ফুটপ্রিন্ট-বাংলাদেশীজমঃ বাংলাদেশের প্রথম ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট !!

Now Reading
ফুটপ্রিন্ট-বাংলাদেশীজমঃ বাংলাদেশের প্রথম ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট !!

প্রথমেই বলে নিচ্ছি, এই আর্টিকেল ফুটপ্রিন্ট-বাংলাদেশীজম এ ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য একটি সম্পূর্ণ গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে। কিভাবে কি করতে হবে, শুরু থেকে শেষ এখানে আলোচনা করা আছে; সুতরাং, এটি ধৈর্য সহকারে পড়ুন……..

আমরা অনেকেই আছি যারা লেখালেখি করতে ভালোবাসি। কেউ শখ থেকে লেখে, কেউ বই বের করে সেই শখ থেকে; আবার কারো ইচ্ছা বই লিখে বা পত্রিকায় লেখালেখি করার মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন, আবার কারো উদ্দেশ্য অর্থ উপার্জন; অর্থ্যাৎ পেশা হিসেবে নেওয়া।

যেমন আমার কথাই বলি, আমি বাংলাদেশের অতি জনপ্রিয় একটি মাসিক ম্যাগাজিন যায়যায়দিন  যা কিনা পরবর্তীতে মৌচাকে ঢিল  নামে প্রকাশিত হতো, সেখানে অনেক আগে লেখালেখি করতাম। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত। আমার ইচ্ছে ছিল জনপ্রিয়তা অর্জন করা। পরে মনে হল, অনেক তো ভালোবাসা পেলাম পাঠক-পাঠিকাদের কাছ থেকে, এবার কি কোনভাবে কিছু আয় করা যায় না? আমার বন্ধু জানালো রহস্য-পত্রিকার  কথা।  কিন্তু পড়াশোনার চাপে আর কখনোই লেখা হয়ে ওঠেনি।  মৌচাকে ঢিল ও বন্ধ হয়ে গেল; লেখার প্লাটফর্মটাই হারিয়ে ফেললাম।

এরপর অনেক সময় কেটে গেছে, ফেসবুকে লিখে মন ভরতো না, ঠিক তৃপ্তি পেতাম না। ফ্যানদের উদ্দেশ্যে অনেক ঘোষণা দিতাম, এই অমুক দিনে লেখা আসছে, আসবে।  কিন্তু সেই অমুক দিন আর খুজেঁ পাওয়া যেত না। সময়ের স্রোতে স্কলারশীপ নিয়ে চলে এলাম নেদারল্যান্ডে। জীবন থেকে লেখালেখির ধারাটা শেষ হবে হবে এমন একটা ভাব, ঠিক তখন আমার মোবাইলে ইউটিউব এর একটা নোটিফিকেশান এলো বাংলাদেশীজম  চ্যানেল থেকেঃ  ঘরে বসেই মাসে ১০,০০০ টাকা বা তারও বেশি উপার্জন  \ Earn Money Online in Bangladesh

নোটিফিকেশান ক্লিক করে ভিডিওটা দেখলাম ধৈর্য সহকারে, কারণ আজ পর্যন্ত Bangladeshism চ্যানেলে অযৌক্তিক বা অনর্থক ভিডিও দেখিনি; বরং বিভিন্ন বিষয়ে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি।

যাইহোক, ভিডিওটার সারমর্ম ছিল ঠিক এটাই যে, যারা লেখালেখি করে অর্থ্যাৎ আর্টিকেল লিখতে ভালোবাসেন, তারা এখন সেই লেখালেখির মাধ্যমেই ঘরে বসে টাকা আয় করতে পারবেন। তবে লেখাটা অবশ্যই শতভাগ আপনার নিজের হতে হবে ; অন্য কোথাও পাবলিশ হওয়া যাবে না এবং অবশ্যই অবশ্যই নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে গাইডলাইন মেনে হতে হবে। এটার জন্য ইন্টারনেট কানেকশান সহ  ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ থাকা চাই; কম্পিউটারে ব্যাপারটা অনেক ইজি হবে আরকি! আর এটার জন্য আপনাকে যেতে হবে Footprint.Bangladeshism এর সাইটে। যেটা কিনা বাংলাদেশের প্রথম ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট!

( ফুটপ্রিন্টের বয়স মাত্র ৮ দিন হলেও এখানে লেখকরা প্রচুর পরিমাণে লেখা সাবমিট করছেন। আমার জানামতে এখন পর্যন্ত ২০০০ এর বেশি লেখা সাবমিট পড়লেও কপি-পেষ্ট বা খারাপ মানের জন্য বেশিরভাগই বাদ পড়ে গেছে। যেটা কিনা এই ফ্রিল্যান্স সাইটের লেখার উচ্চ গুণগত মান নির্দেশ করে। অনেক লেখকের আইডি ব্যান করে দেয়াও হয়েছে কপি-পেষ্টের দায়ে।

এই লেখাটি লেখার সময় পর্যন্ত মাত্র ১৭০টি লেখা পাবলিশড হয়েছে যার মধ্যে ৩২টি লেখা চলে গেছে UN PAID সেকশানে- ৭০০ শব্দের কম লেখা হবার কারণে। এছাড়াও দৈনিক ভিজিটর রয়েছে ২০ হাজার এর উপরে। এত অল্প সময়ে আর কোন ওয়েবসাইট এত ভিজিট হচ্ছে কিনা সন্দেহ! আর এর কারণ মানুষের আগ্রহ এবং উচ্চমানের লেখা। লেখা ভাইরাল হয়েছে আনুমানিক ১০টা মত। সারা ফেসবুক ছেঁয়ে গেছে এসকল লেখাতে!!  )

তাহলে আপনিই বা কেন বসে থাকবেন? এখনই তৈরী হোন ফুটপ্রিন্টার হতে !! আপনার লেখা পৌছে দিন বাংলাদেশের হাজার হাজার মানুষের কাছে।

ধাপে ধাপে চলুন দেখে নিই কিভাবে ফুটপ্রিন্টে মেম্বার হবেন এবং এর গাইডলাইন। এটি খুব সোজা। আমরা সবাই ফেসবুক ইউজ করে থাকি, ফেসবুকের মতই এর সেটিংস তাই সহজেই বুঝতে পারবেন।

প্রথম ধাপঃ রেজিষ্টার করুন
প্রথমে আপনাকে http://footprint.press – এ গিয়ে রেজিষ্টার করতে হবে। সেখানে User Name এর ঘর পূরণ করতে হবে। ইউজার নেম ভেবে চিন্তে দিবেন কেননা এটি পরবর্তীতে আর পরিবর্তন করতে পারবেন না।  যেমন, আমি Ferdous Sagar zFs; এটি আর বদলাতে পারবো না। এরপর আপনার সঠিক ইমেইল ঠিকানা দিন এবং ফুটপ্রিন্টের জন্য পাসওয়ার্ড দিয়ে রেজিষ্টার করে ফেলুন।

দ্বিতীয় ধাপঃ একাউন্ট সেটিংস -এ গিয়ে সেটিংস ঠিক করা
সাইটের একদম উপরের সারিতে দেখবেন একাউন্ট সেটিংস । ক্লিক করুন। সেখানে গিয়ে নিজের প্রথম নাম, শেষ নাম  লিখুন। বাম পাশে বক্সে দেখবেন পাসওয়ার্ড, প্রাইভেসি, নোটিফিকেশান, ওয়েব নোটিফিকেশান  পরিবর্তন করার অপশন রয়েছে। আর My Points এ নিজের পয়েন্ট কত জমলো সেটা দেখতে পাবেন। পয়েন্ট ইচ্ছে করলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ারও করতে পারবেন। পয়েন্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ।

পয়েন্ট সিস্টেম যেভাবে কাজ করে এবং কোন কাজ করলে কত পয়েন্ট পাবেন?

