জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব- কালো জাদু

Now Reading
জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব- কালো জাদু

আমার অন্যতম সফল একটি সিরিজ হল জ্বীন সমাচার ।

বেশ কিছুদিন পর আবার আরেকটি নতুন পর্ব নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি । আজকের পর্বটি বিগত পর্বের থেকে একটু আলাদা থাকবে । বিগত পর্বে মূলত সরাসরি জ্বীন এর কর্মকাণ্ড নিয়ে লেখা হলেও আজ একটু ভিন্ন ধরণের লেখা হবে । লেখার আগে বলে নিই , এই সিরিজের প্রতিটা গল্প সত্য । হয়তো আপনাদের কাছে বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যাখ্যা থাকতে পারে । এখানে প্রতিটা ঘটনা আমার সাথে না হয় আমার কাছের মানুষদের সাথে ঘটে যাওয়া । আমার ঘটনার সাথে হয়তো খোঁজ নিলে আপনার বা আপনার আশেপাশের মানুষদের সাথে মিলে যাবে ।

মূলত আজকের ঘটনা কালো জাদু নিয়ে । কালো জাদু নিয়ে ইতিমধ্যে আমার প্রিয় লেখক ও বন্ধুসুলভ ফেরদৌস ভাই লিখেছেন । আমি আজ আপনাদের সাথে একটা ঘটনা শেয়ার করবো যা আমার কাছের একজন মানুষের সাথে ঘটে গিয়েছে ।

প্রথমে আপনাদের কালো জাদু সম্পর্কে ধারণা দিয়ে নিই । কালো জাদু বা ব্ল্যাক ম্যাজিক হল এমন একটা মাধ্যম , যার সাহায্যে আপনি অন্যের ক্ষতি করতে পারবেন , সেই সাথে অনেক নিষিদ্ধ কাজ কিছুটা সহজ উপায়ে করতে পারবেন । নিষিদ্ধ কাজ বলতে বোঝানো হয়েছে , আমাদের ধর্মে বলা হয়েছে আপনি কোনো জ্বীনকে নিজের বশ করতে পারবেন না । কিন্তু কালো জাদুর মাধ্যমে আপনি খারাপ বা দুষ্ট জ্বীনদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন , আবার অনেক সময় আপনি তাদের হুকুমের গোলামও করতে পারবেন । কিন্তু এতে আপনার উপকারের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কা অনেক বেশি । কি রকম ক্ষতি বা কালো জাদু – তা নিয়ে আমি আরেকটি লেখা লিখবো !! আজ আমি সরাসরি আমার ঘটনায় চলে আসি ।

