প্রায়ই খাচ্ছেন পোকা-মাকড় অথচ জানেন না!

Now Reading
প্রায়ই খাচ্ছেন পোকা-মাকড় অথচ জানেন না!

ভাবতেই গা শিউরে উঠার কথা, নিজেদের অজান্তেই আপনি আমি খেয়ে বসছি পোকামাকড়! হয়ত ভাবছেন কিভাবে তা সম্ভব? কিন্তু এটাই বাস্তবতা আপনি অনেক দিন ধরেই অজান্তে সেগুলো খেয়ে আসছেন, আর এসব তথ্য সবটাই আপনার অজানা। লাল রঙের প্রতি প্রত্যেকেরই আলাদা একটা আকর্ষণ রয়েছে। প্রায় সবকিছুতেই ব্যাবহার করা হয় এই লাল রঙ বিশেষ করে খাবারের রঙে। আর খাবারের এই লাল রঙ করতে কারমাইন নামক একটি বিশেষ পদার্থ ব্যবহৃত হয়। কিন্তু চমকে উঠার মত কথা হল বিশেষ এই পদার্থ কারমাইন তৈরি হয় পোকামাকড় শুকিয়ে চূর্ণ করেই। আর এসব পোকামাকড় এর জন্মস্থান দক্ষিণ আমেরিকায় যেখানে ক্যাকটাসের উপর ছত্রাকের মত কোকোহিনেল নামের এক ধরণের পোকা থাকে। আর সেই পোকাগুলোকে অটোমেশিনে চূর্ণ করেই তৈরি করা হয় খাবারের লাল রঙের উপকরণ কারমাইন। তবে দক্ষিণ আমেরিকায় মূল জন্মস্থান হলেও ব্যাপক চাহিদার কারণে পৃথিবীর আরো বহুদেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিবছর ক্ষুদ্রাকৃতির এরকম কোটি কোটির পোকার চাষ করা হচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম পেরু, তারা বিশ্বে কারমাইন উৎপাদনের ৯৫ শতাংশই দখল করে আছে। পেরুর বেশিরভাগ মানুষজনই দরিদ্র, তারা বেঁচে থাকার জন্য কারমাইনের ওপর নির্ভর করে আছে। তবে কারমাইনের জন্য উৎকৃষ্ট হল স্ত্রীলিঙ্গের পোকাগুলোই,  কারণ এগুলোর ডানা থাকে না, ফলে উড়তেও পারে না।

তৈরিকৃত কোন খাদ্যে কারমাইন এর ব্যাবহার নেই, প্রায় প্রতিটিতেই ব্যাপকভাবে ব্যাবহার হচ্ছে কারমাইন। আইসক্রিম, দধি. ফলের পাই কিংবা কোমল পানীয়তে ব্যবহৃত হচ্ছে কারমাইন। কোন খাবারের প্যাকেট কিংবা কোমল পানীয় এর বোতলে খাদ্য উপাদান তালিকায়  চোখ বোলালে হয়ত কারমাইন নামটি সরাসরি দেখতে পাওয়া যাবে না। এর পরিবর্তে হয়তো লেখা রয়েছে, প্রাকৃতিক লাল রঙ অথবা ক্রিমসন লেক। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কারমাইনকে ই১২০ নম্বর দ্বারা চিহ্নিত করেছে, এটাও কারমাইনের সংক্ষিপ্ত রুপ হিসেবে খাদ্য উপকরণ তালিকায় উল্ল্যেখ থাকে। যার ফলে কারমাইন সম্পর্কে মানুষের ধারণা অগোচরে থাকে। আর কারমাইন যে পোকা মাকড় দ্বারাই তৈরি হয় এটার স্পষ্ট উল্ল্যেখ কোথাও রাখা হয়না।

খাবারে রঙ করার জন্য কোকোহিনেল পোকার চূর্ণ  কারমাইন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্বের খাদ্য শিল্পে। আশার কথা হচ্ছে কারমাইনের এই ব্যবহার নিরাপদ আর দীর্ঘস্থায়ী, যা তাপ বা আলোতেও নষ্ট হয়না। খুব কম মানুষেরই এই খাদ্য উপাদানে সমস্যা হয়। অতীত ইতিহাসে খাবারের উপাদান হিসাবে কারমাইন এর ভালো কিছু উদাহরণ আছে। পাঁচশো বছর পূর্বেও দক্ষিণ আমেরিকান মায়া নৃগোষ্ঠী এবং পরবর্তী অ্যাজটেক জনগোষ্ঠীতে এই পোকার চূর্ণ ব্যবহারের প্রচলন ছিল। বর্তমান সময়ে খাবারে এই উপাদান ব্যাবহারের ব্যাপক চাহিদায় এর প্রভাব পড়ছে এর দামেও। বিগত চার বছরে কারমাইনের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ শতাংশ।

বর্তমানেও কৃত্রিম উপায়ে তৈরি খাবারের রঙের তুলনায় কারমাইন এর তৈরি রঙ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অধিকতর ভালো বলে অনেকের যুক্তি। এখন প্রাকৃতিক অন্য অনেক উপাদান থেকেও লাল রঙ তৈরি হচ্ছে, কিন্তু অনেক বিশেষজ্ঞের দাবী সেসবের তুলনায় পোকামাকড় দ্বারা তৈরি কারমাইন এর রঙ নিরাপদ। অনেকের প্রশ্ন উঠেছে নিরাপদ হউক আর অনিরাপদ হউক,  খাদ্য পণ্যের প্যাকেট কিংবা বোতলের গায়ে এই পণ্যটির ব্যবহারের কথা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকা উচিত। কেউ যদি স্বেচ্ছায় গ্রহণ করতে চায় সেটা তার সিদ্ধান্ত, কিন্তু তথ্য গোপন রেখে মানুষকে তা গ্রহণ করতে বাধ্য করা অযৌক্তিক।

সুস্থতার চাবিকাঠি “খাদ্যাভাস পরিবর্তন”

Now Reading
সুস্থতার চাবিকাঠি “খাদ্যাভাস পরিবর্তন”

অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে অসুস্থ হবার প্রবণতা বাড়ছে দিন দিন। মূলত রাস্তা ঘাটের খোলা খাবারের প্রতিই আসক্তি বেশি মানুষের, আর এসব খাবারই হয়ে উঠছে তার অসুস্থ হবার প্রধান কারণ। এছাড়াও বিভিন্ন হোটেলের খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ লক্ষণীয় যার অধিকাংশতেই তৈলাক্ত, চর্বিযুক্ত, মাত্রাতিরিক্ত লবণ-চিনি এবং প্রক্রিয়াজাত অস্বাস্থ্যকর খাবারের আধিক্য লক্ষনীয়।

