পৃথিবীর ভয়ংকর বর্ডার, যেখানে সতর্ক না করেই গুলি ছোড়া হয়

Now Reading
পৃথিবীর ভয়ংকর বর্ডার, যেখানে সতর্ক না করেই গুলি ছোড়া হয়

বিশ্বের সবচেয়ে বিপদজনক বর্ডার কোনটি? এ নিয়ে নানান প্রশ্ন থাকতেই পারে। অনেকেই দাবী করতেই পারেন এই মুহূর্তে ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডের সঙ্গে ইসরায়েল সীমান্তের কথা। বিশ্বের প্রধান প্রধান সংবাদমাধ্যমে প্রতিনিয়ত উঠে এসেছে বছরের পর বছর সীমান্তে চলা ইসরায়েল আর্মি কর্তৃক অসংখ্য ফিলিস্তিনির নিষ্ঠুর হত্যার খবর। আবার আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রায়শ লিড নিউজ হত, আমেরিকা মহাদেশের যুক্তরাষ্ট্র আর মেক্সিকোর সীমান্তে প্রাণহানির ঘটত সীমান্ত রক্ষীদের গুলিতে। এসব তথ্য জানলেই স্বাভাবিকভাবে সবার মনে ধারণা জন্ম নেবে যে তারা কতইনা নিষ্ঠুর। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলযে, গুগলে অনুসন্ধান করলে এই প্রশ্নের উত্তরে দেখা যাবে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তই হচ্ছে সবচেয়ে প্রাণঘাতী। এর কারণ, সংখ্যার হিসেবে সীমান্তে প্রাণহানিতে সর্বোচ্চ রেকর্ড আমাদেরই। দুর্ভাগ্যজনকভাবে যার হতাহতের প্রায় ৯৫ শতাংশই বাংলাদেশি। হয়ত এ বিষয়ে মিডিয়া খুব একটা লিড নিউজ করেনা, কিন্তু নিরবে নিভৃতে হরহামেশাই ঘটে যাচ্ছে প্রাণহানি। সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে মাঝেমধ্যে নিউজ হলেও বিষয়টি এখন বিশ্ব রেকর্ডে পৌঁছেছে। বছর চারেক আগে করা ব্রিটেনের চ্যানেল ফোরের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর সর্ব প্রথম অন্যান্য গণমাধ্যমেরও নজরে আসে বিষয়টি। ‘ইন্ডিয়া’স গ্রেট ওয়াল, দ্য ওয়ার্ল্ডস ডেডলিয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার’ শিরোনামের প্রায় সাড়ে আট মিনিটের এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি প্রচারিত হয় ২০০৯ সালের ২৩ জুলাই। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন চ্যানেল ফোরের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সংবাদদাতা জোনাথন রাগম্যান, তিনি তাঁর প্রতিবেদনে দেখিয়েছেন যে সীমান্তে হতাহত ব্যক্তিদের সবাই গরু পাচারকারী অথবা চোরাকারবারি নন। এসব অবৈধ কারবারে কেউ কেউ  জড়িত থাকতে পারে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি দুর্ভোগ এবং বিপদের শিকার হচ্ছেন সীমান্ত এলাকার সাধারণ কৃষক এবং তাঁদের পরিবারগুলো। বেশ কিছু গ্রামবাসীর সাক্ষাৎকার রয়েছে ওই প্রতিবেদনে যারা চাষাবাদের কাজ করার সময় বিএসএফের হাতে নিগৃহীত হয়েছেন অথবা গুলি খেয়ে বেঁচে গেছেন। সীমান্তে যে প্রায় দুই হাজার মাইলজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া তৈরি হচ্ছিল, তার পাশ ঘেঁষে স্থানীয় লোকজনের চলাচল এবং সীমান্তরক্ষীদের সতর্ক নজরদারি ওসব জনপদের মানুষের জীবনযাত্রায় যে কী ধরনের ছন্দপতন ঘটিয়েছে, এসবের প্রতিফলন আছে প্রতিবেদনটিতে।

আঁতকে উঠার মত বিষয় হলেও, অথচ রাষ্ট্রের জনগণের এ ব্যাপারে কোন সঠিক ধারণাই নেই। বাংলাদেশ বা ভারতে তার কোনো প্রভাব পড়েছে বলে মনে হয়না।  ২০১০ সালের ৯ ডিসেম্বরে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ‘ট্রিগার হ্যাপি’ শিরোনামে বিশদ আকারে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, এই শতকের প্রথম ১০ বছরেই ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের নির্বিচার গুলিবর্ষণে নিহত হয়েছেন এক হাজারের মতো বাংলাদেশি নাগরিক। এর অর্থ দাড়ায় গড়ে প্রতিবছর ১০০ জন নিহত হয়েছেন যা প্রতি সাড়ে তিন দিনে একজন এর সমান। কোনো ধরনের যুদ্ধবিগ্রহ ছাড়া শান্তির সুযোগ থাকলেও কোনো দেশ তার প্রতিবেশী বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের নাগরিকদের এই হারে হত্যা করছে। আর এটা যে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নেতৃত্ব এবং সেই দেশের নাগরিক সমাজ বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নেবে তা কল্পনা করা অসম্ভব। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিক এবং এদেশের বোদ্ধারা এর ভয়াবহতা বুঝতে কার্যত ব্যর্থ হয়েছেন।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ এর এই ঘৃণ্য অমানবিক আচরণ যে এতটা ভয়াবহ যে তা ক্রমেই গুরুতর রূপ ধারণ করেছে। আর এই বিষয়টি সকলের বুঝতে না পারার কারণ, প্রধানত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের সামগ্রিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সন্দেহভাজনদের হত্যার বিষয়টিকে এক প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে, যা আমাদের বুঝতে সময় লেগেছে অনেক। ভারতের পাঁচটি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০৯৬ কিলোমিটার ৷ যার মধ্যে ৩০০৬ কিলোমিটারে রয়েছে কাঁটাতারের বেড়া এবং বাকি ১০৯০ কিলোমিটার উন্মুক্ত এবং এর মধ্যে আবার ৪০৬ কিলোমিটার ভৌগলিক কারণে বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়৷ ঐ অংশে নজরদারির জন্য সেন্সরের মতো বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার কথা বলে আসছে বিএসএফ৷ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের সিংহভাগ, অর্থাৎ ২২১৭ কিলোমিটারই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে৷ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় অনেক জটিলতা বিরাজমান। যার ফলে সীমান্তে দু’দেশের বাসিন্দা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলোকে পড়তে হয় নানামুখী সমস্যায়। ‘ইন-এডভার্টেন ক্রসিং’ অর্থাৎ অনিচ্ছাকৃত পারাপার এর মত বিষয়ও আছে যেমন, দেখা গেলো একই বাড়ির মধ্যে বোনের ঘরটা পড়েছে ভারতের সীমান্তে, আর ভাইয়ের ঘরটা পড়েছে বাংলাদেশের সীমান্তে। আবার দেখা গেল ছোট ভাই বসবাস করে বাংলাদেশে, আর বড় ভাই পাশাপাশি ঘরে থাকে ভারতের সীমান্তে। রান্নাঘর বাংলাদেশেতো টয়লেট ভারতে। এ ধরনের জটিল পরিস্থিতি এখনো অমীমাংসিত সীমান্তে। যার ফলে গৃহ পালিত পশু পাখি চড়ানোর ক্ষেত্রে কিংবা নিত্যদিনের অন্যান্য কর্মকাণ্ডে এসব এলাকার মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে ভুলবশত বা অজান্তে। কিন্তু ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের কাছে বিষয়টি চরম অপরাধের শামিল, তারা সীমান্ত অনুপ্রবেশকারীকে গুলি চালিয়ে প্রতিহত করে। সীমান্তবর্তী গ্রামবাসীদের এই অনিচ্ছাকৃত অন্যায়ের প্রতিদান স্বরূপ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লাশ হয়ে ফিরতে হয়। সীমান্ত পারাপারের ক্ষেত্রে দেখা যায় বেশিরভাগ লোকই নিরীহ, তারা আইন কিংবা নিয়মের ব্যাপারে খুব একটা অবগত নয়। বিএসএফ কর্তৃক ফেলানীর মত নিরীহ অবুজ কিশোরীর হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সীমান্তে, যা আমাদের হৃদয়ে নাড়া দেয় এখনো। কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকা ফেলানীর নিথর দেহের ছবি সাময়িকভাবে আমাদের কিছুটা বিচলিত করলেও সীমান্তে মানুষ হত্যা বন্ধের বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন নীতি নির্ধারকেরা। ফেলানী হত্যার বিচার ফৌজদারি আদালতে অনুষ্ঠানের জন্য ভারতের কাছে বাংলাদেশ কোনো দাবি জানিয়েছিল কি না, সে ব্যাপারে স্পষ্ট নয়। অথচ সে বিচার কার্যক্রম চলেছে বিএসএফ এর আদালতে। তৎকালীন সময়ে ‘সীমান্তে সন্দেহভাজনদের গুলি করা বন্ধ হবে না’ মর্মে বিএসএফের সাবেক প্রধান ইউ কে বনশল বলেছিলেন,  বাংলাদেশের কর্তাব্যক্তিরা কি ভুলে গিয়েছেন? ফেলানীর হত্যাকারী তো তাঁর বাহিনীপ্রধানের নির্দেশনাই অনুসরণ করেছে মাত্র। তাহলে সেই বাহিনীর আদালত কেন তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করবেন? কত ফেলানি যে অগোচরে হারিয়ে যাচ্ছে তার সঠিক হিসেব মেলেনা। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসেব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের হাতে ৪৬ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে৷ আহত হয়েছে ৭৩ জন৷ এ ছাড়া অপহরণ করা হয়েছে ৫৯ জনকে৷

