জয়ের খুব কাছে গিয়েও বঞ্চিত হল পাকিস্তান

Now Reading
জয়ের খুব কাছে গিয়েও বঞ্চিত হল পাকিস্তান

ওয়ানডে সিরিজে প্রথম তিন ম্যাচ হেরে পাকিস্তান আগেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ হেরে গেছে। তবে দুবাইয়ে চতুর্থ ওয়ানডেতে সান্ত্বনার জয়ের খোঁজে দুই সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছিলো। কিন্তু দলটা যে আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তান, জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেও মাত্র ৬ রানে হেরেছে অ্যারন ফিঞ্চদের কাছে। তাতে ৫ ম্যাচের সিরিজে ৪-০ তে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া।
অথচ ২৭৮ রানের লক্ষ্যটা এক সময় দৃষ্টিসীমানায় নিয়ে এসেছিলো পাকিস্তান দুই সেঞ্চুরিতে। বাকিরা যেখানে থিতু হতে পারছিলেন না সেখানে প্রতিশ্রুতিশীল ছিলেন অভিষিক্ত আবিদ আলী ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। অভিষেকেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন ওপেনার আবিদ। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন রিজওয়ান। দুজনে ভরে করে স্কোর ছাড়ায় ২ উইকেটে ২০০।
আবিদ ১১২ রানে বিদায় নিলেও ততক্ষণে বিপদ বাড়েনি পাকিস্তানের। অপর প্রান্তে ছিলেন রিজওয়ান। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালে রিজওয়ানও হাল ছেড়ে দেন এক সময়। এক সময় পাকিস্তানের ১৮ বলে প্রয়োজন ২৫ রান। রিজওয়ান ততক্ষণে ৯৭ রানে ব্যাট করছিলেন। সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তিনি ১০৪ রান করে ফিরলে এরপর জয় থেকে ধীরে ধীরে ছিটকে যায় তারা। ৮ উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত তুলতে পারে ২৭১ রান। কোল্টার নাইল উইকেট নিয়েছেন ৩টি আর ২টি নেন স্টইনিস।
টস হেরে ব্যাট করা অস্ট্রেলিয়া আজ গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ঝড়ো ব্যাটিংয়েই ৭ উইকেটে সংগ্রহ করে ২৭৭ রান। ৮২ বলে ৯ চার ও ৩ ছয়ে ৯৮ রান করলেও সেঞ্চুরি বঞ্চিত হয়েছেন। বলতে গেলে ওপেনিংয়ে উসমান খাজার ৬২ আর ফিঞ্চের ৩৯ রানের পর মাঝের দিক থেকে ভূমিকা রাখতে পারেননি কেউ। সেই বিপদ তারা কাটায় ম্যাক্সওয়েলের দ্রুত গতির ব্যাটিং ও অ্যালেক্স ক্যারেইর ৫৫ রানের সুবাদে। ম্যাচসেরা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

