টপ টেন
Heat Index

বাংলাদেশের সাথে আবারো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করল মিয়ানমার

Now Reading
বাংলাদেশের সাথে আবারো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করল মিয়ানমার

মিয়ানমার বাংলাদেশকে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে তাদের কারাগারে আটক ৮৩জন বাংলাদেশীকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে। তারা আদৌ বাংলাদেশী কিনা তা প্রকাশ না করে কিংবা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তা যাচাই বাচাইয়ের সময় দিতেও নারাজ। গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে এই ৮৩ জন কারাবন্দীকে ফেরত নিতে মিয়ানমার কয়েক দফা চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারকে। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার চেয়েছিল বিজিবি ও মিয়ানমারের বিজিপি এর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এসব রাজনৈতিক বন্দীদের চিহ্নিত করে যেন তাঁদের ফেরত আনা যায়। মিয়ানমার তাঁদের সীমান্ত পয়েন্ট দিয়েও এসব বন্দীদের প্রত্যাবাসনে আগ্রহী নয়। এখন মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এই বন্দীদের বোঝা উল্ল্যেখ করে জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত বিমান করে ফেরত নিতে চাপ দিচ্ছে। মিয়ানমার সরকার তাদের প্রেরিত চিঠিতে জানিয়ে দিয়েছে, রাখাইন রাজ্যের কারাগারে আটক বাংলাদেশীদের মুক্তি দিয়ে রাজধানী ইয়াঙ্গুনে স্থানান্তর করতে তাদের আর্থিক খরচ ও অন্যান্য সহযোগিতা বাড়তি বোঝার মত। আটক বাংলাদেশীদের বিমানে ফিরিয়ে দিতে ইয়াঙ্গুন হাইকমিশনের আর্থিক সামর্থ্য অপর্যাপ্ত। তাই বাংলাদেশকে নিজ উদ্যোগেই এসব বন্দীদের কালক্ষেপণ না করে বিমানে ফিরিয়ে নিতে হবে।

মিয়ানমারের এমন অবন্ধুত্বসুলভ আচরণে হতাশ এবং ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ সরকার। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিয়ানমারের এই আচরণকে ঔদ্ধত্যমূলক ও সুপ্রতিবেশীসুলভ নয় বলে জানিয়েছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে তাদের ১১লাখ রোহিঙ্গা নাগরিককে মানবিক কারণে বাংলাদেশ নিজ ভূখণ্ডে সাময়িক স্থান দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মিয়ানমারের অনুরোধে বাংলাদেশ বন্ধুত্বের নিদর্শন স্থাপন করতে গিয়ে তাদের নাগরিককে ক্ষমা করে দিয়েছে।  সমুদ্রপথে অবৈধ উপায়ে মালয়েশিয়া কিংবা থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে আটককৃতদের নাম ও পরিচয় বাংলাদেশের কাছে পাঠানোর রীতি অনুসরণ করত মিয়ানমার যেটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও একইভাবে অনুসরণ করা হয়। কিন্তু এবারের মিয়ানমারের তোড়জোড় পূর্বের সকল উদাহরণকে ছাপিয়ে উদ্দেশ্যমূলক মনে করছে বাংলাদেশ।

সূত্রমতে, বাংলাদেশের কারাগারে মিয়ানমারের প্রায় দেড়শ বন্দী রয়েছে, সে বিষয়ে তারা নির্বিকার। তাদের বন্দীদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে কোন আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। তাদের এহেন আচরণে বাংলাদেশও সেইসব বন্দীদের দ্রুত ফিরিয়ে নিতে বলবে।

১৯৮০ সালের সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশ আটক অনুপ্রবেশকারীদের বিভিন্ন সময়ে বিনিময় বা হস্তান্তর করেছে। অনেক সময় বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া দুইদেশের জেলেরা ভুলবশত একে অন্যের সীমানায় প্রবেশ করে আটক হত। পরে দুই দেশের সমতা ও আলাপের ভিত্তিতে বন্দী বিনিময় বা হস্তান্তর হত। কিন্তু হটাত মিয়ানমার রোহিঙ্গা ইস্যু পরবর্তীতে বাংলাদেশের সাথে অবন্ধুত্বসুলভ আচরণ করে যাচ্ছে।

কার ভরসায় রেখে যাচ্ছি শিশু ?

Now Reading
কার ভরসায় রেখে যাচ্ছি শিশু ?

আধুনিক যুগে সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে পুরুষের সাথে কাজ করছে নারী , কাজের প্রয়োজনে অনেকটা সময় ঘরের বাইরে কাটাতে হয় তাঁকে। কেউ সকালে গিয়ে বিকেলে ফেরে আবার কেউ বা ফেরে সন্ধ্যায়। তাঁদের মধ্যে অনেকেরই সন্তান খুবই ছোট। খুব স্বাভাবিক ভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে, কাজ করার সময় কোথায় রেখে যান তাঁরা তাঁদের সন্তানকে ?  বাসায় দাদি নানি থাকলে চিন্তা অনেকটাই কমে যায় কিন্তু, যে সকল পরিবারে দাদি নানি গ্রামে থাকে তাদের মহা বিপদে পড়তে হয়। তাঁরা তাঁদের সন্তানকে রেখে যায় গৃহ পরিচারিকার কাছে। এই গৃহ পরিচারিকাদের কাছে আমাদের সন্তান কতটা নিরাপদ ? এই প্রশ্নের উত্তর এখন খুব সহজে দেওয়া যায় না কারণ চারপাশে প্রতিদিন যা সব দুর্ঘটনার খবর শোনা যায় তাতে মন সংশয়ে ভরে ওঠে। যে কোনও সময় যে কোনও ধরনের বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে তা জেনেও নারীরা তাদের সবচেয়ে প্রিয় সন্তানকে রেখে যাচ্ছে গৃহ পরিচারকের কাছে বাধ্য হয়ে। কারণ এ ছাড়া তাঁদের কাছে আর কোনও পথ খোলা নেই। কিছু দিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও খুব বেশি ভাইরাল হয় সেখানে দেখা যায় এক গৃহপরিচারিকা কীভাবে ছোট্ট শিশুর উপর অত্যাচার নির্যাতন চালাচ্ছিল শুধুমাত্র কান্না করার কারণে। ছোট্ট দুধের শিশুটিকে গোসল করিয়ে এনে আছাড় দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় সে আবার কাপড় পড়ানোর সময় একই নির্যাতন চালাতে থাকে সে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় প্রচণ্ড রকমের আঘাত করে তাতে শিশুটির কান্না আরও বেড়ে যায় এবং সেটি দেখে গৃহ পরিচারিকা আরও জোরে মারতে থাকে।সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজে এই সকল অত্যাচারের দৃশ্য ধারণ হয়ে থাকে। এ ছাড়া আরেকটি ঘটনায় কিছুদিন আগে দেখা যায় যে নেপালে বিমান দুর্ঘটনার পর নেপালের বিমানের কেবিন ক্রু তার সন্তানকে বাড়িতে রেখে যেত এক গৃহ পরিচারিকার কাছে। কিন্তু দুর্ঘটনার পর তাঁর সেই সন্তানকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না এবং একই সাথে এই গৃহ পরিচারিকাকেও । এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা শুনে মানুষের মনে সংশয় জাগে আমরা কার কাছে রেখে যাচ্ছি আমাদের সন্তানকে ? সে কি নিরাপদে থাকতে পারবে আমি ফিরে আসার আগ পর্যন্ত ? এরকম ঘটনা বারংবার আমাদের সমাজে ঘটতে থাকলে মানুষ কার উপরেই বা বিশ্বাস রাখবে ? কীই বা হতে চলেছে এর ভবিষ্যত ? যেখানে ছোট্ট শিশুটিকে গৃহপরিচারিকার উচিত ছিল আদর যত্নে রাখা, তাদের সাথে খেলা করে কিংবা বাইরে ঘুরতে নিয়ে যেয়ে মনটা ভাল করা সেখানে কেন তারা এ রকম বিরূপ আচরণ করছে ? এতে তাদের স্বার্থটাই বা কী ? আবার অনেক সময় শোনা যায় কিছু গৃহ পরিচারিকা শিশুদেরকে কোলে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে পড়ে ভিক্ষা করার জন্য। একটি শিশু দেখলে অনেকেই দয়া পরশ হয়ে তাদেরকে ভিক্ষা দেয়। পৃথিবীতে এখন সবাই তার নিজের স্বার্থ নিয়ে ভাবনায় থাকে। এ জন্যই তাদের নিজের স্বার্থের বাইরে একটুও ভাবতে পারে না, যার কারনে অনেক মানবিকতার অভাব তাদের মধ্যে. এ কারণেই তাঁরা শিশুদের সাথে খারাপ ব্যবহার করার সময় বিন্দুমাত্র চিন্তা ভাবনা করে না। প্রতিনিয়ত এভাবে চলতে থাকলে কখনোই মানুষ অন্য কার ওপর বিশেষ করতে পারবে না। তবুও কর্মজীবী নারীদের কে এভাবেই তাঁদের সন্তানকে গৃহ পরিচারিকার হাতে সমর্পণ করে কাজে বেরতে হয় কারণ তারা যে নিরুপায়। আমরা কি একটা সুষ্ঠু সমাজ আশা করতে পারি না যেখানে কর্মজীবী নারীরা বেরিয়ে যাবে তাঁদের সন্তানকে নিশ্চিন্তে রেখে গৃহ পরিচারিকার হাতে ? আমরা সবাই আশা করি এমন একটি দিন আসুক যে দিন আমাদের সন্তানরা থাকবে নিরাপদ, সুস্থ, বিপদ মুক্ত।