সুমির ( ছদ্ম নাম ) বিয়ে হয়েছে আজ ৫ বছর । বিয়ের আগে থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ২ বছর । একে অপরকে অনেক ভালোবাসে । সম্পর্কের দুই বছরের মাথায় ভালোবাসাকে পরিপূর্ণতা দেয় বিয়ের মাধ্যমে । খুব ভালো ভাবে চলছিল তাদের সংসার । সাগর ( ছদ্ম নাম ) মানে সুমির হাজবেন্ড মূলত একজন ব্যবসায়ী । প্রায় তাকে ব্যবসার কাজে ঢাকার বাহিরে যেতে হয় । বিয়ের দুই বছরের মাথায় তাদের সংসার আলোকিত করে আসে এক মেয়ে । সুখের যেন অভাব ছিল না । ঠিক বিয়ের ৩ বছরের মাথায় সাগরের ব্যবহারে কিছুটা পরিবর্তন দেখতে পায় সুমি । কেমন যেন তাকে ইগনোর করে । হুট করে ক্ষেপে যায় । প্রথম দিকে সুমি ব্যাপারটা স্বাভাবিক ভাবে নিলেও পরবর্তীতে অস্বাভাবিক আকার ধারণ করে । কথায় কথায় গালি দিয়ে কথা বলে সাগর , যা এর আগে কখনো করেনি । এখন সুমির গায়ে হাত তুলতে লাগলো । সুমি কিছুতেই বুঝতে পারছে না সাগরের কি হয়েছে । সুমির বান্ধবীর মামা একজন সাইক্রিয়াটিস্ট । সুমি একদিন তার সাথে দেখা করে ও তার সব সমস্যা খুলে বলে । সমস্যা অনুযায়ী তাকে সমাধান দেয়া হলেও , সেই সমাধান কোনো কাজেই আসছে না । দিন দিন তাদের সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করছে । শেষে সুমি উপায় না পেয়ে তাদের এলাকার এক হুজুরের কাছে দ্বারস্থ হয় । হুজুর সম্পূর্ণ ঘটনাটি মনোযোগ দিয়ে শোনেন । হুজুর তখন বলেছিলেন,তিনি সমস্যাটা ধরতে পেরেছেন । এটার চিকিৎসাও আছে কিন্তু তার হাজব্যান্ডকে নিয়ে আসতে হবে । সুমি চিন্তায় পড়ে যায় । সাগর আর আগের মতো নেই । আর যেই ব্যবহার সাগর সুমির সাথে করে, কিভাবে এখন ওই হুজুরের কাছে নিয়ে যাবে বুঝে উঠতে পারছে না । একদিন দেখতে পেল সাগরের মনটা কিছুটা ভালো । সেইদিন সাগরকে অনেক বুঝিয়ে নিয়ে গেলো হুজুরের কাছে । বিকেল ৪ টার দিকে গেলেও তাদের মাগরিবের ওয়াক্ত পর্যন্ত বসিয়ে রেখেছে । মাগরিবের পর তাদেরকে একটা রুমের মধ্যে নিয়ে বসালো । প্রথমে হুজুর সাগরকে এক গ্লাস পানি খেতে দিলো । পানি খাওয়া মাত্রই সাগর বমি করা শুরু করলো । প্রচুর বমি শুরু হল । সুমি ভয় পেয়ে গিয়েছে । পানির মধ্যে এমন কি আছে যে খাওয়া মাত্র বমি শুরু করলো – হুজুরকে প্রশ্ন করলো সুমি ।
হুজুর বলল মা একটু চুপ থাকো আমি তোমাদের সব খুলে বলবো । ১০ মিনিট পর তার বমি বন্ধ হয়ে যায় । বমির কারণে সাগর খুব দুর্বল হয়ে পড়ে । তখন হুজুর মূল ঘটনা খুলে বলে। আমি হুজুরের কথা সম্পূর্ণ তুলে ধরলাম ।

মা তোমার জামাই মনে হয় ঢাকার বাহিরে যায় কাজের জন্য । ঠিক এই রকম কাজের জন্য একবার চট্টগ্রামে যায় তোমার জামাই । সেখানে এক ক্লায়েন্ট এর বাসায় সম্ভবত উঠে । সেইদিন রাতে সেখানে ভাতের সাথে চিলের আর মুরগির মাংস মিলিয়ে খেতে দেয়া হয় । ওই চিলের মাংসে কুফুরী কালাম করা ছিল । সেদিনকার পর থেকে তোমার জামাই তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে । মূলত তারা চেয়েছিল তোমার জামাই পাগল হয়ে যাক । তাহলে আর ব্যবসা করতে পারবে না । তার মার্কেট দখল করবে । এখানে আমি পানিপড়া দিয়ে দিয়েছি । আজ রাতে তাকে কিছু খেতে দিয়ো না । কাল সকালে খালি পেটে এই পানি খেতে দিও ।হয়তো আরেকবার বমি করলেও করতে পারে । তার পেটের ভেতরে যা ছিল বের হয়ে গিয়েছে । এখন আশা রাখি আর কোন সমস্যা হবে না ।

সুমি হুজুরের কথা মতো কাজ করলো । এরপর দেখলো ধীরে ধীরে সাগর এর উন্নতি হচ্ছে । তারপর থেকে সাগর বাহিরে কাজের জন্য বের হলেও কোনো ক্লায়েন্ট এর বাসায় কিছু খায় না ।

আমি আবারও বলছি । লেখাটা আপনার বিশ্বাস যোগ্য নাও লাগতে পারে । বা আপনার কাছে এর ব্যাখ্যা থাকতে পারে । আবার এমনও হতে পারে এই রকম একটি ঘটনা আপনার বা আপনার কাছের মানুষের সাথেও ঘটে যেতে পারে । আমি যা শুনেছি তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম ।

জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব ৩য়

Now Reading
জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব ৩য়

আমি আবার ও বলি , আবারো কথা বলার কারণ এর আগের পর্বেও বলেছি আমি আপনাদের সামনে সত্য মিথ্যা প্রমাণ করতে আসিনি , আমার সাথে বা আমার পরিবারের সাথে বা কাছের মানুষদের সাথে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো । এমন হতে পারে এই ঘটনা গুলো আপনার বা আপনার কাছের মানুষের সাথে ঘটেছে । আজ তেমনি একটা ঘটনা শেয়ার করবো আপনাদের সাথে

