ঘুরে আসুন দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম মিঠা পানির হাওর হাকালুকি হাওর

Now Reading
ঘুরে আসুন দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম মিঠা পানির হাওর হাকালুকি হাওর

বাংলাদেশকে বলা হয় নদী মাত্রিক দেশ । আবার ষড়ঋতুর দেশেও বলা হয় আমাদের দেশ কে । কি নেই আমাদের দেশে ? আপনি সব কিছু খুঁজে পাবেন আমাদের এই বাংলাদেশে । তাইতো লেখক বলেছে
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,7
সকল দেশের রানি সে যে – আমার জন্মভূমি।
আসলে আমাদের দেশ সকল দেশের রানী ।

বাংলাদেশের সিলেট বিভাগে রয়েছে অসংখ্য হাওর ।সম্ভবত সিলেট বিভাগ একমাত্র বিভাগ যেখানে এতো পরিমাণ হাওর রয়েছে । আজ আমি আলোচনা করবো মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর ।বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম হাওর । পাখিদের অভয় অরণ্য বলা হয়ে এই হাকালুকি হাওর কে । শীতকালে প্রচুর পরিমাণে অতিথি পাখি আসে এই হাওরে ।

হাওর পরিচিতি

মৌলভীবাজারের অন্যতম বৃহত্তর হাওর । মৌলভীবাজারের অনেক গুলো উপজেলাকে নিয়ে গঠিত এই হাওর । সর্ববৃহৎ বড়লেখা কে নিয়ে গঠিত হয়েছে এই হাওর । মূল হাওরের প্রায় ৪০% বড়লেখায় পড়েছে । এই হাওর প্রায় ২৩৮ টি বিল নিয়ে গঠিত । বাংলাদেশে যে কয়টি মিঠা পানির হাওর আছে তার মধ্যে অন্যতম হলো হাকালুকি হাওর । মাছের জন্য বিখ্যাত এই হাওর । বর্ষার মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে ডিম পাড়ে মা মাছ । সিলেট সহ প্রায় বাংলাদেশের অনেক জেলাতে এই মাছ সরবরাহ করে মাছের চাহিদা পূরণ করা হয় । শীত কালে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ প্রজাতির হাঁস সহ অনেক পাখি আসে । প্রতিবছর শীত কালে তাদের আনাগোনা পাওয়া যায় । শুধু যে শীতে পাখি দেখতে পাওয়া যায় তা কিন্তু না , শীত ব্যতীত সারা বছর এই হায়রে পাখি থাকে । তাই পাখিদের জন্য অভয় অরণ্য বলা হয় । হাকালুকি হায়রে প্রায় ৫২০ প্রজাতির উদ্ভিদ আছে । শুধু বিদেশী পাখি না , সেখানে আছে দেশি প্রজাতির পাখি । তাদের সংখ্যা ও কম না । প্রায় ৩০০ প্রজাতির উপরে আছে দেশি পাখি । অনেক প্রজাতির মাছ ও আছে । এমন অনেক প্রাণী আপনি দেখতে পাবেন যা বিলুপ্তির পথে । শীতকালে পানি কমে যায় । যার ফলে অনেকে ধান চাষ করে । আবার কেউবা কম পানি থাকার কারণে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে ।

আপনি যদি যেতে চান তাহলে দুই সময়ে যেতে পারেন । শীত কালে আর বর্ষাকালে । আমি বলবো শীত কাল বেস্ট হবে । তখন অতিথি পাখির আগমন থাকে । যা আপনাকে মুগ্ধ করবেই । আরো ভালো হয় যদি আপনি হাওরের পাশে রাত্রি যাপন করতে পারেন তাঁবু ফেলে । জোছনা রাত , পাশে পানির শব্দ সেই সাথে হায়রে অতিথি পাখি । স্বর্গীয় সুখ আপনার জন্য ।

কিভাবে যাবেন ?