কিছুদিন পূর্বেই ঢাকায় ডিজি পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলন হয়েছিল, সেই সম্মেলনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত হয়েছে—সীমান্তে কোনও হত্যাকাণ্ড হলে দুই পক্ষই ঘটনাস্থলে সরজমিন গিয়ে পরিদর্শন করব। দেখে যদি মনে হয়, এ হত্যাকাণ্ডটা এড়ানো সম্ভব ছিল কিংবা সঠিক হয়নি, এক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা উল্ল্যেখ আছে।

চলবে…

“Cold War” বা স্নায়ু যুদ্ধের গোড়াপত্তন

Now Reading
“Cold War” বা স্নায়ু যুদ্ধের গোড়াপত্তন

ইংরেজি ‘Cold War’ শব্দের বাংলায় বিভিন্ন প্রতিশব্দ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- ‘ঠাণ্ডা লড়াই’, ‘স্নায়ু যুদ্ধ’, ‘শীতল যুদ্ধ’, ‘প্রচার যুদ্ধ’ ইত্যাদি। আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাসে “কোল্ড ওয়ার” বা ঠাণ্ডা লড়াই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধত্তোর বিশ্বরাজনীতির চালিকাশক্তি ছিল এই ঠাণ্ডা লড়াই। আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতি-প্রকৃতি, বিশ্বের দুই পরাশক্তির মধ্যকার দ্বন্ধ ইত্যাদি সবকিছুই এই ঠাণ্ডা লড়াইকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। মূলত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে বিশ্ব রাজনীতি ও ঠাণ্ডা লড়াই অনেকটা সমার্থক হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্কের উত্থান-পতন, উত্তেজনা ও দ্বন্ধ সব কিছুর মূলে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে দায়ী ছিল ঠাণ্ডা লড়াই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধত্তোর পৃথিবীতে যুগপৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের “পরাশক্তি” বা “Super Power” হিসেবে আবির্ভাব ঘটে। উভয়ের মধ্যকার উত্তেজনার সময়কে ঠাণ্ডা লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ১৯৪৫ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিলো এটি। এই দুই পরাশক্তি সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে স্বীয় কূটনৈতিক তথা অর্থনৈতিক, সামরিক ও প্রচারণা শক্তির মাধম্যে ক্ষমতা, প্রভাব ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে এবং পৃথিবীকে দুটি পরস্পর বিরোধী শিবিরে বিভক্ত করে ফেলে। বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র এভাবে দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে একটি যুদ্ধোদ্দ্যম অবস্থার সৃষ্টি করে। এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, ঠাণ্ডা লড়াই মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বা “Psychological War” যা দুটি বিরোধী মতাদর্শগত দ্বন্ধ থেকে উদ্ভূত। এ দ্বন্ধের অর্থ ছিল সরাসরি প্রথাগত যুদ্ধে অবতীর্ণ না হয়ে একে অপরকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক কলা-কৌশলগতভাবে পরাভূত করা। এ ঠাণ্ডা লড়াইয়ের দুই প্রতিপক্ষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের স্বীয় প্রভাববলয় বা “Sphare of Influence” বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নিয়োজিত থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রে সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, যা চল্লিশের দশকের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে নব্বই দশকের গোড়ার দিক পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

