5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

বিশ্বর ভয়ংকর কিছু রেল লাইন!

Now Reading
বিশ্বর ভয়ংকর কিছু রেল লাইন!

আমাদের মধ্যে হইতো এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, যিনি এখনো পর্যন্ত কখনো ট্রেনে ছড়েননি। আমরা কম বেশি সবাই ট্রেনে ছড়েছি। আর ট্রেন যখন ব্রিজের উপর দিয়ে অথবা টার্নেলের মধ্য দিয়ে যায়, তখন অন্য রকম একটা ফিলিং কাজ করে। কিন্তু আপনি কি জানেন পৃথিবীতে এমন কিছু রেললাইন আছে, যেগুলো এতটাই বিপদযনক রেললাইনের উপর দিয়ে তৈরি হয়েছে, যেখান দিয়ে যাওয়ার সময় মৃত্যুর কথা একবার হলেও আপনার মনে উঠবে। এর মধ্যে কোন ট্রেন চলে পাহাড়ের উপর মেঘের মধ্য দিয়ে, আবার কোন ট্রেন সমুদ্রের মধ্য দিয়ে। আবার কোনটা এয়ার পোর্টের মধ্য দিয়ে। আসুন জেনে কিছু ভয়ংকর রেল লাইন সম্পর্কে।
TRENalasNUBES, Argentina: এটাকে Train of Clouds ও বলা হয়। আন্দিস পর্বতের বুক ছিরে চলে যাওয়া এই রেল লাইন উত্তর পশ্চিম আর্জেন্টিনা হয়ে চিলির সিমানা পর্যন্ত বিস্তৃত। ২৭ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া এই রেল লাইন ১৯৪৮ সালে প্রথম চালু হয়। প্রায় ১৩ হাজার ফুট উপরে ইঞ্জিনিয়ার এবং শ্রমিকদের পক্ষে কাজ করা মোটেও সহজ ছিল না। জিক জেক এই রেল লাইনে ২৯টি ব্রিজ এবং ২১টি টার্নেল আছে। যেটা এই ট্রেন যাত্রাকে আরো রোমঞ্চকর বানিয়েছে। এই রেল লাইনের দৈর্ঘ্য ২১৭ কিলোমিটার।
Napier- Gisborne Railway, Newzealand: এমন কি হতে পারে এয়ার পোর্টের রান ওয়ের বুক ছিরে চলে গেছে রেল লাইন? হ্যাঁ এমনটা হতে পারে। এটা সত্যি অদ্ভুৎ একটা ব্যাপার। নিউজিল্যান্ডের গিসবোন এয়ার পোর্টের মধ্য দিয়ে চলে গেছে এই রেল লাইন। রানের উপর তৈরি রেল যাওয়ার আগে ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম থেকে আগে অনুমতি নিতে হয়। এই রেল লাইনটি ১৯৭২ সালে তৈরি শুরু হয় এবং ১৯৮১ সালে তা সম্পন্ন হয়।
White pass & Youkon Route, Alaska,USA: এই রেল ট্রাকটা প্রায় ১৮০ কিলোমিটার লম্বা। যেইটা আমেরিকার আলাসকেতে অবস্থিত। এই রেল লাইন ১৮৯৮ সালে বানানো হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই রেল লাইন অন্যতম ভূমিকা পালন করেছিল। ১৯৮২ সালে ঘটা এক দূর্ঘটনার পর এটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে পর্যটকদের জন্য এটা পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। এই রেল লাইনের বিশেষ বিশেষত্ব হল বড় অঞ্চলের উপর দিয়ে বিস্তৃত হয়েছে। যেটা পর্যটকদের বিশেষভাবে আনন্দ দেয় এবং রোমাঞ্চিত করে। এই রেল লাইনের একদিকে গভির খাত, আর অন্য দিকে শীলার উলঙ্গ উঁচু দেয়াল। ট্রেন চলার সময় মাঝে মাঝে এমন স্থানের উপর দিয়ে যায়, অনেক যাত্রী ভয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়।
Georgetown Loop Railroad, USA: আমেরিকার কলোরাডোতে তৈরি এই রেল লাইন তিন ফুট ন্যারো। এই লাইন বাঁকে এবং ব্রিজ গুলো উপর দিয়ে ট্রেন যাওয়ার সময় খুব ধীরে এবং সাবধানতার সাথে এগিয়ে চলে। দুই পাহাড়ের মধ্যে তৈরি এই রেল লাইন ১৮৮৪ সালে চালু করা হয়। কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে ১৯৩৯ সালে এটা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর কনস্ট্রাকশনের কিছু পরিবর্তন এবং আপগ্রেডাশানের পর ১৯৮৪ সালে পুণরায় খুলে দেওয়া হয়। এ রাস্তাটা কতটা ভয়ংকর তা এই কথা থেকে বুঝতে পারবেন, রাস্তার দৈর্ঘ্য মাত্র 7.2 কিলোমিটার। কিন্তু ৬৪০ ফুট উঁচু নিচু গভীর খাতের পাশ দিয়ে তীব্র বাক ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে পোনে এক ঘন্টা সময় নেয়।
Rameswaram Railway Track, Chennai, India: আপনি হইতো ভাবছেন সব ভয়ংকর রেমাঞ্চকর ট্রেন লাইন গুলো শুধুমাত্র আমেরিকায় অবস্থিত? আমাদের পাশের দেশ ভারতেও এমন কয়েকটি রেল লাইন আছে। তার মধ্যে একটি হল Rameshwaram Railway Track, এই রেল লাইনটা ইঞ্জিনিয়ারের এক ধারুণ উদাহরন। দক্ষিন ভারতের এই রেল লাইন সমদ্রের উপর দিয়ে বিস্তৃত হয়ে তামিলের পাম্বান দ্বীপের সাথে যুক্ত হয়েছে। এ জন্য এটাকে পাম্বান ব্রিজও বলা হয়। এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ১৯১১ সালে এবং ১৯১৪ সালের ২৪ শে ফেব্রুয়ারি ব্রিজটি চালু করে দেওয়া হয়। কংক্রিটের ১৪৫টি ফিলারের উপর দাঁড়িয়ে থাকা এই ব্রিজটিকে সব সময় সমুদ্রের জলোচ্ছাস এবং প্রবল ঢেউকে সহ্য করতে হয়। এই ব্রীজের মাঝখানে খোলার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজনে সেখান থেকে খুলে দেওয়া হয়, জাহাজ এবং ফেরী যাওয়ার জন্য। অনেক সময় জলের উচ্চতা বেড়ে গেলে ট্রেন জলের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে। এটা ভারতের দ্বিতীয় দীর্ঘতম সামুদ্রিক ব্রিজ।

