5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

ভারতীয় এবং পাকিস্তানি ইউটিউবাররা কি নপুংসক? Are the Indian and Pakistani Youtubers Castrated?

Now Reading
ভারতীয় এবং পাকিস্তানি ইউটিউবাররা কি নপুংসক? Are the Indian and Pakistani Youtubers Castrated?

(This article is written in both Bengali and English. The English translation may differ a little from Bengali)

 

ভারত আর পাকিস্তান।

এই দুইটা দেশের সরকার আর মানুষের বরাবরই বাংলাদেশের তথা আমাদের দেশের সরকার আর মানুষদেরকে নিয়ে অতিশয় চুলকানি লক্ষ্য করা যায়। তারা সুযোগ পেলেই চেষ্টা করে আমাদেরকে কিভাবে কোন উপায়ে ছোট বা অপমান করা যায়। পাকিস্তান উপরে উপরে খুব একটা না দেখালেও তলে তলে ঠিকই আমাদের বিরুদ্ধে লেগে আছে, আজীবন লেগে থাকবে এই নষ্ট জাতি। আর ভারত? সে তো বন্ধু নামের কলঙ্ক। সে দেশের জনগণ, আর একটা প্রজন্ম তো এটাই বিশ্বাস করা শুরু করে দিয়েছে যে বাংলাদেশকে ভারত জন্ম দিয়েছে আর ৭১ এর যুদ্ধ নাকি ভারত আর পাকিস্তানের ভেতর হয়েছিল। কি মূর্খ এই জাতি যে পাশের দেশের ইতিহাসটাও ঠিক মতন জানেনা। লজ্জা! লজ্জা! নাহ, আসলে এদেরকে ঠিকভাবে জানানোও হয়না।

আবার, ওপার বাংলার দাদারাও আজকাল সুমধুর সুমিষ্ট গালি শিখে সেগুলো আবার তাদেরই বাংলাদেশের দাদাদের ওপর প্রয়োগ করে। যাইহোক, আসল কথায় ফিরে আসি, আমি এখানে ভারতীয় আর পাকিস্তানি ইউটিউবারদের নপুংসক কিংবা হিজরা বলে সম্বোধন করেছি। কেন করেছি তাইতো?? শোন কুলাঙ্গার জাতিদ্বয়ের ইউটিউবাররা, মুখে তো সম্মান দিতেই পারিস না, তাই আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া আর ইউটিউবে শুরু করেছিস যতসব টালবাহানা। কিছু কারণ আমি তোদের কে দেখায়:

১. বাংলাদেশকে অপমান করা।

একটা দেশকে অপমান করা কিন্তু অনেক লজ্জার!  লজ্জাটা অবশ্যই তোদের জন্য। তোদের দেশকে অপমান করে বা গালি দিয়ে যদি “রেন্ডিয়া” বলি, আই মিন রেপ+ইন্ডিয়া বলি, কেমন লাগবে? আর পাকিস্তান কে Fuckistan বলি, তাহলে কেমন শোনাবে? আমি চাইনা আসলে বলতে, সম্মান যেটুকু আছে, শেষ করিস না।

২। ভিডিওতে বাংলাদেশের ব্যাপারে ভুল তথ্য দিয়ে তোদের দেশের মানুষের কাছে আমার দেশটাকে ছোট করিস। তাতে করে, হচ্ছেটা কি? তোর দেশ কি উন্নতির শিখরে উঠে যাচ্ছে? ভারতীয়রা বাংলাদেশের পানি চুরি করিস, চোর বললে গায়ে লাগে? আর পাকিস্তানিরা যে আমার দেশের কলকারখানার টাকা দিয়ে ইসলামাবাদ এর রাস্তা বানিয়েছিস সেটা বললে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায়, তাইতো?

৩। খেয়াল করে দেখেছি, তোদের বস্তাপঁচা ভিডিও তোদের দেশের মানুষজন দেখেনা! কারণ সেগুলো আসলেই দেখার মত না। তাই তোরা তোদের সবচাইতে বড় হিজরামির পরিচয় দিস বাংলাদেশকে নিয়ে খারাপ কিছু ভিডিও বানিয়ে। তাতে কি হয়? নরমালি সব ভিডিওতে ২০০০ ভিউ পেলেও সেইসব ভিডিওতে বাংলাদেশীদের ভিউতে লাখ ছাড়িয়ে যায়। বিনিময়ে বাপ-মা চৌদ্দগুষ্টির নামে গালি খাস! ওহ আচ্ছা, সরি, গালি তো তোদের মুখে মিষ্টি রসগোল্লার ঝোলের মত বেয়ে পড়ে।

আসিস বাংলাদেশে, নিমন্ত্রণ রইলো। আমার দেশের মিষ্টি খেয়ে আর নিজের দেশে যাওয়ার কথা মনে থাকবেনা।

আমি সকল ভারতীয় এবং পাকিস্তানি ইউটিউবার কে বলছি, বাংলাদেশ কে নিয়ে কোনো Hateful content / ভিডিও বানানোর আগে বারবার ভেবে দেখবে নিজের দেশের কথা, নিজের দেশের মান সম্মানের কথা। কারণ তোমরা তোমাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করছো। আর আমরা যদি একবার ধরি, সারা বিশ্বের সামনে তোমাদেরকে ন্যাংটা করে ছাড়বো। আমাদের সেই ক্ষমতা আছে। কেমন??

কিছুদিন আগে ভারতীয় এক ইউটিউবার অক্ষয় ভারাগুয়া আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে ইউটিউব চ্যানেলে বাংলাদেশকে নিয়ে করা তার Hateful Content এর জন্য। সে সেটা নামিয়েও ফেলেছে। হ্যাঁ, আমরা তাকে ক্ষমাও করে দিয়েছি। তাছাড়া আজ ভিডিওতেও নাকি ক্ষমা চেয়েছে। তাকে বাংলাদেশীদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।

পাকিস্তানি, আসছি তোমাদেরকে সাইজ করতে। তোমরা হচ্ছো, এই পৃথিবীর সবচাইতে নিকৃষ্টতম জাতি।

আচ্ছা, বাংলাদেশকে নিয়ে তোমাদের এতই চুলকানি। তো এইটা ভালো কাজে ব্যবহার করতে পারোনা? আই মিন, বাংলাদেশকে নিয়ে একটা ভালো ভিডিও বানাতে পারো, নাকি? একটা দেশের মানুষের ভালোবাসা পাওয়াটা কি সৌভাগ্যের ব্যাপার না?

সময় থাকতেই বলছি, নিজেরদের চ্যানেল যদি বাচাঁতে চাও, ভালোভাবে ইউটিউবিং করতে চাও, তবে বাংলাদেশের পেছনে না লেগে নিজেদের কিভাবে উন্নত করা যায়, সেই বিষয়ে মন দাও।

বাংলাদেশীদের শত্রু না ভেবে বন্ধু ভাবো, সম্মান পাবে, ভালোবাসা পাবে। ভালো থাকো সবাই।

 

India and Pakistan:

The government and people of these two countries are seen to be very bitter about the government and people of Bangladesh. They always try to insult Bangladesh for nothing actually. Pakistan is not showing their real bastard face much above but they are always in against of us and they will carry on like this forever. What about India: the neighbor country of Bangladesh? India is a friend of ignominy for Bangladesh. The people of India and a recent generation already started to think or believe that India made Bangladesh through 1971 Indo-Pak war. How non-sense!! What an illiterate and horrible nation India is! They mean to that bullshit 13 days war at the last moment to show that the war was between India and Pakistan. Actually most of the people of India and Pakistan are not known the actual history of Bangladesh by their own government. It is a part of their International politics and this turns into discrimination between neighbor countries.

More, the people of West Bengal, India are always learning some sweet slang just to utilize those for Bangladeshi people where they have the same mother tongue.  Turning to the main point, here I mentioned the Indian and Pakistani You Tubers as castrated. Why actually?

Listen dear asshole You Tubers, you don’t know how to honor other countries people even by saying something good, so what you started? You are making meaningless and hatred contents about Bangladesh and there are some big reasons that I can say:

First point is that, you guys are trying to Insult Bangladesh in a word. Insulting a country is not modesty; it’s just a big shame for yourselves where Bangladesh can be considered as your sister. Oh! You are really shameless nations (both nation) ! Now, If I say “Rendia”- I mean Rape+India, or If I say “Fuckistan”, then how will it be sounding to you? But really I don’t want to say something like this. So, try to keep the honor that you still have.

Second fact is that, you guys are giving all the worst and wrong information about Bangladesh what seems totally cock-and-bull story!! It is just to disgrace to my nation’s honor and showing Bangladesh in a very negative aspect. Okay, listen then, what are you getting doing this? Your India or Pakistan’s economy is growing more faster than us if you do this? India, you are stealing our river water and trying to snitching us every moment. Killing people in the border like professional killer. So, who actually has the problem? And Pakistan, do you already forget that the highway roads in Islamabad are made by the money taken from Bangladesh’s mills and factories?

I have noticed that, your videos are actually hackneyed. So, your viewers never look upon that and this is the big point. What do you do here? You make hatred content for Bangladesh and try to get more and more views where you get highest 2000 views normally. It is actually a trick to attract the people from our side to have more views which prove that you guys are really castrated. I am saying to all Indian and Pakistani youtubers to think about yourselves and your country’s honor before you make abusive videos or contents against Bangladesh where you are representing your countries. If we Bangladeshi catch you doing shits about our country, believe me, we will make you nude in front of your nation even everywhere in Internet world that how horrible you really are. We have that power. I hope you guys get me what I am saying here.

Few days ago, One Indian You Tuber named Akshay Bharagua said sorry for the same reason what I am talking about. He removed the vulgar video and we Bangladeshi people showed mercy on him. He also said sorry in a video as far as we know and we thank him for doing this.

Pakistanis, we are here ready to give you Bangladeshi original bamboo in your behind. You are the one and only worst nation in the world. We don’t need too much energy to stop you. You are not even counted as mosquito to us. We don’t count you as a nation.

Tell me something, why do you have this kind of itching mentality for Bangladesh? We don’t do anything wrong with you. Isn’t it? You can give your energy for something good where you make some good videos about our nation. Believe me, you will be honored and loved by us. More, to get love from a country and country’s people is a great blessing.

Try to be good persons. It’s not that hard thing to make your You Tube channel banned by us. So, try to concentrate on how you can go ahead with your good talents.

Finally, think Bangladesh as your friend, not as a foe. Then you will get the love and honor. Wish you all the best.

একটু ঘুরে আসি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড থেকে

Now Reading
একটু ঘুরে আসি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড থেকে

বিচ্ছিন্নতার মাঝে লুকিয়ে থাকা এক অবিচ্ছিন্নতা, একতা। দূর থেকে দেখলে মনে হবে এ কেমন ক্যাম্পাস…সবকিছু আলাদা আলাদা ছন্নছাড়া! কিন্তু না, একটু কাছে গেলেই পাবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মিলিত সত্ত্বার ছোঁয়া।

সন্ত্রাসবিরোধী স্মারক রাজু ভাস্কর্য

সন্ত্রাসবিরোধী স্মারক রাজু ভাস্কর্য

টিএসসির সড়ক দ্বীপে চারদিক ঘিরে থাকে অনেক প্রাণোচ্ছলতা, ভুল শব্দে লিখে রাখা সাইনবোর্ড নিয়ে পানিপুরিওয়ালা, রঙিন বেলুন আর বেলুন হাতে ইতস্তত দাঁড়িয়ে থাকা ধূসর চোখের কিশোরটি। অনেকগুলো ধোঁয়া ওঠা চায়ের দোকান, মালাই চা…মাল্টা চা…লেবু চা…আদা চা…প্রায় বিশ থেকে পঁচিশ রকমের চা তো পাবেনই, তাই যখন ইচ্ছে মিটিয়ে নেয়া আপনার চায়ের তৃষ্ণা! স্বোপার্জিত স্বাধীনতা ভাস্কর্যটিতে চিত্রিত অত্যাচারের দৃশ্য ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে এরই এক কোণে অবস্থান করছে।

চিত্রিত অত্যাচারের দৃশ্য, 'স্বোপার্জিত স্বাধীনতা'

চিত্রিত অত্যাচারের দৃশ্য, ‘স্বোপার্জিত স্বাধীনতা’

