আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তানের ফাইনাল যাত্রা

Now Reading
আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তানের ফাইনাল যাত্রা

pak.jpg

ক্রিকেট মানেই অনিশ্চয়তার খেলা, যে খেলার রঙ মুহূর্তেই পাল্টে যায়, সব হিসাব নিকাশের খাতা উল্টে দেয়।

ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে আনপ্রেডিক্টেবল দল বলতে যে দলকে বুঝায়, সে দল হল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। হারা ম্যাচ জিতে যাওয়া, জিতা ম্যাচ হেরে যাওয়ার বহু নজির রয়েছে এই পাকিস্তান ক্রিকেট দলের।

এইতো সেই দিন, যেদিন খাঁটি পাকিস্তান দলের সাপোর্টারও আশা করে নাই যে পাকিস্তান সেমি ফাইনাল অথবা ফাইনালে যাবে, সেই পাকিস্তান দলই এখন সেমি ফাইনালের বাঁধা টপকে এখন ফাইনালে পৌঁছে গেছে! তাও আবার ইংল্যান্ডের মত জায়ান্ট দলকে হারিয়ে।

কথাটা অবাক লাগলেও আর মিথ্যা না, এটাই সত্য। চলুন দেখে নেই পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জার্নি কেমন ছিল।

ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল দল ও আট দলের মধ্যে সবার নিচের র‍্যাংকিং এ থেকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরু করে পাকিস্তান।

প্রথম ম্যাচ ভারতের বিপক্ষেঃ

invp.jpg

এজবাস্টন মাঠে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠান পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে শেষ ৯ ম্যাচের ৭টিতে টসে হার দেখে পাকিস্তান। তবে বাকি দুইবার সফল টস শেষে ম্যাচে জয়ের স্মৃতি পাকিস্তানের।আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের দল ভারত নির্ধারিত ৪৮ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩১৯ রান তোলে। জবাবে, ওয়াহাব রিয়াজের ইনজুরিতে নামা না হলে ৩৩.৪ ওভারে বাকি সবক’টি উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস থামে ১৬৪ রানের মাথায়।

হাইভোল্টেজ ম্যাচে বৃষ্টির জন্য পাকিস্তানের ইনিংস দেরিতে শুরু হওয়ার টার্গেট ছিল ৪১ ওভারে ২৮৯ রান। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে ১২৪ রানের ব্যবধানে হারিয়ে দেয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে।আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে দীর্ঘ আট বছরে জয়ের স্মৃতি নেই পাকিস্তানের।

দ্বিতীয় ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেঃ ind.sa.jpg

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আগের টানা ছয় ম্যাচে হারের স্মৃতি ছিল পাকিস্তানের। গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে কুলীন এ ওয়ানডে আসরে পাকিস্তান সর্বশেষ জয় দেখেছিল ২০০৯-এ ভারতের বিপক্ষে।চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ‘বি’ গ্রুপে বাঁচা-মরার ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে যায় পাকিস্তান।ব্যাট হাতে শুরুটা খারাপ ছিল না প্রোটিয়াদের। ওপেনিং জুটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর বোর্ডে ৪০ রান জমা করেন হাশিম আমলা ও কুইন্টন ডি কক। তবে দলীয় ১১৮ রানে প্রোটিয়াদের শীর্ষ ৬ উইকেট তুলে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন পাকিস্তানি বোলাররা। পাঁচ নম্বরে ব্যাট হাতে ডেভিড মিলারের ১০৩ বলের হার না মানা ৭৫ রানের ইনিংসে শেষ পর্যন্ত দলীয় ২১৯ রানে থামে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস।জবাবে ৭.২তম ওভারে দলীয় ৪০ রানে প্রথম উইকেট খোয়ায় পাকিস্তান।প্রোটিয়া পেসার মরনে  মরকেলের ডেলিভারিতে হাশিম আমলার হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে ২৯ বলে ৩১ রান করেন পাকিস্তানের অভিষিক্ত ওপেনার ২৭ বছর বয়সী ফখর জামান।২৩.২তম ওভার শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ পৌঁছে ৯২/৩-এ।পাকিস্তান ইনিংসের ২৭তম ওভার শেষে বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। এ সময় ১১৯/৩ সংগ্রহ নিয়ে বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে এগিয়ে ছিল পাকিস্তান। ফলে আর খেলা না হওয়ায় বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে জয় পায় পাকিস্তান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস: ২১৯/৮ (৫০ ওভারে) (ডি কক ৩৩, আমলা ১৬, ডু প্লেসি ২৬, ডি ভিলিয়ার্স ০, মিলার ৭৫*, ডুমিনি ৮, পারনেল ০, মরিস ২৮, রাবাদা ২৬, মরকেল ০*; আমির ৫০/০, জুনায়েদ ৫৩/২, ইমাদ ২০/২, হাফিজ ৫১/১, হাসান ২৪/৩, শাদাব ২০/০)।