আপনি দুইটি পথ ধরে যেতে পারেন হাকালুকি ।মূলত কয়েকটা উপজেলা নিয়ে গঠিত হওয়ার কারণে আপনি বাস বা ট্রেন দিয়ে গেলে এক এক জেলায় নামতে হবে ।

ট্রেন – আপনি যদি ট্রেনে যেতে চান তাহলে আপনাকে কুলাউড়া নেমে যেতে হবে । কারণ হাওরের কিছু অংশ কুলাউড়া পড়েছে । প্রথমে আপনাকে ঢাকা থেকে ট্রেনের টিকিট কাটতে হবে । ভাড়া পড়বে ৩৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে । সিলেট গামী যেকোনো ট্রেনের টিকিট কাটলেই হবে । আপনার পৌঁছাতে প্রায় ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা লাগবে ।ট্রেনে করে গেলে আপনি যেমন আপনার জার্নি কে উপভোগ্য করে তুলতে পারবেন ঠিক টাকাও বেঁচে যাবে । কুলাউড়া নেমে আপনি সি এন জি করে চলে আসুন বড়লেখা । সেখানে নেমে অটো রিক্সা করে চলে আসুন হায়রে ।

বাস – আপনি বসে করে সরাসরি নেমে যেতে পারেন বড়লেখায় । শ্যামলী বা হানিফ এ করে আসতে পারেন । ভাড়া পড়বে ৫০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে । বসে আসলে একটু টাকা হয়তো বেশি লাগবে কিন্তু সময়ের দিকে থেকে আপনি বেঁচে যাবেন । মানে আপনি অনেক সময় সেভ করতে পারবেন । মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লাগবে মৌলভীবাজার আসতে । আপনি বড়লেখা নেমে সি এন জি করে চলে আসুন কানন গো বাজার । এখানে আপনাকে একটি তথ্য দিয়ে রাখি । আপনি যদি বসে করে বড়লেখা নামেন তাহলে কয়েকবার আপনাকে সি এন জি পাল্টাতে হবে । প্রথমে কানন গো বাজার পর্যন্ত । আবার সেখানে নেমে সি এন জি করে কুটাউরা বাজার পর্যন্ত । এখন আপনি ইচ্ছা করলে হেঁটে বা সি এন জি তে করে ওয়াচ টাওয়ার পর্যন্ত যেতে পারেন । যদি বসে যান তাহলে রাতে রওনা দেয়ার চেষ্টা করবেন । আর ট্রেনে গেলেও রাতে যাওয়ার চেষ্টা করবেন । তাহলে আপনি পরের সম্পূর্ণ দিনটা পাবেন ।

কি আছে দেখার মতো ?

আমি যেভাবে যান না কেন , যদি পৌঁছাতে পারেন তাহলে হাকালুকি আপনাকে স্বাগতম করার জন্য বসে আছে । আপনি সেখানে পাখি ওয়াচ টাওয়ার দেখতে পাবেন । আপনি ওয়াচ টাওয়ার থেকে সম্পূর্ণ হাওর কে কভার করতে পারবেন । অপরূপ সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করে বাধ্য । আর যদি আপনি শক্তি কালে গিয়ে থাকেন তাহলে তো কথায় নেই । আপনার ভ্রমণের সম্পূর্ণ টাকা উসুল । আপনি নৌকা ভাড়া করে হাওর ঘুরতে পারবেন । আবার আপনি সরাসরি জেলে থেকে মাছ কিনতে পারবেন ।
হাওরের আশে পাশের কোনো থাকার হোটেল পাবেন না । আপনাকে থাকতে হলে দিনে দিনে ফিরে আসতে হবে কুলাউড়া অথবা বড়লেখা । সেখানে কিছু ভালো মানের রেস্ট হাউস পাবেন । কিছু হোটেল পাবেন কিন্তু তেমন উন্নত মানের নয় । খাবারের দাম কম । বিশেষ করে মাছের দাম খুব কম পাবেন ।

