আবোলতাবোল চিন্তাভাবনা

Now Reading
আবোলতাবোল চিন্তাভাবনা

আবোল-তাবোল চিন্তাভাবনা ও প্রশ্ন:
পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হবার পর আমরা মা! মা! বলে চিৎকার করে উঠি। কেবল এই মমতাময়ী মা বুকে জড়িয়ে ধরলেই আমরা আমাদের চিৎকার থামিয়ে দেই। অন্য কেউ যতই বুকে আগলে ধরুক না কেন আমরা কান্না থামাই না। অথচ আমরা জানতামও না যে কে এই মানুষ যে আমাকে তার গর্ভে ধারণ করেছে। আর কেনই বা তার বুকে আমাকে জড়িয়ে ধরে আদর করছে। কয়েক মিনিটের সামনাসামনি দেখায় কেনই বা এতোটা আপন করে নিয়েছে।
‌প্রশ্ন ১: তখন তো আপনার কোন বোধশক্তি ছিল না। আপনি জানতেন না আপনার আশেপাশের মানুষজন কারা। তবে আপনি কিভাবে আপনার মাকে সনাক্ত করেছিলেন? নার্স বা দাই মা কে কেন নিজের মা ভাবলেন না?
এরপর আস্তে আস্তে আপনি বড় হতে লাগলেন। সারাদিন বিছানায় অথবা মা, বাবা এবং আশেপাশের মানুষদের কোলে আদরে আপনার সময় কাটতো। আপনাকে একা রেখে তখন কেউ কোথাও যেত না। বলতো একা রাখলে আপনি ভয় পেতে পারেন।
‌ প্রশ্ন ২: আদৌ কি তখন আপনি ভয় কি জিনিস তা বুঝতেন?
তখন আপনাকে সবাই আদর করত। আপনাকে কোলে নেওয়ার মানুষের অভাব ছিল না। আপনাকে কোলে নিয়ে সবাই আনন্দ পেত। আর আপনাকে উদ্দেশ্য করে কেউ কিছু বললেই আপনি হেসে দিতেন। আপনি তখন শুধু হাসতেই থাকতেন।
‌প্রশ্ন ৩: আপনি কি তখন তারা কি বলছে তা বুঝে হেসেছিলেন? আপনার হাসির কোনো লুকায়িত রহস্য ছিল কি?

images(23).jpg

এখন হাসতে হাসতে আপনি যার কোলে ছিলেন তার কোলে প্রস্রাব করে দিলেন। কিন্তু তাও আপনাকে কোলে নিয়ে থাকা ব্যক্তিটি আপনাকে কিছু বলল না। উল্টো আপনার গালে হাত বুলিয়ে বলল “ওরে দুষ্টু রে” আর মুখের কাছে এনে একটা চুমু দিল।
‌প্রশ্ন ৪: তখন যদি আপনার এখনকার মত বোধশক্তি থাকত, আপনি যদি বুঝতে পারতেন আপনি কারো শরীরে প্রস্রাব করছেন তবে আপনার অনুভুতিটা কেমন হত?

images(19).jpg

আচ্ছা এরপর আসি আপনার ছোটবেলার পোশাকের বেপারে। এখন তো আপনি অনেক দামি কাপড় পরেন। যাতে একটু ময়লা লাগলেই আপনি আর পরতে চান না। কেবলমাত্র কাপড়টি ধুয়ে দেওয়ার পরেই আপনি তা পরেন। তার উপর আপনি যে পোশাকটি কিনবেন তা অবশ্যই সুন্দর আর দামি হতে হবে। আরো কত কিছু। কিন্তু একবার ভাবুন তো আপনার ছোটবেলায় আপনাকে কি কাপড় পরানো হত যখন আপনি খুব ছোট। কত ঘণ্টা আপনি নিজের প্রস্রাব করা ভিজা কাপড়ে শুয়ে কাটিয়েছেন। এই ধরুন ১০দিন-৪মাস যখন আপনার বয়স তখন। বেশিরভাগ মানুষের বেলাতেই হয়ত এই সময়টাতে কপালে জুটেছে একটি তোয়ালে বা টুকরাটাকরা কাপড়।
‌প্রশ্ন ৫: এখন তো বাবা মার কাছে আপনার কত চাওয়া থাকে পোশাকের বেপারে। তখন কেন আপনি আপনাকে এতো কম দামি বা টুকরাটাকরা কাপড় বা তোয়ালে পরানোর প্রতিবাদ করেননি? তখন কেন ভিজে কাপড়ে শুয়েও আপনি মা বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে হেসে দিতেন?images(20).jpg

এবার ব্যতিক্রম কিছু ভাবা যাক। আপনি যখন শুয়ে থাকতেন তখন আপনার মাথায় একটা বালিশের পাশাপাশি আপনার ২পাশে ২টা কোলবালিশ দেয়া থাকত যাতে আপনি আপনার জায়গা থেকে সরে না যান। তা অনেক মানুষই বড় হবার পরেও এই অভ্যাসটা থেকে যায়। অনেকেই বিছানার বৃহৎ স্থান দখল না করে শুতে পারে না। বিছানার এক পাশে শুলে সকালে অনেককেই অন্য পাশে পাওয়া যায়। অনেকেই হয়ত এই অভ্যাসটা পরিবর্তন করতে চাইছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমার নিজের এই অভ্যাসটা আছে। আমার এখনো এই কথাটা ভাবলে হাসি পায়। আর মনে হয় “আমি হয়ত ছিলাম নদীর স্রোত আর আমার গতিপথ ঠিক রাখার জন্য আমার ২পাশে ২টা অস্থায়ী বাধ নির্মাণ করা হয়েছে” হা হা হা
‌ প্রশ্ন ৬: আপনি কি বড় হবার পরে কখনো ২টা কোলবালিশ ২পাশে দিয়ে শুয়ে দেখেছেন? যদি না চেষ্টা করে থাকেন তবে আজই একবার হয়ে যাক!

এরপর শুরু হল আপনাকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা। আপনাকে সুজি খাওয়ানোর জন্য রীতিমত একটা নির্দিষ্ট সময় আপনার ফ্যামিলিকে ব্যয় করতে হয়। বিশেষ করে আপনার মা তো একটা যুদ্ধের প্রস্তুতি আগে থেকেই নিয়ে রাখত এর জন্য। আপনি তো নাছোড়বান্দা। খাবেন না তো খাবেনই না। তাও আপনাকে জোর করে খাওয়ানোর জন্য আপনার মা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আপনাকে মুখে তুলে দিত আর আপনি ফেলে দিতেন। ওইটাই আবার আপনার মুখে দিয়ে সাথে এক চামচ পানি দিয়ে আপনাকে খাওয়ানোর চেষ্টা চলত। আর চামচটি দিয়ে আপনার মুখের সামনে একটা প্রলেপ দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা চলত। যাতে আপনি মুখে দেওয়া সুজি ফেলে দিতে না পারেন। তাও আপনি সুযোগ বুঝে ফেলে দিতেন। আর হেসে দিতেন।

images(17).jpg (more…)