প্রবাসী বাঙালীদের জন্য আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রক্সি ভোট ও পোস্টাল ভোট এর ব্যাবস্থা

Now Reading
প্রবাসী বাঙালীদের জন্য আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রক্সি ভোট ও পোস্টাল ভোট এর ব্যাবস্থা

রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে এক সেমিনারে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। সিইসি বলেছেন, ‘বর্তমানে প্রক্সি ভোট ও পোস্টাল ভোটের নিয়ম আছে যার মাধ্যমে প্রবাসীরা ভোট দিতে পারেন। আগামী নির্বাচনে এসব পদ্ধতি নিয়ে প্রচার করা হবে।’

উল্ল্যেখ যে, পোস্টাল ভোট পদ্ধতিতে একজন প্রবাসে বসবাসকারী বাংলাদেশী নাগরিক তার আবেদনের ভিত্তিতে পছন্দনুযায়ী যেকোনো যায়গা থেকে ভোট দিতে পারেন। প্রবাসীদের দেয়া ঠিকানায় আগে থেকে ব্যালট সরবরাহ করা হয় যা ভোট দেয়ার পর ডাকযোগে দেশে পাঠানো হয়। আর এ পদ্ধতি চালু রয়েছে ২০০৮ সাল থেকে। ২০০৮ এবং ২০১৪সালে দুই দফা প্রবাসীদের ভোটাধিকার দেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হলেও পরে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। আধুনিক প্রায় সকল দেশ তার প্রবাসে থাকা নাগরিকদের জন্য এই পোস্টাল ভোট এর ব্যাবস্থা বহু আগে থেকেই চালু করেছে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক আয়োজিত সেমিনারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল- প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান ও ভোটাধিকার প্রয়োগ। উক্ত সেমিনারে সিইসি বলেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট দেয়ার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা আছে নির্বাচন কমিশনের। প্রক্সি ভোট ও পোস্টাল ভোট এর মাধ্যমেই প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সংযুক্ত করা হবে। তবে তিনি এ পদ্ধতিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভোটার করতে প্রধান অন্তরায় হিসেবে দ্বৈত নাগরিকত্বকেই দেখছেন। সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে সাংবিধানিক সংস্থাটির এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক বলেছেন, প্রবাসে ভোট গ্রহণের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন যা একাদশ সংসদ নির্বাচন পরবর্তী বিষয়টি বিবেচনা করা হবে এবং এ বিষয়ে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম তার বক্তব্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশও তুলে ধরেন।  তিনি বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে দূতাবাসে লোকাল সার্ভার স্থাপন, প্রবাসীদের সংখ্যানুহারে রেজিস্ট্রেশন টিম তৈরি করে কাজ এগিয়ে নেয়া এবং নিবন্ধন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও দক্ষ আইটি কর্মকর্তা নিয়োগ করার উপরও গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরো বলেন, প্রবাসে ভোটগ্রহণে প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, বিপুল সংখ্যক ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যয়, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, সংহিসতা রোধ, পোস্টাল ব্যালটের স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করা। উক্ত সেমিনারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়াও অন্য চার নির্বাচন কমিশনার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রদূত ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশ নেন।

বুলিং এর কবলে শিশু-কিশোর’রা

Now Reading
বুলিং এর কবলে শিশু-কিশোর’রা

বুলিং শব্দটির সাথে মোটামুটি সবাই এখন পরিচিত। আন্তর্জাতিকভাবে এই বুলিং এর অর্থ হচ্ছে যখন কাউকে শারীরিক বা মানসিকভাবে আঘাত করা। যেমন-  ধাক্কা দেয়া, শারীরিকভাবে আঘাত করা, হেয়প্রতিপন্ন করা, মজা করা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, অপমান করে সবার সামনে ছোট করা ইত্যাদি। যে বা যারা এই কাজ করে তারা নির্দিষ্ট একটি গ্রুপ তৈরি করে তার নেতৃত্ব দেয়। তারা বুলি হিসেবে গণ্য হয় এবং গ্রুপে তারা বয়সে অন্যদের চেয়ে বড় ও দাপুটে হয়। বুলিং এমন একটা জিনিস যে বুলি অন্যদের নেতৃত্ব দেয়- তোমার সাথে মিশবনা বা খেলবনা ইত্যাদি বলে। যার ফলে বুলিং এর শিকার শিশু-কিশোররা একপ্রকার মনস্তাত্ত্বিক চাপে ভোগে। তারা বিভিন্ন বাহানা করে স্কুলে যেতে চায়না, বাসায় অকারণে ছোট ভাই-বোনের প্রতি আগ্রাসী মনোভাব দেখায়। মূলত স্কুল কলেজে পড়ুয়ারাই সহপাঠী কিংবা সিনিয়রদের দ্বারাই এই পীড়নের শিকার হয়। তাছাড়াও এলাকা ভিত্তিক কিশোরদের গ্রুপ কর্তৃকও বুলিং হয়। এমনকি নিজ বাড়ীতেও বুলিং এর শিকার হতে হয় বিশেষ করে শিশুদের। হয়ত বিষয়টির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচয় না থাকাতে আমরা খুব একটা গুরুত্ব দিইনা। এই যেমন চাচাত বা মামাত ভাই-বোনেরা কিংবা বড় কোনজন শিশুকে বলল- তুমি খুব পচা কিংবা তোমার চেয়ে অমুক বেশি ভাল কিংবা তুমি সুন্দর নও ইত্যাদি। এইসব বিষয়ও কিন্তু বুলিং এর আওতায় পড়ে কেননা একটা কিশোর কিংবা বাচ্চা এই ধরণের আচরণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। অপমান বোধ করাতে তার মানসিক বিকাশ প্রচণ্ড ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর বিরুপ প্রতিক্রিয়া পরে তার লেখা পড়া ও শারীরিক গঠনে। যার ফলে পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হয় এবং শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। এমনও হাজারো প্রমাণ আছে অনেক শিশু-কিশোর এই বুলিং এর শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছে।

শুধুই যে এভাবে বুলিং হয় তা কিন্তু নয়, ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অনলাইন গেম খেলার সময় শারীরিকভাবে আক্রান্ত ও হুমকির শিকার হয় এই তরুণ প্রজন্ম। তবে এসব ঘটে বিশেষ কিছু ওয়েবসাইটে অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মে।বিশ্বব্যাপী সাইবার বুলিংয়ের ঘটনা বিদ্যমান। শিশুরা অনলাইনে আপত্তিকর মন্তব্যের শিকার হয়, তার মধ্যে রয়েছে গালাগালি, বর্ণবাদী ও যৌনতা-বিষয়ক মন্তব্য যা তারা সহজেই অভিবাবক কিংবা পরিবারের সদস্যদের সাথে শেয়ার করতে পারেনা। তবে আশার কথা হচ্ছে যে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এসব অপ্রত্যাশিত ঘটনা প্রতিরোধে ইদানীং সচেতনতা বাড়ছে। ডিজিটাল অপরাধ কীভাবে এড়িয়ে চলা যায় এবং এ ধরনের অপরাধের শিকার হলে তা কীভাবে প্রতিহত করা সম্ভব, সে বিষয়ে তরুণদের মধ্যে পূর্বের চেয়ে সচেতনতা বাড়ছে।

