3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

দুর্দান্ত এক ফরাসি বিপ্লব প্রত্যক্ষ করেছে বিশ্ব

Now Reading
দুর্দান্ত এক ফরাসি বিপ্লব প্রত্যক্ষ করেছে বিশ্ব

পুরো অষ্টাদশ শতাব্দী ধরে ইউরোপে এক বিপ্লবী চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল। রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার কৃষক ও শ্রমজীবীদের আন্দোলনের পথিকৃৎ এই বিপ্লব। তারই ফলাফলে রাজতন্ত্রের পতন ঘটে, গণতন্ত্র শব্দটি পায় নতুন মাত্রা। সত্যিকার অর্থে, ফরাসি বিপ্লব কিন্তু সফল হয়নি। যে রাজতন্ত্র থেকে মুক্তি পাবার আশায় এই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল, মাত্র ১৫ বছরের মাথায় সেই রাজতন্ত্র আবার ফিরে এসে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় যা পরবর্তী ৭০ বছর পর্যন্ত এর স্থায়িত্ব ছিল। তবে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে বাইরের বিশ্বকে, গোটা বিশ্বের রাষ্ট্রব্যবস্থায় অভুতপূর্ব প্রভাব ফেলেছিল এই ফরাসি বিপ্লব। উনিশ শতকে ফ্রান্স ছাড়িয়ে সারা ইউরোপে নতুন ভাবধারার সূচনা করেছিল এই বিপ্লব। ফরাসি বিপ্লব শুরু হয়েছিল ১৭৮৯ সালে, যার মূলমন্ত্র ছিল সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতা। এই আন্দোলন সংঘটিত হওয়ার পেছনে ফরাসি দার্শনিক ও সাহিত্যিকদের অসামান্য অবদান রয়েছে। ব্রিটিশদের বিপক্ষে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্যে অনেকেই ফরাসি বিপ্লব থেকে অনুপ্রানিত হয়েছিলেন।

