যে খাবার গুলো সবাই খেতে পারবে না

Now Reading
যে খাবার গুলো সবাই খেতে পারবে না

খাবার বা খাদ্য এমন একটি উপাদান যা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। খাবার ছাড়া কোন রকমেই আমরা বেঁচে থাকতে পারব না। দেশ, জাতি, ধর্ম ইত্যাদির ভিত্তিতে খাবার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। এবং বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন ধরনের খাবার খেয়ে থাকে। আর বিভিন্ন ধরনের খাবারে বিভিন্ন ধরনের উপাদান থাকে যা আমাদের শরীরে বিভিন্ন কাজ করে থাকে। তাই একটা মানুষ বিভিন্ন ধরনের খাবার খেয়ে থাকে।

আমরা সকলেই বিভিন্ন ধরনের খাবার খেয়ে থাকি। আর আমাদের খাবারের স্বাদ গুলোও বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। আর আমাদের একেক জনের একেক রকমের স্বাদের খাবার ভালো লাগে। কারো ঝাল ভালো লাগলে, কারো মিষ্টি ভালো লাগে।, আবার কারো বিরয়ানী ভালো লাগলে কারো খিচুরি ভালো লাগে, অনেকের দেশি খাবার ভালো লাগে অনেকর বিদেশি খাবার ভালো লাগে।

আর আমাদের এই পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের খাবার রয়েছে। এবং বিভিন্ন খাবারের বিভিন্ন মূল্য হয়ে থাকে। আজ আমি এই বিশ্বের কিছু দামি খাবার সম্পর্কে আপনাদের কে জানাবো।

ক্যাভিয়ারঃ ক্যাভিয়ার হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি খাবার। এটি হচ্ছে এক ধরনের সামুদ্রিক মাছের ডিম। এটি খুবই সুস্বাদু একটি খাবার। কিন্তু সাধারণ মানুষের পক্ষে এটির স্বাদ গ্রহণ করা সম্ভব নয়। কারন এই মাছের ডিমের প্রতি কেজির মূল্য প্রায় ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা। এই ক্যাভিয়ার সংগ্রহ করে প্যাকেটে ভরে বাজারজাত করার কাজটি খুবই দুরূহ। তবে তার চেয়ে বড় কথা হচ্ছে ক্যাভিয়ার খুবই বিরল। সবচেয়ে বিখ্যাত ক্যাভিয়ার আসে বেলুজা স্টার্জেন মাছ থেকে। কেবল মাত্র কাস্পিয়ান সাগর এবং কৃষ্ণ সাগরে এই মাছ পাওয়া যায়।

জাফরানঃ জাফরানকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে দামী মসলা। এর দাম ২ হাজার পাউন্ড ছাড়িয়ে যায়। এটি মূলত রান্নাবান্নাতে রং হিসেবে ব্যবহার করা হয়। জাফরান সংগ্রহ করা হয় এক ধরনের ফুল থেকে। যেটি বছরে মাত্র একবার ফোটে। তাও আবার মাত্র এক সপ্তাহের জন্য। ১ কেজি জাফরান সংগ্রহ করার জন্য অন্তত দুটি ফুটবল মাঠের সমান জায়গায় এই ফুলের চাষ করতে হয়।

ওয়েগু বিফঃ একটি বিশেষ প্রজাতির গরু থেকে, একটি বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে একটি বিশেষ এলাকায় এই মাংস তৈরি করা হয়। জাপানে এই গরুর মাংস পাওয়া যায়। জাপানের ৪ ধরনের গরু থেকে এই মাংস পাওয়া যেতে পারে। এর প্রতি পাউন্ড প্রায় ২৫ হাজার টাকা। এই গরুর মাংসের পরতে পরতে থাকে চর্বি। যখন রান্না করা হয়, তখন এই চর্বি গলে মাংসে মিশে যায়। ফলে মাংসটা থাকে খুবই নরম। এর দাম এত বেশি হওয়ার কারণ, এসব গরু পালতে খরচ অনেক।ওয়েগু মাংস হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য এই গরুগুলিকে কঠোর নিয়ম-নীতি মেনে পালতে হয় এবং বড় করতে হয়।

পাখির বাসাঃ কয়েক ধরনের পাখি দ্বারা এই বাসা তৈরি করা হয়। এই বাসা তৈরি হয় অনেক নিখুতভাবে। তাই এই বাসা তৈরিতে অনেক সময় লাগে। পাখিগুলো বাসা তৈরি করার সময় এক ধরনের লা লা নিঃসরণ করে যা বাতাসে স্পর্শে আসলে শক্ত হয়ে যায়। চায়নায় এই পাখির বাসাকে খুব সুস্বাদু ও মুখরোচক খাবার হিসাবে গণ্য করা হয়। এই খাবারটি পৃথিবীর অন্যতম মূল্যবান আর বিলাসি খাবার হিসাবে মানা হয়। এই খাবারটি সাধারণত সুপের সাথে পরিবেশন করা হয়। তবে এই খাবারটি মিষ্টান্ন হিসাবেও খাওয়া যায়।

দ্যা গোল্ডেন ক্যানলিঃ এই খাবারটির উৎপত্তি ইতালিতে। কিন্তু এখন এটি যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে পাওয়া যায়। এটি এক ধরনের পেস্ট্রি খাবার। এটি সম্পূর্ণ একটি স্বর্ণের তৈরী পাতা দিয়ে এই পেস্ট্রি সম্পূর্ণটা মুড়ানো থাকে। পাতাটি স্বর্ণের তৈরী হলেও এটি খাবার যোগ্য। এক একটি পেস্ট্রি বিক্রি হয় ২৬ হাজার মার্কিন ডলার অথবা ২১,৮৪,০০০ টাকায়।

পৃথিবীর ক্ষুদ্র দেসগুলি

Now Reading
পৃথিবীর ক্ষুদ্র দেসগুলি

আমাদের এই পৃথিবীতে প্রায় ১৯৪ টি দেশ রয়েছে। এই ১৯৪ টি দেশের মধ্যে কিছু দেশ আছে অনেক বড় ঠিক তেমনি কিছু দেশ আছে অনেক ছোট আয়তনের দিক থেকে অনেক ছোট। এতটাই ছোট যে, ওই সকল কয়েকটি দেশের আয়তনের যোগফল আমাদের ঢাকা শহরের আয়তনের চেয়েও কম। আর বেশির ভাগ ছোট দেশ গুলোর অবস্থান ইউরোপ বা ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায়। আজ আমরা বিশ্বের সবচেয়ে ছোট কিছু দেশ সম্পর্কে জানবো।

ভ্যাটিকান সিটিঃ বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দেশটির নাম হচ্ছে ভ্যাটিকান সিটি। ভ্যাটিকান সিটির আয়তন মাত্র ০.৪৪ বর্গ কিলমিটার। এটি ইতালির রোম শহরের মধ্যেই অবস্থিত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। খ্রিষ্টানরা এই দেশটিকে পবিত্র দেশ বলে থাকে। কারন দেস্টি রোমান ক্যাথলিক গির্জার বিশ্ব সদর দপ্তর হিসেবে কাজ করে। এই খানে সবচেয়ে বড় গির্জা সেন পিটারসন ভেসেলিকা অবস্থিত। পপ এই দেশের রাষ্ট্র নেতা। ভ্যাটিকান সিটির প্রধান আয় আসে অনুদান থেকে।

সান মেরিনোঃ এই দেশটির আয়তন ৬১ বর্গ কিলোমিটার। এই দেশটির চারদিকে ইতালি। জি ডি পি এর ভিত্তিতে এই দেশটি পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দেশ। এই দেশের জনসংখ্যা ত্রিশ হাজার। এই দেশে বেকারত্ব নেই বললেই চলে।

টুভালুঃ টুভালু দেশটি পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। এর আয়তন ৬২ বর্গ কিলোমিটার। এই দেশটি ১৯৭৮ সালে স্বাধীনতা লাভ করে। এই দেশের জনসংখ্যা মাত্র দশ হাজার। দেশটির সড়ক পথ আট কিলোমিটার। আর এই দেশটিতে হাসপাতাল আছে মাত্র একটি। আশির দশকে এই