প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন উদযাপনে মুখরিত টিএসসি অডিটরিয়াম, সামনের বারান্দায় বহু সাংস্কৃতিক কর্মশালার আহবান নিয়ে বসে থাকে একঝাঁক বিদ্যার্থী। ভেতরের ক্যান্টিন, প্রাঙ্গন, মাঠ সব ভরে থাকে আড্ডার কলকাকলিতে। ছোট ছোট পথকলিরা কিছু ফুলের মালা বা চকলেট নিয়ে ঘুরতে থাকে এদিক ওদিক, অনেকটা জোর করেই যেন গছিয়ে দিতে চায়। ফুল নিলে বা একটু কুশল শুধালে ওদের মুখের হাসিটা ফুলের কৌমার্যকেও হার মানায় যেন। সামনেই সন্ত্রাসবিরোধী স্মারক রাজু ভাস্কর্য মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে যেন সকল অশুভ থেকে টিএসসিকে আগলে রাখতে।

চারুকলা অনুষদের অভ্যন্তরে দেখা মেলে এমন অনেক ভাস্কর্যের

চারুকলা অনুষদের অভ্যন্তরে দেখা মেলে এমন অনেক ভাস্কর্যের

বামপাশ দিয়ে বাংলা একাডেমী, একুশে বইমেলার প্রাঙ্গন,অন্যদিক দিয়ে সামনে আরেকটু এগোলে আলো-ছায়ার ঘেরাটোপে থাকা চারুকলা অনুষদ। এর দেয়ালে দেয়ালেই মেলে চারুকলার শিক্ষার্থীদের সৃষ্টিশীলতার আঁচ। বাইরে চুড়ি নিয়ে বসে থাকা অক্লান্ত কিছু মুখ, চুড়ির বেসাতি এরা বয়ে আনেন প্রতিদিন নিয়ম করে, নিয়ম করেই বলে দেন কোন চুড়ি কার হাতে কেমন মানাবে; তার নিজের হাতে থাকে কয়েকগাছি মলিন থেকে মলিনতর হয়ে যাওয়া চুড়ি। আর লোকজ বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বসে থাকা উদাস করা কিছু চেহারা দৃষ্টি কেড়ে নেবেই নেবে। কারো হাতে হয়তো একটা বাঁশের বাঁশি ফুঁ দেয়ার অপেক্ষায়, কেউবা একটু দেখে নিচ্ছেন একতারা কিংবা দোতারাটাই।

জনমুখরিত টিএসসি...

জনমুখরিত টিএসসি…

কলাভবনের রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রবেশদ্বার যা খানিকটা গোলকধাঁধাঁর বোধ দিয়ে ফেলে নবাগতদের! কোনোটা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও রোকেয়া হলের মধ্য দিয়ে, কোনটি আবার অপরাজেয় বাংলার সাথে। হাকিম চত্বর,মিলন চত্বর, মল চত্বর, ভিসি চত্বর…সব চত্বরে মিলেমিশে একাকার কলাভবনের এলাকাটি।

পলেস্তারা খসা প্রায় হলদেটে দেয়াল, জানালা-দরজার কাঠের পুরনো সবুজ, বাইরের মধুদা’র আবক্ষ ভাস্কর্যে আজো শুকনো ফুলের মালা আর ভেতরের দেয়ালে লম্বা পোর্ট্রেট যেন একটি নির্দিষ্ট সময়কেই এখনো ধারণ করে আছে; এর আবহাওয়াতেই মিশে আছে প্রাচীনত্বের গন্ধ। পাশে অভিজাত ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, যার প্রাঙ্গনে প্রায়ই সমবেত হয় বাণিজ্যিক স্টলগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক সুযোগ নিয়ে।

কলাভবনের ডাকসু সংগ্রহশালা

কলাভবনের ডাকসু সংগ্রহশালা

কলাভবনের শিক্ষার্থীদের মুখে প্রায়শ ধ্বনিত নাম ‘শ্যাডো’…কবে কখন কীভাবে এর নামকরণ হয়েছে কে জানে! এই ‘শ্যাডো’ হলো মোটামুটি সরু ও লম্বা একটি গলি যার দু’ধারে কর্মকর্তা-কর্মচারী-শিক্ষকদের গাড়ী ও বিপরীতে শিক্ষার্থীদের সাইকেল রাখা জড়ো করে। খাবারের দোকান, ফটোকপির দোকান…অনেক সমৃদ্ধ জায়গা বলা চলে একে।এর কাছাকাছিই ‘ডাকসু’, সাম্যবাদিতার বাণী ও চিত্রে ভরপুর দেয়াল-স্তম্ভ নিয়ে ডাকসু ভবন, এর সিঁড়ি অতি পরিচিত সদস্য কলাভবনের। এর পেছনের অংশটা ঝোপঝাড়ে ভরা, লম্বা শেকড়ের দৃষ্টিতে অরণ্যের অনুভব নিয়ে দু’এক পা তো হাঁটাই যায়!

কলাভবন যেমন সবসময় ভীড় ঘেঁষা, জনমুখর…ঠিক তার বিপরীত নিরিবিলি হাওয়া বয় কার্জন হল আর ফুলার রোডের এলাকাতে। স্মৃতি চিরন্তন পেরিয়েই প্রবেশ ঘটে ফুলার রোডে, প্রায় ফাঁকা চলার পথ মাঝে মাঝে চোখে পড়ে ঈশা খান ও অন্যান্য আবাসিক এলাকা থেকে আগত কিছু গাড়ি। আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়লে ভুলেই যেতে হয় এর একটু দূরে আছে অত ব্যাস্ত মোড়, পথ। কেমন শান্ত সুনিবিড় জায়গা, উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা খেলছে, অলস বসে থাকা কারো কারো। সামনেই বৃটিশ কাউন্সিলের জ্ঞানচর্চার অভিজাত সীমানা, কড়া নজরদারি। আর একটু এগিয়ে গেলেই অদ্ভূত এক চত্বর, স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাস্কর্য চত্বর…শামিম শিকদারের নিপুণ হাতে গড়ে তোলা এক একটি মুখাবয়ব-অবয়ব। এই চত্বরে ঢুকে পড়লে তাদের ভীড়ে হারিয়ে যেতেই হয়, সবক’টি মুখ মনে রাখতে ইচ্ছে হয় কিন্তু পারা যায় না।

শামিম শিকদারের গড়া স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাস্কর্য চত্ত্বর...

শামীম শিকদারের গড়া স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাস্কর্য চত্ত্বর…

ভাস্কর্যের কথা উঠলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো ভাস্কর্যের নাম একবার নিতেই হয়! তিন নেতার মাজার, সপ্তশহীদ স্মৃতিস্তম্ভ, ঘৃণাস্তম্ভ, স্বামী বিবেকানন্দ ভাস্কর্য, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা, রাজু ভাস্কর্য, অপরাজেয় বাংলা…কত কত নাম! একেকটি নাম বহন করছে ইতিহাসের একেকটি খন্ডাংশ। জগন্নাথ হলের বুদ্ধমূর্তিটির কথা তো বলাই হলো না! বিশাল এই বুদ্ধমূর্তির সামনে সবার একবার হলেও দাঁড়ানো উচিত, ধ্যানগ্রস্ত বুদ্ধ যেন দর্শককেও আচ্ছন্ন করে ফেলতে চান তার ধ্যানে! ভাল লাগবে।

কলাভবন থেকে বেরুলেই হাকিম চত্ত্বর থেকে একটু দূরে গুরুদুয়ারা নানকশাহী… ইচ্ছে করলেই দেখে নিতে পারেন উপাসনালয়টি। মসজিদের পাশে কবি নজরুলের সমাধি যা দেখলেই মনে পড়ে যায় কবির শেষ ইচ্ছা, “মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই”…শুধু কবিই নন, পাশে আছে দেশের আরেক গুণী সন্তান শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের সমাধিও। আর কার্জন হলের ওদিকটাদে ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সমাধি। দেশের ইতিহাসের কারিগরেরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকাতে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।

অভিজাত কার্জন হল

অভিজাত কার্জন হল

আরেকটি সম্পূর্ণ পৃথক এলাকা হচ্ছে কার্জন হলের লালচে অভিজাত ভবনের নীরব সৌন্দর্য, শহীদুল্লাহ হলের পুকুরপাড়… সব মিলিয়ে একটি সুনসান পরিবেশ। কার্জন হলের মধ্য দিয়ে হেঁটেই পৌঁছে যেতে পারেন দোয়েল চত্বরে, দুইদিকে এত কুটিরশিল্প আর এত গাছগাছালির সমাহার যে মনে হয় প্রতিদিনই এখানে মেলা বসেছে! সন্ধ্যেবেলা দোয়েল চত্বরের দোকানগুলোর আশেপাশে হাঁটলে একটা অদ্ভূত মায়া এসে যায় রঙ বেরং এর আলোর ছায়ায়। বাঁশ, কাঠ বা মাটির তৈরি ঝুলন্ত ল্যাম্পশেডগুলোতে ওরা সন্ধ্যায় আলো জ্বালে, আর পাশের রাস্তা থেকে দেখে মনে হয় আলোর মেলা বসেছে, একঝাঁক আলো নেমেছে ঝুপ করে!

এই ক্যাম্পাসের সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এর একটি অংশের সাথে অপরটির দারুণ অমিল রয়েছে। আর এই অমিলই একে করে তুলেছে বৈচিত্রপূর্ণ ও সমৃদ্ধ। এর দেয়ালে দেয়ালে এত লেখা আর ছবি রয়েছে যে মনে হয় পথের দু’ধারে দেয়ালগুলোও কথা বলে চলছে।  ইট-সুরকি নয় শুধু, এখানে প্রতিনিয়ত প্রাণ বয়ে যায় কর্মে-আলস্যে।

দোয়েল চত্ত্বর...

দোয়েল চত্ত্বর

ঢাবির ক্যাম্পাস নিজের মধ্যেই একটি বহুমাত্রা হয়ে আছে। এর সীমানায়, বিস্তৃতিতে, স্বাতন্ত্র্যে যে কাউকেই আকর্ষণ করবে শাহবাগের বেশ বড় এলাকাজুড়ে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটি।

