আমি “তাদের” মতো হতে চাই।

Now Reading
আমি “তাদের” মতো হতে চাই।

ছোটবেলায় বাবাকে তার দিন শুরু করতে দেখতাম পেপার দিয়ে৷ আস্তেআস্তে কখন যেন নিজের মধ্যেও এই অভ্যাসটা ঢুকে গেল টের ও পেলামনা৷ তখন খবর মানে ছিলো টুকটাক সব খবর মজা করে পড়া, যেটাকে বলে স্বেচ্ছায় খবর জানত‌ে চাওয়ার জন্য খবরের কাগজ পড়া। এক কাপ গরম চা ন‌িয়‌ে পেপার পড়ার স‌েই মূহুর্তটা ছ‌িলো দ‌িন‌ের সবচ‌ে প্র‌িয় সময়। এখন‌ো খুব ম‌িস কর‌ি!

এখন ক‌েমন য‌েন সব বদল‌ে গেল‌ো হঠাৎ কর‌ে। সেই মানুষগুল‌ো বদল‌ে গ‌েলো; ঘর বদল‌ে গ‌েলো; খু্ব অবাক হয়‌ে দ‌েখলাম স‌েই পেপারের খবর গুল‌োও ক‌েমন বদল‌ে গেল‌ো। দ‌িন ক‌ে দ‌িন জঘন্য থ‌েকে এত‌ো জঘন্যতর হত‌ে লাগল‌ো য‌ে আর ন‌িত‌ে না প‌েরে পেপার পড়াই বন্ধ কর‌ে দ‌িলাম। তত‌োদ‌িন‌ে ফ‌েসবুক‌ের সদর্প আগমন। খবর না জানত‌ে চাইল‌েও না জ‌েনে উপায় ন‌েই! এই বাজ‌ে, জঘন্য, মন খারাপ করা খবরগুল‌োর ভীড়‌ে ভাল‌ো খবর গুল‌ো কই য‌েন হার‌িয়‌ে গ‌েলো। এখন দ‌িন শুরু হয় ওসব মন খারাপ করা ছব‌ি সহ খবর দ‌েখে; দ‌িন শ‌েষ হয় ওসব খবরের ব্যর্থ আপড‌েট দ‌েখে। ন‌িজ‌েকে হতাশ লাগ‌ে। ক‌ি কারন‌ে এমন হয়‌ে গ‌েলো ক‌ে জান‌ে! পার‌িবার‌িক বন্ধন গুল‌ো ক‌েমন ঠুনক‌ো হয়‌ে গ‌েলো। পরিবারের সবাই ম‌িল‌ে এক সাথ‌ে খ‌েতে বসার যে আনন্দ তা য‌েন ক‌োথায় হার‌িয়ে গ‌েছে। “শ্রদ্ধাব‌োধ” ব্যাপারটা য‌েন এখন শুধু বইয়ের মধ্য‌ে খুঁজ‌ে পাওয়া যায়। “বন্ধুত্ব” মান‌ে য‌েন উশৃঙ্খলতা প্রকাশ‌ের আর‌েক নাম।”য‌ৌনতা” হয়‌ে গ‌েছে হ‌িংস্রতার আর‌েক নাম। “বিনোদন” হয়ে গেছে স্যাটেলাইটের সিরিয়াল গুলো নির্ভর। পুরো পরিবার নিয়ে লুডু বোর্ডে বা ক্যারাম বোর্ডে সময় কাটানো যেন বা ব্যাকডেটেড কিছুর নামান্তর। কাকে কে কি দোষ দেবে?

পারিবারিক শিক্ষার দোষ দিয়ে একতরফা ভাবে চাপিয়ে দেয়াটাও ভুল হবে। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাব বলে পুরোপুরি পাশ কাটানোও যাবেনা,কেননা সেখানেও প্রশ্ন জাগে,ঐ প্রভাবে প্রভাবিত হতে বলেছিল কে? তাহলে? ব্যাপারটা ভাববার বিষয় তো অবশ্যই। বাঙ্গালি আমরা, স্বভাবতই নিজের দোষ দেখবোনা, কাউকে না কাউকে, কিছু না কিছুকে তো দায়ী করেই ছাড়বো। তাই তো ধর্ষনের মতো ব্যাপারেও সাফাই গাইবো ধর্ষিতার ড্রেস আপ নিয়ে।হোক সে হিজাব পরিহিতা, বা হোক সে পাঁচ বছরের শিশু। “বিচার চাই” বলে শাহবাগে আবার আরেক দফা আন্দোলন হবে কিছুদিন। তারপর…… সেই পুরনো উক্তি, “বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে” বলে যে যার জায়গায় পুনরায় ফিরে যাওয়া। এই তো হয়ে আসছে,তাই না?

নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে ভুগতে সবাই কেমন যেন ছা পোষা কেরাণী টাইপ হয়ে যাচ্ছি, যা হয় হোক, মেনে নিচ্ছি। কেন মেনে নিচ্ছি? কেন সজাগ হয়েও ঘুমিয়ে থাকার ভান করছি? শান্তি তে থাকা যদি এর কারন হয় তো সেই শান্তিতে থাকতে কি পারছি আদৌ? ভাবার বিষয়, ভাবছি। লেখার বিষয়,লিখছি। পড়ার বিষয়, পড়ছি। কিন্তু এই বিষাক্ত সমস্যাটা থেকে সমাধানের কোন পথ কেউ খুঁজে পাচ্ছিনা। দুর্নীতি আমাদের জীবনযাপনে এমন ভাবে ঢুকে গেছে যে আমাদের “নীতি” শব্দটার উপরে অবিশ্বাস চলে আসছে। অন্যায় হলে থানা পুলিশের কাছে স্বাভাবিক ভাবে যেতেও আমাদের অনীহা, “কি হবে গিয়ে?” তারচেয়ে ভালো, মেনে নাও, মেনে নাও। বিবেক কে জোর করে ঘুম পাড়িয়ে চোখের সামনে ঘটে যাওয়া অন্যায়গুলোকে আমরা না দেখার ভান করে পাশ কাটিয়ে যাই। পারলে,সুযোগ বুঝে অপরাধস্হলে ঘটনা ঘটাকালীন মূহুর্তকে স্মরনীয় করে রাখতে কিছু সেলফি তুলে তাজা তাজা ফেসবুকে আপলোড করে দেই কিছু লাইক পাবার আশায়। তবু ঝুঁকি নিয়ে সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করিনা, পাছে নিজেই না আবার বিপদে পড়ি।

এভাবেই সবাই হয়ে পড়ছি আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপর এক সুশিক্ষিত জাতি,যারা কিনা আর কিছুকে দোষ না দিতে পারলে নিজেদের রাজনৈতিক নেতা নেত্রীদের দোষ দিতে খুব ভালোবাসি। “ঐ আমলে ভালো ছিলাম” বলে চিল্লাচিল্লি আর গলাবাজি করে আসর জমাতে আমাদের জুড়ি নেই। তবু প্রতিবাদটা নিজের থেকে শুরু করবোনা! হতাশায় ভুগছে পুরো জাতি।

