প্রযুক্তির সেরা ১০ আবিস্কার যা আগামী ২০বছর পর কোন কাজেই আসবেনা

Now Reading
প্রযুক্তির সেরা ১০ আবিস্কার যা আগামী ২০বছর পর কোন কাজেই আসবেনা

প্রযুক্তি দিনদিন পরিবর্তন ও বিকশিত হয়ে তার উৎকর্ষতা ছড়াচ্ছে। এটা এখন এমন যে তা উন্নত থেকে উন্নতর হয়ে জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রভাব রাখছে। দেখা যাচ্ছে যে আজ কোন কিছু ক্রয় করলাম সেটি দুদিন পরই নিজের কাছে পুরনো হয়ে উঠছে। মোবাইল ফোন কিংবা ল্যাপটপ এর ক্ষেত্রেই ধরা যাক, এসবের কোনটি ক্রয়ের কিছুদিন পর দেখা যায় যে তার আরো উন্নত ভার্সন বাজারে চলে এসেছে, আর তখনই আক্ষরিক অর্থে কেনা পণ্যটি নিজের কাছে পুরনো হয়ে উঠে। যদিও এমন অনেক কিছুরই পরিবর্তন আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি কিন্তু আগামী ২০বছরে প্রযুক্তির এমন এক বিস্ফোরণ ঘটবে যা আমাদের প্রয়োজনীয় অনেক কিছুরই ব্যাবহার হ্রাস করে দেবে।

১০. পেছনে দেখার আয়নাঃ কত দ্রুত প্রযুক্তির প্রসার ঘটছে, প্রতিনিয়ত আবিস্কার হচ্ছে নিত্য নতুন জিনিস।  এখন ক্যামেরা দিয়েই সম্পূর্ণ কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এখন এই ক্যামেরার ব্যবহার হচ্ছে যানবাহনগুলোতে, যা দিনদিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। দিনদিন এসব ক্যামেরা সজলভ্য এবং সস্থা হচ্ছে। তাই গাড়ীর বিভিন্ন কোম্পানিকে এখন ধাবিত করছে পেছনে দেখার আয়নার পরিবর্তে ক্যামেরা ব্যবহারের।

০৯.ফোনের টাওয়ারঃ প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় দিনদিন দৃশ্যমান প্রযুক্তিগুলো সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এর ফলে স্বল্প পরিসরে বৃহৎ কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আর এই প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে ফোনের টাওয়ারে ফলে দিনদিন তা আকারে ক্রমশ ছোট হয়ে যাচ্ছে। একদিন সময় আসবে এই টাওয়ারগুলো একটাও আর থাকবেনা। এমন কিছু স্মার্ট ফোন আবিস্কার হবে যা টাওয়ার ছাড়াই ৫০০মিটারের ব্যবধানে কথা বলা যাবে। কোয়ালকম প্রথম কাজ শুরু করে কিভাবে তাদের এই উদ্ভাবন প্রযুক্তিতে সংগযোজন করা যায়। তারা ফেসবুক এবং ইয়াহু এর সাথে অংশীদারিত্বে এই এপ্লিকেশন গুলো তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে। তারা যদি সফল হয় তবে মোবাইল ফোন ব্যবহারে আর টাওয়ারের প্রয়োজন হবেনা। আর তাছাড়া এসকল টাওয়ার দেখতে দৃষ্টিকটু মনে হয়, অবলোপন করার পেছনে এটাও একটা কারণ।   

০৮. রিমোট কন্ট্রোলঃ প্রযুক্তির অন্যতম শ্রেষ্ঠ আবিস্কার হচ্ছে রিমোট কন্ট্রোল। এই ডিভাইস অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে মানুষের দৈনন্দিন জীবন। শুরুতে রিমোট কন্ট্রোল আবিস্কার হয়েছে টিভির জন্য পরবর্তীতে তা এসি সহ প্রায় সব কিছুতেই ব্যবহার হয়ে আসছে। কিন্তু আশংকার বিষয় হচ্ছে যে, এই প্রযুক্তি অদূর ভবিষ্যতে আর কাজে আসবে না। তার স্থলে ইতিমধ্যেই চলে এসেছে নতুন প্রযুক্তি যা এই রিমোট কন্ট্রোলের রাজত্বকে কোণঠাসা করতে সময়ের দাবী মাত্র। বিলিয়নের মত ডিভাইস আছে যা ওয়াই ফাইয়ের মাধ্যমে কম্পিউটার, ট্যাবলেট, স্মার্ট ফোন এবং স্মার্ট ওয়াচ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।  গুগল হোম এবং অ্যামাজন এলেক্সা ইতিমধ্যেই বাতি এবং অন্যান্য ডিভাইস গলার স্বর দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে। একবার কি চিন্তা করতে পারছেন আগামী ২০বছরে প্রযুক্তির এই উৎকর্ষতা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? এমনকি আপনার বাড়ীর আদ্রতা নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতেই থাকবে রিমোট কন্ট্রোল ছাড়াই, শুধু আদেশ করতে হবে ঠাণ্ডা অথবা গরম করার।