তাই শিশু কিশোরদের এই বুলিং থেকে রক্ষা করতে উদ্দ্যেগ নিতে হবে অভিবাবক কিংবা পরিবারের সদস্যদের। তাদের সাথে বন্ধুর মত মিশে জেনে নিতে হবে তার সমস্যার কথা এবং তা নিরসনে যথাযথ ভুমিকা রাখতে হবে। প্রাসঙ্গিক সকল বিষয়ে তাদের উৎসাহ দিয়ে মনোবল বৃদ্ধি করতে হবে। তবেই একজন শিশু কিংবা কিশোর এই বুলিং এর মারাত্মক প্রভাব থেকে বের হয়ে আসতে পারবে। সকলের প্রত্যয় হউক যেন প্রতিটি শিশু কিশোরের নির্ভয়ে বেড়ে উঠার পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারি।

সিরিয়ায় খেল দেখাল আমেরিকা

Now Reading
সিরিয়ায় খেল দেখাল আমেরিকা

সিরিয়ার সামরিক স্থাপনায় একযোগে হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট আসাদ ও তার পরম মিত্র রাশিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল আমেরিকা। যে বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল হামলা হয়েছে সেখান থেকেই গত সপ্তাহে ডুমায় রাসায়নিক হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে আমেরিকার সাথে তার মিত্র ব্রিটেন-ফ্রান্সও এই হামলায় অংশ নিয়েছে। মিসাইল হামলার পর সকালে দামেস্কের রাস্তা অন্যান্য দিনের মতোই ব্যস্ত ছিল। তবে আপাতদৃষ্টিতে দেখা যাচ্ছে পশ্চিমা মিসাইল হামলা সিরিয়ায় বিশেষ কোনও প্রভাব ফেলতে পারে নি। এদিকে প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে একটি ছোট্ট ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট আসাদ কালো স্যুট পরিহিত অবস্থায় প্রেসিডেন্ট একটি বড় কক্ষে প্রবেশ করছেন। সেটিকে প্রেসিডেন্টের অফিস হিসেবে সিরিয়ার প্রচার মাধ্যম দাবী করছে আর তারা বলছে আসাদ এখনো অক্ষত আছেন। এদিকে হামলার পর সিরিয়ার বেসামরিক লোকজন রাস্তায় নেমে সেনাবাহিনী এবং প্রেসিডেন্ট আসাদের পক্ষে শ্লোগান দিয়েছে। তারা বলেছে, এই হামলার ভয়ে তারা মোটেই ভীত নন এবং কোন অবস্থাতে সিরিয়ার সেনাবাহিনী এবং বাশার আল আসাদের প্রতি তাদের সমর্থন হারাবেনা। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিরাশ হয়েছে প্রেসিডেন্ট আসাদ এর প্রতিপক্ষ সিরিয়ান বিদ্রোহীরা। তারা আশা করেছিল, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সিরিয়ার সরকারী বাহিনী যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা সিরিয়ায় পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে গুরুত্ব দিতেই নারাজ।  সিরিয়ার আসাদ বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলি আশা করেছিল, মিসাইলগুলো অপরাধের সরঞ্জামের ওপরে আঘাত হানার পাশাপাশি পেছনে থাকা অপরাধীকেও ঘায়েল করবে।


এই হামলার কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন-ফ্রান্স এর যুক্তি, রাসায়নিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে সিরিয়াকে বাধ্য করতে তাদের এই পদক্ষেপ। তাদের দাবী হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কথিত সেই ‘রাসায়নিক অস্ত্র গবেষণা কেন্দ্র।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের এ হামলাকে ‘নৃশংস এবং জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে তার নিন্দা জানিয়েছে। মিসাইল হামলার পরে প্রথম প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই হামলার ফলে সিরিয়ার মানুষ সন্ত্রাসবাদ শেষ করতে এখন আরও বদ্ধপরিকর হয়ে উঠবে। মি. আসাদ অভিযোগ করে বলেন, পশ্চিমা দেশগুলি সিরিয়াতে সন্ত্রাসবাদকে ক্রমান্বয়ে সমর্থন যোগাচ্ছে।

হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্য বাছাইয়ে আমেরিকা ও তার মিত্রদের মাথায় রাখতে হয়েছিল রাশিয়ার কথাটাও । রাশিয়া যেন প্রতিশোধ নিতে পাল্টা হামলা না চালায় সেই ঝুঁকি কমাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বেই সতর্ক করে দিয়েছেন এবং সিরিয়ায় রাশিয়ার সৈন্যদের অবস্থান করা এলাকাসমূহ হামলা চালানো থেকে এড়িয়ে গেছেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে এই হামলা চালানোতে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বৈশ্বিক অঙ্গনে। হামলাকারী তিনটি দেশ যুক্তি দেখাচ্ছে, তা হচ্ছে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে সিরিয়ায় তাদের এই পদক্ষেপ এবং এই হামলার লক্ষ্য প্রেসিডেন্ট আসাদের রাসায়নিক অস্ত্রের মওজুদ পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং সিরিয়ায় বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে এরকম আরো রাসায়নিক হামলা প্রতিরোধ করা। আমেরিকা ও তার মিত্র দেশসমূহের অভিযোগ, ২০১৩ সালে সিরিয়া রাসায়নিক নিরস্ত্রীকরণ সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সনদে সাইন করা সত্ত্বেও সিরিয়া তা লঙ্ঘন করে চলেছে।

অন্যদিকে আমেরিকা-ব্রিটেন-ফ্রান্স সিরিয়ার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নিয়েছে, তাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলছে রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, ” যে দেশটিকে সন্ত্রাসবাদের বিপক্ষে লড়াই করছে তাদের সার্বভৌমত্বের উপর এ হামলা চালানো হয়েছে।” তিনি মনে করেন, আমেরিকা এবং তাদের মিত্রদের এই হামলার ফলে সিরিয়ায় কেবল উদ্বাস্তু বাড়বে যেটি পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাবে। রাশিয়া দাবী করছে আমেরিকা, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স সিরিয়ায় যতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তার অধিকাংশই ধ্বংস করতে সমর্থ হয়েছে সিরিয়ান বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। রাশিয়ার বলছে, একশোর বেশি ক্রুজ মিসাইল ছুঁড়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা যেগুলোর কোনটিই রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষার ব্যবস্থার ভেতরে আসেনি। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেছেন, পশ্চিমাদের এ হামলার পরিণাম ভালো হবে না। সময়ে এ হামলার পাল্টা জবাব দেবার হুমকিও দিয়েছে রাশিয়া। আমেরিকার নেতৃত্বে সিরিয়ার উপর যে বহুজাতিক হামলা হয়েছে তা  নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই। জাতিসংঘ মহাসচিবও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে নিরাপত্তা পরিষদের মূখ্য ভূমিকাকে সবার উচিৎ শ্রদ্ধা জানানো।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে এক টেলিফোন-বার্তার সুত্র ধরে বাশার আল আসাদ তাঁর দপ্তরের টুইট অ্যাকাউন্ট থেকে জানিয়েছেন, “এই হামলার পরে সিরিয়া এবং সেখানকার নাগরিকরা দেশের প্রতিটি ইঞ্চি থেকে সন্ত্রাসবাদকে ধ্বংস করতে আরও বদ্ধপরিকর হয়ে উঠবে।” অন্যদিকে, মি. রুহানি ওই টেলিফোন বার্তার সময়েই সিরিয়ার প্রতি আবারও ইরানের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছেন বলে দাবী করা হয়েছে ওই টুইট বার্তায়। শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি তাঁর দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খামেনির সঙ্গে এক বৈঠকে সিরিয়ার উপড় এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, “মৃত্যু আর ধ্বংস ছাড়া মধ্য প্রাচ্যে মার্কিন হামলার অন্য কোনও ফল হবে না।

সিরিয়ায় অর্গেনাইজেশন ফর দ্য প্রহিবিশন অব কেমিক্যাল উইপনস (ওপিসিডাব্লিউ) কিভাবে তদন্ত করবে, এ বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরোধ দেখা দেয়। তদন্তের ব্যাপারে রাশিয়ার প্রস্তাবনায় আপত্তি জানায় পশ্চিমা দেশগুলি, আর অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলির প্রস্তাবে ভেটো দেয় রাশিয়া। যার ফলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটা অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এই অবস্থা যখন বিরাজ করছে ঠিক এমনি একটা সময় নিরাপত্তা পরিষদের তিন সদস্য, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স ক্রুস ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে সিরিয়ার সামরিক স্থাপনায়। তারা যুক্তি দিচ্ছে যে, রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কারণে সিরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে বাস্তব কোন সম্ভাবনা না থাকায় কেবল আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে তারা রাসায়নিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর করছেন।

নবজাতকের মৃত্যুতে বেকায়দায় স্কয়ার হাসপাতাল!

