স্বমহিমায় চট্টগ্রাম

Now Reading
স্বমহিমায় চট্টগ্রাম

পাহাড়ী কন্যা কর্ণফুলী পাড়ের জেলা ও শহর চট্টগ্রাম। পাহাড়, সমুদ্র আর উপত্যকায় ঘেরা চট্টগ্রাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যে প্রাচ্যের রাণী হিসেবে বিখ্যাত। এখানে দেশের প্রধান এবং সর্ববৃহৎ বন্দর ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দেশের প্রধান প্রধান শিল্প কলকারখানা।

চট্টগ্রাম বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম, এশিয়ায় ৭ম এবং বিশ্বের ১০ম দ্রুততম ক্রমবর্ধমান শহর, এটি বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত

বন্দরনগরী নামে পরিচিত এই শহরের অবস্থান দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম জেলায়,  এর আয়তন ৫,২৮৩ বর্গ কিলোমিটার। চট্টগ্রামের জনসংখ্যা প্রায় ৮১ লক্ষ,  যেখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১৪৭২ জন মানুষের বসবাস।

বঙ্গোপসাগরের সীমানায় ও কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত চট্টগ্রাম বন্দর চট্টগ্রামের গুরুত্বকে বিশ্ববাসীর সামনে আরো জোরদার ও আকর্ষনীয় করে তুলেছে।

দেশের সর্বমোট রপ্তানী বাণিজ্যের প্রায় ৭৫ ভাগ সংঘটিত হয় চট্টগ্রামের উপর দিয়ে। অন্যদিকে আমদানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এ হার ৮০ ভাগ। রাজস্ব আয়েও চট্টগ্রামের ভুমিকা অপরিসীম। আমাদের মোট রাজস্ব আয়ের শতকরা ৬০ ভাগ আসে চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে।

এই চট্টগ্রামের রয়েছে হাজার বছরে গৌরবোজ্জল স্বর্ণালী ইতিহাস বৈচিত্রময়ী এই চট্টগ্রামের নামও বৈচিত্রে ভরা। সুপ্রাচীনকাল থেকে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন পরিব্রাজক, ভৌগোলিক এবং পন্ডিতগণের লিখিত বিবরণে, অঙ্কিত মানচিত্রে, এখানকার শাসক গৌড়ের সুলতান ও রাজাদের মুদ্রায় চট্টগ্রামকে বহু নামে খ্যাত করেছিলেন।

এ পর্যন্ত চট্টগ্রামের ৪৮টি নাম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‌‌- সুহ্মদেশ, ক্লীং, রম্যভূমি, চাতগাঁও, চট্টল, চৈত্যগ্রাম, সপ্তগ্রাম, চট্টলা, চক্রশালা, শ্রীচট্টল, চাটিগাঁ, পুস্পপুর, চিতাগঞ্জ, চাটিগ্রাম ইত্যাদি।

সে সব নাম থেকে চট্টগ্রামের নাম উৎপত্তির সম্ভাব্য ও চট্টগ্রামের নামের সঙ্গে ধ্বনিমিলযুক্ত কিছু নামের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি হলো।

  • চৈত্যগ্রাম: চট্টগ্রামের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অভিমত এই যে, প্রাচীনকালে এখানে অসংখ্য বৌদ্ধ চৈত্য অবস্থিত ছিল তাই এই স্থানের নাম হয় চৈত্যগ্রাম। চৈত্য অর্থ বৌদ্ধমন্দির কেয়াং বা বিহার। এই চৈত্যের সঙ্গে গ্রাম শব্দ যুক্ত হয় বলে চৈত্যগ্রাম নামের উদ্ভব হয়।
  • চতুঃগ্রাম: ব্রিটিশ আমলের গেজেটিয়ার লেখক ও’মলি সাহেবের মতে, সংস্কৃত চতুঃগ্রাম শব্দ থেকে চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি। চতুঃ অর্থ চার। চতুঃ শব্দের সঙ্গে গ্রাম শব্দ যুক্ত হয়ে চতুঃগ্রাম হয়।
  • চট্টল: চট্টগ্রামের তান্ত্রিক ও পৌরাণিক নাম ছিল চট্টল। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন তন্ত্র ও পুরাণগ্রন্থে চট্টল নামের উল্লেখ দেখা যায়।
  • শ্যাৎগাঙ্গ: বার্ণোলী সাহেবের মতে আরবি শ্যাৎগাঙ্গ শব্দ বিবর্তিত হয়ে চট্টগ্রাম নামের উদ্ভব হয়েছে। শ্যাৎ অর্থ বদ্বীপ, গাঙ্গ অর্থ গঙ্গানদী। চট্টগ্রাম গঙ্গানদীর মোহনাস্থিত বদ্বীপ- প্রাচীন আরব বণিক-নাবিকদের এই ধারণা থেকে এর নামকরণ করা হয়েছিল শ্যাৎগাঙ্গ।
  • চাটিগ্রাম: সম্ভবত রাজোয়াং বর্ণিত উপরোক্ত চিৎ-তৌৎ-গৌং নামটি মধ্যযুগে বিবর্তিত ও সংস্কৃতায়িত হয়ে চাটিগ্রাম রূপ প্রাপ্ত হয়। গৌড়ের রাজা গণেশ দনুজমর্দন দেবের ১৩৩৯-১৩৪০ শকাব্দে ও রাজা মহেন্দ্র দেবের ১৩৪০ শকাব্দে চট্টগ্রামে তৈরি মুদ্রায় টাকশালের নাম চাটিগ্রাম উল্লেখ দেখা যায়। বাংলার সুলতান সৈয়দ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ্‌ ও সৈয়দ নাসির উদ্দিন নশরত শাহ্‌র আমলে কবীন্দ্র পরমেশ্বর বিরচিত পরাগলী মহাভারতে এবং বৈষ্ণব সাহিত্য চৈতন্য-ভাগবত প্রভৃতিতে চাটিগ্রাম নামের উল্লেখ রয়েছে।
  • চাটিগাঁ: চট্টগ্রামের মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত জনশ্রুতি থেকে জানা যায় যে, প্রাচীনকালে চট্টগ্রাম ছিল জ্বীনপরী অধ্যুষিত দেশ। পীর বদর শাহ্‌ এখানে আগমন করে অলৌকিক চাটির (মৃৎ-প্রদীপ) আলোর তেজের সাহায্যে জ্বীনপরী বিতাড়িত করার ফলে এই স্থানের নাম হয় চাটিগাঁ।
  • চতকাঁও/চাটগাঁও: চাটিগাঁর ফার্সি রূপ চতকাঁও বা চাটগাঁও। বাংলার সুলতান গিয়াসুদ্দিন আজম শাহ্‌র (১৩৮৯-১৪০৯ খ্রি.) ও সুলতান জালালুদ্দিন মোহাম্মদ শাহ্‌র (১৪১৮-১৪৩২ খ্রি.) মুদ্রায় চতকাঁও টাকশালের নাম উৎকীর্ণ দেখা যায়। ১৩৯৭ খ্রিস্টাব্দে লিখিত সুবিখ্যাত সুফি সাধক মুজাফফর শামস বলখির চিঠিতে চাটগাঁও নামের উল্লেখ দেখা যায়।
  • সুদকাওয়ান: আফ্রিকা মহাদেশের অন্তর্গত মরক্কোর অধিবাসী ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে বঙ্গ ও আসাম পরিভ্রমণ করেন। তিনি তাঁর ভ্রমণকাহিনীতে চট্টগ্রামকে সুদকাওয়ান নামে উল্লেখ করেন।
  • চাটিকিয়াং: চীন দেশ থেকে ১৪০৯, ১৪১২, ১৪১৫, ১৪২২ বা ১৪২৩, ১৪২৯ ও ১৪৩২ খ্রিস্টাব্দে মোট সাতবার বাংলার সুলতানদের দরবারে রাজদূত প্রেরিত হয়েছিল। তাদের লিখিত বিবরণে চট্টগ্রামকে চাটিকিয়াং রূপে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
  • শাতজাম: তুর্কি সুলতান সোলায়মানের রেডফ্লিটের ক্যাপ্টেন সিদি আলী চেহেলভি ১৫৫৪ খ্রিস্টাব্দে জাহাজযোগে ভারত মহাসাগরীয় দেশসমূহ পরিভ্রমণ করেন। এবং এ সময় তিনি আরাকান থেকে চট্টগ্রামের সমুদ্র উপকূল হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আগমন করেন। তাঁর ভ্রমণকাহিনীতে চট্টগ্রামের নাম শাতজাম নামে লিপিবদ্ধ হয়েছে।
  • চার্টিগান: পরিব্রাজক রালফ ফিচ ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম পরিভ্রমণ করেন। তাঁর লিখিত ভ্রমণকাহিনীতে চট্টগ্রামের নাম চার্টিগান রূপে লিপিবদ্ধ হয়েছে।
  • জেটিগা: ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে ফ্যান্ডেন ব্রুক অঙ্কিত মানচিত্রে চট্টগ্রামের নাম জেটিগা রূপে লিখিত আছে।

