আমি কাঁটাতার বলছি

Now Reading
আমি কাঁটাতার বলছি

শিরোনাম টা খুব অদ্ভুত তাই না । আসলে আমার নামটাই যে কাঁটাতার । তাই শিরোনাম কাঁটাতার দিয়ে শুরু ।
আমার পরিচয় আমি কাঁটাতার । কিছু তার আর সাথে কিছু লোহার কাঁটা যুক্ত করে দিলেই আমাকে পেয়ে যাবেন । আমাকে দেখতে হলে আপনাকে বেশি দূরে যেতে হবে না । কোনো এক সুবিশাল অট্টলিকায় তার চারপাশে যে দেয়াল দেখতে পাবেন ঠিক দেখবেন তার উপর আমাকে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে ।

আমার কিন্তু আবার কিছু ভার্সন আছে । কি হাসছেন , আমার আবার ভার্সন হয় কিভাবে ? একটু খেলায় করলেই আমার ছোট ভাইকে আপনি দেখতে পাবেন । দেখবেন দেয়ালের উপর কিছু পেরেক বা ভাঙা কাছের টুকরো বিছানো । ওরা আমরা ছোট ভাই । আমার মতো না হলেও আমার থেকে কম যায় না । মালিকের বাড়ি পাহারা তাদের একমাত্র কাজ । ছোট তাই মাঝে মাঝে কিছু মানুষ তাদের অবহেলা করে চলে যায় তাদের উপর দিয়ে । বাড়ির মালিক গুলো বড়ই ভালো মানুষ বটে । কিছু বলে না আমার ছোট ভাই কে । আসলে মানুষেরা মনে হয় খুব ভালো হয় তাই না । বিষেশ করে ছোট দেড় প্রতি তাদের ভালবাসা একটু বেশি থাকে । কত অন্যায় করে কিছু বলে না ।

চলেন আমি আজ আপনাকে আমার সাথে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা শুনাই । আমাকে কোথায় যেন রাখা হয়েছে । আমি বুঝি না কেন আমাকে এখানে রাখা হয়েছে । কেউ আমার ওপর দিয়ে যায় । আবার কেউ আমার ওপর কাঠের তক্তা রেখে কি যেন আনানেয়া করে । যদি তারা এই সব করে তাহলে আমাকে এখানে কেন রেখেছে ? যাই হোক প্রতিদিনের মতো একটি ঘটনা । এক মেয়ে আমার ভিতর দিয়ে যাচ্ছিলো । আমিও তাকে ভালবেসে যেতে দিলাম । কিন্তু না আমার ভালবাসা মনে হয় তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ালো । আমার ওপাশে কিছু লোক দাঁড়িয়ে ছিল । জানি না কি অপরাধে তাকে প্রথমে খুব মারধর করলো । তারপর একটা সময় তাকে আমার উপরে ঝুলিয়ে দিল । আমি ভাবলাম এই বুঝি আমার উপর দিয়ে এপাশে ফেলে দিবে । কিন্তু তারা আমাকে ভুল প্রমাণিত করলো তারা আমার উপর রেখে গুলি চালালো । আর তার রক্ত আমার উপর পড়ছিলো । আর মেয়েটা পানি পানি করে চিৎকার করছিলো । পরবর্তীতে আমি জানতে পারলাম তারা আমাকে দিয়ে সীমান্ত ভাগ করেছে আর সেই ভাগের শিকার হয়েছে ফেলানী । আচ্ছা একটু আগে যেই মানুষের কথা বলছিলাম তারা কি এই মানুষ যারা আমার উপর ফেলানী কে ঝুলিয়ে রেখেছিলো । আমার মনে হয় না তারা মানুষ নয় পশু হতে পারে । তখন আমার মনে হচ্ছিলো আহা আজ আমার উপরে মানবতা ঝুলে আছে আজ ফেলানী ঝুলে নেই আজ ঝুলে আছে মানুষের বিবেক ।

আমাকে কতই না ব্যবহার করছে । কখনো আমাকে তাদের বাড়ির পাহারাদার বানাচ্ছে আবার কখনো সীমান্তের ভাগিদার বানাচ্ছে । আমার কাছে নিজেকে বড়ই অভিশপ্ত মনে হয় । তা না হলে কিভাবে আজ আমার উপর লাশ ঝুলে থাকে । কিভাবে আমাকে দিয়ে তারা দুই দেশের বিচ্ছেদ করে থাকে । তাহলে কি আজ তাদের মানবতা আমার মধ্যে সীমাবদ্ধ ? তাহলে কি আমার মাঝে তারা তাদের রাজত্বের গন্ধ খুঁজে পায় । আজ আমি কাঁটাতার , আমি শুধু তাদের কাছে কাঁটাতার না আমি আজ তাদের কাছে লাশ বহন করার বস্তু ।

কাঁটাতার

মানুষ আজ সিমাবধ এই কাঁটাতারের কাছে

 

আজ আমি যদি কাঁটাতার না হয়ে মানুষ হতাম তাহলে বলতাম , হে বিশ্ববাসী আমিতো এই রকম হতে চাইনি , আমি তো এই রকম পৃথিবী চাইনি , আমি চেয়ে ছিলাম কাঁটাতার মুক্ত একটা পৃথিবী । আমি তো চেয়ে ছিলাম আমরা নিজেদের কে কাঁটাতার এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবো না । কেন তাহলে তোমরা কাঁটাতার দিয়ে বেঁধে রেখেছো এই পৃথিবীকে । তাহলে কি আজও তোমরা স্বাধীন হতে পারোনি ।

না সেই শক্তি আমার আর কোথায় । আমি যে শুধুই কাঁটাতার।আজ আমার উপর দিয়ে যেতে না পারে অনেক মানুষ বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে । আমি বুঝি না এর জন্য কি আমি দায়ী নাকি যারা আমাকে এখানে রেখেছে তারা দায়ী । না দায় টা আমারি । কারণ মানুষ তো অনেক বুদ্ধিমান প্রাণী তারা কিভাবে ভুল করবে । আচ্ছা তাদের বিকল্প পথ দিয়ে যেতে হবে কেন ? তাহলে কি আজ মানবতা বিলুপ্ত ? তা না হলে তারা দেশ ত্যাগ কেন করবে ? আর কত মানুষ সাগর মহাসাগর পারি দিতে গিয়ে মারা যাচ্ছে । কত সুন্দর সুন্দর বাচ্চা মরে ভেসে উঠছে । আচ্ছা তাদের মনে কি একটুও কষ্ট লাগে না ? আমি তো কাঁটাতার আমারতো মন নেই কিন্তু তাহলে আমার এতো কষ্ট কিসের ? আমি মনে হয় আমার জাতের সাথে বেইমানি করছি মানে অন্য কাঁটাতারের মতো মনে হচ্ছে আমি না .।

আজ মানুষের ভালবাসা আমার মধ্যে সীমাবদ্ধ । তাহলে আজ আমি রাজা । আর সব মানুষ আমার প্রজা । আজ আমার রাজত্ব সর্বখানে । আজ শুধু জয় আমার । আজ আমার কাছে হার মেনে মানবতা । হায়রে মানবতা আজ তুমি কাঁটাতারের মধ্যে বন্ধি ।

ওই চিনস আমারে?

Now Reading
ওই চিনস আমারে?

এই লেখাটির শিরোনাম কোনো বাংলা সিনেমার ডায়লগ থেকে নেয়া নয়। এটা আমাদের দেশের অনেক মানুষের মুখে ইদানীং প্রায়শই শোনা যায়। নিজের ক্ষমতা জাহির করার জন্য কিংবা অন্যকে ভয় দেখানোর জন্য এই ধরনের সিনেম্যাটিক ডায়লগ দেয় আমাদের সমাজের কিছু মানুষ। তাদের নিয়েই আজকের এই লেখা।

আমাদের দেশে এখন শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে বেশি শিক্ষিত ও ধনী ব্যক্তি এখন আমাদের দেশে বিরাজমান। এছাড়াও দেশের বাইরেও অনেক জ্ঞানী-গুণী মানুষজন রয়েছেন। এদের মাঝে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন যারা নিজেদের পেশি শক্তি দেখিয়ে কেমন যেন একটা পৈশাচিক আনন্দ পান। একজন রিকশা চালকের গালে সামান্য কয়টা টাকার জন্য চড় বসিয়ে দিতেও দ্বিধাবোধ করেন না। কিংবা নিজের গাড়ি দিয়ে রাস্তায় চলতে থাকা রিকশাটাকে ধাক্কা দিতেও এতটুকু বুক কাঁপে না। নিজে রাস্তার ভুল সাইড দিয়ে গাড়ী চালিয়ে গিয়ে আবার নিজেই সামনে থাকা মানুষ বা যানবাহনের চালকদের উপর চড়াও হন। ভাবখানা এমন থাকে যেন রাস্তা তার বাবার তৈরি। শুধু সে নিজেই চড়বে। এ তো গেলো শুধু রাস্তার কথা। ব্যবসা , চাকরি কিংবা স্কুল-কলেজেও এ ধরনের মানুষ বর্তমানে সয়লাব। কেন এই নৈতিক অবক্ষয়?

হয়তোবা মাত্রাতিরিক্ত টাকা আর নয়তো সুশিক্ষার অভাব। যেটাই হোক মানুষের নিজস্ব কিছু নীতি থাকাও উচিত। মানুষকে আজ মানুষ বলে মনে করা হয় না বলেই সমস্যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে আমাদের সবার অগোচরে।

যদি এই ধরনের আচরণের কারণ হয় টাকা তাহলে তো এমন নিয়ম করতে হবে যেন কেউ বড়লোক বা বিত্তবান না হন। যা সম্ভবপর নয় এবং হাস্যকর। আর সকল বিত্তবানই কি এক রকম? না তা নয়। আমরা সকলেই জানি যে, বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ। অনেক মানুষই গত ১০-১৫ বছরে বিশাল অংকের টাকার মালিক হয়েছেন। নিজের কাজের জায়গায় উন্নতি করেই হোক আর দুর্নীতি করেই হোক টাকা ঠিকই তাদের হাতে এসেছে। সমস্যাটা তাদের নিয়েই যারা এই আলগা টাকার গরম সহ্য করতে পারেন না। টাকা হাতে আসতে না আসতেই তারা নিজেরদেরকে লাগামহীন মনে করা শুরু করেন। আশেপাশের মানুষ তখন তাদের কাছে তুচ্ছজ্ঞানহীন হয়ে পড়ে। এমনকি তাদের নিজের পরিবারের মানুষগুলোও। বিষয়টা পরিষ্কার করার জন্য একটা ঘটনার অবতারণা করা যাক।

