চলচিত্র কেন দেখবো এবং কি ধরনের চলচিত্র দেখবো ?

Now Reading
চলচিত্র কেন দেখবো এবং কি ধরনের চলচিত্র দেখবো ?

চলচিত্র এমন একটা আবিস্কার যা একটা পরিবেশকে বা ঘটনাকে আমাদের কাছে খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে । যা আমাদের অনুভূতিকেও নাড়া দেয় ! এর জন্য আমরা কীরকম পরিবেশের বা ঘটনার চলচিত্র দেখবো ?

প্রথমত যেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব তা হল, চলচিত্র কেন দেখবো ?

সাধারণত, বেশিরভাগ চলচিত্র গুলোও ২ ঘণ্টার উপরে হয়, এর জন্য বলব একদিনে ২ টার বেশি চলচিত্র দেখবেননা । ধরুন, আপনার একটা বায়োগ্রাফি ক্যাটাগরির সিনেমা দেখা শেষ হল তো আপনি সাথে সাথেই অন্য আরেকটি চলচিত্র দেখা শুরু করবেন্না । আপনার যেটা দেখা শেষ হয়েছে সেটা নিয়েই চিন্তা করেন যে,  এই চলচিত্র থেকে আপনি কি শিখলেন ! এগুলো নিয়ে ভাববেন, আপনি যখন বুজতে পারবেন যে, আপনি চলচিত্রটি থেকে কিছু শিখছেন এবং সেটা বুঝতেও পারছেন। এভাবে আপনি যদি চলচিত্র থেকে কিছু শিখতে এবং বুঝতে পারেন তাহলে চলচিত্র দেখুন ।

আবার, চলচিত্র কিন্তু ইংলিশ শেখার ভাল একটি মাধ্যম ! আপনার কাছে যেই চলচিত্র আছে হোক সেটা ইংলিশ, বাংলা বা হিন্দি যে ধরনেরও হোক না কেন আপনি চলচিত্রটির ইংলিশ সাবটাইটেল নামিয়ে চলচিত্রটি দেখুন । এর ফলে আপনি একটি চলচিত্র থেকে ইংলিশও শিখতে পারবেন, সেই চলচিত্রর ঘটনা বা কাহিনিও ভালভাবে বুঝতে পারবেন এবং গোটা চলচিত্র থেকেই আপনি অনেক কিছু শিখতে পারবেন ।

আপনারা চলচিত্র দেখেন শেখার জন্য । চলচিত্র থেকে যেন কিছু শিখতে পারেন এই উদ্দেশ্যই চলচিত্র দেখেন । শিখুন আর শেখান শিক্ষার কোন শেষ নেই ।

এখন দ্বিতীয় প্রশ্নের কাছে আসি, সেটা হল আমরা কি ধরনের চলচিত্র দেখবো ?

আমরা জানি চলচিত্রর বিভিন্ন ক্যাটাগরি আছে, যেমনঃ বায়োগ্রাফি, থ্রিলার, ইতিহাস, নাটকীয়, যুদ্ধ, এডভেন্চার, রহস্য ইত্যাদি এই ক্যাটাগরিগুলোর চলচিত্র দেখতে পারেন । আমি আপনাদেরকে কয়েকটি চলচিত্রর নাম বলছি, যেগুলো দেখলে বুঝতে পারবেন, আপনাদেরকে কি ধরনের চলচিত্র দেখা উচিত ! আপনারা এই চলচিত্র গুলো দেখুন বুঝতে পারবেন । যাইহোক,

১। Hackshaw Ridge এই চলচিত্রটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে । আপানারা যদি ফুটপ্রিন্ট এর একটি লেখা পড়ে থাকেন “ইতিহাসে ডেসমন্ড থমাস ডস” ih imon নামে একজন এই হেডলাইন দিয়ে লেখাটি লিখেছেন তার লেখাতে তিনি অবশ্য এই চলচিত্রটীর কথা উল্লেখ করেছেন । আসলে ডেসমন্ড থমাস ডসের কাহিনি নিয়েই এই চলচিত্রটি বানানো ।

