শপথ গ্রহণ করলেন মেয়র আতিকুল ইসলাম ও কাউন্সিলররা

Now Reading
শপথ গ্রহণ করলেন মেয়র আতিকুল ইসলাম ও কাউন্সিলররা

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম শপথ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে শপথগ্রহণ করেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয়।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব এসএম গোলাম ফারুক। এ সময় অন্যদের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসির মেয়র পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নৌকা প্রতীক নিয়ে আতিকুল পান ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৩০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাফিন আহমেদ লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পান ৫২ হাজার ৪২৯ ভোট।
এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তরের নবনির্বাচিত ৩৬ কাউন্সিলরও আজ শপথ নিয়েছেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের কাছে তারা শপথ নেন।
শপথগ্রহণ শেষে নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলররা ধানমণ্ডিতে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে রওনা হয়েছেন। বেলা ১১টায় তাদের সেখানে পৌঁছার কথা রয়েছে। এর পর বেলা সাড়ে ১২টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে শহীদদের সমাধি ও ঢাকা উত্তরের সাবেক মেয়র আনিসুল হকের কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

নৌকা প্রতীক নিয়ে মো. আতিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৩০২ ভোট। আর লাঙ্গল প্রতীকে মোহাম্মদ শাফিন আহমেদ পেয়েছেন ৫২ হাজার ৪২৯ ভোট। এ নির্বাচনে ৩১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। মো. আতিকুল ইসলাম ডিএনসিসির প্রতিষ্ঠাতা মেয়র প্রয়াত আনিসুল হকের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসির মেয়র পদে উপনির্বাচনের পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) সম্প্রসারিত ১৮ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও ৬টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের নির্বাচনও হয়।
এ ছাড়া ডিএনসিসির সম্প্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডে এবং ৬টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদেও এদিন ভোট হয়েছে।

এ নির্বাচনে ডিএনসিসির মেয়রের সঙ্গে দুই সিটিতে ৩৬টি ওয়ার্ডে প্রথমবারের মতো ৪৮ জন (সংরক্ষিতসহ) নতুন কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পাশাপাশি ডিএনসিসির ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার ওসমান গনি মারা যাওয়ায় তার ওয়ার্ডেও উপনির্বাচন হয়।

এদিন শপথ নিয়েছেন ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত ৫০ কাউন্সিলরও। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম তাদের শপথবাক্য পাঠ করান ।

উপজেল নির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠ হবে বলে জানিয়েছেন রফিকুল ইসলাম

Now Reading
উপজেল নির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠ হবে বলে জানিয়েছেন রফিকুল ইসলাম

বিধি লঙ্ঘন করে সংসদ সদস্যরা আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণায় নেমেছেন বলে দৃষ্টি আকর্ষণের জবাবে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) রফিকুল ইসলাম বলেছেন, সংসদ সদস্যদের মাঠে নামার কোন সুযোগ নেই। তারা যেন প্রভাব সৃষ্টি করতে না পারেন সেজন্য স্পিকারের দ্বারস্থা হয়েছি।

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সত্যিকার অর্থে একটি আইনানুগ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) রফিকুল ইসলাম।

বুধবার সকালে রাজশাহীতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বিগত নির্বাচনগুলো নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নে রফিকুল ইসলাম বলেন, আস্থাহীনতার বিষয়টি স্বীকার করব না; তবে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠু করতে।

তিনি বলেন, এমপিদের নির্বাচনী প্রচারের কোনো সুযোগ নেই। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংসদ সদস্যরা কিভাবে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন- প্রশ্ন করলে রফিকুল ইসলাম বলেন, সংসদ সদস্যদের উপজেলা নির্বাচনের প্রচারে অংশ নেওয়ার বিষয়টি জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছি। ইতিমধ্যে রাজশাহী ও নাটোরের দুজন সংসদ সদস্যকে চিঠি দিয়ে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও তার ব্যতিক্রম কিছু ঘটলে কমিশন ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক বিশেষ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন ইসি রফিকুল ইসলাম। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

এর আগে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ওই সভায় বক্তব্য দেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমান। এতে জেলা প্রশাসক এসএম আবদুল কাদের, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন প্রস্ততি সম্পর্কেও কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের জন্য কমিশন প্রস্তত। তাই ভোটারদের বলতে চাই, একেবারে সত্যিকার অর্থে যার ভোট সে দেবেন। যাকে খুশি তাকে দেবেন। নির্বাচন কমিশনসহ আইন- শৃঙ্খলা বাহিনী এই বিষয়টি নিশ্চিত করবে। এর কোন ব্যত্যয় ঘটবে না। যারা এর বাধা হয়ে দাঁড়াবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, উপজেলা ভোট নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ না দেওয়ারই চেষ্টা করবো। এর পরও যদি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তাহলে আইনগত যা ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নেবো, কোন ছাড় নয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের বৈঠক

