একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে নিঃশব্দ গণহত্যা | মায়ানমারের রোহিঙ্গা নিধন | বাংলাদেশের কি করনীয়?

Now Reading
একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে নিঃশব্দ গণহত্যা | মায়ানমারের রোহিঙ্গা নিধন | বাংলাদেশের কি করনীয়?

এই মুহুর্তে বাংলাদেশ খুব কঠিন একটি রিফিউজি সমস্যার মোকাবেলা করছে। আর তা হলো মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গারা। হাজার লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের সীমানার দিকে পালিয়ে আসছে তাদের জীবন বাঁচানোর তাগিদে। চলছে গণহত্যা, ধর্ষন এবং শিশু হত্যার মত জঘন্য সব মানবতা বিরোধী অপরাধ। এমনকি বার্মিজ সরকার বাংলাদেশের দিকেও নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চাইছে। যেমন ঈদের আগের দিন বাংলাদেশের আকাশসীমায় ৩ বার বার্মিজ হেলিকপ্টার ঢুকিয়ে দেয়া। এগুলো বার্মিজ সরকারের চরম ঔদ্ধত্যপূর্ন আচরণ।

কিন্তু আসলেই কি হচ্ছে মায়ানমারে? সামাজিক নেটওয়ার্কে আবার একটা পক্ষ খুব সোচ্চার এবংত আরা নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। কিছু পাকিস্তানী ফেসবুক পেজ শুরু করেছে তাদের নিজস্ব এজেন্ডা এই রোহিঙ্গা ক্রাইসিস নিয়ে। তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে কিছু বাংলাদেশী। অনেকেই বাংলাদেশীজম পেজের ইনবক্সে অনুরোধ করেছেন যেন একটা ভিডিও আমরা ছাড়ি ব্যাপারগুলো খোলাসা করার জন্য। আর তাই নীচের ভিডিওটী রিলিজ করলাম যেখানে আমরা পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছি আসলে কারা এই রোহিঙ্গা এবং কেন মায়ানমারের সরকার তাদের হত্যা করছে। আসল কাহিনীটি কি এবং বাংলাদেশের এই মুহুর্তে কি করা উচিৎ। দেখে ফেলুন।

পাকিস্তানকে দেয়া হলো নতুন নাম!

Now Reading
পাকিস্তানকে দেয়া হলো নতুন নাম!

এবার পাকিস্তানকে দেয়া হলো নতুন নাম তবে ব্যাপারটা একটু বিতর্কিতও বলা যেতে পারে। নতুন নামটি জানার আগে আপনাদের কি মনে হয়, কোন নাম পাকিস্তানকে সবচেয়ে ভাল মানাবে? নীচের ভিডিওটে অবশ্যই সেটি বলা হয়েছে তবে তার আগে নিজেরাই একটা করে পাকিস্তানের নাম ভেবে দেখুন আর মিলিয়ে দেখুন নতুন দেয়া নামের সাথে মিলে কিনা। ব্যাপারটা একটা Guessing গেমের মত হতে পারে! আর এত ঝামেলা করতে না চাইলে, নতুন নামটা নীচের ভিডিও দেখেই জেনে নিতে পারবেন। তবে আগে ভাগেই বলে রাখছি, পাকিস্তান প্রেমীরা এই পোস্ট এবং ভিডিও থেকে দূরেই থাকুন। মনে অনেক কষ্ট পেলেও পেতে পারেন। পাকিস্তান প্রেমীরা কষ্ট পেলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে।

 