নাউরুঃ নাউরু দেশটি প্রশান্ত মহাসাগর এরিয়ায় অবস্থিত মাইক্রন এশিয়া অঞ্চলের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্র। এর আয়তন ২১ বর্গ কিলোমিটার। নাউরুই পৃথিবীর এক মাত্র দেশ, যে দেশের কোন রাজধানী নেই। আশির দশকে এই নাউরুতেই ছিল ফসফেট খনির রমরমা ব্যবসা। কিন্তু ধীরে ধীরে এই খনি কমে যাওয়াতে এই দেশে এখন বেকারত্ব খুবই বেশি। এই দেশে জনসংখ্যা প্রায় ১৪০০০।

মুনাকুঃ এই দেশটি ইউরোপ মহাদেশের একটি দেশ। এই দেশের আয়তন মাত্র দুই দশমিক শূন্য দুই বর্গ কিলোমিটার। এই দেশটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতির দেশ বলা হয়। কারন এই ছোট দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৩৭০০০। দেশটির তিন দিকেই রয়েছে ফ্রান্স। আর এক দিকে রয়েছে ভূমধ্য সাগর। পর্যটন শিল্পই এই দেশটির প্রধান চালিকা শক্তি। এই দেশের প্রধান আকর্ষণ কেসিনও বা জুয়া খেলার জায়গা গুলি।

চাঁদে অবতরণের পেছনে যে নারী

Now Reading
চাঁদে অবতরণের পেছনে যে নারী

পঞ্চাশ বছর আগে, অ্যাপোলো ১১ মহাকাশচারী নিল আর্মস্ট্রং, বুজ অ্যালড্রিন এবং মাইকেল কলিনস চাঁদের অবতরণ করে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন। যদিও তারা দেশের খ্যাতি ও উপাসনা পেয়েছে, তবুও তাদের যাত্রা কখনোই সম্পন্ন করতে পারতো না যদি না একজন মহিলা-মার্গারেট হ্যামিল্টন না থাকত। গ্রাউন্ড্রেকিং মিশনে সহায়তাকারী দৃশ্যগুলির পিছনে অনেকের মধ্যে একজন, “মার্গারেট” যে আমেরিকান ভদ্রলোকদের চাঁদের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন।

অ্যাপোলো প্রোগ্রামের সহায়তায় ১৯৬১ সালে নাসা প্রাথমিকভাবে এমআইটি-তে পৌঁছেছিল। লক্ষ্য ছিল চাঁদের প্রতিযোগিতায় ইউএসএসআরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য এ্যাপোলো মহাকাশযানের নির্দেশিকা এবং নেভিগেশান সিস্টেম নির্মাণের দক্ষতা খোঁজার। কম্পিউটার প্রোগ্রামার মার্গারেট হ্যামিলটন, যিনি অ্যাপোলো মিশনটির জন্য সফটওয়্যার বিকাশ করেছিল ” বিলিভ ইট অর নট” “সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং” সেই এমপিআই ইন্সট্রুমেন্টেশন ল্যাবরেটরিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান হয়ে ওঠে নিজেই।

৬০ এর দশকে, কম্পিউটার বিজ্ঞান তার শৈশবেও ছিল, এবং মার্গারেটের অসঙ্গতিপূর্ণ কঠোর মনোযোগ এবং পরীক্ষার বিবরণ অ্যাপোলোর সাফল্যের জন্য অপরিহার্য ছিল। তিনি মিশনের জরুরীতা বুঝতে পেরেছিলেন এবং সেখানে দ্বিতীয় কোন সুযোগ আসবেনা। তিনি প্রকল্পে কাজ করার সময় কখনও কখনও তার ছোট মেয়েকে নিয়ে কাজে আসতেন।
স্পেস মিশনের সময় কিছু সমস্যা ছিল, এবং অ্যাপোলো দলটি চাঁদে অবতরণ করার ঠিক মুহূর্ত আগেই কম্পিউটার সফটওয়্যারটি নিজেই প্রমাণ করেছিল। একটি এলার্ম বেজে উঠল মিশন বাতিল করার। সৌভাগ্যক্রমে, কম্পিউটার সফ্টওয়্যার পরিকল্পনা চেয়ে আরও ফাংশন সঞ্চালনের জন্য নির্মিত হয়েছিল। কোড মার্গারেট এবং তার দল সমস্যার সমাধান এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলিতে ফোকাস করার জন্য পুনরুদ্ধারের প্রোগ্রামগুলির একটি সেট ব্যবহার করেছে। নির্দেশিকা কম্পিউটার স্টিয়ারিং উপর মনোযোগ এবং ক্রু দের অবতরণ গুরুতর কাজ উপেক্ষা করে তথ্য প্রদান করে। এই কারণে মহাকাশচারীরা প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলোর কারণে পদ্ধতির বাতিল করার পরিবর্তে চাঁদের উপর দখল করতে সক্ষম হন।

মার্গারেট সম্প্রতি টাইমকে বলেছিল, “আমার মনে হচ্ছে, ওহ মাই গড, এটি কাজ করেছে।” মার্গারেটের নির্দেশিকা সফটওয়্যারটি এত ভালভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে সমস্ত ক্রুযুক্ত অ্যাপোলো মিশনগুলি শূন্য সফ্টওয়্যার বাগগুলি উপভোগ করেছিল। পরে প্রযুক্তিকে স্কাইলাব, স্পেস শাটল এবং বিমানের ডিজিটাল ফ্লাই-বাই-তারের সিস্টেমগুলিতে প্রয়োগ করা হয়।
বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে তার অবদান এতই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, নাসা ২০০৩ সালে বিশেষ পুরস্কার, ব্যতিক্রমধর্মী স্পেস অ্যাক্ট পুরস্কারের মাধ্যমে তাকে সম্মানিত করা হয়। ওই পুরস্কারটি স্পেস এজেন্সি এর সেই সময়ের সবচেয়ে বড় আর্থিক পুরস্কার ছিল। ২০১৬ সালে, অ্যাপল ১১ অবতরণে সফলভাবে সহায়তার জন্য রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা তাকে স্বাধীনতার রাষ্ট্রপতি পদক প্রদান করেছিলেন। মার্গারেট এর কাজ বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য হওয়ার কারণ এটি নারী মুক্তি আন্দোলনের ঠিক আগেই ঘটেছিল।

যে সব খেলা বাচ্চাদের মস্তিষ্কের আঘাতের সম্ভবত কারণ

Now Reading
যে সব খেলা বাচ্চাদের মস্তিষ্কের আঘাতের সম্ভবত কারণ

পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রাকারের খেলাধুলা রয়েছে, ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, সাঁতার, টেনিস, হা ডু ডু, গোল্লাছুট, ভলিবল ইত্যাদি ছাড়াও অশঙ্খ রকমের খেলা রয়েছে। এর ভিতরে কিছু খেলা দেশীয় পর্যায়ে এর কিছু খেলা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। খেলাধুলা মানুষের শরীর ও মনকে সতেজ করে। বলা হয়ে থাকে সাস্থ্যই সম্পদ। কিন্তু কিছু খেলাধুলা আছে যা শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি। যা বাবা মায়েদের জেনে রাখা দরকার।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে মস্তিষ্কে আঘাতের কারণে প্রায় ২ মিলিয়ন শিশু এবং কিশোর-কিশোরী গড়ে ২,৮৩.০০০ প্রতি বছরে জরুরী বিভাগে দেখা যায়। বৃহস্পতিবার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের প্রকাশিত মর্বিডিটি অ্যান্ড মর্টলিটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদন অনুসারে, শিশুদের ফুটবল, বাস্কেটবল, সাইকেল চালানো, খেলার মাঠের কার্যক্রম এবং ক্রিয়াকলাপগুলো টিবিআই- এর জন্য জরুরী বিভাগে শিশুদের পাঠানোর প্রধান কারণ ছিল।

