জামিন ও সাজার কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে আপিল করছেন খালেদা জিয়া

Now Reading
জামিন ও সাজার কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে আপিল করছেন খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেছেন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া ১০ বছরের সাজার রায় স্থগিত চেয়ে। এতে কারাগারে থাকা সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জামিনের আরজিও রয়েছে। গতকাল বুধবার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই লিভ টু আপিলটি করেন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের পক্ষে আপিল দায়ের করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আজ বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার আইনজীবী কায়সার কামাল বলেন, অন্যায্যভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাজার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে, আমরা শুনানির সুযোগ পাইনি। আমাদের না শুনে রায় দেওয়া হয়েছে, এসব যুক্তিতে আপিল করা হয়েছে। এতে হাইকোর্টের রায় স্থগিত ও বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিনও চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সামনে সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ শুরু হচ্ছে। অবকাশ শেষে আপিল শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
খালেদা জিয়া, কাজী সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ পৃথক আপিল করেন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে। পরে গত বছরের অক্টোবরে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা আপিল খারিজ করে তাঁর সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট।
গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় দেন। উক্ত রায়ে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে । খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ে খালেদা জিয়াসহ ছয় আসামির সবাইকে মোট ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। অর্থদণ্ডের টাকা প্রত্যেককে সম-অঙ্কে প্রদান করার কথা বলা হয়।
হাইকোর্ট অযৌক্তিকভাবে এ মামলায় আমাদের বক্তব্য না শুনেই দুদকের আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার সাজা ১০ বছর বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন। তাই এ মামলায় খালাস চেয়ে আপিল করা হয়েছে। খালাস চেয়ে আপিলে তার জামিন চাওয়া হয়েছে এবং সাজার কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে বলে জানান খালেদা জিয়ার আইনজীবী।

হিরো আলমের জন্য জামিন চাইলেও নামঞ্জুর করে দিলো আদালত।

Now Reading
হিরো আলমের জন্য জামিন চাইলেও নামঞ্জুর করে দিলো আদালত।

যৌতুক না পেয়ে হিরো আলম গত ৫ মার্চ সন্ধ্যায় তার স্ত্রী সাবিয়া আক্তার সুমিকে মারপিট করেন। পরদিন হিরো আলমের শশুর সদর থানায় হিরো আলমের বিরুদ্ধে মামলা করলে পুলিশ তাকে থানায় ডেকে গ্রেফতার করে। এরপর থেকে হিরো আলম বগুড়া কারাগারে রয়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে সেলে রাখা হয়েছে।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতেও জামিন পাননি, বগুড়ায় যৌতুকের দাবীতে স্ত্রী নির্যাতন মামলায় গ্রেফতার ও কারারুদ্ধ আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলম।

সোমবার বিকালে তার পক্ষে জেলা ও দায়রা জজ নরেশ চন্দ্র সরকার শুনানি শেষে নামঞ্জুর করেন। যদিও বগুড়া বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম সাইফুল ইসলাম জামিন চেয়েছিলেন ।
জানা গেছে, বগুড়া সদরের এরুলিয়া গ্রামের মৃত আহম্মদের ছেলে হিরো আলম পেশায় ক্যাবল অপারেটর বা ডিশ ব্যবসায়ী। পরবর্তীতে মিউজিক ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। নির্বাচন বর্জন করেন। তার এ প্রার্থিতা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়।
যৌতুক না পেয়ে হিরো আলম গত ৫ মার্চ সন্ধ্যায় তার স্ত্রী সাবিয়া আক্তার সুমিকে মারপিট করেন বলে জানান পুলিশ। ৭ মার্চ বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির কর হয় হিরো আলমকে । তার পক্ষে অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান স্বপন জামিন চাইলে শুনানি শেষে বিচারক আহম্মেদ শাহরিয়ার তারিক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জামিন হলেও, এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না খালেদা জিয়া

Now Reading
জামিন হলেও, এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন এজে মোহাম্মদ আলী। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

শুনানিতে এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তিনি একজন বয়স্ক মহিলা। এই ঘটনার সাথে জড়িত নন। এই মামলায় হাইকোর্ট জামিন দিয়েছে। পরবর্তীতে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের এখতিয়ার প্রশ্নে ফেরত পাঠায়। এরপর আমরা জজ কোর্টে জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করে এসেছি। এখন তার জামিন প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন আদালত। বুধবার বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মুজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি করেন সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এজে মোহাম্মদ আলী। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। শুনানি শেষ আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত।
এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা দায়রা জজ আদালত এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর করেছিলেন।

জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ বুধবার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এর এম মজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। খালেদার এক আইনজীবী জানান, এই মামলায় জামিন হলেও অন্য মামলা থাকায় খালেদা জিয়া এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না। তবে হাইকোর্টর জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ বশির উল্ল্যাহ।
বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল-অবরোধ চলাকালে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুরে একটি নৈশকোচে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। আইকন পরিবহনের ওই বাসটি কক্সবাজার থেকে ঢাকা যাচ্ছিলো। ওই ঘটনায় আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলে সাতজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর আরো একজন মারা যান।
এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান বাদী হয়ে ৭৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় খালেদা জিয়াসহ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় ছয় নেতাকে হুকুমের আসামি করা হয়।
মামলার ৭৭ আসামির মধ্যে তিনজন মারা যান, পাঁচজনকে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়। পরে ডিবির পরিদর্শক ফিরোজ হোসেন অধিকতর তদন্ত শেষে খালেদা জিয়াসহ অপর ৬৯ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে ২০১৭ সালের মার্চে চার্জশিট দেয় পুলিশ।

Page Sidebar