‘বাঙ্গাল’ থেকে যেভাবে বাঙালি

Now Reading
‘বাঙ্গাল’ থেকে যেভাবে বাঙালি

প্রাচীনকালে বঙ্গ বা বাঙ্গাল নামে যে জায়গা বোঝাতো তা ছিল আজকের বাংলার (বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলার) একটা অংশমাত্র। সে সময় বাংলাদেশ বিভক্ত ছিল নানা জনপদে। প্রত্যেকটি কৌমের নামে জনপদের নাম হয়েছিল। যেমন বঙ্গ, গৌড়, পুণ্ড্র ও রাঢ় ইত্যাদি। এদের ছিল আলাদা আলাদা রাষ্ট্রও। কেশব সেন ও বিশ্বরুপ সেনের শাসনামলে বঙ্গের দুটো বিভাগ ছিল। একটি বিক্রমপুর ভাগ, অন্যটি নাব্যমণ্ডল (বাখরগঞ্জ জেলা থেকে পূর্ব দিকে সমুদ্র পর্যন্ত)। হরিকেল নামে বাংলার আরেকটি জনপদের কথা শুনতে পাওয়া যায়। তাতেও বলা হয়েছে এর সীমা ছিল বাখরগঞ্জ জেলা থেকে সিলেট পর্যন্ত বিস্তৃত। চন্দ্রদ্বীপও ছিল এর আরেকটি নাম। সমতট নামে বাংলাদেশের আরেকটি প্রাচীন জনপদের নাম পাওয়া যায়, যার সীমা ছিল ত্রিপুরা থেকে চব্বিশ পরগণা পর্যন্ত প্রসারিত। আবার বৌদ্ধযুগে পূর্ব বাংলাকে সমতট বলা হয়েছে।

বাঙ্গাল নামেও আলাদা জনপদের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। পূর্ব বঙ্গ ও দক্ষিণ বঙ্গের সমুদ্র এলাকা জুড়ে সমগ্র ভূখণ্ডই ছিল এর অন্তর্গত। পুণ্ড্রবর্ধন এর রাজধানী ছিল বগুড়ার মহাস্থানগড়। এর অন্তর্ভুক্ত ছিল দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলা। আবার বগুড়া, দিনাজপুর, রাজশাহী এবং পাবনা মিলে ছিল বরেন্দ্র জনপদ। রাঢ় জনপদের রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ। বর্ধমান, হুগলী, হাওড়া জেলা দক্ষিণ রাঢ় হিসেবে চিহ্নিত হলেও আসলে প্রাচীন সুক্ষ্ম জনপদ ছিল এটি। মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, কটোয়ার প্রভৃতি অঞ্চল নিয়ে ছিল প্রাচীন ব্রজভুমি। গৌড় নামেও একটি জনপদ গড়ে উঠেছিল। মুর্শিদাবাদ ও বীরভূম গৌড়ের আদি কেন্দ্র হলেও এক সময় সমগ্র বাংলাদেশকে গৌড় বলা হত।

ষষ্ঠ শতকে বঙ্গ অঞ্চলে স্বাধীন স্বতন্ত্র রাজবংশ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর সাথে নতুন রাষ্ট্রযন্ত্রেরও পত্তন হয়। সপ্তম শতক থেকে রাজা শশাঙ্কের আমলে প্রাচীন বাংলার বিভিন্ন জনপদকে একসুত্রে গাঁথবার প্রচেষ্টা চলে। পাল ও সেন আমলেও (৮০০-১২০০) এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে। দিল্লির মুসলিম সুলতানদের বাদ দিলে বাংলার স্বাধীন সুলতানি আমলের প্রায় দুশো বছরের ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতি বাংলাদেশ গঠনের ইতিহাসে একটা বড় ধরনের ‘মাইলফলক’। এই সুলতানি আমলেই (১৩৪২-১৫৩৮সাল) প্রথম গৌড় ও বঙ্গ মিলে একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়। এর অধিবাসীরা ছিলো বাঙালি এবং তাদের রাষ্ট্র বাংলাদেশ নামে ছিল পরিচিত।

পাঠান আমলেও (১৫৩৮-১৫৬৪) ঐক্যবদ্ধ বাংলার অস্তিত্ব বজায় ছিল। তবে মোঘল বিরোধী শেরশাহ্‌ দিল্লি থেকেই শাসন কাজ পরিচালনা করতেন। ফলে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ আবার স্বাধীনতা হারায়। এ অবস্থায় এ অঞ্চলের শাসন ক্ষমতা দখল করে মোগলরা (১৫৭৬-১৭৫৭) এবং মোগল সম্রাট আকবরের আমলে ‘বাংলাদেশ’ এর নামকরণ করা হয় ‘সুবা বাংলা’। আর ঢাকাকে করা হয় এর রাজধানী। এর ভেতর দিয়ে ঢাকা এই প্রথম বাংলার রাজধানী হবারও সৌভাগ্য অর্জন করে। মোগলদের প্রায় দুশো বছর রাজত্বকালের পর ইংরেজ শাসকরা (১৭৫৭-১৯৪৭) এদেশের শাসন ক্ষমতা দখল করে রাখে। ইংরেজরা বাংলার নামকরণ করে ‘বেঙ্গল’ বলে। ১৯০৫সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ, পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, আসাম প্রভৃতি অঞ্চল এই বেঙ্গল প্রদেশেরই অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯০৫ সালে ‘বঙ্গ ভঙ্গ’ ঘোষিত হলে পূর্ব বাংলা আলাদা প্রদেশে রুপান্তরিত হয় এবং ঢাকাকে করা হয় দ্বিতীয়বারের মত রাজধানী। ১৯১১ সালে সেটা আবারো রদ করা হয়, সেই থেকে ১৯৪৭সাল পর্যন্ত এ অবস্থাই বজায় থাকে। তবে এ বছরেরই ১৪ আগস্ট ব্রিটিশদের ভেদনীতির কারণে অখণ্ড ভারতকে ভাগ করে ভারত ও পাকিস্তান এ দুটি পৃথক রাষ্ট্রের জন্ম হলে পূর্ব বাংলা পাকিস্তান অংশের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং তার নতুন নামকরণ করা হয় পূর্ব পাকিস্তান। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভূগোল এই অবস্থাতেই থাকে। কেবল মুক্তিযুদ্ধের ন’মাস এই রাজধানী ঢাকা থেকে স্থানান্তর করে মেহেরপুরের মুজিব নগরে নেয়া হলেও যুদ্ধ পরবর্তী স্বাধীন বাংলার রাজধানী হিসেবে তা আবার ঢাকায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয়।

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কিছু মসজিদ !

Now Reading
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কিছু মসজিদ !

ঢাকা কে মসজিদের নগরী বলা হয় ।ঢাকার মতো এতো মসজিদ বাংলাদেশের কোথাও নেই । আপনি যদি সত্যিকার অর্থে মসজিদের নগরী দেখতে চান থামলে আপনাকে যেতে হবে পুরান ঢাকায় । আপনি কিছু দূর যাওয়া মাত্র একটি করে মসজিদ দেখতে পাবেন । পুরান ঢাকার যখন এক সাথে সব মসজিদ আজান দেয়া শুরু করে , আপনি দ্বিধায় পরে যাবেন এইভাবে যে কোনটা কোন মসজিদের আজান ।

আজ আমি সেই রকম ঢাকার মধ্যে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কিছু মসজিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবো । যদি কখনো সময় হয় আপনাদের ইচ্ছে করলে সেখানে গিয়ে নামাজ পড়ে আসতে পারেন ।

১- তাঁরা মসজিদ – পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় অবস্থিত তাঁরা মসজিদ । ঢাকা শহরে যত গুলো ঐতিহ্যবাহী মসজিদ আছে তার মধ্যে আরমানিটোলার তাঁরা মসজিদ অন্যতম । ইন্টারনেট ও স্থানীয় লোকদের থেকে জানা যায় এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয় আঠারো শতকের দিকে মানে ইংরেজদের আমলে । লোক মুখে শুনা যায় মির্জা গোলাম পীর এই মসজিদটি নির্মার করেন । এই মসজিদের নাম তাঁরা মসজিদ হওয়ার কারণ হলো , এই মসজিদের সাদা মার্বেল পাথরের গায়ে অসংখ্য তাঁরা আঁকা রয়েছে । আর এর থেকে তার নাম করুন করা হয় তাঁরা মসজিদ । মসজিদের প্রবেশ পথে আপনার চোখে পর্বে বিশাল আকৃতির একটি তাঁরা । মূলত এই ঝর্ণা । বিকেল বেলা ঝর্ণা ছাড়া হয় । মাঝে মাঝে মানুষ নামাজ পড়ে এসে এখানে বসে । প্রথম দিকে তিনটি গম্বুজ থাকলেও পরবর্তী কালে আরো ২টি গম্বুজ নির্মাণ করা হয় । এখন সর্বমোট ৫টি গম্বুজ আছে । প্রথম দিকে মসজিদটি অনেক সারা মাটা ছিল । পরবর্তী কালে এই সংস্করণ করুন করে বর্তমান রূপ দেয়া হয় । মসজিদের পিছনের বাম সাইডে রয়েছে একটি কবরস্থান । মির্জা সাহেবকে এখানে করব দেয়া হয়েছিল . লোক মুখে জানা যায় মসজিদের প্রথম ইমাম কে এখানে কবর দেয়া হয়েছিল । প্রথম অবস্থায় মসজিদ এর আকার ছোট থাকলো পরবর্তী কালে এর আকৃতি বড় করা হয়েছে । প্রতিদিন এখানে হাজারো দেশি ও বিদেশী দর্শনার্থী ঘুরতে আসেন । আপনি ও ইচ্ছে করলে ঘুরে আসতে পারেন তাঁরা মসজিদ থেকে , আর পুরান ঢাকার খাবার খেতে ভুলবেন না । তাঁরা মসজিদ থেকে একটু সামনে এগিয়ে গেলে আপনি পাবেন ফুচকার দোকান । ঢাকার অন্যতম বিখ্যাত ফুচকার দোকান ।