মর্মান্তিক মস্তিষ্কের আঘাত, যা concussions অন্তর্ভুক্ত, মাথা বা শরীরের দ্বারা প্রভাবিত হয়। যুব ক্রীড়াগুলো জনপ্রিয়তার সাথে বেড়ে উঠেছে এবং এই বিষয়টি আরও দেখিয়েছে যে, যেমন ফুটবল খেলার সময় মাথার উপর বারবার আঘাত করা কিশোরদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক, মানসিক এবং জ্ঞানে পরিণত হতে পারে। শিশুদের উন্নয়নশীল স্নায়ুতন্ত্র এবং পাতলা ক্র্যানিয়াল হাড়গুলি মস্তিষ্কের আঘাতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
মোটামোটি ভাবে, ২০১২ সাল থেকে শিশুদের মধ্যে টিবিআইয়ের হার বন্ধ হয়েছে, তবে নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের হার দ্বিগুণ বেড়ে চলছে ।


বিনোদনমূলক খেলার তুলনায় চারগুন বেশী ফুটবল, বাস্কেটবল, ল্যাক্রোস, আইস হকি এবং রেস্টলিংয়ের মতো যোগাযোগের খেলাধুলা গুলোর জন্য টিআইবির দ্বিগুণ জরুরী বিভাগে আসতে হয়। ৯ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে, খেলার মাঠের খেলাধুলার হতাশাজনক মস্তিষ্কের আঘাতের জন্য জরুরী বিভাগে আনার একটি উল্লেখযোগ্য অনুপাত হিসাবে বিবেচিত।

প্রতিবেদনের লেখক জাতীয় ইলেকট্রনিক্স ইনজুরি নজরদারি সিস্টেম অল ইজুরি প্রোগ্রাম থেকে ডেটা ব্যবহার করেন-
পরিদর্শন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন যে, খেলাধুলার সময় মস্তিষ্কের আঘাতের জন্য জরুরি বিভাগে শিশু এবং কিশোর আসে।

এদিকে, সিডিসি গত বছর মানসিক মস্তিষ্কের আঘাতের রোগ নির্ণয়ের একটি নির্দেশিকা তৈরি করে, যা শিশু-কিশোরদের চিকিত্সা, দীর্ঘমেয়াদী যত্নের জন্য করা হয়েছে।

নির্দেশিকাগুলির মধ্যে হেলথ কেয়ার প্রদানকারীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছে যে মৃদু টিবিআই শিশুদের নিয়মিতভাবে ইমেজিং পরীক্ষাগুলি এড়াতে, সংযম নির্ণয়ের জন্য বয়সের যথাযথ উপসর্গের স্কেল ব্যবহার করে, দীর্ঘস্থায়ী পুনরুদ্ধারের ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করে ঝুঁকিপূর্ণ উপাদানগুলির মূল্যায়ন করা, কীভাবে বাচ্চাদের নির্দেশ দেওয়া হবে তাদের উপসর্গগুলির উপর ভিত্তি করে তাদের পিতামাতাদের কাউঞ্চেলিং করে এবং দুই বা তিন দিনের বিশ্রামের পরে শিশুরা ধীরে ধীরে অ-ক্রীড়া ক্রিয়াকলাপগুলিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় তার পরামর্শ দিবে।

সাম্প্রতিককালের বিমানে ঘটে যাওয়া অদ্ভুদ সব কাণ্ড যা আপনি মিস করে গেছেন!

Now Reading
সাম্প্রতিককালের বিমানে ঘটে যাওয়া অদ্ভুদ সব কাণ্ড যা আপনি মিস করে গেছেন!

১। গত সেপ্টেম্বর ২০১৮তে হংকং কেন্দ্রিক বিমান সেবা প্রতিষ্ঠান ক্যাথি প্যাসিফিক (Cathay Pacific) তাদের একটি ফ্লাইটের বহির্ভাগে নাম ভুলের কারনে সারা বিশ্বের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিরোনামে পরিণত হয়েছিল। এতে প্রতিষ্ঠানটি বেশ অস্বস্তিতে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির বোয়িং ৭৭৭-৩৬৭ একটি এয়ারক্রাফটের বাইরে ভুল করে পেইন্ট করা ছিল “CATHAY PACIIC” যেখানে F ভুলে বাদ পড়ে যায়। এটা স্বাভাবিক একটা ঘটনা হতে পারত যদি পেইন্টের দায়িত্বে নিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ভুল করেও জানার পর তা সংশোধনের সুযোগ থাকত। কিন্তু বিষয়টি ধরা পরে ওয়াশিংটন ডিসিতে যখন বিমানটি ১৩,১২৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসে হংকং হতে, আর বিমানের এই রুটটি আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ দূরত্বের ১৫টি রুটের একটি। ক্যাথি প্যাসিফিক এর এই দায়িত্ব জ্ঞানহীন বিষয়ের কারণে তারা যথেষ্ট ইমেজ সঙ্কটে পড়ে যায়।

২। সাউথ ইষ্ট এয়ারলাইন্স গত অক্টোবর ২০১৮ তে লস এঞ্জেল হতে ডালাস যাওয়ার একটি ফ্লাইটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ফ্লাইটের একজন পুরুষ প্যাসেঞ্জার কর্তৃক অন্য একজন নারী প্যাসেঞ্জার যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন যার ফলে তাকে আসন পরিবর্তন করতে হয়েছিল। এই জঘন্য ঘটনার জন্য সেই পুরুষ যাত্রী জাস্টিন রলে ব্রাফোর্ডকে ফ্লাইটের ক্রুদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠে যে, প্রতিবার টেক অফের সময় সে তার হাত দিয়ে উক্ত মহিলার পা স্পর্শ করতেন। এমনকি অস্বস্তিতে পরা মহিলা যাত্রীটি বার বার তাকে এড়িয়ে যেতে চাইলেও পুরুষ যাত্রীটি ক্রমশ তার ঘনিষ্ট হওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে মহিলাটি তাকে সরাসরি বারণ করে দিলে পুরুষ যাত্রীটি তাকে বিভিন্ন প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত বাক্য বিনিময় করেন। তাই অপারগ হয়ে যখন মহিলাটি ফ্লাইট এটেনডেন্সকে তার সিট পরিবর্তনের অনুরোধ করেন তখনি প্রকাশ পায় ঘটনাটি। যখনি ফ্লাইট এটেনডেন্স এর কারন জিগ্যেস করতে পুরুষ যাত্রী ব্রাফোর্ডকে জিগ্যেস করে উল্টো সে ক্ষেপে যায়। এতে ফ্লাইট এটেনডেন্ট পাইলটকে বিষয়টি অবগত করে এবং পাইলট দ্রুত বিমানকে ল্যান্ড করিয়ে ঐ পুরুষ যাত্রীকে ফ্লাইট হতে নামিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। বিমানে যাত্রীকে যৌন হেনস্থা এবং ফ্লাইট ক্রুর সাথে অসাধাচরন এর দায়ে ২০ বছরের সাজা হয় এবং অনাদায়ে ২৫০০০০ ইউএসডলার জরিমানা হয়।

