3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

স্মৃতির পাতা জীবন থেকে নেওয়া

Now Reading
স্মৃতির পাতা জীবন থেকে নেওয়া

কয়েকদিন ধরেই ফনির এগিয়ে আসার বার্তা শুনছি, সব টিভি চ্যানেলগুলোতে দেখা যাচ্ছে কি ধরণের ব্যবস্থা প্রতিকূল অঞ্চলগুলোতে নেওয়া হচ্ছে ফনির আঘাত থেকে বাঁচবার জন্য।
প্রতিবারই গ্রীষ্মের শুরু থেকে ভয়াবহ গরম পরে,আজ কয়েকদিন ধরে তো গরমে সবাই অতিস্ট। এমন ভ্যাপসা গরম দেখে আমার কেনো যেন মনে হচ্ছিল বড় কোন তুফান হয়তো বা হবে।
ফেসবুক আমাদের জন্য এমন একটা প্ল্যাটফর্ম যেখানে ছোটখাট আন্দোলন থেকে নিয়ে সমাজের বিশাল বিশাল সমস্যা আমরা পর্যবেক্ষণ করি,যারা মাঠ পর্যায় কাজ করতে না পারে অন্তত নিজের মনভাবটা প্রকাশ করি এই ফেসবুকে।

যার যা ইচ্ছে লিখা কিংবা বলা অন্যায় নয়,তাইবলে অনুচিত কোন বক্তব্য নিজের ব্যক্তিত্বকে হালকা করে ফেলে এই ব্যাপারটা আমাদের সকলকে বুঝতে হবে।যেইজন্য আমার এই কথাগুলো বলা তা হচ্ছে কয়েকদিন ধরে আমরা ‘ফনি’নিয়ে সাবধনতা অবলম্বনের অনেক নিউজ দেখতে পাচ্ছি তার সাথে সাথে অনেকে ব্যঙ্গ করে বা মজা করেও নানান কিছু লিখছেন।
যারা এমন অহেতুক ব্যঙ্গপোষ্ট লিখছেন বা বলছেন হয়তো বুঝতে পারছেন না কতোটা ভয়াবহ পরণতি হয় এই সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর।

আমরা হয়তো নিরাপদ বর্ডার লাইনে আছি কিন্তু যারা ওই সমস্ত অঞ্চলে এই মূহুর্তে আছেন তারা কতটা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে দিন পার করছে আমি কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পারছি বলে হয়ত ‘ফনি’নিয়ে ফানপোস্ট গুলো দেখে আমার খুব অসহায় লাগছে সাথে সাথে অসহ্যও।কারণ প্রকৃতির ভয়াবহ রুপ দেখার দুর্ভাগ্য একবার আমার হয়েছিল এই এক জীবনে।

আমার ছোটকাল কেটেছে চট্টগ্রামে,সময় ১৯৯১,২৯ শে এপ্রিল।আমি তখন ক্লাশ ওয়ানে পড়ি সেন্ট মেরিস স্কুলে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে যে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যায় সেই ছোটকালেই আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। সেইদিন ছিল ১০ নাম্বার মহাবিপদ সংকেত।দুপুর ১২ টা বাজে সমস্ত আকাশ একদম কালো হয়ে গেল।
১০ নাম্বার বিপদ সংকেত বলে স্কুল ছুটি দেবার সিদ্ধান্ত নিতে নিতেই সব ছাত্রছাত্রীদের বাবামায়েরা চলে এল বাচ্চাদের নিয়ে যেতে,সবার মুখ আকাশের মতোই অন্ধকার কিন্তু আমরা বাচ্চারা মহা আনন্দে আনন্দিত এই ভেবেই যে স্কুল ছুটি হয়ে গেছে তাড়াতাড়ি বাসায় যাচ্ছি।।

তখনও বুঝিনি রাতে আমাদের জন্য ভয়াবহ একটা সময় অপেক্ষা করছে, ছোট ছিলাম বলেই হয়তো জলদি বাসায় চলে আসছি এই আনন্দেই আত্মহারা।।আব্বু ছিল চিটাগাং ডিসট্রিকের রোডস এন্ড হাইওয়ের এক্সিকিউটিভ ইন্জিনিয়ার,লালদিঘীর পারে ৪২ কোর্ট রোড ছিল আমাদের বাংলো, একই কম্পার্টমেন্টের মধ্যে তিনজন আংকেলের বাংলো।।অফিসারদের বাংলােগুলো দেখতে বৃটিশ আমলের টিনসেডের বাংলোগুলোর মতো হয়।।আমার আবছা স্মৃতির মধ্যে কিছু কিছু জিনিষ স্পস্ট মনে আছে,আম্মু ওইদিন রাতে আমাদের চারভাইবোন কে এক সাথে খাওয়াই দিয়েছিল,আব্বু বাসায় আসার পর আমাদের সবাই কে বল্ল “আজকে আমরা যার যার রুমে ঘুমাবোনা,সবাই স্টোর রুমে থাকবো কারন একমাত্র ওই রুমটাই পাকা রুম”(আমার মাথায় তখন একটাই প্রশ্ন পাকা রুম কাকে বলে আর কাঁচা রুম কাকে বলে?বারবার ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করছি আর ধমক খাচ্ছি,আমাদের বাসাটা ডুপ্লেক্স ছিল,উপরের রুমে থাকতো আমার বু(দাদী)বু কে আব্বু কোলে করে নীচে নিয়ে এসে স্টোর রুমের এক কোনে ইজি চেয়ারে বসিয়ে বল্ল আমাদের কে তার কাছে রাখতে।স্টোর রুমটা খুব বেশী বড় ছিলনা,অথচ ওখানে আমরা চার ভাইবোন, আম্মু,আব্বু,বু,আমাদের ৩ টা কাজের মেয়ে,আমাদের দেশের বাড়ির একজন কাকা ছিল যার নাম আমার মনে নেই(আমাদের বাসায় আব্বুর দেশের বাড়ির কেউ না কেউ সাহায্যর জন্য সবসময় আসতো,কারো চাকরী,কারো পাসপোর্ট বানানো ব্লা ব্লা )এতোগুলো মানুষ ছোট একটা স্টোর রুমে শুধু মাত্র ঝড়ের ভয়ে আটকা পরে গেলাম।

আমার ছোট্ট মন তখনও বুঝতে পারছেনা কি এমন হবে? যে এতো বড় বাসা থাকতে গাদাগাদি করে এই রুমটায় আমাদের থাকতে হবে?আম্মু আলমারী থেকে কিসব কাগজপত্র,পটলাপুটলি যত পারতেসে ছোট করে একটা ব্যাগ এ নিয়ে বু এর কোলে রেখে বারবার এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছে।

রাত বাড়ার সাথে সাথে একটু একটু করে বুঝতে পারলাম ঝড় কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি,সেই কি প্রচন্ড আওয়াজ,আমরা সবাই কাঁদতে লাগলাম,আম্মু আমাদের জড়িয়ে ধরে সূরা পরে ফু দিচ্ছে অনবরত।।হঠাৎ দুনিয়া কাপিয়ে আমাদের বাসার দক্ষিণ দিকের ছোট গেইট ওয়ালা দেওয়ালটা গগণবিদারী আওয়াজ করে ধপাস করে পরে গেল,আব্বু চিৎকার করে সবাই কে এসডিও আংকেলের বাসায় যেতে হবে বলে লাইন করে রওনা দেবার জন্য ছুটলো।আমরা হুরমুর করে বাসা থেকে বের হয়ে সামনের দিকে আসতেই দেখি ২ আংকেলরাও তাদের ফ্যামিলি নিয়ে আমাদের বাসার দিকেই আসতেছিল, কি এক ভয়াবহ অবস্থা।ভাইয়া ইশারায় আমাকে উপরে তাকাতে বলল,আমি আকাশের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখি সম্পূর্ণ লাল আকাশে কি যেন গোলগোল করে ঘুরছে।জানা গেল এসডিও আংকেলের বাসার আরো খারাপ অবস্থা।আমি তখন বাসার দিকে তাকিয়ে কিছু বুঝতে পারলামনা,সব টি নগুলো বাতাসে উড়ে যাচ্ছে,ইয়া বিশাল গাছ নিমিষে পড়ে যাচ্ছে,সে কি প্রচন্ড আওয়াজ চারিদিকে।
আমরা এতোগুলো মানুষ একবার এদিক যাচ্ছি একবার ওদিক যাচ্ছি,পরে আবার সেই ছোট্ট রুমটায় ফিরে এলাম,এবার আমাদের সাথে যোগ দিল ওই আংকেল আন্টি এবং তাদের বাচ্চারাও, আমার এখনও ভাবলে অবাক লাগে ঐটুকুন রুমে আমরা ২৫/৩০ মানুষ কি করে জায়গা হয়েছিল।
সবাই জোরে জোরে দোয়া পড়ছে, রাত বাড়ে,সাথে বেড়ে চলে ঝড়ের তান্ডব,বাইরে আম্মুর হাঁসমুরগী,গরু গুলার করুন আর্তনাদ শোনা যাচ্ছিল,আম্মু ওদের জন্য চিৎকার করে আল্লাহর কাছে দোওয়া চাচ্ছিল।আমাদের গাড়িগুলোর উপর আমগাছ পরে গাড়ির অবস্থা বেহাল,ভয়ঙ্কর এক কালরাত্রীর মুখোমুখী হলাম আমরা।।

ধীরে ধীরে সকাল হলো ঝড় থামল,বের হয়ে নিজেদের বাসা নিজেরাই চিনতে পারিনা,আমাদের টিভি,পড়ার টেবিল,বিছানার জাযিম, ডাইনিং টেবিলের চেয়ারগুলো কিছুই নেই সব ঝড়ে ঊড়িয়ে নিয়ে গেছে।আমরা সবাই গুটিগুটি পায়ে বের হয়ে এক অন্য পৃথিবী আবিষ্কার করলাম,আমাদের এতো সুন্দর বাংলোটার চেহারা রাতারাতি পাল্টে গেল,টিনের চাল উড়ে গিয়ে আম্মুর শখের গরু লালীর ঘাড় থেকে কল্লাটা আলাদা হয়ে কলাগাছের নীচে পরে রইল। আমাদের প্রিয় দোলনা, পানির ট্যাংক কই উড়ে চলে গেছে সে কথা আজও রহস্য।
একটা চালও মাথার উপর অবশিষ্ট ছিল না,আমাদের স্টোর রুমটা একমাত্র সুস্থ ছিল,তখন আমি বুঝলাম ইটের তৈরী ছাদ ওয়ালা ঘরকে পাকা ঘর বলে।