মনে করুন, আপনি ও আপনার ছেলে বা ভাগ্নে বা ভাতিজা আপনার নতুন কেনা গাড়িতে যাচ্ছেন। কোনো সরু রাস্তা ক্রস করার সময় একটা রিকশা আপনার গাড়িতে ধাক্কা দিলো। আপনার নতুন গাড়ির একটু দাগ পড়লো। কি করবেন আপনি সেই মুহূর্তে? স্বাভাবিকভাবে দেখা যায় তো শতকরা ৯৯ জন মানুষই ওই রিকশা-চালকের গায়ে হাত তুলবেন। এমনকি একটা রক্তারক্তি কান্ডও ঘটিয়ে ফেলতে পারেন। আর মুখ থেকে যে সুমধুর বাক্য ক্রমাগত বের হবে তা গালি বলেই আমাদের সমাজে পরিগনিত হয়। কিন্তু এসব করার আগে একবারও কি খেয়াল করেছেন যে আপনার পাশে কে বসে আছে? সে আপনার ভবিষ্যত প্রজন্ম। আপনার পরিবারের মান সম্মান তার হাতে থাকবে ভবিষ্যতে। তার তখনকার আচরণ বলে দিবে যে আজকে আপনি তাকে কি শেখাচ্ছেন। অনেকটা সেই ছোটবেলায় পড়া প্রবাদ বাক্যটির মত, “ব্যবহারেই বংশের পরিচয়”। ছোটদের মন হয় কাঁদার মত। তাতে যেকোনো কিছুই খুব ভালোভাবে ছাপ ফেলে যায়। বিশেষ করে খারাপ কথা অথবা খারাপ ব্যবহার তারা বেশি মনে রাখে। আপনি যখন সেই ছোট বাচ্চাটির সামনে আপনার বাবার বয়সী কিংবা তাঁর চেয়েও বয়সে বড় মানুষকে গালি দিচ্ছেন অথবা তাঁর গায়ে হাত তুলছেন তখন একবারও কি ভেবে দেখেছেন ওই বাচ্চাটার মনে সেটা কি প্রভাব ফেলছে? সে কি শিখছে? হ্যাঁ মানছি আপনার গাড়ির ক্ষতি হয়েছে। হয়তোবা ওই দাগ আর কোনোদিন গাড়ি থেকে যাবেই না। কিন্তু আপনি যে দাগ ওই বাচ্চাটির মনে ফেলে দিলেন সেটাও কি আর কোনোদিন মুছে যাবে? সে দেখছে যে রাস্তার মাঝে আপনি নিজের ক্ষমতা জাহির করছেন। ক্ষণে ক্ষণে হয়তোবা এটাও বলছেন, ‘ওই আমারে চিনস? কার গাড়িতে ধাক্কা দিছোস ওইটা জানোস?’ ইত্যাদি।

কিন্তু ব্যাপারটা কি অন্যভাবে সমাধান করা যেত না? এভাবে চিৎকার করে কিংবা মারামারি করে নিজের মান সম্মানটা নষ্ট না করে ভদ্রভাবেও কিন্তু এই ধরণের পরিস্থিতি সামলানো যায়। তাতে করে ওই বাচ্চাটিও শিখতো যে গন্ডগোল বা গালি-গালাজ না করেও সমস্যার সমাধান করা যায়। কথায় আছে, শিক্ষিত মানুষ সব সময়ই তার শিক্ষার পরিচয় দেন। এটা আপনারও করা উচিত একজন শিক্ষিত নাগরিক হিসেবে। কারণ, আপনাকে দেখে সমাজের আরো পাঁচটি বাচ্চা শিখছে। এটা আপনার দায়িত্ব যাতে সে আপনার দ্বারা খারাপ কিছু না শিখে বড় হয়।

অনেকেই আবার প্রায়শই বলেন, ‘অমুক এমপি আমার এই লাগে। অমুক পুলিশ কমিশনার আমার মামা বা মামার বন্ধু’। এসব বলে আপনি কি বোঝাতে চাচ্ছেন? আপনার অনেক ক্ষমতা আছে নাকি আপনার অনেক ক্ষমতাধর মানুষের সাথে উঠা বসা আছে। বাস্তবিক অর্থে, আপনার নিজের বলে তাহলে কিছুই নেই। আপনি যেটা করছেন পুরোটাই ‘পরের ধনে পোদ্দারি’ করার মত ব্যাপার। আপনার নিজের কি যোগ্যতা আছে সেটা ভেবে দেখুন তো। যাদের নাম নিয়ে আপনি এত কিছু বলছেন তারা তাদের নিজেদের যোগ্যতায় আজকে ওই পর্যায়ে গিয়েছে। আজকালের দিনে অনেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর দ্বারা অনেক নামী দামী মানুষের সাথেই সাধারণ মানুষের সম্পর্ক স্থাপিত হচ্ছে। অনেকের সাথে খুব ঘনিষ্ঠতাও বাড়ছে। তার মানে তো এই নয় যে সবাই সেই সম্পর্ক গুলোর সুযোগ নেবে। চাটুকারিতা কোনো সম্পর্ককেই টিকিয়ে রাখতে পারে না।

আজ এই একবিংশ শতাব্দীর যুগে আমরা মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছি। হয়তোবা অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বের ও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে আমরাও উন্নত দেশের তকমা গায়ে লাগাবো। তখনও কি এই আচরণগুলো আমরা আশা করব আমাদের সমাজের মানুষগুলোর কাছ থেকে। নিশ্চয়ই না, আর তাই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের সময় এখনই। নয়তো অন্য কোনো দেশের কিছুই হবে না, শুধু মূল্যবোধ ও আত্মসম্মানের যে ক্ষতি হবে সেটা আমাদেরই হবে। জাতি হিসেবে আমাদের হয়তোবা অনেক সম্পদ থাকবে কিন্তু সম্মানের ঝুলিটা শূন্যই থেকে যাবে।

যুদ্ধ নাকি ভালবাসা ?

Now Reading
যুদ্ধ নাকি ভালবাসা ?

আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয় আপনি কি চান মানে যুদ্ধ নাকি ভালোবাসা ? আমি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি আপনি বলবেন আপনি ভালোবাসা চান । শুধু আপনি না আপনার মতো যাকেই জিজ্ঞাস করা হোক না কেন তাদের সবার উত্তর আসবে তারা ভালোবাসা চায় । কেউ বলবে না যুদ্ধ চায় ।

আসলে আপনি ভালোবাসা দিয়ে যতনা সহজে মানুষের মন জয় করতে পারবেন যুদ্ধ দিয়ে তা কখনোই পারবেন না । যুদ্ধ মানুষ কে বিপদ গামী করে ফেলে । আর ভালোবাসা মানুষ কে নতুন করে অনুপ্রেরণা যোগায় ।

তাহলে কি যুদ্ধের প্রয়োজন নেই ?
এই কথার উত্তর আসবে হ্যা যুদ্ধের প্রযোজন আছে ।

কখন ?
তখনি যুদ্ধের প্রয়োজন যখন আপনার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন আসবে । তখনি যখন আপনার বা আপনার দেশের স্বাধীনতা হারানোর সংশয় তৈরী হবে । তখনি আপনি যুদ্ধে লিপ্ত হতে পারেন । যেমন ধরেন ১৯৭১ সালের কথা । শুরুতে কিন্তু বাংলাদেশ থেকে কোনো আক্রমণ করা হয়নি । প্রথমে বাংলাদেশ সমঝোতা করতে চেয়ে ছিল । তারা যুদ্ধ চায় নি তারা শান্তি পূর্ণ ভাবে সমস্যার সমাধান চেয়েছিলো । কিন্তু তৎকালীন পাকিস্তান শান্তি পূর্ণ আলোচনা মেনে নিতে পারেনি । আর রাতের অন্ধকারে চলে বাংলাদেশের নিরীহ মানুষের উপর আক্রমণ । যখন বাংলাদেশ দেখলো তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছে তখন তারা নিজেদের স্বাধীনতার জন্য আক্রমণ করে পাকিস্তানের উপর । আপনাকে যুদ্ধ করতে হবে কিছু নিয়ম মেনে । আপনি অসহায় মানুষদের উপর আক্রমণ করতে পারবেন না । আপনি মানুষের ঘরে আগুন দিতে পারবেন না এমন কি যুদ্ধে কোনো বাচ্চা কে মারতে পারবেন না । কিন্তু পাকিস্তান তার কোনো তোয়াক্কা করেনি । যেভাবে পেরেছে হত্যা করেছে ।

আবার আরেক প্রকারের যুদ্ধ আছে তা হলো মনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ । এই যুদ্ধ সবচেয়ে বড় কষ্টের যুদ্ধ । ধরেন আপনি আপনার খুব কাছের মানুষ কে হারালেন । তখন আপনার তার কথা বাড়ে বাড়ে মনে পড়বে । আপনি না চাইলেও মনে পড়বে । তখন শুরু হয়ে যায় মনের সাথে যুদ্ধ । বেশির ভাগ সময় আমরা মনের সাথে যুদ্ধ করে পেরে উঠি না । আর যখনি পেরে উঠি না তখনি আমরা ভুল সিদ্ধান্ত নেই । কেউ হয়তো আত্মহত্যা করে আবার কেউ বা খারাপ পথে ধাবিত হয় । আবার আমরা প্রতিনিয়ত জীবনের সাথে যুদ্ধ করছি । বেঁচে থাকার তাগিদে যুদ্ধ করছি এই পৃথিবীর সাথে ।

তাহলে কি যুদ্ধই এক মাত্র সমাধান ?

না ভাই যুদ্ধ কখনো সমাধান হতে পারে না । ভালোবাসা হলো আমাদের সমাধান । আমাদের উচিত সবাই কে ভালোবাসা । আমরা কে কোন ধর্মের বা কোন দেশের সেই কথা বাদ দিয়ে যদি সবাই কে আমাদের বুকে টেনে নিতে পারি , যদি আমরা একে ওপরের পরিপূরক হয়ে যেতে পারি তাহলে যুদ্ধ নামের কথাটাই মুছে যাবে এই পৃথিবী থেকে ।

আজ আমাদের হিংসা ক্রোধ এর কারণে ধ্বংস হচ্ছে এক এক দেশ । সেই সাথে ধ্বংস হচ্ছে অনেক অসহায় মানুষ । কিন্তু একটাবার ও কি ভেবে দেখেছি আজ আমাদের ভালোবাসার কারণে কয়টা দেশকে তৈরী করতে পেরেছি । আজ আমাদের ভালোবাসার কারণে কয়টা তারকাটার বেড়া তুলে ফেলেছি । না আসলে আমাদের ভালোবাসা আজ ব্যর্থ। আজ আমাদের ভালোবাসা আজ ওই তার কাটা নামক জায়গায় বন্ধি হয়ে আছে আর পার্থক্য করে দিয়ে ওইটা তোমার আর এইটা আমার । কিন্তু ভালোবাসা আজ আমাদের এইটা বলতে শিখায় নাই যে এই পৃথিবীটা আমাদের । না তোমার না আমার , এইটা আমাদের । আসলে আমাদের মুখ থেকে আমাদের কথাটাই উঠে গিয়েছে । শুধু আমার তোমার কথাটা প্রচলন বেড়ে গিয়েছে । যার ফলে আজ নিজেদের ক্ষমতা প্রকাশ করার জন্য নিজের আপন ভাইকেও অপমান করতে দ্বিধা বোধ করছি না । আজ আমাদের মানবতা হারিয়ে গিয়েছে নিজেদের স্বার্থের কাছে ।স্বার্থের দেয়াল আজ এতই বড় হয়েছে যে ভালোবাসা আর বিলুপ্তের পথে । দিন দিন বেড়েই চলেছে আমাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ । আসলে আজ আমরা আমাদের জাত ভুলে গিয়েছি , আজ আমরা এতটাই নিচে নেমে গিয়েছি যে আজ আমাদের সাথে সভ্য সমাজের মানুষরাও কোনো প্রাণীর সাথে তুলনা করে সে প্রাণীকে অপমান করতে চায় না ।

আপনি কখনো খেয়াল করছেন কিনা জানি না , বাঘ বা সিংহ কখনই নিজেরদের জাতের মাংস নিজেরা খায় না । তারা নিজেদের নিজেরা কখনো হত্যা করে না । ইউটুবে ঘাটলে আজ আমরা দেখতে পাই বাঘ আর হরিণ এক সাথে পানি খাচ্ছে । আর আমরা কালো সাদা এক সাথে চলতে পারি না । যেখানে দুই জাত এক সাথে পানি খাচ্ছে আর আমরা কিনা একই জাতের মানুষ হয়ে সামান্য রঙের কারণে মিশতে পারছি না । এমন কি হত্যা কাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছি ।

তাহলে আমাদের করণীয় কি ?