Now Reading
নবজাতকের মৃত্যুতে বেকায়দায় স্কয়ার হাসপাতাল!

ইদানীং কসাইখানা হিসেবে বেশ নাম ডাক কুড়িয়েছেন রাজধানীর অভিজাত স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড। দেশের আধুনিক হাপাতাল হিসেবে পরিচিতি থাকায় অনেকেই চিকিৎসা ব্যয় মাত্রাতিরিক্ত হওয়া সত্ত্বেও এই হাসপাতালের দিকে ঝুঁকেন কেবল ভাল একটা সেবা পাওয়ার আশায়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে এর উল্টো, চিকিৎসার নামে এই প্রতিষ্ঠান রীতিমত কসাইখানা খুলে বসেছেন। খুব একটা প্রভাবশালী কিংবা পরিচিত না হলেই সেবা প্রার্থীদের ভাগ্যে অবর্ণনীয় দুর্দশা অপেক্ষা করে। বলা যায় মানুষ বুঝে তারা তাদের আচরণ করেন। এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মূল্য তুলনামূলক দেশের অন্যান্য হাসপাতালের তুলনায় অনেক বেশি। সাধারণ মানুষজন এই প্রতিষ্ঠানের সেবা থেকে বঞ্চিত। আর যারা মোটামুটি কিছুটা স্বাবলম্বী বা বাধ্য হয়ে সেবার আশায় সেখানে যাচ্ছেন তাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফল সুখকর হচ্ছেনা। ভুক্তভোগীরা নিয়মিত এসব অভিযোগ বিভিন্নভাবে ব্যাক্ত করছেন। দেশের স্বনামধন্য ঔষধ তৈরির প্রতিষ্ঠান স্কয়ার এই হাসপাতালটি পরিচালনা করছে। নানা অনিয়ম এর মাঝে সবচেয়ে বেশি দুর্নাম ছড়িয়েছে চিকিৎসা অবহেলায় শিশু মৃত্যুর বিষয়টি। বেশ কিছুদিন যাবৎ এই তকমাটি তাদের ব্র্যান্ডে জড়িয়ে গেছে আর তা হল খরচ বাড়াতেই নাকি তারা ইচ্ছেমত গর্ভপাত করান! আর এই অভিযোগ খোদ যারা চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে ভুক্তভোগী তাদেরই। নরমাল ডেলিভারি এর ক্ষেত্রেও নাকি তারা সিজার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন রোগীকে। তেমনি এক ঘটনা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে, আজ সকালে এক হতভাগ্য দম্পতির শিশুর মৃত্যু ঘটেছে কেবল চিকিৎসকদের অবহেলার কারনেই। শিশুটির পিতা-মাতা এবং আত্মীয় স্বজনদের দাবী তাদের বাচ্চা সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। তারা বলেছেন, ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে যখন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ছিল তখন ওটি’তে থাকা চিকিৎসক রেহেনুয়া নাকি চাচ্ছিলেন সিজার করতে। পরে প্রসব বেদনার কষ্টে ভোগা তাসলিমা তারানুম নোভা(শিশুটির মা) অসহায় হয়ে যখন সিজার করতে রাজি হলেন তখন চিকিৎসক কালক্ষেপণ করে একাধিকবার বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা দিতে থাকেন। জানা যায়, গত ৫এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরেরদিন শুক্রবারে ডেলিভারি করে নবজাতকটিকে আইসিইউতে নিবিড় পরিচর্যার জন্য রাখা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারটির অভিযোগ আইসিইউ এর বিল ৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে গেলে তাদের উপর চড়াও হয় ঐ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা। অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসায় অবহেলা ও চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসা সব মিলিয়ে মারাত্মক এক দুর্নামে পরিগণিত হচ্ছে দেশের এই আধুনিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানটি। অনেকেই বলছেন দিনের পর দিন চিকিৎসা নিয়ে নানা অনিয়ন সত্ত্বেও তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকছেন তারা। বিষয়টা এমন যে অনেকেই ভাবেন তাদের ছাড়া দেশে উন্নত সেবা পাওয়ার আর কোন বিকল্প নেই। মানুষের এই বিশ্বাসকে পুজি করে তারা চিকিৎসার নামে দেশে এক প্রকার ডাকাতিতে নেমেছেন বলে অনেকের অভিযোগ। এর পূর্বেও অনিয়ম ও অব্যাবস্থাপনায় হাসপাতালটিতে গর্ভে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসবের কোন সুরাহাতো হয়নি বরং চিকিৎসকদের ব্যাপারে কোন ব্যাবস্থা নিতে গেলে উল্টো ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে গোটা দেশের চিকিৎসা সেবা প্রার্থীদের। ডাক্তারদের ভুলের বিপরীতে শাস্তিমূলক কোন ব্যাবস্থা নেয়াই যেন আরেকটি অপরাধ এই দেশে। যাক সেই দিকে না যাই। কারন এসব নিয়ে বলতে গেলে দেখা যাবে পরিচিত ডাক্তাররাই আমার চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেবেন…

আজকের ঘটনায় বেশি খারাপ লেগেছে যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখেছি শিশুটিকে নিয়ে তার পিতা-মাতার করুণ আহাজারি। বিবেকের কাছে প্রশ্ন- টাকার জন্য কি জীবনের কোন মূল্যই নেই এসব ডাক্তার নামের অপেশাদার মানুষের কাছে?

হতভাগ্য সেই নবজতাকের বাবা শাহবুদ্দিন টিপু সংবাদ মাধ্যমেই অভিযোগ করেছেন, ‘গত বৃহস্পতিবার তার স্ত্রীকে চেক-আপের জন্য স্কয়ারে নিয়ে আসলে গাইনি ডাঃ রেনুমা জাহান কয়েকটি চেক-আপ করে বলে দেন প্রসব বেদনা উঠলেই যেন তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু একই সময় ইমারজেন্সি রুম থেকে অন্য এক ডাক্তার বলেন, এখন সময় হয়ে গেছে তাই তার স্ত্রীকে ভর্তি করাতা হবে।  তার স্ত্রীর কোনো প্রসব ব্যথা না থাকায় তিনি ভর্তি করাতে ইচ্ছুক ছিলেন না। কিন্তু ডাক্তার এক প্রকার জোর করেই তার স্ত্রীকে ভর্তি করাতে বাধ্য করে এবং প্রসব বেদনার জন্য ইনজেকশন দিয়ে দেয়। আর শুক্রবার যখন তার স্ত্রীকে ডেলিভারি করানোর জন্য ওটি’তে নিয়ে যাওয়া হয় তখন তাকে জানানো হয় বাচ্চাটি মারা গেছে।

এখন প্রশ্ন হল, মারা যাওয়ার পরও কেন ৪দিন বাচ্চাটিকে আইসিইউতে রেখে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ? চিকিৎসা সেবার নামে এই অপেশাদারিত্বের দৌরাত্ন বন্ধ হবে কবে? এদের লাগামই বা টানবে কে? সরকারের উচিৎ এসব প্রতিষ্ঠানের উপর কঠোর নজরদারি করা যেন অকালেই কোন মা-বাবার কোল খালি হয়ে না যায়। ধিক্কার জানাই চিকিৎসা সেবার নামে চলা মুনাফাভোগীদের এসব ব্যাবসার। জীবনের কি কোন মূল্যই তাদের কাছে নেই? টাকার জন্য কি জোর করেই হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে? মৃত জেনেও চার দিন মৃত বাচ্চাটিকে কেন আইসিইউতে রেখে ৫ লাখ টাকার ব্যবসা করতে হবে? কে দেবে এর সদুত্তোর?

