ধৈর্য একটি মহৎ গুন

Now Reading
ধৈর্য একটি মহৎ গুন

শুরুতেই কুরআনের একটি আয়াত দিয়ে শুরু করবো,
আমি অবশ্যই তোমাদেরকে কিছু না কিছু দিয়ে পরীক্ষায় ফেলবোই: মাঝে মধ্যে তোমাদেরকে বিপদের আতঙ্ক, ক্ষুধার কষ্ট দিয়ে, সম্পদ, জীবন, পণ্য-ফল-ফসল হারানোর মধ্য দিয়ে। আর যারা কষ্টের মধ্যেও ধৈর্য-নিষ্ঠার সাথে চেষ্টা করে, তাদেরকে সুখবর দাও। [আল-বাক্বারাহ ১৫৫]

আসলে ধৈর্য কি? ধৈর্য আমাদের জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা সাধারণ ভাবে বুঝি ধৈর্য অর্থ অপেক্ষা করা, বা নিজেকে নিয়ন্ত্রন করা ইত্যাদি। অনেকের কাছে ধৈর্যের অর্থ অনেক রকম হতে পারে। যেমন-

ধৈর্যের একটি অর্থ কোন কিছুতে তাড়াহুড়া না করা, ভালো কিছুর জন্য তাড়াহুড়া না করা, ভালো কোন ফল পেতে বিলম্ব হলে হতাস হয়ে না পরা।

ধৈর্যের আরেকটি অর্থ হচ্ছে কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্য পুরনের জন্য সকল বাধা বিপত্তি সাধরে গ্রহণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।
দুঃখ-বেদনা, ভরাক্রান্ত ও ক্রোধান্বিত না হওয়া এবং সহিষ্ণু হওয়াও ধৈর্যের একটি অর্থ।
ধৈর্যের এক অর্থ হচ্ছে, সকল প্রকার ভয়ভীতি ও লোভ-লালসার মোকাবেলায় সঠিক পথে অবিচল থাকা, শয়তানের উৎসাহ প্রদান ও নফসের খায়েশের বিপক্ষে নিজের কর্তব্য সম্পাদন করা।

ধৈর্য ধরে কাজ করলে আপনি অবশ্যই আপনি সাফল্য পাবেন। কারন কথায় আছে সবুরে মেওয়া ফলে। কিন্তু আমরা অনেকই অল্পতেই ধৈর্য হারিয়ে হতাশ হয়ে পরি। ধৈর্য না থাকলে দীর্ঘ মেয়াদি কোন কাজ করা সম্ভব নয়। ভালো কিছু করতে হলে আপনাকে অবশ্যই ধৈর্যশীল হতে হবে। ধৈর্য সব মানুষের মধ্যেই থাকে কারো কম আর কারো বেশি। ধৈর্য শক্তি কম থাকলে মানুষ খুব দ্রুতই রেগে যায়। কথায় আছে রেগে গেলেনত হেরে গেলেন।

এক ব্যক্তি নতুন একটি গাড়ি কিনেছেন। তিনি তার গাড়িটি পানি দিয়ে পরিষ্কার করছিলেন, আর তার ৬ বছরের ছেলেটা ধাতব কিছু দিয়ে গাড়িটিতে কিছু লিখছিলেন। লোকটি যখন তার ছেলেকে গাড়িটিতে কিছু লিখতে দেখলেন, তখন তার মেজাজ খুবই খারপ হয়ে গেল, কারন গাড়িটি ছিল একদমই নতুন। তখন লোকটি রাগ করে তার হাতে থাকা একটি বস্তু দিয়ে তার ছেলের হাতে একটি আঘাত করলেন। রাগের মাথায় লোকটি খেয়াল করেন নি যে, তিনি তার হাতে থাকা যে বস্তুটি দিয়ে ছেলের হাতে আঘাত করেছেন সেটি ছিল একটি লোহার পাইপ। যাইহোক ছেলেটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। লোকটি তার ছেলের বেডের পাশে বসে কাঁদছিল। কারন ঐ পাইপটির আঘাতে ছেলেটির হাতের চারটি আঙ্গুল ভেঙ্গে যায়। তারপর ছেলেটি তার বাবার দিকে তাকিয়ে বলে, বাবা আমি আর গাড়িতে কখন লিখবনা, আমার আঙ্গুল গুলো কি আবার ফিরে পাবো বাবা। বাসায় ফিরে লোকটি পুরো গাড়িটা ভেঙ্গে ফেলে। তারপর ক্লান্ত হয়ে বসে পরে সে, এবং গাড়িতে তার ছেলের লেখাটি দেখতে পায়। যেখানে লিখা ছিল I love you dad. পরদিন সেই বাবা ভীষণ কষ্টে আত্মহত্যা করে। তার নিথর দেহর পাশে একটা চিরকুট ছিল, যাতে লিখা ছিল- ANGER AND LOVE HAVE NO LIMITS. THE CHOICE IS YOURS!

রাগের প্রধান কারণই হল ধৈর্য হারা থাকা। তাই আজ কিভাবে ধৈর্য বাড়ানো যায় তার কিছু উপায় সম্পর্কে আমরা জানবো-

মেডিটেশন (ধ্যান) করুনঃ মেডিটেশন বা ধ্যান ধৈর্য বাড়ানোর কার্যকরী একটি উপায়। ধ্যান মানুষের মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে। তাদের ভঙ্গিকে ধীর স্থির করে, আর এটা হচ্ছে ধৈর্য শক্তি বৃদ্ধির প্রধান লক্ষণ। মেডিটেশন বা ধ্যান করলে আত্ম নিয়ন্ত্রন বৃদ্ধি পায়। ফলে মানুষ চট করে রেগে উঠে না। এছাড়া ভালো মন্দ বিচারের ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় ধ্যান করুন দেখবেন আপানর ধৈর্য শক্তি অনেকটাই বেড়ে গেছে।

তুলনা করবেন নাঃ অন্যের সাথে কখনই নিজের তুলনা করবেন না। অন্যরা কি করল তাতে নজর না দিয়ে নিজের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। আপনার প্রত্যেকটি কাজের জন্য একটি লক্ষ্য হবে আর সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আপনাকে কাজ করতে হবে।

মেনে নিতে শিখুনঃ আপনি যেটা আশা করবেন তাই সবসময় হবে তা কিন্তু নয়, তাই যে কোন কিছু মেনে নিতে শিখুন। মানুষ সবচেয়ে বেশি ধৈর্য হারিয়ে ফেলে যখন তিনি হতাশ হয়ে পরেন। আর এই হতাশা আসে যখন আপনি যেটা আশা করেছেন সেটা না পান। তখন আপনি হতাশ হয়ে পরেন। আর তারপর ধৈর্য হারান। আমাদেরকে বুঝতে হবে জীবনের সব আশা পূরণ হবে না।

ডাইরি লিখা এবং বই পড়ার অভ্যাসঃ ডাইরি লিখা ধৈর্য শক্তি বাড়ায়। কারন ডাইরি লিখতে ধৈর্য শক্তি লাগে। একই ভাবে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এই অভ্যাস দুইটি আপনি গড়ে তুললে আপানর ধৈর্য শক্তি অনেক বেড়ে যাবে।

ফুকুশিমা পরমাণু দুর্যোগ!

Now Reading
ফুকুশিমা পরমাণু দুর্যোগ!

ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক দুর্যোগ। ২৬ এপ্রিল ১৯৮৬ চেরনোবিল দুর্যোগ এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক ইভেন্ট স্কেলে লেভেল ৭ ইভেন্ট শ্রেণীবদ্ধকরণের পর ফুকুশিমা একমাত্র দুর্যোগ যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শকাতর পারমাণবিক ঘটনা ছিল।

১১মার্চ ২০১১ তারিখে তোহোকু ভূমিকম্পের পর সুনামিটি শুরু হয়েছিল। ভূমিকম্পের পরপরই সক্রিয় চুল্লি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের স্থায়ী বিভাজন প্রতিক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। যাইহোক, পরবর্তী সুনামি জরুরী জেনারেটরদের প্লাবিত করে যা পাম্পগুলিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে যা হ্রাস তাপ উত্তোলনের জন্য চুল্লীগুলিকে ঠান্ডা করে।

কুল্যান্ট ক্ষতির কারণে তিনটি পরমাণু মৃত্তিকা, হাইড্রোজেন-এয়ার বিস্ফোরণ, এবং ইউনিট ১,২ এবং ৩ এর মধ্যে তেজস্ক্রিয় পদার্থের মুক্তি ১২ এবং ১৫ মার্চের মধ্যে ঘটে। কুল্যান্ট ক্ষতিটি সম্প্রতি গ্যাসের রিঅ্যাক্টর-৪ সম্প্রসারিত জ্বালানি পুলের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যা ১৫মার্চ তারিখে তাপমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে, নতুনভাবে যোগ করা জ্বালানী রডগুলির ক্ষয়ক্ষতির কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু এক্সপোজারে উষ্ণ হয়নি।