পাকিস্তানের ইনিংস: ১১৯/৩ (২৭ ওভারে) (আজহার ৯, ফখর ৩১, বাবর ৩১*, হাফিজ ২৬, মালিক ১৬*; রাবাদা ৩৬/০, পারনেল ২৫/০, মরকেল ১৮/৩, মরিস ২২/০, তাহির ১৬/০।

তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষেঃsri.jpg

‘বি’ গ্রুপ এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৪৯ দশমিক ২ ওভারে ২৩৬ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলংকা। জবাবে ৩১ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে ২৩৭ রান তুলে জয়ের স্বাদ পায় পাকিস্তান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলংকা : ২৩৬/১০, ৪৯.২ ওভার (ডিকেবলা ৭৩, ম্যাথুজ ৩৯, জুনায়েদ ৩/৪০)।
পাকিস্তান : ২৩৭/৭, ৪৪.৫ ওভার (সরফরাজ ৬১*, জামান ৫০, প্রদীপ ৩/৬০)।
ফল : পাকিস্তান ৩ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : সরফরাজ আহমেদ (পাকিস্তান)।

সেমি ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেঃPak125.jpg

সেমিফাইনালের লড়াই। যে দল জিতবে সেই দল টুর্নামেন্টে টিকে থাকবে। মানে, পেয়ে যাবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের টিকিট। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, হারলে নিশ্চিত হবে বিদায়। এমনই এক ম্যাচে কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড।পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ খেলতে থাকা ইংল্যান্ড এই আসরের অন্যতম ফেবারিট।গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচে যেতা ইংল্যান্ডের জন্য জয়টা কোন কঠিন কিছু ছিল না। কিন্তু প্রতিপক্ষ যে পাকিস্তান, যে দল যে কোন মুহূর্তে যে কোন কিছু ঘটাতে পারে, তাই সবার চোখ ছিল দুই দলের লড়াইয়ের দিকে। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ডের শুরু আর শেষটা হলো ভিন্ন। পাকিস্তানি বোলারদের তোপে নির্ধারিত ৫০ ওভারই ব্যাট করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ৪৯.৫ ওভারে ২১১ রানে অলআউট হয় ইয়ন মরগানের দল।জো রুট সর্বাধিক ৪৬ এবং ওপেনার বেয়ারস্টো ৪৩ রান সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া স্বাগতিক দলের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান বেন স্টোকস ও অধিনায়ক ইয়োইন মরগান করেছেন যথাক্রমে ৩৪ ও ৩৩ রান।পাকিস্তানের হয়ে তিন উইকেট নিয়েছেন হাসান আলী। এছাড়া দুটি করে উইকেট নেন জুনায়েদ খান ও অভিষেক পাওয়া রুম্মন রইস।জয়ের জন্য ২১২ রানে লক্ষ্যমাত্র নিয়ে খেলতে নেমে মাত্র ৮ উইকেট হারিয়ে ১১.৫ ওভার বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌছে যায় পাকিস্তান। বাবার আজম ৩৮ এবং মোহাম্মদ হাফিজ ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড: ৪৯.৫ ওভারে ২১১ (বেয়ারস্টো ৪৩, হেলস ১৩, রুট ৪৬, মরগান ৩৩, স্টোকস ৩৪, বাটলার ৪, মঈন ১১, রশিদ ৭, প্লানকেট ৯, উড ৩, বল ২*; জুনায়েদ ২/৪২, রইস ২/৪৪, ওয়াসিম ০/১৬, শাদাব ১/৪০, হাসান ৩/৩৫, হাফিজ ০/৩৩)

পাকিস্তান: ৩৭.১ ওভারে ২১৫/২ (আজহার ৭৬, জামান ৫৭, বাবর ৩৮*, হাফিজ ২৭*; উড ০/৩৭, বল ১/৩৭, স্টোকস ০/৩৮, প্লানকেট ০/৩৩, রশিদ ১/৫৪, মঈন ০/১৫)

ফল: পাকিস্তান ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: হাসান আলি (পাকিস্তান)।

ফাইনালে পাকিস্তান দল আজ দ্বিতীয় সেমি ফাইনালে মুখোমুখি দল বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝে জয়ী দলের সাথে মোকাবেলা করবে। এখন দেখার বিষয় পাকিস্তান ফাইনালে কেমন করে।