 মানব সভ্যতার অন্যতম একটি মাইলফলক রেনেসাঁ থেকে এনলাইটেনমেন্ট পর্যন্ত যাত্রা। বিশেষত মধ্যযুগের ইউরোপে যখন ধর্মের প্রতাপ ছিল। মানুষের চিন্তা চেতনায় তখন গুরুত্ব পেয়েছিল ঈশ্বর এবং ধর্মবিশ্বাস। সেই সুযোগে মানুষের ভাবনার জগৎকে আলোড়িত করে ইতালিতে গোড়াপত্তন করেছিল রেনেসাঁ আর তা সমগ্র ইউরোপেই ছড়িয়ে পড়েছিল। সে সময় শিল্প সাহিত্যের প্রসারও ঘটেছিল। লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি, বতিচেলি­, মিকেলেঞ্জেলো, রাফায়েলসহ বহু উলে­খযোগ্য চিত্রশিল্পী ও ভাস্করদের বিখ্যাত সৃষ্টিকর্মগুলো সে সময়কারই। ফরাসি বিপ্লবের পূর্বে প্রায় এক শতাব্দী ফ্রান্স আলোড়িত হয় নতুন আর পুরান  চিন্তার দ্বন্দ্বে। ১৭৭৬ সালে আমেরিকা যখন ব্রিটেনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণা করে তখন বহু ফরাসি আমেরিকানদের সমর্থন দিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। সেই ফরাসিরা যখন দেশে ফেরত আসে, তখন উপলব্দি হয় স্বাধীনতার স্বাদ কেমন। তাদের মধ্যেও আন্দোলিত হতে থাকে নিজেদের স্বাধীনতা অর্জনের, আর এই স্বাধীনতা তাদের রাজতন্ত্র থেকে মুক্তির। ফরাসি বিপ্লব শুধু ফ্রান্সের নয়, সে সময় বদলে দিয়েছিল গোটা ইউরোপের চিত্র। মানুষের চিন্তার জগৎকে আলোড়িত গোটা মানব সভ্যতাকে নতুনভাবে লিখতে ভুমিকা রেখেছে ফরাসি বিপ্লব।  ১৪ জুলাই ১৭৮৯ সাল, সেদিন শ্রমিক, জনতা, কারিগর, গ্রাম ও শহরের গরিব মেহেনতি মানুষের খাদ্যের দাবিতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস বেশ উত্তপ্ত হয়। চারিদিকে শুরু হয় দাঙ্গা-হাঙ্গামা, এ শুধু যে নিছকই তা কিন্তু নয়। প্যারিসে সর্বাত্মক বিক্ষোভ মিছিলে প্রকম্পিত, আর তাদের ছত্রভঙ্গ করতে তৎকালীন রাজার নির্দেশে মিছিলের ওপরই তুলে দেয়া হয় অশ্বারোহী বাহিনী। ফ্রান্সের সামরিক অধিনায়ক জনতার সাথে সংঘর্ষে যেতে চাইলেন না, অতঃপর প্যারিসের নিয়ন্ত্রণ জনতার হাতেই চলে যায়। এদিকে উন্মত্ত জনতা কারাগারের অধিকর্তা দ্যলুনেকে হত্যা করে রাজবন্দীদের মুক্ত করে আনে।  বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্রের দোকান লুট করার পাশাপাশি স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের প্রতীক বাস্তিল কারাদুর্গও আক্রমণ করে উত্তেজিত জনতা। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আরও বেশি আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করা এবং রাজা ষোড়শ লুই এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। মূলত ফরাসি রাজতন্ত্র ছিল নিরঙ্কুশ স্বৈরাচারী। কেননা রাজা ক্ষমতার একক অধিকারী হওয়াতে অধিক স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে তাকে অনুপ্রানিত করে। ফলে একটা সময় রাজা নিজেকে ঈশ্বর প্রদত্ত ডিভাইন রাইট অব মনারকির প্রতিভু বলে ঘোষণা করেন। তিনি বলতেন, সার্বভৌম ক্ষমতা আমার ওপর ন্যস্ত, তাই সব আইন প্রণয়নের ক্ষমতা ও বিচারিক আদেশের ক্ষমতা আমার। রাজার সমালোচনা যদি কেউ করত তবে তাকে গ্রেফতার করে গোপনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতো।