৩। মার্কিন বিমানসংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স প্রায়ই বিতর্কের মুখে পড়ে তাদের কিছু কর্মকাণ্ডের জন্য। ২০১৭ সালে তাদের একটি ফ্লাইট থেকে এক যাত্রীকে মারধর করে জোড় পূর্বক নামিয়ে দেয়ার গুরুতর অভিযোগ আসে। জোড় করে নামিয়ে দেয়ার দৃশ্যটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে অপর এক যাত্রী । মাত্র ৫০সেকেন্ডের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে প্রকাশের পর জোরেশোরেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে আমেরিকান বিমানসংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স। ভিডিওটি প্রায় ১৬ হাজার বার রিটুইট করা হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা- বিবিসি বরাতে আরো জানা গেছে, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স এর বিমান ৩৪১১ শিকাগো ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কেন্টাকির লুইসভিলের উদ্দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রাক্কালে ইউনিফর্ম পরা তিন নিরাপত্তারক্ষী আসনে বসে থাকা এক যাত্রীকে টেনে জোড় করে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। আসন থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামানোর সময় ওই যাত্রীর পোশাকের কিছু অংশ খুলে যায় এবং চোখের চশমা খুলে যায়। টানা হেঁচড়ার এক পর্যায়ে তাঁর নাক দিয়ে অনেকটা রক্ত বের হয়ে যায়। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের বিমানকর্মীদের বিরুদ্ধে বিমান থেকে এভাবে যাত্রীকে জোর করে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয় । তারা এর আগেও লেগিংস পরার দায়ে দুই নারীকে বিমান থেকে জোড় করে নামিয়ে দেয়।
ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের দাবি, যাত্রীরা নিয়ম না মানায় এভাবে বিমান থেকে নামাতে হয়েছে তাঁদের। কিন্তু কোন নিয়মটি ভঙ্গ করেছেন ঐ চিকিৎসক তা তারা স্পষ্ট করেননি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্টাকিতে অতিরিক্ত ক্রু মেম্বার পাঠাতে হয়েছিল তাই তারা ঐ চিকিৎসককে বিমান থেকে নেমে যেতে অনুরোধ করেন। কিন্তু চিকিৎসক এর দাবী, রোগীর কাছে পৌঁছানো তাঁর কাছে অত্যন্ত জরুরি ছিল। এদিকে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স। তারা দ্রুত যে তিন নিরাপত্তা কর্মী ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন, তাদের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নেন এবং ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

৪। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মশার উপদ্রবে বিক্ষোভ বা অভিযোগ নতুন কিছু নয় বরং নৈমিত্তিক ঘটনা। কিন্তু এই মশা নিয়ে এবারে অভিযোগ উঠেছে ভারতের জনপ্রিয় বিমান পরিসেবা সংস্থা ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে। এক যাত্রীর মুখে মশার কামড়ের অভিযোগ পেয়ে উল্টো তাকেই ফ্লাইট হতে নামিয়ে দিয়েছেন মশা না তাড়িয়ে। সৌরভ রাই নামে এক যাত্রী ভারতের লখনউ বিমানবন্দর হতে ভোর ৬টার দিকে ইন্ডিগোর বিমানে ওঠেন। আর বিমানে ওঠার পর থেকেই তাকে মশা কামড়াতে শুরু করে, তিনি এর পরিত্রাণে বিমানকর্মীদের অনুরোধ করলেও তারা তাকে চুপ করে নিজের আসনে বসে থাকতে বলেন। এ নিয়ে ঐ যাত্রী এবং বিমানসংস্থার কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে এয়ারক্রুরা তাকে জোর করেই বিমান থেকে নামিয়ে দেয়। এ ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেন সৌরভ রাই নামের ঐ যাত্রী আর তাতেই ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলোধুনো শুরু করে দিয়েছিল সবাই। যদিও ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স তাদের বিবৃতিতে ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে উস্রিঙ্খল আচরণের জন্য সৌরভ রাই নামের ওই ব্যাক্তিকে বিমান থেকে তারা নামিয়ে দেয়। তারা আরো অভিযোগ করে যে বিমানের কর্তব্যরত কর্মীরা ব্যবস্থা নেয়ার আগেই তিনি নাকি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন এবং বিমানের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও তাকে শান্ত করা সম্ভব হয়নি। সৌরভ নাকি অন্য যাত্রীদেরও বিমানের ক্ষতি করার জন্য প্ররোচিত করছিলেন, এমনকি সে বিমান ছিনতাই এর হুমকি দেন। এই পরিস্থিতিতে যাত্রী সুরক্ষার কথা প্রাধান্য দিয়ে তাকে বিমান থেকে নামিয়ে দেয়া ছাড়া তাদের আর উপায় ছিলনা।

৫। ২০১৬ এর এপ্রিলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আকাশে ঘটে যাওয়া অদ্ভূত ঘটনাটি যেন একটু আড়ালেই থেকে গেল। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, কলকাতার আকাশ থেকে প্রায় ১০ মিনিটের জন্য রাডারে হারিয়ে যায় একটি দু’টি নয় ৮৫টি বিমান। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পায়, ২০১৬ এর এপ্রিলের ৮ তারিখ সকাল সাড়ে ৭টায় আকাশে থাকা সবগুলো বিমান এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সাথে ১০ মিনিটের জন্য সংযোগ হারায়। রাডার হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে হঠাৎ সব বিমান এক নিমিষেই হারিয়ে যায়। যদিও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের সকল যন্ত্রপাতি ঠিকঠাক ছিল। এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ বিমান কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত ভিএইচএফ (Very High Frequency) লিঙ্ক চালু করে কিন্তু তাও অকার্যকর হয় এবং বিমানগুলোর সাথে যোগাযোগে ব্যর্থ হয়। এদিকে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বা এটিসি কলকাতার আকাশে থাকা হাজার হাজার যাত্রীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পাটনা , বারানসি ও গয়ার এয়ারপোর্টে জরুরি বার্তা পাঠায়। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ঠিক ১০ মিনিটের মাথায় আবারও সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যায়। অদৃশ্য বিমানগুলো ১০ মিনিট বাদে আকাশে পুনরায় উদয় হল। বিমান কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিলেও পরবর্তীতে এটিকে যান্ত্রিক ত্রুটি হিসেবেই জানায়।

৬। আমেরিকার ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনাগুলোর ভেতরে অন্যতম হচ্ছে ১৯৭৯ সালের ফ্লাইট ১৯১ এর বিধ্বস্ত হওয়া। রানওয়ে হতে উড্ডয়নের খানিক বাদেই দুর্ঘটনার পতিত হয় বিমানটি তাৎক্ষণিক মারা যান ২৫৮ যাত্রী ও ১৩ জন বিমান কর্মীর সকলে। এর কিছু বছর আগে ১৯৬৭ সালে একই নামের (১৯১) আরেকটি ফ্লাইট বিমান দুর্ঘটনার কবলে পতিত হলে সেখানেও মারা যায় বিমানটির পাইলট। এসব ঘটনা ঘটে যাওয়ার বেশ কয়েক বছর পর ২০১২ সালে ১৯১ সংখ্যাযুক্ত আরেকটি বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানটিতে পাইলটের পরিবর্তে বিমানের দায়িত্ব নিয়ে নেয় যাত্রীরাই। জনশ্রুতি আছে যে, পরপর তিনবার এমন ঘটনা ঘটার পরই কোন এয়ারলাইন্সই আর ১৯১ সংখ্যাটি ব্যবহার করতে চায় না!

৭। বিমান পরিসেবা সংস্থা হিসেবে এয়ার ফ্রান্স যথেষ্ট প্রসিদ্ধ এবং জনপ্রিয়। বিমানের অন্য দুর্ঘটনার চেয়ে এয়ার ফ্রান্সের একটি বিমান দুর্ঘটনার ব্যাপার একটু আলাদা। হঠাৎ করেই বিমানটির কো পাইলট বিমানটিকে উপরের দিকে নিয়ে যেতে শুরু করেন যখন মেইন পাইলট সাময়িক সময়ের জন্য টয়লেটে যান। দুর্ঘটনা পরবর্তীতে ব্ল্যাক বক্সে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী কো পাইলটের একটি ভয়েস রেকর্ড এমন ছিল যে, বিমানে আমার নিয়ন্ত্রণ আছে! তবে নিয়ন্ত্রণ থাকার পরও কেন বিমানটি বিধ্বস্ত হয় তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। যদিও মেইন পাইলট ককপিটে পৌঁছে দেখেন অবস্থা মোটেই নিয়ন্ত্রণে ছিল না। প্রায় ৩৮ হাজার ফিট উপরে নাক উঁচু করে থেমে থাকা বিমানটি খুব দ্রুতই ভুমিতে পতিত হয়! আর এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মারা যায় কয়েকশ মানুষ। এ ঘটনার পরও সেই কো পাইলটের আচরণ এবং তার রহস্যময় কণ্ঠ বিমান দুর্ঘটনার ইতিহাসে এখনো রহস্যই থেকে গেল।