০৭. ক্রেডিট কার্ডঃ ক্রেডিট কার্ড যখন প্রথম উদ্ভাবন হয় তখন তার ব্যবহার শুরু হয় খাবারের দাম পরিশোধ করতে এবং বিনোদনের স্থানে যেখানে দ্রুত সেবা লাভ করা যায়। প্রথম ক্রেডিট কার্ড আর সাথে মানুষের পরিচিতি ঘটে ১৯৫০সালে যখন তার প্রচলন শুরু হয় একটা ডিনার ক্লাবে। তারা প্রতিবছরই ২০০০০জন মত মানুষকে এই কার্ডের আওতায় আনতে শুরু করল। কিন্তু সেই উদ্ভাবন ছিল ৭০বছর পূর্বের, এবং বর্তমানে সেই উদ্ভাবনকে প্রযুক্তি চোখের নিমিষেই পরিবর্তন ঘটিয়ে আরো উন্নত করে দিল। এসব কার্ডে যুক্ত হয়েছে স্মার্ট চিপ যা দিয়ে লেনদেন এর পরিসরকে বাড়িয়ে দিয়েছে আরো বহুগুণে। কিন্তু প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় এই ক্রেডিট কার্ড অদূর ভবিষ্যতে বিলোপ ঘটবে তা বলাই যায়। স্টারবাকস এবং ম্যাক ডোনাল্ড এর মত কোম্পানি চালু করেছে ফোনের সাহায্যে বিল পরিশোধের সেবা। এসব কোম্পানি চালু করেছে তাদের নিজস্ব এপস যার মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করা অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে, আশা করা যাচ্ছে তারা খুব দ্রুত কিছু অপশন স্মার্ট ফোনে চালু করবে কেবল ফিঙ্গার প্রিন্ট এর সাহাজ্যেই বিল পরিশোধ করা যাবে।

০৬. ধাতব চাবিঃ প্রযুক্তির উন্নত সংস্করণে ধাতব চাবির ভবিষ্যৎ ক্রমশ সংকুচিত, একটা সময় এই দৃশ্যমান চাবি মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে মুছে যাবে। নতুন আবিস্কার হওয়া কার গুলোতে এখন এমন কিছু বাটন থাকে যা দিয়ে গাড়ী চালু করা যায় যদিও চালকের পকেটে থাকবে সেই বাটন নিয়ন্ত্রণ করার বিকল্প চাবি।  কল্পনা করা যায় মোবাইল ফোনের বাটনে চাপ দিয়ে বাড়ীর দরজা খোলা ও বন্ধ করা যাবে? আমরাতো এখনি তার প্রমাণ দেখতে পাচ্ছি যে কণ্ঠ স্বরের মাধ্যমেই, হাতের আঙ্গুলের ছাপ কিংবা নির্দিষ্ট সাইন প্রদর্শনের মাধ্যমে এসব করা যাচ্ছে। বিশ্বাস ক্রুন আর নাই করুন আপনার হাতে এমন এক প্রযুক্তি চলে আসবে যা এই চাবির প্রয়োজনীয়তা একসময় আপনার কাছে অর্থহীন হয়ে যাবে।

