অবশেষে সভাপতি বরণ করে নিলেন সহসভাপতি নূরকে, আলিঙ্গন করলেন পরস্পর

Now Reading
অবশেষে সভাপতি বরণ করে নিলেন সহসভাপতি নূরকে, আলিঙ্গন করলেন পরস্পর

ছাত্রলীগ মনোনীত ভিপি প্রার্থী কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বরণ করে নিলেন ডাকসু নির্বাচনে ভিপি (সহ-সভাপতি) পদে বিজয়ী বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নূরকে। রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও নুরুল হক নূর পরস্পর আলিঙ্গন করেন আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে।

এর আগে আজ মঙ্গলবার দুপুরে ভিসি চত্ত্বরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ফলাফল মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান শোভন। নেতাকর্মীদের শান্ত করতে এসে তিনি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের এ ঘোষনা দেন।

বাংলাদেশ ১৬ কোটি মানুষ সবাইকে আমাদের দেখে রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরো বলেন কাউকে পর করে দিলে হবে না। ছাত্রলীগের কর্মীদের মন অনেক বড়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ঠিক রাখতে সবাইকে একসাথে নিয়ে কাজ করতে চাই বলে তিনি জানিয়েছেন এবং সেই সাথে নূরও আমাদের সাথে থাকবে।

হিরো আলমের জন্য জামিন চাইলেও নামঞ্জুর করে দিলো আদালত।

Now Reading
হিরো আলমের জন্য জামিন চাইলেও নামঞ্জুর করে দিলো আদালত।

যৌতুক না পেয়ে হিরো আলম গত ৫ মার্চ সন্ধ্যায় তার স্ত্রী সাবিয়া আক্তার সুমিকে মারপিট করেন। পরদিন হিরো আলমের শশুর সদর থানায় হিরো আলমের বিরুদ্ধে মামলা করলে পুলিশ তাকে থানায় ডেকে গ্রেফতার করে। এরপর থেকে হিরো আলম বগুড়া কারাগারে রয়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে সেলে রাখা হয়েছে।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতেও জামিন পাননি, বগুড়ায় যৌতুকের দাবীতে স্ত্রী নির্যাতন মামলায় গ্রেফতার ও কারারুদ্ধ আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলম।

সোমবার বিকালে তার পক্ষে জেলা ও দায়রা জজ নরেশ চন্দ্র সরকার শুনানি শেষে নামঞ্জুর করেন। যদিও বগুড়া বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম সাইফুল ইসলাম জামিন চেয়েছিলেন ।
জানা গেছে, বগুড়া সদরের এরুলিয়া গ্রামের মৃত আহম্মদের ছেলে হিরো আলম পেশায় ক্যাবল অপারেটর বা ডিশ ব্যবসায়ী। পরবর্তীতে মিউজিক ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। নির্বাচন বর্জন করেন। তার এ প্রার্থিতা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়।
যৌতুক না পেয়ে হিরো আলম গত ৫ মার্চ সন্ধ্যায় তার স্ত্রী সাবিয়া আক্তার সুমিকে মারপিট করেন বলে জানান পুলিশ। ৭ মার্চ বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির কর হয় হিরো আলমকে । তার পক্ষে অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান স্বপন জামিন চাইলে শুনানি শেষে বিচারক আহম্মেদ শাহরিয়ার তারিক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুননির্বাচনের দাবী সরাসরি নাকচ করে দিলেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

Now Reading
পুননির্বাচনের দাবী সরাসরি নাকচ করে দিলেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