Dunkleosteus : সমুদ্রের এক দুর্ধষ বিভীষিকা।

Now Reading
Dunkleosteus : সমুদ্রের এক দুর্ধষ বিভীষিকা।

সমুদ্রসীমায় পরিভ্রমনকারী এর এক ভয়ানক দানব এর নাম Dunkleosteus (ডাঙ্কলি ওস্টিওস)। এই প্রাগঐতিহাসিক প্রানীর সম্পর্কে খুব কম মানুষ ই জানে ।  প্রায় ৩৬০ মিলিয়ন বছর আগে সমুদ্রের জলসীমায় রাজ করতো এরা এবং Arthrodira গোত্রের সবচেয়ে শেষের দিকে প্রানী এরা ছিল।

যাইহোক, আজকের সময়ে এই অসাধারন প্রানীর ভয়ানক ফসিলগুলো আমাদের বুঝিয়ে দেয় প্রাগঐতিহাসিক প্রানীগুলো কতটা আশ্চর্যজনক ছিল।  কেমন ছিল  Dunkleosteus ? কিভাবে জলজ সীমানার মাংসাশী ত্রাস হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল সে? আজ আমরা সেগুলো নিয়েই কথা বলব।

Dunkleosteus নিজের শিকার কে নিজের মাথা দিয়ে বাড়ি দিয়ে চুর্ণ বিচুর্ণ করতো। এর পুরো মাথা জুড়েই ছিল খুব শক্ত হাড় এবং মুখের সামনের দিকে সাপের মত কেবল মাত্র দুটো ধারালো Fang বা বিষদাত ছিল। এবং এই দুই দাতে অসুরিক শক্তি ছিল। ধারনা করা হয় বয়স বাড়ার সাথে থাকে এদের দাতের আকৃতি বৃদ্ধি পেত এবং এদের ক্ষুধাও বাড়তে থাকত।

এর বিষ দাতগুলো নিজে নিজেই ধারালো হত। আপনারা যদি কখনো কুঠার বা চাকু শান দিয়ে থাকেন তাহলে হয়ত এতক্ষনে বুঝে গেছেন কিভাবে Dunkleosteus  নিজের তার শান দিত। এটি যখন তার মুখ বন্ধ করতো উপরের পাটির দাতের কিনারা নিচের পাটির দাতের কিনারার সাথে ঘষা লেগে ফ্রিকশন এর কারনে দাত তীঘ্ন হত। কোন কারনে যদিও দাত ভেঙ্গে যেত তাহলে নতুন করে দ্রুত আরো শক্তিশালী দাত উঠত। এ জন্য Dunkleosteus রা ভয়ানক বেশি ছিল কারন তারা শক্ত প্রতিপক্ষ বাচাই করত যাতে দাতে হারাবার আশংকা থাকে, কারন নতুন দাত আরো শক্তিশালি হবে।

সম্প্রতি শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়ার এর গবেষকরা মিউজিয়ামে রাখা Dunkleosteus এর ফসিল এর উপইর পরীক্ষা করে এর কামড়ের ওজন পরিক্ষা করেন। ফলাফল দেখে তারা নিজেরাই শিহরিত বোধ করেন। একটি Dunkleosteus এক কামড়ে প্রতি বর্গ ইঞ্চি স্থানে ৮০০০ পাউন্ড এর সমমান বল প্রয়োগ করতে পারতো।  আজকের দিনের জলদানব হোয়াইট শার্ক এই শক্তির বল মানে প্রতি বর্গ ইঞ্চি স্থানে ৪০০০ পাউন্ড বল প্রয়োগ করতে পারে। ।

Dunkleosteus যে কোন শিকার কে নিজের মুখের ভেতর শুষে নিতে পারত। যেহেতু বড় জীব হওয়াতে এরা কম দ্রুত সাতার কাটতো তো এদের প্রধান লক্ষ্য ছিল শিকার কে শুষে নেয়া। এক সেকেন্ডের ৫০ ভাগের এক ভাগ সময়ে এরা নিজেদের মুখ পুরো প্রসারিত করতে পারত এবং সব শক্তি দিয়ে শিকার কে ভ্যাকুয়াম সিস্টেমে নিজের দিকে টেনে নিত। 

Dunkleosteus যা পেত তাই খেত। খাবার ব্যাপারে এদের কোন বাছ বিচার ছিল না। এমনকি ধারন করা হয় এদের স্বভাব ক্যানিবালিস্টিক ছিল মানে এরা স্বজাতিকেও ছাড়ত না। বিজ্ঞানিরা Dunkleosteus ফসিল এর মাঝে চিড় খেতে পেয়েছেন এবং ফসিলের শক্তি সামর্থ অনুসারে চিড় ভাঙ্গার জন্য অন্য কোন Dunkleosteus দায়ী। তবে যা এরা খেতে পারত না তা  বের করে দিত। তখন ছোট জলজ অন্যান্য প্রানীরা সেগুলো খেয়ে নিত। 

Dunkleosteus রা সাধারনত ৩০ থেকে ৩৫ ফুট লম্বা হত। আর একটি পুর্নবয়স্ক Dunkleosteus এর ওজন ছিল ৩ টনের মত যা কিলার হোয়েল এর থেকেও বেশি। এই ভয়ানক আকৃতির জলদানব একসময় বৈশ্বিক সমুদ্র সীমার প্রতিটি অঞ্চলে ছড়িয়ে পরেছিল। আফ্রিকা , ইউরোপ এ ফসিল পাওয়া গেছে তাদের। নিউ ইয়র্ক, মিসৌরিতেও পাওয়া গেছে। এমনকি কানাডাতেও । বোঝাই যাচ্ছে এই দানবের কবল থেকে কোন অঞ্চল ই মুক্ত ছিল না।

কিভাবে হারিয়ে গেল এরা?

ধারনা করা হয় বিপর্যয় এসেছিল হ্যাংগেনবার্গ ইভেন্টের মাধ্যমে।সমুদ্রের অক্সিজেন লেভেল কমে গিয়েছিল ব্যাপক হারে আর এতে মারা পরেছিল এই দানবরা। কম অক্সিজেনে সাধারন প্রানীরা হয় বেচে থাকতে পারে। কিন্তু যখন আপনি ৩ টন অজনের একটি খাদক দানবের কথা ভাববেন, বেচে থাকার হার অতি সীমিত।

রহস্যময়তায় ঘেরা ভৌতিক অরণ্যভূমি “বেনিংটন ট্রায়াঙ্গল”

Now Reading
রহস্যময়তায় ঘেরা ভৌতিক অরণ্যভূমি “বেনিংটন ট্রায়াঙ্গল”

রহস্যজনক স্থান ‘বেনিংটন ট্রায়াঙ্গল’ এর নামকরণ করেন প্যারানরমাল গল্প লেখক জোসেফ এ সিত্রো। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম ভারমন্টে অবস্থিত  এই স্থানটির অদ্ভুতরে নাম রাখেন । অরণ্যেঘেরা এই অঞ্চলটি এখনো অনেকের কাছেই রহস্যময়তায় ঘেরা, এখানে প্রতিনিয়ত ঘটে রহস্যজনক সব ঘটনা। লোকমুখে প্রচলন আছে যে, এই অরণ্যে  ঢুকলেই শুনতে পাওয়া যায় অদ্ভুত সব আওয়াজ, কেউ কেউ বনের মধ্যে পথ হারিয়ে ফিরে পর্যন্ত আসে নি, আবার ফেরার পর অনেকেই হয়ে পড়েছে বদ্ধ উন্মাদ। স্থানীয়দের ধারণা, স্থানটিতে নাকি এক অশুভ শক্তির ভয়ংকর প্রভাব আছে। তার ফলে ঘটেছে একের পর এক রহস্যজনক নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনা।

