অলৌকিক ক্ষমতা !!!

Now Reading
অলৌকিক ক্ষমতা !!!

আমাদের সবারই কিছু না কিছু দক্ষতা থাকে, যা আমাদের অন্যদের থেকে আলাদা করে। ছোট বেলায় আমদের সবার ইচ্ছা হত যে, যদি আমাদের কোন অলৌকিক ক্ষমতা থাকত!!! পৃথিবীতে এমন কিছু শিশু আছে যারা অসাধারন ক্ষমতা বা সুপার পাওয়ার এর অধিকারী। অজানা রহস্যের আজকে আমি জানাব এমন কয়েকটি শিশুর ব্যপারে, যাদের অসাধারন ক্ষমতা দেখে আপনি অবাক হবেন।
তাহলে চলুন জানা যাকঃ

১। নং ইয়ো উইং

মানুষ রাতের অন্ধকারে দেখতে পায়না কিন্তু পশু পাখিরা রাতের অন্ধকারে দেখতে পায়। বাস্তব জীবনেও এমন একটি শিশু রয়েছে যে ক্যাট বয় নামে পরিচিত। চায়নাতে বসবাসকারী এই বালকটি শুধু দিনের বেলায় নয়, রাতের অন্ধকারেও সে সবকিছু স্পষ্টভাবে দেখতে পায়। বালকটির চোখগুলো নীল রঙের এবং বাকী চীনের মানুষ থেকে একদম আলাদা।

২। তানিস্ক আব্রাহাম

চৌদ্দ বছর বয়সের এই ইন্দো আমেরিকান বালকটি মাত্র ১১ বছর বয়সে তার গ্রেজুইয়েশন ইউনিভার্সিটি কমপ্লেট করেছে। তার কাছে ম্যাথমেটিক্স, ফিজিক্স, জেনারেল সাইন্স এবং ফরেন লেংগুইজ এর ডিগ্রী রয়েছে। তার আই কিউ (IQ) ৯৯.৯%। মাত্র ৪ বছর বয়সে সে মেন্সার মেম্বার হয়, মেন্সা হল পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষদের জন্য একটি সংস্থা। পাঁচ বছর বয়সে সে ম্যাথমেটিক্স এর কোর্স শেষ করে, এবংসাত বছর বয়সে জিওলোজি ও স্ত্রলজি কোর্স কমপ্লেট করে। নয় বছর বয়সে
সে টেড এক্স-এ (TED-x) যাওয়ার সুযোগ পায়। এগারো বছর বয়সে সে আমাদের সৌর মঙ্গলের বাহিরের দুটি নতুন গ্রহ আবিষ্কার করে।
২০১২ সালে নাসা’র কনফারেন্স এ বক্তৃতা রাখে এবং নাসার সবচেয়ে কম বয়সী স্পিকার হয়। সে বড় হয়ে ডাক্তার হতে চায়, নোবেল প্রাইজ পেতে চায় এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে চায়।

৩। আরাত হোছেইনি

ইরানের তিন বছর বয়সের এই শিশুটি অসাধারন খমতার অধিকারী। এই শিশুটিকে স্পাইডার বয়ও বলা হয়। এই শিশুটি যে কোন খাঁরা দেয়ালে চড়তে পারে। সমস্ত রকম চিংলেস্টিক করতে পারে। উদহারন সরূপঃ প্যাথলিপ্স, ওয়ান হ্যান্ড পুস আপ, হ্যান্ড স্ট্যান্ড আরও অনেক কিছু। এই শিশুটি খুবই জনপ্রিয়, তার ইনস্টাগ্রাম এ নয় লক্ষ ছাব্বিশ হাজারের ও বেশী ফলোয়ার রয়েছে।

৪। ইয়ায়িদ

এইটা শুনে হয়ত অবাক লাগবে কিন্ত ইয়ায়িদ নামের এই পাঁচ বছরের শিশুটি পৃথিবীর সবচেয়ে কম বয়সী এয়ার পাইলট। চীনের এই বাচ্চাটি পাঁচ বছর বয়সে ৩২ মিনিট উড়োজাহাজ চালিয়ে ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করে। একজন মানুষের পাইলট হওয়ার জন্য বছরের পর বছর প্রশিক্ষনের প্রয়োজন হয়। এত কম বয়সে এই দক্ষতা সত্যিই বিস্ময়কর।

৫।

ইভান স্টইলজিকোভিক

কোইয়েশিয়া তে বসবাসকারী ১২ বছর বয়সী এই বালকটি ম্যাগনেটিক বয় নামে পরিচিত। সে তার চারপাশে জোরালো ম্যাগনেটিক তৈরি করতে পারে এবং যে কোন ধাতব জিনিসকে আকর্ষিত করতে পারে। ছোটবেলা থেকেি সে ভিবিন্ন জিনিসকে আকর্ষণ করতে শুরু করে, বলা হয় যে তার কাছে এই পাওয়ার ও আছে।

এদের মধ্যে আপনার কোন বাচ্চাটিকে বেশী ভালো লাগলো অবশয়ই জানাবেন। আগামীতে আরও মজার অজানা সব তত্ত্য জানাবো আপনাদের।

সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগী প্রানীজগতের পাঁচ মা

Now Reading
সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগী প্রানীজগতের পাঁচ মা

বৈচিত্র্যপূর্ন এ প্রকৃতিতে রয়েছে প্রাণী জগতের অসংখ্য শ্রেণিবিভাগ । এদের একেক শ্রেনির আচরণ একেকরকম । প্রকৃতির মতো প্রাণীজগতেরও রয়েছে নিজস্ব বৈচিত্র্য। সন্তানের জন্য আমাদের মা-বাবা কতোটা কষ্ট এবং ত্যাগ স্বীকার করে তা আমাদের অজানা নয় । কীন্তু শুধু মানুষ ই কি সন্তানের জন্য এমন কষ্ট করে ? নাকি প্রকৃতির অন্য প্রানীদের রয়েছে মাতৃত্ব এবং পিতৃত্বের মমতাময়ী অনুভুতি!
প্রকৃতিতে কিছু কিছু প্রানী টাডেড় সন্তানদের কোনপ্রকার যত্নই নেয় না । জন্মের পর ফেলে রেখে যায় যেখানে শক্তিশালী বাচ্চাগূলোই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে । আবার কিছু প্রানী তাদের সন্তান দের জীবনের শুরু টা সুন্দর করার জন্য নিজের সর্বস্বটাও ত্যাগ করতে দ্বীধা করেনা । প্রানী জগতের এমন ই ৫ মমতাময়ী মা-বাবাকে নিয়ে আমাদের এ প্রতিবেদন ।

ওয়েডেল সিল – WEDDEL SEAL
ওয়েডেল সিল প্রানীজগতের সেই সকল প্রজাতির মধ্যে একটি যাদের মায়েরা একাই সন্তান লালনের মত বিশাল কাজটি সম্পন্ন করে । অ্যাঁন্টার্কটিকার মতো সবচেয়ে কঠীণ আবহাওয়া সম্বলিত জায়গায় বসবাসের কারনে সন্তান জন্ম দেওয়া এবং লালন পালন করার কাজটি অনেকবেশি কষ্টসাধ্য হয় । আশার ব্যাপার হলো – এতো কষ্ট সহ্য করেও মা ওয়েডেল সিল তার সন্তান দের লালন পালনে কমতি রাখেনা ।
মা ওয়েডেল সিলের অবিশ্বাস্য ত্যাগের শুরুটা হয় ১১ মাসব্যাপী গর্ভধারনের মধ্য দিয়ে । বাচ্চা জন্ম হওয়ামাত্র অ্যাঁন্টার্কটীকার বিপদজনক পরিবেশে টিকে থাকার শিক্ষা দেওয়া শুরু হয়ে যায় । বাচ্চার বয়স যখন মাত্র দু সপ্তাহ তখনই – মা সিলেরা বাচ্চাকে পানিতে নামতে উদবুদ্ধ করতে থাকে । একটি গুরুত্বপুর্ন শিক্ষা হচ্ছে , পানির নিচের দিগন্ত চিনে পথ চলট্যাঁ পারা এবং নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য বরফের মধ্যে ছিদ্রগুলো খুঁজে বের করা । ডাঙ্গায় আরেকটি গুরুত্বপুর্ন শিক্ষা হলো দাতের সাহায্যে বরফের মধ্যে ছিদ্র তৈরি করা এবং পুরানো ছিদ্রগুলো ঠীক রাখা । নিশ্চিত করা বরফ জমে ছিদ্রগুলো বন্ধ না হয়ে যায় ।
এ হিমশিতল রাজ্যে ওয়েডেল সিল প্রতিবছর একটি বাচ্চার জন্ম দিয়ে থাকে এবং সারাবছর ধরে লালন পালন করে । যদিও তাদের শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে যাতে থাকে । মা সিল তাদের বাচ্চাকে যে দুধ খাওয়ায় তাতে প্রায় ৬০% ফ্যাট থাকে , যা বাচ্চাদের দ্রুত বেড়ে উঠতে সহায়তা করে ।

