সিরিয়ার সব অঞ্চল থেকে আইএস (ইসলামিক স্টেট) সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে

Now Reading
সিরিয়ার সব অঞ্চল থেকে আইএস (ইসলামিক স্টেট) সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে

আইএস (ইসলামিক স্টেট) থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়েছে সিরিয়া। এখন সিরিয়ার সব অঞ্চল থেকে আইএস (ইসলামিক স্টেট) সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস। এর পক্ষে সাংবাদিকদের সামনে প্রমাণও তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট’র।
শুক্রবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সামনে আগের এবং বর্তমানের দুটি মানচিত্র তুলে ধরেন ট্রাম্প। ওই দুটি মানচিত্রে দেখা গেছে, আগে সিরিয়াজুড়ে আইএসের আধিপত্য থাকলেও এখন তা একেবারেই নেই।
এসময় ট্রাম্প বলেন, যদি আপনারা দেখেন- ‘এই হলো আইএস। গতরাত পর্যন্ত অবস্থা হলো এই। বর্তমানে আমাদের কাছে যা আছে তা হলো এটা।’ এর আগে বুধবারও এ ধরনের মানচিত্র দেখিয়েছিলেন ট্রাম্প।
মানচিত্র নিয়ে ছবি তোলার পর ট্রাম্প মানচিত্র দুটি একজন সাংবাদিকের হাতে তুলে দেন। এরপর বলেন, আপনারা এই মানচিত্র দুটি নিতে পারেন। অভিনন্দন, আপনারা এগুলো প্রচার করতে পারেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ায় আইএসের দৌরাত্ম্য আগের চেয়ে কমলেও এখনও তারা আছে। পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন গুহায় লুকিয়ে আছে তারা। অবশ্য এরই মধ্যে ট্রাম্প আইএস সম্পূর্ণ নির্মূলের ঘোষণা দিয়েছেন।

নিউইয়র্কে মিটার পার্কিং নিয়ে বাড়ছে বিড়ম্বনা, সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা

Now Reading
নিউইয়র্কে মিটার পার্কিং নিয়ে বাড়ছে বিড়ম্বনা, সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা

আমেরিকায় গাড়ি কোনো বিলাসী বাহন নয়। গাড়ি এখানকার অনেক মানুষেরই চলাচলের অপরিহার্য বাহন। প্রতিদিনের কাজকর্ম সম্পাদন, সপ্তাহের ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে বেড়ানো থেকে শুরু করে সংসারের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতেও গাড়ি নিয়ে চলাচল করতে হয়। সুপার মার্কেট, শপিং সেন্টার ছাড়া গ্রোসারি বা রেস্তোরাঁয় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকে না অনেক ক্ষেত্রেই। ফলে সড়কপথে মিটার পার্কিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।

আর তাই নিউইয়র্কে মিটার পার্কিং নিয়ে বিড়ম্বনা বাড়ছে। সামান্য অসতর্কতার জন্য গুনতে হচ্ছে কড়া মাশুল। নগরীর মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসছে শুধু এই পার্কিং জরিমানা থেকে। এ ক্ষেত্রে মিটার পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক ক্ষেত্রেই সড়কপাশের পার্কিং নির্দেশনা ঠিকমতো না দেখেই অনেকেই গাড়ি পার্ক করেন। এ কারণে বড় অঙ্কের জরিমানাও গুনতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। এ ক্ষেত্রে পার্কিং স্থান নিয়ে নির্দেশনাগুলোয় বিদ্যমান অস্পষ্টতাও কিছুটা দায়ী। তবে গাড়ি পার্ক করার সময় সংশ্লিষ্ট স্থানের পার্কিং নির্দেশনা ঠিকমতো পাঠ না করাকেই বড় কারণ হিসেবে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অনেক এলাকায় সপ্তাহের শনিবার ও রোববার ফ্রি মিটার পার্কিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। আবার কোনো কোনো এলাকায় সপ্তাহের সাত দিনই মিটার পার্কিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট ফি দিতে হয়। অনেকে শনিবার ও রোববার ফ্রি মিটার পার্কিং ভেবে বেখেয়ালে গাড়ি পার্ক করে চলে যান। ফিরে এসে দেখেন লাল-গোলাপি রঙের পার্কিং জরিমানার খাম ঝুলে রয়েছে গাড়ির গায়ে।

নিউইয়র্কে ইদানীং পার্কিং জরিমানার হার বেড়েছে। নিউইয়র্ক নগরীর প্রতিটি এলাকায় সিটির নিয়োগ করা শত শত ট্রাফিক এজেন্ট টহল দিচ্ছে। এজেন্টদের কাজই হচ্ছে জরিমানার টিকিটটি লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট গাড়ির গায়ে সেঁটে দেওয়া। প্রযুক্তির সহায়তায় স্ক্যান মেশিনের মাধ্যমে গাড়ির নিবন্ধন স্ক্যান করে রাখেন ট্রাফিক এজেন্টরা। এ সময় যদি টিকিট লেখা সম্ভব নাও হয়, তাতেও সমস্যা নেই। কারণ স্ক্যান হয়ে গেছে। যেকোনো সময় সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের কাছ থেকে জরিমানার অর্থ আদায় করা তাদের পক্ষে সম্ভব।