৫ জুলাই, ২০১২ তারিখে জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক দুর্ঘটনাজনিত তদন্ত কমিশন (এনএআইআইআইসি) এর জাতীয় খাদ্য পাওয়া গেছে যে দুর্ঘটনার কারণগুলি আগে থেকেই অবহিত করা হয়েছে এবং উদ্ভিদ অপারেটর টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টিইপিসি) মৌলিক নিরাপত্তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ঝুঁকি মূল্যায়ন হিসাবে প্রয়োজনীয়তা, সমান্তরাল ক্ষতি ধারণকারী প্রস্তুতি, এবং evacuation পরিকল্পনা উন্নয়নশীল। ১২ অক্টোবর ২০১২ তারিখে টিইপিসিও প্রথমবার স্বীকার করেছিল যে এটি পারমাণবিক উদ্ভিদের বিরুদ্ধে মামলা বা বিক্ষোভের ভয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

ভূমিকম্প থেকে দুই [TEPCO] কর্মী আহত হয়ে মারা গেছেন। পারমাণবিক বিকিরণের প্রভাব সম্পর্কিত জাতিসংঘের বৈজ্ঞানিক কমিটির একটি প্রতিবেদন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দুর্ঘটনার পরে জন্মগ্রহণকারী শিশুগুলিতে গর্ভপাত, মৃতপ্রায় বা শারীরিক ও মানসিক ব্যাধিগুলির কোনও বৃদ্ধি ঘটেনি। ১৭১,০০০ এরও বেশি বহিরাগতরা এখনও পর্যন্ত বাড়ি ফিরে আসতে পারেনি।

উদ্ভিদ ব্যবস্থাপনা অনুমান উভয়ই এলাকাগুলিকে দূষিত করতে প্রভাবিত করতে পারে । উদ্ভিদ নির্মূলকরণের চলমান তাত্ক্ষণিক পরিচ্ছন্নতা প্রোগ্রামটি ৩০ থেকে ৪০ বছর সময় লাগবে। এটি স্থূল মাটি বাধা, seeping ভূগর্ভস্থ পানি দূষণ প্রতিরোধ করার জন্য একটি প্রচেষ্টা, তা দ্বারা সংগৃহীত জল চিকিত্সা করা হয় এবং ট্রাইটিয়াম ব্যতীত সমস্ত তেজস্ক্রিয় উপাদান মুছে ফেলা হয়।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারীতে, TEPCO রিমোটর-র নিয়ন্ত্রিত ক্যামেরা দ্বারা রিঅ্যাক্টর ২ এর ভিতরে নেওয়া ছবিগুলি প্রকাশ করে যা চুল্লির প্রাথমিক সংবহন জাহাজের চাপের পাত্রের নীচে ২ মিটার (৬.৫ ফুট) প্রশস্ত গর্ত।দেখায়। যা চাপের পাত্র থেকে রক্ষা পাওয়ার কারণে জ্বালানী দ্বারা সৃষ্ট হতে পারে, যা মৃত্তিকা / ম্যাগ-থ্রুর দ্বারা সংক্রমণের এই স্তরটির মাধ্যমে ঘটেছিল। ২১০ ইউনিট প্রতি ঘণ্টায় বিকিরণ মাত্রা পরবর্তীতে ইউনিট ২ কন্টেনারমেন্ট পাত্রের ভিতরে সনাক্ত করা হয়। অপ্রচলিত ব্যয়বহুল জ্বালানীটি সাধারণত ২৭০ এসভি / এইচ এর মান, বিজ্ঞাণী দের ধারণা কোনো শিল্ডীং ছারাই ১০ বছর পর ঠান্ডা বন্ধ হয়ে যাবে ।

ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মূলত জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই) দ্বারা নির্মিত এবং টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টিইপিসি) দ্বারা রক্ষণাবেক্ষণ করা ছয়টি পৃথক উষ্ণ জল চুল্লী গঠিত। ১১ মার্চ ২০১১ তে তোহোকু ভূমিকম্পের সময়, পুনঃ-জ্বালানী প্রস্তুতির জন্য রেক্ট্যাক্টর ৪,৫ এবং ৬ বন্ধ হয়ে যায়। তবে, তাদের ব্যয় করা জ্বালানী পুল এখনও শীতল প্রয়োজন ।

ভূমিকম্পের পরে অবিলম্বে বিদ্যুৎ উৎপাদক প্রতিক্রিয়া ১,২ এবং ৩ স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি স্থিরভাবে সুরক্ষিত পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণ রডগুলি সন্নিবেশ করে তাদের স্থায়ী বিভাজন প্রতিক্রিয়াগুলি বন্ধ করে দেয়, যা SCRAM হিসাবে উল্লেখ করা হয়, যা চুল্লির স্বাভাবিক চলমান অবস্থার অবসান ঘটায়। যেহেতু চুল্লি তাদের নিজস্ব কুল্যান্ট পাম্প চালানোর জন্য শক্তি উৎপন্ন করতে অক্ষম ছিল, তাই ডিজেল জেনারেটর অনলাইনে ইলেক্ট্রনিক্স এবং কুল্যান্ট সিস্টেমে বিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য ডিজাইন করেছিল। সুনামির প্রতিক্রিয়া ১-৫ এর জন্য জেনারেটর ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত এইগুলি সাধারণত পরিচালিত হয়। রিঅ্যাক্টর৬ ঠান্ডা করার দুটি জেনারেটর অপ্রয়োজনীয় ছিল এবং পার্শ্ববর্তী রিঅ্যাক্টর ৫কে তাদের নিজস্ব চুল্লির সাথে ঠাণ্ডা করার জন্য পরিষেবাতে চাপ দেওয়া যথেষ্ট ছিল, অত্যধিক চুল্লি সহ্য করার ফলে অন্যান্য চুল্লী ভোগান্তি ভোগ করে।

কিন্তু জুলাই ২০১৬ তে TEPCO জানায় যে বরফ প্রাচীরটি প্রবাহিত এবং অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় পানির সাথে মেশানো থেকে ভূগর্ভস্থ পানি রোধে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করে একটি স্থূল মাটি বাধা তৈরি করা হয়েছিল। ধ্বংসস্তূপের চুল্লি ভবনগুলির ভেতরে, তারা “হিমায়িত প্রাচীরের সাথে ভূগর্ভস্থ পানি বন্ধ করার ক্ষেত্রে টেকনিক্যালি অসমর্থ”।

২০১৮ সালে ফুকুশিমা দুর্যোগ এলাকায় ভ্রমণের জন্য যাত্রা শুরু হয়।

ইংরেজি ভাষা

Now Reading
ইংরেজি ভাষা

আমরা সাধারণত বাংলায় কথা বলি। কারন বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। আমাদের জন্মের পর থেকেই এই ভাষা শুনে আমরা অভ্যস্ত তাই এই ভাষাটা আমরা বড় হওয়ার সাথে সাথে শিখে ফেলি, এবং এই ভাষাতেই কথা বলি। এবং আমাদের বাংলাদেশর মানুষ বাংলা ভাষাতেই কথা বলতে সাচ্ছন্দ বোধ করি।

তাই আমরা হয়তো অনেকেই ভাবি আমাদের চাকুরির ইন্টার্ভিউ গুলো যদি বাংলাতে হত ভালো হত। কারন আমাদের এখন চাকুরী বাজারে ভালো কোন চাকুরির ইন্টার্ভিউ নেওয়া হয় ইংরেজির মাধ্যমে। কারন ইংরেজি হচ্ছে আন্তর্জাতিক ভাষা। আর সারা বিশ্বে সকল কাজকর্মে ইংরেজি ভাষাটাই ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু আমরা সাধারণত ইংরেজি ভাষাটায় সাচ্ছন্দ বোধ করি না। আর অনেক সময় দেখা যায় আমাদের অনেক ভালো ভালো চাকুরী আমাদের হাত থেকে চলে যায় কারন আমরা ইংরেজিতে দক্ষ নই।

অন্য কারো থেকে ইংরেজি ভাষাটা শোনার পর আমরা বুঝতে পারলেও, আমাদের মূল সমস্যা হয় বলতে গিয়ে। অন্য কারো সামনে যখন আমরা ইংরেজি বলতে যাই তখন আমরা আটকে যাই। আর আমরা যখন অন্য কারো সাথে ইংরেজি বলতে যাই তখন আমরা খুব সচেতন হয়ে পরি, কিছুক্ষণের জন্য একটু ঘাবড়ে যাই। তাই এখানে আমাদের আসল সমস্যা হল, আমাদের আত্মবিশ্বাসের অভাব।

আর ইংরেজির এই সকল সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের দেশে এবং অনলাইনে অনেক কোচিং সেন্টার, শিক্ষক আছেন যারা আমাদের এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করে থাকেন। আর এই সকল শিক্ষক আমাদের সাধারণত প্রথমে গ্রামার শিক্ষা দেন যেমন কোনটা noun, কোনটা varb, তারপর tense ইত্যাদি। যেটা আমরা সবাই শিখেও ঠিক মত ইংরেজি বলতে পারি না। আসলে এই সমস্যার সমাধান পেতে হলে আমাদের আগে জানতে হবে এই সমস্যার মূল কারন কি। আমরা কেন ইংরেজি ভাষাটা শিখতে পারছি না।