ফলে মানুষের মধ্যে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, স্থুলতা সহ ইত্যাদি অসংক্রামক রোগ এর প্রকোপ বাড়ছে। মূলত এসব খাবারে অভ্যস্থ হওয়ার পেছনে বিশেষ কিছু কারণ রয়েছে, তার মধ্যে জনসচেতনতার অভাবে, স্বাস্থ্যকর খাবারের সীমিত যোগান, অস্বাস্থ্যকর খাবারের আগ্রাসী প্রচারণা এবং তার সহজ প্রাপ্যতা।  গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রতি মস্তিষ্কের আকর্ষণ রয়েছে। এ কারণেই অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি মানুষের ঝোঁক বাড়ে। যেকোন খাবার গ্রহণে মুখের মধ্যে বিশেষ অনুভুতি সৃষ্টি করে যা ডাক্তারি ভাষায় ‘অরোসেনসেশন’ বলা হয়, আর এটাই হল অস্বাস্থ্যকর খাবার বা ‘জাঙ্ক ফুড’য়ের প্রতি অদম্য আগ্রহের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আবার অন্যদিকে খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ আমাদের খাদ্য গ্রহণের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। সব খাবারেই কমবেশি আমিষ, চর্বি ও কার্বোহাইড্রেইটের মিশ্রণ থাকে। তবে জাঙ্ক ফুডের ক্ষেত্রে লবণ, চিনি ও চর্বি এর অধিক মিশ্রণ থাকে। ফলে এই মিশ্রণ আমাদের মস্তিষ্কে উত্তেজনা সৃষ্টিতে সহায়তা করে এবং এ ধরনের খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়।

দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী জ্ঞান আহরণের জন্য নিয়োজিত। আর এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশতেই তাদের ক্যান্টিনগুলোতে স্বাস্থ্যকর খাবার সহজপ্রাপ্য নয়। উল্টো এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যান্টিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ফাস্টফুড, জাঙ্কফুড, কোমল পানীয়, এনার্জি ডিঙ্কসসহ অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করা হয়। এ খাবারগুলো সাময়িক ক্ষুধা নিবারণ করলেও কিন্তু অপরদিকে শরীরে দীর্ঘমেয়াদী রোগের বীজ বুনে যাচ্ছে। বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৬০% অসংক্রামক রোগ দ্বারাই হয়। আর এসব অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস। মানুষ তার স্বাস্থ্যকর জীবন সম্পর্কে সচেতন হয়ে তার আচরণগত কিছু পরিবর্তন আনলে এসব জটিল ও ভয়াবহ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

তাই বাসাবাড়ির পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্যান্টিনগুলোতে এবং হোটেলগুলোতে অস্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিবেশন করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। এসব জায়গায় যদি স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা কিংবা যোগান নিশ্চিত করা থাকে তবে অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে যাবে। স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণে সুস্থ্য থাকে শরীর ও মন যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরো আনন্দদায়ক করে দেয়।

রসমালাইয়ের জন্মস্থান ঘুরে

Now Reading
রসমালাইয়ের জন্মস্থান ঘুরে

বাংলাদেশে রসমালাইয়ের নাম বলতেই সবার আগে আসে কুমিল্লার নাম। ১৯শতকের শুরুর দিকে ত্রিপুরার ঘোষ সম্প্রদায়ের হাত ধরেই কুমিল্লায় রসমালাইয়ের প্রচলন শুরু হয়। শুরুতেই তারা রসে ভেতর ছোট ছোট মিষ্টি ডুবিয়ে বিক্রি করত যা অল্প সময়ে খুব খ্যাতি লাভ করে। তখন এর নাম ছিল ক্ষীর ভোগ পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান হওয়ার পর অবাঙালিরা কুমিল্লায় এসে ক্ষীর ভোগকে রসমালাই বলতে শুরু করে। আগে মাটির হাঁড়িতে বিক্রি হতো রসমালাই এরপর পলিথিনের ঠোঙ্গা আর বর্তমানে প্লাস্টিকের পাত্রে বিক্রি হচ্ছে।

সৃষ্টির পর থেকেই রসমালাই ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং রসে মাতয়ারা করে তোলে সবাইকে। বিভিন্ন উৎসব-আনন্দ এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে রসমালাই কুমিল্লাবাসীর একটি অনুষঙ্গ হয়ে আছে যুগ যুগ ধরেই।বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে উৎকৃষ্ট মানের রসমালাই তৈরি হলেও কুমিল্লার রসমালাইয়ের আলাদাগত বৈশিষ্টের কারনে গ্রাহক চাহিদা আছে প্রচুর। যার ফলে দেশের বিভিন্ন স্থান হতে কুমিল্লার রসমালাই এর অর্ডার থাকে প্রতিদিনই যা পার্সেল ও অন্যান্য মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়।  কুমিল্লার কান্দিরপাড় মনোহরপুরে অবস্থিত চাকচিক্যহীন কয়েকটি পুরানো ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকান আছে যারা বংশ পরাম্পরায় তৈরি করছে ভাল মানের রসমালাই। মূলত এই গুটি কয়েক মিষ্টির দোকানই গুণগত মান ঠিক রেখে কুমিল্লার রসমালাইয়ের ঐতিহ্য এখনো টিকিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে রসমালাইয়ের সুখ্যাতিকে পুঁজি করে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী জড়িয়ে পড়েছে নকল রসমালাই উৎপাদন ও বিক্রিতে। আর সারা কুমিল্লা জুড়ে গড়ে উঠেছে এমনসব নকল ও নিন্নমানের রসমলাই তৈরির শত শত প্রতিষ্ঠান। বিশেষকরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় চোখে পড়বে এধরনের অনেক নকল রসমালাইয়ের দোকান যারা বিখ্যাত রসমালাই প্রতিষ্ঠানগুলির নাম ব্যবহার করছে কৌশলে। গ্রাহক প্রতারিত হচ্ছে এসব নিন্ম মানের ভেজাল রসমালাই খেয়ে, আর তাদের মনে তৈরি হচ্ছে রসমালাই সম্পর্কে  ভ্রান্ত ধারণা।

প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড় মনোহরপুরে বিভিন্ন স্তরের মানুষ ভিড় জমায় ভাল টাটকা রসমালাই কেনার জন্য। বেশিরভাগ সময় গরম রসমালাই কিনতে ক্রেতাদের মধ্যে এক প্রকার প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায় আর তখন ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খায় দোকানের কর্মচারীরা। তখন চাহিদা সত্ত্বেও একজন ক্রেতাকে ২কেজির বেশি রসমালাই একসাথে দেয়া হয়না। দেশি-বিদেশী পর্যটকরা বিভিন্নসময় বেড়াতে এসে কিনে নিয়ে যায় কুমিল্লার রসমালাই এমনকি ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াতকারী যাত্রীরা কুমিল্লায় যাত্রা বিরতি করেন শুধু মাত্র রসমালাই কেনার আশায়।

রসমালাই প্রস্তুতকারকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়- ভেজাল না মিশিয়ে গুণগত মান ঠিক রাখলে ৩৬ ঘণ্টায়ও রসমালাই নষ্ট হয় না।  রসমালাই তৈরি হয় খাঁটি তরল দুধ থেকে, দুধকে ভালভাবে ঝাল দিয়ে ফুটানোর পর মিশানো হয় পরিমাণমত চিনি এবং অন্যান্য উপকরণ তারপর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তৈরি করা হয় রসমালাই। তবে ভেজাল রসমালাই প্রস্তুতকারীরা গরুর তরল দুধের পরিবর্তে একচেটিয়া ব্যাবহার করে নিন্মমানের গুড়ো দুধ। সাধারনত ১ মণ দুধ থেকে ১৪/১৫ কেজি রসমালাই তৈরি করা যায় সেখানে ভেজালকারীরা গরুর দুধের সাথে গুড়া দুধ মিশিয়ে ১ মণ দুধ থেকে উৎপাদন করে প্রায় ৩০ কেজি রসমালাই। আর এভাবেই নষ্ট হয় রসমালাইয়ের আসল স্বাদ ও গুণগত মান।

