বিশ্বকাপ ফুটবল-আবেগ…. সাপোর্ট নাকি বাড়াবাড়ি?

Now Reading
বিশ্বকাপ ফুটবল-আবেগ…. সাপোর্ট নাকি বাড়াবাড়ি?

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই চার বছর পর পর সবার মাঝে এক ধরনের উত্তেজনা কাজ করা।আর এ জন্যই একে “গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ” বলা হয়।

৯০ মিনিটের এ খেলা প্রচলিত আছে শত বছর ধরে।আর তা একে নিয়ে আবেগটাও কম নয় মানুষের।আর যদি বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে বলতে হয় তবে নিজ দেশের নাম আগে চলে আসে।আর নামটা আসে ফেভারিট টিম নিয়ে অবশ্যই নয়।বরং পাগল সাপোর্টার নিয়ে।আজ যদি সাপোর্ট এর দিক দিয়ে বিবেচনা করা হয় তবে আমার মনে হয় বাংলাদেশ সেরা পাচঁ এ জায়গা করে নিতেই পারে।কারণগুলো খুবই সহজঃ

১।বিশ্বে জার্মানির সবচেয়ে বড় পতাকা তৈরি হয়েছে এ দেশেরই এক কৃষক দ্বারা ।
২।নিজের জমি বিক্রি করে অন্য দেশের পতাকা বানানো লো আমাদের দেশেরই।
৩।খেলার ফলাফল নিয়ে রাইভেলসদের ফ্যানদের মাঝে এ বিশ্বকাপে মারামারি হয় এ দেশেই।
৪।নিজের সাপোর্ট করা দল হেরে গেলে বা বাদ পড়ে গেলে নিজের প্রাণটা সহজেই দিতে পারে এ দেশেরই কিছু মানুষ।
৫।দল হারলে আবেগে সারাক্ষণ কাদঁতে পারে এ দেশের মানুষ।
৬।অন্য দেশকে সাপোর্ট করতে প্রতিটি বাড়িতে কোনো না কোনো দেশের পতাকা দেখা যাবেই এ দেশে।
৭।ফ্যানসদের নানান কীর্তিকলাপে ব্যস্ত থাকে সামাজিক যোগাযোগ থেকে বাস্তবিক যোগাযোগ।

আরো নানান কারণে আমরা সেরা সাপোর্টার হিসেবে টপে থাকতেই পারি।যতটা অন্য দেশকে সাপোর্ট এর দিক থেকে এগিয়ে রয়েছি ঠিক ততটাই পিছিয়ে এ দেশের জাতীয় দল।ফুটবল খেললেও তাদের নেই কোনো প্যাশন ।এ যেন জীবিকার তাগিদে আট দশটা কাজের মতোই করে তারা।আর তার ফলাফল দেখিতে ফিফার র‍্যাঙ্কিং এর তলানিতে যেতে হবে আপনাকে।একদম শেষে তাকাবেন।খুব কম কষ্টতেই পেয়ে যাবেন মাতৃভুমিকে রিপ্রেজেন্ট করা দলটিকে।যদিও আরো বড় খবর তিন বছরের নিষেধাজ্ঞায় আছে জাতীয় দল।সর্বনিম্ন ম্যাচও জিততে না পারায় এ শাস্তি ।যা খুব আরামেই উপভোগ করছে সবাই।যদিও আমার কাছে এটা অপমানের।তিন বছর আগে র‍্যাঙ্কিং এ আমাদের সাথে থাকা পাশের দেশ ভারত আজ সেরা ১০০ দলের একটি।এত কম সময়ে তাদের উন্নতি সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।তাদের চিন্তা ভাবনাই তাদের ২০২২ সালে বিশ্বকাপ খেলায় চান্স এনে দিতে পারে বলে আশা করছে তারা।তবে আমি বলে রাখতে পারি ২০২২ না হলেও ২০১৬ সালের বিশ্বকাপ অবশ্যই খেলবে ভারত।কারণ তারা জানে, কেবল অন্য দেশকে সাপোর্ট করলেই নয়।এমনই ন কিছু করতে হবে যেন অন্যের কাছে না যেতে হয়

ভারতেও আমাদের দেশের মতো অনেক পাগল ফ্যান রয়েছে ফুটবলের।তবে আমার কাছে আমরা তাদের থেকে একটু হলেও এগিয়ে আছি।আর তা কেবল এ বিশ্বকাপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ।এরপর আসল সাপোর্টার মানে ফুটবলের আসল সাপোর্টার খুব কমই পাওয়া যাবে বলে আমি আশাবাদী ।”খালি কলসি বাজে বেশি” এ কথার পুরো সত্যতা আমাদের মাঝেই বলতে পারেন।