নানা অভিযোগ এবং অধিকাংশ প্যানেলের প্রার্থীদের বর্জনের মধ্যে দিয়ে গতকাল সোমবার শেষ হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু ও হল সংসদগুলোর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নির্বাচন। ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া পার্থীরা অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে পুনঃভোটের দাবি জানালেও সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
নির্বাচন হয়ে গেছে, ফলাফলও ঘোষণা করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের জানালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান। তিনি আরো বলেন আমাদের গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও ডাকসুর গঠনতন্ত্র- এগুলো নিয়ে চলতে হবে।
নির্বাচন নতুন করে হওয়ার কোনো সুযোগ আর নেই বলে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন আর উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ।
অনিয়মের নানা অভিযোগ এবং অধিকাংশ প্যানেলের প্রার্থীদের বর্জনের মধ্যে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু ও হল সংসদগুলোর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নির্বাচন সোমবার শেষ হয় ।
এদিকে পুননির্বাচনের দাবি জানায় ছাত্রদল, বাম জোট, কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দুটি প্যানেল ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে ।
রাতে ফল ঘোষণার পর দেখা যায়, ডাকসুতে সবগুলো পদেই জয়ী হয়েছেন সরকার সমর্থক সংগঠন ছাত্রলীগের প্রার্থীরা, শুধুমাত্র ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক ছাড়া । অন্যদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের মোর্চা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী নূরুল হক নূর ভিপি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ।
মঙ্গলবার সকাল থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাভিপি পদে পরাজয় মানতে না পেরে ।
অনেক বড় জালিয়াতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা। তারা বলেন অনেক জালিয়াতি করে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নেতা নূরুল হক নূরকে ভিপি পদে জয়ী হয়েছেন। তাই তারা উক্ত পদে পুননির্বাচনের দাবি জানাচ্ছেন। কিন্ত তাদের এই দাবি সরাসরি নাকচ করা হয়।
অন্যদিকে বাম জোট, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোটও ক্যাম্পাসে আলাদাভাবে মিছিল সমাবেশ করছে। তাদের ডাকে মঙ্গলবার সকাল থেকে ক্লাস বর্জন কর্মসূচি চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।
ভোট চলাকালে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে বস্তাভর্তি ব্যালট এবং রোকেয়া হলে ট্রাংক ভর্তি ব্যালট পাওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপ উপাচার্য অধ্যাপক সামাদ মঙ্গলবার নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “দুটি হলের একটিতে অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে অপর একটি হলে (রোকেয়া হলে) যা হয়েছে, সেটি ছিল হাঙ্গামা। সেখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।”
মুহাম্মদ সামাদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি ‘তথ্যানুসন্ধান দল’ গঠন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ তদন্তে। অল্প কিছু দিনের মধ্যে’ তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে এই তদন্ত দল বলে মন্তব্য করেন মুহাম্মদ সামাদ।
অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন (ওএমআর) মেশিনে ভোট গণণা হয়েছে। গতকাল কোটা আন্দোলনকারীদের নেতা নুরুল হোসেন নূরুকে ‘পরিকল্পিতভাবে’ ভিপি পদে জিতিয়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে এ কথা বলেন অধ্যাপক সামাদ। তিনি আরো বলেন এখানে এই অভিযোগের কোনো সুযোগ নেই। তাছাড়া কোটা আন্দোলনের প্রায় সব দাবিই তো প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়েছেন। কোটা আন্দেলনের অবশিষ্ট আর কিছু নেই এখন যদিও কোটা আন্দোলনের কথা বলছে।

ক্ষমতা দখল ও ভোট কারচুপির সংস্কৃতি চালু করে জিয়াউর রহমান – আমু।

Now Reading
ক্ষমতা দখল ও ভোট কারচুপির সংস্কৃতি চালু করে জিয়াউর রহমান – আমু।

জিয়াউর রহমানই এ দেশে ক্ষমতা দখল ও নির্বাচনে ভোট কারচুপির সংস্কৃতি চালু করেন বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু। আমু বলেন জিয়াউর রহমানের সময়েই ব্যালট বাক্স হাইজ্যাকের সংস্কৃতি চালু হয়।
এবারের নির্বাচনে আমাদের ইশহেতারের স্লোগান ছিল ‘আমার গ্রাম আমার শহর’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে এটাও বাস্তবায়ন হবে বলে বিশ্বাস করে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য তোফায়েল আহমেদ। তিনি আরো বলেন আমি নিজেই নিজের এলাকায় গ্রামগুলোর দ্রুত পাল্টে যাওয়া দেখে অবাক হয়ে যাই।
গতকাল সোমবার সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি নানা কূটকৌশল অবলম্বন করছে বলে মন্তব্য করেন আমির হোসেন আমু । তিনি আরো জানান ২০১৪ সালে তারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। এবার অংশ নিয়েও তারা সঠিকভাবে নির্বাচনটা করেনি বলে তিনি বলেন। আমির হোসেন আমু বলেন নির্বাচনের নামে বিএনপি মনোনয়ন বাণিজ্য করল। জনগণের ভোটে তাদের পক্ষে কোনোদিন ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব নয়, এটা বিএনপিও বুঝে গেছে ।
বিএনপি প্রতিটি ক্ষেত্রে এ সরকারের নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরতে চায় বলে আমু বলেন। সরকার যখন পদ্মা সেতু করে তখন বলে এটা আওয়ামী লীগের ব্রিজ। যখন বিনা পয়সায় বই দেয় তখন তারা ২ কোটি বই পুড়িয়ে দেয়। তারা ভেবেছিল এই বই আওয়ামী লীগের লোকজনের সন্তানেরা পড়বে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে এ দেশে স্বাধীনতার চেতনা মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন, ছুড়ে ফেলা হয়েছিল সংবিধানকে । বঙ্গবন্ধুর মতো শেখ হাসিনার সৎ ও দক্ষ নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আবার বাংলাদেশ পরিচালিত হতে শুরু করেছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার ও একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হয়েছে শেখ হাসিনার সময়েই ।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের সময় যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ছিলেন তারা সবাই ছিলেন খালেদা জিয়ার ঘরের লোক বলে জানা আমু। ড. ফখরুদ্দীন, মইন উ আহমেদসহ সবাই ছিলেন খালেদা জিয়ার আমলে সুবিধাভোগী। তাদের নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি আবারও ক্ষমতায় যাবেন বলে মনে করছিলেন খালেদা জিয়া। কিন্তু জনগণ তার সেই স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে।

