3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

প্রত্যাশিত সে বার্গারটি কি খাওয়া হয়েছে দুই শত্রুর!

Now Reading
প্রত্যাশিত সে বার্গারটি কি খাওয়া হয়েছে দুই শত্রুর!

শেষ পর্যন্ত সকল জল্পনার অবসান ঘটিয়ে  মি. ট্রাম্প এবং মি. কিম এর মধ্যে শতাব্দীর আলোচিত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকটি আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কিনা তা নিয়েই তৈরী হয়েছিল সংশয়। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংস করে ফেলার বিষয়টির সঙ্গে লিবিয়া বা ইরাকের সরাসরি তুলনা করায় ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ং’এর মধ্যে বাগবিতন্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ব্যক্তিগত চিটিতে উত্তর কোরীয় প্রেসিডেন্ট কিম কে জানিয়ে দিয়েছেন, তারা বৈঠকের ব্যাপারে আগ্রহী নয়। পরবর্তীতে মি.কিম ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে চিঠি লিখলে আবারো বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে সিঙ্গাপুরের স্যান্টোসা দ্বীপের ক্যাপেলার বিলাসবহুল হোটেলে দুই দেশের প্রধানদের সাক্ষাৎ পরবর্তী কিছু সময় কেটেছে একান্তই ব্যক্তিগতভাবে। মধ্যাহ্নভোজনের পর ক্যাপেলার বিলাসবহুল হোটেলের বাগানে একসাথে হাঁটতে দেখা যায় মি. কিম ও মি. ট্রাম্পকে। তারা হোটেলটির বাগানে কিছুটা সময় হেঁটে একান্ত আলাপ করেন, আর এই সময়টুকুতে দুই নেতাকে বেশ প্রফুল্ল দেখা যায়। হোটেলটির কর্তৃপক্ষ খাওয়া দাওয়ার বেশ আয়োজন করে। তবে খাওয়ার মেন্যুতে সবেচেয়ে স্পেশাল যে আইটেমটি ছিল তার প্রতি সকলের আগ্রহ ছিল খুব বেশি। আর এই আইটেমটি হচ্ছে বার্গার, কেননা ২০১৬’তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় মি. ট্রাম্প বলেছিলেন যে তিনি মি. কিম’এর সাথে বার্গার খেতে চান। তাই অন্যান্য আইটেমের পাশাপাশি রাখা হয়েছে সেই প্রত্যাশিত বার্গার।

হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে মি. ট্রাম্প ও মি. কিমের একান্ত বৈঠকটির স্থায়ীত্বকাল ছিল ৩৮ মিনিট। আর উক্ত বৈঠকটিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং-আনের মধ্যে ছিল যৌথ স্বাক্ষর করা বিবৃতি। কিন্তু ঐ যৌথ বিবৃতিতে কি ছিল তা এখনো স্পষ্ট নয়। এদিকে বৈঠক সম্পর্কে মি. ট্রাম্প বলেছেন, “অত্যন্ত ঘটনাবহুল ২৪ ঘন্টা পার করলাম আমরা। সত্যি বলতে ঘটনাবহুল তিনটি মাস পার হলো।”

এদিকে বৈঠকের আলোচনা পরবর্তী এবং বিবৃতির চারটি প্রধান পয়েন্ট হচ্ছেঃ

  1. যুক্তরাষ্ট্র ও গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়া নতুনভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থাপনে উদ্যোগী হবে ,যাতে দুই দেশের মানুষের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও উন্নতির বিষয়টি প্রতিফলিত হবে।
  2. কোরিয় উপদ্বীপে স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ শাসনব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে যৌথভাবে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রী কোরিয়া।
  3. ২৭শে এপ্রিল ২০১৮’র পানমুনজাম বিবৃতি অনুযায়ী কোরিয় উপদ্বীপকে সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের অঙ্গীকার রক্ষা করবে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রী কোরিয়া।
  4. যুক্তরাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রী কোরিয়া যুদ্ধবন্দীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভূমিকা রাখবে এবং এরই মধ্যে যেসব যুদ্ধবন্দী চিহ্নিত হয়েছেন তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অতিস্বত্তর শুরু করবে।

মি. ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন বিবৃতিটি “খুবই গুরুত্বপূর্ণ” এবং “বেশ সুসংহত” ছিল এবং তিনি ও “চেয়ারম্যান কিম” দুজনই এটি স্বাক্ষর করতে পেরে “সম্মানিত” বোধ করেছেন।

