ভর্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি কিভাবে নিবেন?

Now Reading
ভর্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি কিভাবে নিবেন?

সবে মাত্র শেষ হয়েছে এইচ এস সি বিজ্ঞান বিভাগের লিখিত পরীক্ষাব্যবহারিক পরীক্ষা এখনো বাকি। অনেকেই যার যার ব্যবহারিক খাতা কমপ্লিট করা নিয়ে ব্যস্ত আবার অনেকেই আছে অল্প ছুটি কাটানোতে কেউ কেউ সামনে আসন্ন ভর্তিযুদ্ধ নিয়ে চিন্তিত আমার এই লিখাটি শুধুমাত্র তাদের জন্যই যারা এইচ এস সি পরীক্ষা শেষ করবে এবং ভবিষ্যত এর জন্য প্রিপারেশন নিয়ে চিন্তিত আর কথা বাড়াতে চাই না এবার মূল লিখায় ফিরার পালা

প্রথমেই থাকলো সবার প্রতি শুভ কামনা যারা ২০১৭১৮ সালে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছ প্রত্যেকেই একটা স্বপ্নের মধ্য দিয়ে আজ এই অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছ যে রাস্তা তোমরা পাড় করে এসেছ তা কম কষ্টের ছিল না তবে সামনের যে পথ পাড়ি দিতে হবে তা আরো কঠিনতম ভয়ংকর তবে ভয়ংকর শুনে ভয় পেলে কখনোই চলবে না বুকে সাহস নিয়ে, অদম্য ইচ্ছা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে  যেতেই হবে এতে করে যত বাঁধাই আসুক না কেন এত কষ্টের পথ যখন পাড়ি দিয়েছ,  নিজের ভবিষ্যতকে উজ্জ্বল করতে বাকি পথ টুকুও ভালোভাবেই পাড়ি দিতে হবে

প্রথমেই তোমাকে লক্ষ্য স্থির করতে হবে এবং সেই লক্ষ্য অনুযায়ী অগ্রসর হতে হবে এটা কি Aim in Life? না, তবে এমন কিছুই ছোট থেকেই সবাই স্বপ্ন দেখে সে ডাক্তার বা ইন্জিনিয়ার হবে ডাক্তার আর ইন্জিনিয়ার ছাড়া কি দেশে আর কোন শ্রেণির মানুষ নেই! তোমাকে তোমার যোগ্যতা অনুযায়ী লক্ষ্য স্থির করতে হবে লক্ষ্য স্থির করতেও যোগ্যতা লাগে? হ্যা, লাগে তোমার লক্ষ্য নির্ভর করে আছে তুমি এইচ এস সি পরীক্ষা কেমন দিয়েছ তার ওপর কারণ তুমি কেমন পরীক্ষা দিয়েছ সেটা একমাত্র তুমি আর স্বয়ং আল্লাহ ছারা আর কেউ জানতে পারবে না তাই তোমাকে পরীক্ষার উপরেই নির্ভর করতে হবে খুব ভালো পরীক্ষা দিয়ে থাকলে লক্ষ্য অনেক ভালো হবে আর যদি পরীকটখুব খারাপ হয় তবে লক্ষ্য হরালে চলবে না নিজের চয়েজকে মাঝে মাঝে বিসর্জন দিয়ে সর্বোপরি যেটা ভালো হয় সেদিকেই অগ্রসর হতে হবে

পরীক্ষার পর অনেকেই হালকা ঘুরাঘুরি সেরে নিচ্ছে তাদের কপালে সত্যি বলতে খুব খারাপ কিছুই আছেকারণ সময়টা সময় কাটানোর জন্য না সামনের যে মহা যুদ্ধক্ষেত্র আছে তার জন্য প্রস্তুত হওয়ার জন্য এই সময় প্রায় সবাই চায় কোন না কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেতে তোমাকে কোন না কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেতেই হবে নিজের লক্ষ্য ঠিক কর

তারপর সে অনুযায়ী মেডিক্যাল,  ইন্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এর জন্য যে কোন একটি ভালো কোচিং ভর্তি হওয়াটা উত্তম বলে আমি মনে করিকে কোনটায় ভর্তি হবে তার জন্য অবশ্যই লক্ষ্য খুব ভালো ভাবে নির্ধারণ করা জরুরি। তবে আমাকে যদি বলা হয় কোন ভালো ভর্তি কোচিং এর নাম বলতে আমি বলবো অবশ্যই উদ্ভাস এর নাম।

এবার কঠোর পরিশ্রমী হওয়ার পালাযে যত বেশি পরিশ্রমী তার জন্য সেই জায়গাটাই অপেক্ষারততাই নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী সবচেয়ে সেরা জায়গাটা পাওয়ার জন্য অবশ্যই পুরোটা দিয়ে পরিশ্রম করতে হবে

অবশ্যই তোমাকে পড়াশুনা গুছিয়ে নিতে হবেছোট একটা রুটিন করে নিলে সময়টাকে খুব ভালোমতো কাজে লাগানো যেতে পারেতবে কোচিং কি করা উচিত?

আমার মতে, কোচিং অবশ্যই তোমার ক্লাশগুলো করা উচিত। কোচিং এর সবকয়টি ক্লাশ মনোযোগ দিয়ে করা উচিত বলে আমি মনে করি। এতে করে তোমার যে লাভটি হবে তা হলো কোচিং যে লেকচার গুলো হয় তাতে যে সব সর্টকাট বা যে Strategy follow করা হয় তা ওই পরিস্থিতির একজন শিক্ষার্থীর জন্য খুবই উপকারী

তোমার উচিত বেশি বেশি করে তোমার যে অনুশীলন বইটি তুমি পাঠ্য করে নিয়েছ তা বেশি বেশি করে Practice করাতার মানে হচ্ছে Multiple Question এর জন্য তোমাকে যে কোন একটি ভালো বই নির্ধারণ করতে হবেযেমনঃ ভার্সিটি প্রশ্ন ব্যাংকবেশি করে এটি অনুশীলনের আওতায় আনতে হবে। এছাড়াও বাজারে আরো অনেক ভালো বই আছে, যেগুলো ভালো করে আয়ত্ব করতে পারলে মূল পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ভালো সাহস অর্জন করবে।

এরপর তোমার করণীয় হতে পারে কোচিং এর নিয়মিত আয়োজন করা পরীক্ষাগুলোয় খুব যত্ন সহকারে উপস্থিত থাকাএতে করে তোমার মনোবল ইচ্ছাশক্তি দুটোই বাড়বেপ্রথম দিকদিয়ে পরীক্ষার প্রাপ্ত নাম্বার খুব Depression সৃষ্টি করবেএতে করে ভেঙ্গে পড়লে চলবে নাপরীক্ষা চালিয়ে যেতে হবে এবং পরীক্ষায় উন্নতি করার প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকতে হবেতবেই উন্নতি করা সম্ভব বলে আমি মনে করি

তোমার লক্ষ্য যাই হোক না কেন প্রথম পাবলিক পরীক্ষাটিতে অবশ্যই attend করা উচিত এতে করে পাবলিক পরীক্ষা সম্পর্কে ধারণা জন্মাবে এবং যা খুবই উপকারি

তারপর নিজের লক্ষ্য অনুযায়ী মেডিকেল,  ইন্জিনিয়ারিং কিংবা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলোতে অংশগ্রহন করা এবং সফলতা অর্জন করাটাই মূল লক্ষ্য।তকখনোই একটি বা দুইটি ফর্ম তুলবে না। নিজের সাধ্যমত যতগুলো সম্ভব তোলার চেষ্টা করবে। তবে চান্স না পেয়ে depression ভুগলে চলবে নামনে অবশ্যই আশা রাখতে হবে। আল্লাহ সহায় হলে অবশ্যই সফলতা পাবে।