রাজতন্ত্রের এই স্বেচ্ছাচারিতা শুরু হয়েছিল রাজা চতুর্দশ লুই এর শাসনামলের শেষ ভাগের দিকে যখন তা চরম আকার ধারণ করেছিল। পরবর্তী রাজা পঞ্চদশ লুইও ছিলেন অধিক স্বৈরচারী, তিনি রাজকার্য পরিচালনার পরিবর্তে বিলাস জীবনেই অধিক অভ্যস্ত ছিলেন। এর পর রাজা  ষোড়শ লুই সিংহাসন আরোহণের পর প্রশাসনকে ঢেলে সাঁজাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অভিজাত শ্রেণির প্রাধান্য আর পূর্বসূরিদের বিশ্বাসভিত্তিক চিন্তাধারা থেকে মুক্ত হতে পারেননি।  রাজা ষোড়শ লুই এর উচ্ছৃঙ্খলতা, অমিতব্যয়িতা এবং দুর্বল প্রজাদের উপর প্রতিনিয়ত অত্যাচার এসব কিছুই ফরাসি জনগণকে বিপ্লবমুখী করে তুলেছিল। এ ছাড়াও ছিল শাসন বিভাগের বিশৃঙ্খলতা এবং রাজকর্মচারীদের অতি মাত্রায় অত্যাচার। অন্যদিকে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল  শাসন ও বিচারব্যবস্থা যা অসন্তোষ ছড়ায় জনগণের মাঝে। অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইউরোপ, আমেরিকা, ভারত ও ইংরেজদের সাথে প্রায় সাত বছরব্যাপী যুদ্ধে ফ্রান্সের শোচনীয় পরাজয় ঘটে। আর তাতেই ব্যবসা বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়ে এবং এই অবনতির ফলে ফরাসিদের রাজকোষও শূন্য হয়ে পড়ে।  ফ্রান্সের সমাজে ব্যবস্থায় শ্রেণি বৈষম্য ছিল  প্রকট। অভিজাত ও যাজক সম্প্রদায় প্রথম শ্রেণিভুক্ত যারা রাজার আস্থাভাজন ছিল। অন্যদিকে মধ্যবিত্ত ও জনসাধারণ ছিল সুবিধাহীন অধিকারবঞ্চিত শ্রেণি। এসব বৈষম্য সাধারণ মানুষের মনে মারাত্মক ইন্ধন জুগিয়েছিল রাজার শাসনের বিরুদ্ধে। যাজক সম্প্রদায় রাজার বিশেষ রাজনৈতিক, বিচার এবং রাজস্ব সংক্রান্ত সুযোগ সুবিধা প্রাপ্ত ছিল। রাজ্যে তাদের নিজস্ব এলাকা, বাহারি প্রাসাদ, দুর্গ ও গির্জা ছিল। আবার ফরাসি সমাজে দ্বিতীয় শ্রেণি ধরা হত অভিজাতদের। যদিও সংখ্যায় তারা নগণ্য তবুও সমাজে সবচেয়ে প্রভাবশালী ছিলেন তারাই। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে একচেটিয়া অধিকার ভোগ করত এই অভিজাত শ্রেণী। বুর্জোয়া বা মধ্যবিত্ত ছিল তৃতীয় শ্রেণিভুক্ত যারা অনেকটাই সুবিধাপন্থি ছিলেন। কৃষক ও শ্রমিকরা ছিল সমাজের সর্বনিম্ন স্তরের  যাদের উপর চলত রাজতন্ত্র তথা উচ্চ শ্রেণীর শোষণ ও নিষ্পেষণ। সর্বোপরি নিন্মবিত্ত ও কৃষকদের উপর অন্যায় নির্যাতনই শ্রেণি সংঘাতের ক্ষেত্র গড়ে তুলেছিল। রাষ্ট্র ব্যবস্থা এমন ছিল যে, রাজস্বের ব্যয়ভার কেবল কৃষককেই বহন করতে হতো। ফলে কৃষক ও শ্রমিকরা ক্রমেই বিপ্লবমুখী হয়ে ওঠে। ফলে পুরো অষ্টাদশ শতাব্দী ধরে ইউরোপে বিপ্লবী চেতনার উন্মেষ ঘটে।

১৭৮৯ সালে ফ্রান্সের শতকরা ৮৫ ভাগ মানুষ গ্রামাঞ্চলে থাকত যার মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখই ছিল কৃষক শ্রেণীর। এদিকে চাষযোগ্য জমির প্রায় ৩০ শতাংশের মালিকানা ছিল গির্জা ও সামন্তপ্রভুদের হাতে যারা ছিল সংখ্যায় মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ ভাগ। এ ছাড়া বিপ্লবের সময়টাতে ফ্রান্সে প্রায় ১০ লাখের মতো ভুমিদাস ছিল। মাঝেই মাঝেই দেখা দিত অজন্মা। একজন ইতিহাসবিদ লিখেছিলেন, ফ্রান্সে ৯ দশমাংশ লোক অনাহারে মারা যায়, আর এক দশমাংশ মরে অতি ভোজনের ফলে। এ ছাড়া ছিল কর বা খাজনার জন্য নির্যাতন। সাধারণ মানুষকে রাজার আরোপ করা কর, গির্জা কর্তৃক আরোপ করা কর, ভুস্বামী বা জমিদারদের আরোপ করা কর দিতে হতো। আইনও ছিল গরিবের বিপক্ষে। তাদের বিচার করার সময় সাক্ষ্য-প্রমাণ নিয়ে ততটা মাথা ঘামানো হতো না। সব মিলিয়ে জ্বলে ওঠে বিপ্লবের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ।