আজ আমরা এমন একটা সময়ে এসে হাজির হয়েছি যে , এমন সব প্রশ্ন শুনতে হয় এখন আমাদের করণীয় কি ? বরং আমাদের এমন ভাবে চলা উচিত ছিল যে প্রশ্ন আসার কথা আমরা কিভাবে আরো বেশি করে মানুষ কে ভালোবাসতে পারি ? আমাদের উচিত মানুষ কে ভালোবাসা কোনো কারণ ছাড়া । দুর্বলদের প্রতি অন্যায় বন্ধ করা । ধনীদের উচিত গরিবদের পাশে এসে ধরানো । মানুষ কে মানুষ ভাবা । তাকে কোনো ধর্ম, জাত , টাকা পয়সা বা অন্য কিছু দিয়ে বিচার না করা ।

কেবল ভালোবাসলেই আপনি আরেক জন থেকে ভালোবাসা আশা করতে পারেন । ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে ফেলুন আমাদের এই পৃথিবীকে । পৃথিবীতে আজ কোনো কিছুরই অভাব নেই । কিন্তু আজ ভালোবাসার বড়ই অভাব । অভাব মুক্ত করে দিন মন কে প্রসস্থ করে দিন দেখবেন শান্তি ধরা দিতে বাধ্য ।

ধর্ষণ ও আমাদের সমাজের চালচিত্র

Now Reading
ধর্ষণ ও আমাদের সমাজের চালচিত্র

ধর্ষণ…!!
শব্দটা যেন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে একেবারে মিশে গেছে।
পত্রিকা, টিভি চ্যানেল, ব্লগ সাইট, ফেসবুক সহ সকল পাবলিক প্লেসে, এমনকি বন্ধুদের আড্ডাতেও এই শব্দটি বহুল ব্যবহৃত।
শব্দটা আমরা যত সহজে উচ্চারণ করি, ভিকটিমেরা তার চেয়েও অনেক বেশি যন্ত্রণার সাথে শব্দটা সহ্য করে থাকে। যে যন্ত্রণা হয়তো অনুধাবন করার ক্ষমতাটুকু আমাদের কারো নেই।
যন্ত্রণার তীব্রতা যে কতখানি, তা আমরা সাম্প্রতিক একটা ঘটনার দিকে চোখ রাখলেই বুঝতে পারি। ছোট্ট মেয়েটার ধর্ষণের বিচার না পেয়ে বাবা আর মেয়ে মিলে একসাথে আত্মহনন করেছিল রেললাইনে মাথা পেতে। তাদের কাছে এই শব্দের যন্ত্রণা মৃত্যুর থেকেও অনেক ভারী।
যে উদাহরণটা দিলাম, এটা খুবই ক্ষুদ্র একটা অংশ। প্রতিদিনই বহু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে আর মিডিয়ায় আসে তার তলানি স্বরূপ ক্ষুদ্র একটা অংশ। আর সেটা নিয়ে আমরা অনলাইনে কয়েকদিন লাফালাফি করি। অবশেষে কোন সমাধান ছাড়াই নতুন নতুন ঘটনার নিচে চাপা পড়ে যায় সেই লাফালাফি। এদিকে ধর্ষিতারপরিবারের যন্ত্রণা, যন্ত্রণার যায়গাতেই রয়ে যায়। সমাধান না পেয়ে সেই যন্ত্রণা চেপে তারা সমাজে বেঁচে থাকে নিচু হয়ে। নিচুর কথা বললাম কেন, তার পুরোটা বলতে গেলে আমার লেখা কখনোই থামবে না। তবুও সংক্ষেপে বলি।

আমরা তথা আমাদের সমাজই ধর্ষিতাকে নিচু করে রাখে। ধর্ষণের বিচার না করে বরং ধর্ষিতাকে ও ধর্ষিতার পরিবারকে ছোট করে দেখে। দোষ না করেও, নির্যাতিত হয়েও তারা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না, কথা বলতে পারে না। অথচ, ধর্ষক ঠিকই বীর-দর্পে চলাফেরা করে। মাথা উঁচু করে চলে। একই চায়ের টেবিলে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে চায়ের কাপে চুমু খায়। আমাদের সমাজটাই এমন। নারী জাতির সম্মানটা কেবল নিজের “মা” আর “বোন” নামক শব্দের মাঝে সীমাবদ্ধ। বাকি সব নারী “মাল” আর ভোগের পণ্য। রাস্তাঘাট, যানবাহন থেকে শুরু করে যেখানেই কোন নারী দেখা যায়, তারা সবাই “মাল”। লোলুপ দৃষ্টি তাদের পিছু ছাড়েনা কখনোই। এমনকি ফেসবুকে কোন মেয়ে ছবি আপলোড দিলেও তার মাঝে মানুষ যৌনতা খোঁজে। হোক সে ক্লাসমেট, কাজিন অথবা এলাকার কোন মেয়ে। আপনার আশেপাশের পাবলিক প্লেস গুলোয় চোখ-কান খোলা রাখলেই একথার সত্যতা খুঁজে পাবেন। দূরে যেতে হবেনা। আমাদের তথা আমাদের সমাজের মনোভাবটাই এমন। যৌনাকাঙ্ক্ষা এতোই বেশি যে, আমরা তা রগে রগে ধারণ করে পথ চলি আর নিজের ব্যক্তিসত্তা ভুলে গিয়ে নির্লজ্জের মতো তা নারীদের দিকে ছুঁড়ে মারি।
যাক এসব কথা। ধর্ষণের কথায় আসি…

সম্প্রতি আলোচিত এক ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সাদাতের বাবা বলেছে, “আমার ছেলে অন্যায় করেছে তো কি হয়েছে, আমিও করি”। বেহায়া, নির্লজ্জ কোথাকার। কোন বাবা তার ধর্ষক ছেলেকে নিয়ে স্ব-গর্বে এমন কথা বলতে পারে, সে ধারণা আমার ছিল না। তার উচিত ছিল, জাতির কাছে তার ছেলের কুকীর্তির জন্য ক্ষমা চাওয়া। ক্ষমা না চেয়ে বরং তার ছেলের বাজে কর্ম ঢাকতে নিজেকেও সেই পর্যায়ে নিয়ে গেছে। একটা মানুষ আদব-কায়দা শেখে তার পরিবার থেকে। যে পরিবারে এমন বাবা আছে সে পরিবারের ছেলে আদব-কায়দা হীন ধর্ষক হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। কুলাঙ্গার ছেলেকে বাঁচাতে কোন কাণ্ডজ্ঞানহীন বাবা যদি এমন কথা বলতে পারে, সম্ভ্রম হারা কোন মেয়ের বাবাও ওইসব ধর্ষকের কাণ্ডজ্ঞানহীন বাবাকে রাজপথে ফেলে জুতাপেটা করতে করতে মেরে ফেলার অধিকার রাখে। যদিও অধিকার নামক শব্দটা এদেশের প্রশাসকদের দলিলে নেই বলেই চলে।
ধর্ষণের সঠিক বিচার না থাকার কারণে আমাদের সমাজের চিত্রটা এমন। সঠিক বিচার সমাজের অপরাধ কমিয়ে আনতে সক্ষম। আফসোস, আমাদের এই জিনিসটার বড় অভাব। যদি এসব অপরাধের সঠিক বিচার হতো, ধর্ষক সমাজ তাদের কার্য সম্পাদনে একটু হলেও ভয় পেতো আর অপরাধ কমতো। এই বিচার নিয়ে কথা বললে আবার বিশাল রচনা হবার সম্ভাবনা আছে। তবুও ছোট করে বলি…

বিচারকের আসনে তথা প্রশাসনে যারা আছে তাদের জগতটা সম্পূর্ণ আলাদা। এদের পিছনের দিনগুলোতে তাকালে দেখা যাবে, কারো কারো জীবনে এরকম কার্যের অভিজ্ঞতা বেশ কয়েকটা রয়েছে। লোকসমাজে প্রচলিত আছে, “কচু গাছ কাটতে কাটতে নাকি ডাকাত হয়”। কথাটার সত্যতা প্রমাণে প্রশাসনের লোকগুলো বেশ পটু। ছোটবেলা থেকে যারা অনিয়ম দুর্নীতি করে আসছে, তারাই একসময় ক্ষমতায় বসছে। এদের থেকে সুবিচার পাওয়াটা অমাবস্যার চাঁদের মতো। অন্ধকারে থেকে থেকে অন্ধকারের কাজগুলোই তাদের বেশি আপন। যদিও মাঝে মাঝে দু একটা বিচার দেখা যায়, সেগুলো হয় তাদের গদি পাকা-পোক্ত করার জন্য অথবা লোক দেখানো।

তনুর জন্য আমাদের আন্দোলন কতখানি জোরালো ছিল… টিকেছে? টিকেনি…!! বিচার এখনো প্রক্রিয়াধীন। কবে শেষ হবে, আদৌ হবে কিনা, তা কেবল তারাই জানে। জোর যার, মুল্লুক তার। অথচ, এই তনুরা যদি প্রশাসকের পরিবারের কেউ হতো, ধর্ষককে গ্রেফতার থেকে শুরু করে বিচার কার্য শেষ হতে সময় লাগতো হাতে গোনা কয়েকটা দিন। আমরা কেউ প্রশাসক পরিবারের না, সবাই তনুর পরিবারের, তাই সুবিচার হয়তো আমাদের প্রাপ্য না।

