টপ টেন
Heat Index
Try a different filter

Boss 2 : BACK TO RULE : বস যখন সত্যিই বস

Now Reading
Boss 2 : BACK TO RULE : বস যখন সত্যিই বস

বস-২ ছবিটি  ভারত বাংলাদেশর যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র। এটির গল্প সম্পূর্ণ মৌলিক, যার লেখক জিৎ নিজেই।এটি একটি ক্রাইম থ্রিলার ছবি। এটি ২০১৩ সালে মুক্তি প্রাপ্ত বস ছবির দ্বিতীয় অংশ। ছবিতে অভিনয় করেছেন জিৎ , শুভশ্রী গাঙ্গুলী, নুসরাত ফারিয়া মাজহার, ইন্দ্রনীল সেঙ্গুপ্ত , অমিত হাসানসহ আরো অনেকে। এই ছবিটি নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হলেও আমরা সে ব্যাপারে না কথা বলি। আমরা দর্শক হিসেবে ছবিটিকে উপভোগ করব। বস ২ ছবিটি নিয়ে কথা বলতে গেলে যে বিষয়গুলো চলে আসে তার মধ্যে সবচেয়ে প্রশনংশনীয় হলো জিতে অভিনয়।

জিতের অবদান : পুরো ছবিতে জিৎ এর অভিনয় ই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। বস ২ ছবিতে বস এর চরিত্রে বস এর মতোই সে অভিনয় করেছে।  তার অভিনয়ের মাধ্যমে সে অ্যাকশন, স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য আর ভালোবাসার স্পর্শ দেয় দর্শকদের।পুরো  ছবিতে নিজের এটিটিউড, ব্যক্তিত্ব, ওজন বজায় রেখে অভিনয় করেছেন।জিৎ এমনিতেও ইন্ডস্ট্রিতে অনেক সিনিয়র এবং অভিজ্ঞ। তার অভিনয় দর্শকদের কে আকর্ষণ করার মতোই ছিলো।জিৎ এর  ফাইটিং স্কিল অনেক ভালো ছিল। মারামারির দৃশ্যগুলো উনেক চমকপ্রদ।গাড়ি চালিয়েই হোক, কিংবা বাইক সওয়ারি হয়ে। ‘বস’ জিৎ অ্যাকশনের ঝাঁজে এবার অ্যালান আমিনের হাত ধরে দর্শকের মুখ থেকে উরিব্বাস, আরে ব্বাবা এবং হাততালি দুটোই প্রতি মিনিটে কুড়িয়ে নিয়েছেন। পুরো ছবির প্রায় প্রতিটি ফ্রেমেই সূর্য উপস্থিত, ঠিক পৃথিবীর মতোই। বেশিরভাগ দৃশ্যগুলো ধীর করে দেখানো হয়েছে ব্যাপারটা একটু অন্য রকম লাগছে । বলতে গেলে ভালোই লেগেছে । ইতোমধ্যে বলেছি কাহিনীর লেখক জিৎ নিজেই এবং এই ছবির মধ্য দিয়ে জিৎ তার জিতজ পিভিটি লিমিটেড এর যাত্রা শুরু করে ।

অভ্যন্তরীন বিষয়াবলী ঃ ছবির সিনেমাটোগ্রাফি অনেক ভালো লেগেছে বলতে গেলে নিখূত। ডিরেক্টর ছবির দৃশ্যগুলোকে সঠিক ভাবেই উপস্থাপন করেছেন। ডিরেক্টর হিশেবে ছিলেন বাবা ইয়াদাভ। সে অনেক দক্ষ একজন ডিরেক্টর সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। আল্লাহ মেহেরবান গানটিকে ইয়ারা মেহের বান এ রুপান্তর করা হয়েছে। ছবির এডিটিং সম্প্রর্কে যদি বলা হয় তাহলে বলব এখন কার বাংলা ছবিগুলো যেগুলো জাজ মাল্টিমিডীয়া লেবেল থেকে বের হচ্ছে সেগুলোর এডিটিং নিয়ে সমালোচনা করার কিছু নেই। ছবিতে মূল নায়িকা হিশেবে শুভস্রী ছিলেন । যদিও নায়িকার চরিত্রের প্লটগুলো তেমন গূরত্বপূর্ণ ছিলো না তারপর ও ভালোই করেছে শুভস্রী। তবে যদি এই ছবির সবচেয়ে দূর্বল দিকটার কথা যদি বলতেই হয় তবে এই নায়িকা চরিত্রের কথাই বলব। ছবিতে বাংলাদেশের দৃশ্যগুলোর মান অনেক ভালো ছিলো। বাংলাদেশকে অনেক সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয়েছে। সিএঞ্জি এর একটি দৃশ্য থাকে।

যে কারণে দেখবেন বস ২ ঃ
১। বস ২ আপনাকে অণুপ্রেরণা দিবে আপনার নিজের কর্মস্থানে সবচেয়ে ভালো করার জন্য।
২।মানুষের জন্য কিছু করার অনুপ্রেরণা পাবেন।
৩।ফাইটিং এ পাবেন অসাধারণ কিছু দৃশ্য।
৪। বাংলা ছবির উন্নতি দেখুন
৫।বস ২ এর ডায়ালগ গুলো ছিলো রোমাঞ্চকর। সেইরকম উপভোগ করার মতো।

বস ২ এর ট্রেইলার যারা দেখে যা ভাবছেন আপনার ধারণাকে সম্পূর্ণ ঘুরে যেতে পারে ছবিটি দেখলে। অনেক বড় রকমের মোড় রয়েছে কাহিনীতে। আপনি প্রথম দিকে ছবির যা ভাববেন সেই ধারণাকেও ছবির শেষে পাল্টে দিবে। ছবিটি শুধু আপনার ধারণাকে পাল্টেই ক্ষান্ত হবে না এটি আপনার ভিতরের সূর্যকেও জাগিয়ে তুলবে।

বস ২ এর কিছু ডায়ালগ ঃ বেশির ভাগ ডায়ালগ ই ট্রেইলার এ আছে। যেমন – ‘আমি একবার বলি আর একশ বার বলে মানে টা এক ই ,  ‘ কালকে যখন সূর্য উঠবে তোমার পাশে নতুন সূর্য কে পাবে’ , ‘ তুই যদি শনি হস আমি শনির বাপ সূর্য’ , ‘স্বপ্ন পূরণ করাটা লক্ষ্য নয় লক্ষ পূরণ করাটা স্বপ্ন হওয়া  উচিত।’ এরকম অনেক ডায়ালগ দিয়ে হলের দর্শকদের রোমাঞ্চিত করেছেন জিৎ। 

বস ২ এর গান ট্র্যাক ঃ বস ২ এর মোট ৩ টি গান বের হয়েছে জনপ্রিয় ভিডিও সাইট ইউটিউব এ । সেগুলো হলো উরেছে মন, বস ২ টাইটেল গান এবং ইয়ারা মেহেরবান। ইয়ারা মেহেরবান প্রথমে আল্লাহ মেহেরবান নামে প্রকাশিত হয় পরে অনেক সমালোচনার পর গানের শিরোনাম ও গানেও কিছু পরিবর্তন করে ইয়ারা মেহেরবান ইউটিউব এ প্রকাশ করা হয়। উএছে মন গানটির অনেক প্রশংসা শোনা যায় লোকমুখে। গানটি বিখ্যাত গায়ক অরিজিত সিং এর গাওয়া।অসম্ভব রোমান্টিক গানটিতে সাগরের মুগ্ধ করা দৃশ্যের সাথে শুভস্রী ও জিতকে দেখা যায়।