২। Saving Private Ryan নামটা শুনে একটু একটু বোঝা যাচ্ছে যে, রায়ানকে বাচাতে হবে ! হ্যাঁ ঠিকও ধরেছেন । একজন সাধারন প্রাইভেট পদের রায়ানকে কেন বাচাতে হবে? মনে নিশ্চয় প্রশ্ন জাগছে তাই জানতে হলে চলচিত্রটি দেখুন ।

৩। Manjhi The Mountain Man এই চলচিত্রটিও সত্য ঘটনা অবলম্বনে করা হয়েছে । দাসরাথ মান্ঝি নামক এক ব্যাক্তিকে নিয়ে । যিনি পাহার কেটে রাস্তা বানিয়ে ছিলেন ! প্রকৃত ভালবাসার শক্তি আপনি এই চলচিত্রটিতে খুজে পাবেন । শুধুমাত্র ভালবাসার শক্তি নিয়ে তিনি পাহাড় কেটে রাস্তা বানিয়েছিলেন ।

আপনাদেরকে এই ৩টি চলচ্চিত্রর নাম বললাম কারন আপনারা যদি এই তিনটি চলচিত্র দেখেন তাহলে বুজতে পারবেন আপনাদেরকে কি ধরনের চলচিত্র দেখা উচিত ।

আর একটা কথা জানিয়ে রাখি, সত্য ঘটনা অবলম্বনে যেসব চলচিত্র তৈরী হয় । সেসব চলচিত্রে কিন্তু মেসেজ থাকে তাই চলচিত্রগুলো ভালভাবে বুঝে বুঝে দেখুন ।

 

 

 

কীভাবে জ্ঞান অর্জন করব?

Now Reading
কীভাবে জ্ঞান অর্জন করব?

আমাদের এই পৃথিবীতে অনেক জ্ঞানী-গুণী মানুষ এসেছেন এবং চলেও গেছেন । এবং তাদের অর্জনকৃত জ্ঞান থেকে শিক্ষা দিয়ে গেছেন ! এখনও আমাদের এই পৃথিবীতে অনেক জ্ঞানী-গুণী মানুষ আছেন এবং তাদের কাছ থেকে গোটা বিশ্ব শিক্ষা পাচ্ছে ! এসব জ্ঞানী- গুণী মানুষ তাদের জ্ঞান গোটা বিশ্বকে দিয়ে যাচ্ছেন । আজকে আমি আপনাদেরকে বলব, আমরা কীভাবে জ্ঞান অর্জন করব ? এই বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করছি ।

জ্ঞান পৃথিবীর এমন একটা আবিষ্কার যা আমাদেরকে পৃথিবীর কাছ থেকে গ্রহন করতে হবে । এর জন্য পৃথিবীর নানা বস্তু আমাদেরকে দেখতে হবে এবং বুজতে হবে যেমনঃ মানুষ, বই ইত্যাদি ।

প্রথমেই আমি মানুষ নিয়ে আলোচনা করতে চাই,

মানুষঃ মানুষের বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য আমি আপনাদেরকে একটি উক্তি বলতে চাই । উক্তিটি হল ক্রিয়াগ হারপার নামক এক ব্যাক্তির । তো উক্তটি হল, “পৃথিবী হল আমার শ্রেণীকক্ষ, প্রত্যেক দিন হল একটি নতুন অধ্যায়, এবং প্রত্যেক ব্যাক্তি যাদের সাথে আমি দেখা করি তারা আমার শিক্ষক”। এই উক্তটির মত মনোভাব তৈরী করুন অনেক কিছু শিখতে পারবেন যার কোন সীমা থাকবেনা । মরার আগ পর্যন্ত এরকম মনোভাব নিয়ে চলেন আপনার শিক্ষাগুলোও সমৃদ্ধ জ্ঞানে পরিণীত হবে এবং আপনার বেঁচে থাকার আনন্দও বেরে যাবে! আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, আমরাতো মরেও যাব তো বেঁচে থাকার আনন্দ বাড়িয়ে লাভ কি? হ্যাঁ, আমরা সবাই তো মরে যাব কিন্ত মরার আগে আমরা কি করব? যাযাবর এর মত ঘুরে বেড়াব নাকি অলসের মত খাব আর ঘুমাব নিশ্চয় না! আমাদেরকে তো জানতে হবে জীবন কি? জীবন কেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনি তখনই পাবেন যখন জীবনের আনন্দ পাবেন বা বেঁচে থাকার আনন্দ পাবেন তখনই আপনি বুজতে পারবেন জীবন কি? জীবন কেন? এর জন্য বলছি মানুষের সাথে মিশুন কথা বলুন আর মানুষকে ছোট করে দেখবেননা । সবাইকে মানুষ হিসেবে দেখুন ! তবেই অনেক কিছু শিখতে পারবেন এবং জ্ঞানের গুদামঘরে পরিণীত হতে পারবেন ।