হাওর এক্সপ্রেস – পর্ব ৩য়

Now Reading
হাওর এক্সপ্রেস – পর্ব ৩য়

সাংবাদিক আসলো থানার ভিতরে । এসে আমাকে প্রশ্ন করলো আপনি কে ? আমি বললাম – আমি ইমু ।
আপনাকে থানায় ধরে এনেছে কেন ? আমি এখনো জানিনা কেন আমাকে ধরে এনেছে , শুধু এতটুকু জানি আমাদের উপর দিয়ে মুরগি ডলা দেয়া হয়েছে , মুরগি ডলার দেয়ার সাথে আমার সঙ্গী মন্টু ডিম্ পেরে দিয়েছে ।

সাংবাদিক শুধু মন্টুর দিকে তাকিয়ে দেখলো , সে একটি ডিম্ খাচ্ছে । আর কোনো প্রশ্ন না করে তিনি বের হয়ে গেলেন ।
সেদিন আমাদের উপর দিয়ে কোনো ধরণের আর ডলা প্রয়োগ করা হলো না ।

পরের দিন পুলিশ অফিসার আমাদের কে পত্রিকা পড়ে শুনছে – পুলিশ এর মুরগি ডলা খেয়ে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ইমু ওরফে ঘাড় বেকা ইমন সব সত্য কথা শিকার করেছে , সে সাথে তার সহযোগী মন্টু ওরফে ডিম্ মন্টু ও শিকার করেছে ।

এই লেখা পড়তে পড়তে পুলিশ হচ্ছিলো । আর পাশের থেকে মন্টু জিজ্ঞাস করে উঠলো আমরা আবার কি সত্য শিকার করলাম । আমি বললাম কিছু না মন্টু , তুমি কি আরো ডিম্ খেতে চাও ? মন্টু উপর নিচ মাথা নামিয়ে তার মতামত প্রকাশ করলো ।

এর মধ্যে থানায় ফোন আসলো শুধু জেলখানায় বসে শুনছিলাম জ্বী স্যার , জ্বী স্যার বলছিলো আমাদের পুলিশ অফিসার । কিছুক্ষন পরে আমাকে ছেড়ে দিলো সাথে মন্টুকেও । আমি তখন বললাম স্যার কি হয়েছে আমাদের ছেড়ে দিলেন যে ? তিনি উত্তর দিতে যাবে এর মধ্যে তার টেলিফোনটি বেজে ওঠে । তার কথা শুনে বোঝাযাচ্ছিল অপর প্রান্তে তার স্ত্রী । কি বললো কিছু বুঝলাম না । ফোনটা রাখার পর দেখছিলাম তিনি ঘামছেন । আমি বললাম স্যার আপনার মেয়ে কে যারা অপহরণ করেছে তাদের আমি চিনি । আপনি চিন্তা করেন না । আপনি পেয়ে যাবেন । এই কথা বলে আমি বের হয়ে আসলাম , তিনি হয়তো আমাকে জিজ্ঞেস করতে ভুলে গিয়েছেন আমি কিভাবে জানলাম । উনি যখন কথা বলছিলো তখন কথার মাঝে বলে উঠছিলো তুমি আজ কেন এত দেরি করে মেয়ে কে স্কুল থেকে আন্তে গিয়েছিলে ? তখন আর আমার বোঝার কিছু বাকি ছিল না ।