প্রকারভেদে রসমলাইর দাম ভিন্ন হয়, বর্তমানে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকার দরে রসমালাই বিক্রি হচ্ছে কুমিল্লায়। সাধারণ রসমালাইর পাশাপাশি এখন শাহী রসমালাইও পাওয়া যায়। সাধারণ রসমালাই আকারে ছোট আর শাহী রসমালাই তুলনামূলক একটু বড় আকৃতির হয়।  রসমালাই তৈরির উপকরণ চিনি আর গরুর দুধের দাম বৃদ্ধির কারনে রসমালাইয়ের দামেও এর প্রভাব পড়েছে বটে তবে গ্রাহক চাহিদা কোন অংশে কমেনি।

কুমিল্লায় বেড়াতে এলেই এই মিষ্টান্নের স্বাদ চেখে দেখতে ভুল করেন না কেউ, অনেকে সঙ্গে করেও নিয়ে যান পরিবার-পরিজনদের জন্য। বিশ্বাস না হলে ঘুরে আসুননা একবার কুমিল্লায় আর তৃপ্তি ভরে খেয়ে আসুন বিখ্যাত রসমালাই। তবে হ্যাঁ একটু দেখে শুনে ভালটাই খুঁজে নেবেন…

চাটগাঁয়ের ঐতিহ্যবাহী মেজবান

Now Reading
চাটগাঁয়ের ঐতিহ্যবাহী মেজবান

মেজবান বাংলাদেশের বৃহত্তর চট্টগ্রাম এলাকার বহুমাত্রিক ঐতিহ্যবাহী নিজস্ব একটি অনুষ্ঠান। আঞ্চলিকভাবে চট্টগ্রামে একে মেজ্জান বলা হয় আর এই বিশেষ জাতীয় খাবারের ম্যানুতে থাকে সাদা ভাতের সাথে গরু অথবা মহিষের মাংস এবং ডাল ও হাড়ের ঝোল। ফারসি শব্দ মেজবান এর সাধারণ অর্থ হল নিমন্ত্রণকর্তা। মেজবানের উৎপত্তির সঠিক সময় নির্ণয় করা না গেলেও ১৫০০ ও ১৬০০ শতাব্দীর প্রাচীন পুঁথি সাহিত্যে ‘মেজোয়ানি’ ও ‘মেজমান’ দুটি শব্দের সন্ধান পাওয়া যায়। এমনও হতে পারে হয়তো ‘মেজমান’ থেকে ‘মেজবানে’ রূপ নিয়েছে।

সাধারণত কারো মৃত্যুর পর কুলখানি, চেহলাম, মৃত্যুবার্ষিকী, শিশুর জন্মের পর আকিকা, ধর্মীয় ব্যক্তির মৃত্যুবা

 

র্ষিকী ইত্যাদি উপলক্ষে বিপুল পরিমাণ মানুষের আপ্যায়নের জন্য এই মহাভোজের ব্যাবস্থা করা হয়। এসব নির্দিষ্ট উপলক্ষ ছাড়াও কোনো শুভ ঘটনার জন্য মেজবান করার রীতি চট্টগ্রামে আছে।

 

বাংলাদেশের বিশেষ এই অঞ্চল চট্টগ্রামে অথিতি আপ্যায়নে বেশ সুনাম রয়েছে বহু শতক ধরেই। এ অঞ্চলে আপনি কোন লেভেল এর আত্মীয় তা মুখ্য নয় একবার এসে যখন পড়েছেন আপ্যায়িত না হয়ে যেতেই পারেননা ঠিক একই সুত্রে মেজবান আয়োজনের সময় কাছের কিংবা দুরের এবং পাড়া-প্রতিবেশীদের মন ভরে খাওয়ানটাই আয়োজকদের উদ্দেশ্য। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এলাকায় মাইকিং করে দাওয়াত দেয়া হয়, এখানে থাকেনা কোন লিমিট যতক্ষণ পর্যন্তনা ডেকচী খালী হয় ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকে খাওয়ার এই আয়োজন। এ অঞ্চলে ধনী গরিবের ভেদাভেদ ভুলে মেজ্জানের মাধ্যমে সবাইকে সার্বজনীনভাবে সম্পৃক্ত করার রীতি সুদীর্ঘকাল ধরেই। মেজ্জানে গরুর মাংস ও অন্যান্য উপকরনের সাথে ক্ষেত্র বিশেষে ঘনিষ্ঠজনদের জন্য ছাগল ও মুরগির মাংস এবং  মাছ এরও ব্যাবস্থা করা হয়। তবে মেজবানের মূল আকর্ষণ ও মূল পদ গরুর মাংস যা চট্টগ্রামের ভাষায় মেজ্জাইন্না গোস্ত হিসেবেই পরিচিত। এই মাংস রান্নার ধরন আলাদা, মসলাও ভিন্ন, শুধুই কি তাই…! রান্নার ডেকচি থেকে শুরু করে চুলা পর্যন্ত আলাদা। এই কাজে দক্ষ কেবল চট্টগ্রামের বাবুর্চিরা, আর তাঁরা বংশপরম্পরায় এই ঐতিহ্যের ধারা অব্যাহত রেখেছেন। মেজবানের রান্নার রয়েছে আলাদা বিশেষত্ব এবং এর রন্ধন প্রক্রিয়ার রয়েছে বিশেষ পদ্ধতি। সাধারণ রান্নার বিপরীতে এই মাংস রান্না অনেকটা তৈলাক্ত, মশলাযুক্ত এবং কালচে রঙের বিশেষ স্বাদের হয়। রান্নার উপকরণে আছে বিশেষ মশলা যার বেশীরভাগই স্থানীয়ভাবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় উৎপাদিত, বাবুর্চিরা রান্নায় হাতে বাঁটা মশলাই ব্যাবহার করে। কেননা অন্য কোন মশলা ব্যাবহার করলে মেজবানি রান্নার স্বাদ ঠিক মত হয়না। রান্নার জন্য প্রয়োজন বড় আকারের পাত্র(কড়াই), আর জ্বালানি হিসেবে পূর্বে কাঠের লাকড়ি ব্যাবহার হলেও পাশাপাশি সময়ের পরিক্রমায় তুষের তৈরি কালো লাকড়িও ব্যাববহার হচ্ছে ইদানীং।

এ রকম আয়োজন, চট্টগ্রামের সবকটি এলাকায়। এককালে মাটির পাত্রে এই মেজবানের আয়োজন করা হলেও বর্তমানে গ্রামের খোলা মাঠে অথবা বাড়ির উঠান বা ঘরের ছাদে প্যাণ্ডেল করে বসানো হয় সারি সারি চেয়ার টেবিল। এসব চেয়ার টেবিল সাজানো হয় খাবার পরিবেশনের জন্য। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশিরা দলে 