ইউরোপীয় দেশে ভ্রমন করতে হলে আমেরিকান ভ্রমণকারীদের একটি নতুন ধরনের ভিসার প্রয়োজন হবে

Now Reading
ইউরোপীয় দেশে ভ্রমন করতে হলে আমেরিকান ভ্রমণকারীদের একটি নতুন ধরনের ভিসার প্রয়োজন হবে

ইউরোপীয় দেশে আমেরিকান ভ্রমণকারীদের একটি নতুন ধরনের ভিসার প্রয়োজন হবে। মার্কিন নাগরিকেরা এত দিন ভিসা ছাড়াই ইউরোপ ভ্রমণ করতেন। ২০২১ সাল থেকে কার্যকর হবে আমেরিকানদের জন্য ইউরোপের ভিসা ব্যবস্থা। কিছু নিয়ম মেনে সহজেই এই ভিসা পাওয়া যাবে।

নতুন ধরনের এই ভিসার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ভ্রমণ তথ্য ও অনুমোদন সিস্টেম বা ইটিআইএএস। ইউরোপীয় এলাকার নিরাপত্তার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ২৬টি ইউরোপীয় দেশ নিয়ে শেনজেন এলাকা। ইউরোপের এই অঞ্চলগুলোতে কোনো অভ্যন্তরীণ সীমানা প্রাচীর নেই। স্পেন, ফ্রান্স, গ্রিস, জার্মানি, ইতালি ও পোল্যান্ডের মতো দেশ তাদের জনগণকে মুক্ত ভাবে চলার অনুমতি দেয়। বর্তমানে আমেরিকার নাগরিকেরা ভিসা ছাড়াই তিন মাস ইউরোপ ভ্রমণে যেতে পারে।

ইউর (EU) মতে, শেনজেন ভিসার জন্য আবেদন করতে মার্কিন নাগরিকদের বৈধ পাসপোর্ট, একটি ই–মেইল অ্যাকাউন্ট ও ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড প্রয়োজন হবে। এই ভিসা হবে তিন বছরের জন্য এবং আমেরিকানরা যতবার প্রয়োজন শেনজেন এলাকায় ভ্রমণ করতে পারবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, অবৈধ অভিবাসন ও সন্ত্রাসবাদের সমস্যা এড়াতে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় তাদের পার্লামেন্ট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও সাইপ্রাসের মতো দেশের বাসিন্দাদের তারা ভিসা ছাড়াই প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকের ওপর ভিসার শর্ত আরোপ করা হলো।

ডেমোক্রেটিক দলের কাছে হাজারো প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

Now Reading
ডেমোক্রেটিক দলের কাছে হাজারো প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

রাজনৈতিকভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিপাকে থাকলেও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর আরেক দফা নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা এখনো উজ্জ্বল। আমেরিকার আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে একে একে সরে দাঁড়াচ্ছেন সব তারকা প্রার্থীরা। হিলারি ক্লিনটন থেকে শুরু করে নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা নির্বাচন করবেন না। সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এরিখ হোল্ডার, সিনেটর জেফ মাররকেলির মতো আমেরিকাজুড়ে পরিচিত নেতাদের সরে যাওয়ায় এখনই উদ্বেগ শুরু হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফা নির্বাচন ঠেকাতে ডেমোক্র্যাটদের প্রস্তুতি ও প্রার্থিতা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।
গত নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের ভিন্ন ধারার প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্স এবারও নির্বাচনে আছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর পক্ষে তোড়জোড় চলছে। তহবিলের অবস্থাও ভালো। নিজেকে সমাজতন্ত্রী পরিচয় দেওয়া বার্নি স্যান্ডার্স তরুণ ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে গত নির্বাচনেও জনপ্রিয় ছিলেন; এবারও থাকবেন। তবে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে থামাতে পারবেন বলে দলের সমর্থকেরাও মনে করেন না। এদিকে আমেরিকার রাজনীতিতে ক্যারিশমাটিক নেতা হিসেবে পরিচিত ধনকুবের মাইকেল ব্লুমবার্গ প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ালেও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঠেকানোর জন্য ডেমোক্র্যাটদের উদ্দেশে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। ডেমোক্রেটিক দলে অতি বাম ও অতি উদারনৈতিকদের উত্থান জাতীয়ভাবে ডেমোক্র্যাটদের জন্য হুমকির কারণ হতে পারে বলে মনে করেন মাইকেল ব্লুমবার্গ।