অস্ট্রেলিয়ার কাছে সিরিজ হারল পাকিস্তান

Now Reading
অস্ট্রেলিয়ার কাছে সিরিজ হারল পাকিস্তান

আরোন ফিঞ্চের কাছেই সিরিজ হারতে হল পাকিস্তানকে। সিরিজ নির্ধরণী তৃতীয় ম্যাচেও পার্থক্য গড়ে দিল অস্ট্রেলিয়া অধিনায়কের ব্যাটিং। ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েলও। পরে বল হাতে পাক টপ অর্ডার ধ্বসিয়ে দিলেন প্যাট কামিন্স। ম্যাচের সঙ্গে সিরিজ জয়ও নিশ্চিত হলো অস্ট্রেলিয়ার।
বুধবার আবু ধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে পাকিস্তানকে ৮০ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে অজিদের করা ২৬৬ রানের জবাবে ৪৪.৪ ওভারে ১৮৬ রানে গুটিয়ে যায় শোয়েব মালিকের দলের ইনিংস। ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ফিঞ্চের দল।
অস্ট্রেলিয়ার করা চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যে ১৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। তিনটি উইকেটই নেন কামিন্স। এই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি পাকরা। চতুর্থ উইকেটে ইমাম-উল-হক ও শোয়েব মালিক এবং ষষ্ঠ উইকেটে উমর আকমল ও ইমাদ ওয়াসিম দুটি ফিফটি জুটিতে দলের হাল ধরার চেষ্টা করলেও শেষ পর্ডন্ত পেরে ওঠেননি।
দ্রুত শেষ চার উইকেটই তুলে নিয়ে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন অ্যাডাম জাম্পা। ৪৩ রানে ৪ উইকেট নেন জাম্পা। তবে ২৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা কামিন্স।
এর আগে অজি ইনিংসে এদিন ফিঞ্চ-খাজা জুটি প্রস্ফুটিত হওয়ার আগে কুড়িতেই বিনাশ করেন উসমান শিনওয়ারি। স্কোরবোর্ডে রান জমা হওয়ার আগেই ফেরেন খাজা। শন মার্শকেও জুনায়েদ খান তুলে নিলে ২০ রানে ২ উইকেটে পরিণত হয় অজি ইনিংস। এরপর ৮৬ রানের জুটি গড়ে হ্যান্ডসকম্ব ৪৩ বলে ৪৭ করে ফিরলেও স্টয়নিসকে নিয়ে ৩৬ ও ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে ৪৮ রান যোগ করে দলকে নিরাপদে রেখে আউট হন ফিঞ্চ। ১০ রানের জন্য টানা তৃতীয় শতক হাতছাড়া করেন এই ওপেনার। তার ১৩৬ বলে সময় উপযোগি ৯০ রানের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ১টি ছয়ের মার। ৫৫ বলে ৭১ রানের ঝড়ো ইনিংস আসে ক্যাক্সওয়েলের ব্যাট থেকে।
নতুন বল হাতে নেওয়া তরুণ বোলার মোহাম্মাদ হাসনাইন ৫ ওভারে ৫০ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূণ্য। বাকিদের প্রত্যেকেউ নেন একটি করে উইকেট। ১০ ওভারে ৩৪ রানের খরচায় ১ উইকেট নিয়ে পাক সেরা বোলার হন ইমাদ ওয়াসিম।
সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া : ৫০ ওভারে ২৬৬/৬ (খাজা ০, ফিঞ্চ ৯০, শন মার্শ ১৪, হ্যান্ডসকম্ব ৪৭, স্টয়নিস ১০, ম্যাক্সওয়েল ৭১, কারি ২৫*, কামিন্স ২*; শিনওয়ারি ১/৩৭, হাসনাইন ০/৫০, জুনায়েদ ১/৫৮, ইয়াসির ১/৪৭, ইমাদ ১/৩৪, হারিস ১/৩৫)।
পাকিস্তান : ৪৪.৪ ওভারে ১৮৬ (ইমাম-উল ৪৬, মাসুদ ২, হারিস ১, রিজওয়ান ০, শোয়েব মালিক ৩২, উমর আকমল ৩৬, ইমাদ ৪৩, ইয়াসির ১০*, শিনওয়ারি ০, জুনায়েদ ৫, হাসনাইন ০, কামিন্স ৩/২৪, বেহরেনড্রফ ১/২৯, স্টয়নিস ০/২১, লায়ন ১/৪৮, ম্যাক্সওয়েল ১/২১, জাম্পা ৪/৪৩)।
ফল : অস্ট্রেলিয়া ৮০ রানে জয়ী।

“DigiGlot” ভাষা এবং প্রযুক্তি সম্পর্কে একটি নতুন নিউজলেটার

Now Reading
“DigiGlot” ভাষা এবং প্রযুক্তি সম্পর্কে একটি নতুন নিউজলেটার

ডিজিগ্লট- রাইজিং ভয়েসেস থেকে প্রযুক্তি এবং ছোট ভাষাগুলিতে একটি নতুন নিউজলেটার। ডিজিগ্লট একটি দ্বি-সাপ্তাহিক সহযোগী নিউজলেটার যা কিভাবে আদিবাসী, সংখ্যালঘু, এবং বিপন্ন ভাষা সম্প্রদায়গুলি তাদের ভাষাগুলির ডিজিটাল উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য প্রযুক্তি গ্রহণ ও ব্যবহার করবে সে সম্পর্কে রিপোর্ট করে এবং ভাষাগত বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করে অনলাইনে আড়াআড়ি পরিবর্তন করে।


আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তিগুলিতে এক অসাধারণ আগ্রহ রয়েছে যা বিভিন্ন উপায়ে মানুষের ভাষা ব্যাখ্যা করতে পারে। চ্যাটবটস, অনুবাদ সফটওয়্যার, এবং সিরী বা আলেক্সা-এর মত বুদ্ধিমান সহকারী আমরা সবাই কিভাবে ভাষা ব্যবহার করি তা বোঝার উপর নির্ভর করে। কয়েক সপ্তাহ আগে, অলাভজনক গবেষণা সংস্থা ওপেনাই ইংরেজি পত্রের কম্পিউটেশনাল মডেলিংয়ের জন্য তাদের নতুন পদ্ধতি প্রদর্শনের একটি কাগজ প্রকাশ করেছিল। লেখক কম্পিউটারের উৎপাদিত গ্রন্থে তাদের নতুন মডেল থেকে কয়েকটি উদাহরণ দিয়েছেন যা তারা মনে করে যে মানুষ কি উৎপন্ন করতে পারে তা থেকে আলাদা। OpenAI এটির অপব্যবহার হতে পারে এমন আশঙ্কা করায় মডেলটি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ টুইটার বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে দূষিত বট তৈরি করতে পারে।

যথারীতি এই আদিবাসী এবং সংখ্যালঘু ভাষার জন্য ভাল খবর এবং খারাপ খবর উভয় অর্থ হতে পারে। ভাল খবর হল যে এই মডেলগুলিতে প্রশিক্ষণের জন্য কোনও বিশেষ ডেটা প্রয়োজন হয় না; যতদিন প্রোগ্রামাররা লক্ষ্য ভাষাতে পাঠ্যের একটি বড় বড় সংগ্রহ আছে ততদিন পর্যন্ত এটি তৈরি করা যেতে পারে। মডেল তৈরি হওয়ার পরে এটি সেই ভাষাতে আরও উন্নত এআই প্রযুক্তির বিকাশের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। খারাপ সংবাদগুলির কয়েকটি বিট: প্রথমত, এই মডেলগুলিতে প্রশিক্ষণের জন্য প্রচুর সংখ্যক পাঠ্য দরকার, লক্ষ লক্ষ বা কোটি কোটি শব্দ এবং উল্লেখযোগ্য কম্পিউটেশনাল হর্স পাওয়ার। দ্বিতীয়ত, এই অঞ্চলের গবেষণায় ইংরেজিতে প্রায় ১০০% ফোকাস চলছে এবং কোনও গ্যারান্টি নেই যে একই মডেলগুলি আরও জটিল ভাষার জন্যও কাজ করবে। এবং সর্বদা এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে এই প্রযুক্তিগুলি জনস্বার্থের পক্ষে সহজেই ব্যবহার করা যেতে পারে, কারণ তারা প্রযুক্তি সংস্থাগুলির তথ্য সংগ্রহের সুবিধা দিতে পারে। তবুও, আমরা এই অঞ্চলে আংশিক-সংস্থান ভাষাগুলির জন্য আরও বেশি গবেষণা দেখতে আশা করি এবং অবশেষে এই ভাষাগুলিকে সমর্থন করে এমন এআই প্রযুক্তি।

উদাহরণস্বরূপ, এক শতাব্দী বয়সী জেন রেডেল জিজ্ঞেস করেন এক হাতে তালির শব্দ কি? উত্তরে- এটি একটি ব্যক্তির নিয়মিত মনের অবস্থা থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে করা হয়।
যখন মাল্টিমিডিয়া ভিজ্যুয়াল শিল্পী লেনা হার্জগ বিশ্বের ভাষাগত জীববৈচিত্র্য দেখেছিলেন এবং ভাষাগুলি বিলুপ্ত হওয়ার বিপজ্জনক হার পরিমাপ করেছিল তখন তিনি বিপন্ন ভাষাগুলিকে মূলত ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
তিনি প্রাকৃতিক সাইটগুলির ড্রোন ফুটেজের সাথে প্রায় বা ইতিমধ্যে বিলুপ্ত ভাষার রেকর্ডিং একত্রিত করেছিলেন যা তিনি “45 মিনিট-লম্বা ইমিউরিভ অরটোরিওর” হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন। ফলস্বরূপ, লাস্ট হুইপারস নামে পরিচিত তেহুয়েলচে, নিভখ, নোয়াহাতাল, ওয়ার্লপিরি, আইনু, কোয়ুকন, নাফসান, জুলহোয়ান, সুরেল, ওনগোটা এবং কাকেটে বর্ণিত শব্দগুলির বনের মাধ্যমে কালো ও সাদাতে একটি হিংসাত্মক অডিও-ভিজ্যুয়াল যাত্রা।