তাঁরা মসজিদ

২- লালবাগ শাহী মসজিদ – লালবাগ যেমন লালবাগ কেল্লার জন্য বিখ্যাত , ঠিক অপর দিকে লালবাগ শাহী মসজিদ এর জন্য বিখ্যাত ।প্রায় ৩০০ বছর আগের এই মসজিদ । এর নির্মল কাল ১৭০৩ সাল। ১৭০৩ সালের দিকে ফারুক এই মসজিদটি নির্মার করে থাকেন । ঢাকার মধ্যে যেসব বড় মসজিদ আছে তার মধ্যে এটি অন্যতম , এই মসজিদে এক সাথে প্রায় ১৫০০ লোক নামাজ পড়তে পারে । এই মসজিদের মূল নকশা ঠিক রেখে বহুবার সংস্করণ করা হয় । এই মসজিদের কিবলার উপর দিকে একটি গম্বুজ আছে । যা সচরাচর দেখা যায় না । এর মসজিদের আয়তনের দিক থেকে অনেক বড় । প্রতিবার সংস্করণের সময় মসজিদের আয়তন বৃদ্ধি করা হচ্ছিলো । এই মসজিদের প্রত্যেকটা মিহবারের দিকে ৩ টি করে প্রবেশ পথ রাখা হয়েছে । আপনি যখন লালবাগ কেল্লা ঘুরতে যাবেন তখন ইচ্ছে করলে এই জায়গা ঘুরে আসতে পারেন । আর লালবাগ কেল্লার বিখ্যাত খেতে পুরি আপনি এখানে পাবেন । ঘুরে ঘুরি শেষে ইচ্ছে করলে খেতে দেখতে পারেন ।

লালবাগ শাহী মসজিদ

৩- বিনত বিবির মসজিদ – বিভিন্ন তথ্যমতে ঢাকার সবচেয়ে পুরাতন মসজিদ হিসেবে বিনত বিবির মসজিদ কে ধরা হয় । বিনত বিবির মসজিদ তার নির্মাতা বিনত বিবির নাম অনুসারে রাখা হয়ে । পুরান ঢাকার নারিন্দায় এই মসজিদের দেখা পাওয়া যায় । ১৪৫৭ সালে মারহামাতের মেয়ে মুসাম্মাত বখত বিনত বিবি এটি নির্মাণ করেন । প্রায় ৬০০ বছর পুরাতন এই মসজিদ । আগে যখন মানুষ বাংলায় ব্যবসা করতে আসতো তখন এই মসজিদে নামাজ পড়তো । কারণ নারিন্দায় ছিল বুড়িগঙ্গা নদীর শাখা । বিভিন্ন বার এই মসজিদকে সংস্করণ করা হয়ে । বিনত বিবি কে মসজিদের পাশে শায়িত করা হয় । প্রথম দিকে দুইতলা থাকলেও পরবর্তী কালে সংস্করণ করে উপরের দিকে ৩ তলা করা হয় । নারিন্দা গেলে আপনি ভুলেও বিউটির লাচ্ছি খেতে ভুল করবেন না । ঢাকার যত লাচ্ছি আছে তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো এই বিউটির লাচ্ছি ।

বিনত বিবির মসজিদ

৪- চক বাজার শাহী মসজিদ – এটি বাংলার এমন একটি মসজিদ যা উদ্বোধন করেছিলেন বাংলার শেষ নবাব শায়েস্তা খাঁ । চক বাজার শাহী মসজিদ চক বাজারে অবস্থিত । বর্তমানের এর আয়তন আগে থেকে বৃদ্ধি করে দ্বিগুণ করা হয়েছে ।এটি প্রায় চারশো বছর আগের মসজিদ । আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য যে এটি তার আগের যে নির্মাণ হারায় । মানে আগে যেভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল , বর্তমানে সংস্কার করে তা পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে । প্রথম দিকে তিনটি গম্বুজ নিয়ে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল । মসজিদের আয়তন ছোট হওয়ার কারণে সামনের দিকে যে জায়গা রাখা হয়েছিল , পরবর্তী কালে সেই জায়গায় মসজিদ এর কিছু অংশ নির্মাণ করা হয় ।

 চক বাজার শাহী মসজিদ

 

তথ্যসূত্র :

১- https://bn.wikipedia.org/wiki/

২-http://bn.banglapedia.org

৩- http://parjatan.portal.gov.bd/site/page/2e69b14b-6f96-4606-9fba-dbc70fc411b5

৪- https://bn.wikipedia.org/wiki/

ঢাকার মধ্যে একদিনের আনন্দ ভ্রমণ – পর্ব ২য়

Now Reading
ঢাকার মধ্যে একদিনের আনন্দ ভ্রমণ – পর্ব ২য়

মানুষের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের সময় গুলো কাটে যখন সে তার পরিবার কে সময় দেয় । সময়টা তখন আরো আনন্দের হয় যখন সেই পরিবার কে নিয়ে বাহির থেকে ঘুরে আসে । ব্যস্ততার জীবনে সময় বের করা খুব কষ্টের হয়ে পড়ে । যত টুকু সময় বের করা হয় সেই সময় যদি পরিবারের সাথে কাটানো যায় তাহলে নিজে মধ্যে রিফ্রেশ একটা ভাব আসে ।

আমি আগের পর্বে ঢাকার মধ্যে কিছু জায়গা দেখিয়ে ছিলাম , যেখানে আপনি চাইলে এক দিনের মধ্যে আপনার প্রিয় মানুষ বা পরিবার কে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন । আজ আমি আপনাদের আরো কিছু জায়গা এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিবো । সামনে ঈদ আসছে , ইচ্ছে করলে আপনি ঘুরে আসতে পারেন এই জায়গা গুলো ।

 

সাফারি পার্ক

গাজীপুরের সাফারি পার্ক – ঢাকার অদূরে অবস্থিত এই সাফারি পার্ক । ঢাকা থেকে যেতে আপনার সময় লাগবে মাত্র ১ ঘণ্টা । ঢাকা থেকে ৪০ কিলো মিটার দূরে অবস্থিত । বাংলাদেশের অন্যতম বিশাল সাফারি পার্ক হচ্ছে এটি । মোট ১২২৫ একর জমির উপর তৈরি করা হয়েছে এই পার্কটি । আন্তর্জাতিক মানের একটি পার্ক যেখানে বন্যা প্রাণীদের সংরক্ষণ করা হয়েছে । বন্যা প্রাণীরা খোলা মেলা পরিবেশ বেড়ে উঠছে । খাঁচার প্রাণী সব উন্মুক্ত করা হয়েছে । ভেতরে প্রবেশ করলে আপনি বাস পাবেন । সেখান করে ঘুরে দেখতে পারেন সম্পূর্ণ পার্কটি । বাস আপনাকে ঘুরে দেখাবে তাদের এই পার্ক । এখানে প্রবেশ মূল্য একটু অন্য রকম । মানে বড়দের জন্য প্রবেশ ফি ৫০ টাকা আর ছোট দের জন্য ২০ টাকা । আর আপনি যদি বাসে করে ঘুরতে চান তাহলে আপনাকে গুনতে হবে ১০০ টাকা । আপনি যদি ক্রাউন এভিয়ারি ঘুরতে চেনা তাহলে আপনাকে গুনতে হবে ১০ টাকা মানে আপনি যেকোনো এভিয়ারি প্রবেশ করলে আপনাকে ১০ টাকা করে দিতে হবে । আপনি শ্রীপুর গামী যেকোনো বাসে উঠে যেতে পারেন । বাস আপনাকে নামিয়ে দিবে বাঘের বাজারে । সেখান আপনি অটো পাবেন ।অটো কে বললেই হবে তারা আপনাকে পার্কে নামিয়ে দিবে । অটো তে করে যেতে সময় লাগবে ২০ মিনিট ।

নুহাস পল্লী

 

গাজীপুরের নুহাশ পল্লী – বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ এর নুহাশ পল্লীর নাম শুনেন নাই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল ।সামনে ঈদ আসছে । আপনি ইচ্ছা করলে আপনার পরিবার কে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন নুহাশ পল্লী থেকে । ঢাকা থেকে আপনাকে প্রথমে গাজীপুর যেতে হবে । ভালো হবে আপনি যদি গুলিস্তান থেকেই রওনা দেন । তা ছাড়া আপনি অন্য যে কোনো জায়গা থেকে যেতে পারেন । আপনি যেখান থেকে যান না কেন আপনাকে নামতে হবে গাজীপুরের পাড়াবাজারে । ড্রাইভার কে বললে ড্রাইভার আপনাকে নামিয়ে দিবে । সেখান থেকে আপনি সি এন জি বা অটো তে করে চলে আসুন নুহাশ পল্লী । আপনাকে প্রবেশ মূল্য পরিশোধ করে ভেতরে ঢুকতে হবে । প্রবেশ মূল্য ধরে হয়েছে ২০০ টাকা । ভেতরে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে সবুজে ঘেরা পরিবেশ । সেই সাথে পুকুর , পিকনিক স্পোর্ট । হরেক রকমের গাছ আপনি দেখতে পাবেন । তাছাড়া আপনি আরো দেখবেন গাছের উপরে বাসা বানানো । বৃষ্টি বিলাস নামের একটি সুন্দর বাড়ি ।