একটা কথা মনে রাখবে” students তিন category হয়। good, better, best. সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেতুমি তোমার category বুঝে উঠতে পারলে নিজের পুরো চেষ্টা থেকেউ সামান্য বেশি চেষ্টা পরিশ্রম তোমাকে সাফল্য এনে দিতে পারে।“

আশা করি সবাই তার যোগ্য জায়গাটি সফলতার সাথে অর্জন করবেসেই শুভেচ্ছাই রইলো সবার প্রতি

ঢাকা শহরে ইভটিজিং এক বিভীষিকার নাম (এক ঘন্টার পথে ৫-৬ বার টিজিংয়ের শিকার)

Now Reading
ঢাকা শহরে ইভটিজিং এক বিভীষিকার নাম (এক ঘন্টার পথে ৫-৬ বার টিজিংয়ের শিকার)

অনেক কষ্টে এরকম একটা বিষয় নিয়ে লিখতে বাধ্য হচ্ছি। কয়েকমাস আগে বিকেলে ফুফাতো বোনকে নিয়ে ওদের বাসায় যাওয়ার পথে প্রায় ৫-৬ বার ইভটিজিং এর শিকার হয়েছি। ফার্মগেট হতে মগবাজার যাওয়ার জন্য বাস পাচ্ছিলাম না বলেই হেটেই রওয়ানা হই।
# প্রথম টিজিংটা করে দুইজন লোক আমাদের বিপরীত দিক হতে ক্রস করার আগ হতেই বোনের দিকে তাকিয়ে ছিলো এবং ক্রস করে এক হাত পিছনে যাওয়ার পরেই বললো মাইয়াটার দুধ নাই! কথাটা আমাদের দুজনের কানেই এসেছে।

# এরপর আরেকটু সামনে এগোলাম দ্রুতগতিতে রিক্সা দিয়ে যাওয়া দুজন ছেলে ‘মালরে মাল’! বলে হাসতে লাগলো।

# আমরা সামনের দিকে এগোচ্ছি। আমাদের পিছন হতে সামনের দিকে যাওয়া পথচারী আমাদের ক্রস করার সময় বোনের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়। যেন বোনের ব্যাকসাইড দেখার পর ফেসটা না দেখলে উনি বাঁচবেন না।

# ফুটপাত ধরে হাটছি। একটা গ্যারেজ ক্রস করতেছিলাম সেই গ্যারেজের ছেলেরা আমাদের দেখে ‘চিকনী চামিলি’ গান গাওয়া শুরু করলো। আর আমরা গ্যারেজ ক্রস করে দশ হাত যাওয়ার পর “ঐ চিকনী চামিলি” বলে জোরে জোরে ডাকা শুরু করলো।

# আরেকটু সামনে যাওয়ার পরে বাইক দ্রুত গতিতে যাচ্ছে বলে উঠলো ‘মাম্মা! কত্ত বড় দুধরে’!

অবশেষে ওদের বাসায় আসলাম। ফুফুকে সালাম জানিয়ে, বোনকে বাসায় দিয়েই লজ্জায় আর মুখোমুখি হতে পারলাম না। দ্রুত চলে এলাম। আমি এমন ভাই আমার বোনকে এরকম অসম্মানে পড়তে হলো আমি থাকাকালীন সময়ে, আমি কিছুই করতে পারলাম না। আমার পুরো শরীর ব্যথায় নীল হয়ে যাচ্ছিলো এই কথাগুলো মনে পড়তেই..লজ্জা আর অপমানে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে করছিলো। এটা ভাবতে শিউরে উঠলাম আমি থাকাকালীন সময়ে যদি এগুলো হয়, আমার অনুপস্থিতিতে না জানি আরও কতকিছুই সহ্য করতে হয় তাকে। কিছুদিন আগে ও নাকি সন্ধার পরে বাসায় ফিরছিলো রিক্সায় করে হুট করে এক ছেলে রিক্সার সামনে এসে “ভাউ”! শব্দ করে অন্ধকারে পালিয়ে যায়…

ফেরার পথে মগবাজার বাসস্টান্ডে দাঁড়িয়ে আছি। স্টান্ডে আরও দুইটি মেয়ে দাঁড়িয়ে। তাদের দিকে তাকিয়ে বাসের হেলপার দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময় কিছু বেফাঁস একটা বললো আর হাসলো।

বাসায় ফিরলাম। গতকালের ঘটনাগুলোই বারবার মনে পড়ছিলো। হঠাৎ ফেসবুকে এক আপুর একটা ভিডিও দেখলাম। উনি নাকি সি.এন.জিতে করে ফেরার পথে সি.এন.জি ড্রাইভার লুকিং গ্লাস দিয়ে উনার দিকে তাকাচ্ছিলো বারবার। এক পর্যায়ে মাস্টারবেশন করা শুরু করে। ভাবুন একবার কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে এই সমাজ?

এই যদি সমাজের বাস্তব নোংরা চিত্র যেখানে বাস হেলপার, রিক্সাওয়ালা, দোকানদান, ছাত্র, শিক্ষক সব শ্রেনীর পুরুষের দ্বারাই যদি নারীরা এরকম নোংরা কথাবার্তার শিকার হয় তাহলে সেই সমাজে আমি বাঁচতে চাইনা। হয় আমি সুইসাইড করব নইলে আইন নিজের হাতে তুলে নিবো।

এখন অনেকেই বলতে পারেন আমি কেন প্রতিবাদ করিনি। চলন্ত কিংবা দ্রুত গতিতে যাওয়া কারো সাথে আমি কি প্রতিবাদ করব? কিংবা সংখ্যায় বেশি ওদের সাথে? নিজের এলাকায় এমন ঘটতো! চিনে রাখতাম পরে ধোলাই দিতাম। কিন্তু নিজের এলাকায় এগুলো ঘটেনা। কিন্তু যেখানে ওরা আপনাকে শুধু চোখ দিয়েই নোংরা তাকানি তাকাবে… নোংরা ইশারা করবে চোখ দিয়ে… মুখে কিংবা শরীরে হাত দিয়ে কিছু করবে না সেক্ষেত্রে কি করতেই পারেন আপনি? কিচ্ছুই করার নেই। আইন তো নেই…আপনার যদি পাওয়ার থাকে আপনি ধোলাই দিতে পারবেন, অনেকে মানসম্মানের ভয়ে জড়ায় না। কিন্তু তাদেরকে আইনী সহায়তা দিলে তারাও প্রতিবাদ করতে পারতো।

আমাদের দেশে প্রতিদিন রাস্তায় বের হওয়া একটি মেয়ে ইভটিজিং এর স্বীকার হয়…হতে পারে নোংরা কথার আওয়াজে কিংবা কুদৃষ্টিতে।

কিছুদিন আগে এক বন্ধু সহ ফিরছি। চিড়িয়াখানা রোডেই দুইটা রিক্সা পাশাপাশি যাচ্ছে অনেক স্পিডে… একটাতে দুইটা মেয়ে আরেকটাতে দুইটা ছেলে। ছেলে দুইটা মেয়ে দুইটাকে ডিস্টার্ব করছিলো কিভাবে শুনবেন? কনডমের প্যাকেট দেখিয়ে। ভাবুন একবার!