সবাইকে অবাক করে ফাইনালে পাকিস্তান

Now Reading
সবাইকে অবাক করে ফাইনালে পাকিস্তান

চ্যাম্পিয়ন ট্রফি শুরু হবার আগে থেকে ধরে নেয়া হচ্ছিলো ইংল্যান্ড ফাইনালে খেলবে । ইংল্যান্ড নিজেদের প্রমাণ ও করেছে । তারা কঠিন গ্রুপ থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠেছে সেমি ফাইনালে তে । গ্রুপ পর্বে বড় বড় দলকে হারিয়েছে তারা ।
অন্য দিকে পাকিস্তান তুলনা মূলক ভাবে দুর্বল টিম । তারা ওয়ান ডে রেঙ্কিং এক ৮ তম দল । শুরু থেকে তাদের সমীহ করছিলো না কেউ । টুর্নামেন্ট শুরু হবার আগে সবাই বলছিল পাকিস্তান আন্ডার ডগ । আর সেই আন্ডার ডগ আজ ফাইনালে । হ্যাঁ ভাই , আপনি ঠিক পড়ছেন । পাকিস্তান ইংল্যান্ড কে হারিয়ে ফাইনালে ।

টস হারার সাথে সাথে মনে হয় ভাগ্য বিধাতা ইংল্যান্ড দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন । নিজেদের মাটিতে এভাবে হারতে হবে তা হয়তো ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল নিজেরাও মেনে নিতে পারছে না । আর যারা পাকিস্তান কে নিয়ে সমালোচনা করেছে তাদের জন্য পাকিস্তানের বিজয়টা ছিল স্রেফ একটি ভদ্র জবাব ।

 

উইকেট

টসে হেরে ব্যাট করতে আসে ইংল্যান্ড । দলে আজ কিছুটা পরিবর্তন করেছে তারা । রয় কে বসিয়ে রেখেছিলো । পর পর কিছু ম্যাচ বাজে খেলার জন্য তাকে আজকে দলে নেয়া হয়নি । বেয়ারস্টো খেলেছেন রয়ের পরিবর্তে ।পরিবর্তন করে যে খুব বেশি ভালো হয়েছে তা বলা যাবে না । কারণ দলীয় ৩৪ রানে ফিরে যান অ্যালেক্স হেলস । স্ট্যাম্প ছেড়ে সামনে এগিয়ে এসে খেলতে যান তিনি । কিন্তু বলের গতি থাকার কারণে ব্যাট ঘুরে যায় । যার ফলে সরাসরি অফ সাইডে ক্যাচ চলে যায় খেলোয়াড়ের হাতে । এর ফলে মাত্র ১৩ রানে ফিরে যান তিনি । আরেক প্রান্তে বেয়ারস্টো খেলছিল তার সাবলীল খেলা । সেই খেলায় চির পরে ১৬ তম ওভারে । পাকিস্তানী খেলোয়াড় হাসান তার ব্যক্তিগত প্রথম ওভারে ফিরিয়েছেন রয় এর পরিবর্তে খেলতে নাম এই খেলোয়াড় কে । গুড লেন্থের বল যখন একটু উপরে উঠেছিল , তখনি ব্যাটসম্যান খেলার পুল শর্ট । লেগের দিকে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডারের সাথে সরাসরি ক্যাচ চলে যায় । অল্প কিছু রানের জন্য নিজের প্রথম অর্ধ শতক মিস করেন । ৪৩ রানে ফিরে যান এই ব্যাটসম্যান । ইংল্যান্ড এর তখন ৮০ রানে দুই উইকেট । ধীরে ধীরে বড় সংগ্রহের দিকে এগুছিল ইংল্যান্ড ঠিক তখনি বল হাতে বল করতে আসেন শাদাব । ব্যক্তিগত ৬ ওভারে তুলে নেন তার প্রথম উইকেট । গুড লেন্থে পড়ে যখন বল বাক খেয়ে অফ স্ট্যাম্পের বাহিরে যেতে নিবে তখনি রুট ভুল করে বসেন । বাহিরের বল কাট করতে গিয়ে আউট হয়ে যান তিনি । উইকেট এর পিছনে ছিলেন সরফরাজ । তার হাতে তালু বন্দি হয়ে ফিরে যান প্যাভিলিয়নের পথে । ইংল্যান্ড দলের তখন ১২৮ রানে নেই উপরের সারির ৩ ব্যাটসম্যান । প্রথম দিকের ৩ জন কে হারিয়ে দল তখন ভীষণ চাপে । সেই চাপে কে সামাল দিতে মাঠে নামেন ষ্টোকে । ভেবেছিলেন মর্গ্যান এর সাথে মিলে দল কে এনে দিবেন বড় একটি জুটি । কিন্তু মর্গ্যান এর তারা হুড়ার কারণে ভুলের মাশুল দিতে হয় । হাসান এর বল সামনে এগিয়ে এসে খেলেন তিনি । চেয়ে ছিলেন বড় শর্ট খেলবেন । কিন্তু অফ সাইডের বল ব্যাটের কোনায় লেগে চলে যায় উইকেট কিপারের হাতে । ব্যক্তিগত ৩৩ রানের মাথায় প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি । এই সময় অধিনায়ক হিসেবে এমন শর্ট না খেলে তার উচিত ছিল ধরে খেলা । যাতে দল বড় সংগ্রহ প্রায় । এর পর ইংল্যান্ডের আর কেউ দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তানের সামনে । সবার মধ্যে ছিল আসা যাওয়ার পিচ্ছিল । ষ্টোকে আর মইন আলী ছাড়া দুই অংকে পৌঁছাতে পারেনি কেউ । বেশ ভাগ ব্যাটসম্যান উইকেট কিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন । তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অনেক অভাব দেখা গিয়েছে । ব্যাটসম্যান দের ভুলের কারণে বিদায় নিতে হয়েছে সেমি ফাইনাল থেকে ।

