টপ টেন
Heat Index

ভার্সিটিতে ভর্তির পর

Now Reading
ভার্সিটিতে ভর্তির পর

  • এই আর্টিকেল টি শুধু মাত্র তাদের জন্য যারা সদ্য ভার্সিটি তে ভর্তি হওয়া।

প্রথমেই শুরু করবো ভার্সিটি শব্দটি দিয়ে কি বুঝায় তা দিয়ে। ভার্সিটি মানে হচ্ছে ইউনিভার্সাল। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পদচিন্হ রাখার একমাত্র জায়গা হচ্ছে ভার্সিটি।

ভার্সিটিতে আসার পর যে ভুলটি সকলে করে সেটি হচ্ছে নিজেকে সবার থেকে আলাদা ভাবা এবং সবার মধ্যথেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখা।  কিন্তু ধারণাটি ভুল। ভার্সিটিতে সবাই ভর্তি হওয়ার সুযোগ অর্জন করে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে। আর এই একই কাজটা ভার্সিটিতে পড়ুয়া প্রত্যেক জনকেই করতে হয়। তাই নিজেকে সবার থেকে আলাদা ভাবা বা নিজেকে গুটিয়ে রাখার কিছু নেই। মূলত ভার্সিটি হচ্ছে নিজেকে মেলে ধরার স্থান।

এরপর যে বিষয়টি আসে সেটা হচ্ছে নিজের ডিপার্টমেন্ট নিয়ে সমালোচনা। আমার মতে এই ধরনের সমালোচনায় কান না দেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ একজন শিক্ষার্থী যে ডিপার্টমেন্টেই পড়ুক না কেন নিজেকে সঠিক ভাবে মেলে ধরার এবং ক্যারিয়ারের যোগ্য আসনে নিয়ে যাওয়ার জন্য মনের চাওয়াটাই সবচেয়ে বড়। আবার অনেকে চিন্তা করে এমন ডিপার্টমেন্ট এ পড়াশুনা করে ভবিষ্যতে কি করবো ইত্যাদি ইত্যাদি। তাদের জন্য বলছি, এভাবে না গাবরিয়ে নিজেকে কিছুটা সময়ের জন্য আগে স্থির করা উচিত। (বিঃ দ্রঃ কিছু সময় বলতে কয়েক দিনের কথা বলা হচ্ছে) তারপর চিন্তা করতে হবে নিজের ভবিষ্যৎ অ্যামবিশন কি। এটা যথোপযুক্ত ভাবে ঠিক করতে পারলেই একজন ভার্সিটি স্টুডেন্ট পরবর্তী সব ছোট খাটো কাজ বা সিদ্ধান্ত খুব সহজেই সমাধান করতে পারবে।

এক টাইপের শিক্ষার্থী আছে যাদের অনেকেই চিন্তা করে,’ দ্বিতীয় বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া’।  আমার মতে এ ধরনের চিন্তা করাটাই ভুল। আল্লাহ প্রথমেই আপনার জন্য যেটা ঠিক করেছেন আপনি সেটাই পেয়েছেন। যতটুক পরিশ্রমী ছিলেন ঠিক ততটুকই ফলাফল হিসেবে দেয়া হয়েছে আপনাকে। এটা আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে। দ্বিতীয় বার আবার এতো বড় যুদ্ধক্ষেত্রে না নেমে সামনের দিকে কি করলে,  কিভাবে করলে বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব সেটার দিকে লক্ষ্য করাই উত্তম বলে আমি মনে করি।

আর একটা বিষয় যেটা অনেক উপকার করে থাকে সেটা হল ভার্সিটির সিনিয়রদের সাথে যত স্বল্প সময়ে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা যায় ততই নিজেকে ভার্সিটি অঙ্গনে মেলে ধরতে সহজ হয় এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে এই সুসম্পর্ক অনেক অনেক বেশি কাজে দেয়। এছাড়াও নিজেকে মেলে ধরার অন্যতম আরেকটি পথ হচ্ছে ভার্সিটির সব ধরনের সচল ক্লাবে যোগদান করা।  শুধু যোগদান ই না সময়ের সাথে সাথে নিজের পছন্দের ক্লাবটির সাথে সময় দেয়া। যা ভবিষ্যতের অনেক বড় একটি হাতিয়ার হয়ে গড়ে ওঠে নিজের ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে।