আমার বন্ধু প্রায়ই একটা কথা বলে…সামনে একটা জেনারেশন আসবে একটা জারজ জেনারেশন। যারা এমন কোন পাপ নেই যে করবে না। কষ্ট হলেও সত্য সেগুলো আমাদেরই সন্তান হবে… কারন আমাদের জেনারেশনই হবে তাদের অনুপ্রেরণা।

এই সমাজে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে বড় জোর এইডস হতে বাঁচতে সেক্স করার পূর্বে কনডম পড়ানো কিংবা তিন সপ্তাহের বেশি কাশি হলে কফ পরীক্ষায় অভ্যস্ত করানো যায় কিন্তু ইভটিজিং কিংবা নারী নির্যাতনে প্রয়োজন কঠোর হতে কঠোরতম শাস্তি। এটার জন্য যাবজ্জীবন কিংবা মৃত্যুদণ্ড দিলে খুশি হই। কিন্তু তা কখনই হবে না। তা যদি নাই করতে পারেন অন্তত ৫ বছরের জামিন অযোগত জেল? তাও যদি না পারেন অন্তত একটা হেল্প লাইন নাম্বার: যাতে কল করলে ত্রিশ মিনিটের ভিতরে সেই স্পেশাল বাহিনী সেই স্থানে গিয়ে উপযুক্ত প্রমানের ভিত্তিতে প্রকাশ্যে শাস্তিপ্রদান! অন্তত তাদের জন্য এই আইন বানান যাদের কোন রাজনীতি করে এমন ভাই নেই, যাদের কোন পুলিশ রিলেটিভ নেই, যারা নিতান্তই ছাপোষা। যারা বছরের পর বছর রিক্সাওয়ালা, সিএনজি ড্রাইভার, হেলপার, পথচারী, বখাটে, ছাত্র শিক্ষক এদের হাতে লাঞ্ছিত হয়ে আসছে পথে ঘাটে, বাসে মার্কেটে কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

জাস্ট এই জারজদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে অন্য জারজদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিন। সুশীলদের পায়ে ধরি অন্তত এই দিকটার একটা হ্যস্তন্যস্ত করুন। আমার মা বোন স্ত্রী কন্যা এদের নিয়ে যেন একটা বেফাঁস কথা বলার সাহস যেন কেউ না পায়।

ছবি কার্তেসীঃ গুগল ইমেজ

ম্যারিটাল রেপ বা দাম্পত্য জীবনে ধর্ষণ কি আপনি জানেন ?

Now Reading
ম্যারিটাল রেপ বা দাম্পত্য জীবনে ধর্ষণ কি আপনি জানেন ?

আমি মানুষটা কেমন?? আমাকে একটু খোঁচা মেরে দেন মুখ দিয়ে খৈ এর মত কথা ফুটবে। যেমন আজ একটু খোঁচা খেয়ে আসলাম। আর খোঁচার বিষয় টা কি ছিল জানেন?? ম্যারিটাল রেপ। নিঃসন্দেহে এই ব্যাপারটা অনেক জটিল। ধর্মীয় মতামত এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে এটা সমালোচনার ঝড় তোলবে এক কথায়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে চাই না । শুধু জানাতে চাই। আপনি জানেন ,শুনেন, বুঝেন। নিজের জায়গা থেকে নয় , ভিকটিমের দিক হতে ভেবে দেখুন।নিজেকে ভিকটিম মনে করুন এবং আলোচনাই যাবার পূর্বে এটাই বলব আক্রমণাত্মক মতামত দেয়া থেকে বিরত থাকুন।
 
যায় হোক ম্যারিটাল রেইপ এর কথা বলছিলাম। এটা জানার আগে রেইপ কি সেটা জানা দরকার। রেপ/ধর্ষণ:একটা মানুষের শারীরিক ও মানসিক মতের বিরুদ্ধে তার যৌনাঙ্গ সমূহের জোরপূর্বক ব্যবহারই ধর্ষণ। যা এক ধরনের আগ্রাসন এবং সহিংস অপরাধ। এক্ষেত্রে কেবল নারীই নয় পুরুষ বা তৃতীয় লিঙ্গের কোন মানুষ ও ভিকটিম হতে পারে। তবে 99% ক্ষেত্রে পুরুষই ধর্ষকের ভূমিকায় থাকে। যায় হোক কথা না বাড়িয়ে চলে যাচ্ছি দাম্পত্য ধর্ষণ বা ম্যারিটাল রেপ এ। ম্যারিটাল রেপ বা দাম্পত্য ধর্ষণ: উপরের বর্ণনা হতে এটা অবশ্যই বুঝতে পেরেছেন যে রেপ কি। আর দাম্পত্য ধর্ষণ হল সেই ধর্ষণ যা বিবাহের পর স্বামীর দ্বারা স্ত্রীর হয়ে থাকে। ভারতবর্ষের ঐতিহ্যই বলা চলে পারিবারিক সূত্রে বিয়ে টা।বিয়ের পর একটা মেয়ের ফার্স্ট প্রায়োরিটি থাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া মানুষটিকে জানা( সবার ক্ষেত্রে না)। কিন্তু স্বামী ঘরে ঢুকার পরই সব বদলে যায়। দুই একটা মিষ্টি কথা বলে অতঃপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বৌয়ের উপর। বাহরে বিয়ে করা বৌ না।
 
বাংলাদেশের চলচিত্রে এমন একটা ম্যারিটাল রেপ এর দৃষ্টান্ত রয়েছে। শাকিব খান ও শাবনূর অভিনীত ছবি “আমার প্রাণের স্বামী”…সেখান থেকে শাকিবের বৌ শাবনূর , শাকিবকে আদালতে রেপিষ্ট হিসেবে একিউজ করে। নায়ক তখন পৃথিবীর সব স্বামীকে ধর্ষক আরো ব্লা ব্লা ডায়লগ দিয়ে নিজের জামিন নিজেই করিয়ে নেয়। এখানে সিনেমার কথা তুলেছি কেবল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে। নায়ক যখন বলল নিজের স্ত্রীকে কাছে পেতে চাওয়া যদি ধর্ষণ হয় তবে পৃথিবীর সকল স্বামী ধর্ষক, আদালতের বিচারক ও মানতে বাধ্য হল যে নায়ক ঠিক। স্বামী আবার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে নাকি?? যাইহোক বিয়ের পর স্বামী ভাবতে থাকে তার স্ত্রীর উপর তার একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ রয়েছে।আর বিয়ে?? আমার মতে বিয়ে কেবল মাত্র সামাজিক ও ধর্মীয় চুক্তিই নয়, এটা স্বামীর ইচ্ছেমত স্ত্রীকে ভোগ করার এক সার্টিফাইড লাইসেন্স।এধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে বহু দেশে। পশ্চিমা দেশগুলোতে মেনে নিতে শুরু করেছে ম্যারিটাল রেপ এর ব্যাপারটি। কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার শারীরিক মিলন রেপ হতে পারে এটা মেনে নিতে আমাদের কোথাও যেন বাধে।
 