পবিত্র এই অঞ্চলের মাটি সুদীর্ঘকাল ধরেই পীর-আউলিয়াদের সাধনপীঠ, এখানে রয়েছে  সকল ধর্মের মিলন ক্ষেত্রের পাশাপাশি কবিধাত্রী, বিপ্লবতীর্থ। রয়েছে অনেক দর্শনীয় স্থান যার মধ্যে- পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, ফয়’স লেক, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, সি আর বি, জাতিতাত্ত্বিক যাদুঘর, ওয়ার সিমেট্রি, ডিসি হিল,চেরাগী পাহাড়, বাটালি হিল, কোর্ট বিল্ডিং, হযরত শাহ আমানত (র:) এর মাজার, হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (র:) এর দরগাহ, চন্দ্রনাথ পাহাড় , বাঁশখালী ইকোপার্ক, পারকি সমুদ্র সৈকত, নেভাল, গোল্ডেন বিচ, কর্ণফুলী হারবার, মিলিটারি একাডেমি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সহ আরো কত কি।  

মোট কথা চট্টগ্রামের সৌন্দর্য্য বলে বুজানোর মত নয়। যে কেও বিমোহিত হতে পারে চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে, সব খানেই আছে নৈসর্গিক রুপ যা ঢেলে সাঁজাতে প্রকৃতি কিঞ্চিৎ কার্পণ্য করেনি।

চট্টগ্রামের আবাহাওয়া ও খুবি চমৎকার,  এই অঞ্চলের বার্ষিক গড় আপমাত্রা ৩৩.৮ সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন ১৪.৫ সেলসিয়াস। বার্ষিক বৃষ্টিপাত ৩,১৯৪ মিলিমিটার পর্যন্ত হয়।

চট্টগ্রাম এর নাম পরিবর্তন নিয়ে ষড়যন্ত্র!

Now Reading
চট্টগ্রাম এর নাম পরিবর্তন নিয়ে ষড়যন্ত্র!

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামকে নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন এক ষড়যন্ত্র। এবার সরাসরি খড়গ বসাতে চাচ্ছে তার দেহে অর্থাৎ ইংরেজি নামটা পুরোপুরি মুছে দেয়ার উদ্যেগ নেয়া হয়েছে। ইংরেজিতে চিটাগং বলার একটা রেওয়াজ সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই এমন নয়যে স্বাধীন পরবর্তী এর নামকরণ হয়েছিল। কিন্তু বদলে যাওয়ার পথে এখন সে নিয়ম। সিদ্ধান্ত হতে চলেছে এখন থেকে নাকি চট্টগ্রামকে ইংরেজিতেও ‘চট্টগ্রাম’ লিখতে হবে। তবে এ নাম পরিবর্তনের তালিকায় চট্টগ্রামের সাথে আরো আছে বরিশাল, কুমিল্লা, বগুড়া ও যশোর জেলার নাম তাদেরও ইংরেজি বানান পরিবর্তন করা হচ্ছে। মূলত বাংলা নামের সঙ্গে মিল করতেই এ পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এমনটাই জানান। তিনি বলেন পাঁচটি জেলার নামের ইংরেজি বানানের অসংগতি দূর করতে আগামীকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আরো জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করবেন।

সরকারের সকল উন্নয়ন এর উদ্দ্যেগ প্রশংসনীয়, কিন্তু এমন একটা বিষয়ের উপর তারা হস্তক্ষেপ করছে যেটার সাথে চট্টগ্রামবাসীর রয়েছে হৃদ্যতায় প্রায় ২৬০বছরের দীর্ঘ সম্পর্ক। চট্টগ্রামের ঐতিহ্য হাজার বছরের যা তিলে তিলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর নামেও রয়েছে বেশ বৈচিত্র্য, প্রায় ৪৮টি নামের খোঁজ মেলে চট্টগ্রাম নিয়ে। ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম মোঘল সম্রাজের অংশ হয়, পরবর্তীতে আরাকানদের পরাজিত করে মোঘলরা দখল করে নিয়ে এর নাম রাখেন ইসলামাবাদ। ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে মীর কাশিম আলী খান ইসলামাবাদকে(চট্টগ্রাম) ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করে দেয়। ব্রিটিশ অধিভুক্ত হওয়ার পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি চট্টগ্রামকে ইংরেজিতে চিটাগং হিসেবেই নামকরণ করে। সেই হতে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম ইংরেজিতে চিটাগং হিসেবেই লেখা হয়ে আসছে এবং বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়ে আসছে। সারা বিশ্বের কাছে চিটাগং পোর্ট এর আলাদা একটা কদর আছে সেই ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকেই। কেবল প্রসিদ্ধ এই নামের বদৌলতে চিটাগং তথা বাংলাদেশকে চিনে নেয় বিশ্ব। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনা না করেই ইংরেজি চিটাগং নামের পরিবর্তনে তোড়জোড় শুরু করেছে চট্টগ্রাম বিদ্বেষী সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা।

চট্টগ্রামের ইংরেজি বানান Chittagong এর পরিবর্তে বানান Chattagram করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রস্তাব দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলার নামের বানান বাংলা উচ্চারণের সঙ্গে ইংরেজিতে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধি বা নীতিমালা নেই। কেবল নতুন বিভাগ, জেলা, উপজেলা, থানা কিংবা প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত নিতে নিকার সভার আহ্বান করা হয়। যে নিকার সভার মাধম্যে নামের এই পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে সেই কমিটির আহ্বায়ক হচ্ছেন প্রধামন্ত্রী। এখন প্রশ্ন হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ বিষয়ে স্বদিচ্ছা আছে কিনা?

এদিকে জেলার নামের বাংলা উচ্চারণের সাথে ইংরেজিতে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে হতেই হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধি বা নীতিমালা না থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রীপরিষদ কেন এত উৎসাহী হয়ে উদ্যেগটি নিচ্ছেন তা বোধগম্য নয়। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে বেশ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে চট্টগ্রামের স্থানীয় জনগণের মাঝে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব কম বেশি সকলে। প্রায় প্রত্যেকেই বিষয়টি নিয়ে বেশ মর্মাহত। সকলেরই অভিন্ন দাবী ইংরেজিতে চিটাগং থাকলে কোন সমস্যা নেই বরং পরিবর্তনে সমস্যা বাড়বে। এখানকার মানুষ ইংরেজিতে চিটাগং বলতেই বেশ গর্বেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। স্থানীয় বিজ্ঞাপনসহ অনেক ক্ষেত্রেই চিটাগং ব্যাবহার করা হয়, এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠানের নামের সাথেও তা যুক্ত। সবাই আশংকা করছেন যে নাম পরিবর্তনের এই উদ্দ্যেগে না জানি চিটাগং এর ঐতিহ্যও বিলীন হয়ে যায়! শুধু নাম পরিবর্তন হলেই যে দায় মুক্তি ঘটবে তা কিন্তু নয়, এর সাথে অন্যান্য সামগ্রিক বিষয়ে একটি পারিপার্শ্বিক চাপ সৃষ্টি হবে। প্রায় প্রত্যেকেই দ্বিধাহীনতায় ভুগবে ইংরেজি নামের ক্ষেত্রে। এই নাম পরিবর্তন শুধু যে সরকারি দলিলাদিতেই হবে তা কিন্তু নয় পর্যায়ক্রমে প্রাইভেট সেক্টরে এর প্রভাব বিস্তার ঘটবে। বেশিরভাগ মানুষের মত আমারও মত অন্তত নাম পরিবর্তনের পূর্বে একটা জরিপ চালানোর বিশেষ প্রয়োজন ছিল। কারো ইচ্ছা অনিচ্ছায়তো এত বছরের নামের গৌরব ঐতিহ্যকে মুছে দিয়ে এর অস্তিত্ব অস্বীকার করা যাবেনা। প্রসঙ্গতই অনেকের ধারণা- মন্ত্রীপরিষদে চট্টগ্রাম বিদ্বেষীদের প্রভাব বেশি, হয়ত চট্টগ্রামকে বেকায়দায় ফেলতে তাদের এই হীন চক্রান্ত! নাম পরিবর্তন করে চট্টগ্রামকে পিছিয়ে দিতে তাদের তৎপরতা। অন্যথা কোন প্রকার সভা সেমিনারে আলাপ আলোচনা না করে, জনমত উপেক্ষা করে একটা অঞ্চলের দীর্ঘ ঐতিহ্যগত নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়ার অর্থই হচ্ছে সেই অঞ্চলের জনগণকে চরম অপমান করার শামিল। তাই সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ দয়া করে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন, চট্টগ্রামের মানুষ ইংরেজিতে চিটাগং বলতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে আসছে যুগ যুগ ধরেই। প্রয়োজনে জনমত জরিপ চালান তবুও তড়িৎ সিদ্ধান্তে এমন কিছু করবেননা যেটা সত্যিকার অর্থেই জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়! 