 

আহসান মঞ্জিল

আহসান মঞ্জিল – পুরান ঢাকার ইসলামপুরে ঠিক বুড়িগঙ্গা নদীর পাশে রয়েছে নবাবদের বাড়ি আহসান মঞ্জিল । নবাব আহসান এর নাম । পুরান ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী একটি জায়গা ।এই বন্ধে আপনি ঘুরে আসতে পারেন এখন থেকে । আহসান মঞ্জিল যেতে হলে আপনাকে আসতে হবে সদরঘাট । সদরঘাট বা ভিক্টোরিয়া পার্ক গামী যেকোনো বাসে উঠলে আপনাকে নামিয়ে দিবে কোর্টকাছারি । সেখান থেকে আপনি ইচ্ছা করলে হেঁটে যেতে পারবেন অথবা ইচ্ছা করলে আপনি রিকশা করতে যেতে পাবেন । আহসান মঞ্জিল প্রবেশ করতে হলে আপনাকে টিকিট কিনতে হবে । টিকিট এর মূল্য ২০ টাকা । আর অপ্রাপ্তদের জন্য প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা । প্রবেশের মুখে আপনাকে জমা দিতে হবে আপনার ব্যাগ । আপনি ভেতরে কোনো ধরনের ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারবেন না । ভেতরে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে নবাব দের ব্যবহার করা বিভিন্ন জিনিস পত্র । বিশেষ করে আপনাকে অবাক করবে বিশাল হাতির মাথা । অনেক বছর আগের এই হাতির মাথা কে সংরক্ষণ করে রেখেছে তারা । তা ছাড়া আপনি দেখতে পাবেন তাদের খাবার রুম সহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ।

 

লালবাগ কেল্লা

লালবাগ কেল্লা – পুরান ঢাকার আরেকটি ঐতিহ্যবাহী জায়গা হলো লালবাগ কেল্লা । মোগল আমলের তৈরি একটি দুর্গ । পরীবিবির মাজার এখানে অবস্থিত । আপনাকে প্রথম আসতে হবে গুলিস্তানে । সেখান থেকে আপনি রিকশা অথবা লেগুনা যোগে চলে যেতে পারেন পুরান ঢাকার লালবাগে । কেল্লার নাম অনুসারে রাখা হয় এই জায়গার নাম । আপনি ভেতরে বাগান ও বিশাল বড় একটি দীঘি দেখতে পাবেন । বর্তমানে সেখানে পানি নেই । এই দীঘিকে পরীবিবির দীঘি বলা হয় । আপনি ভেতরে একটি সুড়ঙ্গ দেখতে পাবেন । এই সুড়ঙ্গ কে নিয়ে আছে অনেক রকমের গল্প ।তাছাড়া ভেতরে জাদুঘর ও আছে । সকাল ১০ টা থেকে খোলা থাকে । প্রবেশ মূল্য বড় দের জন্য ২০ টাকা আর ছোটদের জন্য ১০ টাকা । সাপ্তাহিক বন্ধ রবিবার ।

চলবে

ঢাকার মধ্যে একদিনের আনন্দ ভ্রমণ – পর্ব ১ম

Now Reading
ঢাকার মধ্যে একদিনের আনন্দ ভ্রমণ – পর্ব ১ম

আপনি চাইলে আপনার পরিবার অথবা আপনার কাছের মানুষ কে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার মধ্যে কিছু সুন্দর জায়গা থেকে । যাকে বলে এক দিনের আনন্দ ভ্রমণ ।

ঘুরতে আসলে কে না ভালোবাসে । আমাদের এই ব্যস্ততার জীবনে , কাজ থেকে একটু অবসর পেলে আমরা বেরিয়ে পড়ি পরিবার , আত্মীয় স্বজন , বন্ধু বান্ধব নিয়ে ঘুরতে । প্রকৃতি আর মানুষের মধ্যে রয়েছে এক অদ্ভুত মিল । একে অপরের প্রতি রয়েছে ভালোবাসা , যার ফলে একটু ফাঁক পেলে বেরিয়ে পরে এই প্রকৃতিকে আবিষ্কার করতে । আজ সেই রকম কিছু জায়গার কথা আপনাদের বলবো । সামনে ঈদ , ইচ্ছে করলে ঘুরে আসতে পারেন সেই সব জায়গা গুলো ।

শিশু পার্ক – শিশু পার্ক এর নাম শুনে নাই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল । গ্রাম থেকে কেউ ঢাকায় ঘুরতে আসলে , তাদের ঘোরার জায়গার প্রথম দিকে থাকে এই শিশু পার্ক । আর আপনি যদি নতুন বিবাহিত হন , আর আপনার যদি একটি বাচ্চা থাকে , তাহলে আপনার জন্য সবচেয়ে বেস্ট জায়গা হবে শিশু পার্ক । ঢাকার অন্যতম প্রাণ কেন্দ্র হলো শাহবাগ । আর সেখানেই অবস্থিত শহীদ জিয়া শিশু পার্ক । এই ঈদে আপনি আপনার ছোট সোনামণি কে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন শিশু পার্ক থেকে । ভেতরে রয়েছে ১৯ টির বেশি রাইড । প্রতি রাইডের উঠতে আপনাকে গুনতে হবে মাত্র ৮ টাকা । শিশু পার্কের ভেতরে সবচেয়ে জনপ্রিয় রাইড হলো ট্রেন ,ফাঁইটার জেট, মেরি গো রাউন্ড, ইত্যাদি । শুধু মাত্র রবিবার বন্ধ থাকে । শুক্রবার নামাজের পর থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকে । আপনি যদি শিশু পার্কে যান তাহলে আমি আপনাকে বলবো আপনি একটু সামনে এগিয়ে গেলে জাদুঘর পেয়ে যাবেন । ইচ্ছা করলে সেখান থেকেও ঘুরে আসতে পারেন ।

শিশু পার্ক

চিড়িয়াখানা – ঢাকার মধ্যে সর্ব বৃহৎ চিড়িয়াখানাটি হলো মিরপুর চিড়িয়াখানা । ১৮৬.৬০ একর জমির উপর তৈরি করা হয়ে চিড়িয়াখানাটি । বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় একটি জায়গা । আপনি আপনার কাছের মানুষ , পরিবার , অথবা ছোট সোনামণিকে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন । যেন কোনো জায়গা থেকে মিরপুর ১ গামী বসে উঠে পড়লে আপনি চলে আসতে পারবেন চিড়িয়াখানা । আগে প্রবেশ মূল্য ছিল ১০ টাকা । এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা । খুব সুন্দর একটি জায়গা । আপনি মুগ্ধ অবশ্যই হবেন । ভেতরে আপনি বাঘ মামার দেখা পাবেন , সেই সাথে পাবেন বানরের বাঁদরামো । আপনি দেখতে পাবেন ময়ূর , সেই সাথে হরেক রকমের সাপ । তাছাড়া ভেতরে একটি প্রাণী জাদুঘর রয়েছে । মাত্র ১০ টাকা টিকিট মূল্য আপনি ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন । চিড়িয়াখানার সাথে রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উদ্যান বোটানিক্যাল গার্ডেন । আপনি ঘুরে আসতে পারেন সেখান থেকেও । আর আপনার জন্য সাবধানতা হলো আপনি ভেতরে ভুলেও কোনো খাবার দোকানে বসবেন না । বাহির থেকে পানি কিনে নিয়ে যাবেন । যদি বসেন ৫০ টাকা দামের খাবার রাখা হবে ৩০০ টাকা ।

 

চিড়িয়াখানা

সোনারগাঁ জাদুঘর – ঢাকা থেকে একটু বাহিরে ,গ্রামীণ পরিবেশে পাবেন সোনারগাঁ জাদুঘর । একে কারু শিল্পের মেলা ও বলা হয় । ঢাকা থেকে মাত্র ২৪ কিলো মিটার দূরে অবস্থিত । আপনি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যেতে পারেন অথবা আপনি বাস যোগে যেতে পারেন । আপনি বাসে গেলে আপনাকে নামতে হবে সোনারগাঁ মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায়। সেখান থেকে আপনি কিছু সি এন জি পাবেন , যারা আপনাকে সোনারগাঁ জাদুঘর এর সামনে নামিয়ে দিবে । ভাড়া পড়বে জন প্রতি ২০ টাকা । একদম জাদুঘরের গেটের সামনে নামিয়ে দিবে । জাদুঘরে প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা করে । এখন হয়তো বাড়তে পারে । আপনার জন্য উপযুক্ত সময় হবে যদি বৈশাখ মানে ঘুরতে যান । তখন সেখান মেলা বসে । আর আপনি যদি শীতকালে ঘুরতে যান তাহলে আপনার জন্য থাকবে মাছ ধরার ব্যবস্থা । ছাড়া আপনি পাবেন অনেক ঐতিহাসিক বস্তু ।ভেতরে বই পড়ার জন্য পাবেন লাইব্রেরি । আপনি ইচ্ছা করলে নৌকা ভ্রমণ করতে পারেন ।