পুরো সাড়ে তিনটি বছর ফুটবলের কোনো খবর নেই কিন্তু আর পিতৃ বা কোনো এক সূত্রে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার সাপোর্টার হয়ে বনে যান ফুটবলের সবজান্তা।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গঠনমূলক সমালোচনা বা যে কোনো ধরনের ফুটবল বিষয়ক বিষয়ে করে বসেন যত ধরনের আবেগী কমেন্ট ।অনেকে রেগে মনের ডিকশনারি থেকে গালাগালির ভান্ডারটা বের করে প্রয়োগ করে দেন অন্যের উপর।এ কেমন বাড়াবাড়ি?

দল হেরে বাদ নিয়েছে।ফেভারিট প্লেয়ার খারাপ খেলছে।আবেগে নিজের প্রাণটাকে দড়ির সাথে ঝুলিয়ে শেষ করে দেয়ার মতো সহজ কিন্তু পাপের কাজ করতে পিছপা হতে ভয় পাইনা আমরা।হ্যাঁ এই আমরা যারা দেশের জন্য বা দেশের স্বার্থের জন্য প্রাণ দিতে পারবো কিনা এখন একাত্তরের মতো তা জানিনা তবে অন্য কোনো দেশের ফুটবল দলের জন্য দিয়ে দিতে পারি।

সারা বছর নানান দেশে নানান ফুটবলের লীগ বা টুর্নামেন্ট চলে।সেগুলোর কোনো ম্যাচই দেখা হয়না অথচ বিশ্বকাপ এলেই যেন লোকের এসব লীগ পকেটে চলে যায়।মানে এগুলা ব্যাপার না।বিশ্বকাপে দল সাপোর্ট করবো।আর দল নিয়ে কেউ কিছু করলে তাকে গালি দেবো,নিজের প্রাণ দিয়ে দেবো,মিষ্টি বিতরণ করবো আরো কত কি।

পরিশেষে অনেক কিছুই বলতে চাই।চার বছর পর পর আসে এ টুর্নামেন্ট।খেলে বিশ্বের বাঘা বাঘা দলগুলো।আর এ শুধু দল নয় পুরো জাতীয় দল।আপনি সাপোর্ট করতেই পারেন যে কোনো দলকে।কিন্তু আপনার আমার এটাও মনে রাখতে হবে যাদের জন্যে আমরা এতোকিছু করি তারা আমাদের বলতে গেলে চেনেই না।তাদের আমাদের নিয়ে অত মাথাব্যাথা নেই।তারা কেবল তাদের নিজ দেশের জন্য খেলে।আর ফ্যানদের আনন্দ দিতে খেলে।এর বেশি হলে টাকা পায় তারা আর কিছুই নেই।

আর সেখানে আমরা তাদের জন্য নিজের জমি বিক্রি করি।পরিচিতদের সাথে অনেক সময় ঝগড়া করে ফেলি।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একে অপরের সাথে খারাপ আচরণ করি।নিজের মহামূল্যবান জীবনটা বিলিয়ে দেই কাদের জন্য?ওই দলের জন্য যারা আমাদের নিয়ে জানে না অনেক কিছুই।যারা জানে না আমরা কতটা পাগল বলে এমন করি।তারা জানে না আমরা নিজেদের মাঝে বিবাদে জড়াই তাদের নিয়ে।

আমাদের উচিত নিজেদের মাঝে ফুটবল নিয়ে বা খেলাধুলা নিয়ে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করা।খেলাধুলা কেবল বিনোদনেরই একটি অংশ।এর চেয়ে বেশি কিছু তা হতে পারে না।আর এ বিনোদনের অংশকে নিয়ে এমন কর্মকাণ্ড সত্যিই হাস্যকর।নিজের দলকে মন দিয়ে সাপোর্ট করলে এমনটা হয়না।ফুটবলকে সাপোর্ট করলে এমন কাজ করার প্রশ্নই আসে না।কারণ ফুটবল তার সাপোর্টারদের আক্রমণাত্মক হতে শেখায় না।ফুটবল মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়।আপনি কোনো দলের জন্য প্রাণ দিচ্ছেন,জমি বিক্রি করছে বা যা যা বিরাট কাজ করছেন সাপোর্ট এর নামে তা আপনার ফেভারিট দল জানলেও অবাকের আগে লজ্জা পাবে বা হাসবে।আর প্রাণ দিয়ে দিয়েছেন জানলে তারা নিজেদেরকেই অপরাধী ভাবতে পারে।তার আর বাড়াবাড়ি নয়।