বই পড়ুনঃ  বইতো আমরা প্রতিদিনি পড়ি কিন্তু কি ধরনের বই পড়ি ? আমাদের এখনকার সময়ে বেশিরভাগ মানুষও একাডেমী বই নিয়ে পরে থাকি । কিন্তু পৃথিবীতে যে আরও বই আছে সেটা আমরা উপলব্ধি করিনা । জ্ঞান অর্জনের জন্য আমাদেরকে একাডেমী বইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বইও পড়া উচিত । “গল্প” কে না পছন্দ করে । আমরা প্রায় সবাই পছন্দ করি । যেসব  লেখকেরা গল্পের মাধ্যমে তাদের শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয় তাদের বই বেশি বেশি পড়ুন ! আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, গল্পের বই আমরা কেন বেশি বেশি পড়ব? এটি বোজানোর জন্য একটি উদাহারন দেয়ঃ আপনি ৩০ মিনিটে একটি রচনা মুখস্ত করুন তারপর ১ মাস পর সেটি মনে করার চেষ্টা করুন মনে আসবে কি? অবশ্যই না ! কিন্তু আপনি এমন একটা গল্প মনে করুন যেটা আপনি ছোটবেলায় শুনেছেন মনে আসছে কি? অবশ্যই মনে আসছে ! এর জন্য বলছি গল্পের বই বেশি বেশি পড়ুন । এর ফলে আপনি শিক্ষাটির কথা ভুলে গেলও গল্পটি ভুলে যাবেননা আর গল্প মনে থাকলে গল্পের শিক্ষা এমনিই মনে পড়ে যাবে ! আর যদি কোন একটি গল্পের শিক্ষা আপনার বাস্তব জীবনে ঘটে তাহলে তো আর কথাই নাই সারাজীবনের জন্য এটি মনে থেকে যাবে!

আমাদের পৃথিবী এখন প্রযুক্তিতে ভরা । তাই সবার মন থেকে বই পড়ার আগ্রহও কমে যাচ্ছে । এখানে একটা কথা বলি সেটা হল উনবিংশ শতাব্দীর মানুষেরা একটু সময় পেলেই ঐ সময়টুকু একটি বই পড়ে নিতো । এর জন্যই তখনকার মানুষ অনেক সমৃদ্ধ ছিল ।

শেষ কথা হল, শেখার কোন শেষ নেই, শিখুন, অর্জন করুন, জ্ঞানের ভাণ্ডারে সমৃদ্ধ হন এবং সবশেষে দান করে যান !

 

 

সম্মান আর সময় দুটোই কমিয়ে দিতে পারে ফেসবুক !

Now Reading
সম্মান আর সময় দুটোই কমিয়ে দিতে পারে ফেসবুক !

হ্যাঁ, শুনে অবাক হতে পারেন ঠিকও কিন্তু এটি সত্যি যে, ফেসবুক আমাদের সম্মান এবং সময় দুটোও কমিয়ে দিতে পারে ! কীভাবে ফেসবুক আমাদের সম্মান ও সময় কমিয়ে দিতে পারে তা যদি একটু শান্ত মাথায় চিন্তা করেন তাহলেই বুঝতে পারবেন । আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের ব্রেন ওপর এতটাই প্রভাব ফেলছি যে, সাধারন বিষয়গুলো বুজতে পারিনা আবার সমাধানও করতে পারিনা । তাই আমার একটা উপদেশ ধ্যান বা অন্য যেকোনো কিছু একটা করেন যাতে আপনার ব্রেন একটু রিলাক্স হতে পারে । এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, যে আমরা দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা করে ঘুমায় আর ঘুমালে তো আমদের পুরো দেহের কোষগুলো পুনরায়  এনার্জি পেয়ে যায় যাতে আমরা পুনরায় কাজ করতে পারি ।

