আয়ারল্যান্ডে বয়ে গেল বাংলাদেশ নামক ঝড় । আর এতে লন্ড ভন্ড আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন

Now Reading
আয়ারল্যান্ডে বয়ে গেল বাংলাদেশ নামক ঝড় । আর এতে লন্ড ভন্ড আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন

আয়ারল্যান্ড এর উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ের নাম সাতক্ষীরা এক্সপ্রেস । এই ঝড়ে লন্ড ভণ্ড হয়ে গিয়েছে আয়ারল্যান্ড এর ডাবলিন ।

আগে শেষটা দিয়ে শুরু  করা যাক । মানে আগের ব্যাটিং দিয়ে শুরু করি । এই রকম শুরু টা আমাদের সাথে সাথে নিশ্চয়ই হাথুরু সিংহে চেয়ে ছিলেন । নিউজিল্যান্ড আর আয়ারল্যান্ড এর সাথের পার্টনারশিপ খুব ভাল  লক্ষন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান দের জন্য । তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার মিলে করেন ৯৫ রানের জুটি । ব্যাথতার খাতা থেকে নিজের নাম মুছে দিলেন সাব্বির রহমনা । তিনি খেলেছেন এক অসাধারন ইনিংস । সৌম্য সরকার খেলেছেন এক চোখ ধাদানো ইনিংস ।

বাংলাদেশের ব্যাটিং বিশ্লেষণ

তামিম ইকবাল – আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার যত বড় হচ্ছে তার সাথে সাথে তামিম ও যেন নিজেকে পাকা করে নিচ্ছে । খুব ভাল খেলেছেন , শুধু আজ নয় গত ২ টি ম্যাচ ও তিনি তার নামের সুবিচার করেছেন । আজ তিনি তার ৩৬ তম হাফ সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৩ রান দূরে ছিলেন । চার মেরেছেন ৬য় টি । ৫৪ বলে ৪৭ রান করে অফ এর বল খোঁচা দিতে গিয়ে নেইল এর কাছে ক্যাচ বন্দি হন তিনি । খুব ভালো একটি ইনিংস খেলেছেন । যেমন নিজের রান বাড়িয়েছেন ঠিক দলের রান ও সেই তালে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন ।

সৌম্য সরকার – আস্তে আস্তে দলের এক ভরসার নাম হয়ে উঠছেন সৌম্য । বর্তমানে খুব মার মুখি হয়ে খেলছেন । এক প্রান্ত আগলিয়ে রাখছেন তামিম ইকবাল আর অন্য প্রান্ত মেরে খেলছেন সৌম্য সরকার । ওপেনার রা রান পেলে মিডেল অর্ডারদের জন্য বাকি কাজটা করা অনেকটা সহজ হয়ে যায় । আর ঠিক সেই কাজটাই করছেন সৌম্য সরকার । অসাধারন তার ব্যাটিং স্টাইল । আজ তিনি ১১ টি চার আর ২টি ছয়ের বিনিময়ে মাত্র ৬৮ বলে করেন ৮৭ রান অপরাজিত । দলের জয়ের ভূমিকায় ছিল তার অসাধারন অবদান । আস্তে আস্তে নিজের জাত কে সবার সামনে তুলে ধরছেন সৌম্য সরকার ।

সাব্বির রহমান – তামিম চলে যাবার পর সাব্বির রহমান যোগ্য সঙ্গীর মত খেলেছেন সৌম্য এর সাথে । আগের দুই ম্যাচে খালি হাতে ফিরলেও আজ তিনি করেছেন ৩৪ বলে ৩৫ রান । ৩ চার ও ১ ছয়ের মার মেরেছেন তিনি । ২৪ ওভারের মাথায় ব্যেরি এর বলে ক্যাচ তুলে দেন ডকরেইল এর হাতে । তার উচিত ছিল ম্যাচটা শেষ করে ফিরে আসা কিন্তু শেষের দিকে মার মুখি হয়ে খেলতে গিয়ে নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন ।

মুশফিক মাঠে দিয়ে সুধু জয়ের রধ টাকে নিজের করে নিলেন । তিনি ৭ বলে ৩ রান করে আয়ারল্যান্ডের উপর বয়ে যাওয়া ঝড় টাকে শেষ করেন ।