ঘুরে আসুন দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম মিঠা পানির হাওর হাকালুকি হাওর

Now Reading
ঘুরে আসুন দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম মিঠা পানির হাওর হাকালুকি হাওর

বাংলাদেশকে বলা হয় নদী মাত্রিক দেশ । আবার ষড়ঋতুর দেশেও বলা হয় আমাদের দেশ কে । কি নেই আমাদের দেশে ? আপনি সব কিছু খুঁজে পাবেন আমাদের এই বাংলাদেশে । তাইতো লেখক বলেছে
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,7
সকল দেশের রানি সে যে – আমার জন্মভূমি।
আসলে আমাদের দেশ সকল দেশের রানী ।

বাংলাদেশের সিলেট বিভাগে রয়েছে অসংখ্য হাওর ।সম্ভবত সিলেট বিভাগ একমাত্র বিভাগ যেখানে এতো পরিমাণ হাওর রয়েছে । আজ আমি আলোচনা করবো মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর ।বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম হাওর । পাখিদের অভয় অরণ্য বলা হয়ে এই হাকালুকি হাওর কে । শীতকালে প্রচুর পরিমাণে অতিথি পাখি আসে এই হাওরে ।

হাওর পরিচিতি

মৌলভীবাজারের অন্যতম বৃহত্তর হাওর । মৌলভীবাজারের অনেক গুলো উপজেলাকে নিয়ে গঠিত এই হাওর । সর্ববৃহৎ বড়লেখা কে নিয়ে গঠিত হয়েছে এই হাওর । মূল হাওরের প্রায় ৪০% বড়লেখায় পড়েছে । এই হাওর প্রায় ২৩৮ টি বিল নিয়ে গঠিত । বাংলাদেশে যে কয়টি মিঠা পানির হাওর আছে তার মধ্যে অন্যতম হলো হাকালুকি হাওর । মাছের জন্য বিখ্যাত এই হাওর । বর্ষার মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে ডিম পাড়ে মা মাছ । সিলেট সহ প্রায় বাংলাদেশের অনেক জেলাতে এই মাছ সরবরাহ করে মাছের চাহিদা পূরণ করা হয় । শীত কালে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ প্রজাতির হাঁস সহ অনেক পাখি আসে । প্রতিবছর শীত কালে তাদের আনাগোনা পাওয়া যায় । শুধু যে শীতে পাখি দেখতে পাওয়া যায় তা কিন্তু না , শীত ব্যতীত সারা বছর এই হায়রে পাখি থাকে । তাই পাখিদের জন্য অভয় অরণ্য বলা হয় । হাকালুকি হায়রে প্রায় ৫২০ প্রজাতির উদ্ভিদ আছে । শুধু বিদেশী পাখি না , সেখানে আছে দেশি প্রজাতির পাখি । তাদের সংখ্যা ও কম না । প্রায় ৩০০ প্রজাতির উপরে আছে দেশি পাখি । অনেক প্রজাতির মাছ ও আছে । এমন অনেক প্রাণী আপনি দেখতে পাবেন যা বিলুপ্তির পথে । শীতকালে পানি কমে যায় । যার ফলে অনেকে ধান চাষ করে । আবার কেউবা কম পানি থাকার কারণে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে ।

আপনি যদি যেতে চান তাহলে দুই সময়ে যেতে পারেন । শীত কালে আর বর্ষাকালে । আমি বলবো শীত কাল বেস্ট হবে । তখন অতিথি পাখির আগমন থাকে । যা আপনাকে মুগ্ধ করবেই । আরো ভালো হয় যদি আপনি হাওরের পাশে রাত্রি যাপন করতে পারেন তাঁবু ফেলে । জোছনা রাত , পাশে পানির শব্দ সেই সাথে হায়রে অতিথি পাখি । স্বর্গীয় সুখ আপনার জন্য ।

কিভাবে যাবেন ?

আপনি দুইটি পথ ধরে যেতে পারেন হাকালুকি ।মূলত কয়েকটা উপজেলা নিয়ে গঠিত হওয়ার কারণে আপনি বাস বা ট্রেন দিয়ে গেলে এক এক জেলায় নামতে হবে ।

ট্রেন – আপনি যদি ট্রেনে যেতে চান তাহলে আপনাকে কুলাউড়া নেমে যেতে হবে । কারণ হাওরের কিছু অংশ কুলাউড়া পড়েছে । প্রথমে আপনাকে ঢাকা থেকে ট্রেনের টিকিট কাটতে হবে । ভাড়া পড়বে ৩৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে । সিলেট গামী যেকোনো ট্রেনের টিকিট কাটলেই হবে । আপনার পৌঁছাতে প্রায় ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা লাগবে ।ট্রেনে করে গেলে আপনি যেমন আপনার জার্নি কে উপভোগ্য করে তুলতে পারবেন ঠিক টাকাও বেঁচে যাবে । কুলাউড়া নেমে আপনি সি এন জি করে চলে আসুন বড়লেখা । সেখানে নেমে অটো রিক্সা করে চলে আসুন হায়রে ।

বাস – আপনি বসে করে সরাসরি নেমে যেতে পারেন বড়লেখায় । শ্যামলী বা হানিফ এ করে আসতে পারেন । ভাড়া পড়বে ৫০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে । বসে আসলে একটু টাকা হয়তো বেশি লাগবে কিন্তু সময়ের দিকে থেকে আপনি বেঁচে যাবেন । মানে আপনি অনেক সময় সেভ করতে পারবেন । মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লাগবে মৌলভীবাজার আসতে । আপনি বড়লেখা নেমে সি এন জি করে চলে আসুন কানন গো বাজার । এখানে আপনাকে একটি তথ্য দিয়ে রাখি । আপনি যদি বসে করে বড়লেখা নামেন তাহলে কয়েকবার আপনাকে সি এন জি পাল্টাতে হবে । প্রথমে কানন গো বাজার পর্যন্ত । আবার সেখানে নেমে সি এন জি করে কুটাউরা বাজার পর্যন্ত । এখন আপনি ইচ্ছা করলে হেঁটে বা সি এন জি তে করে ওয়াচ টাওয়ার পর্যন্ত যেতে পারেন । যদি বসে যান তাহলে রাতে রওনা দেয়ার চেষ্টা করবেন । আর ট্রেনে গেলেও রাতে যাওয়ার চেষ্টা করবেন । তাহলে আপনি পরের সম্পূর্ণ দিনটা পাবেন ।

কি আছে দেখার মতো ?