আন্দোলনকারী বিদ্রোহীদের হাতে ষোড়শ লুই ও তার স্ত্রী মারি অ্যান্তনে বন্দী হন। রাজার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বিদ্রোহী নেতৃত্বস্থানীয়দের মধ্যে আয়োজন করা হয় ভোটের, ৩৬১ জন মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে এবং ২৮৮ জন বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। ১৭৯৩ সালের ২১ জানুয়ারি হাজার জনতার সম্মুখে রাজা ষোড়শ লুইসকে গিলোটিনে শিরোচ্ছেদ কার্যকর করা হয়।  এরপর ১৬ অক্টোবর রানীর ক্ষেত্রেও একই শাস্তি কার্যকর হয়।ফরাসি বিপ্লব উন্মোচিত করেছিল এক নতুন দিগন্ত। এর ফলে আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় গণতন্ত্র শব্দটি অর্থবহ হয়ে ওঠে। বিশেষত রাজতন্ত্রের পতন এর পর বিশ্বাসভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটে যায়। আর ইউরোপের রাষ্ট্রব্যবস্থায় ফরাসি বিপ্লবের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। ইউরোপসহ, গোটা পৃথিবীর পট পরিবর্তন করে দেয় ফরাসি বিপ্লবের ফলাফল। বর্তমান বিশ্বের বেশির ভাগ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রই ফরাসি বিপ্লব পরবর্তী রাষ্ট্রব্যবস্থার সুফল ভোগ করছে।

ভাগ্য বদলে দিতে পারে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ মিশন!

Now Reading
ভাগ্য বদলে দিতে পারে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ মিশন!

বিশ্বকাপের ডি গ্রুপের শেষ রাউন্ডের ম্যাচে আজ মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়া-আইসল্যান্ড এবং অপর ম্যাচে আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া। ক্রোয়েশিয়া ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় রাউণ্ড এর টিকিট নিশ্চিত করেছে, আইসল্যান্ডের বিপক্ষে শুধু ড্র করলেই তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে। কিন্তু গ্রুপের বাকী তিন দল রয়েছে যারা এখনো অপেক্ষমাণ তালিকায় আছে দ্বিতীয় রাউণ্ডে যেতে। এ নিয়ে দল তিনটির মধ্যে চলছে চুল ছেড়া বিশ্লেষণ, বিশেষ করে আর্জেন্টিনা বেশ বেকায়দায় রয়েছে। তিন দলেরই এখনও সুযোগ রয়েছে নক আউট পর্বে খেলার। তবে এর জন্য স্বয়ং বিধাতাই কেবল পাল্টে দিতে পারেন ম্যাচের চিত্র। এরই মধ্যে আর্জেন্টিনার তিনজন খেলোয়াড় বিগত ম্য্যাচে হলুদ কার্ড পেয়েছে যা তাদের জন্য মোটেও সুখকর নয়। আর্জেন্টিনার অন্যতম তারকা খেলোয়াড় মেসি এখনো দলের ত্রাতা হয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি, আজকেই তার শেষ সুযোগ নিজের হাতে বিশ্বকাপ ছোঁয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের। যেহেতু বিশ্বকাপের অন্যতম দাবীদার আর্জেন্টিনার এই টুর্নামেন্ট হতে বিদায় নেয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে তাই এই ‘ডি’ গ্রুপের প্রতিটা ম্যাচের ভাগ্য নিয়ে সকলের আগ্রহটা কিঞ্চিৎ বেশি বৈকি! সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশে রয়েছে অসংখ্য আর্জেন্টিনার সমর্থক, যাদের চোখ আজ রাতে আটকে থাকবে টিভির পর্দায়। সকলের একটাই আশা, যেন সবকিছুর হিসেব চুকে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের এই আসরে টিকে থাকে। আর্জেন্টিনাকে দ্বিতীয় রাউণ্ডে উঠতে হলে যেতে হবে এক জটিল সমীকরণের মধ্য দিয়ে। শুধু জিতলেই যে হবে তা কিন্তু নয়, এর জন্য নিজেদের ম্যাচ ছাড়াও চোখ রাখতে হবে গ্রুপের অন্য ম্যাচটির দিকেও। আসুন জেনে নিই কেমন ফলাফল বা দৃশ্যপট তৈরি হলে আর্জেন্টাইন ফুটবলার’রা দেশের পথে বিমান না ধরে রাশিয়াতেই থেকে যাবে নক আউট পর্ব খেলার জন্য…