ম্যারিটাল রেপ অপরিচিত শব্দ না হলেও একটি অনুচ্চারিত শব্দ। এর পেছনে কাজ করছে সামাজিক অবকাঠামো ও সমাজ ব্যবস্থা। ধর্মীয় অনুশাসন কখনোই ম্যারিটাল রেপ সাপোর্ট করে না। ইসলাম ধর্মে পবিত্র কোরআন শরীফে সূরা বাকারার ২২৩ নং আয়াতের স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার সম্পর্কে যা বলা হয়েছে- তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র। অতএব তোমরা তোমাদের শস্য-ক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন কর। হঠাৎ করে দেখলে মনে হতে পারে যে এখানে বলা হয়েছে স্বামীর আদেশ পালনে স্ত্রী বাধ্য। স্ত্রীর মতামতের কোন ভিত্তি নেই। আসলেই কি তাই??না। এ ব্যাপারে হাদীস যা বলে- যদি কোন স্বামী তার স্ত্রীকে বিছানায় ডাকে (যেমন- সঙ্গম করার জন্য), আর সে প্রত্যাখান করে ও তাকে রাগান্বিত অবস্থায় ঘুমাতে বাধ্য করে, ফেরেশতারা সকাল পর্যন্ত তাকে অভিশাপ করতে থাকে।[বুখারি, ইংরেজি অনুবাদ ভলি- ৪/বুক-৫৪/৪৬০] একটু ভালো করে লক্ষ্য করুন, স্ত্রী স্বামীর ডাকে সাড়া না দেওয়ায় স্বামী রাগ করে কী করছে? স্ত্রীর ওপর জোর-জবরদস্তি করে নিজের যৌন অধিকার আদায় করে নিচ্ছে?নাকি ঘুমিয়ে পড়েছে? এই হাদিসে নারী কর্তৃক স্বামীর ডাকে সাড়া না দেওয়ার কারণে স্ত্রীর সমালোচনা করা হলেও পুরুষকে কিন্তু জোর-জবরদস্তি করে নিজ অধিকার আদায়ে উৎসাহিত করা হচ্ছে না। আবার স্ত্রী যদি অসুস্থতা বা অন্য কোন সঙ্গত সমস্যার কারণে যৌনাচার হতে বিরত থাকতে চান, তবে তিনি কিছুতেই এই সমালোচনার যোগ্য হবেন না, কেননা ইসলামের একটি সর্বস্বীকৃত নীতি হচ্ছে: আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না [২:২৮৬] কেবল ইসলাম ধর্ম বললে ভুল হবে হিন্দু বা সনাতন ধর্মেও অন্যের উপর বল প্রয়োগে বাধা প্রধান করা হয়েছে। হিন্দু ধর্মে সনাতনি বা চিরন্তন কর্তব্যের কথা যেমন সততা, অহিংসা, ধৈর্যশীলতা, সমবেদনা ও আত্মনিয়ন্ত্রনের পাশাপাশি আরো অনেক কথা বলে। এখানে আত্মনিয়ন্ত্রণ বলতে ষড় রিপুকে নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছে যার মধ্যে কাম ও রয়েছে এবং তা নিজের বিবাহিত স্ত্রীর উপর ও প্রযোজ্য।
 
অন্যান্য ধর্ম যেমন বৌদ্ধ বা খিস্টান ধর্মেও অন্যকে নিজের সম্পত্তি বানিয়ে তার উপর বল প্রয়োগের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মূলত এখানে ম্যারিটাল রেপ বা দাম্পত্য ধর্ষণ মেনে না নেয়া বা আড়চোখে দেখার প্রধান কারণ দাঁড়াচ্ছে সামাজিক ব্যবস্থা ,সামাজিক অবকাঠামো এবং ধর্মীয় অনুশাসন বিকৃত করে তা উপস্থাপন করা। এখানে নারীকে পারিবারিক চাপ অথবা অন্য উপায় না থাকার ফলে বছরের পর বছর বাস করতে হয় ‘স্বামী’ নামের ধর্ষকের সঙ্গে৷ একবার নয়, হয়ত প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে ধর্ষণ হয় তার৷ লোকলজ্জার ভয়ে ডাক্তারের কাছে যেতে পারে না সে৷ তাই বয়ে বেড়াতে হয় যৌন রোগ, ক্ষত বা মানসিক অসুখ৷ তাই কোনো নারীকে যদি প্রশ্ন করেন – আপনার স্বামী কি আপনাকে ধর্ষণ করছেন? – তাহলে বেশিরভাগ নারীই এক হয় চুপ হয়ে যাবে কিংবা পড়ে যাবে চিন্তায়৷ আর কেউ যদি সাহস করে সত্যটা বলেও ফেলে, তাহলে তার ভবিষ্যৎ কী? কে দেবে তাকে পুনর্বাসন, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ? পরিবার? রাষ্ট্র? ধর্ম? কেউ না৷ আর সে জন্যই ধর্ষক স্বামীরা আজও বুক ফুলিয়ে হাঁটে আর মেয়েরা পুতুল খেলতে খেলতে মুখ বন্ধ করে ‘ধর্ষিতা’ হন!

অশালীন ইউটিউবার যাকিলাভ: ইউটিউব পর্ন?

Now Reading
অশালীন ইউটিউবার যাকিলাভ: ইউটিউব পর্ন?

বাংলাদেশের ইউটিউব কালচার এখন অনেকটা পর্নগ্রাফি কালচার হয়ে গেছে। ইউটিউবে বেশী ভিউয়ের আশার কতপিয় লোকজন যা ইচ্ছা তা আপলোড করে একটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরীর ভিউয়ারদের বিপথে পরিচালিত করছে আর অসম্মান করছে দেশের সংস্কৃতিকে।

আমি নিজে ইউটিউবার হলেও খুব কম সময় অন্যদের ভিডিও দেখার সময় পাই। মাঝে মধ্যে যখন ইউটিউবের হোমপেজে ঢুকি তখন কিছু বাংলাদেশের ভিডিও আমার নজরে আসে। এবং আরেকটু ঘেটে দেখার পর যা দেখলাম তা হলো, এক কথায় – বাংলাদেশ থেকে আপলোড হওয়া বেশীরভাগ ভিডিও কুরুচি পূর্ন। তাই ঠিক করেছিলাম সেদিন যে এসবের বিরুদ্ধে কিছু একটা করা দরকার।

বাংলাদেশের ইউটিবকে জঞ্জাল মুক্ত রাখার আশায় আমি কিছু নতুন ভিডিও বানানো শুরু করি। যেখানে এসব কুরুচিপূর্ন ইউটিউবারদের আজেবাজে কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। প্রথম ভিডিওতে আমি মজার টিভি নামের একটি ইউটিইউব চ্যানেলকে টার্গেট করি এবং পরবর্তীতে সেই ভিডিও তুমুল সাড়া তুলার পড়ে মজার টিভির কন্টেন্ট মেকার তার নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং প্রতিজ্ঞা করে সে এখন থেকে ভাল ভিডিও আপলোড করবে।

আমার এবারের ভিডিও যাকিলাভ নামের একটি চ্যানেলকে নিয়ে। এই ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওগুলো দেখলে বমি করে দেয়ার মত অবস্থা হয়। সামান্য ভিইউয়ের আশায় এরা পারেনা এমন কিছুই নেই। এরা আসলে ইউটিউবার না, ইউটিউবার নামের কলংক। কারন বাংলাদেশে অনেক ভাল ইউটিউবার আছে আর এদের কারনে ইউটিউবারদের কদিন পর পর্নস্টার বলা হবে। কথা না বাড়িয়ে দেখে নিন নীচের ভিডিওটি আর দেখুন এদের কার্যকলাপ। এদের থামাতে হবে যেকোন মুল্যে।

একের রক্তে অন্নের জীবন, গড়ে উঠুক আত্তার বন্ধন

Now Reading
একের রক্তে অন্নের জীবন, গড়ে উঠুক আত্তার বন্ধন

আমার এই আর্টিকেল টি রক্ত দান (ব্লাড ডোনেশন) নিয়ে লিখা।

প্রথমে যে বিষয়টি নিয়ে বলতে চাই তা হল রক্ত দান কি?