আউট

সেই দিক থেকে পাকিস্তান ছিল খুব সাবধান । বোলিং , ব্যাটিং ও ফিল্ডিং এই তিন বিভাগে পাকিস্তান খুব ভালো করেছে । যার ফলাফল হিসেবে তারা ফাইনালের টিকিট পেয়েছে । ২১২ রানের টার্গেট নিয়ে খেলতে নেমে হারিয়েছে মাত্র দুই উইকেট । ৮ উইকেটে জয় তুলে নেয় পাকিস্তান । ব্যাটিং এ যেমন ব্যর্থ ছিল ইংল্যান্ড , ঠিক বোলিং এ ব্যর্থ ছিল । তারা যে চাপে ছিল তা বোঝা যাচ্ছিলো পাকিস্তান দলের ব্যাটসম্যানদের খেলা দেখে । উদ্বোধনী জুটি করে ১১৮ রান । ২১.১ ওভারে বল করতে আসেন রশিদ । তার ওভারের প্রথম বলে আউট হয়ে যান অর্ধ শতক করা জামান । ব্যক্তিগত ৫৭ রানে ফিরে যান এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান । দল তখন সুবিধা মতো জায়গায় । অপর প্রান্তে তখন টিকে আছেন আজহার । নতুন ব্যাটসম্যান বাবর কে নিয়ে করেন ৫৫ রানের জুটি , আর সেই জুটির সুবাদে পাকিস্তান তখন একদম জয়ের দ্বারপ্রান্তে । ভেবে ছিলেন এই দুই ব্যাটসম্যান মিলে দলকে জয় উপহার দিয়ে মাঠ থেকে বিদায় নিবেন সেই সাথে নিজের শতক পূর্ণ করবেন । কিন্তু সেই সুযোগ আর হলো না । জেক এর বলে ৭৬ রানে ফিরে যান তিনি । তার পর আর পাকিস্তানের উইকেট খোয়াতে হয়নি ।বাবর আর হাফিজ এই দুই ব্যাটসম্যান মিলে দল কে জয় উপহার দেন । সেই সাথে পাকিস্তান চলে যায় ফাইনালে ।

 

পাকিস্তানের জয়

খুব ভালো বল করার কারণে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হন হাসান আলী । ৩৫ রানে ৩ উইকেট তুলে নেন তিনি ।

পাকিস্তান কে অপেক্ষা করতে হবে তাদের প্রতিপক্ষের জন্য । ভারত অথবা বাংলাদেশ হবে তাদের প্রতিপক্ষ । যেই হোক ফাইনাল খুব জমবে এখন থেকে বোঝা যাচ্ছে ।