একদিন আমি শুয়ে ছিলাম । আমার নানু এসে আমার পাশে বসলো । আমি আবার ছোট বেলা থেকে গল্প শোনার পাগল । সেই খাতিরে নানুকে বললাম একটা ভয়ের গল্প শুনাও । নানু বলল তাহলে শুনে আমার সাথে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা

নানুর যেভাবে বলেছে আমি ঠিক সেভাবে তুলে ধরলাম । একদিন খুব সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছিলো । আমার নতুন বিয়ে হয়েছে তাই মায়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছি । তোর নানা সেদিন মাছ ধরতে গিয়েছে । বর্ষা কালে নতুন পানিতে মাছ উপরে উঠে আসে । তখন জালে অনেক মাছ ধরা পড়ে । আমি তাকে নিষেধ করেছিলাম সেই সাথে আমার মা ও নিষেধ করেছে । কে শুনে কার কথা , তোর নানা মাছ ধরতে যাবেই যাবে । সারা দিন বৃষ্টি , কখন অনেক জোরে আবার কখনো গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি । আমি জানালার পাশে বসে ছিলাম । হঠাৎ করে একটা জিনিস দেখে আমার চোখ সেখানে আটকে গেলো । আমি নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না । দেখলাম একটা আগুনের গোলা একবার এই দিক থেকে দৌড় দিয়ে মাঠের অন্য প্রান্তে যাচ্ছে , আবার মাঠের ওই প্রান্ত থেকে দৌড় দিয়ে এই প্রান্তে ফিরে আসছে । আমি প্রথমে ভাবলাম হয়তো আমি ভুল কিছু দেখছি । আমি দৌড়ে মায়ের কাছে গিয়ে সব ঘটনা খুলে বললাম । আমার মায়ের বুঝতে আর বাকি রইলো না ঐটা কি ছিল । সাথে সাথে মা আমার বাবা কে ডেকে বলে – জামাই নাকি এই বৃষ্টির মধ্যে মাছ ধরতে গিয়েছে তুমি একটু গিয়ে দেখ তো কি হয়েছে , এখনো আসছে না কেন ?

তখন আমার ও একটু চিন্তা হচ্ছিলো কারণ বের হয়েছে সেই সকালে এখন প্রায় দুপুর । এতো সময় লাগার কথা না । যাই হোক আমার তোর বড় আব্বা ( মানে আমার নানুর বাবা ) গিয়ে তোর নানা কে ধরে ধরে বাসায় নিয়ে আসছিলো । আমরা সবাই অবাক হয়ে যাই । সকালে সুস্থ মানুষ মাছ ধরতে গেলো , এখন সেই মানুষকে ধরে ধরে আনতে হচ্ছে ! ব্যাপারটা একটু অদ্ভুত লাগলো আমাদের কাছে । আমরা তখন কিছু তাদের জিজ্ঞেস না করে শরবত দিলাম , কিন্তু আমার আব্বা থামিয়ে দিয়ে বলল জামাই কে আগে একটু লবণ পানি দাও আর সাথে একটু কালিজিরা । তোর বড় আব্বা আবার একটু ঝাড়ফুঁক জানতো । তখন তোর নানা কে কালিজিরা আর লবণ পানিতে কি জানি বির বির করে পড়ে খাইতে দিলো । কিছুক্ষণ পর তোর নানা সুস্থ হলে জিজ্ঞেস করলাম তোমার কি হয়েছে আর মাছ কি? এই কথা শুনে তোর নানা অনেকটা রেগে গিয়ে বলল – আমি এখানে মরে যাই আর তুমি আছো মাছ নিয়ে । কেন তোমার কি হয়েছিল নানু নানাকে জিজ্ঞেস করলো । নানা তখন সব ঘটনা খুলে বলল । নানার কথা ছিল এমন –

 