দলে এসে যোগ দেয় এসব মেজবানে। সকলেই খেতে পারে যার যেমন ইচ্ছে তেমন ভাবে। এটা সার্বজনীন তাই কারো জন্য থাকে না বাধা। যতক্ষণ না খাবার তৃপ্তি না মিটবে ততক্ষণ খাওয়া যাবে, টেবিলে ধনী গরিব নির্বিশেষে একসাথে বসেই এই খাবার ভোজন করে।

বর্তমান সময়ে চট্টগ্রামের এই ঐতিহ্যবাহী খাবার এখন আর নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই এর প্রসার দেশের সীমানা পেড়িয়ে বহিঃবিশ্বেও ছড়িয়ে পড়েছে। 

 

চট্টগ্রামের দেখাদেখি বাংলাদেশের আনাচে কানাচে অন্যান্য জেলাগুলোতেও এখন মেজবানের আয়োজন করা হয় তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চট্টগ্রাম থেকে বাবুর্চি নিয়ে যাওয়া হয় মূল স্বাদটি আস্বাদন করতে। ঢাকায় এখন বিভিন্ন সভা-সমিতি এবং কর্পোরেট ফার্মগুলো তাদের বার্ষিক ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে মেজবান আয়োজন করে থাকে।

চট্টগ্রামের বিশেষ এই ঐতিহ্যবাহী খাবার মেজবান শত বছর ধরেই চাঁটগাবাসী তথা বাংলাদেশীদের রসনাবিলাসে তৃপ্তি জুগিয়ে যাচ্ছে।

 

জেনে নিন খাদ্যে ভেজাল চিহ্নিত করার ঘরোয়া উপায়!

Now Reading
জেনে নিন খাদ্যে ভেজাল চিহ্নিত করার ঘরোয়া উপায়!

“ভেজাল” শব্দটির সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। সেই ভেজাল এখন রুপ নিয়েছে ‘খাদ্য ভেজালের’। খাদ্য মানুষের জন্য অপরিহার্য একটি বিষয়। মানুষের শরীর সুস্থ রাখতে খাদ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে, কিন্ত, সেই খাদ্য ই আজ ভেজাল এর কারণে মানুষের শরীরের জন্য হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। খাদ্য ভেজাল বর্তমানে সর্ব আলোচিত বিষয় গুলোর মধ্য অন্যতম। ইতিপূর্বে, আমরা পরিচিত ছিলাম খাদ্য ভেজাল এর একটি উপায় ফরমালিন এর সাথে। ফরমালিন এর মাধ্যমে মাছ থেকে শুরু করে শাক-সবজি পর্যন্ত সকল কিছুকে পচনরোধ করে ভেজাল মিশ্রিত করা হয়ে থাকে। ফরমালিন এর মাধ্যমে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি সাধন হয়ে থাকে। দেশ যখন ব্যস্ত খাদ্য ফরমালিন মিশ্রণ বন্ধ করাতে ঠিক সেই মুহূর্তে চীন বের করে দিল প্লাস্টিক চাউল ও কৃএিম ডিম। শুনে অবাস্তব মনে হলেও এইটা বাস্তবে রুপ নিয়েছে অনেক আগে থেকেই।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্য ‘চীন অন্যতম। চীন একটি প্রযুক্তিগত উন্নয়নশীল দেশ। অন্যভাবে চীনকে নকল এর রাজা ও বলা যেতে পারে। অবশ্যই বাংলাদেশ থেকে চীন প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে। প্রযুক্তির দিক থেকে বিশ্বকে তাক লাগানোর দেশগুলোর মধ্য অন্যতম। কারিগরি শিক্ষায় এই দেশটি বেশ এগিয়ে চলেছে। বিভিন্ন প্রযুক্তিগত জিনিস এর নকল খুব সহজেই বানিয়ে ফেলে চীন। অন্যদিকে, বিশ্ব চীন এর প্রযুক্তিগত জিনিস-পএ ব্যবহার করে প্রযুক্তির দিয়ে চলছে একধাপ এগিয়ে। আর বিশ্ব যখন চীন এর প্রযুক্তির উপহারে মনোমুগ্ধ, ঠিক, তখন ই চীন বের করলো অভাবনীয় প্লাস্টিক চাউল ও কৃএিম ডিম। চীন এর এই আবিষ্কারে বিশ্ব আশাহত ভাবেই হতবাক।

অভাবনীয় এই দুই বস্তুর আবিষ্কারে চীন শুনেন নি কোন সাধুবাদের সুবাস। কারন, তাদের এই আবিষ্কারে কোন বিশেষভাবে উপকৃত হচ্ছে না বিশ্ব। কিন্তু, এই আবিষ্কারে মানব দেহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। যদি ও এই ক্ষতিকর প্লাস্টিক চাউল ও কৃএিম ডিম কোন বৈধ উপায়ে বাংলাদেশে আমদানি হয় নি। সাম্প্রতি কিছু আসাধু ব্যবসায়ী অসৎ ভাবে এই ক্ষতিকারক প্লাস্টিক চাউল ও কৃএিম ডিম আমদানি করেছে বলে জানা গেছে এবং তা সাধারণ বাজার গুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই এই দুঃসংবাদ গভীর ভাবনার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের।

চাউল ও ডিম আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যভাসের বিশেষ অংশ হিসেবে বিবেচিত। বাঙালির একটা কথা আছে, “মাছে ভাতে বাঙালি”। তাই তো চাউল ও আমাদের বিশেষ প্রয়োজনের এবং আমাদের শরীরের শর্করা পূর্রণে অন্যতম বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে ‘চাউল’। এদিকে ‘ডিম’ আমিষ এবং প্রোটিনের অভাব পূর্রণ করে থাকে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য আমিষ ও প্রোটিনের অভাব পূর্রণের ক্ষেএে ‘ডিম’ থাকে পছন্দের তালিকায়।
কিন্তু, চীন এর আবিষ্কারকৃত প্লাস্টিক চাউল ও কৃএিম ডিম খুব ই আশংকায় কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। কারণ প্রাকৃতিক চাউল ও ডিম এর মতোই দেখতে ই চীনের তৈরিকৃত প্লাস্টিক চাউল ও কৃত্রিম ডিম।

প্লাস্টিক চাউল খাওয়ার মাধ্যমে প্লাস্টিক মানুষের পাকস্থালী তে এক প্রকার মারাত্মক গ্যাস তৈরি করে, যা মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। এবং প্রতিদিন এই প্লাস্টিক এর চাউল খাওয়ার মাধ্যমে মানুষের কিডনি ও ড্যামেজ হয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে ‘ডিম’ মানুষের শরীরের জন্য যতটাই উপকারি, নকল কৃত্রিম ডিম মানব দেহের জন্য ততটাই ক্ষতিকারি। চীন এর তৈরিকৃত এই নকল কৃত্রিম ডিম তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ক্ষতিকারক কেমিকেল এর মাধ্যমে। জিপসাম পাউডার, প্যারাফিন ওয়েক্স, বেনজোয়িক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, জিলেটিন, সোডিয়াম অ্যালগিনেট, সেলিকাম কার্বেনেট এর মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে এই নকল কৃত্রিম ডিম। এই কৃত্রিম ডিম এর মাধ্যমে নার্ভ সেল ড্যামেজ ও লিভার খারাপ হওয়ার আশংকা সহ পেট এ নানাবিধ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