১। অন্য কারো পোস্ট শেয়ার করলে – ৫ পয়েন্ট
২। অন্য লেখকের পোস্টে কমেন্ট করলে – ৫ পয়েন্ট
৩। নিজেদের পোস্ট শেয়ার করলে – ৩ পয়েন্ট
৪। আরেকজনের পোস্ট পড়লে – ২ পয়েন্ট।
৫। পোস্ট সফল ভাবে পাবলিশ হলে – ১০ পয়েন্ট (পেইড এবং আনপেইড)
৬। রেফারেল লিঙ্ক দিয়ে কোন লেখককে আনতে পারলে ১০ পয়েন্ট (এক্ষেত্রে অবশ্যই লেখকের নূন্যতম একটি পোস্ট থাকতে হবে)
৭। আরেকজন লেখকের প্রোফাইলে গিয়ে লেখককে রিভিউ রেটিং দিলে – ৫ পয়েন্ট
৮। সাইট লগ ইন করা অবস্থায় দিনে যতবার ৫ মিনিটের বেশী ব্রাউজ করবেন ততবার ২ পয়েন্ট করে পাবেন।

ভবিষ্যতে পয়েন্ট বেইজড প্রায়োরিটি সিস্টেম হবে অর্থাৎ সর্বোচ্চ পয়েন্ট যারা থাকবে তারাই সবচেয়ে বেশী এক্টিভ ফুটপ্রিন্টার হিসেবে থাকবেন এবং তাদের লেখা প্র্যায়োরিটি পাবে সাইটের হোম পেজে এবং ফেসবুকে শেয়ারিং এর ক্ষেত্রে।

পয়েন্ট সিস্টেম দিয়ে ভবিষ্যতে আরো অনেক ফিচার যুক্ত করা হবে যা এখনও প্ল্যানিং -এর মধ্যে আছে। ভবিষ্যতে জানতে পারবেন আপডেট।

তৃতীয় ধাপঃ প্রোফাইল আপডেট করুন
এর পর প্রোফাইল বাটনে ক্লিক করুন। Your profile is looking a little empty. Why not add some information! লেখা আসবে। এবার ডান পাশে সেটিংস আইকন বাটনে ক্লিক করে Edit Profile এ যান। সেখানে ফেসবুকের মত করেই প্রোফাইল ফটো ও কভার ফটো আপলোড করতে পারবেন। নিজের ব্যাপারে ১৮০ শব্দের কিছু লিখতে পারবেন।  সাথে ফেসবুক আইডি ও বিকাশ নাম্বার  যেটি আপনার পেমেন্টের জন্য লাগবে সেটি উল্লেখ করে দিয়ে কভার ফটোর ঠিক নিচে টিক চিহ্ন  তে ক্লিক করুন, চেইঞ্জ গুলো সেইভ হয়ে যাবে। ( আপনার বিকাশ নাম্বার এর প্রাইভেসি, একাউন্ট সেটিংস এর প্রাইভেসিতে গিয়ে অনলি মি করে নিবেন )

বাকি যে বাটন গুলো আছে, অর্থ্যাৎ

Activity হলো, আপনি যা যা করেছেন মানে ফুটপ্রিন্টে আপনার এক্টিভিটি শো করবে;
Post এ আপনি যা পোষ্ট করেছেন তাই দেখাবে;
Comments এ দেখবেন আপনি কোথায় কি মন্তব্য করেছেন তাই;
Message আপনার চ্যাট বক্স; কাউকে মেসেজ করতে চাইলে তার একাউন্টে গিয়ে মেসেজ করতে পারবেন;
Reviews এ কে আপনাকে কত রেটিং করেছে তাই দেখতে পাবেন; এবং
Badge নির্দেশ করবে আপনি কোন ক্যাটাগরির লেখক। ( লেখক ক্যাটাগরির বিস্তারিত আপনি পেমেন্ট প্রসিডিওর সেকশানে পাবেন)
চতুর্থ ধাপঃ লেখা সাবমিট করুন
লেখা সাবমিট করার আগে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সাইটের গাইডলাইন খুব ভালোভাবে পড়ে দেখা ও পেমেন্ট প্রসিডিওর জানা। এ বিষয়ে আপনারা ফ্রন্ট পেজেই পাবেন বিস্তারিত। ফ্রন্ট পেজে গিয়ে গাইডলাইন ও পেমেন্ট প্রসিডিওর বাটনে ক্লিক করুন।

আপনি লেখা সাবমিট করতে চাইলে সাবমিট করুন  বাটনে ক্লিক করে সাবমিট প্যানেল এর পাতায় আসুন। এখানে আপনি ঠিক মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের মত পরিবেশ পাবেন। আপনার লেখা কম্পিউটারের ওয়ার্ডে লেখা থাকলে সেখান থেকে যেকোন রকমের ফরম্যাটিং ছাড়াই কপি করে পেষ্ট করুন এবং ওয়ার্ড প্যানেলে ফরম্যাটিং করে নিন। মানে , বোল্ড, ইটালিক, বুলেট, শব্দের রঙ ঠিক করা- এগুলোর কথা বলছি। লেখা অবশ্যই মিনিমাম ৭০০ শব্দের হতেই হবে। এর নিচে হলে তা (Un Paid UP) সেকশানে চলে যাবে। খেয়াল রাখবেন, কোনভাবেই যেন বানান ভুল না হয়!

এরপর লেখার সাথে যে ফিচার ফটো দিতে চান সেটি আপলোড করুন।  ছবি সংযোজন করার ক্ষেত্রে অন্যজনের ছবি বিনা অনুমতিতে সাবমিট করতে পারবেন না।  আপনার পোস্টের ফিচার ইমেজ বা Thumbnail টা খুব Important যা আপনার পোস্টের উপরের দিকে দেখায় অথবা শেয়ার করলে ফেসবুকে যে ছবিটি আসে লিঙ্কের সাথে। তাই খুব ভাল ছবি বানাতে পারলেই ভাল হয়।  ছবিটি অবশ্যই আপনার পোস্টের সাথে রিলেটেড হতে হবে এবং ছবিটি নূন্যতম ১০০০ পিক্সেলের  হতে হবে। ঘোলা বা অস্পস্ট ছবি দিলে আপনার পোস্টটি পাবলিশ করা নাও হতে পারে।  ফটোতে কোন প্রকার লেখা না রাখার চেষ্টা করবেন, আর রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ হলে লেখা খুব বেশি বড় করে দিবেন না।

আপনার লেখা কোন ক্যাটাগরির সেটা ক্যাটাগরি বক্স থেকে ঠিক করে নিন।

অন্য কোন জায়গা থেকে রেফারেন্স নিলে সেটা রেফারেন্স বক্সে মেনশন করে দিতে হবে ও লেখা ও ছবির সোর্স, সোর্স বক্সে মেনশান করে দিবেন। লিংক থাকলে সোর্স লিংকের বক্সে এড করে দিবেন।

মনে রাখবেন আপনার লেখার শতকরা ৯০% নিজস্ব হতে হবে। অন্য জায়গা থেকে বেশীরভাগ কপি করে সোর্সের নাম উল্লেখ করে দিলে কোন লাভ হবে না। একাউন্ট ব্যান হয়ে যাবে।

এছাড়াও মনে রাখবেন, এটা বাংলাদেশীজম ,বাংলাদেশের হয়ে অন্য দেশের সংবাদ করে সেই দেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে যাবেন না প্লিজ। আমি অনেককেই দেখলাম ভারত বা পাকিস্তানের খবর নিয়ে লিখতে !! কেন রে ভাই? যে সব দেশ আমাদের দেশকে, আমাদের ভাষা কে সম্মান করতে জানেনা, তাদের নিয়ে কেন লিখতে হবে, তাদের খেলোয়াড় বা যেকোন কিছু নিয়ে কেন লিখতে হবে? তাদের কোনদিন দেখেছেন আমাদের দেশের পজিটিভ কিছু নিয়ে লিখতে? নাহ। সুতারাং, চেষ্টা করবেন নিজের দেশকে তুলে ধরার। এই বাংলাদেশ আমাদের মা, এই বাংলা ভাষা আমাদের প্রাণ।

পঞ্চম  ও শেষ ধাপঃ সাবমিট করে দিন
সবকিছু আরেকবার মিলিয়ে নিয়ে বা চেক করে স্প্যাম বক্সের অংক মিলিয়ে লেখা সাবমিট করে দিন। একজন এডমিন আপনার লেখা দেখে পরবর্তীতে সেটাকে উপযোগী মনে করলে তা পাবলিশ করে দিবেন। আর রিজেক্ট হয়ে গেলে নোটিফিকেশান পাবেন।  গাইডলাইনের বাইরে হলে আপনার পোস্টটি রিজেক্ট করা হবে এবং আপনি সেই পোস্টের জন্য কোন টাকা পাবেন না।

আপনার লেখা পাবলিশ হয়ে গেলে তা ফ্রন্ট পেজ কিংবা নতুন সংযোজনে দেখতে পাবেন।

আশা করি এই লেখাটি আপনাদের উপকারে আসবে। আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি লিখে বোঝানোর জন্য।  আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে তা ফুটপ্রিন্টারদের ফেসবুক গ্রুপে গিয়ে প্রশ্ন করবেন।

বাংলাদেশীজম এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু লিংকঃ

footprint members ফেসবুক গ্রুপ লিংকঃ https://www.facebook.com/groups/bangladeshism.footprint
Bangladeshism এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজঃ https://www.facebook.com/bangladeshism
Bangladeshism এর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলঃ https://www.youtube.com/channel/UCnyjttFsNURsFJRwPf2azzg
Bangladeshism এর ওয়েবসাইটঃ https://bangladeshism.com
Bangladeshism এর ফটোগ্রাফ গ্রুপঃ https://www.facebook.com/groups/bangladeshism.photography
সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, বাংলাদেশীজম এবং ফুটপ্রিন্টের সাথে থাকুন। বাংলাদেশের একজন সুনাগরিক হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরুন।

HAPPY WRITING & FREELANCING !!

