5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER
টপ টেন
Heat Index
Try a different filter

নেবুলা সম্পর্কিত অজানা বিষয়গুলি

Now Reading
নেবুলা সম্পর্কিত অজানা বিষয়গুলি

সত্যি বলতে আকাশ বলতে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই ফলে এটি ছোঁয়াও সম্ভব নয়। কিন্তু এর পরও এই আকাশের খুঁটিনাটি জানতে তার পিছু নিয়েছে মানুষ। তাইতো এই আকাশ-মহাকাশ নিয়ে মানুষের কল্পনা আবর্তিত। এই মহাকাশের একটি অংশ নেবুলা নিয়ে লিখছি যাকে বাংলায় নীহারীকা বলা হয়। এই নেবুলাকে আকাশের ডাস্ট বলা হয় অর্থাৎ মহাকাশের ধুলিকণা একত্রে মিলিত হয়ে নেবুলা বা নীহারীকার সৃষ্টি করে। মহাকাশে গ্যাস কিংবা ধূলিকণা একত্রে মিশে মেঘের মত আকার ধারণ করে নেবুলার সৃষ্টি করে যা রাতের আকাশে স্পষ্ট দেখা মিলে। এই গ্যাসের মধ্যে আছে ইন্টারস্টেলার ক্লাউড ,হিলিয়াম গ্যাস, হাইড্রোজেন গ্যাস এবং সাথে অন্যান্য আয়নিক গ্যাসসমূহ। সাথে আরো রয়েছে প্লাজমা যা রয়েছে নীহারিকার মধ্যে। গ্যাস প্লাজমা অবস্থায় থাকার কারন হচ্ছে উচ্চ তাপ। মুলত নেবুলা  হচ্ছে ছায়াপথ সহ অন্য সকল মহাজাগতীক বস্তুর সাধারন নাম যা মিল্কি ওয়ের বহির্ভাগে অবস্থিত। চলুন জেনে নিই এমন কিছু নেবুলা সম্পর্কে…

হ্যালিক্স নেবুলাঃ

পৃথিবী থেকে ৭০০ আলোকবর্ষ দূরে অ্যাকুয়ারিয়াস নক্ষত্রপুঞ্জে অবস্থিত নির্জীব প্রাণহীন এই তারাটিকে বিজ্ঞানীরা যেভাবে এতদিন ভেবে আসছিলেন, স্পিটজার টেলিস্কোপের পাঠানো সে চিত্র পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীদের এতদিনের সকল ধারণা নিমেষেই নস্যাৎ হয়ে গেছে। ছবিটি দেখেই মনে হয় বিশালাকার এক রক্তচক্ষু জীব তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে। সে যেন নিভে যাওয়ার আগে নিজের খোলস থেকে মুক্ত করে দিচ্ছে উচ্চ মাত্রার বিকিরণ জনিত শক্তি। তাপমাত্রা ১১০,০০০ ডিগ্রি কেলভিন। সাদা বামন সদৃশ এই তারাটির বিচ্ছুরিত বিকিরণ এক্স –রে ছাড়া কিছুই নয়। এর নাম হ্যালিক্স নেবুলা। ব্যাস ২.৫ আলোকবর্ষ। একে ঘিরে থাকা ধূম্রজালের আবরণের ছবি পাঠিয়ে স্পিটজার টেলিস্কোপ সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এর আগে ধূলোর এই আবরন সমেত তথ্য বিজ্ঞানীদের কাছে ছিল না। ইনফ্রা রেড ক্যামেরা দিয়ে ধরা এ আলোকচিত্র মহাকাশের ক্যানভাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ৩৫ থেকে ১৫০অ্যাস্ট্রনোমিকাল ইউনিট দূর পর্যন্ত এই ধূম্রজাল বিস্তৃত।

[ সূর্য হতে পৃথিবীর দূরত্ব কে বলে এক অ্যাস্ট্রনোমিকাল ইউনিট=৯৩ মিলিয়ন মাইল=১৫০ মিলিয়ন কি.মি.]

কিন্তু কোথা হতে আগমন এই ধূম্রবলয়ের? অনেক ভেবে চিন্তে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে নেবুলার পাশ দিয়ে নিশ্চয়ই কোন ধূমকেতুর সবেগে মন্থন ঘটেছিল যার কারণে এই ধূম্রবলয়ের সৃষ্টি। আমাদের সৌরমন্ডলের সূর্য নামক নক্ষত্রটিও একদিন নিস্প্রভ হয়ে পড়বে। পর্যায়ক্রমিক রূপান্তরের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি হতে ৫ বিলিয়ন বছর আরো যদিও বাকী, তখন আমাদের সূর্যও প্রচণ্ড শক্তি নির্গত করে আলোর তীব্র ছটায় আলোকজ্জ্বল হয়ে মহাকাশের গর্ভে নিস্প্রভ হয়ে সমস্ত শক্তি হারিয়ে সাদা বামন সদৃশ পিন্ডে পরিণত হবে। ইনার প্ল্যানেটসমূহ যেমন বুধ শুক্র পৃথিবী মঙ্গল অর্থাৎ যাদের কক্ষপথগুলো সূর্যের কাছাকাছি তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে সূর্যের এই বিস্ফোরণে। আর সৌরবলয়ের আউটার প্ল্যানেটগুলো যারা কিনা মঙ্গল হতে দূরে অবস্থিত যেমন বৃহস্পতি ইউরেনাস নেপচুন প্লুটো এবং কিছু অবশিষ্ট ধূমকেতুসমূহ বলয় আকারে ঘুরতে থাকবে অনন্তকাল এই নিভে যাওয়া তারাটিকে ঘিরে। মানব প্রজাতি হয়তো বা এরমাঝে অন্য কোন গ্রহে আবাস স্থাপন করবে। শুরু থেকে শুরু হবে মানব সভ্যতার নতুন ইতিহাস, নতুন অগ্রযাত্রা। ভেবে ভেবে একদিন হয়তোবা আবিষ্কার করে বসবে মানুষের পূর্ব আবাসস্থল ছিল পৃথিবী নামক এক গ্রহে সূর্য নামক সৌরমণ্ডলের অধীনে মিল্কিওয়ে নামক ছায়াপথে।

কারিনা নেবুলাঃ

ইওরোপীয়ান সাউদার্ন মান মন্দির,নভোমন্ডলের অন্যতম বৃহত ও উজ্জ্বল যে নেবুলার জটিল গঠনের বিস্তৃত বর্ণনা আমাদের কাছে উন্মোচন করেছে তার নাম কারিনা নেবুলা। আমাদের হতে ৭৫শত আলোকবর্ষ দূরে কারিনা নক্ষত্র মন্ডলে এটি অবস্থিত। ১০০ আলোকবর্ষ অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত অরাইওন নেবুলা হতে এটি ৪ গুণ বড় এবং উজ্জ্বলতর।

নক্ষত্র উতপাদনের কারখানা হিসেবে এ নেবুলাটি একটি উপযুক্ত স্থান। ঘন মেঘপুঞ্জ দ্বারা আবৃত নেবুলাটির আনাচে কানাচে প্রতিনিয়ত তৈরী হচ্ছে নক্ষত্রগুচ্ছ। তবে নবজন্ম লাভকারী ভয়ঙ্কর আকৃতির নবীন নক্ষত্রগুলো যে তীব্র বিকিরণ জনিত শক্তির বিচ্ছুরণ ঘটায় তার কারণেই এত উজ্জ্বল আভাময় দেখায় কারিনাকে। লালচে রক্তিমাভ আভার জন্য হাইড্রোজেন ও আলট্রা ভায়োলেট রশ্মির সংমিশ্রণই দায়ী। প্রায় ডজন খানেক নক্ষত্রের সন্ধান এ নেবুলাতে সহজেই পাওয়া যাবে, যারা আমাদের সূর্য হতে ৫০ থেকে ১০০ গুন বেশী ভর বিশিষ্ট। অত্যাধিক ভারী বলেই কয়েক মিলিয়ন বর্ষেই তারা তাদের জীবনচক্র সমাপ্ত করে। সেখানে কিনা আমাদের সূর্যের আয়ুষ্কাল ১০ বিলিয়ন বছর। এই দশ বিলিয়ন দীর্ঘ সময়ের সাথে তুলনা করলে কারিনা নেবুলার ঐ ভারী নক্ষত্রগুলোর আয়ুষ্কাল সূর্যের জীবদ্দশার এক পল মাত্র।

কারিনা শব্দটি ল্যাটিন, যার অর্থ keel of a ship. Keel মানে জাহাজের তলি। জাহাজ যেন এদিক ওদিকে বারবার দুলে না উঠে অর্থাত জাহাজকে স্থিতিশীল রাখার নিমিত্তে নির্মিত ধাতব খন্ড বিশেষ। বা আক্ষরিক অর্থে নয় বরং আলঙ্কারিক অর্থে এর অর্থ হতে পারে জাহাজ। দক্ষিণ গোলার্ধের আকাশে একটি নক্ষত্রমন্ডলীর নাম ছিল Argo Navis. Argo মানে জাহাজ। নামকরণ করেছিলেন টলেমি। অসম্ভব বড় আকৃতি বিশিষ্ট হওয়ার দরুণ এর নাম বিলুপ্ত করে এই নক্ষত্রমন্ডলীকে তিন ভাগে বিভক্ত করে তিনটি নামকরণ করা হয়। যেমনঃ

১ carina (keel) অর্থ জাহাজ

২ puppis অর্থ জাহাজের পশ্চাতভাগের ডেক

৩ vela অর্থ পাল

নেবুলাটির মধ্যস্থিত অতিউজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম ইটা-কারিনা। সূর্যের চেয়ে প্রায় ১০০ গুন ভরবিশিষ্ট ও চার মিলিয়ন গুন বেশী উজ্জ্বল বলেই এই নক্ষত্রটি আমাদের ছায়াপথ মিল্কওয়েতে অবস্থানকারী জ্যোতির্ময় সৌন্দর্য্যে সর্বোচ্চ খ্যাত ও হৃদয়গ্রাহী বৈশিষ্ট্যে মন্ডিত। তাই ইটা-কারিনা এতটা নজড়কাড়া। এটি খুব অস্থিতিশীল হওয়াতে প্রচন্ড গতিশক্তি সম্পন্ন বহিঃ বিস্ফোরণের নমুনা বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছিলেন ১৮৪২ সালে।কয়েকবছর ধরেই ইটা-কারিনা ছিল দ্বিতীয় উজ্জ্বলতম নক্ষত্র।