আজ বাংলাদেশের ম্যাচে অপ্রাপ্তির খাতার সংখ্যা থেকে প্রাপ্তির খাতায় সংখ্যা বেশি । আজ যেমন সাব্বির রহমান রান পেয়েছে আবার মুস্তাফিজ ফিরেছে তার আগের রুপে ।

আয়ারল্যান্ডে ঝড়ের শুরুটা করেন ফিজ । তিনি তার প্রথম ওভারে উইকেট তুলেনেন । আয়ারল্যান্ডকে তার হুংকার ছুড়ে দিয়ে বুঝিয়ে দেয় ফিজ শেষ হয়ে যায় নি । অফ এর বল খোঁচা দিয়ে সাব্বির এর হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যভিলিয়নে ফিরে যান পল । এর সাথে মুস্তাফিজ পেয়ে যান তার প্রথম উইকেট ও মেডেন অভার । মুশফিকের হাতে জীবন পাওয়া নায়াল ও’ব্রায়ানকে ফিরিয়ে দেন মুস্তাফিজ । আসাধারন এক ক্যাচ ধরেন তামিম ইকবাল । ৪২ বলে একটি করে ছক্কা-চারে ৩০ রান করে ফিরেন নায়াল ও’ব্রায়ান । কেভিন এর উইকেট নিয়ে ৩য় উইকেটের খাতায় নাম লেখান ফিজ । মোসাদ্দেক এর এক দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরিয়ে দেন কেভিন কে । ৪র্থ উইকেট নিয়ে নিজের জাত চেনান ফিজ । তার শেষ শিকার হন উইলসন। ফিজের তাণ্ডবে গুরিয়ে যায় আয়ারল্যান্ড । মাশরাফির টসে জিতে বোলিং নেয়াকে ফিজ প্রমান করে দেন ম্যাশ ভুল করেন নি ।

আজ যে শুধু ফিজ এর দিন ছিল তা কিন্তু নয় । কাপ্তান ম্যাশ কিন্তু কম যায় না । আজ তুলে নেন ২ উইকেট । জর্জ ডকরেল ও ১১ নম্বার ব্যাটসম্যান পিটার চেইস কে ফিরিয়ে দিয়ে চেনা ছন্দে আবার ফিরে আসেন তিনি ।

আজ মিরাজের বদলে অভিষেক হয়েছে সানজামুল এর । মিরাজ অবশ্যই ভাল একজন বোলার ও ব্যাটসম্যান । কিন্তু আজ পরীক্ষা মূলক ভাবে তার জায়গায় খেলনটা ভালোই হয়েছে । আর অভিষেক ম্যাচে হতাশ করেনি তিনি । দুই উইকেট তুলে অভিষেক ম্যাচকে সরণিয় করে রাখলেন ।

ম্যাশ এর বলে সহজ এক ক্যাচ ফেলে দিয়ে ছিলেন মোসাদ্দেক । আবার পরের ওভারে নিজের বলে নিজে ক্যাচ নিয়ে তা পুষিয়ে দেন তিনি । আজ খুব ভাল বল করেছেন ।

সেই সাথে আজ সাকিব ও ভালো জায়গায় বল ফেলেছেন । যার দরুন একটি উইকেট তার নামের সাথে যোগ হয় ।

মুলত আজ প্রত্যেক খেলোয়াড় তার নিজের সেরাটা দিয়ে খেলেছেন । প্রত্যেক বিভাগে ছিল নিজেকে উজাড় করে দিয়ে খেলার মন মানুষী গতা , আর যার ফলাফল বাংলাদেশ হাতে নাতে পেয়ে গেল ।

ট্রাই নেশনে বাংলাদেশের প্রথম জয় ছিল এটি ।

সব গুলো ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলের উপরে আছে নিউজিল্যান্ড । এক ম্যাচ ড্র আর আরেক ম্যাচ জয় দিয়ে টেবিলের ২য় স্থানে আছে বাংলাদেশ আর সবার নিচে আয়ারল্যান্ড।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
 
আয়ারল্যান্ড: ৪৬.৩ ওভারে ১৮১ (জয়েস ৪৬, স্টার্লিং ০, পোর্টারফিল্ড ২২, বালবার্নি ১২, নায়াল ৩০, কেভিন ১০, উইলসন ৬, ডকরেল ২৫, ম্যাকার্থি ১২, মারটাগ ৫*, চেইস ০; রুবেল ০/৪১, মুস্তাফিজ ৪/২৩, মাশরাফি ২/১৮, মোসাদ্দেক ১/২১, সাকিব ১/৩৮, মাহমুদউল্লাহ ০/১৩, সানজামুল ২/২২)
 