আমরা এখনও টকশোসহ বিভিন্ন স্থানে কাউকে কাউকে বিএনপি-জামায়াত ও আওয়ামী লীগকে একই পাল্লায় মাপার চেষ্টা করতে শুনি বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত ধ্বংস করে, আর শেখ হাসিনা গড়েন। বিএনপি-জামায়াত মানুষকে আগুনে পুড়ে মারে বলে বললেন তিনি।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী) বলেছেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের চলমান কার্যক্রমে দেশবাসীর মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এর সুফল ভোগ করবে।
কওমি মাদ্রাসা ও হেফাজতে ইসলামের আমির আলামা আহমদ শফীকে নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের দেয়া বক্তব্যে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী।
তিনি বলেছেন, ‘কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান মর্যাদা দিয়ে এই সংসদে আইন পাস হয়েছে। আইন পাস হওয়ার পর এ ধরনের মন্তব্য আমাদের একটু আহত করেছে। কারণ আমিও কওমি সন্তান।

সরকারের বাজেট যেমন বেড়েছে তেমনি কর্মপরিধিও বেড়েছে বলে বললেন লিটন। রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে সরকার ব্যাপক কার্যক্রম শুরু করেছে। এই রূপকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের ফলে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান হবে। এর ফলে বেকারত্ব দূর হবে।

আমুর আগে দেয়া বক্তব্যে (গ্রামের পাল্টে যাওয়া দেখে নিজেই অবাক হই ) তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। স্বাধীনতার চেতনা ধূলিসাৎ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে আজ বিশ্ব মানচিত্রে আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।

বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে ভুল পথে গিয়ে দলকে ধ্বংস করে দিচ্ছে: মোহাম্মদ নাসিম

Now Reading
বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে ভুল পথে গিয়ে দলকে ধ্বংস করে দিচ্ছে: মোহাম্মদ নাসিম

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের পথে অদম্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বাংলাদেশ সবসময় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। বাংলাদেশের জনগণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছে। সাম্প্রতিককালে জাতীয় নির্বাচনে মধ্য দিয়ে আমরা গণতন্ত্রের বিজয় অর্জন করেছি। বিএনপি নামকাওয়াস্তে আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।

শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৪ দলের সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন।
শপথ নিয়ে সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের সংসদে যোগদানের বিষয়টি উল্লেখ করে ১৪ দলের পক্ষ থেকে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত বাকিদেরও শপথ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জোটের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম।
বিএনপিসহ অন্যান্য দলের নির্বাচিতরা সংসদে আসবেন এই অশাবাদ ব্যক্ত করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমরা আশা করব, বিএনপিসহ অন্যান্য দলের যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা পার্লামেন্টে আসবেন। পার্লামেন্টে গিয়ে সরকারের ভুল ধরিয়ে দেবেন। সরকারের কঠোর সমালোচনা করবেন। এ পথে আপনাদের থাকতে হবে। অন্য পথে শুধু প্রেস ব্রিফিং করে, নামকাওয়াস্তে কয়েকটি লোক দেখানোর আন্দোলন করে আপনাদের নেত্রীকে মুক্ত করতে পারবেন না।
উপজেলা নির্বাচনের বিষয়ে নাসিম বলেন, সামনে স্থানীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে। স্থানীয় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। স্থানীয় নির্বাচনে সব দলের লোকজন অংশগ্রহণ করেন। তবে দুঃখজনক হলো দেশের একটি বড় দল এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না। কী কারণে করছে না সবাই জানেন। নির্বাচন বর্জন করে গত কয়েক বছর তারা নির্বাচন ভণ্ডুল করতে পারে নাই। আবারও তারা নির্বাচন বর্জন করে ভুল পথে গিয়ে দলকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ না করাকে দুঃখজনক হিসেবে মন্তব্য করে নাসিম বলেন, ‘ইলেকশন বর্জন করে, ইলেকশন ভণ্ডুল করে কোনো অর্জন তারা গত কয়েক বছরে করতে পারেন নাই। তারা আবারও সেই ভুল পথে যাচ্ছে। তাদের দলকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে।’
বিএনপির উদ্দেশ্যে ১৪ দলের মুখপাত্র বলেন, নির্বাচন বর্জনের পথ পরিহার করে জনগণকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে বাধা সৃষ্টি করবেন না। আগামী স্থানীয় নির্বাচনে জনগণ বিপুলভাবে অংশগ্রহণ করবে।
নাসিম বলেন, স্থানীয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার জন্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে বলব, যা যা করণীয় তা করবেন। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। কোনো প্রার্থীর মুখ দেখে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন না। নির্বাচন হবে উৎসমুখর পরিবেশে, এটা প্রধানমন্ত্রীও চান। স্থানীয় নির্বাচনে কোনো এমপি – মন্ত্রী হস্তক্ষেপ করবেন না।
সরকারের উন্নয়নের বিষয়ে সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জঙ্গি দমন করা হয়েছে। দেশের গ্রামেগঞ্জে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছেন। স্বাস্থ্য শিক্ষা সকল ক্ষেত্রে আজকে যে উন্নয়ন হয়েছে। উন্নয়ন হয়েছে বিধায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও নির্বাচিত হয়েছেন। দেশের মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে।
বক্তব্য শেষে তিনি ১৪ দলের পক্ষ থেকে মার্চ মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, ১৯ মার্চ আলোচনা সভা, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের স্মরণসভা, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পালন, ২৮ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের ওপর আলোচনা সভা।
এর আগে মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়–য়া, জাসদ একাংশের কার্যকরি সভাপতি মইন উদ্দিন খান বাদল, জেপির মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, উপদফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন সহ অনেকে।