-রক্ত দান হচ্ছে এমন একটি বিষয় যখন কোনো দূর্ঘটনা জনিত কারণে যদি কারোর রক্ত শূন্যতা সৃস্টি হয় এবং সেই ব্যক্তিকে রক্ত দানের প্রয়োজন হয় অর্থাৎ অন্য কোনো মানুষের রক্ত সেই আক্রান্ত রোগী কে দেয়া হয়। 

আমাদের মধ্যে এমন বহু মানুষ আছেন যারা সেচ্ছায় রক্ত দিয়ে থাকেনতবে রক্ত দানে অনেক সাবধানতা অবলম্বন করা উচিতযেমনঃ

*প্রথমেই আমি যা নিয়ে বলতে যাচ্ছি তা হল রক্তের গ্রুপ রক্তের গ্রুপ কি জিনিস আমরা সবাই জানি তবুও বলছি কারণ এখন আমাদের দেশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা নিজের রক্তের গ্রুপ নিয়ে সচেতন নন অর্থাৎ অনেকেই তাদের নিজের রক্তের গ্রুপ জানেন না তাদের জন্য বলছি কখনো রক্তের গ্রুপ না জেনে রক্ত দান করতে যাবেন না অর্থাৎ রক্ত দিতে যাবেন না

*রক্তের গ্রুপ জানা খুব কঠিন কাজ নয় দেড়(.) থেকে দুই() মিনিটে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা সম্ভব চিকিৎসাবিদগণ এমনটাই বলে থাকেন

*পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র আট() ধরণের রক্ত গ্রুপ বিদ্যমান যেগুলো হচ্ছেঃ A+ve,A-ve,B+ve,B-ve,O+ve,O-ve,AB+ve এবং AB-ve

সাধারণত সব ধরণের রোগীদের রক্ত দেয়া হয় না যেসব রোগীর রক্ত খরন বেশি হয় এবং রক্ত শূন্যতার সৃস্টি হয় তাদেরকেই রক্ত দেয়া হয়

আপনি কেন রক্ত দিবেন?

রক্ত দান বা রক্ত দিলে শরীরের কোনো ক্ষতিসাধন হয় নামানুষের রক্ত কণিকা প্রতি ১২০ দিন অর্থাৎ প্রতি চার মাস পর পর নষ্ট হয়ে যায় এবং নতুন রক্ত কণিকা সৃস্টি হয়এতে করে বুঝা যাচ্ছে রক্ত দানের মাধ্যমে কোনো রকম শারীরিক ক্ষতি হয় নাএছাড়াও মানুষের বিপদে অন্য একজন মানুষই তো পাশে দাঁড়ায়তাই ইমার্জেন্সি রক্ত প্রয়োজনে অবশ্যই আমাদেরকে সেচ্ছায় রক্ত গ্রুপ জেনে রক্ত দানে এগিয়ে আসা উচিত

সাধারণত একজনের রক্তের গ্রূপের সাথে অন্ন্যজনের রক্তের গ্রূপ মিল্লেই রক্ত দেয়া যায়। তবে খুব ইমার্জেন্সি ও রক্ত খুঁজে না পাওয়া গেলে  O+ve রক্ত দেয়া যেতে পারে। কারণ ডাক্তাররা বলে থাকেন O+ve গ্রুপ রক্ত ধারীকে সর্বজনীন রক্ত দাতা বলা হয় ।

Feature Image link

https://img03.rl0.ru/08dc46eaeab30dd0d03fd72a8032dbdc/c1200x630/rlv.zcache.com/red_heart_save_a_life_give_blood_donation_stickers-rebacd4b81989472fbc231bf913d0dc7e_v9waf_8byvr_630.jpg?view_padding=%5B285%2C0%2C285%2C0%5D

ভার্সিটিতে ভর্তির পর

Now Reading
ভার্সিটিতে ভর্তির পর

  • এই আর্টিকেল টি শুধু মাত্র তাদের জন্য যারা সদ্য ভার্সিটি তে ভর্তি হওয়া।

প্রথমেই শুরু করবো ভার্সিটি শব্দটি দিয়ে কি বুঝায় তা দিয়ে। ভার্সিটি মানে হচ্ছে ইউনিভার্সাল। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পদচিন্হ রাখার একমাত্র জায়গা হচ্ছে ভার্সিটি।

ভার্সিটিতে আসার পর যে ভুলটি সকলে করে সেটি হচ্ছে নিজেকে সবার থেকে আলাদা ভাবা এবং সবার মধ্যথেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখা।  কিন্তু ধারণাটি ভুল। ভার্সিটিতে সবাই ভর্তি হওয়ার সুযোগ অর্জন করে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে। আর এই একই কাজটা ভার্সিটিতে পড়ুয়া প্রত্যেক জনকেই করতে হয়। তাই নিজেকে সবার থেকে আলাদা ভাবা বা নিজেকে গুটিয়ে রাখার কিছু নেই। মূলত ভার্সিটি হচ্ছে নিজেকে মেলে ধরার স্থান।

এরপর যে বিষয়টি আসে সেটা হচ্ছে নিজের ডিপার্টমেন্ট নিয়ে সমালোচনা। আমার মতে এই ধরনের সমালোচনায় কান না দেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ একজন শিক্ষার্থী যে ডিপার্টমেন্টেই পড়ুক না কেন নিজেকে সঠিক ভাবে মেলে ধরার এবং ক্যারিয়ারের যোগ্য আসনে নিয়ে যাওয়ার জন্য মনের চাওয়াটাই সবচেয়ে বড়। আবার অনেকে চিন্তা করে এমন ডিপার্টমেন্ট এ পড়াশুনা করে ভবিষ্যতে কি করবো ইত্যাদি ইত্যাদি। তাদের জন্য বলছি, এভাবে না গাবরিয়ে নিজেকে কিছুটা সময়ের জন্য আগে স্থির করা উচিত। (বিঃ দ্রঃ কিছু সময় বলতে কয়েক দিনের কথা বলা হচ্ছে) তারপর চিন্তা করতে হবে নিজের ভবিষ্যৎ অ্যামবিশন কি। এটা যথোপযুক্ত ভাবে ঠিক করতে পারলেই একজন ভার্সিটি স্টুডেন্ট পরবর্তী সব ছোট খাটো কাজ বা সিদ্ধান্ত খুব সহজেই সমাধান করতে পারবে।

এক টাইপের শিক্ষার্থী আছে যাদের অনেকেই চিন্তা করে,’ দ্বিতীয় বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া’।  আমার মতে এ ধরনের চিন্তা করাটাই ভুল। আল্লাহ প্রথমেই আপনার জন্য যেটা ঠিক করেছেন আপনি সেটাই পেয়েছেন। যতটুক পরিশ্রমী ছিলেন ঠিক ততটুকই ফলাফল হিসেবে দেয়া হয়েছে আপনাকে। এটা আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে। দ্বিতীয় বার আবার এতো বড় যুদ্ধক্ষেত্রে না নেমে সামনের দিকে কি করলে,  কিভাবে করলে বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব সেটার দিকে লক্ষ্য করাই উত্তম বলে আমি মনে করি।

আর একটা বিষয় যেটা অনেক উপকার করে থাকে সেটা হল ভার্সিটির সিনিয়রদের সাথে যত স্বল্প সময়ে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা যায় ততই নিজেকে ভার্সিটি অঙ্গনে মেলে ধরতে সহজ হয় এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে এই সুসম্পর্ক অনেক অনেক বেশি কাজে দেয়। এছাড়াও নিজেকে মেলে ধরার অন্যতম আরেকটি পথ হচ্ছে ভার্সিটির সব ধরনের সচল ক্লাবে যোগদান করা।  শুধু যোগদান ই না সময়ের সাথে সাথে নিজের পছন্দের ক্লাবটির সাথে সময় দেয়া। যা ভবিষ্যতের অনেক বড় একটি হাতিয়ার হয়ে গড়ে ওঠে নিজের ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে।