আরেকটি কথা না বললেই নয় – ” সবসময় তাদের সঙ্গ নেয়া উচিত যারা বলবে তাদের নিজেদের ক্যাম্পাসে, ডিপার্টমেন্ট এ ভালো কিছু আছে।  আর তাদের সঙ্গ অবশ্যই ত্যাগ করা উচিত যারা বলবে তাদের নিজেদের ডিপার্টমেন্ট এ কিছুই নেই, এটা কোন ডিপার্টমেন্ট হইলো ইত্যাদি রকমের কথা।”

আসল কথা সবসময় খোঁজতে হবে তাদের যারা বলবে ‘গ্লাসে অর্ধেক পানি আছে’ আর তাদেরকে ছেড়ে চলাই উচিত যারা বলে ‘ গ্লাস অর্ধেক খালি’।

ডিপার্টমেন্টকে নিজের ফ্যামিলি মনে করে যারা তাদের সেরাটা দিয়ে এই ভার্সিটি জীবনের ইতি টানতে পারবে তারাই ভবিষ্যতে ভালো ক্যারিয়ারের চাবি হাতে পাওয়ার যোগ্য।

 

মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বিভক্তি, কিছু নতুন কথা

Now Reading
মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বিভক্তি, কিছু নতুন কথা

প্রথমত পহেলা বৈশাখ নিয়ে আমাদের মাঝে কোন প্রশ্ন থাকার কথা নয়। বাংলা ভাষাভাষীদের নতুন বছর। আর আমার মত গ্রাম বাংলা থেকে উঠে আসা ছেলেদের জন্য দিনটা কিছুটা স্মৃতিকাতর। আমাদের জন্য দিনটি হালখাতার টাকা পরিশোধ আর দোকানে দোকানে গিয়ে মিষ্টি খাবার দিন।
আসলেও তাই, ছোট বেলায় গ্রামে দোকানীর কিছু বাকী পাওনার একটা হিসাব তুলে পহেলা বৈশাখে তা পরিশোধের আহবান জানাতেন, আর তার দোকানে মিষ্টি খাবার আমন্ত্রণ জানাতেন।

দাদার হাতে সেই চিঠিটা কখনো কখনো হয়ত আমিই পৌছে দিতাম।
তারপর দাদা তোড়জোড় চালাতেন, দোকানির পাওনাটা পরিশোধ করার জন্য। বাবার কাছে, কাকার কাছে ফোন করে টাকা নিতেন। নতুন একজোড়া লুঙ্গি আর পুরাতন জুব্বাটা জামাল সাবান দিয়ে ধুয়ে মেজে পয়লা বৈশাখের সকালে দোকানিদের গিয়ে টাকা পরিশোধ করতেন। আর দাদার সাথে থাকার সুবাদে দোকানগুলোতে মিষ্টি একটু বেশীই পেতাম।

দিন পেরুলো, বাবা মা আমাকে নিয়ে টাউনে এলেন। টাউনের সেরা স্কুলটায় ভর্তি হলাম।জীবন চলতে লাগলো…সাদা কালো সেই জীবন। সেখানে আজকের মত ইন্টারনেট নেই, বিটিভির সাদা কালো স্ক্রিনে সাবানা জসীমের সিনেমা দেখে কেঁদে কেঁদে দিন পার হত, কিংবা স্কুল পালিয়ে ক্রিকেট খেলায় মত্ত থাকতাম সারাটাদিন।

তবে বছরের যেকটা দিন আমাদের জন্য রঙিন ছিল তার মধ্যে পয়লা বৈশাখ ছিল অন্যতম। তখন ইলিশে নিষেধাজ্ঞা ছিলনা। বাবা ইলিশ আনতেন, রান্না করে মা সকাল সকাল পান্তার সাথে ইলিশের মাথাটা পাতে দিতেন..

এই ইলিশের মাতাল করা সুঘ্রাণে আমার অতটা নজর ছিলনা, যতটা নজর ছিল বৈশাখী মেলায় আমাদের স্কুল আয়োজিত প্রোগ্রামকে ঘিরে।
বাঙালী জামাই বধুর প্রতীকী উপস্থাপনা,কৃষক, শ্রমিক, মজুর, গায়েন, সারেন, মাঝি, মল্লা, ঠেলা ওয়ালা ভ্যান ওয়ালা, নোলক পড়া কুমারী, যে পুকুর ঘাটে কলসি নিয়ে মাথায় ঘোমটা টেনে পানি আনতে যাবে, এরকম আরো কত ঐতিহ্যের ছবি তুলে ধরা হত আমাদের স্কুল থেকে।বিভিন্ন টিম করে ক্লাসের ছেলেদের নিয়ে যাওয়া হত র‍্যালিতে।কাউকে কৃষক সাজিয়ে, সুন্দরী মেয়েটাকে বধু সাজিয়ে, কিংবা আমাকে নৌকার মাঝি বানিয়ে আমাদের স্কুল থেকে বৈশাখী মেলার প্রাঙ্গন পর্যন্ত একটা র‍্যালি হত।