আচ্ছা আপনি একটু চিন্তা করে দেখেন, আপনি যখন আপনার মাতৃভাষায় কথা বলেন তখন আপনি চিন্তাও করেন মাতৃভাষায়। কিন্তু আপনি যখন ইংরেজি ভাষায় কথা বলেন তখন যে কথাটা ইংরেজি ভাষায় বলেন সেটা আগে বাংলা ভাষায় চিন্তা করে তারপর সেটাকে আবার ইংরেজিতে চিন্তা করে বলেন। আর এটাই আমাদের ইংরেজিতে সাবলীল কথা বলার ধরনটাকে নষ্ট করে দেয়।
আমাদের মস্তিষ্কে আমাদের দৈনিন্দন কাজের সাথে মিল আছে এমন কিছু শব্দ যুক্ত থাকে, ঠিক তেমনি ইংরেজি শব্দও যুক্ত থাকে। কিন্তু বাংলা ভাষার শব্দ গুলো আগে আমরা চিন্তা করে ফেলি, পরে সেটার ইংরেজি চিন্তা করি। যেমন
আপনি কোন গাছের দিকে তাকালে, আপনার মাথায় যে শব্দটি আগে আসবে সেটি হল গাছ, এরপর আসবে tree. কারন এটা আমাদের অভ্যাস যে আমাদের মাথায় আগে মাতৃভাষাটিই আসে।

আর এই অভ্যাসটা যদি আমরা পরিবর্তন করতে পারি তাহলে বাংলা ভাষা থেকে ইংরেজি ভাষা করতে আমাদের মস্তিষ্কে যে সময়টা ব্যয় হয় সেটা আমরা বাচাতে পারি। আর তখনই আমরা সাবলীল ভাবে ইংরেজিতে কথা বলতে পারব।
তাহলে এইখানে যেই বিষয়টা উঠে এসেছে সেটা হল আমাদের অভ্যাস।

আপনি একটু চিন্তা করে দেখুনতো ছোট বেলায় আপনি আপনার মাতৃভাষাটা কিভাবে শিখেছিলেন? আর সেই কৌশল গুলো যদি এখানেও প্রয়োগ করতে পারেন তাহলে আপনি খুব সহজেই ইংরেজি ভাষাটাও শিখে ফেলতে পারবেন।

আপনি যদি একটু খেয়াল করে দেখেন আমাদের মাতৃভাষা শেখার কৌশল ছিল দুইটি।
১। Observation ( পর্যবেক্ষণ )
2।Practice ( অনুশিলন )

Observation ( পর্যবেক্ষণ ): প্রতিটি বাচ্চাই হল খুব ভালো পর্যবেক্ষক। তাদের কোন কাজ থাকে না, তাই তারা পুরো সময়টাই তাদের আশেপাশে ঘটে যাওয়া সবকিছু খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে, এবং সেগুলো করার চেষ্টা করে। প্রথম বার হয়তো তারা ফেল করে, তারপর আবার চেষ্টা করে, আবার ফেল করে, আবার চেষ্টা করে, এই ভাবে তারা বিভিন্ন কিছু শিখে ফেলে।

কিন্তু আপনি কিভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন কারন আপনার আশেপাশে যারা বসবাস করে তারা সবাই বাংলা ভাষায় কথা বলে। তাই আপনি ইংরেজি মুভি দেখতে পারেন, ইংরেজি নিউস দেখতে পারেন, এইভাবে আপনি অনেক বেশি ইংরেজি শব্দ শিখতে পারবেন এবং কিভেবে কথা বলতে হয় সেটা শিখতে পারবেন।

2।Practice ( অনুশিলন ): অনুশিলন করার একটা উপায় হচ্ছে আপনি প্রতিদিন ডায়েরি লিখতে পারেন। কারন ডায়েরি লিখতে আপনাকে ভাবতে হবে আর এটা আপনাকে ইংরেজি শিখতে সাহায্য করবে। অন্য আরেকটা উপায় হল আপনি নিজে নিজে আপনার মনের সাথে ইংরেজিতে কথা বলার অনুশিলন করা।

সুন্দরবনে বাড়ছে বাঘের সংখ্যা

Now Reading
সুন্দরবনে বাড়ছে বাঘের সংখ্যা

বাংলাদেশের সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল বাঘের সংখ্যা গত তিন বছরে কিছুটা বেড়েছে। বাংলাদেশ বন বিভাগের সূত্র জানায়, বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা সর্বশেষ আদমশুমারিতে দেখা গেছে, “সুন্দরবনের ২০১৮ সালে বাঘের দ্বিতীয় পর্যায়ের অবস্থা”। অনুষ্ঠানের আয়োজনের মাধ্যমে আগগাঁওয়ের বন ভবন (বন বিভাগ) এর হিমন্তী মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
২০১৫ সালের পূর্বের আদমশুমারি অনুযায়ী, সুন্দরবনে মোট ১০৬ টি বাঘ রেকর্ড করা হয়েছিল, কিন্তু ২০১৮ সালের জরিপের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে ১১৪ তে গিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ইউএসএআইডি বাঘ প্রকল্পে ২০১৬ সালে দ্বিতীয় পর্যায়ের আদমশুমারি শুরু হয়েছিল। ক্যামেরা ফাঁদ পদ্ধতি বাঘ সংখ্যা রেকর্ড করতে ব্যবহৃত হয়। তিনি বলেন, জরিপটি ১ ডিসেম্বরে ২০১৬ সাল থেকে বর্ধিত সময়ের মধ্যে পরিচালিত হয়েছিল। সুন্দরবনের বাঘের ১,৬৫৯ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। মোট এলাকার মধ্যে সাতক্ষীরায় ১,২০৮ বর্গ কিমি, খুলনায় ১৬৫ বর্গ কিমি এবং বাগেরহাটের শরনখোলা রেঞ্জে ২৮৩ বর্গ কিমি। সুন্দরবনের ২৩৯ পয়েন্টে মোট ৪৯১ ক্যামেরা গাছের উপর স্থাপন করা হয়েছিল। ২৪৯ দিনের আদমশুমারীর জন্য ক্যামেরা ২৪৬৬ টি বাঘের ছবি তুলেছিল।

জরিপে দেখা গেছে, বাঘের সংখ্যা ১১৪ হতে পারে।

২০১৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাগ প্রকল্পের প্রথম পর্যায় জরিপ ১০৬ বর্গ রেকর্ড করে। এই সর্বশেষ রিপোর্টের মাধ্যমে, বাঘের সংখ্যা তিন বছরে ৮% বৃদ্ধি পেয়েছে। বন বিভাগের সূত্র জানায়, সর্বশেষ জরিপের খসড়াটি ভারতীয়দের বন্যপ্রাণী ইনস্টিটিউটকে নিশ্চিত করার জন্য পাঠানো হয়েছে। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট নিশ্চিত করা হয়েছে যে ফলাফলগুলি সঠিক।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বন বিভাগটি ওয়াইল্ডটামের সহযোগিতায় এবং স্মিথসোনিয়ান সংরক্ষণ ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি) আর্থিক সংস্থার সাথে বাঘের আদমশুমারি শুরু করেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে সহায়তা করে।

ব্রিটিশ বন্যপ্রাণী গবেষক, গায় মাউন্টফোর্ট ১৯৬৬ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। সেই সময় বন বিভাগের বন বঙ্গবন্ধু জানান, জঙ্গলে বাঘের সংখ্যা ৩০০ ছিল। ১৯৭৫ সালে বুবার্ট হেন্ডরিক্স পরিচালিত একটি ক্ষেত্রের জরিপের সময় মোট ৩৫০ টি বাঘ রেকর্ড করা হয়েছিল।

১৯৮২ সালে মার্গারেট সালটার আরেকটি ক্ষেত্র জরিপ পরিচালনা করেছিলেন এবং বাঘের সংখ্যা ৪২৫। ১৯৮৪ সালে রেক্স গিটিন্স পরিচালিত আরেকটি জরিপে বাঘ পাওয়া যায় ৪৩০ থেকে ৪৫০ এর মধ্যে হতে পারে। ১৯৯২ সালে, বন বিভাগ সুন্দরবনে কাজ করে গবেষকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এবং সংখ্যাটি ৩৫৯ নম্বরে রেকর্ড করে।
২০০৪ সালে আরও একটি জরিপে দেখা গেছে, বন বিভাগের সংখ্যা ৪৪০-এ দাঁড়িয়েছে, যদিও যে জরিপ সঠিকতা নিয়ে বিতর্কিত ছিল। ২০০৬ সালে, বিখ্যাত বাঘ গবেষক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড। মনিরুল এইচ খান ক্যামেরা ফাঁদ পদ্ধতি ব্যবহার করে সংখ্যা পরিচালনা করেন এবং বলেন, বাঘের সংখ্যা মাত্র ২০০।

বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে বিশেষজ্ঞের মতামতঃ

বন বিভাগ ২০১৫ সাল থেকে বাঘের আদমশুমারি পরিচালনার জন্য ক্যামেরা ফাঁদ পদ্ধতি ব্যবহার শুরু করে। পূর্বে, জরিপকারীরা বাঘের সংখ্যা নির্ধারণের জন্য বাঘের পদচিহ্ন গণনা করতো। ক্যামেরা ফাঁদ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড। মনিরুল এইচ খান বলেন, “ক্যামেরা ফাঁদ ব্যবস্থা আজ সবচেয়ে বেশি বৈজ্ঞানিকভাবে উন্নত পদ্ধতি। এই পদ্ধতিটি পাদদেশের চেয়ে আরও কার্যকর গণনা পদ্ধতি। “