আমি যখন ঘর থেকে মাছ ধরতে বের হই তখন কেন যেন মনে হচ্ছিলো আমার পিছনে কিছু একটা আসছে । আমি পিছন ফিরে তাকিয়ে কয়েক বার দেখলাম , দেখি কেউ নেই । তার পর আমি আমার মতো করে পুকুর ঘটে গিয়ে দেখলাম , পুকুরের পারে অনেক কৈ মাছ পড়ে আছে ( নতুন পানি পেলে কৈ মাছ লাফিয়ে পুকুরের পারে উঠে আসে ) । আমি ওই গুলো কিছু আমার ব্যাগ এ রেখে জাল মারলাম । প্রথম বার কিছু উঠলো না । আমি অবাক হলাম , পানিতে অনেক মাছ দেখা যাচ্ছে কিন্তু আমি জাল মারি কিন্তু উঠছে না কেন ? কিছু না ভেবে আমার জাল উড়িয়ে মারলাম । সেই বারো কিছু উঠলো না । তৃতীয় বার যখন মারলাম তখন অনেক মাছ উঠলো । তখন আমার প্রথম দুই বারের কথা ভুলে গিয়েছি । দেখে অনেক খুশি হয়েছি । মাছ গুলো বাগে রেখে আবার জাল মারলে আবার মাছ উঠলো । যখন বাগে মাছ রাখতে যাবো তখন দেখি প্রথম বার যেই মাছ গুলো ধরেছি তা নেই ? আমি প্রথমে ভয় পেয়ে যাই কারণ এতো কষ্ট করে মাছ ধরলাম যদি ব্যাগ ছিঁড়া থাকে সেখান দিয়ে মাছ গুলো চলে গেলে । তাই ভালো মতো ব্যাগ চেক করলাম , না কোথাও কোনো ছেড়া নেই । আশে পাশে খুঁজলাম কোথাও পেলাম না । যাক এতো শত না ভাবে জালের মাছ গুলো আবার বাগে রাখলাম । কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার যখন মাছ মারতে যাবো তার আগে বাগে কি ভাবে যেন তাকালাম । আর তখনি দেখলাম অবাক করা এক কাণ্ড । একটা কুকুর । যেমন তেমন কুকুর না । আমার থেকে কুকুরটা ১০ হাত দূরে , কিন্তু কিভাবে যেন মুখ থেকে জিহ্বা বের করে ব্যাগ থেকে মাছ নিয়ে খাচ্ছিল । এইটা দেখে নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারিনি । অনেক ভয় পাচ্ছিলাম । এর পর কি হলো কিছু মনে নেই । যখন ঘুম ভাঙলো দেখো আব্বা আমার মাঠের উপর হাত বুলিয়ে দিচ্ছে ।

এই ছিল আমার নানা ও নানুর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা । অনেকের সাথে মিলে যেতে পারে । হয়তো আপনার পরিবারের খালা , নানা . নানী বা দাদা দাদির সাথে ঘটে যেতে পারে এমন ঘটনা । কিছু জিনিসের অস্তিত্ব ঠিকই আছে কিন্তু বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত না । যার কারণে আমাদের কাছে বিশ্বাস যোগ্য হয়ে পারে না ।

যদি আপনাদের কারো সাথে এমন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানান ।

 

চলবে

জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব ২য়

Now Reading
জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব ২য়

ঘটনাটি আমার সাথে ঘটেছে । আপনাদের কাছে হয়তো ফালতু , বানানো গল্প মনে হতে পারে । কিন্তু আমি আপনাদের বলতে চাই আমার এই সিরিজে আমার সাথে অথবা আমার পরিবার , আত্মীয় স্বজনদের সাথে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা বলবো । আসলে যার সাথে এমন কিছু ঘটে সেই বলতে পারবেন ঘটনা সত্য নাকি মিথ্যা । আমি আপনাদের কাছে সত্য বা মিথ্যা প্রমাণ করতে আসিনি । শুধু কিছু ব্যাখ্যা হীন সত্য অবলম্বনে গল্প শেয়ার করতে এসেছি ।