ওরাং ওটাং – Orangutang
অসাধারন এ বুদ্ধিমান প্রাণীদের সাধারণত সুমাত্রা (ইন্দোনেশিয়া) এবং বোর্নিওর (মালয়েশিয়া) রেইন ফরেস্টে দেখা যায় । ওরাং ওটাং মায়েরা তাদের শিশুদের আটবছর পর্যন্ত লালনপালন করে । যা মানুষব্যাতিত অন্যকোনো প্রানীর মধ্যে দেখা যায়না ।
সুমাত্রান মেয়ে ওরাংওটাংরা প্রতি নয় বছরে একটি করে বাচ্চা জন্ম দেয় । এভাবে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত চলতে থাকে সন্তান জন্মদান । এত লম্বা সময় ধরে বাচ্চাদের লালন-পালন করার ফলে মা ও বাচ্চার মধ্যে অসাধারন বন্ধন তৈরি হয় ।
এ আট বছরে মায়ের কাছে শিশু ওরাং ওটাং অনেক কিছুই শিখে নেয় । উল্লেখযোগ্য শিক্ষাটী জঙ্গলের কোথায় ভালো ফল পাওয়া যায় , ফল কখন পরিপক্ক এবং খাওয়ার উপোযোগি হয় , ওরাংওটাং শিশুরা তা মায়ের কাছেই শেখে ।
মায়ের কাছ থেকে শেখা সবচেয়ে জটীল কাজটি সম্ভবত ঃ বাসা তৈরি করা । ছয় মাস বয়স থেকে শিশু ওরাংওটাং শিশুরা তা মায়ের কাছেই শেখে ।
মায়ের কাছ থেকে শেখা সবচেয়ে জটিল কাজটি সম্ভবত ঃ বাসা তৈরি করা । ছয় মাস বয়স থেকে শিশু ওরাংওটাং বাসস্থান তৈরির অনুশীলন শুরু করে এবং তিন থেকে চার বছর বয়সে সফলভাবে গাছের মগডালে বাসস্থান তৈরি করে ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সিসিলিয়ানস – Caecilians
সিসিলিয়ালসদের মায়েরা সন্তান দের জন্য এতোটাই ত্যাগ স্বীকার করে যে , সন্তানের জীবণ রক্ষার্থে নিজেদের কে সন্তানের খাবারে পরিণত করে । পৃথিবীর প্রায় সকল রেইন ফরেস্টে তাদের পাওয়া যায় । এই অসাধারণ প্রানীটী তাদের জীবনের বেশিরভাগ সময় মাটির নিচে কাটীয়ে দেয় ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

অ্যাঁডিলি পেঙ্গুইন –
আন্টার্ক্টিকার শুন্য ডিগ্রির নিচের তাপমাত্রায় অ্যাঁডিলি পেঙ্গুইন দের মা-বাবারা যেভাবে সন্তান লালনপালন করে তা সত্যিই অবিশ্বাস্য !
পিতা আডিলি পেঙ্গুইন প্রায় ৫০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সঙ্গিনীর কাছে ফিরে আসে । যেখানে তারা বছরের পর বছর বংশবৃদ্ধি করে আসছে । ডিম সংরক্ষনের জন্য যে বাসা দরকার তা তৈরি হয় পাথর দিয়ে । একটি পরিপুর্ন বাসা তৈরি করতে যথেষ্ট পরিমান পাথরের যোগাণ না মিললে অ্যাঁডিলি পেঙ্গুইন অন্যের বাসা থেকে চুরি পর্যন্ত করে থাকে ।
যখন মা এসে হাজির হয় এবং ডিম পারে ,বাবা মা পলাক্রমে ডীমে তাপ দেওয়ার দায়ীত্ব পালন করে থাকে । ডীম যদি ঠান্ডা আবহাওয়ায় পাঁচ মিনিটের বেশি সময় ধরে থাকে তবে সেই ডিম থেকে আর বাচ্চা ফুটানো সম্ভব নয় ।
অ্যাঁডীলী পেঙ্গুইন দের বাবারা প্রানী জগতের সবচেয়ে পরিশ্রমি বাবাদের একজন । যদি কোণো বাবা ফিরে না আসে , মা তার ডীম টা ফেলে রেখে চলে যায় । কারন তার একার পক্ষে ডীম ফুটিয়ে সন্তান কে বড় করার কাজটি সম্ভব নয় ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ক্লাঊন ফিশ
মা- বাবার অসাধারন ভালবাসা নিয়ে নির্মিত ফাইন্ডিং নিমো সিনেমায় অভিনয় করা ক্লাঊণ ফিশ বাস্তব জিবনেও অসাধারন বাবা মা । অ্যাঁডীলী পেঙ্গুইন দের মতো এরাও সন্তান লালনপালনের কাজটি করে মা-বাবা মিলেই করে থাকে । বাচ্চা জন্ম নেওইয়ার আগেই তারা পাথুরে একটি গর্ত পরিষ্কার করে রাখে নবজাতকের বাসস্থানের জন্য । এক বারে একটি একটি ক্লাউন ফিশ একশ থেকে এক হাজারটি পর্যন্ত ডিম দেয় । পুরুষ ক্লাউন ফিশ ডিমগুলো পাহারা দেয় । ৬ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ডিম ফূটে বাচ্চা বের হয় । ডিম থেকে বাচ্চাগুলো বের হঊয়ার পর বাবা-মা দুজনই তাদের ফিনের (পাখনা ) সাহায্যে নবজাতককে সবসময় অক্সিজেন পরিপুর্ন বাতসের যোগাণ দিয়ে থাকে । যেনো বাচ্চাদের অধিকাংশের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায় ।

ভূমিকম্প!

Now Reading
ভূমিকম্প!