আরেকটি কথা না বললেই নয় – ” সবসময় তাদের সঙ্গ নেয়া উচিত যারা বলবে তাদের নিজেদের ক্যাম্পাসে, ডিপার্টমেন্ট এ ভালো কিছু আছে।  আর তাদের সঙ্গ অবশ্যই ত্যাগ করা উচিত যারা বলবে তাদের নিজেদের ডিপার্টমেন্ট এ কিছুই নেই, এটা কোন ডিপার্টমেন্ট হইলো ইত্যাদি রকমের কথা।”

আসল কথা সবসময় খোঁজতে হবে তাদের যারা বলবে ‘গ্লাসে অর্ধেক পানি আছে’ আর তাদেরকে ছেড়ে চলাই উচিত যারা বলে ‘ গ্লাস অর্ধেক খালি’।

ডিপার্টমেন্টকে নিজের ফ্যামিলি মনে করে যারা তাদের সেরাটা দিয়ে এই ভার্সিটি জীবনের ইতি টানতে পারবে তারাই ভবিষ্যতে ভালো ক্যারিয়ারের চাবি হাতে পাওয়ার যোগ্য।

 

মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বিভক্তি, কিছু নতুন কথা

Now Reading
মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বিভক্তি, কিছু নতুন কথা

প্রথমত পহেলা বৈশাখ নিয়ে আমাদের মাঝে কোন প্রশ্ন থাকার কথা নয়। বাংলা ভাষাভাষীদের নতুন বছর। আর আমার মত গ্রাম বাংলা থেকে উঠে আসা ছেলেদের জন্য দিনটা কিছুটা স্মৃতিকাতর। আমাদের জন্য দিনটি হালখাতার টাকা পরিশোধ আর দোকানে দোকানে গিয়ে মিষ্টি খাবার দিন।
আসলেও তাই, ছোট বেলায় গ্রামে দোকানীর কিছু বাকী পাওনার একটা হিসাব তুলে পহেলা বৈশাখে তা পরিশোধের আহবান জানাতেন, আর তার দোকানে মিষ্টি খাবার আমন্ত্রণ জানাতেন।

দাদার হাতে সেই চিঠিটা কখনো কখনো হয়ত আমিই পৌছে দিতাম।
তারপর দাদা তোড়জোড় চালাতেন, দোকানির পাওনাটা পরিশোধ করার জন্য। বাবার কাছে, কাকার কাছে ফোন করে টাকা নিতেন। নতুন একজোড়া লুঙ্গি আর পুরাতন জুব্বাটা জামাল সাবান দিয়ে ধুয়ে মেজে পয়লা বৈশাখের সকালে দোকানিদের গিয়ে টাকা পরিশোধ করতেন। আর দাদার সাথে থাকার সুবাদে দোকানগুলোতে মিষ্টি একটু বেশীই পেতাম।

দিন পেরুলো, বাবা মা আমাকে নিয়ে টাউনে এলেন। টাউনের সেরা স্কুলটায় ভর্তি হলাম।জীবন চলতে লাগলো…সাদা কালো সেই জীবন। সেখানে আজকের মত ইন্টারনেট নেই, বিটিভির সাদা কালো স্ক্রিনে সাবানা জসীমের সিনেমা দেখে কেঁদে কেঁদে দিন পার হত, কিংবা স্কুল পালিয়ে ক্রিকেট খেলায় মত্ত থাকতাম সারাটাদিন।

তবে বছরের যেকটা দিন আমাদের জন্য রঙিন ছিল তার মধ্যে পয়লা বৈশাখ ছিল অন্যতম। তখন ইলিশে নিষেধাজ্ঞা ছিলনা। বাবা ইলিশ আনতেন, রান্না করে মা সকাল সকাল পান্তার সাথে ইলিশের মাথাটা পাতে দিতেন..

এই ইলিশের মাতাল করা সুঘ্রাণে আমার অতটা নজর ছিলনা, যতটা নজর ছিল বৈশাখী মেলায় আমাদের স্কুল আয়োজিত প্রোগ্রামকে ঘিরে।
বাঙালী জামাই বধুর প্রতীকী উপস্থাপনা,কৃষক, শ্রমিক, মজুর, গায়েন, সারেন, মাঝি, মল্লা, ঠেলা ওয়ালা ভ্যান ওয়ালা, নোলক পড়া কুমারী, যে পুকুর ঘাটে কলসি নিয়ে মাথায় ঘোমটা টেনে পানি আনতে যাবে, এরকম আরো কত ঐতিহ্যের ছবি তুলে ধরা হত আমাদের স্কুল থেকে।বিভিন্ন টিম করে ক্লাসের ছেলেদের নিয়ে যাওয়া হত র‍্যালিতে।কাউকে কৃষক সাজিয়ে, সুন্দরী মেয়েটাকে বধু সাজিয়ে, কিংবা আমাকে নৌকার মাঝি বানিয়ে আমাদের স্কুল থেকে বৈশাখী মেলার প্রাঙ্গন পর্যন্ত একটা র‍্যালি হত।

আমরা সেখানে অংশগ্রহণ করেছি..
উৎসবে আমেজে সময়গুলো।কেটেছে।বৈশাখ নিয়ে বৈশাখ উদযাপন নিয়ে কখনো অতি মাথা ব্যাথা ছিলনা আমাদের।

আমার পিছনের জীবনের গল্পটা বলার উদ্দেশ্য হলো, বৈশাখ নিয়ে একজন সাধারণ সচেতন ছাত্র হিসেবে আমার অবস্থান কেমন ছিল।
প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল কিংবা টাউন শহর গুলোতে বৈশাখের চিত্রটা কেমন ছিল সেটা দেখানো।

জীবনের ব্যাস্ততা বেড়েছে, রঙিন সভ্যতার মাঝে উৎসবের জীবনগুলো সাদাকালো।কখন ঈদ আসে কখন বৈশাখ আসে, কিংবা গ্রীষ্মের ছুটি কখন পেরিয়ে যায় খেয়াল করার সুযোগ ই থাকেনা।

কিন্তু বাংলার চিরন্তন ইতিহাস ঐতিহ্য, দেশের সংস্কৃতি নিয়ে যখন তর্ক বিতর্ক হয় তখন কিছু বলতে ইচ্ছে করে সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়িয়ে। আজ Footprint Admin এর চার সপ্তাহ আগে “মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে কেন বিভক্তি “নামক লেখার শিরোনামটা চোখে পড়লো, পুরোটা পড়ে ফেললাম।

ভাবলাম কিছু চিন্তাচিহ্ন রেখে যাই।

আর সেখান থেকেই মঙ্গল শোভাযাত্র আর বৈশাখ নিয়ে কিছু লেখা।

প্রথমত,
কেউ যদি বলেন মঙ্গল শোভাযাত্রা হাজার বছরের বাঙালী সংস্কৃতির অংশ, তাহলে আমি বলবো আপনি ভুল জেনেছেন। মঙ্গল শোভাযাত্রা ৮০ এর দশকের শেষের দিকে হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ এর স্বৈরশাসন এর প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইইন্সটিটিউট এর কিছু হিন্দু ছাত্রদের প্রার্থনা। যাতে তৎকালীন সচেতন ছাত্ররাও সমর্থন জানায়।

কেননা এটা বাংলাদেশী সচেতন এবং সম্প্রীতি প্রেমী মানুষের চিরন্তন স্বভাব।
যেমন অনেকদিন বৃষ্টি না হলে বাংলাদেশে কিছু সম্প্রদয়ের মানুষ ব্যাঙের বিয়ে দিয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে বৃষ্টির জন্য..