কর্ণফুলীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ডলফিন?

Now Reading
কর্ণফুলীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ডলফিন?

চমকে উঠলেন নাকি? উঠারই কথা একসময় দৃশ্যপট এমন থাকলেও কর্ণফুলী নদীর চির চেনা গ্যাঞ্জেস ডলফিন বা গাঙ্গেয় ডলফিন কালের বিবর্তনে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।  চট্টগ্রামে স্থানীয়রা এদের উতোম আবার অনেকেউ শুশুক নামে ডাকে। এর ইংরেজি নাম Ganges River Dolphin আর বৈজ্ঞানিক নাম হল Platanista gangetica।  বেশ কয়েক বছর পূর্বের এক গবেষণায় জানা যায়- কর্ণফুলী ও এর আশে পাশের শাখা নদীতে গেঞ্জেস ডলফিনের সংখ্যা প্রায় ১২৫ এর মত। আর সারা বিশ্বে এই প্রজাতির ডলফিন আছে মাত্র ১১-১২শ’টি। হালদায় পূর্বে অধিক সংখ্যায় ডলফিন বিচরন করতে দেখা গেলেও, কালের পরিক্রমায় নদী দূষণ এবং বসবাস অনুপযোগী হওয়াতে বহু ডলফিন অসহায়ভাবে মারা যাচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন)’র লাল তালিকাভুক্ত হয়েছে এ ডলফিন। এর অর্থ দাঁড়ায়, এ প্রজাতির ডলফিন এর অস্তিত্ব হুমকির মুখে। ২০১২ সালের বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনের তফসিল-১ অনুসারে এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত বলে উল্ল্যেখ আছে।

স্থানীয় ও গবেষকদের অভিমত কর্ণফুলীতে এখন শতশত ড্রেজার। বালু উত্তোলনকারী এসব ড্রেজারের প্রপেলারের আঘাতে মারা যাচ্ছে একের পর এক ডলফিন। এসব ড্রেজারের সৃষ্ট কম্পন ও শব্দ দূষণে ডলফিনরা একস্থান হতে অন্য স্থানে ছুটাছুটি করে। দেখা যায় অনুকুল পরিবেশ থেকে তারা প্রতিকুল পরিবেশে প্রবেশ করে। তাছাড়াও নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও সাম্পানের দৌড়াত্ন বাড়ছে দিন দিন। এসবের ইঞ্জিনের ব্লেডে কাটা পড়ে মারা যাচ্ছে এই ডলফিন। এসব ডলফিনের চোখ নেই, মূলত ইকো সাউন্ড দিয়ে তারা চলাফেরা ও খাবার সন্ধান করে। এদের শরীরের গঠনও বেশ নরম প্রকৃতির ফলে ড্রেজারের প্রপেলার বা অন্য কোনো অংশের আঘাত এরা সহ্য করতে পারে না। পাশাপাশি নদীর পানিতে অতি মাত্রায় বর্জ্য জমে রাসায়নিক দূষণ এবং জেলেদের অবাধে মাছ ধরার কারণেও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে এ প্রজাতির ডলফিন। গত কয়েক মাসের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি মারা পড়েছে কর্ণফুলীর শাখা নদীতে। এ পর্যন্ত ভাসমান অবস্থায় ১৬টি মৃত ডলফিন পাওয়া গেছে। কর্ণফুলীতে প্রজনন শেষে এ ডলফিন বিচরণ করতে শাখা নদী হালদা ও সাঙ্গুতে প্রবেশ করে। কিন্তু হালদায় মাত্রাতিরিক্ত নৌযান চলাচল বেড়ে যাওয়ায় ব্যাঘাত ঘটছে এদের স্বাভাবিক জীবনচক্রে। এদিকে হুমকির মুখে আছে তাদের প্রজনন ক্ষেত্র কর্ণফুলীও। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এখনও যে স্বল্প সংখ্যক ডলফিনের দেখা মিলছে আগামী কয়েক বছরে হয়ত তাও হারিয়ে যাবে। ডলফিনের এই অস্তিত্ব সংকটে উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে এরই মধ্যে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে তারা। এ বিষয়ে ভিন্নমত এসেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী ও পরিবেশবাদী গবেষকদের তথ্যে, তাদের গবেষণা বলছে বন্দরের এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ডলফিনের প্রজনন ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বন্দরের জেটি নির্মাণ ডলফিন এবং সম গোত্রীয় অন্যান্য প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর হবে কিনা, তা জানতে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, পরিবেশ ও বন বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন এবং মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক আয়েশা আক্তার এ গবেষণা পরিচালনা করেন।তাদের অভিমত আটটি বিষয়কে গুরুত্বে নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে ডলফিনের জীববৈচিত্র্য ঠিক রাখা সম্ভব।

ডলফিন সংরক্ষণে বিশেষজ্ঞদের ৮টি সুপারিশ হলো-

১. নদীতে বিভিন্ন আবর্জনা, রাসায়নিক পদার্থ, তেল ইত্যাদি নিঃসরণে কঠিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।

২. নদীতে বন্দরের অপারেশন কাজের সময় সৃষ্ট শব্দদূষণ এবং নদীতে চলতে থাকা নৌযানের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা।

৩. নদীর পাড়ে থাকা বিভিন্ন কলকারখানার দূষিত বর্জ্য নদীতে আসতে না দেওয়া।

৪. ডলফিনগুলোর জন্য একটি জোন করা এবং ওই জোনে মাছ ধরা বন্ধ করা।

৫. শুস্ক মৌসুমে নদীর ওপরের শাখা নদী এবং অন্যান্য খালের বাঁধ অপসারণ করে পানির প্রবাহ ঠিক রাখা।

৬. অভয়ারণ্য এবং ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের আনন্দ দেওয়া।

৭. ডলফিন সংরক্ষণের জন্য জনসচেতনতা বাড়ানো এবং

৮. মনিটরিং সেল গঠন করা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক আয়েশা আক্তার এবং পরিবেশ বন বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন এর যৌথ গবেষণায় উক্ত সুপারিশখানা বন্দর কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়।

নদীতে অনেক দূষণ থাকার পরও এ প্রজাতির ডলফিনগুলো এখনও টিকে আছে বলে তাঁদের অভিমত।  তাই ডলফিনগুলো যেন অবাধে বিচরণ করতে পারে, তার জন্য আলাদা জোন করার প্রতি তারা গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

কর্ণফুলী নদী ঘিরে যেন তেন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে এর প্রাণীকুলে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দেয়ার সম্ভাবনা তাই অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করে তা বাস্তবায়ন প্রয়োজন। অন্যদিকে হালদাতে নাব্যতা কম, যা ডলফিনের বসবাস অনুপযোগী পাশাপাশি দূষণও হচ্ছে বেশ। সাগরের পানি প্রবেশ হলে কর্ণফুলী নদীতে লবণাক্ততা বেড়ে যায় তখন ডলফিন ওপরের দিকে উঠে হালদা ও সাঙ্গুতে চলে যায়। তাছাড়া প্রজনন শেষেও কর্ণফুলীর এসব শাখা নদীতে বিচরণ করতে চলে যায় মিঠা পানির এই গাঙ্গেয় ডলফিন। ফলে বসবাসের পরিবেশ সংকটে পড়ে সেখানে একের পর এক ডলফিন মারা যাচ্ছে। ডলফিনের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে জেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারাও মাঠে নেমেছেন। সবচেয়ে বেশি ডলফিন মারা যাওয়ার জায়গা হিসেবে একটি স্থান অধিক পরিচিতি লাভ করেছে স্থানীয়দের কাছে। হালদা নদী সংলগ্ন গড়দুয়ারা ইউনিয়নের গচ্ছাখালী খালটি বর্তমানে ডলফিনদের জন্য বিপদসংকুল হয়ে পড়েছে। গচ্ছাখালী খালের বিভিন্ন পয়েন্টে একাধিক মৃত ডলফিনকে সনাক্ত করা গেছে। গত ৬ মাসে ১৬টি ডলফিনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৭ এর ২৭ ডিসেম্বর গচ্ছাখালি খালের মাস্টার বাড়ি কালভার্টের নিচে পাওয়া যায় একটি মৃত ডলফিন, ২০১৮ এর ২ জানুয়ারি গড়দুয়ারা সুইস গেট এলাকায় এবং ৫ জানুয়ারি গচ্ছাখালি খালে আরও তিনটি মৃত ডলফিন ভেসে ওঠে। পরবর্তীতে হালদা নদী সংলগ্ন গড়দুয়ারা ইউনিয়নের গচ্ছাখালী খালের কান্তর আলী চৌধুরীহাট বাজারের সেতুর নিচেও একটি মৃত ডলফিন ভেসে ওঠে যেটি প্রায় ছয় ফুট দৈর্ঘ্যের ও আনুমানিক ৭০কেজি ওজন এর।