ঘটনাটি সাক্ষী ছিলাম আমি নিজে । আমার দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ৰ বাড়ি কুমিল্লা ।ইন্ডিয়ার বর্ডারের সাথে বাড়ি । তাদের প্রাইভেসি এর স্বার্থে জায়গার সম্পূর্ণ বিবরণ দিতে বিরত থাকলাম । আমাদের পরিবারের সাথে আমিও ছিলাম সেখানে । সেখানে ছিলেন আমার দূর সম্পর্কের এক নানী । যার সাথে আমার আবার খুব মিল । সারা দিন দুষ্টামি করি । তিনিও আমাকে খুব আদর করেন । আমার সেই নানীর বাবার বাড়ি ছিল তাদের বাড়িতে থেকে কিছুটা দূরে । তাদের বাড়ি থেকে নানীর বাপের বাড়ির দূরত্ব হবে ৩৫ মিনিট বা এর কিছু বেশি । প্রতিদিনের মতো একদিন বিকেলে আমরা সবাই বসে গল্প করছিলাম । হঠাৎ করে নানু বলে উঠলো , তোমার সবাই গল্প করো আমি একটু আবার বাপের বাড়ি থেকে আসতেছি । আমাকে গতকাল বলে গিয়েছিলো যাতে আমি তাদের বাড়ি যাই ।আমরা আর তার কথায় মনোযোগ দিলাম না । উনি উঠে চলে গেলেন । আমরা যে যার মতো আড্ডা দিছিলাম । তিনি যাওয়ার ঠিক ১ ঘণ্টা পরে আবার চলে আসেন । তখন মাগরিবের আযান দিচ্ছে । এর মানে উনি আজানের কিছুক্ষণ আগে বের হয়েছে । যায় হোক । আমাকে ডাক দিলো । বলল এই নাও ভাই তোমার জন্য পিঠা এনেছি । তেলের পিঠ । আমি একটি পিঠা খেয়ে বললাম অনেক ভালো হয়েছে ।
যেহেতু সন্ধ্যা হয়েছে আমরা সবাই ঘরের মধ্যে চলে আসলাম । নানু এসে খাটের উপর শুয়ে পড়লেন । আমি , আমার কিছু মামা তার সামনে বসে কথা বলছিলাম । কথা বলার সময় তিনি বলে বসলেন , তার নাকি শরীর ভালো লাগছে না । আমরা জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে ? উনি বললেন উনার নাকি শরীর খারাপ লাগছে । যাই হোক আমরা আবার আড্ডা দেয়া শুরু করলাম । হঠাৎ তিনি কথার মাঝে খুব বাজে ভাবে একটা গালি দিয়ে বসলেন । আমরা সবাই অবাক , এখানে গালি দেয়ার কোনো কথাই ছিল না । গালি দেয়ার সাথে সাথে উনি উঠে বসলেন । বসে উল্টা পাল্টা কথা বলছেন । আমি প্রথম একটু অবাক হয়ে যাই । আমার পাশে তার বড় ছেলে ও মেঝো ছেলে বসা ছিল । আমি তাদের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করি
মামা নানুর হঠাৎ করে কি হলো ?
বড় মামা আমার দিকে তাকিয়ে উত্তর দেয়ার আগে তার মানে নানুর হাতের আঙ্গুল চেপে ধরলো । তখন আমি বুঝতে পারছিলাম না আসলে ঘটনা কি !
একটু পর তার মেঝো ছেলে বলে উঠলো তোমার নানুকে জ্বীনে ধরেছে । আমি অনেকটা অবাক হয়ে যাই । এই মহিলাটার সাথে আমি কিছুক্ষণ আগেও দুষ্টামি করছিলাম , যে আমাকে পিঠা এনে খাইয়েছে , তাকে জ্বীনে ধরলো ! আমি আবার নিজেকে বিশ্বাস করার জন্য তাকে প্রশ্ন করলাম – মামা আপনি কি বলছেন ? নানুকে জ্বীনে ধরেছে ?