সুপারনোভা বা অতিকায় নব-নক্ষত্র বিস্ফোরণের সময় উতপন্ন প্রচন্ড আলোর ছটা যেমন চারিদিক ঝলসে দিয়ে নভোমন্ডলকে আলোকজ্জ্বল করে তুলে, ইটা কারিনা ঠিক তেমন উদাহরণ স্থাপন করলেও বিস্ফোরণে একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়নি।এর একটি সঙ্গী নক্ষত্র আছে যে কিনা একে প্রদক্ষিণ করে ৫.৫৪ বছরে। প্রদক্ষিণ কালে কক্ষপথের খুব কাছাকাছি এলে প্রবল শক্তি সম্পন্ন বায়ু প্রবাহের সংঘর্ষ তখন বিস্ময়কর ঘটনার সৃষ্টি করে। ২০০৯ এর জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে তারা দুজন সবচেয়ে নিকটবর্তী হওয়ার দরুণ অনন্য এক নভোমন্ডলীয় অবস্থার উতপত্তি হয়েছিল যা পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা নক্ষত্রদুটির গ্যাসীয় পরিমন্ডলের ধরণ ও গঠণ সম্বন্ধে ব্যাপক ধারণা লাভে সক্ষম হন। সেই সময়টুকুতে ইউরোপীয়ান সাউদার্ন মান মন্দির পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল অসংখ্য বৈজ্ঞানিক যন্ত্রাংশের সমাহারে। হঠাতই মনে হতো এ মান মন্দির যেন ছোটখাটো এক রণতরীর অন্য আরেক রূপ।

বাবল নেবুলাঃ

ঐ দূরের আকাশে আমাদের অজান্তেই গ্যসীয় ধূম্রকুন্ডলী প্রলেপে প্রলেপে আবৃত হয়ে অধিকার করে ফেলেছে এক বিশাল অঞ্চল যা ধীরে ধীরে প্রায় ৬ আলোকবর্ষ স্থান জুড়ে গ্যাসীয় বুদবুদ আর ধোঁয়াটে অথচ মনোমুগ্ধকর লালচে আভার এক অপূর্ভ শোভা হয়ে ধরা দিচ্ছে আমাদের চোখে। নক্ষত্র বানাবার এক বিশাল কারখানা এ যেন। নাম বাবল নেবুলা NGC 7635.

এর কেন্দ্রে জ্বলজ্বল করছে উজ্জ্বল এক নক্ষত্র। অসম্ভব উত্তপ্ত এ নেবুলা সারাক্ষণ ছড়িয়ে দিচ্ছে উত্তপ্ত গ্যাসীয় কণা সমগ্র মহাকাশে। তাপমাত্রা ২৫ হাজার ডিগ্রী কেলভিন ছাড়িয়ে তারও বেশী হতে পারে , প্রায় ৩০ হাজার ডিগ্রী কালভিনের মতন। আসলে ঐ নক্ষত্রটি থেকে শক্তিশালী বিকিরণ চারিদিকের গ্যাসীয় মন্ডলীকে বিদ্যুতায়িত করে তৈরি করেছে এই উজ্জ্বল রক্তিম আলোকচ্ছটা।সাবানের বুদবুদের মতো সমতল ও মসৃন নয় এই গ্যাসীয় বুদবুদের পৃষ্ঠভাগ। কিছুটা ঢেউ খেলানো এবড়ো থেবড়ো বহির্ভাগ নির্দেশ করে বিভিন্ন ঘনত্ব সমৃদ্ধ গ্যাসীয় আস্তরণ।

ঘন্টায় ৪ মিলিয়ন মাইল বেগে প্রসারনরত এই নেবুলাটি তার উত্তপ্ত বিক্ষিপ্ত গ্যাসীয় মন্ডল নিয়ে তৈরি করছে এ মনোমুগ্ধকর আলোকচিত্র, ক্যসিওপিয়া নক্ষত্রমন্ডল বরাবরে। পৃথিবী হতে প্রায় ৭ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এ নেবুলাটি আমাদের কাছে অনন্ত বিস্ময়ের বিষয়।

স্কাউটিং এর ব্যাজ পদ্ধতি (পর্ব-০৯)

Now Reading
স্কাউটিং এর ব্যাজ পদ্ধতি (পর্ব-০৯)

স্কাউট আন্দোলনের কাঙ্খিত লক্ষ্য হচ্ছে শিশু, কিশোর ও যুবদেরকে হাতে কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতাবৃদ্ধির পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল ও যোগ্য মানব রুপে গড়ে তোলা। এই শিশু-কিশোররা তাদের অবসর সময়কে সঠিকরুপে কাজে লাগিয়ে পর্যায়ক্রমিক প্রশিক্ষণ নিয়ে বৈচিত্র্যময় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে একজন স্কাউটকে ক্রমান্বয়ে যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলে। আর এই গড়ে তোলার এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকে স্কাউটিং এর ভাষায় ক্রমোন্নতিশীল প্রশিক্ষণ বলে যা স্কাউট পদ্ধতির একটি অন্যতম প্রশিক্ষণ পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত।

স্কাউটিং এ ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধির ধারাকে অব্যাহত রাখার জন্য বয়সভেদে এবং চাহিদানুসারে আনন্দমুখর প্রোগ্রামের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনের স্বীকৃতি স্বরূপ অনুমোদিত ব্যাজ এবং অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়ে থাকে। এই জন্য ক্রমোন্নতিশীল প্রশিক্ষণকে ব্যাজ পদ্ধতিও বলা হয়।

ব্যাজ পদ্ধতি প্রবর্তনের উদ্দেশ্য হলঃ

ক) দক্ষতা বৃদ্ধিতে আগ্রহী করা

খ) বিভিন্ন বিষয়ে জানার কৌতূহল সৃষ্টি

গ) স্কাউটিংয়ের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হওয়া

ঘ) নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানো

ঙ) আত্ম-উন্নয়নবোধ সচেতনতা সৃষ্টি করা

সর্বোপরি ব্যাজ পদ্ধতির মাধ্যমে জ্ঞান, দক্ষতা এবং দৃষ্টিভঙ্গির উন্নয়ন সাধন করে সৎ, চরিত্রবান, আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলা সম্ভব।

ব্যাজের প্রকারভেদঃ

ব্যাজ সাধারণত দুই প্রকারঃ

১) দক্ষতা বা এফিসিয়েন্সি ব্যাজ, অন্যটি হচ্ছে

২) পারদর্শিতা বা প্রফিসিয়েন্সি ব্যাজ।

দক্ষতা বা এফিসিয়েন্সি ব্যাজঃ

এই ব্যাজ অর্জনের মাধ্যমে কাবদের জ্ঞান, দক্ষতা এবং দৃষ্টিভঙ্গির উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব। এই ব্যাজ চার প্রকার। যথাঃ (১) সদস্য ব্যাজ (২) তারা ব্যাজ (৩) চাঁদ ব্যাজ (৪) চাঁদ তারা ব্যাজ।

পারদর্শিতা বা প্রফিসিয়েন্সি ব্যাজঃ

পারদর্শিতা ব্যাজের মাধ্যমে একজন কাব স্কাউট তার আগ্রহ ও পছন্দ অনুসারে বিভিন্ন বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করে। স্কাউটিং এর কাব পর্যায়ে মোট ৩৮ টি পারদর্শিতা ব্যাজ আছে।

এখন এফিসিয়েন্সি ও প্রফিসিয়েন্সি ব্যাজ কিভাবে অর্জন করতে হয় তার নিয়মগুলি বলছি-

সদস্য ব্যাজঃ  স্কাউটিং এ নবাগত বালক-বালিকাকে সদস্য স্তরের মান ও বিষয়গুলো অনুশীলন করিয়ে এর উপর পরীক্ষা শেষে দীক্ষা প্রদানের মাধ্যমে ইউনিট লিডার তাদের বাম পকেটের মাঝখানে এ ব্যাজ পরিয়ে দেন। এই স্তরে থাকাকালীন সময়ে তারা জানবে কাব স্কাউটিং কি? পাশাপাশি কাব স্কাউট আইন, প্রতিজ্ঞা ও মটো এবং সালাম প্রদর্শন ইত্যাদিও তারা এই স্তরে থাকতেই জানবে।

তারা ব্যাজঃ সদস্য ব্যাজ প অন্ততপক্ষে প্রাপ্তির ৬ মাস পর তারা ব্যাজের সিলেবাসসহ সমাপ্ত করতে হয় এবং নিম্নোক্ত ৮টি পারদর্শিতা ব্যাজের যেকোন দুটি ব্যাজ অর্জন করতে হবে। পারদর্শিতা ব্যাজগুলো হলো- ১) সমাজ সেবা ২) গৃহ পরিচর্যা ৩) চিত্ত বিনোদন ৪) পাখি পর্যবেক্ষণ ৫) খেলনা তৈরি ৬) খেলাধুলা ৭) দড়ির কাজ ৮) সেলাই ব্যাজ।

তারা ব্যাজ স্কাউট ইউনিফর্মের বাম হাতের কনুই এবং কাঁধের মাঝখানে সেলাই করে পরতে হয়। পারদর্শিতা ব্যাজগুলো স্কাউট ইউনিফর্মের ডান হাতের কনুই এবং কাঁধের মধ্যে লাগিয়ে কিংবা সেলাই করে পরতে হবে।

চাঁদ ব্যাজঃ তারা ব্যাজ অর্জনের নুন্যতম ৬ মাস পরে চাঁদ ব্যাজের সিলেবাস সম্পন্নসহ  ১০টি পারদর্শিতা ব্যাজের মধ্যে যেকোন  তিনটি ব্যাজ অর্জন করতে হয়। আর এই পারদর্শিতা ব্যাজ গুলো হল – ১) কৃষ্টি  ২) সংগ্রহ  ৩) প্রকৃতি ও পরিবেশ  ৪) কবুতর পোষা  ৫) বনকলা  ৬) সবজি চাষ  ৭) মডেল তৈরি  ৮) ক্রীড়া কুশলী  ৯) সাঁতার  ১০) হস্তলিপি।

তারা ব্যাজের স্থানে চাঁদ ব্যাজ পরতে হয় অর্থাৎ পূর্বের ব্যাজ উঠিয়ে সেখানে পারদর্শিতা ব্যাজ পূর্বের নিয়মে পরতে হবে। পূর্বের ব্যাজগুলো যথারীতি পূর্বের মতই লাগানো থাকবে।