বাড়ছে ধর্ষণ, আতঙ্কে আমাদেরই মা-বোন

Now Reading
বাড়ছে ধর্ষণ, আতঙ্কে আমাদেরই মা-বোন

বর্তমান সময়ে যে ভয়ংকর ইস্যু সমাজে রূপ নিয়েছে তা হচ্ছে ধর্ষণ। আমার এই আর্টিকেলটি ধর্ষণ নিয়ে লিখা।

ধর্ষণ কি?

-কোনো নারী বা কিশোরীর উপর জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করার চেষ্টা করা বা শারীরিক নির্যাতন করা কিংবা যেকোন ধরণের মানষিক চাপ সৃষ্টি করা ধর্ষণ হিসেবে ধরা হয়।

আমাদের দেশে দিনকে দিন ধর্ষণের হার বেড়েই চলছে। যে বিষয়টি এখন বলতে গেলে সামাজিকতার চরম ঊর্ধে চলে এসেছে। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে এটি এখন চরম আকারে ভাইরাসের রূপ ধারণ করেছে। আর মানুষগুলো হায়েনার মতো করে এই অভিশপ্ত ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। মানুষগুলো তাদের বিবেককে বর্জন করে এই পাপ কর্মে লিপ্ত হচ্ছে দ্বিধাহীন ভাবে।দেশের দৈনিক পত্রিকা গুলো খুললেই প্রথমে চোখে পড়ে বড় শিরোনাম হওয়া ধর্ষণের খবর এটাই কি সভ্যতা!!!  এই সভ্য জগতে আজ আমাদের দিন যাপন করতে হচ্ছে আমাদের প্রত্যেকের মা-বোন গুলো এর মধ্যেই অত্যন্ত ভয় সাথে নিয়ে বাইরের পরিবেশে চলা ফেরা করে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের যেখানে উচিত মা-বোন দের নিরাপত্তা দেয়া , আমরা সেটা দিতে পারতেছি না। আমাদের , সমাজের সকলের উচিত আমাদের প্রত্যেকের মা-বোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আমাদের দেশে ধর্ষণের রূপ খুবই ভয়াবহ। আর বিগত কয়েক বছরে এটি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। দেশের প্রথম সারির দৈনিক পত্রিকা গুলোর ঘাটাঘাটি করলে বুঝা যায় যে দেশে এই হিংস্র ভাইরাস কিভাবে আসন পেতে বসেছে।সবগুলো ধর্ষণকারী যেন ধর্ষণের নেশায় মাতাল ধর্ষণকে তারা ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করেছে প্রতিটি মানুষের বিবেক আজ যেন দাঁড়িপাল্লায় মাপতে হবে কেমন মনুষ্যত্ব!!! আমি অবাক হই এইসব ধর্ষণকারীদের দেখে পৃথিবীতে জন্মগ্রহণের উদ্দেশ্য কি তাদের?  এখনই সময় মানুষকে সচেতন করার, সচেতন হওয়ার।

আমাদের দেশে ধর্ষণের রূপ ঠিক কতটা ভয়াবহ তা কিছুটা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। আমাদের দেশে ধর্ষণের পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ তুলে ধরার চেষ্টা করছি।সারাদেশে প্রতিদিন অসংখ্য ধর্ষণের ঘটনা ঘটে চলেছে কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষ জানতে পারি সেগুলো যা মিডিয়া আমাদের সামনে তুলে ধরে কিন্তু মিডিয়ার খবরের বাইরেও অনেক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে এবং তা সমাজের মানুষের জানার অগোচরেই রয়ে যাচ্ছে যার ফলে কোন রকম সুষ্ঠু বিচার পাচ্ছে না ধর্ষকগোষ্ঠী তাই তাদের সাহস দিন দিন বেড়েই চলেছে সাথে সাথে বাড়ছে ধর্ষণের হারও

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধর্ষণের শিকার নারী সঠিক বিচার পাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় পুলিশি সহায়তা না পাওয়ায় ভিকটিমদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার আতঙ্ক তাড়া করে বেড়ায়। এতে করে আসামিরাও উক্ত কাজে লিপ্ত হতে সাহস পাচ্ছে। জনগণ, সমাজ, সবাইকে একসঙ্গে এটি সমাধানে কাজ করতে হবে। ধর্ষণকারী অপরাধী যেন কোনোভাবেই শাস্তির আওতার বাইরে না থাকে সে বিষয়ে সোচ্চার হতে হবে।সমাজের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের উচিত এইসব ধর্ষণকারীদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা আর তাই সমাজের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে ধর্ষণকারীদের বিরূদ্ধে রূখে দাঁড়াতে হবে

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫ সালে সারা দেশে ৮৪৬ নারী-শিশু ধর্ষণের শিকার হন। এর মধ্যে ধর্ষণ-পরবর্তী সময়ে ৬০ জনকে হত্যা করা হয়। আত্মহত্যা করেন ২ জন। এর ঠিক আগের বছর ২০১৪ সালে ৭০৭ জন ধর্ষণের শিকার হন।বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫ সালে সারা দেশে ১ হাজার ৯২ জন নারী-শিশু ধর্ষণের শিকার হন। এর আগের বছর যে সংখ্যা ছিল মাত্র ৬৬৬ জনে। এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৩৫ শতাংশ ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে। আর ২০১৬ সালের শুধু ফেব্রুয়ারি মাসে ৬৮টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গণধর্ষণ শিকার হন ৭ জন। ১৩ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়।

পরিসংখ্যান সবসময় সব সত্য প্রকাশ করে না।সমাজের সব অপরাধ পুলিশের খাতায় লিপিবদ্ধ হয় না সবসময়। তাই লিপিবদ্ধ তথ্যের আড়ালে রয়ে যায় আরো অজানা অনেক তথ্য। ধর্ষণের শিকারী মানুষগুলো অনেক সময় ভয়ে তাদের উপর ঘটে যাওয়া ঘটনা মিডিয়া বা পুলিশ কে জানাতে চায় না তারা অনেক সময় ভেঙ্গে পড়ে এমনটা ভেবে যে সমাজের সামনে তারা মুখ দেখাতে পারবে না তাই সমাজের মানুষের উচিত তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ানো

আমাদের সমাজ ও সমাজের মানুষকে এই বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হতে হবে। সবার ঘরেই মা-বোন রয়েছেন। তাদের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সমাজের সবার। দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ভাবে রূখে দাঁড়াতে হবে।ধর্ষণের শিকার মানুষগুলোর পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে কারন তাদের সমাজে সুষ্ঠুভাবে ফিরে আনার দায়িত্ব আমাদের সকলের তাদের মনোবল বাড়ানোর দায়িত্ব আমাদের সবার

 

           ধর্ষণ মামলার বাৎসরিক গড়

 

   বছর-            ২০০৯     ২০১০    ২০১১     ২০১২     ২০১৩      ২০১৪

 

.গড়               ২৪৮       ২৭৯      ৩১২       ৩০২       ৩০৪        ৩০৮

এতো ২০১৪ সাল পর্যন্ত ঘটনাএখন ঘটনাগুলো আরো তীব্র হচ্ছে বীভৎস হচ্ছেকঠিন শাস্তির বিধান না থাকায় ধর্ষকগোষ্ঠী আরো বেশি পরিমাণে অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে আমাদের প্রশাসনের উচিত এই বিষয়টিকে যত দ্রুত সম্ভব আমলে আনা কঠিন উপযুক্ত শাস্তির সংবিধান তৈরি করা এবং ধর্ষকগোষ্ঠী কে উপযুক্ত শাস্তির আমলে আনা প্রশাসনের আরও সজাগ হওয়ার সময় হয়েছে এখনই।এমন সব শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত যাতে করে এই ঘৃণ্য অপরাধে মানুষ লিপ্ত হতে ভয় পায়আর সমাজের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার চেষ্টা করাকারণ সমাজে সব মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধ সচেতন থাকে তাহলে আমাদের মা-বোন গুলো সমাজে নিরাপদে স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করতে পারবেআমাদের মা-বোন দের নিরাপদে রাখার দায়িত্ব আমাদের, সমাজের সকলের

ঢাকার নাইট-ক্লাব ও ডিজে-পার্টি গুলোতে কি হচ্ছে এসব? প্রশাসন কেন নীরব?

Now Reading
ঢাকার নাইট-ক্লাব ও ডিজে-পার্টি গুলোতে কি হচ্ছে এসব? প্রশাসন কেন নীরব?