কোরিয়া সমাচারঃএকাল-সেকাল

Now Reading
কোরিয়া সমাচারঃএকাল-সেকাল

দুটি দেশের, ভাষা, শিক্ষা, কৃষ্টি-কালচার সবই অভিন্ন, অথচ আন্তর্জাতিক সীমারেখা আর চরম বৈরিতার দরুণ দুটি ভিন্ন দেশ উত্তর কোরিয়া আর দক্ষিণ কোরিয়া।কোরিয়া পেনিনসুলাতে যুদ্ধ আর অস্থিরতার শুরু অনেক আগেই।
কোরিয়া একটা সময় অবিভক্ত থেকে জাপানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল।1910 সালে কোরিয়া জাপানের অধীনে চলে যায় এবং তারা ১৯৪৫ সাল নাগাদ পর্যন্ত জাপান কর্তৃক শাসিত হয়।দীর্ঘ ৩০-৩৫ বছরেরও বেশি সময় যাবত জাপানের নিয়ন্ত্রণে ছিল কোরীয় উপদ্বীপ।কোরিয়ার পশ্চিমে গণচীন আর উত্তর- পশ্চিমের অনেকটা জুড়ে রাশিয়া(তদকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন); পীত সাগর  আর জাপান সাগরের মাঝামাঝি সমগ্র কোরিয়ার ভৌগলিক অবস্থান। কোরীয় প্রণালী ও জাপান সাগর পূর্বে এটিকে জাপান থেকে আলাদা করেছে আর দক্ষিণে এটি আর পূর্ব চীন সাগর দ্বারা তাইওয়ান থেকে আলাদা হয়েছে।১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ  শেষে জাপানী সম্রাজ্যের আত্মসমর্পণের পরবর্তীতে বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়া ও কোরিয়া প্রজাতন্ত্র নামের দুটি নতুন স্বতন্ত্র সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটার মাধ্যমে অঞ্চলটি বিভাজিত হয়।বিশ্বযুদ্ধের পরপরই পরাজিত জাপানি সৈন্যরা কোরিয় উপদ্বীপ ত্যাগ করে।জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের কারণে রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্রকে যথাক্রমে কোরিয়ার উত্তর অংশ এবং দক্ষিণ অংশের দায়িত্ব দেওয়া হয়।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কোরীয় উপদ্বীপ একই সাধারণ রাজনৈতিক আদর্শে প্রতিষ্ঠিত ছিল।নানাবিধ জটিল কারণ এবং দুটি অঞ্চলের মানুষের মধ্যে বৈরি সম্পর্ক তৈরি হওয়াতে ১৯৪৮ সালে কোরিয়  উপদ্বীপে দুটি পৃথক  রাষ্ট্রের সৃষ্টির সম্ভাবনা জোড়ালো হয়। উত্তর কোরিয়া, ১৯৫০ সালে সমাজতান্ত্রিক দেশ রাশিয়ার মতাদর্শে   সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় চলে যায়, অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া পুঁজিবাদি আমেরিকার অনুশাসনে দীক্ষিত হয়ে পুঁজিবাদি শাসনতন্ত্রে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে। তখন থেকে কোরিয়া দুটি ভিন্ন নাম যথা উত্তর ও দক্ষিণ তথা দুটি পৃথক-পৃথক অথনৈতিক ব্যবস্থাতে চলতে শুরু করে। দক্ষিণ কোরিয়াতে আমেরিকার পুঁজিবাদ আর উত্তর কোরিয়াতে সোভিয়েত ইউনিউনের মত সমাজতন্ত্রবাদ চালু হয়।ভাষা, শিক্ষা, কৃষ্টি-কালচার সবই অভিন্ন থাকলেও আন্তর্জাতিক সীমায় বিভক্ত হয়ে আলাদা দুটি জাতি হিসেবে বিশ্বমানচিত্রে পরিচিত হল।একদিকে, উত্তর  কোরিয়ার নামকরণ  হয় গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়া আর দক্ষিণ কোরিয়ার  নাম দেওয়া হয় প্রজাতন্ত্রী কোরিয়া। উত্তর কোরিয়া এর রাজধানী নির্ধারিত হয়  পিয়ং ইওং আর দক্ষিণ কোরিয়া এর রাজধানীর হয় সিউল।
এরপরে কোরিয়ানদের নিজেদের মাঝে কিছু যুদ্ধ সংঘটিত হয়।রাশিয়ান আর মার্কিনীদের পরোক্ষ এবং সমান্তরাল প্রভাব ও লক্ষণীয় ছিল।১৯৫০ সালের জুন মাসে”কোরীয় যুদ্ধ” এর প্রারম্ভিকা; চলতে থাকে তিন বছর সময়কাল ধরে।উত্তর কোরিয়ার পক্ষে লড়াই করার জন্যে গণচীন যুদ্ধে প্রবেশ। চীনা মধ্যস্ততায় দক্ষিণী স্বজাতীয় বাহিনী ৩৮তম সমান্তরাল রেখার পিছনে পশ্চাদপসরণ করে। যতক্ষণ পর্যন্ত রাশিয়া সরসরি যুদ্ধে না নিলেও তারা উত্তর কোরীয় ও চীনা উভয় বাহিনীকে সরঞ্জামিক সহয়তা প্রদান করে। এই যুদ্ধ সমাপ্ত হয় যখন  ১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।কোরীয় যুদ্ধে কয়েক লক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হরায়; ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় অনেক শহর।ভয়াবহ এই যুদ্ধের পর দক্ষিণ কোরিয়া সাময়িকভাবে হলেও ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার সম্মুখীন হয়।উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধ পরবর্তী অবস্থাও ছিল ভয়াবহ-নির্মম।
বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া উদীয়মান সামরিক শক্তির একটি দেশ।২০০২ সালের এক ভাষণে দক্ষিণ কোরিয়ার মিত্র তদকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ উত্তর কোরিয়াকে শয়তান চক্র আখ্যা দিয়েছিলেন। উত্তর কোরিয়া আর দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক শক্তির পার্থক্যই এমন মন্তব্যের কারণ।সিউলের তুলনায় পিয়ং ইওং অনেক অনেক বেশি শক্তিশালী।তবে, আজকের এ সময়ে বাজার অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বের জিডিপি-দিক থেকে অবস্থান পঞ্চদশ তম।২০০৯ সালে অষ্টম বৃহৎ রপ্তানীকারক দেশের স্বীকৃতি পায় দেশটি। উত্তর কোরিয়ার সাধারণ মানুষেরা অনেকবেশি স্বাধীনচেতা আর স্বাভাবিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত , বৈশ্বিক ভাবধারার সাথেও পরিচিত। মুদ্রার উল্টোপিঠে,উত্তর কোরিয়ার শাসকদের উদাসীনতার কারনে,সাধারণ জনমানুষ অনেক  আগে থেকেই সুবিধা বঞ্চিত। বেশ কিছু দুর্ভিক্ষে অনেক বেসামরিক মানুষের প্রাণ যায়।কিন্তু, এতকিছুর মধ্যেও উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা দুঃসাহসিকতার সাথে চালিয়েই যাচ্ছে; অনেক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার পরেও।২০০৬ এর পর ২০০৯ সালেও এর পুনরাবৃত্তি করে উত্তর কোরিয়া; ধারাবাহিকভাবে এখনও করছে; দুএকটা পরীক্ষা বিফলেও গেছে।সম্রতি, ২০১৭ তে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে যে টানটান উত্তেজনা শুরু হয়েছিল, তাতে অনেক মনিষীরা আগাম সতর্কবাণীও দিচ্ছিলেন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের।প্রতিবেশী দেশ গণচীন পরিস্থিতি কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি সামলে দেবার চেষ্টা করে;কিম জং উনের উত্তর কোরিয়া তবু পিছু হটবার পাত্র নন;বারবারই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাচ্ছেন।উল্লেখ্য যে,উত্তর কোরিয়া নিউক্লিয়ার নন-প্লোরিফেরাশন চুক্তিতে সই করলেও ২০০৩ সালে প্রত্যাহার করে নেয়; পুরো বিশ্ব থেকে নিজেদের গুটিয়ে একঘরে রাখার প্রক্রিয়া এখান থেকেই শুরু। অতীতে জাপানের উপনিবেশ থাকার কারণেই, জাপান ও জাপান সাগর তৎসংলগ্ন দ্বীপবাসীদের প্রতিটা দিনই ভয়াবহ রকমের আতঙ্কের; যতটা দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের জন্যে।দক্ষিণ কোরিয়া ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র – যুক্তরাজ্য- ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসঙ্ঘের সামরিক হুমকির মধ্যে রয়েছে উত্তর কোরিয়া।
আপাতদৃষ্টিতে এটাই যৌক্তিক,কেননা লিটলবয় আর ফ্যাটম্যানের নৃশংসতার কথা শুধু নিপ্পনবাসীরাই নয় পুরো পৃথিবীই মনে রেখেছে।হিরশিমা-নাগাসাকির দগদগে ক্ষত এত জলদি শুকিয়ে যায় নি; তবু সময়ের এই ফ্রেমে এসে একসময়ের শত্রুপক্ষ আজ মিত্রপক্ষ।পুরো দুনিয়াতে সমাজতান্ত্রিক দেশ কয়টাই বা আছে? পুঁজিবাদী, সাম্রাজ্যবাদীদের সাথে পেরে ওঠা বড্ড দুরূহ ব্যাপার।আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে উত্তর কোরিয়াকে যেভাবে আমরা উপস্থাপন হতে দেখছি, তা কি শুধুই ভেল্কিবিশেষ; নাকি ৩৬০ ডিগ্রি বেঁকে বসে ভূল রথ দেখছি।যে যুদ্ধটা মূলত হচ্ছে তার শুরু টা বিধ্বংসী স্নায়ুযুদ্ধ থেকে, কিম জং ঊনদের কো আর বিশ্বায়নে বিশ্বাসী অসংখ্য সামরিক আর বেসামরিক মানুষের ভাগ্য কি এখন পুতিন-ট্রাম্পদের চালে শান্তি নাকি সংঘর্ষের দিকে মোড় নিবে তা এখনই বলা মুশকিল।
তবে,ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে,সাম্রাজ্যবাদীরা মানবতা বোঝে না; ছোট শিশুর কোমল নিষ্পাপ মুখ অমলিন থাকুক এমন বোধ ওদের হয় না,লোভে পাপকে ধারণ করে সেই পাপেই যে ওদের মৃত্য ওরা ভূলে যায়; পরবর্তী প্রজন্মের খলনায়ক হয়ে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নেয় এই নরপশুরা।
কৃতজ্ঞতাঃ  https://en.wikipedia.org/wiki/Korea
এবং বিবিসি প্যানারোমার একটি প্রামান্যচিত্র থেকে অনুপ্রাণিত