তিনি বললেন হ্যাঁ , তোমার নানুকে জ্বীনে ধরেছে । এই ব্যাপারটা অনেকটা ক্লিয়ার হয়ে গেলো যখন দেখলাম আমার পাশে বসে বড় মামা নানুর শেষের দিকে আঙ্গুল ধরে ছিল আর কি যেন এক সূরা পড়ছিল আসতে আসতে । হঠাৎ নানু বলে উঠলো আমার আঙ্গুল ছাড় , এই কথা বলে এক অদ্ভুত হাসিতে মেতে ছিলেন । আমি প্রথম দিকে অনেক ভয় পাই । আমি মামা কে বললাম মামা এইটা কি নিয়মিত ঘটনা নাকি ? উনি বলল না , কিন্তু মাঝে মাঝে উনাকে জ্বীনে ধরে । আমরা যেই রুমে বসা ছিলাম. মামা সেই রুম থেকে তাকে আরেক রুম নিয়ে ভেতরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিলেন । যাতে করে তিনি উঠে দৌড়ে পালিয়ে যেতে না পারেন , একবার নাকি উনাকে এমন অবস্থা রেখে মামা পাশের রুম গিয়েছিলো , এসে দেখে উনি নেই । পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে একটি বট গাছের নিচে পাওয়া গিয়েছে । যাই হোক , উনাকে প্রশ্ন করা হচ্ছিলো ।মামা জিজ্ঞেস করলেন
তুই কে , কেন আমার মা কে ধরেছিস ?
সে উত্তর দিলো আগে তুই সূরা পড়া বন্ধ কর , আমার আঙ্গুল ছাড় তাহলে আমি সব বলবো ?
না আঙ্গুল ছাড়বো না , সূরা পড়া বন্ধ করলাম এইবার তুই বল
তোর মা সন্ধ্যার সময় মাথার চুল ছেড়ে হাতে পিঠা নিয়ে যাচ্ছিলো , এই সময় আমি ওরে ধরেছি । আমি তোদের বাসার আসে পাশে বেশ কিছু দিন ঘরে ঘুরছিলাম কিন্তু তোর মা কে সুবিধা মতো পাচ্ছিলাম না বলে ধরতে পারিনি , এই কথা বলে উনি হাসা শুরু করলেন ।
মামা বলল আমার মা কে ছেড়ে দে । তা না হলে সূরা পরে তোর শরীরে আগুন লাগিয়ে দিবো ।
উনি বলল না আমি যাবো না , তুই আমার আঙ্গুল ছাড় ,
এই রকম কথা বার্তা চলছিল তাদের মধ্যে । এক পর্যায় মামা বলল তোর বাসা কোথায়? আর তুই কি করলে মা কে ছেড়ে দিবি?
উনি বলল আমার বাসা ওই দিন যে বট গাছে ওরে পেয়েছিলো ওখানে । আমরা ৭ ভাই ২ বোন । আমাকে যদি মিষ্টি পান এনে দিস তাহলে আমি চলে যাবো ।
মামা বলল ঠিক আছে পান এনে দিচ্ছি তুই চলে যা ।
না , আগে এনে দে তার পর ।
এই বলে মামা উঠে চলে গেলেন আর আমাকে বললেন যেন আমার তার হাতের শেষের আঙ্গুল চাপ দিয়ে ধরি । আমি খুব ভয় পাচ্ছিলাম । মামা বলল ভয় নাই তুমি আঙ্গুল ধরে রাখলে কিছু করতে পারবে না । আমি আঙ্গুল জোরে চাপ দিয়েই ধরলাম । উনি তখন আমার দিকে তাকিয়ে হাসছিল । আর কি ভাষায় যেন কথা বলছিলো আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না ।
মামা বেশ কিছুক্ষণ পর পান নিয়ে আসলো । মামা বলল তুই যে যাবি এর প্রমাণ কি ?
তখন বলল যখন আমার মুখে পান ঢুকবে তখন তোরা আমার সামনে থেকে সরে যাবি , আর যাওয়ার সময় আমি তোদের গাছের একটা কাঁঠাল ফেলে দিয়ে যাবো ।
তখন আবার ছিল গ্রীষ্ম কাল । গাছে প্রচুর কাঁঠাল ।
নানু মুখে পান দিলো আর কিছুক্ষণ পর উনার শরীর ঘাম দিয়ে একদম ঠাণ্ডা হয়ে গেলো । আর উনি অজ্ঞান হয়ে পড়লেন । আর কিছুক্ষণ পর নিচে একটা কাঁঠাল পড়ার শব্দ পেলাম । বুঝতে পারলাম নানুকে জ্বীন ছেড়ে দিয়েছে । বেশ কিছুক্ষণ পর উনার জ্ঞান আসলে আমি উনাকে প্রশ্ন করি নানু কি হয়েছিল ? উনি বলে কোথায় কি হয়েছিল , পরে উনাকে সব ঘটনা খুলে বলা হয়েছিল ।