বস ২  ছবিটির নির্মাণ ব্যয় ৬.৫০ কোটি প্রায় এবং প্রথম দশ দিনে এটি ২.১৫ কোটি টাকা আয় করেছে। আশা করা যাচ্ছে বস ২ ভালোই ব্যবসা করবে। প্রথম দিনে এর আয় ছিলো সাড়ে ৩৭ লক্ষ টাকা।

 

যাদের থ্রিলার পছন্দ তাদের জন্য একদম সঠিক ছবি এটি।আশা করি সবাই হলে গিয়ে বাংলা ছবিগুলো দেখার চেষ্টা করবেন। একটা সময় ছিলো বাংলা চলচ্চিত্রের যখন নতুন ছবি রিলিজ পেলে হল কর্তৃপক্ষ হলে দর্শকদের জায়গা দিতে পারতেন না। টিকেট কাউন্টার এ ভিড় জমে যেত , রাস্তায় চলে আসত টিকিট কাটার লাইন। কিন্তু মাঝে আমাদের এই সোনালী সময় মাঝে ছিল না  কিন্তু আমরা আবার সেই সোনালী আমল ফিরে পেতে চলেছি। এখন আবার ছবি হলের সামনে  ভিড় দেখছি। মানুষ টিকেট কেটে ছবি দেখছে। আসুন আমরাও হলে গিয়ে ছবি দেখি এবং বাংলা চলচ্চিত্রকে বাচিয়ে রাখি।

নবাব শাকিব খান

Now Reading
নবাব শাকিব খান

nobab.jpg

ঈদের আনন্দ দিগুণ করতে যেই কাজটা সবচেয়ে বেশী করা হয়, তা হল এক কোথাও ঘুরতে যাওয়া অথবা দুই হলে বসে ছবি দেখা, সেটা যদি বাংলা ছবি হয়, তাহলেতো কথাই নেই। এবারের ঈদে মুক্তি প্রাপ্ত তিনটি ছবির মধ্যে যেই ছবিটা মুক্তির অনেক আগে থেকেই আমার মন কেরে নিয়েছিল, তা হল সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত ছবি “নবাব”। গত বছর ঈদে মুক্তি পায় শাকিব খানের আরেকটি যৌথ প্রযোজনার ছবি শিকারি। সেই বছরের মধ্যে শিকারি ছিল ব্যবসাসফল। শিকারি ছবি দেখেই মনে হয়েছিল যে নবাব ছবিটাও সেরকম হিট কিছুই হবে। তাই নবাব ছবিটা হলে বসে দেখার লোভ আমি সামলাতে পারলাম না। যেই ভাবা সেই কাজ।

ঈদের পরদিন বিকালেই সিনেমা হলে চলে গেলাম (সংগত কারণেই সিনেমা হলের নাম বলতে চাইনা)। উদ্দেশ্য নবাব ছবিটি দেখবো। কিন্তু হলে পৌঁছেই হতাশ হতে হল। হলের সামনে বিরাট লাইন। কোন মতেই টিকিট কেটে হলে যাওয়া সম্ভব নয়। আমরা টিকিট কাটতে কাটতে হাউজফুল হয়ে যাবে নিশ্চিত। কি আর করা, ব্ল্যাকার এর খোঁজ করতে লাগলাম এবং টিকিট পেয়েও গেলাম। (আশা করি ব্ল্যাকার এর কাছ থেকে টিকিট নেয়াটা সবাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন)।

অজস্র ভালো ছবির নির্মাতা জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে নির্মিত নবাব। ছবিটি দেশের ১২৪টি হলে মুক্তি পেয়েছে। যৌথ প্রযোজনার এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশের আব্দুল আজিজ এবং কলকাতার জয়দেব মুখার্জী। ছবিটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাকিব খান,শুভশ্রী,অমিত হাসান,রজতাভ দত্ত,সব্যসাচী চক্রবর্তী,খরাজ মুখার্জিসহ অনেকে।

ছবির কাহিনীটা আপাতত নাই বললাম, কারণ ছবি যেহেতু এখনো হলে চলতেছে, আতি সবাইকে ছবিটি হলে দেখার আমন্ত্রণ জানাবো।

শাকিব খান অভিনীত যৌথ প্রযোজনার ছবি নবাবও দক্ষিন ভারতের অ্যাকশন থ্রিলারের ফর্মুলায় সস্তা ভারতীয় বাংলা ছবি। ছবিটি মুক্তির আগেই অবশ্য এর কাহিনী নিয়ে বেশ আলোচনা সমালোচনা হয়েছে যে কাহিনী অন্যান্য কিছু ছবি থেকে কপি করা হয়েছে। যেখানে বলিউড কিন্তু তাদের বেশিরভাগ ছবি হলিউড কিংবা কোরিয়ান মুভি কপি করে বানায় এবং আমরা সেগুলো দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ি। হলিউডের অনেক ছবিও অন্যান্য বিভিন্ন দেশের ছবির অবলম্বনে নির্মিত হয়।

সেখানে আমাদের দেশের ছবি যদি নির্মাণের দিক থেকে ভালো হয় তবে কেন দেখবো না হলে গিয়ে? হোক সেটা দুই চারটা ছবি থেকে কপি করা কিন্তু পরিপূর্ণ বিনোদন তো পাচ্ছি আমরা। আবার যৌথ প্রযোজনা নিয়েও অনেকে অনেক কথা বলতেছেন। বলা হচ্ছে যে যৌথ প্রযোজনার নামে প্রতারণা করা হচ্ছে। এখন যারা এই যৌথ প্রযোজনার ছবি নিয়ে কথা বলছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলব,আপনারা নিজেরা কেন মান সম্পন্ন ছবি বানাচ্ছেন না দেশে? আপনারা যদি এরকম মনসম্পন্ন ভালো ছবি বানান, তাহলে নিশ্চয় দর্শক আপনাদের ছবি দেখবে। দেশের দর্শক আর যৌথ প্রযোজনার ছবি দেখবে না তাহলে। পরিপূর্ণ দেশীয় ছবিই দেখবে। তবে মনে রাখবেন, এখন বিশ্বায়নের যুগ। মানুষ ঘরে বসেই পুরো দুনিয়া ঘুরে আসতে পারে, তাই বিনোদনের মাধ্যম চলচ্চিত্রকেও কোন বাঁধনে বেঁধে রাখবেন না। আর প্রতিযোগিতা থাকবেই, আপনারাও দেখিয়ে দিন, আপনারাও কোন অংশে কম না।