বেনিংটন ট্রায়াঙ্গল

১৮৯২ সালে এলাকাটির রহস্যময়তার প্রথম সূত্রপাত ঘটে বলে অনেকেই মনে করে থাকেন। এ সময় হেনরি ম্যাকডওয়েল নামের এক স্থানীয় মাতাল জিম ক্রাউলি নামের এক কারখানার শ্রমিককে হত্যা করে। বিচারে ম্যাকডওয়েলকে উন্মাদ ঘোষণা করা হয় এবং ওয়াটারবেরি অ্যাসাইলামে পাঠানো হয়, কিন্তু তার আগেই সে জেলখানা থেকে পালিয়ে যায়। তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বেনিংটন ট্রায়াঙ্গলের প্রবেশ পথ

এর প্রায় ৩০ বছর পর একের পর এক রহস্যময় ঘটনা ঘটতে শুরু করে। ১৯২০ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে বেনিংটন ট্রায়াঙ্গলে ঘটেছিল এমন কয়েকটি নিখোঁজের ঘটনা, যার রহস্যভেদ করা এখনো কোনো সার্চ টিম বা তদন্তকারী কর্মকর্তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। কীভাবে একের পর এক এসব নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছিল, চলুন তাহলে তা জেনে আসি।

প্রথম ঘটনা

প্রথম যে ঘটনায় বেনিংটন ট্রায়াঙ্গল তোলপাড় হয়, তা আজ থেকে অনেক বছর আগের কথা, ১৯৪৫ সালের ২ নভেম্বরের ঘটনা। ৭৫ বছর বয়সী মিডি রিভার্স নামের একজন গাইড ৪ জন শিকারীকে নিয়ে পাহাড়ে গেলেন শিকারের উদ্দেশ্যে। দলটিকে নিয়ে ফিরে আসার সময় লং ট্রেইল রোড ও ৯ নম্বর রুটের কাছাকাছি এসে রিভার্স তার সহযাত্রীদের থেকে সামান্য এগিয়ে যান। এরপর থেকে তার সহযাত্রীরা তার আর কোনো হদিশই পাননি। হঠাৎই ঐ জায়গা থেকে তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন। পরে স্থানীয় পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকের দল চিরুনি অভিযান চালিয়েও রিভার্সের দেখা তো দূরে থাক, তার দেহ পর্যন্ত খুজেঁ পায়নি।

দ্বিতীয় ঘটনা

পরের ঘটনাটি ঘটে প্রায় এক বছর পর। ১৯৪৬ সালের ১ ডিসেম্বর। বেনিংটন কলেজে অধ্যয়নরত পলা ওয়েল্ডেন নামের এক ১৮ বছরের যুবতী ভ্রমণের নেশায় লং ট্রেইলের উদ্দেশ্যে বেনিংটন ট্রায়াঙ্গলের বনের মধ্যে ঢুকে পড়েন। তার পরিচিত অনেকেই তাকে বনের মধ্য দিয়ে যেতে দেখেছে। কিন্তু সে আর জঙ্গল থেকে কখনো ফিরে আসেনি। এরপর তাকে খুজেঁ দেওয়া বা তার সন্ধান দেয়ার জন্য ৫,০০০ ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সাহায্য নেওয়া হয়। কিন্তু কোনোভাবেই তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পলা ওয়েল্ডেন

তবে তাকে নিয়ে এমন গুজব ছড়ায় যে, পলা হয়তোবা তার প্রেমিকের সাথে কানাডায় চলে গেছে। আরেকটি ধারণাও তখন বেশ প্রচলিত ছিল, আর তা হচ্ছে প্রকৃতির মাঝে একাকী নিরিবিলি জীবনযাপনের জন্য নির্জন জঙ্গলকে বেছে নিয়েছে পলা। কিন্তু এর সপক্ষে কোনো বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তৃতীয় ঘটনা

তৃতীয় ঘটনাটি ঘটে তার ৩ বছর পর, ১৯৪৯ সালের ১ ডিসেম্বর তারিখে। জেমস ই টেটফোর্ড নামের একজন প্রবীণ সামরিক ব্যক্তি তার এক আত্মীয়ের সাথে দেখা করার জন্য সেইন্ট এলবান থেকে বাসে করে বেনিংটনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। বাসে যাত্রী ছিলেন মাত্র ১৪ জন। কিন্তু বাস গন্তব্যস্থলে পৌঁছার পর দেখা গেল, জেমস বাসে নেই! বাসযাত্রীদের তথ্যমতে, বাসটি কোথাও যাত্রাবিরতি করেনি। কিন্তু সেইন্ট এলবান থেকে বাস যখন যাত্রা শুরু করে, তখন বাস ড্রাইভারসহ যাত্রীরা জেমসকে তার নির্ধারিত সিটে বসতে দেখেছে। বাস চলা শুরু করলে তিনি তার সিট থেকে একবারও ওঠেননি। আবার কয়েকজন যাত্রী শেষ স্টপেজের আগের স্টেশন পর্যন্ত জেমসকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেছেন বলে জানান। কিন্তু তারা কেউই বলতে পারলেন না, জেমস কোথায় হারিয়ে গিয়েছেন। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, জেমসের লাগেজ ব্যাগ সহ তার টাকাভর্তি ওয়ালেটটি তার আসনে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

চতুর্থ ঘটনা

পরের ঘটনাটি ঘটে পল জেপসন নামের এক আট বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে। ১৯৫০ সালের ১২ অক্টোবর এক সকালের ঘটনা। জেপসন ছিল তার মায়ের সাথে, তিনি এ সময় শুকরছানাদের খাবার খাওয়াচ্ছিলেন, আর জেপসন বাড়ির চারপাশে ছুটোছুটি করছিল। ঘণ্টাখানেক পর মা ঘরে এসে দেখেন, জেপসন ঘরের আশেপাশে কোথাও নেই। জেপসনের গায়ে ছিল লাল রঙের জ্যাকেট, দূর থেকেও যা সকলের চোখে পড়ার কথা। কিন্তু সার্চ টিম অনেক অনুসন্ধান করেও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি।

পল জেপসনের হারিয়ে যাওয়ার পর সেসময়ের পত্রিকায় প্রকাশিত খবর

পঞ্চম ঘটনা

জেপসনের ঘটনার মাত্র ১৬ দিন পর, অক্টোবরের ২৮ তারিখ। ৫৩ বছরের ফ্রিডা ল্যাঙ্গার ও তার চাচাতো ভাই হার্বার্ট এলসনার সমারসেট রিজার্ভেরারের কাছে ক্যাম্পিংয়ের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। হঠাৎই একটি ছোট স্রোতের নদী পার হতে গিয়ে ফ্রিডা পানির মধ্যে পড়ে যান। ভিজে যায় তার পরনের কাপড়চোপড়, এরপর তিনি হার্বার্টকে একটু অপেক্ষা করতে বলেন। পোশাক পরিবর্তনের জন্য ফ্রিডা ফিরে যান ক্যাম্পে। অনেকক্ষণ হয়ে যাওয়ার পরও তিনি আসছেন না দেখে, হার্বার্ট ক্যাম্পে ফিরে আসেন। কিন্তু হার্বাট ক্যাম্পে এসে ফ্রিডাকে খুঁজে পাননি। এলাকাটি ফ্রিডার কাছে বেশ পরিচিত, ফলে দিনের আলোয় হারিয়ে যাওয়া তার পক্ষে বেশ অসম্ভবই বটে। আবার শুরু হলো ব্যাপক তল্লাশি। দুই সপ্তাহ ধরে ৩০০ জন অনুসন্ধানকারীর সমন্বয়ে গঠিত ৫টি অনুসন্ধান টিম হেলিকপ্টার, এয়ারক্রাফট থেকে শুরু করে বিভিন্নভাবে তন্নতন্ন করে অনুসন্ধান চালিয়েও ফ্রিডার অস্তিত্ব কোথাও খুঁজে পায়নি।

পল জেপসনের হারিয়ে যাওয়ার পর সেসময়ের পত্রিকায় প্রকাশিত খবর

তবে অদ্ভুত এক ব্যাপার হলো, এই ঘটনার এক বছর পর, ১৯৫১ সালের ১২ মে সমারসেট রিজার্ভের কাছাকাছি এক জায়গায় ফ্রিডার দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু তার দেহ ময়নাতদন্ত করেও মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে ফ্রিডাই একমাত্র নারী যার লাশটি খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল।

 

কেন ঘটছে একের পর এক এই অদৃশ্য হওয়ার ঘটনা?