আমি যেভাবে যান না কেন , যদি পৌঁছাতে পারেন তাহলে হাকালুকি আপনাকে স্বাগতম করার জন্য বসে আছে । আপনি সেখানে পাখি ওয়াচ টাওয়ার দেখতে পাবেন । আপনি ওয়াচ টাওয়ার থেকে সম্পূর্ণ হাওর কে কভার করতে পারবেন । অপরূপ সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করে বাধ্য । আর যদি আপনি শক্তি কালে গিয়ে থাকেন তাহলে তো কথায় নেই । আপনার ভ্রমণের সম্পূর্ণ টাকা উসুল । আপনি নৌকা ভাড়া করে হাওর ঘুরতে পারবেন । আবার আপনি সরাসরি জেলে থেকে মাছ কিনতে পারবেন ।
হাওরের আশে পাশের কোনো থাকার হোটেল পাবেন না । আপনাকে থাকতে হলে দিনে দিনে ফিরে আসতে হবে কুলাউড়া অথবা বড়লেখা । সেখানে কিছু ভালো মানের রেস্ট হাউস পাবেন । কিছু হোটেল পাবেন কিন্তু তেমন উন্নত মানের নয় । খাবারের দাম কম । বিশেষ করে মাছের দাম খুব কম পাবেন ।

হাওর এক্সপ্রেস – পর্ব ৩য়

Now Reading
হাওর এক্সপ্রেস – পর্ব ৩য়

সাংবাদিক আসলো থানার ভিতরে । এসে আমাকে প্রশ্ন করলো আপনি কে ? আমি বললাম – আমি ইমু ।
আপনাকে থানায় ধরে এনেছে কেন ? আমি এখনো জানিনা কেন আমাকে ধরে এনেছে , শুধু এতটুকু জানি আমাদের উপর দিয়ে মুরগি ডলা দেয়া হয়েছে , মুরগি ডলার দেয়ার সাথে আমার সঙ্গী মন্টু ডিম্ পেরে দিয়েছে ।

সাংবাদিক শুধু মন্টুর দিকে তাকিয়ে দেখলো , সে একটি ডিম্ খাচ্ছে । আর কোনো প্রশ্ন না করে তিনি বের হয়ে গেলেন ।
সেদিন আমাদের উপর দিয়ে কোনো ধরণের আর ডলা প্রয়োগ করা হলো না ।

পরের দিন পুলিশ অফিসার আমাদের কে পত্রিকা পড়ে শুনছে – পুলিশ এর মুরগি ডলা খেয়ে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ইমু ওরফে ঘাড় বেকা ইমন সব সত্য কথা শিকার করেছে , সে সাথে তার সহযোগী মন্টু ওরফে ডিম্ মন্টু ও শিকার করেছে ।

এই লেখা পড়তে পড়তে পুলিশ হচ্ছিলো । আর পাশের থেকে মন্টু জিজ্ঞাস করে উঠলো আমরা আবার কি সত্য শিকার করলাম । আমি বললাম কিছু না মন্টু , তুমি কি আরো ডিম্ খেতে চাও ? মন্টু উপর নিচ মাথা নামিয়ে তার মতামত প্রকাশ করলো ।

এর মধ্যে থানায় ফোন আসলো শুধু জেলখানায় বসে শুনছিলাম জ্বী স্যার , জ্বী স্যার বলছিলো আমাদের পুলিশ অফিসার । কিছুক্ষন পরে আমাকে ছেড়ে দিলো সাথে মন্টুকেও । আমি তখন বললাম স্যার কি হয়েছে আমাদের ছেড়ে দিলেন যে ? তিনি উত্তর দিতে যাবে এর মধ্যে তার টেলিফোনটি বেজে ওঠে । তার কথা শুনে বোঝাযাচ্ছিল অপর প্রান্তে তার স্ত্রী । কি বললো কিছু বুঝলাম না । ফোনটা রাখার পর দেখছিলাম তিনি ঘামছেন । আমি বললাম স্যার আপনার মেয়ে কে যারা অপহরণ করেছে তাদের আমি চিনি । আপনি চিন্তা করেন না । আপনি পেয়ে যাবেন । এই কথা বলে আমি বের হয়ে আসলাম , তিনি হয়তো আমাকে জিজ্ঞেস করতে ভুলে গিয়েছেন আমি কিভাবে জানলাম । উনি যখন কথা বলছিলো তখন কথার মাঝে বলে উঠছিলো তুমি আজ কেন এত দেরি করে মেয়ে কে স্কুল থেকে আন্তে গিয়েছিলে ? তখন আর আমার বোঝার কিছু বাকি ছিল না ।

