‘হেপাটাইটিস ই’ ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু এখনি!

Now Reading
‘হেপাটাইটিস ই’ ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু এখনি!

ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট একটি ক্ষতিকারক রোগ হল হেপাটাইটিস যার ফলে লিভার বা যকৃতে স্বল্পমেয়াদি প্রদাহ সৃষ্টি হয়। সাধারনত ৫রকম হেপাটাইটিস ভাইরাসের কথা আমরা জানি আর তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘হেপাটাইটিস ই’ ভাইরাস। জন্ডিসের প্রধান কারণ কিন্তু এই হেপাটাইটিস ই ভাইরাস। যদিও আশার বাণী হচ্ছে যে হেপাটাইটিস ই লিভারে সিরোসিস বা ক্যান্সার রোগ তৈরি করে না যেমনটা হেপাটাইটিস বি অথবা সি ভাইরাসের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে এই হেপাটাইটিস ই ভাইরাসকে অগ্রাহ্য করা উচিৎ নয় কেননা লিভার ফেইলিওরের অন্যতম প্রধান কারণ হেপাটাইটিস ই ভাইরাস। হেপাটাইটিস ‘ই’ যেকোনো বয়সের মানুষকেই আক্রান্ত করতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে কিছুটা জটিল, কেননা কোনো প্রকার লক্ষণ ছাড়াই তারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। তবে ১৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী মানুষরা এই ভাইরাসের প্রধান টার্গেট। বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি প্রবল, লিভার ফেইলিওরে তাদের মৃত্যুর হার প্রায় একশত ভাগ। তাছাড়া অন্য কারণে লিভার রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস ই এর ফলে প্রাণ সংহারের ঝুঁকিটা সবচেয়ে বেশি থাকে। দেশে পরিচালিত গবেষণায় প্রমাণিত যে, অনেক সুস্থ ব্যক্তি হটাত হেপাটাইটিস ই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে লিভার ফেইলিওর হয়েছে।

সবার কাছে এখন পরিস্কার যে হেপাটাইটিস ই মূলত পানিবাহিত একটি ভাইরাস। এটি হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসের মতো ছড়াতে পারে। এমনকি পশুপাখির মাধ্যমেও হেপাটাইটিস ই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে, পৃথিবীর অনেক দেশই এর স্বপক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন। সেই যাই হউক আমাদের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে এটিকে আপাতত পানিবাহিত ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত করে এর থেকে উত্তরণ ঘটানো। অতি বৃষ্টি, জলা বদ্ধতা এবং বন্যা হেপাটাইটিস ই-এর আদর্শ মৌসুম। এখানে আদর্শ বুজিয়েছি প্রকৃত সময়কাল বুজাতে। এ সময়ে সুয়ারেজ লাইন আর কাঁচাপাকা টয়লেটের বর্জ্য মিশে খাবার পানি সরবরাহ লাইন এবং পুকুর-জলাশয় ইত্যাদি ব্যপকভাবে দূষিত হয়ে পড়ে। ফলে এসব এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যে কোন রোগ যা দূষিত পানির মাধ্যমে সংক্রমিত হয় বা ছড়িয়ে থাকে। মানুষ ও অন্যান্য জীবজন্তুর বিভিন্ন রোগের জন্য প্রধানত দায়ী রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব (ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস) এবং কয়েক রকমের পরজীবী। আর পানি বাহিত রোগের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জন্ডিস, ডায়রিয়া, কলেরা, আর্সেনিক, আমাশয়, টায়ফয়েড, পেটফাঁপা, বদহজম, কৃমি ইত্যাদি। আর সবচেয়ে ঝুঁকি বেশি থাকে জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ার। অনেকেই জন্ডিসকে রোগ ভাবেন, এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা। জন্ডিস কোনো রোগ নয়, এটি রোগের লক্ষণ মাত্র। সাধারণত এ ভাইরাস শরীরে ঢোকার মোটামুটি এক মাস পর রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। রোগটিতে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা যায়। যেমন- জন্ডিস, খাবারে অরুচি, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব কিংবা বমি হওয়া, অল্প অল্প জ্বর, চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া, জিহ্বার নিচের দিকে হলুদ হয়ে যাওয়া, গাঢ় প্রস্রাব হওয়া, শারীরিক দুর্বলতা ইত্যাদি।

দূষিত পানি পান করলেই এই ভাইরাস দেহে সংক্রমিত করে। আমাদের অনেকেরই ধারণা, বাসায় কিংবা বাড়ীতে আমরা নিরাপদ পানি পান করছি সুতরাং আমরা নিরাপদ। কিন্তু অনেকভাবেই নিজের অজান্তে এই ভাইরাস আমাদের দেহে ভর করছে, যেমনঃ ফুটপাতের খাবার, শরবত বা ফলের রস ইত্যাদি গ্রহণে এই ভাইরাস শরীরে ঢুকে পড়ে। যা লিভারে গিয়ে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং শেষতক জন্ডিস হয়। শুরুতেই বলেছি এই হেপাটাইটিস ই বা জণ্ডিস লিভারে সিরোসিস কিংবা ক্যান্সার রোগ সৃষ্টি করে না কিন্তু লিভার ফেইলিউর ঘটায় যা মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। সুতরাং হেপাটাইটিস ই কে আমরা প্রাণঘাতী ভাইরাস বললে খুব একটা অমূলক হবেনা।