এভাবে “যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়” সাধারনত এ ধরনের সম্পর্ককে বলা হয় ‘Cold War Relationship’। কাজেই ঠাণ্ডা লড়াই ছিল দুই জোটের মধ্যে এমন একটি যুদ্ধোন্মাদ সম্পর্ক, যে সম্পর্ক যুদ্ধ সৃষ্টি করেনি, কিন্তু যুদ্ধের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পেরেছিল। উল্লেখ্য যে, ঠাণ্ডা লড়াইয়ের ইঙ্গিত আমরা পাই উইনস্টন চার্চিলের ১৯৪৬সালের ৫মার্চ ওয়েস্ট মিনিস্টার কলেজের এক বক্তৃতার মাধম্যে। অবশ্য চার্চিল সরাসরি ‘Cold War’ কথাটি ব্যবহার করেননি। কিন্তু তিনি বলতে চেয়েছিলেন যে, দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে যে মৈত্রীর বন্ধন স্থাপিত হয়েছিল তা অবলুপ্ত হতে চলেছে। তার পরিবর্তে সৃষ্টি হয়েছে সন্দেহ, হিংসা ও অবিশ্বাস। চার্চিল ছাড়া অন্য একজন Cold War শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি হলেন বার্নাড বারুচ, যিনি মূলত একজন আমেরিকান ব্যবসায়ী ছিলেন। পরে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সাউথ ক্যারোলাইনা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে তিনি বলেছিলেন, “Let us not be deceived- today we are in the midst of the Cold War”- তবে আমেরিকার ওয়াল্টার লিপম্যান এই Cold War শব্দটি সংবাদপত্রে প্রথম ব্যবহার করেন ১৯৪৭সালে। এ শব্দের মাধম্যে তিনি আমেরিকা ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে সম্পর্ক বোঝাতে চেয়েছিলেন, যার মধ্যে ছিল বেশ সন্দেহ ও ভীতি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এই “ঠাণ্ডা লড়াইকে” কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল। এই ঠাণ্ডা লড়াইয়ের কতকগুলো বিশেষ বৈশিষ্ট উল্ল্যেখযোগ্য। যেমনঃ

১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে প্রতিদন্ধিতাই হচ্ছে এ যুদ্ধের মূল কথা। আর ঠাণ্ডা লড়াইয়ের রাজনীতিকে ‘Bipolar Politics’ বা দ্বিপক্ষীয় রাজনীতিও বলা হয়।

২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন উভয়েই বিভিন্ন রাষ্ট্রের উপর প্রভাব বিস্তার করতে এবং তাদের সাহায্য ও সহযোগিতা লাভ করতে বিশেষভাবে সচেষ্ট হয়।

৩. উভয় পক্ষই ‘স্নায়ু যুদ্ধ’ সম্বন্ধে তাদের নীতিকে রাজনৈতিক মতবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একদিকে গণতন্ত্র ও ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে ‘ঠাণ্ডা লড়াই’ পরিচালনা করে। অপরদিকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন সমাজতন্ত্র ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার নামে ঠাণ্ডা লড়াই পরিচালনা করে। তার ফলে এটি অনেক পরিমাণে ‘ঠাণ্ডা লড়াই’ এর রুপ ধারণ করে এবং উভয় পক্ষই প্রচারনার উপর বেশ গুরুত্ব আরোপ করে।

৪. ঠাণ্ডা লড়াইয়ে দুপক্ষই যথা সম্ভব সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানো সত্ত্বেও প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে বিরত থাকে। এ লড়াইকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অঞ্চলে দুপক্ষের বন্ধু রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ আরম্ভ হলেও উভয় পক্ষই  যুদ্ধকে সেই অঞ্চলে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য চেষ্টা করে।

৫. ঠাণ্ডা লড়াই মূলত সামরিক ও জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুতে অধিক গুরুত্ব প্রদান করে যা পূর্ব ও পশ্চিম এ দুটি বিবাদমান শিবিরে বিভক্ত। এবং সমগ্র বিশ্ব এক অনভিপ্রেত যুদ্ধের চাপে ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।

যে কারণে ঠাণ্ডা লড়াইয়ের সূত্রপাতঃ

প্রথমত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপের যেসব অঞ্চলে বিভিন্ন মিত্রশক্তি প্রবেশ করে তারা সেখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিজেদের আদিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন এর সদ্ব্যবহার করতে সচেষ্ট হয়। অপরদিকে যুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলো দুর্বল হয়ে পড়ায় তাদের মধ্যে সোভিয়েত ভীতি বিশেষভাবে সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম ইউরোপের সাথে চুক্তি স্থাপন করে সোভিয়েত বিরোধী এক জোট সৃষ্টি করে।

দ্বিতীয়ত, আদর্শগত সংঘাতও ঠাণ্ডা লড়াইয়ের জন্ম দেয়। আমেরিকা তথা পশ্চিম বিশ্বের ধনবাদী আদর্শ এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতান্ত্রিক আদর্শের দ্বন্ধ এ ক্ষেত্রে উল্ল্যেখযোগ্য।

তৃতীয়ত, প্রযুক্তিগত উন্নতির সাথে সাথে ঠাণ্ডা লড়াইয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের ক্ষেত্রে এই প্রতিযোগিতা পরিলক্ষিত হয়, অস্ত্রসজ্জার খেত্রেও এটা দেখা যায়।

চতুর্থত, পারস্পরিক সন্দেহ ও অবিশ্বাস এই মনস্তাত্ত্বিক কারণের জন্যও ঠাণ্ডা লড়াইয়ের সৃষ্টি হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, আণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও আমেরিকান মনোভাব উভয়ের মধ্যে একধরনের সন্দেহ সৃষ্টি করেছিল।

পঞ্চমত, তৃতীয় বিশ্বের স্বাধীন জাতিগুলো নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তার খাতিরে বৃহৎ শক্তিবর্গের ছত্রছায়ায় থাকতে চেয়েছিল। এই নেতৃত্ব লাভের জন্য আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয় এবং ঠাণ্ডা লড়াই দেখা দেয়।

[email protected]

ধনী রাষ্ট্রের সাথে গরীব রাষ্ট্রের বৈষম্য

Now Reading
ধনী রাষ্ট্রের সাথে গরীব রাষ্ট্রের বৈষম্য

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ধনী ও গরীব দেশগুলোর মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনার কথা বলা হলেও, বাস্তবক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে অতি সামান্যই। এর মূল কারণ মুলত, ধনী দেশগুলোর অসহযোগিতা। বাস্তবক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই ধনী দেশগুলো তুলনামুলক গরীব দেশ কিংবা তৃতীয় বিশ্বে যে ঋণ দেয়, তা তাদের জাতীয় আয়ের এক ভাগেরও নিচে। যদিও এই ঋণের পরিমাণ শতকরা ০.৭ ভাগ বাড়ানোর দাবী উঠলেও পরিমাণ বাড়েনি। সুতরাং উত্তর-দক্ষিণ সংলাপ তখনই কার্যকর হবে, যদি উত্তরের ধনী দেশগুলো সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে গরীব দেশগুলোর সাহায্যার্থে এগিয়ে আসে। তানাহলে কমিশন গঠন করেও ধনী ও গরীব দেশগুলোর ব্যবধান কমানো যাবেনা। উত্তর-দক্ষিণ সংলাপের জন্য চাই বাস্তবমুখী উদ্যোগ। আর এই উদ্যোগ গ্রহনে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে হবে ধনী দেশগুলোকেই।