শিলায় পীড়নের জন্য যে শক্তির সঞ্চয় ঘটে ভূ-অভ্যন্তরে, সেই শক্তির হঠাৎ মুক্তি ঘটলে ভূ-পৃষ্ঠ ক্ষণিকের জন্য কেঁপে ওঠে সেই সাথে ভূ-ত্বকের কিছু অংশ আন্দোলিত হয়। এধরনের কেঁপে ওঠা বা হঠাৎ কম্পনকে আমরা সাধারণত ভূমিকম্প বলে থাকি। ভূমিকম্প বলতে সাধারণত যা বোঝায়, ভূমিতে কম্পন সৃষ্টি হওয়া। কম্পন তরঙ্গ থেকে যে শক্তির সৃষ্টি হয়, তা ভূমিকম্পের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ঘর-বাড়ি ও ধন সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি হয় সেই সাথে অসংখ্য প্রাণহানিও ঘটে। ভূমিকম্প সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে দু এক মিনিট স্থায়ী হয়। মাঝে মাঝে কম্পন দুর্বল হলে তা অনুভব করা যায় না।
 আগ্নেয়গিরি জেগে উঠে অগ্ন্যুত্পাত হতে পারে ভূমিকম্পের ফলে।
 ১৯৬০ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল চিলিতে। রিখটার স্কেলে চিলির সেই ভূমিকম্পের মাত্র ছিল ৯.৫।
 দুই মাত্রার কম ভূমিকম্প আমরা টের পাই না। রিখটার স্কেলে ৩ মাত্রার থেকে বেশি মাত্রার ভূমিকম্পে মাটি কেঁপে ওঠে।
 দুনিয়ার কোথাও না কোথাও প্রতি ৩০ সেকেন্ডে ভূমিকম্প হচ্ছে। এটা আলাদা কথা কী মানুষ সেগুলোর সব টের পাচ্ছেনা।
 এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে মিসিসিপি নদীর একটা অংশ পিছন দিকে বইতে শুরু করে ১৮৮১ সালে ১৬ ডিসেম্বর।
 যেমন ‘আর্থ কোয়েক হয় তেমন ‘মুন কোয়েক’ও হয়। মানে ভূমিকম্পের মত চন্দ্রকম্পও হয়। চাঁদেও পৃথিবীর মতও ভূমিকম্প হয়। তবে পৃথিবীর থেকে কম মাত্রার ভূ কম্প হয়ে চাঁদে। পৃথিবীর মত অত ঘনঘন কেঁপে ওঠে না চাঁদ।
 ভূমিকম্পে প্রায় আট হাজার মানুষ মারা যায় প্রতিবছর। গত চার হাজার বছরে এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ মারা গেছে ভূমিকম্পে।
 ইনকা সভ্যতার ভাস্কর্য এমনভাবে তৈরি হয়েছিল যা যে কোনও বড় ধরনের ভূমিকম্প প্রতিরোধ করতে পারে। সেই স্থাপত্য, ভাস্কর্যগুলো বেশ কয়েকবার মাঝারি মাপের ভূমিকম্পের মুখে পড়লেও কোনও ক্ষতি হয়নি।
 জাপানে দেড় হাজার বার ভূমিকম্প হয় প্রতি বছর ।
 বিশ্বে প্রতি বছর ৫ লক্ষ ভূমিকম্প রিখটার স্কেলে ধরা পড়ে। তাদের মধ্যে মাত্র এক লক্ষ আমরা অনুভব করতে পারি। তাদের মধ্যে ১০০টা ভূমিকম্প ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ি থাকে।
 প্রাচীন গ্রিকরা মনে করত ভূমিকম্প হয় তাদের সমুদ্র দেবতা পসিডনের কারণে। রেগে গেলে মাটি ধরে ঝাঁকি দেয় সমুদ্র দেবতা। আবার জাপানি পুরাণে আছে, ন্যামাজু নামের একটি ক্যাটফিশের কারণেই ভূমিকম্প হয়।
 দক্ষিণ গোলার্ধের চেয়ে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে ভূমিকম্প বেশি হয়।
 কিছু কিছু প্রাণী নাকি ভূমিকম্প আগেই টের পায়। তবে সম্প্রতি গবেষণায় জানা যায়, মানুষও আগে থেকে ভূমিকম্প টের পেতে পারে। এর টের পাওয়ার কারণ হচ্ছে মাটির তলার কিছু গ্যাস পুকুর বা জলাশয়ের পানির মাধ্যমে বেরিয়ে আসে। মানুষ সে অস্বাভাবিক গন্ধ থেকেই ভূমিকম্পের বিষয়টি টের পায়।
 ১৯৮৫ সালে মেক্সিকো সিটিতে ৮ মাত্রার ভয়ানক ভূমিকম্প হয়। সেই ভূমিকম্পে মেক্সিকোর এক হাসপাতাল ভেঙে পড়ে। এক সপ্তাহ সেই হাসপাতালের ভিতর কেউ ঢুকতে পারেননি। দিন আটেক পর উদ্ধারকারী দল গিয়ে বেশ কয়েকজন সদ্যোজাতকে উদ্ধার করে। এক সপ্তাহ ধরে সেইসব সদ্যোজাত শিশুদের কোনও জল বা খাবার, বা কোনও মানুষের সান্নিধ্য পায়নি। এরপরেও কীভাবে শিশুরা বেঁচে ছিল সেটাই আশ্চর্যের।
 আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার পার্কফিল্ডকে বলা হয় ‘পৃথিবীর ভূমিকম্পের রাজধানী’। এখানে একটি ব্রিজ আছে, যেটি দুটি টেকটনিক প্লেটের ওপর অবস্থিত ভূমিকম্প নিরূপক যন্ত্র আবিষ্কৃত হয়েছিল দুই হাজার বছর আগে। তৈরি করেছিলেন চিনের বিজ্ঞানী ঝ্যাং হ্যাং।
 হিন্দু পুরাণমতে আটটি বিশালকায় হাতির পিঠে সওয়ার হয়ে আছে পৃথিবী। ওই সব হাতি আবার দাঁড়িয়ে আছে কচ্ছপের পিঠের ওপর। কচ্ছপগুলো আবার নিজেদের সামলে রেখেছে কুণ্ডলি পাকানো সাপের ওপর দাঁড়িয়ে। এসব প্রাণীর কোনো একটা একটু নড়লেই নড়ে ওঠে পৃথিবী।
 সাত বা তার থেকে বেশি মাত্রার ভূমিকম্পে গোটা একটা শহর ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