অনেক প্যারানরমাল বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে তাদের নানা অভিমত উপস্থাপন করেছেন। নেটিভ আমেরিকানরা গ্লসটেনবারি মাউন্টেনের আশেপাশের এলাকাটি ‘অভিশপ্ত ভূমি’ বলে মনে করেন। এলাকাটিতে বসবাস স্থাপনকারী প্রথম ইউরোপীয় অধিবাসীদের এক অংশের অভিমত, পাহাড়ের পিছনের আকাশে প্রায় সময়ই এক অদ্ভুত আলোর ঝলকানি দেখা যায়। বাতাসে ভেসে বেড়ায় এক মাদকতাময় গন্ধ আর মাঝে মাঝে শোনা যায় নানা অদ্ভুত ধ্বনি। স্থানীয় কারো কারো মতে, এক বিশাল দৈত্যাকার প্রাণীর বাস রয়েছে জঙ্গলটিতে। এই প্রাণীটির অকস্মাৎ আক্রমণের শিকার হয় অভিযাত্রীরা।

অনেক প্যারানরমাল বিশেষজ্ঞের মতে, স্থানটিতে বাস্তব চেনা ত্রিমাত্রিক জগতের প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটে, যার ফলে কেউ এই জগতে প্রবেশ করতে গেলে সে দিকভ্রান্ত হয়ে হারিয়ে যায়। আবার অনেকের মতে, ভিন্ন গ্রহের প্রাণীদের অবস্থান রয়েছে এই বেনিংটন টায়াঙ্গল জঙ্গলে, তাদের কারণেই ঘটছে এসব অস্বাভাবিকতা। আরেকটি মত হচ্ছে, কোনো সিরিয়াল খুনী বনের মধ্যে বসতি গড়ে আছে, সে-ই এই সব খুনের পেছনে দায়ী। বিষয়টি যদি সত্যি হয়, তাহলে একটি প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়ায়, এতগুলো হত্যাকাণ্ডের কোনো হদিশ কেন পাওয়া গেল না। একটি ছাড়া কেন পাওয়া গেলো না আর কোনো মৃতদেহ।

এরপরও এমন কিছু তথ্য এসব অদৃশ্য ঘটনার পেছনে পাওয়া যায়, যেগুলো বেশ রোমাঞ্চকর।

১. সবগুলো হত্যাকাণ্ড একটি বিশেষ সময়ে ঘটেছে। শীতের সময় ছাড়া বছরের অন্য সময়ে কেন এমন কিছু ঘটে না?

২. ১৯৪২ ও ১৯৫০ সালের মধ্যে এসব অদৃশ্য হওয়ার ঘটনাগুলো ঘটেছে।

৩. ফ্রিডা ছাড়া আর কারো কোনো হদিশ শেষপর্যন্ত পাওয়া যায়নি। কিন্তু কীভাবে ফ্রিডা তার তাঁবু থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলো, সেটিই একটি রহস্য।

৪. হারিয়ে যাওয়ার পর অনুসন্ধান দল তন্নতন্ন করে খুঁজেও ফ্রিডার কোনো হদিশ পায়নি। অথচ এক বছর পর যে জায়গা থেকে তিনি হারিয়ে গিয়েছিলেন, সেখানেই তার লাশ পাওয়া যায়, যা এক বড় রহস্য।

৫. ফ্রিডা এবং রিভার দুজনই বয়স্ক ব্যক্তি ছিলেন এবং এলাকাটি তাদের নখদর্পনে ছিল। তাই পথ হারিয়ে ফেলা তাদের পক্ষে একবারেই অসম্ভব।

৬. অপর দুই ভিক্টিম ওয়েল্ডন ও জেপসন উজ্জ্বল লাল জ্যাকেট পরিহিত ছিল। ফলে অনেক দূর থেকে তাদের দেখতে পাওয়া যাওয়ার কথা। কিন্তু তাদের পরিহিত কোনো কাপড় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

৭. আবার ওয়েল্ডন ও ট্রেডফোর্ড এই দুই ভিক্টিম তিন বছরের ব্যবধানে একই তারিখে অদৃশ্য হয়ে যান, যা বেশ কাকতালীয়।

জনমানবহীন ভূতুড়ে শহরে পরিণত হওয়া বেনিংটন ট্রায়াঙ্গলের পাশের শহর গ্লসটেনবারি

১৯৩৭ সালের পূর্বে এলাকাটি বেশ জনবহুল ছিল। কিন্তু ১৯৩৭ সালের দিকে গ্লসটেনবারি শহরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহামারি দেখা দেয়, ফলে অনেক লোকের প্রাণহানি ঘটে। সে সময় নগরটি পরিত্যক্ত হয়। ২০১০ সালের একটি আদশুমারীর তথ্য অনুযায়ী, এই এলাকাটিতে সব মিলিয়ে মাত্র আটজন বাসিন্দা বাস করে। বর্তমানে এটি ভূতুড়ে শহর হিসেবেই পরিচিত।

 

পৃথিবীর বিতর্কিত কিছু মুর্তির গল্প

Now Reading
পৃথিবীর বিতর্কিত কিছু মুর্তির গল্প

মুর্তি আর বিতর্ক – এ যেন একা অপরের পরিপুরক। মুর্ত বানানো হয় কোন বিখ্যাত মানুষ কিংবা কোন বিখ্যাত ঘটনাকে কেন্দ্র হয় যার সাথে জড়িয়ে আছে কোন সংঘর্ষ বা কোন মতানৈক্য। মাঝে মাঝে প্রতিবাদের ঘটনাকেও মুর্তিতে রুপান্তরিত হয় হয়। মুর্তি তৈরী নিয়ে জল ঘোলা হয়নি এমন ঘটনা খুব কমই আছে।  আমেরিকাতে, কনফেডারেট নেতাদের মুর্তি আর জেনারেল দের মুর্তি গুলো সবসময় নতুন নতুন বিরোধের সৃষ্টি করেছে। এছাড়াও স্ট্যাচু অর ডেভিল, স্ট্যাচু অফ হিটলার এবনকি কুকুরের মুর্তি নিয়েও কাদা ছুড়া ছুড়ি কম হয় নি। আজ আমরা কথা বলল এমন কিছু মুর্তি নিয়ে যা বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে সুপরিচিত।

 

লুসিফার অফ লিইজ

বেলজিয়ামের সেইন্ট পল ক্যাথেড্রাল এর ভিতরে লুসিফার অফ লিইজ এর অবস্থান। এর অফিসিয়াল নাম হলো – Le Genie Du Mal (The Genius of Evil). এটা ১৮৪৮ সালে নির্মিত হয়েছিল Guillaume Geefs এর হাতে।

বর্তমানে যেই মুর্তিটি আছে যেটি চার্চে বানানো লুসিফারের আসল মুর্তি না। আসল মুর্তিটির নাম ছিল L’ange du mal(The Angel Of Evil) যা বানিয়েছিলেন Guillaume এর ভাই Joseph, ১৮৪২ সালে। কিন্তু এঞ্জেল অফ ইভিল জনসম্মুখে উন্মোচিত হবার আগেই নানান বিতর্কের সুচনা হয়।চার্চের নেতারা মনে করেন ডেভিল এত সুন্দর হলে এটা মানুষের মনে ভয়ের উদ্রেক করবে না আর মানুষ ডেভিল এর দেখা পাবার জন্য পাপ করতে শুরু করবে । তারা Guillaume কে তলব করে এই মুর্তির রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে নতুন মুর্তির তৈরী করার জন্য। Guillaume নতুন করে মুর্তি বানান যার শরীর পাখা দ্বারা আবৃত। এর মাথায় দুইটি ছোট শিং আছে আর নখ খুব চোখা। এই মুর্তির হাতে একটি আধ খাওয়া আপেল আছে