চাঁদ-তারা ব্যাজঃ চাঁদ-ব্যাজ অর্জনের কমপক্ষে ৬ মাস পরে উক্ত ব্যাজের সিলেবাস সমাপ্তসহ ১৩টি পারদর্শিতা ব্যাজের যেকোন তিনটি ব্যাজ অর্জন করতে হবে। পারদর্শিতা ব্যাজগুলো হলোঃ ১) জনস্বাস্থ্য ২) প্রাথমিক প্রতিবিধান ৩) নিরাপত্তা ৪) বই বাঁধাই ৫) পরিবেশ সংরক্ষণ ৬) আবহাওয়া ৭) মুরগী পালন ৮) হাঁস পালন ৯) ফুল বাগান ১০) চিত্র কলা ১১) সাইকেল চালনা ১২) ক্রীড়ক ১৩) ভূগোল। এই ব্যাজ ও পারদর্শিতা ব্যাজ পূর্ব নিয়মে পরতে হবে।

শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ডঃ এই অ্যাওয়ার্ড কোন দক্ষতা অর্জনের ব্যাজ নয় কিন্তু একজন কাবের জন্য এটি একটি সর্বোচ্চ ও চূড়ান্ত প্রাপ্তি। একজন কাব স্কাউটকে চাঁদ-তারা ব্যাজ অর্জন পরবর্তী কমপক্ষে ৩ মাস পরে শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ডের সিলেবাস সমাপ্ত করতে হয় এবং ৭টি পারদর্শিতা ব্যাজের মধ্যে যেকোন ৩টি ব্যাজ অর্জন করতে হয়। ৭টি ব্যাজ যথাক্রমে – ১) সাঁতার ২) সাক্ষরতা ৩) ফুলের বাগান ৪) কম্পিউটার ৫) ব্যক্তিগত লাইব্রেরী ৬) রান্না ৭) নকশা তৈরী। সাঁতার ব্যাজ কিন্তু আবশ্যকীয় ভাবে অর্জন করতে হয়।  আর এই অ্যাওয়ার্ডটি ইউনিফর্মের ডান পকেটের ওপরে লাগাতে হয়। বয় স্কাউট ও রোভার শাখায় অংশগ্রহণকালীন সময়েও এই অ্যাওয়ার্ড পরিধান করা যায়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনারের স্বাক্ষরসম্বলিত সনদপত্রসহ শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হয়।

যোগ্য নেতৃত্ব তৈরিতে রোভারিং (স্কাউটিং পর্ব-৮)

Now Reading
যোগ্য নেতৃত্ব তৈরিতে রোভারিং (স্কাউটিং পর্ব-৮)

রোভার অঞ্চল, বাংলাদেশ স্কাউটস এর ১২টি অঞ্চলের মধ্যে একটি অঞ্চল। স্কাউটিং বিষয়ক ধারাবাহিক প্রবন্ধের আজকের পর্ব রোভারিং নিয়ে।

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইউনিট এবং বিভিন্ন মুক্তদল নিয়ে রোভার অঞ্চল গঠিত। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে স্কাউটদের সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ, যার মধ্যে ৫০ হাজারের মত রোভার। ব্যাডেন পাওয়েলের ভাষায় রোভার হচ্ছে মুক্তাঙ্গনে সেবার আদর্শে ভ্রাতৃত্ব। রোভারিং হচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে সমাজ উন্নয়ন ও সেবার লক্ষ্যে আজীবন আত্মনিয়োগ। রোভারিং এমন একটি অভিজ্ঞতা যার মাধ্যমে সে সুনাগরিকত্ব অর্জন করে সমাজসেবা ও সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নেয়। রোভারিং পরিচালনার জন্য ব্যাডেন পাওয়েল তার বইগুলিতে লিপিবদ্ধ করেন একটি প্রোগ্রাম বা সিলেবাস এবং কিছু নিয়মাবলি। রোভারদল পরিচালনার জন্য একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রোভার স্কাউট লিডার থাকেন। রোভারদলের জন্য একটি অফিস থাকে যাকে বলা হয় ডেন, যেখানে দলের জন্য প্রোগ্রামভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। রোভার প্রোগ্রামের সময়কাল সাড়ে তিন বছর (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দুবছর)। রোভার কার্যক্রম ৪টি স্তরে বিভক্ত রোভার সহচর, সদস্য, প্রশিক্ষণ এবং সেবা স্তর। এসব স্তরে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে রোভারদেরকে পর্যায়ক্রমে স্কাউট আন্দোলন, সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজে দক্ষতা অর্জনে ট্রেনিং দেওয়ার পর এদেরকে আর্ত-মানবতার সেবা ও সমাজ উন্নয়নে কাজে লাগানো হয়। রোভারিংয়ের মূলনীতি হচ্ছে স্কাউট আইন ও প্রতিজ্ঞা পালন করা। প্রতিজ্ঞায় সে সৃষ্টিকর্তা ও দেশের প্রতি কর্তব্যপালন, সর্বদা অপরকে সাহায্য করতে এবং স্কাউট আইন মেনে চলতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে।

স্কাউট আইন ৭টি: স্কাউট আত্মমর্যাদায় বিশ্বাসী, সকলের বন্ধু, বিনয়ী ও অনুগত, জীবের প্রতি সদয়, সদাপ্রফুল্ল, মিতব্যয়ী এবং চিন্তা, কথায় ও কাজে সে নির্মল। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ও মুক্ত দলে রোভারগণ নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে স্কাউট পদ্ধতিতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে থাকেন। স্কাউট পদ্ধতির মূল কথা হচ্ছে ক্রমোন্নতি ব্যবস্থা যার মধ্যে রয়েছে স্কাউট আইন ও প্রতিজ্ঞা, নিজে কাজ করে শেখা, উপদল ব্যবস্থা, পরিবেশ সংরক্ষণ, ক্যাম্প এবং হাইকিং, পাইওনিয়ারিং এবং প্রাথমিক প্রতিবিধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন এবং সমাজসেবা ও সমাজ উন্নয়নে অংশগ্রহণ। প্রতিটি দক্ষতা অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট ব্যাজ রয়েছে। যেমন সেবা প্রশিক্ষণ ব্যাজ, পরিভ্রমণকারী ব্যাজ (৫ দিনে ১০০ মাইল পায়ে হেটে ভ্রমণ বা রেম্বলিং), স্কাউট কুশলী ব্যাজ, প্রকল্প ব্যাজ (৬ মাস কোনো একটি লাভজনক অ্যাওয়ার্ড হচ্ছে ‘প্রেসিডেন্ট রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন।

এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৪৮ জন এই অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে, যার মধ্যে চট্টগ্রামের রয়েছে ১২জন। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২২০০টিরও অধিক রোভার ইউনিট রয়েছে, যার মধ্যে চট্টগ্রাম জেলাতেই রয়েছে ১১৪টি। এসব দলের মধ্যে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে টি এবং মুক্তদলের সংখ্যা হচ্ছে টি। চট্টগ্রাম জেলার প্রতিটি ইউনিট চট্টগ্রাম জেলা রোভারের অন্তর্ভুক্ত, আর চট্টগ্রাম জেলা রোভার,  রোভার অঞ্চলের অন্তরভুক্ত। বাংলাদেশে স্কাউট কার্যক্রম অত্যন্ত শক্তিশালী। বিশেষ করে দেশটি দরিদ্র, জনবহুল ও দুর্যোগপ্রবণ হওয়ায় এখানে রোভার কার্যক্রম ব্যাপকভাবে প্রসারলাভ করেছে এবং দেশ ও বিশ্বাঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, স্কাউটের সংখ্যা, কার্যক্রমের ব্যাপ্তি ও গুণগত মান বিচারে বাংলাদেশ বিশ্ব স্কাউট আন্দোলনের শীর্ষ ৫টি দেশের মধ্যে অন্যতম।এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চল বিপির লেখা রোভারিং টু সাকসেস বইটির অনুবাদসহ প্রায় ডজন খানেক বই প্রকাশ করেছে।

 

বাংলাদেশ স্কাউট “জাম্বুরী” এর ইতিহাস (স্কাউটিং পর্ব-৭)

Now Reading
বাংলাদেশ স্কাউট “জাম্বুরী” এর ইতিহাস (স্কাউটিং পর্ব-৭)

বাংলাদেশে স্কাউট “জাম্বুরী” এর ইতিহাস জানতে হলে ফিরে যেতে হবে একটু পেছনে। ১৯৭৮ সালের ১ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪৪৬৪ জন স্কাউটের অংশগ্রহণের মাধ্যমে গাজীপুরের মৌচাকে প্রথম জাতীয় স্কাউট জাম্বুরী অনুষ্ঠিত হয়। এই জাম্বুরীর থিম ছিল “সুন্দর পৃথিবীর জন্য আমরা”।

১৯৮০ সালে বাংলাদেশের ২য় এবং ৫ম এশিয়া প্যাসিফিক জাম্বুরীও অনুষ্ঠিত হয় গাজীপুরের মৌচাকে আর থিম ছিল “উন্নয়নের জন্য নেতৃত্ব”। পরবর্তীতে গাজীপুরের এই মৌচাকেই ১৯৮৫সালে তৃতীয়,  ১৯৮৯সালে ৪র্থ, ১৯৯৪সালে ৫ম বাংলাদেশ ও ১৪শ এশিয়া প্যাসিফিক, ১৯৯৯ সালে ৬ষ্ঠ, ২০০৪ সালে ৭ম বাংলাদেশ ও ৪র্থ সার্ক জাম্বুরী ও ২০১০ সালে ৮ম বাংলাদেশ স্কাউট জাম্বুরী অনুষ্ঠিত হয়। স্কাউটিং একটি বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক আন্দোলন। এর জনপ্রিয়তা প্রতিদিন বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর আইন প্রতিজ্ঞা গ্রহণপূর্বক বালক-বালিকাদের নৈতিক চরিত্র গঠনে খুবই সহায়ক হচ্ছে।

একজন আদর্শবান স্কাউট জীবনে উন্নতি করবেই এবং কর্মক্ষেত্রে সফলতা আসবেই। স্কাউটিংয়ের মধ্যে ধর্মকর্ম সব কিছুই আছে। বর্তমান অবক্ষয় যুক্ত সমাজে সংঘাতময় পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে জীবনমুখী স্কাউটিং পদ্ধতিতে শিক্ষা ব্যবস্থা, সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে স্কাউটিং শিক্ষায় দেশে দেশে জাম্বুরীর কোনো বিকল্প নেই। ফলে, স্কাউটদের অর্জিত হবে জ্ঞানের দক্ষতা প্রদর্শন, হবে নবীন ও প্রবীণ প্রজন্মের মহামিলন এবং তৈরি হবে নব নব স্কাউটার।