০৫. দৃশ্যমান মিডিয়াঃ যদিও এটি আহামরি তেমন একটা কিছু নয়। ২০০০ সালে আমরা দেখতে পেয়েছি ভিএইচএস এর সাথে পরিচয় ঘটেছে ডিভিডি এর। যেমনটা অদিও ক্যাসেট এর স্থান দখল করে নিয়েছিল সিডি ১৯৮০ সালে। যদিও একটা সময় এসকল দৃশ্যমান মিডিয়া সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাবে বলে আশা করা যায়। নেটফ্লিক্স এবং ইউটিউব এর প্রসার ইতিমধ্যেই এসব দৃশ্যমান মিডিয়া গুলোর প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করে দিয়েছে। এমনকি ব্লু রে এর মত আধুনিক প্রযুক্তিকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে এই ডিজিটাল ফরম্যাট। যেভাবে এই ডিজিটাল মিডিয়ার প্রসার ঘটছে সে হিসেবে অনুমান করা যায় অল্প কিছুদিনের মধ্যে এসব দৃশ্যমান মিডিয়া জাদুঘরে পৌঁছে যাবে।

০৪. তারযুক্ত ফোন চার্জারঃ কল্পনা করা যায় চার্জার ছাড়া একটা মোবাইল ফোনের? অর্থাৎ দৈনন্দিন জীবনে মোবাইল ফোন আমাদের কাছে যেমন প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই সাথে ফোনটিতে পর্যাপ্ত চার্জ থাকাও আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু চার্জার থাকলেই যে ফোনে চার্জ দেয়া সম্ভব হবে তা কিন্তু কল্পনা করা যায় না কেননা পাওয়ার সোর্সতো লাগবেই যেখান হতে তার যুক্ত চার্জার দিয়ে ফোনে চার্জ করা সম্ভব হবে। কিন্তু সুখবর হল দিন পাল্টেছে, এখন আর তার যুক্ত ফোন চার্জার এর উপর আমাদের নির্ভর করতে হচ্ছেনা। ফোনের প্রয়োজনে ইলেকট্রিক পাওয়ার সোর্স ছাড়াই সম্ভব হবে ফোনকে সচল রাখার। এখন এমন কিছু তারহীন প্যাড আবিস্কার হয়েছে যে যেগুলো ওয়াই ফাই কিংবা রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে মোবাইল ফোনকে চার্জ করিয়ে দেবে। সুতরাং তারযুক্ত মোবাইল চার্জারের দিন ফুরিয়ে যাচ্ছে তা বলাই যায়।

০৩. এটিএম এবং মানি ব্যাগঃ যদিও টাকা পরিশোধের জন্য নতুন নতুন পন্থা প্রতিনিয়ত আবিস্কার হচ্ছে কিন্তু এখনো নগদ পরিশোধ করা আগের মতই গ্রহণযোগ্য এবং মানুষের পছন্দের। বর্তমান সময়ে কার্ড এবং অনলাইন ব্যাংকিং এর পরিবর্তে সরকারী বাজেট ডিজিটাল পদ্ধতিতেই পরিচালিত হচ্ছে। মজার ব্যাপার হলো, এই মুহূর্তে বিশ্ব জনসংখ্যার মাত্র ৯ভাগ মানুষই নগদে লেনদেন সম্পন্ন করে। একদিন নগদ ও কার্ডের এই ব্যবহার সম্পূর্ণ মুছে যাবে যখন আর প্রয়োজন হবেনা মানি ব্যাগ কিংবা এটিএম এর।

০২. সিরিঞ্জঃ সবার জন্য নিঃসন্দেহে এটা সুখের খবর যে খুব শিঘ্রই সিরিঞ্জ সূচ এর ব্যবহার লোপ পাবে। ছোট থেকে বড় এমন কেউ নেই যে সিরিঞ্জের এই সূচকে কিঞ্চিৎ হলেও ভয় করেনা। কেননা সুস্থতার প্রয়োজনে এই জিনিসটার ব্যবহার প্রত্যেকের জীবনে একাধিকবার ঘটেছে। গবেষণা সংস্থা এমআইটি ঘোষণা করেছে যে, তারা নতুন দুইটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে যেখানে এই সিরিঞ্জ ইনজেকশনের ব্যবহার লোপ পাবে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে জেট ইনজেকশন প্রযুক্তি যেটি শব্দের চেয়েও দ্রুত গতিতে এক ঝঁটকায় ত্বকের ভেতর ইনসুলিনকে ঢুকিয়ে দেয়। আর দ্বিতীয় প্রকল্পটি রোগীর সাথে সম্পর্ক যুক্ত যেখানে সে ক্যাপসুল গ্রহণ করবে এবং এর ভেতরেই  থাকবে সুঁই এবং তা তলপেটে গিয়ে চর্বির আস্তরণে ক্ষয় ঘটাবে।