রেফারেন্স https://www.facebook.com/rkfzs

১০ ওভারে ৩৬ রান ও কিছু কথা

Now Reading
১০ ওভারে ৩৬ রান ও কিছু কথা

BanvEng.jpg

আমরা সবাই জানি যে বাংলাদেশ ইংল্যান্ডের সাথে বড় ব্যবধানে হেরে গিয়ে তাদের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০১৭ এর যাত্রা শুরু করেছে। বাংলাদেশের এই হারটা আর সবার মত আমার কাছেও দৃষ্টিকটু লেগেছে, কারণ আমরা শুরু ও শেষের ১০ ওভারে বেশী রান তুলতে পারিনি। হ্যা, আমি ব্যাটিং এর দোষই দিব, কারণ ম্যাচটা একটি ব্যটিং সহায়ক পিচে খেলা হয়েছিল। টসে হেরে ব্যাটিং এ নেমে আমাদের খেলোয়াড়েরা অতি সাবধানে খেলতে গিয়ে ১০ ওভারে মাত্র ৩৬ রান সংগ্রহ করে, যা কিনা এই ধুম ধারাক্কা ব্যাটিং এর যুগে বেশ বেমানান। যেখানে ১০ ওভারে মিনিমাম ৬০/৭০ রান হয়, সেখানে আমরা করলাম মাত্র ৩৬! এখন অনেকে আবার শান্তনা খুঁজতে যায় যে, রান যাই হোক না কেন, আমাদেরতো কোন উইকেট পরে নাই। আমিও মানলাম আমাদের কোন উইকেট পরে নাই, কিন্তু ভাই আপনিই দেখুন এই যে আপনি ২৫/৩০ রান কম করলেন প্রথম ১০ ওভারে, সেই ধাক্কা কিন্তু বাংলাদেশ আর সামলাতে পারে নাই। যা আমাদের মোট রান ২৫/৩০ রান কম করে দিয়েছে। এই ২৫/৩০ রান বেশী হলেই কিন্তু আমরা ম্যাচ টা আর একটু টাইট হত, হইতবা জিততেও পারতাম, যা মাশরাফিও ম্যাচ শেষে স্বীকার করে নিয়েছে।

ম্যাচ শেষে অনেকেই মন্তব্য করতেছে যে বাংলাদেশ কি আবার আগের যুগে ফিরে গেল কিনা, যে কোন রকমে ৫০ অভার পর্যন্ত খেলে যেতে পারলেই হল, রান যাই হোক না কেন।

আমরা জানতাম যে ইংল্যান্ডের মাঠে ৩০০/৩০৫ কোন ব্যাপারই না চেজ করার জন্যে, সেই জন্যেই মনে হয় আমাদের বোলিংটাও খুব বাজে হয়ে গেছে। আমারা ম্যাচ হারার আগেই হেরে বসে ছিলাম।

আগে আমাদের ব্যাটিং ভালো না হলেও বোলিং ভালো করে আমরা ম্যাচ বের করে আনতে পারতাম, কিন্তু আমাদের বোলিং এর ধারও দিন দিন কমে যাচ্ছে। যাকে নিয়ে আমাদের সবচেয়ে বেশী আশা ছিল, সেই মুস্তাফিজও ওইদিন ফ্লপ ছিল। ইংল্যান্ডের ইনিংসের মাঝখানে কেন বোলিং অতি সাধারণ হলো,জুটি ভাঙা গেল না,৪০-৪২ ওভারের দিকেও যদি একটা বা দুইটা উইকট নেওয়া যেত। যদিও মাশরাফির বলে তামিম ইকবালের ক্যাচ টা পরিষ্কার আউট ছিল, কিন্তু আম্পায়ারদের কল্যাণে ব্যাটসম্যান বেঁচে যায় এবং বাংলাদেশও উইকেট বঞ্চিত হয়।

আমাদের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের দিনগুলো ভালো যাচ্ছে না। না ব্যাটিং না বোলিং। একটা সময় ব্যাটে-বলে দলকে অভয় দিতেন সাকিব। আর এখন সাকিবকে নিয়ে ভরসা পাচ্ছে না দল। নয়তো পুরো ক্রিকেট বিশ্বে টি-টোয়েন্টি ফেরি করে বেড়ানো সাকিব কেন নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছেনা। সাকিবের বোলিং আর আগের মত নেই,এটা নিয়ে বিতর্ক করার সুযোগ কম। ওয়ানডেতে গত ১৪ ইনিংসে ৩ উইকেট পেয়েছেন একবার। ২ উইকেট তিনবার। ১ উইকেটও তিনবার। বাকি সাতবার উইকেটের কোন দেখাই পাননি! আয়ারল্যান্ড ও নিউজল্যান্ডের সাথে ত্রিদেশীয় সিরিজ এরপর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো বড় আসরে যেখানে বড় তারকারা আলো ছড়ান। সাকিব সেখানে নিতান্তই মলিন। শেষ ছয় ম্যাচে তার বোলিং বিশ্লেষণ এমন-০/৫০,১/৩৮,২/৪১,১/৪১,০/২৩,০/৬২। সাকিবের সর্বশেষ কয়েকটা ম্যাচের ব্যাটিং পারফরম্যান্সও মোটে আশানুরূপ নয়। দলে সাকিবের অবস্থান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটে রান ও বোলিংয়ে উইকেট। একসঙ্গে তার কাছ দুটোই আশা করে দল। ১৪,৬,১৯,২৩,৭ এবং ১০ শেষ ছয় ম্যাচে সাকিবের কাছ থেকে এমন বাজে ইনিংসই উপহার হিসেবে পেয়েছে বাংলাদেশ।