সনু নিগমের গলায় আজানের মাইক বেঁধে দেয়া হোক!

Now Reading
সনু নিগমের গলায় আজানের মাইক বেঁধে দেয়া হোক!

প্রথমেই বলে রাখি, আমি হিন্দি গান শুনিনা গত দেড় বছর। কানের কাছে বাজলেও অসহ্য লাগে। হ্যাঁ, আরেকটা কথা, হিন্দি আর উর্দূ কিন্তু একইরকম, লেখাটা ভিন্ন। কেন হিন্দি গান শুনিনা সে নিয়ে আরেকদিন বিস্তারিত বলবো। তবে এটা সত্য, আগে শুনতাম মাঝেমাঝে। তবে হিন্দি না বুঝেই, সুর ভালো লাগতো কিছু গানের তাই শুনতাম আরকি!

যাইহোক, যা বলছিলাম, মানসিক বিকারগ্রস্ত শিল্পী সনু নিগমের কথা। তাকে আমি ২০০৭ সালের আগে চিনতাম না। তার একটা গান শোনার পর আমি তার দারুণ ভক্ত হয়ে গেলাম, দেখলাম, সারা উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশ, ভারত , পাকিস্তান এই তিন দেশ এমনকি নেপাল ও শ্রীলঙ্কাতেও তার ভক্ত সংখ্যা অনেক। পরবর্তীতে সে বাংলাদেশে এসে গানের এলব্যামও বের করে গেছে !!