আবার ঘুম থেকে উঠেই ব্রেনের ওপর প্রভাব ফেলা শুরু করেন নানা বিষয় নিয়ে যেমন ঃ ঘুম থেকে দেরি করে উঠে দেখছেন যে, ক্লাস এর মাত্র ১৫ মিনিট সময় আছে ! আর আপনার ক্লাসে যেতেই ১৫ মিনিটের বেশি সময় লেগে যাবে তখন আপনার টেনশন শুরু হয়ে যাবে যে,স্যার এর অপমান খেতে হবে বলে ! আপনি যে, ৭-৮ ঘুমালেন এবং আপনার পুনরায় এনারজিক্রিত কোষগুলোকে শক খাইয়ে মাথা গুরুয়ে দিলেন এর ফলে আপনার ব্রেন সহজ সমস্যার সমাধান করতে পারেনা । আপনি ঘুমানো বাদেও জাগ্রত অবস্থাই ৫-১০ মিনিট নিজের ব্রেনকে রিলাক্স করান ।

আমার এই কথাটি বলার উদ্দেশ্য হল আপনারা যদি শান্ত মাথায় ভাবেন যে, ফেসবুক কীভাবে আমাদের সম্মান আর সময় কমিয়ে দিতে পারে ? তাহলে আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি আপনি উত্তর এর অনেক কাছে যেতে পারবেন । এখন আমি আপনাদেরকে আমার ধারণা থেকে বলব ফেসবুক কীভাবে আমাদের সম্মান ও সময় কমিয়ে দেই ?

এটি আসলে আমদেরই দোষ ! আমরা যখন একবার ফেসবুকে লগ ইন করি আমাদের বের হওয়ার কোন খবরই থাকেনা ! যার ফলে আমাদের সময় নষ্ট হচ্ছে ।

এই বিষয়টি ভালভাবে বোজানোর জন্য একটা গল্প বলি । গল্পটি আমাদের অনেকেরও জানা তো গল্পটি হল, একটি পিঁপড়ার খুবই পিপাসা পেয়েছিল । তো সে অনেক খোঁজার পর কোথাও পানি পেল না । কিন্তু সে একটি যাইগায় মধু পেয়েছিলো ! তো সে মধুই পান করল তারপর সে চলে যেতে লাগছিল কিন্তু পিঁপড়াটি ভাবল এরকম সুস্বাদু জিনিস তো কোনদিন নাও পেতে পারি তাই আরেকটু খেয়েনি । এভাবে পিঁপড়াটি একটু একটু করে অনেক মধু খেয়ে ফেলেছিল যার ফলে সে আর সামনে যেতে পারছিলনা ! পিঁপড়াটি এত মধু খেয়েছিল যে, সে মরেই গেল !

তো ফেসবুক কিছুটা এরকম ফেসবুকের মধু খেতে খেতে আমরাও যেন পিঁপড়ার মত না হয় । আমরা মরবনা কিন্তু আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে । ফেসবুক ব্যবহার করেন কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণে করেন তাহলে আর পিঁপড়ার মত হতে হবেনা । সময় বাঁচান এবং সময়কে কাজে লাগান যেমন ঃ বাংলাদেশিজম এত সুন্দর একটি সাইট করেছেন । যেখানে আমারা আমাদের লেখার মাধ্যমে মানুষদেরকে পরামর্শ দিচ্ছি, খবর দিচ্ছি ইত্যাদি । তো আপনি ফেসবুক বাদেও লেখালেখি করতে পারেন, ফটোগ্রাফি শিখতে পারেন আবার ফটোশপ শিখতে পারেন কত কি করার আছে । শেখার কোন শেষ নেই তাই শিখুন । ফেসবুকে বেশি সময় এটি আসলেই সময়ের ব্যাবহার না । সময় কে মূল্য দিন আপনি অবশ্যই এর প্রতিদান পাবেন তাই সময় কে মূল্যহীন করেননা ।

