নিয়ে ভিন্নতর পরিকল্পনা করতে পারে। এতে রাজধানীর ওপর অতিরিক্ত চাপও কমে যাবে।

তাই আসুন, যে যে যার যার জায়গা থেকে কিছু পরিকল্পনার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হয়ে উঠি এবং নিজের ও অন্যের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করি।

ধর্ষণ নিয়ে বিতর্ক মানেই পোশাক বনাম দৃষ্টিভঙ্গি।দায়ী কোনটি?

Now Reading
ধর্ষণ নিয়ে বিতর্ক মানেই পোশাক বনাম দৃষ্টিভঙ্গি।দায়ী কোনটি?

গত কয়েকদিন ধরেই দেশের অন্যতম এক আলোচনীয় বিষয় হলো ধর্ষণ।

আসলে গত কয়েকদিন না।এর আগেও কয়েকবার এই টপিক নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছিল দেশ।এইতো সেদিন তনুকে ধর্ষণ ও হত্যা করে কিছু নরপশু।যদিওবা আজ পর্যন্ত এর বিচার পাবার মতো কোনো প্রক্রিয়া আমরা দেখতে পারিনি।তাই যা হবার তাই হচ্ছে।পুনরায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে কিছুদিন আগে।তবে এবার আর কাউকে তনুর মতো প্রাণ দিতে হয়নি।তবে যা ক্ষতি হয়েছে তা পূরণীয় নয়।একই সাথে এইসব বিষয় জানান দিচ্ছে জাতি ক্রমাগত অবক্ষয় এর।

তবে আজকের টপিকটা একটু ভিন্ন।এখানে আমরা আলোচনা করবো এইসব ধর্ষণের কারণ কি?কি মনে করে এসব নিয়ে এখনকার সমাজ?কেমন চিন্তাধারা প্রদর্শন করছে আমাদের তরুণ-তরুণীরা?চলুন দেখি তারা কি ভাবে আর তাদের চিন্তা কতটুকু ঠিক বা ভুল।

কিছুদিন ধরে দেখলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বর্তমান সময়ে কোনো ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতন এর কোনো টপিক উঠলেই শুরু হয় কাঁদা ছোড়াছুড়ি।ছেলেদের অধিকাংশ স্বাভাবিক ভাবে বা বরাবরের মতোই মেয়েদের পোশাক নিয়ে কথা বলে।অনেকে আবার ‘বোরকা’ পড়ার এডভাইস দেয়।আবার অনেকে বলে অন্তত হিজাব পড়া উচিত।

ছেলেদেরকে দিয়েই শুরু করি যদিও আমরা বলি ‘লেডিস ফার্স্ট’।উপরে লিখিত কথাগুলো বেশিরভাগ ছেলেই বলে থাকে।অনেকে আবার এসবের সাথে কিছু বাণী জুড়ে দেয়।আমি তাদের বলবো তাদের কথা ঠিক তবে যুক্তিসংগত নয়।বোরকা,হিজাব এসব কিছুই হয়ে দাঁড়াবে না যখন আপনার উদ্দেশ্য হবে পিশাচ এর মতো।যখন আপনি নারীর মর্যাদা দিতে না পেরে তার পোশাকের উপর আঙুল দেবেন।নিজের ভেতর লুকিয়ে থাকা খারাপ উদ্দেশ্যকে সামলাতে না পেরে হামলা করে বসবেন একজন নিরীহ মেয়ের উপর?কোথায় বলা আছে এমন পাষণ্ড টাইপ কাজ করার কথা?নিজেকে সামলে রাখার মতো শক্তি কি আমাদের দেয়া হয়নি?আমরা কি এতই কাপুরুষ যে গায়ের জোঁড়ে মায়ের জাতির সম্মানহানি করবো?