#অস্ট্রেলিয়ায় এর প্রথম ভাষা ম্যাপিং-
প্রথম ভাষা অস্ট্রেলিয়া সম্প্রতি গ্যাম্বে তাদের অনলাইন সংস্থানটি পুনরায় চালু করেছে যা দেশব্যাপী আদিবাসী এবং টোরেস স্ট্রেইট দ্বীপের ভাষা এবং তাদের নিজ নিজ অবস্থানের পছন্দের নামগুলি প্রদর্শন করে। বাবুল্লা ভাষায় গাম্বে শব্দটির অর্থ”একসাথে”। একটি খোলা-উৎস ম্যাপিং প্ল্যাটফর্মের ম্যাপবক্সে নির্মিত, মানচিত্র ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন উৎস থেকে ডিজিটাল মিডিয়া এম্বেড করার জন্য আরও ভাল বিকল্প সহ ভাষা পুনরুজ্জীবনের প্রচেষ্টার সামনে লাইনগুলির ভাষা কেন্দ্র সনাক্ত করতে দেয়।

কে সেই হামলাকারী কেনই বা তার এই হামলা???

Now Reading
কে সেই হামলাকারী কেনই বা তার এই হামলা???

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারী ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, হামলাকারী কট্টর ডানপন্থী। তাঁর নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
নিউজিল্যান্ডের একটি গণমাধ্যমে বলা হয়, ওই হামলাকারী অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছেন। দুই বছর ধরে তিনি এ হামলার পরিকল্পনা করছেন। হামলাকারী জানিয়েছেন, ইউরোপের দেশগুলোতে বিদেশি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে এ হামলার পরিকল্পনা করেন তিনি। হামলার আগে ৭৩ পাতার টুইটারে একটি ইশতেহার আপলোড করেন ওই হামলাকারী। সেখানে তিনি এই হামলাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে দাবি করেন। এ ছাড়া অভিবাসনের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা জানান। তাই নিজেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক বলে উল্লেখ করেন।

অভিবাসীবিদ্বেষী এ হামলাকারী তার ইশতেহারে বলেছেন, হামলা করে তিনি অভিবাসীদের দেখাতে চান যে, আমাদের ভূমি কখনও তাদের ভূমি হবে না। যতক্ষণ শ্বেতাঙ্গরা জীবিত থাকবেন। তিনি মুসলমান এবং ধর্মত্যাগীদের ঘৃণা করেন। ধর্মত্যাগকারীদের তিনি রক্তের সঙ্গে প্রতারণাকারী হিসেবে উল্লেখ করেন।

নিজের লেখা ওই ইশতেহারে ব্রেনটন জানিয়েছেন, তিনি নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। নিজের পরিবারের লোকজনের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাই ইউরোপের মাটিতে সরাসরি অভিবাসীদের সংখ্যা কমাতেই তিনি এই হামলা চালিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসলামপন্থী জঙ্গিদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল নুর মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে মসজিদে নামাজ শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যে একজন বন্দুকধারী সিজদায় থাকা মুসল্লিদের ওপর গুলি ছোড়ে। বন্দুক হামলার পর মসজিদ থেকে লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করতে থাকে। মসজিদের ভেতর কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটেছে। পুলিশ এখনো হতাহত ব্যক্তির সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। এ ঘটনাকে ‘গুরুতর ঘটনা’ উল্লেখ করে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শহরের হাসপাতাল ও সব স্কুলে যে যেভাবে আছে সেভাবেই ভেতরে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাসিন্দাদের বাসা থেকে বের না হতে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে লোকজনকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।

ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসলিমদের ওপর হামলা চালানোর পরে কাছাকাছি শহরতলি লিনউডের মসজিদে হামলা চালানো হয়। তবে দ্বিতীয় মসজিদে হামলাকারী একই ব্যক্তি কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শী কারও কারও মতে, হামলাকারী একাধিক ছিলেন। হামলায় জড়িত সন্দেহে এক নারীসহ চারজনকে পুলিশ আটক করেছে। একটি গাড়িতে স্থাপন করা বিস্ফোরক উদ্ধার করে তা নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশ।

ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের পাশে অস্ট্রেলিয়াও নাম লিখালো

Now Reading
ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের পাশে অস্ট্রেলিয়াও নাম লিখালো

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচই হেরেছে ভারতের কাছে। তারপর সিরিজে ফিরে আসাটাই কঠিন, কিন্তু সিরিজ জয় লাভ করা অনেক কঠিন একটা কাজ। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া সেই অনেক কঠিন একটা কাজটাই করে দেখিয়েছে।