যাই হোক,আমরা আবার নবাবে ফিরে আসি। অভিনয়ের দিক থেকে সবার পারফর্মেন্স ছিল অসাধারণ। কি কেন্দ্রীয় চরিত্র,কি পার্শ্ব চরিত্র সবার অভিনয় শৈলী চোখে পড়ার মত। তবে সবচেয়ে বেশী নজর কেড়েছে আমাদের সুপারস্টার নায়ক শাকিব খানের রাজীব চৌধুরী ওরফে নবাব নামের কেন্দ্রীয় চরিত্রটি। শাকিব খানকে দেখতে বেশ সুদর্শন লেগেছে। স্লিম, হিট এন্ড ফিট; একেবারেই বলিউডের নায়কদের মতো। ছবিতে তার অভিনয় দেখেই বোঝা যায় যে চরিত্রটির জন্য বেশ পরিশ্রম করেছেন তিনি, যা ছিল বেশ সাবলীল এবং উপভোগ্য। তার সংলাপ ডেলিভারি,নাচ,অ্যাকশন সব মিলিয়ে যেন একটি যথাযথ প্যাকেজ। যদিও নবাব নামটি ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছে মাত্র কয়েকবার তাই শুধু নায়িকার মুখে । পুরো ছবিতে শাকিব খানের নাম ছিল রাজিব চৌধুরী সাহেব । তবু ছবির নাম নবাব দিল কোন যুক্তিতে সেইটাও মাথার উপর দিয়ে গেল ।

ক্রাইম রিপোর্টারের চরিত্রে শুভশ্রীও ভালো করেছেন। তবে তার চরিত্রের ব্যাপ্তি আরেকটু হলে ভালো হত। মুখ্যমন্ত্রীর চরিত্রে অপরাজিতা এবং সব সময় কমেডি চরিত্রে অভিনয় করা খরাজের ভিলেনের চরিত্রটি ছিল আকাঙ্ক্ষার চেয়েও অনেক বেশী ভালো।

ছবিতে মোট তিনটি গান রয়েছে এবং তিনটি গানেই তিন ধরনের স্বাদ পাওয়া যায়। ‘যাবো নিয়ে’ গানটিতে পাওয়া যাবে সফট মেলোডি,‘ষোলআনা’ গানে রয়েছে মশলাদার বিট আবার ‘ও ডিজে’ গানে পাওয়া যাবে পরিপূর্ণ বাংলা আইটেম গানের আমেজ। গানের সাথে সাথে ভালো ছিল ছবির আবহ সংগীতও।

ছবির শিল্প নির্দেশনা,ঝকঝকে ক্যামেরার কাজ,পোশাক পরিচ্ছদ,মেকআপ সব কিছু মিলিয়ে যথাযথ মনে হয়েছে। ছবির প্রতি পদে পদে যে টুইস্ট সেটাও অনেক উপভোগ্য, কেউ কেউ বলতে পারেন এ আর নতুন কি? কোথাও কোথাও কাহিনীর প্যাঁচে একটু আধটু বিরক্তি ধরলেও সব মিলিয়ে নবাব একটি পয়সা উসুল ছবি।

তবে, আর সব যৌথ প্রযোজনার ছবির মত এই ছবিতেও বাংলাদেশকে খুঁজতে গেলে আপনাকে কষ্ট করতে হবে। এটা বাংলাদেশী না কলকাতার ছবি তা আপনার চোখেই ধরা পরে যাবে।

আসলে ভুল ধরতে গেলে সবকিছুতেই হাজারটা ভুল ধরা যাবে। তাই ভুলের ভুলের দিকে না তাকিয়ে অন্তত বিনোদনের জন্যে হলেও সবাইকে আমি নবাব ছবিটি হলে গিয়ে দেখার আহবান জানাব। জয় হোক বাংলা ছবির। বাংলা ছবি হোক সুস্থ বিনোদনের অন্যতম হাতিয়ার। তবে একক প্রযোজনা হোক আর যৌথ প্রযোজনা হোক, আমরা যেন আমাদের দেশকে সহজে খুঁজে পেতে পারি এরকম ছবি নির্মাণ করার দাবি থাকল।

হঠাত বৃষ্টি – রিভিউ

Now Reading
হঠাত বৃষ্টি – রিভিউ

ছোটবেলায় যে পরিমাণ বাংলা সিনেমা দেখা হতো এখন বেশি আধুনিকতার জন্য আর সেই দিনগুলো নেই। হিন্দি আর ইংলিশ এর ভীড়ে সব হারিয়ে গেছে। তাছাড়া এখনকার পরিচালক আর অভিনেতাদের জন্য বাংলা সিনেমা দেখতে ইচ্ছাটাও করে না।  তারপরও শৈশবের দেখা সুন্দর সুন্দর সিনেমাগুলো এখনও দেখলে অনেক ভাল লাগে। মুভি নিয়ে লেখার কথা ভাবতেই আমার একটা পছন্দের মুভির কথা মাথায় আসলো। ১৯৯৮ সালের দিকে আমাদের দেশের এই দিকে খুব একটা ভাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতো না সিনেমা বানানোর জন্য। সেই সময়ে ভারত বাংলাদেশ যৌথভাবে নির্মীত এই সিনেমা পলকেই অনেক দর্শকের নজর কেড়েছে। ফেরদৌস প্রিয়াংকা অভিনীত এই সিনেমার নাম “হঠাত বৃষ্টি”। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন বসু চ্যাটার্জী। হঠাত বৃষ্টি সিনেমাটি দুই দেশের যৌথ প্রযোজনা হওয়াতে সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত দর্শক প্রিয় হয়ে আছে। যদিও মুভিটি ১৯৯৬ সালের সুপারহিট তামিল মুভি “কাঢাল কট্টাই” এর রিমেক। তারপরও কাহিনী, সংলাপ, অভিনয় আর সংগীত পরিচালনার দিক দিয়ে সিনেমাটি লাখো দর্শকের মন জয় করেছে। অসাধারণ কাহিনী আর অভিনয় দিয়ে সিনেমাটিকে সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সবার সামনে।

বিশেষ চরিত্রে যারা ছিলেনঃ

ফেরদৌস – অজীত চৌধুরী

প্রিয়াংকা – দীপা নন্দী

মানোজ মিত্র – কুন্ডু সিং

 