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।

পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল শহর যেখানে দুই কোটিরও অধিক মানুষের বাস; বড় বড় অট্টালিকায় ছেয়ে যাওয়া এই মেগাসিটিতে রয়েছে নানা পদের মানুষ, ধনী গরীবের অসামঞ্জস্যতা! ধনীর মার্সিডিজ নিয়ে ছুটে যাওয়া, অন্যদিকে অভুক্তের পেটে খিদের চিৎকার। রয়েছে অস্ত্রধারী মানুষের সমাহার যারা একটা নির্দেশ আর কিছু টাকার জন্যে আরেকটা প্রাণ শেষ করে দিতে সময় নেয় না। রয়েছে প্রেম, রয়েছে ভালোবাসা। সারাদিন পর অফিস থেকে ফিরে এসে স্বামী-স্ত্রীর একসাথে ডিনার, অন্যদিকে রিকশাওয়ালার সারাদিনের ঘামে ভেজানো টাকা দিয়ে একটু শাক আর লাউ নিয়ে বাড়ি ফিরে বউকে বলা, “বউ শোন, আইজকে রাইতে ভালোমন্দ খামু, তারপর তোরে রিকশায় বসাইয়া রাইতের ঢাকায় রিকশা চালামু”

এমন প্রেম ভালোবাসার সাথে সাথে আরো অনেক কিছুই রয়েছে যা যোগ হয়েছে এই ঢাকা শহরে যা দশ থেকে পনেরো বছর আগেও ছিল না। রাতের ঢাকা যেন এক রহস্যময় জগত। যে রহস্য উদঘাটন করার মত নয়। রাত একটু ১২টার কাটার আশেপাশে গেলেই ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলোতে শুরু হয় উচ্চ-মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলে মেয়েদের বিচরণ। এই বিচরণ কিছু নির্দিষ্ট স্থানে। আপনারা এই লেখার টাইটেল দেখে ইতিমধ্যে জেনে গিয়েছেন, কোথায় তাদের যাতায়াত। কিংবা লেখার সাথের ফিচার ফটো দেখে হয়তো অনেকেই ভাবছেন, এ আর নতুন কি? এই ফিচার ফটোর প্রতিটা ছবি বাংলাদেশের বিভিন্ন নৈশ ক্লাবের। কোন বিদেশী নাইট ক্লাবের ফটো এনে জুড়ে দেয়া হয়নি।

আসলেই তাই, এটা বর্তমানে ঢাকা শহরে একদম নতুন কিছু নয়। কারণ, আগে এইসব নাইট ক্লাব চলতো নামী দামী হোটেলে বিদেশীদের জন্য। বাইরে কিছু থাকলেও তা গোপনে পরিচালিত হতো। কিন্তু সেদিন বহু আগেই হারিয়ে গেছে। দিন বদলেছে। এখন আমরা ক্যাফে হাউজে বসে কফি হাউজের সেই আড্ডাটা  গান শুনিনা। এখন শুনি বিদেশী ছবির অর্ধ নগ্ন নাচের সাথে থাকা গান কিংবা সানি সানি সানি , পানি পানি পানি  টাইপের গান।

যাইহোক, যা বলছিলাম আরকি! ঢাকায় জমে উঠেছে নাইট ক্লাব আর ডিজে পার্টি কিংবা ডিসকো পার্টির রমরমা ব্যবসা আর আসর। আর এর নিয়মিত কাষ্টমার হলো উচ্চবিত্ত ঘরের যুবক-যুবতীরা। পশ্চিমা সংস্কৃতির ঢেউ লেগেছে আর এই উথাল পাথাল ঢেউয়ে ভেসে যাচ্ছে আমাদের যুব সমাজের একটা অংশ। পশ্চিমা দেশ তথা ইউরোপে এসে জেনেছি নাইট ক্লাব কি, কিন্তু শুধু দেখতে যাওয়া ছিল সেটা , সেখানে কি চলে এই আরকি! আমার অনেক বন্ধু যারা ঢাকা শহরে থাকে, তারাও এইসব নাইট ক্লাবে যেতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। সেগুলো ঠিক এই ইউরোপিয়ান কান্ট্রিগুলোরই নকল করে তৈরী করা। সব ব্রান্ডের মদ, ওয়াইন, সিগারেট, সিগার, হুইস্কি কি নেই সেখানে? শুধু টাকা দরকার সেখানে যেতে। ক্লাবের মেম্বারশীপ পেয়ে গেলে তো কথায় নেই!! হিন্দি গানের তালে তালে যুবক-যুবতীরা উদ্যম নেচে মেতে ওঠে। নারীরা মদ্যপ অবস্থায় নিজেকে বিকিয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করেনা। বাংলাদেশেরই কিছু টেলিভিশন চ্যানেলের অনুসন্ধানী খবরে উঠে এসেছে আরো কিছু তথ্য। শুধু বড়লোক ঘরের দুলাল-দুলালীরাই নয়, এখানে আসর বসে নৈশ-পরীদেরও। যারা কিনা খদ্দের পাওয়ার আশায় এসব নাইট ক্লাবে আসা যাওয়া করে। তবে ব্যক্তিগত ভাবে আমার মনে হয়, এই নৈশ-পরী আর ধনীর দুলালির ভেতরে কোন পার্থক্য নেই। কি ভাবছেন? আমি শুধু একপেশে বিচার করছি? পুরুষ বলে কি পুরুষের কথা বলবো না? লিখবো না ভাবছেন? আরে ভাই, এই সব পার্টিতে চলে গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন সেবন। মারিজুয়ানাও নাকি আসে, বাহ! কি উন্নতিরে বাবা! বিদেশী মদ আসে কোথা থেকে? কারা আনে? একটা সিন্ডিকেট এইগুলা সরবরাহে কাজ করছে। নাম বলবো না, অনেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক কর্তাদের ছেলেরা এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে।

আর সবচাইতে বড় বাবার নাম না বললেই তো নয়। ইয়াবা। এই ইয়াবা সেবন একটি ট্রেন্ডে হিসেবে চালু হয়ে গেছে। এটির সেবনকারীরা মনে করে এটি গ্রহণে সুন্দর আর আকর্ষণীয় হওয়া যায় , যৌনশক্তি বাড়ে, সেক্সি লুক আসে চোখে মুখে। আদতে তা কখনোই নয়। বরং এটি যেকোন মানুষের ভেতরের অংশ নিঃশেষ করে ফেলতে বেশিদিন সময় নেয় না। পুরুষ হারিয়ে ফেলে তার পৌরষত্ব আর নারী হারায় তার স্বাভাবিক মাতৃত্ব। ইয়াবার ভয়ংকর ছোবল যুবসমাজকে ধংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। বিদেশী মদ আর দেশী মদ যাই হোক না কেন- ক্ষতি করছে লিভারকে। ভাসমান পতিতাদের ব্যবসা জমে উঠেছে। পুরুষ সেই জোয়ারে গা ভাসাচ্ছে, এইডস বাধাঁচ্ছে নিজের শরীরে। একাকীত্বতায় পেয়ে বসা মহিলা কিংবা বড়লোক ডিভোর্সী নারী থেকে শুরু করে নামীদামী কর্পোরেট কোম্পানীর মহিলারা দ্বারস্থ হচ্ছে পুরুষ এসকর্টদের। তাদের শুধু আনন্দ চায়, সময় কাটানোর সঙ্গী চায়; বিনিময়ে আছে টাকার বান্ডিল। বেকার পুরুষের একটা অংশ এখন এই পেশায় এসেছে , নারীদের সাথে সমানে পাল্লা দিচ্ছে। এক রাতেই যদি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা আসে একটু সুখ দেবার বদৌলতে তবে সেটা খারাপ কি? ডিজে পার্টিতে ডিজে যারা আসে, তারা ম্যাক্সিমাম নারী ডিজে। এরাও এদেরই একটা অংশ।

এখন প্রশ্ন হলো, কি এই যুবক-যুবতীদের ভবিষ্যৎ? কি ভবিষ্যৎ এই বাংলাদেশের? কোথায় এর শেষ? কি করছে প্রশাসন?

যুবক-যুবতীদের ভবিষ্যৎ এর কথা চিন্তা করতে হবে প্রথমত বাবা-মা কে। বাবা-মা যদি তাদের সন্তাদেরকে অঢেল টাকা পয়সা দিয়ে রেখে দেয়, যা খুশি তাই করতে দেয়, কোথায় যাচ্ছে কি করছে এই সব খোঁজ-খবর না নেয়, তাহলে তো তারা বখে যাবেই। সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে দেখেন , বোঝেন তারা কি করে, আসলেই তারা কি চাই।

বন্ধু নির্বাচন আরেকটি বড় কথা এখানে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, খারাপ বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে ছেলে মেয়ে বখে যায়।

মেডিক্যাল সায়েন্স অনুযায়ী এসকল নেশায় নেশাগ্রস্ত হলে সেই মানুষ বেশিদিন বাচেঁ না, ধীরে ধীরে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। বিশেষ করে ইয়াবা তে বর্তমানে সবাই ঝুকঁছে। আর অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্কের ফলে সহজেই এরা এইডস রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

প্রশাসনের দিক থেকে এই সকল ব্যাপারে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। মূলত এসব নৈশ ক্লাবের লাইসেন্স থাকলে যেসকল মদ বা নেশার দ্রব্য এখানে সরবরাহ করা হয়, তা সম্পূর্ণ আইনত দন্ডনীয়। পুলিশ এসব জেনেও চুপ করে আছে। ভেজাল দ্রব্য নিধনে ম্যাজিষ্ট্রেট যেমন ভ্রাম্যমাণ আদলত নিয়ে রাস্তায় বের হন, তেমনি রাতের ঢাকাতেও তাদের এমন অভিযান চালানো উচিত। তাতে করে যদি এই নেশার কবল থেকে যুব সমাজ কে রক্ষা করা যায়! অনেক নৈশ ক্লাব আবার নকল বা ভুয়া কিংবা কোনো লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব এখানে মূখ্য হিসেবে কাজ করে থাকে। এসব নৈশ ক্লাব থেকে শুরু হয় নানা প্রকার জের বিরোধ যা নিয়ে খুনোখুনি পর্যন্তও গড়ায়।