এই ছিল আমার ঘটনা । যার সাক্ষী আমি নিজে । হয়তো আপনাদের অনেকের সাথে আমার ঘটনা মিলবে । কারো নানু , দাদু বা মায়ের সাথে এমন ঘটনা ঘটতে পারে ।

চলবে

জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব ১ম

Now Reading
জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব ১ম

কিছু জিনিস নিয়ে মানুষের জানার আগ্রহ থাকে অনেক আগে থেকেই । আর সেই জিনিস যদি হয় প্যারানোমাল টাইপের কিছু তাহলে তো আগ্রহের মাত্রা থাকে তুমুল পর্যায়ে । মূলত বেশির ভাব প্যারানরমাল জিনিস ঘটে থাকে জ্বীন দ্বারা । আজ থেকে এই পর্বে তেমনি কিছু সত্য গল্প থাকবে আপনাদের জন্য । প্রথম পর্বে থাকছে আমার নিজের সাথে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা ।

ঘটনা ঘটেছে হবিগঞ্জের জেলায় । প্রথম থেকে শুরু করা যাক । আমি সহ আমার ৩ দিন বন্ধু ঠিক করলাম আমার নানার বাড়ি যাবো । সেদিন রাতেই আমরা রওনা দিলাম । রাট ১০ টায় বাসে করে । সকাল ৬ টার মধ্যে পৌঁছে গেলাম সিলেট শহরে । শাহ জালাল ও শাহ পরানের মাজার জিয়ারত করে সেই দিন দুপুরে ট্রেনে করে ফিরলাম শায়েস্তাগঞ্জে । ট্রেনে থেকে নেমে এক বন্ধু বললো আজ আমরা মুরগি পুরানো মানে বারবিকিউ করবো । আমি বললাম আজ সারা দিন জার্নি করলাম , আজ না কাল করি ? কে শুনে কার কথা মুরগি কিনে ফেললো । বিকেলের আগেই বাসায় পৌঁছে হাত মুখ ধুয়ে খাবার খেয়ে দিলাম ঘুম । আমিও তানভীর ঘুমালেও আনিস আর সৌরভ বের হয়ে পড়লো লাকড়ি এর ধান্দায় । ৩০ মিনিট ও ঘুমাতে পারিনি এসে ডাক দিয়ে বললো চল মুরগি পোড়াবো । আমি বললাম কোথায় মুরগি পোড়াবো । তারা বললো যেই জায়গা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর । আমি প্রথমে ফাজলামো হিসেবে কথাটা নিলাম কিন্তু তারা মোটেও ফাজলামো করছিলো না ।

এর আগে আমার নানার বাড়ির সম্পর্কে কিছু কথা বলে নেই । লোক মুখে প্রায় দুইটি জায়গার কথা শোনা যায় যে , এইসব জায়গা গুলো খুব বেশি ভয়ঙ্কর । একটি জায়গার নাম সারাবাড়ি , আরেকটি জায়গার নাম বেলপোতা । সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জায়গাটি হলো বেলপোতা । সারাবাড়ি নামের জায়গাটি আমার নানার বাড়ির উঠান থেকে দাঁড়িয়ে দেখা যায় । সারাবাড়ির নাম বাড়ি হলেও সেখানে কোনো বাড়ি নেই । স্থানটি দেখলে মনে হবে কোনো এক সমুদ্রের মাঝে দ্বীপ জেগে উঠেছে । চার পাশে ধানক্ষেত আর মাঝে অনেকটা উঁচু জায়গা । অনেকটা বাগান টাইপের । সেখান দুইটি জাম গাছ আর ৩ টি তাল গাছ সহ আরো কিছু গাছ ছিল । প্রায় রাতে নাকি মানুষ সেখান দিয়ে গেলে বা বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পেতো।