০১. সিনেমা হলঃ বাইরে গিয়ে সিনেমা দেখার প্রবনতা দিন দিন হ্রাস পেতে যাচ্ছে। এখন বিনোদনের এসব কিছুই টেলিভিশন আপনার শোয়ার ঘরে সহজেই হাজির করে দিচ্ছে। যদিও এখনো বাইরে গিয়ে মুভি দেখা অনেকেই উপভোগ করেন, আর প্রযুক্তি সেখানেও অনেকটা পরিবর্তন এনে দিয়েছে। এখন আমরা দেখতে পাই ত্রিমাত্রিক সিনেমার জনপ্রিয়তা। ভবিষ্যতে এসব প্রজুক্তিই সিনেমা হলের চাহিদাকে বাড়ীর মধ্যেই হাজির করে দেবে যেখানে মানুষ সহজেই তা উপভোগ করতে পারবে। দিনদিন যেভাবে ভার্চুয়াল জগতে আমরা প্রবেশ করে চলেছি জানিনা একদিন প্রযুক্তি আমাদের কোথায় নিয়ে দাড় করায়?

 

আয়নার আয়নাবাজি – আয়নাবাজি মুভি রিভিউ

Now Reading
আয়নার আয়নাবাজি – আয়নাবাজি মুভি রিভিউ

মুভিটা গত বছর মুক্তি পেয়েছে মানে ২০১৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর । আয়নাবাজি মুক্তি পাবার আগেই সারা ফেলেছে দর্শকদের মাঝে । আয়নাটা বাজি এমন একটা মুভি যার ছবির পোস্টার থেকে শুরু করে ছবির শেষের দৃশে পর্যন্ত ছিল অসাধারণ কারু কাজ । ছবির মান নিয়ে কোনো কথা হবে না । অসাধারণ অভিনয় করেছেন ছবির অভিনেতারা ।

ছবির সামনে ও পিছনের মানুষ জন :

পরিচালনায় – অমিতাভ রেজা
চিত্রনাট্য – গাউসুল আলম শাওন , অনম বিশ্বাস
সংলাপ – আদনান আদিব খান
সংগীত পরিচালক – হাবিব ওয়াহিদ , ফুয়াদ , অর্ণব
প্রধান অভিনেত ও অভিনেত্রী – চঞ্চল চৌধুরী , নাবিলা , পার্থ বড়ুয়া লুৎফর রহমান

প্রথমে আসি অমিতাভ রেজার ব্যাপারে । নিসন্দেহে তিনি একজন ভালো নির্মাতা । উনি বেশ ভালো কাজ করেন নতুন পুরাতন সবাইকে নিয়ে । উনার বিজ্ঞাপন ও নাটকের মান খুবই ভালো । বিজ্ঞাপন ও নাটক দিয়ে এর আগেও নিজেকে প্রমান করেছেন অনেক বার । সর্বশেষ একটি টেলিকম এর বিজ্ঞাপন দিয়ে খুব ভালো ভাবে নিজেকে সবার সামনে প্রমান দিয়েছেন । এখন প্রশ্ন আসতে পারে তার ছবি নিয়ে । কারণ এর আগে তিনি কখনো ছবি পরিচালনা করেনি । তার প্রথম ছবি আয়নাবাজি । ধাপে ধাপে এগিয়েছেন এই মুভি নিয়ে । প্রথমে তিনি টিজার মুক্তির মাধম্যে সারা ফেলেদেন সবার মাঝে । তখন সবাই বুঝতে পারে ভালো কিছু আসছে । তারপর গান এবং সর্ব শেষ ছবির ট্রেলার মুক্তি দিয়ে কাঁপিয়ে দেন ইউটুবে কে । মানুষ তখন ছবি নিয়ে বেশ আলোচনা করছে । আর তখনি বোঝা গেল ছবিটা এইবার সত্যি সত্যি কাঁপিয়ে দিবে

ছবির গল্পের সাথে ছবির নামের স্বার্থগত ১০০ ভাগ মিলেছে । আয়নায় যেখানে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখা যায় ঠিক তেমনি আয়না বাজির ছবিতে আয়না চরিতের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছে সবার কাছে । চঞ্চল চৌধুরী মানে আয়না নিজেকে টাকার প্রযোজনে নিজে আরেক জনের ভিতরে প্রবেশ করে । অসাধারণ তার অভিনয় । এক চরিত্র থেকে বের হয়ে আরেক চরিত্রে কাজ করা মোটেও সহজ কথা নয় । এই গুণী অভিনেতা নিজেকে প্রমান করেছেন আরো আগেই আর এই ছবির মাধম্যে নিজের জাত তুলে ধরলেন সবার কাছে । আর সঙ্গী হিসেবে ও নিজেকে বেশ ভালোই প্রমান করলেন নাবিলা ।