সবকিছু ভালোই চলছিল কিন্তু তার সেই বিতর্কিত টুইটের পর বদলে গেল সবকিছু।

কি ছিল সেই টুইটে যে পুরো ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানে তাকে নিয়ে বিতর্কের ঝড় বয়ে গেল?

প্রথম টুইটে বলা হয়েছিলঃ

God bless everyone. I’m not a Muslim and I have to be woken up by the Azaan in the morning. When will this forced religiousness end in India

এখানে সে ঠিক উন্মাদের মত লিখেছে। আজানকে সে forced religiousness  বা জোরপুর্বক ধর্ম চাপিয়ে দেয়া বলে উল্লেখ করেছে! আবার এটাও বলেছে, When will this forced religiousness end in India অর্থ্যাৎ, ভারতে কবে এই জোরপূর্বক ধর্ম চাপিয়ে দেয়া শেষ হবে?

আচ্ছা সনু , আপনি কি বলুন তো? আপনার মাথায় কি গোবর ভর্তি হয়ে আছে? নাকি আপনার বয়স বেড়ে গেছে, আগের মত সেই জোর নেই, আগের মত গান বা কনসার্টে ডাক পান না, তাই গলায় যতটুকু জোর আছে, তাই গলাবাজি থুক্কু টুইটবাজি করছেন? আপনার কি বুদ্ধি লোপ পেয়ে গেছে , খেয়াল নেই যে ভারতে কত মুসলমান মানুষের বাস?

আচ্ছা, এরপর কিছুক্ষণ পর তাল সামলাতে না পেরে আরেকটা টুইট,

And by the way Mohammed did not have electricity when he made Islam Why do I have to have this cacophony after Edison?

বেচারা এই টুইটে এসে নিজের মানসিক বিকলঙ্গতার পরিচয় দিলেন। পরিচয় দিলেন তার ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাবের। সে ইসলামকে আসলেই কোনোদিন ভালো চোখে দেখেনি। সারা জীবনের মনের সব ক্ষোভ ঢেলে দিলেন ইসলাম ধর্ম আর আজানের প্রতি।

কত বড় আহাম্মক হলে সে এই কথা বলে যে Mohammed did not have electricity when he made Islam – এখানে when he made Islam দ্বারা কি বোঝানো হচ্ছে? আমাদের নবী করিম মোহাম্মদ (সাঃ) ইসলাম ধর্ম “তৈরী” করেছেন? কোথায় যাবো এই মূর্খকে নিয়ে বলেন তো! এ শয়তান তো এটাও জানেনা যে ইসলাম ধর্ম আল্লাহর তৈরী এবং আল্লাহর নির্দেশে নবী করিম মোহাম্মদ (সাঃ) মানুষের নিকট এই শান্তির ধর্মের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। ইংরেজিতে যাকে Messenger বা ধর্ম প্রচারক বলা হয়ে থাকে। একে তো জুতা পেটা করা উচিত বলে মনে করি; আহাম্মক কোথাকার!!

একটা কথা এখানে বলে রাখি, সে কিছুক্ষণ পর পর টুইট করেছে।

প্রথম টুইট ছিল 5:55 AM – 17 Apr 2017 তে,

দ্বিতীয় টুইট 6:01 AM – 17 Apr 2017,

তৃতীয় টুইট 6:06 AM – 17 Apr 2017 এবং

চতুর্থ টুইট যে কিনা ছোট একটি “Gundagardi hai bus…” 6:19 AM – 17 Apr 2017 তে।

অর্থ্যাৎ সে সময় নিয়ে ভেবেছে এবং লিখেছে কিন্তু সেটা মনের সব ক্ষোভ উগরে দিয়ে। নিজেকে সামলাতে পারেনি। আচ্ছা, এরপর তৃতীয় টুইট তো আরো মজার!

তৃতীয় টুইটে কি লিখলেন?

I don’t believe in any temple or gurudwara using electricity To wake up people who don’t follow the religion. Why then..? Honest? True?

বুঝলেন, হাসি আটকে রাখতে পারছি না; তার শেষ টুইটের আমি দুইটা ব্যাখ্যা দাড় করাতে পারি।

প্রথম ব্যাখ্যাঃ  ইসলাম নিয়ে বলা হয়েছে বলে সেটা একপেশে হয়ে গেছে। বা একপেশে শোনাচ্ছে। তাই ব্যাপারটাকে সামাল দিতে কি বলা হলো? সে নাকি মন্দির আর গুরুদুয়ারাতেও মাইক বাজানো পছন্দ করে না।

দ্বিতিয় ব্যাখ্যাঃ  who don’t follow the religion কথা দ্বারা ফুটে উঠেছে তার নাস্তিকতার পরিচয়; হ্যাঁ সনু নিগম কোনো ধর্মে বিশ্বাসী নন। হয়তো বা এটাই এই টুইটটার মাধ্যমে একটু নাটকীয় ভাবে উপস্থাপন করা আরকি!