ভুক্তভোগীর ভিডিও স্টেটমেন্টঃ https://www.facebook.com/reza.u.karim.7/videos/10211729303488898/

উদারপন্থী আধুনিক সৌদি আরবের রূপকার প্রিন্স সালমান!

Now Reading
উদারপন্থী আধুনিক সৌদি আরবের রূপকার প্রিন্স সালমান!

সৌদি সিংহাসনের উত্তরাধিকারী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে রাতারাতি সৌদি আরবের অনেক রীতিতে সংস্কার আনছেন। শুধু রীতি নয় অনেক আইন কানুন এরও পরিবর্তন এনে কট্টরপন্থীদের এক প্রকার কোণঠাসা করে ফেলেছেন। বহু বছরের কট্টরপন্থী নিয়ম কানুন এবার শিথিল হতে শুরু করেছে সৌদি আরবে। সৌদি আরব সম্প্রতি তাদের সংস্কার নিতিমালা হাতে নিয়েছে আর যার মুল পরিকল্পনায় রয়েছেন যুবরাজ মোহাম্মদ। কিছুদিন পূর্বেই তিনি মেয়েদের গাড়ী চালানোর অনুমতি দিয়ে সৌদি নারীদের কাছে রীতিমত হিরোতে পরিণত হন। তার সুত্র ধরেই সম্প্রতি দেশটির এক শীর্ষ ধর্মীয় গুরু বলেছেন সৌদি মেয়েদের বোরকার মতো পোশাক পরিধানে তেমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে আরো অনেক বিষয়ের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে দেশটি যার পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করছেন যুবরাজ সালমান। সৌদি আরবের বেশ কিছু নিতিমালা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বহুদিন ধরেই সমালোচনা ছিল। যার মধ্যে নারী অধিকার অন্যতম।

যুবরাজের ভিশন ২০৩০ অনুযায়ী সৌদি আরব এখন সামাজিক সংস্কারের দিকে এগুচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সৌদি আরবকে কট্টরপন্থী খোলস থেকে বের করে আনতে চান যুবরাজ সালমান। আর তাকে সমর্থন যোগাচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব যার সবটায় তাদের স্বীকৃতি মিলছে। সৌদি বিনোদনের উৎকর্ষ বাড়াতে সম্প্রতি সিনেমা হলের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির রাজ পরিবার। সৌদি আরবের লোকজন সর্বশেষ হলে গিয়ে সিনেমা দেখেছে সেই ১৯৭০ এর দশকে। পরবর্তীতে দেশটির কট্টরপন্থী ইসলামিক নেতাদের ফতোয়ায় সিনেমা হলগুলো বন্ধ করে দেয় সৌদি রাজ পরিবার। এরপর বিগত ৩৫ বছর ধরে সেখানে আর কোনো সিনেমা হল ছিল না। কিন্তু সৌদি যুবরাজের ইচ্ছায় দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আগামী ১৮এপ্রিল রিয়াদে সারম্ভরে চালু হচ্ছে দেশটির প্রথম সিনেমা হল। একই প্রক্রিয়ায় আগামী ৫ বছরে আরো ৪০ টি সিনেমা হল চালু করা হবে  সৌদি আরবের ১৫ টি শহরে। প্রশ্ন হচ্ছে, সিনেমা হল আর বিনোদন কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে সৌদি আরব কি তার কট্টরপন্থী খোলস থেকে বেরুতে পারবে?

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন যুবরাজ সালমান আর এই সুযোগে তিনি বিশ্বের সবচাইতে বড় সিনেমা হল চেইন অ্যামেরিকান মুভি ক্লাসিকস বা এএমসির সাথে চুক্তি সেরে ফেলেছেন। নিজ দেশে মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে বিনোদন খাতে হাজারো কোটি ডলার খরচ করতে সৌদি আরব নিজেও আগ্রহী। বিনোদনের নানা উৎসে হাজার হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের অংশ হিসেবে প্রথম ধাক্কায় সিনেমা হল চালুর মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সালমান।  সৌদি আরবের ৭০ শতাংশ বিশাল জনগোষ্ঠীর বয়স এখন ৩০ এর নিচে। আর তারা বিনোদনের খোঁজে মরিয়া যার জন্য তারা দেশের বাইরে গিয়ে বহু টাকা খরচ করে ফেলে। আপাতদৃষ্টে ধারণা, সৌদিরা বিনোদনে দেশেই নিজেদের টাকা খরচ করুক সেটিই সৌদি যুবরাজ চাইছেন। সৌদি আরব নিজের দেশেই তাদের সেই সুযোগ করে দিতে আগামী পাঁচ বছরে পশ্চিমা বিনোদনের এবং গ্ল্যামারের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করতে চলেছেন। সৌদি আরব বিনোদনে বিশাল বিনিয়োগ করছে দেখে হলিউড এর রথী মহারথীরা তার ভাগ পেতে উদগ্রীব হয়ে উঠেছেন।

বিনোদনের কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে রক্ষণশীল সমাজ থেকে বের হয়ে আসার উদাহরণ দাঁড় করাতে চাইছে সৌদি রাজ পরিবার। আর সে উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যুবরাজ সালমান। ক্যালিফোর্নিয়ার বেভারলি হিলস এর বিলাসবহুল ফোর সিজনস হোটেলটির পুরোটাই ভাড়া নিয়েছিলেন যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান। আর তাতেই গান থেকে শুরু করে সাজ সজ্জা, খাবারের মেনুসহ সব কিছুতেই সৌদি আরবের ছোঁয়া লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। হোটেলটিতে যুবরাজ সালমানের দেয়া পার্টিতে হলিউডের সবচাইতে ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়েছিলেন। ডোয়েইন দা রক জনসনের মতো তারকারাও মেতেছেন যুবরাজের প্রশংসায়। ফিল্ম স্টুডিও হিরো ভেনচারের সিইও রিক লাইখট বলেন, “আমরা মার্ভেল কমিকস এর বিনোদন নিয়ে সৌদি আরব যেতে চাই। আশা করছি এ বছর শেষ হওয়ার আগেই সেই সুযোগ আমরা পেয়ে যাব। যুবরাজ সালমান দারুণ এক আয়োজন করেছেন”

যুবরাজ কিংবা রাজপুত্র কথাটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে রূপকথার দৃশ্য যেখানে তারা অনেক অসাধ্য সাধন করেন। কিন্তু সৌদি যুবরাজ রুপকথায় নয় বাস্তবেই রাতারাতি পরিবর্তন করতে চলছেন সৌদি আরবের বহু বছরের রীতি যা পূর্বের কোন যুবরাজ কিংবা বাদশাহ চেষ্টা করে দেখেননি। যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি যুবরাজকে দেখা গেছে ঐতিহ্যবাহী সৌদি পোশাক ছেড়ে স্যুট পরিধান করতে। মোটকথায় সৌদি আরবকে আক্ষরিক অর্থে একটি ফ্যাশন সচেতন আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করার মিশনে আছেন যুবরাজ সালমান। দীর্ঘ দিনের কট্টর সৌদি রীতিতে পরিবর্তনে খুবই উচ্চাকাঙ্ক্ষী ৩২ বছর বয়সী এই প্রভাবশালী যুবরাজ। তার ক্ষমতা আর অর্থ দিয়ে তিনি শক্ত হাতেই সব পরিস্থিতি সামাল দেয়ার সামর্থ্য রাখছেন। আর তাই বিনোদনে সৌদি সরকারের হাজার হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগের পরিকল্পনা এখন বাস্তবায়নের পথে।

কর্ণফুলীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ডলফিন?

Now Reading
কর্ণফুলীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ডলফিন?