সিনেমার কাহিনীর কিছুটা সার সংক্ষেপ আমি তুলে ধরার চেষ্টা করলাম

দীপা তার বোন আর দুলাভাই এর সাথে তারামাটি তে থাকে। আত্বীয় স্বজন দের কাছে একটা বোঝা হিসেবে মনে করে সে নিজেকে। এই বোঝা কমাতে সে কলকাতা শহরে যায় নিজের জন্য একটা চাকরী খুজতে। এতে তার বোন আর দুলাভাই রাজী ছিল না। তারপরও সে জেদ ধরে যায়। কলকাতা তে যেয়ে চাকরীর ইন্টারভিউ দেওয়া কালীন সময়ে দীপা কিছুদিন তার বান্ধবী অরূনার বাড়িতে থাকে। সপ্তাহখানেক অনেক চাকরীর ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গাতে বিভিন্ন কোম্পানীতে ঘুরে বেড়ায় দীপা। অনেক ভাল যোগ্যতা আর ভালভাবে ইন্টারভিউ দিয়েও সে কোন চাকরী তে সিলেক্ট হতে পারে না। চাকরী না পেয়ে ব্যার্থ দীপা আবার খালি হাতে তার বোনের বাড়ি তারামাটি তে ফিরে যায়। ফেরার পথে ট্রেনে ওঠার পর ট্রেনের জানালা দিয়ে দীপার ব্যাগ টা ছিনতাই হয়ে যায়, যার মধ্যে তার টাকা পয়সা টিকিট আর সব সার্টিফিকেট ছিল। দীপা সব হারিয়ে ফেলার পর তাকে অন্য এক জন প্যাসেঞ্জার সাহায্য করায় সে বাড়ি ফিরে যেতে পারে। অজিত সেই স্টেশনে জয়সলমার যাওয়ার জন্য ট্রেনে উঠে আর ওই ছিনতাইকারী দীপার ব্যাগ থেকে টাকা বের করে নিয়ে ব্যাগ টা ছুড়ে ফেললে ব্যাগ টা অজীত এর কাছে আসে। অজীত ব্যাগ টা নিয়ে রেখে দেয় আর ভিতরে কাগজপত্র দেখে তা ফিরিয়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করে। জয়সলমার পৌঁছানোর পর অজিতের পরিচয় হয় কুন্ডু সিং এর সাথে। কুন্ডু সিং এখানে আসা লোকজন এর সার্ভিসের কাজ করে। অজিত দিপাকে তার ব্যাগ ফেরত পাঠায় আর দীপা খুশি হয়ে ফিরতি চিঠি পাঠায়। এভাবে তাদের চিঠি আদান প্রদান চলতে থাকে আর তাদের মধ্যে ভালবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়। পরবর্তীতে গীতা অজিতের জন্য একটা হলুদ টি শার্ট কিনে পাঠায়। গীতা আবার ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য কলকাতা যায় আর অজিত কলকাতা ফিরে আসে। স্টেশনে গীতা আর অজিত একে অপরের সাথে ধাক্কা খায় কিন্তু একে অপরকে চিনতে পারে না। অজিতের কলকাতা তে যে কোম্পানী তে চাকরি হয় সেই কোম্পানীর এম ডির মেয়ে অজিত কে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। অজিত তাকে সরাসরি না করে দেয় এবং কোম্পানী ছেড়ে দেয়। পরে বাধ্য হয়ে ট্যাক্সি চালানো শুরু করে। গীতা আবার তারামাটি তে ফিরে গেলে তার জন্য ঠিক করা ছেলের সাথে তাকে দেখা করতে পাঠায়। গীতা তাকে অজিতের কথা বলে দেয় এবং আবার কলকাতা যায় অজিত কে খুজতে। সেখানেই হঠাত বৃষ্টি শুরু হয়, আর গীতা অজিতের ট্যাক্সিতেই বিভিন্ন জায়গাতে ঘুরে বেড়ায় অজিতকেই খুজতে। কিন্তু অজিত তাকে জিজ্ঞেস করলে সে অজিতকে কোন কথা বলে না। এভাবে অনেক জায়গাতে খোজাখুজির পর না পেয়ে যখন ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দীপা। দীপার বান্ধবি অজিতের বন্ধুর ট্যাক্সিতে করে বাড়ি তে যাওয়ার সময় তারা দুজন জানতে পারে যে তাদের বন্ধু আর বান্ধবি একে অন্যকে ভালবাসে। তার পর তারা স্টেশনে যেয়ে দীপাকে আটকানোর সিদ্ধান্ত নেয়। অজিত দীপাকে ট্রেনে তুলে দিয়ে তার গায়ে পরা চাদর টা খোলে যে চাদরের নিচে দীপার দেওয়া টি শার্ট টা ছিল। তারপর ট্রেনের ভিতর থেকে দীপা অজিতকে চিনতে পেরে নেমে আসে আর নিজের পরিচয় দেয়। এভাবেই একদম শেষ পর্যায়ে এসে তাদের দেখা হয় বৃষ্টির মধ্যে।

আমার কাছে সিনেমার দৃশ্যপট থেকে শুরু করে সবকিছুই অনেক ভাল লেগেছে। এই সিনেমাতে তো এখনকার মত আইটেম গান নাই, তাই এটা পরিবারের সাথেই দেখা যাবে। সিনেমার বেশিরভাগ গানই শিল্পী নোচিকেতার কন্ঠে। সিনেমার সবথেকে জনপ্রিয় গান হচ্ছে একদিন স্বপ্নের দিন। এছাড়া হঠাত বৃষ্টি আর সোনালীর প্রান্তরে গানটাও অনেকের মন জয় করেছে। আমি বলবো যারা এখনও মুভিটা দেখেন নি অতি শীঘ্রয় দেখে নিবেন। তা নাহলে অনেক ভাল কিছু মিস করবেন। যারা রোমান্টিক সিনেমা পছন্দ করেন আর যারা সুন্দর কাহিনী পছন্দ করেন তারা অবশ্যই দেখবেন।

আয়নার আয়নাবাজি – আয়নাবাজি মুভি রিভিউ

Now Reading
আয়নার আয়নাবাজি – আয়নাবাজি মুভি রিভিউ

মুভিটা গত বছর মুক্তি পেয়েছে মানে ২০১৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর । আয়নাবাজি মুক্তি পাবার আগেই সারা ফেলেছে দর্শকদের মাঝে । আয়নাটা বাজি এমন একটা মুভি যার ছবির পোস্টার থেকে শুরু করে ছবির শেষের দৃশে পর্যন্ত ছিল অসাধারণ কারু কাজ । ছবির মান নিয়ে কোনো কথা হবে না । অসাধারণ অভিনয় করেছেন ছবির অভিনেতারা ।

ছবির সামনে ও পিছনের মানুষ জন :

পরিচালনায় – অমিতাভ রেজা
চিত্রনাট্য – গাউসুল আলম শাওন , অনম বিশ্বাস
সংলাপ – আদনান আদিব খান
সংগীত পরিচালক – হাবিব ওয়াহিদ , ফুয়াদ , অর্ণব
প্রধান অভিনেত ও অভিনেত্রী – চঞ্চল চৌধুরী , নাবিলা , পার্থ বড়ুয়া লুৎফর রহমান

প্রথমে আসি অমিতাভ রেজার ব্যাপারে । নিসন্দেহে তিনি একজন ভালো নির্মাতা । উনি বেশ ভালো কাজ করেন নতুন পুরাতন সবাইকে নিয়ে । উনার বিজ্ঞাপন ও নাটকের মান খুবই ভালো । বিজ্ঞাপন ও নাটক দিয়ে এর আগেও নিজেকে প্রমান করেছেন অনেক বার । সর্বশেষ একটি টেলিকম এর বিজ্ঞাপন দিয়ে খুব ভালো ভাবে নিজেকে সবার সামনে প্রমান দিয়েছেন । এখন প্রশ্ন আসতে পারে তার ছবি নিয়ে । কারণ এর আগে তিনি কখনো ছবি পরিচালনা করেনি । তার প্রথম ছবি আয়নাবাজি । ধাপে ধাপে এগিয়েছেন এই মুভি নিয়ে । প্রথমে তিনি টিজার মুক্তির মাধম্যে সারা ফেলেদেন সবার মাঝে । তখন সবাই বুঝতে পারে ভালো কিছু আসছে । তারপর গান এবং সর্ব শেষ ছবির ট্রেলার মুক্তি দিয়ে কাঁপিয়ে দেন ইউটুবে কে । মানুষ তখন ছবি নিয়ে বেশ আলোচনা করছে । আর তখনি বোঝা গেল ছবিটা এইবার সত্যি সত্যি কাঁপিয়ে দিবে