৩০ তারিখে মুক্তি পাবার আগে থেকে সব টিকিট বিক্রি শেষ । মানে প্রতিটা শো হাউস ফুল গিয়েছে । এই জিনিস দেখে অনেকের মধ্যে আবার ফিল হতে শুরু করলো সিনেমার সোনালী দিন আবার ফেরত আসছে । ছবির শুরু তে অমিতাভ রেজা দর্শকদের কাছে পরিচয় করিয়ে দিলেন আয়না কে । সাধারণ জীবন যাপন , আর পুরান ঢাকার ঐতিহ্য কে সবার সাথে খুব ভালোভাবে তুলে ধরলেন তিনি । দেখিয়েছেন আমাদের সমাজে মানুষ টাকার জন্য কি করতে পারে আর মানুষ কে টাকা দিয়ে কি করানো যেতে পারে । দেখিয়েছে কিভাবে খুব সাধারণ ভাবে নিজের ভালোবাসা বলা যায় নিজের ভালোবাসার মানুষের কাছে । সাংবাদিক চরিত্রে খুব ভালো কাজ করেছেন পার্থ বড়ুয়া । ছবির স্বার্থে চঞ্চল চৌধুরী নিজেকে পরিবর্তন করেছেন অনেক । তিনি আয়নাবাজিতে নিজেকে মোট ৬ বারের ওপর পরিবর্তন করেছেন । কি সুন্দর তার অভিনয় । প্রথমে তিনি একটি পাগল ছেলের দৃশে অভিনয় করেন । যেখানে তিনি আরেক জন এর হয়ে জেল খেটে দিচ্ছেন ।এক এক বার তিনি এক এক জনের হয়ে জেল খাটছেন । এই ভাবে তার গল্প এগুতে থাকে ।সর্বশেষ একজন সমাজের প্রভাবশালী নেতার হয়ে জেল খাটেন কিন্তু প্রতিবার বের হতে পারলেও এই বার সে রাজনৈতিক নেতা তাকে বের না করাতে আদালত থেকে তার ফাঁসির রায় হয়ে যায় । আয়না তার নিজের মধ্যে অস্থির থাকলেও কাউকে বুঝতে দেয় না । ধীরে ধীরে বের হয়ে আসে জেল থেকে । এই ভাবে এগুতে থাকে ছবির ঘটনা ।

ছবির প্রতিটা বিভাগে কাজের মান ছিল অসাধারণ । সেই সাথে অমিতাভ রেজার পরিচালনা নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না । ক্যামেরায় রাশেদ সাহেবের কাজ দেখে আপনি নতুন করে ঢাকা কে চিনবেন । বিশেষ করে তিনি পুরান ঢাকা কে তুলে ধরেছেন খুব সুন্দর ভাবে । শুধু ক্যামেরায় নয় সংলাপ থেকে শুরু করে গানের প্রতিটা কথা যেন নিজেকে ছুঁয়ে যাবে । আপনিও হারিয়ে যাবেন তাদের সাথে ।

দিন দিন আমাদের হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরে আসছে এই সব ছবির মাধ্যমে । আসলে আমাদের দেশের হলের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে ভালো মানের ছবির অভাবে । আমাদের দেশের যেই সব গুণী পরিচালকরা আছে তারা যদি নিজেদের মেলে ধরতে পারেন ও অভিনেতারা যদি তাদের অভিনয়ের ১০০ ভাগ দিয়ে থাকেন তাহলে ছবি হিট হবেই আর দিন দিন হলের সংখ্যাও বাড়বে ।

আয়নাবাজি তার আয়নাগিরি দেখিয়ে যেমন জয় করেছে বাংলাদেশের মানুষের মন ঠিক দেশের বাহিরেও ছিল আয়নার বাজির প্রভাব । দেশের মাটিতে সফল ভাবে চলে বিদেশের মাটিতেও ছিল আয়নার জয় । সেই সাথে উঠেছে অনেক গুলো পুরস্কার । দেখিয়ে দিয়েছে ভালো ছবি করলে শুধু দেশে না বিদেশের মাটিতেও চলে