বাংলাদেশ: ২৭.১ ওভারে ১৮২/২ (তামিম ৪৭, সৌম্য ৮৭*, সাব্বির ৩৫, মুশফিক ৩*; চেইস ০/৫৫, মারটাগ ০/২৬, ম্যাকার্থি ১/৪২, স্টার্লিং ০/১৪, কেভিন ১/২২, ডকরেল ০/২০)

আয়ারল্যান্ড থেকে হারিয়ে গিয়েছে মুস্তাফিজ !!!!!!!!!!!!!!!!

Now Reading
আয়ারল্যান্ড থেকে হারিয়ে গিয়েছে মুস্তাফিজ !!!!!!!!!!!!!!!!

না ভাই আপনি ভুল কিছু পড়েনি । জী আয়ারল্যান্ড থেকে কিছুক্ষন আগে হারিয়ে গিয়েছে আমাদের মুস্তাফিজ ।

আস্তে ভাই আমাকে পাগল বা গালি দেয়ার আগে লেখাটি পড়েনিন । কিভাবে হারালো সেটা বলার আগে মুস্তাফিজ সম্পর্কে কিছু কথা বলে নেই ।

কিছুদিন আগে ফিজ কাউন্টি খেলতে ইংল্যান্ড এ গিয়ে ছিলেন । তখন তিনি সম্পুন ছন্দে । খুব ভাল বল করছিলেন সেখানে । ২১ জুলাই ঢাকা ছাড়েন মুস্তাফিজ । ইংল্যান্ড এ গিয়েই যোগ দেন সাসেক্সে এ । প্রথম ম্যাচে নিয়ে নেন ৪ উইকেট । এবং পেয়ে যান ম্যাচ সেরার উপহার । প্রথম ম্যাচেই নিজের জাত চিনিয়ে দেন খেলোয়াড়দের । কিন্তু পরের ম্যাচে দেখা গেল সেই সমস্যা । আইপিএল খেলতে গিয়ে প্রথমে পায়ে ব্যাথা পান তিনি । কিছু দিন ব্যাথা নিয়ে খেলে ফিরে আসেন দেশে ।দীর্ঘ এক মাস পুনর্বাসনের পর খেলার জন্য প্রস্তুত হন তিনি । তার পর তিনি সাসেক্সে হয়ে খেলতে দিয়ে ২য় ম্যাচে কাধে কিছুটা ব্যাথা অনুভব করেন । সেখান থেকে আর খেলা হয়ে উঠেনি ফিজের । কাধে ব্যাথা পান তিনি । এমআরআই করে দেখা গিয়েছে তার কাধে স্ল্যাপে (সুপিরিয়র ল্যাব্রাম অ্যান্টিরিয়র অ্যান্ড পোস্টেরিয়র) সমস্যা। আর তাকে খেলনো হয়নি। দেশে ফিরে আসেন

এর আগে তিনি ঘরের মাঠে যে কোন দলের জন্য ছিলেন বিপদ জনক । যার তাণ্ডবে উরে গিয়েছে ইন্ডিয়া , পাকিস্তান , নিউজিল্যান্ড সহ অনেক বড় বড় দল । ডাক পেয়ে গেলেন আইপিয়েলে । সানরাইজের হয়ে খুব ভাল খেলচ্ছিলেন । এমন কি আইপিয়েলে উদীয়মান সেরা খেলোয়াড় এর পুরস্কার তাকে দেয়া হয় । উইকেট শিকারির তালিকায় নিজেকে রেখেছিলেন সবার উপরে ।

চারিদেক যেন জয় জয়ো কার ছিল ফিজের । ঠিক তখনি ফিজকে সম্মান জানাতে ভুল করেনি আইসিসি । সেরা খেলোয়াড় এর তালিকায় তার নাম রাখা হয় । আর সেই সাথে ঘরোয়া লীগ তো আছে , সেখানেও তিনি তার নামের সুবিচার করে গিয়েছেন ।