পৃথিবীর ক্ষণস্থায়ী কিছু দেশের উত্থান-পতনের গল্প

Now Reading
পৃথিবীর ক্ষণস্থায়ী কিছু দেশের উত্থান-পতনের গল্প

পৃথিবীতে অনেক দেশ ও রাজত্ব শতাব্দীর পর শতাব্দী নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে সগৌরবে বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই এমন কিছু রাষ্ট্র আছে, যাদের ভাগ্য এত সুপ্রসন্ন ছিল না। এমন অনেক রাষ্ট্র আছে যেগুলোর আয়ুষ্কাল ছিল এক বছর বা কয়েক মাস, এমনকি কয়েক দিন। একদিন স্থায়ী রাষ্ট্রের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। এর বেশিরভাগের নামই আমরা হয়ত জানি না, সৃষ্টি ও ধ্বংসের কাহিনী দূরে থাকুক। সংখ্যায় প্রায় একশ’ এমন রাষ্ট্রের পেছনের কাহিনী বলাও বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই ক্ষণস্থায়ী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যেগুলো সময়ের হিসেবে বেশিদিন স্থায়ী ছিল, তাদের নেপথ্যের কিছু ঘটনা জেনে নেওয়া যাক।

তাঙ্গানিকা (২ বছর ১৩৭ দিন)

দশম শতাব্দীর দিকে এলাকাটিতে বসতি স্থাপনের প্রমাণ মিললেও ১৮৮০ সালের দিকে জার্মান উপনিবেশে এবং ১৮৯১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রিত রাজ্যে পরিণত হয় এটি। এটি ছিল মূলত জার্মান-পূর্ব আফ্রিকার অংশ, বর্তমানে যা রুয়ান্ডা, তানজানিয়ার মূল ভূখণ্ড এবং মোজাম্বিকের কিছু অংশ দ্বারা পরিবেষ্টিত। ভূখণ্ডটি বর্তমান জার্মানির চেয়ে প্রায় তিনগুণ বড় ছিল। জার্মান ঔপনিবেশিক একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্থানীয় বিদ্রোহের কারণে জার্মানরা এসে আনুষ্ঠানিকভাবে এলাকাটির দায়িত্ব গ্রহণ করে। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে ব্রিটেন দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। তারাই ১৯২০ সালে এটিকেতাঙ্গানিকা রাজ্য নাম দেয়। এই নতুন রাজ্যের নামকরণ হয়েছিল সোয়াহিলি শব্দ ‘জাহাজযাত্রা’ (sail) ও ‘জনহীন প্রান্তর’ (wilderness) থেকে, যা সম্ভবত ঐ রাজ্যে যে হ্রদটি আংশিকভাবে পড়েছে, তার উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছিল।