ভালোবাসুন কেবল ফুটবলকে,
তবেই ভালোবাসতে পারবেন সবকিছুকে।

ভালবাসার প্রকারভেদ

Now Reading
ভালবাসার প্রকারভেদ

আজ আমাদের ভালবাসা বন্দি হয়ে গিয়েছে কিছু যন্ত্রের মাঝে । এখন আর আগের মতো আবেগ কাজ করে না মানুষের মধ্যে । কিছু সান্তনার বাণী দিয়ে আমাদের কাজ শেষ । আমরা যত বেশি আধুনিক হচ্ছি আমাদের আবেগ মমতা ততটা কমে যাচ্ছে ।

আমি আসলে কাউকে কষ্ট দেয়ার জন্য কথা গুলো বলছি না । কিছু কিছু সময় আমাদের বাস্তবতার কাছে হার মেনে আবেগ কে বস্তা বন্দি করে রাখতে হয় , আবার কিছু কিছু সময় যন্ত্রের মাধ্যমে কিছু কথা বলে আবেগ কে সীমাবদ্ধ রাখছি । দুইটি উদাহরণ দিলে সব কিছু ক্লিয়ার হয়ে যাবে ।

প্রথম ঘটনা রিফাতের সাথে ঘটে ছিল । বাস্তবতার কাছে হার মেনে সংসারের হাল ধরার জন্য পারি জমায় কুয়েতে । ঘরে রেখে যায় মা বাবা আর ছোট দুই ভাই কে । ঘরের বড় ছেলে হবার দরুন তাকে বিদেশে কাজ করতে যেতে হয় । প্রথম দিকে তার খুব কষ্ট হতো বিদেশ থাকতে । শুধু মা, বাবার কথা মনে পড়তো আর দেশের ভাষা , মাটি পরিবেশ সব কিছু মিস করতো । খুব কষ্ট করে নিজেকে মানিয়ে নেয় সেখানে । প্রতিমাসে ৩৫০০০ হাজার টাকা বেতন পেলে নিজের জন্য কিছু টাকা রেখে বাকি সব টাকা দেশে পাঠিয়ে দেয় । যাতে করে মা বাবা খুব ভাল থাকতে পারে আর ছোট দুই ভাইয়ের লেখা পড়া বন্ধ হয়ে না যায় । প্রথম তিন বছর যাওয়ার পর বাংলাদেশে আসে ২ মাসের ছুটিতে । দেশে এসে বিয়ে করেন । খুব ভাল সময় কাটছিলো রিফাতের । যখন তার যাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসলো তখন তার বাবা কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়লো । এইদিকে তার যাওয়ার সময় হয়ে গেলো । না গিয়েও পারবে না কারণ এখন যদি না যায় তাহলে তার ভিসা বাতিল করে দিবে । বাধ্য হয়ে নিজের মনে পাথর বেঁধে চলে গেলো কুয়েত । মাস খানিক যাওয়ার পর খবর আসলো তার স্ত্রী প্যাগনেট । খুশির সাথে আরেকটি খারাপ খবর হলো তার বাবার অবস্থা ভাল না । তার এক সপ্তাহ পর খবর আসলো তারা বাবা আর নেই । কিন্তু রিফাত সাহেবের কিছুই করার নেই । কারণ তিনি তাইলেই এখন বাংলাদেশে আসতে পারবে না । কারণ তিনি মাত্র দেড় মাস আগে বাংলাদেশ থেকে ছুটি কাটিয়ে এসেছেন । তার পরেও মালিকে বললো কিছু কাজের কাজ কিছুই হলো না । ছুটি পেলো না । নির্ঘুম কিছু রাত কাটিয়ে চোখের জলে ভাসিয়ে দিলো নিজের মাথার নিচের বালিশ টা । শুধু মনে পড়ছিলো যখন তিনি খেতে পারতেন না তখন তার বাবা ভাত খাওয়া অবস্থায় থাকলে , সেই ভাত রেখে উঠে যেতেন আর ছেলের পছন্দ মতো খাবার নিয়ে আসতেন । রিফাত সাহেবকে নিজ হাত ধরে সাঁতার শিখিয়েছেন তার বাবা । আজ সেই বাবা মারা গেলো কিন্তু ইচ্ছা থাকা শর্তেও যেতে পারলেন না তিনি । নিজের আবেগ কষ্ট কে সব বালিশের নিচে চাপা দিয়ে পরের দিন কাজে লেগে গেলেন । কয়েক মাস পর খবর আসলো তিনি কন্যা সন্তানের বাবা হয়েছেন । হলে কি হবে কিছুই করার নেই । নিজের খুশি কে ইমো এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন । এই হলো বাস্তবতা আর আবেগকে বস্তায় বন্দি রাখা ।