এক রাতের মধ্যে শুধু আমাদের বাড়িনা প্রিয় শহরটা একেবারে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। আমাদের বাসার পেছনে ছিল স্টাফ কোয়াটার, বেশীরভাগ স্টাফরাই আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের বাঁচিয়ে ছিল কিন্তু কিছু কিছু পরিবার হয়ত ভেবেছিল বাড়িঘরের এতো জিনিষ ফেলে রেখে কিভাবে যাবে,অথচ এই চিন্তার মাসুল দিতে হয়েছিল তাদের প্রত্যেককে।

ইউনুস চাচা ছিল একজন পিয়ন তিনি কি কাজে যেন দেশের বাড়িতে গিয়েছিলেন পরিবার রেখে।চাচী বাচ্চাদের আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠিয়ে নিজে রয়ে গিয়েছিলেন এতোদিনের সাজানো সংসারের জিনিষগুলোর মায়ায় অথচ ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তাকে এই পৃথিবীর মায়া ছাড়তে হয়েছিল।
১দিন পর তার প্রাণবিহীন দেহটা পাওয়া গিয়েছিল পাশেই অর্ধেক ঊড়ে যাওয়া বটগাছটার মাটির নীচে,ওনার একটা হাত ছিলনা সেই দেহে।
ধারণা করা হয় টিনের চাল দিয়ে কেটে গেছে যেমনটা আশেপাশে অসংখ্য হাত পা,আবার কারো অর্ধেক দেহ ছড়িয়েছিটিয়ে পরে থাকতে দেখা যায়।
প্রতিটা গাছের একদম ধ্বংসাংত্মক অবস্থা।
বেশিরভাগ টিনসেড বাড়ি মাটির তলে ধসে গেছে।উফ কি ভয়াবহ আর করুণ সেইসময়ের আর্তনাদ।।

চারিদিক থেকে সবাই রিলিফ দিতে এগিয়ে আসে,আহা কি যে হাহাকারে ভরা প্রিয় শহরটা।
আমার বড়মামা ঢাকা থেকে চিটাগাং গেল আমাদের নিয়ে আসতে,পরে আমরা ঢাকায় নানুর বাসায় সাপ্তাহ খানেক থেকে চিটাগাং ফিরেছিলাম, সব পাল্টে গেছে ততদিনে।।
কয়েকদিন যাবত ফনির ভয়াবহতা সম্পর্কে পড়ে আমার সেই স্মৃতী বারবার মনে পরছে তাই যারা ফনি কে ফান বানিয়ে ব্যঙ্গ করছেন তাদেরকে আমি অনুরোধ করবো বুঝতে চেষ্টা করতে ‘ফনি’একটি বিপদের নাম কোন মশকারীর বিষয় নয়।
আসুন সকলে প্রার্থণা করি আমরা সবাই যেন ভালো থাকি,ভালো থাকুক প্রিয় শহরগুলো প্রিয় দেশটা।।

#স্মৃতিরপাতা (জীবন থেকে নেওয়া)

©আদনীন কুয়াশা
৩।০৫।২১৯

সাইক্লোন ইদাই: জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা কী?

Now Reading
সাইক্লোন ইদাই: জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা কী?

বিভিন্ন অঞ্চলের ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়গুলির উপর আগের গবেষনায় দেখা গেছে যে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার বিষয়ে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত রয়েছে যেগুলো দক্ষতার সাথে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেছেন।
যদিও সাইক্লোন ইদাই হাইড্রেন মহাসাগরের ঋতুতে সপ্তম প্রধান ঝড় – বছরের এই সময়ের জন্য গড় দ্বিগুণ – দীর্ঘমেয়াদী এই ধরনের ঘটনাগুলি এখন আরও ঘন ঘন হচ্ছে, যা পূর্ব কল্পনাকে সমর্থন করছেনা।

দক্ষিণ আফ্রিকার উইটওয়াটারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি থেকে ডঃ জেনিফার ফিটচেট বলেন, “এই অঞ্চলের আশ্চর্যের বিষয়টি হল, গত ৭০ বছরে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়গুলির ফ্রিকোয়েন্সি এতটা কম হয়েছে” যার “পরিবর্তে, আমরা উচ্চ তীব্রতা ঝড়ের অনেক বেশি ফ্রিকোয়েন্সি এখন পাচ্ছি।”
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই ঝড়ের প্রভাব আরও খারাপ করার জন্য অবদান রেখেছে এই পটভূমিতে এমন অনেকগুলো কারণ রয়েছে।
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ডঃ ফ্রেডেরাইক অটো বলেন, “এ রকম নির্দিষ্ট কোনও ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় ঘটনা ঘটলে জলবায়ুর উপর উষ্ণতা পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বেশি হয়, “এবং সমুদ্র স্তরের উত্থানের ফলে বন্যা আরও বেশি তীব্রতর, এটি মানব- প্ররোচিত জলবায়ু পরিবর্তনের বাইরে।


এই ঝড়ের উপর প্রভাব বিস্তারকারী দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের এক সমালোচনামূলক সমুদ্রতলি তাপমাত্রার উপাদান। ডঃ ফিটচেট বলেন, “সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে, আমরা এই ঝড়ের তাপমাত্রার লাইন আরও ধ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে দক্ষিণ মেরুতে যাওয়ার জন্য। “তাই এই ঝড়টি গঠন করতে পারে এমন পরিসীমা বাড়ছে এবং তারপরে এগুলি দ্রুত তীব্রতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এইটা একটি সহজ সমীকরণ নয়, এছাড়াও উচ্চ সমুদ্র পৃষ্ঠ তাপমাত্রা ঘূর্ণিঝড় গঠন বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে।
ডাঃ অটো বলেন”একদিকে, আপনার উচ্চতর মহাসাগরীয় তাপমাত্রা রয়েছে এবং এটি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় গুলোকে আরো শক্তির উৎস দেয়,” “কিন্তু বায়ুমন্ডলে উচ্চ তাপমাত্রা রয়েছে যা আরো বায়ু শিয়ার দিকে পরিচালিত করে হারিকেনকে দুর্বল করে দেয়। গবেষকদের মতে, প্রায় সাতটি ভিন্ন মহাসাগর বা বায়ুমন্ডলীয় অবস্থা ঘূর্ণিঝড় গঠনের জন্য এবং সাধারণত এই দুটি ঘটনার জন্য প্রয়োজন। যাইহোক, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে, এই অবস্থার সর্বাধিক বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এ কারণে এই বড় ঝড়গুলি খুব দ্রুত ঘটে।


গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় গুলিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মতবিরোধিতা যেটাই হউক, মোজাম্বিকে সৃষ্ট ক্ষতির ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার তুলনায় মাটিতে মানুষের সৃষ্ট তাপমাত্রা আরও বেশি ।
ডাঃ ফিটচেট বলেছেন ”যদি আপনি উত্তর আমেরিকার দিকে তাকান, তারা এই পর্যন্ত নিয়মিত ৫ ধরনের সাইক্লোন দেখেছে কিন্তু মোজাম্বিক যে ক্ষয়ক্ষতি দেখছেন তার সমতুল্য দেখেনি কেও।
“যখন এই ধরনের ঝড় বারবার আসে, তখন ধ্বংসের সম্ভাবনা অসম্ভব হয়। বেরিয়ার মতো একটি শহর খুব বেশী ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ সেখানে লোক সংখ্যা নেই, তাদের পক্ষে এইটা বিপর্যয় করা আরও কঠিন।”

বাংলাদেশ কি একটি উন্নত রাষ্ট্র?

Now Reading
বাংলাদেশ কি একটি উন্নত রাষ্ট্র?

একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের অনেক সূচক আছে । অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক – অনেকগুলো দিক দিয়েই একটা রাষ্ট্রকে বিচার করা যায়, সেটি উন্নত, উন্নয়নশীল না অনুন্নত ।
.

আমি এইটা মাপি পাবলিক টয়লেট দিয়ে ।

.

প্রতিবার ঈদে বাড়িতে যাবার সময়, সব বাসই কোন না কোন রোডসাইড রেস্টুরেন্টে স্টপেজ নেয় । জলখাবার সারার সাথে সাথে আর একটি কাজ যেটা করতে হয় সেটা হল প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়া । আর এই সাড়া দিতে গিড়ে অসাড় হয়েছেন, এমন লোকের সংখ্যা সম্ভবত কম নয় ।
.

আপনারা কি কখনো বাংলাদেশের কোন পাবলিক টয়লেটে গিয়েছেন ?
.

আপনার মনে হতে পারে, দাড়ায়ে, বসে, উল্টায়ে পাল্টায়ে যতভাবে সম্ভব মানুষ হাগুমুতু করেছে, শুধুমাত্র যে জায়গায় করার কথা ছিলো, সেই জায়গাটা বাদে । তো আপনি সিঙ্গেল শট ফায়ার করুন, কিংবা ব্রাশ ফায়ার করুন আমার সমস্যা নাই, কিন্তু আপনার গোলা বারুদের রূপে – বর্ণে – গন্ধে যদি আমি আহত হয়ে যাই, যদি কমোডের পানিতে আপনার ফেলে যাওয়া টাইটানিক ভাসতে দেখে আমার বমি আসে, তখন অপু ডিশওয়াশের ভাষায় বলিতে ইচ্ছা করে,’ এই উন্নত দ্যাশ নিয়া আমি এখন কোথায় যাবো ?

এরই মাঝে কিছু লোক টয়লেটে আসে গোসলের প্রিপারেশন নিয়ে । সাধারণত রোডসাইড রেস্টুরেন্টগুলোতে এদের বেশি দেখা যায় । বাস থেকে নেমেই তারা সবজি দিয়া পরোটার অর্ডার দেন, তারপরে তাদের এ্যাটিচুড থাকে এইরাম – ‘পরোটার টাকা শালা হাইগা উসুল কইরালাবাম’ । এহেন কার্য সম্পাদনের পরে তারা ক্ষান্ত হন না, বেসিনে গিয়ে যে সীনের সৃষ্টি করেন তাহা দেখলে মনে হয় এই দৃশ্য না দেখলেই ভালো হত ।
.

আমি নিজের দেখা উদাহরণ দেই । প্রথমে তারা হন্য হয়ে সাবান খুজেন। এরপর শতব্যবহৃত সেই সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে, মুখ পরিষ্কার করেন , দাত পরিষ্কার করেন, কান পরিষ্কার করেন । এরপর তাদের প্রচেষ্টা চলে হাত দিয়ে আলজিহবা টাচ করার, এহেন পর্যায়ে তারা ‘হাক থু ! হাক থুহ্ !’ জাতীয় শব্দ করেন, কেউ কেউ শেফার্ড কুকুরের ন্যায় গরগর ঘরঘর শব্দও করেন । তারপরে তারা সমস্ত শক্তি দিয়া ফুসফুস হতে সর্বশেষবিন্দু শ্লেষ্মা বের করে সেটা সশব্দে বেসিনে ফেলেন । তারপর পকেট থিকা একবচ্ছর না ধোয়া একটা রুমাল বের করে সেটা দিয়ে বগল সাফ করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হন ।
.

