নিজের বোকামিতে ‘অ্যাপল’ এর মালিকানা ছেড়ে দিলেন যিনি

Now Reading
নিজের বোকামিতে ‘অ্যাপল’ এর মালিকানা ছেড়ে দিলেন যিনি

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল সম্পর্কে আমরা কম বেশি সকলেই জানি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়যে বিশ্বের সবচেয়ে দামী এবং সম্ভবত সবচেয়ে ক্ষমতাধর এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাকালীন মালিক ছিলেন তিন জন। পরবর্তীতে একজন মালিক নিজ থেকেই সরে দাঁড়িয়েছিলেন, এউ সহ-প্রতিষ্ঠাতার নাম আর রোনাল্ড জি ওয়েইন। তিনি জন্ম গ্রহণ করেন ১৭মে ১৯৩৪ সালে যখন যুক্তরাষ্ট্রে মহামন্দা বিরাজ করছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যে বাস করেন তিনি। ওয়েইন ছিলেন এক মাত্র ব্যক্তি যিনি অ্যাপল এর দুই সুপরিচিত প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস এবং স্টিভ ওয়াজনিয়াকের মধ্যে মধ্যস্থতা করে প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তি গড়ে দিয়েছেন। শুরুর দিকে স্টিভ জবস এবং স্টিভ ওয়াজনিয়াকের মধ্যে ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে মনমালিন্য এবং অসন্তোষ দেখা দেয়। এবং এ বিষয়টি স্টিভ জবস তার ব্যক্তিগত উপদেষ্টা আর রোনাল্ড জি ওয়েইন এর সাথে আলাপ করেন। ওয়েইন অনেক ভাবলেন কি করা যায়, কেননা দুই বন্ধুর এই ঘনিষ্ঠতা কোন ভাবেই নষ্ট হতে দেয়া যাবেনা। যেই ভাবা সেই কাজ, ওয়েইন তার বাসায় বেশ ভাল রকমের ডিনার তৈরি করলেন এবং স্টিভ জবস ও স্টিভ ওয়াজনিয়াকে দাওয়াত দিয়ে ডেকে আনলেন। আসলে খাওয়ানোটাই ওয়েনের উদ্দেশ্য ছিলনা তিনি চেয়েছেন দুই বন্ধুর পারস্পরিক মত ভিন্নতা ঘুচে যাক। তাই দুই জনের আগমনের পরবর্তী সময়ে কালক্ষেপণ না করে বেশ জমিয়ে আড্ডা শুরু করে দেন এবং তাদের মধ্যে যখন হাস্য রসের সৃষ্টি হয় তখন এক পর্যায়ে ওয়েন তাদের দুজনের সমঝোতা করিয়ে দেন। প্রায় ৪৫ মিনিটের সেই আড্ডা ও আলাপেই সিদ্ধান্ত হয় পৃথিবী বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান “অ্যাপল” প্রতিষ্ঠার। অবশ্য অ্যাপল” প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবটি আসে প্রথম স্টিভ জবস থেকে। কেননা “জবস ছিলেন বেশ মনোযোগী, তাঁর মাথায় যখন ব্যবসার এই আইডিয়াটা আসলো, তখন সেটি বাস্তবায়নে কোন কালক্ষেপণ করতে চাইলেন না।

ওয়েইন তাঁর বাড়ীতে তাৎক্ষণিক ব্যক্তিগত টাইপরাইটারে বসে পড়লেন চুক্তিপত্র লিখতে। স্টিভ জবস এবং স্টিভ ওয়াজনিয়াক দুজনেই চেয়েছেন ওয়েইন যেন তাদের সাথে অংশীদারিত্ব এই ব্যবসায় সঙ্গী হয়। সেই মোতাবেক প্রতিষ্ঠানের  ৪৫ শতাংশ করে মালিকানা করা হয় স্টিভ জবস এবং স্টিভ ওয়াজনিয়ার নামে এবং বাকী ১০ শতাংশের মালিকানা রাখা হয় আর রোনাল্ড জি ওয়েইনের নামে। সেই চুক্তি নামায় তিনজনই সই করেন এবং ব্যবসা পরিচালনার জন্য একমত পোষণ করেন।

কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে চুক্তি সম্পাদনের ১২ দিনের মাথায় ওয়েইন শহরের রেজিস্টার অফিসে গিয়ে চুক্তিপত্র থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন। এর স্বপক্ষে ওয়েইনের যুক্তি ছিল, চুক্তি সম্পাদনের পর পরই স্টিভ জবস বাইট শপের একটি প্রতিষ্ঠানে  ১৫ হাজার ডলারে ৫০ টি অ্যাপল কম্পিউটার বিক্রির চুক্তি করেছিলো। কিন্তু ওয়েইনের ভয় ছিল যে বিক্রির পর বাইট শপ তাদের পাওনা টাকা না দিয়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে পারে, এজন্য তিনি কোন প্রকার ঝুঁকি নিতে চাননি। কেননা “কোম্পানিটি বন্ধ হয়ে গেলে, তিনজনের প্রত্যেককেই অ্যাপলের ঋণের দায়িত্ব নিতে হতো। এদিকে জবস এবং ওয়াজনিয়াকের কাছে তেমন কোন টাকা পয়সা ছিল না। বিপরীতে ওয়েইনেরর একটা বাড়ি, একটা গাড়ি এবং ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেশ কিছু টাকা ছিল। ওয়েইন ভেবেছেন ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব হয়তো তাকেই নিতে হতো। চুক্তি ভঙ্গের কয়েক মাস পর ওয়েইনের কাছে একটি চিঠি আসল আর সাথে ছিল দেড় হাজার ডলারের একটি চেক। শর্ত ছিল, অ্যাপল কম্পিউটার কোম্পানি থেকে সকল স্বার্থ ত্যাগ করে চিঠিতে স্বাক্ষর করলেই চেকটি তাঁর হয়ে যাবে। ওয়েইন পূর্বেই কোম্পানি থেকে সরে এসেছে, সুতরাং চেকের ঐ টাকাটা ছিল তাঁর বাড়তি পাওনা। এই ভেবে দেরি না করে ওয়েইন স্বাক্ষর করে দিলেন।

অ্যাপলের ১০ শতাংশ শেয়ারের দাম এখন ৬ হাজার কোটি ডলারের ও বেশি। যদিও রোনাল্ড জি ওয়েইন  স্বীকার করেছেন, সেদিনের সেই সিদ্ধান্তের জন্য তার মনে কোন অনুশোচনা নেই। কিন্তু আদৌ কি তাই? তবে কেন তিনি বলেন, অ্যাপলের প্রতি তার কোন আকর্ষণ নেই এবং অ্যাপলের কোন পণ্যও তিনি ব্যবহার করেন না। সত্যিকার অর্থেই ওয়েইন উপলব্ধি করেছেন তিনি কি বোকামিটাই না করেছেন। আজ দুনিয়া জোড়া খ্যাতি থাকত তাঁর, যদিনা ফাও দেড় হাজার ডলার লাভের আশায় শেষ চিটি খানায় অন্তত স্বাক্ষর না করতেন।