হেপাটাইটিস ই এর বিরুদ্ধে কার্যকর তেমন কোনো ওষুধ বাজারে সহজলভ্য নয়। নেপালে হেপাটাইটিস ই ভ্যাকসিনের একটি ট্রায়াল ভার্সন তৈরি হয়েছে তবে সেটিও দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষায় তেমন কার্যকর নয় বলে জানা যায়। সুতরাং বাঁচতে হলে উপায় জানতে হবে এ ভাইরাসকে কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়ঃ

পরিস্কার পানি নিশ্চিত করে তা অবশ্যই ভালভাবে ফুটিয়ে পান করতে হবে। এটাই এ পর্যন্ত সবচেয়ে উত্তম পন্থা। এছাড়াও পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেট ব্যবহার করা যেতে পারে।  অনেকেই ব্র্যান্ডেড পানির ফিল্টার ব্যবহার করছেন, তবে গবেষণায় প্রমাণ হয়যে জনপ্রিয় এসব ফিল্টারগুলো হেপাটাইটিস ই ভাইরাস কার্যকরভাবে ফিল্টার করতে পারে না। সুতরাং পানিকে ফুটিয়ে ঠাণ্ডার পর তা ফিল্টারে ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে শুধু হেপাটাইটিস ই-ই নয়, বরং টাইফয়েড কিংবা ডায়রিয়ার মতো আরো অনেক শক্তিশালী পানিবাহিত রোগ থেকেই রক্ষা পাওয়া যাবে। মোট কথা অপরিশোধিত পানি পান করা যাবেনা। তাছাড়া বাসা বাড়ীতে দীর্ঘদিনের জমে থাকা পানি নিঃসরণ করতে হবে এবং পরিস্কার পরিচ্ছনতার দিকটাও খেয়াল রাখতে হবে।

কিভাবে নির্ণয় করবেন আপনি হেপাটাইটিস ‘ই’ তে আক্রান্ত?

হেপাটাইটিস ‘ই’ নিশ্চিত হওয়ার জন্য রোগীর রক্তের সিরামে এই ভাইরাসের নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডির উপস্থিতি দেখা হয়। এছাড়া লিভারের অবস্থা দেখার জন্য সিরাম বিলিরুবিন ও লিভার ফাংশন টেস্ট করা হয়। এসব পরীক্ষা নিকটস্থ হাসপাতাল কিংবা ডায়গনস্টিক ল্যাবে সহজেই করা যায়। তবে শতভাগ নিশ্চিতের জন্য ভাল এবং উন্নত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়াই উত্তম। আর যখন জেনে গেলেন আপনি এই ভাইরাসে আক্রান্ত! তাহলে অবশ্যই একজন লিভার বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে তাঁর নির্দেশনা মেনে চলা জরুরী। কেননা হেপাটাইটিস ‘ই’ এর ফলে প্রাণঘাতী কমপ্লিকেশনগুলো চিরতরে নিভিয়ে দিতে পারে আপনার জীবন প্রদীপ।

সকলের জন্য শুভ কামনা, সুস্থতাই হউক জীবনের পাথেয়… 

যে কারণে চট্টগ্রাম হালিশহর এলাকায় জণ্ডিসের প্রকোপ! (অনুসন্ধান)

Now Reading
যে কারণে চট্টগ্রাম হালিশহর এলাকায় জণ্ডিসের প্রকোপ! (অনুসন্ধান)

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুসারে প্রত্যেক বছর পৃথিবীতে প্রায় দশ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর কারণ হল দূষিত পানি। বাংলাদেশ ও এর আওতাভুক্ত আর এর বিভিন্ন জেলা দূষিত পানির দরুন সংক্রমিত হচ্ছে দিনদিন। নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় এখানে গ্রাম ও শহর উভয় জায়গায় পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যে কোন রোগ যা দূষিত পানির মাধ্যমে সংক্রমিত হয় বা ছড়িয়ে থাকে। মানুষ ও অন্যান্য জীবজন্তুর বিভিন্ন রোগের জন্য প্রধানত দায়ী রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব (ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস) এবং কয়েক রকমের পরজীবী। আর পানি বাহিত রোগের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জন্ডিস, ডায়রিয়া, কলেরা, আর্সেনিক, আমাশয়, টায়ফয়েড, পেটফাঁপা, বদহজম, কৃমি ইত্যাদি। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান দ্বিতীয় শহর চট্টগ্রাম হটাৎ করেই দূষিত পানির কবলে পড়ে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বন্দর নগরীর সমুদ্রের তীর ঘেঁষা অন্যতম এলাকা হালিশহর এখন পানিবাহিত রোগের সংক্রমণে জর্জরিত। ইতিমধ্যেই পানিবাহিত রোগ জন্ডিসে (হেপাটাইটিস-ই ভাইরাস) আক্রান্ত হয়ে কয়েকজনের মৃত্যুর অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। অন্যদিকে শতশত মানুষের অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যারা চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালসহ স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে জরুরী চিকিৎসা সেবা গ্রহণে ভিড় জমাচ্ছেন। ফলে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন তড়িৎ গতিতে কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে যার মধ্যে রয়েছে আক্রান্ত এলাকায় পানি বিশুদ্ধকরণে এক লাখ ৮৫ হাজার টেবলেট বিতরণ, ১০টি নির্দেশনা সম্বলিত জনসচেতনতামূলক ৫০ হাজার লিফলেট বিতরণ, এলাকা পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি।

