স্মার্ট ফার্মিং এ নতুন সংযোজন ড্রোন ব্যবহার

Now Reading
স্মার্ট ফার্মিং এ নতুন সংযোজন ড্রোন ব্যবহার

ড্রোন ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন? শুনে চমকে উঠার মতনই খবর, হ্যাঁ ঠিক এমনটাই হচ্ছে আধুনিক স্মার্ট ফার্মিং এ। আসলে সত্যি বলতে কি ড্রোন যে ফসল উৎপাদন করে দিচ্ছে তা কিন্তু নয়, বরং এ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে শ্রমিক ও শ্রম ঘণ্টা বাঁচিয়ে বিস্তীর্ণ কৃষি ভূমিতে অনায়াসেই নজরদারি করা এবং পানি ও কীটনাশক স্প্রে করা যাচ্ছে। ঠিক এই পদ্ধতি ব্যবহার করে দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ অঞ্চলের খামারি দারুণ সাফল্য পেয়েছে। ফার্স্ট ফ্রুট গ্রুপ নামের একটা কৃষি ফার্মে ড্রোন ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোতে ব্যাপক সাফল্য এসেছে। এবং চেষ্টা চলছে এই পদ্ধতি কিভাবে আরো উন্নতর করা যায়। ফার্মটির লেবুর বাগানে দ্রোণ এর সাহায্যে বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে নজরদারি করা হয়। ফার্মের কোথাও বেড়া উপড়ে গেল কিনা বা কোথাযও পানি কমে ফসল শুষ্ক হয়ে গেল কিনা বা ফার্মের কোন কোন অংশে তুলনামূলক ফসল কম হয়েছে কিংবা ফার্মের কোথায় মাটির চেহারা দেখতে কেমন এ সবই উঠে আসবে ড্রোনের তোলা ছবি থেকে। এ সম্পর্কিত ড্রোনের রোজকার ডাটা জমা হয়ে যাবে কম্পিউটারে যা দেখে নিয়মিত বিশ্লেষণ করা যাবে কর্মপন্থা।

পৃথিবীর দুই তৃতীয়াংশ অনাবাদি চাষযোগ্য জমি রয়েছে আফ্রিকাতে। যা কৃষি উপযোগী করে তুলতে না পারলে কিংবা সহসাত কৃষি নির্ভর করে না তুললে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম চরম এক খাদ্য সংকটে ভুগবে। কেননা জাতিসংঘের হিসেব মতে ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে দশ বিলিয়নে। আর এত বিপুল সংখ্যক মানুষের বিপরীতে তার খাদ্যের যোগান দিতে হিমশিম অবস্থায় পড়তে হবে। আর তাই এই সময়ের মধ্যেই পৃথিবীর অনাবাদি জমিতে কৃষি উৎপাদন অন্তত ৭০ শতাংশ বাড়াতে হবে। তাই জাতিসংঘের নজর এখন আফ্রিকা অঞ্চলে, তারা বলছে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে আফ্রিকার দেশগুলোকেই। কৃষিতে ড্রোনের মতো প্রযুক্তির এই ব্যবহার তরুণ প্রজন্মের কাছে কৃষিকে নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয় করে তুলবে পাশাপাশি আফ্রিকার কৃষির চেহারাও বদলে দিবে দ্রুত। কিন্তু এই মুহূর্তে আফ্রিকা অঞ্চলে ইন্টারনেটের গতি শ্লথ হওয়ায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে এই পদ্ধতি বা ব্যবস্থা। ড্রোন ব্যবহারের এই পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে স্মার্ট ফার্মিং। এই পদ্ধতি সম্পর্কে সংবাদ মাধম্যে উচ্ছ্বাসের সাথে ফার্স্ট ফ্রুট গ্রুপ ফার্মটির প্রধান নির্বাহী হাইন গার্বার বলেছেন , “সাধারণত আপনার চোখ যতদূর পর্যন্ত যাবে আপনি শুধুই তাই দেখবেন অর্থাৎ একটা নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাছাড়া সময়ের ব্যাপারটাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। আর এই দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করবে দিনে বাগানের নির্দিষ্ট কতটুকুর উপর নজর রাখতে পারছি। কিন্তু ধরুন বাগানের অন্য কোন অংশে আপনার যাওয়া হলো না আর সেখানে কোন সমস্যা হয়ে গেলো।” সেই সমস্যারই সমাধান করে দিচ্ছে ড্রোন। আপনি নিজে উপস্থিত না হতে পারলেও উড়ে উড়ে পুরো বাগানোর উপর নজর রাখছে দুর থেকে পরিচালিত ছোট এই উড়ন্ত যন্ত্রটি। উল্ল্যেখ্য যে, গার্বারের ফার্মে উৎপাদিত লেবুর বেশির ভাগই রপ্তানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে। আর বাকিটা চলে যাচ্ছে স্থানীয় সুপার মার্কেটসহ অন্যান্য স্থানে।

আফ্রিকা অঞ্চলে এই মুহূর্তে মাটির আর্দ্রতা রক্ষা করা সবচাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জের। এর প্রধান কারণ ওয়েস্টার্ন কেপ অঞ্চলে এই মুহূর্তে খরা বিরাজ করছে। তাই বাগানগুলোতে সঠিকভাবে সেচ ব্যবস্থাপনা তদারকিতে ড্রোন ব্যবহার ব্যাপক সফলতা এনে দিচ্ছে যা কোন কিছু সমস্যা হয়ে ওঠার আগেই ধরে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে। ঐ অঞ্চলের অন্যান্য খামারিরাও মোবাইল ফোনে অ্যাপ দিয়ে নিজেরাই যাতে ড্রোন পরিচালনা করে বাগান পরিচর্যা করতে পারে সে ব্যবস্থাও চালুর ব্যপক চেষ্টা চলছে। এই পদ্ধতিতে যদি কৃষি কাজ বা বাগান পরিচালনা করে সফলতা অর্জন করা যায় তবে নিঃসন্দেহে আগামী বছর গুলোতে স্মার্ট ফার্মিং বিশ্বের সবাইকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করবে বলে বিশ্বাস।

 

বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন “সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মা”

Now Reading
বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন “সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মা”

বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির অর্থাৎ সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে ভারত, যার নাম ‘ব্রহ্মা’। তারা ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল উৎক্ষেপণও করেছে।  এদিকে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের হাতে থাকার খবরে চিন্তিত ন্যাটো বাহিনীও। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের দ্রুত উত্থান অশনিসংকেত হিসেবে বিবেচনা করে প্রতিবেশী দুই দেশ চীন ও পাকিস্তান। এদিকে ব্রহ্মার সফল উৎক্ষেপণ এর পর বিগত দেড় দশকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে ভারতের দ্রুত উত্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রহ্মা’ই ভারতের প্রথম কোনো ক্ষেপণাস্ত্র, যার কার্যক্ষমতা ১০ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বজায় থাকবে। তবে  ব্রহ্মা ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি হয়েছে ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে যা দ্রুতবেগে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। দুই পরাশক্তির যৌথভাবে তৈরি ব্রহ্মা বিশ্বের সমরাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে। খাড়াখাড়িভাবে উৎক্ষেপণে সক্ষম হওয়ায় এ ক্ষেপণাস্ত্র রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম। যদিও রাডার ব্রহ্মাকে চিহ্নিত করতে পারে কিন্তু মাঝপথে তা থামিয়ে কিংবা রুখে দেওয়া কার্যত কঠিন হবে। ভারত তার ব্রহ্মা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির মাধম্যে মার্কিন টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকেও বহু পেছনে ফেলে দিয়েছে। যেখানে টমাহক ক্রুজ মিসাইলের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯০ কিলোমিটার সেখানে ব্রহ্মা ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৭০০ কিলোমিটার। অর্থাৎ টমাহকের চেয়ে প্রায় ৪গুন বেগে লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম ব্রহ্মা। বলা চলে ভারতের ব্রহ্মা ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়কেই টেক্কা দিয়ে দিয়েছে।

রাশিয়া তার নিজের সামরিক বাহিনীর জন্যও ব্রহ্মা ক্ষেপণাস্ত্রের একটি সংস্করণ তৈরি করেছে, তবে ভারতেরটির তুলনায় তার পাল্লা কম। ভারতের ব্রহ্মা সংস্করণটির আওতা বাড়িয়ে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। ব্রহ্মার দুটি সংস্করণ ইতিমধ্যেই ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যার একটি ভূমি এবং অপর সংস্করণটি জাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য। তবে শীঘ্রই যুদ্ধবিমান ও সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপণযোগ্য অপর দুটি সংস্করণও ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির অপেক্ষায়।

ভারতে ওডিশার চণ্ডীগড়ে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর অত্যাধুনিক মিসাইল ফ্রিগেট থেকে ব্রহ্মার সফল উৎক্ষেপণ করা হয়। এটিকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন স্থল, রণতরী, সাবমেরিন ও যুদ্ধবিমান থেকে সহজেই নিক্ষেপ করা যায়।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব প্রযুক্তির অগ্রগতি নাকি ঝুঁকি!

Now Reading
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব প্রযুক্তির অগ্রগতি নাকি ঝুঁকি!

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বলতে কি বুঝানো হচ্ছে তা একটু জানা প্রয়োজন। কেনই বা এই বিষয়টি নিয়ে সবার এত মাতামাতি এবং আগ্রহ। তবে সহজ অর্থে এই চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বলতে ডিজিটাল বিপ্লবকেই ধরা হচ্ছে। আর এই ডিজিটাল বিপ্লবকেই কেনবা চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বলা হচ্ছে তা নিয়েও অনেকের আগ্রহ চরম মাত্রায়। এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জড়ো হয়েছিল রাজনৈতিক নেতা, উদ্যোক্তা, বহুজাতিক করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, প্রযুক্তিবিদ ও বিশ্লেষকেরা। সেখানে আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আর এই ডিজিটাল শিল্পবিপ্লবকে নিয়ে সেখানে হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা ও বিশ্লেষণ। কেননা বর্তমান বিশ্ব একটা সংকটময় মুহূর্ত পার করছে যার মধ্যে বৈষম্য অন্যতম। প্রায় প্রত্যেক দেশের মধ্যেই সমাজে বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই গতি অব্যাহত আছে। পুঁজিবাদ ক্রমশ গ্রাস করে চলেছে বিশ্বকে। আর এই পুঁজিবাদ এ পর্যন্ত অতিক্রম করেছে চারটি শিল্পবিপ্লব। মানবসভ্যতার ইতিহাসে বিগত তিনটি শিল্পবিপ্লব আমূল পরিবর্তন এনেছে বিশ্বের গতিপথে। প্রথম শিল্পবিপ্লব হয়েছিল ১৭৮৪ সালে তখন বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কার সারা বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছিল। তার প্রায় ১০০ বছর পর ১৮৭০ সালে বিদ্যুৎ আবিস্কার মানুষকে দিয়েছিল আলোকিত বিশ্ব এবং সাথে সাথে পণ্যের বহুল উৎপাদন বিশ্বকে পৌঁছে দেয় নতুন এক মাত্রায়। ১৯৬৯ সালে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের আবিষ্কার শিল্পবিপ্লবের গতিকে বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ। সে সময় বলা হয়েছে এই ইন্টারনেটই পরবর্তী ৪র্থ বিপ্লবকে বেগবান করবে, সে ধারণা এখন বাস্তবতায় রুপ পাচ্ছে। তবে আলোচনার পূর্বের তিনটি বিপ্লবকে ছাড়িয়ে যেতে পারে এই ডিজিটাল বিপ্লব অর্থাৎ যাকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হিসবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এখন সারা দুনিয়ায় রীতিমত তোলপাড় চলছে। রোবটিকস দ্বারা নিরাপত্তা, কারখানার বিপদজনক কাজ, স্থাপনার শ্রমিক, কিংবা স্রেফ নিরাপত্তা প্রহরী বা গৃহস্থালি কাজ সব কাজই করবে এই রোবট। এই বিপ্লব মূলত প্রযুক্তির বিপ্লব যা পৃথিবীর মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে এক ধাপেই ১০০ বছর সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। প্রযুক্তির উৎকর্ষতাকে কাজে লাগিয়ে পরিবর্তিত-পরিবর্ধিত হবে শিল্প-অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রই। এই পরিবর্তন বিশ্বের সকল মানুষের জীবন মান উন্নত করবে এবং আয় বাড়াবে সব শ্রেণির মানুষেরই। আসুন এই ডিজিটাল শিল্প বিপ্লব আমাদের জীবনে কেমন প্রভাব রাখছে তা একটু দেখি। ডিজিটাল বিপ্লবের অন্যতম একটি অনুষঙ্গ এখন ইন্টারনেট অফ থিংস। বর্তমানে অনেকের বাসার সকল আসবাবপত্র ও স্থাপনা ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোনের সাথে যুক্ত। আর আমরা এই সকল ডিভাইসের মাধম্যে তা নিয়ন্ত্রণ করি-এই সিস্টেমকেই বলা যায় ইন্টারনেট অফ থিংস। এছাড়াও বিদ্যুতের বিল ও গ্যাসের বিল এখন আর স্বশরীরে গিয়ে দিতে হয় না এবং এ নিয়ে আমাদের আর চিন্তাও করতে হচ্ছে না, বিলটি স্বয়ংক্রিয় ভাবে চলে আসছে আমাদের স্মার্টফোনে এবং মোবাইল পে করেই তার সমাধান পাচ্ছি। বাসায় বাজার নেই ফ্রিজ খালি তা আপনা থেকেই জানিয়ে দেবে ফ্রিজ। শরীরের পুষ্টি উপাদানের স্বল্পতা তাও জানিয়ে দেবে এখন স্মার্টফোনের স্ক্রিন! সুস্থতায় রোগ নির্মূলে আসবে কঠিন অসুখের প্রতিষেধক, আবিস্কার হবে নিরোগ জীন যার ফলে বংশগত রোগ আর বিস্তার ঘটবেনা। আর সূক্ষাতিসূক্ষ্ণ অস্ত্রোপচার করতে ছুরিকাঁচি ছাড়া কম্পিউটারের দক্ষ হাতের বহুল ব্যবহার শুরু হবে এই বিপ্লবে। অটোমেশন পদ্ধতির কথা বলা হচ্ছে এখন, এই অটোমেশন কারখানার সবকটা মেশিন এমন একটি সিস্টেমের সাথে যুক্ত থাকবে যা স্বয়ংক্রিয় চালনা করবে এবং পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও অত্ত্বাবধান করবে। ফলে বাঁচবে শ্রম ঘণ্টা ও খরচ, কমবে মানবিক ত্রুটি।