চমকে উঠলেন নাকি? উঠারই কথা একসময় দৃশ্যপট এমন থাকলেও কর্ণফুলী নদীর চির চেনা গ্যাঞ্জেস ডলফিন বা গাঙ্গেয় ডলফিন কালের বিবর্তনে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।  চট্টগ্রামে স্থানীয়রা এদের উতোম আবার অনেকেউ শুশুক নামে ডাকে। এর ইংরেজি নাম Ganges River Dolphin আর বৈজ্ঞানিক নাম হল Platanista gangetica।  বেশ কয়েক বছর পূর্বের এক গবেষণায় জানা যায়- কর্ণফুলী ও এর আশে পাশের শাখা নদীতে গেঞ্জেস ডলফিনের সংখ্যা প্রায় ১২৫ এর মত। আর সারা বিশ্বে এই প্রজাতির ডলফিন আছে মাত্র ১১-১২শ’টি। হালদায় পূর্বে অধিক সংখ্যায় ডলফিন বিচরন করতে দেখা গেলেও, কালের পরিক্রমায় নদী দূষণ এবং বসবাস অনুপযোগী হওয়াতে বহু ডলফিন অসহায়ভাবে মারা যাচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন)’র লাল তালিকাভুক্ত হয়েছে এ ডলফিন। এর অর্থ দাঁড়ায়, এ প্রজাতির ডলফিন এর অস্তিত্ব হুমকির মুখে। ২০১২ সালের বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনের তফসিল-১ অনুসারে এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত বলে উল্ল্যেখ আছে।

স্থানীয় ও গবেষকদের অভিমত কর্ণফুলীতে এখন শতশত ড্রেজার। বালু উত্তোলনকারী এসব ড্রেজারের প্রপেলারের আঘাতে মারা যাচ্ছে একের পর এক ডলফিন। এসব ড্রেজারের সৃষ্ট কম্পন ও শব্দ দূষণে ডলফিনরা একস্থান হতে অন্য স্থানে ছুটাছুটি করে। দেখা যায় অনুকুল পরিবেশ থেকে তারা প্রতিকুল পরিবেশে প্রবেশ করে। তাছাড়াও নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও সাম্পানের দৌড়াত্ন বাড়ছে দিন দিন। এসবের ইঞ্জিনের ব্লেডে কাটা পড়ে মারা যাচ্ছে এই ডলফিন। এসব ডলফিনের চোখ নেই, মূলত ইকো সাউন্ড দিয়ে তারা চলাফেরা ও খাবার সন্ধান করে। এদের শরীরের গঠনও বেশ নরম প্রকৃতির ফলে ড্রেজারের প্রপেলার বা অন্য কোনো অংশের আঘাত এরা সহ্য করতে পারে না। পাশাপাশি নদীর পানিতে অতি মাত্রায় বর্জ্য জমে রাসায়নিক দূষণ এবং জেলেদের অবাধে মাছ ধরার কারণেও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে এ প্রজাতির ডলফিন। গত কয়েক মাসের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি মারা পড়েছে কর্ণফুলীর শাখা নদীতে। এ পর্যন্ত ভাসমান অবস্থায় ১৬টি মৃত ডলফিন পাওয়া গেছে। কর্ণফুলীতে প্রজনন শেষে এ ডলফিন বিচরণ করতে শাখা নদী হালদা ও সাঙ্গুতে প্রবেশ করে। কিন্তু হালদায় মাত্রাতিরিক্ত নৌযান চলাচল বেড়ে যাওয়ায় ব্যাঘাত ঘটছে এদের স্বাভাবিক জীবনচক্রে। এদিকে হুমকির মুখে আছে তাদের প্রজনন ক্ষেত্র কর্ণফুলীও। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এখনও যে স্বল্প সংখ্যক ডলফিনের দেখা মিলছে আগামী কয়েক বছরে হয়ত তাও হারিয়ে যাবে। ডলফিনের এই অস্তিত্ব সংকটে উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে এরই মধ্যে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে তারা। এ বিষয়ে ভিন্নমত এসেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী ও পরিবেশবাদী গবেষকদের তথ্যে, তাদের গবেষণা বলছে বন্দরের এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ডলফিনের প্রজনন ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বন্দরের জেটি নির্মাণ ডলফিন এবং সম গোত্রীয় অন্যান্য প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর হবে কিনা, তা জানতে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, পরিবেশ ও বন বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন এবং মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক আয়েশা আক্তার এ গবেষণা পরিচালনা করেন।তাদের অভিমত আটটি বিষয়কে গুরুত্বে নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে ডলফিনের জীববৈচিত্র্য ঠিক রাখা সম্ভব।

ডলফিন সংরক্ষণে বিশেষজ্ঞদের ৮টি সুপারিশ হলো-

১. নদীতে বিভিন্ন আবর্জনা, রাসায়নিক পদার্থ, তেল ইত্যাদি নিঃসরণে কঠিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।

২. নদীতে বন্দরের অপারেশন কাজের সময় সৃষ্ট শব্দদূষণ এবং নদীতে চলতে থাকা নৌযানের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা।

৩. নদীর পাড়ে থাকা বিভিন্ন কলকারখানার দূষিত বর্জ্য নদীতে আসতে না দেওয়া।

৪. ডলফিনগুলোর জন্য একটি জোন করা এবং ওই জোনে মাছ ধরা বন্ধ করা।

৫. শুস্ক মৌসুমে নদীর ওপরের শাখা নদী এবং অন্যান্য খালের বাঁধ অপসারণ করে পানির প্রবাহ ঠিক রাখা।

৬. অভয়ারণ্য এবং ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের আনন্দ দেওয়া।

৭. ডলফিন সংরক্ষণের জন্য জনসচেতনতা বাড়ানো এবং

৮. মনিটরিং সেল গঠন করা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক আয়েশা আক্তার এবং পরিবেশ বন বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন এর যৌথ গবেষণায় উক্ত সুপারিশখানা বন্দর কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়।

নদীতে অনেক দূষণ থাকার পরও এ প্রজাতির ডলফিনগুলো এখনও টিকে আছে বলে তাঁদের অভিমত।  তাই ডলফিনগুলো যেন অবাধে বিচরণ করতে পারে, তার জন্য আলাদা জোন করার প্রতি তারা গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

কর্ণফুলী নদী ঘিরে যেন তেন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে এর প্রাণীকুলে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দেয়ার সম্ভাবনা তাই অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করে তা বাস্তবায়ন প্রয়োজন। অন্যদিকে হালদাতে নাব্যতা কম, যা ডলফিনের বসবাস অনুপযোগী পাশাপাশি দূষণও হচ্ছে বেশ। সাগরের পানি প্রবেশ হলে কর্ণফুলী নদীতে লবণাক্ততা বেড়ে যায় তখন ডলফিন ওপরের দিকে উঠে হালদা ও সাঙ্গুতে চলে যায়। তাছাড়া প্রজনন শেষেও কর্ণফুলীর এসব শাখা নদীতে বিচরণ করতে চলে যায় মিঠা পানির এই গাঙ্গেয় ডলফিন। ফলে বসবাসের পরিবেশ সংকটে পড়ে সেখানে একের পর এক ডলফিন মারা যাচ্ছে। ডলফিনের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে জেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারাও মাঠে নেমেছেন। সবচেয়ে বেশি ডলফিন মারা যাওয়ার জায়গা হিসেবে একটি স্থান অধিক পরিচিতি লাভ করেছে স্থানীয়দের কাছে। হালদা নদী সংলগ্ন গড়দুয়ারা ইউনিয়নের গচ্ছাখালী খালটি বর্তমানে ডলফিনদের জন্য বিপদসংকুল হয়ে পড়েছে। গচ্ছাখালী খালের বিভিন্ন পয়েন্টে একাধিক মৃত ডলফিনকে সনাক্ত করা গেছে। গত ৬ মাসে ১৬টি ডলফিনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৭ এর ২৭ ডিসেম্বর গচ্ছাখালি খালের মাস্টার বাড়ি কালভার্টের নিচে পাওয়া যায় একটি মৃত ডলফিন, ২০১৮ এর ২ জানুয়ারি গড়দুয়ারা সুইস গেট এলাকায় এবং ৫ জানুয়ারি গচ্ছাখালি খালে আরও তিনটি মৃত ডলফিন ভেসে ওঠে। পরবর্তীতে হালদা নদী সংলগ্ন গড়দুয়ারা ইউনিয়নের গচ্ছাখালী খালের কান্তর আলী চৌধুরীহাট বাজারের সেতুর নিচেও একটি মৃত ডলফিন ভেসে ওঠে যেটি প্রায় ছয় ফুট দৈর্ঘ্যের ও আনুমানিক ৭০কেজি ওজন এর।