আমরা সেখানে অংশগ্রহণ করেছি..
উৎসবে আমেজে সময়গুলো।কেটেছে।বৈশাখ নিয়ে বৈশাখ উদযাপন নিয়ে কখনো অতি মাথা ব্যাথা ছিলনা আমাদের।

আমার পিছনের জীবনের গল্পটা বলার উদ্দেশ্য হলো, বৈশাখ নিয়ে একজন সাধারণ সচেতন ছাত্র হিসেবে আমার অবস্থান কেমন ছিল।
প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল কিংবা টাউন শহর গুলোতে বৈশাখের চিত্রটা কেমন ছিল সেটা দেখানো।

জীবনের ব্যাস্ততা বেড়েছে, রঙিন সভ্যতার মাঝে উৎসবের জীবনগুলো সাদাকালো।কখন ঈদ আসে কখন বৈশাখ আসে, কিংবা গ্রীষ্মের ছুটি কখন পেরিয়ে যায় খেয়াল করার সুযোগ ই থাকেনা।

কিন্তু বাংলার চিরন্তন ইতিহাস ঐতিহ্য, দেশের সংস্কৃতি নিয়ে যখন তর্ক বিতর্ক হয় তখন কিছু বলতে ইচ্ছে করে সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়িয়ে। আজ Footprint Admin এর চার সপ্তাহ আগে “মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে কেন বিভক্তি “নামক লেখার শিরোনামটা চোখে পড়লো, পুরোটা পড়ে ফেললাম।

ভাবলাম কিছু চিন্তাচিহ্ন রেখে যাই।

আর সেখান থেকেই মঙ্গল শোভাযাত্র আর বৈশাখ নিয়ে কিছু লেখা।

প্রথমত,
কেউ যদি বলেন মঙ্গল শোভাযাত্রা হাজার বছরের বাঙালী সংস্কৃতির অংশ, তাহলে আমি বলবো আপনি ভুল জেনেছেন। মঙ্গল শোভাযাত্রা ৮০ এর দশকের শেষের দিকে হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ এর স্বৈরশাসন এর প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইইন্সটিটিউট এর কিছু হিন্দু ছাত্রদের প্রার্থনা। যাতে তৎকালীন সচেতন ছাত্ররাও সমর্থন জানায়।

কেননা এটা বাংলাদেশী সচেতন এবং সম্প্রীতি প্রেমী মানুষের চিরন্তন স্বভাব।
যেমন অনেকদিন বৃষ্টি না হলে বাংলাদেশে কিছু সম্প্রদয়ের মানুষ ব্যাঙের বিয়ে দিয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে বৃষ্টির জন্য..

অনেকে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করে, হুজুর ডেকে দোয়া করান আল্লাহর কাছে..

আমরা তখন ধর্ম টেনে আনিনা..
বৃষ্টি চাই আমাদের, তাই সকলেই উৎসাহ নিয়ে এসব আচার গুলোকে দেখি…
মৌন সমর্থন জানাই।

মঙ্গল শোভাযাত্রার ব্যাপারেও কিছুটা এমন হয়েছিল। এখানে সেই হিন্দু ছাত্রগুলো কি আচার পালন করছে সেটা প্রাধান্য পায়নি হয়ত।

প্রাধান্য পেয়েছে এরশাদ সাহেবের বিরুদ্ধে একটা মৌন আন্দোলন।

তাই এটাকে তখন ঢাবির সচেতন ছাত্র মহল সমর্থন করেছিল।

পরবর্তীতে ৯০ এর দশকে মঙ্গল শোভাযাত্রার এই থিমটাকে মাথায় নিয়ে চারুকলার কিছু ঢাবিয়ান,
বৈশাখে আনন্দ শোভাযাত্রা চালু করে। আজকালকার মত হাতি ঘোড়ার প্রতীকী মূর্তির ছড়াছড়ি আর হাজারো লোকের সমাগম তখন ছিলনা।