মৎসজীবী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত ডলফিন মারা যাওয়ার এ চিত্র অত্যন্ত বিপজ্জনক।  গচ্ছাখালি খাল ধরে হালদায় প্রতিদিন শত শত ড্রেজার চলাচল করে। আর এখানেই ড্রেজারের প্রপেলারের আঘাতে ডলফিনগুলো আহত হয় এবং পরে মৃত অবস্থায় ভেসে ওঠে। ডলফিনের মৃত্যুর প্রধান কারণ তাই এসব ড্রেজারকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। স্থানীয়রা মারা যাওয়া ডলফিনের গায়ে জখমের চিহ্ন দেখে থাকেন। নদীতে একদিকে ড্রেজার চলে অন্যদিকে মাছ ধরার জন্য অনেকেই গোপনে বিষ প্রয়োগ করে থাকেন। এসব কারণে ডলফিন বাঁচার উপযোগী পরিবেশ পাচ্ছে না।

কর্ণফুলীর শাখা নদী হালদার দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ কিলোমিটার যা প্রবাহিত হয়েছে হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলা ঘেঁষে। আবার এই হালদার সাথে সংযুক্ত আছে ১৭টি খাল। মুলত বিচরণ করতে এসব খালে এসে ডলফিনের মৃত্যু ঘটছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে একদিন হালদা ডলফিনশূন্য হয়ে পড়বে।

সুতরাং কর্ণফুলীর তীরবর্তী সকল মানুষের মত আমার দাবী  হালদার প্রিয় চেনামুখ এই ডলফিন রক্ষায় অবিলম্বে নদীতে ড্রেজারে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষের যথাযথ হস্তক্ষেপ এবং দ্রুত নদীটিকে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া ও ডলফিনের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হউক।

 

সার্থক জন্ম তোমার হে স্বাধীনতাকামী বাঙালীর নেতা

Now Reading
সার্থক জন্ম তোমার হে স্বাধীনতাকামী বাঙালীর নেতা

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির দিশারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তদানীন্তন ভারতীয় উপমহাদেশের বঙ্গ প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মাতা সায়েরা খাতুন এর চার কন্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তৃতীয়। গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্ম নেয়া শৈশবের ‘খোকা’ নামের শিশুটি পরবর্তীতে হয়ে উঠেন নির্যাতিত-নিপীড়িত বাঙালি জাতির মুক্তির নায়ক।

১৯২৭ সালে শেখ মুজিব গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন যখন তার বয়স সাত বছর। ১৯২৯ সালে নয় বছর বয়সেই ভর্তি হন গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে এবং এখানেই ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। চোখে জটিল রোগের কারণে সার্জারি হওয়াতে ১৯৩৪ থেকে চার বছর তিনি বিদ্যালয়ে নিয়মিত থাকতে পারেননি কারণ সম্পূর্ণ সেরে উঠতে তাঁর বেশ সময় লেগেছিল। ১৯৩৭ সালে গোপালগঞ্জ মাথুরানাথ ইনস্টিটিউট মিশন স্কুলে সপ্তম শ্রেনীতে ভর্তি হয়ে সেখান থেকেই তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন।

১৯৩৮ সনে মাত্র আঠারো বছর বয়সে বেগম ফজিলাতুন্নেসার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন শেখ মুজিবুর রহমান। এই দম্পতির ঘরে জন্মেছে দুই কন্যা এবং তিন পুত্র সন্তান। কন্যাদের মধ্যে প্রথমজন বর্তমান বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্যজন হলেন শেখ রেহানা। আর বঙ্গবন্ধুর পুত্রদের নাম যথাক্রমে শেখ কামাল, শেখ জামাল এবং শেখ রাসেল।

ভারত বিভাগ পরবর্পূতী পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতির প্রাথমিক পর্যায়ে শেখ মুজিব ছিলেন ছাত্রনেতা। ক্রমান্বয়ে তিনি আওয়ামী লীগের মূল নেতৃত্বে আসীন হন। অনেক গুণের অধিকারী বঙ্গবন্ধুর একটি বড় গুণ ছিল তিনি তুখোড় বক্তা ছিলেন। সমাজতন্ত্রের পক্ষসমর্থনকারী একজন অধিবক্তা হিসেবে জনগণের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি ছয় দফা স্বায়ত্ত্বশাসন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন, পশ্চিম পাকিস্তান বরাবরি এটিকে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করেছে। এই ছয় দফার কারণে তিনি আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের অন্যতম বিরোধী পক্ষে পরিণত হন। তিনি বাঙালীর অধিকার রক্ষায় ব্রিটিশ ভারত পিরিয়ড থেকে ভারত বিভাজনের আন্দোলন এবং পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্র রুপে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রদান করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হচ্ছেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি যিনি ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম। পরবর্তীকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।

জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রাচীন বাঙ্গালি সভ্যতার বাংলাদেশের আধুনিক স্থপতি বলা হয়ে থাকে। তাঁর নেতৃত্ব সুলভ মনোভাব, বাঙালিকে উজ্জীবিত করতে পারার ক্ষমতা, বাঙালীর অধিকার আদায়ে যোগ্য ভূমিকা ও ত্রাণকর্তা রুপে আগমন সবকিছুতেই পরিপূর্ণতা লাভ করে তিনি হয়ে উঠেছেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি।

দুই কন্যা ছাড়া বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে ১৯৭৫ এর ১৫আগস্ট এর এক কালো রাতে কিছু বিশ্বাস ঘাতক ও উশৃঙ্খল সেনা কর্মকর্তাদের দ্বারা নির্মমভাবে নিহত হন। দুই কন্যা দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাঁরা প্রাণে বেঁচে যান।

দেখতে দেখতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী পূর্ণ হল। যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনা জাতি এ মহান দিনটিকে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবেও পালন করে।

চাটগাঁয়ের ঐতিহ্যবাহী মেজবান

Now Reading
চাটগাঁয়ের ঐতিহ্যবাহী মেজবান

মেজবান বাংলাদেশের বৃহত্তর চট্টগ্রাম এলাকার বহুমাত্রিক ঐতিহ্যবাহী নিজস্ব একটি অনুষ্ঠান। আঞ্চলিকভাবে চট্টগ্রামে একে মেজ্জান বলা হয় আর এই বিশেষ জাতীয় খাবারের ম্যানুতে থাকে সাদা ভাতের সাথে গরু অথবা মহিষের মাংস এবং ডাল ও হাড়ের ঝোল। ফারসি শব্দ মেজবান এর সাধারণ অর্থ হল নিমন্ত্রণকর্তা। মেজবানের উৎপত্তির সঠিক সময় নির্ণয় করা না গেলেও ১৫০০ ও ১৬০০ শতাব্দীর প্রাচীন পুঁথি সাহিত্যে ‘মেজোয়ানি’ ও ‘মেজমান’ দুটি শব্দের সন্ধান পাওয়া যায়। এমনও হতে পারে হয়তো ‘মেজমান’ থেকে ‘মেজবানে’ রূপ নিয়েছে।

সাধারণত কারো মৃত্যুর পর কুলখানি, চেহলাম, মৃত্যুবার্ষিকী, শিশুর জন্মের পর আকিকা, ধর্মীয় ব্যক্তির মৃত্যুবা

 

র্ষিকী ইত্যাদি উপলক্ষে বিপুল পরিমাণ মানুষের আপ্যায়নের জন্য এই মহাভোজের ব্যাবস্থা করা হয়। এসব নির্দিষ্ট উপলক্ষ ছাড়াও কোনো শুভ ঘটনার জন্য মেজবান করার রীতি চট্টগ্রামে আছে।

 