স্মৃতি

Now Reading
স্মৃতি

নদীর তীরটায় বসে স্টিমারগুলোর যাওয়া আসা নিরিক্ষন করছি মনোযোগ সহকারে ৷ মেয়েটা কখন এসে পাশে বসলো টেরই পাইনি ৷ পাশ ফিরতেই চমকে উঠলাম,
> তুমি এখানে? (আমি)
> সেতো দেখতেই পাচ্ছো
> এত যায়গা থাকতে আমার পাশেই বসতে হলো?
> আমার ইচ্ছা, কোন সমস্যা?
> না, তোমার যেখানে মন চায় বসো, দাড়াও, শুয়ে গড়াগড়ি খাও, আমি যাই…
বলে উঠতে যাবো, মেঘা হাত টেনে ধরে বসালো আবার ৷ হ্যা, মেয়েটার নাম মেঘা ৷ আমরা পরষ্পর ক্লাসমেট ৷ ক্লাসের সেরা সুন্দরীদের মধ্যে মেঘাও একজন ৷ আর আমি প্রিতম, বলা যায় ক্লাসের সবচেয়ে নির্বাক ছেলেটা ৷ ক্লাস ওফ থাকলে সবাই বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়, আর আমি একা একা বসে থাকি, এত শোরগোল আমার ভাললাগেনা ৷ প্রকৃতির সাথে নিরব বন্ধুত্ব ওরা বুঝবে না ৷
কিছুদিন ধরে যেখানেই যাই, মেঘা সেখানে গিয়ে আমার সাথে প্রকৃতির বন্ধুত্ব ফাটল ধরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে ৷ বিরক্তি লাগে, সেটা বোঝার চেষ্টাই করে না ৷
> ওই, কি ভাবছো? (মেঘা)
> তোমার কথা (বলে ভাবলাম, কি বললাম?)
> তাহলে ভাবো, মন দিয়ে ভাবো
> আমি আসলে ভাবছিলাম, তুমি আমায় এভাবে বিরক্ত করে কি মজা পাও?
> খুব বিরক্ত করি?
> আমার একা থাকতেই ভাল লাগে ৷ তুমি বুঝতে চাওনা কেন সেটা?
> আমি আমার উত্তর পাইনি
> কোনটার?
> খুব বিরক্ত করি?
> হ্যা (কঠোর ভাবে বললাম)
মেঘা আমার দিকে করুনভাবে তাকালো কিছুক্ষন, তারপর উঠে চলে গেল ৷
কেমন যেন একটু খারাপ লাগলো ৷ একটু ভাল করেও নিষেধ করে দিতে পারতাম ৷ না, সরি বলা দরকার ৷ কিন্তু তারপর থেকে এই তিনদিন কলেজেই আসলোনা মেঘা ৷ ওর এক বান্ধবীর থেকে বাসার ঠিকানা নিয়ে কলেজ শেষে ওর বাসায় গেলাম ৷ কলিংবেল চাপতেই একজন মধ্যবয়সী মহিলা দরজা খুলল,
> কে? (মহিলা)
> আন্টি আমি প্রিতম, মেঘার ক্লাসমেট
> ওহ, আমি মেঘার মা ৷ আসো, ভেতরে আসো
আমাকে বসতে বলে তিনি ভেতরে চলে গেলেন ৷ কিছুক্ষণ পর মেঘা আসলো ৷ নিরবে দাড়িয়ে আছে দেখে বললাম,
> সরি মেঘা, আমার ঐদিন ওভাবে বলা উচিত হয়নি
> (নিরব)
> কিছু বলবে না?
> ইটস্ ওকে
> হুম, তাহলে আজ আসি
> মা তোমার জন্য নাস্তা আনছে, একটু পরে যাও ৷ চলো তোমায় চারদিকটা ঘুরিয়ে দেখাই ৷
> ঠিক আছে
মেঘাদের বাড়িটা অনেক বড়, অনেকগুলো রুম ৷ কিন্তু মানুষ মাত্র তিনজন ৷ মেঘার রুমটাও দেখলাম ৷ বেশ সাজানো গোছানো ৷ হটাৎ মেঘার মায়ের ডাকে মেঘা আমাকে ওর রুমে বসতে বলে চলে গেল ৷ আমি বসে বসে ওর বইখাতা নাড়াচাড়া করতে লাগলাম ৷ টেবিলের উপর একটা খোলা ডায়রি দেখলাম ৷ লিখতে লিখতেই রেখে গেছে কেউ ৷ নিয়ে পড়তে লাগলাম ৷ কিছুক্ষন পর মেঘা আসলো ৷ আমার হাতে ওর ডায়রিটা দেখে কেমন যেন চুপসে গেলো ৷
> তুমি আমার ডায়রি পড়ছো কেন? (মেঘা)
> এতদুর ভাবার আগে তোমার আমার সম্পর্কে ভাল করে জেনে নেওয়া উচিত ছিল
> সেজন্যই তো কখনো দাবি করিনি (মেঘা)
> আমি যখন গ্রামে থাকতাম, আমার একটা খেলার সাথী ছিল, প্রেমা ৷ আমাদের অজান্তে ছোটবেলা থেকে আমাদের বিয়ের কথাও হয়ে ছিল আমাদের বাবা মার মধ্যে ৷ সারাদিনই একসাথে কাটতো আমাদের ৷ কিন্তু মাধ্যমিক শেষের পথে এক এক্সিডেন্টে ওর বাবা মা দুজনেই মারা যায় ৷ আর ওকে ওর মামা বিদেশে নিয় যায় তার কাছে ৷ ও চলে যাওয়ার পরই আমার জীবনে ওর অস্তিত্বটা বুঝতে পারি ৷ ভালবাসা কি যখন একটু একটু বুঝতে শিখলাম, তখন বুঝলাম আমি ওকে ভালবাসি ৷ পরে মার থেকেই জানলাম যে আমাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল ৷
> এখন সে কোথায়? (মেঘা কাঁপা গলায় বলল)
> জানিনা, চেষ্টা করেছি অনেক, কিন্তু ওর কোন খোজ পাইনি এখনো
> যদি কখনো খুজে না পাও?
> জানিনা
> প্রিতম, যদি কখনো তাকে ফিরে পাও, আমি তোমাদের মাঝে বাঁধা হবোনা কখনই
মেঘার দিকে তাকালাম ৷ কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে ৷ আমি কিছু না বলে বেরিয়ে আসলাম ৷ সেদিনের পর থেকে মেঘার সাথে টুকটাক ভালো মন্দ কথা হতে থাকে ৷ যত দিন যায়, তা বাড়তেই থাকে ৷ মেঘার কেয়ার নেওয়া, নিঃস্বার্থ ভাবে ভালবেসে যাওয়ার কাছে আমিও যেন দুর্বল হয়ে পড়ি ৷ তবু প্রেমাকে শেষ বারের মত একবার খোজার দাবি মেঘা ফিরিয়ে দেয় না ৷ কিন্তু এবারও কোন সন্ধান করতে পারলাম না ৷ পড়াশুনা শেষ করে একটা বেসরকারি কোম্পানীতে জয়েন করেছি ৷ বাসা থেকে বিয়ের চাপ দিচ্ছে, তাই মাকে মেঘার কথা বললাম ৷ তারপর পারিবারিকভাবেই আমাদের বিয়ে হলো ৷ বিয়ের তিন বছর হয়ে গেছে ৷ হ্যা, সূখেই আছি আমি ৷ আজ আরও একটা সুখের দিন ৷ আমাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা বাড়তে চলেছে ৷ কিছুক্ষণ পর নার্স এসে জানালো,
> কনগ্রাচুলেশান, আপনার মেয়ে হয়েছে
> আমি কি এখন ভেতরে যেতে পারি? (আমি)
> আজ যেতে পারবেন না
> কেন?
> অনেক কষ্টে আপনার স্ত্রীকে বাঁচানো গেছে ৷ ডাক্তার আপা না থাকলে ওনাকে বাঁচানো সম্ভব হতো না ৷ কাল পর্যন্ত ওনার কাছে যেতে পারবেন না
> ওহ, কোন ডাক্তার আপা?
> আসুন, ওনার কেবিন দেখিয়ে দিচ্ছি
> চলুন
নার্স কেবিন দেখিয়ে দিয়ে চলে গেল
> আসতে পারি? (আমি)
> আসুন
> আমি মেঘার হাসবেন্ড
> ওহ, কনগ্রাচুলেশন
> থ্যাংক ইউ, কিন্তু আমাকে ভেতরে যেতে দিচ্ছে না
> কালকের আগে যেতে পারবেন না ৷ আর দুজনেই এখন বিপদমুক্ত ৷ চিন্তার কিছু নেই
> অনেক ধন্যবাদ আপনাকে, আসি
> ওকে
উঠতে যাবো, তখনি চোখ আটকে গেলো টেবিলের উপরের নেমপ্লেটে প্রেমার নাম দেখে ৷ এবার ভাল করে তাকালাম ওনার দিকে ৷ ঘাড়ের কাছে কাটা দাগ দেখে চিনতে ভুল হলো না যে এই আমার সেই প্রেমা ৷ কি বলবো ভেবে পেলাম না ৷ নিরবেই বেরিয়ে আসলাম ৷ সাজানো জীবনটা যেন এক মুহুর্তেই এলোমেলো হয়ে গেলো ৷ দুদিনের মধ্যে আর একবারও প্রেমার সামনে গেলাম না ৷ আজ মেঘাকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি ৷ মেঘাকে গাড়িতে বসিয়ে আমি প্রেমার কেবিনে আসলাম ৷ প্রেমা জানলার পাশে দাড়িয়ে ছিল ৷ পায়ের শব্দ পেয়ে আমার দিকে তাকিয় বলল,
> কিছু বলবে? (নির্বিকার ভাবে বলল)
তুমি বলায় অবাক হয়ে তাকাতে দেখে বলল,
> তুমি আমায় চিনতে পারো, আর আমি তোমায় চিনবো না, এটা কেমন করে ভাবলে
> (নিরব)
> কেমন আছো?
> ভালই (গলাটা ধরে আসছে)
> মেঘাকে অনেক ভালবাসো, তাই না?
> হুম, বিয়ে করেছ?
> খুজে পাইনি যে তোমায়
> আমিও খুজতে কম করিনি, কিন্তু এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে
> হুম, সে দাবিও নেই আমার ৷ তবে একটা অনুরোধ রাখবে
> বলো
> মেয়ের নাম প্রেমা রাখবে?
> হুম
প্রেমা আবার জানলার দিকে ফিরে দাড়ালো ৷ আমি কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থেকে বেরিয়ে আসলাম ৷ চোখটা ভেজা অনুভব করলাম ৷ তাই মেঘার চোখে পড়ার আগেই মুছে নিলাম ৷ গাড়িতে উঠলাম ৷ মেয়েটাকে কোলে নিলাম ৷ ওর পলকহীন চোখজোড়া তাকিয়ে আছে আমার দিকে, আর আমিও ৷ গাড়ি ছুটে চলেছে দুপাশের অতীতকে পেছনে রেখা, ছুটছে আপন ঠিকানায়, জীবনের শেষ ঠিকানায়…….

দি জোয়ান অব্ আর্ক — প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার

Now Reading
দি জোয়ান অব্ আর্ক — প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার

মানব সভ্যতার ইতিহাস ক্রম পরিবর্তনের ইতিহাস।সামাজিক, রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির জন্য আন্দোলন করতে হয়েছে বারবার। এ আন্দোলনে অর্জন যেমন হয়েছে তেমনি ব্যর্থতা ও কম নয় ।এসব সংগ্রামে পুরুষের পাশাপাশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে নারীও অংশগ্রহণ করেছিল।

মুক্তি সংগ্রাম শব্দটি ব্যপক অর্থবহ।এক্ষেত্রে মুক্তি সংগ্রাম বলতে আমরা বুঝে নেব বিভিন্নভাবে বন্দীদশা থেকে নারীর মুক্তির সংগ্রাম।পারিবারিক,সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে নারী বঞ্চিত হয়েছে।তাই নারীকেও তার ন্যায্য প্রাপ্তির জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছিল।অনেক মহীয়সী নারীর বীরত্ব ও মহত্ব গাঁথায় আমাদের ইতিহাস উজ্বল হয়ে আছে।সময় এসেছে আজ অতীতের গৌরবের দিকে ফিরে দেখার।আজকের নারী যেন অতীতের মহিমাময় পটভূমিতে নিজেদের আলোকিত ও জাগ্রত করে তুলতে পারেন।দেশপ্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত দেখিয়ে গেছেন বীরাঙ্গনা অনেক মহীয়সী নারী,তাদের মধ্যে যে মহীয়সী নারী ঐকন্তিক দৃঢ়তায় সংকল্পবদ্ধ হয়ে দেশমাতৃকার জন্য আত্মাহুতি দিয়েছিলেন তিনি চট্টল গৌরব প্রীতিলতা। এই বীরচট্টলা কালের প্রেক্ষিতে সময়ের সাহসী সূর্য্ সন্তানদের বুকে ধারণ করেছে। পরাধীনতার শৃঙ্খল হতে মুক্তির ইতিহাসে যাঁর নাম চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।তাঁর এ আত্মাহুতি আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে নারীদের অংশগ্রহণে প্রেরণা জুগিয়েছে এবং অনুপ্রাণিত করছে বর্তমান নারীদেরকেও।

প্রীতিলতার সাহসী কর্মকান্ডের জন্য তাঁকে উপমহাদেশীয় জোয়ান অব্ আর্ক নামে ভূষিত করেন।

জন্ম ও পরিচয়ঃ

প্রীতিলতার জন্ম ১৯১১ সালের ৫ মে।চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রামে।এখানে জন্ম হয়েছে অসংখ্য বিপ্লবীর।ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এই গ্রাম ছিল বিপ্লবীদের প্রধান ঘাঁটি।প্রীতিলতার বাবার নাম জগদ্বন্ধু ওয়াদেদ্দার তিনি একজন তৎকারীন সিটি কর্পোরেশনের চাকুরীজীবি ছিলেন।মায়ের নাম ছিল প্রতিভাদেবী ,তিনি গৃহিণী ছিলেন।

শিক্ষাজীবনঃ

প্রীতিলতার শিক্ষাজীবনের সুত্রপাত হয় তৎকালীন সময়ের স্বনামধন্য নারী শিক্ষালয় ড: খাস্তগীর উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে।লেখাপড়ায় তিনি মেধাবী ছিলেন তারই স্বীকৃতি স্বরুপ তিনি অষ্টম শ্রেণীতে বৃত্তিলাভ করেন।১৯২৮ সালে কৃতিত্বের সাথে ১ম বিভাগে ম্যাট্রিক পাশ করে বৃত্তি নিয়ে ভর্তি হন ঢাকার ইডেন কলেজে।১৯২৯ সালে ঢাকা ইডেন কলেজ থেকে আই.এ তে মেয়েদের মধ্যে ১ম স্থান লাভ করে বিশ টাকা বৃত্তি পান।ভর্তি হলেন কলকাতার বেথুন কলেজে দর্শন বিষয়ে অর্নাস নিয়ে।প্রীতিলতা বি.এ পরীক্ষায় অংশ নেন এবং ডিস্টিংশন নিয়ে বি.এ পাশ করেন।