প্রতিদিন কত মেয়ে যে ধর্ষিতা হয় তার শেষ নেই। কেউ সামনে এসে বিচার চায়, কেউ গোপনে যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকে লোকসমাজে টিকে থাকার তাগিদে। গতকালও একটা খবর পেলাম, প্রায় বছর-খানেক সময় ধরে মা-খালা সহ এক মেয়েকে ধর্ষণ করে আসছে। কতটা জঘন্য একটা খবর। একবার ভাবুন। লোক-লজ্জার ভয়ে অথবা ভিডিও ফ্ল্যাশ হয়ে যাবার ভয়ে টানা এক বছর ধরে নীরবে ধর্ষণের যন্ত্রণা সয়ে আসছে। ভিডিও শব্দটা উচ্চারণ করতেই অনেকগুলো খবর চোখের সামনে ভেসে উঠলো। যাক, বাদ দিলাম এসব ভিডিওর কথা। যারা এইসব কাজগুলো করে, তাদের যদি বিচার হতো, পুরোপুরি না হোক, অপরাধ কিছুটা হলেও কমতো। মাথাব্যথা নেই আমাদের প্রশাসনের। সমস্যা কি !! তার মেয়ে তো নিরাপদেই আছে। একবার আপনার মেয়েকে ঠেলে দিন না কোন এক ধর্ষকের হাতে। খুব সহজেই বুঝবেন এসবের যন্ত্রণা কতখানি। ধর্ষিতাকে কোন এক মেয়েকে নিজের মেয়ের জায়গায় বসান না একবার। দেখেন, যন্ত্রণা কতখানি। আপনাদের কাছে আমাদের প্রাপ্যতা তো এটুকুই। আর এই প্রাপ্যটা যদি না’ই মিটাতে পারেন, তবে ছেড়ে দিন আপনার গদি। আপনার মত কাণ্ডজ্ঞানহীনের আসন বিচারকের আসনে শোভা পায় না। তেলে মাথায় তেল দিয়ে তথা ক্ষমতাবানদের পা চাটাই যদি হয় আপনার কাজ, তবে ওইসব ক্ষমতাবান ধর্ষকদের “দণ্ডটা” মুখে নিয়ে চোখ বুজে চুষতে থাকেন; আরাম পাবেন। অর্থলোভ আর ক্ষমতা আপনাদের মানসিকতাকে কুকুরের চেয়েও নিকৃষ্টতম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। কুকুরের সাথে তুলনা করেও ভুল করলাম। কুকুর অন্তত মনিবের নুন খেয়ে মনিবের কাজ করে। ধর্ষিতার পরিবারের সমর্থনেই হয়তো আপনি আপনার গদিতে বসতে পেরেছেন। কিন্তু তার জীবনের কঠিন-তম অবস্থায় আপনার লেজ গুটিয়ে ক্ষমতাবান ধর্ষকের দণ্ডে তেল মেজে দিচ্ছেন। শত ধিক আপনাদের। শত শত ধিক…!!!

রমজান মাস এবং আমরা।

Now Reading
রমজান মাস এবং আমরা।

রোজা চলে এলো। সংযম সিয়াম সাধনার মাস এই রমজান মাস। আর কদিন পরেই সব মুসলিম প্রধান দেশগুলোর মানুষদের এক মাসের জন্য জীবনধারা বদলে যাবে।এই গরমের ক্লান্ত দুপুরে যখন সব মা বোনেরা ভাতঘুমের আরামে বিভোর, আর কদিনপর এই সময়টায় তারা বিভোর থাকবে নিত্য নতুন ইফতারী আইটেম বানানোর প্রস্তুতি নিয়ে।
এখন পাল্লা দিয়ে চলবে ইফতারের আইটেম বাড়ানোর আয়োজন; কার ইফতারের টেবিল কতো ভরপুর থাকবে তা নিয়ে। কয় পদের জুস্ করা হলো না হলো তা নিয়েও চলবে বাকবিতন্ডা। আজওয়া খেজুর নাকি মরিয়ম খেজুর, ট্যাং নাকি রুহ্আফজা? ভাজা পোড়া আইটেম বেশি থাকবে নাকি স্বাস্থ্যকর কিছু; এই নিয়েও কিছু তর্ক বিতর্ক চলবে বেশ কয়দিন। বাজারে ছোলা,পেয়াজ,তেল,শসা, বেগুনের আকাশচুম্বী দাম হবে। এরমধ্যে কোনটার দাম ১০০ টাকা কেজি ছাড়িয়ে যাওয়ার ইস্যু নিয়ে দেশের খবরের কাগজ গুলো নানান ফিচার করবে। হোটেল মোটেল গুলোতে ঘনঘন ইফতার পার্টি হবে। টিভির খবর পাঠিকাদের পুরো মাস ঘোমটা পরিহিত অবস্থায় দেখা যাবে। শপিং মলগুলো তে ভীড় বাড়তে থাকবে। ঈদ ফ্যাশন বলে বলে নানারকম ভূত-অদ্ভুত ফ্যাশন চালু হবে। এক শ্রেণীর ক্রেতারা সেসব কিনতে না পারলে ডিভোর্স বা আত্মহত্যা করবে। রাস্তায় রাস্তায় চাঁদাবাজি বেড়ে যাবে। ছিনতাই,চুরি ডাকাতির খবর ঘনঘন শোনা যাবে। যথাযথ স্হানে পার্ক করা গাড়ি খোঁড়া যুক্তি প্রদর্শনের কারনে অযথা কেস খাবে। কার ঈদ ড্রেস কতো গর্জিয়াস হলো, ঈদের জুতো কতো ফ্যাশনেবল হলো সেই প্রতিযোগিতা চলবে। মসজিদে কিছু সিজনাল মুসুল্লীদের আনাগোনা দেখা যাবে।……. সবই হবে। হবেনা প্রকৃত অর্থে যাকে সংযম করা বলে,সেটাই।
ইসলাম আমাদের সংযমী হতে বলেছে, রোজার মাস আমাদের সেই শিক্ষাটাই দেয় মূলত। সংযম খাবার দাবারের উপর, টাকা-পয়সা খরচের উপর, নিজেদের ব্যবহারের উপর, রোজকার জীবনযাপনের উপর। অতিরন্জিত যে কোন কিছুকে ইসলমা সমর্থন করেনা। অথচ আমরা সেটাই দিব্যি ভুলে থাকছি। খাঁটি মনে এসব কিছু অনুসরণ করছে,এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। সেই কম সংখ্যক মানুষগুলো যখন ইসলামের এই সত্যি দিক গুলো তুলে ধরতে চায়,আমরা তাদের নিয়ে মজা করি। তাদের জীবনযাপন প্রণালী নিয়ে ঠাট্টা করি, হেয় করি। আমরা যাকাত দেই প্রচার করে ঢাকঢোল পিটিয়ে,সামাজিক স্টাটাস ঠিক রেখে। অমুক এতোটা শাড়ী দিচ্ছে, তমুক কে তারচেয়েও বেশি দেয়া চাই। মসজিদে মসজিদে নামাজের পর দোয়া করা হবে তাদের জন্যই যারা কিনা টাকার পরিমানটা হাযার ছাড়িয়ে দিচ্ছে। অথচ ইসলাম কিন্তু বলে, এমনভাবে দান করতে যাতে ডান হাত দান করলে বাম হাত টের না পায়। দেখা যাচ্ছে আমরা কেউ মূল সংযম পালন করতে পারছিনা। বরং সংযমের নামে চরম অসংযমী আচরণ করছি। কিন্তু মুখে ঠিকই “রমজান মাস সংযমের মাস,সিয়াম সাধনার মাস” বলে বলে নানা ধরনের টকশো আরও কতো কি! ইহকাল পরকাল ব্যাপারগুলো যেন শুধু বইয়ের ব্যাপার হয়ে গেছে। সবাই জানে,কিন্তু কেউ মানে না। যেন পরোয়াই করেনা। তারা বোধহয় মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে “নিশ্চই আল্লাহ্ পরম দয়ালু ও ক্ষমাশীল”। সৃস্টিকর্তা ওরা যাই করুক না কেন ক্ষমা করেই দিবেন।
অসংযমী রোজদারদের রোজা বা ইবাদত কতোটা কবুল হয় কিনা হয় সেই বিতর্কে গিয়ে আমার কোন সওয়াব যখন জুটবেইনা তখন সেই বিতর্কে নাই বা গেলাম। তারচেয়ে বরং নিজেরাই নিজেদের আয়না দেখানোর ফলে সামান্য হলেও যদি একটু আত্মশুদ্ধি হয় আমাদের কারো, তাহলেই এই লিখনীর সার্থকতা।আমাদের মধ্যে অনেকেই আছি এমন যে সবই জানি,বুঝি, তবু গড়িমসি করি, “কাল থেকে ঠিক মানুষ হবো” নীতিতে চলতে চলতে আমাদের সেই “কাল” আর আসে না। কেমন এক আলসেমি পেয়ে বসে সামান্য আধঘন্টার কোন নামাজ পড়তে গেলে। অথচ এর চেয়েও সময় সাপেক্ষ,কষ্ট সাপেক্ষ কোন কাজ কতো অবলীলায় করে ফেলছি। আমরা যেম এমনই! ফিক্সড প্রাইসের দোকানে গিয়ে বিনা বাক্য ব্যায়ে গুচ্ছের দাম দিয়ে কিছু কিনে ফেলতে দ্বিধা করিনা,কিন্তু চরম গরমে গন্তব্যে পৌছানোর জন্য রিকশা নিলে সেই গরীব রিকশাওয়ালার সাথে সামান্য পাঁচ টাকা নিয়ে ঝগড়া করতে আমাদের বাঁধে না। তখন আমাদের সংযমবোধ পুরোদমে জেগে ওঠে। “নাহ্। এইবেলা মিতব্যয়ী হবোই হবো!”
আমাদের বোধবুদ্ধির আসলেই তুলনা হয়না। আমরা দান করবো তাও প্রচার করে, জাঁকজমক করে। যেখানে সওয়াব প্রাপ্তির আশা থেকে বেশী আশা থাকে প্রচারের। লোকদেখানো এই দান আদতে কতোটা গ্রহনযোগ্য সেটার বিচার ভার আল্লাহ’র। তবে আমাদের সময় থাকতেই সাবধান হয়ে যাওয়া উচিৎ। আমরা ভুলেই যাই যে আমাদের মূল গন্তব্য সেই সাড়ে তিন হাত মাটির ভিতরেই। সেটা মাথায় রেখেই আমাদের জীবনযাপন করা উচিৎ। রোজার মাসের যে ফজিলত তা যদি আমরা নুন্যতম পরিমানটুকুও উপলব্ধি করতে পারতাম,তবে আমাদের ইফতারের টেবিলে নানা ইফতারী আইটেম যতোটুকু থাকা উচিৎ,ততোটুকুই থাকতো। শপিংমল গুলো খালি থাকতো। আমাদের দান খয়রাত গুলো বাস্তবিক দানখয়রাত ভাবেই গৃহীত হতো। আমাদের মনটা আসলেই উদার হতো।আমরা সত্যিকার ভাবে উপলব্ধি করতে পারতাম একজন অনাহারীর কষ্টটা। তাকে বা তাদের মতো কাউকে দু’চার টাকা বেশি দিয়ে সাহায্য করতে আমাদের বাঁধতো না।যাকাত শব্দটার মূল অর্থই আমাদের বোধগম্য হতো। আমরা প্রকৃত অর্থেই মুসলমান হতাম। এসব কথাই আমরা প্রত্যেকে সেই শৈশব থেকে জানি। কিন্তু অবহেলা করে,শুধু কথার কথা ভেবে পুরোপুরি অবহেলা করে আমরা যে যার মতো আয়েশি জীবনযাপন করছি। এভাবে একটা সময় আসবে আমরা হাড়ে হাড়ে পস্তাবো, কিন্তু সেদিন অনেক দেরী হয়ে যাবে। তখন আমাদের করনীয় কিছুই থাকবেনা। অতএব, সাধু সাবধান!