অন্যদিকে মি. কিম বলেছেন তাঁরা একটি “ঐতিহাসিক বৈঠক করেছেন এবং অতীতকে পেছনে ফেলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।” তিনি “এই বৈঠককে সম্ভবপর” করার জন্য মি. ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান।

এই দুই নেতার আলোচিত বৈঠকের সময় উপস্থিত ছিলেন দুই দেশেরই শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। তবে প্রেসিডেন্ট কিম যেহেতু ইংরেজি ভাল বুঝেন না তাই তার দোভাষী হিসেবে ছিল ক্যাথরিন কিলোগ নামের এক সুন্দরি রমণী। এই মহিলাটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল কৌতহল, কেননা তার উপরও নির্ভর করছে আলোচনা ফলপ্রসূ হবে কিনা। যাই হউক দুই প্রেসিডেন্ট এর ভাষায় আলোচনা বেশ সফল হয়ে বলা যায়।

উত্তর কোরীয় প্রেসিডেন্ট এর সাথে বৈঠকে আরো ছিল:

কিম ইয়ং-চল (কিমের ‘ডানহাত’ হিসেবে পরিচিত), উত্তর কোরিয়ার এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এমাসের শুরুতে বৈঠকের অগ্রদুত হিসেবে ওয়াশিংটন গিয়েছেন।

রি ইয়ং-হো: তিনি উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী, এই কূটনীতিক ৯০ এর দশকেও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন।

রি সু-ইয়ং: উত্তর কোরিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বর্তমানে পিয়ংইয়ং’এর শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তা।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ছিল:

মাইক পম্পেওঃ যুক্তরাষ্ট্রের নব নিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সাবেক সিআইএ প্রধান।  

জন কেলিঃ মার্কিন সেনাপ্রধান ।

জন বোল্টনঃ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। তার অযাচিত মন্তব্যের কারণেই প্রায় নস্যাৎ হয়ে গিয়েছিল বৈঠকটি।

 

যৌথ বিবৃতির ব্যপারে বিস্তারিত কিছু জানা সম্ভব না হলেও ঘটনা পর্যবেক্ষণে অনুমান করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কিম জং নিন্মোক্ত বিষয়গুলির সমাধান চেয়েছেনঃ

নিরাপত্তাঃ গত কয়েক দশক ধরেই উত্তর কোরিয়া এই একটি কারনেই তাদের পারমাণবিক অস্ত্র গড়ে তুলেছে যাতে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবী অনুযায়ী তারা যদি পারমাণবিক কর্মসূচী বাদ দেয় তবে বিনিময়ে চাইবে যেন, যুক্তরাষ্ট্র কোরীয় অঞ্চল থেকে তার সকল যুদ্ধ বিমান ও সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয় এবং পুনরায় যেন আর না পাঠায়।

সন্মানঃ কিম জং আন বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চান। তার ইচ্ছা, উত্তর কোরিয়াকে যেন নিপীড়নকারী দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উত্তর কোরিয়া অন্যদের সমান মর্যাদা চায় আমেরিকা, রাশিয়া, চীন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি।

প্রাচুর্যঃ উত্তর কোরিয়ার মূল বিষয় হচ্ছে অর্থনীতি। তারা চায় আন্তর্জাতিক অবরোধ উঠিয়ে নিয়ে তাদের ব্যবসা বানিজ্যের পথ উন্মুক্ত করা হউক।

উত্তর কোরিয়া আদৌ কি তাদের সব পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস করবে?

Now Reading
উত্তর কোরিয়া আদৌ কি তাদের সব পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস করবে?

উত্তর কোরিয়া প্রেসিডেন্ট মার্কিন প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদের পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রনে সহনশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে। উত্তর কোরিয়া প্রশাসন জানিয়েছে, তারা তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পর্যায়ক্রমে ধ্বংস করছে। গত সপ্তাহে পিয়ং ইয়ং তাদের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র পুঙ্গি রি কমপ্লেক্সটি ধ্বংস করেছে দেশটি।

পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র পুঙ্গি রি কমপ্লেক্সটি দেশটির উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায়। এই কেন্দ্র থেকেই ২০০৬ সাল থেকে অন্তত ছয়টি পারমানবিক পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি।তারা আগেই ঘোষণা করেছিল যে, এটিকে ভেঙ্গে ফেলার জন্য তারা প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নিয়েছে। উত্তর কোরিয়া এখন অনেকটাই নমনীয় হয়ে বলছে তারা পরমাণু কার্যক্রম থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কিন্তু সে ব্যাপারে কিছুটা জঠিলতার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি মতবিরোধের জের ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে আসন্ন বৈঠক থেকে সরে আসারও হুমকি দিয়েছে দেশটি। আর এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ব্যক্তিগত চিটিতে উত্তর কোরীয় প্রেসিডেন্ট কিম কে জানিয়ে দিয়েছেন, তারা বৈঠকের ব্যাপারে আগ্রহী নয় যদিনা উত্তর কোরিয়া তাদের সম্প্রতি দেয়া বক্তব্যগুলার বিষয়ে চিন্তাধারার পরিবর্তন না ঘটায়। কিন্তু সারা বিশ্বের কাছে প্রাথমিকভাবে পারমানবিক পরীক্ষা কেন্দ্রটি বন্ধ করা স্বাগত জানানোর মতো একটি পদক্ষেপ। তবে মনে করা হয় যে দেশটি তার পারমানবিক কর্মসূচি যথেষ্ট উন্নত করে ফেলেছে এবং কেন্দ্রটিতে এখন আর পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। উত্তর কোরিয়া তার পারমানবিক অস্ত্র কার্যক্রম পুঙ্গি রি কমপ্লেক্স কার্যক্রমের চেয়ে অনেক দুর এগিয়ে গেছে। মূলত কেন্দ্রটিতে পারমানবিক সুবিধা রাখা হয়েছিলো পারমানবিক অস্ত্র কর্মসূচির পরীক্ষার জন্য। পর্বতের কাছে মাটির নীচে টানেল করে কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছিল এবং যাবতীয় পরীক্ষা ঐ টানেলের মধ্যেই করা হত। ধ্বংস করার পূর্বেই শোনা গিয়েছিল এর একটি অংশ আগেই ধ্বসে পড়েছে।

উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যেই আমন্ত্রণ জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ান ও আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের উক্ত পারমাণবিক কেন্দ্রটি দেখতে যে স্বচ্ছতার সাথেই তারা টানেলটি ধ্বংস করেছে। তবে অনেকেই বলছেন যে উত্তর কোরিয়ার আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি পরিষ্কার নয় যে তারা আদৌ বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে কিনা। এদিকে পুঙ্গি রি কেন্দ্রটি ধ্বংস করলেও দেশটির পরমাণু স্থাপনা আদৌ অকার্যকর হচ্ছে কি না তা যাচাই করতে বেশ কয়েক বছর লেগে যাবে। পারমাণবিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘ সমর্থিত সংস্থা কমপ্রিহেন্সিভ নিউক্লিয়ার টেস্ট ব্যান ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা সিটিবিটিও বিশেষজ্ঞরাই মূলত কেন্দ্রটি পুরোপুরি অকার্যকর হয়েছে কি না সেটি বলতে সক্ষম। এ সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী পারমানবিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা নিয়ে কাজ করে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ না হলে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি কয়েক বছরের মধ্যেই পুনরায় শুরু করতে পারবে। তাছাড়াও পুংরি ছাড়াও দেশটিতে আরো একাধিক পারমাণবিক স্থাপনা আছে বলে সন্দেহ করা হয়। পুঙ্গরি ধ্বংসের মাধ্যমে বোঝা যাবেনা উত্তর কোরিয়া নতুন কোন পরমাণু পরীক্ষা কেন্দ্র অন্যদিকে চালু করছে কিনা। দেশটিতে আরো পারমাণবিক কেন্দ্র চালু করার মতো অনেক পর্বত রয়েছে।

বছরের শুরুতেই কোরীয় উপত্যকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। কিন্তু তাদের এ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশা পুরোপুরি মেটাতে পারেনি, ট্রাম্প প্রশাসন চেয়েছে উত্তর কোরিয়া এমন কিছু করে দেখাক যেখান থেকে বুঝা যায় তারা সত্যিকার  অর্থেই পারমাণবিক কর্মসূচী পরিহার করেছে।

সিঙ্গাপুরের শীর্ষ বৈঠক নিয়ে মার্কিন এবং উত্তর কোরিয়া প্রশাসনের ধোঁয়াশা ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