 

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন এর বিতরনকৃত লিফলেট

অনুসন্ধানঃ গত মাসেই আমাদের অফিসের একজন এবং দারোয়ান মারাত্মক রকম অসুস্থ হয়ে পড়ে। ডাক্তারি পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানা গেল তারা পানিবাহিত রোগ জণ্ডিসে আক্রান্ত। বিষয়টি আমরা সাময়িক ব্যাধি হিসেবে খুব একটা আমলে নেইনি। এরই মধ্যে জয়েন করেছে নতুন ড্রাইভার আর সপ্তাহ দু-একের মাথায় তারও কঠিন জন্ডিস ধরা পড়েছে। এভাবে আশে পাশের পরিচিত আরো অনেকের খবর পাওয়া যাচ্ছে যারা জণ্ডিসে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিষয়টি এখন আর মামুলি মনে হলনা, গোটা এলাকাই এখন ঘোরতর বিপদে। এখানে বলে রাখা ভাল, যাদের অসুস্থ হওয়ার কথা উল্ল্যেখ করেছি তারা ওয়াসার পানি ফুটিয়ে পান করত, সরাসরি নয়। বেশ কয়েকদিন হালিশহরের বিভিন্ন আবাসিক ও অন্যান্য এলাকা পর্যবেক্ষণ করে একটা বিষয় পরিস্কার হয়েছে যে এলাকাটি নগরীর অন্যান্য অংশ হতে অনেকটা ডাউন লেভেলে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই এখানে হাঁটু সমান পানিতে নিমজ্জিত হয়, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ইদানীং এক্সেস রোড ও পোর্ট কানেক্টিং রোড সম্প্রসারন ও ড্রেনেজ সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, ফলে কিছু কিছু জায়গায় ওয়াসা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত পানি সরবরাহের নল ফেটে কিংবা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে বৃষ্টি হলেই সেই ফাটা/বিচ্ছিন্ন নল দিয়ে দীর্ঘদিনের জমে থাকা দূষিত পানি পৌঁছে যাচ্ছে অত্র এলাকার বাসাবাড়িতে। তাছাড়া এখানকার বেশিরভাগ নলকূপও পানিতে তলানো। এই এলাকায় ধনী ও মধ্যবিত্তের সাথে বাস করে নিম্ম আয়ের মানুষ যারা টিউব ওয়েল কিংবা টেপের পানি খেয়ে জীবন নির্বাহ করে। যেহেতু অত্র এলাকার সাধারণ জনগণ দিনের পর দিন নিজের অজান্তে দূষিত পানি সেবন করছে আর তাতেই ভাইরাস সংক্রমিত হচ্ছে তাদের দেহে। আরেকটা উল্ল্যেখযোগ্য বিষয়হলো অত্র এলাকায় কিছু ছোটখাট নামসর্বস্ব কোম্পানি আছে যারা বিভিন্ন বাসা-বাড়ি, অফিস, দোকান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্লাস্টিকের জারে করে পানি সরবরাহ করে। কিছুদিন পূর্বে এমন একটি পানির জার আমাদের হাতে এসে পৌঁছায় যেখানে আমরা জলজ্যান্ত একটি কেঁচো আবিস্কার করি। তাৎক্ষণিক সেই পানির সাপ্লাইয়ার ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজারকে ডাকা হল,  তারা বিএসটিআই কিংবা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লাইসেন্স প্রাপ্ত দাবী করলেও ট্রেড লাইসেন্স ব্যতীত এর স্বপক্ষে কোন শক্তিশালী প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। তারা ল্যাবে পানি পরীক্ষার কিছু কাগজ প্রদর্শন করলেও তা ছিল মেয়াদ উত্তীর্ণ, আমরা সেই ল্যাবের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলল যেহেতু ডকুমেন্ট ঐ প্রতিষ্ঠান নবায়ন করেনি সেহেতু তাদের কোন দায়বদ্ধতা নেই। বিষয়টি ক্লিয়ার হলে পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজারকে দ্রুত পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এই হল অবস্থা! সুতরাং এই বিষয়টিকেও স্থানীয়দের গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে যে তারা বিশুদ্ধ পানির নামে ব্যাকটেরিয়া কিনছেন নাতো! পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হালিশহরের অবস্থা আস্তে আস্তে এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে।  তাই নগর ব্যবস্থাপক এবং স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচিৎ বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার। অন্যথা, যেকোন মুহূর্তে এই বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়তে পারে শহরের অন্য প্রান্তেও।