ভারতবর্ষে ১৯১০ সালে স্কাউট আন্দোলন শুরু হলে তখন এটি ইংরেজ ছেলেমেয়েদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ইংরেজ সরকার তখন আইন করে এই উপমহাদেশের ছেলেমেয়েদের জন্য স্কাউটিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। উপমহাদেশে ইংরেজ সরকার স্কাউটিং জনপ্রিয়তা দেখে ১৯১৯ সালে এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে, স্কাউটিং আরো ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯২০ সালে এই উপমহাদেশের ছেলেরা ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে স্কাউটিং করার অধিকার পায়। এভাবেই বাংলাদেশে প্রতি ৪ বছর অন্তর অন্তর স্কাউট জাম্বুরী অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বিশ্বব্যাপী স্কাউটিং কার্যক্রম চালু থাকলেও সকল দেশের প্রোগ্রাম এক রকম নয়। মূলত বি.পির অনুসৃত নিয়ম ঠিক রেখে দেশে দেশে এক এক রকম প্রোগ্রাম পরিচালিত হয়। বয় স্কাউটদের জন্য যেমন জাম্বুরী, ঠিক তেমনিভাবে কাবদের সমাবেশকে ক্যাম্পুরী ও রোভারদের সমাবেশকে রোভারমুট বলা হয়।

কিভাবে পরিচালিত হয় বিশ্ব স্কাউট সংস্থা ও বাংলাদেশ স্কাউটস? (পর্ব-৩)

Now Reading
কিভাবে পরিচালিত হয় বিশ্ব স্কাউট সংস্থা ও বাংলাদেশ স্কাউটস? (পর্ব-৩)

স্কাউটিং কোনো পেশা নয় আবার নেশাও নয়, স্কাউটিং মানবতার প্রতীক। আজকের পর্ব- বিশ্ব স্কাউট সংস্থা ও বাংলাদেশ স্কাউটস এর কার্যক্রম সম্পর্কে। চলুন শুরুতেই বিশ্ব স্কাউট সংস্থা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা লাভ করি।

WOSM

বিশ্ব স্কাউট সংস্থা বা WORLD ORGANIZATION OF SCOUT MOVEMENT সংক্ষেপে WOSM। এটি হচ্ছে সারা বিশ্বে স্কাউটিং এর নীতি নির্ধারণে সর্বচ্চ সংগঠন। বিশ্ব স্কাউট সংস্থা একটি স্বাধীন, অরাজনৈতিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন। এই সংস্থা ওয়ার্ল্ড স্কাউট কনফারেন্স, ওয়ার্ল্ড স্কাউট কমিটি ও ওয়ার্ল্ড স্কাউট ব্যুরো এই ৩টি সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে সারা বিশ্বে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। বিশ্ব স্কাউট সংস্থার সচিবালয় অর্থাৎ বিশ্ব স্কাউট ব্যুরো কিছুদিন আগ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় থাকলেও বর্তমানে এর হেড কোয়াটার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে। যদিও জেনেভায় বিশ্ব স্কাউট সংস্থার লিয়াজো অফিস এখনো আছে। বিশ্বের প্রায় সারে তিন কোটি মানুষ WOSM এর নির্ধারিত স্কাউটিং কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত। WOSM এর বর্তমান সদস্য দেশের সংখ্যা ১৬১টি।  এ সদস্য দেশগুলো নিয়ে গঠিত ৬টি অঞ্চল এর মাধ্যমে বিশ্ব স্কাউট সংস্থা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। অঞ্চলগুলি হল- আফ্রিকা রিজিওন, আরব রিজিওন, এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওন, ইউরেশিয়া রিজিওন, ইউরোপ রিজিওন ও ইন্টার-আমেরিকা রিজিওন।

Asia Pacific Scout Region and Bangladesh Scouts

বাংলাদেশ স্কাউটস এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওন এর অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ স্কাউটস বাংলাদেশের জাতীয় স্কাউটিং সংস্থা। ১৯৭২ সালের ৮ ও ৯ এপ্রিল সমগ্র বাংলাদেশের স্কাউট নেতৃবৃন্দ ঢাকায় সম্মিলিতভাবে গঠন করেন বাংলাদেশ স্কাউট সমিতি। একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ১১১ নং অধ্যাদেশ বলে  উক্ত সমিতি সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৭৪ সালের ১ জুন বাংলাদেশ স্কাউট সমিতি ১০৫ তম সদস্য হিসেবে বিশ্ব স্কাউট সংস্থার স্বীকৃতি পায়। ১৯৭৮ সালের ১৮ জুন পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল সভায় সমিতির নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ স্কাউটস নামে রাখা হয়। মাত্র ৫৬,৩২৫ জন সদস্য নিয়ে বাংলাদেশ স্কাউটস তার কার্যক্রম শুরু করেছিলো । ১৯৭৮ সালে এর সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধির বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে সকল স্তরে বিভিন্ন ট্রেনিং ও কোর্স পরিচালনার মাধ্যমে ১৯৮৫ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ৫ লাখে উন্নীত হয়। এরপর বাংলাদেশ স্কাউটস ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে গ্রহণ করে স্ট্রাটেজিক প্ল্যান- 2013। এ প্ল্যানে স্কাউটদের শুধু সংখ্যাবৃদ্ধিই নয়, গুণগত মান অর্জনেরও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়। ৬টি অগ্রাধিকার ভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভলেন্টিয়ার লিডার ও স্কাউটারবৃন্দ সমন্বিতভাবে ২০১৩ সালের মধ্যে ১৫ লক্ষ স্কাউট তৈরির চেষ্টা করেছেন। এর ফলশ্রুতিতে ২০১৩ সালের মধ্যে স্কাউটের সংখ্যা দাড়ায় ১২,৮৫,৬০৭ জন যা বাংলাদেশকে বিশ্ব স্কাউট সংস্থায় ৫ম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

Chief Scout of Bangladesh

বাংলাদেশ স্কাউটসের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পরিষদ হচ্ছে জাতীয় স্কাউট কাউন্সিল। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও চিফ স্কাউট এ কাউন্সিলের প্রধান। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বর্তমানে এই পদে আসীন। জাতীয় স্কাউট কাউন্সিলের সভা প্রতিবছর তার সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হয় আর প্রতি তৃতীয় বছর অন্তর অন্তর এই সভার মধ্য দিয়ে প্রধান জাতীয় কমিশনার ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন। প্রধান জাতীয় কমিশনার হচ্ছেন বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান নির্বাহী, তিনি ছাড়াও রয়েছেন ১৫ জন জাতীয় কমিশনার এবং ৩০ জন জাতীয় উপ-কমিশনার।

এছাড়াও দেশব্যাপি স্কাউট আন্দোলনের সার্বিক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে পেশাগতভাবে প্রশিক্ষিত প্রায় ৫০ জন স্কাউট এক্সিকিউটিভ রয়েছেন। বাংলাদেশ স্কাউটসের যাবতীয় কার্যক্রম, যথা: নীতিনির্ধারণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, মনিটরিং, মূল্যায়ন, যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইত্যাদি কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় সদর দফতর, স্কাউট ভবন থেকে পরিচালিত হয়। অবশ্য দেশব্যাপি সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক অবকাঠামো সুষ্ঠ পরিচালনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ স্কাউসকে ১২টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। তারমধ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা ও সিলেট মিলে ৬টি। শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক কুমিল্লা ও দিনাজপুরে ২টি এবং রোভার, রেলওয়ে, নৌ এবং এয়ার  এই বিশেষ ৪অঞ্চলের দফতর রয়েছে ঢাকায়।

প্রায় ৯০ একর জায়গা নিয়ে গাজীপুরের মৌচাকে গড়ে উঠেছে একটি আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা সম্বলিত জাতীয় স্কাউটস প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। বাংলাদেশে স্কাউট আন্দোলন কাব, স্কাউট ও রোভার এই তিনটি শাখার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ সরকার কাব স্কাউট এবং স্কাউট সম্প্রসারণ প্রকল্পে বাংলাদেশ স্কাউটসকে যথেষ্ট অর্থনৈতিক সমর্থন দিয়ে থাকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ছাড়াও রেলওয়ে, নৌ এবং এয়ার অঞ্চলের চাকরিজীবিদের জন্য বয়সসীমা ৩০ বছর পর্যন্ত নির্ধারণ করে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে মুক্তদল গঠনের মাধ্যমে স্কাউট আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। উৎসাহী বয়স্করা বিভিন্ন ট্রেনিং নিয়ে ইউনিট লিডার বা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এছাড়া দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকমন্ডলী বাংলাদেশ স্কাউটসের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট রয়েছেন।

স্কাউট কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ স্কাউটসের রয়েছে প্রায় ৩০টির মতো প্রকাশনা। প্রকাশনাগুলি ব্যাডেন পাওয়েলের বিভিন্ন লেখার ওপর ভিত্তি করেই রচিত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: পি.আর.ও, কাবস্কাউট হ্যান্ডবুক, ট্রেনিং ম্যানুয়াল, প্রোগ্রাম বই, স্কাউট রেকর্ড, প্যাট্রল লিডার্স হ্যান্ডবুক, প্রোগ্রাম বুলেটিন ইত্যাদি। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চল বিপির লেখা রোভারিং টু সাকসেস বইটির অনুবাদসহ প্রায় ডজন খানেক বই প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ স্কাউটসের মাসিক মুখপত্র অগ্রদূত নামে একটি পত্রিকা রয়েছে।

বাংলাদেশ স্কাউটস জাতীয়ভাবে কমডেকা এবং বড় সমাবেশ যথা ক্যাম্পুরি , জাম্বুরি ও মুট আয়োজন করে থাকে যেখানে সারা বাংলাদেশের স্কাউটগন আনন্দঘন পরিবেশে মিলিত হওয়ার সুযোগ পায়। বর্তমানে বাংলাদেশে স্কাউটের সদস্য সংখ্যা ১৩ লক্ষের ও অধিক। স্ট্রাটেজিক একশন প্ল্যান অনুযায়ী স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ২০২১ সালে এই সংখ্যা ২১লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা বাংলাদেশ স্কাউটস গ্রহণ করেছে।  