ঢাবির ক্যাম্পাসের আশেপাশে চলতো এই মঙ্গল শোভাযাত্রা।

সুতরাং মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বাঙালী ঐতিহ্যের সাথে মিলিয়ে ফেলা এক প্রকার ভুল। আর আমার মতে মঙ্গল শোভাযাত্রা আমাদের এই একুশ শতকের প্রথম দিকেও বর্ষবরণে ততটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলনা। যেটা সকলে অকোপটেই স্বীকার করবেন।

দ্বিতীয়ত,
আমি আলোচনা করতে চাই মঙ্গল শোভাযাত্রার বিস্তৃতি নিয়ে। বাংলাদেশে মিডিয়া গুলো যখন মঙ্গল শোভাযাত্রাকে হাইলাইট করা শুরু করলো তখন এটা আলাদা মাত্রায় একটা জনপ্রিয়তা পেল, ঢাকার কিছু মানুষের কাছে। আর এই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে কেউ হয়ত আলপনা একেছে..
কেউ বানিয়েছে মূর্তি , কেউ মানিয়েছে দুর্গার বাহন পেচা, কেউ বানিয়েছে অশুর রাক্ষস আর হাতি,
কেউ বানিয়েছে উলঙ্গ বক্ষের নারীর প্রতিমা।এরপর কবে থেকে যেন আনন্দ শোভাযাত্রা চলে গেল..

এরশাদ বিরোধী মঙ্গল প্রার্থনার সেই মঙ্গল এসে লাগলো আনন্দ শোভাযাত্রায়

আপত্তি তৈরি হতে থাকলো বিভিন্ন মহলে। তবু চলতে থাকলো।

তৃতীয়ত,
আমি বলবো, মঙ্গল শোভাযাত্রা ও পহেলা বৈশাখের মানুষের চিন্তাধারা ও প্রভাব নিয়ে।

আপাত দৃষ্টিতে বাঙালী সংস্কৃতি আর বৈশাখ বলতে আমরা যা বুঝি তার অনেকটাই অনুপস্থিত দেখা যায় মঙ্গল শোভাযাত্রায়। তবুও মিডিয়া কাভারেজে পয়লা বৈশাখ এলেই ঘন্টাখানেক ধরে এই মঙ্গল শোভাযাত্রার লাইভ কাভারেজ চলে।
মানুষ মঙ্গল শোভাযাত্রাকেও বৈশাখের একটা উপাদান ভাবতে শুরু করে। যদিও এটাকে একটা উৎসব হিসেবেই নেয়া হয়েছে তখন।
কিন্তু বাঙালী সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের অঙ্গ এটা ছিলনা কখনোই।

ইংরেজি বর্ষবরণের যেই রঙিন আয়োজন, সেই রঙিন আয়োজন, আর একটা ফেস্টিভ ফেস্টিভ মুড আনার জন্যই এই মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রভুত মঙ্গল একটা ধারণা।

ক্রমাগত পহেলা বৈশাখ আর মঙ্গল শোভাযাত্রা কেন জানো নিবিড়ভাবেই সম্পর্কযুক্ত হলো।

তাই ঢাকার আশেপাশের মানুষের কাছে মঙ্গল শোভাযাত্রা একটা অনুসঙ্গ হিসেবে পরিণত হলো।

কিন্তু সেই প্রত্যন্ত অঞ্জলে কিন্ত হালখাতা, মিষ্টি, পান্তা,মরিচ, ইলিশ সব অপরিবর্ততই ছিল।

তবু নতুন উৎসবের অনুসঙ্গ। খারাপ কি, একটা দিনে মঙ্গল শোভাযাত্রার এই উৎসব আমেজটা?

চতুর্থত,
আমি লিখবো মঙ্গল শোভাযাত্রা, আপত্তি ও বিতর্ক নিয়ে।

এক ক্লাসমেট (মেয়ে) পয়লা বৈশাখে আমাকে ফোন দিল..
বললাম কিরে মঙ্গল শোভাযাত্রায় যাবিনা?
ও রিপ্লে দিলো.. না.. তবে ওখানে যাওয়াটা অনেক সাহসের ব্যাপার।
বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম কেনরে?