একটি টিভির আত্মকাহিনী

Now Reading
একটি টিভির আত্মকাহিনী

আমি একটি অত্যাধুনিক ৪২” এল ই ডি টিভি। পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট এই পরিবারের ড্রয়িংরুমে আমার অবস্থান। ওরা আমাকে অনেক যত্ন করে রাখে। রোজ ঝেড়ে মুছে পরিষ্কার করে ঝা চকচকে করে রাখে আমার শরীরটাকে। বড্ডো ভালেবাসে। আমিও ওদের যথাযথ সেবা দিতে সবসময়েই সচেষ্ট থাকি। আমিও ওদের ভালেবাসি। যেদিন ওদের বাসায় আমার প্রথম আগমন ঘটলো, আমাকে নিয়ে ওদের আহ্লাদিপনার কমতি ছিলোনা। পাশের বাসার ভাবীদের ভিন্ন অজুহাতে ডেকে এনে আমাকে দেখাচ্ছিলো,আমার শেপ, আমার আকৃতি, আমার ছবির কেয়ালিটি। সব্বার বাহ্ বাহ্ পেতে পেতে আমারও কেমন যেন গর্ব হচ্ছিলো নিজেকে নিয়ে। বাসার অন্য ফার্নিচারগুলো আমাকে কেমন হিংসুটে চোখে দেখছিলো! অনেক মজা লাগছিলো বটে! আমি সবচে, সব্বার চেয়ে সেরা,হিংসা তো তাদের হবেই, দোষের কিছুনা।যেমন দোষের না আমার এই অহংকার করাটা।
ডিশ্ কানেকশন লাগানোর পর শুরু হলো আমার পথ চলা।

আমাকে সামনে রেখে পরিবারের সবার কত আড্ডা, চা কফি,কোক! সবচে বয়োকনিষ্ঠ সদস্যটি সুযোগ পেলেই কার্টুন নেটওয়ার্ক ছেড়ে বসে থাকে। একা একা হাসে, হুহ্-হাহ্ করে। আমার মজা লাগে,মায়া লাগে। সবচে’ বিরক্ত লাগে যখন বাড়ীর বয়োজ্যেষ্ঠ মহিলাটি কিসব প্যানপ্যানানি সিরিয়াল নামক জিনিষটাকে ছেড়ে দেয় আমার মধ্যে। ঐ কথায় কথায় কান্নাকাটি,মরে গিয়েও আবার বেঁচে ফিরে আসা,সামান্য সব ছুঁতো ধরে অসামান্য সব ঘটনা, ঝগড়াঝাটি আমার মধ্যে চলতে চলতে আমি নিজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ি, ওরা বোঝেনা। আমারই সিরিয়ালের ওদের মতো মরে নস্ট হয়ে যেতে মন চায়, আবার বেঁচে ফিরে আসতে আর একদম মন চায়না। রিমোট নিয়ে যখন বাড়ীর কর্তার সাথে ঐ কত্রীর ঝগড়া টাইপ কথোপকথন চলে, আমার খুব খুউব ইচ্ছা করে বেচারা কর্তার পক্ষ নিয়ে কিছু বলি। নিজের অক্ষমতায় তখন নিজেরই কষ্ট হয়। হায় প্রযুক্তিবিদগণ! এতো এতো কিছু আবিস্কার করেছেন, আর একটু কষ্ট করে আমাদের দু’চারটা মনের কথা বলতে পারার ব্যাপারটা যদি আবিষ্কার করতে পারতেন! কিছু চাইবার থাকতোনা! মাঝে কিছুদিন আমার ভিতরের খবরের এক চ্যানেলে শুনতে পাচ্ছিলাম স্টার জলসা নামক সেই ভয়ানক চ্যানেলটা নাকি বন্ধ হয়ে যাবে। নিজের কানকে বিশ্বাস হচ্ছিলোনা, সত্যিই এমন দিন আসবে? নাহ্! আসলেই তেমন দিন আসলোনা।

থাক! দুঃখের সাতকাহন গেয়ে আর কি হবে। কিছুই যখন করার নেই,কারোরই যখন আমাকে বোঝার নেই, কি লাভ আর এই দুঃখ করে! তারচে’ বরং সবচে মজার সময় কাটানোর কথা বলে মন হালকা করা যাক। বাড়ীর ছেলেটিকে আমার সেইরকম লাগে! কারন? ও আমাকে ছাড়লেই ইতংবিতং চ্যানেলগুলো ফেলে খেলার চ্যানেলগুলো দেখে। শান্তি শান্তি লাগে কেমন যেন।খেলার উত্তেজনা আমার মতো জড় পদার্থের একটা টিভির ভিতরেও ছড়িয়ে পড়ে কিভাবে যেন। কিন্তু সমস্যার কথা, এই ছেলেটির ভাগ্যে টিভি দেখা জুটেনা তার অফিসিয়াল নানান ব্যস্ততার কারনে। তার স্ত্রীর মতো আমিও ছেলেটির অপেক্ষায় থাকি। তার স্ত্রীর সংসারের কাজ করতে করতে আমার সামনে বসা খুব একটা হয়ে ওঠেনা। সেও হয়তো বসার সুযোগ পেলে সিরিয়াল ই দেখতো! তবে রাতে তারা টোনাটুনি মিলে যখন আমার সামনে বসে কোন মুভি দেখে অন্তরঙ্গ সময় কাটায়,চানাচুর বা মুড়ি খায়, ভালো লাগে আমার। তবে রোজ রোজ এই খেলা বা ওদের একসাথে বসে মুভি দেখার ব্যাপারটা হয়না আমার সাথে।তবে আমি রোজ চাই আজও খেলা হোক,আজও ওরা মুভি দেখতে বসুক। আমার ক্লান্ত লাগেনা তখন। তবে আমাকে দিয়ে বেশিরভাগ সময়েই সিরিয়াল দেখানো হয়। অবলা আমি একটু প্রতিবাদ ও করতে পারিনা।

সিরিয়াল ব্যাপারটা কি না দেখলেই নয়? এত্তো কত্তো চ্যানেল আমার ভিতর! কত্তো কত্তো মজার জিনিস হয়। ডিসকভারী বা এনিমেল প্লানেট দেখলেও তো দাদীমা!! তাও না বোঝ তো নিজের দেশেরই নাটকগুলো না হয় দেখো। তা না দেখে বস্তাপঁচা ওসব সিরিয়ালে কি মজা পাও, বুঝি না বাপু! সিরিয়াল দেখে দেখে মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি চাপাও আর সংসারে কোথাও পান থেকে চুন খসলেই ক্যাক করে ধরো। সাধারন “ভুল করে হয়ে গেছে” এভাবে ভেবে ব্যাপারটা ভুলে গেলেই হয়। তা কিভাবে হবে? সিরিয়ালের প্রভাবে তা হতে দিলে তবেই না! সেদিন আমার সামনেই তো বউটাকে সামান্য এক গ্লাস পানি আনতে দেরী হওয়ায় তার বাপ-মা তুলে কথা বললে। ডায়ালগ গুলো সবই কোথা থেকে আমদানি হলো তা বুঝতে তো আমার বাকি ছিলোনা। নেহাৎ কিছু বলতে পারার ক্ষমতা নেই বলে চুপ মেরে থাকা ছাড়া গতি ছিলোনা।কিন্তু ভিতরে ভিতরে মরমে মরে যাচ্ছিলাম যে বৌটার কথা গুলো শুনানোর একটা কারন বা মাধ্যম আমি নিজে! আজ আমি যদি না থাকতাম,হয়তো বৌটা এসব কথা শোনার হাত থেকে বাঁচতো। আসলেই কি বাঁচতো? না বাচলেও অন্তত আমি তো আর কোন মাধ্যম হিসেবে থাকতামনা। আমার জড় বিবেকটাও অনুশোচনায় বিদ্ধ হতোনা। আমার খুব প্রশ্ন করতে মন চায়, আমি একটা জড় পদার্থ,এক হাল ফ্যাশনের টিভি, আমার তাতেই বিবেক বোধটা কাজ করে, তুমি সৃস্টির সেরা জীব মানুষ হয়েও তোমার বিবেকে বাঁধে না?

সিরিয়াল তোমাকে কি শিখাচ্ছে একবার ভাবোতো দাদীমা! তোমার বাসার পরিবেশ নষ্ট করছে এই সিরিয়াল।তারচে’ বরং দাদার সাথে বসে খবর দেখতে দেখতে চা খাও, ঝগড়া হবেনা দেখো। ছেলের বৌকেও বিপক্ষের দল ভাববে না। তাকে ডেকে দু’চারটা ভালো কথা বলোই না। বা তাকে নিয়েই নিজের দেশের নিজের সংস্কৃতির একটা কোন নাটক দেখো। তুমি সবচে’ বড়। তোমাকে দেখেই তো বাকিরা শিখবে,তাই না দাদীমা। কাল যদি তোমার নাতি তোমার পাশে বসে এই সিরিয়াল গিলে,তো পরশু সে নিজেই ঘরের এসব ঝগড়াঝাটি গুলোকেই সাধারন ব্যাপার হিসাবে ধরে নেবে। তুমি তোমার প্রজন্মের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মটাকেও প্রভাবিত করছো। একটা ভালো সিরিয়াল দেখাও আমাকে যেখান থেকে শিখার কিছু আছে! ৬৬৬
নিজের ভালো নাকি পাগলেও বোঝে। মানুষ হিসাবে তো এটা এই শ্রেনীর মানুষগুলোরও বোঝার কথা। আমি সামান্য এক ৪২” এল ই ডি টিভি। এক সময় আমার নিজেকে নিয়ে বেশ গর্ব হতো, এখন নিজেকেই কেমন ঘেন্না হয়।ঘরে ঘরে এতো ঝগড়া, অশান্তির মূলে যেন আমি নিজে!