এরমধ্যেও আশার কথা হাতেগোনা কিছু মানুষ তাদের সাধ্যমতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করছেনা। কি পাবো,কি পাবোনা- সেই কুটিল হিসাব না কষে তাৎক্ষনিক ভাবে হাজির হয়ে যাচ্ছে নিজেদের তল্পিতল্পা সহ, “যা থাকে কপালে” ভাব নিয়ে। একটু হলেও যদি কারো কোনও উপকারে আসতে পারে এই ভেবে তারা নিজেদের পাশাপাশি একটা বাহিনীও তৈরী করে ফেলেছে,যারা এখন চাইলে এখনি কোন দুর্ঘটনায় ঝাঁপিয়ে পড়তে রাজি। আমি আর আমার মতো হতাশাবাদী খবর বিমুখ মানুষগুলো আবারো একটু আশাবাদী হই। আবার আমাদের স্বপ্ন দেখানেওয়ালারা নিজেদের স্বপ্নকে আমাদের সাথে এক করে প্রমান করতে চাইছে যেন ওরাও তো আধুনিক কালেরই মানুষ,ওরাও তো একই পথে হাঁটে, একই মেয়েদের সাথে চলে,কথা বলে, বন্ধু হয়। কিন্তু শুধু বন্ধুত্বের চোখেই দেখে। ওরা প্রমান করে দিতে চাইছে যেন, বিনোদন মানে নির্দোষ বিনোদন, নতুন কোন জায়গা ঘুরে আসা;ঘরে বসে বস্তাপচাঁ টিভি সিরিয়াল দেখা নয়। বন্ধুত্ব মানে বন্ধুর প্রয়োজনে জান বাজি রাখা;উশৃঙ্খলতা নয়। যৌনতা মানে একে অপরের ইচ্ছার প্রাধান্য দেয়া, হিংস্রতা নয়। ওদের জন্য আবার আমার খবরের কাগজ পড়ার ইচ্ছা জাগে। আবার আশাবাদী হই। আবার ভাবতে ভালো লাগে যে কোথাও বিপদে পড়লে তাদের আমি পাশে পাবোই। আমারও খুব ইচ্ছা করে তাদের মতো খুব সাহসী হতে। দেশটাকে একটু হলেও এগিয়ে দিতে সামান্য হলেও ভুমিকা রাখতে। ওরা কারা? যারাই হোক- সশ্রদ্ধ সালাম।

কেবলমাত্র সিভি’তে বাংলাদেশী লিখলে হবে না, হৃদপৃন্ডের মধ্যখানে রক্ত কণিকা দ্বারা লিখে নিতে হবে আমি ‘বাংলাদেশি’

Now Reading
কেবলমাত্র সিভি’তে বাংলাদেশী লিখলে হবে না, হৃদপৃন্ডের মধ্যখানে রক্ত কণিকা দ্বারা লিখে নিতে হবে আমি ‘বাংলাদেশি’

“আত্মার সাথে মাতৃভূমির নিবিড় ভাবে সু-সম্পর্ক স্থাপন করার নাম’ই হচ্ছে দেশপ্রেম”

১- বর্তমানে চলার পথে দেখা যায়, একদল জ্ঞানী ব্যক্তি অন্য একদল অজ্ঞানী ব্যক্তি কে তার ভূল ত্রুটির কারণে বলে থাকে যে, “এই হচ্ছে আমাদের বাঙ্গালীদের দোষ” এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে এই যে, যদি কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে থাকে তবে তার দায় বর্তানোর কথা ঐ অজ্ঞ ব্যক্তি বা ব্যক্তি বর্গের। কিন্তু জ্ঞানী ব্যক্তি সম্পূর্ণ দায় ভার’ই দিয়ে দিলো বাঙ্গালী জাতীর উপর, যা ঐ জ্ঞানী ব্যক্তির দেশপ্রেম কে ক্ষুন্ন করে, শুধু তাই নয় বাংলাদেশ কে বিশ্বের দরবারে হীন করে এবং লুন্ঠিত করা হয় বাংলার পদমর্যাদাকে।

হে জ্ঞানী আপনি যদি প্রকৃত পক্ষেই জ্ঞানী হয়ে থাকেন, আপনি যদি সত্যিই সচেতন ব্যক্তি হয়ে থাকেন, আপনি যদি নিতান্তই বাংলাদেশ কে সোনার বাংলায় পরিণত করতে চান তবে আপনার উক্তি এবং কার্যাদি হতে হবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষে, দেশের ভাবমূর্তি কে নষ্ট করার প্রত্যয়ে না।

২-বর্তমান বিশ্বে ক্রিকেট একটি জনপ্রিয় খেলা। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ কে এক সুমহান মর্যাদার স্থান তৈরি করে দিয়েছে। যে সুবাদে ‘বিসিবি’ দেশের প্রতিভাবান খেলোয়ার আবিষ্কারের লক্ষে বাংলাদেশ প্রিমিয়ারলীগ(বিপিএল) এর আয়োজন করে, যেখানে বাংলাদেশের বিভাগ অংশগ্রহণ করে থাকে। ঢাকা, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, কুমিল্লা ও রংপুর ইত্যাদি।কিন্তু এই বিপিএল নিয়েই আমাদের যত জড়তা তা হচ্ছে, আমরা নিজেদের ভিতরে ভেদাভেদ সৃষ্টি করে দেই। নিজ নিজ বিভাগের হয়ে ঢাকা, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, কুমিল্লা ও রংপুর নিয়ে ভিন্নতা সৃষ্টি করে দেই। কেউ কেউ বলি ঢাকার অবদান বেশি, কেউ বলি বরিশাল বড়, কেউ বা বলি চট্টগ্রাম শ্রেয়। আবার এ ও বলে থাকি তামিম চট্টগ্রামের ছেলে, সাকিব মাগুরার, মাশরাফি নড়াইলের, আশরাফুল-তাসকিন ঢাকার, মোসাদ্দেক ময়মনসিংহের, মুশফিক বগুড়ার, ছাব্বির রাজশাহীর ও মুস্তাফিজ সাতক্ষীরার।

দেখুন আমরা সামান্য বিপিএল এ এই এসব মহান ব্যক্তিদের কে ভাগাভাগি করে নেই। বিপিএল এর মূল লক্ষ হচ্ছে বাংলাদেশ কে তথা বাংলাদেশ দল কে এগিয়ে নেওয়ার, ভাগাভাগির জন্য না। তামিম-সাকিব-মাশরাফি-আশরাফুল-তাসকিন-মুশফিক-মোসাদ্দেক-মুস্তাফিজ ও ছাব্বির শুধু চট্টগ্রাম, মাগুরা, নড়াইল, ঢাকা, বগুড়া, ময়মনসিংহ, সাতক্ষীরা ও রাজশাহীর নয়, তারা সমগ্র বাংলার তথা তারা সবাই বাংলাদেশী। তারা আমাদের দেশের এক একজন লড়াকু সৈনিক। কিন্তু আমরা তাদের বিভাজন করে ফেলি।

এই কি আমাদের দেশপ্রেম….??? এই কি আমাদের স্বদেশ প্রেম….??? ব্যাপার গুলো কি সত্যিই হাস্যকর নয়….?

আমরা সকলই একে অপরের পরিপূরক। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, কর্ণফুলী, কীর্তনখোলা, গড়াই, আত্রাই ও ধ্বলেশ্বরী সব মিলিয়েই বাংলা, শুধু পদ্মা, মেঘনা, যমুনাই বাংলা নয়।

৩-ইট, বালু, খোয়া, সিমেন্টের সংমিশ্রণে তৈরি হয় একটি সু-উচ্চ বহুতল ভবন। যারা প্রত্যেকেই প্রত্যেক কে আঁকড়ে ধরে রাখে,একে অপর কে জটিল ভালোবাসায় মধুর মিলনে শত শত বছর যাবৎ সাক্ষী হয়ে আছে দন্ডায়মান রুপে। তদ্রুপ আমরা বাঙ্গালী আমরা ও আমাদের কে ইট, বালু, খোয়া, লোহা ও সিমেন্টের ন্যায় গঠন করি, গড়ে তুলি জটিল ভালোবাসা আর মধুময় সংমিশ্রণ। যা অবশ্যই বিশ্বের মানচিত্রে আমাদের কে, আমাদের বাংলাদেশ কে সোনার বাংলায় বাস্তব রুপে রুপান্তরিত করবে। প্রত্যেকটি গ্রাম, উপজেলা, জেলা, বিভাগ শুধু মাত্র স্থানের নামকরণের জন্য। আমরা প্রত্যেকেই বাঙ্গালী, প্রত্যেকেই বাংলাদেশি। আমাদের কে একত্রিত হতে হবে “একতাই বল ” সেই ভাব সম্প্রসারণ কে এখন বাস্তবে সম্প্রসারিত করতে হবে। দেশপ্রেমিক হতে হলে অবশ্যই একত্বাবাদ সৃষ্টি করতে হবে।