আমার মনে হয় আমাদের ব্যাটসম্যানদের মানসিকতা আরও বাড়াতে হবে, কারণ যেখানে অন্য দলের ব্যাটসম্যানরা ব্যাটিং করলে ইচ্ছেমত চার ছয় হয়, সেখানে আমরা অনেক সময় ৩০ গজই পার করতে পারিনা, যা আমদেরকে অনেক পিছনে ফেলে দেয় রান করার ক্ষেত্রে। বাংলাদেশ প্রথম ৫ ওভারে করতে পেরেছে মাত্র ১৪, শেষ ৫ ওভারে ৪৩ রান, যেখানে ৬০/৭০ রান নেয়া দরকার ছিল, কারণ আমাদের হাতে উইকেট ছিল। শুরুটা যেমন ধীর,শেষে উইকেট হাতে রেখেও ঝড়টা তীব্র করতে ব্যর্থ, যে উইকেট হারানোর ভয়েই শুরুতে ১০ ওভারে রান ছিল মাত্র ৩৬!

এই হারাতে আমরা আবার রেঙ্কিং এ ৬ থেকে ৭ এ নেমে গেছি।

বাংলাদেশ অনেক বছর পরে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশ গ্রহণ করতে পেরেছে, যা এক সময়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ রা করতে পারেনি। তারা এই আসরে অংশ নিতে পারেনি। যার মানে নিশ্চয় বাংলাদেশ এখন আর আগের বাংলাদেশ নেই।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমি শুধু ক্রিকেটারদের ভুল ধরে গেলাম, এটা সত্য, কিন্তু তারপরেও ওই ম্যাচে আমাদের কিছু পজিটিব সাইট আছে। যেমন তামিম ও মুশফিকের ব্যাটিং।

বিশেষ করে তামিম ইকবালের কথা বলব আমি। ইংল্যান্ডকে সামনে পেলেই তামিম কেমন যেন জলে উঠেন। লর্ডস এ সেই ঐতিহাসিক সেঞ্চুরির কথা বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের মানুষ নিশ্চয় ভুলে যায়নি। সেই তামিম ইংল্যান্ডকে পেয়ে যেন জ্বলে উঠলেন। সেঞ্চুরি করেছেন তামিম ইকবাল। এটি ছিল ওয়ানডেতে তার নবম সেঞ্চুরি। ১১ চার আর ১ ছয়ে ১২৪ বলে শতক হাঁকান তামিম ইকবাল। এনিয়ে একদিনের ক্রিকেটে নবম শতকে নাম লেখালেন তামিম। শেষমেশ ১২৮ রানে থামল তামিমের ব্যাট। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পরে যেন তামিম আরও ধারালো হয়েছেন। যেখানে বিশ্বকাপের আগে আট বছরে ১৪১টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ছিল চারটি সেঞ্চুরি ও ২৮টি হাফ সেঞ্চুরি। সেখানে গত দুই বছরে মাত্র ২৯টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে পাঁচটি সেঞ্চুরি ও আটটি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তামিম ইকবাল।

মুশফিকও কোন অংশে কম ছিলনা, মুশফিকের হাত শুরু থেকেই খোলা। একবারে ভয়ডরহীন ব্যাটিং। ৪৮ বলে তুলে নিলেন হাফ সেঞ্চুরি। তামিমএর সাথে মুশফিকের ১৬৬ রানের পার্টনারশিপ ম্যাচে বাংলাদেশ ম্যাচে ঠিকমতেই ছিল। মুশফিক ৭২ বলে ৭৯ রানের ক্লাসিক ইনিংস খেলে তামিম যে বলে আউট হলেন তার পরের বলেই আউট হয়ে যান

তামিম, সাকিব, সাব্বির, মুশফিকরা ঠিকমতে জ্বলে উঠলে ও মাশরাফি, রুবেল, মুস্তাফিজরা তাদের কাজটি ঠিকমত করতে পারলে, আশা করি আমাদের বিজয় কেউ আটকে রাখতে পারবেনা। পরের ম্যাচের জন্যে শুভ কামনা।