আরেকটি বিষয় সম্মান, সম্মান কখন কমে যাবে , ধরুন আপনার কিছু আত্মীয় আপনার ফেসবুক বন্ধু । তো তারা যখন পোস্ট দেই তখন আপনি তাদের পোস্টগুলোতে লাইক দেন কিন্ত আপনি যখন পোস্ট দেন তখন তারা যদি লাইক না দেয় তাহলে আপনি সঙ্গেসঙ্গেই তাকে মেসেজ পাঠাবেন, কেন আমার পোস্টে লাইক দিলানা এই প্রশ্নটি অবশ্যই তার দিকে ছুরে দিবেন কিন্তু একবারও ভাবেননা যে, আপনার সম্মান  এর ফলে  কমে যাবে । সম্মান অর্জন করে সেই সম্মান যদি ডুবে যাই তাহলে কি হবে ? এগুলো ভেবে চিন্তে দেখবেন । আমার আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে অনেক জন আছে যারা আমাকে লাইক দিতে বলে আবার ফেসবুকে মেসেজও পায় লাইক দিলে লাইক পাবেন । সম্মানের কথা ভেবে এই কাজগুলো থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন ।

আপনাদের প্রশ্ন থাকতে পারে যে, ফেসবুকে শিক্ষণীয় অনেক কিছু আছে তাহলে এর জন্য কি আমরা ফেসবুকে লগ ইন করবোনা ?

অবশ্যই করবেন একটা কথা বলি, আপনারা সবকিছুতে শিক্ষার জন্য পা বাড়ান । এই উদ্দেশ্য নিয়েই সামনে পা বাড়ান । সামনে ভাল কিছু অপেক্ষা করবে ।

 

সেলফি আসক্তিঃ একটি মানসিক ব্যাধি?

Now Reading
সেলফি আসক্তিঃ একটি মানসিক ব্যাধি?

সেলফি এখন আর শুধু মাত্র একটি শব্দ নেই। সেলফি উন্মাদনা চলছে শিশু , কিশোর ,যুবক যুবতী থেকে শুরু করে বৃদ্ধদের মাঝেও। সাম্প্রতিক সময়ে এটি একটি বহুল আলোচিত বিষয়। এখন বাজারে এমন বই ও আপনি পাবেন যা কিনা সেলফি নিয়েঃ “ভালো সেলফি তোলার উপায়” টাইপের যেখানে এর খুঁটিনাটি বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়াও বর্তমানে অনেক মানুষ আছে যারা কিনা সেলফি তুলে পোষ্ট দেয়ার জন্যে ফেসবুক-তারকা বনে গেছে।

কোন ফটোগ্রাফার ছাড়াই ছবি তোলার এই ব্যাপারটি প্রথমত মজা করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এটি মানুষের মাঝে এক প্রকার জটিল আসক্তির মত ছড়িয়ে গেছে। যা থেকে মানসিক বিষণ্ণতা থেকে শুরু করে আত্নহত্যার মতোও ঘটনা ঘটছে।

দিনে দিনে কিশোর-কিশোরীদের মাঝে যে হারে এর প্রবণতা বাড়ছে তা সত্যিকার অর্থেই ভাববার বিষয়। সেলফির প্রতি দিনে দিনে আসক্ত হয়ে পড়ার ফলে তারা মানসিক ও শারীরিক নানা জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছে যা তাদের জীবনের জন্য হুমকিস্বরুপ।

আজকাল মানুষ ইন্টারনেটে একটি শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব দেখাতে সচেষ্ট থাকে। তারা তাদের বাস্তবিক জীবনের চাইতে ভার্চুয়াল জীবনের প্রতি বেশি পরিমাণে সময় দিচ্ছে এবং এর ফলে তারা একমুখী জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, ওজন কমে যাওয়া, বিষাদ্গ্রস্ত হয়ে পড়া, আত্নকেন্দ্রিকতা সহ নানা প্রকার রোগের কারণ এই সেলফি।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কেউ যখন একটি সেলফি পোষ্ট করে, তখন সে আশা করে তার সেলফি মানুষ বেশি বেশি দেখুক, পছন্দ করুক কিংবা মন্তব্য করুক। যখন সে ইতিবাচক সাড়া পায়, তখন আরো বেশি ফটো বা সেলফি পোষ্ট আপলোড করা শুরু করে, আর এর মাধ্যমে সে তার জীবনের আনন্দকে খুজেঁ পায়। কিন্তু যখনই এর বিপরীত ঘটে, অর্থ্যাৎ তার পোষ্টগুলোতে আশানুরুপ সাড়া না পায়, তখন তার মধ্যে বিষণ্ণতা কিংবা মানসিক অশান্তি শুরু করে দেয়ঃ কেন এমন হচ্ছে? এই সেলফিটা কেন মানুষের ভালো লাগলো না? কি সমস্যা এতে? তখন সে এটা মুছে দিয়ে আবার নতুন একটা ছবি দেয়। এভাবেই এটি চলতে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়ে অনেক আত্নহত্যার কথাও উঠে এসেছে মিডিয়াতে। তাই এই সেলফি আসক্তিকে চিকিৎসক কিংবা মনোবিজ্ঞানীরা মানসিক ব্যাধি হিসেবেই আখ্যায়িত করছেন।