৪- একজন মায়ের কাছে ফেলানি, রাজন, সাইফ, আদনান, তমাল, হিমেল, তনু, তাশফিয়া, জান্নাত, মৌ যেমন সমান, তদ্রুপ বাংলার প্রত্যেকটি স্বত্বার কাছে বাংলাদেশ কে সমান ভাবতে হবে, তবেই তো দেখা মিলবে সেই প্রকৃত চিরাচরিত দেশপ্রেম। শুধু পদ্মা সেতু নির্মাণে ১০০ টাকা দিয়ে দেশপ্রেমিক হওয়া যায় না। রহিম মিয়ার বাড়ির সামনে বয়ে যাওয়া খালের উপর ভাঙ্গা সাঁকো নির্মাণে এগিয়ে যাওয়াও দেশপ্রেম। করিম মিয়ার পুকুরের মাছ বন্যায় ভেঁসে যাচ্ছে তার সাথে পুকুরে জাল দিয়ে ঘিরে দেওয়াও দেশপ্রেম। ছোট বেলায় পড়েছিলাম ক্ষুদ্র হতেই বৃহৎ এর উৎপত্তি, ঠিক তেমনি ছোট ছোট কাজের মাধ্যমেই নিজেকে দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলা যায়।

৫- একজন প্রবাসীর কাছে জিজ্ঞেস করুন দেশের মায়া, মমতা, ভালোবাসা কতটুকু? তা সে খুব সহজেই বুঝতে পারে,বাংলার অভাব পূরণে তাই তো সে কয়েক মাইল দূরুত্ব অতিক্রম করে একজন বাঙ্গালীর কাছে ছুটে চলে যায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। সেই দেশপ্রেমের টানে। একজন সন্তারের তার মায়ের প্রতি যেমন ভালোবাসা থাকে, ঠিক তেমনি দেশের প্রতি ও একই ভালোবাসা থাকা উচিত। মায়ের আদর, স্নেহ, বাঁধা, নিষেধ, হুকুম, শাসন আমরা যে ভাবে ভালোবাসি, আর প্রত্যেকটি স্তরকে যথাযথ ভাবে যেমনি মূল্যায়ন করি প্রাণপণ চেষ্টার মাধ্যমে, তদ্রুপ দেশপ্রেমিক হতে হলে দেশের সর্ব স্তরে নিজের ভূমিকা থাকা বাঞ্চণীয়।

৬-দেখুন তো মনে আছে কি’ না….? জীবনে কত সহস্রবার বলেছিলাম “আমি শপথনামা করছি যে নিজেকে সর্বদা স্বদেশ প্রেমে নিয়োজিত রাখবো” আসলে ঐ বাক্যটি ছিল আমাদের মুখস্থ বিদ্যা। স্যারের বেত্রাঘাতের ভয়ে ঐ লাইন গুলো মগজে ধারণ করেছিলাম শুধু মাত্র সেদিন, যদি স্যারের ভয়ে মুখস্থ না করে স্বদেশের জন্য নিজে দু’টি লাইন বা বাক্য লিখতে পারতাম তাহলে হয়তোবা আজ আমরা উদ্যমের সাথে বলতে পারতাম আমি দেশপ্রেমিক। দেশ কে আর না হলে ও দু’টি বাক্য উপহার দিতে পেরেছি।

৭-আবার অনেক ভাই বলে থাকে, বাংলাদেশ আমাদের কি দিয়েছে….??? তাদের কাছে আমার উত্তর একটাই, আপনি আগে তালিকা করুণ বাংলা আপনাকে, আমাদেরকে কি না দিয়েছে..? এক কথায় বলতে গেলে বাংলা পূর্ণতার একটি থলে, শুধু মাত্র নিয়ন্ত্রণ এবং আমাদের কার্যবিধির কারণে বাংলা আজ পিছিয়ে। আমরা যদি প্রত্যেকেই প্রত্যেকের স্থান থেকে নিয়ন্ত্রণাধীন ভাবে চলি এবং কার্যবিধি গুলো সঠিক ও স্বচ্ছ ভাবে পালন করি তবেই আপনার আমার বাংলা এগিয়ে যাবে দুর্বার গতিতে।

♥ভালোবাসা রইলো অফুরন্ত, কোটি বাঙ্গালীর আঙিনায় ♥

দেশপ্রেম কি শুধু মুখেই? কতটুকু দেশপ্রেমিক আমরা?

Now Reading
দেশপ্রেম কি শুধু মুখেই? কতটুকু দেশপ্রেমিক আমরা?

দেশপ্রেম কথাটা আমরা সবাই শুনেছি।

তবে আসল কথা হল এর প্রকৃত অর্থ আমরা অনেকেই জানি না।একটা শব্দের অর্থ কখনোই সামান্য হয় না।আর তা যদি হয় ‘দেশপ্রেম’! তবে এর অর্থ হবে একেবারেই অন্যরকম। কারণ আপনি শুধু কথায় নয় কাজে পরিণত করে দেখাতে হবে আপনার মাঝে থাকা দেশপ্রেমকে।আর যদি তা পারেন,তবেই আপনাকে বলা হবে একজন দেশপ্রেমিক।আর আপনার এই দেশপ্রেমই পারে আপনার দেশকে এগিয়ে নিতে।

আজকাল দেশপ্রেমিক শব্দটা একটি ট্যাগে পরিণত হয়েছে।যে কেউ নিজেকে দেশপ্রেমিক বলে দাবি করে বসে। যদিও বাস্তব জীবনে তার কাজে কর্মে এর বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় না।সবাই নিজের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার কথা বলে ফেসবুকের কমেন্ট বক্সে।কিন্তু দিনে একটি কাজ দেশ ও দেশের মানুষের মঙ্গল এর জন্য করেছে এমন মানুষ পাওয়া ধীরে ধীরে মুস্কিল হয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের দরকার কেবল মুখে আর লেখায় নয় কাজের মাধ্যমে দেশের জন্য কাজ করা।দেশপ্রেমে বলিয়ান হয়ে দেশের মাঝে নিজেদের মাঝে এক ঐক্যের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

অনেক তো সমালোচনা করলাম সে সকল লোকদের যারা মুখে নিজে দেশকে বদলানোর কথা বলে কিন্তু বাস্তবে এর পুরো উল্টো। আসুন দেখা যাক আমাদের দেশকে আমরা কেমন ভালোবাসি আর আমাদের দেশপ্রেম কতটুকু।

একটা সাধারণ উদাহরণই দিই।আপনারা প্রায় সবাই দেখেছেন বর্তমান ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এর একটি প্রকল্প ছিল রাস্তার পাশে মিনি ডাস্টবিন স্থাপন করা।আর এর জন্য প্রায় ৩০০০ এর বেশি মিনি ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়।এ কাজটি আমার মতে একটি অসাধারণ পদক্ষেপ ছিল।আমাদের শহরকে পরিষ্কার রাখার জন্যে এর খুবই প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন অনেকেই।তবে আফসোস এর বিষয় বেশির ভাগ লোকই ডাস্টবিনের ব্যবহার জানলেও তার উপযুক্ত ব্যবহার না করে ময়লা ফেলল ওই রাস্তার উপর।মজার ব্যাপার ডাস্টবিনগুলো স্থাপনের মাত্র কয়েক দিন পর এগুলোর কয়েক ভাগ চুরি হয়ে গেল।হায়রে দেশ আমার।তখনই মনে আসে কবির সেই কথা,