সবশেষে , একটা কথায় বলবো, সরকার বা প্রশাসন যদি পদক্ষেপ না নেয়, এসব ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে ওঠা নৈশ ক্লাব বন্ধ করতে, তবে সেটার প্রভাব গিয়ে পড়বে এই দেশের সকল স্তরে।  কেননা, আজকের সুস্থ কিশোর-কিশোরী , যুবসমাজই আগামীর ভবিষৎ, আগামীর নেতা, দেশের সম্পদ।

তাই, প্রশাসনের কারো যদি এই লেখা চোখে পড়ে থাকে, তবে অনুরোধ রইলো, জরুরী পদক্ষেপ নিয়ে এইসব নৈশ ক্লাব বন্ধ করে, মাদক অভিযান শুরু করে যুবসমাজকে ধংসের হাত থেকে রক্ষা করতে।

“মা”। সত্যিকারের ভালাবাসা।

Now Reading
“মা”। সত্যিকারের ভালাবাসা।

মা!

‘ম’ তে মহত্ব,মায়া,মমতা! পৃথিবীতে আসার পর কার বুকে মাথা রেখে কেঁদেছিলাম?  কার বুকে মাথা রেখে কান্না থেমেছিলো? প্রতিবারের উত্তরে তোমার নাম ই আসবে।  ৫ বছরের আগে পর্যন্ত কত হাজার লক্ষ বার তোমার তোমার কাপড় নষ্ট করেছি। কই কিছু তো কখনো  বলোনি! জীবনে কখনো মুখে বিরক্তির ছাপ ফেলতে দেখিনি।

স্কুলের টিফিন টাও কতো যত্ন করে ব্যাগে ভরে দিতে। আস্তে আস্তে বড় হতে হতে ছেলেটা/মেয়েটা যখন ভার্সিটিতে চলে যায় তখন সন্তানের মুখে তাকিয়ে নিজের কান্নামাখা মুখটা আগলে রাখতে তুমিই জানো মা।

সন্তান বাসায় আসলে যতটুকু খাবার তুমি খেতে দাও হলে থাকা ছেলেমেয়ে মনে হয় এতভালো খাবার কোনদিন খায় না। গ্রীষ্মের ৩৫-৩৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় যখন আমার জন্যে রান্না করো, কখনো তো বিরক্ত হও না। ফ্যানের নিচে বসে থেকেও যখন গরমে হাপাতে থাকি তখন তুমি রান্নাঘরে এতো গরমে সবচেয়ে সুস্বাদু খাবার আমাদের জন্যে রান্না করো। আচ্ছা মা, তোমার কি গরম লাগে না? একবার ও মনে হয় না  “ধুর ছাই এসব কাজ গরমে কে করে?”

ভালোবাসি কথাটা তোমাকে ওইভাবে বলতে পারিনা কখনো। যখন নিজের আঁচল দিয়ে মুখখানা মুছে দাও, ঘুমাতে যাবার আগে মাথায় হাত বুলিয়ে দাও, বাইরে যাবার আগে আয়াতুল কুরসী পড়ে বুকে ফুঁ দিয়ে দাও,  ভালোবাসা টা তখন অনুভব করি।

তোমার ভালোবাসার পাওনা টা আমি পরিশোধ করতে পারিনা আর পারবোও না। আর তুমি তো কোন পাওনা চাও না। চাও শুধু ভালোবাসার বিনিময়ে ভালোবাসা।

যেমনটা আমায় ভালোবাসো তোমার বৃদ্ধকালেও তোমাকে এইভাবে ভালোবাসতে চাই। এই “মা দিবস” এ ভালো থাকুক সকল মা, সুস্থ থাকুক সকল মা। ভালো থাকো তুমি ‘মা’।

চিরদিন আগলে রাখো আমায়।

সবার আগে জীবনের মানে বুঝতে হবে

Now Reading
সবার আগে জীবনের মানে বুঝতে হবে

আসসালামু আলাইকুম!! বনানী তে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নিয়ে আমার কিছু কথা!!

বনানীতে দুই তরুণীকে ধর্ষণের আসামী সাফাত ও সাদমান এর জন্য আমার খুব মায়া হচ্ছে। নাহ! তাদের করা অপরাধের জন্য মায়া হচ্ছে না। মায়াটা ভিন্ন এঙ্গেল থেকে হচ্ছে। চলুন ধর্ষন করার আগের দিন পর্যন্ত তাদের লাইফ নিয়ে কিঞ্চিত্‌ বিশ্লেষন করি।

প্রথমত, সাফাত একজন উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বলতে পারেন সোনার চামিচ মুখে নিয়ে জন্মানের মতো। বাবা ছিলেন আপন জুয়েলার্স এর মালিক। বিশাল ব্যাপার। হয়তো জন্মের পর অর্থকষ্ট কি তা কোনদিন বুঝতেও পারে নি। সে হিসাবে সে সৌভাগ্যবান হয়েই জন্মেছে। কারন বাংলাদেশের প্রায় আনুমানিক ৭০ শতাংশ পরিবারের ছেলেমেয়েরা কোন না কোন ভাবে অর্থকষ্টটা উপলব্ধি করে। যা হয়তো তার কোনদিন করতে হয়নি। যেখানে লক্ষ লক্ষ তরুনের চাকরি খোজা নিয়ে মাথাব্যাথা হয়ে যায়, সেখানে তো তার জীবন পূর্ব প্রতিষ্ঠিত। দেশের এভারেজ ছেলেদের সবচেয়ে বড় দুই টেনশন ১। চাকরি ও ২। অর্থ। এ দুইটা নিয়ে তার কোন সমস্যাই ছিলো না। সে চাইলেই একটা সুন্দর জীবনের অধিকারী হতে পারতো। অথচ, আজ সে ধর্ষন মামলার আসামী হয় গ্রেফতার হয়েছে। কি নিকৃষ্ট! কি জঘন্য মানুষিকতার হলে কেউ জীবনের এ সামান্য মানেটুকুও বুঝতে পারে না ভাবতে পারেন?

দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন সোর্স থেকে পাওয়া তথ্যমতে, সাফাত প্রেম করে বিয়ে করেছে। তার বউ ও একজন মডেল। খুব সম্ভবত, দুই বছর প্রেম করার পর বিয়ে করেছে। তার সাবেক বউয়ের দেওয়া তথ্যমতে, বিবাহিত জীবনে সাফাত এর মধ্যে অস্বাভাবিকতা খুজে পায়নি। একজন ভালো স্বামীর মতোই পরিবারে সময় দিয়েছে। হঠাত্‌ একদিন বউকে ডিভোর্স লেটার পাঠায় যার কারন তার বউ নিজেও জানে না! তার কিছুদিন পর দুই তরুনীকে ধর্ষন করে আজ দেশের সবচেয়ে জঘন্য ব্যক্তিত্বে পরিনত হয়েছে। কি অদ্ভুত। কি জঘন্য! সে প্রেম করে বিয়ে করেছে, তার বিবাহিত জীবন ছিলো গোছালো। অথচ তাকে অন্য দুই তরুনীকে ধর্ষন করার মামলায় গ্রেফতার হতে হয়েছে। কি জঘন্য! কি বিকৃত মানুষিকতা! তার এ সুখী জীবনের মানে সে বুঝে ওঠতে পারে নি। প্রেম করে বিয়ে করার পর ও আবার ধর্ষন করার মতো বিকৃত রুচি একজন অমানুষেরই কেবল থাকতে পারে। সে প্রেম ভালোবাসার গুষ্ঠি উদ্ভার করে দিয়েছে একদম!!!