ধৈর্য একটি মহৎ গুন

Now Reading
ধৈর্য একটি মহৎ গুন

শুরুতেই কুরআনের একটি আয়াত দিয়ে শুরু করবো,
আমি অবশ্যই তোমাদেরকে কিছু না কিছু দিয়ে পরীক্ষায় ফেলবোই: মাঝে মধ্যে তোমাদেরকে বিপদের আতঙ্ক, ক্ষুধার কষ্ট দিয়ে, সম্পদ, জীবন, পণ্য-ফল-ফসল হারানোর মধ্য দিয়ে। আর যারা কষ্টের মধ্যেও ধৈর্য-নিষ্ঠার সাথে চেষ্টা করে, তাদেরকে সুখবর দাও। [আল-বাক্বারাহ ১৫৫]

আসলে ধৈর্য কি? ধৈর্য আমাদের জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা সাধারণ ভাবে বুঝি ধৈর্য অর্থ অপেক্ষা করা, বা নিজেকে নিয়ন্ত্রন করা ইত্যাদি। অনেকের কাছে ধৈর্যের অর্থ অনেক রকম হতে পারে। যেমন-

ধৈর্যের একটি অর্থ কোন কিছুতে তাড়াহুড়া না করা, ভালো কিছুর জন্য তাড়াহুড়া না করা, ভালো কোন ফল পেতে বিলম্ব হলে হতাস হয়ে না পরা।

ধৈর্যের আরেকটি অর্থ হচ্ছে কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্য পুরনের জন্য সকল বাধা বিপত্তি সাধরে গ্রহণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।
দুঃখ-বেদনা, ভরাক্রান্ত ও ক্রোধান্বিত না হওয়া এবং সহিষ্ণু হওয়াও ধৈর্যের একটি অর্থ।
ধৈর্যের এক অর্থ হচ্ছে, সকল প্রকার ভয়ভীতি ও লোভ-লালসার মোকাবেলায় সঠিক পথে অবিচল থাকা, শয়তানের উৎসাহ প্রদান ও নফসের খায়েশের বিপক্ষে নিজের কর্তব্য সম্পাদন করা।

ধৈর্য ধরে কাজ করলে আপনি অবশ্যই আপনি সাফল্য পাবেন। কারন কথায় আছে সবুরে মেওয়া ফলে। কিন্তু আমরা অনেকই অল্পতেই ধৈর্য হারিয়ে হতাশ হয়ে পরি। ধৈর্য না থাকলে দীর্ঘ মেয়াদি কোন কাজ করা সম্ভব নয়। ভালো কিছু করতে হলে আপনাকে অবশ্যই ধৈর্যশীল হতে হবে। ধৈর্য সব মানুষের মধ্যেই থাকে কারো কম আর কারো বেশি। ধৈর্য শক্তি কম থাকলে মানুষ খুব দ্রুতই রেগে যায়। কথায় আছে রেগে গেলেনত হেরে গেলেন।

এক ব্যক্তি নতুন একটি গাড়ি কিনেছেন। তিনি তার গাড়িটি পানি দিয়ে পরিষ্কার করছিলেন, আর তার ৬ বছরের ছেলেটা ধাতব কিছু দিয়ে গাড়িটিতে কিছু লিখছিলেন। লোকটি যখন তার ছেলেকে গাড়িটিতে কিছু লিখতে দেখলেন, তখন তার মেজাজ খুবই খারপ হয়ে গেল, কারন গাড়িটি ছিল একদমই নতুন। তখন লোকটি রাগ করে তার হাতে থাকা একটি বস্তু দিয়ে তার ছেলের হাতে একটি আঘাত করলেন। রাগের মাথায় লোকটি খেয়াল করেন নি যে, তিনি তার হাতে থাকা যে বস্তুটি দিয়ে ছেলের হাতে আঘাত করেছেন সেটি ছিল একটি লোহার পাইপ। যাইহোক ছেলেটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। লোকটি তার ছেলের বেডের পাশে বসে কাঁদছিল। কারন ঐ পাইপটির আঘাতে ছেলেটির হাতের চারটি আঙ্গুল ভেঙ্গে যায়। তারপর ছেলেটি তার বাবার দিকে তাকিয়ে বলে, বাবা আমি আর গাড়িতে কখন লিখবনা, আমার আঙ্গুল গুলো কি আবার ফিরে পাবো বাবা। বাসায় ফিরে লোকটি পুরো গাড়িটা ভেঙ্গে ফেলে। তারপর ক্লান্ত হয়ে বসে পরে সে, এবং গাড়িতে তার ছেলের লেখাটি দেখতে পায়। যেখানে লিখা ছিল I love you dad. পরদিন সেই বাবা ভীষণ কষ্টে আত্মহত্যা করে। তার নিথর দেহর পাশে একটা চিরকুট ছিল, যাতে লিখা ছিল- ANGER AND LOVE HAVE NO LIMITS. THA CHOICE IS YOURS!

রাগের প্রধান কারণই হল ধৈর্য হারা থাকা। তাই আজ কিভাবে ধৈর্য বাড়ানো যায় তার কিছু উপায় সম্পর্কে আমরা জানবো-

মেডিটেশন (ধ্যান) করুনঃ মেডিটেশন বা ধ্যান ধৈর্য বাড়ানোর কার্যকরী একটি উপায়। ধ্যান মানুষের মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে। তাদের ভঙ্গিকে ধীর স্থির করে, আর এটা হচ্ছে ধৈর্য শক্তি বৃদ্ধির প্রধান লক্ষণ। মেডিটেশন বা ধ্যান করলে আত্ম নিয়ন্ত্রন বৃদ্ধি পায়। ফলে মানুষ চট করে রেগে উঠে না। এছাড়া ভালো মন্দ বিচারের ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় ধ্যান করুন দেখবেন আপানর ধৈর্য শক্তি অনেকটাই বেড়ে গেছে।

তুলনা করবেন নাঃ অন্যের সাথে কখনই নিজের তুলনা করবেন না। অন্যরা কি করল তাতে নজর না দিয়ে নিজের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। আপনার প্রত্যেকটি কাজের জন্য একটি লক্ষ্য হবে আর সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আপনাকে কাজ করতে হবে।

মেনে নিতে শিখুনঃ আপনি যেটা আশা করবেন তাই সবসময় হবে তা কিন্তু নয়, তাই যে কোন কিছু মেনে নিতে শিখুন। মানুষ সবচেয়ে বেশি ধৈর্য হারিয়ে ফেলে যখন তিনি হতাশ হয়ে পরেন। আর এই হতাশা আসে যখন আপনি যেটা আশা করেছেন সেটা না পান। তখন আপনি হতাশ হয়ে পরেন। আর তারপর ধৈর্য হারান। আমাদেরকে বুঝতে হবে জীবনের সব আশা পূরণ হবে না।

ডাইরি লিখা এবং বই পড়ার অভ্যাসঃ ডাইরি লিখা ধৈর্য শক্তি বাড়ায়। কারন ডাইরি লিখতে ধৈর্য শক্তি লাগে। একই ভাবে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এই অভ্যাস দুইটি আপনি গড়ে তুললে আপানর ধৈর্য শক্তি অনেক বেড়ে যাবে।

মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার উপায়

Now Reading
মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার উপায়

আমাদের এই পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে যারা নিজেদের তুলনায় কম শক্তিশালী বা কম ক্ষমতাবানদের কাছেও বিভিন্ন বিষয় হেরে যায়। আসলে শারীরিক শক্তি দিয়ে সব সময় সব কিছু করা সম্ভব নয়। শারীরিক শক্তির পাশাপাশি মানসিক শক্তিও একটা মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে কোন কঠিন কাজ, মানসিক শক্তি বেশি হলেই করা সম্ভব। মানসিক শক্তিই একটা মানুষের মধ্যে সাহস সঞ্চালন করে।

শারীরিক ভাবে শক্তিশালী হওয়ার জন্য আমাদের কি করতে হবে তা আমরা সকলেই জানি। শারীরিক ভাবে শক্তিশালী হতে হলে আমাদের রুটিন মাফিক খাবার খেতে হবে, জীমে যেতে হবে ইত্যাদি। তবে মানসিক ভাবে শক্তিশালী হতে হলে আমাদের কি করতে হবে, বা মানসিক ভাবে শক্তিশালী হওয়ার উপায় গুলো কি কি, তা আমরা অনেকেই জানি না। হয়তো বা আমরা এই বিষয় নিয়ে কখন চিন্তাই করি নি। আজ মানসিক ভাবে শক্তিশালী হওয়ার উপায় গুলো নিয়ে আলোচনা করবো।