বাকি আছেন একজন ডেমোক্র্যাট তারকা নেতা। তিনি সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তাঁকে নিয়ে আলোচনা চলছে এখন। নিজের ছেলের অকাল মৃত্যুর শোকের কারণে গত নির্বাচনে জো বাইডেন প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ান। ডেমোক্রেটিক দলে মধ্যপন্থী হিসেবে পরিচিত জো বাইডেনকে নিয়ে আশাবাদী অনেক ডেমোক্র্যাট।
হিলারি ক্লিনটন আগামী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অনেকটা বিদ্রূপ করে টুইটার পোস্টে লিখেছেন, ‘তাহলে আমাকে হোয়াইট হাউসের জন্য “ক্রুক” হিলারির সঙ্গে লড়তে হবে না! তাঁকে খুব মিস করব!’
এদিকে জো বাইডেন এখনো ঘোষণা করেননি তিনি কী করবেন। তাঁর দিকে চেয়ে আছেন বহু সমর্থক। সমর্থকদের একটি বড় অংশ শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে নিউইয়র্ক নগরীর সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গের দিকে তাকিয়ে ছিল। স্বচ্ছ রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও ধনকুবের হওয়ায় তাঁর নির্বাচনী তহবিল নিয়েও এক ধরনের নিশ্চয়তা ছিল। নিজের অর্থ থেকে অন্তত ১০ কোটি ডলার নির্বাচনী প্রচারে ব্যয় করার কথা এসেছিল মার্কিন সংবাদমাধ্যমে। কিন্তু ৫ মার্চ মাইকেল ব্লুমবার্গ জানিয়ে দেন, তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়াবেন না। হোয়াইট হাউসে না গিয়েও দেশের সেবা করা যাবে। একই সঙ্গে আমেরিকায় পরিবেশবান্ধব জ্বালানির নিশ্চয়তার জন্য নিজের সময় ও অর্থ ব্যয় করার কথাও বলেছেন তিনি। ব্লুমবার্গে লেখা মন্তব্য প্রতিবেদনে তিনি পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঠেকাতে কাজ করবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে বলেছেন, ডেমোক্রেটিক দলের অনেকেই প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন। ফলে বাছাই পর্বে তাঁর উতরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি নিঃশংসয় নন। বামপন্থীদের জন্য চূড়ান্ত প্রার্থিতা পাওয়া কঠিন হবে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেছেন, বাছাই পর্বে ডেমোক্রেটিক দল যদি অতি উদারনৈতিকতায় ডুবে যায়, তাহলে তা মূল নির্বাচনে বিপর্যয় নিয়ে আসবে। এই একই বিষয়ে অবশ্য মাইকেল ব্লুমবার্গের সঙ্গে অনেক ঘাগু ডেমোক্র্যাট নেতাও একমত।

নির্বচনে নিজেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও আগামী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঠেকাতে সক্রিয় থাকবেন হিলারি ক্লিনটন, মাইকেল ব্লুমবার্গের মতো রাজনীতিবিদরা। যদিও তাঁদের এ সক্রিয় বিরোধিতা ট্রাম্পকে দমাতে কতটা সহায়ক হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ভালো নেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও যে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে তিনি গত নির্বাচনে পার পেয়েছেন, তাঁর সে ভিত্তি এখনো বেশ শক্ত। একের পর এক খেয়ালি আচরণ করেও তিনি টিকে আছেন। ছেড়ে যায়নি সমর্থকেরা। এখনো রিপাবলিকান দলে ডোনাল্ড ট্রাম্পই জনপ্রিয়। বিশেষত শ্বেতাঙ্গ সমর্থকদের কাছে তাঁর জনপ্রিয়তা এখনো তুঙ্গস্পর্শী। যদিও কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা যে হারে তদন্ত শুরু করেছেন, তা প্রেসিডেন্টের জন্য শিরপীড়ার কারণ হয়ে উঠেছে। যত দিন রিপাবলিকান পার্টির হাতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ছিল, তারা আপ্রাণ চেষ্টা করেছে প্রেসিডেন্টকে আগলে রাখতে। কিন্তু গত নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ভার চলে গেছে ডেমোক্র্যাটদের হাতে।
ট্রাম্প কতটা উদ্বিগ্ন, তা বেশ বোঝা যায় সম্প্রতি দেওয়া তাঁর এক টুইটার পোস্ট থেকে। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, ‘আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। একদল বাজে লোক আমার বিরুদ্ধে অবৈধ তদন্তে মেতে উঠেছে। আমার একমাত্র অপরাধ গত নির্বাচনে আমি জিতেছি।’