তার চতুর্থ টুইট নিয়ে আর কথা বলতে চাচ্ছি না; তবে একজনের করা মন্তব্যে সে লিখেছে Learn to accept & respect our religious differences. Living in a multi-religious society demands some tolerance (6:39 AM – 17 Apr 2017)

Living in a multi-religious society demands some tolerance……! ওহ মাই আল্লাহ!! আমি তো এইটা জানতাম না! জীবনে প্রথম শুনলাম এমন কথা। সনু দাদা ( তোরে দাদা বলতেও মন সায় দিচ্ছে না, কিন্তু আমি তো ভদ্র তাই সম্মান দিয়ে বললাম আরকি! ) আপনাকে সামনে পেলে বলতাম, আমি মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের এক বিভাগীয় শহরের খ্রিষ্টানদের এলাকায় বড় হয়েছি; সেখানে শহরের বড় গীর্জা ছিল, মন্দির ছিল আর মসজিদ তো ছিলই। বড় দিন এলে ২৫ ডিসেম্বর এর আগে প্রতি সন্ধ্যাঁয় গানের দল এসে খ্রিষ্টানদের বাড়িতে বাড়িতে গান করতো, আমরা সবাই বারান্দায় দাড়িঁয়ে সেই গান শুনতাম, হিন্দু বাড়িতে , অনুষ্ঠানে নিয়মিত গিয়েছি কারণ সবচাইতে কাছের বন্ধু একজন হিন্দু। শুধু আপনিই মাল্টি-রিলিজিয়াস সমাজে বাস করেন না, আমরাও করি; কই কোনদিন তো দেখলাম না শুনলাম না এমন কথা আপনি যেটা বললেন!

শুনুন, সর্বশেষে একটা কথা বলি,

আজান এর জন্য মাইকের ব্যবহার যদি আপনার কাছে শব্দদূষণ বা cacophony হয়ে থাকে, তবে আপনার গলায় আজান সহ একটা মাইক বেঁধে দেয়া উচিত বলে মনে করি; শব্দদূষণ নাকি কি বুঝতে পারতেন; যে আজানের ধ্বনিতে মনে প্রশান্তি আসে, তাকে বলেন শব্দদূষণ আর জোর করে ধর্ম চাপিয়ে দেয়া! বাহ সনু বাহ!

টাইটানিক এর ইতিকথা

Now Reading
টাইটানিক এর ইতিকথা

ইতিহাসের পাতায় এতটা চর্চা আর কোনো জাহাজকে নিয়ে হয়নি যতটা হয়েছে এই টাইটানিককে নিয়ে। কারণটা বোধহয় সেই কালজয়ী চলচ্চিত্রটির জন্য। কিন্তু সেই চলচ্চিত্রের দৃশ্যমান জগতের বাইরেও রয়েছে অজানা এক টাইটানিক। সেইসব টুকিটাকি নিয়েই আজকের এই লেখা।

‘হোয়াইট স্টার লাইন’ নামক কোম্পানির অর্ডারে এই টাইটানিক নির্মাণ করে বেলফাস্টের ‘হারল্যান্ড অ্যান্ড উলফ শিপইয়ার্ড’। ‘টাইটানিক’ নামটি আসে গ্রীক দেবতা টাইটানের নাম থেকে। এটা ছিল জাহাজটির সংক্ষিপ্ত নাম। পুরোনাম ছিল ‘আর এম এস টাইটানিক’ বা ‘রয়েল মেল স্টিমার টাইটানিক’। এর দৈর্ঘ্য ৮৮২ ফুট ৯ ইঞ্চি আর প্রস্থ ৯২ ফুট ৬ ইঞ্চি। উচ্চতায় ছিল ১৭৫ ফুট। ততকালীন সময়ে এটি ছিল সবচেয়ে বড় আর বিলাসবহুল জাহাজ। টাইটানিক জনসম্মুখে প্রথম আসে ৩১শে মে ১৯১১ তে। জাহাজটি নির্মাণ করতে খরচ হয় ৭.৫ মিলিয়ন ডলার, যা বর্তমান সময়ের হিসাবে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের সমান।

নির্মাণকালের শুরু থেকেই এই জাহাজকে নিয়ে মানুষের মাঝে কৌতুহল সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিল এর বিপণন কোম্পানি। এমনকি তারা টিকেট এর গায়ে প্রচারের জন্য লিখেছিল, “স্বয়ং ঈশ্বরও যাকে ডোবাতে পারবে না” ধরনের শ্লোগান। এ ধরনের শ্লোগান আর টিকিটের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে থাকায় প্রচুর নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষ আমেরিকায় যাবার স্বপ্ন দেখেছিল। আবার ‘অলিম্পিক ক্লাস’ এর বিলাসবহুল বলে তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী তিন ব্যক্তি স্বপরিবারে সে জাহাজের প্রথম যাত্রার টিকেট কেটেছিলেন। প্রথম শ্রেণির টিকিটের মূল্য ছিল ৩১০০ ডলার আর ৩য় শ্রেণির জন্য ছিল মাত্র ৩২ ডলার। সাউদাম্পটনের ৪০১ নং ইয়ার্ড থেকে প্রথম যাত্রার দিনটি ছিল ১০ই এপ্রিল ১৯১২।