এখন মূল ঘটনায় ফিরে আসি । আমি বললাম এই খানে মুরগি পোড়ানোর মতো একটি জায়গা আছে খুব ভয়ঙ্কর । নাম সারাবাড়ি । আমরা সেখানে মুরগি পোড়াতে পারি ।আর যদি ভাগ্যে থাকে তাহলে কিছু একটা দেখতেও পারি । এই বলে আমরা নানাকে বললাম সারাবাড়িতে মুরগি পড়াবো , এই কথা শুনে নানা সহ আসে পাশের অনেকে মানা করলো । সবার একটা কথা জায়গাটা ভাল না । কে শুনে কার কথা । আমরা মুরগি মামী কে দিলাম ভাল ভাবে কেটে মসলা মিশাতে । সেই সাথে কিছু লাকড়ি জোগাড় করে চলে গেলাম সারাবাড়িতে । তখন বিকেল হয় হয় অবস্থা । গ্রামের মানুষ এর আগে সম্ভবত এইভাবে মুরগি পোড়ানো দেখনি । যার কারণে আমাদের সাথে কিছু মানুষ যাচ্ছিলো । কিছু ক্ষণ এর মধ্যে একটি বিশাল সাইজের জাম গাছের নিচে কিছুটা মাটি খুঁড়ে দুইপাশে দুইটা লাঠি দাঁড় করিয়ে উপর দিয়ে আরেকটা লাঠির মধ্যে মুরগি ভরে বাকি দুটো লাঠির উপর বসিয়ে দিলাম । আর নিচে আগুন ধরালাম অনেক কষ্টে । কিছু ক্ষণ পর সবাই চলে গেলো রয়ে গেলাম শুধু আমি আর আমার বাকি ৩ বন্ধু ।তখন বর্ষা কাল ছিল হঠাৎ করে দেখি আকাশ কালো হয়ে গিয়েছে । মামী বাসা থেকে ৪ তা ছাতা দিয়ে পাঠালো । আমি আর চশমা তানভীর দুইটা দুইটা করে ছাতা ধরলাম চার পাশে । সৌরভ তখন আগুন যাতে না নিভে যায় সেদিকে খেলা রাখছে । বাকি যেই একজন ছিল আনিস সে আমাদের হাত থেকে একটি ছাতা নিয়ে ধরলো । তখন চারিদিক একদম অন্ধকার । আমি সারাবাড়ির একদম পারে দাঁড়িয়ে ছিলাম । হুট্ করে মনে হলো কে যেন আমাকে ধাক্কা দিলো । আমি পরে যেতে নিয়েছিলাম তখনি চশমা তানভীর আমাকে ধরে বললো কিরে কি হয়েছে তোর ? আমি বললাম কিছু না বৃষ্টি হয়েছে তো তাই পা পিছলে গিয়েছে । আমি কেউ কে বুঝতে দেয় নি যদি ভয় পেয়ে সব গুলো দৌড় দেয় । কিছুক্ষন পর খেয়াল করলাম চশমা তানভীর তার চশমা খুলে ধোয়া পরিষ্কার করছে চশমা থেকে । ঠিক ওই মুহূর্তে ঘটলো আসল ঘটনা । আমি খেয়াল করলাম কি যেন এক কালো ছায়া ওই সাদা ধোয়া এর মধ্যে দিয়ে ওকে ধাক্কা দিয়ে গেলো । ও তখন কেঁপে উঠলো । আমি জিজ্ঞেস করলাম কিরে কি হয়েছে তোর ? ও বললো কিছু না । আমি আর সে দিকে মনো যোগ দিলাম না । মুরগি পোড়ানো শেষে আমরা সবাই ঘরে ফিরে আসলাম । বাসায় আসে আমি তানভীর কে বললাম কিরে তুই কি কিছু দেখেছিলি ? ও বললো হ্যাঁ , কেন তুই কি কিছু বুঝেছিলি নাকি ? আমি বললাম তুই যখন আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলি কিরে তোর কি হয়েছে , আমি বলেছিলাম কিছু না পিচ্ছিল ছিল তাই পরে গিয়েছি তখনি আমার কাছে মনো হলো কিছু একটা আমাকে ধাক্কা দিয়েছে । আর তোকে আমি যখন জিজ্ঞেস করলাম কিরে তুই কেঁপে উঠেছিলো কেন তখন আমি কিছু একটা দেখেছি । এই কথা শুনে সৌরভ বলে উঠলো তোরা এখন খেয়াল করেছিস, আমি যখন মুরগি পড়েছিলাম আমি দেখছিলাম আমার মুগরী বার বার এক পাশে চলে যাচ্ছে । আবার মুরগি মাঝে আসলে আগুন সরে যাচ্ছে । আমরা সবাই একে অপরকে প্রশ্ন করলাম কেন বললাম না সবার উত্তর আসলো যদি ভয় পাই । যার খুব দেখার ইচ্ছ ছিল মানে আনিস সে কিছুই দেখে নাই । তখন আমরা কি দেখলাম এক এক করে তার কাছে বর্ণনা করলাম । পরে আনিস বললো আমাদের সবার বর্ণনা একই রকম । আমরা না হয় এক জন ভুল দেখতে পারি কিন্তু তিন জন কি ভাবে একই জিনিস দেখবো ?

পরের দিন এক হুজুর কে আমাদের সবার ঘটনা খুলে বললে উনি বলে, মূলত যা দেখেছো সে ছিল জ্বীন । আমাদের সাহস আর আমাদের মধ্যে কেউ একজন আয়াতুল কুরসী পড়ছিলো তাই সে আমাদের ক্ষতি করতে পারেনি । তখন চশমা তানভীর বলে উঠলো আমি আয়াতুল কুরসী পড়ছিলাম । যদি এই গুলো মিথ্যা হয়ে থাকে তাহলে হুজুরী বা কিভাবে জন্য কেউ আয়াতুল কুরসী পড়ছিলো ।

পরবর্তীতে আরো সত্য গল্প নিয়ে আমি হাজির হবো । এইসব গল্প থাকবে মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ।

চলবে