বাংলাদেশে চাকরির ক্ষেত্রে কোটা সংস্কার এখন সময়ের দাবী।

Now Reading
বাংলাদেশে চাকরির ক্ষেত্রে কোটা সংস্কার এখন সময়ের দাবী।

অনেকদিন থেকেই দেখা যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের সবকটি বিশ্ববিদ্যালয়, অধিংকাশ কলেজ,প্রতিটি জেলায় ছাত্ররা রাজপাথে নামছে,একপ্রকার অহিংস আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।তাদের পাঁচ দফা দাবির অন্যতম মূল দাবীটিই হচ্ছে কোটা ব্যবস্থার সংস্কার।সত্যিকার অর্থে এটা তো ন্যায্য অন্দোলন,বৈষ্যম্যের বিরুদ্ধে আ্ন্দোলন।দেশে প্রতিবছর লাখ লাখ বেকার সৃষ্টি হচ্ছে,কৈ সে বিষয় নিয়ে তো উপরমহলের কোনো ম্যাথাব্যাথা নেই।ছাত্ররা হচ্ছে একটি দেশের মূল কান্ডারী,অথচ আমাদের দেশে এই ছাত্রদেরকেই কোটা নামক প্রহসনের বলি হতে হয়।কোটা যে অন্যান্য দেশে নেই তা নয়;আছে তবে তাদেরটা আর আমাদেরটা সম্পূর্ণ ভিন্ন কারন অন্যান্য দেশগুলোতে কোটা মূলত একটা নির্দিষ্ট পিছিয়া পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য নির্দিষ্ট কয়েক বছরেরর জন্য অথচ আমাদের দেশে এটা একটা চেইনের মত;স্বাধীনতার ৪৮ বছর ধরে লাগাতার চলে আসছে,কত বড় প্রহসন এটা।ছাত্রছাত্রীরা তো এটা বলছেনা যে কোটা ব্যবস্থা উঠিয়ে দেয়া হোক,তারা বলছে এটার সংস্কার হোক।কেন বলছে তার কারনটি আমি দেখাচ্ছি-
মোট ১৫কোটি ২৫লাখ ১৮হাজার মানুষের বাস এই দেশে।
এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ২লাখ,যা মোট জনসংখ্যার. ১৩%।অথচ এই. ১৩% মানুষের জন্য ৩০%কোটা।
প্রতিবন্ধী ২০লাখ ১৬হাজার,যা মোট সংখ্যার ১.৪০%।কোটা ১%।
উপজাতি ১৫লাখ ৮৬হাজার,যা মোট জনসংখ্যার ১.১০%।তাদের জন্য কোটা ৫%।
নারী কোটা-১০%
জেলা কোটা-১০%
মোট কোটা-৫৬%
তার মানে,৯৭.৩৭% মানুষের জন্য কোটা ৪৪%
আর বাকি ২.৬৩% মানুষের জন্য কোটা ৫৬%।
এর থেকে বড় প্রহসন হয়ত আর নেই,পৃথিবীতে সাধারন স্টুডেন্টদের জন্য এতটা অবিচার কোথাও করা হয় না।দেশটা তো ঠিক এখানেই পিছিয়ে পড়ছে।এক পা বেঁধে দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কতটা আগাবে জাতি।স্নাতক পাশের পরও একজন ছাত্রকে বছরের পর বছর টিউশনি করিয়ে,রোদে পুড়ে,ঘর্মাক্ত দেহে লোকাল বাসে ঝুলে ঝুলে,বেকারত্ব নামক অভিশাপ মাথয় নিয়ে,সমাজের কাছে মুখ লুকিয়ে চলতে হচ্ছে।লক্ষ লক্ষ যুবক যুবতী বেকরত্বের বলি হচ্ছে অথচ যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও চাকরি পেয়ে যাচ্ছে কোটাধারীরা।দেশ উন্নয়নশীলের তকমা দিয়ে কি করবে যদি না মেধাবীদের মূল্যয়ন করে।
কোটাব্যবস্থার সংস্কার করার সময় অনেক আগেই হয়ে গেছে।এখনো এ বিষয়টি যদি গুরুত্ব না দেয়া হয় তাহলে দেশ একদিন মেধাশূন্য হয়ে যাবে।ভুলে গেলে চলবেনা যে ছাত্ররা চাইলে কয়েক মুহূর্তে দেশ অচল করে দিত পারে;কিন্তু তারা অহিংস এবং শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবিদাওয়া পেশ করছে,তাই সরকারের উচিত তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের দাবিদাওয়া মেনে নেওয়া।ছাত্র আন্দোলন কখনোই বৃথা যায়নি সেই ৫২থেকে,ইতিহাস সাক্ষী আছে।আজকের চিত্রটাও ঠিক একই রকম;আজকেও সারা দেশের সব ছাত্রছাত্রী সহমত পোশন করে আন্দোলনে সক্রিয় হচ্ছে।
আর ছাত্রছাত্রীদের অবমূল্যন করে দেশ আগাতে পারবে না এটাই কঠিন বাস্তবতা।