আই উইল ফাইন্ড ইউ এন্ড আই উইল কিল ইউ

Now Reading
আই উইল ফাইন্ড ইউ এন্ড আই উইল কিল ইউ

“আই উইল ফাইন্ড ইউ, এন্ড আই উইল কিল ইউ” এই বিখ্যাত উক্তিটি যদি আপনি না শুনে থাকেন তাহলে বলতে হবে হলিউড জগতে আপনি এখনও অজ্ঞ। বিখ্যাত ফিল্ম
সিরিজ টেকেন সিনেমার প্রথম পর্বে এই ডায়লগটা ছিল। ষাটোর্ধ অভিনেতা লিয়াম নিসনের এই ডায়লগ যেন এখনও মানুষের মুখে মুখে ঘুরে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও
সমানভাবে জনপ্রিয় এই উক্তি সবাইকে দিয়ে যাচ্ছে হাসির খোরাক জাগানো হরেক রকম মিম। এখনও যারা এই বিষয়ে জানেন না তাদের বলতে হয় হলিউডের অন্যতম এক
প্রোডাকশন আপনারা মিস করেছেন, এবং আপনাদের জন্য কেবল আফসোসই রয়ে যায়।

যাই হোক এবার একটু মুভির কথায় আসি। ২০০৮ সালে মুক্তি পায় এই টেকেন ফ্র্যাঞ্চাইজের প্রথম পর্ব। ২২ মিলিয়ন ডলারের স্বল্প বাজেট হলেও খুবই ভাল আয় করে নেয় পিয়েরে
মরেলের নির্দেশনার এই সিনেমা। শেষ পর্যন্ত বক্স অফিসে প্রথম পর্বটি ২২৬.৮ মিলিয়ন ডলার আয় করে নেয় এবং তারপর এই সাফল্যই যেন তাদের অনুপ্রাণিত করে এই ফ্র্যাঞ্চাইজের
আরও দুটি পর্ব বানানোর। মূল চরিত্রে লিয়াম নিসন থাকায় যেন আরও অনেক বেগ পেয়ে গিয়েছিল একশন-থ্রিলার ধাঁচের জন্য জনপ্রিয় মিঃ মরেলের এই আউটপুট। কিছু
চলচ্চিত্র সমালোচকের ভাষ্য মতে এমন কোন সিনেমা তারা দেখেন নি যেখানে লিয়াম নিসনকে কাউকে খুন করতে দেখা যায় না। আর হলিউড পাড়ার এক গুজব হল লিয়াম
যদি সিনেমায় কাউকে খুন না করেন তাহলে সেই সিনেমা সফল হবে না। আর এই সিনেমায় তো লিয়াম এক প্রাক্তন সি.আই.ই কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করেন। তবে বুঝতেই পারছেন
তিনি কাউকে খুন করেছেন নাকি না।