বিপ্লবী ও কর্মজীবনঃ

চট্টগ্রামে ফিরে এসে প্রীতিলতা নন্দনকানন স্কুলে(বর্তমান অপর্ণাচরণ স্কুল) এ প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন।

প্রীতিলতার স্বাধীনতাকামী মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হওয়ার সুত্রপাত হই তার আত্মীয় সম্পর্কের এক ভাইয়ের মাধ্যমে,পরে এই বিষয়টা আরো ত্বরাণিত হয় দীপালী সংঘের সংস্পর্শে গিয়ে।তাঁর ব্যাক্তি জীবনে একজন আর্দশ ও অনুপ্রেরণা হিসেবে ছিলেন  “উষা দি “ যার সাথে কলেজে পড়ার সময়ে পরিচয় হয়।

তখন বিপ্লবীদের একমাত্র লক্ষ্য ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদের হাত থেকে সশস্ত্র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করা।মাস্টার‘দা তখন বলেছিলেন — মেয়েদের ছাড়া কোন বিপ্লবের কথা ভাবা যায় না।শত্রুর সাথে লড়াই কঠিন-অনেক রক্তপাত,অস্ত্র সংঘর্ষ এ সবে মেয়েরা আপাততঃ যোগ দেবে না।তবে আগামিতে পারবে।সশস্ত্র সংগ্রাম ছাড়া স্বদেশের স্বাধীনতা সুদুরপরাহত সেই আর্দশকে বুকে নিয়ে প্রীতিলতা কলেজে মাস্টারদার নির্দেশে এক বিপ্লবী চক্র গড়ে তুলেন।প্রীতিলতা ও অন্য মেয়েরা বোমার খোল এনে চট্টগ্রামে বিপ্লবীদের হাতে তুলে দিতেন।এটা ছিল তাদের সাংগঠনিক কাজের একটা অংশ।

একটা সময় প্রীতিলতা লক্ষ্য করলেন যে বিপ্লবীরা ধর্মভীরু,দলের প্রতি নিষ্ঠা,আনুগত্য,বিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুশাসনেই গঠিত।বাবা মায়ের কাছ থেকে পাওয়া ধর্মশিক্ষা তাকে দেশের জন্য নিঃস্বার্থভাবে আত্মদানকে পবিত্র কর্তব্য বলে ভাবতে শিখিয়েছে।দর্শনের ছাত্রী – যুক্তি ও চিন্তার ব্যাপকতা তাঁর মধ্যে প্রোথিত।

১৯৩০ সাল।

প্রীতিলতা ছাত্রীনিবাসে বসে জানতে পারলেন যে চট্টগ্রামে বিপ্লবীরা অস্ত্রাগার লুন্ঠন,টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন অফিস ধ্বংস ও রির্জাভ পুলিশ লাইন অধিকার করে।এই ঘটনার পর তার মধ্যে আরো উন্মাদনা জাগে বিপ্লবীকাজে সক্রিয় হতে।পরে মাস্টারদার নেতৃত্বে কাজ করার সুযোগ আসল আর দলের প্রয়োজনে কল্পনা দত্তের সাথে তিনি তৈরি করলেন বোমা তৈরীর সরঞ্জাম আর গান কটন।এই কাজে আর্থিক সহায়তার জন্য তিনি নিজের গহনা দিয়ে এবং বাকিদের কাছ থেকে নিয়ে তহবিল যোগাড়ের  কাজ করেন।এই কাজে তিনি মাস্টারদার কাছ থেকে বেশ প্রশংসা পান।যা তাঁকে আরো অনুপ্রাণিত করে তুলেছিল বলা যায়।দীর্ঘদিন ধরে কল্পনা দত্ত আর প্রীতিলতা প্রত্যক্ষভাবে সংগ্রামে অংশগ্রহণ করার দাবি জানিয়ে আসছিল।অবশেষে বিপ্লবীদের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি ধলঘাটের এক গোপন আস্তানায় এক সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয় ।বাড়িটি ছিল সাবিত্রিদেবীর।তবে সেদিন ব্রিটিশ পুলিশের আক্রমণে তারা কোনমতে পালিয়ে বাঁচে আর এই ঘটনায় বিপ্লবী নির্মল সেন আর অপূর্ব সেন নিহত হলেন।

অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ…………

এ সময় প্রীতিলতা আর কল্পনা দত্তের প্রবল আগ্রহের কথা জানতে পেরে মাস্টারদা তাঁদের দুজনকে বিপ্লবীকাজে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন আর আত্মগোপনে থাকার নির্দেশ দিলেন।

১৯২৩ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর রাতে পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের পরিকল্পনা নেন এবং দায়িত্ব দেন প্রীতিলতাকে।মুহুর্তের মধ্যেই স্থির করে ফেললেন এ আহবানে তিনি সাড়া দেবেনই।জীবনে হয়তঃ মৃত্যুর যবনিকা পড়বে কিন্তু তিনি ভীত নন।

ঝাঁসির রাণী লক্ষীবাঈ যদি যুদ্ধ করতে পারেন,শত্রুর প্রাণ সংহার করতে পারেন তিনি কেন পারবেন না ? নিশ্চিত মরণ উপেক্ষা করে দেশমাতৃকার পরাধীনতার শৃংঙ্খল মোচনে দৃঢ় সংকল্প প্রীতিলতা।মনে মনে শপথ নিলেন পাহাড়তলী অভিযানে তাঁকে সফল হতেই হবে।প্রীতিলতা উপস্থিত সেনাপতি হিসেবে আর নির্দিষ্ট সংকেত পাওয়ার পর চার্জ বলার সাথে সঙ্গীরা ঝাঁপিয়ে পড়ল।মুহুর্তের মধ্যে বল নাচের পরিবর্তে ক্লাবটি রুপ নিল বিভীষিকাময় স্থানে।কান্না, চিৎকার আর দৌঁড়ঝাপ সবকিছূ মিলে সেদিনের যুদ্ধে প্রায় পঞ্চাশোর্ধ লোক হতাহত হয়।আক্রমণে নেতা সর্বাগ্রে আর প্রত্যবর্তনে নেতা পিছনে এমনই ছিল রণনীতি।সফল অভিযান শেষে সাথীরা মার্চ করে চলে যাচ্ছে।প্রীতিলতা পেছনে।হঠাৎ একটা গুলি এসে লাগল প্রীতিলতার বুকে,প্রবল রক্তক্ষরণ হচ্ছে,মাটিতে লুটিয়ে পড়ল নিথর দেহ।

ইংরেজ সৈন্যর একটা বেয়নেট এগিয়ে আসতে দেখে তিনি সঙ্গে রাখা পটাশিয়াম সায়ানাইড মুখে দিয়ে মৃত্যুকে বরণ করে নিলেন অবলীলায়।দেশের জন্য প্রাণ দিলেন চট্টল রাণী প্রীতিলতা।সৃষ্টি করলেন ইতিহাস।সেই যুগের প্রথম নারী বিপ্লবী শহীদ প্রীতিলতা রেখে গেলেন দেশপ্রেমের আর্দশ,চারিত্রিক দৃঢ়তা।

প্রীতিলতার নিজ হাতে লেখা একটা চিঠি তার মরদেহের সাথে পাওয়া যায় যাতে তিনি লিখেছেন নিজ অভিমত —-

প্রীতিলতার এই অন্তিম চিঠিখানি আমাদের আলোকবর্তিকা।প্রীতিলতার শৌর্য্,সাহস,অম্লান আর্দশনিষ্ঠা আমাদের কাছে এক অমূল্য দৃষ্টান্ত যা আমাদের অন্ধকারে বিদিশিার দিশা হয়ে থাকল।

আজ ভারতবর্ষ নেই,ব্রিটিশ শাসন নেই। স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ যেখানে শত শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জন করা স্বাধীনতার ফলটুকু আত্মসাৎ করছে কিছু মানুষ।ভোগবাদী ব্যবস্থার মূলোৎপাটন আর সামাজিক বিপ্লবের নিমিত্তে দরকার আরো একটা প্রচেষ্টার যেমনটা চেয়েছিল প্রীতিলতাসহ অন্য বিপ্লবীরা।

আজ নারীরা দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে ঘরে বাইরে।ইতিহাসের বীরসেনানী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার হয়তো আজও কোন সংগ্রামী নারীর চিত্তে সদাজাগ্রত আর বলীয়ান হয়ে নারীসত্তাকে করছে বিকশিত আর নারীশক্তির আলোকবর্তিকা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জুগিয়ে চলছে নিরন্তর।

এই মহীয়সী নারীর জন্য নিরন্তর ভালবাসা আর আকুন্ঠ শ্রদ্ধা রইল ।

বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক ও তিস্তার পানি!!!

Now Reading
বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক ও তিস্তার পানি!!!

আমাদের দেশ আর পর্শবর্তী দেশ ভারতের সাথে আমাদের রাজনৈতিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক কেমন তা আমরা দেশের মানুষ সবাই জানি নতুন করে তা জানার কিছু নেই তবে আজ যা নিয়ে লিখবো তা হলো আমাদের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা কিছু দিন আগে ভারত সফরে গিয়ে তিস্তার পানি চুক্তির কি সমাধা করলেন তার খুঁটিনাটি

সেই ১৯৭১ সাল থেকে ভারত সবসময় আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে সত্যি বলতে ভারত আমাদের দেশের পাশে ঠিক কতটা দাঁড়িয়েছে তা নিয়েই আমার সন্দেহ আছে সত্যি কি তারা সাহায্যের জন্যে পাশে এসে দাঁড়ায় নাকি ভবিষ্যৎ যতদিন আছে আমাদের শোষণ করে যাবে সেই ধান্ধা তবে ভারতের চিন্তা যাই হোক আমাদের সরকার তাদের সাথে ঠিক কেমন ব্যবহারকরছে সেটাই মূলত দেখার বিষয়

ইদানিং কালে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকাগুলো দেখলে আমরা বুঝতে পারবো ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক শান্তিপ্রিয় হয়েই আছে এই যেমন ধরুণ সন্ত্রাসবাদ দুদেশ একত্রে খুব সাহসিকতার সাথে সন্ত্রাসবাদকে বন্ধ করতে প্রায় সমান ভাবে সোচ্চার এমনকি বর্ডার দিয়ে যেন সন্ত্রাসীরা অতিক্রম করে কোন দেশের ক্ষতি করতে না পারে তাই দুদেশের সিমান্তে খুব কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এছাড়াও খুব নতুন একটা ইস্যু জঙ্গি দুদেশ এই জঙ্গিবাদ কে রুখতে একদম বন্ধুর মতো সহযোগিতা করছে আর দুদেশের মধ্যে একরকম যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে তা অত্যন্ত সুশীল

এছাড়াও প্রতিবেশী দেশ ভারত আমাদের দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কও অনেক গভীরপ্রতি বছর ঠিক যে পরিমান আমদানি রপ্তানি দুদেশের মধ্যে হয় তা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে এছাড়াও ভারতের বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিয়ালিষ্ট বাংলাদেশে ব্যপক পরিমাণে বিনিয়োগ করে যা আমাদের দেশের ইকোনমি বেশ অনেকটা প্রসারিত করেছে

তবে ভারত বাংলাদেশকে অনেকটা কোণঠাসা করে রাখতে চায় এই যেমন ধরুন বাংলাদেশ যখন সাবমেরিন কিনলো তখন ভারত অনেকটা নাক ছিটকানো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল বাংলাদেশ কেন সাবমেরিন কিনবে? বাংলাদেশের মতো ছোট দেশে সাবমেরিনের কি প্রয়োজনীয়তা আছে ইত্যাদি ইত্যাদি থেকে অনেকটা বুঝা যায় বাংলাদেশ সামরিক দিক দিয়ে উন্নত হোক এটা তারা হতে দিতে চায় না তবে আমাদের দেশ সামরিক শক্তিতে এখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী এখন অনেক শক্তিশালীএছাড়াও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর অবদান বিশ্বের দরবারে প্রশংসার দাবি রাখে