চলুন সংক্ষেপে দেখে নিই ধনী ও গরীব দেশগুলোর মধ্যে কি পার্থক্য বিরাজমানঃ

 ধনী বিশ্ব গরীব বিশ্ব
বিশ্ব জনসংখ্যার ২৫শতাংশ বিশ্ব জনসংখ্যার ৭৫শতাংশ
৮০% জ্বালানি ব্যবহার ২০% জ্বালানি ব্যবহার
বিশ্বের মোট শিল্পের ৮৬শতাংশ বিশ্বের মোট শিল্পের ১৪শতাংশ
পাঁচটি শিল্পোন্নত দেশের নিয়ন্ত্রণাধীনে ৬০% শিল্প সবচেয়ে অনুন্নত ৪৪টি দেশের নিয়ন্ত্রণে ০.২১ ভাগ শিল্প
দৈনিক পানি খরচ ৩৫০-১০০০লিটার দৈনিক পানি খরচ ২০-৪০লিটার
শিল্পে পানি ব্যবহার ৪০শতাংশ কৃষিতে পানি ব্যবহার ৯৩ শতাংশ
৫০কোটি লোকের বার্ষিক আয় ২০হাজার ডলারের ওপরে ৩০০কোটি লোকের বার্ষিক আয় ৫শ ডলারের নিচে
১৯৯১ সালের হিসেবে সামরিক ব্যয় ৭৬২০০কোটি ডলার ১৯৯১ সালের হিসেবে সামরিক ব্যয় ১২৩০০কোটি ডলার
বৈদেশিক ঋণের সুদ দেয় ৪% বৈদেশিক ঋণের সুদ দেয় ১৭%
বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু প্রায় আড়াই লাখ, আহত প্রায় ১কোটি ডায়রিয়ায় বছরে ৪৬লাখ শিশুর মৃত্যু
৮৫% রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে গাড়ি ও লোকের অনুপাত ১:১০০০০
৮% শ্রম শক্তি কৃষিতে ৭০কোটি লোক বেকার
প্রতি হাজারে বিজ্ঞানী ৮০’র উপরে ৮০কোটি লোক নিরক্ষর
১৯৯০-১০ কোটি লোক দুর্ভিক্ষের শিকার
বিশ্ব বানিজ্যের ১২.৯% নিয়ন্ত্রণে

 

রাশিয়াকে মোকাবেলায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের বিশাল সামরিক প্রস্তুতি

Now Reading
রাশিয়াকে মোকাবেলায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের বিশাল সামরিক প্রস্তুতি

রাশিয়া প্রশ্নে হটাতই দিশেহারা হয়ে পড়ল যুক্তরাষ্ট্র, তাদের মধ্যে কিসের জানি অজানা আতংক বিরাজ করছে। এজন্য প্রতিপক্ষ হিসেবে তারা রাশিয়াকেই অধিক বিবেচনা করে থাকে। রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোকে অব্যাহত চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রাসেলসে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস ন্যাটোর সাথে চুক্তির পরিকল্পনা করছেন যেন প্রয়োজনের মুহূর্তে ৩০ দিনের মধ্যে ন্যাটো জোটের ৩০ ব্যাটেলিয়ন স্থল সেনা, ৩০টি যুদ্ধ জাহাজ ও ৩০টি যুদ্ধ বিমান মোতায়েন করা যায়।  আজ ৭জুন বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে তিনি এই চাপ দেয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয়েছে। অবশ্য আগামী জুলাইতে ন্যাটোর শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এই বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবার পরিকল্পনা আছে। এদিকে এই পরিকল্পনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে রাশিয়া, তারা পূর্ব ইউরোপের নিরাপত্তা হুমকির জন্য ন্যাটোকেই দায়ী করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি কোন দ্বন্ধ না থাকলেও এই দুই দেশ পরস্পর বিরোধী হিসেবে বিশ্বে সমাদৃত। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে এই দ্বন্ধ প্রকাশ্যে আশে যখন ২০১৪ সালে রাশিয়া যখন অন্য সকলের মতামত উপেক্ষা করে একক কর্তৃত্বে ক্রিমিয়া দখল করে নেয় এবং ২০১৫ সালে সিরিয়া যুদ্ধে আসাদ সরকারকে সমর্থন দিয়ে সরাসরি অংশগ্রহণ করে। এসব বিষয় ভালোভাবে মেনে নিতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। মূলত এরপর থেকে সৃষ্টি হয়েছে দূরত্ব ফলশ্রুতিতে রাশিয়ার প্রকাশ্য কোণ বার্তাকেই আর গ্রাহ্য কিংবা বিশ্বাসে নিচ্ছেনা ওয়াশিংটন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক নীতিতে রাশিয়াকে বরাবরই গণ্য করে এসেছে। চলতি বছরের পেন্টাগনের যে প্রতিরক্ষা নীতি ঘোষণা হয়েছে সেখানে মস্কোকে সবচেয়ে বড় হুমকি বলে বর্ণনা করা হয়েছে। আর ঘোষিত সেই নীতিতে স্পষ্টই বলা আছে ন্যাটো জোটকে ধ্বংসের চেষ্টায় রাশিয়া তৎপর।

তাই আজ ব্রাসেলসে ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় যুদ্ধ প্রস্তুতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে চাপ বাড়াতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই পরিকল্পনায় কি পরিমাণ সেনা এবং যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন করা হবে তা স্পষ্ট নয়। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া সবসময় যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে থাকে এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে রনাঙ্গনে দ্রুত সেনা পাঠাতেও সক্ষম। সেই জায়গায় ন্যাটো ও অন্যান্য দেশের অনেকটাই ব্যাবধান, তারা দ্রুত চাইলেও তেমনটা পারেনা। আর এই বিষয়টি বিবেচনা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইছে স্পর্শকাতর জায়গাগুলোতে পূর্ব থেকেই যেন সেনা মোতায়েন রাখা যায়। পরিসংখ্যান বলছে ন্যাটো জোটের প্রতি ব্যাটেলিয়ন সৈন্য সংখ্যা অবস্থাভেদে বিভিন্ন রকম হয়। প্রতি ব্যাটেলিয়ন কমকরে প্রায় ৬০০ থেকে এক হাজার সেনা থাকে। এদিকে নতুন এই মার্কিন পরিকল্পনাকে নাম দেয়া হয়েছে ৩০-৩০-৩০ নামে। এখন দেখার পালা আদৌ মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোট কি পারবে রাশিয়াকে রুখতে!

সৌদি যুবরাজের অন্তর্ধান এবং প্রত্যাবর্তন!

Now Reading
সৌদি যুবরাজের অন্তর্ধান এবং প্রত্যাবর্তন!