লেক তাঙ্গানিকা; source: tanzaniatourism.go.tz

ব্রিটেন তাঙ্গানিকার স্বাধীনতাও মঞ্জুর করে, যেমনটা করেছিল তার পূর্ববর্তী বেশ কিছু উপনিবেশের ক্ষেত্রে। তবে এই নতুন প্রজাতন্ত্র বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। সরকার তৎকালীন জানজিবারের সাথে যুক্ত হবার সিদ্ধান্ত নেয় একটি নতুন রাষ্ট্র গঠন করতে, যা বর্তমানে তানজানিয়া নামে পরিচিত।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে তাঙ্গানিকার পূর্ণ স্বাধীনতা চেয়ে ব্যানার; source: Wikimedia Commons

ইতালিয়ান রিজেন্সি অফ কার্নারো (১ বছর ১০৯ দিন)

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে ১৯১৯ সালে বর্তমানে ক্রোয়েশিয়ার অন্তর্গত ফিউম শহরে অরাজকতা বিরাজ করছিল, কেননা প্যারিস শান্তি সম্মেলনে ইতালি, হাঙ্গেরি ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যে ভূখণ্ডটির অধিকার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। ফিউম ইতালিকে না দিতে চাওয়ায় ইংরেজ, ফরাসি ও আমেরিকানদের উপর রাগান্বিত হয়ে গ্যাব্রিয়েল দা’ন্নুন্সিও নামে এক ইতালীয় কবি কিছু দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর সাহায্যে শহরটি দখল করতে যায়।

গ্যাব্রিয়েল দা’ন্নুন্সিও; source: italcult.net

পরদিন গ্যাব্রিয়েল ইংরেজ, ফরাসি ও আমেরিকান সৈন্যদের কাছ থেকে শহরটির দখল নেয়। ফিউম শহরকে ইতালিয়ান রিজেন্সি অফ কার্নারো নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে এবং একটি ভোটের আয়োজন করে, যাতে দেশটির ইতালির অন্তর্ভুক্ত থাকার পক্ষে ব্যাপক ভোট পড়ে। কিন্তু ইতালি তার মিত্র দেশগুলোর চাপের মুখে এই অন্তর্ভুক্তিকরণ বাতিল ঘোষণা করে ও প্রক্রিয়াটিকে রদ করে দেয়।

ইতালিয়ান রিজেন্সি অফ কার্নারোর পতাকা; source: Wikimedia Commons

১৯২০ সালের সেপ্টেম্বরে গ্যাব্রিয়েল দেশটির সংবিধান উন্মোচন করেন। যাতে দেশটিকে কর্পোরেট ও ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার রূপরেখা টানা হয়, যেমন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল মুসোলিনি। রাষ্ট্রের পতন আসে ১২ই নভেম্বর র‍্যাপেলোর চুক্তির সাথে, যখন ইতালি ও যুগোস্লাভিয়া ফিউমকে পৃথক রাষ্ট্র নয় বরং একটি শহর হিসেবে চিহ্নিত করে। রাগান্বিত হয়ে ডিসেম্বরের ৩ তারিখ দা’ন্নুন্সিও ইতালির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন এবং খুব দ্রুতই সেই মাসের ৩০ তারিখ পরাজিত হন। এর সাথে বিলুপ্তি ঘটে তার রাষ্ট্রেরও।

মারকোভ প্রজাতন্ত্র (২৪৮ দিন)

প্রথম রাশিয়ান বিপ্লবটি ১৯০৫-০৭ সাল পর্যন্ত রাশিয়ান সাম্রাজ্যকে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার দিকে পরিচালিত করে। সেই সময়ে মস্কো থেকে ১০০ মাইল দূরে মারকোভ গ্রামের লেখক সারজেই সেমেনোভ মস্কো সরকারকে তাদের দাবি দাওয়া সংক্রান্ত একটি চিঠি লিখে পাঠান। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে সেই চিঠির কোনো উত্তর আসেনি। ফলশ্রুতিতে কৃষক সংঘ নামে একটি রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয় মারকোভ গ্রামে।

মারকোভ গ্রামের কৃষক সংঘ; source: toptenz.net

১৯০৫ সালের ৩১ অক্টোবর তারা নিজেদের মারকোভ প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা দেয়। পি এ বারশিন নামে গ্রামের এক বয়োজ্যেষ্ঠকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। নতুন এই রাষ্ট্র রাশিয়ার সার্বভৌম সরকারের কর্তৃত্ব অস্বীকার করে এবং গণতান্ত্রিক পরিষদের মাধ্যমে ছোট আরও কিছু গ্রামের প্রতিনিধিত্ব করে। মাত্রই জন্ম নেওয়া রাষ্ট্রটিকে সাহায্য করতে শিকাগো থেকে একজন অধ্যাপক আসেন। তার সাথে সার্বভৌম সরকারকে প্রতিরোধ ও গণতন্ত্র দাবি করায় প্রজাতন্ত্রটি দ্রুতই খ্যাতি অর্জন করে। ১৯০৬ সালের জুলাইয়ে দেশজুড়ে চলা বিপ্লব সামগ্রিকভাবে পরাজিত হলে সার্বভৌম সরকারের বাহিনী মারকোভ প্রজাতন্ত্রের দিকে অগ্রসর হয়। সরকার ভেঙে, নেতাদের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে প্রজাতন্ত্রকে আবার রাশিয়ান সাম্রাজ্যে ফিরিয়ে আনা হয়।