 

ব্রাউন ডগ স্ট্যাচু

ব্রাউন ডগ স্ট্যাচু লন্ডনের বেটার সীর ট্রাফালগার এ অবস্থিত যা বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। বর্তমান মুর্তিটি সেই বিতর্কিত মুর্তির রিপ্লেসমেন্ট। কারন আসল মুর্তিটি সরিয়ে ফেলতে হয়েছিল দুই পক্ষের প্রতিবাদের মুখে । এই দুই পক্ষে এক পক্ষ হল যারা প্রাণীদের উপর বৈজ্ঞানিক পরিক্ষা করার পক্ষে যাদের বলা হয় ভিভিয়ে সেকশনিস্ট , আরেক পক্ষ হলো যারা চায়না যে প্রাণীদের উপর পরীক্ষা করা হোক যাদের বলা হয়  এন্টি- ভিভিয়ে সেকশনিস্ট। আসল মুর্তিটি উন্মোচিত হয়েছিল এন্টি ভিভিয়ে সেকশনিস্ট এর দ্বারা ১৯০৬ সালে। সেই সকল কুকুরদের স্মরনে যারা ১৯০৩ সালের ইউনিভার্সিটি কলেজে সিরিজ সার্জারির মধ্যে দিয়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল। আসল মুর্তির নিচে একটি ফলক লাগানো হয়েছিল যা এই নির্বিচারে প্রাণী হত্যার বিপক্ষে কথা বলে।

 

ভিভিয়ে সেকশনিস্টদের কাছে এই ফলকের লেখা অযৌক্তিক এবং অপমান জনক মনে হয়েছে। তার ১৯০৭ সাler ১০ ডিসেম্বর ১০০০ মেডিকেল শিক্ষার্থী ট্রাফালগার স্কোয়ারে এসে প্রতিবাদ করে এবং আরো ১০০ জন ভিভিয়ে সেকশনিস্ট প্রতিবাদ গড়ে তোলে বেটারসী তে। তারা মুর্তির ক্ষতিসাধন করতে পারে ভেবে পুলিশ দিনরাত মুর্তির পাহারায় নিজেদের নিযুক্ত করে। ১৯১০ সালে সিটি কাউন্সিল এর আদেশে রাতের আধারে পুলিশ মুর্তি সরিয়ে ফেলে এবং এন্টি – ভিভিয়ে সেকশনিস্টরা ১৯৮৫ সালে রিপ্লেসমেন্ট মুর্তি হিসেবে বর্তমান মুর্তি স্থাপন করে যা এখনো অক্ষত আছে।

 

ব্লু ম্যাস্টাং

৩২ ফিট উচু নীল রঙ্গের এই মুর্তিটি ডেনভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাহিরে অবস্থিত যার নাম ব্লু ম্যাসট্যাং।এটি একটি বিতর্কিত এবং কুখায়ত মুর্তি যার নাম  দেয়া হয়েছিল ব্লুসিফার। মুর্তিটি দেখলেই বোঝা যায় কেন এটি এত ঘৃনার পাত্র। এর গায়ের রঙ নীল কিন্তু চোখগুলো গাড় লাল। এর স্থপতি Luis Jimenez এটি স্থাপন করেন পশ্চিমের বন্য প্রানীকে উৎসর্গ করে কিন্তু অনেকেই মনে করেন এই মুর্তিটি দানবিক এবং কুৎসিত। এমনকি Luis Jimenez মারাও গিয়েছেন যখন তার মুর্তির একটি অংশ তার নিজের গায়ের উপর পড়ে গিয়েছিল।

 

১৯৯৩ সালে তিনি মুর্তি স্থাপনের কাজ পেয়েছিলেন যা ২০০৬ সালে মৃত্যুর আগে তিনি শেষ করতে পারেননি। সার ছেলেরা এটি শেষ করেছিল। ২০০৮ সালে বিমানবন্দরের সামনে সর্বসাধারনের জন্য এটি উন্মুক্ত হরা হয় এবং এর কিছুদিনের মধ্যেই এটি নেতিবাচক মন্ত্যব্যের মুখে পড়ে। সাধারন জনগন বলেছিল এটি এয়ারপোর্টের অন্য একটি স্থানে সরিয়ে নিতে যাতে অনিচ্ছাপুর্কব এটি কারো চোখে না পরে। কিন্তু বিমান বন্দর কতৃপক্ষ এটি সরায় নি এই ভেবে যে মানুষ একসময় অভ্যন্সত হয়েই যাবে।

 

স্ট্যাচু অফ ইউনিটি

এতক্ষন আমরা কথা বলছিলাম সেই সকল মুর্তি নিয়ে যা তৈরী হবার পর সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। এবার আমরা এমন একটী মুর্তি নিয়ে কথা বলব যার নির্মান শেষ হবার আগেই সমালোচিত হচ্ছে। বিধাতাই জানে, এর কাজ শেষ হলে কতটা সমালোচিত হবে এই কাজ।

 

স্ট্যাচু অফ ইউনিটি তৈরী করছে ভারত। এটা ৫৯৭ ফুট লম্বা হবে যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উচু বলে বিবেচিত। বর্তমানে সবচেয়ে উচু উন্মুক্ত মুর্তি আছে বুদ্ধার যা ৫০২ ফুট উচু এবং স্ট্যাচু অফ লিবার্টি যা ৩০৫ ফুট(বেইজ সহ)। স্ট্যাচু অফ ইউনিটি তৈরী হচ্ছে “সর্দার বল্লভ ভাই পাটেল” এর আদলে যিনি ভারতের প্রথম ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার ছিলেন এবং যিনি ভারতের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন।

 

মুর্তিটি বানাতে ২০০ মিলিয়ন ইউরো খরচ হচ্ছে যা সমালোচক রা বলছেন এই টাকা দিয়ে দেশ সেবার কাজ করলে আরো ভাল হত। তারা আরো বলছেন সর্দার বল্লভ ভাই নিজের মুর্তির জন্য এত টাকা কোনদিন খরচ করতেন না। সমালোচকরা আরো বলছেন – বর্তমান চিফ মিনিস্টার নরেন্দ্র মোদি মুর্তি তৈরির অনুমোদন দিয়েছেন নিজের দল এর নাম অক্ষুন্ন রাখার জন্য। মুর্তিটি শীঘ্রই সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

 

হিম

“শিশু এডলফ হিটলার প্রার্থনারত অবস্থায় হাটু গেড়ে বসে আছেন” এটিই “হিম” মুর্তির কনসেপ্ট। হিটলার নিজের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন বলে তিনি একটি সমালোচিত ব্যাক্তি একথা আমরা সবাই জানি। মুর্তিটি হয়ত সেই সমালোচনা এটি যেতে পারত যদি না এটির স্থপতি Maurizio Cattelan এর স্থাপনা ২০১২ সালে পোল্যান্ড এর ওয়ারসো তে করতেন। প্রায় ৩ লক্ষ ইহুদি সেনা নিহত হয়েছিল হিটলারের নাজি বাহিনীর হাতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই ওয়ারসোতেই। The Simon Wiesenthal Center ,  একটি ইহুদি প্রচারণা মুলক সংস্থা দাবি করে মুর্তিটি প্রহসনামুলক ইহুদিদের প্রতি যারা নাজিদের হাতে নিহত হয়েছে। ইসরাইলি সংস্থাটির পরিচালক Efraim Zuroff এর ভাষ্য অনুযায়ী -”হিটলারের প্রার্থনার একমাত্র চাওয়া ছিল যে যেন দুনিয়া থেকে ইহুদিদের নাম মুছে ফেলতে পারে”। অপরদিকে স্থপতি এবং তার অনুসারীদের বক্তব্য হলো -”আমরা শুধু দেখাতে চেয়েছি কিভাবে নিষ্পাপ হিটলার ও একদিন শয়তানে পরিনত হয়েছে। ”

Page Sidebar