সেলফি আসক্তিতে পুরুষের চাইতে নারীরা এগিয়ে। তারাই এর পেছনে বেশি সময় ব্যয় করে থাকে। ব্যক্তিত্ববোধে কিংবা সাজসজ্জা সহ নানা ক্ষেত্রে সেলফি তাদের কাছে বর্তমানে সৌন্দর্য প্রকাশের বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তাতে ফেসবুক এর মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ইন্টারনেট মূখ্য হিসেবে কাজ করছে।

আমাদের সন্তানেরা একে অন্যের সাথে যোগাযোগ কিংবা সম্পর্ক আদান প্রদানের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ও সামাজিক মিডিয়াগুলোর উপর নির্ভর করতে শিখছে। এক গবেষণায় সেলফি এবং মানসিক অসুস্থতার মাঝে একটি সংযোগ দেখানো হয়েছে; তাই, আমি আপনাদের উপর এই প্রশ্ন রেখে যাচ্ছি- আমরা কি আমাদের সন্তানদের জন্যে একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবিষ্যৎ তৈরী করছি যা কিনা তাদের মানসিক অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়াবে? তাই যদি হয়, তবে এই সমস্যা প্রতিরোধে আমরা বাবা-মা, পেশাজীবী, সমাজ আমাদের সন্তানদের জন্য ঠিক কি করছি?

মা হারা সন্তানের কপালে কতো সুখ থাকে এটা একটু দেখুন

Now Reading
মা হারা সন্তানের কপালে কতো সুখ থাকে এটা একটু দেখুন

মা হারা সন্তানের কপালে কতো সুখ থাকে এটা একটু দেখুন.. আপনার চোখ থেকে যদি পানি বের না হয় তাহলে আর কখনো পোষ্ট কোনো পোষ্ট দিবনা আমি প্রমিস করলাম.. >> >> ও মা, তুমি নেই তাও বেশ আছি আমি। নতুন মা আমায় ভীষণ ভালো খেতে দেয়- বাসি ভাত, পচা তরকারি আর নষ্ট ডালে আমার খুব ভালই পেট ভরে যায়। মা,ও মা! জানো? আমি এখন শার্ট ধুতে পারি। তাই প্রতিদিন বাড়ি শুদ্ধু লোকের কাপর ধুই আমি। জানো মা? পড়তে এখন আমার আর ভালো লাগেনা আমার এখন আর কোন বই নেই, আমার এখন কোন খাতা নেই, কলম নেই, নেই কোন স্কুল ব্যাগ। জানো মা? আমার নতুন ছোট ভাই ও আমায় প্রায় লাথি দেয়, আমায় ভীষণ ভালবাসে কিনা? ওকে আমি প্রতিদিন জুতো মোজা পরিয়ে দেই, মাঝে মাঝে ওর বন্ধুদেরও পরাই, এতে আমার আনন্দ হয় মা। তোমার দেয়া বিছানাটায় এখন ভাই সোয় ওর খুব পছন্দের ওটা আমার কথা ভাবছো? আমি সিঁড়ির নিচে মাদুর পেতে শুই আমার একটুও কষ্ট হয়না.. মা জানো? ঈদ এলে আমি পুরনো কাপড় পাই। সে কাপড়ে তোমার ছেলেকে রাজকুমার দেখায় মা। যে কিনা এক রাজ্যহীন রাজকুমার। মা জানো? বৃষ্টি হলে আমি আজও ভয় পাই তোমার শেষ পরনে যে কাপড় ছিল ওটা ঘর থেকে লুকিয়ে এনেছি গো মা ওটা জুড়ে যে তোমার গন্ধ! ও গন্ধে আমার আর ভয় হয় না মা। আমার একটা কথা রাখবে? আমায় কয়েকদিনের ছুটির ব্যবস্থা করে দেবে? তোমার কাছে গিয়ে থাকব দু দিন একটু শান্তিতে ঘুমাব তোমার বুকে…