আমি কিছুদিন আগে এই টাইপের কমেন্টকারী কয়েকজনের ফেসবুক আইডি ঘুরে আসি।তাজ্জব হয়ে যাই তাদের টাইমলাইন,ছবির কালেকশন দেখে।বেশিরভাগ ব্যক্তির সাথেই অসংখ্য মেয়ে আইডির যোগ রয়েছে।তবে এসব মেয়ের কোনো ছবিতেই তাদের বোরকা পড়া অবস্থায় দেখলাম না।তবে চিন্তা করে দেখুন ওই ব্যক্তির চিন্তাধারা কতটা মারাত্মক।আমাদের যুবসমাজের বেশিরভাগ এর এই অবস্থাই চলছে।নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির কথা না বলে দায় চাপিয়ে দিচ্ছি আরেকজনের ঘাড়ে।আমাদের ছেলেদেরই কাতুকুতু বেশি।আর যাই বলুন এটা বিশ্বাস করাই লাগবে।আমরা যদি নিজেদের দৃষ্টি বা নজর ঠিক রাখি তবে কখনই এমনটা হতো না।

আমার কথার সাথে অনেকেই একমত হতে নাও পারেন।আবার অনেকে অনেক নীতিকথা বলে নিজের পাণ্ডিত্যের পরিচয় দিতে পারেন।তবে আমি একটা কথাই বলবো নিজের দিকটা ঠিক রাখলে এমন পাপের কর্ম কখনো হতো না।তাই দোষটা আমাদের অর্থাৎ ছেলেদেরই নিতে হবে।কারণ আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক থাকলে এমন কাজ হওয়া প্রায় অসম্ভব।

এবার আসি মেয়েদের ব্যাপারে।মেয়েদের আমি তেমন কোনো দোষ দেবো না।তবে আমি জানিনা কোন কারণে একদিনের জন্য আমরা পহেলা বৈশাখ,পহেলা ফাল্গুনসহ আরো কয়েকখানা দিন পালন করি।এখনকার জেনারেশান মানে আমরা সত্যি বলতে একটু উপভোগ করার জন্য দিনগুলোতে রাস্তায় নামি।কাজে দেশের কোনো সংস্কৃতি-ঐতিহ্য এর ধার ধারি না শুধু দিনগুলো আসলেই নানান সাজে নিজেদের উপস্থাপন করি বাঙালি হিসেবে।এসবের কোনো মূল্য নেই।দিনরাত পশ্চিমা সংস্কৃতির পেছনে দৌড় দিতে দিতে আজ আমরা ওয়েস্টার্ন জগতে পা দেয়ার চেষ্টা করছি।আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা বাঙালি।আমাদের আছে গৌরবের এক ঐতিহ্য।একজন জিন্স-শার্ট পড়া বাঙালি মেয়ের চাইতে শাড়ি পড়া বাঙালি মেয়েকে দেখতে আরো বহুগুণ সুন্দর লাগে।বিশ্বাস না হলে দয়া করে একবার যাচাই করে দেখবেন।বাঙালির গৌরবকে ধরে রাখা আমাদেরই কর্তব্য।তাই আমাদের পশ্চিমা অশ্লীলতাকে ছুঁড়ে ফেলে নিজেদেরকে একদিনের নয় চিরদিনের বাঙালি করে তুলতে হবে।তবে আমি মানুষের নিজ ইচ্ছাকে শ্রদ্ধা করি।তাই কেউ সেই পশ্চিমাদের ফলো করতে চাইলে তার প্রতি সমবেদনা এইযে তার কোনো সৌন্দর্য এর মাধ্যমে অন্তত প্রকাশ পাবে না।কারণ বাঙালির সৌন্দর্য বাঙালির সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যতেই লুকিয়ে আছে।যদি আপনি এখন পর্যন্ত ইউরোপ-আমেরিকান মডেলদের ফলো করে এসে থাকেন আর যদি ভেবে থাকেন আপনি নিজের সৌন্দর্যতা প্রকাশ করছেন।তবে আফসোস আপনি এই কাজটিতে ব্যর্থ।