অনেকে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করে, হুজুর ডেকে দোয়া করান আল্লাহর কাছে..

আমরা তখন ধর্ম টেনে আনিনা..
বৃষ্টি চাই আমাদের, তাই সকলেই উৎসাহ নিয়ে এসব আচার গুলোকে দেখি…
মৌন সমর্থন জানাই।

মঙ্গল শোভাযাত্রার ব্যাপারেও কিছুটা এমন হয়েছিল। এখানে সেই হিন্দু ছাত্রগুলো কি আচার পালন করছে সেটা প্রাধান্য পায়নি হয়ত।

প্রাধান্য পেয়েছে এরশাদ সাহেবের বিরুদ্ধে একটা মৌন আন্দোলন।

তাই এটাকে তখন ঢাবির সচেতন ছাত্র মহল সমর্থন করেছিল।

পরবর্তীতে ৯০ এর দশকে মঙ্গল শোভাযাত্রার এই থিমটাকে মাথায় নিয়ে চারুকলার কিছু ঢাবিয়ান,
বৈশাখে আনন্দ শোভাযাত্রা চালু করে। আজকালকার মত হাতি ঘোড়ার প্রতীকী মূর্তির ছড়াছড়ি আর হাজারো লোকের সমাগম তখন ছিলনা।

ঢাবির ক্যাম্পাসের আশেপাশে চলতো এই মঙ্গল শোভাযাত্রা।

সুতরাং মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বাঙালী ঐতিহ্যের সাথে মিলিয়ে ফেলা এক প্রকার ভুল। আর আমার মতে মঙ্গল শোভাযাত্রা আমাদের এই একুশ শতকের প্রথম দিকেও বর্ষবরণে ততটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলনা। যেটা সকলে অকোপটেই স্বীকার করবেন।

দ্বিতীয়ত,
আমি আলোচনা করতে চাই মঙ্গল শোভাযাত্রার বিস্তৃতি নিয়ে। বাংলাদেশে মিডিয়া গুলো যখন মঙ্গল শোভাযাত্রাকে হাইলাইট করা শুরু করলো তখন এটা আলাদা মাত্রায় একটা জনপ্রিয়তা পেল, ঢাকার কিছু মানুষের কাছে। আর এই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে কেউ হয়ত আলপনা একেছে..
কেউ বানিয়েছে মূর্তি , কেউ মানিয়েছে দুর্গার বাহন পেচা, কেউ বানিয়েছে অশুর রাক্ষস আর হাতি,
কেউ বানিয়েছে উলঙ্গ বক্ষের নারীর প্রতিমা।এরপর কবে থেকে যেন আনন্দ শোভাযাত্রা চলে গেল..

এরশাদ বিরোধী মঙ্গল প্রার্থনার সেই মঙ্গল এসে লাগলো আনন্দ শোভাযাত্রায়

আপত্তি তৈরি হতে থাকলো বিভিন্ন মহলে। তবু চলতে থাকলো।

তৃতীয়ত,
আমি বলবো, মঙ্গল শোভাযাত্রা ও পহেলা বৈশাখের মানুষের চিন্তাধারা ও প্রভাব নিয়ে।

আপাত দৃষ্টিতে বাঙালী সংস্কৃতি আর বৈশাখ বলতে আমরা যা বুঝি তার অনেকটাই অনুপস্থিত দেখা যায় মঙ্গল শোভাযাত্রায়। তবুও মিডিয়া কাভারেজে পয়লা বৈশাখ এলেই ঘন্টাখানেক ধরে এই মঙ্গল শোভাযাত্রার লাইভ কাভারেজ চলে।
মানুষ মঙ্গল শোভাযাত্রাকেও বৈশাখের একটা উপাদান ভাবতে শুরু করে। যদিও এটাকে একটা উৎসব হিসেবেই নেয়া হয়েছে তখন।
কিন্তু বাঙালী সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের অঙ্গ এটা ছিলনা কখনোই।

ইংরেজি বর্ষবরণের যেই রঙিন আয়োজন, সেই রঙিন আয়োজন, আর একটা ফেস্টিভ ফেস্টিভ মুড আনার জন্যই এই মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রভুত মঙ্গল একটা ধারণা।

ক্রমাগত পহেলা বৈশাখ আর মঙ্গল শোভাযাত্রা কেন জানো নিবিড়ভাবেই সম্পর্কযুক্ত হলো।

তাই ঢাকার আশেপাশের মানুষের কাছে মঙ্গল শোভাযাত্রা একটা অনুসঙ্গ হিসেবে পরিণত হলো।

কিন্তু সেই প্রত্যন্ত অঞ্জলে কিন্ত হালখাতা, মিষ্টি, পান্তা,মরিচ, ইলিশ সব অপরিবর্ততই ছিল।

তবু নতুন উৎসবের অনুসঙ্গ। খারাপ কি, একটা দিনে মঙ্গল শোভাযাত্রার এই উৎসব আমেজটা?

চতুর্থত,
আমি লিখবো মঙ্গল শোভাযাত্রা, আপত্তি ও বিতর্ক নিয়ে।

এক ক্লাসমেট (মেয়ে) পয়লা বৈশাখে আমাকে ফোন দিল..
বললাম কিরে মঙ্গল শোভাযাত্রায় যাবিনা?
ও রিপ্লে দিলো.. না.. তবে ওখানে যাওয়াটা অনেক সাহসের ব্যাপার।
বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম কেনরে?

বললো, ক্লাস টেনে একবার ভাইয়ের সাথে গিয়েছিলাম দেখতে। অনেক বীভৎস আর বিশ্রী আচরণ দেখলাম।
আমি অনেক ভয় পেয়ে চলে এসেছি ভাইকে নিয়ে, আর যাওয়া হয়নি।

মেয়েটা বীভৎস আর বিশ্রী বলতে কি বুঝালো তা হয়ত বুঝেই গেছেন।
মঙ্গল শোভাযাত্রায় নিজের বয়ফ্রেন্ড নিয়ে ঘুরতে থাকা কিছু নারীর শ্লীলতাহানি হয়েছে হাজারো মানুষের সামনে।বার বার টিভি ফুটেযে এমন নোংরামি আর বর্বরতা কেউ ই সহ্য করতে পারেনি..
.
এগুলোতো ক্যামেরার সামনে..
মঙ্গল শোভাযাত্রার মুখোশের আড়ালে কত নারীর কত তিক্ত অভিজ্ঞতার ফিরিস্তি তা নাহয় নাই বললাম।

এসব ঘটনায় জাতি হতবাক। উৎসবের নামে বড় বড় প্রতীকি মূর্তির আড়ালে কিছু নারী যেন আজো অবলা। চোখে কান্না আসার আগেই যেন মাথাটা ঘুরে পড়ে যাবার উপক্রম।

চলেছে অনেক তর্ক বিতর্ক। বিচার হয়েছি কি হয় নি জাতি না জানলেও,
জাতিকে কিছু মিডিয়া বুঝাতে চেয়েছে, সব অপকর্মের মত এটাও জামাত শিবিরই ঘটিয়েছে”

জাতিও বুঝতে পেরেছে ঘোলা পানির জল আমাদের ও গেলানো হচ্ছে।

মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ঘিরে এসব নারকীয় ঘটনা ঘটার পর, এর আয়োজকরা বুঝেছিলেন
আগামী শোভাযাত্রায় কিছুটা হলেও ভাটা আসতে পারে। তাই এটাকে জাতীয়করণ করার একটা প্রসেস হাতে নেয়া হলো..