সাধারণ চাউল ও ডিম এর মতো ই দেখতে প্লাস্টিক চাউল ও কৃত্রিম ডিম ছড়িয়ে পড়েছে
সাধারণ বাজার থেকে সুপার মার্কেট পর্যন্ত। নকল চাউল আর আসল ডিম চেনা অসম্ভব হয়ে উঠেছে। কিন্তু “নিজে স্বাস্থ্য নিজের সম্পদ”, তাই নিজের স্বাস্থ্যগত নিরাপদ এর কারণে নকলের মাঝে থেকে আসল চিনতে পারা টা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও বটে।
কিছু সাধারণ বিষয় মনে রাখলে, অবশ্যই আসল চাউল ও ডিম খুঁজে বের করা সম্ভব।

★ প্লাস্টিক চাউল > মনে রাখবেন এইটি একটি প্লাস্টিক দ্রব্য। তাই কয়েকটি চাউল আগুনে দিন দেখবেন পুড়ে যাবে। এবং তা খুব ই তাড়াতাড়ি। সেই চাউল গুলো পুড়বার সময় প্লাস্টিক পোড়ার গন্ধ বের হবে।

প্লাস্টিক সব সময় পানির উপরিভাগে উঠে থাকে। কয়েকটা চাউল নেন এবং একটি গ্লাসে পানি নিয়ে তার ভিতরে ছেড়ে দিন। দেখবেন চাউল গুলো যদি ভেসে থাকে তাহলে সেগুলো প্লাস্টিক চাউল।

সাধারণ চাউলের তুলনায় প্লাস্টিক চাউল গুলো একটু বেশি চ্যাপ্টা আকৃতির হয়ে থাকে।

অন্যদিকে কৃএিম ডিম চেনার জন্য ও কিছু সাধারণ উপায় আছে।

★ কৃত্রিম ডিম > নকল ডিম আসল ডিম অপেক্ষা একটু বেশি চকচকে হয়ে থাকে। তাই এক্ষেএে আপনাকে মনে রাখতে হবে, ” চকচক করিলে সোনা হয় না”।

আপনি যেই ডিম টা নিতে যাচ্ছেন সেই ডিমটায় একটু হাত টা চালিয়ে দেখুন মসৃন কিনা? যদি মসৃন হয় তাহলে এটি আসল ডিম। কারন, নকল ডিম কখনো একেবারে মসৃন হয় না। এই ক্ষেএে আপনাকে মনে রাখতে হবে, “উপরওয়ালার সৃষ্টি নিখুঁত হয়”।

আপনার হাতের সামনের ডিমটি কানের সামনে নিয়ে হালকা নাড়িয়ে দেখুন তো কোন শব্দ অয়ান কিনা? যদি শব্দ পান তাহলে এইটি ই সেই কৃএিম ডিম। আর যদি না পান, তাহলে আপনি আসল ডিম পেয়েছেন। কারন, কৃত্রিম ডিম গুলো তৈরি হয়ে থাকে বিভিন্ন কেমিকেল দিয়ে, তাই এর ভিতরের কুসুম আসলের মতো হয় না।
এক্ষেএে আপনে মনে রাখতে পারেন, “খালি কলসি বাজে বেশি”।

আসল ডিমের সাদা অংশ থেকে খুব সহজেই কুসুম আলাদা করা যায়। কিন্তু, নকল ডিম এর ক্ষেএে ঠিক বিপরীত দিক টা হবে। কারন, কৃত্রিম ডিম এর কেমিকেল দিয়ে তৈরি হওয়ার কারণে তা আলাদা করা যায় না।

সবশেষে আরেকটা পরীক্ষা আপনি করতে পারেন, তা হলো, ডিমের খোসা টা আগুনে ফেলুন, যদি সাথে সাথে আগুন লেগে যায়, তাহলে এইটি নকল ডিম। এবং এর খোসা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হয়ে থাকে, তাই পোড়ার সময় গন্ধ টা প্লাস্টিক পোড়ার হবে।

আপনার শরীর আপনার সম্পদ। একে সুস্থ রাখার দায়িত্ব ও আপনার। তাই চোখ কান খোলা রাখুন এবং সবসময় আমাদের সাথেই থাকুন।
ধন্যবাদ।

রেস্টুরেন্ট এর ইফতার আয়োজন

Now Reading
রেস্টুরেন্ট এর ইফতার আয়োজন

আমরা বাঙ্গালিরা অত্যান্ত ভোজন রসিক।আর এই ভোজন রসিকতার পেছনে আছে অনেক ইতিহাস।তবে আজ সেই ইতিহাস নিয়ে কিছু বলছি না।পবিত্র রমজান মাস চলছে ।আর আই রমজান মাসে অনেকেই চায় বন্ধু বান্ধব আত্তিয় স্বজন নিয়ে কোন ভালো রেস্টুরেন্ট এ ইফতারি করতে।তবে সমস্যা হলো যে এতো এত রেসটুরেন্ট কোনটায় গেলে আপনি পাবেন ভাল খাবার এবং সুন্দর পরিবেশ।আর তাই আপনাদের এই সমস্যা দূর করতে আমি আপনাদের কিছু রেস্টুরেন্ট এর কথা বলবো যেখানে আপনি আপনার স্বজন দের নিয়ে মনের আনন্দে ইফতারি কোরতে পারবেন। তবে চলুন দেখে নেয়া যাক।

১. ক্যাফে রিও

18766431_1464000920341396_8263307955491941191_o.jpg

 

ইফতারির মেনু :

মেনু ১:ফ্রাইড রাইস,আম স্লাইস ,তান্দুরি চিকেন ২ পিস,মালটা স্লাইস ,ক্রিস্পি উইংস ৪ পিস্,আপেল স্লাইস,চিংড়ি মাসালা,খেজুর, মিক্স ভেজিটেবলেস,শশা ,ডিম্ চপ ,টমেটো ,আলুর চপ,রূহ আফজা ২ গ্লাস

পরিবেশন ২ জনের জন্য

মূল্য : ৳৪৯০/-

মেনু ২: ফ্রাইড রাইস,তরমুজ ,চিকেন মাসালা,আম,চিকেন সাসলিক ২ পিস,মালটা ,ক্রিস্পি উইংস ৪পিস,আপেল,মিক্স ভেজিটেবলেস,খেজুর,ডিম্ চপ,লেমোনাইড ২ গ্লাস,কোলেসলাও,গ্রীন সালাদ

পরিবেশন ২ জনের জন্য

মূল্য : ৳৫৫০/-

বিশেষ মেনু: কোকোনাট আইসক্রাম

মূল্য : ৳১২৫/-

ঠিকানা :The Cafe Rio,ফুড ক্লাব এর ভিতর (কাজী ফুড আইল্যান্ড এর পাশে ),৩০০ ফুট পূর্বাচল রোড ,বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা এবং বসুন্ধরা কনভেনশন সিটির থেকে ২ মিনিট এর পথ।