প্রতিটি শিল্প বিপ্লবের প্রাককালে মানুষের আশার সঞ্চার হলেও এর বিপরীতে নেতিবাচক অনেক প্রতিক্রিয়া তৎসময়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। বিজ্ঞানের সহায়তায় প্রতিটি শিল্প বিপ্লবই তার বিরাট আবিষ্কার ও পরিবর্তনের মাধম্যে মানুষের জন্য অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে মানুষ উপকৃত হওয়া সত্ত্বেও প্রতিটি পরিবর্তন আবার মানুষের জন্য নিরঙ্কুশ সুখের কারন হয়নি। বরং সুখের বিপরীতে অনেক দুঃখ-দুর্দশাও তাকে গ্রাস করেছে। একেকটি শিল্পবিপ্লব একদিকে যেমন উন্নয়নের দ্বার উন্মোচন করেছে তেমনি বহু মানুষকে করে দিয়েছে বেকার ও অসহায়, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের মধ্যে নিপতিত হয়েছে তারা।

বর্তমানে যে শিল্প বিপ্লবের তোড়জোড় শোনা যাচ্ছে তাতে ঝুঁকির মাত্রা অনেক বেশি। রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে অধিক ব্যবহারের প্রতিযোগিতা চলছে। কিভাবে শিল্প কারখানা কিংবা অন্যান্য ক্ষেত্রে রোবট বা প্রযুক্তি ব্যাবহার করে শ্রম কম করা যায় তাই এখন মুখ্য। এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটের ক্ষেত্রে পারিবারিক, নৈতিক ও সামাজিক প্রভাব অনেকটা অকল্পনীয় হতে পারে। এর বিপরীতে বেকারত্ব, উন্মূল হওয়া, মজুরি হ্রাস ইত্যাদি ঝুঁকিতো থাকছেই। প্রযুক্তি বিপ্লব সরকারি সকল সেবাকে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে নিয়ে আসবে, আবার অন্যদিকে বিধ্বংসী মারণাস্ত্রের সহজলভ্যতা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেবে। নিরাপত্তা ঝুঁকির এ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে এই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবই, সেই আশঙ্কাও হাতছানি দিচ্ছে।

তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে আক্ষরিক অর্থেই ৪র্থ শিল্প বিপ্লব পৃথিবীতে আমূল পরিবর্তন আনবে। যোগাযোগব্যবস্থা আসবে অভাবনীয় উন্নত সংস্করণ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হবে সহজতর। সকল রাষ্ট্রের সরকার পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণে ডিজিটাল বিপ্লব আনবে বড় যুগপোযুগি পরিবর্তন।

মহাকাশে যাচ্ছে বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট

Now Reading
মহাকাশে যাচ্ছে বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট

দারুণ একটা সুখবর দেশের মানুষের জন্য, আগামী ৭ মে রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যেই বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হতে যাচ্ছে। যদিও উৎক্ষেপণের সম্ভাব্য তারিখ ৪ মে ছিল এখন তা পরিবর্তীত হয়ে ৭ মে নির্ধারণ হয়েছে। আবহাওয়াগত কোনো সমস্যা না থাকলে এবং স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পেসএক্স’ যদি নতুন করে তারিখ নির্ধারণ না করে তবে আগামী ৭ মে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশের পথে যাত্রা করবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ কেনাভেরালের লঞ্চ প্যাড থেকে স্পেসএক্স-এর ফ্যালকন-৯ রকেটের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষপণ করা হবে। ফ্রান্সভিত্তিক বিশ্বের শীর্ষ এবং অন্যতম খ্যাতনামা স্যাটেলাইট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান “থেলেস এলেনিয়া স্পেস” বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করেছে। স্যাটেলাইটটি তৈরির জন্য ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর বিটিআরসির সাথে টার্ন কি পদ্ধতিতে কোম্পানিটির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আর এই প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হল ২৭৬৫ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৩১৫ কোটি টাকা এবং বাকি অবশিষ্ট টাকা বিডার্স ফাইনান্সিং এর মাধ্যমে তার ব্যয় সংকুলান হয়েছে, যা দিচ্ছে বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি। ১৫ বছরের জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে অরবিটাল স্লট কেনা হয়েছে বিএস-ওয়ান এর জন্য। তবে বিএস ওয়ানের স্থায়িত্ব হতে পারে ১৮ বছর পর্যন্ত।

বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কম্পানি স্পেসএক্স বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের সম্ভাব্য তারিখ ৪ মে এর পরিবর্তে ৭ মে নির্ধারণ করা হয়েছে। আর বাংলাদেশে সরকারের পক্ষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে নিজস্ব স্যাটেলাইটের অধিকারী বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসাবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণস্থল ফ্লোরিডায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়সহ সরকারের ৪২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আর ৮ মে সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ এর উদযাপন প্রস্তুতি রয়েছে।মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের অবস্থান হবে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য বাংলাদেশ ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়ার স্যাটেলাইট প্রতিষ্ঠান ‘ইন্টারস্পুটনিক’ এর কাছ থেকে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলারে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমায় (স্লট) কক্ষপথ স্লট ক্রয় করে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বা সংক্ষেপে বিএস-ওয়ান  মূলত একটি যোগাযোগ ও সম্প্রচার স্যাটেলাইট। শক্তিশালী কেইউ ও সি ব্যান্ডের মাধ্যমে এটি সবচেয়ে ভালো কাভার করবে গোটা বাংলাদেশ, সার্কভুক্ত দেশসমূহ, ফিলিপাইন এবং ইন্দোনেশিয়া।