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে ২১ এপ্রিলের পর থেকে প্রকাশ্যে দেখা না যাওয়ায় গুঞ্জন উঠে তাঁকে হয়ত হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু সৌদি কর্তৃপক্ষ বিন সালমানের সাম্প্রতিক একটি ছবি প্রকাশ করে জানান দে যে তিনি বেঁচে আছেন। এদিকে বেশ কিছুদিন ধরেই অনুপস্থিত সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যম সরব ছিল। সর্বপ্রথম তার বেঁচে থাকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে ইরানের গণমাধ্যমগুলো লাগাতার নিউজ করেছে ফলে বিশ্বের নজর পরেছে বিষয়টির উপর। এদিকে সেসব সংবাদমাধ্যম  গুলোতে দাবী করা হয় গত ২১ এপ্রিল রিয়াদে রাজপ্রসাদের অভ্যন্তরে পারিবারিক এক ‘অভ্যুত্থানচেষ্টায়’ গুলিবিদ্ধ হয়ে মোহাম্মদ বিন সালমান মারা গেছেন। ইরানের জনপ্রিয় পত্রিকা কায়হান এক জ্যেষ্ঠ আরব রাষ্ট্রিয় কর্মকর্তার পাঠানো গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বলেছে, রাজপ্রাসাদে হওয়া ওই অভ্যুত্থান চেষ্টায় সৌদি যুবরাজের গায়ে কমপক্ষে দুটি গুলি লেগেছে। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনও এ বিষয়টি ফলাও করে প্রচার করে বলেছে, ঐদিনের পর থেকে বিন সালমানের নতুন কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ হয়নি, অথচ এর আগে তারা নৈমিত্তিক কার্যক্রমের খবর প্রতিদিনই প্রকাশ হত। সন্দেহটি আরো জোরালো হয় যখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও  এপ্রিলের শেষ দিকে রিয়াদ সফর করেন তখনও তার সাথেও যুবরাজকে দেখা যায়নি। এত কিছুর মাঝখানে কিছু স্থির চিত্র প্রকাশ হয় তার মধ্যে দেখা যাচ্ছে কয়েক শ কোটি ডলারের বিনোদন রিসোর্ট কিদিয়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাবা বাদশাহ সালমানের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা স্পুটনিক ও এর স্বপক্ষে খবর প্রচার করে। এরপরও সবাই আশা করেছিল অন্তত যুবরাজের একটি ভিডিও প্রকাশ হউক কিংবা তিনি জনসম্মুখে আসুক। এদিকে সৌদি দূতাবাসের কর্তারা এমন গুঞ্জনকে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘জনগণের মধ্যে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে শত্রুপক্ষ এসব প্রচার করছে। তারা এর স্বপক্ষে আরো বলছে যে, ২৭ এপ্রিল রিয়াদে রয়্যাল রাম্বল রেস্লিং শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে যুবরাজ উপস্থিত ছিলেন এবং এ সংক্রান্ত একটি ছবিও তারা প্রকাশ করে। দাবী করা হয়েছে যে যুবরাজ তার নিজের চেম্বারে আমন্ত্রিত অন্য অতিথিদের সাথে খেলাটি উপভোগ করেছেন। তার মৃত্যু কিংবা আহত হওয়ার খবরকে তারা মিথ্যা অভিহিত করে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরানের বার্তা সংস্থা ফারস প্রকাশ করে যে, বিন সালমান এমনই একজন ব্যক্তি, যিনি গণমাধ্যমে নিয়মিত, কিন্তু রিয়াদের ওই গোলাগুলির খবরের পর প্রায় মাসখানেক তাঁর অনুপস্থিতি উদ্বেগ বহুগুনে বাড়িয়ে দিয়েছে। আরবের স্থানীয় বেশ কটি গণমাধ্যম জানায় যে,  রিয়াদে সৌদি রাজপ্রাসাদে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শুনা যায় এবং ঘটনার সময় সৌদি বাদশা সালমান আতঙ্কিত হয়ে প্রাসাদ ছেড়ে একটি সামরিক ঘাঁটিতে দ্রুত আশ্রয় নেন। এদিকে গোলাগুলির ঘটনায় বিবৃতি দিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রসাদের কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়া একটি ড্রোনকে ভূপাতিত করতে গুলি ছোড়েন নিরাপত্তাকর্মীরা।

এদিকে এত কিছুর পরও কিছু ছবি প্রকাশ হয়েছে, ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদির সাথে তাকে হাস্যজ্জল দেখা যাচ্ছে। তাছাড়া ৫জুন প্রকাশ হওয়া একটি ছবিতে যুবরাজ সালমান লিবিয়ান প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল সারাজকে অভ্যর্থনা জানাতেও দেখা যাচ্ছে।  এখন অপেক্ষা কখন যুবরাজ সালমান তার সত্যিকারের অন্তর্ধান রহস্য ঘুচিয়ে জনসম্মুখে নিজেকে উপস্থাপন করেন।

 

 

 

ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার কবলে ইরান

Now Reading
ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার কবলে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান দন্ধের কারণে ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ কঠিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তিনি আরো যোগ করেন, ইরানের যেকোনো আগ্রাসন রুখতে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে তারা যৌথভাবে কাজ করে যাবেন। ওয়াশিংটনে এক বক্তৃতায় তিনি এই হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানকে আগাম সতর্ক বার্তা দিল।  এদিকে রাষ্ট্র বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সত্যি সত্যি এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয় তবে ইরানকে তার অর্থনীতি সচল রাখতে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে।

সকল জল্পনা কল্পনা অবসান ঘটিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৫ সালের  আলোচিত “ইরান ডিল” নামক পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে এসেছেন। তিনি বারংবার তার বিভিন্ন বক্তৃতায় উল্ল্যেখ করেছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পথে হাঁটবেন না। যেকোন মুল্যেই এই চুক্তি বাতিল করে দেবেন,  ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরান প্রসঙ্গে এই প্রথম মার্কিন প্রশাসনের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হুমকির প্রতি নিন্দা প্রকাশ করেছে পাল্টা জবাব দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ। পম্পেওর হুমকির প্রত্যুতরে জাভাদ জারিফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ব্যর্থ নীতিমালার হাতে বন্দি এবং এর ফলে তাদেরও পরিণতি ভোগ করতে হবে। এদিকে পম্পেওর বিবৃতিতে সমালোচনা করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতিমালা বিষয়ক কমিটির প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি। তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ঘোষিত “ইরান ডিল” থেকে বেরিয়ে গিয়ে কিভাবে মধ্যপ্রাচ্যকে নিরাপদ করা যায় তা কার্যকরভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন পম্পেও। তিনি বলেন, এই চুক্তির কোন বিকল্প নেই এবং তা রক্ষা করা মার্কিন প্রশাসনের কর্তব্য। উল্লেখ্য যে, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলেও বাকী ৫সদস্য দেশ জানিয়েছে তারা যেকোন মুল্যে চুক্তি রক্ষা করে চলবে।

ইরান এর বিরুদ্ধে আরোপিত শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞাকে মার্কিন প্রশাসনের প্ল্যান ‘বি’ বলা হচ্ছে। পম্পেও জোরালোভাবে বলেন, এখন থেকে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যেকোনো ‘নতুন চুক্তি’ করার পূর্বে ওয়াশিংটনকে ১২টি শর্তের কথা ভাবতে হবে। যার মধ্যে সিরিয়া থেকে ইরানের সেনা প্রত্যাহার করাসহ ও ইয়েমেনের বিদ্রোহীদের ওপর সকল প্রকার সমর্থন প্রত্যাহার আবশ্যক বলে উল্লেখ করেন তিনি। এদিকে পম্পেও বলেন, নতুন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের ওপর নজিরবিহীন আর্থিক চাপ প্রয়োগ করা হবে।

তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের কাছেই এখন একটাই পথ খোলা আর তা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে নীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বন্ধ করে তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা এবং তেহরান তার পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগসহ ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা। যদি সত্যিই এর পরিবর্তন ঘটে তবেই ওয়াশিংটন তার নিষেধাজ্ঞা থেকে সরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

উত্তর কোরিয়া আদৌ কি তাদের সব পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস করবে?