বললো, ক্লাস টেনে একবার ভাইয়ের সাথে গিয়েছিলাম দেখতে। অনেক বীভৎস আর বিশ্রী আচরণ দেখলাম।
আমি অনেক ভয় পেয়ে চলে এসেছি ভাইকে নিয়ে, আর যাওয়া হয়নি।

মেয়েটা বীভৎস আর বিশ্রী বলতে কি বুঝালো তা হয়ত বুঝেই গেছেন।
মঙ্গল শোভাযাত্রায় নিজের বয়ফ্রেন্ড নিয়ে ঘুরতে থাকা কিছু নারীর শ্লীলতাহানি হয়েছে হাজারো মানুষের সামনে।বার বার টিভি ফুটেযে এমন নোংরামি আর বর্বরতা কেউ ই সহ্য করতে পারেনি..
.
এগুলোতো ক্যামেরার সামনে..
মঙ্গল শোভাযাত্রার মুখোশের আড়ালে কত নারীর কত তিক্ত অভিজ্ঞতার ফিরিস্তি তা নাহয় নাই বললাম।

এসব ঘটনায় জাতি হতবাক। উৎসবের নামে বড় বড় প্রতীকি মূর্তির আড়ালে কিছু নারী যেন আজো অবলা। চোখে কান্না আসার আগেই যেন মাথাটা ঘুরে পড়ে যাবার উপক্রম।

চলেছে অনেক তর্ক বিতর্ক। বিচার হয়েছি কি হয় নি জাতি না জানলেও,
জাতিকে কিছু মিডিয়া বুঝাতে চেয়েছে, সব অপকর্মের মত এটাও জামাত শিবিরই ঘটিয়েছে”

জাতিও বুঝতে পেরেছে ঘোলা পানির জল আমাদের ও গেলানো হচ্ছে।

মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ঘিরে এসব নারকীয় ঘটনা ঘটার পর, এর আয়োজকরা বুঝেছিলেন
আগামী শোভাযাত্রায় কিছুটা হলেও ভাটা আসতে পারে। তাই এটাকে জাতীয়করণ করার একটা প্রসেস হাতে নেয়া হলো..

হঠাৎ ঘোষণা আসলো,
বাধ্যতামূলক মঙ্গল শোভাযাত্রা পালন করতে হবে স্কুল গুলোতে।

দুটি দল সৃষ্টি হলো..
একদল চায়

আরেক দল চায়না।

তবে আমার দৃষ্টি অন্যদিকে। মঙ্গল শোভাযাত্রায় হিন্দুয়ানী প্রভাব ঢের বেশী এটা যেমন মানতে হয়, তেমনি মানতে হয় বাঙালী সংস্কৃতি উপস্থাপনের কৃপনতা। এছাড়াও ব্যাপারটি বেশ বিতর্কিত হয়েছে নানা কারণে। জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে কিছু মঙ্গল অমঙ্গলের মুখোশ।

এখানে প্রশ্ন আসতে পারে, মঙ্গল শোভাযাত্রা হবে? কি হবেনা এটা নিয়ে?

কিন্ত সেখানে এরকম একটি শোভাযাত্রাকে বাধ্যতামূলক করার কি কারণ থাকতে পারে?

সকালে পান্তা ইলিশ খেতে কেউ আমাদের বাধ্য করেনি, হালখাতা করতে কেউ আমাদের বাধ্য করেনি, পাঞ্জাবি পড়ে বাঙালীয়ানা দেখাতে কেউ আমাদের বাধ্য করেনি,
বৈশাখী মেলায় মুড়ি , মুড়কি, মন্ডা, মিঠাই খেতে কেউ আমায় বাধ্য করেনি..
দলবেঁধে সার্কাস দেখতে কেউ আমায় বাধ্য করেনি..

কিন্তু মঙ্গল শোভাযাত্রা যদি এদেশের বাঙালীদের সংস্কৃতির অনুসঙ্গই হয়,
তবে সেটাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে কেন?

হ্যাঁ,প্রশ্নটা এখানেই। আর উত্তরটাও এখানেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।
সহজ কথায় চারুকলা ইন্সটিটিউট এর কিছু ছাত্রের মঙ্গল কামনাকে জাতির মাঝে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।

আর সংস্কৃতি চাপিয়ে দেবার জিনিস নয়। গেলানো ভাত হযম হয় না।
তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা। গত বছর গুলোর তুলনায় এবার অর্ধেক মানুষ ও মঙ্গল শোভাযাত্রায় আসেনি। একাত্তরের রিপোর্টার স্বয়ং দুঃখ প্রকাশ করেছেন এটা নিয়ে। পুলিশের কড়া বেষ্টনীর মাঝে, নির্দিষ্ট এলাকায় বন্দী হয়ে উৎসব হয়না এটা সবাই বুঝে গেছে।

আমি ধর্ম টানলাম না।

শেষদিকে আমার এতটুকু মত প্রকাশের ইচ্ছা,
আর তা হল, এদেশের নাগরিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে।
মঙ্গল শোভাযাত্রা বৈশাখের অপরিহার্য কোন অনুসঙ্গ না এটাও সবাই জানে।এরপরেও
কেউ যদি চায় মঙ্গল শোভাযাত্রা করবে.. সে করুক

কেউ যদি চায় যাবেনা, সে না যাক তার স্বাধীনতা রয়েছে।

কেউ যদি চায় মঙ্গল শোভাযাত্রার পক্ষ নিতে নিক,
কেউ যদি চায় মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরুদ্ধে বলতে বলুক..