শুধু আকৃতি বা বিলাসিতার দিক দিয়ে নয়, গতির দিক দিয়েও এটি সেই সময়ের সেরা জলযান ছিল। প্রায় ২৪ নটিক্যাল বা ৩৯ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় ছুটে চলত এই জলদানব। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের কাছে হার মেনে তাকেও ডুবতে হয় মহাসমুদ্রের অতল গহ্বরে। উত্তর অ্যাটলান্টিক সাগরে ১৯১২ সালের ১৫ই এপ্রিল রাতে একটি আইসবার্গের সাথে রহস্যজনক ভাবে ধাক্কা খায় এই জাহাজটি। ধাক্কা লাগার প্রায় ২ ঘন্টা ৪০ মিনিট পর একেবারে তলিয়ে যায় জাহাজটি। তখন প্রায় সাড়ে তিন হাজারের মত মানুষ এই জাহাজটিতে অবস্থান করছিল। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হলো, এতো বড় বিলাসবহুল জাহাজের লাইফবোট ছিল মাত্র ২০টি যা বড়জোর ১১৭৮ জনকে বাঁচাতে সক্ষম। যা মোট যাত্রীর তিন ভাগের এক ভাগ। অনেকেই এই জাহাজডুবির ঘটনাকে পরিকল্পিত বলে মনে করেন। কারণ, এই জাহাজডুবির ঘটনা বিশ্বে বিপুল পরিবর্তন এনেছে। বিশেষত ফেডারেল ব্যাংক অব আমেরিকা প্রতিষ্ঠা করা সহজ করে দেয় এই জাহাজডুবি। নিম্নবিত্ত মানুষের আর্থিক সমস্যার কথা চিন্তা করে এই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী যে ব্যক্তিরা বারবার ভেটো দিয়ে আসছিলেন তাদের প্রত্যেকেই স্বপরিবারে এই দুর্ঘটনায় সলিল সমাধি হয়। যার ফলাফল স্বরুপ আজো যুক্তরাষ্ট্রকে ফেডারেল ব্যাংকের উপর অর্থের জন্য নির্ভর করতে হয়। এতো ক্ষমতাধর রাষ্ট্র হওঁয়া সত্ত্বেও তাদের নিজস্ব রাষ্ট্রায়ত্ত্ব কোনো ব্যাংক নেই।

এবার আরো কিছু মজার তথ্য দেয়া যাক। এই জাহাজটির যে আর্কিটেক্ট থমাস এন্ড্রু তিনিও এই জাহাজডুবিতে মারা যান। জাহাজের ডিজাইন সংক্রান্ত সব কাগজপত্র তার সাথে থাকায় সেগুলোও সাগরের অতলে হারিয়ে যায়। এর ফলে অনুসন্ধান করার মত তেমন কোনো নথিপত্র অবশিষ্ট ছিল না। এতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও তাদের লাইফবোট এ তোলা হয়নি। কারণটা, আজো অজানা। এছাড়াও এই জাহাজের মুখ্য প্রপেলারটি ছিল অন্য জাহাজের ব্যবহৃত ভাংগা প্রপেলার যা পরবর্তীতে মেরামত করা হয় এবং টাইটানিক এ ব্যবহার করা হয়। আইসবার্গের সাথে ধাক্কা খাওয়ার আগেও একবার ‘এসএসসিটি অব নিউইয়র্ক’ জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার উপক্রম হয়েছিল টাইটানিকের কিন্তু মাত্র চার ফুট দূরত্বের জন্য বেঁচে যায়। দুর্ঘটনার আগের দিন দুপুরের দিকে ‘America’ নামক জাহাজ থেকে রেডিওর মাধ্যমে জানানো হয় যে সামনে একটি আইসবার্গ আছে। এছাড়াও ‘মেসাবা’ নামের আরো একটি জাহাজ থেকেও একই বার্তা টাইটানিক এ আসে। কিন্তু টাইটানিকের রেডিও যোগাযোগের দায়িত্বে থাকা জ্যাক পিলিপস আর হ্যারল্ড ব্রীজ সেগুলোকে অপ্রয়োজনীয় মনে করেন। মূলত তাদের এই দায়িত্বহীনতার ফলাফল এই জাহাজডুবি।