ছবির গল্পের সাথে ছবির নামের স্বার্থগত ১০০ ভাগ মিলেছে । আয়নায় যেখানে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখা যায় ঠিক তেমনি আয়না বাজির ছবিতে আয়না চরিতের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছে সবার কাছে । চঞ্চল চৌধুরী মানে আয়না নিজেকে টাকার প্রযোজনে নিজে আরেক জনের ভিতরে প্রবেশ করে । অসাধারণ তার অভিনয় । এক চরিত্র থেকে বের হয়ে আরেক চরিত্রে কাজ করা মোটেও সহজ কথা নয় । এই গুণী অভিনেতা নিজেকে প্রমান করেছেন আরো আগেই আর এই ছবির মাধম্যে নিজের জাত তুলে ধরলেন সবার কাছে । আর সঙ্গী হিসেবে ও নিজেকে বেশ ভালোই প্রমান করলেন নাবিলা ।

৩০ তারিখে মুক্তি পাবার আগে থেকে সব টিকিট বিক্রি শেষ । মানে প্রতিটা শো হাউস ফুল গিয়েছে । এই জিনিস দেখে অনেকের মধ্যে আবার ফিল হতে শুরু করলো সিনেমার সোনালী দিন আবার ফেরত আসছে । ছবির শুরু তে অমিতাভ রেজা দর্শকদের কাছে পরিচয় করিয়ে দিলেন আয়না কে । সাধারণ জীবন যাপন , আর পুরান ঢাকার ঐতিহ্য কে সবার সাথে খুব ভালোভাবে তুলে ধরলেন তিনি । দেখিয়েছেন আমাদের সমাজে মানুষ টাকার জন্য কি করতে পারে আর মানুষ কে টাকা দিয়ে কি করানো যেতে পারে । দেখিয়েছে কিভাবে খুব সাধারণ ভাবে নিজের ভালোবাসা বলা যায় নিজের ভালোবাসার মানুষের কাছে । সাংবাদিক চরিত্রে খুব ভালো কাজ করেছেন পার্থ বড়ুয়া । ছবির স্বার্থে চঞ্চল চৌধুরী নিজেকে পরিবর্তন করেছেন অনেক । তিনি আয়নাবাজিতে নিজেকে মোট ৬ বারের ওপর পরিবর্তন করেছেন । কি সুন্দর তার অভিনয় । প্রথমে তিনি একটি পাগল ছেলের দৃশে অভিনয় করেন । যেখানে তিনি আরেক জন এর হয়ে জেল খেটে দিচ্ছেন ।এক এক বার তিনি এক এক জনের হয়ে জেল খাটছেন । এই ভাবে তার গল্প এগুতে থাকে ।সর্বশেষ একজন সমাজের প্রভাবশালী নেতার হয়ে জেল খাটেন কিন্তু প্রতিবার বের হতে পারলেও এই বার সে রাজনৈতিক নেতা তাকে বের না করাতে আদালত থেকে তার ফাঁসির রায় হয়ে যায় । আয়না তার নিজের মধ্যে অস্থির থাকলেও কাউকে বুঝতে দেয় না । ধীরে ধীরে বের হয়ে আসে জেল থেকে । এই ভাবে এগুতে থাকে ছবির ঘটনা ।

ছবির প্রতিটা বিভাগে কাজের মান ছিল অসাধারণ । সেই সাথে অমিতাভ রেজার পরিচালনা নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না । ক্যামেরায় রাশেদ সাহেবের কাজ দেখে আপনি নতুন করে ঢাকা কে চিনবেন । বিশেষ করে তিনি পুরান ঢাকা কে তুলে ধরেছেন খুব সুন্দর ভাবে । শুধু ক্যামেরায় নয় সংলাপ থেকে শুরু করে গানের প্রতিটা কথা যেন নিজেকে ছুঁয়ে যাবে । আপনিও হারিয়ে যাবেন তাদের সাথে ।

দিন দিন আমাদের হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরে আসছে এই সব ছবির মাধ্যমে । আসলে আমাদের দেশের হলের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে ভালো মানের ছবির অভাবে । আমাদের দেশের যেই সব গুণী পরিচালকরা আছে তারা যদি নিজেদের মেলে ধরতে পারেন ও অভিনেতারা যদি তাদের অভিনয়ের ১০০ ভাগ দিয়ে থাকেন তাহলে ছবি হিট হবেই আর দিন দিন হলের সংখ্যাও বাড়বে ।

আয়নাবাজি তার আয়নাগিরি দেখিয়ে যেমন জয় করেছে বাংলাদেশের মানুষের মন ঠিক দেশের বাহিরেও ছিল আয়নার বাজির প্রভাব । দেশের মাটিতে সফল ভাবে চলে বিদেশের মাটিতেও ছিল আয়নার জয় । সেই সাথে উঠেছে অনেক গুলো পুরস্কার । দেখিয়ে দিয়েছে ভালো ছবি করলে শুধু দেশে না বিদেশের মাটিতেও চলে

সিনেমা রিভিউ :বাপজানের বায়স্কোপ

Now Reading
সিনেমা রিভিউ :বাপজানের বায়স্কোপ

চলচ্চিত্র বা সিনেমা দেখতে আমরা কেই না পসন্দ করি। কেউ অ্যাকশন ,কেউ কমেডি ,কেউ ড্রামা আবার কেউ রহস্য গল্প দেখতে খুব পসন্দ করে। তাইতো দুনিয়া জুড়ে হলিউড বলিউডের এত জয় জয়কার। তবে যখন কথাটা বাংলা চলচ্চিত্রের দিকে আসে তখনন কোনো জানি আমাদের নাকসিঁটকানোর একটা প্রকলন দেখা যায়। অনেকে এমনটাও ভাবে যে বাংলা চলচিত্রের কোনো মৌলিক গল্প নেই। নকল আর ওভার এক্টিং এ ভরপুর। এজন্যই হয়তো আমাদের চলচ্চিত্র হলে দর্শক টানতে ব্যার্থ।তবে বিগত বছর গুলোতে বেশ কিছু ভালো সিনেমা বের হতে দেখা গেসে। আজ আপনাদের এমনি একটি বাংলা সিনেমার কথা বলবো। যার গল্প মৌলিক ,কোনো ওভার এক্টিং নেই।যাতে আবেগ,প্রতিবাদ এবং ঐতিহ্যের একটি দারুন নিদর্শন সৃষ্টি করা হয়েছে।