পুলিশ বনাম ছাত্র

Now Reading
পুলিশ বনাম ছাত্র

নাশকতাকারীদের নিয়ে কিছু কথা:

আজকে আমি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঢাকার অন্যতম স্বনামধন্য কলেজ সরকারি বিজ্ঞান কলেজের ছাত্রদের ফার্মগেটে বাসা ভাঙা নিয়ে যে আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে কথা বলবো।   গত ১৪/০৫/২০১৭ ইং তারিখে সরকারি  বিজ্ঞান কলেজের কয়েকজন ছাত্র পরিক্ষা শেষ করে ফার্মগেট থেকে গুলিস্তানের উদ্দেশ্যে শিকড় পরিবহণের বাসে উঠে। বাস শাহবাগের কাছাকাছি আসার পর বাসে কন্ট্রাক্টর ছাত্রদের কাছ থেকে ভাড়া খুজলে ছাত্ররা তাকে হাফ ভাড়া দেয়ার পর সে ছাত্রদের গালি দেয় তখন ছাত্ররা তার প্রতিবাদ করলে শাহবাগে শিকড় বাসের অন্যান্য ড্রাইভার, হেল্পার এবং কন্ট্রাক্টরেরা মিলে ছাত্রদের প্রচন্ড মারধর করে।  একজনের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলো ওই বাসের লোকেরা।  ছাত্ররা সেখান থেকে মার খেয়ে এসেছে কারো সাহায্য ছাড়া।  পরেরদিন পরিক্ষা দেয়ার পর সরকারি বিজ্ঞান কলজের সকল শিক্ষার্থী এই অন্যায় এর প্রতিবাদের ফার্মগেট অবস্থান করে এবং ৩ টি শিকড় বাস কে থামতে বলে কিন্তু বাসের ড্রাইভার বাস না থামানোর ফলে ছাত্ররা বাসে আঘাত করতে বাধ্য হয়। ছাত্ররা তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি পরিচালনার এক পর্যায়ে পুলিশ বাধা দেয়।  পুলিশ তাদের ছেলের বয়সী ছাত্রদের যুক্তিপূর্ণ আন্দোলনে লাঠিচার্জ করে,  মারধর করে এবং বাবা মাকে নিয়ে গালাগালি করে নিজেদের ছোটলোকির পরিচয় দিয়েছে।  ওইদিন তারা বিজ্ঞান কলেজের ২জন শিক্ষার্থী কে গ্রেফতার করে পরে ছাত্রদের তীব্র চাপের মুখে পুলিশ ওই ২জন ছাত্রকে ছেড়ে দেয়।  কিন্তু ঘটনা এখানেই শেষ হয় নাই ১৫ তারিখ রাতেই দেশের অনলাইন নিউজ পোর্টাল গুলো ইনিয়েবিনিয়ে পুলিশ ও পরিবহণ শ্রমিকদের পক্ষ নিয়ে নিউজ পাবলিশ করতে থাকে। দেশের জনপ্রিয় নিউজপেপার তাদের প্রতিবেদনের ছাত্রদের নাশকতাকারী বলে উল্লেখ করেছে । নিজেদের উপর জুলুমের প্রতিবাদ করা যদি নাশকতা হয় তাহলে ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের নায়কেরাও নাশকতাকারী ছিলো। দেশের প্রায় প্রতিটি নিউজ পোর্টালেই বিজ্ঞান কলেজের ছাত্রদের গুন্ডা বলে আখ্যায়িত করা হয়।  পরেরদিন সকালে ছাত্ররা কলেজে গিয়ে তাদের উপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদ  স্বরূপ ফার্মগেটে অবস্থান করে তখন তারা একটি লাব্বাইক বাস আটকে রাখে হাফ পাশ না রাখার কারণে কিন্তু সাথে সাথেই পুলিশ এসে ঘটনা না শুনের ছাত্রদের গালাগালি করতে থাকে এবং ২ জন কে এরেস্ট করে।  তখন ছাত্ররা তাদের অধিকার এর কথা পুলিশের কাছে উপস্থাপন করে কিন্তু তারা কোনো কিছু না শুনেই এলোপাথাড়ি লাঠিচার্জ শুরু করে এতে বেশ কয়েকজন ছাত্র আহত হয়।  এরপর ধফায় ধফায় ছাত্ররা পুলিশের সাথে কথা বলে তাদের দাবী তুলে ধরার ট্রাই করেছে কিন্তু পুলিশ প্রতিবার ছাত্রদের রাইফেল দিয়ে মেরে, ফাকা গুলি ছুড়ে এবং লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দিয়েছে।  পরবর্তীতে পুলিশের  তেজগাঁও  জোনের উপ-কমিশনার বিজ্ঞান কলেজে এসে ক্ষমা চেয়ে ছাত্রদের অধিকার আদায়ের ব্যাপারে সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে গেছেন কিন্তু আফসোস আমরা এখনো হাফ ভাড়া দিতে পারি না।  এখনো আমরা বাসে উঠতে গেলে গেট অফ করে দেয়া হয়।  এখানে কিছু কিছু বাসের নাম উল্লেখযোগ্য : লাব্বাইক, ওয়েলকাম, শিকড়,এয়ারপোর্ট বংগবন্ধু এভিনিউ ইত্যাদি।

এখন আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন:

সরকার কর্তৃক প্রণীত ছাত্রদের জন্য হাফ পাশ আইন বাস্তবায়নের জন্য কেনো আজ এই মেধাবী ছাত্রদের রক্ত জড়াতে হচ্ছে…??

কেনো আজ তাদেরকে রাস্তায় বাসের হেল্পারদের থেকে মার খেতে হচ্ছে…?

কেনো আজ পুলিশ দেশের ভবিষ্যৎ কে এভাবে রাস্তায় ফেলে পিটাচ্ছে…?

আমরা ছাত্ররা যখন দেশের বিপদে এগিয়ে আসি তখন আমরা হিরো কিন্তু যখন নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথ আগলে থাকি তখন আমরা গুন্ডা, মাস্তান। যারা এইসব ভালোমানুষির মুখোশ পরে কথা গুলো বলছেন তারা একবার ভেবে দেখবেন আমাদের রক্ত আর পরিশ্রমের বিনিময়েই আপনার সন্তান বাসে হাফ পাশ দিতে পারছে।

অবশেষে আমি এতটুকুই বলবো যে, দেশের ক্রান্তিলগ্নে এই গুন্ডাগুলোই এগিয়ে আসে।

ভালো থাকুক ভদ্রতার মুখোশ পরা মানুষগুলো।

বৈষম্য বনাম মানব শক্তি

Now Reading
বৈষম্য বনাম মানব শক্তি

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নারী শক্তির বিষয়ে কথা বলতে গেলে বলবো, আমাদের দেশের নারীরা পার্শ্ববর্তী বেশকিছু দেশের তুলনায় চিন্তাশক্তির দিক থেকে এবং পদচারনায় স্বাধীন।

পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েক দেশেই নারীরা পেশাগত দিক বা শিক্ষাজীবন কোনটাতেই স্বাধীন নয়। সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী। তাছাড়া, কর্মক্ষেত্রের প্রতিটা জায়গায় নারীদের সফল পদার্পণ রয়েছে।

এসবই সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশের মানুষের মনুষ্যত্ব বোধ এবং মানবীয় গুণাবলী রয়েছে বলে। এখানে নারী বা পুরুষ আলাদা করে বলাটা প্রয়োজন বলে মনে করি না। এসব সম্ভব হয়েছে নারী এবং পুরুষের একত্রীত ভূমিকা পালনের মাধ্যমে।

আর যারা ধর্ষক, তাদের পুরুষ বলাটা কি ঠিক হবে? ওদের না হয় গ্রীষ্মের পাগলা কুকুর বলি। ধর্ষকদের পুরুষ বললে পুরুষ জাতীকে অপমান করা হবে। মিউনিসিপালিটি থেকে অনেক সময় রাস্তার পাগলা কুকুর গুলোকে মেরে ফেলার দায়িত্ব নেয়া হয়। ঠিক তেমনি ভাবে এই পুরুষ রুপী কুকুরগুলোকে একদম নিঃশেষ করে দেয়া উচিৎ, যেন তাদেরকে উদাহরণ হিসেবে নিয়ে কোন একটি জাতীকে ছোট করে কথা বলার সুযোগ না থাকে।

আমাদের সমাজের প্রচলিত কিছু কথা রয়েছে যা মানুষকে মানুষ হতে বাঁধা দেয়। যেমন- “পুরুষ মানুষ তো একটু এমন-ই হয়” , “মেয়েটা কি করে ভুল করলো?”

যারা এইসব বলে, তারা কি বোঝে যে এসব কথা দুটি পক্ষের জন্যই অপমানজনক? এভাবে তারা এক পক্ষকে হিংস্র জন্তু এবং অন্য পক্ষকে ঘরের কোণের ইঁদুরের সাথে তুলনা করে। তার থেকে অভিভাবকদের কাছে অনুরোধ থাকবে,”আপনারা সন্তানদের মানুষ করুন, হিংস্র জন্তু বা ঘরের কোণের ইঁদুর নয়।“

আমরা মাদার তেরেসার কথা শুনেছি, শুনেছি লালন ফকিরের কথা। তাদের নারী বা পুরুষ এমন বিশেষণে বিশেষিত করলে মনে হয় তাদের মানবতার বিস্তারকে দেয়ালবন্দি করা হলো। আসলে তারা ছিলেন প্রকৃত মানুষ। আর সেই মানুষদের সম্পর্কে জানলে ইচ্ছা হয় একজন প্রকৃত মানুষ হই।

নারী-পুরুষের সম অধিকার নিয়ে কিছু মানুষের বিরোধীতা দেখা যায়। বিশেষ করে বাসে উঠলে বুঝতে পারা যায় বিষয়টি। কিছু আসন নারি,শিশু এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত থাকে। সংখ্যাগরিষ্ঠ কিছু পুরুষ তিক্তস্বরে বিড়বিড় করে বলে,”সম অধিকার চায়, আবার শিশু-প্রতিবন্ধীদের সাথে নিজেদের সামিল করে কেন?” হাঁসি পায় শুনলে। কারণ ঐ বেচারাগুলো মেয়েদের সাথে বসতে না পেরে মনের কষ্টে এসব বলে। পাল্টা প্রশ্ন যদি তাদেরই করি, “বাসে নিয়মিত চলাচলের জন্য আপনি আপনার পরিবারের নারী সদস্যদের কোন আসনগুলোতে বসতে সাজেস্ট করবেন?” জানি উত্তরটা। মুখে না বললেও সেই নির্ধারিত আসনগুলোতেই বসতে বলবেন নিরাপত্তার জন্য। প্রশ্নটা অধিকারের নয়, সম্মানের। কারণ, অনেকেই পাশে বসা মেয়েটির সাথে অশোভন আচরণ করে, আবার ভাব দেখান কিছুই বোঝেননি। তবে মেয়েদের নিয়ে সব পুরুষই হাঁসি ঠাট্টা করেননা। অনেকে আছে যারা মেয়েদের দাড়িয়ে থাকতে দেখে নিজের আসন ছেড়ে দেন।