লিথুয়ানিয়া রাজ্য (১৯৪ দিন)

১৯১৮ সালে ব্রেস্ট-লিটভস্কের চুক্তির পর জার্মানি যখন লিথুয়ানিয়ার নিয়ন্ত্রণ পায়, তখন স্থানীয় সরকার একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান সংরক্ষণ করতে চেয়েছিল। জার্মানি চেয়েছিল লিথুয়ানিয়া ও প্রুশিয়াকে একত্র করে একটি বৃহৎ রাষ্ট্র গঠন করতে। তাই লিথুয়ানিয়ার স্থানীয় সরকার নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় দ্বিতীয় কাইজার ভিলহেল্মের নিয়ন্ত্রাধীন জার্মান সাম্রাজ্যকে শান্ত করার প্রক্রিয়া খুঁজতে থাকে। সরকারের একটি বড় অংশের আপত্তির বিরুদ্ধে গিয়ে লিথুনিয়ার মন্ত্রীপরিষদ ‘তারিবা’ উরাখের ডিউক ভিলহেল্মকে রাজা হিসেবে নির্বাচিত করে।

উরাখের ডিউক ভিলহেল্ম; source: Wikimedia Commons

তাকে ১২ দফার একটি প্রস্তাব দেওয়া হয় রাজা হওয়ার জন্য এবং সাংবিধানিক রাজতন্ত্র গঠন করা হয়। নবীন এই রাজা কখনো লিথুয়ানিয়ায় পা রাখেননি, কেবল গ্রীষ্মকালীন অবকাশের সময়টায় তিনি লিথুয়ানিয়ান ভাষা শিখতেন। কেননা সেটি তার রাজা হবার প্রস্তাবের একটি আবশ্যিক শর্ত ছিল। উপরন্তু জার্মানির একটি নিজস্ব ধারণা ছিল যে, দেশ তার নিজস্ব নেতা নির্বাচন করতে পারবে না। তাই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ স্তিমিত হবার সময়েও লিথুয়ানিয়ার স্বাধীন প্রাদেশিক সরকারের ধারণায় জার্মানীর পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত ছিল। এসবের প্রেক্ষিতে ১৯১৮ সালের ২ নভেম্বর তারিবা, উরাখের ডিউকের প্রতি তাদের নিমন্ত্রণ প্রত্যাহার করে নিয়ে সরকারেরবিলুপ্তি ঘটায় এবং এভাবেই ১৯৪ দিনের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে।

ইজো প্রজাতন্ত্র (১৮৪ দিন)

১৮৫০ সালে জাপান যাওয়ার পর কমোডর ম্যাথু পেরি প্রথম আমেরিকান কর্মকর্তা হিসেবে জাপানের লোকদের সাথে প্রকৃতপক্ষে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। এমনকি আমেরিকান ও জাপানিজ সরকারের মধ্যে বাণিজ্য শুরুর পেছনেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। যেখানে বেশিরভাগ আমেরিকানের চোখে ম্যাথু পেরির এই কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল সাফল্য, সেখানে আদান-প্রদানের ব্যাপারগুলোয় তোকুগাওয়া সরকারের অবস্থান নিয়ে জাপানের জনসাধারণের একটি বড় অংশের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। এর সূত্র ধরে প্রায় এক দশক পরে যে সকল শক্তি ক্ষমতা দখলের চেষ্টায় ছিল তারা বংশানুক্রমিক সম্রাট ‘তোকুগাওয়া শোগুনেট’ (জাপানের সামরিক সরকার, যার প্রধানকে ‘শোগুন’ বলা হত) উৎখাতের একটি পরিকল্পনা করে। এর সূত্র ধরে একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধের সূচনা হয় (বশিন যুদ্ধ), যেটি শেষ হয় সম্রাট-বিরুদ্ধ বাহিনীর জাপানের অধিকাংশ নিজেদের দাবি করা ও তোকুগাওয়ার শোগুনকে রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে অপসারণ করার মাধ্যমে।