“সাত কোটি সন্তানের মুগ্ধ জননী,        রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করো নি”

তবে আমার দেখা অনেকেই একটু কষ্ট করে হলেও কয়েক পা এগিয়ে মিনি ডাস্টবিনের ব্যবহার করেছেন।তবে এতেই তাদের পুরো কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে বলে আমি মনে করি না।আমাদের উচিত ছিল যারা রাস্তায় না বুঝে এসব ময়লা ফেলে তাদের দেখলে ওই ময়লা কষ্ট করে পাশের ডাস্টবিনটিতে ফেলার জন্য বিনীত অনুরোধ করা।অনেকেই বলবেন ভাই এটা করে লাভ নাই।তবে ভাই আমার মতে লাভ না হলেও দিন শেষ ঘুমানোর আগে এটার স্বস্তিতে থাকতে পারব যে আজ অন্তত একটা ভালো কাজ দেশের জন্য করেছি।

সামান্য ডাস্টবিন ব্যবহারের উদাহরণ দিয়েছি।অনেকেই একমত হবেন আবার অনেকেই কিছু ত্রুটির কথা জানাবেন।আমার মতে যদি আপনি ত্রুটি দেখতে পান তবে তা অবশ্যই আমাদের মেয়র অথবা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাতে পারেন।আমার দেখা মতে আমাদের বর্তমান মেয়ররা যথেষ্ট চেষ্টা করছে শহরটাকে ঠিক করার।

যাক এই টপিক।আমাদের মাঝে আসলেই দেশপ্রেমটা কম।তা না হলে পর পর তিনবার দুর্নীতিতে আর যাই হোক চ্যাম্পিয়ন হতাম না।বাদ দেই এসব কথা।অতীতকে নিয়ে কান্না করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা সরু না করাই ভালো।

তবে আশার বিষয়কে আজ তরুণ প্রজন্মের অনেকেই দেশে বাইরে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করছে।দেশের জন্য কিছু করতে চাইছে অথবা করছে।আর যখন আপনি দেশের জন্য কিছু করছেন তা অবশ্যই মানুষের জন্যও করা হয়।আর এটাই হলো মানবতা।তাহলে বুঝতেই পারছেন দেশপ্রেমের মহত্ত্ব।

বর্তমান সময়ে বিশেষ কোনো দিনে যেমন একুশে ফেব্রুয়ারি,২৬শে মার্চ,১৬ই ডিসেম্বর এর দিনগুলোতে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানকে শহীদ মিনার,স্মৃতিসৌধ এসব জায়গায় নিয়ে যায়।তাদের বেশির ভাগই মনে করে এতে সন্তানের কাছে দেশপ্রেম জাগ্রত হবে।হবে তবে অন্যরকম এক দেশপ্রেম।আর তা হলো এই দিনগুলোতে শুধুমাত্র ঘুরতে যাবার জন্য ওই সব যায়গা ঘুরে আসা।কারণ যদি দেশের জন্য কাজ করাই না শিখে তবে এসবের মূল্য বৃথা।

দেখতেই পারছেন নতুন প্রজন্মের কিছু নমুনা আজকাল।এক এক এলাকায় আজ ছোট ছোট বাচ্চাদের ‘গ্যাং’ নামক জিনিষটা প্রায় ট্রেন্ড হয়ে গিয়েছে।আর এই গ্যাংগুলোর মধ্যে মারামারির ফল হলো প্রাণ ঝড়ে পড়া।কি শিখেছে তারা?কি শিখানো হয়েছে তাদের?তাদের এই কর্মকান্ডের দায় কি তাদের পরিবার এড়িয়ে যেতে পারে?না কখনোই না।কারণ আজ যদি তাদের বাবা মা তাদের সামনে দেশপ্রেমের উদাহরণ রাখতো তবে তারা এই পথে যাবার কথা ভাবতো না।

প্রজন্মের অনেকেই আজ দেশকে নিয়ে ভাবাকে একঘেয়েমি বলে মনে করে।তবে বিশেষ দিনে ঠিকই পৌছে যায় বিশেষ স্থানে একটা সেলফি তোলার জন্য।এইকি পূর্বের সন্তানদের আত্নত্যাগের মূল্য?

এখনই সময় পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে দেশের প্রতি কাজ করার জন্য নৈতিক শিক্ষা প্রদান করার।কেবল প্রশাসন এর ভুল না ধরে তাদের সাহায্য করার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার লক্ষ্যই পারে এ দেশকে বিশ্বের মাঝে এক রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে।আপনি কি চান না অন্য দেশে গিয়ে নিজেকে ‘বাংলাদেশি’ বলে গর্ব বোধ করতে?অবশ্যই চান বলে আমি মনে করি।

তবে আজই চেষ্টা করে দেখুন দেশের জন্য কিছু করার।মনে শান্তি না পেলে জানাতে ভুলবেন না কিন্তু।

Samsung galaxy s5 vs Iphone 7

Now Reading
Samsung galaxy s5 vs Iphone 7

তখন সম্ভবত আমি ক্লাস টেন এ পড়ি। বয়সও খুব বেশি একটা নাহ। আমার বাবার তেমন টাকাও ছিলো নাহ, তবে ঢাকার কয়েকটা নামকরা স্কুল কলেজে পড়িয়েছেন আমাকে । আমাদের স্কুলের প্রায় সবাই নিজের গাড়ি করেই আসতো ,আর আমি যেতাম রিক্সা বা টেম্পু করে। মাঝে মাঝে পায়ে হেটেই যেতাম। আমাদের স্কুলটা কম্বাইন্ড ছিলো। তাই ছেলে মেয়ে সবার সাথেই ভালো সম্পর্ক ছিলো আমার।

তখন পড়ালেখা ছাড়াও আরো একটা জিনিস খুব ভালো লাগতো । একটা মেয়ের ব্যবহার । হুম্ম তার ব্যবহারই ভালো লাগতো,যদিও সে ক্লাসের সবচেয়ে সুন্দরি ছিলো। তবে তার ব্যবহারটাই ভালো লাগতো। সবাই জানত সেই ক্লাস ৯ থেকে আমি তাকে ভালোবাসি ,কিন্তু আমি কোনদিন প্রকাশ করি নাই। সেও বুঝতো ,বুঝতো না যে তা নাহ।আল্লাহ্‌ হয়তো সব মেয়েদের এই গুন দিয়েই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন।তাকে নিজের ভালো লাগার কথাটা বলি সেই ক্লাস টেন এ থাকতে(কেউ ভুল বুঝবেন নাহ, কারন ছোট ছিলাম আর সবাই কম বেশি কাউকে না কাউকে ভালোবেসেছি বিয়ের আগে বা পরে। তাই এটা প্রাকৃতিক বিষয়।)   ।তখন Samusng Galaxy S5 বের হয়। সে আমার কাছে জানতে চায়, Samusng Galaxy S5 দাম কত? আমি তাকে দাম বলি। সে বলে তাকে একছেলে অনেক পছন্দ করে,ছেলেটা নিজের খরচ নিজে বহন করে, আর এই ফোনটা সেদিন নাকি কিনেছে। আমি তাকে বলি “ওয়াও” (কিছু বলার মতোও ছিলো নাহ। কারন সেই মুহূর্তে আমার বাবাও এই ফোন কিনতে গেলে ১০ বার চিন্তা করবে। আর আমি তো ……) সেদিন সে চলে যায়। আমাদের কয়দিন পরেই পরীক্ষা শুরু হয়। আমি গোন্ডেন এ+ নিয়েই পাস করি। সে আর আমাদের কলেজে ভর্তি হয় নাহ। এরপর কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করলাম ।