 

সোনারগাঁ জাদুঘর

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘর – বাংলাদেশে প্রথম কোনো বেসামরিক জাদুঘর হলো বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘর । তেজগাঁও বিমানবন্দর মানে পুরাতন বিমানবন্দর এর পাশে আছে বাংলাদেশ বিমান জাদুঘর । আপনি জাদুঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে আপনার গুনতে হবে মাত্র ২০ টাকা । এর বিনিময় আপনি ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন । জাদুঘরের ভেতরে মূল আকর্ষণ হলো ডাকোটা বিমান যা উপহার হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে দিয়েছিলো । তাছাড়া বলাকা নামের একটি প্লেন আছে , আপনি ইচ্ছা করলে এর ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন টিকিট কেটে । টিকিটের মূল্য পড়বে ৩০ টাকা । তাছাড়া আপনি অনেক উঁচু উঁচু রাডার দেখতে পাবেন । আর বিমান বাহিনীর কিছু ব্যবহৃত বিমান দেখতে পাবেন । একটু সামনে এগিয়ে গেলে আপনার চোখে পড়বে মানচিত্র, যা আপনাকে বলে দিবে এই জাদুঘরে কোথায় কি আছে । রবিবার ব্যতীত সব দিন খোলা আছে বিমান বাহিনী জাদুঘরে । সকাল ১০ থেকে খোলা থাকে ।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘর

চলবে

আজম খান থেকে পপ সম্রাট

Now Reading
আজম খান থেকে পপ সম্রাট

guru.jpg

“রেল লাইনের ওই বস্তিতে, জন্মে ছিল একটি ছেলে, মা তার কাঁদে, ছেলে কি মরে গেছে, হাইরে হাই বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ” অথবা “আলাল ও দুলাল, আলাল ও দুলাল” অথবা ওরে সালেকা, ওরে মালেকা গানের স্রষ্টা, পপ-গুরু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আজম খান। আজ এই দিনে তিনি আমাদের ছেঁড়ে, তার প্রিয় মাতৃভূমি ছেঁড়ে চিরতরে পরপারে চলে যান। আজম খান ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকার ও গায়ক।

আজম খান ১৯৫০ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি ঢাকার আজিমপুরে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পুরো নাম মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান। ডাক নাম আজম। তার বাবার নাম মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন খান, মা জোবেদা খাতুন। বাবা মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান ছিলেন একজন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার, সেক্রেটারিয়েট হোম হোম ডিপার্টমেন্ট, পাশাপাশি তিনি হোমিওপ্যাথির চিকিৎসাও করতেন। মা ছিলেন একজন সংগীত শিল্পী। শৈশব থেকেই আজম  খানের সংগীতের প্রতি অনুরাগ পরিলক্ষিত হয়। নিজ আগ্রহ ও মায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি নিয়মিত সংগীতচর্চা অব্যাহত রাখেন।

১৯৫৫ সালে তিনি প্রথমে আজিমপুর এর ঢাকেশ্বরী স্কুলের শিশু শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে তিনি কমলাপুরের প্রভেনশিয়াল স্কুলে প্রাইমারিতে এসে ভর্তি হন। তারপর ১৯৬৫ সালে সিদ্ধেশ্বরী হাইস্কুলের বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৬৮ ১৯৬৫ সালে সিদ্ধেশ্বরী হাইস্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুল থেকে ১৯৬৮ সালে বাণিজ্য বিভাগে এসএসসি পাস করেন। ১৯৭০ সালে টি-অ্যান্ডটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অস্ত্র হাতে তুলে নেন। ওইসময় তার বাবা ছিলেন সচিবালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। বাবার অনুপ্রেরণায়ই দেশকে স্বাধীন করার জন্যে গুরু আজম খান ২১ বছর বয়সে যুদ্ধে যান এবং দেশকে স্বাধীন করতে নিজের জীবন বাজি রেখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর আর পড়ালেখায় এগোতে পারেন নি।

Azam Khan2.jpg

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর অস্ত্র ফেলে দিয়ে আজম খান ও তার বন্ধুরা মিলে ব্যান্ড উচ্চারণ গঠন করেন। আজম খান দেশ ব্যাপী পরিচিতি পান তার এত সুন্দর দুনিয়া কিছুই রবে না রে আর চার কালেমা সাক্ষী দেবে গান দ্বারা, যা ওইসময় বিটিভিতে সরাসরি প্রচার হয়েছিল। ১৯৭৪-৭৫ সালের দিকে রেল লাইনের ওই বস্তিতে শিরোনামের গান গেয়ে সারা দেশে হইচই ফেলে দেন। আজম খান তার বন্ধু ইশতিয়াক এর পরামর্শে সৃষ্টি করেন জীবনে কিছু পাবোনা এ হে!  শিরোনামের একটি এসিড রক ঘরানার গান, যা আজম খানের দাবি অনুযায়ী বাংলা গানের ইতিহাসে প্রথম হার্ড রক গান। তার পর থেকেই তাঁর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশ জুড়ে৷ ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা পপ সংগীতের এক প্রতীক পুরুষ৷ শুধু বাংলাদেশেই নয় গোটা উপমহাদেশেও আজম  খান পেয়েছেন অসাধারণ জনপ্রিয়তা৷

ক্রিকেটার হিসেবে আজম  খান তৈরি করে গেছেন এক অনন্য রেকর্ড। তিনি দেশের বয়স্ক ক্রিকেটার হিসেবে ৪১ বছর বয়স থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত একটানা ১০ বছর ক্রিকেট খেলেছেন। ১৯৯১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলেছেন গোপীবাগ ফ্রেন্ডস ক্লাবের হয়ে। ক্রিকেটে আজম  খান ছিলেন একজন অল রাউন্ডার।আজম খানের বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলার প্রবল ইচ্ছে ছিল। ১৯৯৭ এ আইসিসি ট্রফি বিজয়ের ফলে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হয় বাংলাদেশের। বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাবার জন্য নিজেকে নাকি প্রস্তুতও করেছিলেন তিনি।

বিশ্বের বেশ ক’টি দেশে কনসার্ট পরিবেশন করেন আজম  খান৷ এসব কনসার্টে শুধু প্রবাসী বাঙালিই নয় বহু বিদেশী সংগীতানূরাগীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি৷ বাংলা সংগীতের নানা ধারার গান পপ আঙ্গিকে গেয়েছেন আজম  খান৷

আজম খান ১৯৮১ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকার মাদারটেকে সাহেদা বেগমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। স্ত্রী মারা যাবার পর থেকে তিনি একাকী জীবন যাপন করতেন। খুব সহজ সরল জীবন যাপন করতেন তিনি৷তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক। শাহীন-সুমন পরিচালিত ’গডফাদার’ নামের একটি ছবিতে নাম ভূমিকায় খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন আজম  খান। বিটিভির একাধিক নাটকে বাউল চরিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। বেশ কিছু বিজ্ঞাপন চিত্রে মডেল হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের আদলে তৈরি করা বিজ্ঞাপন-চিত্র আজম  খান বেশ উপভোগ করতেন।

Azam Khan1.jpg

আজম  খানকে বাংলাদেশের পপ ও ব্যান্ড সঙ্গীতের গুরু হিসেবে গণ্য করা হয়। তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে – রেল লাইনের ওই বস্তিতে জন্মে ছিল একটি ছেলে, ওরে সালেকা ওরে মালেকা, আলাল ও দুলাল আলাল ও দুলাল তাদের বাবা হাজি চান, অভিমানী তুমি কোথায় হারিয়ে গেছো তুমিই তো বোঝাবে, এতো সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে না, চুপ চুপ চুপ অনামিকা চুপ, ও চাঁদ সুন্দর রূপ তোমার তার চেয়ে রূপে রাঙা প্রিয়া আমার, আসি আসি বলে তুমি আর এলেনা, আমি যারে চাই রে সে থাকে মোরি অন্তরে, জীবনে কিছু পাব না ভুলিনি সে ভাবনা, পাপড়ি কেন বোঝে না তাই ঘুম আসেনা, আমি বাংলাদেশের আজম খান বাংলাতে গাই পপ গান, হাইকোর্টের মাজারে এরকম আরও অনেক গান। ১৯৮২ সালে এক যুগ নামে তাঁর প্রথম অডিও ক্যাসেট বের হয়। তাঁর একক অ্যালবাম সংখ্যা ১৭ এবং দ্বৈত ও মিশ্র অ্যালবাম ২৫টির অধিক।বাংলা সংগীতের নানা ধারার গান পপ আঙ্গিকে গেয়েছেন আজম  খান৷ তার ১৭ টিরও বেশি হিট গানের অ্যালবাম বেরিয়েছে বাজারে, কয়েক মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে।

স্বাধীনতাযুদ্ধে এবং সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি অনেক সম্মাননা ও পুরস্কার লাভ করেন। এর মধ্যে হলিউড থেকে ডিস্কো রেকর্ডিংয়ের সৌজন্যে ১৯৯৩ সালে বেস্ট পপ সিঙ্গার অ্যাওয়ার্ড, টেলিভিশন দর্শক পুরস্কার ২০০২, কোকাকোলা গোল্ড বোটলসহ লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, কাউন্সিল অব আরবান গেরিলা ঢাকা ’৭১ ও রেডিও টুডের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা লাভ করেন।