হাটছিলাম রাস্তার এক পাশ দিয়ে । মোহনগঞ্জ এর আমি কিছুই চিনি না। হঠাৎ করে তাকিয়ে দেখি এক জায়গায় খুব গন্ডগোল এর মতো কিছু একটা । আমি দেখতে গেলাম । খেয়াল করলাম এক মহিলা কে ধরে মার্চে এক লোক । আমি কোনো কথা না বলে থাপ্পড় মেরে বসলাম সেই লোকের গালে ।যখন আমার দিকে তাকালো আমি খেয়াল করলাম তার গল্ বেয়ে রক্ত পড়ছে । হাতে আংটি ছিল তাই বেশি ব্যথা পেয়েছে । কিছুক্ষনের মধ্যে আমাকে আর মন্টু কে কিছু লোক ধরে নিয়ে গেলো । মনে হয় যাকে থাপ্পড় মেরে ছিলাম তার লোক । চোখ বাধা অবস্থায় ছিল আমাদের । চোখের বাঁধন খোলার পর দেখলাম আমাদের কে একটা বদ্ধ ঘরে রেখেছে । একটি লোক এসে আমার গালে থাপ্পড় দিয়ে বলে কিরে তুই বলে আমার লোকের গায়ে হাত দিয়ে ছিলি । আমি যখনি উত্তর দিতে যাবো তখনি আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলে , আচ্ছা তোকে যেন কোথায় দেখেছি দেখছি লাগছে । তুই কে ? আমি বললাম ঘাড় বেকা ইমন । আর আমার সাথে মন্টু বলে উঠলো আমি ডিম্ মন্টু । এর সাথে আরো যোগ করলো আমগো স্যার যখন খেইপা যায় তখন তার ঘাড় বেকা হইয়া যায় । আর তখন সবার ঘরে কামড় মাইরা বসে ।

এই কথা শুনে আমাদের হাতের বাঁধন খুলতে খুলতে জগলু বলে উঠলো স্যার আমার ভুল হইয়া গেসে আফনেরে আমি চিনতে পারি নাই । আফনারে আমি থাপ্পড় মারছি আফনে আমারে মারেন স্যার । আমি বলার আগে মন্টু বলে উঠলো স্যার সহজে কাউরে মারে না । খালি কামড় দেয় । এই কথা বলে জগলুর হাতে জোরে একটা কামড় দিলো মন্টু । দিয়ে বললো – এই ভাবে ঘরের মধ্যে কামড় দিয়া স্যার ৬৯ লোকরে মারছে । তখন আমি গলা কাশি দিয়ে বললাম ওই ডিম্ চুপ যা ।

আচ্ছা জগলু তুমি তো একটা মেয়ে কে ভালোবাসতে তাই না । মেয়েটার নাম মোহনা । জানো মেয়েটা এখনো কোথায় ? জগলু বললো স্যার আফনে জানেন কেমনে ? মন্টু বললো আমগো স্যার শুধু কামরায় না মানুষের অতীত বর্তমান সব বলে দেয় । আমি আবার বলা শুরু করলাম – জগলু তুমি কি যেন এখন কোথায় আছে মোহনা ? জগলু বললো না বাবা । আমি বললাম এখন তোমার প্রেমিকা আমার লোগে যে ছেলে আছে তার স্ত্রী মানে মন্টুর বউ । এই কথা শুনে মন্টু আকাশ থেকে পড়লো । আমার বউ ? আমি বললাম হ্যাঁ তোমার বউ । জগলু বললো এখনো মোহনা কোথায় ? আমি বললাম মন্টু মেরে ফেলছে । কারণ মোহনা তোমার কথা মনে পরে মন্টু এর সাথে খুব অশান্তি করতো । ওদের ঘরে চাঁদের মতো একটা মেয়ে আছে কিন্তু মোহনার সেই দিকে একদম খেয়াল ছিল না । যখনি তোমার কথা মনে পড়তো মন্টুর সাথে অনেক ঝগড়া এমনকি মারা মারি পর্যন্ত করতো । মন্টু মোহনা কে অনেক ভালোবাসতো কিন্তু মোহননা তা বুঝতে পারেনি । একদিন মোহনা নিজের গলায় নিজে ছুরি দিয়ে কেটে তারপর গলায় ফাঁস দেয় ।কিন্তু কথা উঠে মন্টু তার বউ কে মেরে ফেলে । মন্টু আমার কথা শুনছে আর কান্না করছে । তখন আমি জগলু কে আবার ও বললাম তুমি কেন ওসি সাহেবের মেয়েকে অপহরণ করেছে ?

