জুয়েল-জুনাইনার সঙ্গে আসিফের রেকর্ড জাতীয় সাঁতারে

Now Reading
জুয়েল-জুনাইনার সঙ্গে আসিফের রেকর্ড জাতীয় সাঁতারে

সোমবার মিরপুরে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সুইমিং কমপ্লেক্সে ছেলেদের ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে ২০১৬ সালে গড়া নিজের রেকর্ড ভেঙেছেন জুয়েল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই সাঁতারু এবার সময় নিয়েছেন ৪ মিনিট ৫০ সেকেন্ড। তার আগের সেরা টাইমিং ছিল ৪ মিনিট ৫২ দশমিক ১৫ সেকেন্ড। আগের দিন ২০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে রেকর্ড গড়ে সোনা জিতেছিলেন জুয়েল।
ছেলেদের ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকেও রেকর্ড গড়েছেন জুয়েল। ১ মিনিট ০ দশমিক ৭৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে ২০০৫ সালে রুবেল রানার গড়া (১ মিনিট ০১ দশমিক ৯৬ সেকেন্ড) রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি।
মেয়েদের ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে ৫ মিনিট ৩৭ দশমিক ৬১ সেকেন্ড সময় নিয়ে রেকর্ড গড়েন জুনাইনা। আগের দিন ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল ও ৪০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে রেকর্ড গড়া এই সাঁতারু ভেঙেছেন ২০১৬ সালে রোমানা আক্তারের গড়া (৫ মিনিট ৪৭ দশমিক ৫৯ সেকেন্ড) রেকর্ড।
ছেলেদের ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে ২৩ দশমিক ৮৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আসিফ রেজা। আগের রেকর্ডটি (২৩ দশমিক ৯৮ সেকেন্ড) ২০১৬ সালে গড়েছিলেন মাহফিজুর রহমান সাগর। মেয়েদের ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে ২৯ দশমিক ৯৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে সেরা হয়েছেন ইংল্যান্ড প্রবাসী জুনাইনা।
১ মিনিট ১৪ দশমিক ৫৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে জুনাইনাকে পেছনে ফেলে মেয়েদের ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে সেরা হয়েছেন সেনাবাহিনীর নাঈমা আক্তার। ছেলেদের ৫০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে ২৬ দশমিক ১৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম হন মাহমুদুন নবী নাহিদ। এই ইভেন্টে মেয়েদের বিভাগে সেরা হয়েছেন নৌবাহিনীর সোনিয়া খাতুন (৩১ দশমিক ৯৩ সেকেন্ড)।
ছেলেদের ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলেতে ৮ মিনিট ১৬ দশমিক ৩৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন আসিফ রেজা-মনিরুল ইসলাম-পলাশ চৌধূরী-মাহমুদুন নবী নাহিদে গড়া নৌবাহিনী দল। আগের রেকর্ড টাইমিং ছিল ৮ মিনিট ১৯ দশমিক ৬১ সেকেন্ড।
মেয়েদের ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলেতেও রেকর্ড গড়ে সোনা জিতেছে নৌবাহিনী। ৯ মিনিট ৫২ দশমিক ০৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে সাঁতার শেষ করেন জুনাইনা-সোনিয়া আক্তার-মাজফুজা-সোনিয়া আক্তার টুম্পায় গড়া দল। এ ইভেন্টে আগের রেকর্ড টাইমিং ছিল ৯ মিনিট ৫৭ দশমিক ১০ সেকেন্ড। আগের দিন মেয়েদের ১০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে রেকর্ড গড়ে সেরা হয়েছিলেন টুম্পা।

“মুজিব নগর সরকার” গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভিত্তি

Now Reading
“মুজিব নগর সরকার” গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভিত্তি