Now Reading
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের বৈঠক

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে জানিয়েছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি বিশ্বাস করি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার কথা রাখবেন।’
মঙ্গলবার (৫ মার্চ) দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার নিজ কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে বৈঠক করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব ছিলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অনেকে। সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান। সাক্ষাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলেও প্রাধান্য পাবে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি।
রবিবার নাইকো দুর্নীতি মামলায় আদালতে বেগম খালেদা জিয়া হাজিরা দিতে আসলে ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও খালেদা জিয়ার মধ্যে মিনিট দশেক কথোপকথন হয়। এসময় বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন তার শরীর ভাল যাচ্ছে না। ঠিক এরপরই বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করেন, চিকিৎসকদের কাছ থেকে যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না খালেদা জিয়া। তবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কোন রাজনৈতিক আলাপ হয়নিন বলে দাবি করেছেন মির্জা ফখরুল। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার দূরভিসন্ধি করে খালেদা জিয়াকে জামিন দিচ্ছেনা। খালেদা জিয়া চিকিৎসকদের কাছ থেকে যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলেও দাবী করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া।

সরকার কী এর সমাধান দেবে………

Now Reading
সরকার কী এর সমাধান দেবে………

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ সারা বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ কোটা সংস্কারে দাবিতে আন্দোলন শুরূ করেছে। আজ বেশ কয়দিন ধরে তারা এ আন্দোলন করে আসছে ছাত্ররা, কিন্তু তারা কোন ফল না পাওয়ায় তাদের আন্দোলনের মাত্রা বেড়েই চলেছে। তারা ৫ দফা দাবি জানিয়ে রাজ পথে নেমেছে।যত দিন এর সমাধান না হবে তারা রাজপথ ছারবে না। এরাতো সেই দেশের  সন্তান যারা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছিল। সেই দেশের সন্তানেরা কোটা সংস্কারের দাবিতে জীবন দিতে দিধাবোধ করবে না। আসলে আমরা বাঙ্গালী খুব জেদী।

বাংলাদেশের মত আরো কিছু দেশ আছে যারা রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছে। তবে আমাদের বাংলাদেশ সবার চাইতে আলাদা ভাবে স্বাধীনতা পেয়েছে।৩০ লক্ষ প্রাণ আর ৯ মাস বিশ্রামহীন সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলার দামাল ছেলেরা এনে দিয়েছিল স্বাধীনতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে  অংশগ্রহন কারী  মুক্তিযোদ্বাদের সম্নানার্থে তাদের কিছু সুযোগ সুবিধা দেয় সরকার। তার মধ্যে অন্যতম সরকারি চাকরিতে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয় মুক্তিযোদ্বাদের সন্তান, মুক্তিযোদ্বাদের ছেলের সন্তান, মুক্তিযোদ্বাদের মেয়ের সন্তানদের। যাদের বিশেষ কোটার মাধ্যমে ছাড় দিয়ে চাকরি দেওয়া হয়। এছাড়া এতিমদের বিশেষ কোটা, নারীদের কোটা, প্রতিবন্ধি কোটা ইত্যাদির মাধ্যমে ছার দিয়ে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেয়া হয়। যার ফলে মেধা ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে বৈষম্য দেখা যায়। ৫৬% কোটার ফলে কোটা ধারীরাই চাকরি পাচ্ছে। আর মেধাবীরা ‍ভালো পরীক্ষা দিয়েও চাকরি থেকে বনচিত হচ্ছে।যার ফলে বাংলাদেশের বেকার সমস্য বেড়েই চলে্ছে। একজন  ছাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে যদি চাকরি করতে না পারে, তাকে যদি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোতে চাকরির জন্য হাত পাততে হয় তাহলে কি দরকার ছিল এত কঠোর পরিশ্রম করে পড়াশোনা করা।পড়াশোনায় প্রতিযোগিতা করতে হয়, আর কোন প্রতিযোগিতা ছাড়াই সরকারি চাকরি পাচ্ছে কোটা ধারীরা। যার ফলে ছাত্ররা বলছে কোটা সংস্কার করে ১০% এর নিচে নামিয়ে আনতে হবে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ হোক। আমরাও সরকারি চাকরিতে সুযোগ চাই। তারা বলছে আমরা স্বাধীনতা বিরোধী নই বলে কোটা সংস্কার চায়।