Now Reading
সিঙ্গাপুরের শীর্ষ বৈঠক নিয়ে মার্কিন এবং উত্তর কোরিয়া প্রশাসনের ধোঁয়াশা ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

মার্কিন নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং আনের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত বৈঠকটি সম্ভবত হোঁচট খেতে চলেছে। আগামী ১২ই জুন সিঙ্গাপুরে বসার কথা ছিল এই দুই নেতার। তবে এখনি সব কিছু পরিস্কার করে বলা যাচ্ছেনা। শুরুতেই যখন এই দুই নেতার একসাথে বসার কথা উঠেছিল তখন অনেকেই তুলনা করেছিল এক ঘাটে বাঘ আর কুমির কিভাবে মিলিত হবে? কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে বরফ গলতে শুরু করেছে যখনি তখন আবার হতাশার ঘনঘটা। সকল সুযোগ সৃষ্টি হলেও এখন আবার পরিস্থিতি পাল্টে যাওয়ার জোগাড়। উত্তর কোরিয়া পূর্ব থেকেই ঘোষণা দিয়েছিল যে, আমেরিকা যদি পারমাণবিক অস্ত্র নষ্ট করে ফেলার জন্য তাদের ওপর চাপ দেয় তাহলে তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে বসতে রাজী নয়। এর কারন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন রোববার এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংস করে ফেলার বিষয়টির সঙ্গে লিবিয়া বা ইরাকের সরাসরি তুলনা টেনে উদাহরণ দিয়েছেন। আর তাতেই চটেছেন উত্তর কোরীয় প্রশাসন। উত্তর কোরিয়ার জন্য মোটেই সুখকর হয়নি জন বোল্টন এর বিবৃতিটি। আর বোল্টন বরাবরি অপছন্দ করে উত্তর কোরিয়া কেননা পূর্বেও তিনি বলেছেন উত্তর কোরিয়ার ওপর প্রয়োজনে হামলা চালানো আমেরিকার জন্য ”পুরোপুরি বৈধ”। আর এবার আবারো আগুনে ঘি ঢেলে দিলেন, তিনি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রসঙ্গে লিবিয়াকে মডেল হিসেবে অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে উত্তর কোরিয়াও আর দেরী না করে এক বিবৃতিতে, আমেরিকার বিরুদ্ধে ‘অশুভ অভিপ্রায়’ এবং দায়িত্বহীন বিবৃতি দেয়ার অভিযোগ করেন। উত্তর কোরিয়ার উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী কিম গিয়ে গুয়ান এজন্য সরাসরি দায়ী করেছেন জন বোল্টনকে।

এদিকে উত্তর কোরীয় রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত মি: কিমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমেরিকা যদি আমাদের কোণঠাসা করে একতরফা দাবি করে পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়তে হবে, তাহলে আমরা সেই আলোচনায় আর আগ্রহী নই” সেক্ষেত্রে ১২ই জুন সিঙ্গাপুর বৈঠকের বিষয়টি আমাদের আবারো ভাবতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে উত্তর কোরিয়া চায় ওই এলাকাতে যাতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি না থাকে যা যুক্তরাষ্ট্র কোনভাবেই মানতে চাইছে না। এছাড়াও ওই এলাকায় অন্যান্য দেশগুলোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র যে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে উত্তর কোরিয়া সেটাও চায় না। সবচেয়ে বড় আপত্তি কোরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া।

উত্তর কোরিয়া বহুবছর ধরেই বলে আসছে রাষ্ট্র হিসাবে টিকতে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা অত্যাবশ্যক। এখন কিমের বক্তব্যের পর দেশটির সেই দাবি আরও স্পষ্ট হল। যদিও উত্তর কোরিয়া চেয়েছে অন্তত আমেরিকার সাথে তাদের বৈরিতার বরফ গলিয়ে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হউক, যা এখন দোদুল্যমান অবস্থায় পড়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার এক ব্যাক্তিগত চিঠিতে উত্তর কোরীয় প্রেসিডেন্টকে বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন, যাকে সবাই ‘ট্রাম্প স্টাইল কূটনীতি’ হিসাবে দেখছে। চিঠিতে ট্রাম্প এক প্রকার হুমকি দিয়ে বসেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল আর শক্তিশালী পারমানবিক অস্ত্রের কথা উল্ল্যেখ করে লিখেছেন, তিনি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন যেন, সেগুলো কখনো যেন ব্যবহার করতে না হয়। কিন্তু এই চিঠির পরবর্তী পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র বা উত্তর কোরিয়া কিভাবে নিচ্ছে তা এখন দেখার বিষয়!