আজ আমাদের অনেকের মা আমাদের সাথে আছে কিন্তু আমরা মা এর মূল্য বুঝি না।অনেকে হয়ত বুঝে।কিন্তু আজকে আমি শুধু তাদের জন্য লিখছি যারা এখনো বুজতে পারছেনা>মা আমাদের জন্য কি না করে? পৃথিবীর সব সুখ সে তো তার সন্তান কে দিতে চায়।আমরা কেন মায়ের সাথে খারাপ ব্যাবহার করি কখনো চিন্তা করেছেন? gf কিছু খেয়েছে কিনা তা তাকে জিজ্ঞেস করি,কিন্তু মা কিছু খেয়েছে কিনা তা কি কখনো আমরা বলি?আমি কিছুদিন আগে youtube এ একটা Short Film দেখি সেখানে একজন মা তার Weight কমানোর জন্য পরিশ্রম করছিলো আমি ভেবেছিলাম যে সে আবার young হতে চায় আসলে তা সত্য ছিল না সে তার সন্তান কে Kidney দেবার জন্য weight কমাচ্ছিল।আমি এটা দেখে নিজেকেই নিজে কেমন জেনো ভেবেছিলাম।মা তো মা সে তোমাকে 10month গর্ভে ধরে তারপর তার জা ছিল তা দিয়ে তোমাকে বড় করে তোলে তারপর তোমার থেকে কি সে কিছু চেয়েছে?না সে তোমাকে সে তোমাকে তার Hero বানাতে ছেয়েছে।সে তোমাকে ভাল দেখতে চেয়েছে।মা তহ মহৎ আল্লাহর এক অপূর্ব উপহার আমাদের  জন্য।আল্লাহ তাকে হয়ত অনেক বেশি ধৈর্য দিয়ছিল কারন আমাদের এত জালাতনের পরও সে আমাদের অনেক সুন্দর ভাবে আগলে রাখে।আমাদের কিছু হলে তার কেমন লাগে আমরা তা বুজতে পারি না হয়ত আমরা বলি “জাও তহ কিছু হয় নায়”কিন্তু সে আবার এসে যত্ন নেয়।ছোটতে যখন শিশু অল্পসময়ের জন্য হলেও তার মাকে দেখতে পারে না তখন সে ছটফট করতে থাকে,অন্যের কোলে গেলে মার কোলে ফিরে আশতে চায়।মাকে আমরা অনেকে অন্তর থেকে ভালবাসি কিন্তু বুজতে দেই না।তাদেরকে বলছি বুজতে দিন এতে আপনার মা অনেক বেশি খুশি হবে।ইসলামে বলা আছে “মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত” আমরা muslim হলে কথাটি সবাই জানি।মা আমাদের প্রতি এত কিছ করে এত দয়া করে কিন্তু আমরা কি করি?মা আমাদের কিছু করতেও বলে না।তাহেলে সে কত মহান।আমরা অনেকেই সেটা না বুজে তার সাথে রাগা-রাগি করি। এরকম আর কত example দিতে পারব।

(more…)

Depression

Now Reading
Depression

একলা থাকাটা কোনো অর্জন নয়।কেউ একলা থাকতে চায় না।যে একা কাটিয়ে দেয় পুরোটা বিকাল, একসময় সেও কিনা কারো জন্য বসে ছিল অপেক্ষায়। আর সম্ভব হয়নি সময়ের সাথে লড়াই করার। হার মানাটাই যেখানে উত্তম সেখানে অধমের মূল্য কেউ বুঝে না।একলা থাকাটা বিরক্তিকর হলেও জোর করে বলে দেয় ভালো আছি।হঠাৎ জন্ম নেয়া ভয়ে হারিয়ে যায় একটি প্রাণ।তবুও প্রার্থনা যদি তার ইচ্ছা ভুলে করেও বাস্তবতায় পা দেয়।মিথ্যা চিন্তাগুলো যদি সত্য হয়ে যায়,বাতাসে উড়ে চলা শব্দ যেন সত্যিকার অর্থে রূপ পায়।