বাংলাদেশের বিশেষ এই অঞ্চল চট্টগ্রামে অথিতি আপ্যায়নে বেশ সুনাম রয়েছে বহু শতক ধরেই। এ অঞ্চলে আপনি কোন লেভেল এর আত্মীয় তা মুখ্য নয় একবার এসে যখন পড়েছেন আপ্যায়িত না হয়ে যেতেই পারেননা ঠিক একই সুত্রে মেজবান আয়োজনের সময় কাছের কিংবা দুরের এবং পাড়া-প্রতিবেশীদের মন ভরে খাওয়ানটাই আয়োজকদের উদ্দেশ্য। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এলাকায় মাইকিং করে দাওয়াত দেয়া হয়, এখানে থাকেনা কোন লিমিট যতক্ষণ পর্যন্তনা ডেকচী খালী হয় ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকে খাওয়ার এই আয়োজন। এ অঞ্চলে ধনী গরিবের ভেদাভেদ ভুলে মেজ্জানের মাধ্যমে সবাইকে সার্বজনীনভাবে সম্পৃক্ত করার রীতি সুদীর্ঘকাল ধরেই। মেজ্জানে গরুর মাংস ও অন্যান্য উপকরনের সাথে ক্ষেত্র বিশেষে ঘনিষ্ঠজনদের জন্য ছাগল ও মুরগির মাংস এবং  মাছ এরও ব্যাবস্থা করা হয়। তবে মেজবানের মূল আকর্ষণ ও মূল পদ গরুর মাংস যা চট্টগ্রামের ভাষায় মেজ্জাইন্না গোস্ত হিসেবেই পরিচিত। এই মাংস রান্নার ধরন আলাদা, মসলাও ভিন্ন, শুধুই কি তাই…! রান্নার ডেকচি থেকে শুরু করে চুলা পর্যন্ত আলাদা। এই কাজে দক্ষ কেবল চট্টগ্রামের বাবুর্চিরা, আর তাঁরা বংশপরম্পরায় এই ঐতিহ্যের ধারা অব্যাহত রেখেছেন। মেজবানের রান্নার রয়েছে আলাদা বিশেষত্ব এবং এর রন্ধন প্রক্রিয়ার রয়েছে বিশেষ পদ্ধতি। সাধারণ রান্নার বিপরীতে এই মাংস রান্না অনেকটা তৈলাক্ত, মশলাযুক্ত এবং কালচে রঙের বিশেষ স্বাদের হয়। রান্নার উপকরণে আছে বিশেষ মশলা যার বেশীরভাগই স্থানীয়ভাবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় উৎপাদিত, বাবুর্চিরা রান্নায় হাতে বাঁটা মশলাই ব্যাবহার করে। কেননা অন্য কোন মশলা ব্যাবহার করলে মেজবানি রান্নার স্বাদ ঠিক মত হয়না। রান্নার জন্য প্রয়োজন বড় আকারের পাত্র(কড়াই), আর জ্বালানি হিসেবে পূর্বে কাঠের লাকড়ি ব্যাবহার হলেও পাশাপাশি সময়ের পরিক্রমায় তুষের তৈরি কালো লাকড়িও ব্যাববহার হচ্ছে ইদানীং।

এ রকম আয়োজন, চট্টগ্রামের সবকটি এলাকায়। এককালে মাটির পাত্রে এই মেজবানের আয়োজন করা হলেও বর্তমানে গ্রামের খোলা মাঠে অথবা বাড়ির উঠান বা ঘরের ছাদে প্যাণ্ডেল করে বসানো হয় সারি সারি চেয়ার টেবিল। এসব চেয়ার টেবিল সাজানো হয় খাবার পরিবেশনের জন্য। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশিরা দলে 

দলে এসে যোগ দেয় এসব মেজবানে। সকলেই খেতে পারে যার যেমন ইচ্ছে তেমন ভাবে। এটা সার্বজনীন তাই কারো জন্য থাকে না বাধা। যতক্ষণ না খাবার তৃপ্তি না মিটবে ততক্ষণ খাওয়া যাবে, টেবিলে ধনী গরিব নির্বিশেষে একসাথে বসেই এই খাবার ভোজন করে।

বর্তমান সময়ে চট্টগ্রামের এই ঐতিহ্যবাহী খাবার এখন আর নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই এর প্রসার দেশের সীমানা পেড়িয়ে বহিঃবিশ্বেও ছড়িয়ে পড়েছে। 

 

চট্টগ্রামের দেখাদেখি বাংলাদেশের আনাচে কানাচে অন্যান্য জেলাগুলোতেও এখন মেজবানের আয়োজন করা হয় তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চট্টগ্রাম থেকে বাবুর্চি নিয়ে যাওয়া হয় মূল স্বাদটি আস্বাদন করতে। ঢাকায় এখন বিভিন্ন সভা-সমিতি এবং কর্পোরেট ফার্মগুলো তাদের বার্ষিক ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে মেজবান আয়োজন করে থাকে।

চট্টগ্রামের বিশেষ এই ঐতিহ্যবাহী খাবার মেজবান শত বছর ধরেই চাঁটগাবাসী তথা বাংলাদেশীদের রসনাবিলাসে তৃপ্তি জুগিয়ে যাচ্ছে।

 

“বগালেক” আকর্ষণীয় দৃষ্টিনন্দন লেক

Now Reading
“বগালেক” আকর্ষণীয় দৃষ্টিনন্দন লেক

বগালেক, বান্দরবান জেলার অন্যতম আকর্ষণীয়, দর্শনীয় স্থান।
এটি পাহাড়ের উপরে অবস্থিত একটি দৃষ্টিনন্দন লেক। এ লেকের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর কাছে যাওয়ার যাতায়াত পথ!
সে এক কি যে অভিজ্ঞতা তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। চাদের গাড়ীর সেই চন্দ্রাভিমুখে যাত্রা, সেই আকাশ থেকে হঠাতই আবার ভূমিতে আছড়ে পড়া, প্রায় ৪০ মিনিট ব্যাপি পাহাড়ের চূড়ায় আরোহন, পাহাড়ি টম ঘড়ের কি নিদারুন সৌন্দর্য, লেকের গভীরতা নিয়ে স্থানীয়দের কল্পনা, ড্রাগন সমাচার, খেত্রদের মদ খেয়ে মাতলামি, কেম্প ফায়ার, আগুনের নিচে মুরগির ঝলসানো, চিংড়ির ঝরণা, বেপক সমারহে পাহাড় আরোহণ, টিনি ঊতু পঙ্গার মত সঙ্গা চয়ন সবকিছুই এক কথায় অপূর্ব।

 

ঢোপকল – এক হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য

Now Reading
ঢোপকল – এক হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য

পানির অপর নাম জীবন। পরিষ্কার করে বলতে গেলে বিশুদ্ধ পানির অপর নাম জীবন।  কিন্তু এই পানিই দূষিত হলে তা হয়ে দাঁড়ায় মৃত্যুর কারন। বিশুদ্ধ পানির অভাবে দেখা দিতে পারে নানান রকম রোগ-বালাই। তাই চলুন আজ জেনে আসা যাক শিক্ষানগরী তথা  আম ও রেশমের নগরী রাজশাহীর হারিয়ে যাওয়া এক পানি সরবরাহকারী বন্ধুর গল্প। এ বন্ধুর নাম “ঢোপকল”।

 

পদ্মার কোল ঘেঁষে রাজশাহী অঞ্চল গড়ে উঠেছে। পদ্মার কোল ঘেঁষে গড়ে উঠলেও এখানকার মানুষদের জীবনযাপন সহজ ছিল না। বহুকাল থেকেই জনজীবনে পানি নিয়ে সমস্যা ছিলই। একবার রাজশাহী শহরের পানীয় জল পানের অযোগ্য হয়ে পড়ে। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে আমাশয়-কলেরাসহ পানি-বাহিত নানা রোগ। দিশেহারা হয়ে পড়ে মানবজীবন।

সময়টা ১৯৩৭ সালের মাঝামাঝি। পানির এ সঙ্কট নিরসনে কলকাতার তত্ত্বাবধানে রাজশাহী শহরজুড়ে স্থাপন করা হয় শতাধিক পানির কল। দেখতে অদ্ভুত এ পানির কলগুলোই পরে ‘ঢোপকল’ হিসেবে পরিচিতি পায়। সেই থেকে রাজশাহী-বাসীর সঙ্গে দীর্ঘ  প্রায় ৮০ বছরের সম্পর্ক ঢোপকলগুলোর।

এক একটা ঢোপকল মাটি থেকে প্রায় সাড়ে ১১ ফুট লম্বা। আর এ গম্বুজাকৃতির কলগুলো তৈরি করতে তৎকালে ব্যবহার করা হয়েছিল সাদা সিমেন্ট, তবে সেই সময় একে বিলেতি মাটি বলা হতো। আর পুরো নকশাটা তৈরি হয়েছিল টিনের শিট দিয়ে। প্রথমে টিনের শিটের একটা বলয় তৈরি করা হতো। এর উপর দেওয়া হতো সাদা সিমেন্টের ঢালাই। সহজে যাতে না ভাঙে তাই ঢোপকল তৈরিতে তিন-দফা সিমেন্টের প্রলেপ দেওয়া হতো।