সিনেমাটির নাম “বাপজানের বায়স্কোপ”।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যমুনা পরের একটি চর থেকে। চরটির জমিদার তার ভাগিনার নাম অনুসারে চরের নামকরণ করেন চরভাগিনা। গল্পের মূল চরিত্র হাসেন মোল্লা এবং জীবন সরকার। হাসেন মোল্লা একজন প্রান্তিক চাষী। সে আর দশটি চাষীর মতো চাষাবাদ করে জীবন যাপন করতো। হাসেন মোল্লা একদিন তার জমিতে ক্যাশ করার সময় তার মৃত বাবা কে কল্পনায় দেখতে পায়। তার বাবা হাসেন মোল্লাকে তার ফেলে যাওয়া বায়োস্কোপটি পুনরায় চালু করতে বলে। বাবার কথা মতে হাসেন মোল্লা সিদ্ধান্ত নেয় সে আবার বায়াস্কোপ খেলা দেখাবে। সপ্তাহে ২ দিন বিএসকোপ খেলা দেখাবে আর ৪ দিন চাষাবাদ। হাসেন মোল্লা ভাবে সে বায়োস্কোপে নতুনত্ব আনবে। এর জন্য গ্রামের তরুণ ইসমাইল কে বলে তার জন্য কিছু ছবি এঁকে দিতে। যার বিনিময়ে তাকে পেটভরে মিষ্টি খাওয়াবে। এরপর সেই নতুন গল্প আর চিত্র নিয়ে তৈরী হয় বায়স্কোপ। ভালোই চলছিল সব কিছু ,এমন সময় একদিন জীবন সরকারের বউ বায়স্কোপ খেলা দেখতে চায়। বৌয়ের আবদার রাখতে জীবন সরকার ,হাসেন মোল্লাকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপরই ঘটে মূল ঘটনা। জীবন সরকার বুঝতে পারে বায়স্কোপের ঘটনাটি একটি প্রতিবাদী গল্প যা তার মামার অন্যায় কে প্রতিনিধিত্ব করে। এর জন্য জীবন সরকার সিদ্ধান্ত নেন চরে এরপর আর কোনো বায়স্কোপ চলবে না। তবে হাসেন মোল্লা চায় বায়স্কোপ খেলা চালিয়ে যেতে। এরপর চরের সালিসে জীবন সরকার সিদ্ধান্ত নেন যদি হাসেন মোল্লা বায়স্কোপ খেলা বন্ধ না করে গ্রামে তিনি লবন বিক্রি হতে দিবেন না। এরপর চরে ভীষণ পরিমানে লবণের চাহিদা দেখা দেয়। সকলে হাসেন মোল্লাকে ব্যাস্কোপ খেলা বন্ধ করার অনুরোধ করে। তবে হাসেন মোল্লা তা না শুনে তার প্রতিবাদ চালিয়ে যায়। এদিকে চরবাসীর দুঃখ দেখে জীবন সরকারের বউ তার দেহরক্ষীর সাথে হাত মিলিয়ে চরবাসীর কাছে  লবন সরবারহ করে। চর বাসীর লবন সমস্যা না  থাকায় হাসেন মোল্লার প্রতিবাদ আরো বেগ পায়। এদিকে জীবন সরকার বায়স্কোপ বন্ধ করার বিভিন্ন পায়তারা করতে  থাকে। অবশেষে জীবন  সরকার তার দেহরক্ষী দিয়ে ইসমাইল কে খুন করে। ইসমাইলের মৃত্যুর  পর চরবাসী  আরো প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। চরবাসী সিদ্ধান্ত নেয় তারা জীবন  সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করবে।এরপর একদিন জীবন সরকার তার দোল নিয়ে বায়স্কোপ এবং হাসেন মোল্লাকে চিরতরে শেষ করার জন্য আক্রমণ করে। তবে গ্রামবাসীর প্রতিবাদে পিছু হটতে বাধ্য হয়। এ দিকে জীবন সরকারের দেহরক্ষী তার ভুল বুঝতে পারে এবং সেও জীবন সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়।

সিনেমাটির গল্পে যে অন্যায় এবং তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে তা এক কোথায় ছিল অসাধারণ। মৌলিক গল্প আর অভিনয়ের শক্তি সিনেমাটিকে নিয়ে গিয়েছে অনন্য এক উচ্চতায়।আমার কাছে বাংলাদেশের সের চলচ্চিত্রের মধ্যে অন্যতম।হয়তো এর জন্যই ২০১৬ সালের সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত সিনেমা “বাপজানের বায়স্কোপ”।
সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিমান অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম( জীবন সরকার ) এবং শতাব্দী ওয়াদুদ(হাসেন মোল্লা)। এছাড়াও সানজিদা তন্ময় ,মাসুদ মহিউদ্দিন সহ প্রমুখ অভিনেতা এই সিনেমাটিতে কাজ করেছেন।   সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান “কারুকাজ ফিল্মস “। একধারে পরিচালক ,প্রযোজক এবং লিখেছেন রিয়াজুল রিজু। শব্দ সংযোজন করেছেন সেতু চৌধুরী।এবং সিনেমার গান গুলো লিখেছেন অয়ন চৌধুরী এবং আমিরুল ইসলাম।
 
সিনেমাটিকে ঘিরে একটি তুচ্ছ গত না আছে। আর তা হলো বাপজানের বায়োস্কোপ চলচ্চিত্রে টিভি অভিনেতা মাহমুদুল ইসলাম মিঠুর অভিনয় করার কথা থাকলেও হঠাৎ তাকে বাদ দিয়ে শহীদুজ্জামান সেলিমকে নেয়া হয়। মিঠু জানান, ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’ চলচ্চিত্রটি ছিলো আমার অভিনয় জীবনের স্বপ্নের একটি চরিত্র। তুচ্ছ এক ঘটনার জেরধরে রিজু আমাকে বাদ দিয়ে আমার চরিত্রে অন্যকে দিয়ে অভিনয় করান।’ পরবর্তীতে রিয়াজুল রিজু তাকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকী দেন বলেও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন মিঠু। তবে নিজের অভিনয় শক্তি দিয়ে  শহীদুজ্জামান সেলিম প্রমান করেছেন জীবন সরকার চরিত্রের জন্য তিনিই ছিলেন উত্তম।
 
বাংলা সিনেমা নিয়ে সমালোচনা করাটা আমাদের যেন একটা স্বভাব। আমি বলবো আগে বাংলা সিনেমা দেখুন তারপর তার সমালোচনা করুন। যেখানে বাহিরের দেশের সিনেমা এ দেশে ব্যবসা সফলতা পায় সেই দেশের সেরা চলচ্চিত্র হলে দর্শক আনতে বার্থ ভাবতেই লজ্জা লাগে। আমরা বাঙালি সুশীলতার আড়ালে ভুলে যাই দেশি পণ্যকে।ভুলে যাবেন না এক সময় ঢাকাই চলচ্চিত্রের জয়গান বিশ্ব জুড়ে ছিল। তাই অনুরোধ করবো বাংলা চলচ্চিত্রকে বাঁচাতে হলে গিয়ে সিনেমা দেখুন। তবেই আয়নাবাজি ,জালালের গল্প ,বাপজানের বায়স্কোপের মতো সিনেমা বানাতে নির্মাতারা আগ্রহী হবেন। এদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে একটি বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছে এবং হয়তো বর্তমান সময়টা একটি বিপ্লবকালীন সময়।
 
ধন্যবাদ।

ঈদে ঢাকাই সিনেমার হালচাল

Now Reading
ঈদে ঢাকাই সিনেমার হালচাল

কিছুদিন আগেই চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি নির্বাচন নিয়ে ভীষণ হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল সিনেমা পাড়ায়। এরমধ্যে আবার কতিপয় শিল্পীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তাদের নিষিদ্ধ করার মত সিদ্ধান্তও নেয় পরিচালক সমিতি। তাই মোটামুটিভাবে বিএফডিসি এখন আলোচনার তুঙ্গে। এরমধ্যে আবার সামনে ঈদুল ফিতর। মুক্তির মিছিলে রয়েছে একক ও যৌথ প্রযোজনার বেশ কিছু সিনেমা। চলচ্চিত্র পাড়া তাই এখন আবারও সরগরম হয়ে উঠেছে।