তবে মানসিক ভাবে শক্তিশালী হওয়ার উপায় গুলো জানার আগে আমাদের জানতে হবে মানসিক শক্তিটা কি বা কাকে আমরা মানসিক ভাবে শক্তিশালী মানুষ বলব। যে কঠিন বা কঠোর ভাবে কাজ করে, যে তার আবেগকে প্রশ্রয় দেয় না, যে তার শরীরকে যন্ত্রের মত চালনা করতে পারে। যে নিজেকে সবসময় স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করে, যে সর্বদা পজেটিভ চিন্তা করে, যে আনন্দের পিছনে ছুটতে থাকে, যে মানসিক ভাবে পুরোপুরি সুস্থ, না এগুলোর একটিও নয়।

এই সকল গুণাবলী কখনই নির্ধারণ করে না আপনি মানসিক ভাবে কতটা শক্তিশালী। এমি মরিন তার বই 13 things mentally strong people don’t do পরিষ্কার ভাবে তুলে ধরেছেন এই তথ্যই।

আমাদের শরীরে যে জিন আছে তা আমাদের মানসিকতা, ব্যবহার ইত্যাদি প্রভাবিত করে। তারপর আসি আমাদের ব্যক্তিত নিয়ে, কিছু মানুষ আছে যারা ছোট বেলা থেকেই হয়ে থাকে কল্পনা বিলাসী, আবার কেউ বাস্তব ভাবনা ও আচারন করতে ভালোবাসে। এই ব্যক্তিত ধারা কিন্তু কোন মানুষ মানসিক ভাবে কতটা শক্তিশালী তা নির্ভর করে।

এরপর অভিজ্ঞতা, আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতাই আমাদের বর্তমান চিন্তাভাবনা, অন্য মানুষ সম্পর্কে ধারনা ইত্যাদিকে প্রভাবিত করে। এবং এই বিশ্বকে অনুভব করার ক্ষমতাকে কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রন করে।
সুতারং আমরা মানসিক ভাবে শক্তিশালী কিনা তা নির্ভর করে প্রধানত, আমাদের চিন্তাভাবনা, আমাদের আচারব্যবহার, এবং আমাদের আবেগ অনুভতি কেমন তার উপর। তাহলে এখন আমরা জানবো কিভাবে আমরা আমাদের মানসিক শক্তি বাড়িয়ে তুলতে পারি।

We should not waste time feeling sorry for ourselves: অতীতে কোন কাজের জন্য, সেই কাজটা যত বড়ই ভুল হক তার জন্য অনুতাপ বা আফসস করে সময় নষ্ট করা যাবে না। মানসিক ভাবে শক্তিশালী মানুষরা কখনই তাদের অতীতের ভুলের কথা ভেবে সময় নষ্ট করে না। তারা অতীতে যা হয়েছে তা মেনে নিতে শিখে। এবং সামনের দিকে এগিয়ে যেতে শিখে। তারা কখনই বলে না আমার জীবনের সমস্যাই পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন সমস্যা, যদি ভাগ্য ভালো হত ঠিক জীবনে উন্নতি করতে পারতাম। বা দিনে দিনে দেখছি সমস্যা আরও বেড়েই চলেছে। অথবা আমার দুঃখ বা সমস্যা কেউ বুঝবে না। আমার চারপাশের মানুষরা কি সুখি আর আমার কপালে একটো সুখ জুটল না। এইসব হায় হুতাস করে কখন কিছু হবে না, নিজের প্রতি নিজে ক্রুনা করে কখন সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া যাবে না। এইগুল সব বন্ধ করতে হবে।

We should accept change: মানসিক ভাবে শক্তিশালী ব্যক্তিরা সবসময় বিভিন্ন পরিবর্তনকে সাধরে গ্রহণ করে। কারন আমাদের এই পৃথিবীতে পরিবর্তন হয়েই চলেছে। যে মানুষ গুলো পরিবর্তনের সাথে নিজেও পরিবর্তন হতে পারে না সে মানুষ গুলো ছিটকে পরে। সে কখনই মানসিক ভাবে শক্তিশালী হতে পারে না।

We should not focus on things that we can not control: মানসিকভাবে শক্তিশালী মানুষরা কখনো ঐ সকল বিষয়ের উপর মনোযোগ দেয় না যে বিষয় গুলো তাদের নিয়ন্ত্রেনের বাহিরে।

We should not try to please everyone: আমাদের কখনই সকল মানুষের মনযোগীয়ে চলা উচিত নয়। কারন যে আসলে সবাইকে খুশি করতে চায় সে আসলে কাউকেই খুশি করতে পারে না। তাই মানসিকভাবে শক্তিশালী মানুষরা সকলকেই খুশি করার চেষ্টা করে না।

গ্লোবাল ক্লাইমেট চেঞ্জ !

Now Reading
গ্লোবাল ক্লাইমেট চেঞ্জ !

গ্রিনল্যান্ড আইস শীট পৃথিবীর বরফের দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশ যা গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৬৫০,০০০ বর্গ মাইল জুড়ে আচ্ছাদিত। নাসা’র অপারেশন আইসিব্রিজের তথ্য ব্যবহার করে নতুন গবেষণার মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণরূপে দ্রবীভূত হলে এটি সমুদ্র স্তরের উত্থানের ২৩ফুট (৭ মিটার) অবধি অবদান রাখতে পারে।
ক্রেডিট: নাসা / জেফারসন বেক

নতুন মডেলিং স্টাডি অনুসারে গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমন চলতে থাকে এবং তার বর্তমান হারে বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণ করে তুলতে পারে বলে মনে করে গ্রীনল্যান্ডের গলিত বরফের শীতলতা আরও সমুদ্রের উত্থান সৃষ্টি করতে পারে। NASA এর অপারেশন আইসিব্রীজ এয়ারবোর্ন প্রচারণা থেকে ডেটা ব্যবহার করে এমন গবেষণাটি একটি বিজ্ঞান বিজ্ঞাপনে প্রকাশিত হয়।
পরবর্তী ২০০ বছরে, আইসক্রিট মডেলটি দেখায় যে বর্তমান হারে গলনা ১৯থেকে ৬৩ ইঞ্চি বৈশ্বিক সমুদ্রের উত্থানে অবদান রাখতে পারে, বলেছেন আলাস্কা ফেয়ারব্যাংকের বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওফিজিকাল ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। পূর্ববর্তী অনুমানগুলির তুলনায় এই সংখ্যা কমপক্ষে ৮০ শতাংশ বেশি, যা গ্রীনল্যান্ডের বরফ থেকে সমুদ্রের উত্থানের ৩৫ ইঞ্চি পর্যন্ত পূর্বাভাস দিয়েছে।
বরফ দ্রবীভূত হারের উপর তাদের প্রভাব পরীক্ষা করার জন্য মূল ভূমি, বরফ, মহাসাগর এবং বায়ুমণ্ডলীয় ভেরিয়েবলগুলি সমন্বয় করতে তিনটি সম্ভাব্য ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিস্থিতিগুলির জন্য প্রতি বছর ৩০০০ বার ৫০০ মডেলটি চালায় । আগামী তিন বছরে বায়ুমণ্ডলে গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমনের পরিমাণ তিনটি জলবায়ু পরিস্থিতি নির্ভর করে। নির্গমনের কোনও হ্রাস ছাড়াই এই গবেষণায় দেখা গেছে যে সমগ্র গ্রিনল্যান্ড আইস শীট সম্ভবত এক সহস্রাব্দে দ্রবীভূত হয়ে পড়বে, যার ফলে সমুদ্রের মাত্রা ১৭থেকে ২৩ ফুট বেড়ে যাবে ।
দৃশ্যত যেখানে শতাব্দীর শেষ নাগাদ বৃদ্ধি হ্রাসের পরিবর্তে নির্গমন স্থিতিশীল হয়, মডেলটি বরফ হ্রাস ৩০০০ দ্বারা সর্বমোট ২৬ থেকে ৫৭ শতাংশে নেমে আসে। ব্যাপকভাবে নির্গমন সীমাবদ্ধতা যাতে তারা শতাব্দীর শেষ নাগাদ হ্রাস পেতে শুরু করে। বরফ ক্ষতি সীমা ৮ থেকে ২৫ শতাংশ করতে পারে। গবেষণার মতে, এই দৃশ্যটি পরবর্তী সহস্রাব্দে সমুদ্রের উত্থানের ৬ ফুট (প্রায় ২ মিটার) পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।
আপডেট মডেল আরও সঠিকভাবে আউটলেট গ্লাসিয়র প্রবাহকে প্রতিনিধিত্ব করে, যা নদীর তীরে অবস্থিত বরফের সমুদ্রের সাথে যুক্ত।
আউটলেট গ্লাসিয়াস বরফ শীটগুলি কিভাবে দ্রবীভূত হয় তাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, কিন্তু পূর্ববর্তী মডেলগুলি তাদের জটিল প্রবাহের নিদর্শনগুলিকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করার জন্য ডেটা অভাব করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে গল্ফিয়ার আউটলেট হিমবাহ পরবর্তী ২০০ বছরে গ্রীনল্যান্ড থেকে বরফের ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ করতে পারে।
আইসক্রিজ থেকে বরফ বেধের ডেটা যুক্ত করে এবং মডেলের মধ্যে পরিসংখ্যানগত অনিশ্চয়তা সনাক্তকারী উত্সগুলি সনাক্ত করে, গবেষণায় মানব-উত্পন্ন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন এবং একটি উষ্ণ আবহাওয়া ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ডকে প্রভাবিত করতে পারে এমন আরো সঠিক চিত্র তৈরি করে।
আলাস্কা ফেয়ারব্যাংকের জিওফিজিক্যাল ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা NASA এর অপারেশন আইসিব্রিজের তথ্য ব্যবহার করে ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে আরো সঠিক মডেল বিকাশ করতে পারে, যা আবিষ্কার করে যে এটি পূর্বের চেয়ে আরও সমুদ্রের উত্থান সৃষ্টি করতে পারে।
চলমান প্রবাহ এবং আউটলেট গ্লাসিয়াস দ্রবীভূত গতির আপডেট পূর্ববর্তী মডেলের তুলনায় আপডেট হওয়া আইস শীট মডেলটিকে আরও সঠিক করে তোলে। গত ২০ বছরে মহাসাগরের জল গরম হয়ে গেছে, ভাসমান বরফ গলে গেছে যা তাদের ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা থেকে আউটলেট হিমবাহকে রক্ষা করেছে। ফলস্বরূপ, আউটলেট গ্লাসিয়াসগুলি দ্রুত প্রবাহিত হয়, দ্রবীভূত হয়ে এবং পাতলা হয়ে যায়, আইসশীট নীচের পৃষ্ঠের সাথে নতুন বরফকে উষ্ণ বায়ু এবং গলানোর জন্য উন্মুক্ত করে।।
একবার আমরা উপগ্রহ পর্যবেক্ষণের অ্যাক্সেস পেয়েছিলাম, আমরা সমগ্র গ্রীনল্যান্ড আইস শীটটির পৃষ্ঠের বেগ পেতে সক্ষম হয়েছিলাম এবং দেখি যে বরফ প্রবাহিত হয়, আলাস্কা ফেয়ারব্যাংকের জিওফিজিক্যাল ইনস্টিটিউটের ইউনিভার্সিটির গবেষক সহযোগী অধ্যাপক অ্যান্ডি অ্যাসাভান্ডেন বলেন।
আইসিব্রিজের বিস্তারিত বরফ বেধ পরিমাপে এই অঞ্চলের মডেলগুলি প্রথম মডেল হতে সাহায্য করেছে যেখানে আউটলেট হিমবাহগুলি উষ্ণ সমুদ্রের জল দ্বারা প্রভাবিত হয়, সেইসাথে জটিল সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া এবং প্রক্রিয়াগুলি আগের তুলনায় বরফ গলে যেতে প্রভাবিত করে। তারা জলবায়ু গলন, হিমবাহ বন্ধ ভঙ্গুর বড় বরফ, তুষারপাতের হার পরিবর্তন এবং ক্রমবর্ধমান বায়ু তাপমাত্রার মতো বিষয়গুলির গুরুত্ব পরীক্ষা করে। তারা বরফের ঘাটতি হ্রাস করতে পারে এমন বিষয়গুলিও পরীক্ষা করে, যেমন পৃথিবীর পৃষ্ঠের গতিবেগ আর নেই সেখানে বরফের ওজন থেকে “পিছনে ফিরে”।
দিনের শেষে, হিমবাহ প্রবাহিত হ্রাস,” বলেন সাইন্টিস্ট Aschwanden,. এটি খুব সরলীকৃত, কিন্তু যদি আপনি জানেন না কোথায় নিচু হয়, মডেলটি কোনও ভাল কাজ করতে পারে না। বরফ প্রবাহ বোঝার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানকারী বরফ কতটা পুরু তা জানা।
আমরা স্বাভাবিক ভাবে অবিরত, গ্রিনল্যান্ড দ্রবীভূত করা হবে, আমরা এখন কি করছি, ভবিষ্যতে গ্রীনল্যান্ড আইস শীটের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে এবং সম্প্রসারিত হলে এটি সমুদ্রের স্তর এবং মানব সমাজেও প্রভাব ফেলবে বলে ধারনা করা হচ্ছে ।