তবে যতোটা সহজ মনে হচ্ছে ততোটা সহজ ছিল না ঢোপকল তৈরির ইতিহাস।

কলকাতার তত্ত্বাবধানে শুরু হলেও একসময় ঢোপকল তৈরি প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।   কলকাতা যে অনুদান ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছিল তা ছিল অপ্রতুল। তাই আর দশটা প্রকল্পের মতই  অর্থসঙ্কটের  কারণে ঢোপকল প্রকল্প ভেস্তে যেতে বসেছিল।

সে সময় নিরুপায় হয়ে অনেকের  কাছে  এ  পানির কল বানানোর জন্য অর্থ সহায়তা চাওয়াও হয়েছিল। নগরের ধনাঢ্য অনেক ব্যক্তির কাছে সহায়তা চাওয়া হলেও তারা কেউ এগিয়ে আসেননি। শুধু  তৎকালীন ধনীদের মধ্যে এগিয়ে আসেন রাজশাহী জেলার পুঠিয়া জমিদার বাড়ির রানী হেমন্ত-কুমারী। তিনি প্রায় ৬৫ হাজার টাকা দান করেন ঢোপকল স্থাপনে। যদিও ধারণা করা হয় পুরো প্রকল্পটি শেষ করতে ব্যয় হয়েছিল পৌনে তিন লাখ টাকা। রানী হেমন্ত কুমারীর প্রতি সম্মান জানাতে তাই ঢোপকল প্রকল্পটির নাম রাখা হয়েছিল “হেমন্ত-কুমারী ওয়াটার ওয়ার্কস” ।

 

পৌর কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় রাজশাহীর সোনাদিঘি থেকে পাম্পের সাহায্যে পানি সরবরাহ করা হতো এসব ঢোপকলে। প্রথমে মহারাণী হেমন্ত-কুমারী পানি শোধন কেন্দ্রে পানিকে বিভিন্ন ট্রিটমেন্ট করে পানি থেকে আয়রন ও পানির ক্ষারতা দুর করা হতো। তারপর সেটা সরবরাহ করা হতো সেই ঢোপগুলোতে। তবে সর্বপ্রথমে সেটা পাথরকুচির ফিল্টার দিয়ে পানি ফিল্টার করা হতো। এরপর সেটা সিমেন্টের তৈরি মোটা পাইপের সাহায্যে বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হতো। এই ঢোপকলগুলোর প্রতিটির পানি ধারণক্ষমতা ৪৭০ গ্যালন। প্রতিটি ঢোপকলেই ছিল একটি ‘রাফিং ফিল্টার’। এতে বালি ও পাথরের স্তর থাকায় সরবরাহ করা পানি আরও পরিশোধিত হয়ে বের হতো । শুরুর দিনগুলোতে ঢোপকল শুধু বিশুদ্ধ পানিই সরবরাহ করত না, শোনা যায়, ঢোপকল এর পানি যথেষ্ট ঠাণ্ডাও থাকত এর গঠনপ্রণালীর জন্য। তবে   সেই সময় সারাদিনে মাত্র দুই ঘণ্টা পানি সরবরাহ করা হতো। মোড়ে মোড়ে ঢোপকলগুলোতে পানি ধরে রাখা হতো। ফলে সারাদিনই পানি পাওয়া যেত।

প্রায় প্রতি দুই মাস পর পর এই ঢোপকল গুলোকে পরিষ্কার করা হতো। পরিষ্কারের নিয়মটি ছিল খুবই আধুনিক। এই ঢোপকলের উপরের ঢাকনাটি খোলা যেত। তারপর ভিতরে মানুষ নেমে ব্লিচিং পাউডার ও অন্যান্য জিনিস দিয়ে সেটা পরিষ্কার করতো। প্রতি দুই মাস পর পর প্রত্যেকটি ঢোপকল থেকে পানির স্যাম্পল সংগ্রহ করা হতো। পরে সেটা পাঠানো হতো পরীক্ষাগারে পানির মান ঠিক আছে কিনা সেটা দেখার জন্য।(সূত্র উইকিপিডিয়া)

লোকমুখে শোনা যায়, ঢোপকলের পানি শুধু তৃষ্ণাই মেটাতো না অনেক ক্ষেত্রে রোগের দাওয়াই হিসেবেও ব্যবহার করা হতো। এর মধ্য দিয়ে একটা জিনিস পরিষ্কার যে, ঢোপকল থেকে একই সঙ্গে স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যেতো।

 

কিন্তু সেদিনের সেই কষ্টার্জিত ঢোপকল আজ অবহেলিত। শহরের শতাধিক ঢোপকলের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি বর্তমানে সচল আছে। অচল ঢোপকলগুলো দিয়ে পানি বেরুলেও তা আর বিশুদ্ধ নেই। কোথাও-বা ঢোপকল ভেঙে গড়ে তোলা হয়েছে বসতভিটা। বেশ কিছু ঢোপকল  ভেঙে ফেলা হয়েছে রাস্তা সম্প্রসারণে, ফুটপাতের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে। বেশ কিছু ঢোপকলে ওয়াসা থেকেই পানির সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, এসব ঢোপকল থেকে তারা কোনো রাজস্ব পান না, বিধায় এগুলো চালু রাখা তাদের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ভাবে অলাভজনক। রাজশাহী-বাসীর বিভিন্ন সময়ের দাবির কারণে ইদানীং কয়েকটি ঢোপকল বরেন্দ্র যাদুঘরে স্থান পেয়েছে। এছাড়া নগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়েও স্থাপিত হয়েছে ঢোপকল।

 

ঐতিহ্যের নগরী রাজশাহীতে ইদানীংকালে আধুনিকতার জোয়ার এসেছে। নগরের পুরনো দালান-কোঠা ভেঙে এখানে ওখানে মাথা উঁচু করছে নতুন নতুন দালান। তৈরি হচ্ছে যানজট, বাড়ছে যান্ত্রিকতা। এই যান্ত্রিকতার সময়ে কালের আঘাত এড়িয়ে ঢোপকলগুলো কতদিন টিকে থাকবে তা হয়ত সময়ই বলে দিবে। তবে  ইতিহাস সংরক্ষণে ঢোপকলের বিলুপ্তি যে আমাদের উদাসীনতার এটিও এক দৃষ্টান্ত সেটি নিঃসন্দেহে বলাই যায়।

বাংলাদেশের কোন কোন যায়গায় বেড়াতে যাওয়া যায়।

Now Reading
বাংলাদেশের কোন কোন যায়গায় বেড়াতে যাওয়া যায়।

বসুন্ধরা সিটি শপিং মল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শপিং মলগুলোর  মধ্যে একটি। কিছু কেনাকাটা করতে যেয়ে হঠাৎ একদিন দেখলাম আটতলায় একটি বড় লাইন। ছোট্ট সোনামনিদের ভীড় সাথে অভিভাবকরাও আছেন। সবাই শুধু টিকিট কাটছে আর একটি পার্কে ঢুকছে। সোনামনিরা যেন কোন বাঁধা মানছে না অভিভাবকের হাত ছেড়ে সবাই ব্যাস্ত বিভিন্ন খেলনায় হাত দেওয়ার জন্য এবং রাইডে উঠার জন্য। সেই খেলনা কোন বাচ্চদের খেলনা নয় বরং বিভিন্ন ধরনের রাইড বলতে পারেন যেমন নাগরদেলা, বাম্পার কার, ঘোড়া  ইত্যাদী। রাজধানীর বৃহত্তম থিম পার্ক বলতে আমরা বুঝি “টগি ওয়াল্ড” যেখানে শিশুদের মনমাতানো আনন্দ দিয়ে থাকে। এই পার্কটির ঠিকানা হলো কাওরান বাজারটি পার হলে যে কাউকে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স কোন দিকে জিজ্ঞাসা করলেই দেখায় দিবে। কেউ যদি বাসএ যেতে চান তাহলে তাকে নামতে হবে ফার্মগেট পার হয়ে কাওরান বাজারে। তার পর ২ মিনিট হাটলেই বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের লিফটের ৮ এ পাবেন টগি ওয়াল্ড। বিনোদনকেন্দ্রটিতে সবসময় থাকে একঝাঁক শিশুর প্রাণোচ্ছল উপস্থিতি যা অন্য কোথাও দেখা যায় না। এই থিম পার্কটির মোট আয়তন হচ্ছে ৩৭ হাজার বর্গফুট। কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে জানা গেল এই পার্কে আছে বাম্পার কার, মিনি টাওয়ার, জাইরোস্কোপ, লিটল প্লেনসহ মোট ১৫ টি রাইড এবং ৪৩ টি গেমস। এছাড়াও আছে কিডস বোলিং যা খেলতে লাগে ২০০ টাকা এবং ভিআইপি বোলিং এর মত খেলা যা খেলতে লাগে ৩০০ টাকা যা  বাংলাদেশের অন্য কোন থিম পার্কে নাই। এছাড়াও একটি পার্টি রুম ও আছে যেখানে ৫০ জন শিশু একসাথে খেলতে পারে।