চলবে

জাফলং ভ্রমণ

Now Reading
জাফলং ভ্রমণ

ভালবাসার আরেক নাম বাংলাদেশ 

খুব সুন্দর আমাদের এই বাংলাদেশ । সবুজের ছায়া ঘেরা , নদী মাতৃক আমাদের এই সুন্দর দেশ । যতোই রুপ দেখবেন তারপরেও যেন দেখা শেষ হবে না । কবির ছন্দের মত আমাদের এই দেশ বাংলাদেশ । ষড় ঋতুর এই দেশে যেন এক এক সময় রঙের খেলা শুরু হয় । যেমন ঋতুর খেলা আছে আমাদের দেশে ঠিক আবার এক এক জেলা যেন সেজেছে তার আপন রুপে । কোথাও পাহাড়ের মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা , আবার কোথাও সাগরের খেলা । কোথাও আবার নদীর মোহনা মীলিত হবার খেলা , কোথাও আবার সবুজে ঘেরা । অপরূপ আমাদের এই বাংলাদেশ ।

আজ জানবো আমরা সিলেট সম্পর্কে ।

শাহ্‌ পরানের দেশ সিলেট । শাহ্‌ জালালের দেশ সিলেট ।সুরমা নদীর দেশ সিলেট । এই রকম হাজারো নামে পরিচিত করা যায় সিলেট কে । বাংলাদেশের লন্ডন হল আমাদের এই সিলেট । কতই না সুন্দর  আমাদের এই সিলেট । কিছু দিন আগে ঘুরে আসলাম এই সিলেট নগরি।আজ তা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো কিছু অভিজ্ঞতা।

সিলেটে কিছু দিন 

বেশ কিছু দিনের আগে থেকে প্ল্যান ছিল সিলেটের জাফলং গিয়ে ঘুরে আসবো । এর আগেও গিয়েছিলাম কিন্তু জাফলং যাওয়া হয়নি । এই বার আমি ও আমার কাছের এক বড় ভাই ঠিক করলাম ডিসেম্বর এর শেষের দিকে গিয়ে ঘুরে আসবো । যাই হক সিন্ধান্ত নিলাম ডিসেম্বার এর ২৩ তারিখ রাতে ট্রেন এ করেন সিলেট যাব। তাই ১৯ তারিখে আমরা ট্রেন এর টিকেট অগ্রিম কেটে নিলাম , তা না হলে সিট পাওয়া যাবে না। শোভন চেয়ার নিয়ে নিলাম ৩২০ টাকা কর । পারাবত ট্রেন ২৩ তারিখ বিকেল ৩.১০ মিনিটে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যাবার কথা । আমরা ২.৩৫ মিনিটে প্লাটফর্মে হাজির হলাম । ট্রেন প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিলা। কিন্তু কি এক না জানা কারনে ট্রেন ছাড়লও বিকেল ৪.৩০ মিনিটে । 