ঢাকা অ্যাটাক!

Now Reading
ঢাকা অ্যাটাক!

সময়টা জুলাই ২০১৬ রাতে স্থানীয় সময়ে ৯টা ২০ মিনিট।
পাঁচ জঙ্গি গুলশান থানার হোলি আর্টিসান বেকারি তে জিম্মি করে গুলি চালায়। আক্রমণকারীরা অশোধিত বোমা, ম্যাকেট, পিস্তল দিয়ে বেকারিতে প্রবেশ করেছিল এবং কয়েক ডজন ডজন বন্দী (বিদেশী ও স্থানীয়) জিম্মি করা হয়েছিলো । অবিলম্বে প্রতিক্রিয়া, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বেকারি নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে চেষ্টা করলে, দুই পুলিশ কর্মকর্তা কে গান শটে হত্যা করা হয়।
২০ জিম্মি (১৮ জন বিদেশী ও ২ জন স্থানীয়), ২ পুলিশ কর্মকর্তা,৫ বন্দুকধারীর এবং ২ বেকারি কর্মচারীসহ ২৯ জন নিহত হয়েছে। পুলিশ বেকারদের লঙ্ঘন করতে এবং জিম্মিদের সুরক্ষিত করতে ব্যর্থ হলে তারা রাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সহ একটি পরিমাপক স্থাপন করেছিল।২ জুলাই খুব দ্রুত প্রায় রাত ৩ টায় , সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী অপারেশন থান্ডারবোল্ট নামে একটি প্রতিহতকারী আক্রমণ চালাবে। এই হামলার নেতৃত্বে প্রথম বাহিনী কমান্ডো বাট্টালিয়ন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি অভিজাত শক্তি, এবং সকাল ৭ টা ৪০ করে তাদের অভিযান শুরু করে। বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল মতে, হামলার সকলেই বাংলাদেশি নাগরিক ছিল। ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড লেভান্ট (আইএসআইএল) এই ঘটনার দায় স্বীকার করে বন্দুকধারীর ছবি প্রকাশ করেছে, কিন্তু বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে অপরাধীরা জামায়াত-উল-মুজাহিদিনের অধিবাসী এবং আইএসআইএল-এর সাথে যুক্ত ছিল না।
ঘটনাটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ সন্ত্রাসী হামলা ছিল।
জামায়াত-উল-মুজাহিদিনের জঙ্গি ইসলামী সংগঠনটি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ২০০৫ সালে এটি বোমা হামলা চালিয়েছিল, কিন্তু পরে আবার কার্যক্রম শুরু করে। পরে বাংলাদেশ সরকার সংগঠনের দুই নেতা শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমানকে ফাঁসির আদেশ দেন।
২০০৫ সালে ঢাকার গ্রেনেড হামলা এবং ২০০১ পহেলা বৈশাখে রমনা বটমুল বোমা হামলা সহ হারকাত -উল-জিহাদ আল-ইসলামী নামে ২০০৫ সালে নিষিদ্ধ আরেকটি ইসলামী সন্ত্রাসী দল থেকে কিছু হামলা হয়েছিল। ২৮ডিসেম্বর ২০০৪ তারিখে সন্ত্রাসী দলের নেতা মুফতি হান্নানকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়।
২০১৩ সাল থেকে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশ ধর্মীয় সংখ্যালঘু, ধর্মনিরপেক্ষ এবং নাস্তিক লেখক এবং ব্লগার, এলজিবিটি অধিকার কর্মী এবং উদারপন্থী মুসলমানদের উপর ইসলামি হামলার বৃদ্ধি পেয়েছে। সেপ্টেম্বর ২০১৫ সাল থেকে ৩০ টিরও বেশি হামলা হয়েছে এবং ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক ও লেভান্ট তাদের ২১ টিরও দায় দাবী করেছে। আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, ২৫ মে ২০১৫ তারিখে নিষিদ্ধ আরেকটি সন্ত্রাসী দলও তাদের মধ্যে কয়েকজনের জন্য দায়ী দাবি করেছে।
২০১৫ সালের নভেম্বরে আইএসআইএল পত্রিকা দাবিক “বাংলায় জিহাদ পুনরুজ্জীবনের” আহ্বান জানিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন।

গুলশান ঢাকার একটি ভাল ও উচ্চস্থানীয় আবাসিক এলাকা এবং অনেক বিদেশী দূতাবাসের বাড়ি।