Now Reading
উত্তর কোরিয়া আদৌ কি তাদের সব পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস করবে?

উত্তর কোরিয়া প্রেসিডেন্ট মার্কিন প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদের পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রনে সহনশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে। উত্তর কোরিয়া প্রশাসন জানিয়েছে, তারা তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পর্যায়ক্রমে ধ্বংস করছে। গত সপ্তাহে পিয়ং ইয়ং তাদের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র পুঙ্গি রি কমপ্লেক্সটি ধ্বংস করেছে দেশটি।

পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র পুঙ্গি রি কমপ্লেক্সটি দেশটির উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায়। এই কেন্দ্র থেকেই ২০০৬ সাল থেকে অন্তত ছয়টি পারমানবিক পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি।তারা আগেই ঘোষণা করেছিল যে, এটিকে ভেঙ্গে ফেলার জন্য তারা প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নিয়েছে। উত্তর কোরিয়া এখন অনেকটাই নমনীয় হয়ে বলছে তারা পরমাণু কার্যক্রম থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কিন্তু সে ব্যাপারে কিছুটা জঠিলতার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি মতবিরোধের জের ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে আসন্ন বৈঠক থেকে সরে আসারও হুমকি দিয়েছে দেশটি। আর এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ব্যক্তিগত চিটিতে উত্তর কোরীয় প্রেসিডেন্ট কিম কে জানিয়ে দিয়েছেন, তারা বৈঠকের ব্যাপারে আগ্রহী নয় যদিনা উত্তর কোরিয়া তাদের সম্প্রতি দেয়া বক্তব্যগুলার বিষয়ে চিন্তাধারার পরিবর্তন না ঘটায়। কিন্তু সারা বিশ্বের কাছে প্রাথমিকভাবে পারমানবিক পরীক্ষা কেন্দ্রটি বন্ধ করা স্বাগত জানানোর মতো একটি পদক্ষেপ। তবে মনে করা হয় যে দেশটি তার পারমানবিক কর্মসূচি যথেষ্ট উন্নত করে ফেলেছে এবং কেন্দ্রটিতে এখন আর পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। উত্তর কোরিয়া তার পারমানবিক অস্ত্র কার্যক্রম পুঙ্গি রি কমপ্লেক্স কার্যক্রমের চেয়ে অনেক দুর এগিয়ে গেছে। মূলত কেন্দ্রটিতে পারমানবিক সুবিধা রাখা হয়েছিলো পারমানবিক অস্ত্র কর্মসূচির পরীক্ষার জন্য। পর্বতের কাছে মাটির নীচে টানেল করে কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছিল এবং যাবতীয় পরীক্ষা ঐ টানেলের মধ্যেই করা হত। ধ্বংস করার পূর্বেই শোনা গিয়েছিল এর একটি অংশ আগেই ধ্বসে পড়েছে।

উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যেই আমন্ত্রণ জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ান ও আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের উক্ত পারমাণবিক কেন্দ্রটি দেখতে যে স্বচ্ছতার সাথেই তারা টানেলটি ধ্বংস করেছে। তবে অনেকেই বলছেন যে উত্তর কোরিয়ার আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি পরিষ্কার নয় যে তারা আদৌ বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে কিনা। এদিকে পুঙ্গি রি কেন্দ্রটি ধ্বংস করলেও দেশটির পরমাণু স্থাপনা আদৌ অকার্যকর হচ্ছে কি না তা যাচাই করতে বেশ কয়েক বছর লেগে যাবে। পারমাণবিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘ সমর্থিত সংস্থা কমপ্রিহেন্সিভ নিউক্লিয়ার টেস্ট ব্যান ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা সিটিবিটিও বিশেষজ্ঞরাই মূলত কেন্দ্রটি পুরোপুরি অকার্যকর হয়েছে কি না সেটি বলতে সক্ষম। এ সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী পারমানবিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা নিয়ে কাজ করে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ না হলে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি কয়েক বছরের মধ্যেই পুনরায় শুরু করতে পারবে। তাছাড়াও পুংরি ছাড়াও দেশটিতে আরো একাধিক পারমাণবিক স্থাপনা আছে বলে সন্দেহ করা হয়। পুঙ্গরি ধ্বংসের মাধ্যমে বোঝা যাবেনা উত্তর কোরিয়া নতুন কোন পরমাণু পরীক্ষা কেন্দ্র অন্যদিকে চালু করছে কিনা। দেশটিতে আরো পারমাণবিক কেন্দ্র চালু করার মতো অনেক পর্বত রয়েছে।

বছরের শুরুতেই কোরীয় উপত্যকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। কিন্তু তাদের এ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশা পুরোপুরি মেটাতে পারেনি, ট্রাম্প প্রশাসন চেয়েছে উত্তর কোরিয়া এমন কিছু করে দেখাক যেখান থেকে বুঝা যায় তারা সত্যিকার  অর্থেই পারমাণবিক কর্মসূচী পরিহার করেছে।

“ইরান ডিল” থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিল যুক্তরাষ্ট্র!

Now Reading
“ইরান ডিল” থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিল যুক্তরাষ্ট্র!

২০১৫ সালে ছয় জাতির মধ্যাস্ততায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা হয়। জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামের ওই সমঝোতা ‘ইরান ডিল’ নামেও পরিচিত। ইরানের সঙ্গে চুক্তিকারী দেশগুলো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং চীন। ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি রোধে পশ্চিমা বিশ্ব বহু বছর ধরে দেশটির ওপর বাণিজ্য অবরোধ আরোপ করেছিল। কিন্তু কোনভাবে কাজ না হওয়ায় ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নেতৃত্বে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে সরে আসার শর্তে দেশটির ওপর থেকে অবরোধ উঠিয়ে নিতে উক্ত চুক্তিটি সম্পাদন করা হয়। চুক্তি মোতাবেক এতদিন এগুচ্ছিল সবকিছু। কিন্তু নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হটাত ইরানের সঙ্গে বহুজাতিক পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দেওয়ায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে চুক্তির বাকী দেশ সমূহ। চুক্তি মোতাবেক প্রতি ছয় মাস পরপর তা নবায়ন হয়। সেটি নবায়নের সময় ঘনিয়ে এলে ট্রাম্প জানিয়ে দেয় তিনি চুক্তি নবায়নে সম্মতি দেবেন না। বেশ কিছুদিন ধরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে ছয় জাতির ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি বহুবার দিয়েছেন। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগ থেকেই বলে এসেছেন যে বারাক ওবামা ইরানের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে, তা ‘জঘন্য, ধ্বংসাত্মক ও বোকামি’। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তিনি ওই চুক্তি বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দেন তার নির্বাচনী প্রচারণায়। এখন ট্রাম্প চাইছেন ইরানের সামরিক শক্তি আরও সীমিত করার বাধ্যবাধকতা যুক্ত করে নতুন একটি চুক্তি করতে।