১৭ এপ্রিল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন আজ, এই দিনটি ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস নামে বাঙালীর অবিছেদ্য অংশ হয়ে আছে। এই দিনটিকে কেন মুজিব নগর দিবস বলা হয় তা জানতে ইতিহাস ঘুরে আসতে হবে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে বাংলাদেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করে স্বাধীন রাষ্ট্রটির প্রথম সরকার গঠন করে। আর এই সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। ইতিহাসবিদ-গবেষকগণ এর মতে- স্বাধীনতা অর্জনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এই সরকার গঠন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

যুদ্ধ পূর্ববর্তী দেশের ভেতর বিভিন্ন জায়গায় যখন প্রতিরোধ লড়াই শুরু হলতখন ৭০ এর নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামীলীগের নেতারা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দিক নির্দেশনায়। ঐতিহাসিক ২৬ শে মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষনাকে প্রতিপাদন করে আওয়ামীলীগ এর নেতারা দেশের সীমান্তে সংগঠিত করেন জনপ্রতিনিধিদের। মাত্র দু’ সপ্তাহের তৎপরতায় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র জারি করা হয় যার মাধ্যমে গঠন করা হয় প্রবাসী সরকার। সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী, এম মনসুর আলীকে অর্থমন্ত্রী, এই এচ এম কামারুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং খন্দকার মোস্তাক আহমেদকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করা হয়। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান সরকার কর্তৃক বন্দি হওয়ায় তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। ১১ এপ্রিল রাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে কর্নেল এম এ জি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয় এবং সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ পদে কর্নেল আবদুর রবের নিযুক্ত করা হয়। মুজিব নগরে সেদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করে এর কার্যকারিতা ঘোষণা করা হয় ২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে।

এর সপ্তাহখানিক পর ১৭ই এপ্রিল বিদেশী সাংবাদিক, প্রতিনিধি ও হাজারো মানুষের সরব উপস্থিতিতে বাংলাদেশের মুক্তাঞ্চল হিসেবে খ্যাত মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলার আম বাগানে(পরবর্তী নাম মুজিবনগর) আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত অস্থায়ী সরকার, যা পরবর্তীতে গোটা দেশে মুজিবনগর সরকার নামেই পরিচিত হয়। বেলা ১১টায় শুরু হওয়া এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বেশ কয়েক প্লাটুন ইপিআর পুলিশ ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা সন্মান সূচক গার্ড অব অনার প্রদান করেন। অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এর মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। অতঃপর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠনের কথা ঘোষনা করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদ তার ভাষনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার প্রেক্ষাপট গভীরভাবে বর্ণনা করেন। ভাষণের শেষভাগে তিনি বলেন- “বিশ্ববাসীর কাছে আমরা আমাদের বক্তব্য পেশ করলাম, বিশ্বের আর কোন জাতি আমাদের চেয়ে স্বীকৃতির বেশি দাবিদার হতে পারে না। কেননা, আর কোন জাতি আমাদের চাইতে কঠোরতর সংগ্রাম করেনি, অধিকতর ত্যাগ স্বীকার করেনি। জয়বাংলা। আর এভাবেই একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সূচনা হল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের। বাংলাদেশের আঞ্চলিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে জেলা ভিত্তিক প্রশাসনিক পরিষদ ও বেসামরিক প্রশাসনকে অধিক গণতান্ত্রিক করার লক্ষ্যে সমগ্র বাংলাদেশকে ১৯৭১ এর জুলাই মাসে ৯টি অঞ্চল এবং সেপ্টেম্বর মাসে চূড়ান্তভাবে ১১টি অঞ্চলে ভাগ করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার। জোন ভাগ করে প্রতিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানের জন্য আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদ গঠন করে দেয়া হয়। তাছাড়া প্রতিটি জোনে সংসদ সদস্যদের নিয়েও একটি আঞ্চলিক উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হত।

আজ জাতি রাজকীয় এই দিনটিকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে। দিনটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি চিরস্মরনীয় হয়ে আছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভীত রচিত হয়েছে এই দিনে। বিশ্ব চিনেছে বাংলাদেশ নামের এক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে।

Page Sidebar