২. রেড টমেটো রেস্টুরেন্ট

18623510_1508278312579538_5329734500591521638_o.jpg

ইফতারির মেনু :

মেনু ১:খেজুর (২ পিছ),জিলাপি (১ পিছ) ,পিঁয়াজু (১ পিছ) ,মুড়ি , ছোলা , অনথন (২ পিছ ), ফ্রাইড রাইস , ফ্রাইড চিকেন (১ পিছ) ,মিক্সড ভেজিটেবল,চিকেন সুইট কর্ণ ,সফট ড্রিঙ্ক (১ টি), মিনারেল ওয়াটার (১ টি)

পরিবেশন ১ জনের জন্য

মূল্য : ৳ ৩৯৫/-

মেনু ২:খেজুর (২ পিছ) ,জিলাপি (১ পিছ) , পিঁয়াজু (১ পিছ) , মুড়ি , ছোলা , অনথন (২ পিছ) , থাই সুপ , ফ্রাইড রাইস , ফ্রাইড চিকেন (১ পিছ) , মিক্সড ভেজিটেবল, চিকেন সুইট কর্ণ , সফট ড্রিঙ্ক (১ টি) , মিনারেল ওয়াটার (১ টি)

পরিবেশন ১ জনের জন্য

মূল্য : ৳ ৪৫৫/-

ঠিকানা : হাউজ ৫০, রোড ১৬ (নতুন)/ ২৭(পুরাতন), ধানমন্ডি  ১২০৭, ঢাকা, বাংলাদেশ

৩. আলফ্রেস্কো

18698319_1508366452570724_5437970132084242225_n.jpg

ইফতারির মেনু :

মেনু ১: চিকেন কাটলেট ,জালি কাবাব ,ডিম্ চপ ,চিকেন সাসলিক ,৬” পিজা অথবা পাস্তা ,অন্থন ,জিলাপি ,মিনারেল ওয়াটার

পরিবেশন ১/২ জনের জন্য

মূল্য : ৳ ৫৯৯/-

মেনু ২: চিকেন কাটলেট ,জালি কাবাব ,ডিম্ চপ ,চিকেন সাসলিক ,ফ্রাইড রাইস ,আলফ্রেস্কো স্পেশাল চিকেন ফ্রাই,সালাদ ,অন্থন ,জিলাপি ,মিনারেল ওয়াটার

পরিবেশন ১/২ জনের জন্য

মূল্য : ৳ ৪৯৯/-

ঠিকানা : শহীদ বাকী রোড,ঢাকা, বাংলাদেশ /

প্লট-৮৪, রোড -১১, বনানী, লেভেল -১৯,  ১২১৩ ঢাকা, বাংলাদেশ  /

র্যাঙ্গস নাসিম স্কয়ার (২ য় তলা), হাউস: ২৭৫ / ডি (পুরাতন) ৪৬ খ (নতুন), সড়ক -৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন) ১২২৯ ঢাকা, বাংলাদেশ

৪. ইন্সট্যা বাইটস

18672876_1509762382431131_8418358115171343717_o.jpg

ইফতারির মেনু :

মেনু ১: চিকেন চীজ ডিলাইট বার্গার ,প্যান পাস্তা  (১ জনের জন্য ), ফ্রাইড  চিকেন  ১/৪, চকলেট / স্ট্রবেরি /ম্যাংগো শেক এবং মিনারেল ওয়াটার

পরিবেশন ১জনের জন্য

মূল্য : ৳ ৩২০/-

মেনু ২: বীফ চীজ ডিলাইট বার্গার ,প্যান পাস্তা  (১ জনের জন্য ), ফ্রাইড  চিকেন  ১/৪, চকলেট / স্ট্রবেরি /ম্যাংগো শেক এবং মিনারেল ওয়াটার

পরিবেশন ১জনের জন্য

মূল্য : ৳ ৩৫০/-

ঠিকানা : 373 / বি, শতদল রোজ হাইটস, খিলগাঁও তালতলা।

৫. দাওয়াত-এ-মেজবান

18698160_1510006405740062_5138273789788894221_n.jpg

ইফতারির মেনু :

মেনু ১: ফ্রাইড রাইস ,চিকেন উইথ মাশরুম ,স্প্রিং চিকেন ,থাই মিক্সড ভেজিটেবলেস ,চিকেন  ফিঙ্গার ,চিকেন সসেজ ,ফ্রাইড  অন্থন,ওনিয়ন  রিংস ,মিন্ট  লেমনেড ,খেজুর ,মৌসুমী ফল, স্পেশাল  কুলফি

পরিবেশন ১জনের জন্য

মূল্য : ৳ ৫৪৯/-

মেনু ২: বাটার নান,রেশমি বাটার মশলা ,চিকেন  বল ,চিকেন  শাসলিক ,চিকেন  ফিঙ্গার ,তান্দুরি  চিকেন ,লাজাজ কাবাব ,মিন্ট লেমনেড ,মিক্সড সালাদ , খেজুর ,মৌসুমী ফল, স্পেশাল  কুলফি

পরিবেশন ১জনের জন্য

মূল্য : ৳ ৫৮৯/-

 

ঠিকানা : বিকল্প টাওয়ার , হাউস ৭৪ , রোড  ৫এ, লেভেল  ৩, ধানমন্ডি

ঢাকা , বাংলাদেশ  ১২০৯.

৬. ডি স্মাক ক্যাফে

18673317_1867091013614181_266148321264042554_o.jpg

ইফতারির মেনু :

মেনু ১: থাই ফ্রাইড রাইস,BBQ চিকেন ড্রামস্টিক,বেগুনী,মিশ্র সালাদ, মিন্ট দই

পরিবেশন ১জনের জন্য

মূল্য : ৳ ৪১০/-

মেনু ২: চিকেন তান্দুরি, ফ্রাইড রাইস, মিক্স সালাদ, চাইনিজ ভেজিটেবল, মিন্ট দই

পরিবেশন ১জনের জন্য

মূল্য : ৳ ৩৭৫/-

মেনু ৩: ফ্রাইড রাইস, সুইট এন্ড সর চিকেন, ড্রাই চিলি চিকেন, মিক্স সালাদ, মিন্ট দই

মূল্য : ৳ ৩৪০/-

ঠিকানা : ৭৩৬ কে.বি স্কোয়ার, ৯ তলা, সাতমসজিদ  রোড , ধানমন্ডি ৯/এ

১২০৯ ঢাকা

এছাড়াও কিছু কিছু রেসুরেন্ট দিচ্ছে যত খুশি তত খাবার সুযোগ আর সেগুলো হলো :

১. কোফিলিসিয়াস:unlimited পিজা মূল্য : ৳ ৬৯৯/-

18698342_1510694639004572_4715738363621491969_n.jpg

 

২.এ এন্ড ডব্লিউ: unlimited গোল্ডেন আরোমা চিকেন  মূল্য : ৳৬৫০/-

18699473_1510662312341138_3516549388817000058_o.jpg

 

৩. পিমিয়েন্ট: unlimited পিজা  মূল্য : ৳ ৫৯৯/-

18765610_1511016888972347_1249347248574853344_n.jpg

 

৪. কেএফসি: unlimited বার্গার  মূল্য : ৳ ৬৯৯/-

18767591_1510658752341494_6961558500096590517_n.jpg

 

৫. পিজা গায়: unlimited পিজা  মূল্য : ৳ ৮৯৯/-

18670751_1509713102436059_6933400949740987381_n.jpg

ত আর দেরি না করে আপনার স্বজনদের নিয়ে উপভোগ করে আসুন। আশা করি আপনারা নিরাশ হবেন না।

ধন্যবাদ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আনারস এবং দুধ একসাথে খেলে কি মৃত্যু হয় ? নিছক কুসংস্কার নাকি বাস্তবতা ??