বাংলাদেশের মুক্তি যোদ্বা্ কোটা ধারীরা বলছে অন্য কথা। তারা বলছে যারা কোটা সংস্কার চায় তারা মুক্তিযোদ্বা বিরোধী অর্থাৎ তারা নাকি রাজাকার। যতি তাই হবে বাংলাদেশের ৯৩% লোক চায় কোটা সংস্কার হোক। তাহলে এই ৯৩% লোকের সবাই কি রাজাকার? তারা আরো বলছে যদি কোটা সংস্কার হয় তাহলে ৫৬% কোটা থেকে ৭০% করতে হবে। তাহলে মুক্তিযোদ্বাদের যথাযত মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে মনে করা হবে।

এখন সময়ের ব্যাপার কাদের কথা সঠিক বলে গণ্য করে সরকার।

সনু নিগমের গলায় আজানের মাইক বেঁধে দেয়া হোক!

Now Reading
সনু নিগমের গলায় আজানের মাইক বেঁধে দেয়া হোক!

প্রথমেই বলে রাখি, আমি হিন্দি গান শুনিনা গত দেড় বছর। কানের কাছে বাজলেও অসহ্য লাগে। হ্যাঁ, আরেকটা কথা, হিন্দি আর উর্দূ কিন্তু একইরকম, লেখাটা ভিন্ন। কেন হিন্দি গান শুনিনা সে নিয়ে আরেকদিন বিস্তারিত বলবো। তবে এটা সত্য, আগে শুনতাম মাঝেমাঝে। তবে হিন্দি না বুঝেই, সুর ভালো লাগতো কিছু গানের তাই শুনতাম আরকি!

যাইহোক, যা বলছিলাম, মানসিক বিকারগ্রস্ত শিল্পী সনু নিগমের কথা। তাকে আমি ২০০৭ সালের আগে চিনতাম না। তার একটা গান শোনার পর আমি তার দারুণ ভক্ত হয়ে গেলাম, দেখলাম, সারা উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশ, ভারত , পাকিস্তান এই তিন দেশ এমনকি নেপাল ও শ্রীলঙ্কাতেও তার ভক্ত সংখ্যা অনেক। পরবর্তীতে সে বাংলাদেশে এসে গানের এলব্যামও বের করে গেছে !!

সবকিছু ভালোই চলছিল কিন্তু তার সেই বিতর্কিত টুইটের পর বদলে গেল সবকিছু।

কি ছিল সেই টুইটে যে পুরো ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানে তাকে নিয়ে বিতর্কের ঝড় বয়ে গেল?

প্রথম টুইটে বলা হয়েছিলঃ

God bless everyone. I’m not a Muslim and I have to be woken up by the Azaan in the morning. When will this forced religiousness end in India

এখানে সে ঠিক উন্মাদের মত লিখেছে। আজানকে সে forced religiousness  বা জোরপুর্বক ধর্ম চাপিয়ে দেয়া বলে উল্লেখ করেছে! আবার এটাও বলেছে, When will this forced religiousness end in India অর্থ্যাৎ, ভারতে কবে এই জোরপূর্বক ধর্ম চাপিয়ে দেয়া শেষ হবে?

আচ্ছা সনু , আপনি কি বলুন তো? আপনার মাথায় কি গোবর ভর্তি হয়ে আছে? নাকি আপনার বয়স বেড়ে গেছে, আগের মত সেই জোর নেই, আগের মত গান বা কনসার্টে ডাক পান না, তাই গলায় যতটুকু জোর আছে, তাই গলাবাজি থুক্কু টুইটবাজি করছেন? আপনার কি বুদ্ধি লোপ পেয়ে গেছে , খেয়াল নেই যে ভারতে কত মুসলমান মানুষের বাস?

আচ্ছা, এরপর কিছুক্ষণ পর তাল সামলাতে না পেরে আরেকটা টুইট,

And by the way Mohammed did not have electricity when he made Islam Why do I have to have this cacophony after Edison?

বেচারা এই টুইটে এসে নিজের মানসিক বিকলঙ্গতার পরিচয় দিলেন। পরিচয় দিলেন তার ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাবের। সে ইসলামকে আসলেই কোনোদিন ভালো চোখে দেখেনি। সারা জীবনের মনের সব ক্ষোভ ঢেলে দিলেন ইসলাম ধর্ম আর আজানের প্রতি।

কত বড় আহাম্মক হলে সে এই কথা বলে যে Mohammed did not have electricity when he made Islam – এখানে when he made Islam দ্বারা কি বোঝানো হচ্ছে? আমাদের নবী করিম মোহাম্মদ (সাঃ) ইসলাম ধর্ম “তৈরী” করেছেন? কোথায় যাবো এই মূর্খকে নিয়ে বলেন তো! এ শয়তান তো এটাও জানেনা যে ইসলাম ধর্ম আল্লাহর তৈরী এবং আল্লাহর নির্দেশে নবী করিম মোহাম্মদ (সাঃ) মানুষের নিকট এই শান্তির ধর্মের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। ইংরেজিতে যাকে Messenger বা ধর্ম প্রচারক বলা হয়ে থাকে। একে তো জুতা পেটা করা উচিত বলে মনে করি; আহাম্মক কোথাকার!!