আজম খানের জন্ম,জীবনকাল,যুদ্ধ,কাজ,মৃত্যু সবমিলিয়ে তিনি পুরো জীবনটাই ঢাকায় কাটিয়েছেন।২০১০ সালে মুখ গহবরের ক্যান্সার ধরা পড়ে আজম  খানের৷ এর পর চিকিৎসার জন্য তাকে দু’দফায় নিয়ে যাওয়া হয় সিঙ্গাপুরে৷ কিন্তু নয় দিন আগে আজম খানের অবস্থার অবনতি ঘটে৷ সে দিন থেকেই স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাকে৷ এরপর সেখান থেকে নেওয়া হয় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে৷ রোববার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন তাকে৷মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর।

আজ তার প্রয়াণের দিনে তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। আজ আজম খান নেই, কিন্তু তিনি তার কীর্তির মাঝে বেঁচে থাকবেন। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থাকবে, অন্যায় অসত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম থাকবে, ততদিন আজম খান থাকবেন তিনি বেঁচে থাকবেন আমাদের মাঝে।

ঘুরে আসুন লালবাগ কেল্লা

Now Reading
ঘুরে আসুন লালবাগ কেল্লা

লালবাগ কেল্লা । ঢাকার এক ঐতিহাসিক স্থান । ঢাকাকে যদি আপনি কারো কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে চান তাহলে কিছু স্থানের নাম বললেই হয়ে যায় । আর সেই সব কিছু স্তনের মধ্যে লালবাগ কেল্লা অন্যতম । ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে প্রায় ১৭ শ শতকে জায়গা নিয়ে নির্মিত মুগল দুর্গ ।

পরিচিতি

১৬৭৮ সালে সুবাদার মুহাম্মদ আজম শাহ সর্ব প্রথম এই দুর্গ নির্মাণ করেন । মাত্র ১৫ মাস তিনি ঢাকায় ছিলেন । পরে তাকে দিল্লিতে পাঠানো হয় । তখন দুর্গের নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি । পরবর্তীতে ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদ রাজধানী স্থানান্তর করার ফলে এর কাজ কার আর সামনে বাড়েনি । আস্তে আস্তে এটি একটি পরিতেক্ত দুর্গতে পরিনিত হয় । ১৮৪৪ সালে আওরঙ্গবাদ নাম পরিবর্তন করে লালবাগ রাখা হয় । এখানে দুর্গ বা কেল্লা থাকার কারণে পরবর্তীতে এর নাম করা হয় লালবাগ কেল্লা ।

 

লালবাগ কেল্লা

লালবাগ কেল্লা

কি আছে এর ভিতরে ?

প্রথমে আপনাকে নাম মাত্র মূল্যে ভিতরে প্রবেশ করতে হবে । আপনি ভিতরে ঢুকলে দেখতে পাবেন কিছু ছোট ছোট অট্টলিকার মতো করে রাখা নবাবদের দুর্গ । শাহ আজমের সাথে শায়েস্তা খাঁ এর মেয়ে পরী বিবির বিয়ে হয় । পরবর্তী কালে পরী বিবি মারা যান । তখন শায়েস্তা খাঁ প্রায় নিজের মেয়ে কে দেখতে পেতেন । এমন শোনা যায় তার মেয়ে যেখানে গোসল করতো সেখানে পানির শব্দ পাওয়া যেত । পরবর্তী কালে তিনি এর দুর্গের নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেন । সেখানে আপনি শায়েস্তা খাঁ এর মেয়ে পরী বিবির মাজার দেখতে পাবেন । পরী বিবিকে মসজিদের মাঝখানে কবর দেয়া হলো । বর্তমানে আপনি সেখানে কিছু জাদুঘর দেখতে পাবেন । যেখানে নবাবদের পোশাক , তলোয়ার ও বিভিন্ন জিনিস দেখতে পাবেন । তাছাড়া একটু পশ্চিম পাশে গেলে আপনি দেখতে পাবেন বাহিরে রাখা আছে কিছু কামান ও কিছু অস্ত্র । আগের দিনে তারা শত্রু মোকাবেলা করার জন্য এই সব জিনিস ব্যবহার করতো ।

পরী বিবির মাজার

পরী বিবির মাজার

 

দুর্গের ভিতরে সবচেয়ে আলোচিত জায়গা হলো সুড়ঙ্গ পথ । এই পথ নিয়ে নানান মানুষের মুখে নানান কথা বার্তা শোনা যায় ।অনেকে বলে এই পথ দিয়ে গেলে আপনি আর কোনো দিন ফিরে আসবেন না ।তারা বলে এর ভিতরে নাকি রয়েছে কিছু আত্মা । আবার অনেকে বলে এর ভিতরে দিয়ে অনেক মানুষ গিয়েছে কিন্তু তারা আর ফিরে আসতে পারেনি ।তারা সবাই মারা গিয়েছে । আবার লোক মুখে এমন ও কথা শোনা যায় এই রাস্তা দিয়ে কুকুর কে পাঠানো হয়েছিল পরবর্তীতে আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি । অনেকে বলে এই রাস্তা মুর্শিদাবাদ গিয়ে মিলেছে । আবার অনেকে বলে এই রাস্তা বুড়িগঙ্গায় গিয়ে মিলেছে । আসলে মূলত কথা হলো এর ভিতরে আলো বাতাস পরিবেশ করতে পারেনি কখনো , তাই এর ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে গিয়েছে । কেউ যদি এই রাস্তা দিয়ে কোনো ভাবে যায় থামলে সে বিষাক্ত গ্যাস এর কবলে পরে মারা যাবে । অথবা রাস্তা হারিয়ে ফেলতে পারে । মূলত এই সুড়ঙ্গ পথ বানানো হয়েছিল নবাবদের জন্য । যাতে করে তারা সহজে পালিয়ে যেতে পারে যখন শত্রু পক্ষ আক্রমণ করবে ।

তাছাড়া এই দুর্গের ভেতরের পরিবেশ ছোট ছোট কয়েকটি বাগান আপনাকে মুগ্ধ করবে ।আর পথের ধারে দেখতে পাবেন বিশাল বড় এক পুকুর । কিন্তু পানি নেই । ধারণা করা হয় এখানে মাঝে মাঝে পরীবিবি গোসল করতো । আর আপনাকে মুগ্ধ করতে রয়েছে কিছু ঝর্ণা ।

কিভাবে যাবেন ?

যদি আপনি ঢাকার বাহিরে থাকেন তাহেল প্রথমে আপনাকে ঢাকায় আসতে হবে । কারণ এটি ঢাকায় অবস্থিত । ঢাকার প্রাণকেন্দ্র গুলিস্তানে আপনাকে আসতে হবে । সেখান থেকে আপনি দেখতে পাবেন অনেক রিক্সা বা টেম্পু কেল্লা কেল্লা বলে ডাকছে আপনি উঠে পড়ুন যে কোনো একটি তে । ভাড়া নিবে ১৫ টাকা । আর যদি আপনি রিকশা করে যেতে চান তাহলে ভাড়া পর্বে ৫০ টাকার মতো

আর আপনি যদি ঢাকায় থাকেন তাহেল আপনি চলে আসুন গুলিস্থান । সেখান থেকে রিক্সা বা টেম্পু করে চলে যায় লালবাগ কেল্লায় ।

প্রবেশ মূল্য –

লালবাগ কেল্লা প্রবেশ করতে হলে আপনাকে গুনতে হবে ২০ টাকা । আর আপনি যদি বিদেশী নাগরিক হয়ে থাকেন তাহেল প্রবেশ মূল্য ১০ গুন্ বেড়ে হয়ে যাবে ২০০ টাকা । আর আপনি যদি সার্ক ভুক্ত নাগরিক হন তাহলে আসল দাম থেকে ৫ গুন্ বেড়ে হয়ে যাবে ১০০ টাকা । তাছাড়া নতুন ভাবে কেল্লার ভেতরে ওয়াইফাই জোন চালু করেছে । মানে আপনি কেল্লার ভিতরে প্রবেশ করলে চলে যাবেন ওয়াইফাই এর আন্ডারে । আপনি এই সেবা পাবেন একদম বিনামূল্যে । আর আপনি যদি স্কুল বা কলেজের ছাত্র ছাত্রী হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে তারা মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে ভেতরে প্রবেশ করতে দিবে ।

কখন যাবেন ?