ঘটনাগুলো অবিশ্বাস্য এবং উদ্ভট হলেও সত্য

Now Reading
ঘটনাগুলো অবিশ্বাস্য এবং উদ্ভট হলেও সত্য

পৃথিবীতে মাঝে মাঝে এমন কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটে, যা দেখার জন্য আমরা কোনভাবেই প্রস্তুত থাকি না। কারণ পৃথিবী এমন একটি জায়গা, এখানে কখন কি ঘটতে পারে এ ব্যাপারে কেউ কিছু বুঝার সুযোগ নেই। এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা উদঘাটনের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করেও উত্তর পাওয়া যায়নি। অজনা রয়েই গেছে এমন অনেক ঘটনার কারণ। কিন্তু ঘটনা গুলো সত্যি ঘটেছিল, জেনে নিব কিছু অদ্ভুদ ঘটনা,যেগুলোর পিছনের রহস্য উদঘাটন করেও কোন উত্তর পাওয়া যায় নি।
 নিউইয়র্ক এর বেলমন্ট পার্কে ১৯২৩ সালে জকি ফ্রাঙ্ক হায়েস ঘোড়াদৌড়ে মৃত অবস্থায় প্রথম স্থান দখল করেন। তিনি মাঝ মাঠে এসে প্রতিযোগিতা চলা অবস্থায় হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবার কারনে মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু সে ঘোড়ার পিঠে স্থিরভাবে বসে থাকেন মারা যাবার পরও।শেষ লাইন অতিক্রম করার পর উনি ঘোড়ার পিঠ থেকে ঢলে পরে যান।
 আমরা জানি, দুইটি যমজ শিশু জন্মের মধ্যে কিছু সময় এর পার্থক্য থাকে।কিন্তু পৃথিবীর সব চাইতে বেশি সময় নিয়ে যে যমজ দুই সন্তান জন্ম নিয়েছে তাদের মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য ৮৭ দিন।
 সবার আঙ্গুলের ছাপ যেমন একজনের সাথে আরেকজনের টা মিলানো বিরল, ঠিক তেমনি সকলের জিহ্বার ছাপও বিরল।
 পৃথিবীর সব থেকে গভীরতম পোস্টবক্স অবস্থিত জাপানের সুসামি বেয়তে। যা ১০ মিটার দীর্ঘ এবং পানির নিচে অবস্থিত।
 মহিলা ক্যাঙ্গারুদের তিনটি যোনি রয়েছে।
 আলোর গতি সব থেকে বেশি টা আমরা জানি। কিন্তু, আলোর সব থেকে কম গতি হল সেকেন্ডে ৩৮ মাইল।যা আমরা অনেক জানি না।
 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ৬ সপ্তাহের জন্য ব্রিটিশ সাবমেরিনের উপর একটি বলগা হরিণ রেখেছিলেন এইসএমএস ত্রিশূল। যা রাশিয়ার পক্ষ থেকে একটি উপহার ছিল।
 পৃথিবীর সব থেকে একা প্রাণী হল তিমি। একটি তিমি প্রায় দুই দশক ধরে তার সঙ্গীকে ডাকলেও কোন উত্তর পায় না। কারন তাদের স্বরের অনেক বেশি ভিন্নতা থাকে।
 গিএথুরন নামের ডাচ নামক একটি গ্রামে কোন রাস্তা নেই। ওই গ্রামের বাড়িগুলো একটি আরেকটির সাথে নৌ-পথে সংযুক্ত। তারা ব্রিজ এর মাধ্যমে যাতায়াত করে।
 যে লোকটি তার গোঁফ কে বিশ্বের সব থেকে বড় গোঁফ বলে দাবি করেছিলেন, তিনি ১৫৬৭ সালে তার গোঁফে আগুন লাগার কারনে মারা যান।
 চাঁদে মূত্র ত্যাগ করা প্রথম মানুষ ছিলেন বাজ আলদ্রিন।
 ভ্লাদিমির নাবোকভ স্মাইলি আবিষ্কার করেছেন।
 ২০০৮ সালে বিজ্ঞানীরা একটি ব্যাকটেরিয়া আবিস্কার করে যা বিভিন্ন চুলের স্প্রে তে পাওয়া গেছে।
 রোমানরা তাদের দাত মল-মূত্র দিয়ে পরিস্কার করত। এতে তাদের দাত আরও বেশি সুন্দর হত।কিন্তু দয়া করে আপনি চেষ্টা করবেন না।
 এন্টার্কটিকায় একটি বরফ থেকে প্রতিনিয়তই লাল রং এর পানি ঝরছে। তাই সেই বরফকে রক্তের ঝর্না বলা হয়।
 আইফেল টাওআর এর উপরিভাগ সূর্যের আলোর কারনে প্রসারিত হয়। এটি প্রায় ৭ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়।
 ২০০৭ সালে কোরে টেইলর নামের এক আমেরিকান নাগরিক তার মৃত্যুর মিথ্যা নাটক সাজায়। শুধুমাত্র, এই কারনে যে তার মোবাইলের বিল পরিশোধ করতে না হয়।
এমন উদ্ভট উদ্ভট ঘটনা প্রতিনিয়ত পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় হয়ে থাকে। কিন্তু এসব রহস্যময় ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয় না শুধু। কিছু কিছু রহস্যময় ঘটনা ঘটে, যা বিজ্ঞানীরাও উদঘাটন করতে ব্যর্থ হয় অনেক সময়। পৃথিবীটা রহস্যময়ে ঘেরা।

বিশ্বের নিকৃষ্ট কিছু কারাগার

Now Reading
বিশ্বের নিকৃষ্ট কিছু কারাগার

একজন মানুষের প্রতি অবিচার সমস্ত মানব জাতির প্রতি অবিচার। অপরাধ করলে সাজা পেতে হবে এ কথার সাথে সম্ভবত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অপরাধিও দ্বিমত প্রকাশ করবে না। বিশ্বাসি মানুষজন চাইবে অপরাধি যেন পৃথিবীর পাশাপাশি পরকালেও শাস্তি ভোগ করে। অবিশ্বাসিগণ পৃথিবীতে ন্যায় বিচার হলেই সন্তুষ্ট। কিন্তু ন্যায় বিচার কি সবসময় হয়? অপরাধির অপরাধের তুলনায় তাকে অধিক সাজা দেওয়া হলে তা কি নতুন আরেকটি অপরাধ নয়? অপরাধের সাজা সবচেয়ে প্রচলিত শাস্তি হল অপরাধিকে কারাবন্দি করা। আর আধুনিক কালে কারাগারে নতুন নাম দেওয়া হচ্ছে সংশোধনাগা। অর্থাৎ কারাগার হবে এমন একটি জায়গা, যেখানে অপরাধি তার পাপের ফল ভোগ করার পাশাপাশি সংশোধনের সুযোগ পাবে। কিন্তু কারাগারি যদি যাবতীয় মানবধিকার বিবর্জিত হয় সেখানে অপরাধি ফিরে আসার সুযোগ কি আদো থাকে? অপরাধিকে পুনরায় অপরাধি বানায় এরকম কয়েকটি নিকৃষ্ট কারাগারের গল্প নিয়ে আজকের আয়োজনঃ
সাবানেতা কারাগার, ভেনেজুয়েলাঃ ২০১৯ সালের শুরু থেকে বিশ্ব সংবাদ মাধ্যম গুলোতে ভেনেজুয়েলার খবর খুব গুরুত্ব পাচ্ছে। কেননা দেশটি অর্থনৈতিক ভেঙ্গে পড়েছে, সাধারণ মানুষ সরকার বিরোধী আন্দোলনে নেমেছে। তবে আইন শৃঙ্খলার দিক থেকে ভেনেজুয়েলার অবস্থা আরো আগের থেকে খারাপ। ২০১৫ সালে এক সমিক্ষায় দেখা গিয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্ছ মানুষ খুনের ঘটনা ঘটেছিল ভেনেজুয়েলাতে। এই একটি তথ্য থেকে অনুধাবন করা যায় ভেনেজুয়েলার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটুকু দূর্বল। তাই খুব স্বাভাবিক ভাবে সেখানকার কারাগারগুলোতে কয়েদি থাকার ধারণক্ষমতা অনেক বেশি। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে দূর্বল কারাগারের জন্য ভেনেজুয়েলার কুখ্যাতি আছে। এই কুখ্যাতি তো এমনিতে হয় নি। ভেনেজুয়েলার ৮০ ভাগ কারাগার পুলিশের নিয়ন্ত্রনের বাহিরে। সেগুলো পরিচালিত হয়, সশস্ত্র কারাবন্দিদের দ্বারা। ভেনেজুয়েলার এই ভয়ংকর কারগারগুলো মধ্যে একটি হলো এই সাবানেতা কারাগার। মাত্র ৭০০ জন বন্দি রাখবার মত অবকাঠামো ও সুবিধাদি আছে এই কারাগারে অথচ এখানে বন্দির সংখ্যা ৩৭০০ জনেরও বেশি। এই কারাগারে কয়েদির তুলানায় কারারক্ষি অত্যন্ত কম। প্রতি ১৫০ জন কারাবন্দির বিপরিতে কারারক্ষি মাত্র ১ জন। ফলে বন্দিদের মাঝে মারামারি, রক্তারক্তি হলেও কারা কর্তিপক্ষ লোহার রেলের অপর পাশ থেকে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। অবস্থা বেশি খারাপ হলে এবং খুনাখুনি হয়ে গেলেও অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হয় নাম মাত্র কারা কর্তিপক্ষের।
রিকারস আইল্যান্ড, নিউ ইয়র্কঃ রিকারস আইল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম কারাগার। এখানে মূলত অল্প মেয়াদি দন্ডাদেশ প্রাপ্তদের রাখা হয়। যাদের শাস্তি ১ বছরের কম বা বিচার কার্য চলছে এখনো এ ধরনের আসামিদের রাখা হয়। এটি আমেরিকা তথা বিশ্বের একটি কুখ্যাত কারাগার। এই তালিকায় রিকারস আইল্যান্ডের নাম থাকাটা অন্যগুলোর চেয়ে অধিক দূর্ভাগ্যজনকও বটে। কেননা এই কারাগারে ছোট খাট অভিযুক্ত আসামিদের রাখা হয় সাময়িক সময়ের জন্য। ফলে কারাগারের নির্মম পরিহাসের কারণে অধিকাংশ অপরাধি তার অপরাধের তুলনায় অধিক সাজা ভোগ করতে হয়। রিকারস আইল্যান্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হল, এখানে গ্যাংদের ছেয়েও অধিক হিংস্র এখানকার পুলিশ অফিসার এবং এখানকার কারারক্ষিরা। বন্দিদের সংশোধনের নামে তারা অমানবিক শারিরীক, মানসিক অত্যাচার চালায় বন্দিদের উপর। ২০০৯ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস একটি প্রতিবেধন প্রকাশ করেছিল যেখানে বলা হয়েছে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে বন্দিদের পরিবার কর্তৃক কারা কর্তিপক্ষদের বিরোদ্ধে ৭টি শারিরীক নির্যাতনের মামলা হয়েছে। উক্ত প্রতিবেদনের পর মূলত আলোচনায় আসে এই কারাগার। ২০১৩ সালে এই কারাগার নিয়ে আরো একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউ ইয়র্ক টাইমস। যেখানে সর্বশেষ এক বছরে শতাধিক বন্দি আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তবে রিকারস আইল্যান্ডের সবচেয়ে হিংস্র রূপটি প্রকাশ পেয়েছিল কালিপ ব্রাউডারের উপরের নির্যাতনের সিসি টিভি ভিডিও ফুটেজ ফাঁস হওয়ায়। কালিপ ব্রাউড যখন চুরির দায়ে অভিযুক্ত হন, তখন তার বয়স মাত্র ১৬ বছর। আদালতে তার মামলা চলমান ছিল বিধায় তাকে এই কারাগারে রাখা হয়েছিল। অথচ ছোট অপরাধে কি ভয়ানক সাজাটা ভোগ করল ব্রাউডার। ফাঁস হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় কখনো কখনো কারারক্ষীরা কখনো কখনো আসামীদের গ্যাং বিনা উস্কানিতে ব্রাউডারকে খুব শারিরীক অত্যাচার করছে। এভাবে মার খেতে খেতে একবছর কাটানো পর ব্রাউডারকে বরং শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে নির্জন কারাবাসে রাখা হয় পরবর্তী দুই বছর। এসময় একাধিকবার আত্যহত্মাও করার চেষ্টা করেন ব্রাউডার। তিন বছরের মাথায় তার বিরূদ্ধে করা মামলাটি খারিচ হয়ে যায় কিন্তু তিনটি বছর যে অকথ্য নির্যাতন ব্রাউডার হয়েছিলেন তার ক্ষতি পূরণ পৃথিবীর আদলতে সম্ভব নয়।