আমি একজন সাধারণ বাঙালি।ধর্ষণ এর মতো কাজ আমার জন্য অপমানের।কারণ এই কাজ দ্বারা আমার মায়ের জাতির উপর কেউ আঘাত এনেছে বলেই আমি মনে করি।আমি ঘৃণা করে তাদের যারা বলে নারী কেবল তার পোশাকের কারণেই ধর্ষিত হয়।খারাপ লাগে এইসব কথা শুনে।কোন সমাজে থাকি আমরা যেখানে নারীকে বিবেচনা করা হয় তার পোশাক দিয়ে?আপনি আজ পোশাকের সমালোচনা করছে কয়দিন পর আপনার বোন বা মেয়েকেই ওই পোশাকে দেখা গেলে আপনি ভেবে দেখুন আপনার মতো লোকেরা কি ভাবতে পারে মনে মনে।ভাগ্যিস বিজ্ঞানীরা এখনো মানুষের প্রতি সেকেন্ডের চিন্তাধারা জানার মতো কোনো প্রযুক্তি তৈরি করতে পারেনি।নইলে সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন আমাদের কি হতো।

পরিশেষে বলতে চাই ধর্ষণ বিতর্কে পোশাকের ব্যাপারটা প্রায় নিরর্থক।কারণ ধর্ষণের মতো নিকৃষ্ট বিষয় থেকে আজ ছোট বাচ্চারাও রেহাই পাচ্ছে না।এই সবই আমাদের অর্থাৎ ছেলেদের নৈতিক অবক্ষয় আর অশ্লীলতাকেই আমাই দায়ী করি।আর মেয়েদের বলবো ভারতীয় বা পশ্চিমা রঙ ঢং ছেড়ে জাতির ঐতিহ্যকে কাছে টেনে নিতে হবে।বাঁচাতে হবে দেশের সংস্কৃতি।

নিজেরা এভাবে চলতে পারলেই হয়ত একদিন আমাদের দেশে ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে না।করতে হবে না তনুর মতো মেয়েদের ধর্ষণ আর হত্যার বিচারের জন্য অপেক্ষা।

“বদলে যেতে হবে আমাদেরই”

আমরা মারাত্মক আধুনিক

Now Reading
আমরা মারাত্মক আধুনিক

সেদিন দিয়া বাড়ি ঘুরতে গিয়ে দেখলাম ভদ্র পোশাক পরা একজন মহিলা বিপুল উতসাহিত হয়ে রাস্তার মাঝে গড়াগড়ি খাচ্ছেন। ঘটনা বুঝতে একটু এগিয়ে যেতেই দেখলাম উনার সাথে ২-৩ জন চেলা পেলা হাতে “ডস্লার” নামক দামী বস্তু নিয়ে মোছড়া মুছড়ি করছেন। আর বুঝতে বাকি রইলো না ভদ্রমহিলার ফেসবুকের কভার পিক শেষ হতে চলেছে, উনার নতুন ছবি দরকার। এজন্য রাস্তায় শুয়ে গড়াগড়ি খাচ্ছেন। রাস্তায় শুয়ে বসে হামাগড়ি দিয়ে ছবি তোলা বর্তমান প্রজন্মের মারাত্মক আধুনিক একটি রীতি। আধুনিক আরো অনেক মজার মজার রীতি আছে আমাদের, যেমন আব্বাজান বিদেশ থেকে পানির বোতল আর মৌজা এনেছেন, ইমিডিয়েটলি ফেসবুকে লাইভ এ এসে পড়তে হবে। লাইভ এ এসে কন্ঠ যতটুকু সম্ভব চিকন করে বলতে হবে যে এই পানির বোতল জাতীয় বস্তুটি বিদেশ থেকে কেনা..

কোনো ছেলের হাতে “ডস্লার” দেখলেই মেয়ে কাত হয়ে যাবে, কারন এই ছেলেটি ই পারে তার ছবি তুলে ফেসবুকে তার ফলোয়ার বাড়িয়ে দিতে..

