দীর্ঘায়ু প্রাপ্ত জনপ্রিয় কিছু পোষা প্রাণীর সন্ধানে

Now Reading
দীর্ঘায়ু প্রাপ্ত জনপ্রিয় কিছু পোষা প্রাণীর সন্ধানে

ম্যাকাও প্যারট চার্লিঃ চার্লি হচ্ছে ম্যাকাও প্রজাতির টিয়া পাখি যার জন্ম ১৮৯৯সালে এবং বর্তমানে ২০১৮তে এসে তার বয়স দাঁড়িয়েছে ১১৯ বছর। পিটার ওরাম নামের একজন টিয়া পাখিটির মালিক যেটি সে তার পোষা প্রাণী বিক্রয়ের দোকানের জন্য কিনেছিল ১৯৬৫সালে। ওরাম পরবর্তীতে চার্লিকে তার বাড়ীতে নিয়ে রাখতে বাধ্য হয় কেননা পাখিটি নাৎসি বিরোধী গান গাইত। চার্লি তার মালিককে এটা জানিয়েছিল যে সে এসব যুদ্ধ কালীন সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার উইনস্টন চার্চিলের বাসভবন থেকে শিখেছিল, সম্ভবত তাকে কেনা হয়েছিল ১৯৩৭সালে। চার্চিলের কন্যা অস্বীকার করেছে তার পিতার কোন ম্যাকাও এর মালিকানা ছিল। সে নিশ্চিত করেছে যে তার বাবার ছবি এবং অন্যান্য কোন রেকর্ডে চার্লির বিষয়ে কিছুই খুঁজে পায়নি।  সে এটা স্বীকার করেছে যে, ১৯৩০সালে তার বাবার অন্য একটি পোষা টিয়া ছিল যেটি আফ্রিকান ধূসর বর্ণের, তবে সেটি ম্যাকাও প্রজাতির নয়। অনেকের মতে উইনস্টন চার্চিলের পরিবার চার্লির মালিকানা প্রত্যাখ্যান করছে এই কারণেই যে কেননা পাখিটির আচরণ সন্তোষজনক নয় এবং তাদের ব্যক্তিত্বের ব্যপারে ভাল ধারণা দিচ্ছেনা।

 

গলদা চিংড়ি জর্জঃ ২০০৯ সালে এই গলদা চিংড়িটির বয়স দাঁড়িয়েছিল ১৪০বছর। জর্জ নামের এই বয়স্ক গলদা চিংড়িটি প্রথম ধরা পড়ে কানাডার একটি দ্বীপে এবং তা বিক্রি হয়ে যায় সিটি ক্রাব নামের নিউ ইয়র্ক সিটির একটি সি ফুড রেস্তোরাঁতে। জর্জকে সেই রেস্তোরাঁয় একটি ট্যাংক এর উপর বসানো হয়েছিল এবং দেখতে একটি মাসকট এর মত লাগছিল, বাচ্চারা সেখানে তার সাথে ছবিও তুলছিল। জর্জকে সেখানে রাখা হয়েছিল পেটা নামের একজনের ডিনারের আয়োজনে। কিন্তু পেটা অনুরোধ করল যে, জর্জকে যেন সমুদ্রে ফিরিয়ে দেয়া হয়। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ রাজী হয় জর্জকে অ্যাটল্যান্টিক সাগরে ফিরে যায়, কিন্তু ১০দিনের মাথায় সে আবারো ধরা পড়ে। পেটা এবং রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ অনুমান করে যে, জর্জ তার ওজন অনুযায়ী বেশ বয়স্ক। তার কাছাকাছি অন্য আরেকটি বয়স্ক গলদা চিংড়ির নাম লুই যার আয়ুকাল ছিল ১৩২ বছর। যে কিনা ২০বছরই কাটিয়েছিল নিউ ইয়র্কের একটা রেস্তোরাঁর একুরিয়ামে। রেস্তোরাঁর মালিক ছিলেন বাচ ইয়ামালি নামের একজন, তিনি প্রতিবারই চিংড়িটির অর্ডার করা কাস্টমারদের নিরাশ করে ফিরিয়ে দিতেন। এমনকি একজন বাবা দিবসে চিংড়িটি তার জন্য রান্না করে দিতে ১০০০ডলার অফার করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