হাটছিলাম রাস্তার এক পাশ দিয়ে । মোহনগঞ্জ এর আমি কিছুই চিনি না। হঠাৎ করে তাকিয়ে দেখি এক জায়গায় খুব গন্ডগোল এর মতো কিছু একটা । আমি দেখতে গেলাম । খেয়াল করলাম এক মহিলা কে ধরে মার্চে এক লোক । আমি কোনো কথা না বলে থাপ্পড় মেরে বসলাম সেই লোকের গালে ।যখন আমার দিকে তাকালো আমি খেয়াল করলাম তার গল্ বেয়ে রক্ত পড়ছে । হাতে আংটি ছিল তাই বেশি ব্যথা পেয়েছে । কিছুক্ষনের মধ্যে আমাকে আর মন্টু কে কিছু লোক ধরে নিয়ে গেলো । মনে হয় যাকে থাপ্পড় মেরে ছিলাম তার লোক । চোখ বাধা অবস্থায় ছিল আমাদের । চোখের বাঁধন খোলার পর দেখলাম আমাদের কে একটা বদ্ধ ঘরে রেখেছে । একটি লোক এসে আমার গালে থাপ্পড় দিয়ে বলে কিরে তুই বলে আমার লোকের গায়ে হাত দিয়ে ছিলি । আমি যখনি উত্তর দিতে যাবো তখনি আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলে , আচ্ছা তোকে যেন কোথায় দেখেছি দেখছি লাগছে । তুই কে ? আমি বললাম ঘাড় বেকা ইমন । আর আমার সাথে মন্টু বলে উঠলো আমি ডিম্ মন্টু । এর সাথে আরো যোগ করলো আমগো স্যার যখন খেইপা যায় তখন তার ঘাড় বেকা হইয়া যায় । আর তখন সবার ঘরে কামড় মাইরা বসে ।

এই কথা শুনে আমাদের হাতের বাঁধন খুলতে খুলতে জগলু বলে উঠলো স্যার আমার ভুল হইয়া গেসে আফনেরে আমি চিনতে পারি নাই । আফনারে আমি থাপ্পড় মারছি আফনে আমারে মারেন স্যার । আমি বলার আগে মন্টু বলে উঠলো স্যার সহজে কাউরে মারে না । খালি কামড় দেয় । এই কথা বলে জগলুর হাতে জোরে একটা কামড় দিলো মন্টু । দিয়ে বললো – এই ভাবে ঘরের মধ্যে কামড় দিয়া স্যার ৬৯ লোকরে মারছে । তখন আমি গলা কাশি দিয়ে বললাম ওই ডিম্ চুপ যা ।

আচ্ছা জগলু তুমি তো একটা মেয়ে কে ভালোবাসতে তাই না । মেয়েটার নাম মোহনা । জানো মেয়েটা এখনো কোথায় ? জগলু বললো স্যার আফনে জানেন কেমনে ? মন্টু বললো আমগো স্যার শুধু কামরায় না মানুষের অতীত বর্তমান সব বলে দেয় । আমি আবার বলা শুরু করলাম – জগলু তুমি কি যেন এখন কোথায় আছে মোহনা ? জগলু বললো না বাবা । আমি বললাম এখন তোমার প্রেমিকা আমার লোগে যে ছেলে আছে তার স্ত্রী মানে মন্টুর বউ । এই কথা শুনে মন্টু আকাশ থেকে পড়লো । আমার বউ ? আমি বললাম হ্যাঁ তোমার বউ । জগলু বললো এখনো মোহনা কোথায় ? আমি বললাম মন্টু মেরে ফেলছে । কারণ মোহনা তোমার কথা মনে পরে মন্টু এর সাথে খুব অশান্তি করতো । ওদের ঘরে চাঁদের মতো একটা মেয়ে আছে কিন্তু মোহনার সেই দিকে একদম খেয়াল ছিল না । যখনি তোমার কথা মনে পড়তো মন্টুর সাথে অনেক ঝগড়া এমনকি মারা মারি পর্যন্ত করতো । মন্টু মোহনা কে অনেক ভালোবাসতো কিন্তু মোহননা তা বুঝতে পারেনি । একদিন মোহনা নিজের গলায় নিজে ছুরি দিয়ে কেটে তারপর গলায় ফাঁস দেয় ।কিন্তু কথা উঠে মন্টু তার বউ কে মেরে ফেলে । মন্টু আমার কথা শুনছে আর কান্না করছে । তখন আমি জগলু কে আবার ও বললাম তুমি কেন ওসি সাহেবের মেয়েকে অপহরণ করেছে ?