গরম কাল মানে গ্রীস্মকালে সকাল ১০ থেকে বিকেল ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে
আর শীতকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে

রবিবার সম্পূন বন্ধ থাকে লালবাগ কেল্লা । সোমবার অর্ধদিবস খোলা থাকে ।
যেহেতু এটি একটি সরকারি দর্শনীয় স্থান তাই সরকারি ছুটির দিন বন্ধ রাখা হয় ।

আবারও পানি সংকটে রাজধানী

Now Reading
আবারও পানি সংকটে রাজধানী

রাজধানী ঢাকাতে পানির সংকট তীব্রভাবে আঘাত হেনেছে। গ্রীষ্মকালের গরম যেমন বেড়েছে সেই সাথে রোজা হওয়াতে পানির চাহিদা অনেক বেশি বেড়ে গিয়েছে। পানির সরবরাহ আগের থেকে তুলনামূলক ভাবে অনেক কমে গিয়েছে। জরুরি কাজ করার জন্য যে পরিমাণ পানি দরকার তার চাহিদা কোন ভাবেই পূরণ হচ্ছেনা।

কোনো কোনো এলাকায় মসজিদেও পানির সংকট তৈরি হয়েছে। মুসল্লিরা অজু করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। মহল্লায় মহল্লায় পানির জন্য হাহাকার চলছে। পানির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও পাম্প ঘেরাও করছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
এ সুযোগে ওয়াসার একশ্রেণীর অসাধু কর্মচারী পানি বাণিজ্য শুরু করেছে। এক গাড়ি পানির দাম ৫শ’ টাকা হলেও দেড় হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে কোনো কোনো এলাকায়। পানি না পেয়ে অনেকে মিনারেল বোতলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। অনেকেই গোসলসহ প্রয়োজনীয় কাজ সেরে আসছেন আত্মীয়র বাসা থেকে। হাতিরঝিলসহ রাজধানীর বিভিন্ন পুকুর এবং লেকেও গোসল করতে দেখা গেছে অনেককে।
পানির এমন সংকটের কারণে রাজধানীবাসীর অসন্তোষ বাড়ছে। ঢাকা ওয়াসার কাছে পানি সংকটের সমাধান না পেয়ে প্রায় প্রতিদিনই নগরীতে বিক্ষোভ, রাস্তা ও পানির পাম্প অবরোধ এবং ভাংচুরের মতো ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে অনেক এলাকায় দিনে দু’একবার পানি সরবরাহ হলেও তাতে দুর্গন্ধ ও ময়লা থাকায় পান করা যাচ্ছে না। পানির এমন পরিস্থিতিতে অনেকে ডায়রিয়াসহ নানাবিধ পেটের পীড়ায় ভুগছেন। পানি নিয়ে এমন নাকাল অবস্থা চললেও সংকট স্বীকার করতে রাজি নন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান। তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় বর্তমান সরবরাহ বেশি। দৈনিক রাজধানীতে চাহিদা ২৩০ কোটি লিটার। কিন্তু উৎপাদন সক্ষমতা ২৪৫ কোটি লিটার। লোডশেডিং, জেনারেটরের অকার্যকারিতা এবং পানির স্তর নেমে গেলে কখনও কখনও অবশ্য উৎপাদন কমে। তবে বর্তমানে উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি। যেসব এলাকায় সংকট সেখানে সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা আছে। তাই পানি যাচ্ছে না। তবে আমরা গাড়িতে করে পানি সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছি। তিনি এই সমস্যাকে ‘সামান্য’ হিসেবে মনে করেন।
ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে চাহিদার ৭৮ শতাংশ পানি ভূগর্ভস্থ। বাকি ২২ শতাংশ পানি রাজধানীর পাশের বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদী থেকে নিয়ে শোধন করে কিছু কিছু এলাকায় সরবরাহ করা হয়। সায়েদাবাদ-১, সায়েদাবাদ-২ ও চাঁদনীঘাটে তিনটি শোধনাগার এবং ৭৩০টি গভীর নলকূপ দিয়ে মোট চাহিদার পানি উৎপাদন করা হয়। বর্তমান শুষ্ক মৌসুমে নদী দুটির পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় দূষণের মাত্রা বেড়েছে। তাই শোধন করার ক্ষমতা কমেছে। বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে পানি উত্তোলনে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় নলকূপ দিয়ে পানি উত্তোলনও কমেছে। ফলে চাহিদার সঙ্গে প্রাপ্তির বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে। যে কারণে পানির জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে।
তবে তার এই বক্তব্যের সঙ্গে খোদ ওয়াসার অন্য কর্মকর্তারাই একমত নন। নাম প্রকাশ না করে আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ২৩০ কোটি লিটার পানির চাহিদা হলেও ২০৫ থেকে ২১০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন হচ্ছে। বাকি ২০ কোটি লিটার পানির ঘাটতি আছে। এর সঙ্গে সিস্টেম লস যোগ করলে ঘাটতির পরিমাণ আরও বেশি।
রাজধানীর শাহজাহানপুর, খিলগাঁও, রামপুরা, বনশ্রী, মুগদা, মাদারটেক, মানিকনগর, মাণ্ডা, যাত্রাবাড়ী, নয়াপল্টন, রাজারবাগ, শান্তিনগর, মগবাজার, চামেলীবাগ, টিকাটুলি, হাজারীবাগসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, ধানমণ্ডি, কলাবাগান, বাড্ডা, কুড়িল, শাহজাদপুর, পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়ার দীননাথ সেন রোড, সতীশ সরকার লেন, মুরগিটোলা, মিরহাজীরবাগ, জুরাইন, পোস্তগোলা, সুরিটোলা, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ১৫ দিন থেকে প্রায় এক মাস ধরে চলছে তীব্র পানি সংকট।
খিলগাঁওয়ের (বি ব্লক) বাসিন্দা ওয়াহিদুজ্জামান জানান, প্রায় এক মাস ধরে তার এলাকায় পানির তীব্র সংকট চলছে। পানির জন্য ওয়াসার স্থানীয় অফিসে গিয়েও প্রতিকার পাওয়া যায়নি। অফিস থেকে বলা হয়, বেশির ভাগ গাড়ি নষ্ট। এই সংকট দেখিয়ে ৫শ’ টাকার এক গাড়ি পানির দাম দেড় হাজার টাকা নেয়া হয়। এছাড়া কখনও বলা হয়, ভিআইপিদের পানি দিতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। আগে গভীর রাতে এক-দেড় ঘণ্টার জন্য সামান্য সরবরাহ হতো। কিন্তু তিন-চার দিন ধরে তাও বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু বাড়িতে দু’দিক থেকে পানির লাইন নেয়া আছে। সেসব বাড়িতেও পানির সংকট আছে বলে জানা গেছে। এলাকার হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
উত্তর শাহজাহানপুরের উত্তরা ব্যাংক গলির বাসিন্দা ওবায়দুল হক বলেন, অন্তত ২৫টি বাড়িতে প্রায় এক মাস ধরে পানি নেই। পানির জন্য ওয়াসার ৬ নম্বর মডস জোনে গেলে বলা হয়, বিদ্যুৎ সংকট এবং পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। তিনি জানান, টাকা দিয়ে গাড়িতে করেও ওয়াসা থেকে পানি মিলছে না। পানির সংকটের কারণে তিন দিনে একদিন গোসল করতে হচ্ছে। রান্না আর বাচ্চার গোসলের জন্য বোতলের পানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
হাজারীবাগের বাসিন্দা হুমায়ুন আহমেদ মন্টু জানান, ১৫ দিন ধরে পানির সংকটের কারণে ৫০ হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এ অবস্থায় রোববার কয়েকশ’ মানুষ কলস-বালতি নিয়ে মিছিল বের করে। এটি হাজারীবাগ বোরহানপুর ১০নং গলি থেকে শুরু হয়ে হাজারীবাগ পার্কের পাম্প অফিস ঘেরাও করে। তিনি বলেন, ওই এলাকায় হাজারীবাগ ও কালুনগর পাম্প থেকে পানি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু উভয় পাম্পই বর্তমানে নষ্ট। এ কারণে হাজারীবাগের মনেশ্বর ২য় লেন, কাজীরবাগ, কুলাল মহল, বাড্ডা নগর লেন, কালুনগর, এনায়েতগঞ্জ, হাজারীবাগ রোড, নিলাম্বর সাহা রোড, ভাগলপুর এলাকায় ১৫ দিন যাবৎ পানি পাওয়া যাচ্ছে না।
এভাবে রাজধানীর অন্যান্য এলাকা থেকেও বাসিন্দারা টেলিফোনে পানির সংকট নিয়ে নিজেদের ক্ষোভ ও অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন। মিরহাজীরবাগ এলাকার বাসিন্দা কাজী এমাদউদ্দিন বলেন, এক মাসের বেশি সময় ধরে পানির সমস্যা হচ্ছে। সারাদিনে এক বেলা পানি পাওয়া যায়।
মিরবাগের বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেইন রবিন বলেন, এক মাস ধরে পানির সংকটে আছি। গাড়িতে করেও ওয়াসার সরবরাহ যথেষ্ট নয়। যখন গাড়ি আসে, কাউকে এক বালতি বা কলসের বেশি পানি দেয়া হয় না। এ অবস্থায় এই এলাকার অনেকেই হাতিরঝিলের মধুবাগ ব্রিজের কাছে গিয়ে গোসল সেরে আসে। মিরপুরের মনিপুরিপাড়ার বড়বাগ এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান পলাশ বলেন, কয়েকদিন আগে একটানা তিন দিন পানি সরবরাহ বন্ধ ছিল। বলা হয়েছিল, পাম্প নষ্ট। পরে ঠিক করেছে। কিন্তু পানি প্রচণ্ড দুর্গন্ধযুক্ত। water_crisis-700x357.jpg