আই মিন, ‘সিরিয়াসলি ?’


.

পাবলিক টয়লেটগুলোর চারপাশে দেখা যায় কিছু কিছু লোক চোরের মত ভাবভঙ্গিতে পাথরের টুকরো বা টিস্যু নিয়ে ঘুরঘুর করছে । তাদের হাত পাজামার ভেতরে, তারা মাঝে মাঝেই উঠবস করছে, গলা খাখাড়ি দিচ্ছে । তারা নিজে সাফ হবার পরে টিস্যু বা পাথরখন্ডটি ফেলছেন মেঝেতে । কর্ম সম্পাদনের পরে তাদের পরিষ্কার হবার যে প্রয়াশ, তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা, কিন্তু এর সামান্যতম ইফোর্টও যদি তারা পানি ঢালার উপরে দিতেন, হাতের নোংরা টিস্যুটা ডাস্টবিনে অথবা প্যানে ফেলার উপরে দিতেন, তাহলে আমাকে কষ্ট করে এই বিশাল লেখাটি লিখতে হত না ।
.

আপনি হাগু করেন, ভালো কথা । আমরা সবাই করি । কিন্তু হাগুমুতু দিয়ে টয়লেটের দেয়ালে চিত্রকর্ম করার তো কোন মানে হয় না ভাই । আপনার পরিবার আপনাকে খাইতে শিখাইসে, জামাকাপড় পড়তে শিখাইসে, চুল আচড়াইতে শিখাইসে, কেউ কি কোনদিন হাগতে শিখায়নি ?
.

আপনাদের এহেন কর্মে জীবন দু:সহ হয় আপনার পরে যিনি টয়লেট ব্যবহার করবেন তার । আপনার শব্দে, গন্ধে, চিত্রে তাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয় বিকল হয়ে যায় । আপনার কাজ তো শেষ, আরাম করে বেরিয়ে একটা বিড়ি ধরাবেন, কিন্তু সেই ভদ্রলোকদের আপনি একটা ভয়াবহ এক্সপিরিয়েন্স দিয়া গেলেন, হলোকাস্টের মত, চাইলেই তারা সেইটা সহজে ভুলতে পারবে না ।
.

আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, এইসব লোকদের জন্য সরকারকর্তৃক একটা সার্টিফায়েড কোর্স থাকা উচিত । ‘ ‘কিভাবে হাগু ও হিসু করতে হয় এবং তৎপরবর্তী পরিষ্কারকরণ’ । স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে । বাথরুমের দেয়ালের ভয়াবহ চিত্রকর্মগুলির কথা বলছিনা, সেটা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার ।
.

সমস্যাটা কোথায় জানেন ? আমরা শুধু নিজেদের কথাই ভাবি । এটা ভাবিনা, পরেরজন আমার কারণে অসুবিধায় পড়বে । এটা ভাবিনা, আমি যে কষ্ট করে বাথরুম ব্যবহার করছি, একটু চেষ্টা করি আমার পরেরজন যাতে এই কষ্টটা না পায় । শুধু তাই নয়, আমরা আমাদের সন্তানদেরও এই গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটা শিক্ষা দিতে ভুলে যাই ।

 

চট্টগ্রামের হালিশহরে মহামারী আকারে জন্ডিস – জরুরী অবস্থা ঘোষণা করা হোক এই এলাকায়!

Now Reading
চট্টগ্রামের হালিশহরে মহামারী আকারে জন্ডিস – জরুরী অবস্থা ঘোষণা করা হোক এই এলাকায়!

চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকায় মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে জন্ডিস, টাইফয়েড এবং নানা রকমের পানিবাহিত রোগ। ইতিমিধ্যে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অগণিত মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের ব্যাপার হলো প্রথম অবস্থায় কেউ বুঝতেই পারেনি রোগগুলো মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। শুধু মাত্র ফেসবুকে ২/১ একজন এলাকাবাসীর পোস্ট ছাড়া কোন সংবাদপত্র বা টিভি চ্যানেলও এগুলো কাভার করেনি। সবার অজান্তেই ছড়িয়ে পড়েছে এই মহামারী। আমাদের অফিস একই এলাকায় হবার কারণে আমরাও দেখতে পাচ্ছি প্রতিটি ঘরে কেউ না কেউ অসুস্থ বা হাসপাতালে। 

এর মধ্যে যারা রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের বেশীরভাগই হেপাটাইটিস ই তে আক্রান্ত – এভবং পরবর্তীতে লিভার ফেইলিউরে মৃত্যুবরণ করেছেন। এদের মধ্যে অনেকেই অল্প বয়সী আছেন

এত মানুষ মারা যাচ্ছে কিন্তু এই ব্যাপারে আদৌ কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা তার সঠিক কোন নির্দেশনা নেই। সমস্ত রোগই পানিবাহিত। এই এলাকার পানির লাইন নর্দমার সাথে মিশে গেছে আর সামান্য বৃষ্টিপাতে এলাকাটি প্লাবিত হয়ে। মানুষের খাবার পানির সাথে মিশে গেছে নোংরা বিষাক্ত পানি। এর কিছুদিন আগে কিছু পত্রিকায় এসেছিল হালিশশহর এলাকার ওয়াসার পানিতে এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়া পাওয়া গেছে। কিন্তু পরবর্তীতে এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। 

হেপাটাইটিস ই রোগের লক্ষণ সমূহ ঃ 

Fever. ,Fatigue.Loss of appetite.Nausea.Vomiting.
Abdominal pain.Jaundice. Dark urine.

অত্র এলাকায় জরুরী বয়স্থা ঘোষণা করে বিশেষ কোন ব্যবস্থা নেয়া হোক। আর সবচেয়ে বেশী প্র্যয়োজন পানির সাপ্লাইয় ঠিক রাখ। বিশুদ্ধ পানি। মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করাটা এই মুহুর্তে বেশী জরুরী। অনেকেই হয়তো না জেনেই টেপের পানি পান করছেন আর অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। 

পৃথিবীর এক টুকরো স্বর্গরাজ্য, যার সুখ-আনন্দ আস্বাদনে উন্মুক সকলেই

Now Reading
পৃথিবীর এক টুকরো স্বর্গরাজ্য, যার সুখ-আনন্দ আস্বাদনে উন্মুক সকলেই

বিশ্বের সবচেয়ে চেয়ে সুখের নগরী হিসেবে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন এর নাম বিশ্ব ব্যাপী সমাদৃত। বাস করার জন্য সবচেয়ে উত্তম জায়গা হিসেবে সারা বিশ্বের মানুষের কাছে স্থানটির কদর খুব বেশি। বিশ্বের সবচেয়ে সবুজ নগরী হিসেবে এই নগরীকে তুলনা করা হয়। ইউরোপের সবচেয়ে বিখ্যাত ও জনপ্রিয় বিনোদন পার্ক তিভোলি গার্ডেন্স রয়েছে এই শহরে। বছরে প্রায় ৪০ লাখের ও অধিক পর্যটক বেড়াতে আসে এখানে। হ্যান্স ক্রিস্টিয়ান অ্যান্ডারসেন্স বুলেভার্ডকে নামকরণ করা হয়েছে ডেনমার্কের অনন্য সাহিত্য প্রতিভার নামে । সবচেয়ে আকর্ষণীয় হচ্ছে, এখানে ডেনরা বেশ সাজগোছ করেই তাদের সাইকেল চালায়। সর্বত্রই দেখা মিলবে হাইহিল পরা নারী, স্যুট পরা আকর্ষণীয় পুরুষদের। শহরটিতে রয়েছে অ্যান্ডারসনের সুবিশাল ব্রোঞ্জ মূর্তি যার সামনে পর্যটকদের সেলফি তোলার চিত্র নিত্য নৈমিত্তিক। শহরটিকে আধুনিক কালের ‘স্বর্গ-রাজ্য’ বললে কম বলা হয়। সারা বিশ্বে এই নগরীকে ঘিরে বহু উপমা ব্যবহার করা হয়েছে,  ‘বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য নগরী’, ‘বিশ্বের সবচেয়ে সুখের নগরী’, ‘বিশ্বের প্রধান দুই বাইসাইকেল-বান্ধব নগরীর একটি’, ‘ইউরোপের সবচেয়ে সবুজ নগরী’, ‘ভোজনরসিকদের জন্য ইউরোপের সেরা নগরী’, ‘ইউরোপের ডিজাইন রাজধানী।’

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধম্যেও ঘুরে ফিরে এসেছে এই সুন্দর নগরীর জয়গান। ব্রিটেনের ডেইলি মেইল সংবাদপত্র নিউজ করেছিল, ‘ওহ্, অনেক শীতল কোপেনহেগেন’। ইউএসএ টুডে লিখেছিল, ‘কোপেনহেগেনে গিয়ে সুখী হওয়াটা কঠিন ব্যাপার নয়’। আর ব্রিটেনের গার্ডিয়ান লিখেছে, ‘কোপেনহেগেন সত্যিই বিস্ময়কর’।

প্রশ্ন থেকেই যায় এত বিপুল প্রত্যাশা আদৌ কি কোপেনহেগেন পূরণ করতে পেরেছে?