এদিকে ট্রাম্পকে চুক্তিতে ধরে রাখতে না পারার বিষয়টি যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের মিত্রদেশগুলোর চরম কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, এই চুক্তির পক্ষে অবস্থান বজায় রেখে কাজ করে যেতে বদ্ধ পরিকর বাকী দেশগুলো। বাকী পাঁচ দেশের মধ্যে দুই দেশ নিজেদের সহ্য করতে পারেনা বলা চলে রাশিয়া আর যুক্তরাজ্য পরস্পর জাতশত্রু। যুক্তরাজ্য চাইছে যুক্তরাষ্ট্র যেন এই চুক্তিতে থাকে কেননা তাদের ছাড়াই চুক্তি কার্যকর রাখতে গেলে শর্ত মোতাবেক ইরানের সঙ্গে ইউরোপের কোম্পানিগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্য অব্যাহত রাখতে হবে। তাদের মিত্র ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উপেক্ষা করে আদৌ কি তারা কাজ করতে পারবে? এই চুক্তি বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ইউরোপীয় মিত্ররা খুব বেশি যে অগ্রসর হতে পারবে তা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি যেকোন উপায়ে এই চুক্তি বজায় রাখার পক্ষে। ট্রাম্পের চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা পরবর্তী যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি এক যৌথ বিবৃতিতে ‘দুঃখ ও উদ্বেগ’ প্রকাশ করে বলেছে, তারা চুক্তিটি কার্যকর রাখতে কাজ করে যাবে। তারা বিবৃতিতে এও প্রত্যাশা করেছে, চুক্তি কার্যকর রাখতে বাধা হয় এমন সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়নে যেন যুক্তরাষ্ট্র বিরত থাকে।

তবে চুক্তি স্বাক্ষরকারী অপর দুই দেশ রাশিয়া ও চীন বরাবরই ইরানের প্রতি নমনীয় ও বন্ধু প্রতিম। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়ার পাশাপাশি তিনি ইরানের ওপর সর্বোচ্চ অবরোধ আরোপেরও ঘোষণা দেন। একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের মাধম্যে করে তিনি ইরানের সঙ্গে সব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাবসা বাণিজ্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবরোধ অমান্যকারী কোম্পানিগুলোকে কঠিন সাজার মুখোমুখি হতে হবে। এমতাবস্থায় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান লেনদেন চুকিয়ে নিতে ছয় মাস সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিষয়ে জরুরী বৈঠক করেন। তারা যৌথভাবে ওই চুক্তি থেকে সরে না আসার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করেন। কিন্তু কার্যত দীর্ঘদিনের মিত্র এসব দেশের সব ধরণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এটিকে একপ্রকার ইউরোপের মিত্রদের কূটনৈতিক পরাজয় হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বিশেষত যুক্তরাজ্যের জন্য এমন পরিস্থিতি বেশ অস্বস্থির। কেননা ইরান চুক্তির এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের অবস্থান অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাদের চিরশত্রু রাশিয়ার দিকেই ঝুঁকে গেল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেড়িয়ে ব্রেক্সিট নিয়ে দর কষাকষিতে অন্যান্য মিত্রদের সাথে টানাপোড়নে রয়েছে যুক্তরাজ্য। তাই ইউরোপের অন্যতম শক্তি জার্মানি ও ফ্রান্সের মন রক্ষার্থে চাইলেও “ইরান ডিল” থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করতে পারছেনা যুক্তরাজ্য।এদিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ঐতিহাসিকভাবে অনুশোচিত’ হতে হবে। ২০১৫ সালে তেহরানের সঙ্গে বহুজাতিক শক্তিগুলোর করা পরমাণু চুক্তির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে এমন সতর্কবার্তাই দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সিদ্ধান্ত মোকাবেলায় ইরানের সদুরপ্রসারি পরিকল্পনা রয়েছে। রুহানি বলেন, যদি এমন কিছু ঘটে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পূর্ব থেকেই দেয়া আছে।

তিস্তা চুক্তি ও তার পানি বণ্টন প্রশ্ন!

Now Reading
তিস্তা চুক্তি ও তার পানি বণ্টন প্রশ্ন!

তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়টি আবারো সামনে চলে এসেছে। সম্প্রতি শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর সমাবর্তন এবং বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারত গমন করেছিলেন বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর একই অনুষ্ঠানে ছিলেন পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানারজি এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অনুষ্ঠান পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গের তাজ বেঙ্গল হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী একান্তে বৈঠক করেছেন মমতা ব্যানার্জি। উক্ত বৈঠকটি বাংলাদেশের ভেতরে ও বাইরে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়, স্বাভাবিকভাবে এপার বাংলার জনগণের আসার সঞ্চার হয়।

বৈঠক শেষে মমতা ব্যানার্জি যখন গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার তিস্তা পানি-বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তখন সবার আশা আকাঙ্খা প্রবলভাবে বেড়ে যায়। কিন্তু আশায় কিছুটা ভাঁটা পরেছে যখন মমতা আলোচনার বিষয়বস্তু এখনই প্রকাশ করবেন না বলে জানান। ছিটমহলের মতো বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হয়েছে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে। কিন্তু তিস্তার এই পানি বণ্টন চুক্তিটি বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। কার্যত কোন সমাধানই হচ্ছেনা, এর প্রধান কারন মমতা ব্যানারজির একগুয়ামি। মমতা ব্যানার্জি বরাবরই বলে আসছেন, সিকিমে অনেকগুলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি হয়েছে তারা প্রতিটি প্রকল্পের জন্যই নদীর পানি সাময়িকভাবে ধরে রেখে তারপরে ছাড়ে। এসব প্রকল্পে সাময়িকভাবে পানি ধরে রাখার ফলে পশ্চিমবঙ্গে আসার পরে তিস্তার প্রবাহ খুবই ক্ষীণ হয়ে গেছে। এই অল্প পরিমাণের পানি দিয়েই পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের চাষের প্রয়োজন মেটানো যাচ্ছে না। সুতরাং বাংলাদেশকে পানি দেয়ার পূর্বে তাকে তার নিজের রাজ্যের কৃষকদের প্রয়োজনের কথাটাই অগ্রাধিকার পাবে। স্বাভাবিকভাবে তার কথায় যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায়, কিন্তু মিথ্যে অজুহাতে দিনের পর দিন এভাবে পানি ধরে রেখে বাংলাদেশের সাথে এক প্রকার বিমাতা সুলভ আচরণ করছে মমতা। বাংলাদেশকে পানি ছাড়লে পশ্চিমবঙ্গে শুষ্কতা দেখা দেবে এমন টুনকো যুক্তিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা শুরু থেকেই এই চুক্তি বাস্তবায়নের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে আছেন। তবে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম এর সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে তিস্তার পানি-বণ্টন নিয়ে মমতা ব্যানার্জি আগের অনড় অবস্থান থেকে সড়ে আসছেন। অর্থাৎ বলা যায় তিস্তার বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমে থাকা বরফ আস্তে আস্তে গলতে শুরু করেছে। তবে এটা ভেবে আনন্দে আত্মহারা হলে বোকামি হবে