তৃতীয়ত, তার বাবা একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। আমার ধারনা মতে, কোন বাবাই চায় না যে, তার ছেলে ধর্ষন করে দেশের হট টপিক হয়ে উঠুক আর নিজের ব্যবসায়ের বারোটা বাজিয়ে দিক। নিশ্চই জেনে থাকবেন যে, তার বাবার ব্যবসায়ের লেনদেনের হিসাবে চেয়েছে শুল্ক বিভাগ। ব্যাস। এইখানেই ভীষনভাবে ধরা খেয়ে যাবে তার বাবার ব্যবসা। একমাত্র কুলাঙ্গার না হলে কোন ছেলে তার লালসার কারনে বাবার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা নষ্ঠ করতে পারে না। ধিক্বার জানাই এ শুয়ায়ের বাচ্চাকে! ওরে ফাসি দিলেও তার শাস্তির কমতি হয়ে যাবে।

সর্বশেষ, তার সাবেক স্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে, সে সপ্তাহে পায় দুই তিন দিন রেইনট্রি হোটেলে রাত্রী যাপন করতো। আর সঙ্গী হিসাবে থাকতো অনেক মডেল নায়িকারা। হ্যা। কথাটি তিতা হলেও সত্যি যে, সে চাইলে তো আর মেয়ের অভাব ছিলো না। আমি ইন্সপায়ার করছি না। এইটা সত্যি যে, সে চাইলে আরো অনেক রাত্রী যাপন করতে পারতো যা হয়তো কোনদিন ধর্ষন খাতায় নাম উঠতো না (উচ্চ বিত্তদের কাছে এটা কোন বড় বিষয় নয়। আমি কি বুঝাতে চেয়েছি আশাকরি তা বুঝতে পেরেছেন)। অথচ, তাকে অন্য দুইজন তরুনীকেই মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ধর্ষন করতে হলো। ফলাফল? হয়তো অনেক বড় শাস্তি হবে। আমি চাইবো একটা নজীরবিহীন শাস্তি যেনো তাদের দেওয়া হয়। এই কুলাঙ্গারদের বেচে থেকে কোন লাভ নেই।

বিকৃত রুচি মানুষকে কতটা নিচে নামিয়ে দেয় তা একবার ভাবতে শিখুন। নিজের জীবনকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে না পারলেই আপনার মাঝে অসভ্য ও বিকৃত রুচির জন্ম নিবে। আল্লাহ আপনাদের সবাইকে ও আমাকে এইসব বিকৃত রুচি থেকে বাচিয়ে রাখুক। আমীন।

সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ!!

বাংলাদেশের নারীরা কতটা নিরাপদ?

Now Reading
বাংলাদেশের নারীরা কতটা নিরাপদ?

অনেক মেয়ের মুখ থেকেই এমন শুনেছিঃ

  • মেয়ে হয়ে জন্মানোটাই পাপ!
  • কেন যে মেয়ে হয়ে দুনিয়াতে এলাম!
  • কেন যে আল্লাহ আমাকে মেয়ে করে দুনিয়াতে পাঠালেন!
  • আমার যেন মেয়ে সন্তান না হয়!

এরকম কথা আপনিও কোন না কোন মেয়ের মুখ থেকে শুনে থাকতে পারেন। এগুলো বুকের ভেতর জমে থাকা কষ্টের কথা, আর্তনাদের মত ঠিক। যে কষ্টের ব্যাখ্যা একজন পুরুষের পক্ষে দেয়া কখনোই সম্ভব নয়।

প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশে মেয়েরা সত্যিই কতটা নিরাপদ?

এমন প্রশ্নে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের পুরুষ পরিচালিত নারীবাদী সংস্থাগুলো হয়তো ঠিকই বলে উঠবে, হ্যাঁ, আমাদের দেশের মেয়েরা সুরক্ষিত! অথচ, পত্রপত্রিকা কিংবা সংবাদ মাধ্যমে এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখতে পাই। পত্রিকা বা টেলিভিশন খুললেই দেখিঃ বাল্যবিবাহ, যৌতুক, এসিড নিক্ষেপ, ইভটিজিং, ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন সহ নানাবিধ খবর।

তবে এতকিছুর ভিড়ে, বর্তমান সময়ে যেটি সবচাইতে নিয়মিত খবর হয়ে দাঁড়িয়েছে তা হলো ধর্ষণ। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশেও যেন এটি একটি মহামারী হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সরকার বা প্রশাসন কতটা কার্যকর এক্ষেত্রে?

যে দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় প্রধান নেতা নারী হওয়া স্বত্তেও প্রতিদিন আমাদেরকে এমন খবর দেখতে হয়, সে দেশের নারীরা কতটা অসহায়, তা একবার সুস্থ মাথায় চিন্তা করলেই বোঝা যায়। প্রশাসন পর্যায়ে আসার আগেই এ খবর ধামাচাপা পড়ে যায় কোন না কোন এক পর্যায়ে গিয়ে! কিংবা প্রশাসনও অনেক ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখায় না। ফলে ঠিক যেমন চলছে, তেমনটারই পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে আর ফাকঁতলে অপরাধীরা মনের আনন্দে আরো বেশি অপরাধ করার সাহস দেখায়।

আইনের লোকজনের কথা বলছেন? তারা কি করছে?

তারা থানায় আর অফিসে বসে আঙ্গুল চুষছেন। আইনের রক্ষকই যেখানে ভক্ষক, তখন তো আর এই প্রশ্নের জবাব থাকেনা তাইনা? এইতো সেদিনও- ২৫ এপ্রিল ২০১৭ তে বিবিসি বাংলায় নিউজ এসেছে, “ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এক নারী কনস্টেবল ডায়েরিতে লিখে গেলেন আত্মহত্যার কারণ” ( লিংকঃ http://www.bbc.com/bengali/39702056 )

এছাড়াও ২০১৫ সালেও এমন একটা খবর এসেছিলঃ (আপনাদেরও মনে পড়তে পারে)  চার বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে খিলগাঁও থানার প্রাক্তন এএসআই কলিমুর তার প্রাক্তন স্ত্রীকে (নারী কনষ্টেবল) একটি বাসায় নিয়ে গণধর্ষণ করেন। এটি নিয়ে তখন বেশ লেখালেখি হয়েছিল।

আর সময়ের সবচাইতে বড় খবর হলোঃ বনানীতে নিজের বন্ধুদের দ্বারা দুই শিক্ষার্থীর ধর্ষণ হবার ঘটনা। এটি নিয়ে নতুন কিছু বলতে চাইনা। এটি বর্তমানের চাঞ্চল্যকর খবর। তবে এটুকু বলতে চাই, দুই বছর ধরে যে মানুষের সাথে বন্ধুত্ব, সেও কিনা এমন করতে পারলো? বন্ধুত্বের স্থান তাহলে কোথায় নামিয়ে ফেলা হচ্ছে ভেবে দেখেছেন?

আমাদের বিবেকবোধের এতটাই অবনতি হয়েছে যে, আমরা যে কি, মানুষ নাকি অমানুষ বা জানোয়ার- আমাদের পরিচয়ই আমরা ভুলে গেছি!

ইভটিজিং, সেও তো দৈনন্দিন খবর। সত্যি কথা, আমার বোন ক্লাস নাইনে পড়ে। আমার বাবা মা কে সবসময় তার সাথে সাথে থাকতে হয়। কারণ? তার স্কুলের পাশে বখাটের উৎপাত! আমার বোনকে একা পেলে কেউ যে কোনদিন ওড়না ধরে টান দেবেনা কে এই গ্যারান্টি দিবে? আমার সমাজ? আমার সরকার? নাহ, কেউ না। আমি জানি, আমার দেশে নারীর নিরাপত্তা বলে এখন আর কিছুই নেই।

বাংলাদেশ আর বাল্যবিবাহ- যেন একই সুতোয় গাঁথা । মেয়ের বয়স ১১-১২ হতে না হতেই বিয়ে দেবার জন্য তোড়জোড় লেগে যায়। একটা অশিক্ষিত-কুশিক্ষিত সমাজে এখনো এটি খুব বেশি বিরাজমান। যখন ইচ্ছার বিরুদ্ধে একটা মেয়েকে বিয়ের পিড়িঁতে বসতে হয়, তখন সে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কেন বলবেনা- মেয়ে হয়ে জন্মানোটাই বুঝি পাপ ছিল?

আচ্ছা , একটা মেয়ের বিয়ে দেয়াটা কি এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ? তাই যদি হয়েও থাকে, তবে তার তো একটা বয়স আছে। আর বিয়ে কিংবা যেকোন ক্ষেত্রে নারীর মতমতের কি কোন প্রয়োজন নেই? একটা কিশোরীর বিয়ে দেয়া হলে সে কতখানি শারীরিক-মানসিক ধকল সামলাতে পারে?

ওহ! আরেকটা ব্যপার বলতে তো ভুলেই যাচ্ছিলাম, যৌতুক । যা কিনা একটি সামাজিক ব্যাধি নামে পরিচিত। যেখানে অশিক্ষিত-মূর্খ কিংবা কুশিক্ষিতের দোষ দিলে তা হয়ে যাবে একতরফা বিচার। বরং সুশিক্ষিত নামের এক শ্রেনীর কুলাঙ্গার অমানুষেরা এটাকে ট্রাডিশান কিংবা কালচারে পরিণত করে ফেলেছে। মানুষ অনুকরণপ্রিয়। তাই এই শ্রেণীর মানুষের দেখাদেখি তাদের চারপাশের মানুষগুলোও পাল্লা দিয়ে যৌতুক প্রথার সম্প্রসারণ ঘটিয়ে চলেছে।

আরো কত কিছু বলার আছে। লিখতে গেলে ঠিক শেষ করা যাবেনা হয়তো। বাসের ভেতর শরীরে হাত দেয়া, বাস থেকে নামা বা ওঠার সময় এমনকি পরিবারের ভেতরেই অসংখ্য নারী প্রতিদিন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। মোটামুটি সবাই মুখ বুজেঁ সহ্য করে যায়। কেউ আত্নহত্যার মত পথ বেছে নেয়। খুব কম নারীই আছে সাহস করে প্রতিবাদ করে। নারীর প্রতি এই অসম্মান, নির্যাতন কবে ,কিভাবে বন্ধ হবে? আমি মনে করি, নারীকে প্রতিবাদী হতে হবে। সময় এসেছে প্রতিবাদ করার, রাস্তায় ফেলে কোমরে শাড়ির আচঁল কিংবা ওড়না বেধেঁ নির্যাতনকারীকে আমজনতার সামনে ঝাটাপেটা করার। সময় এসেছে নারীর সুশিক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর।

তবে এতকিছুর পরেও, আপনাদের কাছে সর্বশেষে একটি প্রশ্ন রেখে যাচ্ছি,

এ সমাজ কি কখনোই নারীর মূল্যায়ন করতে শিখবেনা? নারীকে তার প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে জানবেনা?