অবিশ্বাস্য কয়েকটি বিশ্ব রেকর্ড

Now Reading
অবিশ্বাস্য কয়েকটি বিশ্ব রেকর্ড

আপনারা সকলেই গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড নাম শুনেছেন। সুতরাং জানেন যে, গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড তৈরি করা মোটেও সহজ কাজ নয়। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে কোন কাজের জন্য জায়গা করে নেওয়ার অর্থ হল, এর আগে কাজটি কেউ করেনি, অথবা করলেও এত দক্ষতার সাথে করেনি। অর্থাৎ সে ব্যাক্তির নামে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড স্থান পাবে, যিনি কোন একটি দুঃসাহসিক কাজ করেছেন। যেমন পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু শ্রিঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে কত কম সময়ে উঠেছেন অথবা পেরাসুট ছাড়া মহাকাশ থেকে লাপ দিয়েছেন বা কোন একটি সাধারণ কাজ, অসাধারণ দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করেছেন। যেমন একটানা তিন স্নান করা অথবা ৫দিন ঘুমানো। এ কাজ গুলো শুনতে অনেক সাধারন মনে হলেও আসলে কাজ গুলো অনেক কঠিন এবং আশ্চর্যজনক এবং যে কোন মানুষের পক্ষে করে ফেলা সম্ভব নয়। আর সে কারনে এসব কাজকে সম্মান দেওয়ার জন্য তৈরি হয়েছে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমন ঘটেছে যে, কোন মানুষ ভুল বশত এমন কিছু কাজ করে ফেলেছেন যা গিনেস বুকে স্থা পেয়েছে। আজ আমরা আলোচনা করব এমন কিছু গিনেস রেকর্ড যা শুধু দুঃসাহসিকতা নয়, বিশ্বের সবচেয়ে আশ্চর্যজনক কয়েকটি কাজ যা দেখে আপনি অবাক হতে বাধ্য হবেন।

স্কাই ডাইভিংঃ স্কাই ডাইভিং এমন একটি আশ্চর্যজনক এবং মজার স্টান্ড যা বহু মানুষ নিজেদের জীবনে অন্তত একবার করতে চান। কেউ কেউ নিজেদের অবসর বিনোদন হিসেবেও স্কাই ডাইভিং বেচে নিয়েছেন। নতুন দেশে ঘুরতে আসা বিভিন্ন পর্যটকদের মধ্যেও স্কাই ডাইভিং করার প্রচন্ড উদ্যম এবং ইচ্ছা লক্ষ করা যায়। স্কাই ডাইভিং অত্যান্ত দুঃসাহসিক এবং শারীরিক সক্ষমতার কাজ। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও অভ্যাস না থাকলে স্কাই ডাইভিং অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ বটে। পেরাসুট ছাড়া স্কাই ডাইভিং কতটা ঝুকিপূর্ণ আপনারাই ভেবে দেখুন। জীবনের ঝুকি নিয়ে পেরাসুট ছাড়া এত উচ্চতা থেকে শূণ্যে ঝাপ দেওয়ার মত দুঃসাহস তারাই দেখাতে পারেন, যারা মৃত্যুর ভয়কে জয় করে নিয়েছেন। আমারিকার স্কাই ডাইভার লিউক এইকিন্স এই দুঃসাহসিক পরিক্ষায় সফল ভাবে উত্তির্ন হতে পেরেছেন। ৭৬২০ মিটার উচ্চতা থেকে পেরাসুট ছাড়া শূণ্যে ঝাপ দেন। তারপর প্রায় দুই মিনিট ধরে নিচে নামতে থাকেন এবং সফল ভাবে একটি ৩০ মিটার লম্বা এবং ৩০ মিটার চওড়া একটি জালের উপর এসে অবিতির্ন হন। লিউক যদি সামান্য ভুল বশত ঐ জালের উপর না পড়তেন, তাহলে কি ভয়ংকর ঘটনা ঘটে যেতে পারতো তা একবার ভেবে দেখুন। হইতো লিউকের শরীরটা ছিন্নভিন্ন হয়ে যেত, অথবা খুজেই পাওয়া যেত না। কিন্তু লিউক একজন অভিজ্ঞ এবং পেশাদার স্কাই ডাইভার।

দীর্ঘতম সময়ের জন্য শ্বাসরোধঃ একজন সাধারণ মানুষ এক থেকে ৫ মিনিট পর্যন্ত নিঃশ্বাস না নিতে বেচে থাকতে পারেন এবং প্রশিক্ষিত ড্রাইভাফ প্রায় নয় মিনিট থাকতে পারেন। কিন্তু বিশ্ব রেকর্ড করতে হলে অবিশ্বাস্য কিছু করে দেখাতেই হবে। এবং যা করে দেখিয়েছে স্পেনিশ ড্রাইভার এলেক্স সেগুরা। ২০১৬ সালের ২৮ এ ফেব্রুয়ারি এলেক্স ১৪ মিনিট ৩ সেকেন্ড শ্বাসরোধ করে বিশ্ব রেকর্ড করেন। যদিও ২০১৮ সালে সেই বিশ্ব রেকর্ড ভেঙ্গে দেন এক ক্রোরেশিয়ান ড্রাইভার। তিনি ২৪ মিনিট ১১ সেকেন্ড পর্যন্ত নিজের শ্বাস ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। এই অবিশ্বাস্য কৌশলের জন্য আজ তিনি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান পেয়েছেন।