এই স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ২৬টি থাকছে কেইউ ব্যান্ডে, যদিও একটা সমস্যা হল এতে এক ফোঁটা বৃষ্টি হলেই ফ্রিকোয়েন্সি ঠিকমত কাজ করে না। তাই বাংলাদেশের টেলিভিশনগুলো বাকি ১৪টি সি-ব্যান্ডের জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছে। কেননা তারা মনে করছেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট যে অরবিটাল স্লটে স্থাপন করা হবে, তার মাধ্যমে কাজ করা টেলিভিশনগুলোর জন্য হবে একটি চ্যালেঞ্জ। এই স্যাটেলাইট চালু হলে ডিটিএইচ বা ডিরেক্ট টু হোম ডিশ সার্ভিস সুবিধা পাওয়া যাবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অপটিক কেবল বা সাবমেরিন কেবল পৌছায় নি সেসব জায়গায় এ স্যাটেলাইটের সাহায্যে ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাশে এই স্যাটেলাইট স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের যেমন নির্ভরতা কমবে অন্য দেশের ওপর, তেমনি দেশের অভ্যন্তরীণ টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।

আধুনিক ই-পাসপোর্টের নব যুগে বাংলাদেশ

Now Reading
আধুনিক ই-পাসপোর্টের নব যুগে বাংলাদেশ

২০১৮ এর জুলাই মাস থেকেই বাংলাদেশে চালু হচ্ছে ই-পাসপোর্ট। শক্তিশালী একটি ‘চিপ’ এর মাধম্যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই ই-পাসপোর্টটি সহজ করে দেবে বিশ্বভ্রমণ। এই ইপাসপোর্টের আরেক নাম বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট যাতে নিরাপত্তা চিহ্ন হিসেবে যুক্ত থাকবে আঙুলের ছাপের পাশাপাশি চোখের মণির ছবিও। এটি দেখতে অনেকটা এটিএম কার্ড এর মতই হবে আর এতে থাকা চিপসে সন্নিবেশিত থাকবে পাসপোর্টধারীর পাসপোর্টধারীর সকল তথ্য। ইপাসপোর্ট চালু হলে পাসপোর্টধারীদের কঠিন হয়ে পরবে তার পরিচয় গোপন করা, সুযোগ থাকবেনা জালিয়াতির। আধুনিক প্রযুক্তির এই ই-পাসপোর্ট চালু রয়েছে বিশ্বের ১১৮টি দেশে, আর ১১৯ নম্বর দেশ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ।

২০১৬ সালে এমআরপির পাশাপাশি ই-পাসপোর্ট চালুর সিদ্ধান্ত নেয় বর্তমান সরকার। আর সেই মোতাবেক ইপাসপোর্ট কার্যক্রমের দিকে এগুচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ই-পাসপোর্টের নমুনা কপি (Specimen copy)’র অনুমোদন দিয়েছেন। ই-পাসপোর্টের যুগে ঢুকে পড়া নিঃসন্দেহে এগিয়ে রাখবে বাংলাদেশকে। জার্মানির একটি কোম্পানির সঙ্গে এরইমধ্যে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। জার্মানির প্রযুক্তিতে জিটুজির মাধ্যমে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট হবে।  এই পরিষেবা চালু হলে বাংলাদেশ ঢুকে পড়বে নতুন যুগে। প্রতিটি ইমিগ্রেশন ষ্টেশনে ই-গেট স্থাপন করা হবে যাতে ই-পাসপোর্টধারী ব্যক্তি লাইনে না দাঁড়িয়েই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইমিগ্রেশন শেষ করতে পারেন। বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্নকালে কেবল পাসপোর্ট নম্বর বললেই তা হয়ে যাবে। এতে সময়ের সাশ্রয় ঘটবে এবং ভোগান্তিও কমে যাবে পুরোপুরি।  ই-পাসপোর্ট চালু হলে সাথে করে এমআরপি পাসপোর্ট বহন করা লাগবে না অথবা বিদেশে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলেও বিড়ম্ভনার শিকার হতে হবে না।

বর্তমানে দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ব্যাবহার করছেন। আর প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজারের মত আবেদন জমা পড়ছে এমআরপি এর জন্য। চাহিদার এই বিশালত্বকে সামাল দিতে এবং দ্রুত করতে ইপাসপোর্ট কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার, নতুন এই পাসপোর্ট সেবা চালু হলে এর মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চালু হওয়ার পর কেউ এমআরপি পাসপোর্ট রিনিউ করতে গেলেই ই-পাসপোর্ট এর আওতাভুক্ত হবেন । অর্থাৎ তাকে ইপাসপোর্ট প্রদান করা হবে। বর্তমানে পাঁচ বছর মেয়াদে সাধারণ ও জরুরি পাসপোর্ট এর বিপরীতে তিন ৩,৪৫০ ও ৬,৯০০ টাকা ফি দিতে হয়।

আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদিচ্ছায় এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বাংলাদেশে এগিয়ে যাবে বিশ্বের উন্নত দেশের সাথে তাল মিলিয়ে।

একটি এন্ড্রয়েড অ্যাপের মাধ্যমেই পাল্টে ফেলুন আপনার জীবনধারা

Now Reading
একটি এন্ড্রয়েড অ্যাপের মাধ্যমেই পাল্টে ফেলুন আপনার জীবনধারা

প্রতিদিন সকালে উঠে আমরা কিছু করি না করি, আমাদের স্মার্টফোনে অবশ্যই মেসেজ, নোটিফিকেশন, চেক করবই। এমনকি এটি আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। আমরা দিনের অর্ধেক ভাগ সময় শুধু স্মার্টফোনে  ব্যয় করি। কোন কিছু থেকে একটু ছুটি পেলেই মোবাইল নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পরি। হয়ত দেখা যায় মোবাইল নিয়ে ব্যাস্ত থাকার কারনে অনেক কিছু হারাই। হয়ত দেখা যায় বন্ধুরা মিলে আড্ডা করতে আসছেন,তার মদ্যে আপনি স্মার্টফোন নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়লেন।

স্মার্টফোনকে যেমন খারাপ দিকে ব্যাবহার করা যায় তেমনি ভালো দিকেও ব্যাবহার করা যায়। ভাবুন তো এমন একটি এন্ড্রয়েড লঞ্চার যা আপনার স্মার্টফনের প্রতি আকর্ষণ কমিয়ে দিবে। এমনি একটি এন্ড্রয়েড লঞ্চার আছে যাতে থাকবে শুধু ফোন আইকন, এবং মেসেজ আইকন। চাইলে আপনি আরো এপ্লিকেশন যোগ করতে পারেন এতে। যাতে কোন মেনু অপশন থাকছে না।

এমন অদ্ভুত লঞ্চারটির সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুনঃ

[youtube https://www.youtube.com/watch?v=K-mpe2CCed8&w=560&h=315]