একটা কথা এখানে বলে রাখি, সে কিছুক্ষণ পর পর টুইট করেছে।

প্রথম টুইট ছিল 5:55 AM – 17 Apr 2017 তে,

দ্বিতীয় টুইট 6:01 AM – 17 Apr 2017,

তৃতীয় টুইট 6:06 AM – 17 Apr 2017 এবং

চতুর্থ টুইট যে কিনা ছোট একটি “Gundagardi hai bus…” 6:19 AM – 17 Apr 2017 তে।

অর্থ্যাৎ সে সময় নিয়ে ভেবেছে এবং লিখেছে কিন্তু সেটা মনের সব ক্ষোভ উগরে দিয়ে। নিজেকে সামলাতে পারেনি। আচ্ছা, এরপর তৃতীয় টুইট তো আরো মজার!

তৃতীয় টুইটে কি লিখলেন?

I don’t believe in any temple or gurudwara using electricity To wake up people who don’t follow the religion. Why then..? Honest? True?

বুঝলেন, হাসি আটকে রাখতে পারছি না; তার শেষ টুইটের আমি দুইটা ব্যাখ্যা দাড় করাতে পারি।

প্রথম ব্যাখ্যাঃ  ইসলাম নিয়ে বলা হয়েছে বলে সেটা একপেশে হয়ে গেছে। বা একপেশে শোনাচ্ছে। তাই ব্যাপারটাকে সামাল দিতে কি বলা হলো? সে নাকি মন্দির আর গুরুদুয়ারাতেও মাইক বাজানো পছন্দ করে না।

দ্বিতিয় ব্যাখ্যাঃ  who don’t follow the religion কথা দ্বারা ফুটে উঠেছে তার নাস্তিকতার পরিচয়; হ্যাঁ সনু নিগম কোনো ধর্মে বিশ্বাসী নন। হয়তো বা এটাই এই টুইটটার মাধ্যমে একটু নাটকীয় ভাবে উপস্থাপন করা আরকি!

তার চতুর্থ টুইট নিয়ে আর কথা বলতে চাচ্ছি না; তবে একজনের করা মন্তব্যে সে লিখেছে Learn to accept & respect our religious differences. Living in a multi-religious society demands some tolerance (6:39 AM – 17 Apr 2017)

Living in a multi-religious society demands some tolerance……! ওহ মাই আল্লাহ!! আমি তো এইটা জানতাম না! জীবনে প্রথম শুনলাম এমন কথা। সনু দাদা ( তোরে দাদা বলতেও মন সায় দিচ্ছে না, কিন্তু আমি তো ভদ্র তাই সম্মান দিয়ে বললাম আরকি! ) আপনাকে সামনে পেলে বলতাম, আমি মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের এক বিভাগীয় শহরের খ্রিষ্টানদের এলাকায় বড় হয়েছি; সেখানে শহরের বড় গীর্জা ছিল, মন্দির ছিল আর মসজিদ তো ছিলই। বড় দিন এলে ২৫ ডিসেম্বর এর আগে প্রতি সন্ধ্যাঁয় গানের দল এসে খ্রিষ্টানদের বাড়িতে বাড়িতে গান করতো, আমরা সবাই বারান্দায় দাড়িঁয়ে সেই গান শুনতাম, হিন্দু বাড়িতে , অনুষ্ঠানে নিয়মিত গিয়েছি কারণ সবচাইতে কাছের বন্ধু একজন হিন্দু। শুধু আপনিই মাল্টি-রিলিজিয়াস সমাজে বাস করেন না, আমরাও করি; কই কোনদিন তো দেখলাম না শুনলাম না এমন কথা আপনি যেটা বললেন!

শুনুন, সর্বশেষে একটা কথা বলি,

আজান এর জন্য মাইকের ব্যবহার যদি আপনার কাছে শব্দদূষণ বা cacophony হয়ে থাকে, তবে আপনার গলায় আজান সহ একটা মাইক বেঁধে দেয়া উচিত বলে মনে করি; শব্দদূষণ নাকি কি বুঝতে পারতেন; যে আজানের ধ্বনিতে মনে প্রশান্তি আসে, তাকে বলেন শব্দদূষণ আর জোর করে ধর্ম চাপিয়ে দেয়া! বাহ সনু বাহ!

Page Sidebar