প্রবাস

প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক

দ্বিতীয় গল্প – হানিফ সাহেব অনেক বড় একজন ব্যবসায়ী । সারা দিন ব্যবসা নিয়ে পরে থাকেন । এমনকি ব্যবসা এর কাজে বাহিরের দেশে গিয়ে বেশ কয়েক মাস তাকে থাকতে হয় । আর হানিফ সাহেবের স্ত্রী রিমা । নিজে একজন গৃহিনী হলেও দিনের বেশির ভাগ সময় একটি স্কুল স্টুডেন্ট পড়িয়ে তার সময় কাটে । তাদের একমাত্র ছেলে আরিফ । ছেলে সারাদিন ঘরের বুয়ার কাছে থাকে । যত টুকু সময় পায় হানিফ ও রিমা বেগম ততটুকু সময় তারা বিশ্রাম করে কাটিয়ে দেন । ছেলেকে সময় দেয়ার মতো সময় ও তাদের কাছে নাই । কিন্তু ছেলের কোনো অভাব রাখেনি । যখন যা লেগেছে দিয়েছে । শুধু দিতে পারেনি মা বাবার ভালবাসা আর স্নেহ । রিমা বেগম স্কুল শিখিয়ে থাকে কিভাবে নিজেদের মধ্যে নীতিগত মূলোবোধ তৈরী করতে হয় , কিন্তু আজ তাদের মধ্যে এই জিনিসটার বড় অভাব । বুয়ার কাছে বড় হতে থাকে তাদের আদরের সন্তান । একসময় স্কুল , কলেজ পেরিয়ে লেখা পরের জীবন চুকিয়ে বাবার ব্যবসায় হাত দেন আরিফ । বাবা ততদিনে ব্যবসা থেকে অবসর নিয়েছে ছেলের হাতে দায়িত্ব দিয়ে । কিছু দিন পর বিয়ে করে তাদের সমাজের এক বড় লোকের মেয়ে কে । বয়স বারার সাথে সাথে রিমা ও হানিফ সাহেবের শরীরে বাসা বাধে বিভিন্ন রোগ । আর এই সব এর জন্য ছেলের বৌ এর কাছে অসহ্য হয়ে ওঠে তারা ।এ নিয়ে প্রতিদিন আরিফ এর সাথে জগড়া হয়ে । একদিন আরিফ সিদ্ধান্ত নেয় সে তার মা বাবা কে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসবে । মা বাবা অনেক কাকুতি মিনুতি করার পরেও ছেলের মনে একটুও ময় জন্ম নিলো । নিবেই বা কিভাবে । ছোট থেকে তো মা বাবার ভালবাসা বা তাদের প্রতি কি কতব্য টা কাজের বুয়া শিখায়নি । জোর করে মা বাবা কে রেখে আসে বৃদ্ধাশ্রমে । আর প্রতি বছর মা দিবস বা বাবা দিবস আসলে লিখে আমি তোমাকে আমি অনেক ভালোবাসি । তুমি কষ্ট করে আমাকে গর্বে ধরেছো । বাবা অনেক কষ্ট করে টাকা কামিয়েছি তাই আজ আমি রাজার হলে ।

বৃদ্ধাশ্রম

বৃদ্ধাশ্রম এক বাবা

আর ফেইসবুক স্টেটাস লিখে সবাই কে মা দিবসের শুভেচ্ছা ।সবাই তাদের মা বাবার প্রতি যত্ন নিবেন । আজ আমি গিয়েছিলাম একটি বৃদ্ধাশ্রমে . দেখে আসলাম কিছু মায়ার চোখের পানি । প্লীজ আপনারা এই রকম আর কেউ করবেন না।

এই হলো আরিফ এর মতো কিছু দেখানো আবেগ এর যন্ত্রের আবেগ । একটা পোস্ট দিয়ে অনেক মানুষের বাহাবা পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ।

আমি বলছি না যন্ত্রের ব্যবহার করতে না কিন্তু সব কিছুর উর্ধে আমাদের ভালবাসা কে পিওর রাখা উচিত । শুধু ভালবাসা ভালবাসা দিবনের মধ্যে বা কোনো দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয় । ভরে যাক ভালবাসা দিয়ে আমারে এই ধরণী ।