ডেমোক্রেটিক দলের হয়ে প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন উদারনৈতিকদের তারকা প্রার্থী এলিজাবেথ ওয়ার্নার। তিনি বলে রেখেছেন, ‘আগামী নির্বাচনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন মুক্ত মানুষ হিসেবে থাকছেন না। তাঁকে কারাগারেই থাকতে হবে।’ আমেরিকার ইতিহাসে যা আগে কখনো ঘটেনি, তেমন অনেক কিছুই ঘটেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত আমেরিকার রাজনীতিতে শুধু ডোনাল্ড ট্রাম্পই নয়, ডেমোক্র্যাটরাও যে নানা নাটকীয়তা নিয়ে আসবে, তার আলামত এখনই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যদিও এ নাটকের ফল কোনদিকে যাবে, তা এখনো বলা যাচ্ছে না।

প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে যে সব ভুলের কারণে জার্মানির পরাজয় ঘটেছিল

Now Reading
প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে যে সব ভুলের কারণে জার্মানির পরাজয় ঘটেছিল

এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ১৯১৪ সালের জুলাই মাসের ২৮ তারিখে অস্ট্রো-হাঙ্গেরি এবং সার্বিয়ার মধ্যেকার যুদ্ধের মাধ্যমে প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের সূচনা ঘটে। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই এই যুদ্ধের প্রভাব পুরো ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পরে। পরবর্তিতে যা আটলান্টিক পার হয়ে মার্কিনমুল্লুকে বিস্তার ঘটে। তবে এশিয়ার কিছু দেশও এই ধ্বংসযজ্ঞে মেতে উঠেছিল। ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ছিল এই মহাযুদ্ধের ব্যাপ্তি, এতে উভয়পক্ষের হতাহতের সংখ্যা এবং ধ্বংসযজ্ঞ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে যা অতীত কালের অন্য সকল যুদ্ধের নৃশংসতা কে হার মানিয়েছে! শুধু তাই নয়, যে পরিমাণ অর্থনৈতিক ও ভৌগলিকভাবে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা বিশ্বের জন্য ছিল পুরোপুরি নতুন এক অভিজ্ঞতা। এই যুদ্ধে বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রের অংশগ্রহণের ফলে এটাকে বলা হয় মহাযুদ্ধ বা বিশ্বযুদ্ধ।

প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে সামরিক দিক থেকে জার্মানি ছিল সব দিক থেকে শ্রেষ্ঠ। কিন্তু রনাঙ্গনে ভুল চাল দেয়া হচ্ছে যুদ্ধ কৌশলের ব্যর্থতা। আসুন জেনে নিই কি কি কারণ ছিল জার্মানির পরাজয়ের পেছনে?

প্রথমত, জার্মানির পক্ষে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ পরিচালনা করা সম্ভব ছিলনা। কিন্তু ব্রিটেন ও ফ্রান্স উপনিবেশগুলো থেকে অর্থ ও লোকবল সংগ্রহ করে যুদ্ধকে বিলম্বিত করে।

দ্বিতীয়ত, সেনা পরিচালনা করার দিক থেকে জার্মানির বেশ অসুবিধা ছিল। ইউরোপের পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তে জার্মানিকে সেনা সমাবেশ করতে হয়েছিল- ফলে জার্মান সেনাবাহিনী দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, যা তাদের যুদ্ধে পরাজয়ের অন্যতম কারণ।

তৃতীয়ত, রাশিয়ার বিপুল পরিমাণ সেনাবাহিনীর সামনে জার্মানি তার নিজ ভূখণ্ডে নিজস্ব সেনাবাহিনীকে এক রনাঙ্গন থেকে অন্য রনাঙ্গনে স্থানান্তর করা অসম্ভব ছিল। চারদিক হতে মিত্র পক্ষ জার্মানির সীমান্তে চাপ সৃষ্টি করলে জার্মানির বিপর্যয় ঘটে।

চতুর্থত, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও আমেরিকার নৌ বাহিনীর তুলনায় জার্মান নৌবাহিনী ছিল অপেক্ষাকৃত দুর্বল। যা তাদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে স্বীকৃত।

পঞ্চমত, সমুদ্রের উপর ব্রিটিশ নৌ শক্তির প্রাধান্য জার্মানির অর্থনৈতিক কাঠামোর উপর প্রচণ্ড আঘাত হানে। এছারা নিতান্ত প্রয়োজনীয় খাদ্যের অভাব ও অপুষ্টির ফলে জার্মানদের প্রতিরোধব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। সর্বোপরি প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ।

এসব কারণে প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে জার্মানি হেরে যায়। জার্মানির পরাজয় ছিলো তাদের জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং জাতিগত অপমান। কিন্তু যে উগ্রবাদ জার্মানিকে প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে টেনে নিয়ে গিয়েছিল, সেই উগ্রবাদিতার কারণেই জার্মানি পুনরায় দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সূচনা করেছিল।

Page Sidebar