প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজটাকে প্রায় একপেশে বানিয়ে ফেলেছিল ভারত। তখন কেউ বুঝতে পারেনি কী ঝড় আসছে সামনে। তৃতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া জিতল তিনশোর্ধ্ব স্কোর গড়ে। আর চতুর্থ ম্যাচে তো সাড়ে তিনশোর্ধ্ব স্কোর তাড়া করে এল অবিস্মরণীয় জয়। সেই তুলনায় শেষ ম্যাচটা বেশ পানসে করেই হেরেছে ভারত। ২৯ ওভারের মধ্যে ১৩২ রান তুলতে ৬ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকেরা। এরপর বাকি ছিল আনুষ্ঠানিকতার লড়াইটুকু। কেদার যাদব ও ভুবনেশ্বর কুমার মিলে শেষ দিকে এ আনুষ্ঠানিকতায় কিছুটা উত্তেজনা ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাস গড়ার অপেক্ষাই শুধু বেড়েছে। ইতিহাস? হ্যাঁ, দারুণ এক ইতিহাস বৈকি। যেখানে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের নামও!
ওয়ানডেতে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জয়ের নজির খুব বেশি নেই। এর আগে দুটি দল মিলে মাত্র তিনবার এই নজির গড়েছে। ২০০৩ সালে পাকিস্তানের মাটিতে প্রথম তা করে দেখিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই বছর পর ঘরের মাঠে হাবিবুল বাশারের অধিনায়কত্বে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছিল বাংলাদেশ দল। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ দলের এ ঘুরে দাঁড়ানোর প্রায় এক যুগ পর ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে আবারও একই নজির গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। আর এবার নিজেদের ইতিহাসে প্রথম আর ওয়ানডে ইতিহাসের তৃতীয় দল হিসেবে তা করে দেখাল অস্ট্রেলিয়া। তবে সেটি শুধু পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে। ২০০৫ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ছয় ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর শেষ চার ম্যাচ জয়ের নজির গড়েছিল পাকিস্তান।
তবে ফিঞ্চের এই অস্ট্রেলিয়া একটি জায়গায় প্রথম—ভারতের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে এর আগে কোনো দলই প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জিততে পারেনি। ক্রিকেটের রসিক ভক্তরা ভাবতে পারেন, ওই বিজ্ঞাপনের পাল্টা জবাব হলো ভারতের বিপক্ষে ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার এই ‘কামব্যাক’ সিরিজ জয়। ঘরে কিংবা বাইরে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে এর আগে কখনোই প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর শেষ তিন ম্যাচ জিতে সিরিজ জিততে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর এর আগে শুধু একবারই ২-২ ব্যবধানে সমতায় ফিরে সিরিজের মীমাংসা শেষ ম্যাচ পর্যন্ত টানতে পেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেটি ২০০৬ দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে আলোচিত সেই সিরিজটি—যেখানে শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ৪ উইকেটে ৪৩৪ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়েছিল স্বাগতিকেরা।
ভারতের তারকাসমৃদ্ধ ব্যাটিং লাইন আপের সামনে ২৭২ রান খুব বেশি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু ১৩ ওভারের মধ্যে শিখর ধাওয়ান (১২) ও বিরাট কোহলির (২০) ফেরায় চাপে পড়া ভারতের মুঠো থেকে ধীরে ধীরে ম্যাচ বের করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। রোহিত শর্মা এক প্রান্তে ৫৬ রানের ইনিংস খেললেও ২৮.২ ওভারে তাঁকে গুগলিতে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন অ্যাডাম জাম্পা। একই ওভারের পঞ্চম বলে রবীন্দ্র জাদেজাকেও স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে অস্ট্রেলিয়ার জয়কে সময়ের ব্যাপারে পরিণত করেছিলেন এই লেগ স্পিনার। কেননা, ভারতের টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডার ততক্ষণে ড্রেসিং রুমে। ঋষভ পন্ত (১৬) ও বিজয় শংকররা (১৬) বিপদের সময় বুক চিতিয়ে লড়তে পারেননি। দলীয় ৬৮ রানে কোহলি ফেরার পর ৬৪ রান তুলতে ৪ উইকেট হারায় ভারত।
বুক চিতিয়ে লড়ার কাজটি করেছেন ছয়ে নামা কেদার ও আটে নামা ভুবনেশ্বর। ১০৩ বলে ৯১ রানের জুটি গড়েন দুজন। দল ২৫ বলে ৫০ রানের দূরত্বে থাকতে প্যাট কামিন্সের স্লোয়ারে উইকেট দেন ভুবনেশ্বর (৪৬)। পরের ওভারের প্রথম বলে কেদার যাদবকেও (৪৪) তুলে নেন অস্ট্রেলিয়ার আরেক পেসার ঝাই রিচার্ডসন। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভার ব্যাট করলেও আড়াই শ রানও তুলতে পারেনি ভারত। ৪৬ রানে ৩ উইকেট নেন জাম্পা।