মৌমাছির আচ্ছাদনঃ আমরা সকলেই জানি মৌমাছি একটি উপকারি পতঙ্গ। মধু ও মোমের জোগান দিয়ে মৌমাছি আমাদের সাহায্য করে। কিন্তু এই মৌমাছি কখনো কখনো হয়ে উঠে অত্যান্ত বিপদজনক। মৌমাছি তার বিষাক্ত হোল ফুটিয়ে শরীরের সমস্ত বিষ মানব দেহে ঢেলে দেই। যা অত্যান্ত বেদনাদায়ক। অধিক মৌমাছির কামড়ে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই মৌমাছি নামক প্রাণীটি থেকে দূরে থাকায় এক প্রকার স্বাস্থ্যকর। কিন্তু এক চীনা ভদ্রলোক এই আশংকা মিথ্যা প্রমাণ করেছেন। কারণ এই প্রাণীকে তিনি ভয় পান না। রুইয়ান লিয়াং মিং নামের এই ভদ্রেলোক নিজের শরীরে মৌমাছির আচ্ছদন তৈরি করার দঃসাহস দেখিয়ে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছেন। ইতালিয়ান গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এক অনুষ্ঠানে এই ব্যাক্তি নিজেকে জীবন্ত মৌমাছি দিয়ে নিজেকে আচ্ছাদিত করেন। মৌমাছির আবরনের ভিতর লিয়াং মিং কে খুজে পাওয়া ছিল দুষ্কর।

বাণিজ্য ক্ষেত্রে আটলান্টিক মহাসাগরের ভূমিকা

Now Reading
বাণিজ্য ক্ষেত্রে আটলান্টিক মহাসাগরের ভূমিকা

চারটি মহদেশ জুড়ে বিস্তৃত আটলান্টিক মহাসাগর বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের ৫টি মহাদেশ ও শতাদিক দেশ আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে অবস্থিত। আটলান্টিক মহাসাগরের রহস্যময় বৈচিত্রতা বিজ্ঞানী ও গবেষকদের কাছে এখনো এক বিস্ময়। আটলান্টিক তীরে ইউরোপ, আমেরিকার মত মহাদেশের অবস্থান হওয়ায় এই সাগরের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। আজকে জানবো পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তর মহাসাগর আটলান্টিক সম্পর্কে।

ধারণা করা হয় জুরাসিক যুগ থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের গঠন শুরু হয়। এর আয়তন ১০ কোটি ৬৪ লক্ষ বর্গকিলোমিটার বা ১০৬.৪ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার। আটলান্টিক পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর। আটলান্টিক মহাসাগর পৃথিবীপৃষ্ঠের প্রায় ৫ ভাগের ১ ভাগ জায়গা জুড়ে অবস্থিত। উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকা এই ৫টি মহাদেশের ১৩৩টি দেশ আটলান্টিক মহাসাগরের অন্তর্গত। এই মহাসাগরের উপকূলীয় এলাকার আয়তন প্রায় ১,১১,৮৬৬ কি. মি.। আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিমে রয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ এবং পূর্ব রয়েছে ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশ। মহাসাগরটি উত্তর দক্ষিণে উত্তর মহাসাগর থেকে দক্ষিণ মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। আটলান্টিক মহাসাগরের গড় গভীরতা প্রায় ১২,০০০ ফুট, সরাসরি আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে থাকা ১৩৩টি দেশের বাহিরেও আরো বেশ কিছু দেশ এই মহাসাগর ব্যবহার করে যাতায়াত ও বাণিজ্য করে থাকে। আটলান্টিক মহাসাগরের প্রবেশের জন্য কৌশলগত জলপথ হিসাবে উল্ল্যেখযোগ্য হল জার্মানির কিয়েলখাল, ডেনমার্ক ও সুইডেনের মধ্যবর্তি জলপথ ইত্যাদি। আটলান্টিক মহাসাগরই প্রথম কোন মহাসাগর যা জাহাজের সাহায্যে অতিক্রম করা হয়েছিল। তার আগে আর কোন মহাসাগর অতিক্রম করা হয়নি। পরবর্তিতে বিমান আবিষ্কার হওয়ার পর বিমান সাহায্যে পাড়ি দেওয়া প্রথাম কোন মহাসাগরও আটলান্টিক। আটলান্টিক মহাসাগরের বেশ কিছু সাগর ও উপসাগর রয়েছে। এদের মধ্যে কৃষ্ণ সাগর, উত্তর সাগর, ভূমধ্যসাগর, মেক্সিকো উপসাগর সহ আরো কিছু সাগর অন্যতম। আমাজন নদীর মত প্রধান প্রধান নদী গুলোর পানি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে এই মহাসাগরে পতিত হয়। দুইটি সাগর অথবা দুইটি বিশাল জলরাশিকে সংযুক্তকারী সরু জলপথকে প্রণালী বলা হয়। আটলান্টিক মহাসাগরে একাধিক প্রণালী রয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রণালী হল, ডেনমার্ক প্রণালী, ডোবার প্রণালী ইত্যাদি। ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স এর মধ্যবর্তি ডোবার প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত সমুদ্র প্রণালী। এখানে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াত করে। অক্টোবর থেকে জুন মাস পর্যন্ত আটলান্টিক মহাসাগরের ডেনমার্ক প্রণালী বরফে ঢাকা থাকে। আটলান্টিক মহাসাগর প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্যতার জন্য বিক্ষ্যাত। আটলান্টিক মহাসাগরের তীর ঘেষে থাকা দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে মহাসাগরটি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

আটলান্টিক মহাসাগরে সোনার খনিও আছে। কিন্তু তা উত্তোলনের মাধ্যমে বণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার কার্যকর পদ্ধতি এখনো আবিষ্কার হয়নি। মৎস সম্পদের প্রাচুর্যতার জন্য আটলান্টিক মহাসাগরের বেশ সুখ্যাতি রয়েছে। সামুদ্রিক মৎস সম্পদের দিক থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের অবস্থান দ্বিতীয়। বিশ্বের মোট মাছের প্রায় ২৫ শতাংশ মাছ আটলান্টিক মহাসাগর থেকে আসে। অন্যান্য মহাসাগরের পানি দেখতে নীল হলেও আটলান্টিক মহাসাগরের পানি দেখতে অনেকটা সবুজ। আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশ থেকে মৃত জলজ উদ্ভিদ থেকে এক ধরনের হলুদ রঙের রঞ্জক পদার্থ বের হয়ে সমুদ্রের সাথে মিশে পানির রং সবুজ আপ করে তুলে। এছাড়াও আটলান্টিক মহাসাগরের পানিতে সূর্যের সাতটি রঙের মধ্যে সবুজ রঙটি বেশি উজ্জল হয়। তাই আটলান্টিক মহাসাগরের পানির রং নীলের পরিবর্তে সবুজ দেখায়। আটলান্টিকের পানি অত্যন্ত লবনাক্ত। এর জলের পৃষ্ঠদেশের তাপমাত্রা মাইনাস (-) ৪ ডিগ্রী থেকে ৩০ ডিগ্রী পর্যন্ত উঠা নামা করে। আটলান্টিক মহাসাগর শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অন্যতম উৎস হিসাবে পরিচিত। গ্রীষ্ম ও শরৎ কালে উত্তর আটলান্টিকের পশ্চিম অংশে ঘুর্ণঝড় হারিকেনের প্রবণতা অধিক হারে লক্ষ্য করা যায়। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে সবচেয়ে বেশি ঘূর্ণিঝড় দেখা যায় সেপ্টেম্বর মাসে। বিশ্ব বাণিজ্যক্ষেত্রে আটলান্টিক মহাসাগর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমুদ্র পথে ইউরোপের সাথে আমেরিকার পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে আটলান্টিকের বিকল্প কিছু নেই। একই ভাবে এশিয়া এবং আফ্রিকার সাথে আমেরিকার বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আটলান্টিক মহাসাগর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তঃমহাদেশীয় সমুদ্র বাণিজ্য চালু হওয়ার পর থেকে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে আটলান্টিক মহাসাগরের ব্যবহার প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর তাই আটলান্টিক মহাসাগরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বহু বন্দর।