আগে মানুষ কিছু টাকা জমিয়ে রেস্টুরেন্ট এ যেতো ভালো খাওয়া-দাওয়া করার জন্য,কিন্ত এখন খাওয়ার আগে প্রধান দায়িত্ব সে কি খাচ্ছে তার ছবি তোলা & যত দ্রুত সম্ভব ফেসবুকে চেক ইন দেয়া।

এই ফেসবুকের জ্বালায় আমার নিজের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে।

একবার আমরা ৩ বান্ধবীরা পরিকল্পনা করলাম সারাদিন একসাথে থাকবো,সারাদিন ৩ জন মিলে রান্না করবো খাবো, খাওয়ার পর ঘুরতে যাবো। খুব খুশিতে সেজেগুজে গেলাম। যাওয়ার পর পর ই বাছাবাছি শুরু হলো, কার ক্যামেরা সবচেয়ে স্ট্রং। ক্যামেরা বাছা শেষ হলো। বসলো মেকাপ বক্স নিয়ে,ছবি তুলে ফেসবুকে দিবে.. খুব সুন্দর দেখাতে হবে কিন্তু….

আচ্ছা ভাবলাম এতদিন পর একসাথে,, স্মৃতি ধরে রাখার জন্যেও কয়েকটা ছবি তুলা লাগে..

ছবি তোলা শুরু হলো.. হায়রে, ৪-৫ ঘন্টা মনে হয় একসাথে ছিলাম, তার মধ্যে ৪.৫ ঘন্টা শুধু সেল্ফি তোলা হয়েছে, বিরক্ত হয়ে বাসায় আসলাম,

দেখলাম তারা ছবি আপ্লোড দিয়েছেন… “ওয়াও!! ওই হ্যাড সো মাছ ফান টুডে”!!!!

মাথায় রক্ত উঠে গেলো, ওই শালারা ফান কখন করলি? ছবি তুলেও তো কুলাইতে পারলিনা.. উত্তর দিলো এটাই মজা,তুমি বুঝবানা… আচ্ছা আসলেই কি তাই? এটাই কি মজা? আমি মনে হয় তাহলে এবনরমাল,কারন এই যুগের ফান গুলা ধরতে পারিনা আমি.. হয়তো আমার ব্রেইন এর ক্ষমতা অন্যদের চেয়ে কম আছে,আমি বুঝিনা।

আমি বুঝিনা কিভাবে খোলা মাঠে খেলতে না গিয়ে ছবি আপ্লোড দেয়াতে বেশী আনন্দ কাজ করে… এগুলা তো ভালো কথা, বর্তমান যুগের আরেক আধুনিকতা হচ্ছে কথায় কথায় এডাল্ট ফান করা. না আমার এডাল্ট ফান ভালো লাগেনা.. বন্ধু-বান্ধবিরা মিলে মজা করার সময় অসংখ্য মজার কাজ করা যায়, তাই বলে কথায় কথায় স্ল্যাং ব্যাবহার করলেই তা আধুনিকতা হয়ে যায় কিনা আমার জানা নেই, হয়তো জানতে চাই ও না। দিনে ৫০ বার নিজের ছবি আপ্লোড করে যদি এটেনশন পাওয়ার মাধ্যমে কেউ সুখ খুজে পায় তাহলে আমি হয়তো এবনরমাল, কারন এসবের মধ্যে আমি সুখ খুজে পাইনা.. কি পেয়েছি এই আধুনিকতায় আমরা? মুল্যবান জিনিস গুলো কি হারিয়ে যায় নি? আজকাল কার তরুন-তরুনী এমন কি কিশোর-কিশোরী দের কাছে “Love” আর “Breakup” শব্দ গুলি অতিমাত্রায় সহজ হয়ে ওঠেছে.. ইচ্ছে হলো প্রেম করছে, একজন আরেকজন কে স্পর্শ করছে,ইচ্ছে হলো ছেরে দিচ্ছে, আরেকজনের কাছে চলে যাচ্ছে…

সত্যিকারের ভালোবাসা কি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছেনা? আত্মকেন্দ্রিক হয়ে ওঠছে মানুষ মারাত্মক ভাবে। উগ্র-অশ্লীল ভাবে চলাকে ভাবছে স্মার্টনেস, আর ভদ্র ভাবে যে চলছে তাকে বলছে ক্ষেত, আন্সমার্ট..