এবার একটু গল্পে আসা যাক। যেমনটি বলেছিলাম সিনেমার প্রোটাগনিস্ট ব্রায়ান মিলস এক প্রাক্তন সি.আই.ই কর্মকর্তা, যিনি এখন ফ্রিল্যান্স সিকিওরিটি সার্ভিসের জন্য মাঝে মাঝে
কাজ করেন যেই অর্গানাইজেশন তার কিছু বন্ধুর দ্বারা পরিচালিত। কিন্তু তার জীবনে খুব বড় এক দুঃখ হল তিনি সি.আই.ই’র হয়ে কাজ করার সময় দেশের সেবায় এতটাই
নিয়োজিত ছিলেন যে তার পরিবারকেই তিনি সময় দিতে পারেন নি। এবং তার ফলে তার স্ত্রী তার একমাত্র মেয়ে কে নিয়ে আলাদা হয়ে যান। কিন্তু তিনি প্রায় সময় তার মেয়ের
সাথে গিয়ে দেখা করতে পারতেন এইটাই তার জন্য খুব আনন্দময় একটি ব্যাপার।
তার মেয়ের ১৭ তম জন্মদিনের দিন তিনি গিয়েছিলেন তার সাথে দেখা করে তাকে একটি কেরিওকে মেশিন উপহার দিয়ে আসতে, কারণ লিয়ামের মেয়ে বড় হয়ে গায়িকা হতে চায়।
সেদিন জন্মদিনের অনুষ্ঠান থেকে লিয়াম খুব খুশি মনেই ফেরত এসেছিলেন কারণ এর পরেরদিনও লিয়ামের মেয়ের সাথে তার লাঞ্চ করার কথা। কিন্তু লাঞ্চ করতে গিয়ে মেয়ের মুখ
থেকে যা শুনে তা লিয়ামকে খুব ভয় পাইয়ে দেয়। তার মেয়ে প্যারিস ট্রিপে যেতে চায় তার বন্ধুদের সাথে। খুবই সাধারণ বিষয়, ভয় পাওয়ার মত তেমন কিছু নেই। কিন্তু সি.আই.ই তে কাজ করার
দরুন ব্রায়ান জানেন পৃথিবীটা কেমন নিষ্ঠুর,
মানুষেরাও কতটা নিষ্ঠুর। তাই তিনি যেতে দিতে চান না। কিন্তু তার মেয়ের ক্রন্দনরত চেহারা পছন্দ হয় নি তার, তাই শেষমেশ
তার মেয়েকে অনুমতি দেওয়া হয় প্রতি মুহূর্তের খবর ফোন করে ব্রায়ানকে জানানো হবে এই শর্তে। কিন্তু শেষমেশ ব্রায়ানের ভয়টিই সত্যি হয়। প্যারিসে গিয়ে নামতে না নামতেই
সে এবং তার বন্ধু শিকার হয় হিউম্যান ট্রাফিকিং-এর লোকদের। যখন সেই লোকেরা ব্রায়ানের মেয়েকে নিয়ে যাচ্ছিল তখন ফোনে তাদের বাপ বেটির কথোপকথন চলছিল আর তার থেকেই
সিনেমার নামটি হয়ে যায় “টেকেন”। তারপর মেয়েটাকে নিয়ে যাওয়ার সময় ফোনেই সেই লোকদের উদ্দেশ্যে ব্রায়ান বলে দেন “তোমরা যদি আমার কাছে মুক্তিপণ চাও তোমাদের
জেনে রাখা ভালো আমার কোন টাকা পয়সা নেই, কিন্তু এমন অনেক কৌশল আমার জানা যা তোমাদের কে অনেক বিপদে ফেলতে পারে, আই উইল ফাইন্ড ইউ এন্ড আই উইল কিল ইউ”
ব্যাস, তারপর সেখান থেকেই মুভির আসল প্লট শুরু। তারপর ব্রায়ান নিজে প্যারিসে যান, গিয়ে তার গোয়েন্দাগিরির সবরকম কৌশল কাজে লাগিয়ে তিনি একে একে অনেকগুলো
ধাপ পার করে তার মেয়েকে শেষমেশ উদ্ধার করে আনেন। এইটুকুতেই শেষ হয় প্রথম পর্ব। কিন্তু মানুষ বলে না চোর যতই চতুর হোক কোন সূত্র ছেরেই যায় ? সেটা একেবারে ঠিক ।
ব্রায়ানো এইখানে ঠিক কিছু সূত্র ছেড়ে গিয়েছিলেন যাকে মুলে রেখেই পরে বানানো হয় টেকেনের দ্বিতীয় পর্ব। সেখানে হয় আরও অনেক বড় কাহিনী। তার ফেলে আসা এক
সূত্র ধরে তার হাতে মারা যাওয়া এক অপরাধীর বড়ভাই টার্কিতে গিয়ে ব্রায়ানের পুরো পরিবারের উপর হামলা চালায়। খুবই সাড়া জাগানো এই পর্বেও ব্রায়ান অনেক কষ্টে এবং
বুদ্ধিমত্তায় তার পুরো পরিবারকে বাঁচিয়ে নেয়। এবং আক্ষরিক অর্থেই সব শত্রুদের মেরে দেয় প্রাণে। না মারলে তার সিনেমাটি হিট হবে না বৈকি।
কিন্তু এই ফ্র্যাঞ্চাইজের সবচেয়ে বড় টুইস্ট আসে তৃতীয় পর্বে, সেই পর্বের কথা না বলি সেটা নিজেরা দেখে বুঝে নিবেন। কিন্তু পুরো সিরিজটি নিয়ে একটা কথা বলতেই হয়
“অস্ত্র জমা দিয়েছি, ট্রেনিং জমা দেই নাই” কথাটা এই সিনেমা’র সাথে সম্পূর্ণভাবে খাটে।
এরকম এক্সাইটিং একটি সিনেমা না দেখলে জীবনে কোন একদিন নিশ্চিত পস্তাবেন, যারা দেখেননি তাদের জন্য এখনও আফসোস।4688f25a384d8f8f14da228abc67b0d91c1080e77c6344d48010987e8aca712f.jpg