আর ভাগ্যও সেদিন টাইটানিকের সাথে ছিল না। নইলে এমন অংশেই আইসবার্গের সাথে ধাক্কা লাগে যার ফলে পানি প্রতিরোধের ১২টি গেটই বিকল হয়ে পড়ে। যেখানে বড়জোড় ৪টি পানিপূর্ণ কম্পারটমেন্ট নিয়ে ভাসতে পারতো সেখানে ৫টি কম্পারটমেন্ট এ পানি ঢুকে পড়েছিল। ১৫ তারিখ মধ্যরাতে লাইফবোটগুলো পানিতে নামানো হয়। এতে কিছু সংখ্যক মানুষ বেঁচে যায়। টাইটানিক চারিদিকে নিয়মিতভাবে বিপদসংকেত প্রেরণ করতে থাকে। সেসময় টাইটানিকের সবচেয়ে কাছের জাহাজ ছিল ‘Carpathia’ যেটা ৯৩ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে আসতে সময় লেগেছিল ৪ ঘন্টা। এছাড়াও ‘মাউন্ট ট্যাম্পল’, ‘ফ্রাঙ্কফুর্ট’ এবং ‘অলিম্পিক’ সেই বিপদসংকেত পায়। তবে অনেক বেঁচে যাওয়া যাত্রীর মতে জাহাজ থেকে নিকটবর্তী দূরত্বে একটা জাহাজের আলো দেখা যায়। যার পরিচয় আজো রহস্যে ঘেরা। অনেকের মতে সেটি ছিল ‘Sampson’ নামক জাহাজ। ধ্বংসের মুখে থাকা টাইটানিক থেকে অনেক ওয়ারলেস এর মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় এবং দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য জরুরী রকেট পর্যন্ত ছোঁড়া হয় কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এভাবেই প্রায় ১৫০০ যাত্রীর মৃত্যু হয় এই দুর্ঘটনায়। টাইটানিক যে জায়গায় ডুবে যায় তার নাম ‘দ্যা গ্রেট ব্যাংকস অফ নিউফাউন্ডল্যান্ড’। বেশিরভাগ লোকই প্রাণ হারিয়ে ছিল অতিরিক্ত ঠান্ডায়। কারণ, তখন পানির তাপমাত্রা ছিল ২৮ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা মাইনাস ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এ তাপমাত্রায় মানুষ ১৫ মিনিটের ও কম সময়ে মারা যায়। সুতরাং পানিতে থাকা অধিকাংশ মানুষই মারা যায় কিছু সাহায্য পাবার আগেই। বিশেষত নারী ও শিশুরা।

৭৩ বছর পর রবার্ট বালারড নামক ফরাসি বিজ্ঞানী টাইটানিককে খুঁজে বের করেন। যে জাহাজটিকে অডুবন্ত বা আনসিংকেবল বলে আখ্যা দেয়া হয়েছিল সেই জাহাজটিই এখন সাগরতলের ১২ হাজার ৬০০ ফুট নিচে দ্বিখন্ডিত হয়ে পড়ে আছে। আর সাক্ষী হয়ে আছে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দুর্ঘটনার।

পঙ্গু সংগঠনের আরেক নাম জাতিসংঘ

Now Reading
পঙ্গু সংগঠনের আরেক নাম জাতিসংঘ

১৯৪৫ সালের সালে অক্টোবর মাসে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার সনদে অনুসমর্থন দিয়েছিল সদস্য দেশগুলো।
২য় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার ৫ মাস পরের কথা ।তখন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া ,চীন সহ বিশ্ব ২৯ দেশের নেতারা একটা চুক্তি স্বাক্ষর করেন । যার মধ্যে দিয়ে জন্ম হয়েছিলো জাতিসংঘের। এটা জন্ম হওয়ার মূল্য কারন ছিলো বিশ্বকে যুদ্ধের হাত থেকে  রক্ষা করা । ১৯৪৫ সালের অক্টোবর ২৪ তারিখ জন্ম নিয়েছিলো জাতিসংঘের । জাতিসংঘের জন্ম হওয়ার পর থেকেই জনসাধারন নতুন দিন দেখার আশার থাকতে লাগলো ।  কিন্তু দিন যত যেতে থাকলো আস্তে আস্তে সব পরিষ্কার হতে শুরু হল। জাতিসংঘের ক্ষমতা নাম মাএ ছিলো । জাতিসংঘ কিছুই করতে পারতো না ।কিছু বিষয়ে তারা মাথা ঘামাতে কিছু বিষয়ে পারতো তবে বেশি ভাগ সময় দেখা যে তো অসহায় । জাতিসংঘ শুরু হওয়ার পরেও অনেক যুদ্ধ হয়েছে । জাতিসংঘ থামাতে পারে নি ।
তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তারা সাহায্য করতে ঠিক যায় বাংলাদেশ পুলিশের মতো। নামিবিয়া, কাম্বোডিয়া মধ্যে, সোমালিয়া, উগান্ডা, রুয়ান্ডা, মোজাম্বিক,
প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়া, লাইবেরিয়া, হাইতি, তাজিকিস্তান, পশ্চিম সাহারা, সিয়েরা লিয়ন, কসোভো, জর্জিয়া, পূর্ব তিমুর, কঙ্গো, আইভরি ডি ইভয়ার এবং ইথিওপিয়া মতো আরো
অনেক দেশে তারা শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠায় দেশের শান্তি এবং সাধারন মানুষের উন্নতির জন্য কাজ করে । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ী পাঁচ পরাশক্তি – চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী সদস্য। এই স্থায়ী সদস্যদের নিরাপত্তা পরিষদের রেজল্যুশন, নতুন সদস্য দেশ অন্তর্ভুক্তি বা মহাসচিব প্রার্থীর নিয়োগে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা আছে। এছাড়াও ১০ জন অস্থায়ী সদস্য আছে, যারা নিদিষ্ট অঞ্চল থেকে ২ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। নিরাপত্তা পরিষদের কাজ জাতিসংঘ সনদ দ্বারা সংজ্ঞায়িত, যা কোনো আন্তর্জাতিক শান্তির হুমকি পরিস্থিতির তদন্ত, বিবাদের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পদ্ধতি সুপারিশ, সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি সমুদ্র, বাতাস, ডাক ও রেডিও যোগাযোগ ছিন্ন করা, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা। এমনকি সামরিক আক্রমণের ক্ষমতাও রাখে। নিরাপত্তা পরিষদ সাধারণ পরিষদের নতুন মহাসচিব এবং নতুন সদস্যদেশ অন্তরভুক্তির সুপারিশ করা থাকে। নিরাপত্তা পরিষদ ঐতিহ্যগতভাবে কেবল সামরিক নিরাপত্তার বিষয়টি দেখে।