Now Reading
আনারস এবং দুধ একসাথে খেলে কি মৃত্যু হয় ? নিছক কুসংস্কার নাকি বাস্তবতা ??

আমরা ছোটবেলায় মা-বাবার অনেক বারণ শুনেছি দুধ এবং আনারস একসাথে না খেতে। আনারস খেলে দুধ দুই ঘণ্টা পরে খেতে হয়; আনারস হজম না হওয়া পর্যন্ত দুধ বা দুধের তৈরি কিছু খাওয়া যাবে না ইত্যাদি এমন সাবধান বাণী।  কখনও এমনও হয়েছে বাসায় আনারস খাওয়া হয়েছে তো দুধ আড়াল করে রেখে দেয়া হত যাতে করে ভুলেও যেন কেউ না খায়। আমাদের অভিভাবকদের এমন সাবধানতা এবং যারা এখনও দুধ-আনারস একসাথে খেতে ভয় পায়, তাদের ধারণাগুলো আসলে কতটুকুই বা সত্য এর কতটুকুই মিথ্যা, কিভাবে তৈরি হল তাদের এই ধারণা সেই সাথে এই ফলের কিছু চমকপ্রদ উপকারিতা সম্পর্কে চলুন জেনে নেয়া যাক।

আনারস

আনারস গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম । আনারসের আদি নিবাস ব্রাজিল এবং প্যারাগুয়ে। বিখ্যাত ভ্রমণকারী ক্রিস্টোফার কলাম্বাস ১৪৯৩ খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম এই ফল আমেরিকা থেকে ফ্রান্সের গুয়াদেলোপ (Guadaloupe) এ নিয়ে আসেন এবং সেখান থেকেই নাবিক এবং সামুদ্রিক বণিকদের মাধ্যমে সারা বিশ্বে এটি ধীরে ধীরে ছড়িয়ে যায়। সে সময়ে নাবিকদের এবং সমুদ্রে ভ্রমণকারীদের কাছে এক ভয়ঙ্কর প্রাণঘাতী রোগ ছিল স্কার্ভি। তারা জানত না যে স্কার্ভি রোগ কেন হয় কিন্তু তারা ঠিকই বের করে নিয়ে নিয়েছিল কমলা, লেবু এবং অন্য টক ফলগুলো খেলে এই রোগে প্রাণ দিতে হত না। আর এভাবেই তাদের সমুদ্র যাত্রার একটি অনুষঙ্গ হয়ে উঠে এই ফল। ধারণা করা হয়, ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে পর্তুগীজ বণিকরা সর্বপ্রথম এই ফলের বীজ এই ভারতীয় উপমহাদেশে নিয়ে আসে। আর এভাবেই এই রসালো ফল যুগের পর যুগ চাষ হয়ে আসছে। বাংলাদেশে এখন প্রায় সারা বছরই  এই ফল প্রচুর পরিমাণে রাস্তা-ঘাঁটে বিভিন্ন আকার ও দামের বিক্রি হতে দেখা যায়।

১০০ গ্রাম আনারস এর মধ্যে সাধারণত ৫০ কিলোক্যালরি এনার্জি (শক্তি), শর্করা ১৩.১২ গ্রাম, ফ্যাট ০.১২ গ্রাম, প্রোটিন ০.৫৪ গ্রাম, ৪৭.৮ মি.গ্রা. ভিটামিন সি (প্রায় ৫৮ শতাংশ) এবং বাকি অংশ অন্যান্য ভিটামিন (বি১, বি২, বি৩, বি৫, ফলেট) এবং ক্যালসিয়াম, ম্যাংগানিজ, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক এবং সাইট্রিক এসিড (Citric Acid) পাওয়া যায়। এই পুষ্টি উপাদান গুলো দৈনন্দিন জীবনে অপরিহার্য আর সাইট্রিক এসিড হচ্ছে একধরণের প্রাকৃতিক ফরমালিন (Natural Preservative)  বলা চলে যা ফলের সজীবতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। লেবু জাতীয় সব ধরনের ফলের মধ্যেই এই এসিড পাওয়া যায় এবং ফলের টক স্বাদ এই এসিডের কারণেই অনুভূত হয়। পুষ্টিগুণ বিচার করলে এমন কিছুই পাওয়া যায় না জার কারণে আনারস খেলে মানুষের প্রাণ সংশয় দেখা দিতে পারে। তবে কি দুধের মধ্যে কোন এমন কিছু আছে যা আমাদের আশংকা প্রমাণিত করতে পারে ? আসুন সামনে এগোনো যাক, দুধ অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি পানীয় বা খাদ্যদ্রব্য। দুধের মধ্যে দুই ধরণের শর্করা, তিন ধরণের ফ্যাট, প্রায় আঠারো ধরণের প্রোটিন উপাদান, ছয় ধরণের ভিটামিন এবং চার ধরণের খনিজ (ক্যালসিয়াম, ম্যাংগানিজ, পটাসিয়াম, সোডিয়াম) পাওয়া যায় । এই আঠারো ধরণের প্রোটিনের মধ্যে একটি প্রোটিন উপাদান হচ্ছে ক্যাসিন (Casein)। এই ক্যাসিন হচ্ছে ফসফেট গোত্রীয় প্রোটিন উপাদান। এখন কেউ যদি দুধ আর আনারস কিংবা সাইট্রিক এসিড জাতীয় অর্থাৎ টক জাতীয় যে কোন ফল খায়, যখন পাকস্থলীতে এই সাইট্রিক এসিড এবং ক্যাসিন একত্রিত হয়;  একধরণের বিক্রিয়া হয় যার দরুন আনারসের সাইট্রিক এসিড দুধের ক্যাসিন (Casein) প্রোটিনকে ভেঙ্গে দেয় এবং যার ফলে ছানা (Lactobacillus) তৈরি হয়। সেই একই প্রক্রিয়া যেভাবে আমরা দুধের মধ্যে লেবুর রস বা ভিনেগার দিয়ে মিষ্টির দোকানে ছানা তৈরি করতে দেখি । সেই ছানা আমাদের পেটে হজম হয়ে যায়। পেটের মধ্যে সৃষ্ট এই বিক্রিয়া থেকে এমন কোনও বিষক্রিয়া তৈরি হওয়ার প্রমাণ আজ পর্যন্ত কোনও বিজ্ঞানী পায়নি। কোনও সায়েন্টিফিক জার্নাল, গবেষণা বা রিপোর্ট থেকে কোনও প্রমাণ বা অনুমান পাওয়া যায় না। যদি এই প্রক্রিয়াতে আসলেই কোন বিষক্রিয়া তৈরি হত তাহলে আমরা কখনো সুস্বাদু ছানার স্বাদ নিতে পারতাম না। তবে উল্লেখ্য যে আনারস এবং দুধ উচ্চ পুষ্টিমান সম্পন্ন হওয়াতে যাদের পাকস্থলী দুর্বল তাদের হজমে কিছুটা সমস্যা হতে পারে; পেটফাঁপা, বদহজম, গ্যাস তৈরি হওয়া ইত্যাদি। তাছাড়া যাদের আনারসে অ্যালার্জি আছে শুধু মাত্র তাদেরই কিছুটা অ্যালার্জিক রিয়েকশন পরিলক্ষিত হতে পারে যেমনঃ ঠোঁট ফুলে যাওয়া বা গলায় সুরসুরি বোধ হওয়া। যাদের আনারসে অ্যালার্জি আছে, তারা খাবার পূর্বে আনারস কেটে লবণ পানি দিয়ে ধুয়ে নিলে আর কোন সমস্যা হবে না। কিন্তু আনারস আর দুধ খেয়ে বিষক্রিয়ায় অমুক জায়গায় এত জনের মৃত্যু এমন খবর শুধু মাত্র আষাঢ়ে গল্পই হতে পারে। পৃথিবীর আর কোথাও এমন কুসংস্কার এর খবর পাওয়া যায় না। এমনকি পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় আনারসের মিল্ক শেক, পাইন-অ্যাপেল ব্যনানা স্মুথি, আনারস আর দুধ দিয়ে তৈরি খাবারের কথা জানা যায়। Youtube ঘাঁটলে আপনি আনারস এবং দুধের অনেক রেসিপি পাবেন। তো কি ভাবছেন টেস্ট করে দেখবেন নাকি আনারসের মিল্ক শেক বা স্মুথি ?