উগান্ডা সম্পর্কে না জানা কিছু তথ্য

Now Reading
উগান্ডা সম্পর্কে না জানা কিছু তথ্য

উগান্ডা নামটি বাংলাদেশে খবুই জনপ্রিয় একটি নাম। দেশটি সম্পর্কে আমরা খুব কম মানুষই ধারণা রাখি। আফ্রিকার রাষ্ট্র উগান্ডা। দেশটির পূর্বে কেনিয়া, উত্তরে সুদান, পশ্চিমে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, দক্ষিণ-পশ্চিমে রুয়ান্ডা এবং দক্ষিণে তানজানিয়া। বুগান্ডা রাজত্ব থেকে উগান্ডা নামটির উত্পত্তি হয়েছে। দেশটির ভূ-প্রকৃতি বিচিত্র। এখানে সাভান্না তৃণভূমি, ঘন অরণ্য, উঁচু পর্বত এবং আফ্রিকার বৃহত্তম হ্রদ ভিক্টোরিয়া হ্রদের অর্ধেকেরও বেশি অবস্থিত। দরিদ্র রাষ্ট্র হলেও দেশটি উন্নয়নশীল, মূলত এটি কৃষিপ্রধান একটি দেশ।

আদিম শিকারি মানুষ গুলো বর্তমান উগান্ডায় প্রাচীনতম মানব বসতি স্থাপন করেছিল। ধারণা করা হয় উগান্ডায় এখনো মানুষ খেকো বাস করে। আজ থেকে আনুমানিক ২০০০ বা ১৫০০ বছর আগে বান্টু ভাষাভাষী জনগণ প্রধানত মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকা থেকে দেশটির দক্ষিণাংশে অভিবাসী হয়ে এসে বসবাস শুরু করে। লোহার কাজ সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান ছিল এই জনগোষ্ঠীর লোকদের। উগান্ডার আয়তন ২,৪২,০০০ বর্গ কি.মি.। দেশটির প্রধান ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। খুব পরিশ্রমী এ দেশের মানুষ। প্রায় ৫৬টি জাতির বসবাস রয়েছে দেশটিতে। উগান্ডার রাজধানী ও বৃহত্তম নগরী হিসেবে ধরা হয় কাম্পালা’কে। দক্ষিণাঞ্চলের কিছু উল্লেখযোগ্য ভূমি ভিক্টোরিয়া হ্রদের তীর ঘেঁষে অবস্থিত। এই অংশটিই একাধারে কেনিয়া এবং তানজানিয়ার সাথে সীমান্ত রক্ষা করে চলেছে। দেশেটির দক্ষিণাংশ নিয়ে এই রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রাজধানী কাম্পালাসহ। ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের আগমনের পূর্বে এখানে অনেকগুলি শক্তিশালী রাজত্ব ছিল ১৯শ শতকের শেষের দিকে, যাদের মধ্যে বুগান্ডা ও বুনিয়োরো উল্লেখযোগ্য।

উগান্ডা একটি ব্রিটিশ প্রোটেক্টোরেটে পরিণত হয় ১৮৯৪ সালে। এর বর্তমান সীমানা নির্ধারিত হয় ১৯২৬ সালে। এটি ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৬২ সালে। ১৯৭০-এর দশকে ও ১৯৮০-র দশকের শুরুর দিকে উগান্ডা দুইটি রক্তঝরানো স্বৈরশাসন (ইদি আমিন ও মিল্টন ওবোতে) এবং দুইটি যুদ্ধের শিকার হয়। দেশটি বাস্তবদাবাদী নেতা ইয়োওয়েরি মুসেভেনির অধীনে ১৯৮৬ সালে স্থিতিশীল হয়। উগান্ডাতে গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার চালু করেন মুসেভিনি। খবর শোনা কিংবা বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম এফএম রেডিও। তুলনামূলক দরিদ্র দেশ উগান্ডার মানুষেরা এফএম রেডিও শুনেন বেশির ভাগ সময়। প্রায় অর্ধশতাধিক রেডিও স্টেশন রয়েছে দেশটিতে।রেডিও বেলাল অন্যতম জনপ্রিয় এসব রেডিও স্টেশনের মাঝে। ইসলামী রেডিও হিসেবে বেশি পরিচিত রেডিও বেলাল। এর কার্যক্রম চলছে প্রায় ১০ বছর ধরে। এর ফ্রিকোয়েন্সি উগান্ডার পূর্ব, পশ্চিম, মধ্য এবং দক্ষিণ অঞ্চলসহ সারা দেশে বিস্তৃত। এ কারণেই রেডিও বেলালের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। কাম্পালা হিলে অবস্থিত উগান্ডার জাতীয় মসজিদ ”গাদ্দাফি মসজিদ” । এটি পূর্ব আফ্রিকার সব থেকে বড় মসজিদ। এটি ২০০৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। যদিও এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছিল ২০০৬ সালে।। একসঙ্গে ১৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারে গাদ্দাফি মসজিদে। অনেক মসজিদ রয়েছে উগান্ডায়; কিন্তু এ মসজিদের মিনার প্রায় আকাশ ছুঁয়েছে। লিবিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফির নামে মসজিদের নাম রাখা হয়েছে। গাদ্দাফি মসজিদ উপহারস্বরূপ ছিল লিবিয়ার পক্ষ থেকে উগান্ডার মুসলিম জনসংখ্যার জন্য তাই এ নাম দেয়া হয়েছিল। এ মসজিদকে ন্যাশনাল মসজিদ বলা হচ্ছে কিন্তু গাদ্দাফির পতনের পর। উগান্ডা মুসলিম সুপ্রিম কাউন্সিলের প্রধান অফিস অবস্থিত এ মসজিদের এক অংশে। এখানে গড়ে উঠেছে কিছু বিশ্বমানের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় উগান্ডার মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে। এটিকে গ্রহণ করেছে পিছিয়ে থাকা মুসলমান তরুণরাও নিজেদের বদলে দেয়ার হাতিয়ার হিসেবে। এখানে অনেক বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গত দুই দশকে গড়ে উঠেছে। ব্রিটিশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই অঞ্চলের মধ্যে একটি সুরক্ষিত সুরক্ষা প্রতিষ্ঠা করেছিল ১৮৯৪ সালে। আনুষ্ঠানিকভাবে সমগ্র উপনিবেশটি ব্রিটিশ উপনিবেশ হিসেবে ব্রিটিশ সরকার ঘোষণা করে ১৯০৫ সালে । দেশের স্বাধীনতা পর্যন্ত এই রাজধানীকে এনটেবেতে স্থানান্তরিত করা হয় ১৯৬২ সালে, যদিও শহরটি প্রাথমিক ভাবে উগান্ডার জন্য একটি অর্থনৈতিক ও উৎপাদন অঞ্চলে পরিনত হতে থাকে। উগান্ডা একটি উন্নয়নশীল দেশ, যদিও দরিদ্র, কিন্তু ইসলাম ধর্ম পন্থি একটি দেশ। ইসলামের ধর্ম অনুসরণ করেন তারা। অনেক পরিশ্রম করে থাকে এ দেশের লোকগুলো। অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজও করে থাকেন তারা।