অনেক ক্ষেত্রে মেয়েরাও তাদের প্রাপ্ত সম্মানের অপব্যাবহার করে। যানবাহনে বৃদ্ধলোককে দাড়িয়ে থাকতে দেখেও বসার জায়গা দেয়না। কারণ আসন সীমাবদ্ধতার তালিকায় নারীদের সাথে বৃদ্ধদের নাম নেই। শুধু সুযোগ গ্রহন করবো কিন্তু কাউকে সুযোগ দেবোনা, এটা কোন মানবতার মধ্যে পড়ে? আমি আমার এক বান্ধবীকে দেখেছি, বৃদ্ধ, অসুস্থ, অসহায় লোককে দেখলে নিজের আসন ছেড়ে দিয়ে তাদের বসার ব্যবস্থা করে দেয়। আমি ওর কাছ থেকে শিখেছি এবং আমি বিশ্বাস করি এভাবেই সমাজে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়।

তাই বলবো, পুরুষ এবং নারী একে অপরকে সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে সুস্থ সমাজ  ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। নারীর পক্ষে এবং নারীর বিপক্ষে, এই দুইটি দলের জন্ম হয় মূলত পরিবার থেকে। নারীর প্রতি সম্মানবোধ পারিবারিক ভাবেই শিশুকাল থেকে শিখতে হয়, শেখাতে হয়। ছেলে বাচ্চা যখন কাঁদে, অভিভাবক বলেন,” ছিঃ, ছেলেদের কাঁদতে হয় না।“ এভাবে শিশু থেকে একটি ছেলে এবং একটি মেয়ের মাঝে বৈষম্য তৈরি করে দেয়া হয়। কষ্ট পেলে কাঁদবে, এটাইত স্বাভাবিক। কেন বাচ্চার কোমল মনে এভাবে কঠোরতার শিক্ষা দেয়া হয়?

রায়টের সময় হিন্দু-মুসলিম একে অপরকে বিপক্ষ দল ভেবে খুন রাহাজানির নোংরা খেলায় মত্ত ছিল। নারী এবং পুরুষের মাঝে যদি এরকম মানসিক যুদ্ধ চলে, তবে আমরা একটি অসুস্থ সমাজ ব্যবস্থা পাবো।

চলুন কল্পনার একটা খেলা খেলি মাত্র আধা ঘণ্টার জন্য। নারীরা কল্পনা করুন পৃথিবীতে পুরুষ নেই, আর পুরুষরা কল্পনা করুন পৃথিবীতে নারী নেই। এটাও ধরে নেই বংশবৃদ্ধির জন্য কাউকে কারো উপর নির্ভর করতে হচ্ছে না। কি হবে তখন? থাকবে কি পৃথিবীতে কোন ছন্দ ? কারই কি মনে হচ্ছে না , জীবন স্থির? হুম, সত্যি স্থির। দুটি সত্তার আবির্ভাব পৃথিবীতে অকারণে হয়নি। অনেক সৃষ্টিশীল কর্ম সম্ভব হয়েছে আমাদের সহাবস্থানের মাধ্যমে। আমরা একত্রে সমাজের রোগ গুলোর চিকিৎসা করতে পারি। কোন বাবা চায়না তার মেয়ে সমাজে একটি ভালো অবস্থানে থাকুক, আর কোন ভাই চায়না তার বোনের নিরাপত্তা। তাই বিশ্বাস করতে চাইনা, পুরুষরা নারী বিরোধী বা নারীরা পুরুষ বিরোধী।

সমাজ ব্যবস্থাকে ইতিবাচক করতে হলে আমাদের চিন্তা চেতনার পরিবর্তন দরকার। ইন্টারনেট ব্যবহার করে আধুনিক হওয়া ভালো। কিন্তু আধুনিকতার অর্থ অশালীনতা না । আধুনিকতার অর্থ উন্নত মানসিকতার মাধ্যমে মানব সত্তাকে জাগ্রত করা।

“একটি মেয়েকে দেখতে ভালো লাগছে” আর “একটি মেয়েকে দেখতে আবেদনময়ী লাগছে”, দুটি বাক্য কিন্তু এক অর্থ বহন করছে না। আমি যেহেতু একজন নারী, তাই আমি চাইব নারীদের দেখতে “ভালো” লাগুক, “আবেদনময়ী” নয়। “আবেদনময়ী” শব্দটা না হয় শুধুমাত্র সেলিব্রেটিদের জন্য তুলে রাখি। নারীরা পণ্য নয়, এটা উভয় পক্ষকেই মনে রাখতে হবে।

আমরা যদি আমাদের পার্শ্ববর্তী মানুষগুলোর ভুলগুলো একটু সংশোধন করে দেই, তবে হয়তো সমাজের অপরাধ কমে যাবে, কোন বৈষম্য থাকবে না। তাই, নারী বা পুরুষ শক্তিকে নয়,চলুন মানব শক্তিতে বিশ্বাস করি এবং সম্মান প্রদর্শন করি একে অপরকে।   

বাচ্চাদের জন্য আমরা নাকি আমাদের জন্য বাচ্চারা?

Now Reading
বাচ্চাদের জন্য আমরা নাকি আমাদের জন্য বাচ্চারা?

সদ্য চুলা থেকে নামানো ধোঁয়া ওঠা এক কাপ গরমা গরম চা যে শেষ কবে আয়েশ করে বসে খেয়েছিলাম, নিজেকে রিউয়াইন্ড করতে গিয়ে দেখি মা হবার পর এই ব্যাপারটা আমার কেমন যেন অধরা হয়ে গেছে। শুধু কি চা খাওয়া নিয়েই আক্ষেপ? গোসল, বাথরুম অন্যান্য নিজস্ব সব কাজই এখন যেন শুধু করার জন্য করা হয়। এক সময় আমি কুখ্যাত ছিলাম অনেক সময় নিয়ে গোসল করার জন্য। কতো যে বকা জুটতো এ কারন! সেই আমার আজ গোসলে সর্বোচ্চ সময় পনেরো মিনিট দিতে পারলেও নিজেকে ধন্য মনে করি। ব্যাপারগুলো শুধু এক আমার সাথেই যে হচ্ছে, তা কিন্তু না। বাচ্চা লালন পালন অনেক কঠিন এক কাজ। নিজের চেয়েও বেশি দায়িত্ববোধ থেকে এই কাজ করা হয়। ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চাগুলোর সমস্ত কিছুই বাবা মা’র হাতে। ওদের চাওয়া পাওয়া,ওদের হাসি কান্না, ওদের সুখ দুঃখ- সব কিছুর প্রয়োজন মিটানোর দায় বাবা-মা’র।
যেই মানুষটা বাবা কিংবা মা হবার আগে চরম বেহিসাবি জীবন যাপন করতো, সেই মানুষটা কে দেখা যায় বাবা /মা হবার পর নিজের কিছুর আগে বাচ্চার ভবিষ্যতের হিসাব কষতে। যেই মেয়েটা আগে লেটেস্ট ডিজাইনের ড্রেস বা হালফ্যাশনের জুয়েলারির খোঁজ রাখতে ভালবাসতো,তাকেই দেখা যায় মা হবার পর বাচ্চার কিউট কিউট ড্রেস কোথায় পাওয়া যাবে, কোন মজার খেলনাটা দোকানে নতুন এলো সেই খোঁজ রাখছে। যেই বাবাটা আগে খবর নিতো কোন আপডেটেড মোবাইল টার কি ফিচার, সেই বাবাই তার আগে খবর রাখছে কোন আইসক্রীমের নতুন ফ্লেভার এলো বাজারে,যা তার বাচ্চা এখনো চেঁখে দেখেনি। যেই দম্পতি আগে ছুটির দিন সময় কাটাতে সিনেপ্লেক্স এ যেতো, বাচ্চা হবার পর তাদের ছুটির দিন কাটে শিশুপার্ক বা এমন কোন এমিউজম্যান্ট পার্কে। আগে যেমন ফুড কোর্টে খেতে যাবার আগে নীরব নির্জন স্থানকে মাথায় রাখতো, বাচ্চা হবার পর সেখানে মাথায় রাখছে “কিডস্ জোন আছে তো?” শপিং করতে গেলেও ভীড়ভাট্টার গাউসিয়া নিউমার্কেট ফেলে বেছে নিচ্ছে বসুন্ধরার মতো এসি আর খোলামেলা পরিবেশের মতো শপিং মল। এত্তো এত্তো বদল না চাইতেই চলে আসে একেকটা বাবা-মা’র জীবনে, শুধু এই ছোট্ট নিষ্পাপ বাচ্চাগুলোর খাতিরে। সবাই চায় যার যার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে। ছোট্ট এই বাচ্চাগুলো আসলে সহজ সরল ভাবে কি করে যেন আমাদের জীবনযাপনের মানেই বদলে দেয়, আমরা টেরই পাইনা। সারাদিন ওদের নিয়ে কাটাতে কাটাতে একেক সময় আমরা ক্লান্ত হই, বিরক্ত হই, ওদের দুরন্তপনা কে শাসন করে দমিয়ে রাখতে বৃথা চেষ্টা করি, বকা ঝকা করি। আবার এই আমরাই ওদের ঘুমন্ত মুখটা দেখলে তীব্রভাবে অপেক্ষা করি কখন জাগবে বলে। আমরাই বকা দিচ্ছি “তুই আমার লাইফের একটা পেইন!” বলে। আবার মুহুর্তেই তাদের জড়িয়ে ধরে বলছি, “তুই না থাকলে আমি কি নিয়ে বাঁচতাম?” নিজেদের স্ববিরোধী আচরনে নিজেরাই দ্বিধান্বিত হই, বাচ্চাগুলোর কথা তো বাদই দিলাম।
বাচ্চা ছোট থাকলে এক রকম লাইফস্টাইল, সবচে ভালো ডাক্তার কোথায় পাওয়া যাবে; ভালো দুধ কোনটা এপ্টামিল নাকি নান? বাচ্চা ঘুমাচ্ছে, তাই সবাই ফিসফাস। একটু বড় হলো তো আরেকরকম জীবনযাপন।কোন স্কুল ভালো হবে,ইংলিশ মিডিয়াম না বাংলা মিডিয়াম? কি দেখাবো; ডোরেমন নাকি টম এন্ড জেরী? সাতার শিখবে না গান নাকি ছবি আঁকা? আর সেভাবে সেভাবে বাচ্চাদের প্রাধান্য দিতে গিয়ে নিজেদের জীবনযাপনের ধারাটা যে বদলে যায় সেদিকে আর খেয়াল থাকেনা। সেই বদলে যাওয়া জীবনটাতেই যে অপার্থিব সুখ! সেই সুখের কারনেই হাজার কষ্টের পরেও মনে হয় যেন বেশ আছি,ভালো আছি।ওদের খুশীতে নিজের খুশী মিশে যায়, ওরা কষ্ট পেলে আমরাও কষ্ট পাচ্ছি। ওদের অভিমান ভাঙ্গানোর একশ একটা কৌশল খুঁজে রাখছি। সবকিছুই বাবা-মা’রা করছে ওদের কথা মাথায় রেখেই।
এখানে বলে রাখা ভালো যে আমি ব্যাতিক্রমধর্মী বাবা-মা’র কথা না বলে গড়পড়তা বাবা-মা’র কথা বলছি, যাদের দিনের বেশিরভাগ সময় তাদের বাচ্চাদের কথা ভেবে এবং সেসব কাজের ব্যস্ততায় কাটে।
যেসব বাবা-মা চাকরীজীবি তারাও তাদের মাথায় বাচ্চার সুযোগ সুবিধাকেই আাগে প্রাধান্য দেন।তাদের জীবনযাপন ও বাচ্চাকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে।
গরম চা খেতে না পারার দুঃখ করছিলাম শুরুতে। যেটা সেই কৃত্তিম অভিযোগ ছাড়া আর কিছু না। এই বাচ্চা কেন্দ্রিক জীবনে অভ্যস্তকারীরা গরম চা’র জন্য আক্ষেপ ও করবে, আবার নিজেকেই নিজে স্বান্তনা দিবে এই বলে যে, গরম চা তো জীবনে অনেক খেলাম,বাচ্চারা বড় হোক। তখন ইনশাল্লাহ্ আবার মন ভরে খাবো। এখন আপাতত দুধের স্বাদ ঘোলে, মানে গরম চা’র স্বাদ ঠান্ডা বিস্বাদ চা তেই মিটাই। কি আাসে যায়। চা আাবার গরম করতে গিয়ে না পাছে এমন কিছু মিস্ হয়ে যায়, যা জীবনে আর কোনদিম ফিরে আসবে না।বাচ্চ্চাদের জন্য আমরা না হয়ে আমাদের জন্য বাচ্চারা-এভাবে ভাবলে অনেক ছোটবড় কষ্টগুলো আর গায়েই লাগেনা। বাচ্চাদের সাথে বাচ্চা হয়ে ওদের বেড়ে ওঠাকে আরো আনম্দদায়ক করা গেলে আমাদের ভবিষ্যতপ্রজন্ম নিয়ে ওতো হতাশাব্যন্জক কিছু নাও হতে পারে। আমাদের জন্যই আমাদের বাচ্চাদের সুন্দর ভাবে গড়ে তোলা জরুরী।