কোপেনহেগেনের অধিবাসীরা বেশ স্বাস্থ্য সচেতন, তারা সাস্থ্যের যত্নে আপোষ করেননা। তাছাড়া পরিবেশ সচেতন হিসেবে তাদের দুনিয়া জোড়া সুখ্যাতি। এখানকার জনগোষ্ঠীর অধের্কেরই বেশি সাইকেলে চড়ে অফিস কিংবা স্কুলে যায়। এর প্রধান কারণ যান্ত্রিক বাহন কমিয়ে পরিবেশ দূষণ রোধ করা। তাছাড়া গাড়ির চেয়ে সাইকেল স্বাস্থ্যসম্মত, পরিবেশবান্ধব আর তুলনামূলক অনেক সস্তা। এই নগরীকে বলা হয় সাইকেলের নগরী। পরিসংখ্যান মতে, এখানে মানুষের চেয়ে সাইকেলের আধিক্য বেশি, এবং গাড়ির তুলনায় সাইকেল আছে পাঁচ গুণ। এমনও দেখা যায় রাজনীতিবিদরাও সাইকেলে চড়ে কাজে যায়। এখানকার পার্লামেন্টের ৬০ ভাগেরও অধিক সদস্য প্রতিদিন সাইকেল ব্যবহার করেন। বিশ্বের আরেক সাইকেলের নগরী আমস্টারডামের সাথে কোপেনহেগেনের প্রতিযোগিতা চলে কোথায় বেশি সাইকেল চলে তা নিয়ে। সাইকেল-বান্ধব হিসেবে এই দুই নগরীই বিশ্বে সবচেয়ে সমাদৃত। মনে হতেই পারে, নগরীটি গড়ার পরিকল্পনা হয়েছে বাইসাইকেলকে মাথায় রেখেই। তবে সে যাই হউক এমন সুন্দর নগরী কিন্তু এক দিনেই হয়নি। বছরের পর বছর ধরে নানান গবেষণা, পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও অবকাঠামো গড়তে হয়েছে এই শহরের নগরবিদদের।

কোপেনহেগেনে দেখা মিলবে বাইসাইকেলের জন্য আলাদা একটি রাস্তা আছে যা ৩৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ। এছাড়াও অন্যান্য রাস্তায় সাইকেলের জন্য আলাদা লেইন আছে যেখানে সাইক্লিস্টদের জন্য রয়েছে আলাদা ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা। এখানকার ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা এমনভাবে সেট করা আছে যেন একজন সাইক্লিস্ট নির্দিষ্ট গতিতে চালালে কোথাও না থেমেই পুরো নগরী অতিক্রম করতে পারবে। কোপেনহেগেন এখানেই থেমে নেই, ২৬টি বাইক সুপারহাইওয়ে তৈরি হচ্ছে যার কোনো কোনোটি হবে ২২ কিলোমিটারের মত দীর্ঘ। এসব নতুন ‘সুপার’ বাইক রাস্তাগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে মনোরম সব সবুজ মাঠের পাশ দিয়ে এবং বনের মধ্য দিয়ে যেখানে দেখা মিলবে মনোরম সব পুকুর চারপাশে। গাড়ির জন্য অপেক্ষা না করেই  সাইকেল নিয়ে সহজেই যাওয়া যাবে এসব রাস্তায়। এমনকি প্রতি এক কিলোমিটার পরপর সাইকেলে বিনামূল্যে বাতাস দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এসব আধুনিক রাস্তায়। কোপেনহেগেনকে আরো বেশি সাইকেল-বান্ধব করা হচ্ছে যেন অধিবাসীরা নগরীর উপকণ্ঠে বাস করতে উৎসাহিত হয়। এখানে পোতাশ্রয়ের ওপরে উঁচু সেতু হিসেবে এলিভেটেড সাইক্লিস্ট রোডওয়েটি বেশ দৃষ্টিনন্দন। সবকিছু বিবেচনায় সাইকেলের নগরী হিসেবে নিশ্চিতভাবেই কোপেনহেগেনই সেরা।

ইউরোপিয়ান কমিশন কর্তৃক ‘ইউরোপের সবুজ রাজধানী’ হিসেবে স্বীকৃতি মিলেছে কোপেনহেগেন এর। তাই কোপেনহেগেন ২০২৫ সাল নাগাদ বিশ্বের প্রথম কার্বন ডাই-অক্সাইড নিরপেক্ষ রাজধানী হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে তারা এখন থেকেই কাজ করে যাচ্ছে, সেখানকার ২০১০ সালে প্রণীত আইন অনুযায়ী অফিস, গ্যারেজ, শেড থেকে শুরু করে প্রতিটি নতুন ভবনে সবুজ ছাদ (বাগান) থাকা বাধ্যতা মূলক। সরকারের আইনে আছে, কোপেনহেগেনের প্রতিটি বাসিন্দা যেন তার বাড়ি থেকে ১৫ মিনিটেই হেঁটে কোনো পার্কে সহজেই যেতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একসময় যে পোতাশ্রয়টি দূষিত ছিল এখন সঠিক নগরায়নে তা এত পরিষ্কার যে, যে কেউ নিরাপদে সাঁতর কাটতে চাইবেন। কোপেনহেগেনের বাসিন্দারা এখানে বাস করাটাকে গর্বের ব্যাপার হিসেবে ধরে নেয়। দিনের পর দিন সুক্ষ সময়োপযোগী পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে কোপেনহেগেন বাসযোগ্য নগরীর মডেলে পরিণত হয়েছে। আর কোপেনহেগেনে কিভাবে এত দ্রুত উন্নতি ঘটাচ্ছে, তা দেখতে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত হতে হাজার হাজার নগর পরিকল্পনাবিদ এখানে ভিড় জমান।এখান থেকে ধারণালব্দ হয়ে তারা তাদের নগরীতে প্রয়োগ ঘটান।

কোপেনহেগেনের ক্রিস্টিয়ানি দ্বীপটি ৩৪ হেক্টর আয়তনে সীমাবদ্ধ এবং বেসরকারি স্বায়ত্তশাসিত এলাকা। দ্বিপটিতে বাইসাইকেল এবং গাড়ি উভয়ই নিষিদ্ধ। ১৯৭১ সালের পূর্ব পর্যন্ত এটি ছিল একটি সামরিক ব্যারাক। কিন্তু দখলদার বোহেমিয়ানদের সরকার উচ্ছেদ করার অনেক চেষ্টা চালালেও ব্যর্থ হয়। ফলে ১৯৭২ সালে ডেনিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ক্রিস্টিয়ানিয়াকে সরকারি সম্পত্তি ও ভূমি ব্যবহার করার অনুমতি দেয়। এর পর থেকেই পরিবর্তন ঘটতে থাকে দ্বিপটিতে, সেখানে বসবাসকারীরা সরকারের বেঁধে দেয়া গতানুগতিক নিয়মে চলতে নারাজ। এ সকল হাজারো নিয়ন না মানার জন্য তারা নিজেদের গর্ববোধ করে। এখানকার অধিবাসীরা ভয় পাওয়ার মতো ভূতুরে বাড়ি বানিয়ে বাস করে। এখানে দেখা মিলবে প্রচুর অর্গানিক ক্যাফের, ধোঁয়া ভরা ক্যাফেগুলো থেকে ধেয়ে আসে মিউজিকের শব্দ। আর এখানকার আর্ট গ্যালারিও আছে নিজস্ব ধরণ এবং রাস্তার প্রতিটি দেয়াল জুড়েই রয়েছে নানাণ আঁকিবুঁকিতে ভরা। দলিলপত্রে এখানকার কোনো অধিবাসীর নিজস্ব কোনো বাড়ি নেই, তারা হিপ্পি থাকতে চায়। ২০১১ সালে সরকার ফাউন্ডেশন ফ্রিটাউন ক্রিস্টিয়ানিয়ার কাছে যখন জমি বিক্রি করতে রাজি হয়। তক্ষণ শর্ত জুড়ে দেয় যে, অধিবাসীদের বিনা পয়সায় বাড়ি দিতে হবে। ক্রিস্টিয়ানিয়া হলো নগরীর দ্বিতীয় সবচেয়ে বেশি পর্যটক আকর্ষণকারী (তিভোলি গার্ডেন্সের পর) স্থান। এখানে আগত পর্যটকদের পূর্বেই নির্দেশনা দেয়া হয় যে এখানকার নিয়ম মেনে চলতে। তাদের বলা হয় ‘আনন্দ করো কোন বাঁধা নাই, তবে ছবি তোলা যাবে না, আর ভয় পাবে না।’ পর্যটকদের আশ্বাস দেয়া হচ্ছে, তারা যেন পুলিশি অভিযান হবে এমন আশঙ্কা না করে। ক্রিস্টিয়ানিয়াতে আইনগতভাবে ড্রাগ কেনা বা বেচা উভয়ই নিষিদ্ধ। সব কিছুকে ছাপিয়ে পৃথিবীর বাস যোগ্য উত্তম নগরী হিসেবে বেশি উজ্জ্বল কোপেনহেগেনই।

হুমকির মুখে বিশ্ব পরিবেশ, প্রতি চারজনের মধ্যেই পটল তুলছেন একজন!

Now Reading
হুমকির মুখে বিশ্ব পরিবেশ, প্রতি চারজনের মধ্যেই পটল তুলছেন একজন!

পরিবেশগত সমস্যা একুশ শতকে এসে বড় ধরণের সমস্যা হিসেবে দেখা দিলেও মূলত বিংশ শতাব্দীর শেষদিক থেকেই এই সমস্যাটি বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে ভাবিয়ে তোলে। নানাবিদ কারণে বিশ্ব পরিবেশ আজ হুমকির মুখে। একটা বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে। ২০০৭ এর নভেম্বরে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় ও সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ‘সিডরের’ আঘাতে বড় ধরণের পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। বলা হচ্ছে, বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধির কারনেই এমনটা ঘটেছে। ১৯৯২ সালের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রথম ধরিত্রি সম্মেলন। ঐ সম্মেলনের মধ্য দিয়েই পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়টি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়।  এরপর পর্যায়ক্রমে শতাব্দী শেষ হবার আগেই একাধিক পরিবেশগত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি সম্মেলনেই যে বিশ্ব বড় ধরণের পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে, সে ব্যাপারে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা হয় এবং পরিবেশ বিপর্যয় রোধে করনীয় নির্ধারণ করা হয়। ইতোমধ্যে জাতি সংঘের উদ্যোগে গঠিত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিবেশ বিজ্ঞানীরা আইপিসিসি এর সাথে জড়িত। ২০০৭ এর নভেম্বরে আইপিসিসি এর এক রিপোর্টে বলা হয়েছিল, বিশ্বে অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে জলবায়ু পরিবর্তিত হচ্ছে।  এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে পরিণতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। মহাসচিব বান কি মুন স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া থেকে এ রিপোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছিলেন।

রিপোর্টে বলা হয়েছিল, এক দশক আগে যে হারে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ হতো, এখন তার পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, পৃথিবীতে যে পরিমাণ গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ হয় তার ৯০ভাগই মানুষের সৃষ্টি। এর প্রভাবে উভয় মেরুর বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে এবং বহু প্রজাতির প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। রিপোর্টে বলা হয়, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা যদি দেড় থেকে আড়াই ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায় তাহলে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে পড়বে। পৃথিবীতে বিশুদ্ধ পানির সংকটও বাড়বে। সংকট বর্তমানের তুলনায় ৭৫ থেকে আড়াইশ গুণ বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। সমুদ্রে যেসব প্রবাল প্রাচীর রয়েছে সেগুলোও এর ফলে ধ্বংসের মুখে পড়বে। একইসাথে এন্টার্কটিকায় প্রাগৈতিহাসিক কালের বরফ স্তর গলতে শুরু করেছে এবং বর্তমান পৃথিবীর অন্য যেকোন এলাকা থেকে দ্রুতগতিতে উষ্ণ হচ্ছে এন্টার্কটিকা। এখানকার বর্তমান তাপমাত্রা গত ১৮০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। ৮০হাজার অস্থায়ী বাসিন্দার এই মহাদেশের আয়তন ইউরোপের চেয়ে ২৫ গুণ বড়। আর এখানকার বরফে জমে আছে ভূস্তরের ৯০শতাংশ বিশুদ্ধ পানি। এন্টার্কটিকার বরফ স্তর এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার পুরু থাকলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, সেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতোমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে। সুতরাং বিশ্বের উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি এখন আর ধারণাগত কোন বিষয় নয় বরং এটি বাস্তব।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন জানাচ্ছে, বিশ্বে প্রতি চারজনের মধ্যে অন্তত একজনের মৃত্যু হয় পরিবেশগত কারণে৷ আর বায়ু, পানি ও মাটির দূষণ এবং সেই সঙ্গে অনিরাপদ কর্মক্ষেত্র ও রাস্তাই মূলত এমন মৃত্যুর জন্য দায়ী৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) সমীক্ষা করে দেখেছে, বিগত ২০১২ সালে সারা বিশ্বে মোট যতজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে অন্তত এক চতুর্থাংশেরই মৃত্যুর কারণ ছিল বায়ু, পানি ও মাটির দূষণ পাশাপাশি অনিরাপদ কর্মক্ষেত্র ও রাস্তাসহ আরো কিছু পরিবেশগত সমস্যা৷ ঐ প্রতিবেদন আরো বলছে, ২০১২ সালে আনুমানিক ১ কোটি ২৬ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে খারাপ পরিবেশে বসবাস ও কাজ করার কারণে৷ এটা সে বছরের মোট মৃত্যুর শতকরা ২৩ ভাগ৷ পরিবেশগত কারণে এত মানুষের মৃত্যুতে ডাব্লিউএইচও শঙ্কিত৷

 

 

কর্ণফুলীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ডলফিন?

Now Reading
কর্ণফুলীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ডলফিন?

চমকে উঠলেন নাকি? উঠারই কথা একসময় দৃশ্যপট এমন থাকলেও কর্ণফুলী নদীর চির চেনা গ্যাঞ্জেস ডলফিন বা গাঙ্গেয় ডলফিন কালের বিবর্তনে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।  চট্টগ্রামে স্থানীয়রা এদের উতোম আবার অনেকেউ শুশুক নামে ডাকে। এর ইংরেজি নাম Ganges River Dolphin আর বৈজ্ঞানিক নাম হল Platanista gangetica।  বেশ কয়েক বছর পূর্বের এক গবেষণায় জানা যায়- কর্ণফুলী ও এর আশে পাশের শাখা নদীতে গেঞ্জেস ডলফিনের সংখ্যা প্রায় ১২৫ এর মত। আর সারা বিশ্বে এই প্রজাতির ডলফিন আছে মাত্র ১১-১২শ’টি। হালদায় পূর্বে অধিক সংখ্যায় ডলফিন বিচরন করতে দেখা গেলেও, কালের পরিক্রমায় নদী দূষণ এবং বসবাস অনুপযোগী হওয়াতে বহু ডলফিন অসহায়ভাবে মারা যাচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন)’র লাল তালিকাভুক্ত হয়েছে এ ডলফিন। এর অর্থ দাঁড়ায়, এ প্রজাতির ডলফিন এর অস্তিত্ব হুমকির মুখে। ২০১২ সালের বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনের তফসিল-১ অনুসারে এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত বলে উল্ল্যেখ আছে।

স্থানীয় ও গবেষকদের অভিমত কর্ণফুলীতে এখন শতশত ড্রেজার। বালু উত্তোলনকারী এসব ড্রেজারের প্রপেলারের আঘাতে মারা যাচ্ছে একের পর এক ডলফিন। এসব ড্রেজারের সৃষ্ট কম্পন ও শব্দ দূষণে ডলফিনরা একস্থান হতে অন্য স্থানে ছুটাছুটি করে। দেখা যায় অনুকুল পরিবেশ থেকে তারা প্রতিকুল পরিবেশে প্রবেশ করে। তাছাড়াও নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও সাম্পানের দৌড়াত্ন বাড়ছে দিন দিন। এসবের ইঞ্জিনের ব্লেডে কাটা পড়ে মারা যাচ্ছে এই ডলফিন। এসব ডলফিনের চোখ নেই, মূলত ইকো সাউন্ড দিয়ে তারা চলাফেরা ও খাবার সন্ধান করে। এদের শরীরের গঠনও বেশ নরম প্রকৃতির ফলে ড্রেজারের প্রপেলার বা অন্য কোনো অংশের আঘাত এরা সহ্য করতে পারে না। পাশাপাশি নদীর পানিতে অতি মাত্রায় বর্জ্য জমে রাসায়নিক দূষণ এবং জেলেদের অবাধে মাছ ধরার কারণেও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে এ প্রজাতির ডলফিন। গত কয়েক মাসের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি মারা পড়েছে কর্ণফুলীর শাখা নদীতে। এ পর্যন্ত ভাসমান অবস্থায় ১৬টি মৃত ডলফিন পাওয়া গেছে। কর্ণফুলীতে প্রজনন শেষে এ ডলফিন বিচরণ করতে শাখা নদী হালদা ও সাঙ্গুতে প্রবেশ করে। কিন্তু হালদায় মাত্রাতিরিক্ত নৌযান চলাচল বেড়ে যাওয়ায় ব্যাঘাত ঘটছে এদের স্বাভাবিক জীবনচক্রে। এদিকে হুমকির মুখে আছে তাদের প্রজনন ক্ষেত্র কর্ণফুলীও। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এখনও যে স্বল্প সংখ্যক ডলফিনের দেখা মিলছে আগামী কয়েক বছরে হয়ত তাও হারিয়ে যাবে। ডলফিনের এই অস্তিত্ব সংকটে উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে এরই মধ্যে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে তারা। এ বিষয়ে ভিন্নমত এসেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী ও পরিবেশবাদী গবেষকদের তথ্যে, তাদের গবেষণা বলছে বন্দরের এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ডলফিনের প্রজনন ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বন্দরের জেটি নির্মাণ ডলফিন এবং সম গোত্রীয় অন্যান্য প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর হবে কিনা, তা জানতে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, পরিবেশ ও বন বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন এবং মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক আয়েশা আক্তার এ গবেষণা পরিচালনা করেন।তাদের অভিমত আটটি বিষয়কে গুরুত্বে নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে ডলফিনের জীববৈচিত্র্য ঠিক রাখা সম্ভব।

ডলফিন সংরক্ষণে বিশেষজ্ঞদের ৮টি সুপারিশ হলো-

১. নদীতে বিভিন্ন আবর্জনা, রাসায়নিক পদার্থ, তেল ইত্যাদি নিঃসরণে কঠিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।

২. নদীতে বন্দরের অপারেশন কাজের সময় সৃষ্ট শব্দদূষণ এবং নদীতে চলতে থাকা নৌযানের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা।

৩. নদীর পাড়ে থাকা বিভিন্ন কলকারখানার দূষিত বর্জ্য নদীতে আসতে না দেওয়া।

৪. ডলফিনগুলোর জন্য একটি জোন করা এবং ওই জোনে মাছ ধরা বন্ধ করা।

৫. শুস্ক মৌসুমে নদীর ওপরের শাখা নদী এবং অন্যান্য খালের বাঁধ অপসারণ করে পানির প্রবাহ ঠিক রাখা।

৬. অভয়ারণ্য এবং ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের আনন্দ দেওয়া।

৭. ডলফিন সংরক্ষণের জন্য জনসচেতনতা বাড়ানো এবং

৮. মনিটরিং সেল গঠন করা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক আয়েশা আক্তার এবং পরিবেশ বন বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন এর যৌথ গবেষণায় উক্ত সুপারিশখানা বন্দর কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়।

নদীতে অনেক দূষণ থাকার পরও এ প্রজাতির ডলফিনগুলো এখনও টিকে আছে বলে তাঁদের অভিমত।  তাই ডলফিনগুলো যেন অবাধে বিচরণ করতে পারে, তার জন্য আলাদা জোন করার প্রতি তারা গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

কর্ণফুলী নদী ঘিরে যেন তেন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে এর প্রাণীকুলে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দেয়ার সম্ভাবনা তাই অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করে তা বাস্তবায়ন প্রয়োজন। অন্যদিকে হালদাতে নাব্যতা কম, যা ডলফিনের বসবাস অনুপযোগী পাশাপাশি দূষণও হচ্ছে বেশ। সাগরের পানি প্রবেশ হলে কর্ণফুলী নদীতে লবণাক্ততা বেড়ে যায় তখন ডলফিন ওপরের দিকে উঠে হালদা ও সাঙ্গুতে চলে যায়। তাছাড়া প্রজনন শেষেও কর্ণফুলীর এসব শাখা নদীতে বিচরণ করতে চলে যায় মিঠা পানির এই গাঙ্গেয় ডলফিন। ফলে বসবাসের পরিবেশ সংকটে পড়ে সেখানে একের পর এক ডলফিন মারা যাচ্ছে। ডলফিনের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে জেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারাও মাঠে নেমেছেন। সবচেয়ে বেশি ডলফিন মারা যাওয়ার জায়গা হিসেবে একটি স্থান অধিক পরিচিতি লাভ করেছে স্থানীয়দের কাছে। হালদা নদী সংলগ্ন গড়দুয়ারা ইউনিয়নের গচ্ছাখালী খালটি বর্তমানে ডলফিনদের জন্য বিপদসংকুল হয়ে পড়েছে। গচ্ছাখালী খালের বিভিন্ন পয়েন্টে একাধিক মৃত ডলফিনকে সনাক্ত করা গেছে। গত ৬ মাসে ১৬টি ডলফিনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৭ এর ২৭ ডিসেম্বর গচ্ছাখালি খালের মাস্টার বাড়ি কালভার্টের নিচে পাওয়া যায় একটি মৃত ডলফিন, ২০১৮ এর ২ জানুয়ারি গড়দুয়ারা সুইস গেট এলাকায় এবং ৫ জানুয়ারি গচ্ছাখালি খালে আরও তিনটি মৃত ডলফিন ভেসে ওঠে। পরবর্তীতে হালদা নদী সংলগ্ন গড়দুয়ারা ইউনিয়নের গচ্ছাখালী খালের কান্তর আলী চৌধুরীহাট বাজারের সেতুর নিচেও একটি মৃত ডলফিন ভেসে ওঠে যেটি প্রায় ছয় ফুট দৈর্ঘ্যের ও আনুমানিক ৭০কেজি ওজন এর।

মৎসজীবী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত ডলফিন মারা যাওয়ার এ চিত্র অত্যন্ত বিপজ্জনক।  গচ্ছাখালি খাল ধরে হালদায় প্রতিদিন শত শত ড্রেজার চলাচল করে। আর এখানেই ড্রেজারের প্রপেলারের আঘাতে ডলফিনগুলো আহত হয় এবং পরে মৃত অবস্থায় ভেসে ওঠে। ডলফিনের মৃত্যুর প্রধান কারণ তাই এসব ড্রেজারকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। স্থানীয়রা মারা যাওয়া ডলফিনের গায়ে জখমের চিহ্ন দেখে থাকেন। নদীতে একদিকে ড্রেজার চলে অন্যদিকে মাছ ধরার জন্য অনেকেই গোপনে বিষ প্রয়োগ করে থাকেন। এসব কারণে ডলফিন বাঁচার উপযোগী পরিবেশ পাচ্ছে না।

কর্ণফুলীর শাখা নদী হালদার দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ কিলোমিটার যা প্রবাহিত হয়েছে হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলা ঘেঁষে। আবার এই হালদার সাথে সংযুক্ত আছে ১৭টি খাল। মুলত বিচরণ করতে এসব খালে এসে ডলফিনের মৃত্যু ঘটছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে একদিন হালদা ডলফিনশূন্য হয়ে পড়বে।

সুতরাং কর্ণফুলীর তীরবর্তী সকল মানুষের মত আমার দাবী  হালদার প্রিয় চেনামুখ এই ডলফিন রক্ষায় অবিলম্বে নদীতে ড্রেজারে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষের যথাযথ হস্তক্ষেপ এবং দ্রুত নদীটিকে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া ও ডলফিনের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হউক।

 

নদীরতীরে সূর্যাস্ত

Now Reading
নদীরতীরে সূর্যাস্ত

গোধূলির আবিরে রাঙা অস্তায়মান লাল সূর্য। দিনের শেষে থেমে আসে চারপাশের কর্মকোলাহল। প্রকৃতিতে নেমে আসে অন্যরকম এক প্রশান্তি। পশু-পাখি নীড়ে ফিরে যেতে থাকে। সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর শুরু হয় মানুষের ঘরে ফেরার পালা। চরাচরে সর্বএই বিরাজ করে এক নৈসর্গিক নীরবতা। সূর্যের রক্তিম আলোর ছটায় প্রকৃতি যেন অনরকম রঙে নিজেকে সাজায়। নদীর তীরে দাঁড়ালে সূর্যাস্তের এক মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়। বিস্তৃত নদীতীর, সামনে কল্লোলিত নদী, স্বর্গীয় অাভায় রাঙ্গনো আকাশ—এই শোভা, এই অপরূপ রূপের মাধুরী দেখে দু চোখের তৃষ্ণা যেন মেটে না। বিশ্বস্রষ্টা যেন নিজেকে আড়ালে রেখে মোহময় সৌন্দর্যের মধ্যে মানুষকে ডুবিয়ে রেখেছেন। রহস্যময় এক মায়ার জগৎ সৃষ্টি করে খেলছেন আড়ালে বসে। সূর্যাস্তের সময় নির্জন নদীতীরে দাঁড়ালে এমন অধ্যাত্ন-ভাবনা ভেসে আসে মনে। দিবসের অবসান আর রাএির আগমনের এই পৃথিবী যেন মিলন-বিরহের খেলায় মেতে ওঠে। আকাশ আর মাটি যেন মুখোমুখি মৌনমুখর। ছায়াঢাকা গ্রামের নিবিড় প্রেক্ষাপটে সূর্যাস্তের দৃশ্য ঘোমটা-টানা লাজুক বধূর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। নদীতীরে সূর্যাস্ত দেখতে গেলে বহুমাএিক সৌন্দর্য চোখে পড়ে। সামনে বিশাল জলরাশি,ওপরে রক্তিম উদার আকাশ,গোধূলি লগ্নে উন্মুক্ত নদীতীরে দাঁড়ালে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। আকাশের রক্তিম রঙে নদীর পানি রঙিন হয়ে ওঠে। এ সময় দিগন্তে দ্রুত রং বদলাতে থাকে। অস্তগামী সূর্যের লাল টিপ কপালে পরে পৃথিবী যেন নববধূর মতো সাজে। ঝিলিমিলি ঢেউখেলানো সোনারঙের পানিতে পালতোলা নৌকা ভেসে চলার দৃশ্য অপূর্ব লাগে। নদীর তীরে ঘেঁষে বাতাসের স্রোত সাঁতরে উরে চলে সাদা বক,গাঙচিল,বালিহাঁসের ঝাঁক। রক্তিম সূর্য তার উষ্ণতা বিলিয়ে লাল হতে হতে নিচে নামতে থাকে।

এক সময় মনে হয় নদী আর আকাশ যেন মিশে গেছে দিগন্তরেখায়। সূর্য যেন কান পেতে শুনছে পৃথিবীর গোপন বিষাদের সুর। তারপর সেই অগ্নিগোলক যেন নদীর বুকে টুপ করে ডুবে গেল। আঁধারে কালো চাদর আচ্ছন্ন করল চারদিক। চরাচরে ঝিঁঝির শব্দ,জোনাকির টিপটিপ আলো,ঝিরিঝিরি বাতাসে সৃষ্টি হয় নতুন এক আবেশ। কখনো সন্ধাকে মনে হয় যেন গ্রামের কিশোরী মেয়েটি, লাল-হলুদ ডুবে শাড়ি কোমরে পেঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নদীতীরে। পর মুহূর্তেই মনে হয়, এ তো নিছক কল্পনা মাএ। অস্তায়মান সন্ধার আবছা আঁধারে নদীর ছোট ছোট ঢেউয়ের ওপর বিচূর্ণ আলোর কারুকাজ সত্যিই বিস্ময়-জাগানিয়া। ইচ্ছে হয়, সেই ঢেউয়ের কারুকাজ একটু হাত রাখি। ছুঁয়ে দেখি আলোছায়ার বিচিএ লুকোচুরি। ঘনায়মান সন্ধ্যার অপরূপ রূপের মাধুর্য ধরে রাখি হৃদয়ে। কিন্তু বাস্তবে তা যে হবার নয়।

নদীর অপরূপ সৌন্দর্য আমাকে তার কাছে টানে। নৃদীর কাছে গেলে কল্পনায় হারিয়ে যাই। তখন নিজেকে অনেক হালকা লাগে। সূর্যাস্তের সময় অনেক ভাল লাগে দৃশ্যগুলো। মনে মনে ভাবি সূর্যিমামা কই যায় আমাকে নিয়ে যাবে না। ভাবনা গুলো কাল্পনিক। নদীরতীরে গেলে আমাকে প্রবাল বাতাস ভেদ করে ছুটে চলে দুরদিগন্তে। মন চায় বাতাস এর সাথে ছুটে চলি। নদীতে পালতোলা নৌকা গুলো চলে সাদা বক গুলো উড়ে নদীর ওপর দিয়ে। জীবন টা কতটা রঙিন তা নদীর কাছে গেলে বোঝা যায়। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ সব জেলায় নদী আছে।নদী বর্ষায় অনেক ভয়াবহ রুপ নেয়। আবার এমনি সময় দেখা যায় নদীর অনেক সুন্দর রুপ।নদীতীরে সূর্যাস্ত দেখার মজাই আলাদা জীবন আরো রঙিন হয়ে ওঠে। মুক্ত ভাবে চেতনা কে ঘুম থেকে উঠানো যাবে। সূর্যাস্তের মুহূর্তে অনেক ভাল লাগে।

নদী আমাদের মায়ের মতো। নদীর অপরুপ নিলাখেলা কারো বোঝার উপায় নেই। নদীর তীরে সন্ধার দিকে গেলে দেখা যায় মায়া মুগ্ধকর দৃশ্য যা দেখলে সকলের প্রান ভরে যায়। যে নদীর সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারলো না আমি তো মনে করি সে হতভাগা। নদীর সূর্যাস্তের সময় আকাশ টা যেন নববধূর মতো হয়ে থাকে । সে কি অপরুপ দৃশ্য। জীবনটা সারা জীবনের জন্য নদীর পারে কাটাতে ইচ্ছে করে। নদীর তীরে বেলা শেষে জেলেরা এসে ভির করছে আরো অনেক মানুষ পালতুলে নৌকা চালাচ্ছে। মাথার ওপরে সূর্যিমামা রঙ খেলছে। মনোরম সব দৃশ্য। ওই দিন ছিল রবিবার বিকেলে ক্লাস শেষ করে গিয়েছিলাম বন্ধুদের সাথে নদীরতীরে ঘুরতে। নদীর সূর্যাস্ত আমাদের ফাকি দিতে পারল না আমি ক্যামেরা বন্দি করে নিলাম। সময় টা বেশ ভাল ছিল। প্রান ভরা বাতাস আর বয়ে যাচ্ছে নদীর পানি আর সূর্যিমামা তো আছেই। তার রঙে রাঙানো ছিলাম আমরা এবং নদী। অনেক জেলেরা মাছ ধরছে বিকেলেও দেখে নিজেকে এক অন্যরকম সময় এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলাম। নদীতীরে সূর্যাস্ত যেন সব কিছুর থেকে আলাদা। আমাদের দেখা নদীটি ছিল আরিয়াল-খাঁ নদ । সে কি মনোরম দৃশ্য আপনি কখনো সেটা না গিয়ে বুঝতে পারবেন না ।

নদীর দিকে তাকালে যে কারো মনভরে যাবে। নদীর পাশে ছিল অনেক প্রাকৃতিক দৃশ্য যা আমাদের প্রান টাকে শান্ত করে দিয়েছিল। নদীর দৃশ্য ছিল মধূর আমার দেখছিলাম জেলেরা কিভাবে মাছ ধরে কিভাবে নদীতেই মাছ চাষ করে। মাঝি ভাই কিভাবে নৌকা চালাচ্ছে। আমারাও একটা নৌকা চালিয়েছিলাম কিন্তু সেটা কিছুখনের জন তাই মনভরে নি।নৌকার ওপরে যখন ছিলাম তখন ছিল অন্যরকম মুহূর্ত নিচে পানি ওপরে সূর্যিমামার রাঙানো আকাশ সময় টা বেশ ভাল ছিল। সাদা বকের দল ছুটে চলেছে তাদের গন্তব্য স্থানে বালি হাঁস চলছে। কিছু খনের মধ্যে সূর্যিমামা চলে গেল সে কি মনোরম দৃশ্য। জীবন এর সব সময় টা যদি নদীতীরে থাকা যেত তাহলে সেটাই করতাম। নদীতীরে সূর্যাস্ত দেখে মনে পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার কিছু চরণ:

‘সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা

আঁধারে মলিন হল,যেন খাপে ঢাকা

বাঁকা তলোয়ার।

দিনের সব কিছু শেষে সবচেয়ে ভাল মুহূর্ত হল নদীতীরে সূর্যাস্ত দেখা।

নদীর সেই মন ভোলানো দৃশ্য সহজে কোন মানুষ কে দুর্বল করতে পারে। যেটা আমি হয়েছিলাম। নদীর সাথে কেমন যেন ভাব ভাব হয়ে গিয়েছিল। এ ছিল আমার ভাল একটা সময়। মানুষ অনেক ব্যস্ততার মাঝে দিন কাটায়। তাই হয়তো অনেকের এই মনোরম দৃশ্য উপভোগ করার সময় হয় না। আমি আপনাদের বলছি একবার নদীরতীরে আসুন না। কথা দিলাম আপনাদের সময় টা নষ্ট হবে না। নদীর পাশে কাশবন টা ছিল কিন্তু ফুল টা ফুটে নি তাই হয়তো দেখতে ভাল লাগে নি। কিন্তু আমার কাছে সব কিছুই অনেক ভাল লেগেছে। চরম একটা সময় ছিল যা বলে শেষ করা যাবে না। আমরা সবাই নদীরতীরে সূর্যাস্তর মনোরম দৃশ্য উপভোগ করছিলাম। আমার বন্ধুরাও হারিয়ে গিয়েছিল রুপ সাগরে। নদীর পানি যেন আমাদের ডাক দিচ্ছে তার কাছে যেতে বলছে। তার মায়া আমাদের টানছে। আমরা অনেক মজা করছিলাম। নদীরতীরে সূর্যাস্ত দেখার মজাই আলাদা জীবনের কোন কাজের সাথে এটার তুলনা হবে না।

প্রিয় গাছ

Now Reading
প্রিয় গাছ

-শুনেছি সকালে ঘুম থেকে উঠে  প্রতিদিন কেউ যদি সবুজ গাছের দিকে তাকিয়ে থাকে, তাহলে তার চোখের জ্যোতি বেড়ে যায়, চোখে প্রশান্তি আসে । কিন্তু যতটুকু দেখেছি এই সবুজ শুধু চোখেই সতেজতা নয় মনেও আসে স্থিরতা , ফোকাস করার ক্ষমতা বেড়ে যায় । উৎফুল্লতা আসে । আসে উদ্দীপনা । ঘুম ভেঙ্গে সবুজ গাছের দিকে একমনে তাকিয়ে দেখুন সত্যিই আপনার মনে বহু পজিটিভ সেন্স সৃষ্টি হবে । যত বেশি সবুজ তত বেশি বিশুদ্ধতা । তত বেশি সুস্থতা ।

-কিন্তু আমাদের শহুরে জীবনে সবুজ পাওয়া ততটা সহজ নয় । চারিদিকে ইট কাঠের ভবন । বহুতল সব ভবনগুলো । উঠেছে, উঠছে, উঠবে । অধিকাংশই পরিকল্পনাবিহীন বহু পুরনো এবং ক্রমশও বেড়ে গিয়ে  বিশাল মেগা সিটিতে রুপ নেওয়া এই শহরটির কয়টি বাড়িতেই বা মন ভালো করে দেওয়া সবুজ পাওয়া যাবে । আরও দুটো পয়সার ইচ্ছায় এক ইঞ্চি জায়গাও কেউ ছেড়ে দিতে রাজি নয় প্রকৃতির জন্য । ভাগ্যবান ও রুচিশীল কিছু মানুষ ছাড়া আর প্রায় সকলকেই এপার্টমেন্ট ভবনের বারান্দা বা বেল্কনিতে সবুজকে আনার চেষ্টা করেন । কেউ কেউ ঘরেও মানানসই গাছ সাজিয়ে রাখেন । বনসাই, অর্কি্‌ড, পাতাবাহার,  মানিপ্ল্যান্ট ইত্যাদি গাছগুলো ঘরে ভালোই লাগে ।

Rooftop-Gardens-book-flowering-600x557.jpg

 

– ফ্ল্যাট বাড়িতে সবার কিন্তু আবার বারান্দা থাকেনা । তাই ইচ্ছে হলেও গাছ লাগানো সম্ভব হয় না । একফোঁটা সবুজের তৃষ্ণায় অনেককেই দেখিছি জানালায়ও দু একটা ছোট টব রাখেন । মানিপ্ল্যান্ট বা অর্কিড জাতীয় গাছকে প্রাধান্য দেন । মানিপ্ল্যান্ট গাছ নিয়ে একটি মজাদার মিথ শুনেছি যে, কেউ যদি মানিপ্ল্যান্ট গাছের একটি ডাল গাছের মালিকের অজান্তে ছিঁড়ে এনে ঘরে বা বাগানে লাগায়, তাহলে সেই লাগানো গাছটি  যত বাড়বে সেই ব্যাক্তির  টাকা বা সম্পদ তত বাড়বে । হা হা হা – কথাটা যদি সত্য হতো তাহলে বাংলাদেশের দারিদ্রতা সহজেই দূর করে দেওয়া যেতো । প্রধানমন্ত্রীকে আর এতো কষ্ট করে এতো প্ল্যান প্রোগ্রাম করে দেশকে উন্নয়নশীল থেকে ধনী দেশে রুপান্তরিত করার জন্য লড়তে হতোনা সকল প্রতিকুলতার বিরুদ্ধে । তখন বিল পাশ হতো –প্রিয় দেশবাসী আপনারা দয়া করে একটু কষ্ট করে কোথাও থেকে মানিপ্ল্যান্ট ডাল জোগাড় করে লাগিয়ে নিন । এই কাজে ধনী হবার জন্য এক বছর সময় দেয়া হোল । এক বছর পর যদি কোন গরীব খুঁজে পাওয়া যায় তাহলে এটাই ভেবে নেওয়া হবে যে আপনি সরকারের নিয়ম পালনে গাফিলতি করেছেন । অতএব আপনি এখন কাঠ গড়ায় । অর্ডার অর্ডার, আপনাকে এই মর্মে—- এই দণ্ডবিধি মতাবেক—-এই শাস্তি —-।  জাস্ট ফান । এ কথা শুনে গাছ কষ্ট পেতে  পারে । এবং সেই মানুষগুলো যাদের ক্ষেত্রে সত্যিই এমনটা হয়েছে বলে তারা মনে করেন ।

– আমার সকল কথার পেছনে গাছের উপকারিতার কথাই মুখ্য । পরোক্ষ আর প্রত্যক্ষ সকল ক্ষেত্রেই গাছের সর্বোচ্চ অবদান । আজকাল ছাদের বাগান মানুষকে খুব উৎসাহী হয়ে করতে দেখা যায় । এই সৌভাগ্যটুকু শুধুমাত্র ভবনের মালিকের থাকে । আমাদের মেয়র সাহেবরা রাজধানীকে  সবুজ করতে বেশ কিছু চমৎকার  পদক্ষেপ নিয়েছেন ।  উনারা ঢাকা সবুজ নগর  করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন । একদিকে যেমন ঢাকার তাপমাত্রা বাড়ছে , ওপর দিকে সবুজ কমছে । আশপাশের এলাকার চেয়ে ঢাকার তাপমাত্রা ৫ থেকে ৬ ডিগ্রি বেশি হওয়ায় গ্রীষ্মকালে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে ।   ঢাকার দুষিত বাতাসের কারনে শ্বাসকষ্ট সহ নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ । বিশেষ করে শিশুরা বেশি ভুগছে ।  মেয়ররা প্রতি বাড়ির ছাদে ও বারান্দায় গাছ লাগানোর পরামর্শ ও সাহায্য করে যাচ্ছেন । পুরনো ঢাকার পোস্তগোলা থেকে বাবুবাজার পর্যন্ত এলাকাকে হাতির ঝিলের মতই শুধু না লন্ডনের টেমস নদীর তীরের মত করে সুন্দর পার্ক তৈরি করে সবুজে ভরে দেবেন । দক্ষিনের মেয়রের পদক্ষেপটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য । যখনই এটা ভাবছি মনে মনে বলছি – ‘আরে, বাহ !!’

– এছাড়াও রাস্তার আশেপাশে, পার্কের খালি জায়গা, ফ্লাইওভারের নিচে ও বাড়ির ছাদে যদি মেয়ররা গাছ লাগানো হয়েছে । এভাবেই এই মেগা সিটিকে আরও সুন্দর করতে সবুজ করতে অনেক কাজই করেছেন উনারা ।

-এ বিষয়ে শিক্ষার্থী,  শিশু কিশোর সহ সকল  মানুষকে ভালোবেসে দায়িত্ব নিয়ে এ শহরকে সুন্দর করার প্রচেষ্টায়  হাত লাগায়   তাহলে রাজধানির সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি বড় উপকার হচ্ছে পরিবহন শিল্পকারখানা থেকে নিঃসৃত  কার্বন সহনীয় পর্যায়ে এসে যাবে । কার্বনডাইঅক্সাইডের কারনে সৃষ্ট ক্ষতিকর দিকগুলোও হ্রাস পাবে ।

-পরিবেশ রক্ষায় এই অতিপ্রয়োজনীয় অবশ্যকর্তব্য কাজটি করতে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগুতে হবে । আমার দেশের আমার রাজধানীর  এবং আমার পরিবার ও পরিবেশকে রক্ষার দায়িত্ব তো আমারই ।

 

প্রিয় গাছ

জলন্ত সূর্য মাথার উপর-

উত্তাপে জ্বলছে, হাঁটছে আর হাঁটছে সে তো শ্রান্ত পথিক,

ঘামছে  পুড়ছে  ভাবছে — দুখে মন ভেঙ্গে গেল যেই-

ওই তো একটি গাছ ডালপালা ছড়িয়ে দূরে আছে দাড়িয়ে,

ক্লান্তির শেষ ধাপে গাছের ছায়ায় এসে বসলো।

ভালোলাগা আবেশে হেলান দিয়ে চোখ বুজলো।

উত্তাপে জ্বলে যাওয়া এ শরীর নেতিয়ে পড়েছে দেহখানি,

গ্রীষ্মের খর তাপ এভাবেই পোড়াবে সকল দিনমানই।

কি করে কি করে সে বিধির আশিস যেন

ঝুপ করে পদপাশে এ যে পাকা আম ,

সুমিষ্ট সেই আম পরান জুড়িয়ে দিল শান্তি অনেক হোল প্রানে,

উপরে তাকিয়ে দেখে ফল ভরা আমগাছ চারিদিক ভরা ফল ঘ্রানে।

একদিন কোন এক সুধিজন, সজতনে লাগিয়েছে এক আম চারা,

আজ সেই চারা গাছ বৃক্ষ হয়ে, ছড়িয়েছে ডালপালা দিগন্ত জোড়া।

কেউ যদি কোনদিন লাগাতোনা এই গাছ পেতো কি সে গাছের ছায়া,

এটা নয় শুধু সকল সবুজ গাছ যেন এক উপকারী কায়া।

আমাকে বাঁচাবে গাছ, আমিও বাঁচাবো গাছ—

গাছ আমি সখ্য মিতালী,

মানবের বন্ধু অশেষ দিয়েছে

ভোরেছে দানে অঞ্জলী।

তুমি দাও ঔষধ তুমি দাও প্রসাধন

তুমি দাও আমাকে আহার,

ফুলের সুবাস দাও হাজারো রঙের

রঙিন পাতায় ভরা পাতার বাহার।

নিঃশ্বাস ফেলি সেতো তুমি আছ তাই,

তারপরও তোমাকে পোড়াই

তোমাকেই কেটে চিরে কত কিছু বানিয়ে,

আমাদের জীবন সাজাই।

তুমি ছাড়া একেবারে মিথ্যে জীবন

তুমি হোলে সত্য সাথী,

তুমি ছাড়া সব রঙ হারিয়ে যাবে,

তুমি যেন জীবন বাতি।

কেউ যদি কেটে ফেলে কোথাও একটি গাছ

হৃদয়ে দরদ মায়া জাগিয়ে,

পূর্ণ কোরে দিয়ো সে অভাবখানী,

অনুরোধ- চার চার গাছ লাগিয়ে।

পৃথিবী শোন—

গাছ এত কেটো না লাগাও চারা সবুজে সবুজে ভরে দাও,

শত দান প্রতিদান পাবে প্রতিক্ষণ ধরণীকে বাঁচাও বাঁচাও ।

images (1).jpg

 

পরিবেশ রক্ষায় এই অতিপ্রয়োজনীয় অবশ্যকর্তব্য কাজটি করতে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়  এগিয়ে যেতে হবে । আমার দেশের, আমার রাজধানী,‌  আমার এলাকার, আমার পরিবার ও পরিবেশকে রক্ষার দায়িত্ব তো আমারই । মানবতার জয়গান, সভ্যতার বিনির্মাণ, সুস্থ্যতার আহ্বান, সৌন্দর্যের প্রতিস্থাপন ও  জলবায়ু পরিবর্তনে এ কাজে আর এ কাজের সাহায্যে এগিয়ে আসতে  হবে পুরো পৃথিবীকেই ।

 

প্রকৃতির সাথে মানুষের সংযোগ

Now Reading
প্রকৃতির সাথে মানুষের সংযোগ

সবুজ প্রকৃতিকে আমরা কে না ভালোবাসি? শহুরে জীবন যাপনে আমরা যখন অতিষ্ট হয়ে পড়ি তখন চলে যাই প্রকৃতির কাছে । তাকে দু হাতে একটু খানি আলিঙ্গন করার জন্য ব্যাকুল হয়ে যাই। পরিবেশ মানুষের জীবনী শক্তির প্রধান উৎস। সবুজ নির্মল পরিবেশ আমাদের এক নিমিষেই চাঙ্গা করে দেয়। এই পরিবেশের উপরই নির্ভর করছে আমাদের অস্তিত্ব। পরিবেশ প্রতিকূল হলে আমাদের ধ্বংস ও সর্বনাশ অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু যখন আমরা নিজেরাই এই পরিবেশের ধ্বংস ডেকে নিয়ে আসছি তখন আমাদের নিজেদের কাণ্ডজ্ঞান কত খানি আছে তা বুঝার দরকার। আজ ৫ ই জুন, “বিশ্ব পরিবেশ দিবস” যা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সারা বছর পরিবেশ দূষণ করে, যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলে, অবিচারে বৃক্ষ নিধন করে এই একটি দিনে আসি পরিবেশের জন্য খুব দয়া দেখাতে। যাই হোক জাতিসংঘ এই দিনকে অর্থাৎ ৫ই জুনকে, ১৯৭২ সালে “বিশ্ব পরিবেশ দিবস” হিসেবে ঘোষণা করেছে।
একসময় মানুষ ধারণা করতো প্রকৃতির ওপর যে কোনো ভাবে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা সবচেয়ে জরুরী। এই আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য বন ধ্বংস করে, নদীর প্রবাহ বন্ধ করে, বিভিন্ন জীব জন্তু হত্যা করে , পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে মানুষ পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করেছে, ডেকে এনেছে নিজের বিপদ। পরিবেশের উপর এই মারাত্নক অত্যাচারের কারণে প্রকৃতি আজ আর আমাদের হাতে নেই, তাকে আমাদের বশে আনার আর ক্ষমতা নেই। মানুষকে আজ প্রকৃতির উপর আধিপত্য নয়, গড়ে তুলতে হবে প্রকৃতির সাথে বন্ধুর সম্পর্ক। একারণে এখন আমাদের খুব চিন্তা ভাবনা করে চলতে হবে কিভাবে এই বন্ধুত্ব গড়ে তোলা যায়। অনেক কষ্ট করে তা গড়ে তুলতে হবে কেননা সে এখন আর আমাদের কথা শুনবে না। জাতিসংঘ সবার মাঝে পরিবেশ কে ধ্বংস না করে তাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন আন্দোলন করে যাচ্ছে। তারই একটি হচ্ছে এই বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন। প্রতিবছর এই বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের জন্য তারা একটি স্লোগান তৈরি করে যাকে ঘিরে সেই বারের আন্দোলনটা রূপ পাবে। ২০১৭ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে এবারের স্লোগান “Connect People To Nature” বা “প্রকৃতির সাথে মানুষের সংযোগ” অর্থাৎ আমাদেরকে প্রকৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশে যেতে হবে, প্রকৃতিকে ভালবাসতে হবে, ধারণ করতে হবে নিজের সাথে। এই স্লোগানের মাধ্যমে আমাদেরকে প্রকৃতির কাছে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং বৈচিত্র্য গুলো আমাদের চোখের সামনে দেখার কথা বলে হয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘ খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা এবং উন্নত স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা, বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস থেকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহর ব্যবস্থা তৈরি করা এবং জলবায়ু স্থিতিশীলতার সুবিশাল সুবিধা গুলো তুলে ধরা সহ বিভিন্ন ধরণের সমস্যা থেকে পরিত্রানের উপায় এই আন্দোলনের মাধ্যমে তুলে ধরে ।pollution-620_620x350_81476701924.jpg

পৃথিবীতে মানুষ টিকে থাকার জন্য কত কি করছে। পৃথিবী ধ্বংস হলে কোথায় থাকবে তার জন্য নতুন বাসস্থান খোঁজার জন্য বিশাল পরিমানে অর্থ খরচ করছে কিন্তু তার খুব সামান্য অংশই ব্যয় করছে পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য তার পরিবেশকে বাঁচানোর জন্য। পৃথিবীতে প্রায় ৮০% মানুষ পরিবেশ দূষণের জন্য মারাত্নক ক্ষতির মুখে পড়ছে। প্রতিবছরে সারা পৃথিবীতে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ফোম কাপ, ২২০ মিলিয়ন টায়ার এবং ১.৮ বিলিয়ন ডায়াপার পুড়ানো হয়। যার কারণে পরিবেশের মারাত্নক ক্ষতি হয়। পৃথিবীতে প্রতিবছর যে মানুষ মারা যায় তার ৬.৭% মানুষ মারা যায় বায়ু দূষণের কারণে। যে বিশাল পরিমাণে বায়ু দূষণ হচ্ছে তার প্রধান কারণ হচ্ছে মানুষের কর্মকান্ড। বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যানবাহন ও কলকারখানা ইটভাটার কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং পেট্রোলিয়াম পুড়ানোর কারণে বায়ু দূষণ হচ্ছে। পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি হচ্ছে। পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মানুষের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পরেছে। পরিবেশ বাদীদের মতে আগামী ৩০ বছরের মধ্যেই তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রী করে বৃদ্ধি পাবে এর ফলে সাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে ঝড় বৃষ্টি, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস সহ বিভিন্ন ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিবে। আগামী ৫০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় দু তৃতীয়াংশ জায়গা পানিতে ডুবে যাবে। হারিয়ে যাবো আমরা। এমনিতেই আমাদের প্রতিবেশী দেশ আমাদের ন্যায্য হিস্যার পানি না দিয়ে আমাদের দেশকে মরুভূমিতে রূপ দিতে বিরাট ভূমিকা রাখছে এভাবে চলতে থাকলে আমাদের কোন থাকার জায়গা থাকবে না। বিলীন হয়ে যাবে আমাদের অস্তিত্ব। এই পরিবেশকে রক্ষা করতে চাইলে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। এজন্য আমাদেরকে বিভিন্ন কাজ করতে হবে। এই পরিবেশকে রক্ষা করতে হলে আমাদেরকে নিম্নোক্ত উপদেশ গুলো পালন করতে হবে।

  • পৃথিবীতে আমরা প্রতিবছর প্রায় ৮০ ট্রিলিয়ন অ্যালুমিনিয়াম ক্যান বোতল ব্যবহার করি। এসব ক্যান বোতল গুলো আবার রিসাইকেলিং এর মাধ্যমে আবার ব্যবহার করা সম্ভব এইজন্য এর পরের বার আমরা যখন এই অ্যালুমিনিয়াম ক্যান বোতল ব্যবহার করব তখন আমরা তাকে যত্রতত্র ফেলি না দিয়ে রিসাইকেল ডাস্টবিনে তা ফেলি।
  • পৃথিবীতে ব্যবহার যোগ্য পানির পরিমাণ মাত্র ১% আর বাকি ৯৯% পানি লবণাক্ত ও বরফ। আমাদেরকে সবসময় এই পানি অপচয় রোধ করতে হবে। পানির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
  • আমাদেরকে পলিথিন ব্যাগ যথাসম্ভব বর্জন করতে হবে। পলিথিনের কারণে প্রতিবছর প্রায় ১০,০০,০০০ সামুদ্রিক প্রাণী মারা যায়। বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে এই পলিথিনের কারণে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে ।
  • কার্বন নিঃসরণ প্রবাহ কমাতে হবে একারণে আমাদেরকে যথাসম্ভব বাসার ফ্যান লাইট কম পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে।
  • বেশি বেশি গাছ লাগানোর চেষ্টা করি আর যদি একটি গাছ লাগাতে নাও পারি অন্তত একটি গাছে পানি দিয়ে সেই গাছের বৃদ্ধি নিশ্চিত করি।
  • যথাসম্ভব গাড়ির ব্যবহার কম যেন কম করি এবং পায়ে হাটার অভ্যাস তৈরি করি।
  • খাবার বেশি নষ্ট না করি কেননা আপনার নষ্ট করা খাবারই হয়ত অন্য কারো খাবার ছিল। যা আপনি নষ্ট করে ফেললেন।
  • পুনরায় ব্যবহার যোগ্য শক্তি বেশি ব্যবহার করতে হবে।tree1.jpg

আমাদেরকে এই পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে পৃথিবীর সাথে কোমল হতে হবে।যদি পরিবেশ ভালো থাকে তাহলে আমরা ভালো থাকব আর আমরা ভালো থাকার মানেই হল পরিবেশের উপর আধিপত্য থাকা।

Page Sidebar