এবার চলুন বাংলাদেশের পানি নিয়ে আলোচনায় আসা যাক আমাদের দেশের ভিতর দিয়ে অসংখ্য নদী প্রবাহিত হয়ে গেছে যার মধ্যে অন্যতম এক নদী হচ্ছে তিস্তাতিস্তা নদীর উৎপত্তি হিমালয়ের সিকিমে ৭২০০ মিটার উচ্চতায় চিতামু হ্রদে এটাই মূলত তিস্তার মাতৃগর্ভএরপর এটি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অংশ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে তিস্তার মূল প্রবেশপথ নীলফামারী জেলার কালীগন্জ এছাড়াও তিস্তা বাংলাদেশের গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ছাড়াও আরো প্রায় ৩৫টি উপজেলা প্রায় সাড়ে ৫০০০ গ্রামের ভিতর দিয়ে তিস্তার শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত দেশের প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষের জীবন তিস্তাকে কেন্দ্র করে যাপিত হয় তাদের মূল কাজ কৃষি এবং এর সব ধরণের সেচ কাজ থেকে শুরু করে অন্ত পর্যন্ত পুরোটাই তিস্তার পানির ওপর নির্ভর করে অতিবাহিত হয় তবে বাংলাদেশ এই তিা্তা নদীর ঠিক যতটুকু পানি পায় ভারত তার চেয়ে বেশি পানি নিজেদের হিসেবে দাবি করে এবং এটা নিয়েই ভারতের সাথে আমাদের দেশের মূল অমিল

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায় সর্বপ্রথম ১৯৮৩ সালে তিস্তার পানি নিয়ে দুই দেশে আলোচনা শুরু হয় বাংলাদেশ তিস্তা নদীর পানির প্রায় ৩৬ শতাংশ ভারত প্রায় ৩৯ শতাংশ দাবি করে বাকী পানি টুকু সংরক্ষিত হিসেবে রেখে মোটামুটিভাবে আলোচনা ধামা চাপা রিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয় এদিকে ভারত তিস্তা নদীতে বাঁধ দিতে থাকে যদিও আলোচনা শুরুর আগেই কিছু বাঁধ ভারতে তিস্তা নদীতে ছিল সর্বমোট প্রায় ১০ টি বাঁধ রয়েছে গোটা ভারতে শুধুমাত্র তিস্তা নদীতেই তবে ভারতের শেষ বাঁধ জলপাঁইগুড়ির গজলডোবা এলাকায় যা বাংলাদেশের ভিতর পানি প্রবেশ একেবারে প্রায় বন্ধ করে দেয়ার মতো অবস্থা করে রেখেছে

এরপর থেকে এই ইস্যু নিয়ে ভারতের সাথে আমাদের সরকারের অল্পসল্প দরকষাকষি হতেই থাকে২০০৭ সালে ভারত বাংলাদেশ সমান দাবি নিয়ে মোটামুটি প্রায় ৮০ শতাংশ পানি বন্টনের কথা হয় এবং বাকিটা সংরক্ষণে রাখার দাবি করে দুইদেশকিন্তু এই সিদ্ধান্তে বাধা জানায় মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায় নিজেভারতের মন্ত্রীসভার অনেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা পোষণ করেএসব করে ভারত আবার চুক্তি প্রায় বাতিল করে দেয় এবং আলোচনা আবার পুরো বন্ধ হয়ে যায়

এরপর ২০১১ সালে এক অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির কথা তোলে ভারতযাতে মোটামুটিভাবে ১৫ বছরের স্থায়ী কিছু সিদ্ধান্তের কথা আলোচনায় আনা হয়যেখানে বলা হয় ভারত তিস্তার ৪২. শতাংশ বাংলাদেশ প্রায় ৩৭. শতাংশ পানি পাবে এবং বাকিটুকু সংরক্ষণ হিসেবে রাখা হবে।  কিন্তু একইভাবে মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায় পুনরায় বিরোধীতা করেযেখানে ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত প্রায় পুরো সময়টাতেই বাংলাদেশের মানুষজনকে এই তিস্তার পানির উপর নির্বর করতে হয়।  বাংলাদেশের প্রায় ২৭৫০ বর্গ কিলোমিটার জমি এই তিস্তা নদী বেষ্টন করে আছেদেশের প্রায় এক লক্ষ হেক্টর জমিতে যে কৃষি চাষ হয় তা পুরোতাই তিস্তার পার্শবর্তী এবং পুরোপুরিভাবে তিস্তার পানির ওপরে নির্ভর করেই কৃষিচাষ হয়ে থাকে

এই যখন দুদেশে পানি বন্টনের অবস্থা তখন তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সরকার অবশ্যই পিছপা হবে নাতিস্তার পানি অবশেষে কোথায় গিয়ে পড়ে এটাই এখন দেখার বিষয়আপনাদের মতামত অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন

ছবি সূত্রঃ গুগল

আমি “তাদের” মতো হতে চাই।

Now Reading
আমি “তাদের” মতো হতে চাই।

ছোটবেলায় বাবাকে তার দিন শুরু করতে দেখতাম পেপার দিয়ে৷ আস্তেআস্তে কখন যেন নিজের মধ্যেও এই অভ্যাসটা ঢুকে গেল টের ও পেলামনা৷ তখন খবর মানে ছিলো টুকটাক সব খবর মজা করে পড়া, যেটাকে বলে স্বেচ্ছায় খবর জানত‌ে চাওয়ার জন্য খবরের কাগজ পড়া। এক কাপ গরম চা ন‌িয়‌ে পেপার পড়ার স‌েই মূহুর্তটা ছ‌িলো দ‌িন‌ের সবচ‌ে প্র‌িয় সময়। এখন‌ো খুব ম‌িস কর‌ি!

এখন ক‌েমন য‌েন সব বদল‌ে গেল‌ো হঠাৎ কর‌ে। সেই মানুষগুল‌ো বদল‌ে গ‌েলো; ঘর বদল‌ে গ‌েলো; খু্ব অবাক হয়‌ে দ‌েখলাম স‌েই পেপারের খবর গুল‌োও ক‌েমন বদল‌ে গেল‌ো। দ‌িন ক‌ে দ‌িন জঘন্য থ‌েকে এত‌ো জঘন্যতর হত‌ে লাগল‌ো য‌ে আর ন‌িত‌ে না প‌েরে পেপার পড়াই বন্ধ কর‌ে দ‌িলাম। তত‌োদ‌িন‌ে ফ‌েসবুক‌ের সদর্প আগমন। খবর না জানত‌ে চাইল‌েও না জ‌েনে উপায় ন‌েই! এই বাজ‌ে, জঘন্য, মন খারাপ করা খবরগুল‌োর ভীড়‌ে ভাল‌ো খবর গুল‌ো কই য‌েন হার‌িয়‌ে গ‌েলো। এখন দ‌িন শুরু হয় ওসব মন খারাপ করা ছব‌ি সহ খবর দ‌েখে; দ‌িন শ‌েষ হয় ওসব খবরের ব্যর্থ আপড‌েট দ‌েখে। ন‌িজ‌েকে হতাশ লাগ‌ে। ক‌ি কারন‌ে এমন হয়‌ে গ‌েলো ক‌ে জান‌ে! পার‌িবার‌িক বন্ধন গুল‌ো ক‌েমন ঠুনক‌ো হয়‌ে গ‌েলো। পরিবারের সবাই ম‌িল‌ে এক সাথ‌ে খ‌েতে বসার যে আনন্দ তা য‌েন ক‌োথায় হার‌িয়ে গ‌েছে। “শ্রদ্ধাব‌োধ” ব্যাপারটা য‌েন এখন শুধু বইয়ের মধ্য‌ে খুঁজ‌ে পাওয়া যায়। “বন্ধুত্ব” মান‌ে য‌েন উশৃঙ্খলতা প্রকাশ‌ের আর‌েক নাম।”য‌ৌনতা” হয়‌ে গ‌েছে হ‌িংস্রতার আর‌েক নাম। “বিনোদন” হয়ে গেছে স্যাটেলাইটের সিরিয়াল গুলো নির্ভর। পুরো পরিবার নিয়ে লুডু বোর্ডে বা ক্যারাম বোর্ডে সময় কাটানো যেন বা ব্যাকডেটেড কিছুর নামান্তর। কাকে কে কি দোষ দেবে?

পারিবারিক শিক্ষার দোষ দিয়ে একতরফা ভাবে চাপিয়ে দেয়াটাও ভুল হবে। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাব বলে পুরোপুরি পাশ কাটানোও যাবেনা,কেননা সেখানেও প্রশ্ন জাগে,ঐ প্রভাবে প্রভাবিত হতে বলেছিল কে? তাহলে? ব্যাপারটা ভাববার বিষয় তো অবশ্যই। বাঙ্গালি আমরা, স্বভাবতই নিজের দোষ দেখবোনা, কাউকে না কাউকে, কিছু না কিছুকে তো দায়ী করেই ছাড়বো। তাই তো ধর্ষনের মতো ব্যাপারেও সাফাই গাইবো ধর্ষিতার ড্রেস আপ নিয়ে।হোক সে হিজাব পরিহিতা, বা হোক সে পাঁচ বছরের শিশু। “বিচার চাই” বলে শাহবাগে আবার আরেক দফা আন্দোলন হবে কিছুদিন। তারপর…… সেই পুরনো উক্তি, “বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে” বলে যে যার জায়গায় পুনরায় ফিরে যাওয়া। এই তো হয়ে আসছে,তাই না?

নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে ভুগতে সবাই কেমন যেন ছা পোষা কেরাণী টাইপ হয়ে যাচ্ছি, যা হয় হোক, মেনে নিচ্ছি। কেন মেনে নিচ্ছি? কেন সজাগ হয়েও ঘুমিয়ে থাকার ভান করছি? শান্তি তে থাকা যদি এর কারন হয় তো সেই শান্তিতে থাকতে কি পারছি আদৌ? ভাবার বিষয়, ভাবছি। লেখার বিষয়,লিখছি। পড়ার বিষয়, পড়ছি। কিন্তু এই বিষাক্ত সমস্যাটা থেকে সমাধানের কোন পথ কেউ খুঁজে পাচ্ছিনা। দুর্নীতি আমাদের জীবনযাপনে এমন ভাবে ঢুকে গেছে যে আমাদের “নীতি” শব্দটার উপরে অবিশ্বাস চলে আসছে। অন্যায় হলে থানা পুলিশের কাছে স্বাভাবিক ভাবে যেতেও আমাদের অনীহা, “কি হবে গিয়ে?” তারচেয়ে ভালো, মেনে নাও, মেনে নাও। বিবেক কে জোর করে ঘুম পাড়িয়ে চোখের সামনে ঘটে যাওয়া অন্যায়গুলোকে আমরা না দেখার ভান করে পাশ কাটিয়ে যাই। পারলে,সুযোগ বুঝে অপরাধস্হলে ঘটনা ঘটাকালীন মূহুর্তকে স্মরনীয় করে রাখতে কিছু সেলফি তুলে তাজা তাজা ফেসবুকে আপলোড করে দেই কিছু লাইক পাবার আশায়। তবু ঝুঁকি নিয়ে সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করিনা, পাছে নিজেই না আবার বিপদে পড়ি।

এভাবেই সবাই হয়ে পড়ছি আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপর এক সুশিক্ষিত জাতি,যারা কিনা আর কিছুকে দোষ না দিতে পারলে নিজেদের রাজনৈতিক নেতা নেত্রীদের দোষ দিতে খুব ভালোবাসি। “ঐ আমলে ভালো ছিলাম” বলে চিল্লাচিল্লি আর গলাবাজি করে আসর জমাতে আমাদের জুড়ি নেই। তবু প্রতিবাদটা নিজের থেকে শুরু করবোনা! হতাশায় ভুগছে পুরো জাতি।

এরমধ্যেও আশার কথা হাতেগোনা কিছু মানুষ তাদের সাধ্যমতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করছেনা। কি পাবো,কি পাবোনা- সেই কুটিল হিসাব না কষে তাৎক্ষনিক ভাবে হাজির হয়ে যাচ্ছে নিজেদের তল্পিতল্পা সহ, “যা থাকে কপালে” ভাব নিয়ে। একটু হলেও যদি কারো কোনও উপকারে আসতে পারে এই ভেবে তারা নিজেদের পাশাপাশি একটা বাহিনীও তৈরী করে ফেলেছে,যারা এখন চাইলে এখনি কোন দুর্ঘটনায় ঝাঁপিয়ে পড়তে রাজি। আমি আর আমার মতো হতাশাবাদী খবর বিমুখ মানুষগুলো আবারো একটু আশাবাদী হই। আবার আমাদের স্বপ্ন দেখানেওয়ালারা নিজেদের স্বপ্নকে আমাদের সাথে এক করে প্রমান করতে চাইছে যেন ওরাও তো আধুনিক কালেরই মানুষ,ওরাও তো একই পথে হাঁটে, একই মেয়েদের সাথে চলে,কথা বলে, বন্ধু হয়। কিন্তু শুধু বন্ধুত্বের চোখেই দেখে। ওরা প্রমান করে দিতে চাইছে যেন, বিনোদন মানে নির্দোষ বিনোদন, নতুন কোন জায়গা ঘুরে আসা;ঘরে বসে বস্তাপচাঁ টিভি সিরিয়াল দেখা নয়। বন্ধুত্ব মানে বন্ধুর প্রয়োজনে জান বাজি রাখা;উশৃঙ্খলতা নয়। যৌনতা মানে একে অপরের ইচ্ছার প্রাধান্য দেয়া, হিংস্রতা নয়। ওদের জন্য আবার আমার খবরের কাগজ পড়ার ইচ্ছা জাগে। আবার আশাবাদী হই। আবার ভাবতে ভালো লাগে যে কোথাও বিপদে পড়লে তাদের আমি পাশে পাবোই। আমারও খুব ইচ্ছা করে তাদের মতো খুব সাহসী হতে। দেশটাকে একটু হলেও এগিয়ে দিতে সামান্য হলেও ভুমিকা রাখতে। ওরা কারা? যারাই হোক- সশ্রদ্ধ সালাম।