ভালো মানুষ কে বাধ্য করছে যুগের সাথে তাল মিলানোর জন্য। কিন্তু সঠিক এবং হালাল নিয়ম তো সারাজিবন এক ই থাকবে। এর পরিবর্তন হবেনা। যুগ বদলালেও নিয়ম বদলাবেনা..

বাংলাদেশের মানুষ আমরা, ফ্রেন্ডস বলে একজন ছেলে কি একটা মেয়েকে জড়ায় ধরতে পারে? মেয়েটার কি একটু খারাপ লাগেনা? আমি বুঝিনা এসব, আমার হয়তো মাথা মোটা।

আমি নিজে দেখেছি দোস্ত দোস্ত বলে মেয়েটা ছেলেটা টাকে ইচ্ছামত জাপ্টে ধরছে,ছেলেটাও দোস্ত বলে গড়িয়ে পরছে মেয়েটার ওপর।

এটা ফ্রেন্ডশিপ?

একদিন একটি ইসলামিক লেকচার শুনছিলাম, যেখানে একজন বিখ্যাত আলেম কে প্রশ্ন করা হয়েছিলো আপনাদের ধর্মে ছেলে মেয়ে সেপারেট রাখার লজিক টা কি?

তিনি বলেছিলেন, যেনো আপনি রাস্তায় বেপর্দায় থাকা একটি সুন্দরি মেয়েকে দেখে নিজের

ওয়াইফ এর সাথে তুলনা করে আফসোস না করেন।

আরেকটা বিষয় এখন খুব জ্বালাচ্ছে, তা হলো প্র‍্যাংক..

যেকোনো কিছু নিয়ে প্র‍্যাংক করা..অর্থাৎ কাউকে বোকা বানানো.. ছোটখাটো মজা চলেই, কিন্তু সিরিয়াস ভাবে যখন কাউকে প্র‍্যাংক করে বসে তখন সিচুয়েশন টা কি হতে পারে? মানুষ টি অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।

একজন মানুষ এক্সিডেন্ট করে রাস্তায় পরে আছে মানুষ তাকে হাসপাতাল নিবেনা, তার সাথে ২ টা সেল্ফি তুলে আপলোড দিবে.. “#গরীব মানুষ।“

এটা আধুনিকতা? এই কি অবস্থা? কারো কোনো সম্মান নেই, এক জনের ওয়াল থেকে ছবি নিয়ে বাজে ক্যাপশন দিয়ে আরেকটি পাব্লিক গ্রুপে দিয়ে দিচ্ছেন কেউ.. এটা কি এখন কার স্টাইল? সভ্যতা? নাকি আধুনিকতা?

সভ্যতা কিন্তু সবসময় আগাতে থাকে পেছায় না.. কিন্তু এক্স্যাক্টলি কোন দিকে সভ্যতা আগাবে তা কিন্তু নির্ধারন করে সাধারন মানুষ। আমরা যদি সভ্যতার অর্থ ধরে নেই ফেসবুকে ফলোয়ার এর সংখ্যা বাড়ানোই মূল উদ্দেশ্য, তাহলে আমাদের পরের প্রজন্ম হয়তো  জানবেও না, মনুষ্যত্ব বলতেও কোনো একটা বিষয় ছিলো। দায়িত্ব টা আমাদের, আমাদের মা বাবা যে শিক্ষা দিয়ে আমাদের বড় করেছেন তার কিছু অংশ যেনো অন্তত ধরে রাখতে পারি..