এশিয়ার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

Now Reading
এশিয়ার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

পৃথিবীর সবচেয়ে আয়তনে বড় ও জনবহুল মহাদেশ হচ্ছে এশিয়া প্রাথমিকভাবে যা পূর্ব ও উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। ভূপৃষ্ঠের ৮.৭% ও স্থলভাগের ৩০% অংশ জুড়ে অবস্থিত এই মহাদেশ। সমীক্ষা অনুযায়ী প্রায় ৪৩০ কোটি মানুষের বসবাস এই এশিয়াতেই, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৬০%-এরও অধিক। এশিয়া মূলত ইউরেশিয়ার স্তেপ অঞ্চল (বাস্তু অঞ্চল) দ্বারা সংযোজিত। বিভিন্ন পরিসংখ্যা পর্যালোচনা করে দেখা যায় আধুনিক যুগেও এশিয়ার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উরদ্ধগামী। বিংশ শতাব্দীতে এশিয়ার জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় চারগুণ। ইউরেশিয়া নিয়ে অনেকের মাঝে কৌতূহলের জন্ম দেয়, ইউরোপের সাথে এশিয়ার রয়েছে অবিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড তাই একসঙ্গে একে ইউরেশিয়া বলা হয়।তাছাড়া এশিয়ার সীমানা নির্ধারিত হয় সাংস্কৃতিকভাবে। দ্বীপগুলিসহ এই মহাদেশের ক্ষেত্রফল প্রায় ৪,৯৬,৯৪,৭০০ বর্গকিলোমিটার। এশিয়ার সবচেয়ে স্বীকৃত সীমানা হলো ইউরাল নদী, ইউরাল পর্বতমালা, সুয়েজ খাল এবং ককেশাস পর্বতমালা। যার পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর এবং উত্তরে উত্তর মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত। কাস্পিয়ান সাগর, কৃষ্ণসাগর, ভূমধ্যসাগর, ইউরাল পর্বতমালা এবং ইউরাল নদী দ্বারা এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশ দুটি পরস্পর হতে বিচ্ছিন্ন। অন্যদিকে এশিয়া মহাদেশটি সুয়েজ খালের মাধ্যমে আফ্রিকার সাথে এবং উরাল পর্বতমালার মাধ্যমে ইউরোপের সাথে যুক্ত হয়েছে। এছাড়া এশিয়া মহাদেশকে আফ্রিকা থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল এবং উত্তর আমেরিকা মহাদেশ থেকে পৃথক করেছে উত্তর-পূর্বে অবস্থিত সংকীর্ণ বেরিং প্রণালী।  উল্লেখ্য যে, বেরিং প্রণালীর একপ্রান্তে অবস্থান করছে এশিয়া মহাদেশের অন্তর্গত রাশিয়ার উলেনা আর অন্য প্রান্তে অবস্থান উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অন্তর্গত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা। মজার বিষয় হচ্ছে, এই প্রণালীটির সংকীর্ণতম অংশটি মাত্র ৮২ কিলোমিটার চওড়া, অর্থাৎ বেরিং প্রণালীর এই অংশ হতে উত্তর আমেরিকা মহাদেশের দূরত্ব মাত্র ৮২ কিলোমিটার। 

এশিয়ার সমস্থ অঞ্চল জুড়ে জাতিগোষ্ঠী, সংস্কৃতি, পরিবেশ, অর্থনীতি, ঐতিহাসিক বন্ধন এবং সরকার ব্যবস্থার মাঝে ব্যাপকভাবে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। এশিয়া ইউরেশিয়ার মধ্য ও পূর্ব অংশ নিয়ে গঠিত। এশিয়া মূলত বেশ কয়েক ভাগে বিভক্ত আর এগুলো হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়া, পূর্ব এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, উত্তর এশিয়া এবং মধ্য এশিয়া।  এই মহাদেশে প্রায় ৫০টির মতো দেশের অবস্থান নির্ণয় করা যায়।দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলো হচ্ছে: নেপাল, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা। জাতিসংঘের ভূবিন্যাস অনুযায়ী পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি হচ্ছেঃ আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহরাইন, সাইপ্রাস, জর্জিয়া, ইরাক, ইসরায়েল, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান এবং ইয়েমেন। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি হচ্ছেঃ চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, হংকং, মাকাও, মঙ্গোলিয়া এবং তাইওয়ান। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হল এশিয়া মহাদেশের একটি উপঅঞ্চল, এখানে রয়েছে ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, পূর্ব তিমুর, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মায়ানমার, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনাম। মধ্য এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে আছে কাজাকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, এবং অন্যান্য ছোট ছোট রাষ্ট্র। এছাড়া উত্তর ইউরেশিয়াতে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম দেশ হচ্ছে রাশিয়া, পূর্ব ইউরোপ এবং উত্তর এশিয়ার বেশির ভাগ অংশ রাশিয়াতে পড়েছে আর রয়েছে সাইবেরিয়ার কিছু অংশও।

                                                                                              

 

স্কাউটিং কি ও কেন? (পর্ব ১)

Now Reading
স্কাউটিং কি ও কেন? (পর্ব ১)

স্কাউটিং হল একটি সামাজিক আন্দোলন যার প্রধান উদ্দেশ্য আনন্দের মধ্য দিয়ে শিক্ষা দান করা। স্কাউটিং এর মাধ্যমে একজন ছেলে বা মেয়ে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠার  প্রয়াস লাভ করে। স্কাউটিং এর মধ্যে লুকিয়ে থাকে অপার আনন্দ যার স্বাদ নিতে হলে যোগদান করতে হবে এই আন্দোলনে। ১৯০৭ সালে স্যার রবার্ট স্টিফেন্সন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল অফ গিলওয়েল সংক্ষেপে বি.পি এই আন্দোলনের শুরু করেন। আসুন জেনে নিই বাংলাদেশের স্কাউটিং মুভমেন্ট কিভাবে পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশ স্কাউট আন্দোলন প্রধানত তিনটি শাখায় বিভক্ত। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬ থেকে ১০+ বয়সী শিশুদের কাব স্কাউট, স্কুল ও মাদ্রাসার ১১ থেকে ১৬+ বয়সী বালক-বালিকাদের স্কাউট এবং কলেজ বিশ্ববিদ্যলয়ের ১৭-২৫ বয়সী যুবক রোভার স্কাউট বলে। তবে রেলওয়ে, নৌ এবং এয়ার অঞ্চলের চাকরিজীবিদের জন্য এই বয়সসীমা কিছুটা শিতীলতা করে ৩০ বছর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে মুক্তদল। স্কাউটিং-এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিশু, কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক, মানসিক, নৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং সামাজিক গুণাবলী উন্নয়নের মাধ্যমে তাদেরকে পরিবার, সমাজ দেশ তথা বিশ্বের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। উৎসাহী বয়স্করা বিভিন্ন ট্রেনিং নিয়ে ইউনিট লিডার এবং অন্যান্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকমন্ডলী বাংলাদেশ স্কাউটসের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট রয়েছেন।

স্কাউট কার্যক্রমে কতকগুলি বিশেষ বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়: হাতেকলমে কাজ শেখা;  ছোট-দল পদ্ধতিতে কাজ করা; ব্যাজ পদ্ধতির মাধ্যমে কাজের স্বীকৃতি প্রদান; মুক্তাঙ্গনে কাজ সম্পদান, তিন আঙ্গুলে সালাম ও ডান হাত করমর্দন, স্কাউট পোশাক, স্কার্ফ ও ব্যাজ পরিধান এবং সর্বদা স্কাউট আইন ও প্রতিজ্ঞা মেনে চলা। স্কাউটদেরকে আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা লর্ড ব্যাডেন পাওয়েলের নির্দেশিত নিয়ম অনুসারে অনুশীলন, প্রতিজ্ঞাপাঠ ও দীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে স্কাউট আন্দোলনে সদস্য হতে হয়। স্কাউটদের মটো বা মুলমন্ত্র হচ্ছে: কাব- যথাসাধ্য চেষ্ট করা; স্কাউট- সদা প্রস্ত্তত; এবং রোভার- সেবাদান। স্কাউট কার্যক্রমে রয়েছে: সাপ্তাহিক ক্লাশ, ক্যাম্প ও হাইকিং, কমডেকা এবং বড় সমাবেশ যথা ক্যাম্পুরি (কাবদের), জাম্বুরি (স্কাউটদের) ও মুট (রোভারদের) আয়োজন করা হয়ে থাকে জাতীয়, আঞ্চলিক, জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে (এগুলি আন্তর্জাতিকভাবে) বিশ্ব স্কাউট সংস্থাও করে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন সমাজ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বিভিন্ন গ্রুপ ও জেলা পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়। এরমধ্যে রয়েছে বৃক্ষরোপন, টিকাদান, স্যানিটেশন ও পরিবেশ সংরক্ষণ, জ্বালানি-সাশ্রয়ী চুলা, এবং বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় স্কাউটদের সেবাদান কর্মসূচি বাংলাদেশের মানুষ সর্বদাই শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।

বাংলাদেশ স্কাউটস  বাংলাদেশের জাতীয় স্কাউটিং সংস্থা। ১৯৭২ সালের ৮-৯ এপ্রিল সারাদেশের স্কাউট নেতৃবৃন্দ ঢাকায় এক সভায় মিলিত হয়ে গঠন করেন বাংলাদেশ স্কাউট সমিতি। ঐ বছরের ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ১১১ নং অধ্যাদেশ বলে (১১ সেপ্টেম্বর ১৯৭২, সোমবার) উক্ত সমিতি সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে। বিশ্ব স্কাউট সংস্থা (WOSM) ১৯৭৪ সালের ১ জুন বাংলাদেশ স্কাউট সমিতিকে ১০৫ তম সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তবে ১৯৭৮ সালের ১৮ জুন পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল সভায় সমিতির নাম বদলে রাখা হয় বাংলাদেশ স্কাউটস। বাংলাদেশ স্কাউটস কার্যক্রম শুরু করেছিলো মাত্র ৫৬,৩২৫ জন সদস্য নিয়ে। ১৯৭৮ সালে সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধির বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে সকল স্তরের জন্য ট্রেনিং কোর্সসমূহ পরিচালনার মাধ্যমে ১৯৮৫ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ৫ লাখে উন্নীত হয়। এরপর বাংলাদেশ স্কাউটস ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে গ্রহণ করে স্ট্রাটেজিক প্ল্যান- ২০১৩। এ প্ল্যানে স্কাউটদের শুধু সংখ্যাবৃদ্ধিই নয়, গুণগত মান অর্জনেরও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়। ৬টি অগ্রাধিকার ভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভলেন্টিয়ার লিডার ও স্কাউটারবৃন্দ সমন্বিতভাবে ২০১৩ সালের মধ্যে ১৫ লক্ষ স্কাউট তৈরির চেষ্টা করেছেন। এর ফলশ্রুতিতে ২০১৩ সালের মধ্যে স্কাউটের সংখ্যা ১২,৮৫,৬০৭ এ পৌঁছেছে যা বাংলাদেশকে বিশ্ব স্কাউট সংস্থায় ৫ম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশ স্কাউটসের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পরিষদ হচ্ছে জাতীয় স্কাউট কাউন্সিল। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও চিফ স্কাউট এ কাউন্সিলের প্রধান। স্কাউট জাতীয় কাউন্সিলের সভা প্রতিবছর সদর দফতরে আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে প্রতি তৃতীয় বছরের সভায় প্রধান জাতীয় কমিশনার ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন।