কেবলমাত্র সিভি’তে বাংলাদেশী লিখলে হবে না, হৃদপৃন্ডের মধ্যখানে রক্ত কণিকা দ্বারা লিখে নিতে হবে আমি ‘বাংলাদেশি’

Now Reading
কেবলমাত্র সিভি’তে বাংলাদেশী লিখলে হবে না, হৃদপৃন্ডের মধ্যখানে রক্ত কণিকা দ্বারা লিখে নিতে হবে আমি ‘বাংলাদেশি’

“আত্মার সাথে মাতৃভূমির নিবিড় ভাবে সু-সম্পর্ক স্থাপন করার নাম’ই হচ্ছে দেশপ্রেম”

১- বর্তমানে চলার পথে দেখা যায়, একদল জ্ঞানী ব্যক্তি অন্য একদল অজ্ঞানী ব্যক্তি কে তার ভূল ত্রুটির কারণে বলে থাকে যে, “এই হচ্ছে আমাদের বাঙ্গালীদের দোষ” এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে এই যে, যদি কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে থাকে তবে তার দায় বর্তানোর কথা ঐ অজ্ঞ ব্যক্তি বা ব্যক্তি বর্গের। কিন্তু জ্ঞানী ব্যক্তি সম্পূর্ণ দায় ভার’ই দিয়ে দিলো বাঙ্গালী জাতীর উপর, যা ঐ জ্ঞানী ব্যক্তির দেশপ্রেম কে ক্ষুন্ন করে, শুধু তাই নয় বাংলাদেশ কে বিশ্বের দরবারে হীন করে এবং লুন্ঠিত করা হয় বাংলার পদমর্যাদাকে।

হে জ্ঞানী আপনি যদি প্রকৃত পক্ষেই জ্ঞানী হয়ে থাকেন, আপনি যদি সত্যিই সচেতন ব্যক্তি হয়ে থাকেন, আপনি যদি নিতান্তই বাংলাদেশ কে সোনার বাংলায় পরিণত করতে চান তবে আপনার উক্তি এবং কার্যাদি হতে হবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষে, দেশের ভাবমূর্তি কে নষ্ট করার প্রত্যয়ে না।

২-বর্তমান বিশ্বে ক্রিকেট একটি জনপ্রিয় খেলা। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ কে এক সুমহান মর্যাদার স্থান তৈরি করে দিয়েছে। যে সুবাদে ‘বিসিবি’ দেশের প্রতিভাবান খেলোয়ার আবিষ্কারের লক্ষে বাংলাদেশ প্রিমিয়ারলীগ(বিপিএল) এর আয়োজন করে, যেখানে বাংলাদেশের বিভাগ অংশগ্রহণ করে থাকে। ঢাকা, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, কুমিল্লা ও রংপুর ইত্যাদি।কিন্তু এই বিপিএল নিয়েই আমাদের যত জড়তা তা হচ্ছে, আমরা নিজেদের ভিতরে ভেদাভেদ সৃষ্টি করে দেই। নিজ নিজ বিভাগের হয়ে ঢাকা, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, কুমিল্লা ও রংপুর নিয়ে ভিন্নতা সৃষ্টি করে দেই। কেউ কেউ বলি ঢাকার অবদান বেশি, কেউ বলি বরিশাল বড়, কেউ বা বলি চট্টগ্রাম শ্রেয়। আবার এ ও বলে থাকি তামিম চট্টগ্রামের ছেলে, সাকিব মাগুরার, মাশরাফি নড়াইলের, আশরাফুল-তাসকিন ঢাকার, মোসাদ্দেক ময়মনসিংহের, মুশফিক বগুড়ার, ছাব্বির রাজশাহীর ও মুস্তাফিজ সাতক্ষীরার।

দেখুন আমরা সামান্য বিপিএল এ এই এসব মহান ব্যক্তিদের কে ভাগাভাগি করে নেই। বিপিএল এর মূল লক্ষ হচ্ছে বাংলাদেশ কে তথা বাংলাদেশ দল কে এগিয়ে নেওয়ার, ভাগাভাগির জন্য না। তামিম-সাকিব-মাশরাফি-আশরাফুল-তাসকিন-মুশফিক-মোসাদ্দেক-মুস্তাফিজ ও ছাব্বির শুধু চট্টগ্রাম, মাগুরা, নড়াইল, ঢাকা, বগুড়া, ময়মনসিংহ, সাতক্ষীরা ও রাজশাহীর নয়, তারা সমগ্র বাংলার তথা তারা সবাই বাংলাদেশী। তারা আমাদের দেশের এক একজন লড়াকু সৈনিক। কিন্তু আমরা তাদের বিভাজন করে ফেলি।

এই কি আমাদের দেশপ্রেম….??? এই কি আমাদের স্বদেশ প্রেম….??? ব্যাপার গুলো কি সত্যিই হাস্যকর নয়….?

আমরা সকলই একে অপরের পরিপূরক। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, কর্ণফুলী, কীর্তনখোলা, গড়াই, আত্রাই ও ধ্বলেশ্বরী সব মিলিয়েই বাংলা, শুধু পদ্মা, মেঘনা, যমুনাই বাংলা নয়।

৩-ইট, বালু, খোয়া, সিমেন্টের সংমিশ্রণে তৈরি হয় একটি সু-উচ্চ বহুতল ভবন। যারা প্রত্যেকেই প্রত্যেক কে আঁকড়ে ধরে রাখে,একে অপর কে জটিল ভালোবাসায় মধুর মিলনে শত শত বছর যাবৎ সাক্ষী হয়ে আছে দন্ডায়মান রুপে। তদ্রুপ আমরা বাঙ্গালী আমরা ও আমাদের কে ইট, বালু, খোয়া, লোহা ও সিমেন্টের ন্যায় গঠন করি, গড়ে তুলি জটিল ভালোবাসা আর মধুময় সংমিশ্রণ। যা অবশ্যই বিশ্বের মানচিত্রে আমাদের কে, আমাদের বাংলাদেশ কে সোনার বাংলায় বাস্তব রুপে রুপান্তরিত করবে। প্রত্যেকটি গ্রাম, উপজেলা, জেলা, বিভাগ শুধু মাত্র স্থানের নামকরণের জন্য। আমরা প্রত্যেকেই বাঙ্গালী, প্রত্যেকেই বাংলাদেশি। আমাদের কে একত্রিত হতে হবে “একতাই বল ” সেই ভাব সম্প্রসারণ কে এখন বাস্তবে সম্প্রসারিত করতে হবে। দেশপ্রেমিক হতে হলে অবশ্যই একত্বাবাদ সৃষ্টি করতে হবে।

৪- একজন মায়ের কাছে ফেলানি, রাজন, সাইফ, আদনান, তমাল, হিমেল, তনু, তাশফিয়া, জান্নাত, মৌ যেমন সমান, তদ্রুপ বাংলার প্রত্যেকটি স্বত্বার কাছে বাংলাদেশ কে সমান ভাবতে হবে, তবেই তো দেখা মিলবে সেই প্রকৃত চিরাচরিত দেশপ্রেম। শুধু পদ্মা সেতু নির্মাণে ১০০ টাকা দিয়ে দেশপ্রেমিক হওয়া যায় না। রহিম মিয়ার বাড়ির সামনে বয়ে যাওয়া খালের উপর ভাঙ্গা সাঁকো নির্মাণে এগিয়ে যাওয়াও দেশপ্রেম। করিম মিয়ার পুকুরের মাছ বন্যায় ভেঁসে যাচ্ছে তার সাথে পুকুরে জাল দিয়ে ঘিরে দেওয়াও দেশপ্রেম। ছোট বেলায় পড়েছিলাম ক্ষুদ্র হতেই বৃহৎ এর উৎপত্তি, ঠিক তেমনি ছোট ছোট কাজের মাধ্যমেই নিজেকে দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলা যায়।

৫- একজন প্রবাসীর কাছে জিজ্ঞেস করুন দেশের মায়া, মমতা, ভালোবাসা কতটুকু? তা সে খুব সহজেই বুঝতে পারে,বাংলার অভাব পূরণে তাই তো সে কয়েক মাইল দূরুত্ব অতিক্রম করে একজন বাঙ্গালীর কাছে ছুটে চলে যায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। সেই দেশপ্রেমের টানে। একজন সন্তারের তার মায়ের প্রতি যেমন ভালোবাসা থাকে, ঠিক তেমনি দেশের প্রতি ও একই ভালোবাসা থাকা উচিত। মায়ের আদর, স্নেহ, বাঁধা, নিষেধ, হুকুম, শাসন আমরা যে ভাবে ভালোবাসি, আর প্রত্যেকটি স্তরকে যথাযথ ভাবে যেমনি মূল্যায়ন করি প্রাণপণ চেষ্টার মাধ্যমে, তদ্রুপ দেশপ্রেমিক হতে হলে দেশের সর্ব স্তরে নিজের ভূমিকা থাকা বাঞ্চণীয়।

৬-দেখুন তো মনে আছে কি’ না….? জীবনে কত সহস্রবার বলেছিলাম “আমি শপথনামা করছি যে নিজেকে সর্বদা স্বদেশ প্রেমে নিয়োজিত রাখবো” আসলে ঐ বাক্যটি ছিল আমাদের মুখস্থ বিদ্যা। স্যারের বেত্রাঘাতের ভয়ে ঐ লাইন গুলো মগজে ধারণ করেছিলাম শুধু মাত্র সেদিন, যদি স্যারের ভয়ে মুখস্থ না করে স্বদেশের জন্য নিজে দু’টি লাইন বা বাক্য লিখতে পারতাম তাহলে হয়তোবা আজ আমরা উদ্যমের সাথে বলতে পারতাম আমি দেশপ্রেমিক। দেশ কে আর না হলে ও দু’টি বাক্য উপহার দিতে পেরেছি।

৭-আবার অনেক ভাই বলে থাকে, বাংলাদেশ আমাদের কি দিয়েছে….??? তাদের কাছে আমার উত্তর একটাই, আপনি আগে তালিকা করুণ বাংলা আপনাকে, আমাদেরকে কি না দিয়েছে..? এক কথায় বলতে গেলে বাংলা পূর্ণতার একটি থলে, শুধু মাত্র নিয়ন্ত্রণ এবং আমাদের কার্যবিধির কারণে বাংলা আজ পিছিয়ে। আমরা যদি প্রত্যেকেই প্রত্যেকের স্থান থেকে নিয়ন্ত্রণাধীন ভাবে চলি এবং কার্যবিধি গুলো সঠিক ও স্বচ্ছ ভাবে পালন করি তবেই আপনার আমার বাংলা এগিয়ে যাবে দুর্বার গতিতে।

♥ভালোবাসা রইলো অফুরন্ত, কোটি বাঙ্গালীর আঙিনায় ♥

দেশপ্রেম কি শুধু মুখেই? কতটুকু দেশপ্রেমিক আমরা?

Now Reading
দেশপ্রেম কি শুধু মুখেই? কতটুকু দেশপ্রেমিক আমরা?