আনারসের পাঁচ উপকারিতা

আনারসের রয়েছে নানাবিধ উপকারিতা। তার মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য উপকারিতা জেনে রাখা যাক। যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন সময়ে কাজে লাগতে পারে।

ক) যারা স্থুল স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত তারা ওজন নিয়ন্ত্রণে আনারস খেতে পারেন। কারণ এর মধ্যে মাত্র (০.১২ গ্রাম) ফ্যাট, (১৩.১২ গ্রাম) শর্করা এবং বাকি পুরোটাই এনার্জি, ফাইবার এবং ভিটামিন। এতে আপানার পেট ভরবে, কাজের শক্তি পাবেন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ হবে।

খ) আনারস ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। যাদের দাঁত দুর্বল, মাড়িতে সমস্যা তারা আনারস খেলে ভালো ফল পাবেন। ক্যালসিয়াম দাঁত শক্ত করে আর ভিটামিন সি মাড়ি মজবুত করে।

গ) আনারসের বিটা ক্যারোটিন আমাদের চোখের ম্যাক্যুলার ডিজেনারেসন (Macular Degeneration) নামক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস করে। এই রোগে চোখের রেটিনা দুর্বল হয়ে যায় এবং আমাদের চোখ কোন কিছুর উপর ঠিকভাবে ফোকাস করতে পারে না। শুধু মাত্র আমেরিকাতেই এই রোগে ১০ মিলিয়ন লোক আক্রান্ত।

ঘ) ভিক্টোরিয়ান ইন্সটিটিউট অফ অ্যানিমেল সায়েন্স, অস্ট্রেলিয়া এর এক গবেষণা থেকে জানা যায় যে আনারসের ব্রমালিন (Bromelain) হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং ডাইরিয়ার সময় খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

ঙ) ইউনিভার্সিটি অফ ম্যারিল্যান্ড মেডিক্যাল সেন্টার এর এক গবেষণা থেকে জানা যায় যে, সাধারণ ঠাণ্ডা, সর্দি জ্বর-এ আনারস খেলে দ্রুত উপসম হয়। এর ভিটামিন সি এবং ব্রমালিন এনজাইম শ্বাসযন্ত্রের জমাট কফ, শ্লেষ্মা নিঃসরণে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ব্রাজিল, পর্তুগাল এইসব দেশে মানুষ জ্বর বা ঠাণ্ডা হলেই পথ্য বাদ দিয়ে আনারস গিলতে থাকে।

ধন্যবাদ পোস্টটি পড়ার জন্য।

চিকেন কাটলেট /মাংসের চাপ

Now Reading
চিকেন কাটলেট /মাংসের চাপ

উপকরন           –      পরিমাণ

মুরগির কিমা              ১ কাপ

আলু সেদ্ধ                   ১ কাপ

পেঁয়াজ কুচি                 ৩ টেবিল চামচ

মরিচ কুচি                     স্বাদমত

আদা বাটা                      ১/২ চা চামচ

রসুন বাটা                       ১/২ চা চামচ

মরিচ গুড়া                       ১/২ চা চামচ

জিরা গুড়া                       ১/২ চা চামচ

গরমমসলা গুড়া               ১/২ চা চামচ

লবণ                                স্বাদমত

ধনেপাতা কুচি                   পরিমাণ মত

ভাজার জন্য তেল               পরিমাণ মত

ডিম                                    ১ টা

ব্রেড ক্রাম্ব                          পরিমান মত

পদ্ধতি:

আলু ধুয়ে কেটে টুকরা করে সিদ্ধ করে নিতে হবে।সিদ্ধ হয়ে গেলে খুব সুন্দর করে ডলে নিতে হবে।হাঁড় ছাড়া মুরগির মাংস নিয়ে ধুয়ে কেটে ,পাটা বা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।এবার একটি কড়াই এ তেল গরম করে,পেঁয়াজ কুচি দিয়ে হালকা লাল রং করে ভেজে নিব।তারপর আদা,রসুন বাটা,মরিচ গুড়া,জিরা গুড়া দিয়ে মসলা ভালমত কষিয়ে,মাংস ঢেলে দিয়ে ভালোভাবে নাড়তে হবে,যেন মসলা আর মাংস মিশে যায়।লবন দিয়ে দিতে হবে।মাংস থেকে যে পানি বের হবে তা দিয়েই মাংসটা সিদ্ধ হয়ে যাবে।আলগা পানি দেওয়ার দরকার নেই।মাংস সিদ্ধ হয়ে গেলে, আলু ভরতা,গরমমসলা,ধনেপাতা,মরিচ কুচি দিয়ে রান্না করতে হবে।হয়ে গেলে ঠান্ডা করতে হবে।ঠান্ডা হয়ে গেলে হাত দিয়ে ভালমত চটকে নিতে হবে।এবার পছন্দমত শেপ দিয়ে, যেমন – গোল,চ্যাপ্টা,হার্ট শেপ করে,গোলানো ডিমে চুবিয়ে পরে ব্রেড  ক্রামে গড়িয়ে নিয়ে,গরম ডুবো তেলে লালচে করে ভাজতে হবে।

এবার গরম গরম চিকেন কাটলেট চিলি সস বা হট টমেটো সস দিয়ে পরিবেশন করুণ।