শেন ওয়ার্ন এর চোখে স্মিথ-ওয়ার্নারই বিশ্বকাপ এনে দিতে পারে অস্ট্রেলিয়াকে

Now Reading
শেন ওয়ার্ন এর চোখে স্মিথ-ওয়ার্নারই বিশ্বকাপ এনে দিতে পারে অস্ট্রেলিয়াকে

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ সময় যাচ্ছে। একের পর এক ম্যাচ হার সাথে সিরিজ পরাজয়। তাছাড়া সামনে বিশ্বকাপ।

অনেকে মনে করছেন, দলের দুই তারকা স্টিভ স্মিথ আর ডেভিড ওয়ার্নারের নিষেধাজ্ঞার পর নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে সময় পার করছে অস্ট্রেলিয়া। পরাজয়ের ব্যর্থতায় রীতিমত ধুঁকছে তারা।

১ বছর ক্রিকেট নির্বাসন কাটিয়ে আবারও জাতীয় দলে ফিরতে যাচ্ছেন স্মিথ-ওয়ার্নার। আগামী মাসে নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে তাদের। আর দুই তারকার ফেরাতেই এবারও বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখছেন দেশটির কিংবদন্তি শেন ওয়ার্ন। তার মতে এই দুজনের ফেরা আবারও বদলে দিবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে। তাছাড়া গেলবারের মতো এবারও অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে বাজিমাত করবে বলে মনে করেন শেন ওয়ার্ন।
স্মিথ এবং ওয়ার্নারের নিজেদের নতুন ফেরার প্রমাণ দেওয়া তাগিদের কথা উল্লেখ করে শেন ওয়ার্ন বলেন,‘হ্যাঁ, এই দুজনেরই তাগিদ থাকবে নিজেদের প্রমাণ করার। আর সেই জন্যই অস্ট্রেলিয়াকে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দেখছি। তারা সোজা ঢুকে পড়বে দলে। নিজেদের দেখিয়ে দিতে মরিয়া থাকবে। প্রথম কয়েকটা ম্যাচে নার্ভাস থাকবে। সেটা তাদের জন্যই ভালো। আশা করছি, বরাবরের মতোই ওদের ধারাবাহিক দেখব।’
ফক্স স্পোর্টসকে ওয়ার্ন বলেন, ‘কখনো কখনো জোর করে কিছু বন্ধ করতে হয়, যেমনটা আমি করেছি। ১২ মাস আমাকে জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হয়েছে- যার অর্থ সত্যিকারার্থেই আপনি সতেজ হবেন।’ ‘আপনি মানসিকভাবে সতেজ থাকবেন, আপনি পুনরায় ক্ষুধার্ত বোধ করবেন এবং অনুধাবন করতে পারবেন ক্রিকেট আপনার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ন।’ ওয়ার্ন বলেন পুনরায় খেলতে নামার সময় উভয় খেলোয়াড়েরই ‘নিজদের প্রমানের লক্ষ্য থাকবে।’
সম্প্রতি ওয়ানডে ক্রিকেটে দল ভাল না করলেও তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ জিততে পারে।’ ‘তারা সরাসরি খেলতে নামবে, ক্ষুধার্ত থাকবে। প্রথম প্রথম কয়েক ম্যাচে তারা কিছুটা নার্ভাস থাকবে তবে সেটা তাদের জন্য ভাল হবে, তারা এক্সাইটেড থাকবে এবং আমি চাইব তারা সময়ের মতই ভাল খেলুক।’
অস্ট্রেলিয়া দলের নতুন সহকারী ব্যাটিং কোচ রিকি পন্টিংও স¤প্রতি একই মত প্রকাশ করেন। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে স্মিথ-ওয়ার্নার দুজনই আসন্ন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেলবেন বলে ধারনা করা হচ্ছে।
লিগামেন্ট সমস্যায় পড়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০ ক্রিকটে টুর্নামেন্টে থেকে ছিটকে পড়ার পর গত জানুয়ারীতে অস্ত্রোপচার করা স্মিথ গত সপ্তাহে নেট অনুশীলনে ফিরেছেন। একই টর্নামেন্টে ইনজুরি সমস্যা পড়েন ওয়ার্নারও। তবে তার ইনজুরি তুলনামুলক কম গুরুত্বপুর্ন। সুস্থ হয়ে ওঠা এ ব্যাটসম্যান চলতি সপ্তাহে নিজের ক্লাবের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে পারেন।
স্টিভ স্মিথ আর ডেভিড ওয়ার্নার দলে প্রবেশ করলে, আর অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ জিতলে অসভাবিক কিছু মনে হবে না।

অস্ট্রেলিয়ার বিদায় , সেমিতে বাংলাদেশ !