দেশপ্রেম কথাটা আমরা সবাই শুনেছি।

তবে আসল কথা হল এর প্রকৃত অর্থ আমরা অনেকেই জানি না।একটা শব্দের অর্থ কখনোই সামান্য হয় না।আর তা যদি হয় ‘দেশপ্রেম’! তবে এর অর্থ হবে একেবারেই অন্যরকম। কারণ আপনি শুধু কথায় নয় কাজে পরিণত করে দেখাতে হবে আপনার মাঝে থাকা দেশপ্রেমকে।আর যদি তা পারেন,তবেই আপনাকে বলা হবে একজন দেশপ্রেমিক।আর আপনার এই দেশপ্রেমই পারে আপনার দেশকে এগিয়ে নিতে।

আজকাল দেশপ্রেমিক শব্দটা একটি ট্যাগে পরিণত হয়েছে।যে কেউ নিজেকে দেশপ্রেমিক বলে দাবি করে বসে। যদিও বাস্তব জীবনে তার কাজে কর্মে এর বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় না।সবাই নিজের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার কথা বলে ফেসবুকের কমেন্ট বক্সে।কিন্তু দিনে একটি কাজ দেশ ও দেশের মানুষের মঙ্গল এর জন্য করেছে এমন মানুষ পাওয়া ধীরে ধীরে মুস্কিল হয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের দরকার কেবল মুখে আর লেখায় নয় কাজের মাধ্যমে দেশের জন্য কাজ করা।দেশপ্রেমে বলিয়ান হয়ে দেশের মাঝে নিজেদের মাঝে এক ঐক্যের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

অনেক তো সমালোচনা করলাম সে সকল লোকদের যারা মুখে নিজে দেশকে বদলানোর কথা বলে কিন্তু বাস্তবে এর পুরো উল্টো। আসুন দেখা যাক আমাদের দেশকে আমরা কেমন ভালোবাসি আর আমাদের দেশপ্রেম কতটুকু।

একটা সাধারণ উদাহরণই দিই।আপনারা প্রায় সবাই দেখেছেন বর্তমান ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এর একটি প্রকল্প ছিল রাস্তার পাশে মিনি ডাস্টবিন স্থাপন করা।আর এর জন্য প্রায় ৩০০০ এর বেশি মিনি ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়।এ কাজটি আমার মতে একটি অসাধারণ পদক্ষেপ ছিল।আমাদের শহরকে পরিষ্কার রাখার জন্যে এর খুবই প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন অনেকেই।তবে আফসোস এর বিষয় বেশির ভাগ লোকই ডাস্টবিনের ব্যবহার জানলেও তার উপযুক্ত ব্যবহার না করে ময়লা ফেলল ওই রাস্তার উপর।মজার ব্যাপার ডাস্টবিনগুলো স্থাপনের মাত্র কয়েক দিন পর এগুলোর কয়েক ভাগ চুরি হয়ে গেল।হায়রে দেশ আমার।তখনই মনে আসে কবির সেই কথা,

“সাত কোটি সন্তানের মুগ্ধ জননী,        রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করো নি”

তবে আমার দেখা অনেকেই একটু কষ্ট করে হলেও কয়েক পা এগিয়ে মিনি ডাস্টবিনের ব্যবহার করেছেন।তবে এতেই তাদের পুরো কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে বলে আমি মনে করি না।আমাদের উচিত ছিল যারা রাস্তায় না বুঝে এসব ময়লা ফেলে তাদের দেখলে ওই ময়লা কষ্ট করে পাশের ডাস্টবিনটিতে ফেলার জন্য বিনীত অনুরোধ করা।অনেকেই বলবেন ভাই এটা করে লাভ নাই।তবে ভাই আমার মতে লাভ না হলেও দিন শেষ ঘুমানোর আগে এটার স্বস্তিতে থাকতে পারব যে আজ অন্তত একটা ভালো কাজ দেশের জন্য করেছি।

সামান্য ডাস্টবিন ব্যবহারের উদাহরণ দিয়েছি।অনেকেই একমত হবেন আবার অনেকেই কিছু ত্রুটির কথা জানাবেন।আমার মতে যদি আপনি ত্রুটি দেখতে পান তবে তা অবশ্যই আমাদের মেয়র অথবা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাতে পারেন।আমার দেখা মতে আমাদের বর্তমান মেয়ররা যথেষ্ট চেষ্টা করছে শহরটাকে ঠিক করার।

যাক এই টপিক।আমাদের মাঝে আসলেই দেশপ্রেমটা কম।তা না হলে পর পর তিনবার দুর্নীতিতে আর যাই হোক চ্যাম্পিয়ন হতাম না।বাদ দেই এসব কথা।অতীতকে নিয়ে কান্না করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা সরু না করাই ভালো।

তবে আশার বিষয়কে আজ তরুণ প্রজন্মের অনেকেই দেশে বাইরে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করছে।দেশের জন্য কিছু করতে চাইছে অথবা করছে।আর যখন আপনি দেশের জন্য কিছু করছেন তা অবশ্যই মানুষের জন্যও করা হয়।আর এটাই হলো মানবতা।তাহলে বুঝতেই পারছেন দেশপ্রেমের মহত্ত্ব।

বর্তমান সময়ে বিশেষ কোনো দিনে যেমন একুশে ফেব্রুয়ারি,২৬শে মার্চ,১৬ই ডিসেম্বর এর দিনগুলোতে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানকে শহীদ মিনার,স্মৃতিসৌধ এসব জায়গায় নিয়ে যায়।তাদের বেশির ভাগই মনে করে এতে সন্তানের কাছে দেশপ্রেম জাগ্রত হবে।হবে তবে অন্যরকম এক দেশপ্রেম।আর তা হলো এই দিনগুলোতে শুধুমাত্র ঘুরতে যাবার জন্য ওই সব যায়গা ঘুরে আসা।কারণ যদি দেশের জন্য কাজ করাই না শিখে তবে এসবের মূল্য বৃথা।

দেখতেই পারছেন নতুন প্রজন্মের কিছু নমুনা আজকাল।এক এক এলাকায় আজ ছোট ছোট বাচ্চাদের ‘গ্যাং’ নামক জিনিষটা প্রায় ট্রেন্ড হয়ে গিয়েছে।আর এই গ্যাংগুলোর মধ্যে মারামারির ফল হলো প্রাণ ঝড়ে পড়া।কি শিখেছে তারা?কি শিখানো হয়েছে তাদের?তাদের এই কর্মকান্ডের দায় কি তাদের পরিবার এড়িয়ে যেতে পারে?না কখনোই না।কারণ আজ যদি তাদের বাবা মা তাদের সামনে দেশপ্রেমের উদাহরণ রাখতো তবে তারা এই পথে যাবার কথা ভাবতো না।

প্রজন্মের অনেকেই আজ দেশকে নিয়ে ভাবাকে একঘেয়েমি বলে মনে করে।তবে বিশেষ দিনে ঠিকই পৌছে যায় বিশেষ স্থানে একটা সেলফি তোলার জন্য।এইকি পূর্বের সন্তানদের আত্নত্যাগের মূল্য?

এখনই সময় পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে দেশের প্রতি কাজ করার জন্য নৈতিক শিক্ষা প্রদান করার।কেবল প্রশাসন এর ভুল না ধরে তাদের সাহায্য করার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার লক্ষ্যই পারে এ দেশকে বিশ্বের মাঝে এক রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে।আপনি কি চান না অন্য দেশে গিয়ে নিজেকে ‘বাংলাদেশি’ বলে গর্ব বোধ করতে?অবশ্যই চান বলে আমি মনে করি।

তবে আজই চেষ্টা করে দেখুন দেশের জন্য কিছু করার।মনে শান্তি না পেলে জানাতে ভুলবেন না কিন্তু।

Samsung galaxy s5 vs Iphone 7

Now Reading
Samsung galaxy s5 vs Iphone 7

তখন সম্ভবত আমি ক্লাস টেন এ পড়ি। বয়সও খুব বেশি একটা নাহ। আমার বাবার তেমন টাকাও ছিলো নাহ, তবে ঢাকার কয়েকটা নামকরা স্কুল কলেজে পড়িয়েছেন আমাকে । আমাদের স্কুলের প্রায় সবাই নিজের গাড়ি করেই আসতো ,আর আমি যেতাম রিক্সা বা টেম্পু করে। মাঝে মাঝে পায়ে হেটেই যেতাম। আমাদের স্কুলটা কম্বাইন্ড ছিলো। তাই ছেলে মেয়ে সবার সাথেই ভালো সম্পর্ক ছিলো আমার।

তখন পড়ালেখা ছাড়াও আরো একটা জিনিস খুব ভালো লাগতো । একটা মেয়ের ব্যবহার । হুম্ম তার ব্যবহারই ভালো লাগতো,যদিও সে ক্লাসের সবচেয়ে সুন্দরি ছিলো। তবে তার ব্যবহারটাই ভালো লাগতো। সবাই জানত সেই ক্লাস ৯ থেকে আমি তাকে ভালোবাসি ,কিন্তু আমি কোনদিন প্রকাশ করি নাই। সেও বুঝতো ,বুঝতো না যে তা নাহ।আল্লাহ্‌ হয়তো সব মেয়েদের এই গুন দিয়েই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন।তাকে নিজের ভালো লাগার কথাটা বলি সেই ক্লাস টেন এ থাকতে(কেউ ভুল বুঝবেন নাহ, কারন ছোট ছিলাম আর সবাই কম বেশি কাউকে না কাউকে ভালোবেসেছি বিয়ের আগে বা পরে। তাই এটা প্রাকৃতিক বিষয়।)   ।তখন Samusng Galaxy S5 বের হয়। সে আমার কাছে জানতে চায়, Samusng Galaxy S5 দাম কত? আমি তাকে দাম বলি। সে বলে তাকে একছেলে অনেক পছন্দ করে,ছেলেটা নিজের খরচ নিজে বহন করে, আর এই ফোনটা সেদিন নাকি কিনেছে। আমি তাকে বলি “ওয়াও” (কিছু বলার মতোও ছিলো নাহ। কারন সেই মুহূর্তে আমার বাবাও এই ফোন কিনতে গেলে ১০ বার চিন্তা করবে। আর আমি তো ……) সেদিন সে চলে যায়। আমাদের কয়দিন পরেই পরীক্ষা শুরু হয়। আমি গোন্ডেন এ+ নিয়েই পাস করি। সে আর আমাদের কলেজে ভর্তি হয় নাহ। এরপর কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করলাম ।

এরপর বাংলাদেশের চিরচেনা যুদ্ধ, সবাই যেটাকে ভর্তি যুদ্ধ বলে চিনি। কোথাও চান্স পেলাম নাহ। ভর্তি হলো জাতীয় ভার্সিটির অধীনের পরিচালিত এক ল’কলেজে। কারন নিজের পড়ালেখাই এই বেহাল দশা দেখে পড়ালেখার প্রতি মন উঠেই যায়, চিন্তা করলাম ব্যবসা করবো। কিন্তু আমার বাবা অন্তত এই অবস্থায় আমাকে এই কারনে টাকা দিবে নাহ। তাই এক মামার উপহার দেওয়া গিটারটা বিক্রি করে দিলাম । নিজের মাথায় আসলো টি শার্ট বানিয়ে নিজেই বিক্রি করবো। এক ছোট ভাইকে ফাঁপর মারলাম, যে আমি পারি করতে , তোমার কোন কলেজ বা স্কুলের প্রোগ্রাম এ টি শার্ট লাগলে আমাকে বলবা। হাস্যকর হলেও সত্য প্রথম কাজ পাই ২০০পিস টি শার্টের। সে বার যা লাভ হয় এর কিছু টাকা বাবাকে দেই, আর কিছুটা নতুন কিছু করার জন্য রেখে দেই। কিছু দিন পর আরো কিছু বড় বড় কাজের অডার পাই। আর তারা আমার কাজে খুব সন্তুষ্ট। এরপর ৩ মাস করার পর অন্য কাজে মন দেই । গতমাস এ বাবাকে একটা আইফোন ৭ উপহার দেই। তার খুশি দেখে নিজের কষ্ট গুলোই ভুলে গেছি।

সেদিন আমার সেই বন্ধুর সাথে দেখা। অনেকটা কাকতালীয় ভাবেই। তাকে আমার চিন্তে অনেক কষ্ট হলেও সে আমাকে চিনে ফেলে। কথা বলার এক পর্যায়ে তার বিএফ এর কথা জানতে চাইলাম। সে বলল সে চাকুরি খুজছে, পেলেই বিয়ে করবে। সেদিন বিল দিয়ে চলে আসলাম। ভাবতে অবাক লাগে, বেশি দিন হয় নাই। তবে অনেক বেশি পরিবর্তন হয়ে গেছে সবকিছু। জীবন কারো জন্য থেমে থাকে নাহ ।