তোকুগাওয়ার প্রাক্তন শোগুনের নৌবাহিনীর একটি অংশ অ্যাডমিরাল এনোমোটো টাকিয়াকি ও তার ফরাসি সামরিক উপদেষ্টাগণের নেতৃত্বে প্রধান দ্বীপ থেকে পালিয়ে, ইজো নামক (বর্তমানে যা হোক্কাইডো নামে পরিচিত) জনবিরল ও অনুন্নত দ্বীপে বসতি স্থাপন করে। এনোমোটো তৎকালীন সার্বভৌম আদালতের কাছে হোক্কাইডোকে উন্নত করে সামুরাইদের ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য একটি আবেদন করেন। কিন্তু আদালত তার আর্জি খারিজ করে দেয়। এরপর ১৮৬৯ সালে টাকিয়াকি ইজো প্রজাতন্ত্র নামে একটি পৃথক রাষ্ট্রের ঘোষণা দেন। এই নতুন দেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল পুরনো সামুরাই পদ্ধতিগুলো সংরক্ষণ এবং সমাধিকারে বিশ্বাসী সরকার গঠন করা।

ইজো প্রজাতন্ত্রের পতাকা; source: althistory.wikia.com

ইজো সরকারই সর্বপ্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনের আয়োজন করে, যেখানে তাদের সরকারের পরিকল্পনাগুলো ছিল ফরাসি ও আমেরিকান দর্শনের উপর ভিত্তি করে। তবে শান্তি বেশিদিন ছিল না। শীঘ্রই সার্বভৌম সরকারের বাহিনী দ্বীপে তাদের জায়গা দৃঢ় করতে লাগল। আধুনিক জাপানি বহর ব্যবহার করে তারা সামুরাইদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুদ্ধে জয়লাভ করে। এক সপ্তাহের মধ্যে সামরিক বাহিনী গোরিওকাকুর প্রধান দুর্গ ঘিরে ফেলে এবং টাকিয়াকিকে তার বাহিনীসহ আত্মসমর্পণ করতে বলে।

গোরিওকাকুর দুর্গ; source: Wikimedia Commons

ইজো প্রজাতন্ত্র ভেঙে যায়, সেই সাথে সামুরাই ঐতিহ্যের সমাপ্তি ঘটে। এই ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটি ক্ষণস্থায়ী হলেও জাপানের উপর এর বেশ প্রভাব ছিল। যে গণতান্ত্রিক আদর্শ ইজোতে অনুশীলন করা হয়েছিল, তা পরবর্তীতে জাপান সাম্রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখনো পর্যন্ত সেই প্রজাতন্ত্রকে জাপানি সংস্কৃতিতে সামুরাই উপাখ্যানের শেষ গৌরব মনে করা হয়।

সাসকাচেওয়ানের প্রাদেশিক সরকার (৬২ দিন)

কানাডাকে যদিও গৎবাঁধা চিন্তায় শান্তিপ্রিয় ও কারো সাতে-পাঁচে না থাকা দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবু তাদের ইতিহাসও একদম সাদা নয়। কম পরিচিত কিন্তু বেশ প্রভাব বিস্তারকারী যুদ্ধগুলোর মধ্যে একটি ছিল ১৮৮৫’র সংক্ষিপ্ত উত্তর-পশ্চিমা বিদ্রোহ। বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব লিউ রিয়েলের নেতৃত্বে স্থানীয় ‘মেটিস’ ও ‘ক্রি’ জাতির লোকজনের দুর্দশার প্রেক্ষাপটে এই যুদ্ধ শুরু হয়। ইউরোপিয়ান এবং পূর্ব-উত্তর আমেরিকাবাসীর বিরুদ্ধে স্থানীয়দের খেপিয়ে তোলার ব্যাপারে রিয়েল আগে থেকেই সচেষ্ট ছিল। রিয়েল তার সবচেয়ে বড় বিদ্রোহটি শুরু করেন ১৮৮৫ সালে। তার মতে, এই বিদ্রোহের লক্ষ্য ছিল স্থানীয় জনগণকে তাদের মূল জীবনধারা ফেরত দেওয়া ও কানাডীয় সরকারের আধিপত্য হ্রাস করা। বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল ক্ষুদ্র কিছু খণ্ডযুদ্ধের মাধ্যমে, কিন্তু ১৮৮৫ এর মার্চেই রিয়েল তার বড় চালটি চালেন বাটোচের সাসকাচেওয়ানে প্রাদেশিক সরকার গঠনের মাধ্যমে একে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দিয়ে।

প্রাদেশিক সরকারের সদস্যদের সাথে লুই রিয়েল (মাঝখানে); source: thecanadianencyclopedia.ca