কিছু ক্ষনের মধ্যে শীতের ঠাণ্ডা বাতাস গায়ে শীত ধরিয়ে দিলা ।জানালার পাশে বসা ছিলাম , মনে হচ্ছিল রাস্তা পিছনের দিকে যাচ্ছে আর আমি এগিয়ে চলছি আমার গন্তবে । কিছু ক্ষনের মধ্যে আসে পড়লাম এয়ারপোর্ট এ । কিছু যাত্রী নিয়ে আবার ট্রেন চললো তার আপন গতিতে । জানালে দিয়ে দিনের শেষ আলোতে দেখা যাচ্ছিল জেলেরা মাছ ধরছে । আর কিছু মানুষ কাজ করছে সবজির ক্ষেতে । যেন তারা আমাদের জন্যই তৈরি করছে শীতের সবজি । কিছু দূর যাওয়ার পর গাড়িতে হরেক রকমের খাবার নিয়ে উঠলো ফেরিওয়ালারা । তখন প্রায় সন্ধ্যা নেমে গিয়েছে । এর মধ্যে শরিফ ভাই দুই কাপ রঙ চা নিলেন ট্রেন এর ভিতর চা ওয়ালা থেকে । ভালোই লাগছিল জানালা দিয়ে আসা ঠাণ্ডা বাতাস আর গরম গরম চায়ে চুমুক দেয়া , এ যেন এক স্বর্গের অনুভূতি । বাহিরে কুয়াশার জন্য কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।বাহিরে দূশ্য দেখতে দেখতে যে কখন চা এর কাপ থেকে চা শেষ হয়ে গিয়েছে টেরি পেলাম না । এর মধ্যে ট্রেনের এক যাত্রীর সাথে খুব ভাল খাতির হল আমার । উনি প্রবাসি ভাই । উনি থাকেন তুর্কি তে । উনি বিয়ে করেছেন এক ইজরাইল এর মেয়ে কে।উনার সাথে খুব ভাল একটা আড্ডা জমে উঠলো আমার।অনেক্ কথা হল আমাদের । এই দিকে গাড়ি চলছে তার গতিতে । কিছু দূর যাবার পর ট্রেন থেমে গেল । সামনে আরেকটি ট্রেন যাবে তাই তাকে রাস্তা দিচ্ছে । আমি ট্রেন থেকে নেমে সামনে বাজারে গিয়ে কয়েক টা গরম গরম চিতল পিঠা কিনে নিয়া আসলাম আর সাথে আনলাম ঝাল শুঁটকির ভর্তা । আমি শরিফ ভাই আর ট্রেন ভাইয়াটা খেলাম । কি যে মজা তা লিখে প্রকাশ করা যাবে না। শীতের বাতাসের আর কুয়াশার মধ্যে ট্রেন এ বসে পিঠা খাওয়ার মজাই অন্য রকম । কিছু দুর যাবার পর আবার ট্রেন থেমে গেল ক্রসিং এর জন্য । এরি মধ্যে আমরা আশুগঞ্জ এ আসে পড়লাম । সেখানে ট্রেন ৫ মিনিট এর মত দাঁড়ালো । আমি নেমে পড়লাম কিছু হালকা নাস্তা করার জন্য । কিছু নাস্তা নিয়ে উঠে গেলাম ট্রেন এ । ঘড়িতে তখন রাত ৯ বেজে ১০ মিনিট। কিছু ক্ষনের মধ্যে ট্রেন আবার যাত্রা শুরু করলো । কিছু ক্ষন চলার পর যখন ট্রেন আবার ক্রসিং এ পড়লো ঠিক তখনি ঘটলো এক ঘটনা । ট্রেন এর বগি থেকে চিৎকার এর শব্দ । দৌড়ে গেলাম । গিয়ে দেখি ক্রসিং এ থামার সময় ঐ মহিলা মোবাইলটা জানালার কাছে নিয়ে বসছিল , কোন এক লোক আসে তার মোবাইলটি টান দিয়ে নিয়ে গিয়েছে । হাতে কিছুটা ব্যথা পেয়ছিল । আমরা নিজ নিজ জায়গা থেকে সবাই সাবধান হয়ে গিয়ে ছিলাম । মাঠ ঘাঁট পেরিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের ট্রেন । জানালা থেকে খুব জমকালো একটি প্রাসাধ আমার চোখে পড়লো । সেটি ছিল কেল্লা শাহ্‌ এর মাজার শরীফ । শীতের সময় প্রায় সব মাজারে ওরস হয়ে থাকে । তখন ভক্ত দের ভীর জমে উঠে এই সব মাজারে।বাহিয়ের ঘন অন্ধকার আর কুয়াশা দেখে খুব ভালোই কাটছিল সময় গুলো।