“Depression” হবে কেন এই বয়সে? বাক্য গুলা শুনতে থাকা ব্যক্তিটি একটু হেসে আবার বসে রয়। সব কিছু বয়সের উপর ফেলে যুক্তি প্রদানকারী জানে না দুঃখ ও অভিজ্ঞতা বয়স বিবেচনা করে না। দুঃখ দিয়ে জোর করে ঠেলে দেয়া হয় কঠিন অভিজ্ঞতায় যা বহন করার জন্য সে প্রস্তুত নয় সে। ভুল হলে সংশোধন করা বেয়াদবি যে সমাজে সেখানে আমার লেখা নিষিদ্ধ হবে এটাই স্বাভাবিক। ‘ছোট মুখে বড় কথা’ যখন ব্যাসবাক্যে তখন বেয়াদব থেকে একটু হাসি ফোটানোকেই সার্থকতা ভেবে চলি।সুখের সন্ধানেই সুখ আসে না যদি সুখ একটি পাত্রে আটকে থাকে। সে পাত্রের সামান্য জল যার কাছে অমৃত, তার কাছে অন্য সুখ মৃত। যার কাছে আটকে আছে সব সুখ সেই তাকে শিখিয়ে দেয় একলা থাকা। অতিরিক্ত অপমানে জন্ম নেয় তোমাদের ভাষায় আরেকটি ” Lifeless” ব্যক্তি।

অপমানগুলোকে সমাধী দিয়ে আবার যেতে চাওয়া ব্যক্তি একলা জীবনে জীবন্ত লাশ হয়ে উঠে।কেউ আবার স্বাভাবিক থাকার চেষ্টায় মুখোশ পড়ে নেয়। সাধারণ মুখোশ নয়,একটি হাস্যজ্জ্বল প্রাণবন্ত ব্যক্তির মুখোশ।মুখোশের ওপারে লুকিয়ে থাকে শিকলের ছায়া পড়া চেহারাটি। স্বীকার করতে চায় না,দঃখ তার কাছে লজ্জার বস্তু হয়ে উঠে,তবে তার সাথে চলতে থাকা আরও মুখোশধারীকে সে দেখতে পায়না।সে আত্মকেন্দ্রীক নয়,ঝাপসা হয়ে উঠা চোখের আঁড়ালে পড়ে থাকে পৃথিবীর অর্ধেকটা।বাকি অর্ধেকটা দেখা হয়না Depression এ ভুগতে থাকা ব্যক্তিটি। প্রশ্ন উঠে,বড় বড় কথা বলা হল তবে এখন একটু সমাধান বের করে দেখাও।সম্ভব নয়,কিন্তু কিছু অভিজ্ঞতা লিখে গেলাম।

লিখে যাওয়া প্রতিটি শব্দ হলো এক একটি অভিজ্ঞতার বিন্দু জল। যে জল কেবল বেড়েই চলে।যখন সমুদ্র হয়ে উঠবে, বুঝতে হবে জীবনের দৌড় শেষ প্রায়। লোভনীয় বাক্যে আকৃষ্ট হয়ে নিজের সমস্যা তুলে ধরলেই সমাধান হয় না।যার সুখ যেখানে আটকে আছে সেই পারে তাকে প্রকৃত সুখ এনে দিতে। সেই পারে একলা চলা ব্যক্তির হাসি ফিরিয়ে দিতে।বলে লাভ নেই। সবার সৌভাগ্য হয় না। ধন্যবাদ আপনাকেও। হয়তো আপনিও কারো সুখের কারণ। হয়তোবা আপনিও লুকিয়ে রেখেছেন কারো সুখ নিজের কাছে।একদিন আপনিও তাকে ধাক্কা দিয়েও থাকতে পারেন বর্তমান অন্ধকার বিলাসী কোনো ব্যক্তিকে। মিথ্যা বলছি না। পাঁচটা মিনিট নিজেকে সময় দিলেই পেয়ে যাবেন উত্তরগুলো ও কিছু অংক। সমাধান করে নিলে হয়তো বেঁচে যাবে কারো প্রাণ “Depression” থেকে।বেঁচে থাকুক প্রতিটি জীবন “প্রকৃতপক্ষে”।