মুস্তাফিজ: একজন বৈচিত্র‍্যময়ী বোলার

Now Reading
মুস্তাফিজ: একজন বৈচিত্র‍্যময়ী বোলার

মুস্তাফিজ, বদলে যাওয়া বাংলাদেশের এক নতুন আশ্চর্যের নাম। যার প্রতি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের এক বিস্ময়কর ভালোবাসা। যাকে বাংলাদেশের মানুষ ভালোবেসে ডাকে ” কাটার মাস্টার ” আর ক্রিকেট বিশ্বের কাছে সে “দ্য ফিজ ( The Fizz)”। যার অর্জনে রয়েছে বিশ্বের সেরা সেরা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ভিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা,মাহেন্দ্র সিং ধোনি, ক্রিস গেইল, এবিডি ভিলিয়ার্স, হাশিম আমলা, শহিদ আফ্রিদি, মোহাম্মদ হাফিজ, কেন উইলিয়ামসনদের উইকেট।

মুস্তাফিজুর রহমান একজন বামহাতি মিডিয়াম ফাস্ট বোলার যার প্রথম অভিষেক ঘটে ২৪ এপ্রিল ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র টি-২০ ম্যাচে। অভিষেক ম্যাচেই তার ঝুলিতে এসে যায় পাকিস্তান দলের অন্যতম সেরা দুইজন ব্যাটসম্যান শহিদ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ হাফিজের উইকেট। মুস্তাফিজের প্রথম উইকেটটি আসে আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে। যেখানে ব্যাটসম্যানরাই তার বল বুঝতে ভুল করছিল সেখানে আম্পায়ারই বা কেনো ভুল করবে না!

মুস্তাফিজ তার ভিতরে যে প্রতিভা রয়েছে তার প্রমান দেন বাংলাদেশ- ভারত মধ্যকার ওডিআই সিরিজে যা তাকে সবার থেকে আলাদা ভাবতে বাধ্য করেছে। সে তার ওডিআই অভিষেকে ভারতের কঠিন ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেয় তার নিখুঁত বোলিং লাইন লেন্থ ও কাটারের বৈচিত্র্যের সাহায্যে। ৯.২ ওভার বল করে নিয়ে নেন অভিষেকে ৫ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব এবং অর্জন করেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। ২য় ওডিআইতে ৬ উইকেট নিয়ে গড়েন ক্রিকেট ইতিহাসে দুই ম্যাচে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড। আর বাংলাদেশ পেয়ে যায় ভারতকে প্রথম ওডিআই সিরিজে হারানোর স্বাদ। শেষ এবং ৩য় ওডিআইতে ২উইকেট নিয়ে ৩ ম্যাচে ১৩ উইকেট শিকারের মাধ্যমে অর্জন করেন অভিষেকে ৩ম্যাচে সেরা উইকেট শিকারির স্থান। এই অভ্যুত্থান এর মধ্যে দিয়ে জানিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে রাজত্ব করার জন্য আসছেন এক নতুন রাজা। কিন্তু  তার এইস্থানে আসা মোটেও সহজ ছিলো না। একমাত্র সেরারাই পারে এইরকমভাবে ভাবে সবার মাঝে তার নিজের জন্য জায়গা করে নিতে।

মুস্তাফিজুর রহমান ১৯৯৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা জেলার তেতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বড় ভাই তাকে প্রতিদিন বাড়ি থেকে ৪০ কি.মি দূরে অনুশীলননের জন্য দিয়ে আসতেন যা তাকে খেলার প্রতি আরও দৃঢ় হতে অনুপ্রেরণা দেয়। ২০১২ সালে মুস্তাফিজ ঢাকায় বিসিবি ফাস্ট বোলার ক্যাম্পে এসে নজর কারেন কোচের। তার নিজ জেলায় অনুষ্ঠিত অনুর্ধ্ব-১৭ লিগে অসাধারণ খেলার জন্য বিসিবি তাকে পেস ফাউন্ডেশনে অন্তর্ভুক্ত করে। সে ২০১৪ সালে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীততে তার বোলিং বৈচিত্র্যের কারনে তাকে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-২০ ম্যাচে খেলার জন্য ডাকা হয়। এরপর থেকে মুস্তাফিজ চলছে আর সাথে চলছে তার বোলিং জাদু।

মুস্তাফিজের বোলিং পরিসংখ্যানঃ
টেস্ট 
ম্যাচ সংখ্যাঃ ৪
রানঃ ২৭৮
উইকেটঃ ১২
বোলিং গড়ঃ ২৩.১৬
৫ উইকেটঃ ০
সেরা বোলিংঃ ৪/৩৭

ওডিঅাই
ম্যাচ সংখ্যাঃ ১৬
রানঃ ৬১৯
উইকেটঃ ৩৮
বোলিং গড়ঃ ১৬.২৮
৫ উইকেটঃ ৩
সেরা বোলিংঃ ৬/৪৩