মুখ্যমন্ত্রী মমতা তিস্তার পানি-বণ্টন নিয়ে খোলা খুলি কোন প্রতিশ্রুতি দেননি। তাছাড়া দুই দেশের ঘনিষ্ঠ কোন পক্ষই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, ফলে এখনই নির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না তিস্তা নিয়ে মমতা তাঁর অবস্থান বদলেছেন। তবে সবপক্ষই এটা স্বীকার করছেন যে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে জটিল এ সমস্যার চটজলদি কোন সমাধান শিগ্রই হচ্ছেনা। চুক্তি বাস্তবায়নের পূর্ব শর্ত হিসেবে বেসিন ম্যানেজমেন্ট বা অববাহিকায় সুষ্ট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।

গত বছর দুই দেশের বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক হলেও কার্যত বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষিত তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী সে সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, দুই সরকারের মেয়াদ থাকা অবস্থাতেই এই চুক্তি স্বাক্ষর এবং বাস্তবায়ন হবে। এদিকে শান্তিনিকেতনে নবনির্মিত বাংলাদেশ ভবন উদ্ভোধনের সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে যে দীর্ঘ বৈঠক হয়েছিলো সেখানে, তিস্তার পানিবণ্টন ইস্যুটি ঘুরে ফিরে আলোচনায় এসেছে – এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ডিলিট ডিগ্রী গ্রহণ করার প্রাক্কালে এক ভাষণে মমতা ব্যানারজিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, – অনেক কিছুই বলার ছিল কিন্তু সেসব বলে এত সুন্দর একটা অনুষ্ঠান নষ্ট করতে চাইনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন কিছু বলতে চেয়েও অভিমান করে বললেননা। যাই হউক তিস্তা বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে বৈরতা থাকা সত্ত্বেও আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন অনেকে। ইতিমধ্যে তিস্তা নিয়ে দুই দেশের যৌথ কমিশন কাজ শুরু করেছে।

 

সিঙ্গাপুরের শীর্ষ বৈঠক নিয়ে মার্কিন এবং উত্তর কোরিয়া প্রশাসনের ধোঁয়াশা ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

Now Reading
সিঙ্গাপুরের শীর্ষ বৈঠক নিয়ে মার্কিন এবং উত্তর কোরিয়া প্রশাসনের ধোঁয়াশা ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

মার্কিন নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং আনের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত বৈঠকটি সম্ভবত হোঁচট খেতে চলেছে। আগামী ১২ই জুন সিঙ্গাপুরে বসার কথা ছিল এই দুই নেতার। তবে এখনি সব কিছু পরিস্কার করে বলা যাচ্ছেনা। শুরুতেই যখন এই দুই নেতার একসাথে বসার কথা উঠেছিল তখন অনেকেই তুলনা করেছিল এক ঘাটে বাঘ আর কুমির কিভাবে মিলিত হবে? কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে বরফ গলতে শুরু করেছে যখনি তখন আবার হতাশার ঘনঘটা। সকল সুযোগ সৃষ্টি হলেও এখন আবার পরিস্থিতি পাল্টে যাওয়ার জোগাড়। উত্তর কোরিয়া পূর্ব থেকেই ঘোষণা দিয়েছিল যে, আমেরিকা যদি পারমাণবিক অস্ত্র নষ্ট করে ফেলার জন্য তাদের ওপর চাপ দেয় তাহলে তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে বসতে রাজী নয়। এর কারন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন রোববার এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংস করে ফেলার বিষয়টির সঙ্গে লিবিয়া বা ইরাকের সরাসরি তুলনা টেনে উদাহরণ দিয়েছেন। আর তাতেই চটেছেন উত্তর কোরীয় প্রশাসন। উত্তর কোরিয়ার জন্য মোটেই সুখকর হয়নি জন বোল্টন এর বিবৃতিটি। আর বোল্টন বরাবরি অপছন্দ করে উত্তর কোরিয়া কেননা পূর্বেও তিনি বলেছেন উত্তর কোরিয়ার ওপর প্রয়োজনে হামলা চালানো আমেরিকার জন্য ”পুরোপুরি বৈধ”। আর এবার আবারো আগুনে ঘি ঢেলে দিলেন, তিনি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রসঙ্গে লিবিয়াকে মডেল হিসেবে অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে উত্তর কোরিয়াও আর দেরী না করে এক বিবৃতিতে, আমেরিকার বিরুদ্ধে ‘অশুভ অভিপ্রায়’ এবং দায়িত্বহীন বিবৃতি দেয়ার অভিযোগ করেন। উত্তর কোরিয়ার উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী কিম গিয়ে গুয়ান এজন্য সরাসরি দায়ী করেছেন জন বোল্টনকে।

এদিকে উত্তর কোরীয় রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত মি: কিমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমেরিকা যদি আমাদের কোণঠাসা করে একতরফা দাবি করে পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়তে হবে, তাহলে আমরা সেই আলোচনায় আর আগ্রহী নই” সেক্ষেত্রে ১২ই জুন সিঙ্গাপুর বৈঠকের বিষয়টি আমাদের আবারো ভাবতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে উত্তর কোরিয়া চায় ওই এলাকাতে যাতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি না থাকে যা যুক্তরাষ্ট্র কোনভাবেই মানতে চাইছে না। এছাড়াও ওই এলাকায় অন্যান্য দেশগুলোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র যে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে উত্তর কোরিয়া সেটাও চায় না। সবচেয়ে বড় আপত্তি কোরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া।

উত্তর কোরিয়া বহুবছর ধরেই বলে আসছে রাষ্ট্র হিসাবে টিকতে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা অত্যাবশ্যক। এখন কিমের বক্তব্যের পর দেশটির সেই দাবি আরও স্পষ্ট হল। যদিও উত্তর কোরিয়া চেয়েছে অন্তত আমেরিকার সাথে তাদের বৈরিতার বরফ গলিয়ে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হউক, যা এখন দোদুল্যমান অবস্থায় পড়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার এক ব্যাক্তিগত চিঠিতে উত্তর কোরীয় প্রেসিডেন্টকে বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন, যাকে সবাই ‘ট্রাম্প স্টাইল কূটনীতি’ হিসাবে দেখছে। চিঠিতে ট্রাম্প এক প্রকার হুমকি দিয়ে বসেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল আর শক্তিশালী পারমানবিক অস্ত্রের কথা উল্ল্যেখ করে লিখেছেন, তিনি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন যেন, সেগুলো কখনো যেন ব্যবহার করতে না হয়। কিন্তু এই চিঠির পরবর্তী পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র বা উত্তর কোরিয়া কিভাবে নিচ্ছে তা এখন দেখার বিষয়!