শান্তির পথে উত্তর কোরিয়া

Now Reading
শান্তির পথে উত্তর কোরিয়া

শেষ পর্যন্ত লড়াকু মনোভাব পরিত্যাগ করে সকল প্রকার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করলেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। তার এই ঘোষণায় কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিস্থাপন করতে ২১ এপ্রিল থেকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষা ও আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত এর সকল প্রকার পরীক্ষা বন্ধ রাখবে। তাছাড়া কোরীয় উপদ্বীপে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো ও শান্তির প্রয়োজনীয়তা দেখছে দেশটি তাই পূর্বের অবস্থা থেকে সরে এসে নমনীয় হয়েছে প্রেসিডেন্ট কিম। যদি এটি ঘটে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও উত্তর কোরীয় নেতার মধ্যে এটি প্রথম কোনো বৈঠক হবে।

North Korean nuclear warhead

উল্লেখ্য, গেল বছরের নভেম্বরে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের একটি সফল সফল পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। এতে কোরীয় উপদ্বীপের রাষ্ট্রসমূহ এবং আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে দেশটি। উত্তর কোরিয়া দাবী করে তাদের পরীক্ষাকৃত ক্ষেপণাস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো জায়গায় সফল আঘাত হানতে সক্ষম। মূলত এ পরীক্ষার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেশ তৎপর হয়। তাদের দাবী উত্তর কোরিয়া বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করে আসছে।

এদিকে কিমের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার এক টুইট বার্তায় বলেছেন- ‘এটি একটি বিশাল অগ্রগতি এবং উত্তর কোরিয়া ও বিশ্বের অন্যদের জন্য খুব ভালো খবর’। ট্রাম্প আরো বলেন, উত্তর কোরিয়া পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ করলে সামনে তার জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। আর দক্ষিন কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে তাদের মুখপত্র বলেছেন- উত্তর কোরিয়ার এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ এবং অর্থবহ অগ্রগতি।

আগামী জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ান প্রেসিডেন্ট কিমের মধ্যকার এক সামিট আয়োজিত হতে পারে যা নজিরবিহীন। যদি এমনটা হয় তবে, ক্ষমতাসীন মার্কিন কোন প্রেসিডেন্টের সাথে উত্তর কোরিয়ার কোনো নেতার এটাই হবে আনুষ্ঠানিক প্রথম বৈঠক। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন এবং উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন এর মধ্যে টেলিফোনে সংযোগ স্থাপিত হয়।  এদিকে এই দুই কোরীয় নেতার বৈঠকের বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে, তাই আশা করা যাচ্ছে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই হয়ত তা হবে। দুই চির শত্রুভাবাপন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হলে তা হবে গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে দুই কোরিয়ার শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রথম বৈঠক।

মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএর সাবেক পরিচালক মাইক পম্পিও এক গোপন সফরে উত্তর কোরিয়া গিয়ে ওই দেশটির নেতা কিম জং আনের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তাই সবার ধারণা ট্রাম্প ও কিম জং ইনের মধ্যকার বৈঠকের  প্রস্তুতি হিসেবেই পম্পিওর ওই সাক্ষাৎ। কিছুদিন আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সরকারে নতুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পম্পিওর নাম ঘোষণা করেছিলেন। ট্রাম্প নিজেও কিছুদিন পূর্বে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সাথে উচ্চ পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও উত্তর কোরিয়া সফরের পরিকল্পনা করছেন, অবশ্য কিছুদিন আগেই কিম জং ইন নিজেও বেজিং সফর করে এসেছেন। এদিকে সবকিছু সামনে রেখেই প্রভাবশালী দেশসমূহ কোরীয় দ্বীপের রাষ্ট্রটির সাথে নানামুখী ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে লক্ষ্য করা যাচ্ছে প্রায় প্রতিটি দেশই উত্তর কোরিয়াকে শান্ত রাখতে কৌশল অবলম্বন করেছে, আর তাদের সে উদ্দ্যেগকে শ্রদ্ধা জানিয়ে উত্তর কোরিয়াও নমনীয় হয়ে এই ঘোষণাটি দিল।