হঠাৎ ঘোষণা আসলো,
বাধ্যতামূলক মঙ্গল শোভাযাত্রা পালন করতে হবে স্কুল গুলোতে।

দুটি দল সৃষ্টি হলো..
একদল চায়

আরেক দল চায়না।

তবে আমার দৃষ্টি অন্যদিকে। মঙ্গল শোভাযাত্রায় হিন্দুয়ানী প্রভাব ঢের বেশী এটা যেমন মানতে হয়, তেমনি মানতে হয় বাঙালী সংস্কৃতি উপস্থাপনের কৃপনতা। এছাড়াও ব্যাপারটি বেশ বিতর্কিত হয়েছে নানা কারণে। জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে কিছু মঙ্গল অমঙ্গলের মুখোশ।

এখানে প্রশ্ন আসতে পারে, মঙ্গল শোভাযাত্রা হবে? কি হবেনা এটা নিয়ে?

কিন্ত সেখানে এরকম একটি শোভাযাত্রাকে বাধ্যতামূলক করার কি কারণ থাকতে পারে?

সকালে পান্তা ইলিশ খেতে কেউ আমাদের বাধ্য করেনি, হালখাতা করতে কেউ আমাদের বাধ্য করেনি, পাঞ্জাবি পড়ে বাঙালীয়ানা দেখাতে কেউ আমাদের বাধ্য করেনি,
বৈশাখী মেলায় মুড়ি , মুড়কি, মন্ডা, মিঠাই খেতে কেউ আমায় বাধ্য করেনি..
দলবেঁধে সার্কাস দেখতে কেউ আমায় বাধ্য করেনি..

কিন্তু মঙ্গল শোভাযাত্রা যদি এদেশের বাঙালীদের সংস্কৃতির অনুসঙ্গই হয়,
তবে সেটাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে কেন?

হ্যাঁ,প্রশ্নটা এখানেই। আর উত্তরটাও এখানেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।
সহজ কথায় চারুকলা ইন্সটিটিউট এর কিছু ছাত্রের মঙ্গল কামনাকে জাতির মাঝে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।

আর সংস্কৃতি চাপিয়ে দেবার জিনিস নয়। গেলানো ভাত হযম হয় না।
তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা। গত বছর গুলোর তুলনায় এবার অর্ধেক মানুষ ও মঙ্গল শোভাযাত্রায় আসেনি। একাত্তরের রিপোর্টার স্বয়ং দুঃখ প্রকাশ করেছেন এটা নিয়ে। পুলিশের কড়া বেষ্টনীর মাঝে, নির্দিষ্ট এলাকায় বন্দী হয়ে উৎসব হয়না এটা সবাই বুঝে গেছে।

আমি ধর্ম টানলাম না।

শেষদিকে আমার এতটুকু মত প্রকাশের ইচ্ছা,
আর তা হল, এদেশের নাগরিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে।
মঙ্গল শোভাযাত্রা বৈশাখের অপরিহার্য কোন অনুসঙ্গ না এটাও সবাই জানে।এরপরেও
কেউ যদি চায় মঙ্গল শোভাযাত্রা করবে.. সে করুক

কেউ যদি চায় যাবেনা, সে না যাক তার স্বাধীনতা রয়েছে।

কেউ যদি চায় মঙ্গল শোভাযাত্রার পক্ষ নিতে নিক,
কেউ যদি চায় মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরুদ্ধে বলতে বলুক..

তবে আমি চাই..

যা কিছুই হোক,
*মঙ্গল শোভাযাত্রার নামে আমার বোনের যেন শ্লীলতা হানি না হয়।
*আমার বোনের শ্লীলতাহানির যেন বিচার হয়
*সংস্কৃতি ও তার অনুসঙ্গ গ্রহণ বর্জনের সুযোগ থাকুক এদেশের ১৬ কোটি জনতার উপর।চাপিয়ে দেয়া না হোক কোন আচার,অনুষ্ঠান বা অনুসঙ্গ
*পয়লা বৈশাখ চলুক, উদযাপন হোক।কারো উদযাপন রঙিন হোক,
কারোরটা হোক আরো রঙিন।
তবে অশুভ কালো ছায়া, বা মঙ্গল যাত্রা কোনটাই যেন বাঁধা না হয়ে দাঁড়ায়..এই কামনায় সমাপ্তি টানলাম।

বিকাশ ফাঁদ

Now Reading
বিকাশ ফাঁদ

আজ সন্ধ্যায় আমার ফোনে কল আসলো অপরিচিত নাম্বার থেকে। তারপর বলে, ” দাদা, আপনার একাউন্টে দুপুরে টাকা পাঠানো হইছিলো, কিন্তু এখন ভুলে আবার চলে আসছে অন্যজনের টাকা। আপনি প্লিজ টাকাটা সেন্ড করে দিন ”

আমি : ভাই, আমার ফোনে বিকাশ থেকে কোন মেসেজ আসে নাই, কিভাবে বুঝবো?

ঐ ব্যাক্তি : কোম্পানির সাথে কথা হইছে, তারা বলছে আপনার নাম্বারে গেছে, আচ্ছা আপনার একাউন্টে ব্যালেন্স কত?

আমি : **** টাকা ( প্রথম ভুলটা করলাম)

ব্যাক্তি : তাহলে ভাই চেক করেন, এখুনি মেসেজ আসবে। ফোন কেটে গেল।

আমি ভাবলাম দোকানদার ভুলে পাঠিয়ে দিসে, টাকাটা ফেরত দেওয়াটাই ভালো হবে। তারপর ঠিকই মেসেজ আসলো ( মেসেজের স্ক্রিনশট দেওয়া হল) এমনভাবে মেসেজ আসলো যে বুঝার কোন উপায় ই নেই এটা নকল! কিন্তু আমার সন্দেহ হলো, কারণ বিকাশে টাকা আদান প্রদান করলে বিকাশ নামে অটোমেটিক সেভ হওয়া একটি নাম্বার থেকে সব মেসেজ আসে। লোকটি অতপর বারবার আমাকে ফোন দিয়ে টাকা পাঠাতে অনুরোধ করতে থাকলো কি এক আজব কারণে আমি তখন আমার ব্যালেন্স ও চেক করতে পারছিলাম না। তারপর তাড়াতাড়ি এলাকার পরিচিত বিকাশের দোকানে গেলাম এবং সব শেয়ার করলাম। তিনি স্পষ্টই বুঝতে পারলেন এটি একটি ফাঁদ এবং আমাকে বুঝালেন। তখনও ঐ প্রতারকের ফোন থেকে বারবার কল আসছিলো, তখন আমি দোকানদারকে দিয়ে রিসিভ করাই এবং দু-একটা কথা বলেই প্রতারক বুঝতে পারে যে সব ফাস হয়ে গেছে, সাথে সাথে কল কেটে দেয়।

তাই, সবাই এসব ফাদ থেকে সাবধান থাকবেন, কাওকে টাকা পাঠানোর আগে নিজের ব্যালেন্স চেক করে নিবেন। কেউ যদি তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নিতে পারেন, তাই প্রতারকের নাম্বার এবং স্কিনশট দিচ্ছি…. .

যে নাম্বার থেকে কল আসে : 01833560017 মেসেজ আসে : 01855557575

Page Sidebar