প্রধান জাতীয় কমিশনার হচ্ছেন বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান নির্বাহী রয়েছেন ১৫ জন জাতীয় কমিশনার এবং ৩০ জন জাতীয় উপ-কমিশনার। দেশব্যাপি স্কাউট আন্দোলনের সার্বিক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে পেশাগতভাবে প্রশিক্ষিত প্রায় ৫০ জন স্কাউট এক্সিকিউটিভ রয়েছেন। বাংলাদেশ স্কাউটসের যাবতীয় কার্যক্রম, যথা: নীতিনির্ধারণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, মনিটরিং, মূল্যায়ন, যোগযোগ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইত্যাদি কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় অবস্থিত জাতীয় সদর দফতর, স্কাউট ভবন থেকে পরিচালিত হয়ে থাকে। অবশ্য দেশব্যাপি সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক অবকাঠামো সুষ্ঠু পরিচালনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ স্কাউসকে ১২টি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা ও সিলেটে ৮টি, শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এবং রোভার, রেলওয়ে, নৌ এবং এয়ার  এই বিশেষ অঞ্চল ৪টির দফতর ঢাকায় অবস্থিত। স্কাউটদের এ সকল কার্যক্রম এবং বিভিন্ন ট্রেনিং এর জন্য বিভিন্ন ব্যাজ প্রদানের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেয়া হয়। স্কাউটের তিনটি শাখার জন্য সর্বোচ্চ ব্যাজ হচ্ছে: শাপলা কাব, প্রেসিডেন্ট’স স্কাউট এবং প্রেসিডেন্ট’স রোভার স্কাউট। অ্যাডাল্ট লিডারদের স্কাউটিং এ অবদান রাখার জন্য তাঁদেরকেও বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ হচ্ছে রৌপ্য ব্যাঘ্র এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হচ্ছে রৌপ্য ইলিশ। বিশ্ব স্কাউট সংস্থাও বিভিন্ন দেশের অসাধারণ স্কাউটারদের দিয়ে থাকে ব্রোঞ্জ উলফ ব্যাজ। তবে এ ব্যাজ খুব কম সংখ্যক স্কাউটই পেয়ে থাকেন। ১৯৩৫ সনের ২ আগস্ট লর্ড ব্যাডেন-পাওয়েলকে সর্বপ্রথম এই ব্যাজ প্রদান করা হয়েছিল।

যোগদান করেই একজন স্কাউট হয়ে ওঠা যায় না। এর জন্য থাকতে হবে একাত্মতা। তাহলেই খুঁজে পাওয়া যাবে এর আনন্দ। কিছুদিন এর শিক্ষার পর শপথ পাঠের মাধ্যমে একজন ছেলে বা মেয়ে হয়ে ওঠে স্কাউট সদস্য, পরতে পারে স্কাউট পোশাক, লাগাতে পারে সদস্য ব্যাজ এবং গলায় নিজ দলের স্কার্ফ। এরপর সে পার করে প্রতিটি স্তর এবং খুঁজে পায় নানান বিষয়।

স্কাউটিং এ রয়েছে অনেক দিক। কিছু দিক যেমনঃ ক্যাম্পিং, হাইকিং, ট্র্যাকিং, ফার্স্ট এইড, দড়ির কাজ, পাইওনিয়ারিং, রান্না, অনুমান, খেলা এবং আরও কত কি। মজার মজার এসব বিষয় শিখে ফেলা যায় নিজের অজান্তেই। এমনকি কিছু বিষয়ে হয়ে ওঠা যায় পারদর্শী। তখন সে অনুযায়ী পোশাকে লাগানো যায় নিত্য-নুতুন ব্যাজ। এই অর্জনকে ব্যাজ নয় স্কাউট পোশাকের অলংকার বলেছেন বি.পি। পাত্র ছাড়া রান্না কিংবা দড়ি দিয়ে কিছু তৈরি করতে পারার মজা আর কোথাও নেই। এমনকি কোন কম্পাস ছাড়াই দিক নির্ণয় অথবা অনুমান করে বলে দিতে পারা যায় কোন কিছুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ কিংবা উচ্চতা। তাঁবুতে থাকার অভিজ্ঞতা আর হেঁটে হেঁটে প্রকৃতির সাথে চলা – এক নুতুন জীবন এর স্বাদ এনে দেয় স্কাউটিং। যান্ত্রিক জীবনের আড়ালে হারিয়ে যায় সকল ইচ্ছা, চলে যায় নতুন এর স্বাদ। স্কাউটিং ফিরিয়ে আনে সেই ইচ্ছাগুলো। আর সকল কাজে এনে দেয় উৎসাহ।

যে ১০টি কারণে আধুনিক ব্রিটেন বিশ্বের সেরা দেশ গুলোর মধ্যে অন্যতম

Now Reading
যে ১০টি কারণে আধুনিক ব্রিটেন বিশ্বের সেরা দেশ গুলোর মধ্যে অন্যতম

যুক্তরাজ্য নিয়ে অনেকের মাঝে বিভ্রান্তি আছে। তা হলো লন্ডন, ইংল্যান্ড, ব্রিটেন, গ্রেট ব্রিটেন, ইউকে, যুক্তরাজ্য ইত্যাদি নাম নিয়ে। ভৌগলিকভাবে ব্রিটেনের মূল দ্বীপে অবস্থিত তিনটি দেশ ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, আর ওয়েলস নিয়ে গ্রেট ব্রিটেন গঠিত. গ্রেট ব্রিটেনের সাথে ইউনাইটেড কিংডম এর পার্থক্য হলো ইউনাইটেড কিংডম এ গ্রেট ব্রিটেনের তিনটি দেশের সাথে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড সংযোজিত। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস আর নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ছাড়াও আরো ১৪ টি সার্বভৌম রাষ্ট্র আছে রানী এলিজাবেথ এর অধীনে যাদেরকে আলাদাভাবে ব্রিটিশ ওভারসিস টেরিটরি বলা হয়। আসুন সংক্ষেপে জেনে নিই ঠিক কি কি কারণে ব্রিটেন এতটাই আধুনিক এবং অন্যদের চাইতে উত্তম।

উচ্চ শিক্ষার প্রবর্তনঃ ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থা গুণগত উৎকর্ষতার জন্য প্রসিদ্ধ। সারা পৃথিবীর বিশ্ব বিদ্যালয়ের তালিকানুযায়ী, বিশ্ব ব্যাপী প্রায় ২৬০০০ এর মত বিশ্ববিদ্যালয় আছে। আর তার মধ্যে হাতে গোনা কয়টি সেরা বিশ্ব বিদ্যালয়ের নাম বলতে বলা হলে ২টি ব্রিটেনেরই থাকবে। হ্যাঁ ঠিকই ধরতে পেরেছেন অক্সফোর্ড আর ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কথাই বলছি। এ দুটি বিশ্ব বিদ্যালয়কে বলা হয় উচ্চ শিক্ষার শস্য বুনার স্থান এবং তা কেবলই যে ঐতিহাসিক তা কিন্তু নয়। সমগ্র ব্রিটেন জুড়েই এই উচ্চ শিক্ষার পদ্ধতিটি ক্রমাগতভাবে যোগান দিয়ে যাচ্ছে গ্রহের সর্বোচ্চ ভাল ফলাফল। ভবিষ্যত্-পিয়াসীদের কাছে এমন একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য ব্রিটেন। বিশেষত ব্রিটিশ শাসিত উপনেবেশিক রাষ্ট্রগুলোতে বিগত কয়েক শতাব্দী ধরে ব্রিটিশ ডিগ্রীধারীদের সমাজে উচ্চ চোখে দেখা হয় ।

আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাঃ বিশ্বের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রবক্তা হিসেবে ধরা হয় ব্রিটেনকে। এখানে যেমন রয়েছে আধুনিক সব চিকিৎসা ব্যবস্থা ঠিক কিভাবে তা প্রয়োগ ঘটাতে হয় তার জন্য রয়েছে বিশ্বখ্যাত সব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। পৃথিবীর প্রায় সকল দেশ থেকে এখানে চিকিৎসা শাস্ত্রের উপর উচ্চতর ডিগ্রী নিতে প্রতি বছর ভিড় করেন মানুষ।

বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ রাষ্ট্রঃ অস্থায়ী কিংবা স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে মানুষ ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। নাগরিকদের নিরাপত্তা বিবেচনায় পৃথিবীর অন্যতম নিরাপদ রাষ্ট্র হচ্ছে যুক্তরাজ্য। তুলনামুলকভাবে এখানে হত্যা প্রবণতা কম অন্যসব রাষ্ট্র থেকে।

ব্যাক্তি স্বাধীনতা যথেষ্ট শক্তিশালী যেমনটা আমরা চাইঃ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ব্রিটেনে মুক্তবাদ চর্চা বেশ স্বাধীন। এখানে আপনি যদি কোন নিদিষ্ট মতবাদ ধারণ করেন তবে রাষ্ট্র আপনাকে কখনোই বাঁধা দেবে না। কেননা এখানকার রাষ্ট্র ব্যবস্থা এমন একটা ভিত্তির উপর বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত যে ব্যক্তি স্বাধীনতাকে এখানে বেশ সন্মানের দৃষ্টিতে দেখে। তার মানে এই নয় যে আপনি যেমন খুশি তেমন করতে পারেন। আইন, সামাজিক মূল্যবোধ কিংবা জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে এমন স্বাধীনতার সুযোগ এখানে নেই।

জীবন যাত্রার মান খুবই সুন্দরঃ যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি হচ্ছে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতি। ফলে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মান তুলনামূলক অন্য রাষ্ট্রের চাইতে বেশ উন্নত। এই রাষ্ট্রের প্রত্যেকেই একটা শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে জীবন যাপন উপভোগ করেন আর এই নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপনই তাদের সুখের অন্যতম কারণ। ব্রিটিশরা অপ্রয়োজনীয় এবং লাগামহীন জীবন উপভোগ করতে পছন্দ করেন না। বিলাস জীবনে অভ্যস্ত একজন ব্রিটিশও নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলেন। ফলে সামগ্রিকভাবে ব্রিটিশদের জীবন যাত্রার মান বেশ ঐতিহ্যমণ্ডিত।