আসন্ন ঈদে মুক্তি পেতে যাওয়া সিনেমাগুলোর মধ্যে সুপারস্টার শাকিব খানেরই রয়েছে একাধিক সিনেমা। এরমধ্যে রাজনীতি, নবাব, রংবাজ, অহংকার উল্লেখযোগ্য।
এছাড়াও জাজ মাল্টিমিডিয়া এবং এসকে মুভিজের ব্যানারে যৌথ প্রযোজনায় ওপার বাংলার সুপারস্টার জিৎ এর ‘বস-২’ মুক্তি পাচ্ছে এই ঈদে। এছাড়া থাকছে আরেফিন শুভ এর ‘তুমি থেকো’।

১। রাজনীতিঃ প্রায় একবছর পর স্ত্রী অপু বিশ্বাসের সঙ্গে শাকিব খানের মুক্তি পেতে যাওয়া ছবির নাম রাজনীতি। শেষবার গত রোজার ঈদে এই জুটিকে ‘সম্রাট’ সিনেমায় একসাথে দেখেছিল চলচ্চিত্রপ্রেমীরা। তাই এই ছবিকে ঘিরে আলাদা আগ্রহ তৈরী হয়েছে সবার মধ্যে। বুলবুল বিশ্বাস পরিচালিত এই ছবির পোস্টার সামাজিক গণমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকে আলোচিত হয়। শাকিব অপু ছাড়াও এতে অভিনয় করেছেন আনিসুর রহমান মিলন।

২। নবাবঃ জাজ মাল্টিমিডিয়া এবং এসকে মুভিজের ব্যানারে সুপারস্টার শাকিব খানের করা দ্বিতীয় মুভি। শিকারির বিশাল সাফল্যের পর নির্মাতারা এই ছবি নিয়েও ভীষণ আশাবাদি। এই ছবিতে শাকিবের পিপরীতে দেখা যাবে পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলিকে। ছবিটির অধিকাংশ কলাকুশলীই শিকারি ছবির। এতে আরো অভিনয় করেছেন খরাজ মুখার্জী, সব্যসাচী। সিনেমার পোস্টারে শাকিবের নতুন লুক দেখে দর্শকদের মধ্যে ছবিটি নিয়ে যথেষ্ট উত্তেজনা তৈরী হয়েছে। খুব শীঘ্রই ছবির গান ও ট্রেলার প্রকাশ পাওয়ার কথা রয়েছে। হল মালিকরা ইতোমধ্যে নবাব এর বুকিং দেয়া শুরু করে দিয়েছেন।
৩। অহংকারঃ শাকিব বুবলি জুটির তৃতীয় ছবি এটি। ছবির কাজ পুরোপুরি শেষ হলেও এই ঈদে মুক্তি নিয়ে এখনও নিশ্চিত নন এর নির্মাতারা। ছবিটি পরিচালনা করেছেন শাহাদাৎ হোসেন লিটন।

৪। রংবাজঃ আলোচিত এবং সমালোচিত পরিচালক শামীম আহমেদ রনি পরিচালিত ছবি রংবাজ মুক্তির মুখ দেখতে পারে আসন্ন ঈদে। সম্প্রতি পরিচালক সমিতি রনিকে নিষিদ্ধ করলে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে ছবিটির ভবিষ্যৎ। তবে ভিন্ন এক পরিচালক দিয়ে ছবির বাকি অংশের কাজ শেষ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ ছবিতেও শাকিবের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন বুবলি। ছবিটি বাংলাদেশের রুপরঙ এবং কলকাতার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস এর অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে।
৫। বস-২ ঃ ওপার বাংলার সুরিন্দর ফিল্মসের ব্লকবাস্টার মুভি ‘বস’ এর সিকুয়েল হচ্ছে ‘বস-২’। এতে সুপারস্টার জিৎ এর বিপরীতে দেখা যাবে শুভশ্রী গাঙ্গুলি এবং বাংলাদেশের নুসরাত ফারিয়াকে। গত ঈদে বাদশার পর এবার বস-২ ও সাফল্যের মুখ দেখবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। ছবিটির প্রকাশিত ট্রেইলারও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। হল মালিকরাও ছবিটি বুকিং দিতে বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে জানা গেছে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন বাবা যাদব।

৬। ভালো থেকোঃ আরেফিন শুভ অভিনীত ভালো থেকো ঈদে মুক্তির ভিড়ে বেশ এগিয়ে আছে। একক প্রযোজনায় তৈরী এই ছবিটি দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেলবে বলে ধারণা এর পরিচালক জাকির হোসেন রাজুর। তিনি বলেন তার ছবির মূল আকর্ষন এর ভিন্নধর্মী গল্প। উল্লেখ্য বর্তমানে আরেফিন শুভর ছবির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বর্তমান প্রজন্মের তরুণ তরুণীদের মধ্যে। এতে তার সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন নবাগতা তানহা তাসনিয়া।

গতবছরে ঈদের ছবির ব্যাপক সাফল্যের পর সিনেমাপ্রেমীরা চাইবে এবারও ঈদের ছবি দিয়ে জমজমাট হয়ে উঠুক সবার ঈদ। বাংলা সিনেমার এমন দুঃসময়ে যেখানে অনেকেই বাংলা সিনেমা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে সেখানে যৌথ প্রযোজনার বড় বাজেটের মুভিগুলো দর্শককে অনেকাংশেই হলে টানতে সক্ষম হয়েছে। তাই বরাবরের মত এবারও যৌথ প্রযোজনার ছবির দর্শক চাহিদা বেশি থাকবে।
পরিশেষে আমাদের সবার প্রত্যাশাই থাকবে আবারও বাংলা সিনেমার সুদিন ফিরে আসুক। সবাই বাংলা ছবি দেখুন। বাংলা ছবির সাথেই থাকুন।

ছবিয়াল ও ‘বারো’ সিনেমা

Now Reading
ছবিয়াল ও ‘বারো’ সিনেমা

‘ছবিয়াল’ নামটি নাট্যজগতে এদেশে যখন অাবির্ভূত হয় তখন একটা শতাব্দীর শুরু হয়েছিল। ২০০০ সালে ‘ছবিয়াল’ যখন যাত্রা শুরু করে নব্বই দশকীয় একটা ইমেজ থেকে বের হয়ে নাগরিক চলতি সমাজের উপস্থাপন করতে শুরু করেছিল এ নাট্যনির্মাণ প্রতিষ্ঠানটি। মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী-র হাত ধরে শুরুটা জমে উঠেছিল তাই এ গোষ্ঠীর নাটকের নিয়মিত দর্শকের কাছে ‘ফারুকীর ভাই বেরাদার’ নামেই বিশেষভাবে পরিচিতি পায়।