আমাদের সৃষ্টিকর্তা আমাদের ভাগ্য লিখে দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু যদি আমি ঘরে বসে থেকে ছিন্তা করি আমি ভাত খাবো, তাহলে ভাত কিন্তু হবে নাহ। নিজের রান্নাঘরে গিয়ে চুলায় আগুন দিয়ে চাল,পানি দিয়ে ভাত রান্না করতে হবে। তাই এতো গুলো গল্পের পিছনে এটাই বলব, যে যেখানে আছেন নিজের কাজ নিজের মেধার সব কিছু উজাড় করে দিয়ে কাজ করবেন , সাফল্য পিছনে না ঘুরে নিজের কাজটা সঠিক ভাবে করার কথা ভাবেন। সাফল্য আপনার পিছনে ঘুরবে। পৃথিবীতে কেউ সম্পূর্ণ ঠিক নাহ,আমাদের ঠিক করে নিতে হয়। আমাদের কারো ভাগ্য বিল গেটস এর ছেলে মেয়ের মতো নাহ , যে অন্তত ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের মালিক। কিন্তু বিল গেটস এর তার জীবনে অনেক কষ্ট করেছে,যা কল্পনার বাহিরে। সে তার ভাগ্যকে নতুন করে ছাঁচ দিয়েছে। তাই আজ সে বিল গেটস।

একাডেমিক শিক্ষা এবং আমাদের জীবন

Now Reading
একাডেমিক শিক্ষা এবং আমাদের জীবন

আমরা এমন একটা দেশে বাস করি যেখানে আপনি কতটুকু ক্রিয়েটিভ সেটা দেখা হয় না বরং দেখা হয় আপনি কতটুকু মেমরিতে লোড নিতে পারেন। যার ফলে পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার সাথে সাথে কি পড়ালেখা করছি তার প্রায় অনেকটুকুই হারিয়ে যায় মাথা থেকে। এইখানে আপনাকে চাপিয়ে দেওয়া হয় আপনার পিতা-মাতার স্বপ্নগুলো। দারুন, আপনাকে কষ্ট করে আর নতুন কিছুর চিন্তা করতে হয় না, আপনি ডিফল্ট ভাবে পেয়ে যাচ্ছেন আপনাকে কি করতে হবে। কিন্তু কথা হল আপনার আসলেই সেই কাজটা করার ইচ্ছা আছে কিনা তা জানার কারো সময় নেই। আপনাকে স্কুলের প্রথম দিনেই মাথায় ডুকিয়ে দেওয়া হয় প্রথম হওয়ার চিন্তা। স্কুলটা হল শিখার জায়গা, কিন্তু না, আপনাকে প্রথম হতে হবে। আচ্ছা চিন্তা করে দেখেন তো কোন একটা ক্লাসে আপনার অংক স্যারের অংকটা বুঝতে পারলেন না। এটা আপনার প্রায় হয়ে থাকে। আপনি বুঝতে পারেন না অংক। কিন্তু আপনাকে তো পরীক্ষায় প্রথম হতে হবে। ফলে আপনি যে মেথডটা বেছে নেন তা  হল অংক মুখস্ত করা। এইখানেই ভুল টা। আপনি যে অংকটা বুঝতে পারেননি সেটার কারণ কি হতে পারে? আপনার ক্লাসে মনযোগ ছিলনা, কিন্তু ক্লাসে মন কখন থাকে না? নিশ্চয় যখন পড়াটা আমাদের মজা লাগেনা। দেখেন, যখন ক্লাসে গল্প করা হয় তখন কিন্তু আপনি ঠিকই মন দিয়ে গল্প শুনেন। তাহলে সেই অংক ক্লাসে আপনার মন ছিলনা কেন? নিশ্চয় স্যারের প্রেজেন্টেশন আপনার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছিল। আপনি ঠিক মজা পাচ্ছিলেন না স্যারের প্রেজেন্টেশনে।  এই জায়গায় আসে প্রাইভেট এবং কোচিং এর ব্যাপারটা। এইগুলোকে অনেকেই ব্যাবসা হিসেবে নেয়। সবাইকে তো আর একই পাল্লায় মাপা যায় না কারণ সবাইতো আর একরকম না, তাই সবাইকে একই সুতায় রেখে বিবেচনা করাটা অন্যায়। কিন্তু ক্লাসে সেই সময়, যখন আপনি অংকটা বুঝতে পারছিলেন না তখনই ছিল স্যারের আসল কাজ। কারণ, যখন একজন ছাত্র একটা পড়া বুঝতেছেনা তখন আমাকে বুঝতে হবে যে, নিশ্চয় আমার বলার বা বুঝানোর মধ্যে সমস্যা আছে, তাহলে আমাকে নিশ্চয় আমার বলার বা বুঝানোর মেথডটা পরিবর্তন করতে হবে। আমাদেরকে ঠিক এভাবেই চিন্তা করা দরকার। বাইরের দেশে পড়ে এইরকম অনেকের কথা আমি শুনেছি যেখানে শিক্ষক অনেক বেশি চিন্তা করে যে উনার লেকচারটা সবাই বুঝতে পারছে কিনা, যদি না পারে তিনি অন্য কোন উপায় অবলম্বন করেন বুঝানোর জন্য। বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি (১৫৬৪-১৬৪২) একবার একটা কথা বলেছেন-“You cannot teach a man anything; you can only help him discover it in himself” যার বাংলা করলে অর্থ দাঁড়ায়, আপনি কাউকে কোন কিছু শিখাতে পারেন না, আপনি তাকে সেটা নিজে নিজেই অনুধাবন করার জন্য সাহায্য করতে পারেন মাত্র। আসলেই, আমরা কাউকে কোন কিছু শিখিয়ে দিতে পারিনা, শুধুমাত্র তাকে নিজে নিজে ব্যাপারটা বুঝার জন্য সাহায্য করতে পারি। তাহলে কেন জিপিএ-৫ এর এই দৌড়? মানুষ এখনো জিপিএ-৫ এর মধ্যেই আবধ্য। কিছুদিন আগে আমাদের দেশে একটা ফেলোশিপ এর রিক্রুটমেন্ট দেখলাম, যেখানে একজন পুরুষ ও একজন মহিলা সুযোগ পাবেন উচ্চ বেতনে রিসার্চ করার। সেখানে যোগ্যতা হিসেবে চাওয়া হয়েছে, দুইটি জিপিএ-৫ এবং স্নাতকে সিজিপিএ ৩.৭০। যারা বেশি জিপিএ পাই শুধু কি তারাই সবথেকে বেশি জানে? আমাদের উচিৎ এইরকমের চিন্তাধারা বাদ দেওয়া। এইভাবেই যদি চলতে থাকে দেখা যাবে মেধা শক্তি বলতে আমাদের আর কিছুই থাকবেনা। যারা প্রকড় মেধাবী তারা এই দেশে আর থাকবেনা। তারা যখন বাইরের দেশে নিজের দেশ থেকে বেশি সুযোগ পাবে তারা কেনই বা এইদেশে আসবে? এইদেশে কি তাদের মেধাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে? এইখানে শুধু চাপিয়ে দেওয়া হয় ব্যাগ ভর্তি বই।

দিন দিন পাশের হার বাড়তেই আছে, বাড়ছে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা। কিন্তু এইসব জিপিএ-৫ কি বাইরের দেশের সাথে ঠিকে থাকতে পারবে? একবার জার্মানিতে বাংলাদেশী একজন মাস্টার্স করার জন্য যায়। প্রথমদিন প্রফেসর সবার সাথে পরিচিত হচ্ছেন। এক এক করে সবাই নাম আর নিজের পরিচয় দিচ্ছেন। একসময় বাংলাদেশী ছাত্রটি নিজের পরিচয় দিলেন। বাংলাদেশ নাম শুনেই প্রফেসরের কেমন জানি আগ্রহ বেড়ে গেল। উনি বললেন- “গতবছর আমাদের ইউনিভার্সিটিতে অনেক এপ্লিকেশন এসেছিল বাংলাদেশ থেকে”। এই কথাটি শুনার পরপরই বাংলাদেশী ছাত্রটির খুব খুশী লাগল কারণ বাইরের দেশের মানুষের কাছে নিজের দেশের নাম শুনতে কার না ভাল লাগে!! কিন্তু পরক্ষনেই প্রফেসর বলতে শুরু করলেন-“এপ্লিকেশন গুলো বাঁচাই করতে আমাদের অনেক বেগ পেতে হয়েছিল, কারণ প্রায় সবার সমান যোগ্যতা ছিল, প্রায় সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল এইচএসসি পরীক্ষায়। আচ্ছা, তোমাদের সেখানে এত বেশি জিপিএ-৫ কেন? তোমাদের এইচএসসি পরীক্ষা সম্পর্কে একটু বলবে?” এই কথাটা শুনার পরপরি বাংলাদেশী ছাত্রটার মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল, তিনি চিন্তা করলেন এইসএসসি পরীক্ষা সম্পর্কে আবার কি বলবেন! এইবার চিন্তা করে দেখুন তো যেই হারে এই জিপিএ-৫ এর সংখ্যাটা বাড়ছে একসময় কি বাইরের দেশের দরজা বাংলাদেশীদের জন্য কি বন্ধ হয়ে যাবে না?

বর্তমানে বাংলাদেশের জাহাজিরা অনেক কষ্ট পাচ্ছেন বাইরের দেশে। বাংলাদেশী জাহাজিদের তেমন একটা গণ্য করা হচ্ছে না। কারণ, সবাই শুধু নতুন নতুন মেরিন একাডেমি করতেই ব্যাস্ত, কারণ সবাই উচ্চ জীবন যাপনের আশায় এই পেশায় আসতে চায় কিন্তু বাইরের দেশে জাহাজিরা যেই সব সমস্যার মুখোমুখি হন সেগুলো সমাধান করার জন্য কেউ ভাবেন না। বাংলাদেশী পাসপোর্টধারী জাহাজিদের বিদেশে সাইন ইন, সাইন আউট করতে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক জায়গায় তো বাংলাদেশীদের রিক্রুটও করা হয় না। এইসব সমস্যা একদিনে সৃষ্টি হয় নি। কিন্তু কথা হল যারা সিস্টেম পরিচালনায় আছেন তারাই এই ব্যাপারগুলোকে গুরুত্ব দেন না কারণ তারা শুধু নিজের চিন্তাতেই ব্যাস্ত। নতুন নতুন এত এত একাডেমির এপ্রোভাল না দিয়ে আমাদের উচিৎ আগে এই সেক্টরে যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো সমাধান করা। আমাদের সমস্যা হল আমাদের চিন্তায়। আমাদের চিন্তা করার ধরণটা পরিবর্তন করা দরকার। আমাদের উচিৎ শুধু নিজের ব্যাপারে না দেখে সমাজ ও দেশের প্রতি নিজের কর্তব্য সম্পর্কে চিন্তা করা। আমরা  সাধারণত সমস্যাকে সামনে থেকে দেখি, কিন্তু আমার কেন জানি মনে হয় সমস্যাকে ঠিক তার উপর থেকে দেখা উচিৎ। কারণ যখন পাশ থেকে দেখি শুধু একটা নির্দিষ্ট এরিয়া দেখতে পাই, কিন্তু যখন আমরা উপর থেকে দেখি তখন অনেকটা এরিয়া নিয়ে ব্যাপারটা কল্পনা করা যায়, যার ফলে যে সমস্যাটা সমাধান করা হয় সেটার সাইড ইফ্যাক্টটা কি হতে পারে সেটার একটা চিন্তা চলে আসে মাথায় আর তখনই সেই সব সাইড ইফ্যাক্ট এর ও সমাধান হয়ে যায়।

সুতরাং বলা যায় আমরা একাডেমিক যে শিক্ষা পাই সেটা তখনি পারফেক্ট হয় যখন সেই শিক্ষা আমাদের মনকে প্রভাবিত করে, দেশের প্রতি একটা ভালোবাসার সৃষ্টি করে, দেশের এবং দেশের মানুষের প্রতি একটা দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করে। এই ব্যাপার গুলো যে সাধারনত জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্ররাই পারে তা কিন্তু নয়। সেজন্য জিপিএ-৫ কে শিক্ষার মাপকাঠি হিসেবে চিন্তা করাটা বোকামি। যতসব পার্থক্য মনে হয় আমাদের দেশেই, এইখানে সরকারি চাকরি নাকি প্রাইভেট চাকরি, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নাকি প্রাইভেট, অফিসার নাকি ক্লার্ক, গোল্ডেন নাকি সিল্ভার এইসব বিষয়ে চিন্তা করা হয়। যার কারণে মানুষের মনের মধ্যে সামাঞ্জস্য থাকেনা। কিন্তু আয়ারল্যান্ডে আপনি কি  অফিসার নাকি ক্লার্ক, ডাক্তার না ইঞ্জিনিয়ার তা চিন্তা করা হয় না। কাজ কাজই। মানুষের চিন্তাধারা অনেক বড় একটা ব্যাপার দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য।

Page Sidebar