তবে আমি চাই..

যা কিছুই হোক,
*মঙ্গল শোভাযাত্রার নামে আমার বোনের যেন শ্লীলতা হানি না হয়।
*আমার বোনের শ্লীলতাহানির যেন বিচার হয়
*সংস্কৃতি ও তার অনুসঙ্গ গ্রহণ বর্জনের সুযোগ থাকুক এদেশের ১৬ কোটি জনতার উপর।চাপিয়ে দেয়া না হোক কোন আচার,অনুষ্ঠান বা অনুসঙ্গ
*পয়লা বৈশাখ চলুক, উদযাপন হোক।কারো উদযাপন রঙিন হোক,
কারোরটা হোক আরো রঙিন।
তবে অশুভ কালো ছায়া, বা মঙ্গল যাত্রা কোনটাই যেন বাঁধা না হয়ে দাঁড়ায়..এই কামনায় সমাপ্তি টানলাম।

বিকাশ ফাঁদ

Now Reading
বিকাশ ফাঁদ

আজ সন্ধ্যায় আমার ফোনে কল আসলো অপরিচিত নাম্বার থেকে। তারপর বলে, ” দাদা, আপনার একাউন্টে দুপুরে টাকা পাঠানো হইছিলো, কিন্তু এখন ভুলে আবার চলে আসছে অন্যজনের টাকা। আপনি প্লিজ টাকাটা সেন্ড করে দিন ”

আমি : ভাই, আমার ফোনে বিকাশ থেকে কোন মেসেজ আসে নাই, কিভাবে বুঝবো?

ঐ ব্যাক্তি : কোম্পানির সাথে কথা হইছে, তারা বলছে আপনার নাম্বারে গেছে, আচ্ছা আপনার একাউন্টে ব্যালেন্স কত?

আমি : **** টাকা ( প্রথম ভুলটা করলাম)

ব্যাক্তি : তাহলে ভাই চেক করেন, এখুনি মেসেজ আসবে। ফোন কেটে গেল।

আমি ভাবলাম দোকানদার ভুলে পাঠিয়ে দিসে, টাকাটা ফেরত দেওয়াটাই ভালো হবে। তারপর ঠিকই মেসেজ আসলো ( মেসেজের স্ক্রিনশট দেওয়া হল) এমনভাবে মেসেজ আসলো যে বুঝার কোন উপায় ই নেই এটা নকল! কিন্তু আমার সন্দেহ হলো, কারণ বিকাশে টাকা আদান প্রদান করলে বিকাশ নামে অটোমেটিক সেভ হওয়া একটি নাম্বার থেকে সব মেসেজ আসে। লোকটি অতপর বারবার আমাকে ফোন দিয়ে টাকা পাঠাতে অনুরোধ করতে থাকলো কি এক আজব কারণে আমি তখন আমার ব্যালেন্স ও চেক করতে পারছিলাম না। তারপর তাড়াতাড়ি এলাকার পরিচিত বিকাশের দোকানে গেলাম এবং সব শেয়ার করলাম। তিনি স্পষ্টই বুঝতে পারলেন এটি একটি ফাঁদ এবং আমাকে বুঝালেন। তখনও ঐ প্রতারকের ফোন থেকে বারবার কল আসছিলো, তখন আমি দোকানদারকে দিয়ে রিসিভ করাই এবং দু-একটা কথা বলেই প্রতারক বুঝতে পারে যে সব ফাস হয়ে গেছে, সাথে সাথে কল কেটে দেয়।

তাই, সবাই এসব ফাদ থেকে সাবধান থাকবেন, কাওকে টাকা পাঠানোর আগে নিজের ব্যালেন্স চেক করে নিবেন। কেউ যদি তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নিতে পারেন, তাই প্রতারকের নাম্বার এবং স্কিনশট দিচ্ছি…. .

যে নাম্বার থেকে কল আসে : 01833560017 মেসেজ আসে : 01855557575