জীবন চলমান

Now Reading
জীবন চলমান

ভাইয়ার বদলীর সাথে সাথে আমারা সবাই মিলে চলে আসি ঢাকায়। আমারা ঢাকার মিরপুরে থাকি। আমার প্রথম প্রথম অনেক কষ্ট হয় এখান কার পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে। এ শহরের অলি-গলি সব অচেনা মনে হত প্রথমে। আমি ঢাকা কলেজে ভর্তি হই। আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারে ঢাকা কলেজ থেকে ইংরেজিতে পড়ছি। নতুন কলেজ নতুন বন্ধু , তাই সবার সাথে মিলে খাকতে প্রথমে একটু কষ্ট হচ্ছিল। তবে আস্তে আসেÍ সব টিক হয়ে যায়। আমার পরিবারে আছে বাবা-মা ও আমার সব কিছু আমার ভাইয়া। ভাইয়ার নাম মামুন, তার পড়ালেখা শেষ, এখন একটি বেসরকারি কম্পানিতে চাকরি করে। আব্বু আমাদের দোকানে বসে। আমাদের একটি কম্পিউটারের দোকান রয়েছে। আমরা ঢাকা এসে দোকান দেই।

এক দিন কলেজের শহিদ মিনারের সামনে বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ এমন সময় দেখি এক মেয়ে। যার চুলগুলো বাতাসে উড়তেছিল। তার চোখ দুটিছিল খুব মায়াবি। আমি প্রথম দেখে প্রেমে পওে যাই। আমি আমার পাসে থাকা এক বন্ধুকে জিজ্ঞাস করি যে মেয়েটি কে। সে আমাকে বলে যে, মেয়েটি আমাদের কলেজে নতুনভর্তি হয়েছে। ক্লাসে স্যার আমাদের সাথে ওর পরিচয় করিয়ে দেয়। তখন যানতে পারি যে ওর নাম মিলি। কলেজ শেষে বাসের জন্য দাড়িয়ে আছি। আর মনে মনে মিলির কথা ভাব ছিলাম। হঠাৎ কে যেন আমাকে বললো, হায়! আপনি আমাদের কøাসের না। আমি গলা শুনে, তাকিয়ে দেখি এযে মিলি। উত্তর দেই, হ্যা! আমি আপনাদের ক্লাসের। আমি মিলি,মিরপুর – ০৬ থাকি। আমি মিলিন, আমিও মিরপুর – ০৬ থাকি। তাই নাকি তাহলে এক সাথে যাওয়া যায়। জি! যাও যেতে পারে। বাস চলে আসলো। বাসে উঠে, দুজনে পাসা পাসি বসলাম। আমি এই প্রথমবাসে কোন মেয়ের পাসে বসলাম। পুর রাস্থা দুজনে কথা বলতে বলতে আসলাম। কথার এক পর্যায় জানতে পারলাম যে, ও আমার বাসার গোলিতেই থাকে। ৪টা৩০ এ বাসে উঠসি আর ৬টায় মিরপুর আসলাম।

মিরপুর ১১নং বাস্টান থেকে বাসায় আসলাম একসাথে। তার পর মিলি ওর বাসায় চলে যায় আর আমি আমার বাসায়। বাসায় ফিওে সরাসরি আমার রুমে চলেযাই এবং সুয়েসুয়ে ওর কথা ভাবতে থাকি। হঠাৎ করে আম্মু এসে আমাকে বলে, কি রে তোরকিহয়েছে? কিছু না তো মা। তাহলে তুই ঘরে ঢুকার পর তোকে এত ডাকলাম তুই সারাদিলিনা যে। ও তাহলে মনে হয় আমি সুনি নাই। মা বলে, ওহ আচ্ছা খেতে আয়। আসা মা তুমি যাও আমি আসছি। আমি দুপুওে খাওয়া শেষে একটা ঘুম দেই। বিকাল বেলা প্রতিদিনের মত রাস্তাদিয়ে হাটতে বের হই। হঠাৎ দেখি মিলি দাড়িয়ে আছে। আমি ওকে ডাক দিয়ে বলে কি হাঠতে বের হয়েছো। হ্যা! ও বললো। ওহ তাহলে চলো একসাথে যাওয়া যায়। পুর বিকাল আমরা ঘোরা ঘোরি করি। সন্ধার সময় আমি বাসায় আসার আগে মিলির সাথে কথা হয় কাল আমার একসাথে কলেজে যাব। এর পর আমি বাসায় চলে আসি, মিলিও বাসায় চলে যায়। আমি বাসায় সুধু আন-মনে মিলির কথা ভাবতে থাকি। ৯টার দিকে আব্বু আসে ও তার কিছু কখন পর ভাইয়া আসে। আমরা একসাথে রাতের খাবার খাই। খাবার টেবিলে বসে আব্বু বলে তার এক পুরানো বন্ধুর সাথে দেখা হয়েছে, সে নাকি আমাদের এই এলাকাতে থাকে। তার পর ১১টার দিকে ঘুমাতে যাই। পরের দিন ঘুম ভাঙ্গে মিলির ফোনে। আসলে আমি কিছুটা আলসে টাইপের তো, তাই ওকে ফোন দিতে বলছিলাম। তাই ও আমাকে ফোন দিয়ে বলে, তাড়াতারি ঘুম থেকে উঠে বের হয়। আচ্ছা! আমি দুই মিনিটের মধ্যে আচ্ছি। তাড়াতারি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেসহয়ে, কোন রকম নাস্তা খেয়ে বের হয়ে যাই। বের হয়ে দেখি মিলি আমার জন্য বসে আছে।