রিয়েল চেয়েছিলেন সাসকাচেওয়ানের স্থানীয় লোকজন এবং সেখানে বসবাসকারী শ্বেতাঙ্গ অধিবাসীদের তার নতুন সরকারের পতাকাতলে আনতে। দুর্ভাগ্যবশত রিয়েলের পরিকল্পনা কখনোই বাস্তবায়িত হতো না, কারণ, কানাডীয় সরকার রাজ্যের মাঝে বিশেষ প্রদেশের স্বাধীনতা কখনোই মঞ্জুর করতো না। সরকারের নির্দেশে ফ্রেডরিক মিডেল্টনের নেতৃত্বে প্রায় এক হাজার মিলিশিয়া এবং সাধারণ সৈন্য বাটোচের রাজধানী ঘিরে ফেলে এবং টানা দু’দিন একের পর এক আক্রমণ পরিচালনা করে। প্রায় তিন-চতুর্থাংশ লোকের পলায়ন, আহত হওয়া ও মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে বাটোচের প্রতিরক্ষা এই আক্রমণের কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে। ১২ই মে মিডেলটন, রিয়েলকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে যুদ্ধ এবং বিদ্রোহের সমাপ্তি টানেন। নভেম্বরে রিয়েলকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

আইসল্যান্ড ভূখণ্ড (৫৮ দিন)

নেপোলীয় যুগের ড্যানিশ অনুসন্ধানকারী জর্জেন জরগেন্সনের বৈচিত্র্যময় ও বিপজ্জনক অ্যাডভেঞ্চারে ভরা জীবন-গল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অধ্যায় সম্ভবত প্রায় দুই মাসের জন্য আইসল্যান্ডের একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের শাসক হওয়া। নেপোলীয় যুদ্ধে কোপেনহেগেনের উপর ব্রিটিশ বোমারুদের হামলার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন। ক্ষোভে জর্জেন নৌবাহিনীতে যোগ দেন এবং ‘এডমিরাল হাল’ নামে শত্রু জাহাজ আক্রমণকারী বেসরকারি জাহাজের নেতৃত্বে নিযুক্ত হন।

জর্জেন জরগেন্সন; source: Wikimedia Commons

পরপর কয়েকটি সফল অভিযানের পর এইচ.এম.এস স্যাফোর (ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির চারটি জাহাজকে একত্রে এই নামে ডাকা হতো) কাছে ধরা পড়ে এবং আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়। ইংরেজ নৌবাহিনী তাকে লন্ডনে নিয়ে যায় এবং বেশ কয়েক মাস কারাগারে রাখে। প্যারোলে বের হয়ে জর্জেন জাহাজের একজন ইংরেজ ক্যাপ্টেনকে আইসল্যান্ডে বাণিজ্য অভিযানের জন্য রাজি করান, যা ড্যানিশ বাণিজ্যের সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যাপক খাদ্য সংকটে ভুগছিল। ১৮০৯ এর মার্চে জর্জেন আইসল্যান্ডে যান এবং সেখানকার অধিবাসীদের সাথে ডেনমার্কের শাসকগোষ্ঠীর ব্যবহার দেখে ব্যথিত হন। এর কয়েক মাস পর জর্জেন আবার আইসল্যান্ডে যান আরেকটি বাণিজ্য অভিযানে, তবে এবার স্থানীয় সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা নিয়ে। আইসল্যান্ডের নগরাধ্যক্ষকে গ্রেফতারে তাকে সাহায্য করতে তিনি ইংরেজ নাবিকদের রাজি করিয়ে ফেলেন। নগরাধ্যক্ষকে রাস্তা থেকে সরিয়ে জর্জেন আইসল্যান্ডের রক্ষক হিসেবে আবির্ভূত হন। তিনি আইসল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেন এবং ঐতিহাসিক আইসল্যান্ডীয় সংসদ ‘অলটিং’ পুনঃনির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।

জর্জেন জরগেন্সনের পতাকা; source: Wikimedia Commons

  • জর্জেনের বেশ কিছু বড় পরিকল্পনা ছিল আইসল্যান্ডবাসীদের নিয়ে, কিন্তু যখনই ড্যানিশ সরকারের কানে এই ঘটনার খবর পৌঁছে, তারা পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ইংরেজ সরকারের সাহায্য প্রার্থনা করেন। দু’মাস আইসল্যান্ডে শাসন করার পর এইচ.এম.এস তালবট সেখানে পৌঁছায় এবং জর্জেনের রাজত্ব উৎখাত করে। ভাবলেশহীন আইসল্যান্ডিক জনতা তাদের স্ব-ঘোষিত রক্ষকের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। আইসল্যান্ড আবার ড্যানিশ শাসনের অধিভুক্ত হয়। তবে জর্জেনের এই কর্মকাণ্ডগুলো পরবর্তীতে আইসল্যান্ডের স্বাধীনতা লাভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এখনও পর্যন্ত জর্জেন ‘ডগ-ডে’স কিং’ বা ‘দুঃসময়ের রাজা’ নামে পরিচিত
Page Sidebar