এরপর বাংলাদেশের চিরচেনা যুদ্ধ, সবাই যেটাকে ভর্তি যুদ্ধ বলে চিনি। কোথাও চান্স পেলাম নাহ। ভর্তি হলো জাতীয় ভার্সিটির অধীনের পরিচালিত এক ল’কলেজে। কারন নিজের পড়ালেখাই এই বেহাল দশা দেখে পড়ালেখার প্রতি মন উঠেই যায়, চিন্তা করলাম ব্যবসা করবো। কিন্তু আমার বাবা অন্তত এই অবস্থায় আমাকে এই কারনে টাকা দিবে নাহ। তাই এক মামার উপহার দেওয়া গিটারটা বিক্রি করে দিলাম । নিজের মাথায় আসলো টি শার্ট বানিয়ে নিজেই বিক্রি করবো। এক ছোট ভাইকে ফাঁপর মারলাম, যে আমি পারি করতে , তোমার কোন কলেজ বা স্কুলের প্রোগ্রাম এ টি শার্ট লাগলে আমাকে বলবা। হাস্যকর হলেও সত্য প্রথম কাজ পাই ২০০পিস টি শার্টের। সে বার যা লাভ হয় এর কিছু টাকা বাবাকে দেই, আর কিছুটা নতুন কিছু করার জন্য রেখে দেই। কিছু দিন পর আরো কিছু বড় বড় কাজের অডার পাই। আর তারা আমার কাজে খুব সন্তুষ্ট। এরপর ৩ মাস করার পর অন্য কাজে মন দেই । গতমাস এ বাবাকে একটা আইফোন ৭ উপহার দেই। তার খুশি দেখে নিজের কষ্ট গুলোই ভুলে গেছি।

সেদিন আমার সেই বন্ধুর সাথে দেখা। অনেকটা কাকতালীয় ভাবেই। তাকে আমার চিন্তে অনেক কষ্ট হলেও সে আমাকে চিনে ফেলে। কথা বলার এক পর্যায়ে তার বিএফ এর কথা জানতে চাইলাম। সে বলল সে চাকুরি খুজছে, পেলেই বিয়ে করবে। সেদিন বিল দিয়ে চলে আসলাম। ভাবতে অবাক লাগে, বেশি দিন হয় নাই। তবে অনেক বেশি পরিবর্তন হয়ে গেছে সবকিছু। জীবন কারো জন্য থেমে থাকে নাহ ।

আমাদের সৃষ্টিকর্তা আমাদের ভাগ্য লিখে দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু যদি আমি ঘরে বসে থেকে ছিন্তা করি আমি ভাত খাবো, তাহলে ভাত কিন্তু হবে নাহ। নিজের রান্নাঘরে গিয়ে চুলায় আগুন দিয়ে চাল,পানি দিয়ে ভাত রান্না করতে হবে। তাই এতো গুলো গল্পের পিছনে এটাই বলব, যে যেখানে আছেন নিজের কাজ নিজের মেধার সব কিছু উজাড় করে দিয়ে কাজ করবেন , সাফল্য পিছনে না ঘুরে নিজের কাজটা সঠিক ভাবে করার কথা ভাবেন। সাফল্য আপনার পিছনে ঘুরবে। পৃথিবীতে কেউ সম্পূর্ণ ঠিক নাহ,আমাদের ঠিক করে নিতে হয়। আমাদের কারো ভাগ্য বিল গেটস এর ছেলে মেয়ের মতো নাহ , যে অন্তত ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের মালিক। কিন্তু বিল গেটস এর তার জীবনে অনেক কষ্ট করেছে,যা কল্পনার বাহিরে। সে তার ভাগ্যকে নতুন করে ছাঁচ দিয়েছে। তাই আজ সে বিল গেটস।

একাডেমিক শিক্ষা এবং আমাদের জীবন

Now Reading
একাডেমিক শিক্ষা এবং আমাদের জীবন

আমরা এমন একটা দেশে বাস করি যেখানে আপনি কতটুকু ক্রিয়েটিভ সেটা দেখা হয় না বরং দেখা হয় আপনি কতটুকু মেমরিতে লোড নিতে পারেন। যার ফলে পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার সাথে সাথে কি পড়ালেখা করছি তার প্রায় অনেকটুকুই হারিয়ে যায় মাথা থেকে। এইখানে আপনাকে চাপিয়ে দেওয়া হয় আপনার পিতা-মাতার স্বপ্নগুলো। দারুন, আপনাকে কষ্ট করে আর নতুন কিছুর চিন্তা করতে হয় না, আপনি ডিফল্ট ভাবে পেয়ে যাচ্ছেন আপনাকে কি করতে হবে। কিন্তু কথা হল আপনার আসলেই সেই কাজটা করার ইচ্ছা আছে কিনা তা জানার কারো সময় নেই। আপনাকে স্কুলের প্রথম দিনেই মাথায় ডুকিয়ে দেওয়া হয় প্রথম হওয়ার চিন্তা। স্কুলটা হল শিখার জায়গা, কিন্তু না, আপনাকে প্রথম হতে হবে। আচ্ছা চিন্তা করে দেখেন তো কোন একটা ক্লাসে আপনার অংক স্যারের অংকটা বুঝতে পারলেন না। এটা আপনার প্রায় হয়ে থাকে। আপনি বুঝতে পারেন না অংক। কিন্তু আপনাকে তো পরীক্ষায় প্রথম হতে হবে। ফলে আপনি যে মেথডটা বেছে নেন তা  হল অংক মুখস্ত করা। এইখানেই ভুল টা। আপনি যে অংকটা বুঝতে পারেননি সেটার কারণ কি হতে পারে? আপনার ক্লাসে মনযোগ ছিলনা, কিন্তু ক্লাসে মন কখন থাকে না? নিশ্চয় যখন পড়াটা আমাদের মজা লাগেনা। দেখেন, যখন ক্লাসে গল্প করা হয় তখন কিন্তু আপনি ঠিকই মন দিয়ে গল্প শুনেন। তাহলে সেই অংক ক্লাসে আপনার মন ছিলনা কেন? নিশ্চয় স্যারের প্রেজেন্টেশন আপনার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছিল। আপনি ঠিক মজা পাচ্ছিলেন না স্যারের প্রেজেন্টেশনে।  এই জায়গায় আসে প্রাইভেট এবং কোচিং এর ব্যাপারটা। এইগুলোকে অনেকেই ব্যাবসা হিসেবে নেয়। সবাইকে তো আর একই পাল্লায় মাপা যায় না কারণ সবাইতো আর একরকম না, তাই সবাইকে একই সুতায় রেখে বিবেচনা করাটা অন্যায়। কিন্তু ক্লাসে সেই সময়, যখন আপনি অংকটা বুঝতে পারছিলেন না তখনই ছিল স্যারের আসল কাজ। কারণ, যখন একজন ছাত্র একটা পড়া বুঝতেছেনা তখন আমাকে বুঝতে হবে যে, নিশ্চয় আমার বলার বা বুঝানোর মধ্যে সমস্যা আছে, তাহলে আমাকে নিশ্চয় আমার বলার বা বুঝানোর মেথডটা পরিবর্তন করতে হবে। আমাদেরকে ঠিক এভাবেই চিন্তা করা দরকার। বাইরের দেশে পড়ে এইরকম অনেকের কথা আমি শুনেছি যেখানে শিক্ষক অনেক বেশি চিন্তা করে যে উনার লেকচারটা সবাই বুঝতে পারছে কিনা, যদি না পারে তিনি অন্য কোন উপায় অবলম্বন করেন বুঝানোর জন্য। বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি (১৫৬৪-১৬৪২) একবার একটা কথা বলেছেন-“You cannot teach a man anything; you can only help him discover it in himself” যার বাংলা করলে অর্থ দাঁড়ায়, আপনি কাউকে কোন কিছু শিখাতে পারেন না, আপনি তাকে সেটা নিজে নিজেই অনুধাবন করার জন্য সাহায্য করতে পারেন মাত্র। আসলেই, আমরা কাউকে কোন কিছু শিখিয়ে দিতে পারিনা, শুধুমাত্র তাকে নিজে নিজে ব্যাপারটা বুঝার জন্য সাহায্য করতে পারি। তাহলে কেন জিপিএ-৫ এর এই দৌড়? মানুষ এখনো জিপিএ-৫ এর মধ্যেই আবধ্য। কিছুদিন আগে আমাদের দেশে একটা ফেলোশিপ এর রিক্রুটমেন্ট দেখলাম, যেখানে একজন পুরুষ ও একজন মহিলা সুযোগ পাবেন উচ্চ বেতনে রিসার্চ করার। সেখানে যোগ্যতা হিসেবে চাওয়া হয়েছে, দুইটি জিপিএ-৫ এবং স্নাতকে সিজিপিএ ৩.৭০। যারা বেশি জিপিএ পাই শুধু কি তারাই সবথেকে বেশি জানে? আমাদের উচিৎ এইরকমের চিন্তাধারা বাদ দেওয়া। এইভাবেই যদি চলতে থাকে দেখা যাবে মেধা শক্তি বলতে আমাদের আর কিছুই থাকবেনা। যারা প্রকড় মেধাবী তারা এই দেশে আর থাকবেনা। তারা যখন বাইরের দেশে নিজের দেশ থেকে বেশি সুযোগ পাবে তারা কেনই বা এইদেশে আসবে? এইদেশে কি তাদের মেধাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে? এইখানে শুধু চাপিয়ে দেওয়া হয় ব্যাগ ভর্তি বই।