আক্রমণ এবং জিম্মি
স্থানীয় সময় ৯টা বেজে ৪০ মিনিটে এই আক্রমণ শুরু হয়। [পাঁচটজন হামলাকারী বোমা, পিস্তল এবং রাইফেল দিয়ে সজ্জিত রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করেছে। একজন আক্রমণকারীর সাথে একটি তলোয়ার ছিল। তারা নির্বিচারে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণ করে। বেশ কয়েকজন পৃষ্ঠপোষক তাদের টেবিলের নিচে লুকিয়ে ছিল , যখন ভীত কর্মচারী সদস্যরা সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে গিয়েছিল। ডিয়েগো রসিনী নামে একটি আর্জেন্টিনা-ইতালীয় শেফ উপরে উঠে দাঁড়ালেন, যদিও বেশ কয়েকজন রেস্টুরেন্ট কর্মচারী তাকে অনুসরণ করেছিলেন। তারপর তারা নিকটবর্তী বাড়ির ছাদে লাফ দিল।
দ্বিতীয় তলায় স্টাফ দৌড়ে বেড়ায় এবং একটি বিশ্রামাগার এর ভিতরে লুকিয়ে থাকে । মোট ৮ কর্মী সদস্য বিশ্রামাগার এর ভিতরে লুকিয়ে ছিল। বিশ্রামাগার উষ্ণ এবং cramped ছিল, এখাণে খামির এবং আটা স্টোর করা হয়। আক্রমণকারীরা তখন উপরে উঠে গিয়ে দরজার সামনে গিয়ে হাঁটতে লাগল, “বাঙ্গালী মানুষ, বেরিয়ে আসো,” “যদি আপনি মুসলমান হন, তবে বেরিয়ে আসুন।” কারণ উত্তর ছিল না, বন্দুকধারীরা মনে করেছিল যে বিশ্রামাগারের ভিতরে কেউ ছিল না, এবং রুমের দরজা বন্ধ করে দিল। বিশ্রামাগারের ভিতরে থাকা কর্মীরা তাদের আত্মীয়দের টেক্সট পাঠাতে শুরু করে, তারা বলে যে তারা এক্টা ঘরের ভিতরে আছে এবং সাহায্যের জন্য অনুরোধ করেছিল। হামলায় হোস্টেজ আটকা ছীলো অনেক যাদের প্রায় সব বিদেশী। রিপোর্টগুলি নির্দেশ করে যে হামলাকারীরা রেস্টুরেন্ট কর্মীদের এবং অন্যান্য বাংলাদেশীদের সাথে “অবিশ্বাস্যভাবে বিনীত ছিল। তারা তাদের আত্মবিশ্বাসে কর্মীদের গ্রহণ করেছিল, অভিযোগ করেছিল যে, বিদেশীরা, তাদের skimpy কাপড় এবং এলকোহল এর জন্য ইসলাম এ ইম্পেক্ট ছড়িয়ে ছিল। “তাদের জীবনধারা স্থানীয় জনগণকে একই কাজ করার জন্য উত্সাহিত করছে,” এটি জঙ্গিরা বলেছিল ।
বন্দুকযুদ্ধের সূত্রপাত, পুলিশ গোয়েন্দা রবিউল করিম ও কর্মকর্তা-কর্মচারী সালাউদ্দিন খান তদন্ত শুরু করেন। অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা প্রতিক্রিয়া জানালেন, রেস্টুরেন্টে আসছেন। এরপর হামলার ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধ শুরু হয়। পুলিশ রেস্টুরেন্ট এর কাছাকাছি এলাকা বন্ধ করে একটা RAID পরিকল্পিত করে । আক্রমণকারীরা গ্রেনেড ছুড়ে ফেলে এবং গুলি চালায়, পুলিশ কর্মকর্তা করিম ও খানকে হত্যা করে।

আক্রমণকারীরা তখন মির্যা নামে কর্মীদের একজন সদস্যকে দেখালেন, যিনি কোণায় লুকিয়ে ছিলেন। একজন বন্দুকধারীর একজন মীরজকে বলেছিল: “অন্য সবাই পালিয়ে গেছে কিন্তু আপনি তা করতে পারছেন না, এর মানে ঈশ্বর আপনাকে নিয়ে যেতে চায় । তারপর বন্দুকধারীরা একটা মানববন্ধন তৈরি করে বিস্ফোরক নিয়ে একটি চেয়ারে আটকে দেয়। তারপর বন্দুকধারীরা মুসলমানদেরকে অমুসলিমদের থেকে আলাদা করে। মুসলমানদের খাদ্য ও পানি দেয়া হয়েছিল, অথচ অমুসলিমরা দেওয়া হয়নি ।। ২জুলাই সকালে, আক্রমণকারীদের জিম্মি মুক্তি শুরু। হিজাব পরা মহিলাদের একটি গ্রুপ আক্রমণকারীদের দ্বারা মুক্তি ছিল; তারা তরুণ ফারাজ হোসেনকে ছেড়ে চলে যাওয়ার সুযোগও দিয়েছে। যাইহোক, ফারাজ তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং তার বন্ধুদের ছেড়ে দিতে বাধ্য করে, যাদের ছেরে দেওয়া নিষিদ্ধ ছিল কারণ তারা ছিলো অমুসলিম এবং বিদেশি নাগরিক ।

রেস্টুরেন্টের ভিতর থেকে নেওয়া ছবিগুলি আইএসআইএল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টুইটারে প্রচারিত হয় এবং মেঝেতে বেশ কয়েকটি মৃতদেহ ও রক্তের পুল প্রদর্শন করে। স্থানীয় একটা পত্রিকা জানায় যে জঙ্গি সংঘটিত হওয়ার প্রায় ১০ ঘন্টা আগে জঙ্গি গ্রুপ আনসার আল ইসলাম একটি আসন্ন আক্রমণের মাধ্যমে আক্রমণ এর ঘোষণা করেছিল।
আজকের এই দিন টা ৩ বছর আগে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটা দুর্বিশহ কালো দিন ছিল ।
আইএসআই এর ব্রেন ওয়াশের শিকারে আমাদের তরুন সমাজ আর যেনো অনুপ্রানিত না হয় এই আশাই ব্যাক্ত করি ।

সবশেষ কথা সন্ত্রাসবাদের কোণো ধর্ম জাত নেই ।

যেই দেশটিতে অপরাধ প্রবণতা কম

Now Reading
যেই দেশটিতে অপরাধ প্রবণতা কম

আমাদের এই পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ বসবাস করে। এই মানুষ গুলোর মধ্যে ভালো মানুষ খারাপ মানুষ উভয়ই প্রকারের রয়েছে। কিছু মানুষ আছে যারা অন্যের ক্ষতি দূরের কথা, চেষ্টা করে অন্য মানুষের উপকার করতে। আর কিছু মানুষ আছে যারা মনে হয় জন্মই নিয়েছে অন্য মানুষের ক্ষতি করতে। পৃথিবীতে মানুষের সভ্যতা হাজার হাজার বছরের পুরন। আর যেই মানুষ গুলো বিভিন্ন অপরাধ করে তাদের এই অপরাধ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য বা যারা ক্ষতি গ্রস্ত হয় তাদের ক্ষতি পূরনের ব্যবস্থা করার জন্য সেই আদি যুগ থেকেই বিভিন্ন শাস্তির প্রথা চালু হয়েছে। পূর্বে বিভিন্ন সভ্যতায় বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি বিভিন্ন ধরনের ছিল।

এখন আমাদের পৃথিবীতে প্রায় ১৯৫ টি দেশ রয়েছে। এবং বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন অপরাধের জন্য বিভিন্ন শাস্তির আইন রয়েছে। কিন্তু আইনের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা করেও অপরাধ নিরমূল করা সম্ভব হয়নি।

যেমন আমাদের দেশেই দিন দিন মনে হচ্ছে অপরাধ বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললে বা টিভিতে এবং ফেইসবুকে প্রচুর অপরাধের খবর পাওয়া যায়। যেমন খুন, ছিনতাই, ধর্ষণ, ঘুষ ইত্যাদি। ধর্ষণ, খুন এই ধরনের অপরাধ গুলত এখন এমন হয়ে গেছে যে এই গুলা কোন অপরাধই না। আর কিছু অপরাধ আমাদের সাধারণ মানুষের সামনেই ঘটে, যা আমরা দেখেও না দেখার মত থাকি। প্রতিবাদ করার সাহস হারিয়ে ফেলেছি আমরা।

আমাদের দেশে দিন দিন অপরাধ বেড়ে চললেও, এই বিশ্বে এমন কিছু দেশ আছে যেখানে অপরাধ নেই বললেই চলে। আর কিছু দেশ তো তাদের জেলখানা গুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। কারন জেলখানায় অপরাধী রাখার জন্য ঐ দেশে কোন অপরাধীই খুজে পাওয়া যায় না। আর ঐ সকল দেশের আইন গুলো সঠিক ভাবে পালন করা হয়। এবং সবচেয়ে বড় কথা ঐ সকল দেশের মানুষ অনেক বেশি সচেতন। তার অনেক বেশি শান্তিপ্রিয়। আজকে এমন একটি দেশ সম্পর্কে বলব যে দেশে অপরাধের হার অনেক কম।