মৎসজীবী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত ডলফিন মারা যাওয়ার এ চিত্র অত্যন্ত বিপজ্জনক।  গচ্ছাখালি খাল ধরে হালদায় প্রতিদিন শত শত ড্রেজার চলাচল করে। আর এখানেই ড্রেজারের প্রপেলারের আঘাতে ডলফিনগুলো আহত হয় এবং পরে মৃত অবস্থায় ভেসে ওঠে। ডলফিনের মৃত্যুর প্রধান কারণ তাই এসব ড্রেজারকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। স্থানীয়রা মারা যাওয়া ডলফিনের গায়ে জখমের চিহ্ন দেখে থাকেন। নদীতে একদিকে ড্রেজার চলে অন্যদিকে মাছ ধরার জন্য অনেকেই গোপনে বিষ প্রয়োগ করে থাকেন। এসব কারণে ডলফিন বাঁচার উপযোগী পরিবেশ পাচ্ছে না।

কর্ণফুলীর শাখা নদী হালদার দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ কিলোমিটার যা প্রবাহিত হয়েছে হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলা ঘেঁষে। আবার এই হালদার সাথে সংযুক্ত আছে ১৭টি খাল। মুলত বিচরণ করতে এসব খালে এসে ডলফিনের মৃত্যু ঘটছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে একদিন হালদা ডলফিনশূন্য হয়ে পড়বে।

সুতরাং কর্ণফুলীর তীরবর্তী সকল মানুষের মত আমার দাবী  হালদার প্রিয় চেনামুখ এই ডলফিন রক্ষায় অবিলম্বে নদীতে ড্রেজারে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষের যথাযথ হস্তক্ষেপ এবং দ্রুত নদীটিকে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া ও ডলফিনের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হউক।

 

সুপারহিরো সোয়াত

Now Reading
সুপারহিরো সোয়াত

ইউরোপ ও আমেরিকাসহ উন্নত দেশগুলোতে সোয়াত টিমকে এলিট ফোর্স হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশে ২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রয়ারি আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইর আদলে গঠন করা হয় স্পেশাল উইপন্স অ্যান্ড ট্যাক্টিকস যা সংক্ষেপে সোয়াত নামে পরিচিত। এটি মুলত পুলিশের একটি এলিট ফোর্স হিসেবে স্পেশাল অপারেশন গুলি পরিচালনা করে। যেসব অভিযান সাধারণ পুলিশের পক্ষে পরিচালনা সম্ভব নয় সেসব ঝুঁকিপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অভিযান চালায় এ টিম। তাদের কাজের মধ্যে আছে- যদি কোনো হাই প্রোফাইল ব্যক্তি সন্ত্রাসীদের দ্বারা জিম্মি কিংবা অপহরণের শিকার হলে বা বড় ধরনের কোন জঙ্গি হামলা হয় তখন আক্রান্ত ব্যাক্তিদের উদ্ধার এবং সন্ত্রাসী বা জঙ্গিদের গ্রেফতারের কাজ করে সোয়াত টিম। আমেরিকাসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের ভিআইপিসহ অন্যান্য নাগরিকদের সোয়াত আলাদাভাবে নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। তার পাশাপাশি দেশে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সোয়াতকে তলব করা হয়। দুষ্কৃতকারীদের হাতে জিম্মি লোকজনকে উদ্ধারে সোয়াত টিমের সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ রয়েছে। একই সঙ্গে জঙ্গি হামলা মোকাবেলা ও ছিনতাই হওয়া বিমান উদ্ধার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে এ টিমকে। যদিও বিগত বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ, পহেলা বৈশাখ এবং বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে শোডাউন ছাড়া বড় ধরনের কোনো তৎপরতায় যেতে হয়নি এ টিমকে।

বর্তমানে নানা কারণে সোয়াত টিম বাংলাদেশের মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।  খুব শীগ্রই এই টিমকে এলিট ব্যাটলিয়নে রূপান্তর করার পরিকল্পনা আছে সরকারের, তবে আলাদা ব্যাটেলিয়ন তৈরির আগ পর্যন্ত সোয়াতের সদস্যরা বিগত বছরগুলোতে রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে মূলত ঢাকা মহানগর ও চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অধীনেই কাজ করেছে। বর্তমানে তারা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ইউনিটের সাথেও কাজ করছে। সোয়াত টিমের সদস্যদের সার্বিক প্রশিক্ষণ দেয় যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের অ্যান্টি টেরোরিজম অ্যাসিস্ট্যান্স (এটিএ) পাশাপাশি ভার্জিনিয়ায় অত্যাধুনিক অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণও নেয় এই টিমের সদস্যরা। এমন অনেকেই আছেন যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন একাধিকবার। সোয়াত সদস্যদের ট্রেনিং এর মধ্যে ছিল গ্লোক-১৭ পিস্তল ও এম-৪ রাইফেল হ্যান্ডলিং, ডায়নামিক এসল্ট, ভেহিকেল এসল্ট, টেকনিক্যাল প্ল্যানিং, ডাইভারশনালি টেকনিক প্রোগ্রাম ইত্যাদি। বর্তমানে সোয়াতের সদস্য সংখ্যা স্পষ্টভাবে নিরূপণ করা না গেলেও এরা প্রত্যেকেই কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তাছাড়া বাংলাদেশে সিলেটের স্কুল অব ইনফরমেটি অ্যান্ড ট্যাকটিস সেন্টারে সেনাবাহিনী দ্বারা হেলিকপ্টার রেপলিংবিষয়ক ট্রেনিং নিয়েছেন তারা। সোয়াতের প্রশিক্ষণে মাথাপিছু ব্যয় আনুমানিক লাখ টাকারও বেশি। সন্ত্রাসবাদ দমনে একটি চৌকস এলিট ফোর্স গড়তে মূলত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই টিমের জনবল বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। যেসব অস্ত্র সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইর সদস্যরা ব্যবহার করে থাকেন তেমনি সব অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র আমেরিকা থেকে আনা হয়েছে সোয়াতের জন্য। সোয়াতকে দিন দিন বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও আধুনিক অস্ত্র সরঞ্জাম দিয়ে শক্তিশালী করা হচ্ছে। সোয়াতের ব্যাবহার করা অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে আছে তুলনামূলক হালকা ও সহজে বহনযোগ্য ক্রিস সুপার ভি সাবমেশিনগান, আছে কারবাইন রাইফেল, ব্লক সেভেনটিন পিস্তল এবং স্নাইপার রাইফেলসহ বিপুল পমিরাণ অস্ত্র ও গোলা-বারুদ। সোয়াতের জন্য কেনা হয়েছে দুটি অত্যাধুনিক বুলেটপ্রুফ সোয়াত ভ্যান যার চাকা গুলিবিদ্ধ হলেও নির্বিঘ্নে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে।

কোটি টাকা ব্যয়ে সোয়াতের জন্য মিরপুরের পাবলিক অর্ডার মেনেজমেন্ট (পিওএম)-এ তৈরি করা হচ্ছে স্যুট হাউস যেখানে টিমের সদস্যদের পাশপাশি পুলিশের অন্য সদস্যদেরও বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে । ২০০৮ এর অক্টোবরে শুরুর দিকে সোয়াতের সদস্য ছিল মাত্র ২৪ জন। যার মধ্যে ২জন সহকারী পুলিশ কমিশনার, ২জন ইন্সপেক্টর, ৪জন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ও ২জন সার্জেন্টসহ প্রত্যেক চৌকস পুলিশ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয় বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য। প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফেরার পর তাদের দিয়ে সোয়াতের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

গুলশানে জঙ্গি হামলার ঘটনায় জিম্মি উদ্ধারে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সোয়াত বাহিনীকে প্রত্যাশিত ভূমিকায় দেখা যায়নি। অভিযানের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকলেও উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে তাদের অভিযান চালানো থেকে বিরত রেখে সেনাবাহিনীর কমান্ডোদের দায়িত্ব দেয়া হয়, যদিও অভিযানের দ্বিতীয় স্তরের দায়িত্বে ছিল তারা। কিন্তু কল্যানপুর এবং নারায়ণগঞ্জের পাইক পাড়ায় জঙ্গি আস্তানা দুটোর অপারেশনে SWAT সদস্যরা যে মাত্রার ঝুঁকি নিয়ে সফল অপারেশন চালিয়েছে তাতে সর্বমহলে তাদের প্রতি আস্থা বহুগুণে বেড়ে যায়। জনবহুল এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের কোন প্রকার জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া সফল অভিযান তাদের প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাবনাকে অধিকগুণে জাগিয়ে তুলেছে। তাই পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যাণ্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এর মতো মনে করি সাম্প্রতিক জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় সোয়াত কার্যত সুপার হিরোতে পরিণত হয়েছে।

 

শ্রীলংকা কি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে আদৌ নিরাপদ?