দিন দিন পাশের হার বাড়তেই আছে, বাড়ছে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা। কিন্তু এইসব জিপিএ-৫ কি বাইরের দেশের সাথে ঠিকে থাকতে পারবে? একবার জার্মানিতে বাংলাদেশী একজন মাস্টার্স করার জন্য যায়। প্রথমদিন প্রফেসর সবার সাথে পরিচিত হচ্ছেন। এক এক করে সবাই নাম আর নিজের পরিচয় দিচ্ছেন। একসময় বাংলাদেশী ছাত্রটি নিজের পরিচয় দিলেন। বাংলাদেশ নাম শুনেই প্রফেসরের কেমন জানি আগ্রহ বেড়ে গেল। উনি বললেন- “গতবছর আমাদের ইউনিভার্সিটিতে অনেক এপ্লিকেশন এসেছিল বাংলাদেশ থেকে”। এই কথাটি শুনার পরপরই বাংলাদেশী ছাত্রটির খুব খুশী লাগল কারণ বাইরের দেশের মানুষের কাছে নিজের দেশের নাম শুনতে কার না ভাল লাগে!! কিন্তু পরক্ষনেই প্রফেসর বলতে শুরু করলেন-“এপ্লিকেশন গুলো বাঁচাই করতে আমাদের অনেক বেগ পেতে হয়েছিল, কারণ প্রায় সবার সমান যোগ্যতা ছিল, প্রায় সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল এইচএসসি পরীক্ষায়। আচ্ছা, তোমাদের সেখানে এত বেশি জিপিএ-৫ কেন? তোমাদের এইচএসসি পরীক্ষা সম্পর্কে একটু বলবে?” এই কথাটা শুনার পরপরি বাংলাদেশী ছাত্রটার মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল, তিনি চিন্তা করলেন এইসএসসি পরীক্ষা সম্পর্কে আবার কি বলবেন! এইবার চিন্তা করে দেখুন তো যেই হারে এই জিপিএ-৫ এর সংখ্যাটা বাড়ছে একসময় কি বাইরের দেশের দরজা বাংলাদেশীদের জন্য কি বন্ধ হয়ে যাবে না?

বর্তমানে বাংলাদেশের জাহাজিরা অনেক কষ্ট পাচ্ছেন বাইরের দেশে। বাংলাদেশী জাহাজিদের তেমন একটা গণ্য করা হচ্ছে না। কারণ, সবাই শুধু নতুন নতুন মেরিন একাডেমি করতেই ব্যাস্ত, কারণ সবাই উচ্চ জীবন যাপনের আশায় এই পেশায় আসতে চায় কিন্তু বাইরের দেশে জাহাজিরা যেই সব সমস্যার মুখোমুখি হন সেগুলো সমাধান করার জন্য কেউ ভাবেন না। বাংলাদেশী পাসপোর্টধারী জাহাজিদের বিদেশে সাইন ইন, সাইন আউট করতে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক জায়গায় তো বাংলাদেশীদের রিক্রুটও করা হয় না। এইসব সমস্যা একদিনে সৃষ্টি হয় নি। কিন্তু কথা হল যারা সিস্টেম পরিচালনায় আছেন তারাই এই ব্যাপারগুলোকে গুরুত্ব দেন না কারণ তারা শুধু নিজের চিন্তাতেই ব্যাস্ত। নতুন নতুন এত এত একাডেমির এপ্রোভাল না দিয়ে আমাদের উচিৎ আগে এই সেক্টরে যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো সমাধান করা। আমাদের সমস্যা হল আমাদের চিন্তায়। আমাদের চিন্তা করার ধরণটা পরিবর্তন করা দরকার। আমাদের উচিৎ শুধু নিজের ব্যাপারে না দেখে সমাজ ও দেশের প্রতি নিজের কর্তব্য সম্পর্কে চিন্তা করা। আমরা  সাধারণত সমস্যাকে সামনে থেকে দেখি, কিন্তু আমার কেন জানি মনে হয় সমস্যাকে ঠিক তার উপর থেকে দেখা উচিৎ। কারণ যখন পাশ থেকে দেখি শুধু একটা নির্দিষ্ট এরিয়া দেখতে পাই, কিন্তু যখন আমরা উপর থেকে দেখি তখন অনেকটা এরিয়া নিয়ে ব্যাপারটা কল্পনা করা যায়, যার ফলে যে সমস্যাটা সমাধান করা হয় সেটার সাইড ইফ্যাক্টটা কি হতে পারে সেটার একটা চিন্তা চলে আসে মাথায় আর তখনই সেই সব সাইড ইফ্যাক্ট এর ও সমাধান হয়ে যায়।

সুতরাং বলা যায় আমরা একাডেমিক যে শিক্ষা পাই সেটা তখনি পারফেক্ট হয় যখন সেই শিক্ষা আমাদের মনকে প্রভাবিত করে, দেশের প্রতি একটা ভালোবাসার সৃষ্টি করে, দেশের এবং দেশের মানুষের প্রতি একটা দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করে। এই ব্যাপার গুলো যে সাধারনত জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্ররাই পারে তা কিন্তু নয়। সেজন্য জিপিএ-৫ কে শিক্ষার মাপকাঠি হিসেবে চিন্তা করাটা বোকামি। যতসব পার্থক্য মনে হয় আমাদের দেশেই, এইখানে সরকারি চাকরি নাকি প্রাইভেট চাকরি, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নাকি প্রাইভেট, অফিসার নাকি ক্লার্ক, গোল্ডেন নাকি সিল্ভার এইসব বিষয়ে চিন্তা করা হয়। যার কারণে মানুষের মনের মধ্যে সামাঞ্জস্য থাকেনা। কিন্তু আয়ারল্যান্ডে আপনি কি  অফিসার নাকি ক্লার্ক, ডাক্তার না ইঞ্জিনিয়ার তা চিন্তা করা হয় না। কাজ কাজই। মানুষের চিন্তাধারা অনেক বড় একটা ব্যাপার দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য।