দেশটির নাম হচ্ছে সৌদি আরব। এটি একটি মুসলিম দেশ। সৌদি আরব দেশটিতে অপরাধের প্রবণতা অনেক কম। কিছু অপরাধ হয় না ঐ দেশে একদম তা নয়, কিন্তু কোন অপরাধ সংঘটিত হলে, আর অপরাধ প্রমানিত হলে, সেই দেশে সাথে সাথে অপরাধী কে শাস্তি দেওয়া হয়। আর সৌদি আরবে কোন অপরাধের শাস্তি অনেক কঠিন। সৌদি আরবে কোন সংবিধান নেই। সৌদি আরবের সংবিধান হচ্ছে কুরআন। সৌদি আরব হচ্ছে একটি রাজতন্ত্র ভিত্তিক একটি দেশ। এই খানে সবকিছু করা হয় কুরআন এর উপর ভিত্তি করে। কুরআন ই হচ্ছে তাদের আইন সবকিছু। এই দেশে অপরাধ প্রবণতা এতটাই কম যে, এই দেশের মানুষ নামাজের সময় হলে দোকান খোলা রেখেই মসজিদে চলে যায়, কিন্তু তাদের দোকানে কোন রকম চুরি হয় না। সৌদি আরবে মেয়েদের চোখ আর হাতের কব্জি ছাড়া তাদের শরীরের আর কিছু দেখা যাওয়ার নিয়ম নেই। তাই সৌদি মেয়েরা সবাই বোরকা পরিধান করে। ঐ দেশে কোন সিনামাহল নেই। ঐ দেশের অনেক মানুষ অন্য দেশে যায় শুধু মাত্র সিনামা দেখতে। কিছু দিন আগেও সৌদি আরবে মেয়েদের গাড়ি চালানো নিষেধ ছিল, যা গত বছর থেকে মেয়েদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরবে অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া হয় খোলা ময়দানে বা কোন চার রাস্তার মরে, এবং সকলের সামনে। সৌদি আরবে ধর্ষণের শাস্তি হিসাবে অপরাধীকে চার দিনের মধ্যে গুলি করে বা সবার সামনে শরীর থেকে মাথা ছুরির মাধ্যমে আলাদা করে শাস্তি দেওয়া হয়। এই শাস্তির অর্থ হচ্ছে মৃত্যুদন্ড। আর যদি ধর্ষিত নারী একা বাসা থেকে বের হওয়া অবস্থায় ধর্ষিত হয় তাহলে সেই নারিকেও ২০ টি চাবুক মারা হয়। সৌদি আরবে চুরির অপরাধে হাতের কব্জি কেটে ফেলা হয়।

এছাড়াও সৌদি আরবে আরও বিভিন্ন অপরাধের বিভিন্ন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। সৌদি আরবে অপরাধ প্রমানিত হওয়ার সাথে সাথেই শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলেই সৌদি আরবে অপরাধের প্রবণতা অনেক কম।

প্রকৃতির বিচিত্র সৃষ্টি এবং অমূল্য কিছু রহস্য

Now Reading
প্রকৃতির বিচিত্র সৃষ্টি এবং অমূল্য কিছু রহস্য

প্রকৃতি আমাদের মাঝে মাঝে অকল্পনীয়, অবিশ্বাস্য, অপ্রত্যাশিত কিছু উপহার দিয়ে থাকে, যেগুলোর জন্য আমরা অনেক সময় প্রস্ততও থাকিনা। তবে বেশ অবাক হতে হয়, এটা ঠিক। তাই প্রকৃতির বিচিত্র কিছু সৃষ্টি এবং অমূল্য কিছু রহস্য নিয়ে আজকের প্রতিবেদন।
নতুন দ্বীপের জন্মঃ কেউ হইতো প্রশ্ন করতে পারেন, দ্বীপের আবার জন্ম হয় কীভাবে? তাহলে জেনে রাখুন গত ২ শততে ২ডজনের মত নতুন দ্বীপের জন্ম হয়েছে এই পৃথিবীতে। পলি মাটি জমে আগ্নেয়গিরির অগ্নিপাতের ফলে হিমোবাহি প্রভাবসহ বেশ কিছু প্রাকৃতিক কারণে জন্ম নিয়েছে এসব দ্বীপ। এসবের মধ্যে সবচেয়ে উল্ল্যেখযোগ্য হচ্ছে আগ্নেয়গিরির অগ্নিপাত। অনেকে হইতো জানেন সমুদ্রের পানির নিচে রয়েছে বহু আগ্নেয়গিরি। এবং সময় সময় এগুলো উদগিরণ হয়ে থাকে। আর বারবার আগ্নেয়গিরির ফলে গলিত লাবা জমে জমে তা পানির তলের উপর মাথা তুলে এবং জন্ম হয় নতুন দ্বীপের।

মরুভূমির বাগানঃ মরুভূমি নাম শুনলে চোখের সামনে যা ভেসে উঠে তা নিশ্চয় সুখকর নয়, জনহীন, প্রাণহীন, বিস্তৃর্ণ মরুভূমিকে মানুষের বাসের অযোগ্য বলেই জানি আমরা। আর চিলির উত্তরে অবস্থিত আতাকামা মরুভূমি শীতল আর শুষ্ক শুধু নয়, বলতে গেলে এটি বৃষ্টি বিহিন মরুভূমি। গত ১০০ বছরে মাত্র ৩-৪ বার বৃষ্টি হয়েছে এখানে। সেইটাও খুব সামান্য পরিমানে। যে কারণে বিশ্বের শুষ্কতম মরুভূমির মধ্যে আতাকামা মরুভূমি একটি। আর এখানকার নদী ক্ষ্যাত গুলো ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার বছর ধরে শুষ্ক পরে আছে। কিন্তু মাত্র এক রাতের ব্যবধানে যদি এই মরুভূমি রং ব্যরং এর ফুলে ছেয়ে যায়, তাহলে একটু অবাক হতে হবে বটে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, দীর্ঘদিন পর পর এ ঘটনা ঘটে আতাকামা মরুভূমিতে। দীর্ঘ ১৮ বছর পর ২০১৫ সালে আতাকামা মরুভূমির বালি ছেয়ে গিয়েছিল ফুলে ফুলে। অবশ্যই এর পিছনে রহস্যময় কোন কারণ নেই। সাধারণত যখন মরুভূমিতে অপেক্ষকৃত বেশি বৃষ্টিপাত হয়, তখনই এই অভাবনীয় দৃশ্যটি দেখা যায়। অন্তত দুইশত প্রজাতির উদ্ভিদ মাথা তুলে বৃষ্টির পর। আর মরুভূমিতে এই বিচিত্র ফুলের বাগান দেখার জন্য ছুটে আসেন বহু পর্যটকও।

লেক আব্রাহমঃ কানাডার পশ্চিম আলবার্টে রয়েছে লেক আব্রাহাম নামে কৃত্রিম একটি হ্রদ। অবশ্যই এটি আলবার্টের সবচেয়ে বড় জলাধারও বটে। বিস্ময়কর ভাবে এই হ্রদের পানি নীল বর্ণের। মূলত রক ফ্লাওয়ার পাথরের কণা পানির সাথে মিশেই হ্রদটি নীল বর্ণ ধারণ করেছে। ৩২ কি.মি. দীর্ঘ এবং ৫৩.৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই হ্রদটি মূলত দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষনীয় করে তুলে শীতকালে। যখন গোটা হ্রদের পানি জমে যায়। আর স্বচ্চ বরফের ভিতর লাখ লাখ ছোট বড় বুধ বুধ আটকে পরেছে বলে দেখা যায়। মূলত এই বুধ বুধ গুলো তৈরি হয় মিথেন গ্যাস আটকে পরার ফলে। হ্রদের তলদেশে জন্মানো উদ্ভিদ পঁচে গিয়ে মিথেন গ্যাস সৃষ্টি হতে থাকে। কিন্তু পানি জমাট বাধা শুরু হলে মিথেনের বুধ বুধ গুলো বরফের মধ্যে আটকা পরে এমন অবিশ্বাস্য ঘটনার অবতারনা করে। আর এই অভাবনীয় দৃশ্য দেখার জন্য বহু ফটোগ্রাপার এবং প্রকৃতি প্রেমি ছুটে আসে লেক আব্রাহমে।

বরফের চাকতিঃ প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া বরফ বৃত্ত বা বরফ চাকতিগুলো বা আইস সারকেলগুলো দেখলে মনে হবে কেউ হয়ত এগুলো বিশাল আয়োজনে দীর্ঘকাল ধরে নিখুঁতভাবে তৈরি করেছে। অথচ সেটা কোনভাবেই সম্ভব নয়। কোন বৈজ্ঞানিক যুক্তিও টেকে না এর গঠনের পেছনে। এটি একটি অস্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা। এগুলো একই সাথে আইস সারকেল, আইস ডিস্ক, আইস প্যান বা আইস ক্রেপ নামেও পরিচিত। সাধারণত ঠান্ডা আবহাওয়ার খুব স্লো বা মন্থর গতির পানিতে এই ধরণের গোলাকার বরফের চাকতি বা বৃত্ত দেখা যায়। অবাক হয়ে যাওয়ার মত এক দৃশ্য তৈরি হয়ে যায়, এগুলো এতটায় গোল হয়, যা আপনাকে অবাক করে ছাড়বে। এগুলো নিয়ে অনেকেই বিভিন্নধরণের মতামত দিয়ে থাকেন। যেমন কেউ কেউ বলেন মন্থরগতির পানি ঘুর্ননের ফলে এগুলো সৃস্টি হয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞানিরা বিষয়টা মানতে নারাজ কারণ পানি ঘুর্ণনের ফলে এটা তৈরি হবার সময়ই এগুলো ফেটে চৌচির হয়ে যাবার কথা। কিন্তু এগুলো একেবারে চমৎকার একই বৃত্তাকার বা গোলাকার ডিস্ক আকারে তৈরি হয়ে পানিতে ভাসতে থাকে।

Page Sidebar