আমি আসতেই, তোমার এত দেরি কেন? আসলে ঘুম খেকে উঠতে দেরি হইছে, আচ্ছা চলো। এরপর কলেজের উদ্দেশে আমরা রওন দেই। আমি আজ মিলিকে বলেই দিব যে আমি ওকে ভালবাসি। কিন্তু আমি কোন চ্যান্স পেতেছিলাম না। সারা রাস্তা আমরা গল্প করতে করতে যাই। কলেজে এসে আমি ওকে বলি, তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে। মিলি বলে, আছা বল। এখানে না পুকুর পাড়ে চল। আছা চল! পুকুর পাড়ে এদিন কেউ ছিল না। কি বলবে বল? মিলি আমি তোমাকে ভালবাসি। হা হা হা হা হা! হাসছো কেন মিলি? হাসি থামিয়ে, দেখ আমরা ভাল বন্ধু এরচেয়ে বেশি কিছু এখন সম্ভাব না। কেন? এর কোন উত্তর নেই। এর মধ্যে ওর বান্ধবি আসলে ও চলে যায়। আমি ভাবি ওর মনে হয় অন্য কোথাও রিলেশন আছে। কলেজ ছুটি শেষে মিলির সবচেয়ে কাছের বান্ধবি জঁই কে জিজ্ঞাস করি ওর কোন রিলেশন আছে কিনা । জঁই আমাকে বলে না । এর আমি মিলিকে সাহস করে বলতে যাব তখনেই মিলি এসে আমাকে বলে ফারহান তোমার কোন কাজ আছে ? না! কেন ? কি হয়েছে মিলি বল। আওে কিছু না ! কাল এক বাসায় দাওয়াতে যাব তাই আম¥ু গিফট কিনতে বলছে। ওহ! আছা চল। এর পর আমি আর মিলি গিফট কিনতে যাই। আমরা একটা রেস্টুরেন্টে যাই । সেখানে বসে আমি মিলি কে বলে দেই যে আমি ওকে ভালবাসি ।