পার্কে ঢুকতে হলে আপনার খরচ হবে জনপ্রতি ৫০ টাকা।  প্রতিটি রাইডে উঠতে আপনার খরচ হবে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা যা তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশী। তবে আপনি যদি বাথরুম দেখেন তাহলে আপনার ভাল লাগবে। বাথরুমগুলো খুবই অত্যাধুনিক এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন যা ছোট্ট সোনামনিদের জন্য বাথরুম করতে কোন সমস্যা হবে বলে মনে হয় না। প্লে-গ্রাউন্ডে আপনি আপনার বাচ্চাকে ৩০ মিনিট এর জন্য রাখতে পারবেন।  এছাড়াও সেখানে আছে বিশাল ফাষ্টফুড মার্কেট যেখানে আপনি মোটামুটি সবধরনের উন্নত মানের ফাষ্টফুড পাবেন যেমন ফ্রাইড চিকেন, ফ্রেঙ্চ ফ্রাই ইত্যাদী যা শিশুদের জন্য খুবই পছন্দনীয় এবং আকর্ষণীয়।

এখানে আপনি জন্মদিনের পার্টিসহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান এর আয়োজন করা যাবে। এই পার্কটি আসলে নির্মান হয়েছে থাইল্যান্ডের একটি বিখ্যাত পার্কের আদলে। ঢাকা শহরের শিশুরা আসলে সমসময় চার দেওয়ালের ভীতরেই থাকে, খেলে। খেলার জন্য তেমন কোন যায়গায় নাই। সেক্ষেত্রে এই ধরনের পার্ক আসলে শিশুদের অনেক বেশী আনন্দ দিবে। আনন্দ উপভোগ করতে কেনা চায় বিশেষ করে শিশুদের জন্য এই ধরনের একটি থিম পার্ক একটি মাইলফলক। চার বছরের বাচ্চাদের জন্য আছে টডলার প্লে জোন যা তাদেরকে অনেক আনন্দ দেয়। বড়দের জন্য ও বিভিন্ন ধরনের রাইড এবং গেমস আছে যা আসলেই উপভোগ্য। এছাড়াও এই পার্কে আছে ইন্দ্রোনেশিয়ার বিখ্যাত কাবাব চেইন আউটলেট।

নিম্নে টেবিলে দেখানো হলো যে এই থিম পার্কটি কবে খোলা থাকে আর কবে বন্ধ থাকেঃ

দিন খোলা না বন্ধ? সময়
শনিবার খোলা থাকে দুপর ১২টা থেকে রাত ৯ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।
রবিবার খোলা থাকে
সোমবার খোলা থাকে
মঙ্গলবার বন্ধ থাকে বন্ধ থাকে
বুধবার খোলা থাকে দুপর ১২টা থেকে রাত ৯ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।
বৃহস্পতিবার খোলা থাকে
শুক্রবার খোলা থাকে যেমন সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১ টা আবার ২ টা থেকে রাত ৯ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।

 

আরো বেশী যদি আনন্দ পেতে চান তাহলে আপনাকে আরো কিছু বিখ্যাত পার্কে যেতে পারেন যেমন যমুনা ফিউচার পার্ক, ফ্রান্টাসী কিংডম, বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক, আর যদি ঢাকার বাহিরে খোজেন তাহলে যেতে পারেন দিনাজপুরের সপ্নপুরী এবং সিলেটের ড্রিমল্যান্ড পার্ক। এই সব পার্কে বড় ছোট সবাই আনন্দ পাবে তবে বড়রা একটু বেশী আনন্দ পাবে।

নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ন মোবাইল নম্নর বা ফোন নম্বর দেওয়া হলোঃ

যমুনা ফিউটার পার্ক, ঠিকানাঃ ক-২৪৪, কুড়িল, প্রগতি এভিনিউ, ঢাকা। – +৮৮০৩৮৯৪৫৫৮০০৩, ০১৯৩৭৪০০২০৫

ফ্রান্টাসী কিংডম – জামগড়া, আসুলিয়া, সাভার, ঢাকা। ফোন নম্বরঃ ০২-৭৭৯০৮১৬-১৯

বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক –  শ্রীপুর, গাজীপুর। ফোন নম্বর –  ০১৭১২০২২৮১।  এটা আসলে একটি চিড়িয়াখানার মত। পার্কটি মঙ্গলবার বন্ধ থাকে আর অন্যান্ন পার্ক খোলা থাকে প্রতিদিনই সকাল ৯টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত। টিকিটের দাম জনপ্রতি ৫০ টাকা। পার্কিং কারপ্রতি ৬০ টাকা। আর রাইড জনপ্রতি ১০০ টাকা ।

নন্দন পার্কটিও ইয়ং ছেলে মেয়েদের জন্য অনেক ভাল সেখানে অন্যান্ন পার্কে যা থাকে তা তো আছেই এর পাশাপাশি আছে ওয়াটার কিংডম যেখানে সবাই গোছল করে , নাচানাচি করে এবং বিভিন্ন রাইডে চড়ে খুব মজা পায়। নন্দন পার্কের মোবাইল নম্বরে আপনি বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন নম্বরটি হচ্ছে ০১৭৫৫৬৬৭৭০৩

ধারে কাছে যদি আপনি যদি কোন শিশুপার্ক চান তাহলে আপনি যেতে পারেন বিমান বন্দর জাদুঘর । পার্কটি ঢাকা আগারগাঁও, আইডিবি ভবনের বিপরীতে অবস্থিত। এই পার্কটি অনেক সুন্দর, খরচ ও হাতের নাগালে । পার্কটিতে প্রবেশফি মাত্র ২০ টাকা আর প্রতিটি রাইডের জন্য খরচ পাড়বে ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত যা সাধারন জনগনের হাতের নাগালে পার্কটিতে ছোটদের পাশাপাশি বড়দের ও ভাল ভাল রাইড আছে। পার্কটি শুক্রবার ও শনিবার সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং অন্যান্ন দিন দুপর ২টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। রবিবার বন্ধ থাকে।

maxresdefault.jpg

জলের শহর… চট্টলা

Now Reading
জলের শহর… চট্টলা

জলের শহর নামটা কেমন যেন…..!

১৬৬৬ সালে চট্টগ্রাম জেলা গঠিত হয়। তিন পার্বত্য জেলা এ জেলার অন্তর্ভূক্ত ছিল।চট্টগ্রাম (ইংরেজি: Chittagong) ( / Chôṭṭôgram) ঐতিহাসিক নাম সমূহ: পোর্টো গ্র্যান্ডে এবং ইসলামাবাদ) বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। বন্দরনগরী নামে পরিচিত শহর, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত। বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত পাহাড়, সমুদ্রে এবং উপত্যকায় ঘেরা চট্টগ্রাম শহর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যে প্রাচ্যের রাণী হিসেবে বিখ্যাত।

17052.jpg

উপরের ছবিটি দেখে অবাক হচ্ছেন?   …অবাক হবার কিছুই নেই। এটি বর্ষার চট্টলা। বর্ষাকালের নিত্যদিনের ঘটনা এমনি চট্টগ্রামে। এখানকার মানুষ একরকম মানিয়ে নিয়েছে নিজেদের। এমন ছবি এবং এমন ঘটনার সাথে তারা খুবই পরিচিত । কিন্তু এ অবস্থার জন্য অনেকাংশে  দায়ী  আমরা নিজেরাই। বৃষ্টির পানি কিন্তু এ জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী নয়, দায়ী আমাদের কর্মকান্ড। দিন দিন উঁচু উঁচু দালানকোঠার পরিমাণ বাড়ছে।বিন্দু মাত্র জায়গা রাখি নাহ। যে যেখানে পারছে..নগর পরিকল্পনা ছাড়াই। এসব উঁচু দালানকোঠার কারণে আজ  ভূমির স্তর ক্রমশ নিচু হচ্ছে।আমরা যত উপরে উঠছি ভূমির স্তর ততই নিচে নামছে। তাই জলভাগ ও স্থলভাগ এর উচ্চতা প্রায় সমান হয়ে আসছে।আবার চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার আরেকটি বিশেষ কারণ হচ্ছে পানি নিষ্কশনের তেমন ভালো কোনো ব্যবস্থা নেই। জোয়ার পানি খুব সহজেই চারিদিক তলিয়ে দেয়…কিন্তু এ পানি নামার মতো কোনো সুব্যবস্থা নেই। নালা নর্দমা যেগুলো আছেহ বেশির ভাগ ই ময়লা আবর্জনাই পরিপূর্ণ।39235351_30311.jpg20258436_1580219818696970_6969185265650854171_n.jpg