Now Reading
শ্রীলংকা কি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে আদৌ নিরাপদ?

গতকাল বাঘের গর্জনে কেঁপেছে শ্রীলংকার প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম। পালাবার পথ খুঁজে পায়নি লংকানরা কথাটা এই অর্থেই বলা তারা আসলে লজ্জায় মুখ লুকাবার জায়গা খুঁজেছিল। স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেনি বাংলাদেশের কাছে তাদের এভাবে হেরে যাওয়া তাও আবার নিজেদের ঘরের মাঠে। গত ম্যাচের মুশফিকের মতই এইবার জয়ের নায়ক ছিলেন মাহমুদউল্লাহ।  ১৮ বলে অপরাজিত ৪১ রানে ভর করে ফাইনালের টিকিট পেয়ে যায় টিম বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহর নৈপুণ্যেকেই ম্যাচ জেতার কৃতিত্ব দেয়া যায়। চার বলে ১২ রানের প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। স্নায়ু চাপে পড়েছে গোটা বাংলাদেশের দর্শক, জানিনা এই অবস্থায় কিভাবে টিকে থাকার শক্তি পেয়েছেন উইকেটে থাকা মাহমুদউল্লাহ! দুঃসাহসিক যোদ্ধার মত বুক চিতিয়ে খেলেছেন তিনি। উদানার করা তৃতীয় বলে চার, চতুর্থ বলে দুই ও পঞ্চম বলে বিশাল ছক্কায় বাংলাদেশকে এনে দেন রুদ্ধশ্বাস জয় এবং নিদাহাস কাপের ফাইনালের টিকিট।

প্রথমে ব্যাট করতে নামা শ্রীলংকা সাত উইকেটে নিয়েছিল ১৫৯ রান জবাবে বাংলাদেশ দুই উইকেট ও এক বল হাতে রেখেই ১৬০রান তুলে নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে। ১৮ বলে অপরাজিত থেকে ৪৩ রানের ইনিংস খেলে মাহমুদউল্লাহ হয়েছেন ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ।

১৫৯ রান তাড়া করে দলীয় ১১ রানে লিটন দাস ডাক নিয়ে ফিরেন ড্রেসিং রুমে। সাব্বির রহমান আউট হন ১৩রানে, তামিম-মুশফিকের দায়িত্বশীল জুটিতে ভর করে জয়ের পথে পা বাড়ায় বাংলাদেশ। ১৩তম ওভারে এসে ঘটে বিপত্তি মাত্র ৬৪ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হওয়া জুটি থেকে ছিটকে পড়েন মুশফিক, ২৮রানে কভারে ক্যাচ হয়ে যান তিনি। যদিও উজ্জ্বল ছিলেন তামিম, তিনি ৪১ বলে ম্যাচের পঞ্চম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কিন্তু ব্যাক্তিগত ৫০রানেই গুণাথিলাকার বলে তিনিও ক্যাচ দিয়ে ফিরেন। এদিকে দলীয় ১০৯ রানের মাথায় দুর্ভাগ্যবশত সৌম্যও ব্যাক্তিগত ১০ রান নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন। ১২ রানে যখন তিন উইকেট এর পতন তখন মারাত্মক স্নায়ু চাপে বাংলাদেশ। কিছুটা এলোমেলো হলেও পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থানে ফেরার দারুণ চেষ্টায় ছিল টাইগার দল। একপর্যায়ে ভরসা জাগিয়েছিল মাহমুদউল্লা-সাকিব জুটি, কিন্তু ১৮তম ওভারে সাকিব ব্যাক্তিগত ৭রান যোগ করে ফাইন লেগে ধরা পড়েন। এবার দলের জন্য ত্রাতা হয়ে ক্রিসে আশা জাগান মাহমুদউল্লাহ-রুবেল জুটি।

ম্যাচে ৬ বলে ১২ রানের স্নায়ুর যুদ্ধে প্রথম দুটি বলে আসেনি কোনো রান। তারমধ্যে দ্বিতীয় বলে মুস্তাফিজ হয়েছেন বিতর্কিত রানআউট। পরপর দুটি বাউন্সার অথচ নো বল দেননি আম্পায়ার! পিচে থাকা মুস্তাফিজের মাথার ওপর দিয়ে অস্বাভাবিকভাবে বল চলে যাওয়াতে আম্পায়ার প্রথমে নো বল দিলেও পরে সিদ্ধান্তটি তুলে নেন। মেনে নিতে পারেননি টাইগার অধিপতি সাকিব, রিজার্ভ আম্পায়ারের কাছে তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ করেন। গোটা দল তখন মাঠে, টাইগার দলপতি ইশারায় মাহমুদউল্লাহ-রুবেলকে বের হয়ে আসার নির্দেশ দেন। প্রায় সীমানার কাছে চলেও এলেও টিম ম্যানেজারের হস্তক্ষেপে ম্যাচে ফিরে যায় তারা। এর পরেই তো সব ইতিহাস…

শুরুতেই একটু নেতিবাচকভাবেই শ্রীলংকাকে উপস্থাপন করেছি এর সঙ্গত কারনও অবশ্য আছে। ম্যাচে তাদের করুণ পরিণতি দেখে বেসামাল হয়ে পড়েছিল শ্রীলংকান দর্শকরা, শুধু দেশের টানে খেলা দেখতে যাওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেট পাগল দর্শকদের হেনস্তা করেছে তারা। শুধু তাই নয় শ্রীলংকার এসব উস্রিঙ্খল দর্শক স্বয়ং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের সামনেই শারীরিক আক্রমণ করে বসে বাংলাদেশী ক্রিকেট ভক্তদের। ভিডিওতে বাংলাদেশী দর্শকদের অভিযোগ নিয়ে কাঁদতে দেখে দর্শক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, ক্রিকেটের এই বিমাতা সুলভ আচরণে আদৌ কি শ্রীলংকা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনে অধিকার রাখে কিনা?

সর্বশেষ আরেকটু হাস্যরসের যোগান দিয়ে যাই- ফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট বক্সের আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড যানবাহনের যে কার পাস ছেপেছে, তাতে আগে ভাগেই ফাইনালের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ‘ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা এর নাম আছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনসহ প্রেসিডেন্ট বক্সের সকল আমন্ত্রিত অতিথিই পেয়েছেন এই কার পাস, জানা গেছে টুর্নামেন্টের শেষ দুই ম্যাচের জন্য দু-তিন দিন আগেই ‘ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা’ ছাপিয়ে ফাইনালের কার পাস সরবরাহ করে শ্রীলঙ্কা বোর্ড। ম্যাচের পূর্বেই ভাগ্য নির্ধারণ করা এই কার পাস সত্যি আনন্দের খোরাক হিসেবে জন্ম দিয়েছে, আর টিম বাংলাদেশ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে তারা কি জিনিস।  

ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে ট্রফির জন্য লড়বে বাংলাদেশ। তাতে যদি বাংলাদেশ জিতে যায় সত্যি বলছি মাইরি এইবার নাগিন নৃত্যটি আমিও একবার চেষ্টা করে দেখতে পারি।