চলবে

জাফলং ভ্রমণ

Now Reading
জাফলং ভ্রমণ

ভালবাসার আরেক নাম বাংলাদেশ 

খুব সুন্দর আমাদের এই বাংলাদেশ । সবুজের ছায়া ঘেরা , নদী মাতৃক আমাদের এই সুন্দর দেশ । যতোই রুপ দেখবেন তারপরেও যেন দেখা শেষ হবে না । কবির ছন্দের মত আমাদের এই দেশ বাংলাদেশ । ষড় ঋতুর এই দেশে যেন এক এক সময় রঙের খেলা শুরু হয় । যেমন ঋতুর খেলা আছে আমাদের দেশে ঠিক আবার এক এক জেলা যেন সেজেছে তার আপন রুপে । কোথাও পাহাড়ের মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা , আবার কোথাও সাগরের খেলা । কোথাও আবার নদীর মোহনা মীলিত হবার খেলা , কোথাও আবার সবুজে ঘেরা । অপরূপ আমাদের এই বাংলাদেশ ।

আজ জানবো আমরা সিলেট সম্পর্কে ।

শাহ্‌ পরানের দেশ সিলেট । শাহ্‌ জালালের দেশ সিলেট ।সুরমা নদীর দেশ সিলেট । এই রকম হাজারো নামে পরিচিত করা যায় সিলেট কে । বাংলাদেশের লন্ডন হল আমাদের এই সিলেট । কতই না সুন্দর  আমাদের এই সিলেট । কিছু দিন আগে ঘুরে আসলাম এই সিলেট নগরি।আজ তা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো কিছু অভিজ্ঞতা।

সিলেটে কিছু দিন 

বেশ কিছু দিনের আগে থেকে প্ল্যান ছিল সিলেটের জাফলং গিয়ে ঘুরে আসবো । এর আগেও গিয়েছিলাম কিন্তু জাফলং যাওয়া হয়নি । এই বার আমি ও আমার কাছের এক বড় ভাই ঠিক করলাম ডিসেম্বর এর শেষের দিকে গিয়ে ঘুরে আসবো । যাই হক সিন্ধান্ত নিলাম ডিসেম্বার এর ২৩ তারিখ রাতে ট্রেন এ করেন সিলেট যাব। তাই ১৯ তারিখে আমরা ট্রেন এর টিকেট অগ্রিম কেটে নিলাম , তা না হলে সিট পাওয়া যাবে না। শোভন চেয়ার নিয়ে নিলাম ৩২০ টাকা কর । পারাবত ট্রেন ২৩ তারিখ বিকেল ৩.১০ মিনিটে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যাবার কথা । আমরা ২.৩৫ মিনিটে প্লাটফর্মে হাজির হলাম । ট্রেন প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিলা। কিন্তু কি এক না জানা কারনে ট্রেন ছাড়লও বিকেল ৪.৩০ মিনিটে । 