বাংলাদেশ ১৯৮৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে কাজ শুরু করে । বর্তমানে জাতিসংঘের ১২ টি দেশে শান্তিমিশনে বাংলাদেশের সৈন্য রয়েছে । বাংলাদেশ এ পর্যন্ত জাতিসংঘের  শান্তি মিশনে ১,১৮,৯৮৫ জন বাংলাদেশী সৈন্য অংশগ্রহণ করেছে । জাতিসংঘের UNIAET মিশনে বাংলাদেশী নারীরা প্রথম অংশগ্রহণ করেন । এসপি মিলি বিশ্বাস বাংলাদেশী নারী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন । বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তি মিশনে সৈন্য প্রেরণে প্রথম। বাংলাদেশ এ পর্যন্ত জাতিসংঘের ৫৪ টি শান্তি মিশনে অংশ গ্রহণ করেছে । বাংলাদেশ এ পর্যন্ত জাতিসংঘের ৩৯ টি দেশে শান্তি মিশনে অংশ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভ করে ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪।

বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ প্রাপ্তির চল্লিশ বছর পূর্তিতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একটি স্মারক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে সংস্থায় দেশটির ইতিহাস এবং ভূমিকার গুরুত্বর্পূণ দিকগুলো তুলে ধরে। ১৯৭৪ সালের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য হয়।মি বান বলছিলেন যে বাংলাদেশ একটা বিকাশমান অর্থনীতি গড়ে তুলেছে এবং সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এমডিজিতে গুরুত্বর্পূণ অগ্রগতি লাভ করেছে। মি বান বলছিলেন যে চল্লিশ বছর আগে আমি যে মিতাচার এবং অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা দেখেছি তা এই সাফল্যের পেছনে চালিকাশক্তির কাজ করেছে জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে বাংলাদেশ দুর্যোগ ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে  যে বিশেষ অগ্রগতি লাভ করেছে আমি বিশেষভাবে তার প্রশংসা করি। হাজার হাজার মানুষের জীবন এখন রক্ষা পাচ্ছে।

জোড় যার মুল্লুক তার , পৃথিবী এখন এ নীতিতে বিশ্বাসী নয়। কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্র ইচ্ছা করলে কোনো দুর্বল রাষ্ট্রের উপর অনর্থক আক্রমণ করে তার সার্বভৌমত্ব কেড়ে নিতে পারবে না। আর নেয়ার চেষ্টা করলেও তার জবাবদিহি করতে হবে যা আমরা ১৯৯০ সালে ইরাক কুয়েত দখলের পরিণতিতে দেখতে পেয়েছি।নিরাপত্তা পরিষদের ৫টি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র হলো- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং চীন। সাধারণ পরিষদ থেকে ১০টি অস্থায়ী সদস্য নিবার্চন করা হয়। বাংলাদেশ দুইবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়েছে ১৯৭৯-৮০ এবং ২০০০-২০০১ সালে। শত ব্যর্থতার মধ্যে জাতিসংঘ আজ বিশ্বকে যুদ্ধ মুক্ত করার চেষ্টা করছে।

কিন্তু চেষ্টা শুধু হয়ে  স্থায়ী সদস্য বাহিরের রাষ্ট্র বাহিরে । স্থায়ী সদস্যরা যা খুশি করতে পারে জাতিসংঘ বাধা দিতে পারে না । কারন তাদের অর্থ দিয়ে জাতিসংঘ চলে । যেমন জাতিসংঘ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র অনেক যুদ্ধ করেছে কিন্তু কেউ থামাতে পারেনি । ফিলিস্তিন-ইসরাইল  সমস্যার সমাধান করতে না পারাকে জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ সমস্যা সমাধানে শুধু প্রস্তাব গ্রহণ করেই জাতিসংঘ ক্ষান্ত থেকেছে। লেবানন সংকট নিরসনে শুধু শান্তিরক্ষী বাহিনী গঠন করেই জাতিসংঘ তার দায়িত্ব শেষ করেছে। ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বা করতে পারেনি কারন  ইসরাইল হলো যুক্তরাষ্ট্র বন্ধু দেশ তাই জাতিসংঘ কিছু্ করতে পারে নি ।

বাংলাদেশের মতো কিছু দেশের জন্য জাতিসংঘ উপকারে আসলেও তারচেয়ে বেশি দেশের উপকারে করতে পারেনি জাতিসংঘ । যতদিন না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং চীনকে জাতিসংঘ তার কথা মানতে বাধ্য করতে পারবে। ততদিন জাতিসংঘ একটি পঙ্গু  সংগঠন বলা যায়।