কথায় আছে মানুষ তখনি সফল হয় যখন বাধা পাওয়ার পর আবার ফিরে আসে তার আপন রুপে ।

আর সেই রুপ দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে অনেক দিন । ফিজ তার আসল রুপে ফিরতে মনে হয় একটু বেশি সময় নিয়ে ফেলেছিলেন । কিন্তু তার সহকারী রা বলল ভিন্ন কথা । মাশরাফির বলেন আগে মুস্তাফিজ যা করেছে তা ছিল প্রায় অস্বাভাবিক কিন্তু এখন ফিজ যা করছে তা স্বাভাবিক । তাকে ব্যাটসম্যান রা জাজ করছে । তার খেলা দলের স্টাফ রা দেখছে দুর্বল পয়েন্ট গুলো খুঁজে বের করছেন । আমরা চাই ফিজ যেন আগের রুপে ফিরে এসে দলের জয়ের ভূমিকা রাখতে পারে ।

১১ আগস্ট লন্ডনের বুপা ক্রমওয়েল হাসপাতালে শল্যবিদ অ্যান্ড্রু ওয়ালেস অস্ত্রোপচার করেন তার কাঁধে। এরপর প্রায় আড়াই মাস পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ করে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেন তিনি। পুনর্বাসন প্রক্রিয়া থেকে ফিরে রিদম খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি । সবার একটাই কথা তাহলে মুস্তাফিজ কি ফুরিয়ে গেল ? এই প্রশ্নের উত্তর যেন সবাই খুজছে । এই উত্তর পাওয়ার জন্য সবাই তাকিয়ে ছিল নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলংকা সিরিজের উপর । না এই বারও তিনি নিজে কে আগের রুপে প্রমনা করতে পারেন নি । উইকেট নেয়ার প্রবণতা আর ইনজুরি যে তার রিদম কে হারিয়ে ফেলেছে ।

এই বছর আইপিএল খেলতে উড়ে গেলেন ইন্ডিয়াতে । প্রথম ম্যাচ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে দেখা গেল আরেক ফিজ কে । ২.৪ ওভারে দিয়েছেন ৩৪ রান । ওই ম্যাচের হারের কারন বোধ হয় তিনিই ছিলেন যার কারনে তাকে আর পরবর্তী ম্যাচ এ দেখা যায়নি ।

তারপর উড়াল দিলেন ট্রাই নেশন সিরিজ খেলার জন্য । প্রথম ম্যাচ বৃষ্টির জন্য পরিতেক্ত হয়ার কারনে আর নিজে কে প্রমান করতে পারেন নি ফিজ । ২য় ম্যাচ নিউজিল্যান্ড এর বিপক্ষে খুব ভাল বল করেছেন তিনি ৩৩ রানে দুই উইকেট তুলে নেন । আভাষ দিয়ে দেন মুস্তাফিজ আসছে ।

৩য় ম্যাচে আইরিশদের বিপক্ষে দেখা গেল আগের সেই ফিজ কে । প্রথম দুই বল ইনসুইঙ্গার দিয়ে বুঝিয়ে দেন আমি আবার আসছি । ঠিক ৩য় বলে তুলে নেন তার প্রথম উইকেট । ব্যাক অব লেন্থের লাফিয়ে উঠা বল ডিফেন্স করতে যান পল । বল ব্যাটের কানায় লেগে চলে যায় থার্ড ম্যানে । আরো অবাক কথার মত বিষয় হল তিনি প্রথম ওভারে কোন রান দেননি । এর পর এক অসাধারন ক্যাচ ধরেন মোসাদ্দেক । এই ভাবে ফিরিয়ে দেন আরো দুই জন ব্যাটসম্যান কে । আর তুলেনেন ৪ উইকেট । ২৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে দলের হয়ে এই ম্যাচ বেশি উইকেট শিকারি তিনি হন । ২ টি করে উইকেট নেন ম্যাশ ও সানজামুল । আর একটি করে উইকেট নিয়ে খাতায় নাম লিখান সাকিব ও মোসাদ্দেক ।

ফিজ এর তাণ্ডবে আর মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারেনি আইরিশ রা ।মাত্র ১৮২ রাতে ফিরতে হয় তাদের ১১ জন খেলোয়াড়দের । সেই সাথে হারিয়ে যায় ফিজের সাথে লেগে থাকা যত সমালোচনা । আয়ারল্যান্ড এর মাটিতে হারিয়ে যায় ফিজের অফ ফর্ম। ফিরে আসেন আগের রুপে । আশা করি তিনি তার এই ফর্ম ধরে রাখতে পারবেন সামনের ম্যাচ গুলোতে