”কুইসওয়াচাকা” পৃথিবীর একমাত্র ঘাস দিয়ে বানানো ব্রীজ

Now Reading
”কুইসওয়াচাকা” পৃথিবীর একমাত্র ঘাস দিয়ে বানানো ব্রীজ

পেরুর কুসকো অঞ্চলে আপুরিম্যাক নদীর ওপরে প্রতিবছর ঘাস দিয়ে একটা সেতু বানানো হয়। ইনকাসের সময় ইনক সাম্রাজ্যের সাথে যুক্ত “ক্যামিনো রিয়েল” নামক রাস্তার একটি দুর্দান্ত নেট বিদ্যমান। যাইহোক, তার কঠিন ভূগোলের কারণে, অনেক জায়গায় স্যানিটেনশন সেতুগুলো সজীব ফাইবার দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। Q’eswachaka কুইসওয়াকা একমাত্র সেতু যা আজ পর্যন্ত Cusco পরিবারের দ্বারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের পুনর্গঠন করা হয়েছে। কুইসওয়াচাকা নামের সেতুটি মূলত ইনকা সভ্যতার দড়ির সেতুর সর্বশেষ নিদর্শন। হাতে বোনা এই সেতুটি গত ৬০০ বছর ধরে ইনকা অধিবাসীরা তৈরি করে আসছে। শুধুমাত্র ঘাস আর মানবশক্তি ব্যবহার করেই এই সেতু তৈরি করা হয়। কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতি এতে ব্যবহৃত হয় না। প্রতিবছর আগের বছরের সেতুটি ফেলে দিয়ে নতুন আরেকটি সেতু স্থাপন করা হয়। নদীর দুই পাড়ের মানুষেরাই এতে অংশগ্রহণ করে। ব্রিজের কাছাকাছি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রায় এক হাজার লোক এটি পুনর্নবীকরণের জন্য চার দিনের জন্য মিলিত হয়। প্রথা অনুযায়ী কেবল পুরুষেরা মূল সেতু তৈরির কাজ করে, আর নারীরা উপরের দিকের ছোট দড়ি বোনার কাজটি করে থাকে।

এখন, আমরা চারদিনের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানবো।

প্রথম দিনে, কুইচুয়াতে ইচু নামক বিশেষ প্রজাতির এই ঘাস বেশ শক্ত, ফাইবারের শক্ত ঘাসের সন্ধানে সম্প্রদায়ের লোকেরা বেরিয়ে যায়। প্রতিটি পরিবার এই দড়ি তৈরির কাজে অংশ নেয়, একবারে ইঞ্চির প্রয়োজনীয় পরিমাণ সংগ্রহ করা হলে, সেতুর দড়ি তৈরির জন্য মহিলারা এই শক্ত ঘাসকে বুনন করে, ঘাসগুলোকে নমনীয় করতে প্রথমে গোলাকৃতির কিছু পাথর দিয়ে পেটানো হয়; তারপর ভেজানো হয় পানিতে, এবং পুরুষরা দড়িগুলো শেষ থেকে শেষ পর্যন্ত সংযুক্ত করার জন্য বহন করে। সেতুটির মূল অবলম্বন হচ্ছে তিন স্তর বিশিষ্ট ছয়টি বড় দড়ি যা প্রায় ১ ফুট পুরু। প্রতিটি দড়িতে থাকে প্রায় ১২০টি চিকন দড়ি।

image.png

দ্বিতীয় দিন পৌঁছে, পুরাতন সেতুর কাঠামো নিঃসৃত করে, পুরনো সেতুটি কেটে নিচে ফেলে দেয়া হয়। নিচের ছড়ার পানিতে তা ভেসে যায়। ঘাস দিয়ে তৈরি হওয়ার কারণে তা পচেও যায় খুব দ্রুত। নতুন সেতুর কাঠামোর ভিত্তি চারটি দড়ি স্থাপন করা হয়। সেতু তৈরির তৃতীয় দিনে কয়েকজন পুরুষ সেতুতে ওঠে ও ছোট ছোট কিছু দড়ি রেলিং থেকে সেতুর মেঝে পর্যন্ত বেঁধে দেয়। এটি বেড়ার মতো কাজ করে যেন সবাই নিরাপদে সেতু পার হতে পারে।

 

image.png

ক্লান্ত, কিন্তু এখনও শক্তির সাথে, তৃতীয় দিনে গ্রামবাসীরা হ্যান্ড্রিলের সমাবেশ এবং সেতুর পৃষ্ঠপোষকতায় উপনীত করে যায়, যেখানে সম্প্রদায়ের সকলেই পারাপার করবে।

অবশেষে, চতুর্থ দিনে তারা সেতুর পুনর্নির্মাণ উদযাপন করে, সঙ্গীতের উৎসবের মধ্য দিয়ে এই নির্মানকাজ শেষ হয়। আদিবাসী নাচের সাথে সংগীতের এই উৎসব পালন করে। পেরুর পূর্বপুরুষেরা এইদিনগুলোকে ছুটির দিন বলে মনে করে

৮০ বছর বয়সে, ২০ এর স্বরণ শক্তি সম্ভব?

Now Reading
৮০ বছর বয়সে, ২০ এর স্বরণ শক্তি সম্ভব?

প্রথমবারের মতো মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা প্রয়োগ করে ত্রুটিযুক্ত সার্কিটগুলিকে পুনঃসংযোগের মাধ্যমে বয়স্ক ব্যক্তিদের স্মৃতি ২০ বছরের মধ্যে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বস্টন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে মস্তিষ্কের “পুনর্নির্মাণ” কর্মক্ষম দ্বারা মেমরি পুনঃস্থাপন করা সম্ভব যা মানুষের বৃদ্ধ হওয়ার সাথে সাথে সিঙ্ক-আউট-সিঙ্ক হয়ে যায়।
গবেষণার লেখক বিশ্বাস করেন, অ্যালজাইমার্স বা পারকিনসন্স এর কারণে স্মৃতির ক্ষতির শিকার ব্যক্তিদেরও সাহায্য করতে পারে,
স্বল্পমেয়াদী কাজের মেমরি দৈনন্দিন জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সমস্যা সমাধান, যুক্তি, পরিকল্পনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুমতি দেওয়ার জন্য প্রায় ১০-১৫সেকেন্ডের জন্য তথ্য সংরক্ষণ করে। উদাহরণস্বরূপ, লেখার সময় একটি টেলিফোন নম্বরের সংখ্যা মনে রাখা। ওয়ার্কিং মেমরি চেতনা ভিত্তিতে গঠন করে, কিন্তু বয়সের সঙ্গে পতিত হয় কারণ বৃদ্ধ বয়স্ক মানুষ মৌলিক কাজের সঙ্গে সংগ্রাম করতে পারেনা।


এখন বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে তারা কীভাবে পতন ঘটায় এবং কীভাবে বিপরীত করে তা উন্মোচিত করেছে। মস্তিষ্কের দুইটি ক্ষেত্র, প্রফ্রন্টাল এবং টেম্পোরাল কর্টেক্স ভালভাবে কাজ করার জন্য মেমরির একে অপরের সাথে সঠিকভাবে কথা বলা উচিত। যখন বিজ্ঞানীরা এ অঞ্চলে একই ফ্রিকোয়েন্সি এর বৈদ্যুতিক স্রোতগুলো বহিস্কার করে, বয়স্ক ব্যক্তিরা তাদের স্মৃতিস্তম্ভের পাশাপাশি তারা তাঁদের ২০ বছরের মেমরিতে ফিরে যান।
বস্টন ইউনিভার্সিটির প্রধান লেখক রবার্ট রেইনহার্ট বলেছেন, “আমরা মস্তিষ্কের এলাকাগুলিকে পুনরায় সিঙ্ক্রোনাইজ করছি যা অনিয়মিত বা বয়স্কদের মধ্যে কম সিঙ্ক্রোনাইজড হয়, আমরা তাদের পুনরায় সিঙ্ক্রোনাইজ করছি এবং আচরণগত সুবিধাগুলি দেখছি। এই ফলাফল আমাদের কাজের মেমরি হ্রাসের জন্য ভিত্তি করে নতুন অন্তর্দৃষ্টি দেয় না তবে দেখায় যে নেতিবাচক বয়স সম্পর্কিত পরিবর্তনগুলি পরিবর্তনযোগ্য নয়, আমরা আপনার বয়সী যখন বেশী হবে তখন আমরা উচ্চতর মেমরি ফাংশন ফিরিয়ে আনতে পারি।
উদ্দীপনা ২৫ মিনিট সময় নেয়, তারপরে বয়স্ক ব্যক্তিরা মেমরি পরীক্ষা এবং ছোট অংশগ্রহণকারীদের কাজ করতে সক্ষম হয়েছিল। বিজ্ঞানীদের পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০ মিনিট সময় স্থায়ী হয়, কিন্তু তারা বলে যে আরো কয়েক ঘন্টার জন্য স্থায়ী হতে পারে।

ফুটপ্রিন্ট লেখক লগিন