শিল্প বিপ্লবের সূচনাকারীঃ আঠারো শতকের শেষার্ধে শিল্পোৎপাদনের ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয় সাধারনভাবে তাই শিল্প বিপ্লব নামে পরিচিত। শিল্প বিপ্লব ইংল্যান্ড তথা পাশ্চাত্য জগতের ইতিহাসে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর ফলে ইংল্যান্ড বিশ্বের প্রথম শিল্পোন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয় এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশটির সমৃদ্ধির ভিত্তি রচিত হয়। সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও শিল্প বিপ্লব সদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করে। শিল্প বিপ্লব কোন আকস্মিক ঘটনা ছিলনা। দীর্ঘদিন আগে থেকেই শিল্পোৎপাদনের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছিল। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এ অগ্রগতির প্রধান দিকগুলো ছিল অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, কৃষি ও শিল্পখাতে উৎপাদন ক্রমশ বৃদ্ধি, বণিক পুঁজির বিকাশ, বিজ্ঞান চর্চায় উন্নতি ও উৎপাদনের কোন কোন ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ব্যাংক, বীমা এবং স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠা।

ব্রেক্সিট সত্যিকার অর্থেই ব্রিটিশদের সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারেনিঃ সারা দুনিয়ায় এখন আলোচনার বিষয় একটিই। আর সেটি হলো ‘ব্রেক্সিট’। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়াকে সংক্ষেপে ব্রেক্সিট বলা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তথা এক্সিট বোঝাতে ব্রেক্সিট শব্দটি ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের আধিক্য দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়াতে ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি দেখা দেয়। কেননা ইইউ’র নিয়ম অণুযায়ী ইইউভুক্ত ২৮টি দেশের নাগরিক ভিসা ছাড়াই এক দেশ থেকে অন্য দেশে প্রবেশ করার কিংবা বাস করার অধিকার রাখে।  তাই ডেভিড ক্যামেরন সরকার ইইউ থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার উপর অর্থাৎ ব্রেক্সিট নিয়ে ২০১৬ সালের ২৩ জুন এক গণভোটের আয়োজন করেন। যাতে ব্রিটিশরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দেন। উক্ত গণভোটে ইইউ এর সাথে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদের রায় পাওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান ডেভিড ক্যামেরুন। প্রায় ২বছরে বেক্সিট এর ফলে ব্রিটিশ জনগণের উপর তেমন কোন প্রভাব পরিলক্ষিত হয়নি। উলটো ব্রিটেন ক্রমান্বয়ে নিজেদের সেরা প্রমাণ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ব্রিটিশদের ভেতরকার ঐক্য পূর্বের মতই অটুট রয়েছে। এদিকে ব্রেক্সিট আইন অনুমোদন দিয়েছেন ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে। গতকাল মঙ্গলবার ব্রেক্সিট ইস্যুতে রাজকীয় এই সম্মতি দেন ব্রিটেনের রানি।

ব্রিটিশরা সত্যিকার অর্থেই অসাধারণঃ যদি আপনি কখনো সত্যি সত্যি যুক্তরাজ্যে যান এবং একজন ব্রিটিশ এর সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তবে খেয়াল করবেন তারা অবিশ্বাস্য রকমের ভদ্র, কিছুটা মজার প্রকৃতির, সানন্দেই সাহায্য করার প্রবণতা এবং মার্জিত ব্যক্তিত্ব। এটা সত্যি যে, তারা হয়ত আপনাকে তাদের দেশের আবহাওয়া সম্পর্কে বলতে বাধ্য করবে তবে এটা তাদের ব্যবহারের তুলনায় এমন কিছুই নয়। যদিও তারা খুব সৎ, কিন্তু তাদের মজার অনুচ্ছেদটি কিছুটা অযৌক্তিক। এলকোহল গ্রহণের ফলে ব্রিটিশদের সৃষ্ট সহিংসতা তুলনামুলকভাবে অনেক কমে এসেছে।  পৃথিবীর এমন কোন জাতি নেই যারা সত্যিকার অর্থেই খাঁটি, কোননা কোনভাবে তারা সমস্যায় জর্জরিত, হয়ত তাদের সরকার উন্নতি করছে। কিন্তু আধুনিক ব্রিটেন সত্যিকার অর্থেই বেশ ভাল অবস্থানে আছে যা তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বেশ প্রসার করেছে।

 

ব্রিটিশ সংস্কৃতি দ্বিতীয়টি আর নেইঃ

ব্রিটিশ প্রযুক্তি বিশ্বে শীর্ষস্থানীয়ঃ

দীর্ঘায়ু প্রাপ্ত জনপ্রিয় কিছু পোষা প্রাণীর সন্ধানে

Now Reading
দীর্ঘায়ু প্রাপ্ত জনপ্রিয় কিছু পোষা প্রাণীর সন্ধানে

ম্যাকাও প্যারট চার্লিঃ চার্লি হচ্ছে ম্যাকাও প্রজাতির টিয়া পাখি যার জন্ম ১৮৯৯সালে এবং বর্তমানে ২০১৮তে এসে তার বয়স দাঁড়িয়েছে ১১৯ বছর। পিটার ওরাম নামের একজন টিয়া পাখিটির মালিক যেটি সে তার পোষা প্রাণী বিক্রয়ের দোকানের জন্য কিনেছিল ১৯৬৫সালে। ওরাম পরবর্তীতে চার্লিকে তার বাড়ীতে নিয়ে রাখতে বাধ্য হয় কেননা পাখিটি নাৎসি বিরোধী গান গাইত। চার্লি তার মালিককে এটা জানিয়েছিল যে সে এসব যুদ্ধ কালীন সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার উইনস্টন চার্চিলের বাসভবন থেকে শিখেছিল, সম্ভবত তাকে কেনা হয়েছিল ১৯৩৭সালে। চার্চিলের কন্যা অস্বীকার করেছে তার পিতার কোন ম্যাকাও এর মালিকানা ছিল। সে নিশ্চিত করেছে যে তার বাবার ছবি এবং অন্যান্য কোন রেকর্ডে চার্লির বিষয়ে কিছুই খুঁজে পায়নি।  সে এটা স্বীকার করেছে যে, ১৯৩০সালে তার বাবার অন্য একটি পোষা টিয়া ছিল যেটি আফ্রিকান ধূসর বর্ণের, তবে সেটি ম্যাকাও প্রজাতির নয়। অনেকের মতে উইনস্টন চার্চিলের পরিবার চার্লির মালিকানা প্রত্যাখ্যান করছে এই কারণেই যে কেননা পাখিটির আচরণ সন্তোষজনক নয় এবং তাদের ব্যক্তিত্বের ব্যপারে ভাল ধারণা দিচ্ছেনা।

 

গলদা চিংড়ি জর্জঃ ২০০৯ সালে এই গলদা চিংড়িটির বয়স দাঁড়িয়েছিল ১৪০বছর। জর্জ নামের এই বয়স্ক গলদা চিংড়িটি প্রথম ধরা পড়ে কানাডার একটি দ্বীপে এবং তা বিক্রি হয়ে যায় সিটি ক্রাব নামের নিউ ইয়র্ক সিটির একটি সি ফুড রেস্তোরাঁতে। জর্জকে সেই রেস্তোরাঁয় একটি ট্যাংক এর উপর বসানো হয়েছিল এবং দেখতে একটি মাসকট এর মত লাগছিল, বাচ্চারা সেখানে তার সাথে ছবিও তুলছিল। জর্জকে সেখানে রাখা হয়েছিল পেটা নামের একজনের ডিনারের আয়োজনে। কিন্তু পেটা অনুরোধ করল যে, জর্জকে যেন সমুদ্রে ফিরিয়ে দেয়া হয়। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ রাজী হয় জর্জকে অ্যাটল্যান্টিক সাগরে ফিরে যায়, কিন্তু ১০দিনের মাথায় সে আবারো ধরা পড়ে। পেটা এবং রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ অনুমান করে যে, জর্জ তার ওজন অনুযায়ী বেশ বয়স্ক। তার কাছাকাছি অন্য আরেকটি বয়স্ক গলদা চিংড়ির নাম লুই যার আয়ুকাল ছিল ১৩২ বছর। যে কিনা ২০বছরই কাটিয়েছিল নিউ ইয়র্কের একটা রেস্তোরাঁর একুরিয়ামে। রেস্তোরাঁর মালিক ছিলেন বাচ ইয়ামালি নামের একজন, তিনি প্রতিবারই চিংড়িটির অর্ডার করা কাস্টমারদের নিরাশ করে ফিরিয়ে দিতেন। এমনকি একজন বাবা দিবসে চিংড়িটি তার জন্য রান্না করে দিতে ১০০০ডলার অফার করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

অ্যালিগেটর মুজাঃ অনেকেই ভুল করে অ্যালিগেটরকে কুমির বলে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে অ্যালিগেটর কুমির গোত্রীয় তবে কুমির নয়। সবচেয়ে বয়স্ক আমেরিকান অ্যালিগেটরটি বর্তমানে রয়েছে সার্বিয়ান চিড়িয়াখানায়। প্রায় ৮০বছর বয়সী অ্যালিগেটরটির নাম মুজা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার ২বছর পূর্বে ১৯৩৭সালে সে জার্মানি থেকে বেল্গ্রাদ চিড়িয়াখানায় পৌঁছায়। মুজা প্রায় ৩টা বোমার ধ্বংসাবশেষেও ঠিকে ছিল। প্রথম ২টি বম্বিং হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪১ এবং ১৯৪৪সালে, চিরিয়াখানার সমস্ত পশু পাখি মেরে ফেলা হয়েছিল কেবল বেঁচে ছিল মুজা। তার বেঁচে থাকা জীবনে বেশ ভাল স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিল। যদিও ২০১২ সালে তার সামনের ডান পা পচন ধরেছিল এবং পড়ে তা সেড়ে যায়। মুজার পূর্বে সবচেয়ে বয়স্ক অ্যালিগেটর ছিল ক্যাবুইলিটিস, যখন সেটি ল্যাটবিয়ার রিগা চিড়িয়াখানায় মারা যায় তখন তার বয়স ছিল ৭৫বছর।

 