প্রথমত, নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয় ছাড়া বিকল্প নেই।

দ্বিতীয়ত, গ্রুপের অন্য ম্যাচে আইসল্যান্ডকে হারতে হবে ক্রোয়েশিয়ার কাছে।

তৃতীয়ত, আইসল্যান্ড ক্রোয়েশিয়াকে পরাজিত করলেও আর্জেন্টিনার জন্য দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবার সম্ভাবনা টিকে থাকবে যদি তারা নাইজেরিয়াকে দুয়ের অধিক গোল দিয়ে পরাজিত করতে পারে।

চতুর্থত, যদি আর্জেন্টিনা এবং আইসল্যান্ড উভয়ই জয়লাভ করে এবং তাদের গোল সংখ্যা যদি সমানও হয়, তবে উভয় দলের শৃঙ্খলা এবং অন্যান্য বিষয়গুলো তখন বিবেচ্য হবে। সেক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

 

আর না হারলেও যে কারণে বিদায় নিতে পারে আর্জেন্টিনাঃ

১. আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়লাভ করলে নাইজেরিয়া দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে।

২. আইসল্যান্ড যদি ক্রোয়েশিয়াকে পরাজিত না করে তাহলে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাইজেরিয়ার কেবল ড্র করলেই দ্বিতীয় রাউণ্ড নিশ্চিত।

৩. আর্জেন্টিনা এবং নাইজেরিয়ার ম্যাচ যদি ড্র হয়, এবং আইসল্যান্ড যদি ক্রোয়েশিয়াকে ২-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে, তাহলে আইসল্যান্ড দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছে যাবে। সেক্ষেত্রে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয় এবং একই সাথে নাইজেরিয়ার চেয়ে একটি গোল বেশি থাকাটাই আইসল্যান্ডের দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছার পথ প্রশস্ত করবে।

 

যে সকল কারণে লিওনেল মেসি বিশ্বের সেরা ফুটবলার!

Now Reading
যে সকল কারণে লিওনেল মেসি বিশ্বের সেরা ফুটবলার!

লিওনেল মেসি

স্পেনীয় ভাষায় পুরো নাম লিওনেল আন্দ্রেস মেসি কুচ্চিত্তিনি।

নতুন করে তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়াটা হবে সম্পূর্ণ অর্থহীন। বিশ্বের এমন কোনো মানুষ নেই যে কিনা মেসি কে চেনে না, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে যুবক-যুবতী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও মেসি বলতে পাগল। লিওনেল মেসিকে সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের মধ্যে একজন হিসেবে গণ্য করা হয়। বলতে দ্বিধা নেই ম্যারাডোনা এবং পেলের সময়ে তারা দুজন যেমন তাদের নিজেরদের দিক দিয়ে স্বমহিমায় সেরা ছিলেন, তেমনি আজকের সময়ে মেসি, নেইমার, সুয়ারেজ কিংবা রোনালদো তাদের নিজেদের দিক থেকে অবশ্যই সেরা। কিন্তু মেসির মধ্যে এমন কিছু গুণাবলী রয়েছে যা তাকে অন্য আর সব গ্রেট খেলোয়াড়দের থেকেও অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তিনি বর্তমানে আর্জেনটিনা জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব পালন করছেন এবং স্প্যানিশ ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনার প্রাণভোমরা তিনিই।

ঠি কি কারণে বা কি গুণাবলীর কারণে লিওনেল মেসি বিশ্বের সেরা ফুটবলার সেটা নিয়েই নিচের আলোচনাঃ

ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণ
৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার লিওনেল মেসি তার আইডল ডিয়েগো ম্যারাডোনার থেকে মাত্র দুই ইঞ্চি লম্বা। মেসিও ম্যারাডোনার মতই খেলার সময় বিস্ময়করভাবে নিজের ভারসাম্য রক্ষায় সেরা।  তাছাড়াও মূল ব্যপারটি হলো, শারীরিক গঠনে ছোট হবার কারণে সে তার শরীরের নিচের অংশের শক্তিকে ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারে যার ফলে সে অবিশ্বাস্য গতিতে নিজের স্থান পরিবর্তন করতে পারে। এছাড়াও গোল অভিমুখে বল নিয়ন্ত্রণে মেসি বলে একাধিক স্পর্শ করে থাকে যা তাকে বেশি গোল পেতে সাহায্য করে; যেখানে অন্যান্য বড় মাপের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সেটি দেখা যায়না।

ধৈর্য
ফুটবল খেলোয়াড়দের প্রায়ই দেখা যায় মাঠে একটুর থেকে একটু হলেই ধৈর্য হারাতে। কিন্তু লিওনেল মেসি সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম, তাকে অন্যতম শান্ত-শিষ্ট খেলোয়াড় হিসেবে ধরা হয় তার শান্ত মেজাজের কারণে। এছাড়াও, গোল দেবার ক্ষেত্রে দেখা যায় সে কিছুটা সময় নিয়ে সামনের ডিফেন্ডারদেরকে পরাস্ত করে গোল অভিমুখে বল পাঠায়, ফলে গোল-কিপার তার অবস্থান ধরতে পারেনা এবং ফলাফল হিসেবে বল জালে জড়িয়ে যায়।

ড্রিবলিং
যদি কোন একটি শক্তি থেকে থাকে যা মেসিকে আর সকল সেরা খেলোয়াড়দের থেকে উচুঁতে রাখে, তবে তা হল তার ড্রিবলিং ক্ষমতা। ড্রিবলিং করার মাধ্যমে এক সাথে একাধিক খেলোয়াড়কে পরাস্ত করাটা মেসির এক অনন্য প্রতিভা; এছাড়াও তার গতি ও ড্রিবলিং এর অসাধারণ সমন্বতায় ডিফেন্ডারদের পক্ষে তাকে বেঁধে রাখাটা সম্ভবপর হয়ে ওঠেনা। ম্যারাডোনার মতই, মেসিও মূলত এক পায়ের খেলোয়াড়; একবার পূর্ণ গতিতে বল নিয়ে ছুটতে শুরু করলে দেখা যায়,সে খুব কমই তার ডান পায়ের ব্যবহার করে। তার বাম পায়ের সাথে বলের নিয়ন্ত্রণ এতটাই অসাধারণ যে সে একজন বা একাধিক ডিফেন্ডারকে অতি দ্রুত পাশ কাটিয়ে কিংবা দুই পায়ের মধ্য দিয়ে সহজেই বল পাস করে সামনে এগিয়ে যেতে পারেন।

দূরপাল্লার শট ও নিখুঁত পাস
লিওনেল মেসির আরেকটি অসাধারণ গুণ হলো দূর থেকে এমনকি ডি-বক্সের অনেক বাইরে থেকে সরাসরি জালে বল পাঠানো। ডি-বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি-কিকে শট নিয়ে গোল করাটা তার কাছে যেন মামুলি ব্যপার। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ইরানের বিপক্ষে সেই গোলের কথা নিশ্চয় ভুলে যাননি? সামনে ১০জন ইরানিয়ান ফুটবলারকে রেখে ডি-বক্সের বাইরে থেকে মেসির বাম পায়ের শট! একমাত্র গোলে আর্জেনটিনার জয়। এটি তো কেবল একটিমাত্র উদাহরণ। জাভিয়ের হার্নান্দেজ ও আন্দেস ইনিয়েস্তার মত লিওনেল মেসিও নিখুঁত পাসে অনন্য। অন্যকে গোল করায় সহায়তা করতে মেসির নিখুঁত পাসের ভুমিকা অনবদ্য।

স্বার্থহীন স্ট্রাইকার কিংবা গোল এসিস্টে সেরা
স্ট্রাইকারদের বেলায় একটা কথা বেশ শোনা যায় যে তারা নিজেদের নামের পাশে গোল বসাতে স্বার্থপর হয়। কিন্তু একজন সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে মেসির সাথে এমন কথা ঠিক যায়না, কেননা মেসি নিজে যেমন গোল করেন, অন্যদের গোল করাতেও ভূমিকা রাখেন। যেমন, ২০১৪/১৫ মৌসুমে MSN ত্রয়ীর ১২০ গোলের ৫৮ গোল মেসির এবং মেসি ৩১টি গোল এসিস্টে ভূমিকা রাখেন।

অবিশ্বাস্য দ্রুতগতি সম্পন্ন ফুটবলার
গতিতে মেসি অতুলনীয়। মেসি অতি দ্রুত দিক পরিবর্তন করতে পারেন বিধায় প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের পক্ষে তাকে ধরাটা বেশ কঠিন হয়ে যায়। এছাড়াও অবিশ্বাস্য দ্রুতগতির মেসি মুহূর্তের ভেতর জায়গা পরিবর্তন করতে পারেন।

শক্তিমত্তায় অসাধারণ
রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড় সার্জিও রামোস খুব ভালো করেই জানেন, মেসিকে ট্যাকল বা আঘাত করে কোন কাজ হয়না। মেসিকে থামানোর জন্য এই ফুল-ব্যাক প্লেয়ার সব ধরণের ক্রিয়া কৌশল অবলম্বন করেও সফল হতে পারেননি। মেসির শক্তিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা অনর্থক যেখানে শক্তিমত্তার প্রশ্নে ম্যারাডোনার সাথে মেসির তুলনা চলে আসে। মেসি আত্নবিশ্বাস ও দৃঢ়তায় বিশ্বের যেকোন খেলোয়াড়ের চাইতে সেরা কিনা- খেলার মাধ্যমেই তিনি এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।

পেশাদারীত্বে অবিচল
মেসি এমন একজন শক্তিমান খেলোয়াড় যিনি তার শারীরিক প্রস্তুতি এবং খাদ্যকে গুরুত্ব সহকারে দেখেন। লিওনেল মেসির শারীরিক ও মানসিক শক্তি সমানভাবে চিত্তাকর্ষক। ক্লাব ও দেশের পক্ষে সমানভাবে শ্রেষ্ঠ হওয়া স্বত্ত্বেও তিনি ক্যামেরার মুখোমুখি হওয়ার সময় সবসময় একটি সাহসী হাসি দিয়ে যে কোনও সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন; এমনকি কোন অভিযোগ ছাড়াই শান্ত ও ধৈর্যের সাথে প্রবল চাপের মুখেও প্রতিপক্ষের ক্রমাগত মোকাবেলা করতে পারেন মেসি।

লিওনেল মেসি কখনোই ভিনগ্রহের কেউ নয়, তিনিও আর দশটা সাধারণ মানুষের মতই কিন্তু বিধাতা তাকে অসাধারণ গুণাবলি দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তিনি তার ঐ পা দুটো দিয়ে জয় করেছেন সারা পৃথিবীর মানুষের মন। লিওনেল মেসি ছোটবেলায় ভয়ংকর শরীর বৃদ্ধিকারী হরমোনের সাথে লড়াই করে আজ বিশ্বসেরা ফুটবলার হয়েছেন, যার মানে তিনি বড় ও শক্তিশালী কোন কিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন যার শিক্ষা আজো তার মধ্যে রয়ে গেছে।

লিওনেল মেসির হাতে একটা বিশ্বকাপ উঠুক, সেই কামনাই রইলো।