নির্ভরতার প্রতিকঃ মুশফিকুর রহিম

Now Reading
নির্ভরতার প্রতিকঃ মুশফিকুর রহিম

সফল মানুষদের জন্য দুটো জিনিস হরহামেশা অপেক্ষা করে। একটি ভালোবাসা এবং আরেকটি ঘৃণা! এরা একই সময়ে মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ দুটোই দেখতে পায়। ফ্যানদের ভালোবাসাতো সবসময় প্রকাশ্যই থাকে , বাকি রইলো হেটারদের হেট করা।
এক্ষেত্রেও ভিন্ন ভিন্ন উপায় অবলম্বন করে তারা। কেউ প্রকাশ্যে ঘৃণা করে আর কেউ আচার আচরণে বুঝিয়ে দেয়।
সেইফ জোনে থাকার জন্য দ্বিতীয়টার নাম দেওয়া হয় ‘সমালোচনা’! যদিও সমালোচনা আর ঘৃণা কি তা বুঝতে তেমন কষ্ট হওয়ার কথা না। তবুও যেহেতু তারা প্রকাশ্যে ঘৃণা করে বলছেনা সেহেতু তাদের কথাই ঠিক ধরে নেওয়াই আম ফ্যানদের জন্য মঙ্গল। 

এসবের মাঝেও বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখা দেয় সেটা, যখন সে তার সফলতা দিয়ে সমালোচক বা হেটারদের মুখ বন্ধ না শুধু, প্রশংসা বাক্যও বের করে আনে। এই কাজটা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের উইকেট কিপার কাম ব্যাটসম্যান মুশফিক বরাবরই করে আসছে।
প্রিয় মুশির মাঝে ক্লাসিক্যাল তেমন কিছু ছিলো না এবং সে নেচার গিফটেডও নয়। তবুও দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করে নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়! বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ের মূল তিন স্তম্ভের এক স্তম্ভ এখন সে। শুরুর দিকের মুশফিক আর পরবর্তী মুশফিকের মাঝে অনেক ব্যাবধান তৈরি করতে সমর্থ্য হয়েছে শুধুমাত্র তার কঠোর পরিশ্রম আর একাগ্রতার কারনে। কিপিং এর দূর্বলতা বাদ দিলে তার মাঝে আর কোন অপূর্ণতা আছে বলে মনে হয়না।প্রথম দিকে কিছুটা ব্যাটিং দুর্বলতা থাকলেও ধীরে ধীরে করে তুলেছেন পরিপক্ক ।আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ এর হয়ে সব ফরম্যাট মিলিয়ে ৮১১০ রান তার দখলে!

ছোট্ট মুশি থেকে নতুন করে পাওয়ার অনেক কিছু আছে,ব্যাট হাতে,কখনো কিপিং গ্লাভসে.শুরুতেই দলের বিপর্যয়?চিন্তা নেই,তখন ই দেখতে পাই একজন এর ব্যাট জ্বলে উঠেছে,,তিনি আমাদের অন্যতম নির্ভরতার প্রতিক।যেকোন ফরম্যাটে ৩য় সর্বোচ্চ রানের মালিক উইকেট রক্ষক হিসেবে । আশরাফুল নিষিদ্ধ হবার কিছু দিন পরে হঠাৎ করে মুশফিকের ব্যাটিং তাণ্ডব দেখে আমি দ্বিধায় পড়েছিলাম; এ কে রে ? আশরাফুল নাতো?
পরে দেখলাম মুশফিক; অথচ সাকিব, মুশফিক, রিয়াদ এদের দূর্বল ব্যাটিং দেখে এক সময় বিরক্ত লাগতো ,আশরাফুল নিষিদ্ধ হলে কিভাবে কিভাবে যেনো এই তিন জনের ব্যাটিং পাল্টে গেলো। মাশরাফি মর্তুজা বলেন  ‘একমাত্র মুশফিকই, যে কোনো পরিস্থিতিতে ভালো পারফর্ম করতে পারে। ৪ নম্বরে ব্যাট করলে মুশি অবশ্যই ভালো ক্রিকেট খেলে।বর্তমানে তাকে ৪নম্বর জায়গায়
ব্যাটিং করতে দেয়া হয়েছে। এবং সে নিয়মিত পারফর্ম করে গেছে।তার শতক আমার কাছে, খুবই ভালো লাগে। সে বাংলাদেশ দলের নির্ভরযোগ্য একজন ব্যাটসম্যান,
চাপের সময়ও ভালো ব্যাটিং করতে পারে। এজন্য তাকে
রান মেশিন বলে ডাকি’ ।

মাঝে মাঝে মুশির উপর রাগ হয় , ওর যে যোগ্যতা দেখেছি, তাতে ও দাড়ায় গেলে যে কোন ফরম্যাটে যে কোন ম্যাচ’ই বের হয়ে আসে। আর আমাদের তো একটা রোগ আছেই, এক জন গেলে বাকিরা যাওয়া আসা করতেরতে থাকে; আবার একজনন দাড়ায় গেলে সেদিন সবাই ভাঙ্গচুর বাড়ি আরম্ভ করে। যাই হোক দোষ গুণে বাংলাদেশ ক্রিকেট যে কোন দেশের জন্যে এখন হুমকী। শুধু ওদের মানসিক দৃড়তার জায়গাটা স্ট্রং করার ঘাটতি ছিলো। বি সি বি এই জায়গাটা নিয়ে কোন কাজ করেছে নাকি ধরতেই পারিনি আমি জানিনা। জানি শুধু বাংলাদেশ এখন আর রোজ রোজ হারেনা। ওরা নিজেরাই জানেনা কি ভীষণ খেলতে পারে ওরা।

ট্রাইনেশন ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে লাল সবুজের জার্সিতে   মুশি ভাই এর পারফরমেন্স ধারাবাহিক থাকুক এই শুভকামনা রইলো

 

আমার মাতৃভাষা : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

Now Reading
আমার মাতৃভাষা : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

আসলেই এই পৃথিবীতে কত ভাষা আর কত বৈচিত্রই যে আছে তার কোনো শেষ নেই। কিন্তু যত ভাষাই থাক না কেন, প্রত্যেকের কাছে তার মাতৃভাষাই সবচেয়ে প্রিয়।

ব্যাতিক্রম নই আমরাও। মাতৃভাষা বাংলা আমাদের প্রাণের পেয়েও প্রিয়। পৃথিবীর সব ভাষার সাথে সংশ্লিষ্ট জনগণের আবেগ জড়িয়ে আছে। কিন্তু আমাদের যেমনটি তেমনটি আর কারও নয়। আবেগ, দৃঢ় সংকল্প, প্রতিবাদ, সংগ্রাম প্রাণদান অবশেষে বিজয় কী নেই এই ভাষার সাথে। মনমুকুরে ভাষার স্মৃতি সদা জাগরুক থাকায় আমরা একে একে বহু ঝড়কে পরাজিত করেছি। এ যেন এক জ্বলন্ত চেতনা…..