সম্প্রীতি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা এবং আমাদের দায়বদ্ধতা

Now Reading
সম্প্রীতি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা এবং আমাদের দায়বদ্ধতা

প্রেক্ষাপট ও সমসাময়িক চিন্তা!!!

দেশে এই মূহর্তে ঠিক কি চলছে তা আমরা সবাই কম বেশি জানি। তবে কেন চলছে তার ধারণা আমরা কমই রাখি। যেমন কয়েকদিন আগে বনানিতে একটি ঘটনা ঘটেছিল। যা নিশ্চয় ন্যাক্কারজনক ও সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনার মধ্য একটি। এখানে ধর্ষকদের বিচার চেয়ে আমরা যতটা সোচ্চার হয়েছি লেগেছি তার প্রতিকার চেয়ে এক ভাগ ও  সোচ্চার হয়নি। ধর্ষন এর ঘটনায় ধর্ষক নিশ্চয় শাস্তি প্রাপ্য। তবে আসলে  কি ধর্ষকের উপযুক্ত শাস্তি হচ্ছে?  বা আদো কি বিচার হচ্ছে ? আমরা এইসব বিষয় নিয়ে সাধারণত ভাবিনা। বা ভাবতেও চাইনা। আমরা মনে করি বিচার চাওয়াতেই আমাদের দায়বদ্ধতা শেষ। এক বছর আগে তনু হত্যার বিচার চেয়ে আমরা ফুসে উঠছিলাম। এক কথায় পুরো দেশ কাঁপিয়ে দিয়েছিলাম। পরে তদন্ত কমিটি ও গঠন হল। আমরা দুই মাস  Justice For Tanu বলে বলে চিল্লাইতে থাকলাম । কিন্তু দুইমাস পর আমাদের কাছ থেকে তনু নামক শব্দটা যেন এক প্রকার হারিয়ে গিয়েছে। আমরা এখন আর খোঁজ ও রাখিনা তনুর মামলার বর্তমান অবস্থা। আমরা খোঁজ রাখিনা আদৌ কি মামলা টা আছে নাকি হারিয়ে গেছে আদালতের নথির তলায়।

এইভাবে প্রতি বছর নতুন নতুন ঘটনা ঘটে যাচ্ছে । আমরা ও বিচার চেয়ে যাচ্ছি দুই থেকে ৩ মাস। এর পর আমরা ভুলেই যায় যে দুইমাস আগে এইরকম একটা ঘটনা ঘটেছিল। এর পর ঘটনার শিকার পরিবার গুলো তাকিয়ে থাকে ন্যায় বিচারের আশায়। কিন্তু দেশের মানুষের অগোচরে বিত্তশালী বা ক্ষমতাশালী অপরাধীরা পার পেয়ে যায় । কারণ দেশের মানুষ যদিও মামলার শুরু করে দিয়েছিল তবে শেষ দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেনি।  যার কারণে শেষটা হয় তাদেরই (অপরাধীর) ইচ্ছে মত।

এখন দেশের মানুষ বনানীর ঘটনাটির মাঝে গভীর ভাবে ডুবে আছে । যার মেয়াদ হয়ত আর এক মাস। তার পর আমরা ভুলেই যাব এইরকম কিছু একটা আমাদের দেশে ঘটেছিল । তারপর ধর্ষকেরা বাবা বা  মামার জোরে বের হয়ে যাবে।  এরপর তারা  আবার এমন ঘটনার জন্ম দিবে। আবার আমরা ফুসে উঠব  কয়েকদিনের জন্য আবার হারিয়ে যাবে সময়ের গভীরে।