শুন্য

Now Reading
শুন্য

০ (উচ্চারণ: শূন্য) হলো একাধারে একটি সংখ্যা এবং অঙ্ক।এটি এককভাবে মানের অস্তিত্বহীনতা ও অন্যান্য সংখ্যার পিছনে বসে তাদের যুত পরিচয় প্রদান করে। এছাড়াও দশমিকের ডানে বসে এটি বিভিন্ন সংখ্যার দশমাংশ প্রকাশ করে।
ইংরেজিতে জিরো ( zero) শব্দটি এসেছে ভেনিশিয় শব্দ জিরো (zero) থেকে যা আবার ইতালিয় জিফাইরো (zefiro জেফিরো) থেকে পরিবর্তিত হয়ে এসেছিল। ইতালীয় জিফাইরো শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ “সাফাইর” বা “সাফাইরা” (صفر) থেকে যার অর্থ “সেখানে কিছু ছিল না”। এই শব্দটিই পরবর্তীতে ভারতীয় সংস্কৃতে অনুদিত হয়েছে শ্যুন্যেয়া (শ্যূন্য) যার অর্থ খালি বা ফাঁকা।

যার মানে পরিস্কার যে শুন্য (০) মুল্যহীন। শুন্য কে বৃওের ( সিফার) (صفر) সাথেও কিন্তু তুলনা করা যায়, কারন একি রকম দেখতে। বৃওের ব্যাস ও পরিধি সবই থাকলেও এটি একটি কেন্দ্র থেকে শুরু হয়ে আবার সেই কেন্দ্রে এসেই মিলিত হয়।

এবার আসি মূল কথায়, আমাদের জীবনের সাথে কিন্ত এই শুন্য মিলেও যায়।

যেমন : আপনার দৈনদিন জীবন যাই হোক না কেন, আমি আপনি আমরা সবাই কিন্তু একটা গন্ডিতে বাধা। সকালে বাসা থেকে বের হয়ে কিন্তু ঠিকই বাসাতেই ফিরে আসতে হবে। আবার যাদের নির্দিষ্ট কোনো বাসা নেই।

তাদের ক্ষেত্রে কি হতে পারে???

দিন শেষে রাত, আর রাত শেষে দিন, ঠিক একটি কেন্দ্র থেকে শুরু, কিন্তু এখানে ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলেও শেষ কিন্তু হচ্ছে না। আসলে শেষ হচ্ছে প্রতিদিন। যখন একটি বিন্দু থেকে শুরু হয়ে আবার সেই বিন্দুর সাথে মিলে যাবে তখনি শেষ হয়ে যাবে, এই শেষের নাম ই হলো মৃত্যু।
মৃত্যু আসবেই, তারপরও আমাদের এই মৃত্যু নিয়ে কি কোনো প্রুস্তুতি আছে? না, একেবারেই নেই। কখনো ভেবে দেখেছেন আপনার
মৃত্যুর পর কি হবে। দুনিয়ার দু:খ কষ্ট কিছুই না, সময়ের ব্যবধানে মানুষ সব ই ভুলে যায়, কিন্তু মৃত্যুর পরে তো শেষ নেই। অনন্তকাল সেখানে থাকতে হবে।

যখন আমরা বা আমাদের কোনো প্রিয়জন আমাদের থেকে দূরে যায়, হোক কাজে হোক ঘুরতে, আমরা কিন্তু তার / আমাদের ব্যাগে করে প্রয়োজন মতো জিনিষপত্র গুছিয়ে দেই যাতে সেখানে গিয়ে ঝামেলা না হয়, একটা ব্যাগে কতই বা জিনিশ ধরে!! তারপরও চেষ্টার কমতি থাকে না।
মৃত্যুও কিন্তু একটা যাত্রা, আপনি সেই যাত্রা পথের ব্যাগ গুছিয়েছেন তো? প্রশ্ন আসতেই পারে, সেইখানে তো ব্যাগের দরকার হবে না!

হবে, কিন্তু সেই ব্যাগ দৃশ্যমান নয়, দুনিয়ার কিছুই যাবেনা আপনার সাথে। যাবে শুধু আপনার ” আমল “। এই যাত্রার সব কিছুই আপনার নিজের গুছিয়ে নিতে হবে। সেখানে সাহায্য করারও কেউ থাকবে না।
দুনিয়ার বর্তমানকালীন অবস্তায় এইসব চালিয়ে যাওয়া কঠিন, কিন্তু একটু চেষ্টা করলেই কিন্তু আমরা পারি। আপনি ঘরে বসে সারাদিন
” আমল ” / নামাজ ” পরলেন, তাহলে কিন্তু জীবন চলবেনা।

একটু উদাহরণ দিয়েই বলি!

একটা লম্বা রড/লাঠি তার দুই পাশে দুইটা চাকা লাগানো। একটা বড় আরেকটি ছোট। এবার আপনি এই লাঠি কে সামনে ঠেলে দিলে ফলাফল কি হবে? চলতে পারবে?? চলতে পারবে ঠিকই কিন্তু সেই বৃও / শুন্য র মতো হবে।

কারন ছোট চাকাকে কেন্দ্র করে বড় চাকা ঘুরতে থাকবে।আপনি একি গন্ডিতে চক্রাকারে ঘুরতে থাকবেন। ফলাফল সেই ০( শুন্য)।
আর যদি লাঠির দুচাকাই সমান হয় তাহলে?? চলতে কোনো ঝামেলা হবে না।

এবার ধরে নিন লাঠির একদিক আমার ইহকাল এবং আরেকটি পরকাল। দুই দিক সমানভাবে ব্যালেন্স করতে পারলেই জীবনে চলতে ঝামেলা হবে না আশা করছি।
মানুষের মৃত্যু হয় ঠিক ই কিন্তু মানুষের আত্নার হয় না। আর এই আত্নার
পোষাক হলো মানুষের দেহ। মৃত্যুর পর যা আত্না ফেলে চলে যায় আর পড়ে থাকে আমাদের মরদেহ। কাপড় পুরাতন হলে যেমন ফেলে দেয়া হয় এক সময় নষ্ট হয়ে যায় ঠিক তেমনি আমাদের দেহ মৃত্যুর পর পচে ক্ষয় হয়ে যায়।

দুনিয়াতে যেমন আপনার দেহের খাবার দরকার হয় তেমনি খাবার দরকার আপনার আত্নার, যাকে রুহু বলা হয়। দেহের খাবার হলো যা খেলে আপনার দেহে শক্তি সঞ্চয় হয়। আর আত্নার খাবার হলো
ভালো আমল, নামাজ। দৈনিক ৫ ওয়াক্ত নামাজ পরলে আপনার মনে এমনি তেই শান্তি আসবে, মন ভালো থাকবে। এইটাই হলো আত্নার খাবার।
দুনিয়াতে মানুষের জীবন খুবই অল্প সময়ের, কতো সময় আমরা বিভিন্ন কাজে ব্যায় করি, নামাজ পড়তে খুব বেশি সময় লাগে না,
সুতরাং নামাজ পড়ে নিন। নিজের জন্য, অন্য কারও জন্য নয়!!
ধুরুন আপনি যাকে ভালোবাসেন অথবা আপনার পরিচিত কেউ,
তার গায়ে আগুন লেগে গেছে!! আপনি প্রানপন চেষ্টা করবেন আগুন নিভাতে, হয়তো সফলকাম ও হবেন। কিন্তু ভেবে দেখেছেন জাহান্নামের আগুনে আপনার প্রিয় মানুষ কে কিভাবে বাচাবেন? কোনো কিছুতেই সেই আগুন নিভে যাবে না।

তাই নিজে নামাজ পড়ুন আপনার আসে পাশের মানুষকেও পড়তে বলুন। মানুষ কিন্তু চারপাশ দেখেই শিখে, আপনি পড়তে শুরু করুন আপনার দেখাদেখি তারাও শুরু করবেন ” ইনশাআল্লাহ্‌ ”

প্রিয় মানুষ, বাবা/ মা কে নিয়ে সুন্দর জায়গাতে বেড়াতে যাওয়া সবার ই শখ, কখনো ইচ্ছে হয় নি সবাই কে নিয়ে জান্নাত বাসি হতে? কাছের মানুষ গুলো মিলে এমন একটা স্থান যেখানে কষ্ট বলে কিছু নেই!!!
আপনি একা সেখানে সুখে থাকবেন আর আপনার কাছের মানুষ গুলো জাহান্নামি হলে তা মটেও সুখকর নয়।

তাই খুব বেশী দেরি হয়ে যাবার আগেই অন্ধকার থেকে আলোর পথে আসুন। শুন্য থেকে শুরু আবার শুন্যতেই শেষ। আপনাকে আমাকে ফিরে যেতেই হবে আমাদের সৃষ্টিকারী ” আল্লাহ ” এর নিকট!

#Naf

Page Sidebar