জাফলং ভ্রমণ

Now Reading
জাফলং ভ্রমণ

ভালবাসার আরেক নাম বাংলাদেশ 

খুব সুন্দর আমাদের এই বাংলাদেশ । সবুজের ছায়া ঘেরা , নদী মাতৃক আমাদের এই সুন্দর দেশ । যতোই রুপ দেখবেন তারপরেও যেন দেখা শেষ হবে না । কবির ছন্দের মত আমাদের এই দেশ বাংলাদেশ । ষড় ঋতুর এই দেশে যেন এক এক সময় রঙের খেলা শুরু হয় । যেমন ঋতুর খেলা আছে আমাদের দেশে ঠিক আবার এক এক জেলা যেন সেজেছে তার আপন রুপে । কোথাও পাহাড়ের মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা , আবার কোথাও সাগরের খেলা । কোথাও আবার নদীর মোহনা মীলিত হবার খেলা , কোথাও আবার সবুজে ঘেরা । অপরূপ আমাদের এই বাংলাদেশ ।

আজ জানবো আমরা সিলেট সম্পর্কে ।

শাহ্‌ পরানের দেশ সিলেট । শাহ্‌ জালালের দেশ সিলেট ।সুরমা নদীর দেশ সিলেট । এই রকম হাজারো নামে পরিচিত করা যায় সিলেট কে । বাংলাদেশের লন্ডন হল আমাদের এই সিলেট । কতই না সুন্দর  আমাদের এই সিলেট । কিছু দিন আগে ঘুরে আসলাম এই সিলেট নগরি।আজ তা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো কিছু অভিজ্ঞতা।

সিলেটে কিছু দিন 

বেশ কিছু দিনের আগে থেকে প্ল্যান ছিল সিলেটের জাফলং গিয়ে ঘুরে আসবো । এর আগেও গিয়েছিলাম কিন্তু জাফলং যাওয়া হয়নি । এই বার আমি ও আমার কাছের এক বড় ভাই ঠিক করলাম ডিসেম্বর এর শেষের দিকে গিয়ে ঘুরে আসবো । যাই হক সিন্ধান্ত নিলাম ডিসেম্বার এর ২৩ তারিখ রাতে ট্রেন এ করেন সিলেট যাব। তাই ১৯ তারিখে আমরা ট্রেন এর টিকেট অগ্রিম কেটে নিলাম , তা না হলে সিট পাওয়া যাবে না। শোভন চেয়ার নিয়ে নিলাম ৩২০ টাকা কর । পারাবত ট্রেন ২৩ তারিখ বিকেল ৩.১০ মিনিটে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যাবার কথা । আমরা ২.৩৫ মিনিটে প্লাটফর্মে হাজির হলাম । ট্রেন প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিলা। কিন্তু কি এক না জানা কারনে ট্রেন ছাড়লও বিকেল ৪.৩০ মিনিটে । 

কিছু ক্ষনের মধ্যে শীতের ঠাণ্ডা বাতাস গায়ে শীত ধরিয়ে দিলা ।জানালার পাশে বসা ছিলাম , মনে হচ্ছিল রাস্তা পিছনের দিকে যাচ্ছে আর আমি এগিয়ে চলছি আমার গন্তবে । কিছু ক্ষনের মধ্যে আসে পড়লাম এয়ারপোর্ট এ । কিছু যাত্রী নিয়ে আবার ট্রেন চললো তার আপন গতিতে । জানালে দিয়ে দিনের শেষ আলোতে দেখা যাচ্ছিল জেলেরা মাছ ধরছে । আর কিছু মানুষ কাজ করছে সবজির ক্ষেতে । যেন তারা আমাদের জন্যই তৈরি করছে শীতের সবজি । কিছু দূর যাওয়ার পর গাড়িতে হরেক রকমের খাবার নিয়ে উঠলো ফেরিওয়ালারা । তখন প্রায় সন্ধ্যা নেমে গিয়েছে । এর মধ্যে শরিফ ভাই দুই কাপ রঙ চা নিলেন ট্রেন এর ভিতর চা ওয়ালা থেকে । ভালোই লাগছিল জানালা দিয়ে আসা ঠাণ্ডা বাতাস আর গরম গরম চায়ে চুমুক দেয়া , এ যেন এক স্বর্গের অনুভূতি । বাহিরে কুয়াশার জন্য কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।বাহিরে দূশ্য দেখতে দেখতে যে কখন চা এর কাপ থেকে চা শেষ হয়ে গিয়েছে টেরি পেলাম না । এর মধ্যে ট্রেনের এক যাত্রীর সাথে খুব ভাল খাতির হল আমার । উনি প্রবাসি ভাই । উনি থাকেন তুর্কি তে । উনি বিয়ে করেছেন এক ইজরাইল এর মেয়ে কে।উনার সাথে খুব ভাল একটা আড্ডা জমে উঠলো আমার।অনেক্ কথা হল আমাদের । এই দিকে গাড়ি চলছে তার গতিতে । কিছু দূর যাবার পর ট্রেন থেমে গেল । সামনে আরেকটি ট্রেন যাবে তাই তাকে রাস্তা দিচ্ছে । আমি ট্রেন থেকে নেমে সামনে বাজারে গিয়ে কয়েক টা গরম গরম চিতল পিঠা কিনে নিয়া আসলাম আর সাথে আনলাম ঝাল শুঁটকির ভর্তা । আমি শরিফ ভাই আর ট্রেন ভাইয়াটা খেলাম । কি যে মজা তা লিখে প্রকাশ করা যাবে না। শীতের বাতাসের আর কুয়াশার মধ্যে ট্রেন এ বসে পিঠা খাওয়ার মজাই অন্য রকম । কিছু দুর যাবার পর আবার ট্রেন থেমে গেল ক্রসিং এর জন্য । এরি মধ্যে আমরা আশুগঞ্জ এ আসে পড়লাম । সেখানে ট্রেন ৫ মিনিট এর মত দাঁড়ালো । আমি নেমে পড়লাম কিছু হালকা নাস্তা করার জন্য । কিছু নাস্তা নিয়ে উঠে গেলাম ট্রেন এ । ঘড়িতে তখন রাত ৯ বেজে ১০ মিনিট। কিছু ক্ষনের মধ্যে ট্রেন আবার যাত্রা শুরু করলো । কিছু ক্ষন চলার পর যখন ট্রেন আবার ক্রসিং এ পড়লো ঠিক তখনি ঘটলো এক ঘটনা । ট্রেন এর বগি থেকে চিৎকার এর শব্দ । দৌড়ে গেলাম । গিয়ে দেখি ক্রসিং এ থামার সময় ঐ মহিলা মোবাইলটা জানালার কাছে নিয়ে বসছিল , কোন এক লোক আসে তার মোবাইলটি টান দিয়ে নিয়ে গিয়েছে । হাতে কিছুটা ব্যথা পেয়ছিল । আমরা নিজ নিজ জায়গা থেকে সবাই সাবধান হয়ে গিয়ে ছিলাম । মাঠ ঘাঁট পেরিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের ট্রেন । জানালা থেকে খুব জমকালো একটি প্রাসাধ আমার চোখে পড়লো । সেটি ছিল কেল্লা শাহ্‌ এর মাজার শরীফ । শীতের সময় প্রায় সব মাজারে ওরস হয়ে থাকে । তখন ভক্ত দের ভীর জমে উঠে এই সব মাজারে।বাহিয়ের ঘন অন্ধকার আর কুয়াশা দেখে খুব ভালোই কাটছিল সময় গুলো।

ঢাকার নাইট-ক্লাব ও ডিজে-পার্টি গুলোতে কি হচ্ছে এসব? প্রশাসন কেন নীরব?

Now Reading
ঢাকার নাইট-ক্লাব ও ডিজে-পার্টি গুলোতে কি হচ্ছে এসব? প্রশাসন কেন নীরব?

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।

পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল শহর যেখানে দুই কোটিরও অধিক মানুষের বাস; বড় বড় অট্টালিকায় ছেয়ে যাওয়া এই মেগাসিটিতে রয়েছে নানা পদের মানুষ, ধনী গরীবের অসামঞ্জস্যতা! ধনীর মার্সিডিজ নিয়ে ছুটে যাওয়া, অন্যদিকে অভুক্তের পেটে খিদের চিৎকার। রয়েছে অস্ত্রধারী মানুষের সমাহার যারা একটা নির্দেশ আর কিছু টাকার জন্যে আরেকটা প্রাণ শেষ করে দিতে সময় নেয় না। রয়েছে প্রেম, রয়েছে ভালোবাসা। সারাদিন পর অফিস থেকে ফিরে এসে স্বামী-স্ত্রীর একসাথে ডিনার, অন্যদিকে রিকশাওয়ালার সারাদিনের ঘামে ভেজানো টাকা দিয়ে একটু শাক আর লাউ নিয়ে বাড়ি ফিরে বউকে বলা, “বউ শোন, আইজকে রাইতে ভালোমন্দ খামু, তারপর তোরে রিকশায় বসাইয়া রাইতের ঢাকায় রিকশা চালামু”

এমন প্রেম ভালোবাসার সাথে সাথে আরো অনেক কিছুই রয়েছে যা যোগ হয়েছে এই ঢাকা শহরে যা দশ থেকে পনেরো বছর আগেও ছিল না। রাতের ঢাকা যেন এক রহস্যময় জগত। যে রহস্য উদঘাটন করার মত নয়। রাত একটু ১২টার কাটার আশেপাশে গেলেই ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলোতে শুরু হয় উচ্চ-মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলে মেয়েদের বিচরণ। এই বিচরণ কিছু নির্দিষ্ট স্থানে। আপনারা এই লেখার টাইটেল দেখে ইতিমধ্যে জেনে গিয়েছেন, কোথায় তাদের যাতায়াত। কিংবা লেখার সাথের ফিচার ফটো দেখে হয়তো অনেকেই ভাবছেন, এ আর নতুন কি? এই ফিচার ফটোর প্রতিটা ছবি বাংলাদেশের বিভিন্ন নৈশ ক্লাবের। কোন বিদেশী নাইট ক্লাবের ফটো এনে জুড়ে দেয়া হয়নি।

আসলেই তাই, এটা বর্তমানে ঢাকা শহরে একদম নতুন কিছু নয়। কারণ, আগে এইসব নাইট ক্লাব চলতো নামী দামী হোটেলে বিদেশীদের জন্য। বাইরে কিছু থাকলেও তা গোপনে পরিচালিত হতো। কিন্তু সেদিন বহু আগেই হারিয়ে গেছে। দিন বদলেছে। এখন আমরা ক্যাফে হাউজে বসে কফি হাউজের সেই আড্ডাটা  গান শুনিনা। এখন শুনি বিদেশী ছবির অর্ধ নগ্ন নাচের সাথে থাকা গান কিংবা সানি সানি সানি , পানি পানি পানি  টাইপের গান।

যাইহোক, যা বলছিলাম আরকি! ঢাকায় জমে উঠেছে নাইট ক্লাব আর ডিজে পার্টি কিংবা ডিসকো পার্টির রমরমা ব্যবসা আর আসর। আর এর নিয়মিত কাষ্টমার হলো উচ্চবিত্ত ঘরের যুবক-যুবতীরা। পশ্চিমা সংস্কৃতির ঢেউ লেগেছে আর এই উথাল পাথাল ঢেউয়ে ভেসে যাচ্ছে আমাদের যুব সমাজের একটা অংশ। পশ্চিমা দেশ তথা ইউরোপে এসে জেনেছি নাইট ক্লাব কি, কিন্তু শুধু দেখতে যাওয়া ছিল সেটা , সেখানে কি চলে এই আরকি! আমার অনেক বন্ধু যারা ঢাকা শহরে থাকে, তারাও এইসব নাইট ক্লাবে যেতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। সেগুলো ঠিক এই ইউরোপিয়ান কান্ট্রিগুলোরই নকল করে তৈরী করা। সব ব্রান্ডের মদ, ওয়াইন, সিগারেট, সিগার, হুইস্কি কি নেই সেখানে? শুধু টাকা দরকার সেখানে যেতে। ক্লাবের মেম্বারশীপ পেয়ে গেলে তো কথায় নেই!! হিন্দি গানের তালে তালে যুবক-যুবতীরা উদ্যম নেচে মেতে ওঠে। নারীরা মদ্যপ অবস্থায় নিজেকে বিকিয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করেনা। বাংলাদেশেরই কিছু টেলিভিশন চ্যানেলের অনুসন্ধানী খবরে উঠে এসেছে আরো কিছু তথ্য। শুধু বড়লোক ঘরের দুলাল-দুলালীরাই নয়, এখানে আসর বসে নৈশ-পরীদেরও। যারা কিনা খদ্দের পাওয়ার আশায় এসব নাইট ক্লাবে আসা যাওয়া করে। তবে ব্যক্তিগত ভাবে আমার মনে হয়, এই নৈশ-পরী আর ধনীর দুলালির ভেতরে কোন পার্থক্য নেই। কি ভাবছেন? আমি শুধু একপেশে বিচার করছি? পুরুষ বলে কি পুরুষের কথা বলবো না? লিখবো না ভাবছেন? আরে ভাই, এই সব পার্টিতে চলে গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন সেবন। মারিজুয়ানাও নাকি আসে, বাহ! কি উন্নতিরে বাবা! বিদেশী মদ আসে কোথা থেকে? কারা আনে? একটা সিন্ডিকেট এইগুলা সরবরাহে কাজ করছে। নাম বলবো না, অনেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক কর্তাদের ছেলেরা এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে।

আর সবচাইতে বড় বাবার নাম না বললেই তো নয়। ইয়াবা। এই ইয়াবা সেবন একটি ট্রেন্ডে হিসেবে চালু হয়ে গেছে। এটির সেবনকারীরা মনে করে এটি গ্রহণে সুন্দর আর আকর্ষণীয় হওয়া যায় , যৌনশক্তি বাড়ে, সেক্সি লুক আসে চোখে মুখে। আদতে তা কখনোই নয়। বরং এটি যেকোন মানুষের ভেতরের অংশ নিঃশেষ করে ফেলতে বেশিদিন সময় নেয় না। পুরুষ হারিয়ে ফেলে তার পৌরষত্ব আর নারী হারায় তার স্বাভাবিক মাতৃত্ব। ইয়াবার ভয়ংকর ছোবল যুবসমাজকে ধংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। বিদেশী মদ আর দেশী মদ যাই হোক না কেন- ক্ষতি করছে লিভারকে। ভাসমান পতিতাদের ব্যবসা জমে উঠেছে। পুরুষ সেই জোয়ারে গা ভাসাচ্ছে, এইডস বাধাঁচ্ছে নিজের শরীরে। একাকীত্বতায় পেয়ে বসা মহিলা কিংবা বড়লোক ডিভোর্সী নারী থেকে শুরু করে নামীদামী কর্পোরেট কোম্পানীর মহিলারা দ্বারস্থ হচ্ছে পুরুষ এসকর্টদের। তাদের শুধু আনন্দ চায়, সময় কাটানোর সঙ্গী চায়; বিনিময়ে আছে টাকার বান্ডিল। বেকার পুরুষের একটা অংশ এখন এই পেশায় এসেছে , নারীদের সাথে সমানে পাল্লা দিচ্ছে। এক রাতেই যদি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা আসে একটু সুখ দেবার বদৌলতে তবে সেটা খারাপ কি? ডিজে পার্টিতে ডিজে যারা আসে, তারা ম্যাক্সিমাম নারী ডিজে। এরাও এদেরই একটা অংশ।

এখন প্রশ্ন হলো, কি এই যুবক-যুবতীদের ভবিষ্যৎ? কি ভবিষ্যৎ এই বাংলাদেশের? কোথায় এর শেষ? কি করছে প্রশাসন?

যুবক-যুবতীদের ভবিষ্যৎ এর কথা চিন্তা করতে হবে প্রথমত বাবা-মা কে। বাবা-মা যদি তাদের সন্তাদেরকে অঢেল টাকা পয়সা দিয়ে রেখে দেয়, যা খুশি তাই করতে দেয়, কোথায় যাচ্ছে কি করছে এই সব খোঁজ-খবর না নেয়, তাহলে তো তারা বখে যাবেই। সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে দেখেন , বোঝেন তারা কি করে, আসলেই তারা কি চাই।

বন্ধু নির্বাচন আরেকটি বড় কথা এখানে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, খারাপ বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে ছেলে মেয়ে বখে যায়।

মেডিক্যাল সায়েন্স অনুযায়ী এসকল নেশায় নেশাগ্রস্ত হলে সেই মানুষ বেশিদিন বাচেঁ না, ধীরে ধীরে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। বিশেষ করে ইয়াবা তে বর্তমানে সবাই ঝুকঁছে। আর অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্কের ফলে সহজেই এরা এইডস রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

প্রশাসনের দিক থেকে এই সকল ব্যাপারে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। মূলত এসব নৈশ ক্লাবের লাইসেন্স থাকলে যেসকল মদ বা নেশার দ্রব্য এখানে সরবরাহ করা হয়, তা সম্পূর্ণ আইনত দন্ডনীয়। পুলিশ এসব জেনেও চুপ করে আছে। ভেজাল দ্রব্য নিধনে ম্যাজিষ্ট্রেট যেমন ভ্রাম্যমাণ আদলত নিয়ে রাস্তায় বের হন, তেমনি রাতের ঢাকাতেও তাদের এমন অভিযান চালানো উচিত। তাতে করে যদি এই নেশার কবল থেকে যুব সমাজ কে রক্ষা করা যায়! অনেক নৈশ ক্লাব আবার নকল বা ভুয়া কিংবা কোনো লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব এখানে মূখ্য হিসেবে কাজ করে থাকে। এসব নৈশ ক্লাব থেকে শুরু হয় নানা প্রকার জের বিরোধ যা নিয়ে খুনোখুনি পর্যন্তও গড়ায়।

সবশেষে , একটা কথায় বলবো, সরকার বা প্রশাসন যদি পদক্ষেপ না নেয়, এসব ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে ওঠা নৈশ ক্লাব বন্ধ করতে, তবে সেটার প্রভাব গিয়ে পড়বে এই দেশের সকল স্তরে।  কেননা, আজকের সুস্থ কিশোর-কিশোরী , যুবসমাজই আগামীর ভবিষৎ, আগামীর নেতা, দেশের সম্পদ।

তাই, প্রশাসনের কারো যদি এই লেখা চোখে পড়ে থাকে, তবে অনুরোধ রইলো, জরুরী পদক্ষেপ নিয়ে এইসব নৈশ ক্লাব বন্ধ করে, মাদক অভিযান শুরু করে যুবসমাজকে ধংসের হাত থেকে রক্ষা করতে।