হায়রে অভাগা জাতি! মায়ের জাতটাকে সম্মান করতে শিখলিনা!

বাংলাদেশের আন্দোলন শুধু মাত্র ফেসবুকে

Now Reading
বাংলাদেশের আন্দোলন শুধু মাত্র ফেসবুকে

আমাদের দেশে একটি কথা আছে  যা ঘটে তাই রটে

আসলে বাংলাদেশ এখন এমন হয়ে গেছে যে আগে  অন্যায়কারীদের  সাজা দেওয়া জন্য রাজপথে আন্দোলন করতো এখন ফেসবুকে করে । সরকারের মন চাইলে শুনে না হলে শুনে না কানে তেল দিয়ে ঘুমায় । কিছু দিন ধরে ফেসবুক গরম হয়ে আছে । আপন জুয়েলার্স মালিকের ছেলে মেয়েকে ধর্ষণ করেছে । তাই নিয়ে সবার মাথা ব্যথা ওকে আমি কথা কথা মেনে নিলাম মাথা ব্যথা হওয়া কথাই এটা । কিন্তু তখন কই ছিলেন যখন ১০ বছরের একটা মেয়েকে ধর্ষণ করা হয় কিন্তু বিচার পায়নি বলে বাবা মেয়ে ট্রেনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে কই তখন তো কেউ কিছু বলে নাই ।

আমাদের দেশের মিডিয়া এই গুলো হলো ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা । অন্য সব দেশে কি হয় মিডিয়া খবর দেখায় জনগন জানে তারপর আন্দোলন  হয় । আর আমাদের দেশে ফেসবুক সব আন্দোলন  করে তারপর মিডিয়া খবর পায় ।তারপর তারা চিন্তা করে দেখাবো …….?

নাকি না দেখালেও চলবে । ফেসবুকে কি আন্দোলন  হয় আসলে আমার মনে হয় না ।এটা কোন আন্দলোনের তালিকায় পড়ে কারন আমরা এর আগেয় দেখেছি ,তনু হত্যা  , সাগর   রুনি হত্যা আমরা আন্দলোন করেছি কিন্তু কি হয়েছে কিছুই হয় নাই । কোন বিচায় হয় নাই হবে কিনা আল্লাহ ভাল জানে ।

বিচার কেমন হতে হবে ………?

এমন বিচার হতে হবে যাতে করে জীবনে কেউ ধর্ষনের মতো কাজ করতে না পারে । ফাঁসি দিয়ে দিলে ২ সেকেন্ডে তার জীবন শেষ সে কি কষ্টটা বুঝবে ও মেয়েটা যে ভাবে সারা জীবন কষ্ট পাবে ।মরতে গিয়েও মরতে পারবে না । আমর মতে এমন সাজা হওয়া দরকার যাতে ঔ ধর্ষন করা লোক মরে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করবে কিন্তু তাকে মারা হবে না । তার হাত পা কেটে নিতে হবে ঠিক যেমন মেয়েটার হাত পা থাকা শর্তেও বাসা থেকে বাহির হতে পারে না । তার লিঙ্গ কেটে নিতে হবে ।তারা জিহ্বা কেটে নিতে হবে । তাকে প্রতিদিন এমন খাবার দিতে হবে যাতে সে খেতে না পারে আবার না খেলে মরাও যাবে । তাকে জীবন মরণের মাঝে দাঁড় করাতে হবে । ঠিক যেমন একটা মেয়ে ধর্ষন হওয়ার পর দাড়িয়ে থাকে ।

আমাদের পুলিশের কথা না বলে পারলাম না ,মহান মানুষ তারা আমাদের অনেক উপকার করে । তারা আছে বলেই আমাদের বোনেরা এখনো ধর্ষন হয় না । যদিও তাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে তাও ধর্ষনের । কিছু বলার নেই শুধু বলতে চাই আন্দলোন কি ফেসবুকে হবে ………?

 আমি আশরাফুল আপনাদের আগাম বলছি  আপন জুয়েলার্স মালিকের ছেলে সামনের এক বছরের মধ্যে জামিনে মুক্ত হবে । এর মাঝে যে সময় ঔ কুকুর জেলে থাকবে রাজার হালে থাকবে ।আমি নিজে দেখেছি ঔছেলে নিজেই অনেক  মন্ত্রীদের সাথে পরিচয় বাবা তো আরো বড় ক্ষমতাবান লোক কেউ কিছু করতে পারবে না । ওর সাজা হবে না ।

যে বাবা তার ছেলে ধর্ষনের মামলার আসামি হয়ে ধরা পড়েছে সেই বাবা যদি বলতে পারে ছেলে বড় হয়েছে একটু মজা করতেই পারে আমিও করি।এমন বাবা ছেলে তো বংশপরম্পরার কাজ করবেই । না করলে যে বংশের নামের  ক্ষতি হবে । বোন সবার আছে কিছু কুকুরের জন্য আমরা আমাদের বোনকে বাহিরে যেতে দিবো না কেন ………? এর চেয়ে ভাল ফেসবুক বাদ দিয়ে রাস্তায় নেমে আন্দলোন করি । আজ অন্য জনের বোন কাল আপনার বোনও হতে পারে ।

আমি একজন ধর্ষিতা এই সমাজ কখনো আমাকে মেনে নিবে..?

Now Reading
আমি একজন ধর্ষিতা এই সমাজ কখনো আমাকে মেনে নিবে..?

হ্যাঁ আমি ধর্ষিতা। আমার গর্ভে এক ধর্ষকের সন্তান বড় হচ্ছে। কি হবে এই সন্তান?? আমারই মত আরেক ধর্ষিতা নাকি, আমাকে যে ধর্ষণ করেছে তার মত এক ধর্ষক?? পাড়া গাঁয়ে বসবাস আমার। সবে মাত্র সপ্তম শ্রেণীতে পা দিয়েছিলাম। কিন্তু গ্রামের মেম্বারের ছেলের জন্য আমার জীবনে কাল নেমে আসলো।মেম্বারের ছেলে উত্যক্ত করাই আমার বাবা বিচার দেয় মেম্বারের কাছে। হ্যাঁ, বিচার হয়েছিল। বিচারে বলা হয়েছিল আমার চরিত্র খারাপ, আমি মেম্বারের ছেলেকে নাচায়।

এই কথা শুনার পর বাবা আর একমাস ও অপেক্ষা করেনি। দেখতে খারাপ ছিলাম না, ছেলে পক্ষ দেখতে এসেই বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করে গেল। ছেলে ভালো, টাকা-পয়সা ভালোই রোজগার করে।কিন্তু বয়সটা একটু বেশি। খুব বেশি না,আমার বয়সের তিনগুন ছিল মাত্র। পাড়াগাঁয়ে আমাদের একমাত্র বিনোদন মাধ্যম ছিল বিটিভি। সেই সুবাদে মিনা কার্টুন দেখতাম এবং মিনার ভক্ত ও ছিলাম। মা বাবাকে অনেক বিনতি করি,আমি পড়ালেখা করতে চাই। শুনেনি কথাটা। বড়বোন বলেছিল, নিজের কপাল নিজে পুড়িয়েছিস; আরো যাইয়া মেম্বারের ছেলের সাথে প্রেম কর। হাল ছেড়ে দেয় নি তখন ও। ভেবেছিলাম হয়ত আমি বেগম রোকেয়ার স্বামীর মত একটা স্বামী পাবো। কতটা নির্বোধ আমি। আশা নিয়ে বসে আছি আমার জীবনে কোন সাখাওয়াত হোসেন আসবে। বিয়ের দিন সারা বাড়ি ঝলমল করছে।