 টি-২০
ম্যাচ সংখ্যাঃ ১৭
রানঃ ৪০৩
উইকেটঃ ২৭
বোলিং গড়ঃ ১৪.৯২
৫ উইকেটঃ ১
সেরা বোলিংঃ ৫/২২

প্রথম শ্রেণি
ম্যাচ সংখ্যাঃ ১৯
রানঃ ১১৬১
উইকেটঃ ৫৬
বোলিং গড়ঃ ২০.১৯
৫ উইকেটঃ ১
সেরা বোলিংঃ ৫/২৮
সূত্রঃ http://www.espncricinfo.com/bangladesh/content/…/330902.html

মুস্তাফিজের বোলিং পরিসংখ্যান দেখলেই বুঝা যায় তার জন্ম হয়েছে ক্রিকেটে নতুন রেকর্ড তৈরি করার জন্য,  ক্রিকেট সহ পুরো পৃথিবীতে বাংলাদেশের নামকে উজ্জল করার। মুস্তাফিজের প্রথম টেস্ট অভিষেক হয় দক্ষিন আফ্রিকার বিরুদ্ধে। ১ম টেস্টেই সে অর্জন করে ম্যাচ সেরা হওয়ার গৌরব।যার ফলে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে অর্জন করে অভিষেক ওয়ানডে এবং টেস্ট ম্যাচে ম্যাচ সেরা হওয়ার খেতাব।

মুস্তাফিজ ২০১৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত আইপিএল এ ” সানরাইর্জাস হায়দ্রাবাদ” দলে খেলেছেন। সেখানে সে ২০১৬ এর সেরা উদিয়মান ক্রিকেটার হিসেবে খেতাব অর্জন করে এবং তার দল হায়দ্রাবাদকে প্রথম শিরোপা লাভের স্বাদ গ্রহন করতে সাহায্য করে। এছাড়া সেই একই বছর ইংল্যান্ডের কাউন্টি দল সাসেক্সের হয়ে ন্যাটওয়েস্ট টি-২০ খেলেছেন।

মুস্তাফিজ ২০১৫ সালে জায়গা করে নেয় আইসিসি ঘোষিত বর্ষসেরা দলে এবং ২০১৬ সালে লাভ করে বর্ষসেরা উদিয়মান ক্রিকেটার এর খেতাব।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে একজন ভালো মানের পেসার পাওয়া এবং তার জাতীয় দলে টিকে থাকা একমাত্র মাশরাফি ছাড়া আর সহজে কাউকে দেখা যায়না। বাংলাদেশের একসময়ের খেলোয়াড়দদের মধ্যে তালহা যুবায়ের, সৈয়দ রাসেল, রবিউল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন তারা খুব প্রতিভাবান ছিলো কিন্তু তাদের কারোরই জাতীয় দলে দীর্ঘ সময় ধরে থাকা সম্ভব হয়নি কারণ তাদের ইনজুরি।মুস্তাফিজও ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছে। তার ইনজুরি তাকে কিছু সময়ের জন্য তার ধারালো বোলিং অ্যাকশন থেকে দূরে রেখেছে। কিন্তু মুস্তাফিজ ইনজুরি থেকে আসা অফফর্মে ভুগতে থাকা কোনো সাধারণ ক্রিকেটার নন। শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্টে তার বোলিং স্পেল দেখে বুঝা যাচ্ছিলো তার অফফর্ম সাময়িক কিন্তু তার ক্লাস পার্মানেন্ট। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিউজিল্যান্ডের সাথে তার বোলিং জানান দিচ্ছে এইবার আসছি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বড় একটা দাগ ফেলতে। মুস্তাফিজ আমাদের দেশের সম্পদ। তাকে সঠিকভাবে পরিচর্যা না করতে পারলে সেও হারিয়ে যাবে অন্যদের মতো। বাংলাদেশকে ভবিষ্যৎ ক্রিকেটে শাসন করতে হবে  আর তার জন্য প্রয়োজন মুস্তাফিজের মতো বৈচিত্র‍্যপূর্ন বোলার।

মুস্তাফিজ এর বোলিং দেখার জন্য বাংলাদেশের মানুষ অন্য যে কোনো প্রান্ত থেকে হলেও ঠিকই সময় বের করে নিয়ে বসবে তার খেলা দেখতে  । তাকে টিভির পর্দায় দেখে ঘরের ছোট্ট ছেলেটিও বলে উঠবে আমাদের মুস্তাফিজ, আমাদের কাটারমাস্টার।