আলোড়ন সৃষ্টিকারী যুদ্ধবিমানের কয়েকটি আইকন

Now Reading
আলোড়ন সৃষ্টিকারী যুদ্ধবিমানের কয়েকটি আইকন

MIG 21

                                   মিগ ২১ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরি ষাটের দশকের একটি যুগপৎ যুদ্ধবিমান। এটি পৃথিবীর সর্বাধিক উৎপাদিত এবং বিক্রিত বিমান গুলোর একটি। মিকোয়ান গুরেভিচ কোম্পানির নকশাকৃত এই বিমান এখনও পর্যন্ত পৃথিবীর বহু দেশ ব্যবহার করে। এর ন্যাটো কোডনেম ছিল Fishbedমিগ২১ একটি সুপারসনিক জেট ফাইটার। এটি আকাশ থেকে মাটিতে এবং আকাশ থেকে আকাশে শত্রু বিমানের সাথে যুদ্ধ করতে বিশেষ পারদর্শী। সুপারসনিক গতি এবং উন্নত ম্যানুভ্যারিটি ক্ষমতা সম্পন্ন এই বিমান শত্রুর উপর নিমেষে আঘাত হেনে উড়ে জেতে পারে। ভিয়েতনাম যুদ্ধে উত্তর ভিয়েতনাম এই বিমান ব্যবহার করে আমেরিকানদের বাঘা বাঘা বিমানকে ভুপাতিত করেছিল। কারগিল যুদ্ধে ভারতীয় পাইলটরা মিগ২১ বিমান দিয়ে পাকিস্তানি এফ-১৬ বিমানকে তাড়া করেছিল। একজন দক্ষ পাইলটের পরিচালনায় এই বিমান এক ভয়ঙ্কর বিধ্বংসী মারনাস্র হয়ে উঠতে পারেবাংলাদেশ বিমান বাহিনীও অতীতে এই বিমান ব্যবহার করেছে। বর্তমানে আমাদের বিমান বাহিনী মিগ ২১ এর চাইনিজ ভার্সন এফ-৭ এয়ারগার্ড বিমান ব্যবহার,করে।

 

 

MIG-29

মিগ২৯ বর্তমান সময়ের অন্যতম ভয়ঙ্কর একটি যুদ্ধবিমান । এটি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরি ৪র্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান যা ১৯৮৩ সালে প্রথম সোভিয়েত বিমানবহরে অন্তর্ভুক্ত হয়।এর ন্যাটো কোডনেম হল ফুল্ক্রাম। মিগ২৯ একটি মাল্টিরোল কমব্যাট ফাইটার যা একইসাথে আকাশে ও ভূমিতে হামলার জন্য অত্যন্ত পারদর্শী। এর শক্তিশালী Klimov RD-33 আফটার বার্নিং টার্বো ফ্যান ইঞ্জিন নিমেষেই বিমানকে সাবসনিক থেকে সুপারসনিক গতিতে নিয়ে যেতে পারে। অত্যাধুনিক কোবরা ম্যানুভ্যারিটি ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিমান শত্রুবিমানের মিসাইলকে ফাঁকি দিয়ে পুনরায় পাল্টা আক্রমন চালাতে পারে। সোভিয়েতরা এই বিমানকে তাদের  স্টেট ওফ আর্ট হিসেবে পরিচয় দেয়। এটি দীর্ঘদিন পশ্চিমা এবং ইউরোপিয়ান দেশ গুলোর  ফিয়ার ফ্যাক্টর ছিল। মিগ২৯ বর্তমান সময়ের বহুল আলোচিত একটি বিমান যা পৃথিবীর বিভিন্ন বিমানবাহিনীতে অত্যন্ত সফলতার সাথে পরিচালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে বর্তমানে ৮টি মিগ২৯ বিমান আছে।

 

 

F-16

এফ ১৬ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ৪র্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল ফাইটারমার্কিন প্রতিষ্ঠান জেনারেল ডাইনামিকস এই বিমানের নকশা করে। বর্তমানে লকহিড মারটিন কোম্পানি এই বিমান উৎপাদন করছে। মিগ-২৯ বিমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মূলত এই বিমান নির্মাণ করা হয়। অফিসিয়ালি এই বিমানকে ফাইটিং ফ্যালকন বলা হলেও এর ভয়ঙ্কর ধ্বংস ক্ষমতার জন্য পাইলটরা একে ভাইপার বলে থাকে। ১৯৭৮ সালে সার্ভিসে আসার পর থেকে এই বিমান পৃথিবীর বহু দেশে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর পরিচালন খরচ অন্যান্য বিমান থেকে কম হওয়ায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিমান বাহিনীর কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। বর্তমানে তুরস্কসহ আরও কয়েকটি দেশে এই বিমানের লাইসেন্সড ভার্সন তৈরি করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,পাকিস্তান,তুরস্ক,ইসরায়েল,গ্রীস,ভেনেজুয়েলা,আরব আমিরাত সহ পৃথিবীর আরও অনেক দেশের বিমানবাহিনী এই বিমান ব্যবহার করে।

 

F-15 Eagle

এফ ১৫ ঈগল আমেরিকার বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান McDonnell Douglasএবং Boeing নির্মিত একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। এটি মূলত একটি এয়ার সুপেরিয়রিটি ফাইটারভিয়েতনাম যুদ্ধের পর আমেরিকা F-X program হাতে নেয়। যার উদ্দেশ্য ছিল সোভিয়েত মিগ সিরিজের বিমানগুলোকে আকাশযুদ্ধে পরাজিত করার জন্য দক্ষ এবং ক্ষিপ্র বিমান নির্মাণ করা। এরই ফলশ্রুতিতে হেভিওয়েট ফাইটার হিসেবে জন্মলাভ করে এফ১৫ ঈগল এবং লাইটওয়েট ফাইটার হিসেবে এফ-১৬ ফ্যালকন। পাশাপাশি ইউএস নেভির জন্য তৈরি করা হয় এফ-১৪ টমক্যাটএফ-১৫ দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট সুপার সনিক বিমান যার সর্বোচ্চ গতি প্রতি ঘণ্টায় ২৬৬৫ কিলোমিটার। উপসাগরীয় যুদ্ধে আমেরিকা অত্যন্ত সফলভাবে এই বিমান ব্যবহার করে। বর্তমানে আমেরিকা ছাড়াও ইসরায়েল,জাপান ও সৌদি আরবের বিমানবাহিনীতে এই বিমান ব্যবহৃত হয়।

 