অনেক মেহমান আর তাদের সাক্ষী রেখে বিয়েটা হয়ে গেল। গায়ে হলুদ, বিয়ে সব মিলিয়ে শরীরের উপর খুব ধকল গিয়েছিল। সব রীতি রেওয়াজ সম্পন্ন করে রাত ২ টাই আমাকে আর আমার বরকে বাসর ঘরে পাঠানো হল। ভেবেছিলাম কাপড় পাল্টে , হাতমুখ ধুয়ে ঘুমিয়ে পড়ব। আমার সেই ভাবনায় সেগুরে বালি ঢেলে দিল আমার স্বামী। কাপড় বদলে ঘরে আসতেই হামলে পড়ল আমার উপর কিছু বোঝার আগেই। কুকুরের মতো কামড়াচ্ছিল সারা গায়ে। ব্যাথায় চিৎকার করতেই লাথি দিয়েছিল। তারপর আর চিৎকার করিনি। শুধু কেঁদেছি ,নিঃশব্দে । টানা তিন ঘন্টা বিশ্রাম নিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করছিল আমায় আমার স্বামী। তিনঘন্টা পর সুখ উপভোগ করে ঘুমিয়ে পড়লেন তিনি।

দাঁড়াতে গিয়ে টের পেলাম আমি নিজের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে পারছিনা।গোপনাঙ্গ থেকে কিছু একটা গড়িয়ে পড়ল। হাত দিয়ে দেখি রক্ত। গরু জবাই করলে যেমন করে রক্ত ঝরে সেভাবেই রক্ত ঝরছিল। ভোর সাড়ে পাঁচটা তখন। কি করব,কাকে বলব বুঝতে না পেরে মেঝেতে শুয়ে পড়লাম। ঘুম ভাঙল স্বামীর লাথিতে। যদিও ইচ্ছে করে দেয় নি। সে জানত না আমি মেঝেতে শুয়েছিলাম। ব্লিডিং এর কথা শুনে সে তার ভাবীকে ডেকে রুম থেকে চলে গেল। আমি বেশি কিছু জানতাম না এসব বিষয়ে ।। বিয়ের দিন বোন কানে কানে বলেছিল স্বামী যা চাইবে তা করতে দিতে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই । গা কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসছিল। তাও গোসল করে শাশুড়ির খেদমত করতে গেলাম। গায়ে এক বিন্দু শক্তি নেই যে দাঁড়িয়ে থাকব। ঐ পশুর কাছে যেতে ইচ্ছে না করলেও যায়। ওহ পশু না তো, স্বামী তো সে আমার । রাত দিন মানে নি পশুটা। সুযোগ পেলেই যৌনাঙ্গে হাত দিতো।

আমিও কেন জানি মানতে পারছিলাম না এসব। প্রতিরাতে অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। খুশি করতে হয়েছে তাকে। এভাবে করে সপ্তাহে ৫ দিন মাসে ২০ দিন টানা ধর্ষণের পর বিয়ের তৃতীয় মাসের মাথায় আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়। গর্ভে আসে ধর্ষকের সন্তান। হয়ত সে আমার মত আরেকটা ধর্ষিতা আর না হয় আমার পশুসম স্বামীর মত আরেকটা ধর্ষক। আমার আর স্কুলে যাওয়া হয় নি। কারণ আমি আমার মত আরেকটা ঝরা ফুলের জন্ম দিতে যাচ্ছি। গর্ভবস্তায় ও আমার স্বামীকে আমার খুশি করতে হয়েছে। আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারব এতবার শারীরিক মিলনের সময় একটা দিনও আমি হাসতে পারিনি বা মন থেকে তার কাছে যায় নি। কুকুরের মতো ধর্ষণ করে, মাকে বলাতে ,মা বলেছিল স্বামীকে নারাজ করে,তার বিরুদ্ধে কটু কথা বললে জান্নাত পাব না কখন ও। আসলে আমার না জান্নাতের দরকার নেই, শুধু এই ধর্ষণ থেকে মুক্তি চাই আমি। আরেকটা ধর্ষিতা বা ধর্ষককে আমি জন্ম দিতে চাই না। ওহ হ্যাঁ বলাই তো হয়নি, ডাক্তার সাহেব বললেন এই সন্তান আমার মৃত্যুর কারণ হতে পারে। আমার শাশুড়ি এসব বাজে কথাই কান দেন নি। আমাকে কবিরাজের কাছে নিয়ে গিয়েছে। কবিরাজ তাবিজ দিয়েছে আর বলেছে কোন এলোপ্যাথিক ঔষধ খেলে কাজ হবে না তার তর্জমার। সবশেষে খুশির খবর এটাই আমি ধর্ষিতা বা ধর্ষকের মা হতে যাচ্ছি এবং আমার স্বামী এখন আর আমাকে ধর্ষণ করে না একদম। তার চাহিদা সে পতিতাপল্লীতে গিয়ে পূরণ করে আসে। সন্তান প্রসব করে যদি বেঁচে ফিরি ইনশাল্লাহ আবার ও আমি আমার স্বামীকে খুশি করতে পারব, এবং তার ও আর পতিতাপল্লীতে যেতে হবে না।

আজ পবিত্র ‘সবে বরাত’

Now Reading
আজ পবিত্র ‘সবে বরাত’

হিজরি:-১৪৪৮, ১৫ই শাবান

হিজরি বর্ষপঞ্জির শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত। মহান আল্লাহ তাআলা এ রাতে বান্দাদের জন্য তাঁর অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন। মুসলিমদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ‘সবে বরাত’। একে হাদিসের ভাষায় ‘নিসাফে শাবান’ বলে। দীর্ঘ এক বছর পর পর এই রাত পালন করা হয়। এই রাতে মুসলমানররা নামাজ, জিকির ও কোরআন শরিফ তিলাওয়াতের মাধ্যমে পালন করে।
‘সবে’  ফারসি শব্দ। যার অর্থ ‘রাত’। ‘বরাত’ আরবি এবং ফারসি দুই ভাষারই শব্দ। যার ফারসি অর্থ ‘ভাগ্য’ এবং আরবি অর্থ ‘দায়মুক্তি, আব্যাহতি’। অর্থাৎ সবে বরাত অর্থ ‘ভাগ্যের রাত’ অথবা ‘অব্যাহতির রাত’। এছাড়া কোরআনে এ রাত সম্পর্কেও বলা হয়েছে। শবে বরাতকে ‘লাইলাতুল বারাআত’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। ‘লাইলা’ আরবি শব্দ, আর ‘শব’ শব্দটি ফার্সি। দুটি শব্দের অর্থই হলো “রাত”। তাই কোরআন শরিফে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। এর এক পক্ষ পর আসে পবিত্র রমজান। ফলে একে “রমজানুল মুয়াজ্জিন” বলা হয়। আরববাসীরা এ রাতকে ‘লাইলাতুন নিসফে মিন শাবান’ বলেন। এছড়া এর আরও নাম রয়েছে, লাইলাতুল বরাত, লাইলাতুল দোয়া, ইরান ও আফগানিস্তানে নিম শা’বান, মালয় ভাষাভাষীর বলে নিসফু শা’বান,  তুর্কি ভাষাভাষীর বলে বিরাত কান্দিলি।

*হাদিসে নিসাফে শাবান বা মধ্য শাবান সম্পর্কে বলা হয়েছে। হযরত আলি (রা:) থেকে বর্নিত, নবী করিম (স:) বলেন, যখন শাবানের ১৫তম রাতের আগমন ঘটে তখন তাতে কিয়াম (ইবাদত) করো আর দিনে রোযা রাখো । নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা সূর্যাস্তের পর থেকে প্রথম আসমানে বিশেষ রহমত বর্ষন করেন, এবং ইরশাদ করেনঃ কেউ আছ কি আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কারী? তাকে আমি ক্ষমা করে দিব ! কেউ আছ কি জীবিকা প্রার্থনাকারী? তাকে আমি জীবিকা দান করব ! কেউ কি আছ মুসিবতগ্রস্ত? তাকে আমি মুক্ত প্রদান করব! কেউ এমন আছ কি! কেউ এমন আছ কি! এভাবে সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ পাক তার বান্দাদেরকে ডাকতে থাকবেন ।
[সুনানে ইবনে মাযাহ, ২য় খন্ড, পৃঃ ১৬০, হাদিস নং-১৩৮৮]

*কোরআন শরিফের ২৫ তম পারা ও ৪৪ নং সূরা “ দুখানের ”শুরুতে যে পাঁচটি আয়াত রয়েছে সে আয়াতগুলোই সবে বরাত বিষয়ক আলোচনা রয়েছে।

حم وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ ۚ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ أَمْرًا مِّنْ عِندِنَا ۚ إِنَّا كُنَّا مُرْسِلِينَ

অর্থ:-
>হা মীম।
>শপথ প্রকাশ্য কিতাবের।
>নিশ্চয় আমি কুরআন নাযিল করেছি এক বরকতময় >রাতে। নিশ্চয় আমি সতর্ককারী।
>এ রাতে প্রত্যেক জ্ঞানপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়।
>আমার পক্ষ থেকে আদেশক্রমে আমিই প্রেরণকারী।

( সূরা দুখানঃ ১-৫ )

আয়াতে উল্লেখিত ليلة مباركة লাইলাতুম মুবারাকাহ(বরকতময় রাত) এর কথা বলা হয়েছে।