জনাথন কচ্ছপঃ ধারণা করা হয় জনাথন এর জন্ম ১৮৩২সালে। ২০১৮তে এসে তার বয়সটি এখন দাঁড়িয়েছে ১৮৬বছর। তার চিকিৎসক জো হলিন্স এর বিশ্বাস জনাথন এর বয়স ১৬০বছরের কম হবেনা। প্রতিটা কচ্ছপেরই গড় আয়ুকাল হয় ১৫০ বছরের মত। জনাথন বাস করত সেন্ট হেলেনা দ্বীপে যেটা দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের ব্রিটিশ উপকূল অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। ১৮৮২ সালে তাকে দ্বিপটিতে আনা হয় এবং ১৯০২ সালে তার সাথে একটা ছবি তোলা হয়।  তাকে গভর্নর সেন্ট হেলেনার বাগান বাড়ীতে রাখা হয় অন্য আরো ৫টি কচ্ছপের সাথে। ১৯৯১ সালে একজন ফরাসি দূত সেন্ট হেলেনাকে একটি মেয়ে কচ্ছপ উপহার দেন যার নাম ছিল ফ্রেডেরিকা। গভর্নর আশা করেছিলেন জনাথন তাকে সাদরে গ্রহণ করবে। কিন্তু না সে আশায় গুড়ে বালি, জনাথন তাকে গ্রহণ করেনি। এর কারণ অবশ্য পরে জানা যায়, ফেড্রিকাকে যখন তার ক্ষত সারানোর জন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় তখন রহস্য উন্মোচিত হয় যে এটি আসলে একটি পুরুষ কচ্ছপ।

দাদু হাতি লিন ওয়াংঃ বর্তমানে গিনেজ রেকর্ডে পৃথিবীর সর্বকালের বয়স্ক হাতির রেকর্ডটি আছে এশিয়ার লিন ওয়াং এর। লিনকে দাদু হাতি হিসেবে সম্বোধন করা হত, সে ২০০৩ সালে ৮৬বছর বয়সে তাইওয়ানের চিড়িয়াখানায় মৃত্যুবরণ করে। দীর্ঘজীবী হতে পারা এশিয়ান হাতিদের জন্য গর্বের এবং লিন সেই অর্থে এশিয়ান হাতিদের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গড় হিসেবে প্রতিটি এশিয়ান হাতি ৬০বছর আয়ু লাভ করে তার বন্য জীবনে। দাদু লিন এর জীবন বেশ বর্ণাঢয় এবং ভাল তথ্যে ভরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানিরা তাকে ব্যবহার করেছিল মালামাল আনা-নেয়ার কাজে। পরবর্তীতে ১৯৪৩ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত সে চাইনিজদের দখলে থাকে। তারপর তাকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাইওয়ানিজ চিড়িয়াখানাতেই রাখা হয়।

 

‘প্যানগায়া’ রহস্য অতঃপর ৭টি মহাদেশের জন্ম

Now Reading
‘প্যানগায়া’ রহস্য অতঃপর ৭টি মহাদেশের জন্ম

সৌরজগৎ সৃষ্টির প্রায় ১০০ মিলিয়ন বছর পর প্রাচীন এই পৃথিবীর আবির্ভাব। বিজ্ঞানীদের ধারণা, আজ থেকে সাড়ে ৪শ কোটি বছর বছর আগে পৃথিবী নামের গ্রহটি আকৃতি পায়, পায় লৌহের একটি কেন্দ্র এবং একটি বায়ুমণ্ডল। পৃথিবীতে মানুষ আসার আগেই গ্রহটির সৃষ্টি। এই গ্রহের প্রথম মহাদেশ তৈরি হওয়ার প্রায় এক বিলিয়ন বছর পৃথিবীতে তেমন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়নি। প্রাণের তেমন কোন উন্নতিও ঘটেনি এ সময়ে। প্রাচীন সেই পৃথিবী তখন ছিল মাত্র একটি সুপারকন্টিনেন্ট বা একক বৃহৎ মহাদেশ। যেখানে প্রাচীন পৃথিবীর প্রায় সবভূমি একত্র হয়েছিল একই জায়গায়। আর এমনই বৃহৎ কয়েকটি মহাদেশ পৃথিবীতে উদ্ভব হয়েছে কালের পরিক্রমায় যার একেকটি টিকে ছিল প্রায় ১০ কোটি বছর। ঠিক তেমনি আজ থেকে প্রায় ৩০ কোটি বছর আগে গঠিত হয়েছিল পৃথিবীর সর্বশেষ সুপারকন্টিনেন্ট। সেই সময়ে বিষুবরেখা বরাবর পাশাপাশি জড়ো হয়েছিল পৃথিবীর সকল ভূমি। বর্তমান পশ্চিম আফ্রিকার কাছাকাছি অংশে ছিল সেই সুপারকন্টিনেন্ট এর অবস্থান। পরবর্তীতে সেই সুপারকন্টিনেন্ট ‘প্যানগায়া’ নামেই পরিচিতি লাভ করে। প্যানগায়ায় পরে ডায়নোসরের আবির্ভাব ঘটে।  

প্যানগায়া নামের রহস্যঃ প্যানগায়া শব্দটি একটি অদ্ভুত এবং প্রতীকী নাম। ১৯১২ সালে, জার্মান ভূ-তত্ত্ববিদ, আবহাওয়াবিদ ও মেরু বিষয়ক গবেষক আলফ্রেড লোথার ওয়েগনার প্রস্তাব করেন যে, বর্তমানে যে সকল মহাদেশ দৃশ্যমান রয়েছে, ৩০ কোটি বছর পূর্বে অর্থাৎ নিকট কার্বনিফেরাস যুগ পর্যন্ত তার সবকটি অবিচ্ছিন্ন মহাদেশ ছিলো। এই অবিচ্ছিন্ন মহাদেশের নাম তিনি দেন প্যানগায়া। কেন তিনি এত নাম থাকতে এই নাম দেন? প্যানগায়া গ্রিক শব্দ পঙ্গিয়া থেকে উদ্ভূত হয়, যার অর্থ “সমস্ত পৃথিবী”। আর এই নামটি এতটাই সার্থক ছিল কারণ পৃথিবীর সমস্ত ভুমি এক জায়গায় ছিল। ওয়েগনার আমাদের সামনে তুলে ধরেন প্যানগায়ার মূল রহস্য। তিনি মূলত মহাদেশীয় প্রবাহ নিয়ে গবেষণা করতেন, আর পৃথিবীর মানচিত্র পর্যবেক্ষণ করে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে এক সময় পৃথিবীর মহাদেশগুলো একত্রে ছিল যা ধীরে ধীরে একে অপরের থেকে দূরে সরে গেছে। কালের বিবর্তনে এসবের মধ্যে দূরত্বের ফারাক ক্রমে বাড়তে থাকে। এভাবেই কালক্রমে প্যানগায়া বিচ্ছিন্ন হয়ে আজকের সাতটি মহাদেশের উদ্ভব ঘটিয়েছে। তিনি এর স্বপক্ষে দেখান যে, উত্তর আমেরিকার পূর্ব তীর ও ইউরোপের পশ্চিম তীর কাছাকাছি এনে মিলালে পুরোপুরি খাপ মিলে যায়। একইভাবে সাউথ আমেরিকার সাথে আফ্রিকা এবং মাদাগাস্কার এর সাথে ভারতকে মেলালেও একই বিষয় পরিলক্ষিত হয়। ওয়েগনারের এই তত্ত্বকে বলা হয় ‘কন্টিনেন্টাল ড্রিফ্ট’ বা ‘ভাসমান ভূ-ভাগ তত্ত্ব’। যদিও তার সময়ে এই তত্ত্ব আলোর মুখ দেখেনি কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তাঁর এই “ভাসমান ভূ-ভাগ তত্ত্বের” জন্যই বিখ্যাত হয়েছেন।  এ তত্ত্বের আলোকে, পৃথিবীর উপরিভাগ কতগুলো অনমনীয় প্লেটের সমন্বয়ে গঠিত যাদেরকে বলা হচ্ছে টেকটনিক প্লেট। আর এইসব টেকটনিক প্লেট একএকটি মূলত পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গলিত পদার্থের বহিঃ আবরণ দ্বারা পাথরের স্তরে রুপান্তর হয়েছে। ভূস্তরের অভ্যন্তরে যা কিছুই রয়েছে তা এই প্লেটগুলোর ওপরে অবস্থিত বা নির্ভরশীল। টেকটনিক প্লেটগুলো একে অপরের সাথে পাশাপাশি লেগে রয়েছে। আবার প্রতিটি স্তর একাধিক প্লেটে বিভক্ত যা প্রায়ই নিজেদের মাঝে ধাক্কায় জড়িয়ে পড়ে। এই ধাক্কা কখনো মৃদু কিংবা সজোরে আঘাত প্রাপ্ত হয়। প্লেটগুলো শিলা দ্বারা গঠিত বলে মাঝে মাঝে ধাক্কায় তাদের মাঝে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয় এবং এই ঘর্ষণের মাত্রা অধিক হয়ে গেলে এক ধরনের শক্তি নির্গত হয় যা ভূস্তরকে প্রকম্পিত করে তুলে। এসব বিশাল আকারের টেকটনিক প্লেটগুলো যখন একের সঙ্গে অপরে ধাক্কা খায় তখন কেঁপে ওঠে মাটির নিচের তলদেশ, আর তখনি আমরা ভূপৃষ্ঠের ওপর ভূকম্পন অনুভব করি। গবেষণায় প্রমাণিত হয়, যেখানেই দুটো প্লেটের সংযোগস্থল রয়েছে সেখানেই ঘর্ষণ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এই সংযোগস্থলকে বলা হচ্ছে প্লেট বর্ডার। বিজ্ঞানীদের মতে, এমন একটা সময় আসবে যখন পৃথিবীর ভেতর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বর্তমান মহাদেশগুলো পুনরায় একত্রিত হয়ে যাবে। অবশ্য সেক্ষেত্রে তা দ্রুত ঘটার সম্ভাবনা ক্ষীণ, এ ধরনের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটতে সময় লাগবে নুন্ন্যতম পাঁচ থেকে ২০ কোটি বছর। তখন পুনরায় গঠিত হবে একটি একক বৃহৎ মহাদেশ বা সুপারকন্টিনেন্ট। গবেষকরা এর নাম দিয়ে রেখেছেন ‘এ্যামেশিয়া’ নামে। আর নতুন এই মহাদেশটি সংগঠিত হবে পৃথিবীর উত্তর মেরুতে অথবা পৃথিবীর উল্টো পাশে বর্তমান প্রশান্ত মহাসাগরের ঠিক মধ্যখানে।