“পলাশ ফুলে শিমুল ফুলে / স্বপ্নফুলে আগুন

ভাষার মিছিল / আশার মিছিল

দেয় জাগিয়ে রক্তঝরা টগকগে / লাল ফাগুন”

মাতৃভাষা বাংলার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আর ভালোবাসা গড়ে তোলবার আয়োজন ছোটবেলা থেকেই। সেই  শিশু শ্রেণিতে পড়াশোনা করার সময় সাধারন জ্ঞান  বইতে শিখেছি ভাষা শহিদদের নাম। সেই তো শুরু। তারপর একে একে জেনেছি তার  ইতিহাস। প্রেক্ষাপট, ধারন করেছি তার চেতনা। আপনা থেকেই বিবেকের ঘরে ভাষা সংরক্ষণের দায়িত্ববোধ জাগরিত হয়েছে। এ তো শুধু আমার ক্ষেত্রেই নয়, সকলেরই তা হওয়ার কথা।

কিন্তু তা হচ্ছে কী?

এই ভাবনার পিছনে লুকিয়ে আছে তিক্ত অভিজ্ঞতা। অভিজ্ঞতাগুলো ভাগাভাগি করার লোভ সামলাতে পারছিনা।

অনুভূতি-১

এফএম রেডিও শোনার তেমন একটা অভ্যাস ছিল না কখনই। তবুৗ হঠাৎ দু একদিন শোনা হয়েই যেত। সেই ‍সুবাদেই রেডিও জকিদের ভাষার সাথে পরিচয়। না বাংলা, না ইংরেজি, না হিন্দি সে এক আজগুবি ভাষা বটে। মূলত বাংলাভাষী তারা। মাঝে মাঝে ফ্যাশণ করতে গিয়ে বাংলা শব্দের এমন উচ্চারন করছিলেন যে, তা বোঝাই দায়। ভাষা নিয়ে আবেগ প্রবন আমার এই হৃদয়ে একটু লাগবারই কথা।

অনুভূতি-২

ফেসবুক আইডি খুলেছি মাত্র। অল্প বিস্তর ব্যাবহারও করতে শুরু করেছি। কিন্তু দুদিন বাদেই অতিষ্ঠ হয়ে গেলাম। ভাষাগত অবস্থা এতটাই করুন সে কী আর বলেবো। বুইজ্জালাইছ (বুঝে ফেলেছি),‘you have to বুজতে হবে’ (তোমাকে বুজতে হবে), টেনশন খাইস না মামা, কারেং (কারেন্ট) ইত্যাদি   হরেক রকমের অজানা শব্দে বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ হতে দেখে বেদনাহত না হয়ে পারলাম না। ভাষা বিকৃরি এক মহোৎসব যার ভাষা যত বিকৃত কার জনপ্রিয়তা  যেন তত বেশী।

অনুভূতি-৩

সেই দিন এক খালাম্মার বাসায় গেলাম। তার পিচ্ছি মেয়েটা আমার বিরাট ভক্ত। কিন্তু সেই দিন কোনোই সাড়া পাচ্ছিলাম না। এ ঘর ও ঘর অবশেষে পেলাম ওকে ডোরেমন কার্টুনে মনটি দান করে চুপচাপ বসে আছে সে। ওর মস্তিষ্ক ইতোমধ্যেই মটু পাতলু, ডোরেমনের আগ্রাসনে নিমজ্জিত হয়েছে। আমাকে দেখেই হিন্দি ভাষায় বুলবুলিয়ে উঠল। কথা বুঝতে না পেরে অসহায়ভাবে খালাম্মার দিকে তাকাতেই এক গাল হেসে বললেন “ও তো  হিন্দিতে একদম Fluent বাংলাতো বলেই না।” খালাম্মার আরেক মেয়ে ইংলিশ মিডিয়ামের ছা্ত্রী। সে অবশ্য ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাংলা বলতে পারে।

আঞ্চলিক ভাষা শুনতে বেশ মিষ্টি লাগে কিন্তু ইচ্ছে করে বিকৃত করা ভাষা মোটেই মধুর লাগে না। রাস্তাঘাটে তথাকথিত আধুনিক ছেলেমেয়েদের মুখে ভাষা শুনে হতবাক হয়ে যাই। দিন দিন অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। এই কি তবে বাংলা ভাষার গন্তব্য?

আজ বাংলা ভাষার এই করুণ দশা দেখে শহিদদের আত্মার নিশ্চয় ভূতের মত নিঃশ্বাস ফেলে ফেলে অস্থির পায়চারী করছেন। তাদের ত্যাগ বৃথা ছিল কি না হিসাব কষবেন হয়তো। ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে নিয়ে আবেগের সীমা নেই। এটা ভালো । কিন্তু শহিদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ,অ আ ক খ অঙ্কিত পোষাক মাঝেই যখন আবেগটি নিঃশেষ হতে দেখি তখন বড় বেশি দুঃখ হয়। না, এ অবস্থা চলতে থাকলে বাংলা ভাষা হয়তো একদিন হরিয়েই যাবে। এ আমরা কখনোই চাইনা। বাংলা ভাষা বেঁচে থাকবে এবং ভালোভাবেই থাকবে ইনশাআল্লাহ। সে জন্য আমাদের চেষ্টা করতে হবে। নিজ নিজ জায়গা থেকেই বিশুদ্ধ ভাষা চর্চা শুরু করার মাধ্যমে এটা হতে পারে। বিশুদ্ধ ভাষায় কথা বলা (স.) এর পবিত্র সুন্নত। তিনি অত্যন্ত শুদ্ধ ভাষায় কথা বলতেন। আমাদেরও তা করা উচিত।

তাই চলুন আজকে থেকেই শুরু করি।

আজ, “আমার কথা বলি”

Now Reading
আজ, “আমার কথা বলি”

“”আমার গল্পো গুলো স্বপ্ন নয়
সুধু সপ্নোই কি গল্পো বানায়?
ফিরে আসা কি সুধুই কবিতা
জীবনের কোনো মোড় নয়?””
★স্বাধীনতা, মুক্তি, সংগ্রাম, যুদ্ধ, অত্যাচার, বদ্ধভুমি,পচাঁ লাশের গন্ধ, মানুষের কান্না আর হাহাকার। ভাবলেই অন্ধকার ২৩ টি বছরের কথা মনে পরে।এই ভাবনার মধ্যে কেমন যেন অদ্ভুদ অনুভুতি।আমাদের মধ্যে অনেকে এই অনুভুতিগুলোকে ছাপিয়ে সামনে এগিয়েছে।তাদের কিছু বলব না।হয়ত দেশকে ভালোবেসেই। আবার কেউ তা হৃদয় এ গেঁথে রেখেছে।আমি এই অনুভুতিগুলোকে আবার মনে করতে চাই।আমার সম্পর্ক আমি জানতে চাই। আমাকে নিয়ে ভাবতে চাই।
যাই হক, আজ একটু বাংলা নিয়ে বলব। বাংলার গৌরবময় ইতিহাস আজ খুব কাছ থেকে দেখব। বাংলা।
আমার স্বাধীন হওয়ার প্রথম গল্পো।
কদিন আগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর এ গিয়েছিলাম।ঘুরতে ঘুরতে একটা ময়লা সুট এবং শাটের দিকে চোখ পরলো। খুব সুন্দর করে কাচ এর মধ্যে রাখা।
-এটা কি?
নিচের দিকে তাকাতেই লেখা দেখলাম ভাষা শহীদ শফিকুরের গুলি-বিদ্ধ জামা।খানিক টা চমকে গেলাম।
রক্তের দাগ এখন স্পষ্ট। মনে হয় আজও শুকায় নি।
কল্পনায় এসে গেল ৫২ এর সেই দিনের দৃশ্য। আমি মিছিলে।
প্লাকার্ড হাতে
লেখা হয় তাতে
রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই
বাংলা চাই, বাংলা চাই
আমার দাবি সবার দাবি
মাকে মা বলে ডাকতে চাই
হঠাৎ করে গগন ভোরে
মা মা বলে চিৎকার
আসমান কাঁদলো
জমিন কাঁদলো
ভাষা দিলো হুংকার।