Now Reading
অস্ট্রেলিয়ার বিদায় , সেমিতে বাংলাদেশ !

আজ ১৬ কোটি মানুষের চোখ ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের দিকে । সবাই মনে প্রাণে দোয়া করছে ইংল্যান্ড যেন জিতে যায় । ইংল্যান্ড জিতে গেলে বাংলাদেশের সেমি ফাইনাল নিশ্চিত । আর যদি বৃষ্টি ও আসে তবুও বাংলাদেশের সেমি ফাইনালে খেলা নিশ্চিত । গত কালের অসাধারণ এক ম্যাচ জিতে সেমি ফাইনালের যাওয়ার সম্ভাবনা টিকিয়ে রেখেছ ।

এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে অভাগা দল অস্ট্রেলিয়া কে বলতে হয় । প্রথম ম্যাচ নিউজিল্যান্ড এর সাথে ১ পয়েন্ট ভাগ ভাগি করে নিতে হয় বৃষ্টির জন্য । সেই বৃষ্টি আবার হানা দিলো বাংলাদেশ দলের সাথে ম্যাচের সময় । সেই সুবাদে এবারো তারা পয়েন্ট ভাগ ভাগি করে নিতে হয় । আজকের ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে আসে অস্ট্রেলিয়া । আগের দুই ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ার কারণে এই ম্যাচ ছিল তাদের জন্য বাঁচা মরার লড়াই । শুরু থেকে অস্ট্রেলিয়া চাপে ছিল । উড ৭ তম ওভারে বল করতে আসেন ।ওভারের ২য় বলে ফিরে যান ওয়ার্নার । যখন হাত খুলে খেলতে যাবেন তখনি আউট হয়ে যান তিনি । আউট সাইডের বল এজ হয়ে যায় , সেই সাথে বলকে তালু বন্দি করতে ভুল করেনি বাটলার । ব্যক্তিগত ২১ রান ও দলীয় ৪০ রানের মাথায় হারায় ওয়ার্নার কে । সাময়িক ধাক্কা থেকে উঠে আসে অস্ট্রেলিয়া । মাঠে তখন নেমে আসেন স্মিথ । ক্রিজে থাকে ফিঞ্চের সাথে গড়ে তোলেন অসাধারণ জুটি । তারা দুই জন মিলে করেন ৯৬ রানের এক অনবদ্ধ রান । যার ফলে অস্ট্রেলিয়া এগোতে থাকে বড় সংগ্রহের দিকে ।তখনি তাদের জুটি কে ভেঙে দেন স্টোকস । নিজের ক্যারিয়ারের ৫০ তম উইকেটটি তুলে নেন ফিঞ্চ কে আউট করে । মিড অফ এর দিকে ব্যাট উঁচু করে খেলতে গিয়ে ধরা পড়েন অধিনায়ক মরগ্যান এর হাতে । কভার থেকে দৌড়ে এসে ক্যাচ লুফে নেন তিনি । ফিঞ্চ এর তখন ৬৮ রান । তার দুই জন দলকে সুবিধা মতো জায়গায় নিয়ে আসে । যেভাবে দল এগিয়ে যাচ্ছিলো মনে হচ্ছিলো তাদের মোট রান ৩০০ ছাড়িয়ে যাবে । কিন্তু ইংল্যান্ড এর নিয়ন্ত্রিত বোলিং এর কারণে পারেনি । বরং দলীয় ১৬৩ রানের মাথায় আউট হয়ে যান হেনরিকেস । রাশিদ খুব ভালো একটি বলে তিনি আউট হয়ে যান । রাশিদ এর গুগলি বল তিনি বুঝে উঠতে পারেননি । বড় শর্ট খেলতে গিয়ে বল ব্যাটের উপরে লেগে মিড অন এর দিকে চলে যায় । আর এই সহজ ক্যাচ ধরেন প্লাঙ্কেট । এই বিপদের সময় দলকে আরো বিপদে রেখে ফিরে যান স্মিথ । উড এর স্ট্যাম্প এর বাহিরের বল ড্রাইভ খেলতে গিয়ে কভার ড্রাইভে আউট হয়ে যান তিনি । দলের এই মুহূর্তে তার দরকার ছিল , যেন দলকে আরো বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যেতে পারে কিন্তু তিনি তার দায়িত্বে সফল ভাবে পালন করতে পারেননি । দলের তখন ১৮১ রানে ৪ উইকেট । এমন অবস্থায় মাঠে নামেন ম্যাক্সওয়েল । হেড কে নিয়ে খুব ভালো খেলছিলেন ম্যাক্সওয়েল । কিন্তু আবারও উড আঘাত হানে অস্ট্রেলিয়ার দলে। উড এর বল পুল করে দেন তিনি । ছয় হয়ে যাবে ঠিক এমন অবস্থা বলকে তালু বন্দি করেন রয় । সেই সাথে থেমে যায় অস্ট্রেলিয়ার রানের চাকা । উড এর পরের ওভারে বল করতে আসেন রাশিদ । এক ওভারে দুই উইকেট তুলে নেন তিনি ।দুই ব্যাটসম্যান প্রায় একই শর্ট খেলতে গিয়ে আউট হয়ে যান । রশিদের গুগলি তাদের জন্য মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়ায় । এর পর আর কেউ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে । আসা যাওয়া মিছিলের মধ্যে । শুধু শেষের দিকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যক্তিগত ৭১ রানে অপরাজিত থেকে দলকে এনে দেয় সুবিধা জনক স্থানে । অস্ট্রেলিয়ার তখন ২৭৭ রান ।