কিছু ক্ষনের মধ্যে শীতের ঠাণ্ডা বাতাস গায়ে শীত ধরিয়ে দিলা ।জানালার পাশে বসা ছিলাম , মনে হচ্ছিল রাস্তা পিছনের দিকে যাচ্ছে আর আমি এগিয়ে চলছি আমার গন্তবে । কিছু ক্ষনের মধ্যে আসে পড়লাম এয়ারপোর্ট এ । কিছু যাত্রী নিয়ে আবার ট্রেন চললো তার আপন গতিতে । জানালে দিয়ে দিনের শেষ আলোতে দেখা যাচ্ছিল জেলেরা মাছ ধরছে । আর কিছু মানুষ কাজ করছে সবজির ক্ষেতে । যেন তারা আমাদের জন্যই তৈরি করছে শীতের সবজি । কিছু দূর যাওয়ার পর গাড়িতে হরেক রকমের খাবার নিয়ে উঠলো ফেরিওয়ালারা । তখন প্রায় সন্ধ্যা নেমে গিয়েছে । এর মধ্যে শরিফ ভাই দুই কাপ রঙ চা নিলেন ট্রেন এর ভিতর চা ওয়ালা থেকে । ভালোই লাগছিল জানালা দিয়ে আসা ঠাণ্ডা বাতাস আর গরম গরম চায়ে চুমুক দেয়া , এ যেন এক স্বর্গের অনুভূতি । বাহিরে কুয়াশার জন্য কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।বাহিরে দূশ্য দেখতে দেখতে যে কখন চা এর কাপ থেকে চা শেষ হয়ে গিয়েছে টেরি পেলাম না । এর মধ্যে ট্রেনের এক যাত্রীর সাথে খুব ভাল খাতির হল আমার । উনি প্রবাসি ভাই । উনি থাকেন তুর্কি তে । উনি বিয়ে করেছেন এক ইজরাইল এর মেয়ে কে।উনার সাথে খুব ভাল একটা আড্ডা জমে উঠলো আমার।অনেক্ কথা হল আমাদের । এই দিকে গাড়ি চলছে তার গতিতে । কিছু দূর যাবার পর ট্রেন থেমে গেল । সামনে আরেকটি ট্রেন যাবে তাই তাকে রাস্তা দিচ্ছে । আমি ট্রেন থেকে নেমে সামনে বাজারে গিয়ে কয়েক টা গরম গরম চিতল পিঠা কিনে নিয়া আসলাম আর সাথে আনলাম ঝাল শুঁটকির ভর্তা । আমি শরিফ ভাই আর ট্রেন ভাইয়াটা খেলাম । কি যে মজা তা লিখে প্রকাশ করা যাবে না। শীতের বাতাসের আর কুয়াশার মধ্যে ট্রেন এ বসে পিঠা খাওয়ার মজাই অন্য রকম । কিছু দুর যাবার পর আবার ট্রেন থেমে গেল ক্রসিং এর জন্য । এরি মধ্যে আমরা আশুগঞ্জ এ আসে পড়লাম । সেখানে ট্রেন ৫ মিনিট এর মত দাঁড়ালো । আমি নেমে পড়লাম কিছু হালকা নাস্তা করার জন্য । কিছু নাস্তা নিয়ে উঠে গেলাম ট্রেন এ । ঘড়িতে তখন রাত ৯ বেজে ১০ মিনিট। কিছু ক্ষনের মধ্যে ট্রেন আবার যাত্রা শুরু করলো । কিছু ক্ষন চলার পর যখন ট্রেন আবার ক্রসিং এ পড়লো ঠিক তখনি ঘটলো এক ঘটনা । ট্রেন এর বগি থেকে চিৎকার এর শব্দ । দৌড়ে গেলাম । গিয়ে দেখি ক্রসিং এ থামার সময় ঐ মহিলা মোবাইলটা জানালার কাছে নিয়ে বসছিল , কোন এক লোক আসে তার মোবাইলটি টান দিয়ে নিয়ে গিয়েছে । হাতে কিছুটা ব্যথা পেয়ছিল । আমরা নিজ নিজ জায়গা থেকে সবাই সাবধান হয়ে গিয়ে ছিলাম । মাঠ ঘাঁট পেরিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের ট্রেন । জানালা থেকে খুব জমকালো একটি প্রাসাধ আমার চোখে পড়লো । সেটি ছিল কেল্লা শাহ্‌ এর মাজার শরীফ । শীতের সময় প্রায় সব মাজারে ওরস হয়ে থাকে । তখন ভক্ত দের ভীর জমে উঠে এই সব মাজারে।বাহিয়ের ঘন অন্ধকার আর কুয়াশা দেখে খুব ভালোই কাটছিল সময় গুলো।

Page Sidebar