আর যদি এইভাবে আমরা শুধু বিচার চাইতে থাকি আর তারা পার পেতে থাকে তাহলে কিন্তু ধর্ষন সহ অন্যন্য অপরাধের শাস্তি কখনোই হবেনা। আর শাস্তি কিন্ত কোন অপরাধের শেষ করতে পারেনা। হয়ত ১০০ জনে ৫ জনের শাস্তি হবে বাকি ৯৫ জন আবার বের হয়ে অপরাধ করেযাবে এইসব সমস্যা  প্রতিরোধের জন্য আমাদের স্ব স্ব অবস্থান থেকে গর্জে উঠা উচিত । তাহলে এইসব সমস্যা কিছুটা কম্বে বলে আমি মনে করি।

আমাদের ধর্ষণ এর মত হাজারো সমস্যা বা অপরাধ রয়েছে। যা প্রতিনিয়ত আমাদের স্বাভাবিক জীবন যাপন কে ব্যাহত করে তুলছে। আমরা মাঝে মাঝে এসব সমস্যা থেকে সামাধানের জন্য আন্দোলন করি রাস্তায় নামি গাড়ি ভাঙ্গি। এইসব সমস্যা সামাধানের জন্য নিজেরা কখনো উদ্যোগি হয়না। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে যেন নিজের দায়টুকু থেকে মুক্ত হয়ে যায়। কিন্ত না এইভাবে আসলে দায় থেকে মুক্ত হওয়ান যায়না। একটা সমস্যা বা অপরাধ সরকারের ছেয়ে কিন্ত আমাকে বেশি ক্ষতি করে যাচ্ছে।  এই সমাজের কাছে সরকার যতটা না দায়বদ্ধ তার ছেয়ে বেশি দায়বদ্ধ আপনি নিজে। সুতারাং সরকারের দিকে না তাকিয়ে নিজের মত করে প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত।

এইভাবে এগিয়ে না  আসলে আমাদের এই সমসাময়িক সমস্যার সামাধান হবেনা। আমাদের চাইতে হবে এর প্রতিকার। নিজের মধ্য অপ্রাধ প্রতিরোধের শক্তি গড়ে তোলতে হবে।  আমাদের বুঝা উচিত শুধু বিচার চাইলেই সমস্যার সামাধান  হয়না।  আমাদের বিচার এর সাথে সাথে যাতে ভবিষ্যতে এইরকম ঘটনা না ঘটে সেই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

আমাদের সমাজে যেসব সমস্যা প্রকট আকারে বিস্তার করে আছে সেগুলা নিয়ে আমাদের বসে থাকা উচিত নয়। আমাদের উচিত এসব সমস্যার মূল ধংস করা।

একটি গাছের যেমন ঢাল ছিড়লে আবার সেই গাছে পুনরায় ঢাল জম্মায়  । তেমনি আমরা সারা বছর আন্দোলন করে যতই সমস্যার ঢাল কাটিনা কেন এর সামাধান হবেনা । আমাদের উচিত এসব সমস্যার মূল খুজে বের করা।

সারা বছর লোক দেখানো আন্দোলন না করে যদি আমরা অপরাধ প্রতিরোধে মাসে একদিন করে ও সময় দিয় তাহলে আর ৫ বছর পর আমাদের প্রেসক্লাবের সামনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়াতে হবেনা । আর এর জন্য প্রয়োজন আমাদের নিজস্ব চেতনাবোধ । আমি যদি নিজে গর্জে উঠি তাহলে আমার কাছে দেখে আরেকজন গর্জে উঠবে এই ভাবেই সবাই একদিন সোচ্চার অপরাধের  বিরুদ্ধে।

একটা জিনিস খেয়াল করছেন কিনা জানিনা আমাই কিন্ত এইখানে অপরাধের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে বলছি অপরাধীর নয়। কারন অপরাধ ই অপরাধীর জম্ম দেই। তাই অপরাধ যদি নির্মুল করতে পারি তবে  অপরাধী আর জন্ম নিবেনা ইনশাল্লাহ।

তাই আসুন সবাই আজ থেকে অপরাধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি