5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER
টপ টেন
Heat Index
Try a different filter

আর্থিক সংকটে বিপর্যস্ত “আইওএম” এর রোহিঙ্গা স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম

Now Reading
আর্থিক সংকটে বিপর্যস্ত “আইওএম” এর রোহিঙ্গা স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম

আন্তর্জাতিক শরণার্থী সংস্থা (আইওএম) বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে যাচ্ছে। তারা ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে কক্সবাজার জেলায় প্রায় ৪ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছে। বর্তমানে সংস্থাটি আর্থিক তহবিল সংকটে পড়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে যদি তারা আন্তর্জাতিক কিংবা বহুজাতিক কোম্পানির সহায়তা না পায় তবে তারা এ সেবা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা যদি তারা তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় তবে শরণার্থী শিবিরগুলোতে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুগুলোও ঠেকানো সম্ভব হবে না বলে সতর্ক করেছে। গত ৬ জুন আইওএম তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব উল্ল্যেখ করেছে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ১০ লাখ মানুষ। তারা কক্সবাজারের টেকনাফ ও এর পার্শ্ববর্তী রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে বর্তমানে আশ্রিত।  এত বিপুল পরিমাণ শরণার্থী জনগোষ্ঠীর বিপরীতে ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত কক্সবাজারে প্রায় ৪ লাখেরও বেশি পরামর্শসেবা দিয়েছে এই আন্তর্জাতিক শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (আইওএম)। সংস্থাটির সেচ্ছাসেবক ও চিকিৎসাকর্মীরা রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনসাধারণকে এতদিন এসব সেবা বিনামুল্যে দিয়েছেন। বিগত কয়েক মাসের মধ্যে আইওএম এর স্বাস্থ্য কর্মীরা প্রতিদিন গড়ে ৭০০ জন স্থানীয় ও রোহিঙ্গা নারীকে তাদের সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। এমনকি তাদের স্বাস্থ্য সেবার মধ্যে সিজারের মাধম্যে প্রসব ব্যবস্থাও যুক্ত ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে আইওএম এর অর্থায়নকৃত সার্জিক্যাল ফ্যাসিলিটির আওতায় ১০ জন শিশু সিজারের মাধম্যে জন্ম নিয়েছে। তারা গর্ভাবস্থাজনিত জটিলতা ছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসাসেবাও দিয়েছেন তাদের কার্যক্রমে। আইওএম-এর পরিচালিত ক্লিনিকগুলোতে পরামর্শ ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে শিশুদের উপস্থিতি লক্ষণীয়।

এদিকে সাম্প্রতিক বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিজনিত কারণে রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রকট হয়েছে। ফলে চিকিৎসাকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, তাদের কার্যক্রম আরো প্রসার করতে হবে। তবে তহবিল সংকটে জরুরিভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা না পেলে শিগগিরই এসব সেবা পুনরায় চালু করা যাবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান আইওএম। তারা আরো আশঙ্কা করছে যে, আর্থিক সংকটে এ কর্মসূচী বন্ধ হয়ে গেলে আগামীতে লাখো মানুষ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে এবং চোখের সামনে তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ঘটবে।

এদিকে কক্সবাজার জেলার সিভিল সার্জন রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয়দের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়ে আইওএম ব্যাপক কাজকর্ম এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারকে সহযোগিতার জন্য আইওএম কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

কক্সবাজার জেলার সিভিল সার্জন আরো বলেন, হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করার পাশাপাশি তারা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকেও শক্তিশালী করেছে। আইওএম-এর সহযোগিতা ছাড়া আমরা কক্সবাজারের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় এতোটা সফল হতাম না।

তাছাড়া কক্সবাজার ও টেকনাফে আইওএম এর কার্যক্রমে বেশ সন্তুষ্ট সুবিধাভোগী জনসাধারণ। এমতাবস্থা আর্থিক সংকটে যদি এহেন জনপ্রিয় মানবিক সহায়তা প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায় তবে সে ক্ষেত্রে মারাত্মক সংকট দেখা দেবে কক্সবাজার জেলা সহ সকল শরণার্থী শিবিরে।

কার ভরসায় রেখে যাচ্ছি শিশু ?

Now Reading
কার ভরসায় রেখে যাচ্ছি শিশু ?

আধুনিক যুগে সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে পুরুষের সাথে কাজ করছে নারী , কাজের প্রয়োজনে অনেকটা সময় ঘরের বাইরে কাটাতে হয় তাঁকে। কেউ সকালে গিয়ে বিকেলে ফেরে আবার কেউ বা ফেরে সন্ধ্যায়। তাঁদের মধ্যে অনেকেরই সন্তান খুবই ছোট। খুব স্বাভাবিক ভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে, কাজ করার সময় কোথায় রেখে যান তাঁরা তাঁদের সন্তানকে ?  বাসায় দাদি নানি থাকলে চিন্তা অনেকটাই কমে যায় কিন্তু, যে সকল পরিবারে দাদি নানি গ্রামে থাকে তাদের মহা বিপদে পড়তে হয়। তাঁরা তাঁদের সন্তানকে রেখে যায় গৃহ পরিচারিকার কাছে। এই গৃহ পরিচারিকাদের কাছে আমাদের সন্তান কতটা নিরাপদ ? এই প্রশ্নের উত্তর এখন খুব সহজে দেওয়া যায় না কারণ চারপাশে প্রতিদিন যা সব দুর্ঘটনার খবর শোনা যায় তাতে মন সংশয়ে ভরে ওঠে। যে কোনও সময় যে কোনও ধরনের বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে তা জেনেও নারীরা তাদের সবচেয়ে প্রিয় সন্তানকে রেখে যাচ্ছে গৃহ পরিচারকের কাছে বাধ্য হয়ে। কারণ এ ছাড়া তাঁদের কাছে আর কোনও পথ খোলা নেই। কিছু দিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও খুব বেশি ভাইরাল হয় সেখানে দেখা যায় এক গৃহপরিচারিকা কীভাবে ছোট্ট শিশুর উপর অত্যাচার নির্যাতন চালাচ্ছিল শুধুমাত্র কান্না করার কারণে। ছোট্ট দুধের শিশুটিকে গোসল করিয়ে এনে আছাড় দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় সে আবার কাপড় পড়ানোর সময় একই নির্যাতন চালাতে থাকে সে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় প্রচণ্ড রকমের আঘাত করে তাতে শিশুটির কান্না আরও বেড়ে যায় এবং সেটি দেখে গৃহ পরিচারিকা আরও জোরে মারতে থাকে।সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজে এই সকল অত্যাচারের দৃশ্য ধারণ হয়ে থাকে। এ ছাড়া আরেকটি ঘটনায় কিছুদিন আগে দেখা যায় যে নেপালে বিমান দুর্ঘটনার পর নেপালের বিমানের কেবিন ক্রু তার সন্তানকে বাড়িতে রেখে যেত এক গৃহ পরিচারিকার কাছে। কিন্তু দুর্ঘটনার পর তাঁর সেই সন্তানকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না এবং একই সাথে এই গৃহ পরিচারিকাকেও । এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা শুনে মানুষের মনে সংশয় জাগে আমরা কার কাছে রেখে যাচ্ছি আমাদের সন্তানকে ? সে কি নিরাপদে থাকতে পারবে আমি ফিরে আসার আগ পর্যন্ত ? এরকম ঘটনা বারংবার আমাদের সমাজে ঘটতে থাকলে মানুষ কার উপরেই বা বিশ্বাস রাখবে ? কীই বা হতে চলেছে এর ভবিষ্যত ? যেখানে ছোট্ট শিশুটিকে গৃহপরিচারিকার উচিত ছিল আদর যত্নে রাখা, তাদের সাথে খেলা করে কিংবা বাইরে ঘুরতে নিয়ে যেয়ে মনটা ভাল করা সেখানে কেন তারা এ রকম বিরূপ আচরণ করছে ? এতে তাদের স্বার্থটাই বা কী ? আবার অনেক সময় শোনা যায় কিছু গৃহ পরিচারিকা শিশুদেরকে কোলে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে পড়ে ভিক্ষা করার জন্য। একটি শিশু দেখলে অনেকেই দয়া পরশ হয়ে তাদেরকে ভিক্ষা দেয়। পৃথিবীতে এখন সবাই তার নিজের স্বার্থ নিয়ে ভাবনায় থাকে। এ জন্যই তাদের নিজের স্বার্থের বাইরে একটুও ভাবতে পারে না, যার কারনে অনেক মানবিকতার অভাব তাদের মধ্যে. এ কারণেই তাঁরা শিশুদের সাথে খারাপ ব্যবহার করার সময় বিন্দুমাত্র চিন্তা ভাবনা করে না। প্রতিনিয়ত এভাবে চলতে থাকলে কখনোই মানুষ অন্য কার ওপর বিশেষ করতে পারবে না। তবুও কর্মজীবী নারীদের কে এভাবেই তাঁদের সন্তানকে গৃহ পরিচারিকার হাতে সমর্পণ করে কাজে বেরতে হয় কারণ তারা যে নিরুপায়। আমরা কি একটা সুষ্ঠু সমাজ আশা করতে পারি না যেখানে কর্মজীবী নারীরা বেরিয়ে যাবে তাঁদের সন্তানকে নিশ্চিন্তে রেখে গৃহ পরিচারিকার হাতে ? আমরা সবাই আশা করি এমন একটি দিন আসুক যে দিন আমাদের সন্তানরা থাকবে নিরাপদ, সুস্থ, বিপদ মুক্ত।

বুলিং এর কবলে শিশু-কিশোর’রা

Now Reading
বুলিং এর কবলে শিশু-কিশোর’রা

বুলিং শব্দটির সাথে মোটামুটি সবাই এখন পরিচিত। আন্তর্জাতিকভাবে এই বুলিং এর অর্থ হচ্ছে যখন কাউকে শারীরিক বা মানসিকভাবে আঘাত করা। যেমন-  ধাক্কা দেয়া, শারীরিকভাবে আঘাত করা, হেয়প্রতিপন্ন করা, মজা করা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, অপমান করে সবার সামনে ছোট করা ইত্যাদি। যে বা যারা এই কাজ করে তারা নির্দিষ্ট একটি গ্রুপ তৈরি করে তার নেতৃত্ব দেয়। তারা বুলি হিসেবে গণ্য হয় এবং গ্রুপে তারা বয়সে অন্যদের চেয়ে বড় ও দাপুটে হয়। বুলিং এমন একটা জিনিস যে বুলি অন্যদের নেতৃত্ব দেয়- তোমার সাথে মিশবনা বা খেলবনা ইত্যাদি বলে। যার ফলে বুলিং এর শিকার শিশু-কিশোররা একপ্রকার মনস্তাত্ত্বিক চাপে ভোগে। তারা বিভিন্ন বাহানা করে স্কুলে যেতে চায়না, বাসায় অকারণে ছোট ভাই-বোনের প্রতি আগ্রাসী মনোভাব দেখায়। মূলত স্কুল কলেজে পড়ুয়ারাই সহপাঠী কিংবা সিনিয়রদের দ্বারাই এই পীড়নের শিকার হয়। তাছাড়াও এলাকা ভিত্তিক কিশোরদের গ্রুপ কর্তৃকও বুলিং হয়। এমনকি নিজ বাড়ীতেও বুলিং এর শিকার হতে হয় বিশেষ করে শিশুদের। হয়ত বিষয়টির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচয় না থাকাতে আমরা খুব একটা গুরুত্ব দিইনা। এই যেমন চাচাত বা মামাত ভাই-বোনেরা কিংবা বড় কোনজন শিশুকে বলল- তুমি খুব পচা কিংবা তোমার চেয়ে অমুক বেশি ভাল কিংবা তুমি সুন্দর নও ইত্যাদি। এইসব বিষয়ও কিন্তু বুলিং এর আওতায় পড়ে কেননা একটা কিশোর কিংবা বাচ্চা এই ধরণের আচরণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। অপমান বোধ করাতে তার মানসিক বিকাশ প্রচণ্ড ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর বিরুপ প্রতিক্রিয়া পরে তার লেখা পড়া ও শারীরিক গঠনে। যার ফলে পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হয় এবং শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। এমনও হাজারো প্রমাণ আছে অনেক শিশু-কিশোর এই বুলিং এর শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছে।

শুধুই যে এভাবে বুলিং হয় তা কিন্তু নয়, ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অনলাইন গেম খেলার সময় শারীরিকভাবে আক্রান্ত ও হুমকির শিকার হয় এই তরুণ প্রজন্ম। তবে এসব ঘটে বিশেষ কিছু ওয়েবসাইটে অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মে।বিশ্বব্যাপী সাইবার বুলিংয়ের ঘটনা বিদ্যমান। শিশুরা অনলাইনে আপত্তিকর মন্তব্যের শিকার হয়, তার মধ্যে রয়েছে গালাগালি, বর্ণবাদী ও যৌনতা-বিষয়ক মন্তব্য যা তারা সহজেই অভিবাবক কিংবা পরিবারের সদস্যদের সাথে শেয়ার করতে পারেনা। তবে আশার কথা হচ্ছে যে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এসব অপ্রত্যাশিত ঘটনা প্রতিরোধে ইদানীং সচেতনতা বাড়ছে। ডিজিটাল অপরাধ কীভাবে এড়িয়ে চলা যায় এবং এ ধরনের অপরাধের শিকার হলে তা কীভাবে প্রতিহত করা সম্ভব, সে বিষয়ে তরুণদের মধ্যে পূর্বের চেয়ে সচেতনতা বাড়ছে।

তাই শিশু কিশোরদের এই বুলিং থেকে রক্ষা করতে উদ্দ্যেগ নিতে হবে অভিবাবক কিংবা পরিবারের সদস্যদের। তাদের সাথে বন্ধুর মত মিশে জেনে নিতে হবে তার সমস্যার কথা এবং তা নিরসনে যথাযথ ভুমিকা রাখতে হবে। প্রাসঙ্গিক সকল বিষয়ে তাদের উৎসাহ দিয়ে মনোবল বৃদ্ধি করতে হবে। তবেই একজন শিশু কিংবা কিশোর এই বুলিং এর মারাত্মক প্রভাব থেকে বের হয়ে আসতে পারবে। সকলের প্রত্যয় হউক যেন প্রতিটি শিশু কিশোরের নির্ভয়ে বেড়ে উঠার পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারি।

নবজাতকের মৃত্যুতে বেকায়দায় স্কয়ার হাসপাতাল!

Now Reading
নবজাতকের মৃত্যুতে বেকায়দায় স্কয়ার হাসপাতাল!

ইদানীং কসাইখানা হিসেবে বেশ নাম ডাক কুড়িয়েছেন রাজধানীর অভিজাত স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড। দেশের আধুনিক হাপাতাল হিসেবে পরিচিতি থাকায় অনেকেই চিকিৎসা ব্যয় মাত্রাতিরিক্ত হওয়া সত্ত্বেও এই হাসপাতালের দিকে ঝুঁকেন কেবল ভাল একটা সেবা পাওয়ার আশায়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে এর উল্টো, চিকিৎসার নামে এই প্রতিষ্ঠান রীতিমত কসাইখানা খুলে বসেছেন। খুব একটা প্রভাবশালী কিংবা পরিচিত না হলেই সেবা প্রার্থীদের ভাগ্যে অবর্ণনীয় দুর্দশা অপেক্ষা করে। বলা যায় মানুষ বুঝে তারা তাদের আচরণ করেন। এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মূল্য তুলনামূলক দেশের অন্যান্য হাসপাতালের তুলনায় অনেক বেশি। সাধারণ মানুষজন এই প্রতিষ্ঠানের সেবা থেকে বঞ্চিত। আর যারা মোটামুটি কিছুটা স্বাবলম্বী বা বাধ্য হয়ে সেবার আশায় সেখানে যাচ্ছেন তাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফল সুখকর হচ্ছেনা। ভুক্তভোগীরা নিয়মিত এসব অভিযোগ বিভিন্নভাবে ব্যাক্ত করছেন। দেশের স্বনামধন্য ঔষধ তৈরির প্রতিষ্ঠান স্কয়ার এই হাসপাতালটি পরিচালনা করছে। নানা অনিয়ম এর মাঝে সবচেয়ে বেশি দুর্নাম ছড়িয়েছে চিকিৎসা অবহেলায় শিশু মৃত্যুর বিষয়টি। বেশ কিছুদিন যাবৎ এই তকমাটি তাদের ব্র্যান্ডে জড়িয়ে গেছে আর তা হল খরচ বাড়াতেই নাকি তারা ইচ্ছেমত গর্ভপাত করান! আর এই অভিযোগ খোদ যারা চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে ভুক্তভোগী তাদেরই। নরমাল ডেলিভারি এর ক্ষেত্রেও নাকি তারা সিজার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন রোগীকে। তেমনি এক ঘটনা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে, আজ সকালে এক হতভাগ্য দম্পতির শিশুর মৃত্যু ঘটেছে কেবল চিকিৎসকদের অবহেলার কারনেই। শিশুটির পিতা-মাতা এবং আত্মীয় স্বজনদের দাবী তাদের বাচ্চা সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। তারা বলেছেন, ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে যখন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ছিল তখন ওটি’তে থাকা চিকিৎসক রেহেনুয়া নাকি চাচ্ছিলেন সিজার করতে। পরে প্রসব বেদনার কষ্টে ভোগা তাসলিমা তারানুম নোভা(শিশুটির মা) অসহায় হয়ে যখন সিজার করতে রাজি হলেন তখন চিকিৎসক কালক্ষেপণ করে একাধিকবার বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা দিতে থাকেন। জানা যায়, গত ৫এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরেরদিন শুক্রবারে ডেলিভারি করে নবজাতকটিকে আইসিইউতে নিবিড় পরিচর্যার জন্য রাখা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারটির অভিযোগ আইসিইউ এর বিল ৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে গেলে তাদের উপর চড়াও হয় ঐ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা। অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসায় অবহেলা ও চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসা সব মিলিয়ে মারাত্মক এক দুর্নামে পরিগণিত হচ্ছে দেশের এই আধুনিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানটি। অনেকেই বলছেন দিনের পর দিন চিকিৎসা নিয়ে নানা অনিয়ন সত্ত্বেও তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকছেন তারা। বিষয়টা এমন যে অনেকেই ভাবেন তাদের ছাড়া দেশে উন্নত সেবা পাওয়ার আর কোন বিকল্প নেই। মানুষের এই বিশ্বাসকে পুজি করে তারা চিকিৎসার নামে দেশে এক প্রকার ডাকাতিতে নেমেছেন বলে অনেকের অভিযোগ। এর পূর্বেও অনিয়ম ও অব্যাবস্থাপনায় হাসপাতালটিতে গর্ভে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসবের কোন সুরাহাতো হয়নি বরং চিকিৎসকদের ব্যাপারে কোন ব্যাবস্থা নিতে গেলে উল্টো ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে গোটা দেশের চিকিৎসা সেবা প্রার্থীদের। ডাক্তারদের ভুলের বিপরীতে শাস্তিমূলক কোন ব্যাবস্থা নেয়াই যেন আরেকটি অপরাধ এই দেশে। যাক সেই দিকে না যাই। কারন এসব নিয়ে বলতে গেলে দেখা যাবে পরিচিত ডাক্তাররাই আমার চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেবেন…

আজকের ঘটনায় বেশি খারাপ লেগেছে যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখেছি শিশুটিকে নিয়ে তার পিতা-মাতার করুণ আহাজারি। বিবেকের কাছে প্রশ্ন- টাকার জন্য কি জীবনের কোন মূল্যই নেই এসব ডাক্তার নামের অপেশাদার মানুষের কাছে?

হতভাগ্য সেই নবজতাকের বাবা শাহবুদ্দিন টিপু সংবাদ মাধ্যমেই অভিযোগ করেছেন, ‘গত বৃহস্পতিবার তার স্ত্রীকে চেক-আপের জন্য স্কয়ারে নিয়ে আসলে গাইনি ডাঃ রেনুমা জাহান কয়েকটি চেক-আপ করে বলে দেন প্রসব বেদনা উঠলেই যেন তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু একই সময় ইমারজেন্সি রুম থেকে অন্য এক ডাক্তার বলেন, এখন সময় হয়ে গেছে তাই তার স্ত্রীকে ভর্তি করাতা হবে।  তার স্ত্রীর কোনো প্রসব ব্যথা না থাকায় তিনি ভর্তি করাতে ইচ্ছুক ছিলেন না। কিন্তু ডাক্তার এক প্রকার জোর করেই তার স্ত্রীকে ভর্তি করাতে বাধ্য করে এবং প্রসব বেদনার জন্য ইনজেকশন দিয়ে দেয়। আর শুক্রবার যখন তার স্ত্রীকে ডেলিভারি করানোর জন্য ওটি’তে নিয়ে যাওয়া হয় তখন তাকে জানানো হয় বাচ্চাটি মারা গেছে।

এখন প্রশ্ন হল, মারা যাওয়ার পরও কেন ৪দিন বাচ্চাটিকে আইসিইউতে রেখে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ? চিকিৎসা সেবার নামে এই অপেশাদারিত্বের দৌরাত্ন বন্ধ হবে কবে? এদের লাগামই বা টানবে কে? সরকারের উচিৎ এসব প্রতিষ্ঠানের উপর কঠোর নজরদারি করা যেন অকালেই কোন মা-বাবার কোল খালি হয়ে না যায়। ধিক্কার জানাই চিকিৎসা সেবার নামে চলা মুনাফাভোগীদের এসব ব্যাবসার। জীবনের কি কোন মূল্যই তাদের কাছে নেই? টাকার জন্য কি জোর করেই হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে? মৃত জেনেও চার দিন মৃত বাচ্চাটিকে কেন আইসিইউতে রেখে ৫ লাখ টাকার ব্যবসা করতে হবে? কে দেবে এর সদুত্তোর?

ভুক্তভোগীর ভিডিও স্টেটমেন্টঃ https://www.facebook.com/reza.u.karim.7/videos/10211729303488898/

“ নিরাপত্তাহীনতার বলয়ে শিশুরা ” সমাজের করণীয় কি ?

Now Reading
“ নিরাপত্তাহীনতার বলয়ে শিশুরা ” সমাজের করণীয় কি ?

কিশোর কবি সুকান্তের কন্ঠে উদাত্ত আহব্বান ছিল নবজাতকের জন্য করে যেতে হবে এই পৃথিবীকে জঞ্জালমুক্ত। এই জঞ্জালের ভেতর নবজাতকের বেঁচে থাকা কতখানি দুস্কর তা হয়তো কবির মনে একটা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। সময়ের স্রোতে কবি আজ আমাদের মাঝে নেই। কবির চিন্তা বা উদ্বেগ আজ যেন বার বার ফিরে আসছে প্রতীয়মান হয়ে। আমাদের দেশীয় প্রেক্ষাপটে একটা পরিবারতন্ত্রের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। এখানে বাবা,মা,ভাই,বোন সকলে একটা সৌহার্দ্যের বন্ধনে থাকে।

জন্মের পর মানব শিশুর যে আত্মা তা অনেকটা অবচেতন কেননা তখন তার কোন অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে তাড়িত করতে পারে না। একটা সময় অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে বেঁচে থাকার লড়াই করতে করতে যোদ্ধায় পরিণত হয়। প্রতিটা শিশুর অন্তরে লুকিয়ে থাকে ভবিষ্যতের কোন এক মূর্তমান চরিত্র। এই চরিত্রের গঠন ও লালন পালনের জন্য যাবতীয় কিছু করতে হয় শিশুর পাশাপাশি পরিবারের অন্য সকলকে। একটা শিশুর মানবাত্মা কাঁচা মাটির পিন্ডের মতো,শিল্পী কাঁচা মাটির পিন্ডকে লক্ষ্য করে তার মনের যে স্বীয় চিন্তা তার প্রতিফলন ঘটায়।

তেমনি সমাজে বসবাসরত মানুষের আচরণ আর ভালবাসা একজন শিশুর মনে একটা শক্ত বুঁনিয়াদ গড়ে তোলে।

মানব জীবনের প্রতিটা স্তরের গুরত্ব রয়েছে তবে শিশুকাল বা জীবনের প্রথম স্তরই যেন সবচেয়ে গুরুত্ববহ। এই সময়ে শিশু সবচেয়ে বেশি মানসিক বা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে বেঁড়ে উঠে। তাই একজন সচেতন বাবা মায়ের স্থানে অধিষ্ঠিত হয়ে আমরা কি এই দায়িত্ব থেকে সরে আসছি ? এই বিষয় নিয়ে ভাবা উচিত।

সমাজ বিজ্ঞানের আলোচনায় বলা আছে পরিবারের মাঝে  এমনকি বাবা মায়ের গন্ডির মধ্যে শিশুর জন্য একটা নিরাপদ বলয় থাকা উচিত। যেখানটায় শিশুর সার্বিক বিকাশে কোন বাধা আসবে না। আমাদের দেশে একান্নবর্তী পরিবারের প্রথা ভেঙ্গে ক্ষুদ্র পরিবার প্রথা গড়ে উঠছে। যেখানে শিশুর জন্য অপেক্ষা করে বহুমাত্রিক সমস্যা। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে তার সাথে অনেকাংশে কোন সহায়ক কেউ থাকে না। সমাজ বা পরিবারের ক্ষেত্রে উদ্ভুত পরিস্থিতির আলোকে এইসব সমস্যার সুষ্ঠু বিহিত করা জরুরী।

আমরা আধুনিকতার মোড়কে একটা পিছিয়ে পড়া সমাজব্যবস্থায় আছি। এখানে সামাজিক সুরক্ষা আইনগুলো খুবই দুর্বল। যা প্রচলিত আছে তার কোন সুষ্ঠু প্রয়োগ নেই বললে চলে। সমাজে বেড়ে উঠতে গিয়ে একটা শিশু নানানভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে। এই সব পরিস্থিতি আমরা যেমন সৃষ্টি করি তেমনি এসবের প্রতিকারও আমাদের হাতে। এখন সময়ের দাবী আমরা কতটা সোচ্চার এই বিষয়াদি নিয়ে। সামাজিক প্রেক্ষাপটে এখন নানাভাবে শিশুদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যেমন আছে তেমনি অবহেলিত কাজেও আছে। এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তদারকি যেমন নাই তেমনি পাশাপাশি রয়েছে উদাসীনতা।

আমাদের দেশে এখনো অনেক শিশু রয়েছে যারা শিশুসুলভ চরিত্রের গন্ডি হতে বের না হতেই তাদের নিয়োগ করা হয়  গৃহপারিচারিকার কাজে। শহরের উঁচু সু-সজ্জিত দালানের ভেতর এই রুপটা খুবই নিকৃষ্ট বলা যায়। আমি নিজের একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারি।

আমি টিউশনির সূত্রে এক বড়লোকের বাড়িতে পড়াতে যেতাম। আমার স্টুডেন্টের বয়সী একটা কাজের মেয়ে তাদের বাসায় কাজ করে। একদিন দেখি কাজের মেয়েটিকে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করছে। চোখের সামনে মেয়েটিকে বারকয়েক মারতে বা খারাপ ব্যবহার করতে দেখে নিজে বেশ অস্বস্তির মধ্যে ছিলাম।

কলকারখানাগুলোতে দীর্ঘসময়ে কাজের বিনিময়ে যৎসামান্য মজুরি বা নানানভাবে নির্যাতন যা কিনা একটা সভ্য সমাজে শিশুর জন্য বরাদ্দ হতে পারে না। শিশুর মৌলিক অধিকারের কতখানি আমাদের সমাজ দিতে পারছে তা দৃশ্যমান বটে।

সম্প্রতি আমাদের দেশে শিশুদের উপর বিদ্বেষটা যেন বেড়ে গেছে। বিগত কয়েকবছরে শিশুর প্রতি বিদ্বেষ যে হারে বেড়েছে তা সমাজবিশারদরা একটা সামাজিক উৎকন্ঠা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ঢাকাশহরসহ সারাদেশে পরকীয়ার জেরে,সম্পত্তির বিদ্বেষ বা স্বার্থের জন্য এখন শিশুকে হাতিয়ার করছে। কোন তুচছ ঘটনার জেরে যেমন শিশুকে আছাড় মেরে হত্যা করার মতো ঘটনা ঘটছে। তেমনি শিক্ষিত পরিবারের স্বামী স্ত্রীর ঝগড়ার জেরে অবুঝ শিশুকে বেগোড়ে প্রাণ দিতে হচ্ছে।

কখনো কখনো অবহেলা বা নিজেদের স্বেচ্ছাচারিতার ছলে দিনে দুপুরে শিশুকে পিটিয়ে মেরে ফেলছে। যেখানে দিনের আলোয় একজন শিশুকে মেরে তার ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ সাইটে আপলোড করেও এইসব ঘৃণ্য অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। এটা আইনের নিছক দুর্বলতা বলে দায় এড়ানো কোনভাবে সম্ভব নয়। একটা পোশাক কারখানায় কর্মরত শিশুকে শাস্তির নাম করে পায়ুপথে বায়ু প্রবেশ করিয়ে খুনের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটছে। হিংস্র বা কুৎসিত মানসিকতার কিছু অধিকারী লোক যারা কিনা এইসব উগ্রতা অনেকটা খেলাছলে ঘটিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি যৌন নির্যাতনের মতো  কু-লিপ্সা মেটানোর জন্য হিংস্র জানোয়াররুপী মানুষগুলো শিশুদের ছাড় দিচ্ছে না। ষাটোর্ধ্ব বয়সী লোকের লিপ্সার শিকারে পরিণত হচ্ছে পাঁচ বছরের বয়সী কোন মেয়ে শিশু। নারী পাচারের মতো ঘটনা যেখানে অহরহ ঘটছে যার ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই নারী শিশু। এটা সামাজিক অন্যায্যতার প্রতিপাদন বটে। আমাদের দেশে নারী শিশুরা এই আধুনিক সমাজ ব্যবস্থার আড়ালে আবডালে একটা অদৃশ্য কালো থাবার ছত্রছায়ায় পড়ে আছে। যেখানে প্রতিমুহুর্তে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে নানা উৎকন্ঠা আর উদ্বেগ। তাদের বেড়ে উঠার স্বাভাবিক সুস্থ পথটা আমরা প্রতিবন্ধকতায় ভরিয়ে রেখেছি।

প্রতিটা পরিবার আর সমাজের শৃঙ্খলে একটা বিব্রতকর পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সর্বাগ্রে দায়ী বাবা-মা এবং পরিবারের কর্তারা। এখন পারিপার্শ্বিকতায় আমরা নিজেদের স্বার্থকে জড়িয়ে কোমলমতি শিশুকে যেমন রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করে আসছি,তেমনি যেকোন হীন স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ন্যাক্কারজনক ঘটনাও কম ঘটছে না। ইদানীংকালে ঘটে যাওয়া সকল ঘটনার প্রেক্ষাপটে রোষানলের শিকার ও বেঁচে যাওয়া সকল শিশুর প্রতি রাষ্ট্র বা নীতিনির্ধারকরা কোন সুবিচার করতে পারছে না। কোন ঘটনার উল্লেখযোগ্য শাস্তির বিধান করতে না পারায় রাষ্ট্রের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির নেপথ্যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি।

একটা সমাজ বা রাষ্ট্রের অন্তরালে কেবল পরিবারই যেখানে নিরাপদ একটা বলয় দিতে পারে সন্তানকে। সেখানে আমাদের উদাসীনতা আর অবহেলার কারণে পরিবারের মতো সুরক্ষিত স্থানটা আজ কোন না কোনভাবে শিশুদের জন্য বিপদসংকুল একটা স্থান হিসেবে চিহ্নিত।

আজকের শিশুর মধ্যে ভবিষ্যতের ধারকের অস্তিত্ব নিহিত। আগামীতে সুন্দর একটা সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্য এগিয়ে চলার জন্য আমাদের উচিত গঠনমূলক কিছু পদক্ষেপ নেয়া জরুরী।

যেখানে সুন্দর আগামীর পথচলায় প্রতিটা মানবশিশু দাঁপিয়ে বেড়াবে। এমন সুন্দর পথচলা কেবলই নিশ্চিত করতে পারি আমরা। এই পথচলার দ্বার তৈরিতে আসুন আমরা একটা পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যায়।