ইংল্যান্ড এর জন্য ২৭৭ রান যে বিশাল না তা খেলতে নেমে প্রথম বলে প্রমাণ করে দেন রয় । প্রথম বলে ৪ মেরে শুরু করেন । কিন্তু তখন ইংল্যান্ডের আকাশে মেঘ সরে যায়নি । প্রথম ওভারের ২য় বলে স্ট্রেস এর বলে ফিরে যান রয় । এলবিডব্লিউ এর ফাঁদে পড়েন তিনি । পরের ওভারে আবার আঘাত হানে হাজলেউড । দলীয় ৬ রানে নেই ইংল্যান্ডের দুই ব্যাটসম্যান । অফ স্ট্যাম্পের বাহিরের বল হুক করতে যান তিনি , কিন্তু টাইমিং ঠিক না থাকার কারণে এজ হয়ে ফিরে যান তিনি । দল তখন ভীষণ চাপে । এর থেকেও বেশি চাপে মনে হয় বাংলাদেশের দর্শক ।ইংল্যান্ডের হারের সাথে সাথে বিদায় নিবে বাংলাদেশ । এই শঙ্কা যেন আরো প্রকট করে তোলে ৰূট । দলীয় ৩৩ রানে নেই ইংল্যান্ডের উপরের সারির তিন ব্যাটসম্যান ।

এর পর শুরু হয় মরগ্যান আর স্টোকস এর খেলা । তাদের ব্যাটিং এ ভর করে ইংল্যান্ড পেয়ে যায় জয়ের সুবাস । তারা ৩৩ রান থেকে টেনে নিয়ে যায় ১৯৫ রান পর্যন্ত । এই নিরবিচ্ছন্ন রানের সুবাদে ইংল্যান্ডের জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় । আর সেই সাথে বাংলাদেশের সেমি ফাইনালে খেলাও অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় । মরগ্যান তার ব্যক্তিগত ৮৭ রানে ফিরে যান । অপর প্রান্ত ধরে রাখেন স্টোক । মাঠে নাম বাটলার । বাটলার কে নিয়ে আবার নতুন পার্টনারশিপ করেন স্টোক । দলীয় ২৪০ রানে হানা দেয় বৃষ্টি । কিন্তু তখন ইংল্যান্ড এর জয় প্রায় নিশ্চিত । ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে অস্ট্রেলিয়া কে হারায় ৪০ রানে ।

আর সেই সুবাদে বাংলাদেশ উঠে যায় সেমি ফাইনালে । গ্রুপ ‘এ’ থেকে খেলবে ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশ । দীর্ঘ ১১ বছর পর বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তে ফিরে সুযোগ পেয়ে গেলো সেমি ফাইনালে ।

বাংলাদেশের জন্য রইলো শুভ কামনা । সেই সাথে ইংল্যান্ড দলকেও জানাই অভিনন্দন ।

Page Sidebar