Euro-fighter Typhoon

ইউরোফাইটার টাইফুন একটি অত্যাধুনিকডেল্টাউইং মাল্টিরোল ফাইটারএটি মূলত ইংল্যান্ড, জার্মানি, ইটালি ও স্পেনের চারটি বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের একটি যৌথ প্রকল্প। ১৯৮৩ সালে ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালি ও স্পেনের অংশগ্রহনে Future European Fighter Aircraft (FEFA) programme গ্রহন করা হয়। কিন্তু পরে ফ্রান্স এই প্রকল্প থেকে বেরিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে তারাRafale নামে একটি নতুন ফাইটার তৈরি করে। ফ্রান্স এই প্রকল্প থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর বাকি দেশগুলো তাদের এই প্রকল্প অব্যাহত রাখে। ফলশ্রুতিতে ২০০৩ সালে প্রথম সার্ভিসে আসে ইউরোফাইটার টাইফুন। এটি দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট একটি অসম্ভব দ্রুতগতির সুপারসনিক সেমি- স্টিলথ ফাইটার।টাইফুনকে এফ-২২ র‍্যাপটর এর অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাবি করে এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।বর্তমানে ইংল্যান্ড, জার্মানি, ইটালি, স্পেন ছাড়াও সৌদি আরব,অস্ট্রিয়া প্রভৃতি দেশের বিমান বাহিনীতে এই বিমান ব্যবহৃত হচ্ছে।

 

 

Saab JAS 39 Gripen

গ্রিপেন সুইডেনের তৈরি ডেল্টা উইং লাইটওয়েট মাল্টিরোল ফাইটার। ১৯৭৯ সালে সুইডেন সরকার একটি শক্তিশালী ও কার্যকরী বিমান নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহন করে যা একইসাথে আকাশ যুদ্ধ, ভূমিতে বোমাবর্ষণ ও গোয়েন্দাগিরি করার জন্য বিশেষভাবে পারদর্শী।এটি প্রথম সার্ভিসে আসে ১৯৯৭ সালের পহেলা নভেম্বর। সুইডিশ এরোস্পেস কোম্পানি (SAAB) নির্মিত সুপারসনিক এই বিমানটির সর্বোচ্চ গতি ম্যাক ২ (২২০৪ কিঃমিঃ/ ঘণ্টা)/ইউরোপিয়ান এবং ন্যাটো স্ট্যান্ডার্ডে তৈরি এই বিমানের পরিচালন ব্যয় তুলনামুলকভাবে কম।বর্তমানে সুইডেন ছাড়াও দক্ষিন আফ্রিকা, থাইল্যান্ড,  ইংল্যান্ড, হাঙ্গেরি, চেক প্রজাতন্ত্রের বিমান বাহিনীতে এই বিমান ব্যবহৃত হচ্ছে।

 

 

Sukhoi Su-27

সুখোই এসইউ-২৭ সোভিয়েত রাশিয়া নির্মিত একটি সুপারসনিক যুদ্ধবিমান। এর ন্যাটো রিপোরটিং নাম হল Flanker ১৯৬৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন আমেরিকার “F-X” program সম্পর্কে জানতে পারে। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তারা TPFI program গ্রহন করে যার উদ্দেশ্য ছিল আমেরিকার এফ-১৫ এবং এফ-১৬ বিমানগুলোকে আকাশযুদ্ধে প্রতিহত করার জন্য দ্রুতগামী ও শক্তিশালী বিমান নির্মাণ করা। ফলশ্রুতিতে সার্ভিসে আসে মিগ-২৯ এবং এসইউ-২৭ বিমানগুলো। এসইউ-২৭ একটি সুপার ম্যানুভারেবল ডেল্টাউইং বিমান যা অত্যাধুনিক রাডার,সেন্সর এবং ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত। দুটি শক্তিশালী Saturn/Lyulka AL-31Fturbofans ইঞ্জিনবিশিষ্ট এই বিমানের সর্বোচ্চ গতি ম্যাক ২.৩৫ বা ২৫০০ কিমি./ঘণ্টা। ১৯৮৪ সালে সার্ভিসে আসার পর থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিমানবাহিনী এই বিমান ব্যবহার করে। বর্তমানে রাশিয়া,গণচীন, এঙ্গোলা, বেলারুশ,ইথিওপিয়া, ভিয়েতনাম, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, ইউক্রেনসহ পৃথিবীর বহু দেশের বিমানবাহিনী এই বিমান ব্যবহার করছে।

 

Dassault Rafale

রাফালে ফ্রান্সের Dassault Aviationনির্মিত একটি ডেল্টাউইং মাল্টিরোল ফাইটার। ১৯৭০ সালে ফ্রান্স সরকার তাদের বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা গ্রহন করে। তারা ইংল্যান্ড, জার্মানি, ইটালি ও স্পেনের সাথে ১৯৮৩ সালে ইউরোফাইটার প্রকল্পে যোগ দেয়। কিন্তু এই প্রকল্প আশানুরূপ না হওয়ায় পরবর্তীতে ফ্রান্স প্রকল্প থেকে বেরিয়ে আসে এবং নিজস্ব প্রযুক্তি ও ডিজাইনে একটি কার্যকর মাল্টিরোল ফাইটার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহন করে। ফলশ্রুতিতে ২০০০ সালের ৪ ডিসেম্বর সার্ভিসে আসে রাফালে বিমানটি। রাফালে বিমানটিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির রাডার,সেন্সর সিস্টেম, কম্পিউটার সংযোজিত হয়েছে । দুটি Snecma M88 ইঞ্জিনসংবলিত এই বিমানটি অত্যন্ত দ্রুতগামী। এর সর্বোচ্চ গতিবেগ ম্যাক ১.৮ বা ২১৩০ কিমি./ ঘণ্টা। এটি দিবারাত্রি যুদ্ধের উপযোগী একটি অত্যন্ত কার্যকর বিমান। ফ্রান্সের নৌ ও বিমান বাহিনীতে বর্তমানে এই বিমান ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও ভারতীয় বিমান বহরে এই বিমান যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

Chengdu J-10

চেংডু জে-১০ গণচীনের তৈরি একটি মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান। চীনের Chengdu Aircraft Industry Group(CAC) নির্মিত এই বিমানটি সকল আবহাওয়ায় ব্যবহার উপযোগী একটি সুপারসনিক বিমান। পশ্চিমা বিশ্বে এই বিমানটি Vigorous Dragon নামে পরিচিত। বর্তমানে রাশিয়ান Saturn AL-31 ইঞ্জিনে পরিচালিত এই ফাইটারের পরবর্তীতে ভার্সন গুলোতে চীনের নিজস্ব WS-10A (WoShan-10A) Taihang ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে। চীনা বিমানবাহিনীর অন্যতম একটি স্তম্ভ হিসেবে এই বিমানটি পরিচিত। এর সর্বোচ্চ গতি ম্যাক ২.২ যার ফলে এটি নিমেষেই সুপারসনিক স্পিডে শত্রুবিমানকে ধাওয়া করতে পারে। চীনের নিজস্ব প্রযুক্তির রাডার, সেন্সর, ককপিট ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ সংযোজিত এই বিমানটি অত্যন্ত আধুনিক ও যুগোপযোগী। বর্তমানে চীনের বিমানবাহিনীতে ২৬০টির বেশি জে-১০ বিমান আছে। শীঘ্রই পাকিস্তান বিমানবাহিনীতেও (২০১৪-১৫) এই বিমান সংযোজিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

Dassault Mirage 2000

মিরেজ ২০০০ ফ্রান্সের ডাসাল্ট এভিয়েশন নির্মিত একটি ৪র্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল ফাইটার। এটি একটি হালকা ধরনের বিমান যা ৭০ এর দশকের বিমানমিরেজ III এর উন্নত সংস্করন হিসেবে সার্ভিসে আসে । ডাসাল্ট এভিয়েশন প্রস্তাবিত মিরেজ২০০০ প্রজেক্টটিকে ফ্রান্স সরকার ১৮ ডিসেম্বর ১৯৭৫ সালে অনুমোদন করে এবং ১৯৮২ সালে মিরেজ ২০০০ প্রথম সার্ভিসে আসে। মিরেজ২০০০ এর অনেকগুলো  আপগ্রেড ভার্সন নির্মিত হয়েছে যেমনঃ মিরেজ২০০০N এবং মিরেজ২০০০D, মিরেজ২০০০-৫ইত্যাদি। একটি SNECMA-M53 Turbofan ইঞ্জিন সংবলিত এই বিমানটির সর্বোচ্চ গতি ম্যাক ২.২  অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় ২৫৩০ কিমি.।এটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির রাডার,এভিয়নিক, ককপিট ও ক্ষেপনাস্র সজ্জিত একটি বিমান যা একইসাথে এয়ার টু এয়ার কমব্যাট এবং ভূমিতে বোমাবর্ষণের জন্য অত্যন্ত পারদর্শী। বর্তমানে ফ্রান্সের বিমান বাহিনী ছাড়াও ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তাইওয়ান, গ্রীস, মিশর, কাতার, পেরু, ব্রাজিল ইত্যাদি দেশের বিমান বাহিনী মিরেজ২০০০ বিমানটি সাফল্যের সাথে  ব্যবহার করে আসছে।

নেটফ্লিক্স এর আদি উপাখ্যান

Now Reading
নেটফ্লিক্স এর আদি উপাখ্যান

ওয়েব ভিডিও জগতে আধিপত্য বিস্তার করা নেটফ্লিক্সের কথা কে না জানে? সারা পৃথিবীতে ১০০ মিলিয়নের উপরে মানুষ নেটফ্লিক্স ব্যবহার করে। কিন্তু এটা তৈরি করার পেছনে যে গ্রাজুয়েট স্কুলের একটি গাণিতিক সমস্যা দায়ী ছিল সেটা কজনই বা জানে? গত বছরের প্রথমদিকে ফেব্রুয়ারি মাসে স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসের একটি সেশনে নেটফ্লিক্সের সহ-আবিষ্কারক রিড হেসটিংস এ কথা প্রথম সবার সামনে প্রকাশ করেন।

১৯৮০ সালের কথা, তখন হেসটিংস স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়াশোনা করছিলেন। সে সময় আরেক বিখ্যাত কম্পিউটার বিজ্ঞানী এন্ড্রু তানেনবাম তাকে একটি গাণিতিক সমস্যার কথা বলেন। সমস্যাটি ছিল টেপ বহনকারী একটি স্টেশন ওয়াগনের ব্যান্ডউইথ বের করা। এর মানে দাঁড়ায় এমন, সর্বাধিক কতগুলো টেপ স্টেশন ওয়াগনের ভিতর ভরা যাবে, সেই টেপগুলো কতটুকু ডাটা সংরক্ষণ করতে পারবে এবং কত দ্রুত স্টেশন ওয়াগনটি টেপগুলো নিয়ে তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। এ সমস্যা দেখে তার মনে হয়েছিল এটা তখনকার সময়ে অনেক দ্রুতগতি সম্পন্ন নেটওয়ার্কের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এ সমস্যা থেকে হেসটিংসের মাথায় আসে, টেপের বদলে তিনি ডিভিডি ব্যবহার করতে পারেন। তারা মনে করেন, নেটফ্লিক্সের শুরুটা তারা এমন ডিভিডি ব্যবহার করে শুরু করতে পারেন। পরবর্তীতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তারা নেটফ্লিক্সকে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেন। মূলত সেই অংকের মাধ্যমেই তাদের নেটফ্লিক্স তৈরির চিন্তা মাথায় আসে। কোম্পানি হিসেবে নেটফ্লিক্স যাত্রা শুরু করে ১৯৯৭ সালে। তখন থেকে ডিভিডি ব্যবহার করেই তাদের যাত্রা শুরু। এরপর ২০০৭ সালে তারা ভিডিও স্ট্রিমিং শুরু করে। দেখতে দেখতে ২০১০ সালের মধ্যে গ্রাহক সংখ্যা ডিভিডি ব্যবহারকারীদেরকেও ছাড়িয়ে যায়। ১০০ মিলিয়ন ভিডিও গ্রাহকদের পাশাপাশি এখন ৫ মিলিয়ন ডিভিডি ব্যবহারকারীও আছে নেটফ্লিক্সের।

ইলেকট্রনিক কোনো তথ্যকে কোনো বস্তু, যেমন: পেনড্রাইভ দিয়ে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে পৌঁছে দিয়ে সেখানে পুনরায় ব্যবহার করার এই প্রক্রিয়াকে বলে স্নিকারনেট (Sneakernet)। এন্ড্রু তানেনবাম তার জনপ্রিয় বই “Computer Networks”-এ সমস্যাটির বর্ণনা দেন এভাবে-

এক কম্পিউটার থেকে আরেক কম্পিউটারে ডাটা বা তথ্য স্থানান্তর করার সবচেয়ে সহজ এবং জনপ্রিয় উপায় হচ্ছে প্রথমে তথ্যগুলোকে কোনো ম্যাগনেটিক টেপ বা ডিভিডি বা এরকম কোনো রিমুভাল ডিস্কে লিখে রাখা এবং সেগুলোকে অন্য কম্পিউটারে নিয়ে গিয়ে আবার পড়া। যদিও Geosynchronous Communication Satellite-এর যুগে ব্যবস্থাটি পুরনো মনে হতে পারে, কিন্তু তখন এটা খরচ সাপেক্ষ ছিল। একটি ছোট্ট অংক বিষয়টিকে পরিষ্কারভাবে বুঝতে সাহায্য করবে।

একটি আলট্রিয়াম টেপ (Ultrium Tape) ৮০০ গিগাবাইট পর্যন্ত ডাটা ধারণ করতে পারে। ৬০ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য, ৬০ সেন্টিমিটার প্রস্থ ও ৬০ সেন্টিমিটার উচ্চতার একটি বাক্স এরকম ১ হাজার টেপ ধারণ করতে পারে। মোট ধারণক্ষমতা হয় ৮০০ টেরাবাইট বা ৬৪০০ টেরাবিট, অর্থাৎ প্রায় ৬.৪ পেটাবিট তথ্য ধারণে সক্ষম এই এক বাক্স টেপ। আমেরিকাতে তখন এ ধরনের টেপের বাক্স ফেডারেল এক্সপ্রেস বা অন্য কোনো কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে যেকোনো স্থানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঠানো যেতো। ডাটা ট্রান্সমিশনের জন্য যতটুকু ব্যান্ডউইথের প্রয়োজন হতো তা হলো প্রতি সেকেন্ডে ৭০ গিগাবাইট। পথের দূরত্ব যদি ১ ঘণ্টা হয় তাহলে ব্যান্ডউইথ প্রতি সেকেন্ডে ১৭০০ গিগাবাইট পর্যন্ত বেড়ে যায়। এখান থেকে বোঝা যাচ্ছে, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বৃদ্ধির সাথে সাথে টেপ এর পরিমাণ এবং ঘনত্বও বেড়ে যাচ্ছে।

এখন খরচের দিকে আসা যাক। আলট্রিয়াম টেপ একসাথে অনেকখানি করে কিনলে প্রায় ৪০ ডলারের মতো খরচ পড়বে। এ ধরনের টেপ পুনরায় প্রায় ১০ বার পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। তাই টেপের দাম প্রতি বক্সে এবং প্রতি ব্যবহারে ৪,০০০ ডলারের মতো খরচ পড়বে। এর সাথে শিপিং এর জন্য ১,০০০ ডলারের মতো খরচ পড়বে। অর্থাৎ ৮০০ টেরাবাইট তথ্য স্থানান্তরের জন্য ৫,০০০ ডলারের মতো খরচ পড়বে। এটা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, ১ গিগাবাইট তথ্য পাঠাতে মোটামুটি এক সেন্টের অর্ধেকের মতো খরচ পড়ছে।

এন্ড্রু তানেনবাম

এন্ড্রু তানেনবামের জনপ্রিয় বই – Computer Networks;

এ কথাগুলো বইতে ব্যাখ্যা করার পরে নিচে এমন বক্তব্য আছে- “Never underestimate the bandwidth of a station wagon full of tapes hurtling down the highway.”

১৯৯১ সালে রিড হেসটিংস Pure Software নামে তার নিজের প্রথম কোম্পানি চালু করেন। এ কোম্পানি থেকে যে পরিমাণ আয় হয় সেটা দিয়ে খুব সহজেই নতুন প্রজেক্টে হাত দেয়া যেত। আর এই আয় করা লভ্যাংশ থেকেই নেটফ্লিক্সের জন্ম। নেটফ্লিক্সের সাফল্যের সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে এটি নতুন আরেকটি প্রযুক্তির সাথে যুক্ত হয়ে তাদের ব্যবসার আইডিয়া দাঁড় করায়। তখন ভিডিও দেখার জন্য VHS (Video Home System) ব্যবহার করা হতো যেটা দেখতে বড় ছিল। ৯০-এর দশকের শেষ দিকে যারা বাসায় ভিডিও ভাড়া করে এনে দেখতো তাদের কাছে VHS অপরিচিত মনে হবে না। নেটফ্লিক্সের প্রজেক্টে হাত দেবার সময় হেসটিংসের এক বন্ধু তাকে ডিভিডির কথা বলে যেটা দেখতে ছোট, হালকা এবং VHS যা কাজ করে এই ডিভিডিও একই কাজ করে। তাছাড়া VHS ব্যবহারে খরচও পড়তো বেশি। তাই হেসটিংসকে ফি দিতে হতো বেশি।

ভিএইচএস

২০০৭ সাল পর্যন্ত নেটফ্লিক্স প্রায় ১ বিলিয়নের মতো ডিভিডি ক্রেতাদের সরবরাহ করে। এরপর যখন ইউটিউব অনেক বেশি জনপ্রিয় হয় তখন হেসটিংস নতুন এই প্রযুক্তিগত ধারণাকেও তাদের ব্যবসার আইডিয়াতে পরিণত করেন এবং কাজে লাগান। এই অংশে তিনি গ্র্যাজুয়েট শ্রেণীতে থাকাকালীন সময়কার সেই অংককে কাজে লাগান।

হেসটিংসকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “When a friend told me about DVDs and I realized, well that’s 5GB of data, and you know you can mail that very inexpensively, I realized that is a digital-distribution network”

নেটফ্লিক্সের হলিউড অফিস

একটি মজার কথা হচ্ছে, হেসটিংস এবং রেন্ডলফ  দুজনেই নেটফ্লিক্সের আবিষ্কারের পরপর এর সাথে ইন্টারনেটকে যুক্ত করার বিষয়টি মাথায় এনেছিলেন। কিন্তু সে সময়ে ইন্টারনেটের বিপ্লব আজকের মতো শুরু হয়নি। তবে তারা ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন নেটফ্লিক্সকে তারবিহীন মাধ্যমের সাহায্যে প্রচার করতে পারলে সবদিক থেকে লাভবান হওয়া যাবে। শুধুমাত্র ডিভিডি নামক বস্তুর সাহায্যে ক্রেতাদের কাছে না গিয়ে নতুন নতুন মাধ্যম ব্যবহার করা যেতে পারে, যেটা ক্রেতাদের নেটফ্লিক্সের সাথে ধরে রাখতে পারবে। কিন্তু তারা জানতেন এ জিনিসটি রাতারাতি সম্ভব হবে না। এর জন্য অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। শেষপর্যন্ত পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং গ্রাজুয়েট স্কুলের একটি অংকের হিসাব তাদেরকে ওয়েব ভিডিও জগতের এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

How to make your Videos smoother!

Now Reading
How to make your Videos smoother!

In life everything needs to be smooth, even a YouTube Video? What do you think? So…how to achieve it? Lets figure out!

Official Website: http://www.bangladeshism.com

Freelance Writing Platform: https://www.footprint.press

Official Facebook Page: http://facebook.com/bangladeshism
Official Twitter: http://twitter.com/nahidrains

Official Website of NahidRains: http://www.nahidrains.pictures
Official Website of Bangladeshism: http://www.bangladeshism.com

ভিডিও প্রোডাকশনের জন্য আমি কি কি ব্যবহার করি [ভিডিও]

Now Reading
ভিডিও প্রোডাকশনের জন্য আমি কি কি ব্যবহার করি [ভিডিও]

যেকোন ধরনের ভিডিও প্রোডাকশনের জন্য দরকার সঠিক ক্যামেরাটি। শুধু ক্যামেরা না, ক্যামেরার সাথে থাকে আরো অনেক আনুসাঙ্গিক জিনিষপত্র যেগুলো ছাড়া আসলে ভাল কিছু তৈরী করা একটু কঠিনই বটে।

আজকের এই ভিডিওটি মুলত বানানো হয়েছে আমি ব্যাক্তিগতভাবে কি ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করি তাই এবং এটি আপনাদের অনুরোধের ভিডিও ছিল।