মিলি সাথে সাথে উত্তর না দিয়ে বলে পরে যানাবে। আমি আশায় থাকি! এর পর আমরা বাসায় চলে আসি। কাল ভাইয়ার জন্মদিন তাই ১২টা পর্র্যন্ত সজাগ ছিলাম। টিকরাত ১২টার দিকে আমি ভাইয়ার রুমে যাই ও ভাইয়া কে শুভেচ্ছা যানাই। আমার পর আব্বু ও আম্মু এসে শুভেচ্ছা যানায়। আমি বলি ভাইয়া কাল পার্টি চাই। আব্বু বলে হবে হবে। কাল একসাথে দুইকাজ সারবো। আম্মু বলে, আর একটা কাজকি? আব্বু বলে, মামুনের জন্য একটা মেয়ে দেখেছি। আমার বন্ধুর মেয়ে। আব্বু ছবি দেখি। আরে মিলন এত তারা হুর কি আছে, কাল আসবে তখন দেখবি। আচ্ছা! ভাইয়া বলে, আছা তোমরা এখন যাও। এরপর আমরা চলে আসি। আমার কিছুতেই ঘুম আসছে না। আমি সুধু মিলির কথা ভাবছি। কাল কি ও আমাকে হ্যা বলে দিবে। শুধু নাচিদার(নাচিকেতা) গান শুনতে শুনতে কখন যে আমি ঘুমিয়ে এ যাই, নিজেও যানি না। পরের দিন ঘুম ভাঙ্গে মিলির ফোনে। আসলে আমি কিছুটা আলসে টাইপের তো, তাই ওকে ফোন দিতে বলছিলাম। তাই ও আমাকে ফোন দিয়ে বলে, তাড়াতারি ঘুম থেকে উঠে বের হয়। আচ্ছা! আমি দুই মিনিটের মধ্যে আচ্ছি। তাড়াতারি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেসহয়ে, কোন রকম নাস্তা খেয়ে বের হয়ে যাই। বের হয়ে দেখি মিলি আমার জন্য বসে আছে। এরপর আমার একসাথে কলেজে যাই। আমি ওর কাছে উত্তর যান্তে চাইলে। মিলি বলে কাল দিবো। ওহ! কলেজ থেকে বাসায় আসতে আসতে বিকাল ৫ টা বাজে। ভাইয়ার জন্মদিনের পার্টি থাকায় ভাইয়া ও আব্বু আজ বাসায় তাড়াতারি চলে আসে। আমার প্রিয় বন্ধু রহিম ও আসে। টিক ৮টার দিকে সব মেহমান চলে আসে। আম্মু আব্বুকে বলে, তোমার বন্ধু কই? এর মধ্যে দেখি মিলি ও তার পরিবার। আমি অবাক হয়ে যাই। দেখি আব্বু আম্মু কে বলছে কাল যার কথা বলছে, এ হল সে। আমি আর মিলির সামনে যাই না। আমি ভাইয়া কে গিয়ে বলি, ভাইয়া ঐ দেখ সেই মেয়ে। তোর পছন্দ হয়েছে ভাইয়া বলে, হ্যা!। আমার মনে একটা ঝর বয়ে গেল। হঠাৎ আমি আর মিলি সামনা সামনি হয়ে যাই। মিলি তুমি এখানে, আমার এক বন্ধুর ভাইয়ের জন্মদিন। ওহ! তোমার সাথে আমার জরুলি কথা আছে। ওকে! এরপর ভাইয়া কেক কাটে। সবাই খাওয়া দাওয়া শেষ করে চলে যায়। আব্বু বলে কাল আমরা ওদের বাসায় গিয়ে, আংটি পরাই আসবো। আমি বলি, আব্বু আমিকাল যেতে পারবো না, কাল আমার একটা পরীক্ষা আছে। আছা! এর পর আমি আমার রুমে চলে যাই। আমার মন খুব খারাপ আমি কী করবএখন। তারপর সিদ্ধানÍ নেই আমি ভাইয়ের জন্য ভালোবাসা কোরবান করব। পরেদিন সকালে মিলি আমাকে ফোনকরে নিচে আসতে বলে। আমি এদিন না খেয়ে বের হয়ে যাই। মিলির সাথে দেখাকরি ও আমরা দুজন মিলে এক রেস্টুরেন্টে যাই। মিলিবলে, আমার বিয়ে টিক হয়েগেছে, আজ আমাকে দেখতে আসবে এবং বিয়ের দিন ঠিক করতে আসবে, সো বুঝতেই পারছো তোমার উত্তর না। ওহ! তো বিয়ের জন্য শুভ কামনা । আমার বিয়েতে তোমার দাওয়াত তুমি আসবে কিন্তু। হ্যা! আসবো। এর কিছু কখন পর ও চলে যায়। আমি বাসায় ফিরে যাই রাত ১০টায়। বাসায় এসে যানতে পারি এ মাসের ২২ তারিকে ভাইয়ার বিয়ে টিক হয়েছে। আমি মনেমনে বুঝতে পারি যে এভাবে এখানে থাকা সম্ভাব না। তাই আমি বিয়ের আগের দিন এ বাসা ছেরে বিদেশ চলে যাবার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু ভাইয়া বলে তুই আমার বিয়ে না থাকলে আমি বিয়ে করবোই না। বাবা বলে পড়ালেখার জন্য বাহিরে যাবি বিয়ের পরে যা। সবার কথা আর বিশেষ করে ভাইয়ার কথা ভেবে বিয়ের পরের দিন যাবার সিধান্ত নেই।

বিয়ের হবার পর মিলি যখন আমাদের বাসায় আসে, তখন আমাকে দেখে অবাক হয়। ভাইয়া ওর সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দেয়। আমি ভাইয়ার সব কিছু! বিদেশে পড়ালেখার জন্য কাল চলে যাব। আচ্ছা ভাবি আসি, দোওয়া কর আমার জন্য। আচ্ছা! এখন ঘুমাতে যা। আমি চলে আসি আমার রুমে। পরের দিন সকালে আমার ঘুম ভাঙ্গে আমার ঘড়ির অ্যালামে। দেখি সকাল ৬ টা বাজে। আমি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে, যাবার জন্য তৈরি হই। এরপর সাদে বসে চা খাচ্ছিলাম। হঠাৎ মিলি দেখি সাদে আসছে। আমার কাছে এসে মিলি বলো, দেখ মিলন আমি সব ভুলে গেছি তুমিও ভুলে যাও। এর পর ভাইয়া আমাকে ডাকলে আমি নিচে চলে আসি। আমাকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত আমার পরিবারের সবাই পৌছে দিয়ে যায়।

৫ বছর পর আমি দেশে ফিরি । আমাকে নিতে এয়ারপোর্ট ভাইয়া, ভাবি ও তাদের ছেলে আসে। ৫ বছরে সবেই বদলে যায়। আমিও সব ভুলে ব্যাপারটাকে মেনে নেই। সব কিছু টিক হয়ে যায়। এভাবেই মানুষের জীবন চলমান কোন কিছুতেই থামেনা।