অ্যালিগেটর মুজাঃ অনেকেই ভুল করে অ্যালিগেটরকে কুমির বলে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে অ্যালিগেটর কুমির গোত্রীয় তবে কুমির নয়। সবচেয়ে বয়স্ক আমেরিকান অ্যালিগেটরটি বর্তমানে রয়েছে সার্বিয়ান চিড়িয়াখানায়। প্রায় ৮০বছর বয়সী অ্যালিগেটরটির নাম মুজা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার ২বছর পূর্বে ১৯৩৭সালে সে জার্মানি থেকে বেল্গ্রাদ চিড়িয়াখানায় পৌঁছায়। মুজা প্রায় ৩টা বোমার ধ্বংসাবশেষেও ঠিকে ছিল। প্রথম ২টি বম্বিং হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪১ এবং ১৯৪৪সালে, চিরিয়াখানার সমস্ত পশু পাখি মেরে ফেলা হয়েছিল কেবল বেঁচে ছিল মুজা। তার বেঁচে থাকা জীবনে বেশ ভাল স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিল। যদিও ২০১২ সালে তার সামনের ডান পা পচন ধরেছিল এবং পড়ে তা সেড়ে যায়। মুজার পূর্বে সবচেয়ে বয়স্ক অ্যালিগেটর ছিল ক্যাবুইলিটিস, যখন সেটি ল্যাটবিয়ার রিগা চিড়িয়াখানায় মারা যায় তখন তার বয়স ছিল ৭৫বছর।

 

জনাথন কচ্ছপঃ ধারণা করা হয় জনাথন এর জন্ম ১৮৩২সালে। ২০১৮তে এসে তার বয়সটি এখন দাঁড়িয়েছে ১৮৬বছর। তার চিকিৎসক জো হলিন্স এর বিশ্বাস জনাথন এর বয়স ১৬০বছরের কম হবেনা। প্রতিটা কচ্ছপেরই গড় আয়ুকাল হয় ১৫০ বছরের মত। জনাথন বাস করত সেন্ট হেলেনা দ্বীপে যেটা দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের ব্রিটিশ উপকূল অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। ১৮৮২ সালে তাকে দ্বিপটিতে আনা হয় এবং ১৯০২ সালে তার সাথে একটা ছবি তোলা হয়।  তাকে গভর্নর সেন্ট হেলেনার বাগান বাড়ীতে রাখা হয় অন্য আরো ৫টি কচ্ছপের সাথে। ১৯৯১ সালে একজন ফরাসি দূত সেন্ট হেলেনাকে একটি মেয়ে কচ্ছপ উপহার দেন যার নাম ছিল ফ্রেডেরিকা। গভর্নর আশা করেছিলেন জনাথন তাকে সাদরে গ্রহণ করবে। কিন্তু না সে আশায় গুড়ে বালি, জনাথন তাকে গ্রহণ করেনি। এর কারণ অবশ্য পরে জানা যায়, ফেড্রিকাকে যখন তার ক্ষত সারানোর জন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় তখন রহস্য উন্মোচিত হয় যে এটি আসলে একটি পুরুষ কচ্ছপ।

দাদু হাতি লিন ওয়াংঃ বর্তমানে গিনেজ রেকর্ডে পৃথিবীর সর্বকালের বয়স্ক হাতির রেকর্ডটি আছে এশিয়ার লিন ওয়াং এর। লিনকে দাদু হাতি হিসেবে সম্বোধন করা হত, সে ২০০৩ সালে ৮৬বছর বয়সে তাইওয়ানের চিড়িয়াখানায় মৃত্যুবরণ করে। দীর্ঘজীবী হতে পারা এশিয়ান হাতিদের জন্য গর্বের এবং লিন সেই অর্থে এশিয়ান হাতিদের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গড় হিসেবে প্রতিটি এশিয়ান হাতি ৬০বছর আয়ু লাভ করে তার বন্য জীবনে। দাদু লিন এর জীবন বেশ বর্ণাঢয় এবং ভাল তথ্যে ভরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানিরা তাকে ব্যবহার করেছিল মালামাল আনা-নেয়ার কাজে। পরবর্তীতে ১৯৪৩ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত সে চাইনিজদের দখলে থাকে। তারপর তাকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাইওয়ানিজ চিড়িয়াখানাতেই রাখা হয়।