নাটকের গ্রামীণ ভাষা বা প্রমিত কথা বলার বাইরে ছবিয়াল যে পরিবর্তনটা অানে সেখানে শহুরে ভাষা প্রবেশ করেছিল। ভাষাটা ‘খাইছে, মারছে, ধরছে, বলছে, হইছে’ এরকম অাঞ্চলিকতার শব্দের সংযোগ ঘটাতে থাকে। তরুণ প্রজন্মের লাইফস্টাইল তাদের নাটকে দেখানো হত। রেদওয়ান রনি-র ‘বৃত্ত, বিহাইন্ড দ্য সিন, উড়োজাহাজ, উচ্চতর শারীরিক বিজ্ঞান, হৃৎকাহন’ নাটকগুলোতে নির্মাতা নিজের সময়কে তুলে ধরেছিল। প্রজন্মের মেজাজকে ধরতে ‘উড়োজাহাজ’ নাটকটি এক্ষেত্রে মনে করলেই যথেষ্ট বোঝা যায় স্ট্রাগল, প্রেম, বিচ্ছেদ এসব কিভাবে এ প্রজন্মের মধ্যে অবস্থান করে। রোমেল ও জেনির এ নাটকটি জনপ্রিয়। মোস্তফা কামাল রাজের ‘চাঁদের নিজের কোনো অালো নেই, বন্ধু ও ভালোবাসা’ নাটক দুটি দুই ধরনের বিষয় নিয়ে তৈরি। মধ্যবিত্ত পরিবারের সুখ-দুঃখ নিয়ে প্রথমটি অসাধারণ নির্মাণ ছিল পরেরটি মজা করার মাধ্যমে বন্ধু ও ভালোবাসার সম্পর্কের পার্থক্য দেখিয়েছে। অাশুতোষ সুজনের ‘বরাবর স্যার’ নাটক দেখলে যে কারো মন খারাপ হবে। নিম্নবিত্ত ছাত্রের স্বপ্নের মৃত্যু ও তার অাত্মহত্যার মধ্য দিয়ে প্রচলিত সমাজকে চপেটাঘাত করা হয়েছে। এছাড়া তার ‘ভালুককে শুভেচ্ছা টুনটুনি’ চমৎকার কাজ। শরাফ অাহমেদ জীবনের ‘সিরিয়াস কথার পরের কথা’ খুবই জনপ্রিয় নাটক। এছাড়া ‘উচ্চ মাধ্যমিক সমাধান’-ও ভালো কাজ। ইফতেখার অাহমেদ ফাহমি-র ‘ভ্যানিটি ব্যাগ, অামি, রিং, ঊনমানুষ, রুম ডেট, কবি বলেছেন, অামাদের গল্প, অামার একটি কুকুর অাছে’ এগুলো বৈচিত্র্যময় কাজ। ধারাবাহিক নাটকের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল ‘হাউজফুল।’ নাটকের সিরিয়াস ও মজার ভাষাটা ফাহমি শক্তভাবে অায়ত্ত করেছে। ইশতিয়াক অাহমেদ রোমেল-এর ‘জীবন থেকে নেয়া, গল্প ভুলে গেছি, লালবাক্স, ঠুয়া’ এ নাটকগুলো পরিচিত। অালী ফিদা একরাম তোজো-র ‘কালো অার ধলো বাহিরে কেবল’ অালোচিত নাটক। অাদনান অাল রাজীব তরুণদের মধ্যে ‘অলটাইম দৌড়ের উপর’ নির্মাণ করে নজরে এসেছে। অাশফাক নিপুণ তরুণদের মধ্যে ইতোমধ্যে অবস্থান তৈরি করেছে-‘মিডলক্লাস সেন্টিমেন্ট, হাঁচি, ও রাধা ও কৃষ্ণ, তুমি না থাকলে’ এ নাটকগুলো দিয়ে। তার নিজস্বতা অাছে গল্প বলা ও নির্মাণে। অারো অাছে অাশিকুর রহমান, হুমায়ুন সাধু

এই নাট্যকাররা এবারের ঈদে একসাথে সম্মিলিত প্রজেক্টে এক হয়েছেন। সংবাদ সম্মেলেনে ফারুকী বলছিলেন তাকে সবাই খুব করে ধরেছিল টেলিভিশনে পরিবর্তনের জন্য অাবার একসাথে হবার জন্য। তাদের ২০০০ পরবর্তী সময়ের পর একটা বিরতি ছিল পরে ২০০৫-এ অাবার একসাথে কাজ করা হয়। এরপর ব্যক্তিগত প্রোডাকশন নিয়ে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়লে একটা দূরত্ব অনুভব করেন সবাই। যার জন্য অাবারো এক হলেন তারা। তাদের এক হওয়াতে লাভটা জুটল দর্শকের যারা একসাথে ৭টা গল্পের নাটক পাবে এ ঈদে, পরের ঈদে ৫টা এবং নাটকের পর ১২ জনের ১২ টা সিনেমা থাকবে প্রজেক্টের অংশ হিশাবে। ১২ টা সিনেমা! এটা অবশ্যই বিশেষ কিছু অন্তত অাজকের ঢালিউডের এই থমথমে পরিস্থিতিতে এক পশলা বৃষ্টি তো অবশ্যই।

৮টা টেলিফিল্মের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে-
১. ২৬ দিন মাত্র
২. চিকন পিনের চার্জার
৩. হায় চিল সোনালি ডানার চিল
৪. নোঙ্গর ফেলি ঘাটে ঘাটে
৫. অাবার তরা সাহেব হ!
৬. বিকেল বেলার পাখি
৭. পুতুল
৮. ছেলেটা কিন্তু ভালো ছিল!
নামের ভেরিয়েশনে বোঝা যাচ্ছে অাটটা টেলিফিল্ম হবে অাটরকম। স্পেশালি ‘চিকন পিনের চার্জার’ নামটা খুব সমসাময়িক। এটাতে যতটুকু ধারণা করা যায় লাইভ প্রোগ্রামে কমেন্ট করা ইয়ো ইয়ো টাইপের পোলাপানদের চিকন পিনের চার্জার খোঁজ করার মতো কালচার উঠে অাসবে। এটা একটা মেসেজমূলক কাজ হবে ভাবাই যায়। সবগুলো ভালো কাজ হোক।

১২ টি সিনেমা নিয়ে অামি খুব এক্সাইটেড এ মুহূর্তে। ফারুকী যা বললেন, অাগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে দর্শক এগুলো উপভোগ করবে। নিজেদের গল্পে নিজেদের সিনেমা দেখব অামরা এরকম অাভাস দিলেন। ইস! যদি মেইনস্ট্রিম কমার্শিয়াল সিনেমাগুলোতে এমন মৌলিক গল্পে সিনেমা হত! জাস্ট দর্শকের কাছ থেকে স্ক্রিপ্ট চাওয়া হলেই কাজ হত! কে ভাববে সেসব! অাশা করি সিনেমিতে ‘ছবিয়াল’ একটা ভাইটাল রোল প্লে করবে। সব সিনেমা ব্যবসাসফল বা সুপারহিট হতে হবে এমন কথা নেই। ছবিয়ালের সিনেমা কমার্শিয়াল ও অফট্র্যাক দুই ঘরানাতেই হোক।

তার মানে এক দেড় বছরের হিশাব কষলে ২০১৮-র মাঝামাঝিটা ছবিয়ালের সিনেমা টাইম হতে যাচ্ছে! স্মরণীয় হোক ২০১৮ অন্তত ২০১৭-র বর্তমান বড় বেদনাটা ভুলে যাবার জন্য হলেও হোক। হওয়াটা খুব খুব দরকারি।