বলতে পারি আমরা রাস্তার সর্ব্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করছি। রাস্তায় একই সাথে নৌকা এবং  রিকসা……হাস্যকর আবার ভয়াবহ এমন এক অবস্থা। উপরের ছবিগুলো চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ এর। বর্ষার  মৌসুমে এই চিত্র নতুন নয়। চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক এলাকা  আগ্রাবাদ। সকল ব্যাংক থেকে শুরু করে সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এখানে। আগ্রাবাদ সিডিএ  তে এই অবস্থা।দৈনন্দিন।শুনলে একটু অবাক ই হবেন এই এলাকার বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান  এমনকি বাড়িওয়ালারা ও ছোট নৌকা কিনছে..তাদের যাতায়তের জন্য। উপরের ছবিগুলোই সব বুঝিয়ে দিচ্ছে। এই অবস্থায় রিকসা চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।  রিকসা ভাড়া  ২০ টাকা যেখানে  সেখানে ১০০-১৫০ টাকাও দিতে হয়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি..কি ভয়াবহ দুর্ভোগ এই  এলাকার মানুষের।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গুদাম এবং আড়তগুলোতে ভিজে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত পণ্য রাস্তায় বিছিয়ে রাখা হয়েছে।

পানি নেমে যাওয়ার পর রোদে শুকিয়ে কিছুটা উদ্ধার করা যায় কিনা, বাজারটির ব্যবসায়ীদের এখন সেই চেষ্টা চলছে। চাল,ডাল,তেলসহ সব ধরণের ভোগ্যপণ্যের জন্য দেশের বৃহত্তম এই বাজারে ক্রেতাদের ভিড়ে ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততার চিরচেনা পরিবেশ এখন দেখা যায়নি। সবকিছু যেনো স্থবির হয়ে আছে।দশক দশক ধরে প্রতিবছরই জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এবছর পাঁচ দফায় জলাবদ্ধতায় তাদের অনেক বেশি ক্ষতি হয়েছে।গত কয়েকদিনে জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি রপ্তানি বন্ধ ছিল। এটা শুধু চট্টগ্রামের নয়, সারাদেশের আমদানি রপ্তানির বিষয়। পোশাক শিল্প বা যেকোন রপ্তানিমুখী শিল্প বলেন, তার সিংহভাগই এই বন্দর দিয়ে হয়। ফলে এখানকার জলাবদ্ধতার সমস্যাকে স্থানীয় সমস্যা হিসেবে দেখলে, সেটা ভুল করা হবে।গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার ভারী বর্ষণ ও অমাবস্যার অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ, সিডিএ, হালিশহর, এক্সেস রোড, চকবাজার, মুরাদপুর, চাক্তাই খাতুনগঞ্জ ও বাকলিয়া সহ অধিকাংশ এলাকা কোমর থেকে বুক পরিমাণ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থী, অফিসগামীসহ সাধারণ জনগণ। অনেকের বাসবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বন্ধ হয়ে গেছে রান্নাবান্না। চট্টগ্রামবাসী চায় এ জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান।

এর আগেও চলতি মৌসুমে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর কয়েক দফা তলিয়ে যায় চট্টগ্রাম নগরী।সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন নালার পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি আগ্রাবাদ ও হালিশহর এলাকার বাসিন্দারা তাদের এলাকায় জলাবদ্ধতার জন্য মহেশখালের উপর দেওয়া বাঁধকে দায়ী করেন। মহেশখালের মহেশখালের ওই পথ দিয়ে এসব এলাকার পানি কর্ণফুলী নদী হয়ে সাগরে যায়।নগরবাসীর অভিযোগের মুখে গত ১৩ জুন বাঁধটি অপসারণ কাজ শুরু করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বাঁধ অপসারণের পর এখন জোয়ারের সময় বৃষ্টি হলে পানি নামতে না পারায় এসব এলাকার রাস্তায় পানি জমে থাকে।

চট্টগ্রামে যখন টানা জলাবদ্ধতা চলছে, সে সময়ে সোমবার রাতে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের উদ্যোগে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ওপর সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে মেয়র উপস্থিত হলেও সেমিনারে উপস্থাপন করা প্রস্তাবগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার অনুরোধ করেন তিনি। মেয়র বলেন, ব্যক্তিগতভাবে যা পারব, যেখানে অর্থের কোনো সংস্থান করতে হবে না, তা নিয়ে আমার কাছে আসবেন, করে দেব। তবে প্রস্তাবগুলো আপনারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করুন। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক। কাজেই এই কাজটি আপনাদের জন্য অনেক বেশি সহজ হবে।

শুধু খাল নয়, কর্ণফুলীও ভরাট হয়ে গেছে। কর্ণফুলী ড্রেজিং করতে হবে। আর খাল খনন কেবল করার জন্য নয়, কার্যকরভাবেই করতে হবে। নিয়মিত ব্যবস্থাপনা দরকার। খাল খনন করলে হবে না কেবল, এগুলোকে নাব্য করে তুলতে হবে।গত পঞ্চাশ বছরে ড্রেনেজ খাতে পাঁচটি মহাপরিকল্পনা প্রণীত হয়েছে। জনগণের টাকায় প্রণীত এই মহাপরিকল্পনা কেউ উল্টিয়ে দেখে বলে মনে হয় না। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনপ্রতিনিধি অর্থাৎ মেয়র, সাংসদ, সিভিল ব্যুরোক্রেট (সচিব, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) এবং টেকনিক্যাল ব্যুরোক্রেটদের (প্রকৌশলী) এই নিস্পৃহতা অমার্জনীয়। তাঁদের জবাবদিহির মধ্যে রাখতে হবে। তাঁরা চাইলে মহাপরিকল্পনার অনেক কিছু করা যেত। সরকারের কাছে চাইতে হবে।

আমরা প্রায় সকল পোষ্টে কতৃপক্ষের দ্ষ্টি আকর্ষণ করি। কিন্তুু আমাদের আগে নিজেদের সচেতন হওয়া উচিত নয় কি! আমাদের দায়িত্ব আমাদের শহরকে পরিষ্কার রাখা । আমাদের দায়িত্ব কতৃপক্ষকে সাহায্য করা। সকলে মিলে উদ্যোগ নিলে জলাবদ্ধতা নিরসন খুব সহজ হয়ে যাবে। আসুন জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগাম গড়তে আমরা সবাই সচেতন হই।

পৃথিবীর দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ – কক্সবাজার থেকে টেকনাফ

Now Reading
পৃথিবীর দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ – কক্সবাজার থেকে টেকনাফ

বাংলাদেশে গর্ব করার মত অনেক কিছুই আছে। হয়তো আমাদের একটু খুজে দেখতে হবে এই যা। অথবা অনেক সময় চোখের সামনে পড়ে থাকে কিন্তু দেখিনা। যেমন ধরেন মেরিন ড্রাইভ। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ – ৮০ কিমি এই মেরিন ড্রাইভ পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ। অসাধারন সুন্দর দুই পাশের চিত্র। একদিকে সমুদ্র আর আরেকদিকে পাহাড়। আর আছে মানুষের জীবন যাত্রার বৈচিত্র।

এতদিন শুধু শুনে এসেছিলাম উদ্বোধনের পর, এবার নিজেরা গিয়েই দেখে আসলাম আসলেই কেমন এই মেরিন ড্রাইভ। আমাদের একটি বিদেশী-দেশী প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন-ভিডিও তৈরী করার একটি প্রজেক্ট ছিল যা আমরা ঠিক করেছিলাম মেরিন ড্রাইভের উপর কর। অন্তত একটি বিশেষ অংশ। যাওয়ার পরেই বুঝতে পারলাম – সিদ্ধান্ত ভুল ছিল না। আর মেরিন ড্রাইভের উপর আমাদের এই প্রজেক্ট, চট্টগ্রাম থেকে যাওয়া হতে শুরু করে শুটিং পর্যন্ত সবকিছুই আমরা ধারন করেছি আমাদের ভিডিও ব্লগে। নীচের ভিডিওটি দেখুন আর উপভোগ করুন অসাধারন সেই সৌন্দর্য।

মূল ভিডিও ঃ

বিহাইন্ড দ্যা সিন –